Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    লেখক এক পাতা গল্প2485 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. ক্রম্পটন রোড

    ২১.

    পোয়ারো এখন ক্রম্পটন রোড দিয়ে হাঁটছেন। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে পকেট থেকে ঘড়ি বার করলেন। এখনও সময় আছে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে কোনো ক্ষতি হয় না।

    পোয়ারো এদিকে গান গাইতে গাইতে দ্রুত এগিয়ে চললেন। হঠাৎ একটা স্টেশনারী দোকানে ঢুকলেন সিল্কের মোজা কিনতে। তরুণী সেলসলেডী বললেন, আসুন আসুন মোজা খুঁজছেন? এখানে ফরাসী দেশের তৈরি সিল্কের মোজা আছে।

    পোয়ারো বললেন, এগুলো নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু আমি আরো ভালো উৎকৃষ্ট জিনিষ চাইছি। এর সমস্তটাই ভালো সিল্কের তৈরি। ঠিক আছে আমাকে উনিশ জোড়া মোেজা ভিন্ন ভিন্ন রঙের দিন।

    মিঃ পোয়ারো, সাড়ে সাঁইত্রিশ শিলিং একটা মোজার দাম সুতরাং উনিশ জোড়া মোজার দাম আপনি দেবেন আমাকে, তরুণী সেলসলেডী বললেন।

    বাড়িতে পৌঁছবার পর সবে আধঘণ্টাও অতিবাহিত হয়নি। এমন সময় কলিংবেলটা বেজে উঠলো। অনতিবিলম্বে মেজর ডেসপার্ড এসে প্রবেশ করলেন। তার চোখেমুখে ক্রোধের স্পষ্ট ছায়া। ভদ্রলোক যেন অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত করে রেখেছেন।

    কি উদ্দেশ্য নিয়ে আপনি মিসেস ল্যাক্সমোরের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন? ঘরে পা দিতে না দিতেই ক্রুদ্ধ প্রশ্ন করলেন ডেসপার্ড।

    পোয়ারো মৃদু হেসে বললেন-অধ্যাপক ল্যামোরের মৃত্যুরহস্যের প্রকৃত তথ্য আপনি আমার কাছেই পাবেন।

    মেজর ডেসপার্ড কণ্ঠে কুদ্ধ ব্যঙ্গের ঝাঁঝ, প্রকৃত তথ্য আপনি আমার কাছেই পাবেন।

    মেজর ডেসপার্ড অল্প থামলেন, তারপর আরম্ভ করলেন তার কাহিনী। অধ্যাপক ল্যাক্সমোরের অভিযানের ব্যবস্থা আমিই করি। কিন্তু সারা অভিযানটাই আমার কাছে বিরাট এক দুঃস্বপ্ন। মিসেস ল্যাক্সমোরের প্রতি আমার কোনো দুর্বলতা ছিল না। কিন্তু ভদ্রমহিলা আমার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন, এইসব কারণে আমার খুবই অস্বস্তি হতো।

    যা হোক, প্রথম দু সপ্তাহ একরকম ভালোয় ভালোয় কেটে গেলো। তারপর আমরা তিনজনেই জুরে পড়লাম। এবং কিছুদিনের মধ্যে ভদ্রমহিলা এবং আমি সেরে উঠলাম কিন্তু অধ্যাপকের জ্বর বেড়েই চলল। এই জ্বরের ঘোরে টলতে টলতে একদিন অধ্যাপক নদীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি যে বেহুঁশ হয়ে এইসব করছেন অল্প সময়ের মধ্যে আমি বুঝতে পেরে ভদ্রলোকের চলার গতি রোধ করতে চাইলাম গুলি করে। ভদ্রমহিলা কোথা থেকে ছুটে এসে আমাকে বাধা দিলেন, দোহাই আপনার আমার স্বামীকে যেন গুলি করবেন না। তিনি এমনভাবে হাত টেনে ধরলেন যে নিশানা ভুল হয়ে গুলি সোজা পিঠে গিয়ে বিধলো।

    ভদ্রলোক মারা গেলেন। কি ভয়ঙ্কর ব্যাপার, ভদ্রমহিলা ভাবলেন আমি তার প্রেমে পড়ে মিঃ ল্যাক্সমোরকে খুন করেছি। শেষে তিনি আমাকে বললেন, লোক জানাজানির প্রয়োজন নেই, ভদ্রলোক জুরে মারা গেছে বলে প্রচার করলেই হবে। অবশেষে তাকে আমরা নদীর ধারে কবর দিলাম। তারপর থেকে অনেকবারই আমাদের দেখাসাক্ষাৎ ঘটেছে কিন্তু আমি তাকে সভয়ে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি।

    মেজর ডেসপার্ড শান্ত কণ্ঠে বললেন, এই হচ্ছে আমার কাহিনী।

    পোয়ারো গভীর মনোযোগ সহকারে সমস্তটা শুনে ধীরে ধীরে চোখ তুলে তাকিয়ে বললেন, কাহিনীটা আপনার পক্ষে খুবই বিপজ্জনক বিশেষ করে শ্যাতানার মত লোক যখন এর সন্ধান পেয়েছিলেন।

    ডেসপার্ড অবহেলা ভরে মাথা নাড়লেন, আমি শ্যাতানাকে ভয় পাই না।

    পোয়ারো কোনো জবাব দিলেন না। এবার উঠে দাঁড়িয়ে করমর্দনের অভিপ্রায় নিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলেন, তারপর বললেন, আপনার ঘটনাটা হয়তো এইরকমই ঘটেছিলো।

    ডেসপার্ডের মুখচোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। অসংখ্য ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতায় দুহাত বাড়িয়ে করমর্দন করলেন।

    .

    ২২.

    ইনসপেক্টর হার্পার সুপারিন্টেন্টে ব্যাটেলকে বললেন, এই হচ্ছে স্যার প্রকৃত ঘটনা। এর মধ্যে কোনো ধোঁয়াটে ভাব নেই। সরকারি ডাক্তারও সন্তুষ্ট চিত্তে রিপোর্ট দিয়েছিলেন। কারও মনে কোনো অসন্তোষ ছিল না।

    এই বোতল দুটো সম্বন্ধে প্রকৃত তথ্য খুলে বলুন। আমি সমস্তটা বিশদভাবে জানতে চাই।

    একটা ছিল সিরাপের বোতল। তিনি সেটা পান করতেন। আর একটায় ছিল টুপির পালিশ জিনিষটা। খুবই বিষাক্ত। যে বোতলে টুপির পালিশ ছিল সেই বোতলটি একদিন হাত থেকে পড়ে চিড় খেয়ে যায়। তখন ভদ্রমহিলা তার দাসীদের বলেন একটা খালি সিরাপের বোতলে যেন ওই টুপির পালিশটি ঢেলে উঁচু তাকে রাখা হয়।

    ঘটনার দিন রাত্রে ভদ্রমহিলা একটা পাত্রে বেশ কিছুটা সিরাপ ঢেলে পান করেন। কিন্তু সেটা সিরাপ নয়, টুপির পালিশ। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারকে খবর পাঠানো হয়। কিন্তু ডাক্তার আসতে আসতে ভদ্রমহিলা মারা যান।

    সুপারিন্টেন্টে ব্যাটেল আপন মনে চিন্তা করতে লাগলেন, ব্যাপারটা কতই সহজ, কত নিখুঁত, নিপুণ একটা খুন। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নটাই তাকে জটিল ধাঁধার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

    ব্যটেল তথ্যের জন্য আরো দু-চার জায়গায় ঘোরাফেরা করলেন কিন্তু কোনো প্রয়োজনীয় খবর সংগ্রহ করতে পারলেন না। যতখানি আশা নিয়ে ডেভনশায়ারে ছুটে গিয়েছিলেন ততখানি অবশ্য পূরণ হলো না। ব্যাটেল মনে মনে ভাবলেন মিসেস বেনসনের টাকা কড়ি, বিষয় সম্পত্তি কারা পেয়েছে? অ্যানা কি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করবার উদ্দেশ্যেই ভদ্রমহিলাকে খুন করলেন। অ্যানা মেরিডিথ একসময় এখানে থাকতো সে কথাটাই বা গোপন করতে গেলো কেন? ব্যাটেলের সন্দেহ ক্রমশ ঘনীভূত হলো।

    .

    ২৩.

    সকালের ডাকেই পোয়ারোর আমন্ত্রণপত্র অ্যানার হাতে পৌঁছেছিলো, তার আসবার ইচ্ছা আদৌ ছিল না।

    রোডাই একরকম জোর করে টেনে নিয়ে এলেন। রোডা অ্যানাকে বলল, সন্দেহভাজনদের মধ্যে তুইও একজন, অবশ্য বিচার করলে সন্দেহটা তোর ওপর সবচেয়ে কম।

    অ্যানা ঠাট্টার সুরে বলল, রহস্য গোয়েন্দা উপন্যাসে দেখিস না, যার ওপর আদৌ কোনো সন্দেহ জাগে না সেই কিন্তু প্রকৃত অপরাধী।

    তাহলেও সন্দেহভাজনদের মধ্যে তুইও একজন, রোডা তাকে ঠাট্টা করল।

    অ্যানা তাকে বোঝাবার চেষ্টা করল যে এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো যোগ নেই। পুলিসের কাছে আমি যে কোনো প্রশ্নের দিতে রাজী আছি। কিন্তু এরকুল পোয়ারো সে তো বাইরের লোক তবুও তাকে জবাবদিহি করতে যেতে হবে।

    যাইহোক রোডা আর অ্যানা যখন পোয়ারোর বাড়িতে হাজির হলেন তখন বিকেল তিনটে। পোয়ারো তাদের ডেকে নিয়ে ঘরে বসালেন, সরবত দিলেন।

    আপনারা আমার আমন্ত্রণ পাওয়া মাত্র হাজির হওয়াতে আমি খুব খুশী। যাইহোক এবার আসল কথায় আসা যাক।

    শান্ত বিনয়ের ভঙ্গিতে কথা শুরু করলেন পোয়ারো। ম্যাডাম, আপনি একটু কষ্ট করে সেদিন সন্ধ্যায় মিঃ শ্যাতানার ড্রইংরুমটা স্মরণে আনার চেষ্টা করুন। সেখানে কি কি দেখেছেন, কোন কোন বস্তুর কথা সঠিক আপনার মনে পড়ছে, এই আর কি?

    অ্যানা ভ্রু কুঁচকে বললেন, ব্যাপারটা খুবই কঠিন। সবটা মনে করতে পারবো বলে মনে হয় না তবুও বলতে চেষ্টা করছি। দেওয়ালে মাঝে মাঝে কাজ করা ছিলো, মেঝের ওপর অনেক মূল্যবান কম্বল পাতা ছিলো, একপাশে একটা বড় আকারের পিয়ানো ছিলো। হতাশভাবে মাথা নাড়লেন অ্যানা, না, আপাতত আর কিছু মনে পড়ছে না।

    পোয়ারো মৃদুস্বরে জানালেন, মিঃ শ্যাতানা একজন বিখ্যাত সংগ্রাহক ছিলেন, জীবনভোর নানা, দুষ্প্রাপ্য জিকির জানালেন, মিঃ শসপাতত আর কিছু মন্ন আকারের পিয়ানেওপর

    হ্যাঁ, নিশ্চয়। ঘরটা তো হাজার রকমের জিনিষপত্রে ঠাসা।

    তাহলে আপনি এমন কোনো বস্তুর নাম করতে পারছেন না যা বিশেষভাবে আপনার নজরে পড়েছিলো।

    অ্যানা নিচু গলায় বললেন, আশঙ্কা হচ্ছে আমিও হয়তো আপনার অভীষ্ট বস্তুটিকে ঠিকমতো নজর দিয়ে দেখিনি।

    মৃদু হাসলেন পোয়ারো। তাতে কিছু যায় আসে না। হ্যাঁ, ভালো কথা, মেজর ডেসপার্ডের সঙ্গে সম্প্রতি আপনার সাক্ষাৎ হয়েছে?

    অ্যানা বললেন, না, তবে ভদ্রলোক শীগগিরই একদিন এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন। পোয়ারো হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন, চলুন মিস দোয়স, আপনাকে একটা জিনিষ দেখিয়ে আনি।

    রোডা কৌতূহলী কণ্ঠে প্রশ্ন করলেন, জিনিষটা কি?

    পোয়ারো নিচু স্বরে বললেন, একটা ছোরা, এই ছোরাটার সাহায্যে বারোজন লোককে হত্যা করা হয়েছিল। আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এক হোটেলের মালিক আমাকে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে উপহার দিয়েছিলেন। আলমারী খুলে ছুরিটা দেখাতেই মিনিট তিনেক কেটে গেলো। তারপর রোডাকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় পাশের ঘরে হাজির হলেন। এইবার রোডা ও অ্যানা বিদায় নেবার জন্য উঠে পড়ল।

    পোয়ারো তাদের আর এক পাত্র সিরাপ পানের অনুরোধ জানালেন। তারা সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করলেন সে অনুরোধ পোয়ারো হাসিমুখে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন।

    .

    ২৪.

    ব্যাটেল বেশি ভনিতা না করে সরল ভাষায় তার ডেভনশায়ার অভিযানের আগাগোড়া ইতিবৃত্ত খুলে বললেন।

    এদিকে… মঁসিয়ে পোয়ারো বললেন, আজ বিকেলে আমি একটা ছোট্ট পরীক্ষা চালিয়েছি। মিস মেরিডিথকে আমন্ত্রণ জানিয়ে পুরানো প্রশ্নই জিজ্ঞেস করলাম, শ্যাতানার ড্রইংরুমে কি কি দেখেছিলেন।

    মিস মেরিডিথ খুবই সন্দেহপ্রবণ। সেইজন্য পোয়ারোকে চমৎকার ফাঁদ পাততে হলো। মেরিডিথ গয়নার বাক্সের কথা বলতেই আমি তার কাছে ছুরিটার বিষয় জানতে চাইলাম। এর বিপরীত দিকের টেবিলেই যে ছুরিটা পড়েছিলো, সেটা তার দৃষ্টিগোচর হয়েছিলো কিনা। সুকৌশলে আমার ফাঁদ এড়িয়ে গেলো মেরিডিথ। তবে তার কথাবার্তার মধ্যে একটা চারিত্রিক গড়নের আভাস পাওয়া যায়। যেমন সে গরীব কিন্তু সৌখিন সাজপোষাক করতে ভালোবাসে। ছোট ছোট সুন্দর বস্তুর ওপর দারুণ লোভ। মনের গড়নটা হত্যাকারীর নয়, বরঞ্চ চোরের সঙ্গেই বেশি খাপ খায়। মেরিডিথের চরিত্রে একটা দুর্বলতা আছে যে সে স্টেশনারী দোকান থেকে টুকিটাকি জিনিষপত্র চুরি করে।

    যার জন্য মিসেস এল্ডনের ঘর থেকে এইভাবে জিনিষ সরানোর অভ্যাস তার ছিলো।

    মিসেস এল্ডন ছিলেন অসাবধানী কিন্তু মিসেস বেনসন ছিলেন বিপরীত ধরনের মহিলা। তার সাবধানী চোখকে ফাঁকি দেওয়া অতো সহজ নয়। অ্যানা তাঁর কাছে ধরা পড়ে গেলো। তিনি তাকে চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করলেন। তখন এই হত্যার পেছনে একটা কার্যকারণ সম্বন্ধ খুঁজে পাওয়া যায়। তাহলে মনে হয় অ্যানা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলো তার ফলেই সে বোতল দুটো পালটে রেখে দেয়। নিঃসন্দেহে এটা একটা হত্যাকাণ্ড। তবে আদালতে প্রমাণ করা সাধ্যাতীত। এটাই হচ্ছে দুনম্বরের সফল হত্যা।

    বর্তমানে আমাদের প্রধান বিবেচ্য, শ্যানার হত্যাকারী কে? এটাও কি অ্যানা মেরিডিথের কাজ?

    ব্যাটেল মিনিট দুয়েক চুপ করে থেকে আবার মাথা নাড়তে শুরু করলেন। কিন্তু ঠিক খাপ খাচ্ছে না।

    পোয়ারো সেকথায় সায় দিলেন, হ্যাঁ আমিও এবিষয়ে একমত। দুটো অপরাধের প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    রুমাল দিয়ে মুখ মুছে বললেন, তাহলে দেখা যাচ্ছে মিঃ শ্যাতানাকে হত্যার ব্যাপারে মেয়েটার কোনো হাত নেই। ডাক্তার রবার্টস এবং মিস মেরিডিথ দুজনকেই আমাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে।

    মেজর ডেসপার্ডের কি খবর? মিসেস ল্যাক্সমমারের সঙ্গে দেখা করে কিছু সুবিধে হলো?

    পোয়ারো এবার মেজর ডেসপার্ডের কাহিনী শোনালেন।

    ভদ্রলোকের কথা আপনার বিশ্বাস হয়?

    হা হয়।

    ব্যাটেল নিশ্বাস ফেললেন, আমারও তাই মনে হয় পরস্ত্রীর লোভে তার স্বামীকে খুন করবার মতো লোক তিনি নন। তাহলে অবশিষ্ট থাকেন, মিসেস লরিমা।

    মিসেস লরিমা ফোন করেছিলেন। ভদ্রমহিলার ইচ্ছে আমি একবার গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করি।

    দুজনে দুজনের চোখের দিকে তাকালেন। ব্যাটেলের চোখে সন্দেহের ঝিলিক। মনে হচ্ছে আপনি যেন এই ফোনটার অপেক্ষায় ছিলেন।

    যাইহোক তাহলে আর দেরি করবেন না, উৎসাহ দিলেন ব্যাটেল; হয়তো শেষপর্যন্ত সত্যি কথাটাই উদ্ধার করে আনতে পারবেন।

    কি জানি! উদাস কণ্ঠে বললেন পোয়ারো। তাই হয়তো হবে। আমি ভেবে অবাক হয়ে যাচ্ছি।…

    .

    ২৫.

    হাসি-হাসি মুখেই পোয়ারোকে স্বাগত জানালেন মিসেস লরিমা। আপনি যে এত শীঘ্র দেখা দেবেন ভাবতে পারিনি।

    মিসেস লরিমা ঘণ্টি টিপলেন। দাঁড়ান আগে চায়ের ব্যবস্থা করি।

    দাসী এসে হাজির হলে চায়ের অর্ডার দিলেন মিসেস লরিমা। কিছুক্ষণ টুকটাক কথা হলো। ইতিমধ্যে দাসী চা নিয়ে হাজির; লরিমা চা ঢালতে ঢালতে অন্য প্রসঙ্গের অবতারণা করলেন। প্রাত্যহিক খবরের কাগজগুলো তিনি বেশ মনোযোগ সহকারেই পড়েন বোঝা গেল।

    কথা প্রসঙ্গে পোয়ারো মন্তব্য করলেন, শুনলাম দু-একদিন আগে আপনি নাকি মিস মেরিডিথের সঙ্গে বসে চা খেয়েছিলেন।

    হা খেয়েছিলাম।

    পোয়ারো মৃদু হাসলেন, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সবার মধ্যে বেশ ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছে। একমাত্র ডাক্তার রবার্টস ছাড়া।

    কিছুদিন আগে ব্রীজ টেবিলে ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা হলো। তাকে বেশ হাসিখুশী দেখলাম।

    দু-এক মুহূর্ত নীরব থেকে আবার প্রশ্ন করলেন, মিঃ ব্যাটেলের সাথে আপনার দেখা হয়েছে।

    আজ বিকেলেই তিনি আমার বাসায় এসেছিলেন। তাঁর কাজকর্ম কেমন চলছে?

    পোয়ারোর স্বর গম্ভীর, ভদ্রলোক তেমন দ্রুত নন ধীরে সুস্থে অগ্রসর হওয়া তিনি পছন্দ করেন। তবে লক্ষ্যে ঠিক পৌঁছে যান।

    হয়তো তাই হবে। তার ঠোঁটে বিদ্রুপের বাঁকা হাসি।আমার প্রতি তাঁর দৃষ্টি বেশ তীক্ষ্ণ।

    তাহলে ম্যাডাম, আমি একটু খুলে বলি, সেদিন রাত্রে মিঃ শ্যাতানার ঘরে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে যাঁর বুদ্ধি সবচেয়ে তীক্ষ্ণ, যিনি সর্বাপেক্ষা যুক্তিপ্রবণ ও স্থির মস্তিষ্ক; তিনি হচ্ছেন ম্যাডাম আপনি।

    যদি কেউ আমাকে বাজি ধরে কে এই খুন করেছে এই চারজনের মধ্যে তখন আমি আপনার ওপরেই বাজি ধরবো।

    তার অর্থ, আমি হলাম সেই ধরনের মহিলা, যে নিখুঁত পরিকল্পনায় একজনকে খুন করতে পারে। অর্থাৎ মিঃ শ্যাতানাকে সফলতার সঙ্গে আমিই খুন করতে পারি।

    পোয়ারো বললেন, শ্যাতানার হত্যার পেছনে এই ধরনের একটা মনোভাব সক্রিয় হয়ে উঠেছিলো।

    তাই বুঝি? মিসেস লরিমা মৃদু হাসলেন।

    পোয়ারো আবার বললেন, তবে আপনার স্বভাব কিন্তু এ ধরনের ক্রাইমের উপযুক্ত নয়। আপনি যদি শ্যাতানাকে খুন করতেন সুচারু রূপে পরিকল্পিত হতো।

    তাহলে এখন আপনি বলছেন এটা পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নয় অতএব আমি তাকে খুন করিনি।

    হ্যাঁ, ম্যাডাম ঠিক তাই। সবিনয়ে পোয়ারো মাথা নাড়লেন।

    মিসেস লরিমা এবার স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, কিন্তু আমিই শ্যাতানাকে খুন করেছি।

    .

    ২৬.

    সন্ধ্যার আঁধার ক্রমেই আরো ঘনিয়ে আসছে। অনেকক্ষণ কারো মুখে কোনো কথা নেই। একটা অস্বস্তিকর নীরবতা।

    অবশেষে পোয়ারো ধীরে ধীরে মুখ খুললেন, ম্যাডাম কেন আপনি শ্যাতানাকে খুন করেছেন? আপনার কোনো গোপন কথা তিনি কি জানতেন?

    হ্যাঁ, সেই গোপন ঘটনা হলো অন্য কোনো মৃত্যু। তাই আমি আজ অকপটে সব প্রকাশ করছি। তাই আপনাকে ডেকে পাঠিয়েছি।

    পোয়ারো অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলেন।

    মিসেস লরিমা কথা শুরু করলেন, একাকীত্বের যন্ত্রণা যে কি ভীষণ আমার মত জীবনযাপন না করলে কেউ তা জানতে পারবে না। সর্বোপরি বিগত জীবনের মৃত্যুহীন স্মৃতি।

    পোয়ারো ঈষৎ গম্ভীর স্বরে প্রশ্ন করলেন, মিঃ শ্যাতানা সেদিন ডিনার টেবিলে যে উক্তি করেছিলেন সেটা কি আপনাকে উদ্দেশ্য করে?

    হ্যাঁ, মিঃ শ্যাতানা সেদিন যে বলেছিলেন, মেয়েদের প্রধান অস্ত্র হচ্ছে বিষ, একথা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলা।

    এ ঘটনা তিনি জানতেন। কখন আপনি তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিলেন?

    সিদ্ধান্ত কখন মাথায় এল স্মরণ করা শক্ত, তবে ডিনারে বসবার আগে ছোরাটা আমার নজরে এল কিন্তু ডিনারের পর সবার অলক্ষ্যে ছোরাটা লুকিয়ে রাখলাম। তারপর ব্রীজের আসর বসলো। অবশেষে সুযোগ এসে উপস্থিত হলো। উঠে দাঁড়ালাম। তখন আমি ডামি, ইতস্তত পায়চারি করবার অছিলায় ফায়ারপ্লেসের কাছে হাজির হলাম। শ্যাতানা তখন চেয়ারে বসে ঝিমুচ্ছিলেন। আমি অন্যদের দিকে তাকালাম, সকলেই তাস খেলায় ব্যস্ত সুতরাং এ সুযোগ হাতছাড়া হতে দিলাম না।

    সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে তার হৃৎপিণ্ড লক্ষ্য করে ছুরি চালালাম। তারপর সন্দেহের হাত থেকে বাঁচবার একটা অজুহাত খুঁজে একটা মন্তব্য ছুঁড়ে দিলাম।

    তিনি কি সেসময় কোনো চিৎকার করে ওঠেননি?

    না, কেবলমাত্র গলা দিয়ে মৃদু ঘড় বড় শব্দ বেরিয়ে এল।

    তারপর আমি আবার ব্রীজের টেবিলে ফিরে গেলাম তখন সেখানে শেষ তাসটা খেলা হচ্ছে।

    উচ্ছ্বসিত ভঙ্গিতে চেঁচিয়ে উঠলেন পোয়ারো, চমৎকার, অভূতপূর্ব। এইরকম বিপজ্জনক ঝুঁকি আপনি নিলেন, এবং আশ্চর্যভাবে সাফল্য লাভ করলেন।

    মিসেস লরিমার ঠোঁটে একধরনের বাঁকা হাসি বিচ্ছুরিত হলো। আপনি ঠিকই বলেছেন। আরও একটা কথা, আমি অসাধু প্রকৃতির মহিলা নই তাই আমার কৃতকর্মের ফলে কেবল মিঃ শ্যাতানাকেই জীবন থেকে বঞ্চিত করলাম তা নয়, অপর তিনজনের জীবনও দুর্বিপাকের মধ্যে টেনে আনলাম। তাই ঠিক করলাম আমার স্বীকারোক্তির ফলে তারা অন্তত রাহুমুক্ত হবে। ঘরের মধ্যে আবার থমথমে নীরবতা নেমে এলো।

    পোয়ারো অবশেষে নীরবতা ভেঙ্গে গম্ভীর কণ্ঠস্বরে বললেন, এই হত্যা যদি পূর্বপরিকল্পিত না হয় তাহলে এ খুন আপনার দ্বারা আদৌ সাধিত হয়নি।

    মিসেস লরিমা তীক্ষ্ণকণ্ঠে বলে উঠলেন, আপনি সত্যই বদ্ধ উন্মাদ। আমি যখন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিচ্ছি তখন কিভাবে এটা মিথ্যা হয় আর তাছাড়া আমার এতে স্বার্থই বা কি?

    আমাকে মিথ্যা বলে লাভ নেই ম্যাডাম, আপনি অপরাধের বোঝা নিজের ঘাড়ে টেনে নিয়ে অল্পবয়সী মেয়েটিকে বাঁচাবার চেষ্টা করছেন। সে আর কেউ নয়–তিনি হচ্ছেন অ্যানা মেরিডিথ।

    আপনি ভুলে যাচ্ছেন কেন, মিসেস লরিমা শুষ্ককণ্ঠে বললেন, আমিও একজন নিরপরাধ মহিলা নই। অনেক বছর আগে আমি নিজে হাতে আমার স্বামীকে খুন করেছিলাম।

    পোয়ারো নীরবতার মধ্য দিয়ে কিছু সময় অতিবাহিত করার পর বললেন, খুনটা সর্বদাই খুনই, আপনার সাহস আছে, আপনার দৃষ্টিশক্তিও খুব স্বচ্ছ।

    একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেললেন মিসেস লরিমা। পোয়ারোর দৃঢ়তায় প্রতিরোধ ক্ষমতার শেষ বিন্দুটুকু পর্যন্ত তার দেহ থেকে অপহৃত হয়ে গেছে। তার কণ্ঠস্বর সরল শিশুর মত শোনালো।

    .

    ২৭.

    পোয়ারো আচমকা হেসে উঠলেন, হাসতে হাসতেই বললেন, এই হত্যার ব্যাপারে এমন একজন প্রত্যক্ষদর্শী থেকে গেছেন, যার চোখের সামনেই এই রহস্যময় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

    তখন বেশ রাত হয়েছে, অ্যানা মেরিডিথ ছিলো ডামি, ঘরের ভেতর ইতস্তত ঘুরে বেড়াতে লাগলো। তাসটা তেমন ঘোরপ্যাঁচের নয় তাই খেলার দিকে আমারও মন ছিলো না, খেলাটা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এমন সময় মিঃ শ্যানার দিকে আমার নজর গেলো। অ্যানা মেরিডিথ শ্যানার চেয়ারে ঝুঁকে পড়ে কি যেন করছে। তার হাতটা ভদ্রলোকের বুকের উপর ন্যস্ত। চোখেমুখে ভীতসন্ত্রস্ত ভাব। চকিত দৃষ্টিতে সে একবার আমার দিকে ফিরে তাকালো। সবই বুঝতে পারলাম।

    পোয়ারো গম্ভীর ভাবে বললেন, আপনি যে দেখে ফেলেছেন ও সেটা নিশ্চয়ই জানে না।

    আহা বেচারী, সমবেদনায় আর্ত হয়ে উঠলেন মিসেস লরিমা। আগে আমি এত সংবেদনশীল ছিলাম না। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনে এসব অভ্যাস জন্ম নেয়।

    পোয়ারো বললেন, সংবেদনশীল কথাটা বেশ শ্রুতিমধুর। উচ্চারণও বেশ গালভরা। তবে ম্যাডাম সেদিন অ্যানা মেরিডিথ কেন মিঃ শ্যাতানাকে খুন করেছিলো জানেন?

    বিস্ময় বিস্ফারিত দৃষ্টিতে ফিরে তাকালেন মিসেস লরিমা, এসব কি সত্যি মিঃ পোয়ারো?

    এর সত্যতা সম্বন্ধে আমার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

    মিসেস লরিমা কণ্ঠস্বর তীক্ষ্ণ করে বলে উঠলেন, আমি কিন্তু আজকের এইসব কথাবার্তা একেবারে অস্বীকারও করতে পারি। মনে রাখবেন আপনার কোনো সাক্ষী নেই।

    পোয়ারো সরল সুরে তাকে আশ্বস্ত করলেন, কোনো ভয় নেই ম্যাডাম। আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন। গভীর আন্তরিকতায় তিনি মিসেস লরিমার দুহাত চেপে ধরলেন। তারপর করমর্দন করে কৃতজ্ঞচিত্তে বললেন, আপনার প্রতি আমার সশ্রদ্ধ স্বীকৃতি রইলো। আমি এখন বিদায় নিচ্ছি। বলে তিনি এগোতে লাগলেন। বেশ কিছুটা এগিয়ে আসবার পর একবার ঘাড় ফিরিয়ে পেছনদিকে তাকালেন। কেউ যেন মিসেস লরিমার বাড়ি প্রবেশ করলেন। তিনি একবার ভাবলেন ফিরে যাবেন কিন্তু তা না করে হেঁটে চললেন ধীরে ধীরে।

    নিজের বাড়িতে ফিরে এসে দেখলেন, মিঃ ব্যাটেল বিদায় নিয়ে চলে গেছেন। তার জন্য কোনো খবর রেখে যাননি।

    তিনি রিসিভার তুলে ব্যাটেলকে ফোন করলেন, ব্যাটেল ভরাট কণ্ঠে বললেন, মিস মেরিডিথের সঙ্গে অনতিবিলম্বে একবার দেখা করা প্রয়োজন। এবং সেটা খুব জরুরী।

    পোয়ারো চিন্তান্বিত চিত্তে রিসিভার নামিয়ে রাখলেন। অবশেষে ভয় ভাবনা দূরে ঠেলে ঘুম চোখে বিছানার দিকে এগিয়ে গেলেন।

    আগামী প্রভাত তার সামনে কি রূপে দেখা দেবে সে সম্বন্ধে কোনো ধারণা করে উঠতে পারলেন না।

    .

    ২৮.

    ব্যাটেল পোয়ারোকে ফোন করলেন। হ্যালো মিঃ পোয়ারো, মিসেস লরিমার কি খবর জানেন? তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    নানাকারণে ভদ্রমহিলা ইদানীং খুব ভেঙে পড়েছিলেন। তার শরীরও ভালো যাচ্ছিল না। তিনি ডাক্তারের চিকিৎসা মত ঘুমের বড়ি খেতেন কিন্তু গতরাত্রে একসঙ্গে অনেকগুলো বড়ি খাওয়ার ফলে তার মৃত্যু হয়। তিনি আত্মহত্যা করবার আগে তিনজনকে তিনটি চিঠি লিখে যান। ডাক্তার রবার্টস, মেজর ডেসপার্ড, আর মিস মেরিডিথ।

    তিনি তাদের জানান তিনিই শ্যাতানার হত্যাকারী আর এর জন্য যে তাদের নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তার জন্য তিনি প্রত্যেকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

    মিনিট দুয়েক পোয়ারো কোনো কথা বললেন না। রিসিভার ধরে বসে রইলেন।

    তাহলে এই হলো মিসেস লরিমার অন্তিম সিদ্ধান্ত। সত্যিই অসাধারণ মহিলা। মিসেস লরিমার প্রতি শ্রদ্ধা আরো নিবিড় হলো।

    ব্যাটেলের কণ্ঠস্বরে পোয়ারোর ধ্যানভঙ্গ হলো, গত সন্ধ্যায় কি বলেছিলেন? ভদ্রমহিলাকে সন্দেহ করছি বলে কি কিছু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

    পোয়ারো মৃদুকণ্ঠে বিড়বিড় করলেন। আমারই ধারণায় কোনো ভ্রান্তি ছিলো।

    আপনি ভুল করেছিলেন, ব্যাটেল প্রশ্ন করলেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও প্রমাণ করবার ক্ষমতা আপনার ছিলো না।

    ঠিক কি ঘটেছিলো পরিষ্কার করে খুলে বলুন তো?

    সকাল আটটার ডাকে রবার্টস এই চিঠি পান। তিনি আর কালবিলম্ব না করে তাঁর নিজের গাড়িতে চড়ে মিসেস লরিমার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে পড়েন। কিন্তু পরিচারিকার মুখে শোনেন ভদ্রমহিলা তখনো ঘুম থেকে ওঠেননি। তিনি দ্রুতপায়ে ঘরে গিয়ে দেখেন সব শেষ।

    ডিভিশনাল সার্জেনেরও তাই মত। ঘুমের ট্যাবলেটই তার মৃত্যুর কারণ।

    ডেসপার্ড শহরের বাইরে গেছেন; আজ সকালের ডাক তার হাতে পৌঁছয়নি।

    আর মিস মেরিডিথ? অল্প আগে তাকে ফোন করেছিলাম, তিনি খবরটা শুনে দুঃখপ্রকাশ করলেন বটে তবে তিনি যে স্বস্তিবোধ করছেন এটা তার গলার স্বরে টের পাওয়া যায়।

    পোয়ারো যখন অকুস্থলে হাজির হলেন রবার্টস তখন প্রস্থানের উপক্রম করছেন।

    কি জঘন্য কাণ্ড মিঃ পোয়ারো। শান্ত স্বভাবের সম্ভ্রান্ত ঘরের মহিলা, তিনি যে এমন একটা কাজ করতে পারেন তা ভাবা যায় না।

    তবে ঘটনাটা আপনাকে অনেকখানি হাল্কা করে দিয়েছে।

    পোয়ারো মিসেস লরিমার দাসীকে কয়েকটি প্রশ্ন করলেন দাসী সবিস্তারে উত্তর দিল:

    গতকাল আপনি বিদায় নেবার পর আর একজন অল্পবয়সী মহিলা তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। মনে হয় সেই কারণে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।

    পোয়ারো দাঁড়িয়ে পড়ে জিজ্ঞাসা করলেন, কতক্ষণ ছিলেন মহিলা।

    প্রায় ঘণ্টাখানেক।

    বসবার ঘরের টেবিলের ওপর ডাকে পাঠাবার জন্য গোটাকতক চিঠি পড়ে ছিলো।

    সেগুলি নিয়ে আমি ডাকে ফেলে দিয়ে আসি। মোট তিনটে চিঠি ছিলো।

    পোয়ারো গম্ভীর ভাবে বলল, ঘুমের বড়ির শিশিটা কোথায় থাকতো?

    তার শোবার ঘরের ছোট জাল আলমারিটার মধ্যে।

    ভাগ্য আমাদের বিরুদ্ধে নইলে ঘণ্টাদুয়েক আগে টের পেলে ভদ্রমহিলাকে বাঁচানো যেত। ডিভিশনাল সার্জেন হতাশভাবে বললেন।

    ভদ্রমহিলা কি মিঃ শ্যাতানাকে খুন করেছিলেন তা জানি না, হয়তো কোনো সঙ্গত কারণ ছিলো।

    তিনি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামবার উদ্যোগ করলেন, এক মিনিট, ডাক্তার-ব্যাটেল ডেকে উঠলেন।

    পোয়ারো শয়নকক্ষের দিকে এগিয়ে গেলেন, আমি কি ভেতরে ঢুকে মৃতদেহটা দেখতে পারি।

    অবশ্যই। ব্যাটেল সম্মতি জানালেন। আমাদের পরীক্ষা শেষ।

    প্রাণহীন দেহটা বিছানার ওপর পড়ে আছে। মৃতদেহের বাঁ হাতের মাঝখানে একফোঁটা বিবর্ণ রক্তচিহ্ন। সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ালেন পোয়ারো, তিনি দ্রুত পায়ে ঘর ত্যাগ করে নিচে নেমে এলেন। পোয়ারোকে রীতিমতো উত্তেজিত মনে হলো। তিনি ব্যাটেলের হাত ধরে বললেন, চলুন এক্ষুনি উইলিংফোর্ড যাবার ব্যবস্থা করুন। আমি আপনাকে সাবধান করে দিচ্ছি মেরিডিথ তরুণী হলেও সাংঘাতিক এবং বিপজ্জনক। এ বিষয়ে সচেতন হওয়া দরকার।

    .

    ২৯.

    রোডা অ্যানাকে ডাকলেন। অ্যানা চেয়ারে সোজা হয়ে উঠে বসলেন, রোজা তাকে বলল, মিঃ ব্যাটেল এখানে আবার আসছেন।

    তাকে বেনসনের ব্যাপারটা বলে দেওয়া ভালো, এটা লুকানোর কোনো দরকার নেই।

    মেজর ডেসপার্ডও আসছেন বেশ মজাই হলো দেখছি। মেজর ডেসপার্ড এগারোটায় আসবেন বলে চিঠিতে জানিয়েছেন।

    দশ মিনিট বাদেই মেজর ডেসপার্ড এসে পৌঁছোলেন। কিন্তু রোডা ও অ্যানা একটু বাইরে বেড়াতে গেছে শুনে বেশ অবাক হয়ে গেলেন।

    এদিকে অ্যানার দাসী সবে কাজে হাত লাগাতে যাবে এমন সময় আবার কলিংবেল বেজে উঠলো। দাসী দরজা খুলে দেখেন দুজন ভদ্রলোক মেরিডিথের খোঁজে এসেছেন কিন্তু মেরিডিথ নেই শুনে কোথায় গেছে খোঁজ করলেন। এবং দাসীর মুখে শুনে সেই দিকেই যাওয়ার উদ্যোগ নিলেন।

    পোয়ারো আর ব্যাটেল তখন বাঁ-হাতের পথ ধরে অনেকখানি এগিয়ে গেছেন। পোয়ারোকে উত্তেজিত ভঙ্গিতে দ্রুত পায়ে হাঁটতে দেখে ব্যাটেল প্রশ্ন করলেন, অতো তাড়া কিসের মঁসিয়ে পোয়ারো? মনে হচ্ছে আপনি যেন খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন?

    তা ঠিক, কেন জানি না, আমি নিজে খুব অস্বস্তি বোধ করছি।

    ব্যাটেল বলল, কিসের আশঙ্কা করছেন? কিছু একটা নিশ্চয় আপনার মাথায় আছে? তা না হলে সকাল বেলা এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে এখানে চলে এলেন কেন? এবং আপনার কথাতেই আমি কনস্টেবল টার্নারকে নির্দেশ দিয়ে পাঠালাম, এ অঞ্চলের গ্যাস সরবরাহ যেন কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। মেয়েটা কিছু একটা করে বসতে পারে বলে আপনি সন্দেহ করছেন? তাছাড়া ভাবছি মেরিডিথ কি জানে যে তার বন্ধু মিসেস অলিভারের কাছে একটা গোপন তথ্য ফাস করে দিয়েছে?

    পোয়ারো মাথা ঝাঁকালেন, সেই জন্যই বলছি, তাড়াতাড়ি চলুন। এক মুহূর্ত সময়ও এখন অনেক মূল্যবান।

    দুজনে দ্রুত পায়ে হেঁটে চললেন। কিন্তু কিছুটা এগিয়ে দুজনে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন, একটা ডিঙিতে রোজা আর অ্যানা নদীর মাঝবরাবর বসে আছেন। তারা হেসে হেসে গল্প করছে। তাদের দৃষ্টি অন্যদিকে নিবদ্ধ।

    ঠিক সেই মুহূর্তে সকলের চোখের সামনে অভাবনীয় একটা ব্যাপার ঘটে গেল।

    অ্যানা দুহাত বাড়িয়ে সজোরে ধাক্কা মারলেন রোডাকে। রোডা জামার প্রান্ত ধরে টাল সামলাবার চেষ্টা করছে। ঝকানিতে উল্টে গেলো ছোট ডিঙি নৌকাটা। দুজনেই পড়ে গেলো নদীতে।

    দেখুন দেখুন! চেঁচিয়ে উঠলেন ব্যাটেল। মিস মেরিডিথ ইচ্ছে করে ধাক্কা মেরে বন্ধুকে জলে ফেলে দিলো। এটা নিশ্চয় তার চতুর্থ হত্যাকাণ্ড।

    তাঁরা দুজনেই দৌড়তে শুরু করলেন, মেজর ডেসপার্ড ছিলেন তাদের আগে।

    তিনি জলে আঁপিয়ে পড়লেন। মেয়েদুটি এখন আর এক জায়গায় নেই। স্রোতের টানে পরস্পরের কাছ থেকে তফাতে চলে গেছেন।

    মেজর ডেসপার্ড সাঁতরে রোডার দিকে এগিয়ে গেলেন।

    ব্যাটেলও ইতিমধ্যে জলে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ডেসপার্ড ততক্ষণে রোডাকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে এসে শুইয়ে দিলেন, এবার অ্যানাকে খুঁজতে লাগলেন কিন্তু তার কোনো চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে না। অবশেষে অনেক পরে ব্যাটেল আর ডেসপার্ডের প্রচেষ্টায় অ্যানাকে খুঁজে পাওয়া গেল। তারা ধরাধরি করে তাকে তীরে নিয়ে এলেন।

    পোয়ারোর সেবা শুশ্রূষায় জ্ঞান ফিরে এসেছে রোডার। তার পাশেই অ্যানাকে শোয়ানো হলো। ব্যাটেল যথেষ্ট তৎপরতার সঙ্গে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাসপ্রশ্বাসচালু করবার চেষ্টা করলেন। তাকে সাহায্য করবার জন্য মিঃ পোয়ারো দাঁড়িয়ে রইলেন।

    মেজর ডেসপার্ড জিজ্ঞাসা করলেন, এখন কিছুটা সুস্থ আছেন তো?

    রোডা স্বপ্নচ্ছন্ন কণ্ঠে উত্তর দিলেন, আপনি…আমায় বাঁচিয়েছেন! বলে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন। ডেসপার্ডের চোখের সামনে একটা অলৌকিক ছায়াছবি ভেসে উঠলো।

    .

    ৩০.

    পোয়ারোর কণ্ঠস্বর গম্ভীর। তারা তখন লণ্ডনের সীমান্ত দিয়ে গাড়ি ছুটিয়ে যাচ্ছিলেন।

    তিনি রোডাকে বললেন, অ্যানা তোমায় ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা মেরে জলে ফেলে দিয়েছে। এটা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত।

    রোডা উত্তর দিলেন, কিন্তু…কিন্তু কেন?

    পোয়ারো মিনিট দুয়েক কোনো উত্তর দিলেন না। অ্যানাকে প্ররোচিত করার পেছনে মেজর ডেসপার্ডের মন্তব্যের উদ্দেশ্য আছে তা তিনি জানেন।

    মিঃ ব্যাটেল বললেন, আপনাকে প্রস্তুত হয়ে নিতে হবে, মিস দোয়স। এবার যা বলবো তাতে আপনি নিদারুণ আঘাত পাবেন। আপনার বন্ধু একজন খুনী। তিনি যে মিসেস বেনসনের বাড়ি কাজ করতেন তাকে সুপরিকল্পিতভাবে মিস মেরিডিথই হত্যা করেছিলেন।

    এসব আপনি কি বলছেন? অ্যানাই বোতল দুটি বদলে রেখেছিলো? এ হতে পারে!

    তার পেছনেও যুক্তি ছিলো, মিঃ ব্যাটেল এবার উত্তর দিলেন।

    সে যাইহোক, অ্যানার ধারণা একমাত্র আপনি আমাদের কাছে এ ঘটনার হদিশ দিতে পারেন। তাই আপনাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলো।

    বন্ধু হিসেবে মিস মেরিডিথ যে খুব ভালো ছিলো না এতে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। গাড়িটা একটা বাড়ির দোরগোড়ায় এসে থামলো।

    এটা হচ্ছে পোয়ারোর বাড়ি। চলুন আমরা সকলে এখানে সমস্ত বিষয়টা আলোচনা করি।

    পোয়ারো ড্রইংরুমে ঢুকতে না ঢুকতেই শ্রীমতি অলিভার তাদের স্বাগত জানালেন। ইতিপূর্বে ডাক্তার রবার্টসও সেখানে হাজির হয়েছেন।

    আসুন আসুন, শ্রীমতী অলিভার এমন অমায়িক ভঙ্গিমায় সকলকে আহ্বান জানালেন যাতে মনে হয় এটা যেন তারই নিজের বাড়ি, পোয়ারোর নয়। আপনার টেলিফোন পাওয়া মাত্রই আমি রবার্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করি, তারপর দুজনে একসঙ্গে এখানে হাজির হই।

    পোয়ারো মৃদুস্বরে বললেন, এই রহস্যময় হত্যার পরিসমাপ্তি ঘটেছে। অবশেষে আমরা মিঃ শ্যাতানার হত্যাকারীকে আবিষ্কার করতে পেরেছি।

    মিসেস অলিভারও আমাকে এই কথা জানালেন। সুন্দরী মেরিডিথই এই অপকীর্তির মূল সেটা কল্পনা করাও দুঃসাধ্য। তাকে তো খুনী বলে আমি কোনোদিন ভাবতেও পারিনি।

    আজকের দিনটা আমার ডায়রীতে একটা স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে, রবার্টস বললেন। প্রথমে মিসেস লরিমার পত্র। সেটি নিশ্চয় জাল চিঠি, তাই না?

    নিঃসন্দেহে; তিনটে চিঠিই জাল।

    মিস মেরিডিথ কি নিজের নামেও একটা চিঠি পাঠিয়েছিলেন?

    সেটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। নকলটাও যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে করা হয়েছিলো। অবশ্য বিশেষজ্ঞরা নিশ্চয় এই ভাওতায় ভুলতেন না। আমার অযাচিত কৌতূহল মাপ করবেন মঁসিয়ে পোয়ারো। মিসেস লরিমার মৃত্যুটা যে আত্মহত্যা নয় সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সে কথা আপনি প্রথম সন্দেহ করলেন কিভাবে? অ্যানা মেরিডিথ যে আগের দিন সন্ধ্যায় মিসেস লরিমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন এ খবর বোধহয় তার কাছ থেকে প্রথম জানতে পারেন।

    হ্যাঁ, অন্যান্য খবরের সঙ্গে এ তথ্যটাও সে সরবরাহ করেছিলো। তাছাড়া প্রকৃত অপরাধী কে সে সম্বন্ধেও আমি মনস্থির করে ফেলেছিলাম। অর্থাৎ মিঃ শ্যাতানার হত্যাকারী কে তা আমি জানতাম এবং সে ব্যক্তি মিসেস লরিমা নন। তবে নিজস্ব পদ্ধতিতে বক্তব্য রাখাই আমার বরাবরের অভ্যাস, সেটা হচ্ছে এক এক করে বাছাই করা। মিসেস লরিমা শ্যানার হত্যাকারী নন। মেজর ডেসপার্ডও তাকে খুন করেননি। এবং শুনলে অবাক হবেন এই হত্যাকাণ্ডটার পেছনে মিস মেরিডিথেরও কোনো হাত ছিলো না।…

    সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়লেন তিনি। তাঁর মৃদু কোমল কণ্ঠস্বরে শিকারী বিড়ালের আমেজ।–তাহলে বুঝতেই পারছেন ডাক্তার রবার্টস, একমাত্র আপনিই অবশিষ্ট থাকেন। আপনিই মিঃ শ্যাতানাকে হত্যা করেছেন এবং মিসেস লরিমাকেও।

    কম করেও মিনিট তিনেক কারো মুখে কোনো কথা ফুটলো না। একটা অস্বস্তিকর থমথমে নীরবতা। অবশেষে নীরবতা ভঙ্গ করলেন ডাক্তার রবার্টস, বীভৎস ভঙ্গিতে হো হো করে হেসে উঠলেন। আপনি কি পুরোদস্তুর পাগল, মঁসিয়ে পোয়ারো? বলা বাহুল্য, মিঃ শ্যাতানাকে আমি খুন করিনি। মিসেস লরিমাকে খুন করাও আমার পক্ষে অসম্ভব। মিঃ ব্যাটেল–তিনি তার দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন, আপনি এইসব আজগুবি প্রলাপ শোনাবার জন্যে আমাকে ডেকে এনেছেন।

    স্থির হয়ে মিঃ পোয়ারোর সম্পূর্ণ বক্তব্যটা শুনলেই বোধহয় ভালো করবেন।

    পোয়ারো বললেন, যদিও কিছুদিন আগেই আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি যে আপনিই মিঃ শ্যাতানাকে খুন করার ব্যাপারে এমন একজন প্রত্যক্ষদর্শী থেকে গেছে যে আদালতে দাঁড়িয়ে আপনার অপকীর্তির সাক্ষী দিতে পারবে।

    রবার্টসের হাবভাব ক্রমশ স্থির শান্ত হয়ে এলো। চোখের দৃষ্টিতে একটা উজ্জ্বল চকচকে আভা। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে পোয়ারোর কথার প্রতিবাদ জানালেন। আপনি আবোলতাবোল বকছেন, মঁসিয়ে পোয়ারো।

    না, মোটেই আমি ভুল বকছি না। আজ ভোরে আপনি বাজে ভাওতা দিয়ে মিসেস লরিমার শোবার ঘরে প্রবেশ করলেন, গত রাত্রে কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ খাওয়ার ফলে তিনি তখন গভীর নিদ্রায় অচেতন। আপনি প্রৌঢ়া দাসীকে ভাওতা দিলেন, বললেন মিসেস লরিমা খুব সম্ভবত মারা গেছেন। তবু একবার শেষ চেষ্টা করে দেখবার জন্যে তাকে ব্র্যাণ্ডি আর গরম জল আনতে পাঠান। সেই সময় ঘরের মধ্যে তৃতীয় কোনো প্রাণী উপস্থিত ছিলো না। আর তারপর কি ঘটলো?…

    আপনি হয়তো জানেন না ডাক্তার রবার্টস যে জানলায় জমে থাকা বরফ পরিষ্কার করবার জন্য যে সমস্ত কোম্পানি আছে তাদের কেউ কেউ খুব ভোরেই কর্মচারীদের কাজে পাঠিয়ে দেয়। আপনি যখন মিসেস লরিমার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করেন সেই সময় একজন কর্মচারী মই নিয়ে হাজির হয়েছিলো, ঘটনাচক্রে মিসেস লরিমার ঘরের জানলাটাই সে প্রথম বেছে নেয়। তার ফলেই একটা দুর্লভ দৃশ্য তার চোখে পড়ে। তাকে এখানে ডেকে আনা হয়েছে তার নিজের মুখ থেকেই ঘটনাটা শোনা যাক।

    পোয়ারো মৃদু পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে ডাকলেন, তুমি ভেতরে এসো।

    অনতিবিলম্বে দশাসই চেহারার শ্রমিকশ্রেণীর একজন লোক ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলো। তার মাথার চুল লাল, ডান হাতে ধরা একটা ক্যাম্বিসের টুপি। টুপির গায়ে গোল করে লেখা চেলসি উইণ্ডো অ্যাসোসিয়েশন। পোয়ারো প্রশ্ন করলেন, ঘরের মধ্যে যাঁরা বসে আছেন, তুমি তাদের কাউকে চিনতে পারছো?

    লোকটি একবার সকলকে পর্যবেক্ষণ করে ডাক্তার রবার্টসের দিকে ইঙ্গিত করলো, এই ভদ্রলোককে চিনতে পারছি।

    শেষ কখন তুমি ভদ্রলোককে দেখেছো এবং উনি তখন কি করছিলেন?

    আজ ভোরবেলার ঘটনা স্যার, তখন আটটাও বাজেনি। আমি চেইন লেনে এক ভদ্রমহিলার ঘরের জানলায় জমে থাকা বরফ সাফ করছিলাম। ভদ্রমহিলা বিছানায় শুয়েছিলেন। তাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিলো। তিনি ঘুমের ঘোরেই একবার চোখ মেলে তাকালেন। ভদ্রলোককেও আমি তখন তার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলাম। আমি তাকে একজন ডাক্তার বলেই মনে করি। তার হাতে একটা ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ছিলো। তিনি খুব দ্রুত ভদ্রমহিলার শরীরে ইনজেকশন ছুঁড়ে দিলেন। ভদ্রমহিলা আবার ঘুমিয়ে পড়লেন। চোখ বুজে। আমি সেখানে আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা না করে নিঃশব্দে দ্বিতীয় জানলার দিকে এগোলাম..মনে হয়, আমি নিশ্চয় কোনো অন্যায় করিনি?

    না না, অন্যায় নয়, পোয়ারো উৎসাহের সুরে বললেন, তুমি আমাদের মহা উপকার করেছ। অপূর্ব…অভূতপূর্ব! তারপর রবার্টসের দিকে ফিরে তাকালেন। তাহলে ডাক্তার রবার্টস…?

    একটা..একটা অতি সাধারণ শক্তিবর্ধক ওষুধ… তোতলাতে শুরু করলেন রবার্টস। শুধু তার জ্ঞান ফিরিয়ে আনবার জন্য সর্বশেষ প্রচেষ্টা।

    পোয়ারো কথার মাঝখানে বাধা দিলেন। সাধারণ শক্তিবর্ধক।… এন মিথাইল সাইক্লো হেক্সানিল-মিথাইল-ম্যালোনিল ইউরিয়া। কেটে কেটে প্রতিটি শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করলেন তিনি। সাধারণ ভাষায় একে এভিপ্যান বলা হয়। ছোটখাটো অপারেশনের সময় সেই জায়গাটা অসাড় করে দেবার জন্য এর প্রয়োজন লাগে। শিরার মধ্যে বেশি পরিমাণ এভিপ্যান ইনজেক্ট করে দিলে সে সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে পড়তে বাধ্য। ভেরোম্যান বা ঐ জাতীয় ঘুমের ওষুধ ব্যবহারের পর এই এভিপ্যানের প্রয়োগ খুব বিপজ্জনক। মিসেস লরিমার বাহুর ওপর আমি একটা ইনজেকশনের চিহ্ন লক্ষ্য করেছিলাম। পুলিশ সার্জেনকে ঘটনাটা জানাবার পর তারা ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখেন এবং প্রধান পুলিস সার্জন স্যার চার্লস ইস্ফেরি-ই আমাকে এই তথ্য সরবরাহ করেছেন।

    এতেই আপাতত আমাদের কাজ চলে যাবে বলে মনে হয়। ব্যাটেল মুখ খুললেন, শ্যাতানার হত্যার ব্যাপারে অতো মাথা ঘামাবার প্রয়োজন হবে না। অবশ্য দরকার পড়লে মিঃ ক্র্যাডককে হত্যার দায়েও আমরা আপনাকে অভিযুক্ত করতে পারি। খুব সম্ভবত তার স্ত্রীকেও আপনি হত্যা করেছেন।

    মিঃ এবং মিসেস ক্র্যাডকের নাম শোনামাত্রই হতাশভাবে মুষড়ে পড়লেন ডাক্তার রবার্টস। তার মুখে আর কোনো প্রতিবাদের ভাষা জোগালো না। অবশ হয়ে হেলে পড়লেন চেয়ারের ওপর।

    ঠিক আছে, আমি হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি। ক্লান্ত কণ্ঠে তিনি বললেন, আর কোনো বাধা দেবো না আমায় গ্রেপ্তার করুন। মনে হয় শয়তান শ্যাতনাই এ বিষয়ে আপনাদের কিছু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আমারও সেই রকম সন্দেহ হয়েছিলো। ভেবেছিলাম খুব সুন্দর ভাবে চিরকালের জন্য শ্যাতানার মুখ বন্ধ করতে পেরেছি। কিন্তু

    না শ্যাতানা নয়, ধীর কণ্ঠে ব্যক্ত করলেন ব্যাটেল, সমস্ত কৃতিত্ব মঁসিয়ে পোয়ারোর।

    তিনি দরজার দিকে এগিয়ে যেতেই ইউনিফর্ম পরা দুজন পুলিস ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলো। তিনি তাদের শান্ত গম্ভীর কণ্ঠে ডাক্তার রবার্টসকে গ্রেপ্তার করবার আদেশ দিলেন।

    রবার্টসকে নিয়ে কর্মচারী দুজন ঘর ছেড়ে চলে যাবার পর শ্রীমতী অলিভার খুশি-খুশি চোখ তুলে পোয়ারোর দিকে ফিরে তাকালেন। আমি তখনই বলেছিলাম এটা ওরই কীর্তি। তবে…তার কণ্ঠস্বরে কিছুটা সংশয়ের সুরও মিশেছিলো।

    .

    ৩১.

    পোয়ারো মৃদু হেসে বললেন, আপনারা জানেন বক্তৃতা দেবার সুযোগ পেলে আমি মনে মনে খুবই আত্মপ্রসাদ লাভ করি। আপনারা এই বৃদ্ধের বক্তৃতা শোনবার জন্য অনেকক্ষণ প্রতীক্ষা করে আছেন। এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

    আমি সারা জীবন যতগুলো রহস্যময় মামলার সম্মুখীন হয়েছি তার মধ্যে এই মামলাটাই সবচেয়ে জটিল এবং অত্যাধিক চমকপ্রদ। কেন না এগিয়ে যাবার মতো সামান্যতম কোনো সূত্রের চিহ্ন এখানে নেই। চারজন মাত্র লোক এবং তাদের মধ্যেই একজন এই অপকীর্তির নায়ক। কিন্তু সে কোনজন? কি করে আমরা তাকে চিহ্নিত করতে পারি? বস্তুকেন্দ্রিক বিচারে বলতে হয় না, তা পারি না। ধরা ছোঁওয়া যায় এমন কোনো সূত্র নেই, না পাওয়া গেছে কোনো আঙুলের ছাপ, অভিযোগমূলক কোনো কাগজপত্র বা দলিলেরও হদিশ এখানে পাওয়া যায়নি। সন্দেহভাজন চারজন ব্যক্তিই কেবল আমাদের সামনে উপস্থিত আছেন।

    আর বস্তুগত সূত্র বলতে একটিমাত্র যা পাওয়া যায়–সেটা হলো ব্রীজ খেলার চারটে স্কোরশীট। তাই এই মামলার একেবারে প্রথম থেকেই আমি স্কোরশীটগুলোর ওপর বিশেষভাবে নজর দিয়েছিলাম। কারণ এর মধ্যেই ওদের মানসিক গতিপ্রকৃতির কিছুটা ইঙ্গিত নিহিত আছে, তাছাড়া একটা মহামূল্যবান সংবাদ এর মধ্যে থেকে খুঁজে পাই। দেখলাম তৃতীয় রাবারের স্কোরশীটে একদিকের কলমে ১৫০০০ সংখ্যাটি লেখা আছে। এই সংখ্যাটি দেখে সিদ্ধান্তে আসতে দেরী লাগে না যে খেলাটি ছিলো গ্র্যাণ্ডস্লামের। এখন সেদিন সন্ধ্যায় ব্রীজ টেবিলের সেই পরিবেশটার কথা চিন্তা করুন। সেই অস্বাভাবিক পরিবেশের মধ্যেই কোনো একজন মিঃ শ্যাতানাকে হত্যা করবার মতলব আঁটছে। তাকে অন্তত দুটো অতি মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হবে। প্রথমত মারা যাবার আগে ভদ্রলোক চেঁচিয়ে উঠতে পারেন। দ্বিতীয়টি হচ্ছে তিনি যদি চেঁচিয়ে নাও ওঠেন, তাহলেও সেই চরম মুহূর্তে ঘরের অন্য কেউ তাকে দেখে ফেলতে পারেন।

    চিন্তা করুন প্রথম ঝুঁকিটার সম্বন্ধে কিছু করার নেই এটাকে জুয়ার মতো ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। দ্বিতীয়টা সম্বন্ধে সেকথা প্রযোজ্য নয়। চেষ্টা করলে এর কিছুটা প্রতিকার করা যেতে পারে। সাধারণ তাস পড়লে খেলোয়াড়রা তেমন মনোযোগ দিয়ে খেলেন না। তারা এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখেন, নিজেদের মধ্যে সহজ হাল্কা সুরে কথাবার্তা বলেন। কিন্তু কোনো জটিল তাস হলে তখন রীতিমত উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। সমস্ত মনটা তাসের দিকেই নিবদ্ধ থাকে। এখন গ্র্যাণ্ডস্লামের খেলা খুব উত্তেজনাপূর্ণ এবং রাবার ব্রীজের প্রায় প্রতিক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষ এই ডাকে ডবল দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। তিনজন খেলোয়াড় গভীর মনোযোগ দিয়ে তাস খেলেছে। একজনের চিন্তা কিভাবে তেরোটা পিটই ঘরে তোলা যায়। বিরুদ্ধ পক্ষ আপ্রাণ চেষ্টা করছে কোনো সুযোগে একটা পিট অন্তত তাদের ছিনিয়ে নিতে হবে। তাদের তাস ফেলার মধ্যে যেন কোনো ভুল না হয়। পার্টনার কোন রঙটায় উৎসাহ দেখাচ্ছে, কোন রঙটায় দেখাচ্ছে না, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নজর রাখতে হয় সবকিছুর।

    ভেবে দেখলাম, সেই পরিবেশে কাউকে যদি খুন করতে হয় তবে ডামির পক্ষে হচ্ছে এই সুবৰ্ণসুযোগ। খোঁজ নিয়ে জানলাম সেই বিশেষ ভীলটায় ডামি ছিলে ডাক্তার রবার্টস।

    একথা মনে রেখেই মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুনভাবে মামলাটার দিকে অগ্রসর হলাম। সন্দেহভাজন চারজনের মানসিক গঠন বিচার-বিশ্লেষণ করে আমার মনে হলো এর মধ্যে একমাত্র মিসেস লরিমাই নিখুঁতভাবে কোনো হত্যার পরিকল্পনা করতে পারেন, এবং তাকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলার ক্ষমতাও তার আছে। কোনো মুহূর্তের উত্তেজনায় তিনি কোনো খুন করে বসলেন একথা বিশ্বাস করতে আমি আদৌ প্রস্তুত নই। অপরপক্ষে মিঃ শ্যাতানা খুন হবার দিন মিসেস লরিমার কথাবার্তা আমার মনে সন্দেহের উদ্রেক করে। হয় তিনিই খুন করেছেন না হলে তিনি খুনীকে দেখেছেন। মেজর ডেসপার্ড, মিস মেরিডিথ, ডাক্তার রবার্টস এদের পক্ষে খুন করা সম্ভব। তবে প্রত্যেকের মানসিক গঠন ভিন্ন ভিন্ন ধরনের।

    তাই দ্বিতীয় পরীক্ষা হলো প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা আলাদা দেখা করা এবং তারা মিঃ শ্যাতানার ঘরে কি কি জিনিষ দেখেছেন বিশেষ করে ছুরিটা কার নজরে পড়েছে। তাছাড়া ব্রীজ খেলার তাসের সম্বন্ধে বলা, কিন্তু ডাক্তার রবার্টসের কাছে তাস খেলার কোনো খবরই পেলাম না কারণ তার খেলায় মন ছিলো না।

    তাসের ব্যাপারে মিসেস লরিমার স্মৃতিশক্তি কিন্তু আশ্চর্যভাবে তীক্ষ্ণ এবং তিনি যে গভীর মনোনিবেশ সহকারে তাস খেলেন তাতে তার পাশে দাঁড়িয়ে একজন অন্যকাউকে খুন করলেও ভদ্রমহিলা চোখ তুলে দেখবেন বলে মনে হয় না। তার কাছে আমি আর একটি মূল্যবান সংবাদ পাই। ডাক্তার রবার্টস গ্র্যাণ্ডস্লামের ডাক দিয়েছিলেন, বলাবাহুল্য খুবই অযৌক্তিক ভাবে। এবং তিনি তার পার্টনার মিসেস লরিমার রঙেই ডাক দেন। যার ফলে ভদ্রমহিলাকেই তাসটা খেলতে হয়।

    তৃতীয় পরীক্ষা, ব্যাটেল এবং আমি দুজনে গভীর ভাবে আলোচনা করছিলাম, সেটা হচ্ছে ওই চারজনের কর্মজীবনের কৃত অপরাধ সম্পর্কে সম্যকরূপে অবগত হওয়া। কোন পরিস্থিতিতে তারা তাদের হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করেছিলেন বর্তমান ক্ষেত্রেও সেই পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটেছে কিনা সেটা লক্ষ্য করাই হলো আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

    তাদের পূর্বজীবনের ইতিহাস উদ্ধারের যা কিছু কৃতিত্ব তা সবই ব্যাটেল, কর্নেল রেস এবং শ্ৰীমতী অলিভারের প্রাপ্য, কিন্তু এর সাহায্যেও ব্যাটেল বর্তমান রহস্যের কোনো হদিশ খুঁজে পেলেন না। তার ধারণা পূর্ববর্তী খুনগুলোর বেলায় যে সমস্ত পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিলো তাদের কোনোটার সঙ্গেই বর্তমান খুনের কোনো সামঞ্জস্য নেই কিন্তু তা সত্য নয়। ডাক্তার রবার্টস আগে যে খুন করেছেন বলে আমরা জানি তার সঙ্গে বর্তমান খুনটার কোনো সাদৃশ্য নেই। কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে বুঝতে পারা যায় এদের মধ্যে চারিত্রিক মিল কত সুদৃঢ়।

    রুগী পরীক্ষা করে দেখার পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সব ডাক্তারদেরই বিধি আর সেই সুযোগে একজনের সেভিং ব্রাশে অ্যানথ্রক্স রোগের দূষিত জীবাণু মাখিয়ে রেখে আসা কত সহজ। মিসেস ক্র্যাডককে খুন করা হলো টাইফয়েড রোগের প্রতিষেধক ইনজেকশন দেবার আছিলায়। এবার শ্যাতানাকে খুনের কথাটা চিন্তা করুন। ডাক্তার রবার্টস উপলব্ধি করতে পারলেন তিনি বিপদের জালে জড়িয়ে পড়েছেন তাই শ্যাতানার মুখ বন্ধ করা দরকার সুতরাং খুন তাকে করতেই হবে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মনস্থির করে ফেললেন তাকে একটা প্রচণ্ড ঝুঁকি নিতে হবে। অবশ্য ব্রীজ টেবিলে ঝুঁকি নেবার অভ্যাস তার আছে।

    যখন আমি মনে মনে প্রায় নিশ্চিত হয়ে উঠেছিলাম যে, ডাক্তার রবার্টসই প্রকৃত অপরাধী ঠিক সেই সময় মিসেস লরিমা আমাকে ডেকে পাঠান এবং আমাকে বিস্মিত করে দিয়ে স্পষ্ট জানান এই খুনটা তিনিই করেছেন। কিন্তু এটা তিনি করেননি সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত ছিলাম, কিন্তু এরপর তিনি যেটা বললেন সেটা আরও জটিল। তিনি বললেন তিনি নাকি অ্যানা মেরিডিথকে নিজে খুন করতে দেখেছেন।

    পরের দিন সকালে বিছানায় শায়িত মিসেস লরিমার মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে আমি এই ঘটনার নিগূঢ় তাৎপর্য সর্বপ্রথম উপলব্ধি করতে পারলাম। বাস্তবিক পক্ষে তিনি যা বলেছেন তাও যেমন সত্যি। আমার সিদ্ধান্ত ঠিক তেমনই অভ্রান্ত।

    আসলে যা ঘটেছিলো তা এই। একবার ডামি থাকাকালীন মিস মেরিডিথ ঘুরতে ঘুরতে ফায়ারপ্লেসের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। সেই সময় মিঃ শ্যানার দিকে নজর পড়ে এবং ভদ্রলোক যে মারা গেছেন সে কথাটাও বুঝতে তার দেরি লাগে না। মেরিডিথ তখন শ্যানার আরো কাছে এগিয়ে যায়। সেই মুহূর্তে তার হাত দুটোও মৃত শ্যানার কোটের বুকপকেটের কাছে উজ্জ্বল চকচকে বস্তুটার জন্য প্রলুব্ধ হয়ে ওঠে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে বস্তুটি যে কি সেটা উপলব্ধি করতে পারে।

    এই ঘটনায় হতচকিত হয়ে মেরিডিথ চেঁচিয়ে উঠতে গিয়েছিলো, কোনো রকমে সেটা সামলে নেয়। কারণ কিছু আগে ডিনার টেবিলে ভদ্রলোক যে মন্তব্য করেছিলেন সেটা তার স্মরণ আছে। তিনি হয়তো কাগজপত্রেও এই ঘটনা সম্বন্ধে কিছু লিখে রেখে যেতে পারেন। তাতে প্রমাণিত হবে শ্যাতানাকে হত্যার পিছনে অ্যানা মেরিডিথেরও কোনো উদ্দেশ্য ছিলো।

    সকলে মনে করবে যে নিজেই শ্যাতানাকে খুন করেছে। ভয়ে এবং আশঙ্কায় কাঁপতে কাঁপতে সে তখন আবার ব্রীজ টেবিলে ফিরে আসে।

    সুতরাং মিসেস লরিমা সত্যিকথাই বলেছেন, কারণ খুনটা তিনি স্বচক্ষে ঘটতে দেখেছেন বলে বিশ্বাস করেন, আর আমার সিদ্ধান্তও অভ্রান্ত।

    ডাক্তার রবার্টস যদি এই ঘটনার পর চুপচাপ বসে থাকতেন, তাহলে এই ব্যাপারে তাকে অভিযুক্ত করা যেতো কিনা সে বিষয়ে ঘোরতর সন্দেহ আছে। যদিও নিপুণ ভাওতা ও সুচতুর ফন্দি এঁটে আমরা তার মুখ থেকে প্রকৃত সত্য স্বীকার করিয়ে নেবার চেষ্টা করতাম। আমি অন্তত এতো সহজে হাল ছেড়ে দিতাম না তা ঠিক।

    শ্যাতানাকে হত্যা করার পর ডাক্তার রবার্টস যে খুব অস্বস্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন তাতে কোনো দ্বিমত নেই।

    এই রহস্যের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুলিস এই অনুসন্ধানের কাজ চালিয়ে যাবে। তার ফলে তারা হয়তো রবার্টসের পূর্বকৃত অপরাধের কোনো হদিশ খুঁজে বার করতে পারে। সেইজন্যে তিনি একটা চমৎকার মতলব আঁটলেন। তিনি বুঝতে পারলেন মিসেস লরিমা ভেতরে ভেতরে অসুস্থ তাই তার পক্ষে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া খুবই সাধারণ। সেই জন্য তিনি কোনো উপায়ে ভদ্রমহিলার হস্তাক্ষর যোগাড় করে সেই লেখার নকলে তিনটে চিঠি লিখলেন। তারপর ভোরবেলা সেই ছুতো করে মিসেস লরিমার বাড়ি ছুটে এলেন। রওনা হবার আগে নিজের পরিচারিকাকে ডেকে পুলিসের কাছে খবর পাঠিয়ে দিতেও ভুললেন না। আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম মিসেস লরিমার হাতের লেখার সঙ্গে তিনি পরিচিত কিনা তখন ভদ্রলোক খুব অপ্রস্তুত হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন না তিনি পরিচিত নন।

    উইলিংফোর্ড থেকে আমি শ্ৰীমতী অলিভারকে ফোন করলাম, তিনি অনেক কষ্টে নিজের কৌতূহল ও উত্তেজনা দমন করে ডাক্তার রবার্টসকে নিয়ে আমার বাড়িতে হাজির হলেন। ডাক্তার রবার্টস যখন সব মিটে গেছে ভেবে স্বস্তিবোধ করলেন ঠিক তখনই আকস্মিকভাবে চরম আঘাত এসে পড়লো। এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত। মিঃ পোয়ারো বিদ্যুৎগতিতে শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তার ফলে তিনি আর নতুন কোনো কৌশল প্রয়োগ করতে পারলেন না। অসহায়ভাবে ধরা দিতে বাধ্য হলেন।

    সঙ্গে সঙ্গে এই রহস্যময় মামলার পরিসমাপ্তি ঘটলো।

    কিছুক্ষণ সবাই নিস্তব্ধ হয়ে রইল, অবশেষে রোডা নীরবতা ভঙ্গ করলেন।

    ভাগ্যিস জানলার ধারে দাঁড়িয়ে লোকটা সমস্ত দেখতে পেয়েছিলো তা না হলে ডাক্তার রবার্টস ধরাই পড়তেন না।

    না, না সেটা কোনো ব্যাপার নয় ম্যাডাম, সমস্তটাই পোয়ারোর উর্বর মস্তিষ্কের কৃতিত্ব। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন।

    এসো এসো বন্ধু লুকিয়ে থাকার আর দরকার নেই। উইণ্ডো ক্লীনার কে সবাই-এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন।

    ইনি একজন সম্ভাবনাপূর্ণ নতুন অভিনেতা।

    তাহলে সমস্ত ব্যাপারটা একটা ভাওতা! তাহলে রবার্টসকে সত্যিই কেউ দেখেনি!

    আমি দেখেছিলাম, পোয়ারোর কণ্ঠস্বরে গম্ভীর আত্মপ্রসাদের সুর। মনের চোখ দিয়ে অনেক কিছুই দেখা যায়।

    ডেসপার্ড সকৌতুকে বললেন, এসো রোড, আমরা এনাকে খুন করে দেখি খুনীকে বৃদ্ধার প্রেতাত্মা ধরতে পারেন কিনা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আনা ফ্রাঙ্ক-এর ডায়েরি

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }