Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    লেখক এক পাতা গল্প2485 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. পুলিসের লোকেরা এসেছে

    ১১.

    পরদিন সকালে খেতে বসে জিনা বললো, পুলিসের লোকেরা আবার এসেছে। ওয়ালি ওদের ধীরস্থির ভাব দেখে খুব অবাক হয়েছে।

    ওর কথা শুনে মিস মারপল হাসল! অ্যালেক্স আর স্টিভেন নির্বিকার চিত্তে খাচ্ছিল। জিনা মারপলকে দেখাল ওদের ওই ভাবলেশহীনতা।

    অ্যালেক্স জানান এইসব বলে তাদের ওপর জিনা অবিচার করছে। পুলিসরা তাকেই সবচেয়ে বেশি সন্দেহের চোখে দেখছে। কারণ খুনের সময়ই সে এসেছে।

    স্টিভেন হেসে বলল, অ্যালেক্স যদি ঝামেলায় পড়ে তবে সে খুব খুশি হবে। তাকে আর কেউ সন্দেহ করবে না। কারণ হল ছেড়ে সে একটুও নড়েনি।

    জিনা হতাশ সুরে জানাল পুলিস নিশ্চয় ভাবছে না একাজটা তারাই কেউ করছে।

    অ্যালেক্স মন্তব্য করল, কাজটা নিশ্চয় বাইরের কোনো আগন্তুক এসে করেনি।

    মিস বেলভার এসে মারপলকে লাইব্রেরী ঘরে যেতে অনুরোধ করল।

    পিস্তলের শব্দ শোনা যাচ্ছে। যে ঘরে খুন হয়েছে সেখানে আর বাইরে পিস্তল ছুঁড়ে তারা পরীক্ষা করছে কিসব।

    কালো পোশাক পরে বিষঃ মুখে মিলড্রেড ঘরে এল। লাইব্রেরী ঘরে যাবার জন্য মিস মারপল উঠে পড়লেন।

    লিউইস সেরাকোল্ড জানলার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মারপল ঘরে ঢুকতে তিনি বললেন মারপলের নিশ্চয় খুব কষ্ট হচ্ছে তার ওপর দিয়েও তো ধকল যাচ্ছে।

    মারপল একটু হাসল। লিউইস তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। একটু কুণ্ঠিত হয়েই তিনি যা বললেন মারপল তো তা শুনে চমকে উঠল। লুইজির কোনও শত্রু থাকতে পারে সে বিশ্বাস করে না। তাকে কেউ বিষ খাইয়ে মারবার চেষ্টা করবে একথা অবিশ্বাস্য। মিঃ ব্রাউণ্ডজেনের কথাকে এতটা বিশ্বাস করছেন কেন লিউইস।

    লিউইস বললেন ক্রিস্টিয়ানের ধারণা ভুল নয় কারণ পুলিস ওষুধে বিষ পেয়েছে।

    মারপল বলল, তাহলে বাতের ব্যথা, অসুস্থতা সব এই জন্যই হয়েছে। রুথ তা হলে ঠিকই তো বলেছে।

    লিউইস হঠাৎ রুথের নাম শুনে অবাক হয়ে গেলেন।

    মারপলের মুখ আরক্ত হল। সে আর গোপন না করে বলেই ফেলল, তার এখানে আসটা হঠাৎ বেড়াতে আসা নয়। মারপল সব ঘটনা খুলে বলল।

    লিউইস একেবারে আকাশ থেকে পড়লেন। তিনি মারপলের কাছে পারমর্শ চাইলেন।

    মারপল লুইজিকে জানাতে বারণ করল। ওর বিশ্বাস আর ভালোবাসায় আঘাত করলে ও বাঁচবে না।

    লিউইস জানেন মারপল আর লুইজির সম্পর্ক একদিনের নয়। তাই তাকে বিশ্বাস করা যেতে পারে।

    মারপল একটু দ্বিধা নিয়ে জানতে চাইল ক্যারির মৃত্যু হলে অর্থের দিক দিয়ে ক্যারি লাভবান হবে।

    টাকা শব্দটা শুনেই লিউইস উত্তেজিত হল। এই জিনিসটা ছাড়া পৃথিবীতে আর কেউ কিছু ভাবতে পারে না।

    মারপল বুঝিয়ে বলল, এক্ষেত্রে এ ছাড়া অন্য কিছু ভাবা তো সম্ভব নয়। লুইজির মত অত ভালো মেয়ের ওপর কেউ রেগে থাকতে পারে না। একমাত্র লোভের বশেই মানুষ যা ইচ্ছে করতে পারে।

    লিউইস জানালেন ইনসপেক্টরও এই কথা মনে করেন। ক্যারিলিনের সলিসিটার লণ্ডন থেকে আজ আসবে। গিলফয় কোম্পানীর সাহয্যেই সে তার উইল করেছে। যাইহোক আইনের কথা ছেড়ে লিউইস বলতে শুরু করলেন নানা প্রতিষ্ঠানে দান করে এরিক কিছু টাকা সমান ভাগ করে দেয় মিলড্রেড আর পিপপার মধ্যে। আর সব সম্পত্তি নিয়ে ট্রাস্ট ফাণ্ড করে। তা থেকে যা আয় হয় তা পাবে ক্যারিলিন। তার মৃত্যুর পর মিলড্রেড আর পিপা বা তার ছেলেমেয়েরা সমান ভাবে পাবে। ক্যারিলিনেরও নিজস্ব অনেক সম্পত্তি আছে। সে তার অর্ধেক লিউইসকে দিয়েছে। বাকি টাকাটা পাবে বেলভার তারপর যা থাকবে তার সমান ভাগ হবে অ্যালেক্স ও স্টিভেনের মধ্যে।

    এত গণ্ডগোলের কথা শুনে মারপল অবাক হল। ক্যারির মৃত্যু তাহলে সত্যিই সবাই লাভবান হবে।

    লিউইস বললেন, এটা ঠিক কথা হলেও এদের মধ্যে কেউ খুনের মতলব ভাঁজছে একথা ভাবাই যায় না।

    বাড়ির সবাই ক্যারিলিনকে কত ভালোবাসে সেকথা লিউইস বললেন। একজনের কথা শুধু বাদ দিল, জিনার স্বামী। মারপল তার কথা মনে করিয়ে দিতেই লিউইস একটু গম্ভীর হলেন।

    লিউইস তার সম্বন্ধে বললেন, ওর বয়স অল্প বলে কাজে এখনো মন বসাতে পারেনি। সবার সঙ্গে মিশে যেতে পারেনি। চিন্তাভাবনাও অপরিণত। আমেরিকায় মানুষের বিচার হয় তার সাংসারিক সাফল্য দিয়ে।

    মারপল মন্তব্য করল, এদেশে আমরা জাগতিক ব্যর্থতাগুলোকেই বড় করে তুলি।

    একথা শুনে লিউইসের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হল।

    মিস মারপল, একটু লজ্জা পেয়ে অপ্রাসঙ্গিক ভাবেই বললো, সে মনে করে সৎ পরিশ্রমী মানুষেরাই বিপথগামী ছেলেদের মঙ্গল করে। এদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা তার উদ্দেশ্য নয়। আসলে তার বক্তব্য এসব কিছু ওয়ালটার কাছে দুর্বোধ্য মনে হয়।

    লিউইস তার কথা স্বীকার করলেন। তবে যুদ্ধে সে খুবই সাহস দেখিয়েছিল।

    মারপল বলল, হত্যাকারীর পক্ষে সবচেয়ে প্রয়োজন হল সাহস ও অহঙ্কার।

    লিউইস অবাক সুরে বললেন, সে কেন এই কাজ করবে সে বুঝতে পারছে না।

    মারপল বলল, সে যদি চায় তাহলে করতেই পারে। এ জায়গাটা ওর পছন্দ নয়। এদিকে জিনা এ জায়গা ছেড়ে যেতে চাইছে না। টাকা হাতানোই যদি উদ্দেশ্য হয় তবে জিনা যত তাড়াতাড়ি টাকা পেয়ে যায় ততই তো ভালো। অন্য কারুর প্রতি জিনা প্রেমে পড়বার আগেই টাকা পাওয়া চাই।

    একথা শুনে লিউইস বিস্মিত হলেন।

    মারপল তাকে জানালেন, তিনি বোধহয় জানেন না অ্যালেক্স আর স্টিভেন দুজনেই জিনার প্রতি অনুরক্ত।

    লিউইস কিছুতেই কথাটা বিশ্বাস করতে পারলেন না। স্টিভেন অত্যন্ত ভালো ছেলে, সবসময় নাটক নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তিনি ম্যাডরিককেও একথা বলছিলেন। ডঃ ম্যাডরিকের কথা উঠতেই তার মনে পড়ল তাকে বলতে হবে, ক্যারির সঙ্গে দেখা করে এডগার সম্বন্ধে একটা রিপোর্ট দিতে।

    মিস মারপল লিউইসরা সেরাকোল্ড সম্বন্ধে কতটুকু জানেন জানতে চাইল। তিনি জানালেন তার বিষয়ে তিনি সব জানেন।

    তার পক্ষে বিষ প্রয়োগ করা সম্ভব কিনা জানতে চাইল।

    উত্তরে লিউইস বললেন, তাকে তিনি ঠিক এ কাজের জন্য সন্দেহ করতে পারছেন না। কারণ এতে তার কী লাভ থাকতে পারে।

    মারপল বলল, লাভক্ষতির কথা নয় সে একটু অস্বাভাবিক বলেই তার কথাটা মনে এসেছে।

    লিউইস একটু চিন্তা করে বললেন, সে বেশ সুস্থই হয়ে উঠেছিল, হঠাৎ যে তার কী হল এটাই অদ্ভুত ব্যাপার।

    মারপল একটু এগিয়ে এসে আস্তে আস্তে বললো, ঐ কারণটাই যদি একটু জানতে পারা যেত– এইসময় ক্যারি এসে ঘরে ঢুকলেন।

    .

    ১২.

    সেরাকোন্ড ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। ক্যারি বললেন, লিউইস নিশ্চয়ই সাহয্য চাইতে এসেছিলেন। যাতে স্ত্রীর কোনো ক্ষতি না হয়। ইনসপেক্টর বললেন, উনি বোধহয় জানেন না এ ব্যাপারে আপনার যোগ্যতা কতখানি।

    মারপল কিছু বুঝতে পারলেন না।

    ক্যারি একটু হেসে বললেন, মিঃ সেরাকোল্ড হয়তো ভেবেছেন আপনি স্ত্রীর বহুদিনের পুরনো বন্ধু, চমৎকার মানুষ। কিন্তু ক্যারি জানেন অপরাধ ও অপরাধীদের সম্বন্ধে মারপলের কতখানি কৌতূহল। সুপারিন্টেন্টে ব্রেকার তাকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মারপলের মতামত শোনবার জন্য ক্যারি আগ্রহী হলেন। মার্কিনীটার ওপর সন্দেহ আছে কিনা জিজ্ঞেস করলেন।

    মারপল মন্তব্য করল, ও খুনী হলেই বোধহয় সকলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে।

    ইনসপেক্টরের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেল। এ ব্যাপারে তিনি নিরপেক্ষ নন। লোকটার আচরণ তার অদ্ভুত লাগে।

    মারপল জানালেন, মিঃ সেরাকোল্ডকে তিনি সন্দেহ করতে পারছেন না। উনি সত্যই স্ত্রীকে ভালোবাসেন।

    ক্যারি বললেন মিসেস সেরাকোল্ড প্রাপ্য টাকা এঁকে দিয়ে দিয়েছেন তাই তার টাকারও কোনও প্রয়োজন নেই। এছাড়া অন্য নারীর প্রতি সেরাল্ডে আসক্ত হতে পারে একথাও অভাবনীয়। তাই তাঁকে এব্যাপার থেকে বাদ দেওয়া হল।

    ইনসপেক্টরের মতে যে বিষ দিয়েছে সেই খুনটা করছে। প্রথম সন্দেহটা ওয়ালটার হাডের ওপর পড়ে। ওই টেবিল ল্যাম্পের আলো জ্বালাবার চেষ্টা করে। ফলে ফিউজ হয়। সেই সুযোগে সে ঘর থেকে বেরয়। রান্নাঘরের কাছে ফিউজের বাক্স। সেখান থেকে যে কোনও দিকে যাওয়া যায়। গুলির আওয়াজ যখন হল তখনও সে হলঘরে অনুপস্থিত। সুতরাং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথম ওরই নামই তালিকাভুক্ত করা যেতে পারে।

    মারপল দ্বিতীয় ব্যক্তিটির নাম জানতে চাইল।

    ক্যারি অ্যালেক্স রেস্টারিকের কথা বলল।

    এছাড়াও তিনি কাউকে সন্দেহ করেন কিনা ক্যারির কাছ থেকে জানতে চাইলেন অবশ্য তার যদি আপত্তি না থাকে।

    ক্যারি বললেন, আপত্তির কোনও প্রশ্নই নেই, কারণ তিনি তো তার সাহায্য চাইতেই এসেছেন। তিনি জানতে চাইলেন এইসময় আর কেউ ঘর ছেড়ে বেরিয়েছে কিনা।

    মিঃ সেরাকোল্ডের ঘরের ব্যাপার স্যাপারেই তিনি নিমগ্ন ছিলেন। একটু ভয়ও পেয়েছিলেন সেই সময়। এর মধ্যে কেউ বেরিয়ে ফিরে আসতেই পারে কারণ ঘরটা অর্ধেক অন্ধকারে ঢাকা ছিল।

    তবে লুইজিকে অতটা নিশ্চিন্ত দেখে মারপলের অদ্ভুত লেগেছিল।

    সেই সময় ঘরে কে কোথায় কি করছিল যতটা সম্ভব মনে করে মারপল বলল।

    ক্যারির মতে গুলির আওয়াজ শোনার সময়ের ওপর জোর দেওয়াটা ঠিক হবে না। শব্দটা ফাঁকাও হতে পারে।

    মারপল জানাল এডগারকে কেউ ঐ সময়েই কায়দা করে হয়তো খেপিয়ে দিয়েছিল। কারণ ও হঠাৎ করেই ওরকম বিগড়ে গেছিল। ওর বাবা কে এই চিন্তায় সব সময় অস্থির থাকে। সেই সুযোগটা কেউ ওই সময়ে লাগাতে পারে। সে হয়ত ভেবেছিল এই গণ্ডগোলের মাঝখানে কাজ সেরে নিতে পারবে।

    এডগারের হাতের রিভলবারটা ওয়ালটার হাডের। সবাই চাইছে ওকে দোষী করতে। যেহেতু ও বাইরের লোক। ক্যারি জানতে চাইলেন এসে মিসেস হাড়ও খুশি হবে কিনা।

    মারপল কথাটার কোনও উত্তর দিল না। কারণ তার মনোভাব তার অজানা।

    কাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে। চাকর বাকরদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়ে গেছে। কাউকেই সন্দেহ করা যাচ্ছে না। ডঃ ম্যাডরিক একমাত্র এখন বাকি।

    অতএব ডঃ ম্যাডরিকের ডাক পড়ল। তিনি গটগট করে ঘরে ঢুকলেন। কড়া পাহারাদার থাকায় কলেজ থেকে বেরনো বা ঢোকা কারুর পক্ষে সম্ভর নয়-এ কথায় সকলে একমত হলেন।

    কাজেই ইনসপেক্টর ম্যাডরিকের কথায় এলেন। তখন তিনি কোথায় কি করেছিলেন। তার একটা হিসেব চাইলেন।

    ডঃ ম্যাডরিক তার লিখিত বিবরণটা দেখালেন।

    ক্যারি ম্যাডরিককে জিজ্ঞাসা করলেন তিনি কি সত্যিই লোমনকে মানসিক রোগী বলে মনে করেন।

    উত্তরে তিনি এমন একটা হাসলেন যা দেখে ক্যারি খুব বিরক্ত হল।

    ম্যাডরিকের মতে ওর সম্পূর্ণ চেতনা আছে।

    ক্যারি বললেন, তাহলে সে নিশ্চয়ই উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে গুলি ছুঁড়েছে।

    একথায় তিনি আপত্তি জানিয়ে বললেন, এটা সম্ভব নয় কারণ নোমন মিঃ সেরাকোল্ডকে খুবই ভালোবাসে।

    ক্যারি মুচকি হেসে বললেন, ভালোবাসা প্রকাশের রীতিটা খুবই ভয়ঙ্কর। কারণ দুটো গুলিই মিঃ সেরাকোল্ডের গা ঘেঁষে বেরিয়ে গেছে।

    ডঃ ম্যাডরিক বললেন, মানুষের ভালো মন্দ সব কাজের পিছনে কোনো না কোনো কারণ কাজ করে। এডগারের যদি ইচ্ছে থাকত মারবার তাহলে সে ঠিকই মারতে পারত। মিঃ সেরাকোল্ড এব্যাপারটা জানেন বলেই প্রাণের ভয় করেননি।

    ক্যারি লোমনের সঙ্গে দেখা করবেন জানালেন। তারপর স্থির দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলেন তাঁর কাছে আর্সেনিক আছে কিনা।

    কথাটা শুনে ডাক্তার চমকে উঠলেন। বললেন তার কাছে মারফিয়া থাকে কিন্তু আর্সেনিক থাকে না।

    ক্যারির প্রশ্নের উত্তরে জানা গেল ডাক্তার গানটার এঁদের পারিবারিক চিকিৎসক। তিনি মিসেস সেরাকোল্ডের চিকিৎসা করেন না। মনোবিজ্ঞানী হিসেবেই তিনি কাজ করে থাকেন।

    ক্যারি ম্যাডরিককে যাবার অনুমতি দিলেন।

    এরপর ওয়ালটার হাড়ের ডাক পড়ল। সে বেশ সতর্ক ভঙ্গিতে কথা বললো।

    স্টোনিগেটসে বিদ্যুতের তারগুলো বহু পুরনো দিনের। তাই বারবার লাইন খারাপ হয়ে যায়। কালকে সে ফিউজটা সারিয়েই ফিরে এসেছিল, দশ পনের মিনিটের বেশি সময় লাগেনি। সে গুলির আওয়াজ শুনতে পায়নি। ফিরে এসে দেখে সেরাকোন্ডের অফিসের পাশে সবাই জটলা করেছে। প্রথমে সবাই ভেবেছিল তাকে গুলি করা হয়েছে কিন্তু পরে দেখা গেল তা নয়।

    ক্যারি রিভলবারের প্রসঙ্গ তুলতেই হাড বলল সে দেখেই চিনতে পেরেছে ওটা তার রিভলবার। ওটা সে ঘরের ড্রয়ারে রাখে। এই খবর কে জানে আর কে জানে না সেকথা তার অজানা। হলে ফিরে এসে সে যারা আগে সেখানে ছিল তাদের সবাইকেই দেখে।

    ইনসপেক্টর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, মিঃ গুলব্রাজেন এবারে যে হঠাৎ এসে পড়েছিলেন তাতে কেউ বিচলিত হয়ে পড়ছিল কিনা।

    একটু ভেবে ওয়ালটার জানালেন সে সম্বন্ধে তার কিছু মনে হয়নি। সে কেন এসেছিল সে ব্যাপারে ও কিছু জানে না। কে হত্যাকারী হতে পারে সে সম্বন্ধে ধারণা নেই তার।

    ক্যারি এই ঘটনার পিছনে অ্যালেক্স রেস্টারিকের সম্ভাবনা কতখানি জানতে চাইলেন কারণ সে সেইসময় একা গাড়ি চালিয়ে এসেছে। থিয়েটারের কাজের জন্য তারও তো টাকার লোভ থাকতে পারে।

    হাড নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারল না। এ ব্যাপারে জোর করে কিছু বলতেও চায় না সে।

    .

    ১৩.

    জোর গলায় হাত পা নেড়ে অ্যালেক্স কথা বলছিল।

    রাগত স্বরেই সে জানাল একা গাড়ি চালিয়ে আসবার জন্যই তাকে সবাই সন্দেহ করছে, একথা সে বুঝতে পেরেছে। কাউকে বুঝিয়ে লাভ নেই। সেই সময় চারিদিকে কুয়াশা। গাড়ির আলো তার ওপর দিয়ে পড়াতে তার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গিয়েছিল। এইটা যদি নাটকের সিনারী তৈরি করার কাজে লাগায় তবে বেশ হবে। একটা রহস্যময় পরিবেশের কল্পনা করছিল। বেশ গা ছমছম বিপজ্জনক পরিবেশ।

    মিঃ গুলব্রাজেনকে অ্যালেক্স চিনত কিনা ক্যারি জানতে চাইলেন।

    অ্যালেক্স জানাল খুন করতে হলে যতখানি জানার প্রয়োজন হয় অতখানি নয়, তাছাড়া তার বড়লোকদের সঙ্গে মেশার বিশেষ ইচ্ছেও হয় না।

    রেস্টারিক বিষ নিয়ে নাড়াচাড়া করে কিনা ক্যারি জানতে চাইলেন। সে জানালো এ ব্যাপারে তার কোনো আগ্রহ নেই।

    ক্যারি আর্সেনিকের কথা তুলতে সে বললো কুশীলবের মেজাজ দেখে মাঝে মাঝে মনে হয়েছে বটে আর্সেনিক মাখা খাবার খাওয়াতে।

    এখানে আসা যাওয়া সম্বন্ধে ক্যারি জানতে চাইলে সে উত্তরে বললো তার কোনো ঠিক থাকে না। তবে শনিবারই আসার চেষ্টা করে। মিসেস সেরাকোল্ডের কাছে সে অফুরন্ত ভালোবাসা পেয়েছে।

    ক্যারি মন্তব্য করলেন, তার সঙ্গে সে হয়ত প্রচুর টাকাও পেয়েছে। এ কথায় অ্যালেক্স বিরক্ত হল। লুইজির উইলের সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে সে ঠিকমত সহোয়যাগিতা করল না। তার মতে, তার সম্বন্ধে এত প্রশ্ন করবার কোনো মানে হয় না, কারণ তার তো কিছু ঘটেনি।

    অ্যালেক্স চলে যাবার পর স্টিভেন রেস্টারিক এসে সেইদিন তখন কি করছিল সে কথা বলল। ঝগড়া শুনে সে অবিচলিতই ছিল। কারণ মাঝে মাঝেই সে ওরকম চেঁচামেচি করে। তাদের কাউকেই সে পছন্দ করে না। জিনা মেয়ে বলে তার ওপরেও খুব রাগ। সেও এডগারের সঙ্গে ইয়ার্কি করে। জিনার অবজ্ঞা এডগার একদম সহ্য করতে পারে না। আসলে সেও জিনাকে ভালোবাসে। সে বলল গোলমাল শুরু হতে তার পিয়ানো বাজানো থেমে যায়। তার মতে সেদিন এডগার নাটক ছাড়া আর কিছুই করছিল না। এই গণ্ডগোলের মধ্যে ওয়ালি আর বেলভার ছাড়া কেউ বের হয়নি। তবে ঝগড়ার দিকে সবার মন থাকায় কেউ অতটা ভালো লক্ষ্য করেনি। তবে মিসেস সেরাকোল্ড আর জিনা যে বাইরে যায়নি সে ব্যাপারে সে নিশ্চিত।

    স্টিভেনের কথা শুনেই ক্যারি বুঝছিলেন সে নিজেকে খুব চালাক মনে করে। তাকে এ ব্যাপারে সে সন্দেহ করে। তার নাম সে কিছুতেই মুখে আনল না। ভাবটা এমন, প্রমাণ না পেলে তো তারা বিশ্বাস করবে না বলে লাভ কি।

    স্টিভেন চলে গেলে ক্যারির মাথায় একরাশ চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগল।

    এমন সময় জিনা তার সৌন্দর্যের পসরা নিয়ে ঘরে ঢুকল। আজ সে অন্যদের মতো কালো পোষাক পরেনি। এই রঙটা তার পছন্দও নয়, তাছাড়া গুলব্রাজেন তার নিকট আত্মীয়ও নয়। ছোট বেলায় তিনচারবার দেখেছে।

    জিনা সেই সন্ধ্যার ঘটনা বলতে লাগল। ক্যারির মনে হল এর আগে এত নাটকীয়ভাবে আর কেউ বলেনি। সেই সময় কে কি করছিল সে সব কথা বেশ মজার ভঙ্গিতে বলে গেল। ওর ধারণা দুষ্টু ছেলেদের মধ্যে কেউ নয় পাগলদের মধ্যেই কেউ খুনী।

    যখন ইনসপেক্টর বললেন ঐ কড়া পাহাড়া থেকে কেউ বেরোতে পারবে না জিনা বললো ওরা যদি ইচ্ছে করে তবে অবশ্যই বেরোতে পারবে। সে তাদের জানে ভালো করে।

    জিনা চলে গেলে ক্যারির মাথায় দুটো কথা ঘুরতে লাগল। প্রথমত এর আগে কেউ বলেনি ওয়ালটার হলঘরে ফিরে আসবার পর গুলির শব্দ শোনা গেছে। দ্বিতীয়ত, মিস বেলভার চাবি আনবার জন্য ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, তাও তিনি বললেন না।

    .

    ১৪.

    মিসেস স্ট্রেট সম্পূর্ণ কালো পোষাকআসাকে সজ্জিত হয়ে লাইব্রেরী ঘরে বসেছিল। এহেন পরিবেশে জিনা আবশ্যই বেমানান।

    মিসেস স্ট্রেট ক্যারির ডাকের অপেক্ষায় বসে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। কিছুটা ক্ষুণ্ণ হয়েই এই অযথা সময় নষ্টের কথা ক্যারিকে জানালো।

    ক্যারি তাকে বুঝিয়ে বললেন এইসব কাজে ছোটখাটো ব্যাপারগুলো তাড়াতাড়ি শেষ করে বড় কাজে হাত দিলে সুবিধা হয়। এইজন্য তারা সবশেষে এমন মানুষদের সাহায্য চান যাদের ওপর নির্ভর করা যায়। অন্যরা এতক্ষণ যা বলে গেছে তার যথার্থতা বোঝবার জন্য।

    একথা শুনে স্ট্রেটের মুখের কাঠিন্য সরে গেল।

    ক্যারি বলতে লাগলেন, তিনি আশা করেন, স্ট্রেট যেহেতু এ বাড়ির মেয়ে তার ওপর অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ মহিলা সেই হেতু এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তার নিশ্চয়ই সুচিন্তিত মতামত থাকবে।

    ক্যারি কথা শেষ করতে না দিয়েই স্ট্রেট বলে উঠল, খুনী সম্বন্ধে তার কোনো সন্দেহই নেই। জিনার হতচ্ছাড়া মার্কিন স্বামীটাই এই কাজ করেছে। ওর সম্বন্ধে কেউ কোনো খোঁজ রাখে না।

    ক্যারি এই সন্দেহের কারণ জানতে চাইলেন।

    স্ট্রেট জবাব দিল, ক্রিস্টিয়ান নিশ্চয় ওর সম্বন্ধে কোনো গোপন তথ্য জানতে পেরেছিল, আর সেই জন্যই সে তাড়াতাড়ি এখানে ফিরে আসে। ভাব দেখিয়েছিল নিজের কাজ আছে। জিনাটা দুম করে ওই বোকাটাকে বিয়ে করে বসল। ওর সম্বন্ধে কোনো খোঁজই নিল না। নিজেকে বাঁচানোর জন্যই ও হয়তো ক্রিস্টিয়ানকে মেরেছে।

    ক্যারি এখনো ওয়ালটারকে গ্রেপ্তার করেনি কেন ভেবে সে বিস্মিত হল।

    ক্যারি বললেন বিনা প্রমাণে তো কাউকে ধরা যাবে না।

    স্ট্রেট জানাল ওয়ালটার হয়তো কায়দা করে ফিউজ সারানোর নাম করে বেরিয়ে গিয়েছিল, গুলি করে আবার ফিরে এসেছে।

    ক্যারি জিনার কথা বললো, স্ট্রেট বললো ওসব একদম মিথ্যে কথা। ও সব পারে।

    স্ট্রেট দুজনকেই সন্দেহ করে কিনা ক্যারি জানতে চাইল।

    ইতস্তত করে স্ট্রেট জানালো জিনাকে হয়তো আসল কথাটা জানাতে চায়নি বলেই ক্রিস্টিয়ানের মুখ বন্ধ করা হয়েছে।

    ক্যারি জিনার রূপের প্রসংসা করলেন। স্ট্রেট তাকে বললো ইতালিতে অমন মেয়ে প্রচুর আছে। তাছাড়া রূপ নয়, টাকার জন্যই ওয়ালটার ওকে বিয়ে করেছে।

    স্ট্রেটের আর্থিক অবস্থা কেমন জিজ্ঞেস করাতে সে ক্যারিকে বলল, তার স্বামী ছিলেন পণ্ডিত মানুষ। তারও কোনও বাজে খরচ নেই। তাছাড়া তার মার কাছ থেকে সে সব টাকাটাই পাবে।

    ক্যারি তার মায়ের স্বাস্থ্য সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন।

    জবাবে স্ট্রেট জানালো তার মায়ের শরীর বয়সের জন্য দুর্বল হয়েছে বা বাতে ধরেছে। এ ব্যাপারটা নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করবার কোনো মানে হয় না। মিঃ সেরাকোল্ড এসব নিয়ে চিন্তা করেন না। মিস বেলভারই বড় বেশি মাথা ঘামায় সব ব্যাপারে, যে ওই বাড়ির কত্রী।

    ক্যারি চিন্তাচ্ছন্নভাবে বললেন, ঐ দুই রেস্টারিক ভাই এখানে কেন রয়েছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

    এই বাড়িতে ওদের থাকা নিয়ে স্ট্রেট যে খুব অসন্তুষ্ট তা ওর কথাতেই প্রকাশ পেল। স্টিভেনকে সন্দেহ করবার কারণ নেই কেননা সে ওদের সঙ্গে একই ঘরে ছিল। স্ট্রেট তার কথায় পরিষ্কার বুঝিয়ে দিল হত্যাকারী ওয়ালটার হাড় ছাড়া আর কেউ নয়।

    এরপর পালা এল এডগার লোমনের। তাকে দেখে বা তার আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পেল না। তবে অতিমাত্রায় বিনয়ী।

    এডগার মিঃ সেরাকোল্ডের মত লোকের সঙ্গে যে দুর্ব্যবহার করেছে তার জন্য খুব দুঃখ প্রকাশ করল। সে নিজেকে অপরাধী বলে মনে করল। ইনসপেক্টর যদি তাকে গ্রেপ্তার করেন তবে সে কিছু মনে করবে না।

    ক্যারি বোঝালো প্রমাণ ছাড়া অভিযোগের প্রশ্নই ওঠে না। আর মিঃ সেরাকোল্ড বলেছেন বন্দুক ছোঁড়াটা একটা দুর্ঘটনা ছাড়া কিছু নয়।

    এডগার লিউইসের মহানুভবতার প্রশংসা করে নিজের ছেলেবেলার দুঃখময় জীবনের কথা ক্যারিকে বিস্তারিত বলল। সে এও বলল, কোনোদিন কারুর প্রতি সে অন্যায় করেনি। কাউকে ঠকায়নি। কেবলমাত্র নিজেকে বড় করে দেখাতে চেয়েছে। এখানে সে যে লিউইসের সেক্রেটারী সেটা কেউ বিশ্বাস করে না। সবাই আড়ালে হাসে। তবে মিসেস সেরাকোল্ড ছাড়া। উনি সত্যিই ভালোমানুষ। এডগার ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলল তার বাবা নেই বলেই এই অবস্থা হয়েছে। এখন সে মিঃ সেরাকোল্ডকেই বাবা বলে মানে। তাতে আর কেউ তার পেছনে লাগতে সাহস করবে না।

    ক্যারি যখন বললেন যে, সেই আবার অভিযোগ করেছে যে মিঃ সেরাকোল্ড তার শত্রু তাকে যন্ত্রণা দিয়েছে। তখন এডগার একটু ইতস্তত করতে লাগল।

    রিভলবারটা সে ওয়ালটারের ঘর থেকে নিয়েছিল মনে করতে পারল না। এমন গলার এড়িয়ে যেতে ক্যারি ধীর গলায় আবার জিজ্ঞেস করল সেটা সে কোথা থেকে পেয়েছিল। এডগার একটু চুপ করে রইল।

    ক্যারি তাকে জিজ্ঞেস করল তার কিছু মনে পড়ছে কিনা। সে জানাল তার কিছুমনে নেই। সবার ওপরে তার রাগ হচ্ছিল।

    মিঃ সেরাকোল্ড তার বাবা একথা কে বুঝিয়েছে ক্যারি জানতে চাইলে, সে যেভাবে কেউ কথাটা বললো তাতে স্পষ্ট বোঝা গেল সে মিথ্যে বলছে, তাকে জোর করে লাভ নেই ভেবে ক্যারি তাকে সাবধান করে দিয়ে বিদায় দিলেন।

    ক্যারি বুঝলেন লোকটা একই সঙ্গে দাম্ভিক, মিথ্যাবাদী আবার সরলও। একে দিয়ে কোনো কাজ হাসিল করা সম্ভব। মিস মারপল ঠিকই ধরেছেন, ওর মাথায় কেউ দুর্বুদ্ধি যুগিয়েছে।

    কিছুক্ষণ বাদে দেখা গেল, ইনসপেক্টর পিয়ানোর সামনে চেয়ারে। সার্জেন্ট লেক জানলার পাশে চেয়ারে।

    ক্যারি লক্ষ্য করলেন, এখানে বসে স্টাডিরুমের দরজার দিকে লক্ষ্য রাখতে গেলে লেককে আর দেখা যাচ্ছে না।

    লেক উঠে লাইব্রেরীতে গেল। ক্যারি মনে মনে একটা হিসেব তৈরি করছিলেন। তাতে দেখা গেল, লাইব্রেরী থেকে বারান্দায় বেরিয়ে দৌড়ে গিয়ে খুন করে আবার নিজের চেয়ারে এসে বসে পড়া মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যাপার। সকলের অবস্থিতির কথা ভেবে নিয়ে ক্যারি বুঝলেন জিনা হাডের পক্ষে খুন করাটা অসম্ভব নয়। টুল থেকে উঠে বাইরে বের হলে তা জিনার নজরে আসত। কিন্তু জিনা বলেছিল গোলমাল শুরু হবার সময়ে স্টিভেন পিয়ানোর সামনে ছিল। তারপর ঠিকঠিক বলা মুস্কিল। ক্যারি অনেক ভেবেও কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছিলেন না।

    পিয়ানোর পাশে রাখা স্বরলিপিগুলি ক্যারি নাড়াচাড়া করে দেখছিলেন। তারপর মিউজিক টুলের ডালাটা খুলে ফেললেন। এটা সেটা নাড়তে নাড়তে হঠাৎ একটা জিনিস দেখে চমকে উঠলেন। বিবর্ণ হয়ে আসা হলদেটে কাগজ পত্রের মধ্যে একটা পিস্তল। লেক উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে উঠল তবে নির্ঘাৎ স্টিভেন তাতে আর সন্দেহ নেই।

    ক্যারি তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন তা কখনোই হতে পারে না, তিনি নিশ্চিত ভুল পথে চালিত করবার জন্যই কেউ একাজ করেছে।

    .

    ১৫.

    মিসেস সেরাকোল্ডের দরজায় এসে মারপল টোকা দিল।

    লুইজির সাড়া পেয়ে মারপল ভেতরে প্রবেশ করল।

    আয়নার সামনে বসে লুইজি চুল আঁচড়াচ্ছিল। জানালো, কয়েক মিনিটের মধ্যেই তৈরি হয়ে সে পুলিসের কাছে যাচ্ছে।

    মারপল তার শরীরের খবর নিল। কথা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করল কে খুনী হতে পারে বলে তার ধারণা।

    লুইজি আসলে কিছুই ভেবে উঠতে পারেনি। এর আগেরবার যখন ক্রিস্টিয়ান এসেছিল তখন থেকেই ঝামেলার সূচনা সেইজন্যই ও এবার এখানে এসেছিল বলে লুইজির মনে হয়।

    আগের বার রাত্রিতে কে কে ছিল জিজ্ঞেস করায় লুইজি বললো, এবারে যারা আছে তারা সবাই ছিল। অ্যালেক্স লণ্ডন থেকে এসেছিল। সেবার রুথ ছিল।

    রুথের নাম শুনে মারপল অবাক হয়ে গেল। একটু যেন আলোও দেখতে পেল। সে বুঝতে পারল ক্রিস্টিয়ান আর রুথ দুজনেই গণ্ডগোলের আভাস পেয়েছিল। রুথ তার অস্বস্তির কারণটা ধরতে পারেনি। ক্রিস্টিয়ান জানতে পেরেছিল কেউ লুইজিকে বিষ খাইয়ে মারবার চক্রান্ত করছে।

    লুইজি হঠাৎ জেনকে বললো সে বুঝতে পেরেছে তার কাছ থেকে সবাই কিছু একটা লুকিয়ে রাখছে। লিউইসকেও খুব অন্যমনস্ক দেখালো।

    মারপল বললো, সেটা হয়ত খুনের জন্য তিনি অন্যমনস্ক ছিলেন।

    লুইজি কি জানি চিন্তা করতে লাগল।

    মারপল তার চিন্তার কারণ জানতে চাইল। লুইজি জানাল সে জিনার কথা ভাবছে। তার বিশ্বাস সে সত্যিই ওয়ালিকে ভালোবাসে। জিনা বয়সসুলভ চপলতা নিয়ে পুরুষদের আকর্ষণ করলেও তার আসল টান স্বামীর দিকেই। ওয়ালি ওর মত না হলেও ওদের বিয়ে হয়েছে। জিনার সুখটা খুব দরকার।

    মারপল একমত হয়ে বলল, সবারই অধিকার আছে সুখী হবার।

    লুইজি বললো, জিনার ব্যাপার অন্যরকম। ওর মা পিম্পাকে নিয়ে একটা পরীক্ষার চেষ্টা চলেছে আর তাতে সফল হতেই হবে। এর পরের কথা বলতে গিয়ে লুইজি হঠাৎ থেমে গেল। মারপল কৌতহলী হয়ে উঠল। বারবার কথাটা জানতে চাইল। কারণ জানাটা তার দরকার।

    লুইজি বলে চলল, পিপপার মা ছিল ক্যাথারিন এলানওয়ার্থ।

    মারপল বিস্মিত হল। যাকে ফঁসী দেওয়া হয়েছিল স্বামীকে বিষ খাওয়ানোর অপরাধে! পিপা তার মেয়ে।

    এরিক আর লুইজি পিম্পাকে সবরকম ভালোবাসা দিয়ে শিক্ষা দিয়ে বড় করে তুলেছিল।

    এসব শুনে মিস মারপল স্তম্ভিত, লুইজি ইনসপেক্টরের সঙ্গে কথা বলতে বসবার ঘরে চলে গেল।

    ক্যারি ঘরে দাঁড়িয়ে সব জিনিস খুঁটিয়ে লক্ষ্য করছিলেন, সব আসবাবপত্র পুরনো রঙ ওঠা।

    মিসেস সেরাকোল্ড ঘরে এলো। পরনে কালো পোষাক। চেহারায় ভাঙন ধরেছে।

    ক্যারি ধীরে ধীরে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন। সেও আগ্রহ নিয়ে তার জবাব দিচ্ছিলেন। সেদিনের সন্ধ্যাবেলার ঘটনা সব বলল।

    ক্যারি যখন শুনলেন যে লুইজি এতটুকু ভয় পায়নি, তিনি একটু বিচলিত হয়ে এই নিস্পৃহতার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন।

    উত্তরে লুইজি বলল এডগারের সবটাই নাটক। গুলি হাত ফসকে বেরিয়ে গেছে।

    ইনসপেক্টর একথা বিশ্বাস করলেন না।

    হঠাই মিসেস সেরাকোল্ড বললো, তাদের কাজকর্মে অনেকেরই ধারণা ভাল নয়। এডগ, লিউইসকে শ্রদ্ধা করে। ও পাগল নয়। তবে হঠাৎ উত্তেজিত হবার কারণটা লুইজি বুঝ পারেনি।

    ক্যারি রিভলবারটা দেখালেন। লুইজি সেটা চিনতে পারল না।

    ক্যারি জানালেন এটা পিয়ানোর টুলের মধ্যে পাওয়া গেছে। কয়েকদিনের ভেতরেই এটা কেউ ব্যবহার করেছে। ভালো করে পরীক্ষা এখনো না হলে ক্যারির দৃঢ় বিশ্বাস এরই একটা গুলি গুলব্রাজেনের প্রাণ নিয়েছে।

    লুইজি অবাক হল। কাল রাতে স্টিভেন রেস্টারিক পিয়ানো বাজিয়েছে। ওর প্রতি ক্যারির সন্দেহের কথা জানাতে লুইজি অস্বীকার করল। তার মতে ও খুন করতেই পারে না।

    ক্যারি লুইজি ঘর থেকে বেরোতেই জিনা তাকে জিজ্ঞাসা করল পুলিসের লোকগুলো তাকে খুব বিরক্ত করেছে কিনা।

    লুইজি তাদের জানালো ইনসপেক্টর তার সঙ্গে খুবই ভালো ব্যবহার করেছে।

    জিনা, জলি, লুইজি মারপল সবাই মিলে লাইব্রেরী ঘরে গেল।

    সেখানে লুইজি তার চিঠিগুলো দেখল। ছেলেদের আত্মীয়দের কাছ থেকে চিঠিগুলো আসে। ডঃ ম্যাডরিক তার উত্তর দেন। আর ব্যক্তিগত চিঠিগুলোর উত্তর তিনি নিজেই দেন।

    চিঠির শেষে একটা পার্সেল খোলা হতে দেখা গেল তাতে খুব সুন্দর একটা চকোলেটের বাক্স। তার ভেতর থেকে অ্যালেক্স রেস্টারিকের কার্ড বের হল।

    নিজে আসা সত্ত্বেও কার্ড পাঠিয়েছে দেখে লুইজি অবাক হল।

    মারপল তাড়াতাড়ি লুইজিকে সেই চকোলেট খেতে বারণ করল।

    মিসেস সেরাকোল্ড অবাক।

    মারপল জিনাকে বলল অ্যালেক্স কোথায় আছে দেখতে।

    জিনা উঠে গেল।

    অ্যালেক্স ঘরে ঢুকেই লুইজিকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে আদর করল। মারপল বলল, লুইজি চকোলেট পেয়ে খুব খুশি হয়েছে।

    চকোলেটের কথা শুনে অ্যালেক্স অবাক। সে তো পাঠায়নি।

    মারপল বাক্সটা হাতে নিয়ে লিউইসের কাছে গিয়ে সব জানাতে তিনি গম্ভীর হলেন। ডঃ ম্যাডরিক সেগুলো পরীক্ষা করলেন।

    লুইজির প্রিয় চকোলেটগুলোই পাঠানো হয়েছে যখন তখন ভেতরের কেউই একাজ করেছে। মিস মারপল আর ব্যাপারটা লুইজির কাছে গোপন রাখতে চাইল না।

    .

    ১৬.

    জিনা মন দিয়ে একটা সিনারী আঁকছিল। হঠাৎ শুনতে পেল কেউ বলছে, কোনো বদমাস লোক নাকি খাবারে বিষ মেশাবার তালে রয়েছে।

    জিনা তাকিয়ে দেখল সেই তালা খোলায় চৌকশ ছেলেটা আর্নি। যার থিয়েটারে খুব উৎসাহ।

    জিনা জিজ্ঞেস করল কার থেকে সে এসব কথা শুনেছে।

    সে জানাল তারা সব খবর রাখে। মিসেস সেরাকোল্ডের কেউ ক্ষতি করবে না। তবে ওই বদমাইশ বেলভারটা–

    এ ধরনের মন্তব্য শুনে জিনা তাকে এক ধমক দিল।

    আর্নি তখন সেটা কি ধরনের বিষ ছিল সে সম্বন্ধে খোঁজ নিতে শুরু করল। চকোলেটের কথাও তার কানে গেছে।

    হঠাই সে বলে উঠল সে জানে অপরাধী কে।

    জিনা তার কথা শুনে বিরক্ত হল।

    আর্নি একভাবে বলে যেতে লাগল, তালা খুলে মজা করবার জন্য প্রায়ই রাত্রে সে বাগানে বেরিয়ে যায়।

    জিনা বিশ্বাস করল না।

    আর্নি তখন বলল ঠিক আছে সে বরং পুলিশকেই সব বলে দেবে।

    জিনার খুব কৌতূহল হল শোনাবার জন্য কিন্তু সে ততক্ষণে হাওয়া।

    তারপরেই স্টিভেন এল। তারা কথা বলতে বলতে বাড়ির দিকে চলতে লাগল। চকোলেট আর কার্ড নিয়ে তারা প্রেরকের বোকামির কথা বলতে বলতে এগোতে লাগল।

    জিনা চিন্তা করতে লাগল, তার দিদাকে কে বিষ খাওয়াতে পারে। সে ওয়ালিকে সন্দেহ করে না বলে স্টিভ ঠাট্টা করল তার স্বামীপ্রীতি দেখে। জিনা আর্নির কথাগুলো স্টিভেনকে বলল। সে কোনো গুরুত্বই দিল না।

    সকালবেলা ঝকমকে রোদে দাঁড়িয়ে ক্যারি অ্যালেক্সকে জিজ্ঞেস করলেন সে কোথায় গাড়ি থামিয়েছিল। অ্যালেক্স সঠিকভাবে বলতে পারল না।

    ক্যারি তীক্ষ্ণ চোখে পারিপার্শ্বিক অবস্থাটা পর্যবেক্ষণ করলেন। তারপর কনস্টেবল জজেটকে ডাক দিতেই সে দৌড়তে দৌড়তে মাঠ পেরিয়ে বাড়ির দিকে গেল তারপর রোয়াকের কাছে দরজা দিয়ে ঢুকে গেল। একটু পরেই জানলার পর্দাটা জোরে নড়ে উঠল তারপর বাগানের দরজা দিয়ে বেরিয়ে সে হাঁপাতে হাঁপাতে ফিরে এল।

    ক্যারি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন মাত্র দুমিনিট বিয়াল্লিশ সেকেণ্ড লেগেছে।

    অ্যালেক্সের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন তার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযোগ তিনি এখনো করেননি, শুধু দেখছিলেন খুন করাটা তার পক্ষে অসম্ভব ছিল না।

    অ্যালেক্স বলল, তাকে নিশ্চয়ই অপরাধী ভাবা হচ্ছে না কারণ সে নিশ্চয়ই বোকার মত বিষ মেশানো চকোলেটে নিজের নাম লেখা কার্ড পাঠাবে না।

    ক্যারি বললেন যে ইচ্ছে করেই এই খটকা যাতে মনের মধ্যে তৈরি হয় তার ব্যবস্থা করেছে। অ্যালেক্স ব্যঙ্গ করে ক্যারির বুদ্ধির তারিফ করল।

    জজেট ক্যারিকে বলল তার মতামত জানলার পর্দা নাড়াতে গিয়ে দেখে, ওপরের একটা হুক খোলা। অর্থাৎ ভেতরের আলো বাইরে দেখা যাবে।

    অ্যালেক্স সেই আলো লক্ষ্য করেছিল কিনা জিজ্ঞেস করাতে সে বলল কুয়াশার জন্য কিছুই ভালো করে দেখা যায়নি। তাছাড়া সে দৃশ্যপট ভাবতেই ব্যস্ত ছিল।

    মাঠের ওপর দিয়ে ক্যারি আর জজেট বাড়ির দিকে যেতে লাগলেন। অ্যালেক্স ভাবল নিশ্চয় পায়ের ছাপ খুঁজছে। তবে রাত্রির বৃষ্টিতে সব মুছে গিয়েছিল।

    অ্যালেক্সকে দেখে জিনা দৌড়ে এল। তাদের মধ্যে নানা কথা হতে লাগল ভবিষ্যৎ নিয়ে। অ্যালেক্স তাকে বিয়ে করতে চায়। ওয়ালিকে ছেড়ে দিয়ে সে তার কাছে চলে আসতে বলে জিনাকে। অ্যালেক্সের সঙ্গে কথা বলতে বলতে হঠাৎ একটা বুদ্ধি খেলে যায় তার মাথায়।

    .

    ১৭.

    লুইজি বিভ্রান্ত হয়ে বলে ওঠে সে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না তাকে কেউ বিষ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে।

    স্নেহের সুরে লিউইস জানাল এই দুঃখটা তিনি তাকে দিতে চাননি।

    লুইজি জেনের দিকে ফিরে জানতে চায় এসব কথা সত্যি কিনা।

    মারপল সায় দেয়। লুইজি পাগলের মত বলে যায় তার এতদিনের বিশ্বাস ভালোবাসা তাহলে সব মিথ্যে।

    লিউইস জানালেন তিনিও একথা জানতে পারেননি।

    লুইজি বারবার বলতে লাগল ক্রিস্টিয়ান এবার এসে ঐ জন্য তাকে বারবার শরীরের কথা জিজ্ঞেস করছিল। সে তো তাকে স্পষ্ট করে সব বলতে পারত। যা ঘটেছে সে সব অবিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় তার।

    সকলে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে। লুইজি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে সে এবার বুঝেছে কতখানি মনগড়া জগতে সে বাস করছে। বাস্তবের সংস্পর্শে সে আসেনি। তার এই মুহূর্তে কাউকে ভালো লাগল না। সে একা থাকতে চাইল। আত্ম বিশ্লেষণ করতে চাইল।

    মিস মারপল হলঘরে চলে এল, অ্যালেক্স নাটকীয় ভঙ্গিতে তাকে অভ্যর্থনা জানাল।

    লিউইস সেরাকোল্ড হল পেরিয়ে স্টাডিরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলেন।

    ইনসপেক্টরের সঙ্গে অ্যালেক্সের কি কথা হয়েছিল সব সে মারপলকে জানাল।

    স্টিভেন রেস্টারিক ব্যস্ত হয়ে ঢুকল। অ্যালেক্সকে আর্নির কথা বলল। আনি জিনা যা দেখেছে বলেছে স্টিভেন সেকথা অ্যালক্সকে জানাল। অ্যালেক্স কৌতূহলী হল।

    তারপর পরে ওকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে স্টিভেন লাইব্রেরীর দিকে চলে গেল।

    অ্যালেক্স মারপলের কথা ভুলেই গিয়েছিল। সে লাইব্রেরীতে চলে গেল। বন্ধ দরজার আড়াল থেকে কথা ভেসে এল। সে দিকে মারপল মন দিল না মনে হয়েছিল আর্নি বানিয়ে বানিয়ে বলেছে। কুয়াশার রাতে বাগানে বেড়ানোটা বিশ্বাস করা শক্ত হল।

    মারপল একমনে অ্যালেক্সের কথাগুলো চিন্তা করতে লাগল। জজেট হাঁপাচ্ছে-নিঃশ্বাস ফেলছে ঘনঘন অন্য কেউ..অন্য কেউ হঠাৎ মারপলের কি মনে হতে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেল।

    .

    ১৮.

    আচমকা অন্ধকারের মধ্যে ওয়ালিকে দেখে জিনা চমকে উঠল। ওয়ালি তাকে খুঁজতে এসেছে। এখানে ছাড়া আর তো কোথাও তাকে পাওয়া যায় না।

    জিনা বলল তাকে থিয়েটারের কাজ করতেই এখানে থাকতে হয়।

    ওয়ালি জিনার কাছে জানতে চাইল এসব ঝামেলা শেষ হতে আর কতদিন লাগবে।

    জিনা একটু ভেবে জানাল আর দিন পনের লাগবে।

    শুনে ওয়ালি চিন্তিত হল। তারপর বলল তারপরেই আমেরিকা যাওয়া যাবে।

    জিনা একথা শুনে যেতে রাজি হল না। থিয়েটার, দিদাকে ছেড়ে সে যেতে পারবে না।

    ওয়ালি জানাল সে একা যাওয়ার কথা বলেছে।

    জিনা অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। তার মানে ওর যাওয়া না যাওয়াটা ওয়ালির কাছে বড় নয়। জিনা খুব রেগে যেতে ওয়ালি একটা বোঝাঁপড়া করতে চাইল তার সঙ্গে। সে জিনাকে বলল বিয়ের আগে পারিবারিক অবস্থার খবর সে রাখেনি। কিন্তু এখন দেখছে এসব কাণ্ড কারখানা সহ্য করা তার পক্ষে মুস্কিল। সে ফিরে যেতে চায়। জিনার কাছে কিছু আশা করে না। সে যদি মুক্তি পেয়ে অন্য কারোর সঙ্গে চায় থাকতে পারে। ওয়ালি চায় তার স্ত্রী তার সঙ্গে থাকবে সব সময়।

    জিনা ওয়ালিকে স্বার্থপর বলল। সে এখানে থাকতে চায়। ওয়ালি জানাল তার এইসব খুনখারাপি জায়গার মধ্যে থাকতে ভালো লাগে না।

    জিনা তাকে বলল, যেতে না দিলে সে এসময় যাবে কি করে। ইনসপেক্টর এমনিতেই ওয়ালিকে সন্দেহ করে। ওয়ালি বলল প্রমাণ ছাড়া তো আর ধরা যাবে না।

    জিনা হঠাৎ কেঁদে ফেলল, ওয়ালির জন্য তার খুব ভয় লাগছে। ওয়ালি বলল, শুধু শুধু ভয় পেয়ে লাভ নেই। কারণ তাদের হাতে কোনো প্রমাণ নেই।

    ওরা বাড়ির দিকে রওনা হল। জিনা ওয়ালিকে যখন জিজ্ঞেস করল যে সে কি চায় না যে জিনা তার সঙ্গে থাক সে তখন চুপ করে রইল।

    জিনা রেগেমেগে ওয়ালির উদ্দেশে যা তা কথা বলে স্পষ্ট বলে দিল, সে তার সঙ্গে যাবে না। তাকে বিয়ে করাই ওর ভুল হয়েছিল। আমেরিকায় গিয়ে সে যে কোনো মেয়ের সঙ্গে থাকতে পারে। ওয়ালি রাজি হল।

    .

    ১৯.

    ইনসপেক্টর ক্যারি জজেটের সাহায্যে যেখানে তদন্ত চালাচ্ছিলেন, সেখানে মিস মারপল ওদের দুজনকে ঘরে ঢুকতে দেখল।

    আচমকা বেলভার তাকে ঠান্ডা লেগে যাবে বলে ঘরে ঢুকতে বলল।

    যেতে যেতে মিস মারপল যাদুর ভেলকির সাহয্যে মানুষকে কেমন বোকা বানানো হয় সে কথা বলতে বলতে যাচ্ছিল। কাটা মানুষও কেমন জোড়া হয়ে যায়।

    বেলভার কিছু বুঝল না। ভাবল গণ্ডগোলের মধ্যে বেচারির মাথা খারাপ হয়ে গেছে।

    হঠাৎ মারপল লুইজির খবর নিল। বেলভার জানাল সে মনে মনে খুব আঘাত পেয়েছে।

    মারপল বলল, লুইজি এমন কিছু ব্যাপার বুঝতে পারে যা অন্যেরা বোঝে না।

    বেলভার যখন বলল লুইজি বাস্তব জগতের বাইরের মানুষ, তখন মারপল কথাটা শুনে বিস্ময়ের ভান করল।

    এইসময় এডগার লজ্জিত মুখে তাদের পাশ দিয়ে চলে গেল।

    দুজনে কথা বলতে বলতে বাড়ির ভেতর গেল।

    .

    ২০.

    লাইব্রেরী ঘরে চাপা উত্তেজনা, সবাই একসঙ্গে রয়েছে। লিউইস অন্যমনস্ক হয়ে পায়চারী করছেন।

    বেলভার জানতে চাইল কি ব্যাপার। উত্তরে তিনি বললেন আর্নিকে পাওয়া যাচ্ছে না।

    জিনা দৌড়ে লুইজির কাছে গেল। জিজ্ঞেস করল তার শরীর অসুস্থ লাগছে কিনা।

    ক্যারি ফ্যাকাসে মুখে বলল, ছেলেটার জন্য তার খুব কষ্ট হচ্ছে।

    মারপল অস্ফুটে বলল, বোকা ছেলেটার এমন বিপদ ঘটল।

    স্টিভেন আসতে লিউইস তাকে সব ঘটনা খুলে বললেন।

    ডঃ ম্যাডরিক একটি সুদর্শন ছেলেকে নিয়ে ঢুকলেন, আর্থার জেসকিনসের সঙ্গেই আর্নির শেষ দেখা হয়।

    লিউইস আর্থারকে আর্নির সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে জানলেন সে কিছু জানে না। এও বললো যে তালা খোলা নিয়ে সে কখনো সত্যি বলত না। কাল রাত্রে ও বিছানা ছেড়ে কোথাও যায়নি।

    লিউইস আর্থারের কথা বিশ্বাস করতে পারলেন না।

    দরজার কাছে হৈচৈ শোনা গেল। একজন মাস্টারমশাই ধপ করে চেয়ারে বসে বললেন যে তাদের পাওয়া গেছে।

    মিলড্রেড জানতে চাইল কে তারা।

    উত্তরে তিনি বললেন, স্টেজের ওপর ভারী লোহা পড়ে অ্যালেক্স আর আর্নি দুজনেরই মাথা একেবারে গুঁড়িয়ে গেছে। সবশেষ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আনা ফ্রাঙ্ক-এর ডায়েরি

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }