Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প1896 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. ডঃ কারোলির সন্ধানী দৃষ্টি

    ০৪.

    ডঃ কারোলির সন্ধানী দৃষ্টি চরকির মতো ঘরময় ঘুরছে। এগিয়ে এসে মেঝের ওপর পড়ে থাকা ওষুধের টিউবটা দ্রুত তুলে নিলেন। বারবারার হাতে তুলে দিতে ঝুঁকে পড়তেই দেখতে পেলেন টিউবের গায়ে লেবেল সাঁটা নামটার দিকে সাংঘাতিক ব্যাপার! আঁতকে উঠলেন কারোলি–মরফিন! টেবিলের ওপর পড়ে থাকা আর একটা টিউব তুলে নিলেন, চক্ষু ছানাবড়া তার স্টিকনিন! মারাত্মক বিষাক্ত ওষুধ।

    বারবারার সামনে টিনের বাক্সটা তখনও খোলা পড়ে আছে। ওটার ভেতরটা ঘেঁটে দেখতে দেখতে ডঃ কারোলি বারবারাকে লক্ষ্য করে বললেন–এসব মারণাত্মক বিষের টিউব আপনি পেলেন কোত্থেকে, মিস অ্যামরি?

    –গত মহাযুদ্ধের ছাইপাশ, মশাই। বারবারার গলায় বিরক্তি ফুটে উঠল।

    পিসি ক্যারোলিন এতক্ষণে একটু ধাতস্থ হয়েছেন, কিন্তু তখনও ভয় রয়ে গেছে মনে। বললেন ডাক্তার, সত্যি করে বলুন তো, এগুলি মারাত্মক বিষ কিনা? পায়ে পায়ে বারবারা ও কারোলির সামনে এসে দাঁড়ালেন–আসলে বলছিলাম কি, এগুলো বছরের পর বছর ধরে বাক্সবন্দী হয়ে পড়ে আছে, এর বিষক্ষমতা কি আগের মতোই আছে? তা হতে পারে না। এখন এগুলো মামুলি জিনিস হয়ে গেছে। পেটে গেলে প্রাণ সংশয়ের ভয় নেই, তাই না?

    -না, ম্যাডাম, ভুল বললেন, ক্যারোলিনের দিকে মুখ ফিরিয়ে ডাক্তার বলতে থাকেন–ওগুলোর বিষক্রিয়া একটু কমে যায়নি। বারোজন কি তার বেশি তাগড়াই চেহারার মানুষের ইহলীলা সাঙ্গ করে দেবার ক্ষমতা রাখে।

    টিনের বাক্স থেকে একটা টিউব তুলে ধরলেন, মনে করুন এটা, লেবেলে চোখ বুলিয়ে নিলেন চটপট–হা, স্ট্রিকনিন হাইড্রোক্লোরাইড, ওয়ান মিক্সটিস্থ অফ এ গ্রেট। এর সাত আটটা বড়ি কোন সুস্থ মানুষের পেটে ঢুকে গেলে দেখতে হবে না। বিষের জ্বালায় হৃৎপিন্ড যন্ত্রণায় লাফালাফি করবে, অসহ্য যন্ত্রণা, একসময় সব থেমে যাবে–ব্যাস, কেল্লাফতে।

    আর একটা টিউবের লেবেলের লেখা পড়ে, ডঃ কারোলি বললেন–এটা আট্রোপিন সালফে, যন্ত্রণা দিয়ে দগ্ধে দগ্ধে মারে।

    টেবিলের ওপর রাখা টিউবগুলো বাক্সের মধ্যে আগের জায়গায় বসিয়ে অন্য আর একটা টিউব তুলে নিলেন কারোলি–হিক্সোসিন হাইড্রোব্রোমাইড, ওয়ান হান্ড্রেড অফ এ গ্রেন। বড়িগুলো দেখতে খুবই ছোট, কিন্তু এর আদ্ধেকখানাতেই কম্ম সাবাড়। যার পেটে যাবে, সে ঘুমের জগতে পৌঁছে যাবে, জীবনে সে আর জেগে উঠবে না। তবে হ্যাঁ, কোনরকম মহাসুখে মরতে পারা যায়।

    এক চিলতে কুটিল হাসি ফুটে উঠল তার ঠোঁটে। তিনি ওষুধের টিউবটা লুসিয়ার দিকে এগিয়ে দিলেন।

    টিউবটা নেবার জন্য লুসিয়া হাত বাড়াল, কারোলির দিকে তাকাল, কেউ বুঝি তাকে সম্মোহন করছে, এমন ভঙ্গিতে চাপাসুরে বলল, ……গভীর ঘুমের মধ্যে নিশ্চিত মৃত্যু, যে ঘুম জীবনে আর ভাঙবে না……, আর কোন শব্দ তার মুখ থেকে বেরোল না।

    ডঃ কারোলি লুসিয়াকে টিউবটা না দিয়ে এগিয়ে এলেন ক্যারোলিন অ্যামরির দিকে।

    এমন সময় লাইব্রেরি ঘরের দরজা ঠেলে রিচার্ড ঢুকল, পেছনে বাটলার, তার হাতে কফির জগ, ধোঁয়া উঠছে। আর আছে কয়েকটা কাপ-ডিশ।

    ডঃ কারোলিকে দেখে রিচার্ড নিঃশব্দে গোমড়া মুখে ডেক্সের পাশে টুলে গিয়ে বসে পড়ল।

    কফি টেবিলের মাঝখানে সব কিছু রেখে ট্রেডওয়েল নিজের কাজে চলে গেল। গরম কফি কাপে ঢালার জন্য লুসিয়া সোফা ছেড়ে এগিয়ে এল।

    এই সময় বারবারা এসে দাঁড়াল তার পাশে। দুটো খালি কাপ কফিতে পূর্ণ করল। একটা কাপ রিচার্ডকে দিল, অন্যটি নিজের তফাতে সরিয়ে রাখল।

    এদিকে ডঃ কারোলি নিজের কাজে ব্যস্ত। কালো টিনের বাক্সে সবকটি ওষুধের শিশি সাজিয়ে রাখলেন, ঠিক আগের মতো। তারপর ঢাকনা বন্ধ করে সেন্টার টেবিলে তুলে দিলেন।

    –হরেকরকম বিষ, আর তাদের বিষক্রিয়ার গল্প শুনে আমার বুকের ধড়ফড়ানি বেড়ে গেছে, জানেন, ডাক্তার। ক্যারোলিন হাত পা পেটের মধ্যে সেঁধিয়ে গেছে, রক্ত জল হয়ে গেছে। তবে হ্যাঁ, বিষবিদ্যা সম্পর্কে আপনার এত জ্ঞান দেখে অবাক হয়েছি, আপনি একজন ইটালিয়ান হয়ে এত সব খবর কোথা থেকে পেলেন?

    সামান্য হেসে ডঃ কারোলি বললেন–মাফ করবেন, ম্যাডাম। আপনার কথা আমি জানতে পারলাম না। বিষের ক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞান ইটালিয়ানদের থেকে ইংরেজদের বেশি। তাছাড়া যে কোন বিষ মেয়েদের কাছে এক অস্ত্র, যে অস্ত্রের ব্যবহার পুরুষের কোনদিন জানা ছিল না। তাই বিষের ক্ষমতা সম্পর্কে মেয়েদেরই বেশি জ্ঞান থাকা অস্বাভাবিক নয়।

    ডঃ কারোলি চুপ করলেন, কি যেন ভাবলেন। তারপর প্রায় লাফিয়ে উঠলেন…….. আপনি কোন ধাঁচে কথাটা বললেন, তা আগে আমার বোঝা উচিত ছিল। সরি। ম্যাডাম বর্গিয়া, ইটালির ইতিহাস ফাঁকে মারাত্মক বিষ প্রয়োগকারী হিসাবে চিহ্নিত করেছে, কুখ্যাত ঘৃণিত এই মহিলা সহজ অথচ মারাত্মক অস্ত্রের সাহায্যে একের পর এক শত্রুদের বিনাশ ঘটাতেন। আপনি নিশ্চয়ই তার কথাই এতক্ষণ ভাবছিলেন। কি ঠিক বলেছি?

    -হ্যাঁ, লুক্রেজিয়া বর্গিয়া, কারোলির কথার জের টেনে ক্যারোলিন বলতে থাকেন আপনার ধারণা সম্পূর্ণ নির্ভুল, ডাক্তার। মহিলা ছিলেন সুন্দরী, যেন শিল্পীর পটে আঁকা ছবি, যেমন আকর্ষণীয় চেহারা, তেমনই মুখশ্রী। হালকা হলুদ বর্ণ, ঘনকালো চুল, অথচ তার স্বভাব ছিল রক্তপিপাসু ডাইনির মতো, সেই বর্গিয়ার কথাই আমি তখন ভাবছিলাম, আমাদের লুসিয়ার সঙ্গে তার কোন ফারাক নেই।

    চিনির বাটি নিয়ে ডঃ কারোলি এগিয়ে যেতে গিয়ে বাধা পেলেন, লক্ষ্য করলেন ক্যারোলিন প্রবলভাবে হাত নাড়ছেন, অর্থাৎ তিনি চিনি ছাড়া কফি খাবেন। অতএব চিনির বাটি যথাস্থানে তিনি রেখে দিলেন। কফির কাপ নামিয়ে রেখে রিচার্ড অ্যামারি ম্যাগাজিনের পাতায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করল।

    –ওফ! মনে পড়ে যাচ্ছে ছেলেবেলার দিনগুলোর কথা। ঘুমের ঘোরে কি সাংঘাতিক হাড় হিম করা দুঃস্বপ্ন। ভাবলে আজও গায়ে কাঁটা দেয়। ক্যারোলিন শিউরে উঠে বলতে লাগলেন–মা-কাকিমা জেঠিমা। একসঙ্গে বসে আড্ডা দিত। গল্প করত আর বড় বড় মদের গ্লাসে চুমুক দিত। ওরা রসিয়ে রসিয়ে ওই ডাইনি বর্গিয়ার নৃশংস প্রেমকাহিনীর ঘটনা শোনাত–কোন রাজকুমারকে কোন বিষ খাইয়ে খতম করেছে, এইসব আর কি। এসব শুনে শুনে রাতের বেলা ঘুমের ঘোরে আমাকে ওই রাক্ষুসী পেয়ে বসত–সুন্দরী রাক্ষসী ভুলিয়ে ভালিয়ে খানিকটা বিষ মদ আমার মুখে ঢেলে দিল। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে গেছে বিষক্রিয়া, আমার গলা-বুক জ্বলছে, যন্ত্রণায় ছটফট করছি, কি দুঃসহ সাংঘাতিক ব্যাপার, কিভাবে যে বোঝাই।

    ক্যারোলিন এবার চুপ করলেন। বড় বড় নিশ্বাস নিলেন। লুসিয়ার দিকে তাকিয়ে সরাসরি বললেন–লুসিয়া, আমি বাছা কারো মন রাখা কথা বলতে পারি না। তোমার সেই সুন্দর মুখখানার দিকে তাকালেই আমার ডাইনি বর্গিয়ার কথা মনে পড়ে যায়।

    -তাই নাকি! ডঃ কারোলি এগিয়ে এলেন লুসিয়ার সামনে শ্রীমতী লুক্রেজিয়া বর্গিয়া, একটু নীচু হলেন, বললেন–ক্ষতি না করে আমাদের মঙ্গল করুন।

    এহেন রসিকতাপূর্ণ কথা লুসিয়ার মনে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করল না, বরং শুনতে পায়নি এমন ভাব দেখাল।

    কারোলি লুসিয়ার কাছ থেকে সরে এলেন সেন্টার টেবিলের কাছে, শূন্য এঁটো কফি কাপ রাখলেন।

    বারবারা এতক্ষণ চুপচাপ সব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লক্ষ্য করছিল। ঘরময় বিরাজ করছে গুমোট হাওয়া, কেমন গম্ভীর-গম্ভীর ভাব, যা তার মোটেও পছন্দ নয়। পরিবেশ হালকা করার জন্য যে পুরনো গানের রেকর্ড বের করে গ্রামোফোনে লাগিয়ে ছিল। মুহূর্তের মধ্যে হালকা নাচের বাজনার আওয়াজ ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল।

    ক্যারোলিন প্রায় ছুটে এলেন কিরে বারবারা, রেকর্ডের অভাব নাকি? হাত বাড়িয়ে রেকর্ডটা থামনোর চেষ্টা করলেন–আহা, বলিহারি, যাই, অমন বাজনার সঙ্গে কেমন বিশ্রী কথা! এসব কোন ভদ্রঘরের মেয়েরা শোনে না। ভাল রেকর্ড বের কর। দাঁড়া, আমি দেখছি। একটা রেকর্ড বের করে আবার ক্যারোলিন বললেন–এই নে, জন ম্যাক করম্যাক, লাগিয়ে দে। এটাও ভাল, হ্যাঁন্ডেলের লাগো………

    -তুমি কি গো পিসিমা! বারবারা নাক কুঁচকে বলতে লাগল, তোমার পছন্দ দেখে অবাক হয়ে যাই। শেষ পর্যন্ত হ্যাঁন্ডেলের লাগো। যত্তসব পুরনো বস্তাপচা বাজনা। না না, তোমাকে দিয়ে হবে না বুঝতে পারছি। তুমি সরো! কোথায় গেলেন ডঃ কারোলি? হ্যাঁ, ওই তো। ডঃ কারোলি, এদিকে আসুন তো, আমাকে একটু সাহায্য করুন, ধ্রুপদী রেকর্ড খুঁজছি। দেখুন তো পান কিনা।

    তিনজনে মিলে ভাল রেকর্ড পছন্দ করার কাজে লেগে পড়লেন। রিচার্ড অ্যামরি, একবার চোখ তুলে সেদিকে তাকালেন, পরক্ষণে ম্যাগাজিনের পাতায় মন দিল।

    ঘরের সবাই যখন যে যার কাজে ব্যস্ত, লুসিয়া এই সময় আপনমনে পা টিপে টিপে এসে দাঁড়াল সেন্টার টেবিলের সামনে। চারপাশে সতর্ক দৃষ্টি বুলিয়ে নিল, এবার তার নজর আটকে গেল কালো টিনের বাক্সটার দিকে। আবার সে চারদিকটা সতর্ক দৃষ্টিতে জরিপ করল, না, কেউ তাকে লক্ষ্য করছে না। সে বাক্সের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে একটা ওষুধের টিউব তুলে নিল। কি লেখা আছে লেবেলে?–হিস্কোসিন হাইড্রোব্রোমাইড এক্কেবারে মরণ বিষ। সে সন্তর্পণে টিউবটা উলটে দিল হাতের চেটোতে, প্রায় সবগুলো বড়ি তার মুঠোবন্দী তখন।

    ঠিক এইসময় স্টাডির দরজার কপাট খুলে বাইরে উঁকি দিল একটা মুখ–এডওয়ার্ড রেনর, স্যার ক্লড অ্যামরির সচিব। লুসিয়া টের পেল না। সে অন্য হাতে টিউবটা বাক্সের মধ্যে রেখে পা টিপে টিপে চলে এল সেন্টার টেবিলের কাছে, এখানেই তখনও পড়ে আছে গরম কফি ভরতি জগ আর কাপ-ডিশ। রেনর কিন্তু লক্ষ্য রেখেছে, লুসিয়াকে।

    কয়েক মুহূর্ত এইভাবে কেটে গেল। স্টাডির ঘর থেকে গৃহকর্তার অস্পষ্ট কণ্ঠস্বর শোনা গেল। সচিবের বুঝতে দেরি হল না যে, তার স্যার কি চাইছেন? ঘরের ভেতর দিকে মুখ সরিয়ে বলল–হ্যাঁ, যাচ্ছি স্যার ক্লড, আপনার কফি নিয়ে এখুনি আসছি।

    –আর মার্শালকে যে কফি পাঠানোর কথা ছিল……….

    ততক্ষণে রেনর স্টাডির দোরগোড়া থেকে কিছুটা ভেতের ঢুকে পড়েছে।

    আবার স্যার ক্লডের হাঁক ডাক শোনা গেল–বলি, সেগুলো কোথায় গেল…….?

    –আজ বিকেলের ডাকে সে চিঠি পাঠানো হয়েছে, স্যার ক্লড। রেনর জবাব দিল।

    –কিন্তু রেনর, আমি তোমাকে বললাম এক………. বসার ঘর থেকে ভেসে আসা বাজনা শুনে সচিব সেদিকে পা বাড়াতে গিয়ে দাঁড়াতে বাধ্য হল–আরে, ওদিকে যাচ্ছ কোথায়? স্যার ক্লডের গম্ভীর গলা, হাজারটা কাজ পড়ে আছে। এস, চটপট হাত লাগাও।

    –দুঃখিত, স্যার, ক্ষমা চাইছি–রেনর আর না এগিয়ে স্টাডির মধ্যে ঢুকে পড়ল।

    ***

    স্যার ক্লডের রাসভারী গলা–লুসিয়া চমকে উঠল, কিন্তু খানিক আগে যে এডওয়ার্ড রেনর তার ওপর নজর রাখছিল, তা ছিল তার অজানা। সে লক্ষ্মী মায়ের মতো রিচার্ডকে আড়াল করে সেন্টার টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল। সযত্নে নিয়ে আসা মারাত্মক বিষাক্ত বড়িগুলো এক কাপ কফির মধ্যে ফেলে দিল। চুপচাপ এসে বসল সোফার ওপর।

    হালকা ফক্সট্রট নাচের সমবেত বাজনার আওয়াজে ঘরের মধ্যে বসন্ত বাতাস বয়ে গেল বুঝি। ম্যাগাজিন ফেলে রেখে রিচার্ড কাপের সবটুকু কফি গলাধঃকরণ করে উঠে দাঁড়াল। লুসিয়াকে একবার দেখে নিল। বিড়ালের মতো পা ফেলে লুসিয়ার সামনে এসে দাঁড়াল। মুখটা নামিয়ে নিয়ে এল স্ত্রীর কানের পাশে।

    -লুসিয়া, অনেক ভেবেছি জান, রিচার্ডের ফিসফিসানি গলা–তোমার কথাই ঠিক, এখানে, এই পরিবেশে পড়ে থাকলে মৃত্যু অনিবার্য। তাই পালানোর একটা উপায় বের করতে হবে। তবে তোমাকে এখানে ফেলে রেখে যাব না, জেনো।

    -সত্যি, পালাবে? লুসিয়ার কণ্ঠে কান্নার সুর, রিচার্ড, সত্যিই আমরা এবাড়ি ছেড়ে পালাব? কিন্তু চোখের জল মুছে লুসিয়া বলল, কিন্তু টাকা কোথা থেকে পাবে? তুমিই বলেছিলে পালিয়ে যেতে হলে অনেক টাকা দরকার, কে দেবে?

    ভেব না, লুসিয়া। টাকা জোগাড় করার অনেক রাস্তা খোলা আছে।

    –বুঝলাম না? লুসিয়া এবার সত্যি সত্যি ভয় পেয়েছে।

    –কি বলতে চাইছ, স্পষ্ট করে বল।

    -বলতে চাইছি যে, তোমাকে কেন্দ্র করেই আমার প্রেম ভালবাসা, আমার চিন্তা ভাবনা। যে পুরুষ, তার বউকে এতটাই ভালবাসে যে, যে কোন কাজ হাসতে হাসতে করতে পারে।

    -ওসব ছেলে ভুলানো কথা তুলে রাখ। লুসিয়া বলে চলল–বরং আমার ধারণা, আমাকে তুমি এখনও বিশ্বাস করতে পার না, টাকা দিয়ে আমার ভালবাসা কিনতে চাও।

    লুসিয়া কথা শেষ করতে পারল না, কান্নায় ভেঙে পড়ল। এমন সময় স্টাডির দরজার পাল্লা খুলে গেল। এডওয়ার্ড সোজা বেরিয়ে এসে কফি টেবিলের সামনে জলে গেল। গরম কফিতে কাপগুলো পূর্ণ। একটা কাপ তুলে নিল।

    ইতিমধ্যে লুসিয়া রিচার্ডের কাছ থেকে সরে এসেছে, সে এখন গদিতে উপবিষ্ট। রিচার্ড নিজের জায়গাতে নেই। সে চলে এসছে ঘরের এক কোণে রাখা ফায়ার প্লেসের কাছাকাছি। ধিকিধিকি আগুন জ্বলছে, তার দৃষ্টি সেদিকেই নিবদ্ধ।

    রেকর্ডে তখনও ফক্সট্রটের বাজনা বাজছে, বারবারা উত্তেজিত, নৃত্য করার জন্য মন ছটফট করছে। কিন্তু সঙ্গী কোথায়? সে চারপাশে তাকাল, এসে দাঁড়াল ঘরের ঠিক মাঝখানে ওই তো রিচার্ড। ওকে ডাকবে? না বাবা, কাজ নেই। যেমন গোমড়া মুখে কঠিন চোখে তাকিয়ে আছে। তাহলে?

    কফি টেবিলের কাছে রেনরকে দেখে বারবারা খুশি হল। হাঁক দিল–মি.রেনর, এমন বাজনার সঙ্গে একটু না নাচলে কি ভাল লাগে? আসুন, আমরা নাচি।

    -অবশ্যই, অবশ্যই। রেনরের ঠোঁটে হাসির রেখা, ফক্সট্রটের বাজনা শুনে ও ঘরে বসে থাকতে পারল না, তাই তো…….. ম্যাডাম, একটু অপেক্ষা করুন, প্লিজ, স্যার ক্লডকে কফিটা দিয়ে এখুনি আসছি।

    মি. রেনের, এডওয়ার্ডের কথা শুনে লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল লুসিয়া–ওটা রেখে দিন, স্যার ক্লডের কাপ ওটা নয়, ওরটা এখানে আছে। লুসিয়া কথা শেষ করে অন্য একটি কফির কাপ রেনরের হাতে তুলে দিয়ে আগেরটা ফিরিয়ে নিল।

    যান, মি. রেনর, এটা স্যার ক্লডকে দিয়ে আসুন। রেনরের হাত থেকে ফিরিয়ে নেওয়া ফকির কাপটা ট্রে-তে রেখে দিল, আপন মনে হেসে উঠল। ফিরে এল আগের জায়গায়, সোফার এক ধারে।

    লুসিয়াকে আড়াল করে রেনর নিজের পকেট থেকে ওষুধের শিশি বের করে কয়েকটা বড়ি কফির সাথে মিশিয়ে দিল। এগিয়ে গেল স্টাডির দিকে।

    বারবারার মনে তখন খুশির জোয়ার। সে পেছন থেকে চেঁচিয়ে বলল–মি. রেনর, আমাকে যদি নাচের সঙ্গী করতে চান, চটপট আসুন। আমার আবার দেরি সহ্য হয় না। ডঃ কারোলিকে তাহলে দলে টেনে নেব। উনি আবার লুসিয়ার সঙ্গে নাচবেন বলে উদগ্রীব, বুঝতে পারছি।

    -আহা বেচারি, রিচার্ড বলতে বলতে এগিয়ে এল, এত ডাকাডাকি করছে, একটু ওর সঙ্গে নাচো রেনর, শেষ অব্দি সবাইকেই নাচতে হয়। কাজটা আমায় দাও, বাবাকে দিয়ে আসছি।

    কথা শেষ করে রিচার্ড রেনরের হাত থেকে প্রায় কেড়ে নিয়ে নিল কফির কাপ। স্টাডির দরজার দিকে পা বাড়াল, থমকে দাঁড়াল, সকলকে পর্যবেক্ষণ করল, তারপর লাগোয়া দরজার পাল্লা ঠেলে ভেতরে অদৃশ্য হল।

    বাজনার তালে তালে হাতে হাত রেখে বারবারা আর রেনর নাচতে শুরু করল। একপিঠের বাজনা শেষ। বারবারা উল্টোপিঠে ঘুরিয়ে দিল। আবার শুরু হল ফক্সট্রট নাচ।

    লুসিয়ার শুকনো মুখ ডঃ কারোলিকে খুশি করল। তিনি চারপাশে তাকালেন, পরক্ষণে তার ঠোঁটে ফুটে উঠল রহস্যময় হাসি। তিনি পায়ে পায়ে চলে এলেন। সোফার ধারে, লুসিয়ার গা ঘেঁষে।

    -লুসিয়া, মিস ক্যারোলিন অ্যামরিকে অশেষ ধন্যবাদ। ডঃ কারোলির চাপা গলা–উনি ছিলেন বলেই এই উইকএন্ডে তোমার কাছাকাছি আসার সুযোগ হল আমার। তাই কিনা বল।

    -হ্যাঁ, মহিলার দয়ার শরীর, এমনটি আমি দ্বিতীয়টি দেখিনি, লুসিয়ার কথাবলার ভঙ্গি দেখে মনে হয়, ডঃ কারোলির এই কাছে আসা, সে সহ্য করতে পারছে না।

    আশ্চর্য তোমাদের এই বাড়ি, খুঁটিয়ে, খুঁটিয়ে দেখতে হয়। লুসিয়ার মনোভাব আন্দাজ করে ডাক্তার সোফার অন্য পাশে এসে দাঁড়ালেন–বাড়ির ভেতরে দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকালে সেকেলে শিল্প রীতির ছাপ ঝরে পড়ে। তুমি জানো না, ভিক্টোরিয়ান যুগের শিল্প ও ভাস্কর্য সম্পর্কে সামান্য হলেও জ্ঞান আছে, পড়াশোনা করেছি। সম্পূর্ণ বাড়িটা ঘুরে ঘুরে নিখুঁত ভাবে দেখতে ইচ্ছে করছে। তুমি আমায় সাহায্য করবে তো?

    –আমি? এ বাড়িতে সদ্য এসেছি, কিছুই জানি না। পিসিমা, এ বাড়ির নাড়ি-নক্ষত্র জানেন।

    স্টাডির দরজা আবার খুলে গেল। বেরিয়ে এল রিচার্ড। দেখল লুসিয়া আর ডঃ কারোলি ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলছে। সেদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ না করে সে মাঝখানের টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল। দেখল ওষুধের শিশি আর টিউবগুলো তখনও পড়ে আছে। সেগুলো বাক্সের মধ্যে সাজিয়ে রাখার কাজে ব্যাপৃত হল।

    ডঃ কারোলি একফাঁকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিলেন ঘরময় বারবারা আর রেনর নাচে মশগুল রিচার্ড ওষুধের বাক্স সাজাতে ব্যস্ত। আর পিসি ক্যারোলিন ঘুমে ঢুলছেন। অর্থাৎ তিনি উপস্থিত সকলের নজরের বাইরে উপযুক্ত সময়। কাজের কথায় আসা যাক।

    তিনি লুসিয়ার পাশে বসে পড়লেন তোমায় যা করতে বলেছিলাম, তা করেছ নিশ্চয়ই। চাপা অথচ ব্যস্ত কণ্ঠস্বর।

    –আপনি সত্যিই নিষ্ঠুর। লুসিয়ার ফিসফিসানি কণ্ঠস্বর।

    -বাজে কথা ছাড়। ডঃ কারোলি সামান্য ধমকে উঠলেন, যেটা করতে বলেছিলাম, তা করেছ কিনা বল?

    লুসিয়া ভয় পেয়েছে। অস্ফুটে কয়েকটি শব্দ বলতে বলতে ছুটে এল বসার ঘরের দরজার কাছে লোকটাকে সে মোটেও সহ্য করতে পারছে না। সে দরজার হাতল ঘোরালো। দরজা খুলল না। আবার চেষ্টা করল, বারবার–তবুও ব্যর্থ হল।

    হতাশা ভরা চাউনিতে লুসিয়া পেছন ফিরে তাকাল। উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্য চেঁচিয়ে বলল–দেখুন না, দরজাটা কিছুতেই খুলতে পারছি না।

    –কেন, কি হল? নাচতে নাচতে বারবারা জানতে চাইল।

    কি জানি, দরজাটা খুলছে না। লুসিয়ার গলা থেকে আর্তনাদ ভেসে এল।

    নাচ থেমে গেল, বারবারা ছুটে এল, পেছনে রেনর। দুজনে চেষ্টা করল, কিন্তু সব ব্যর্থ। লুসিয়া বোকার মতো ভীত চকিত চিত্তে দাঁড়িয়ে আছে।

    বাজনাটা বোধহয় শেষ হয়ে এসেছে, রিচার্ড এগিয়ে গিয়ে গ্রামোফোনের সাউন্ডবক্স বন্ধ করে দিল। দ্রুত পায়ে ছুটে এল দরজার পাশে, হাতল ধরে ঘোরালো এপাশ-ওপাশ। না, সে বেচারীকে হাল ছেড়ে দিতে হল। ডঃ কারোলি ততক্ষণে বইয়ের শেলফের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। আর মিস ক্যারোলিন অ্যামরি? আচমকা চেঁচামেচিতে তার তন্দ্রা কেটে গেল, চোখ খুললেন, ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করলেন।

    ইতিমধ্যে স্যার ক্লড তার স্টাডি থেকে বেরিয়ে এসেছেন, সকলের পেছনে দাঁড়িয়ে মজা দেখছেন আর কফির কাপে সুখটান দিচ্ছেন। কেউ তার উপস্থিতি টের পেল না।

    এবার বীরদর্পে এগিয়ে এল এডওয়ার্ড রেনর। দরজার হাতল ঘোরাল–আশ্চর্য, তালাটা বোধ হয় কোনভাবে এঁটে গেছে, তাই হয়তো…..

    পেছন থেকে স্যার ক্লড অ্যামরির গম্ভীর গলা ভেসে এল–রেনর, তোমার ধারণা ভুল। সেক্রেটারির দিকে তাকালেন, তালা ঠিকই আছে, বাইরে থেকে ওটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মানে? ক্যারোলিন চমকে উঠলেন, কিছু বলার চেষ্টা করলেন। ভাই তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বললেন–আমিই বলেছি, এ এমনই তালা, ভেতর থেকে হাজার চেষ্টা করলেও খুলবে না।

    স্যার ক্লড এসে দাঁড়ালেন কফি টেবিলের সামনে। সুগার পট থেকে কয়েক চামচ চিনি নিয়ে কাপের কফিতে মিশিয়ে দিলেন। সবাইকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে বললেন–তোমাদের সাথে কিছু কথা আছে, তাই স্টাডি থেকে, বেরিয়ে এলাম। ও হ্যাঁ, রিচার্ড, স্যার ক্লড ছেলের দিকে তাকিয়ে হুকুম দিলেন–ঘণ্টা বাজাও, ট্রেডওয়েলকে ডাকো, গ্যারাজে টেলিফোন করতে বলেছিলাম, কি করল দেখি।

    রিচার্ড বাবার কথা শুনে কিছু বলতে যাচ্ছিল, কি মনে করে মুখ টিপে এগিয়ে গেল ফায়ার প্লেসের দেওয়ালের দিকে। এখানেই ঘণ্টার বোতাম সাঁটা আছে।

    দরজার সামনে তখনও কৌতূহলী মুখে সকলে দাঁড়িয়ে আছে। স্যার ক্লড বললেন কি হল, ওভাবে সবাই দাঁড়িয়ে আছ কেন? বসো। আমার সব কথা তোমরা শোন।

    ধীর পায়ে চিন্তিত মনে সকলে যে যার আসনে বসে পড়ল। টুলে বসলেন ডঃ কারোলি। রিচার্ড এগিয়ে এসে দাঁড়াল। রেনর আর লুসিয়া ফায়ারপ্লেসের কাছাকাছি দুটো চেয়ার দখল করল। সোফায় দুটো গদিতে হেলান দিয়ে পাশাপাশি বসেছে পিসি-ভাইঝি।

    এই সময় বাইরে থেকে টুক করে দরজার কপাট খুলে গেল। দেখা গেল ট্রেড ওয়েলকে। সে তার মনিবের কাছে জানতে চাইল, তাকে কেন ডাকা হয়েছে।

    –ট্রেডওয়েল, স্যার ক্লড জানতে চাইলেন, ডিনার টেবিলে তোমাকে একটা টেলিফোন নম্বর দিয়ে কি করতে বলেছিলাম মনে আছে?

    -হ্যাঁ স্যার, মনে আছে। বাটলার জানাল, যা বলতে বলেছিলেন ওই নম্বরে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছি অনেকক্ষণ আগে।

    -স্টেশনে ওরা গাড়ি পাঠাবে তো?

    –হ্যাঁ, স্যার, ট্রেন স্টেশনে ঢোকার আগেই ওদের গাড়ি পৌঁছে যাবে।

    –বেশ, এবার তুমি যেতে পারো। স্যার ক্লড হুকুমের সুরে বললেন–বাইরে থেকে তালাটা এঁটে দিয়ে যেও।

    –আচ্ছা, ট্রেডওয়েল দরজার বাইরে চলে গেল। পরমুহূর্তেই চাবি আঁটার মৃদু শব্দ।

    –ক্লড, ক্যারোলিন আর উত্তেজনা চেপে রাখতে পারছেন মা–কি ব্যাপার বল তো? ট্রেডওয়েল, দরজায় বাইরে থেকে তালা চাবি লাগিয়ে দিল কেন? কি চায় ও?

    ট্রেডওয়েল, আমার হুকুম পালন করছে মাত্র। স্যার ক্লডের কঠিন কণ্ঠস্বর।

    –কিন্তু, রিচার্ড নিস্পৃহ গলায় প্রশ্ন করল, এসবের মানে কি, এ প্রশ্ন তো আমরা করতেই পারি, তাই কিনা?

    –নিশ্চয়ই, প্রশ্নের উত্তর পাবে, শান্ত হও। স্যার ক্লড বলে চললেন, প্রথমেই বলি, তোমরা সকলেই জান, আমার স্টাডিতে ঢুকতে হলে দুটো দরজা পার হতে হয়। লাইব্রেরির গায়ে ওই ছোটো দুটো দরজা, চোখের ইঙ্গিতে সেদিকটা দেখালেন, আবার বলতে শুরু করলেন, ওই দুটো কিন্তু বাইরে থেকে বন্ধ। আমার স্টাডি থেকে কাউকে বাইরে বেরতে হলে এই বসার ঘরের দরজা দিয়েই যেতে হবে। বসার ঘরের ওই ফ্রেঞ্চ জানলা দুটোও একইভাবে আটকান।

    স্যার ক্লড সরাসরি এবার তাকালেন পারিবারিক অতিথি ডঃ কারোলির দিকে যে তালার সাহায্যে এ ঘরের দরজা জানলা এঁটে দেওয়া হয়েছে, তা আমিই বিশেষভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তৈরি করেছি, এ সংসারের সকলেই তা জ্ঞাত। কিন্তু তালা খোলার ব্যাপারে কারো কোন ধারণা নেই। এখনও নটা বাজেনি। দশ মিনিট বাকি আছে। অপেক্ষা কর, কলে আটকে পড়া ইঁদুর ধরার লোক এল বলে।

    তার মানে? আমি তো এসব কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছি না, রিচার্ডের কথায় অধৈর্যের আভাস লোকটা কে?

    –একজন গোয়েন্দা। স্যার ক্লড কঠিন কণ্ঠে বলে উঠলেন।

    .

    ০৫.

    –গোয়েন্দা! নাম কি? রিচার্ড এবার সত্যিই খেপে গেছে, এখানে তার কাজ কি?

    –গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারো বেলজিয়াম পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের বড়কর্তা ছিলেন, অবসর নিয়েছেন। গম্ভীর গলায় স্যার ক্লড অ্যামরি বলে চললেন, লন্ডনে বাস, বেসরকারি গোয়েন্দা হিসাবে যথেষ্ট খ্যাতি আছে, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সকলের কাছে খুব পরিচিত নাম। কিছুদিন আগে এক সমস্যায় পড়েছিলাম, তখন থেকেই পরিচয়ের সূত্রপাত্র। খানিক বাদেই ভদ্রলোক এখানে এসে পা রাখবেন।

    শ্বশুরের মুখের কথা শুনে লুসিয়া আর্তনাদ করে উঠল। রিচার্ড বুঝি বোবা হয়ে গেছে, ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল স্ত্রীর দিকে।

    একেই বলে কপাল, শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দা। ক্যারোলিনের গলায় আক্ষেপের সুর। বারবারাও চাপা গলায় একইরকম আক্ষেপ প্রকাশ করল। আর ডঃ কারোলি? তিনি যেন পাথর হয়ে গেছেন, অপলক চোখে স্যার ক্লডকে দেখছেন।

    এডওয়ার্ড রেনর মুখ খুলল–স্যার ক্লড, সত্যি বলছি, আপনার জুড়ি মেলা ভার।

    –কথাগুলো তোমাদের আগাম জানিয়ে রাখা উচিত মনে করে বললাম, কঠিন কণ্ঠে স্যার ক্লড বললেন। কফির শূন্য কাপ ছোট টেবিলে রেখে আর্মচেয়ারে ঠেস দিয়ে বসলেন–কফিটা বড্ড তেতো লাগছিল, বিস্বাদ, কেন কে জানে!

    তিনি তাকালেন বোনের দিকে এ পরিবারের খুঁটিনাটি দেখার দায়িত্ব তার হাতে। ক্যারোলিন একথা শুনে বিরক্ত হলেন, ক্ষোভ জমল মনে, চোখে মুখে তার প্রকাশ ঘটে গেল।

    কিন্তু ওই গোয়েন্দাকে কেন এখানে ডাকা হয়েছে, রিচার্ড গম্ভীর গলায় বলল, এ প্রশ্ন আমাদের সকলের।

    –নিশ্চয়ই, জানবে বৈকি! স্যার ক্লডের ঠোঁটে কুটিল হাসির রেখা।

    -হ্যাঁ, বলছি, শোনো সকলে। আমাদের প্রত্যেকের জানা আছে, বর্তমানে আমি পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলাম। সম্প্রতি ওই পারমাণবিক বোমা তৈরির ফর্মুলাও আবিষ্কার করেছি। এ হল মারাত্মক ক্ষমতাশালী বিধ্বংসী বোমা, যা তোমাদের ধারণার বাইরে।

    ***

    স্যার ক্লড থামলেন, ডঃ কারোলিকে নিরীক্ষণ করলেন। আবার বলতে শুরু করলেন, হ্যাঁ, কাজের কথায় ফিরে আসি। অ্যামারাইট’–আমার ফর্মুলায় তৈরি বোমার নাম। কয়েক মুহূর্তের বিরতি এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা যেসব পারমাণবিক বোমা বের করেছে, তার দশগুণ শক্তি ধরে আমার ফর্মুলায় তৈরি অ্যামারাইট–লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ধ্বংস করে সব ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।

    –ওফ, কি নৃশংস কাণ্ড! লুসিয়া শিউরে উঠল।

    –তবুও বাস্তবকে মানতেই হবে, বাছা আমার। স্যার ক্লডের ঠোঁটে হাসি, সত্যের অন্তরালে থাকে সীমাহীন কৌতূহল, অজানাকে জানার তীব্র আকাঙ্খা।

    কিন্তু এসব আমাদের বলে তোমার লাভ কি? রিচার্ড কৈফিয়তের সুরে বলল।

    কারণ আছে, তাই বলছি। চাপা গম্ভীর গলায় স্যার ক্লড বলতে থাকেন, আমি হলফ করে বলতে পারি, আমার পরিবারের কেউ ওই অ্যামারাইট-এর মহামূল্যবান ফর্মুলা হাতিয়ে নেবার চেষ্টা করে চলেছে। তাই আমি গোয়েন্দা পোয়ারোর শরণাপন্ন হয়েছি। ঠিক করেছিলাম, উইক এন্ডেই অর্থাৎ আগামীকাল এখানে আসার আমন্ত্রণ জানাব। পরে ভেবে দেখলাম, তাহলে বড় দেরি হয়ে যাবে, তাই আজই তাকে চলে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। উনি দু-দিন এখানে থাকবেন। সোমবার সকালে ফিরে যাবেন লন্ডনে, আমি আমার বোমা তৈরির ফর্মুলা ওনার হাতে তুলে দেব। উনি তা পৌঁছে দেবেন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কোনো দুদে অফিসারের কাছে।

    স্যার ক্লড থামলেন, সকলের মুখের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন, তাদের মনের প্রতিক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করলেন। ফের বলতে শুরু করলেন–মহামূল্যবান ফর্মুলাটি লেখা ছিল মামুলি একটা কাগজে। এটা সুরক্ষিত করার জন্য খামে ভরে সিন্দুকে তুলে দিলাম। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল, আজই সন্ধ্যের পরে ডিনারের আগে সেই বড় খামটা উধাও হয়েছে, সিন্দুকে নেই। আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, আমি নিশ্চিত, এই ঘরে, এই মুহূর্তে যারা আমার সামনে রয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ একজন কান্ডটা ঘটিয়েছে।

    স্যার ক্লডের মুখ থেকে ছিটকে ছুটে আসা শেষ শব্দগুলো শুনে সকলে চমকে উঠল, চোখ হল চড়কগাছ। পরস্পরের মুখের দিকে তাকাল তারা দৃষ্টিতে ঝরে পড়ছে সন্দেহের কালো ছায়া।

    -ফর্মুলা চুরি হয়ে গেছে? ক্যারোলিন বিস্মিত কণ্ঠে জানতে চাইলেন।

    বন্ধ সিন্দুক থেকে ফর্মুলা উধাও? রিচার্ডও অবাক। চেঁচিয়ে বলল–এ তো অসম্ভব!

    সকলেই যখন বিস্ময়াহত, তখন একজনের মধ্যে ব্যতিক্রম দেখা গেল। তিনি হলেন ডঃ কারোলি। তিনি নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন। কপালে চিন্তার ভাঁজ, বোঝা গেল তার মনের মধ্যে দুশ্চিন্তার ঝড় শুরু হয়েছে।

    আজ সন্ধ্যার খানিক বাদে ফর্মুলাটা একটা বড় খামে পুরে আমার স্টাডির সিন্দুকে রেখে দিয়েছিলাম, তখন ঘড়িতে সাতটা বেজে কুড়ি মিনিট, এক চুলও এদিক ওদিক নয়। স্যার ক্লড গম্ভীর গলায় বলে গেলেন। তারপর আমি ঘর থেকে বেরিয়ে যাই, রেনর ঢুকল।

    –স্যার ক্লড, আপনি আজে বাজে কিসব বলছেন? রেনর তেড়ে উঠল। চোখ দুটো জ্বলছে।

    স্যার ক্লড হাতের ইঙ্গিতে তাকে থামিয়ে দিলেন–যেমনটি ঘটেছে আমি তার পুনরাবৃত্তি করছি। স্টাডিতে ঢুকে রেনর নিজের কাজে মন দিল। ঠিক এই সময় স্টাডির দরজাতে এসে পা রাখলেন ডঃ কারোলি। তাকে দেখে রেনর ঘর থেকে বেরিয়ে এল, অর্থাৎ কারোলি তখন স্টাডিতে একা। রেনর এসে লুসিয়াকে খবরটা দিল যে, রেনর ছাড়া ওঘরে কেউ নেই।

    –স্যার ক্লড আপনি কি আবোল তাবোল বলছেন! সব মিথ্যে। চেঁচিয়ে উঠে ডঃ কারোলি প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু স্যার ক্লডের হাতের ইশারায় তাকে থামতে হল।

    -খানিকবাদে বসার ঘরে অর্থাৎ এখানে এসে ঢুকল আমার বোন ক্যারোলিন আর ভাইঝি বারবারা। ওদের দেখে রেনর চুপচাপ স্টাডি থেকে বেরিয়ে এল, ক্যারোলিন আর বারবারার সঙ্গে গল্পে মেতে উঠল, এরপরে ডঃ কারোলি এসে যোগ দিলেন ওদের সঙ্গে। অর্থাৎ আমার বোন আর ভাইঝি ছাড়া সকলেরই ওই সময়টুকুতে স্টাডিতে পা পড়েছে।

    -জ্যেঠু, বারবারা বাঁকা চোখে একবার পিসি ক্যরোলিনের দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নিল। বলল–তুমি ভুল বলছ। তোমার সন্দেহভাজনদের তালিকায় আমার নামটাও জুড়ে দেওয়া উচিত। কারণ, তুমি হয়তো দেখোনি, তবু বলছি, একটু আগে পিসিমা আমায় বলেছিল, সেলাইয়ের বাক্সে সূঁচ খুঁজে পাচ্ছে না, নিশ্চয়ই মনের ভুলে স্টাডিতে রেখে এসেছে, আমি যেন খুঁজে সেটা নিয়ে আসি। পিসিমা, ও পিসিমা, তুমি এখন চুপ করে আছ কেন? তোমার কথাকে বিশ্বাস করেই তো আমি তো জ্যেঠুর স্টাডিতে ঢুকে ছিলাম।

    বারবারা একটানা কথাগুলো বলে গেল বটে, কিন্তু ধোপে টিকল না। নিজের কথার জের টেনে স্যার ক্লড বললেন কিছুক্ষণ কেটে যাবার পর রিচার্ড স্টাডিতে ঢুকল, অন্য কেউ সে সময় ঘরে ছিল না, কয়েক মিনিট সেখানে ছিল।

    -বাবা, তুমি থামবে? রিচার্ডের উত্তেজিত কর্কশ কণ্ঠস্বর শোনা গেল নিজের ছেলেকে চোর বদনাম দিচ্ছ? এতজনের মধ্যে আমাকেই তোমার মনে হল চোর, তাই না? ধানাই পানাই করে এটা ওটা বলে সেটাই প্রমাণ করতে চাইছ। তোমার ওই কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং ফর্মুলা নিতে আমার বয়েই গেছে।

    -যাকে তুমি কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং বলছ, তার মূল্য জানা আছে তোমার? লক্ষ লক্ষ পাউন্ড, তোমার ধারণার বাইরে। ছেলের চোখে চোখ রেখে স্যার ক্লড বললেন।

    -বুঝেছি, রিচার্ড পালটা জবাব দিল, এদিকে প্রচুর টাকা আমি ধার করে বসে আছি, এই কথাটাই তো তুমি সকলকে বোঝাতে চাইছ, ঠিক বলেছি তো?

    –আমার কথা এখনও বাকি আছে, ছেলের দিকে দৃষ্টি সরিয়ে স্যার ক্লড বললেন রিচার্ড কয়েক মিনিট একলা ওখানে কাটানোর পর লুসিয়াকে বসার ঘরে আসতে দেখে স্টাডি থেকে বেরিয়ে পড়ল। ডিনারের ঘণ্টা পড়তে তখনও অনেক বাকি, লুসিয়া স্টাডিতে ঢুকে সিন্দুকের পাশে দাঁড়াল–আমি তার গতিবিধির ওপরে নজর রেখেছি।

    -ওহ, কি হচ্ছে বল তো? রিচার্ড খুব জোর রেগে গেছে। দ্রুত পায়ে লুসিয়ার পাশে চলে এল, দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে স্ত্রীকে নিরাপত্তার বাঁধনে বন্দী করল–কি বলতে চাইছ পরিষ্কার ভাবে বল। সকলে শুনুক। আমাদের স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে তোমার মনে সন্দেহ যদি সত্যিই উঁকি দিয়ে থাকে, সাফ বলি, যে কোন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে আমরা প্রস্তুত।

    পরের ঘটনা বলছি, স্যার ক্লড নিজের কথা বলে চললেন,–ডিনারে যাওয়ার আগে আমি দেখলাম, লুসিয়া আপন মনে সিন্দুকের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। ওর উত্তেজনাপূর্ণ মুখ-চোখ দেখে আমার মনে হল, ওর শরীর খারাপ লাগছে। লুসিয়া নিজেও সেকথা মুখে প্রকাশ করল। আমি ওকে একটু ওয়াইন খাওয়ার পরামর্শ দিলাম। কারণ মেয়েদের শরীর নানা কারণে খারাপ হয়। খানিকটা অ্যালকোহল পেটে পড়লে শরীর চাঙ্গা হবে। আমার কথার গুরুত্ব না দিয়ে লুসিয়া বলল, ওসবের দরকার হবে না। কিছুক্ষণ পরে আপনা আপনিই ঠিক হয়ে যাবে। কথা শেষ করে লুসিয়া ওখান থেকে চলে এল। আমি তখন স্টাডিতে একা। হঠাৎ মনে যেন কেমন খটকা লাগল। সিন্দুক খুললাম, দেখি বড় খাম সমেত ফর্মুলা সেখানে নেই, উধাও হয়ে গেছে।

    স্যার ক্লড থামলেন। ঘরের, মধ্য তখন পিনপতন নীরবতা, গৃহকর্তা সকলের মুখের দিকে তাকালেন। কঠিন চোখে জরিপ করলেন। বুঝতে পারলেন, প্রত্যেকেই ফর্মুলা খোয়া যাওয়ার ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারছে।

    -সব শুনলাম, বাবা। কিন্তু তুমি কেন আমাদের স্বামী-স্ত্রীকে দোষী ভাবছ, বুঝতে পারছি না। রিচার্ড রুক্ষ্ম গলায় জানতে চাইল…..।

    -দোষী ভাবার অবশ্যই কারণ আছে নিজের চোখে আমি সব দেখেছি, উড়িয়ে দিই। কি করে, স্যার ক্লড ছেলের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকলেন, তাছাড়া ট্রেডওয়েলের কাছে খোঁজ খবর নিয়ে যেসব তথ্য পেয়েছি, সব মিলিয়ে এইরকমই দাঁড়ায়।

    ক্যারোলিন এবার শাণিত তরবারির মতো আঘাত হানলেন কিন্তু ট্রেডওয়েল বা বাড়ির অন্যান্য চাকর-বাকরদের তুমি তোমার সন্দেহের বাইরে রেখেছ কেন, ক্লড? বাইরে যাদের সন্দেহ করছ, তারা তোমারই পরিবারের একজন।

    -ক্যারোলিন ভেব না, যিনি এই বাড়িতে অতিথি হয়ে আছেন, যাঁর সাথে আমাদের রক্তের কোন সম্পর্ক নেই, তাকেও আমি আমার সন্দেহের তালিকাভুক্ত করেছি। ধারাল গলায় স্যার ক্লড বলতে থাকেন, আর বাড়ির দাস-দাসীদের কথা বলছ? ফর্মুলা সিন্দুকে রাখা থেকে শুরু করে তা উধাও হওয়া–এই সময়টুকুর মধ্যে ওরা কেউ স্টাডিতে ঢোকেনি, এমনকি ট্রেডওয়েলও নয়। তাই ওরা সন্দেহমুক্ত।

    স্যার ক্লড একটু থামলেন, ঘরের চারদিকে তার দৃষ্টি ঘুরে বেড়াল। তারপর আবার তিনি গুরুগম্ভীর কণ্ঠে বললেন আপনারা নিশ্চয়ই ঘটনাটার গুরুত্ব ও জটিলতা অনুধাবন করতে পারছেন, আশা করি নতুন করে বুঝিয়ে বলতে হবে না। যাই হোক, ফর্মুলা যে কেউ একজন হস্তগত করেছে এবং সেটা এখনও তার কাছেই আছে ওটা খাবার ঘরে পাওয়া যায়নি, কারণ ডিনার শেষ করে আমরা একে একে এঘরে চলে এলে ট্রেডওয়েল খুব ভালভাবে খুঁজেছে। তন্নতন্ন করে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ আপনাদের কারো সঙ্গেই জিনিসটা রয়েছে। তাই এখানেই সকলকে আটকে থাকতে হবে, যতক্ষণ না……..

    স্যার ক্লড চুপ করলেন। ঘরে নেমে এল অখণ্ড নীরবতা। হঠাৎ নিস্তব্ধতা খান খান হয়ে ভেঙে গেল ডঃ কারোলির কণ্ঠস্বরে–স্যার ক্লড, আপনি কি করতে চাইছেন বলুন তো? কেউ আমাদের খানাতল্লাশি করছে, আর আপনি তা চোখ চেয়ে উপভোগ করবেন, তাই তো? মুখ ফুটে সেটা বলে ফেলুন।

    না, একথা আমি একবারও বলিনি, আর চাইও না। স্যার ক্লড কবজিতে বাঁধা ঘড়ির দিকে তাকালেন। বলতে শুরু করলেন দুমিনিট বাকি আছে ন’টা বাজতে। পাক্কা নটায় এরকুল পোয়ারো মার্কেট ক্লিভ স্টেশনে পৌঁছোবেন। ওঁকে আনতে গাড়ি যাবে, সে ব্যবস্থাই করা হয়েছে। নটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে বড়ির সব লাইট নিভে যাবে। এক মিনিট অন্ধকার। তারপর আবার সমস্ত বাড়ি আলোতে ভরে উঠবে। আমার হুকুমে বাটলার ট্রেডওয়েল এসব কাজ করছে। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ আমার হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। মঁসিয়ে এরকুল পোয়ারো ততক্ষণে এসে পড়বেন। এই রহস্য অনুসন্ধানের দায়িত্ব আমি তাঁর হাতেই তুলে দেব।

    স্যার ক্লড একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলেন–এখনও সময় আছে, যে-ই ফর্মুলা হাতিয়ে নিয়ে থাকুক না কেন, অন্ধকারের মধ্যে কেউ কাকেও দেখতে পাবেন না, সকলের অগোচরে ফর্মুলাটা রেখে যান, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি, এরকুল পোয়ারোকে বলব, যে কাজের জন্য আপনাকে ডেকেছিলাম, তা সমাধান হয়ে গেছে, আপনি এখন আসুন আবার বলছি, ফর্মুলা ফেরত পাবার পরেই আমিও সব বলব।

    কথা শেষ করে স্যার ক্লড টেবিলের ওপর ঘুসি বসালেন।

    -বাবা, তোমার সিদ্ধান্ত শুনে আমরা অপমানিত বোধ করছি। উত্তেজিত কণ্ঠস্বরে রিচার্ড বলল। ঘরের সকলের দিকে কঠিন চোখে তাকাল। আবার বলল আমার মনে হয়, আমাদের প্রত্যেককে আগাগোড়া তল্লাশি করলেই ব্যাপারটা মিটে যায়, অন্ততঃ আমার সেই ধারণা।

    -আমি আপনার মতকে সমর্থন করছি। আমিও চাই আমাদের সার্চ করা হোক। এডওয়ার্ড রেনর তার মত জানাল।

    ডঃ কারোলির দিকে রিচার্ড পলকহীন কঠিন চোখ তাকিয়ে ছিল। ডঃ কারোলি বিব্রত বোধ করলেন। তার মনে কি আছে কে জানে, কিন্তু মুখে তিনিও রিচার্ডের সিদ্ধান্তকে মেনে নিলেন, জানালেন, খানাতল্লাশিতে তার কোন আপত্তি নেই।

    –তোমরা যখন চাইছ, তখন আমি আর না’ বলব না। ক্যারোলিন বললেন।

    –আর লুসিয়া? রিচার্ড তাকাল স্ত্রীর দিকে সেই দৃষ্টিতে ঝরে পড়ছে প্রচণ্ড ক্রোধ তুমি কি বল?

    –আমি… আমি…… ভয় জড়ানো কণ্ঠে লুসিয়া বলল–তোমার কথায় আমার সায় নেই। তোমার বাবা যা চাইছেন, সেটাই বরং ভাল।

    স্ত্রীর কথা শুনে রিচার্ড তাজ্জব বনে গেল। হতচকিত হয়ে নীরবে বউয়ের দিকে তাকিয়ে রইল।

    এতক্ষণ স্যার ক্লড, চুপচাপ ছেলের রঙ্গ দেখছিলেন। এবার বললেন–রিচার্ড, চুপ কেন? এবার কিছু বল।

    রিচার্ডের বুক থেকে গভীর দীর্ঘ নিশ্বাস বেরিয়ে এল। সে ঘাড় ঘোরাল বারবারার চোখে চোখ পড়ল। বারবারা ঘাড় নাড়ল, অর্থাৎ তল্লাশিতে সেও রাজী আছে।

    রিচার্ড অবশেষে বলল–বেশ, সকলে যখন খানাতল্লাশি চাইছে, আমি আর আপত্তি করি কেন? তোনার সিদ্ধান্তই মেনে নিলাম, বাবা।

    স্যার ক্লড নড়ে চড়ে আরাম কেদারায় আয়েশ করে বসলেন–বিড়বিড়িয়ে বললেন–আজ কফিটা এত তেতো লাগল কেন, কে জানে! মুখ বিকৃত করলেন–গলা পর্যন্ত তে হয়ে আছে। তিনি হাই তুললেন, বুঝি ঘুম আসছে।

    এদিকে ম্যান্টলপিসে রাখা পুরনো ঘড়িটা নিজের কাজ করে চলেছে–এক…… দুই….. তিন…….. চার…… পাঁচ……… সকলে হকচকিয়ে ঘড়ির দিকে তাকাল-নটা বাজে। ঘণ্টা বেজে চলেছে ছয়……. সাত………আট…… নয়………। নটার শেষ ঘণ্টা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের সব আলো নিভে গেল। ট্রেডওয়েল তার মনিবের আদেশে বেসমেন্টে-এ বাড়ির মেইন সুইচ টিপে বন্ধ করে দিল। ঝুপ করে নেমে এল নিঃসীম অন্ধকার। পুরো বাড়িটাই সীমাহীন আঁধারের অতলে নিমেষে ডুবে গেল।

    দারুণ আতঙ্ক এসে গ্রাস করেছে ঘরের বাসিন্দাদের। মেয়েরা চিৎকার করতে শুরু করল।

    ক্যারোলিন ঝাঁঝিয়ে উঠলেন,–আরে, এসব কি হচ্ছে। ছাই পাঁশ কিছু তো বুঝতে পারছি না।

    -পিসিমা, কি করছ? চুপ কর। চাপা গলায় বারবারা ধমকে উঠল কিছু একটা হচ্ছে, ভালোভাবে শুনতে দাও, দোহাই।

    এক-একটি মুহূর্ত কেটে যাচ্ছে। কালি ঢালা আঁধারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে চাপ চাপ নীরবতা। বসার ঘরকে তারা আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধেছে। এর মধ্যে ভেসে এল একটা ছোট্ট আওয়াজ–কেউ জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। কাগজের খসখসানি শোনা গেল। তারপর ধাতবের ঠুনঠান, কেউ বুঝি কিছু ছিঁড়ে ফেলছে, বোঝা গেল, টেবিল যা চেয়ার উলটে পড়ল, আওয়াজ হল–তারপরেই সব স্তব্ধ, নেমে এল নীরবতা।

    –স্যার ক্লড। স্যার ক্লড! লুসিয়ার আর্ত চিৎকার রাতের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে দিল ডঃ, আমি আর পারছি না, অসহ্য, দয়া করে আলো জ্বালতে বলুন।

    তখনও ঘর আলোহীন, জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার শব্দ তখনও নিঃসীম অন্ধকার ভেদ করে বেরিয়ে আসছে, ঠিক এই সময় দরজার বাইরে টোকার শব্দ। সে এক বীভৎস পরিস্থিতি। লুসিয়ার আর্ত চিৎকার আবার শোনা গেল। সঙ্গে সঙ্গে ঘরের বাতিগুলো জ্বলে উঠল। সকলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।

    দেখা গেল দরজার সামনে রিচার্ড দাঁড়িয়ে, দরজা খুলবে কিনা ভাবছে। মেঝেতে উল্টানো চেয়ার, পাশে হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে আছে এডওয়ার্ড রেনর। আর লুসিয়াকে একটা চেয়ারে বসে থাকতে দেখা গেল, কিন্তু চোখ-মুখের যা দশা, বুঝি এখুনি ভিরমি খাবে।

    একইভাবে স্যার ক্লড বসে আছেন আর্মচেয়ারে হেলান দিয়ে, যেন পাষাণ মূর্তি, চোখের পাতা বন্ধ, উনি কি ঘুমিয়ে আছেন, না জেগে কেউ জানে না।

    রেনর প্রথম মুখ খুলল–ওই তো, ওই তো সেই হারানো নিধি। তার কথা শুনে সকলের দৃষ্টি চলে গেল আমচেয়ারের পাশের টেবিলটার দিকে। স্যার ক্লড যে বড় খামটার কথা বলছিলেন, সেটি পড়ে আছে টেবিলের ওপর।

    –ঈশ্বর দয়াময়! লুসিয়া যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল, পাওয়া গেছে তা হলে!

    আবার দরজায় টোকা, কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা, ধীরে ধীরে দরজার কপাট খুলে গেল। কয়েক জোড়া কৌতূহলী দৃষ্টি এখন দরজার কাছে এসে আটকে গেছে।

    সকলে দেখল ট্রেডওয়েলকে, সঙ্গে একজন অচেনা অজানা লোক। আগন্তুক ঘরের ভেতরে ঢুকলেন, ট্রেডওয়েল ফিরে গেল নিজের কাজে।

    পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি লম্বা লোককে বেঁটে বলা যায় না, তবে ছোটখাট, মাথায় মস্ত এক টাক, এক ফালি মিলিটারি গোঁফ নাকের নীচে শোভা পাচ্ছে, যেন মুরগির ডিম। আভিজাত্যপূর্ণ পোশাক। আত্মমর্যাদা সম্পন্ন,–সবমিলিয়ে এমন এক ব্যক্তিত্ব আছে মানুষটার মধ্যে, যার সামনে আপনিই মাথা অবনত হয়ে আসে।

    ভদ্রলোক নিজের পরিচয় দিলেন আমি এরকুল পোয়ারো, মাথা সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকিয়ে বললেন–আপনাদের সেবা করার জন্যই আমার আগমন।

    আর এক ভদ্রলোক ভেতরে ঢুকলেন হুঁশিয়ারি পদক্ষেপে, লম্বা চওড়া মিলিটারি মার্কা চেহারা, মধ্যবয়সী।

    পোয়ারো চোখের ইশারায় তাকে দেখিয়ে বললেন–ইনি ক্যাপ্টেন হেস্টিংস, আমার বন্ধু ও সহকারী।

    রিচার্ড এগিয়ে এল, হাত বাড়িয়ে দিল, দু’জনে হাত মেলালেন। পোয়ারো প্রশ্ন করলেন–আমি কি স্যার ক্লডের সঙ্গে কথা বলছি? পরক্ষণেই নিজের ভুল বুঝতে পেরে শুধরে নিলেন না, ঠিক বলিনি, যা বয়স আপনার, তাতে আপনাকে স্যার ক্লডের ছেলে বলেই মনে হচ্ছে, কি ঠিক বলেছি?

    রিচার্ড হেসে ঘাড় নেড়ে সায় দিল। পোয়ারো তার সঙ্গীকে নিয়ে চলে এলেন একেবারে ঘরের মধ্যখানে।

    ক্যাপ্টেন হেস্টিংস-এর সঙ্গে রিচার্ড হাত মেলাল। ক্যাপ্টেন মনে মনে বললেন–বাঃ, দারুণ সুন্দর সাজানো ঘর।

    রিচার্ড এগিয়ে এল পোয়ারোর সামনে মাফ করবেন মশিয়ে পোয়ারো, রিচার্ড আমতা আমতা করে বলতে লাগল–বলতে খারাপ লাগছে, একটা ভুল বোঝাবুঝি আর কি, ওই কারণেই আপনাকে ডাকা হয়েছে। মিটে গেছে, আপনাকে আর দরকার নেই।

    -তাই বুঝি। পোয়ারো জবাব দিলেন।

    -হ্যাঁ, ঠিক তাই। বলতে খারাপ লাগছে, সেই লন্ডন থেকে আপনাকে শুধু-শুধু ডেকে আনা হল। এসবের কোন মানে হয় না। যাক গিয়ে, আপনার প্রাপ্য পারিশ্রমিক, এমনকি আপনার এখানে আসা ও ফিরে যাওয়ার খরচও আপনি পেয়ে যাবেন। ভাববেন না।

    -না, ভাবছি না। পোয়ারো নীরস কণ্ঠে বলতে থাকেন, আপনার বক্তব্য আমি বুঝতে পেরেছি। আমার পারিশ্রমিক বা যাতায়াত খরচ নিয়ে আমি একটু-ও চিন্তিত নই।

    -তাহলে? তাহলে আপনি কী করতে চাইছেন, মশিয়ে পোয়ারো।

    একই ভঙ্গিতে পোয়ারো জবাব দিলেন, মিঃ অ্যামরি, আমার বক্তব্য পরিষ্কার। যিনি আমায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সেই স্যার ক্লড কোথায়। ওনার সঙ্গে দেখা করতে চাই। উনি যদি না-চান, তাহলে চলে যাক।

    -হ্যাঁ, তাইতো, বাবার মুখ থেকে না শুনে….. রিচার্ড আর্মচেয়ারের কাছে চলে এল, যেখানে স্যার ক্লড পাথরের মতো গা এলিয়ে বসে আছেন।

    -বাবা, মশিয়ে পোয়ারো এসেছেন। রিচার্ড জোরালো গলায় ডাকতে লাগলেন। তোমার যে ওঁনাকে আর প্রয়োজন নেই, তা বলে দাও। উনি চলে যাবেন। বাবা, তোমার মুখ থেকেই কথাটা উনি শুনতে চাইছেন, না-হলে উনি লন্ডনে ফিরে যাবেন না বলছেন।

    বাবার মধ্যে কোন ভাবান্তর না দেখে গলার পর্দা আর একটু বাড়িয়ে রিচার্ড ডেকে উঠল–কি হল বাবা, তুমি শুনতে পাচ্ছ না? চোখ খুলে তাকাও।

    না, ছেলের ডাকাডাকিতে বাবার চোখ খুলল না।

    রিচার্ড এবার ঘাবড়ে গেল। বাবা’ বাবা’ বলে সে স্যার ক্লডের বুকের বাঁদিকে নিজের কান রাখল। পরক্ষণেই তড়াক করে লাফিয়ে উঠল। চিৎকার করে ডঃ কারোলিকে ডাকল–শিগগির এদিকে আসুন, ডঃ কারোলি।

    ভাইপোর ভয়ার্ত চিৎকার শুনে ক্যারোলিন আতঙ্কিত হল, মুখ হল বিবরণ।

    দ্রুত পায়ে ডঃ কারোলি ছুটে এলেন, স্যার ক্লডের হাতের শিরা টিপে ধরলেন, পরীক্ষা করলেন, সামান্য ঘাড় নাড়লেন, এবার স্যার ক্লডের হৃৎপিন্ডে কান পাতলেন। কয়েক মুহূর্ত কেটে গেল। গম্ভীর মুখে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন ডঃ কারোলি। পকেট থেকে ছোট্ট টর্চ বের করলেন, চোখের পাতা টেনে ধরলেন, টর্চের আলো ফেললেন। টর্চ নিভিয়ে দিলেন। ঘরের সকলের দিকে তাকালেন, নিরাশার ভঙ্গিতে ঘাড় নাড়লেন।

    –ডঃ কারোলি, বারবারার উৎকণ্ঠিত কণ্ঠস্বর, জ্যেঠুর কি হয়েছে? কথা বলছেন না কেন?

    বড্ড দেরি হয়ে গেছে, মিস অ্যামরি, ডঃ কারোলি বললেন–স্যার ক্লড, আর বেঁচে নেই, উনি হার্টফেল করছেন, অনেকক্ষণ আগেই মারা গেছেন।

    .

    ০৬.

    এরকুল পোয়ারোর চিন্তাচ্ছন্ন মন–আমি যদি একটু আগে এখানে আসতাম, এমন দুর্ঘটনা ঘটত না। এমন অপূরণীয় ক্ষতি, এ যে আমার স্বপ্নের অতীত।

    রিচার্ড তখনও নিশ্চিত হতে পারছে না–ডঃ কারোলি, আপনি ঠিক বলছেন তো, আচমকা হার্টফেল করে বাবার মৃত্যু হয়েছে?

    –তাই তো মনে হচ্ছে। কয়েকটি কথায় জবাব দিলেন ডঃ কারোলি।

    ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে বোন ক্যারোলিন শোকে ভেঙে পড়লেন। কান্নাকাটি শুরু করলেন। বারবারা ছুটে এল, এখুনি পিসিমাকে, শান্ত করা প্রয়োজন, নয়তো উনি বেঁহুশ হয়ে পড়বেন।

    এডওয়ার্ড রেনরও এগিয়ে এল বারবারার পাশে। নীচু স্বরে জানতে চাইল–ওই কারোলির কথা বলছি। সত্যিই কি উনি ডাক্তার?

    -হ্যাঁ, ডাক্তার। সহজ ভাবে বারবারা বলল, তবে এদেশের নয়, ইটালির।

    কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ছিলেন পোয়ারো। ওদের কথাবার্তা তার কানে এল। গোঁফে হাত বুলোতে বুলোতে তিনি বললেন–এখানে উপস্থিত সকলের অবগতের জন্য বলছি, আমি একসময় পুলিশের গোয়েন্দা ছিলাম, অবশ্য বেলজিয়ান পুলিশের, তাহলে মনে রাখবেন, আমরা, অর্থাৎ বিদেশীরা সমস্যার আসল সমাধানটা খুঁজে বের করি, কচ্চিৎ দু-একটা বাদে।

    পোয়ারোর কথা শুনে বারবারা লজ্জায় মাথা হেঁট করল, তার বুঝতে দেরি হল না যে, তাকে ইঙ্গিত করেই এমন ঠেস দেওয়া কথা বলা হল। বারবারার মুখ ভার হল। এডওয়ার্ড পরিস্থিতি সামাল দিতে বারবারার সঙ্গে মামুলি কথাবার্তা বলতে লাগল।

    ইতিমধ্যে লুসিয়া এসে দাঁড়িয়েছে পোয়ারোর পাশে। তাকে ধরে টেনে নিয়ে গেল ঘরের অন্যপাশে। চাপা গলায় অনুরোধের সুরে বলল–মশিয়ে পোয়ারো, আপনি কারো কথা মানবেন না। এখানেই আপনি থাকুন, যে কাজে এসেছেন, তা শুরু করুন, প্লীজ।

    মাদাম, পোয়ারো তাকালেন লুসিয়ার দিকে, আপনি কি সত্যিই চান, আমি এখানে থাকি?

    -হ্যাঁ, নিশ্চয়ই, স্যার ক্লডকে ইশারায় দেখিয়ে লুসিয়া বলে চলল–এটা কোন সহজ ব্যাপার নয়, গোলমেলে, আমি হলফ করে বলতে পারি। স্যার ক্লড আমার শ্বশুর হন, ওঁনার বুকে কোন রোগ ছিল না বলেই জানি, সেরকম কোন অসুখ থাকলে নিশ্চয়ই আমার কানে আসত। মশিয়ে পোয়ারো আবার আপনাকে অনুরোধ করছি, দয়া করে এ রহস্যের জট আপনি খুলুন।

    ওদিকে মৃত স্যার ক্লডকে ঘিরে আছে রিচার্ড ও ডঃ কারোলি। রিচার্ড দিশেহারা, কি করা উচিত বা উচিত নয়, ঠিক করতে পারছে না।

    ডঃ কারোলি তাকে সাহায্য করল–মিঃ অ্যামরি আপনি এক কাজ করুন, আপনাদের পারিবারিক ডাক্তারকে ডেকে পাঠান। উনি এসে স্যার ক্লডকে পরীক্ষা করুন।

    রিচার্ড এতক্ষণে ধাতস্থ হল। নিজেই নিজেকে শুধালো আছে তো একজন, ডঃ গ্রাহাম, কেনেথ গ্রাহাম। অল্প বয়সে বেশ পশার জমিয়েছে। ওকে ডাকাটা কি ঠিক হবে? বারবারার ওপর ওর যা নজর, যদি……

    দূর, এসব অর্থহীন চিন্তা করার কি সময় এখন? দেখি ফোনে পাই কিনা। কিন্তু….

    রিচার্ড তার খুড়তুতো বোন বারবারাকে ডেকে ডঃ কেনেথ গ্রাহামের ফোন নম্বরটা চাইল।

    –বলছি, বারবারা পায়ে পায়ে জ্যেঠতুতো ভাইয়ের পাশে এসে দাঁড়াল, মার্কেট ক্লিভ ফাইভ।

    রিচার্ড রিসিভার তুলে নম্বর ডায়াল করতে, উদ্যত হল। ঠিক এই সময় এডওয়ার্ড রেনর ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল–তাহলে মশিয়ে পোয়ারোকে ফেরত পাঠানো জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতে বলি।

    রেনরের এই আগ বাড়িয়ে কথা লুসিয়ার মোটেও পছন্দ হল না। পোয়ারো কি বলতে যাচ্ছিলেন। তাঁকে বাধা দিয়ে লুসিয়ে জোর গলায় বলল–না না, গাড়ির দরকার নেই। মশিয়ে পোয়ারো এখানেই থাকবেন। সমস্ত ব্যাপার মিটিয়ে তবেই ফিরবেন। আমি ওঁকে অনুরোধ করেছি।

    -কি বলছ, লুসিয়া? রিসিভার কানের কাছে চেপে ধরেই রিচার্ড বিস্মিত কণ্ঠে জানতে চাইল–তুমি ভেবে-চিন্তে বলছ তো?

    নিশ্চয়ই, লুসিয়া জোর গলায় বলল, উনি এখানেই এখন থাকবেন।

    ক্যারোলিন এখন চুপ করেছেন, চোখে আতঙ্কের ইশারা। চার দিকে তাকালেন। বারবারা আর রেনরের চোখেও উৎকণ্ঠা ও ভয়। ডঃ কারোলি আপন মনে তাকিয়ে আছেন স্যার ক্লডের মৃত মুখের দিকে, কি সব ভাবছেন।

    ক্যাপ্টেন, হেস্টিংস নীরবে এতক্ষণ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছিলেন। লাইব্রেরির তাকে সাজিয়ে রাখা বইগুলো টেনে টেনে বের করছিলেন, আর মন দিয়ে পাতা উল্টে উল্টে কি যেন দেখছিলেন। একসময় তিনি সামনের দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন। উপস্থিত সকলকে জরিপ করতে লাগলেন।

    ফোনে ডায়াল করতেই ওদিক থেকে সাড়া পাওয়া গেল। রিচার্ড শশব্যস্ত হয়ে জানতে চাইল–হ্যালো, মার্কেট ক্লিভ ফাইভ। ডঃ গ্রাহাম? সামান্য বিরতি– হ্যাঁ, হ্যাঁ, কেনেথ গ্রাহামকে চাইছি। আবার বিরতি–হ্যালো কেনেথ, আমি রিচার্ড অ্যামরি বলছি। তোমাকে ভাই এক্ষুনি আমাদের বাড়িতে আসতে হবে। বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। যদুর মনে হয়, উনি আর বেঁচে নেই। আবার বিরতি–না, নিশ্চিত হতে পারছি না। তোমার অপেক্ষাতেই আছি তাড়াতাড়ি চলে এস, ঠিক আছে?

    ঘটাং করে ক্রেডেলের ওপর রিসিভার নামিয়ে রেখে রিচার্ড তীক্ষ্ণ চোখে বউয়ের দিকে তাকাল, ঝাঁঝাল গলায় বলল, লুসিয়া, তোমার মাথায় কি বুদ্ধি-সুদ্ধি নেই? ওই শয়তান গোয়েন্দাকে যেভাবেই হোক এখনই তাড়াতে হবে এখান থেকে। তুমি তো সব জানো, বোঝো, নাকি সব বুঝেও ছেলে মানুষির ভান করছো?

    রিচার্ড! স্বামীর ধমকানি খেয়ে লুসিয়া তেড়ে উঠে দাঁড়াল–কি বলতে চাইছ স্পষ্ট করে বলল।

    বাবা শেষ কথাগুলি কি বলেছিলেন, খেয়াল আছে তোমার? রিচার্ড প্রায় ফিসফিসিয়ে বলল–আজ কফিটা বড্ড তেতো লাগছে–ঘুরে ফিরে কয়েকবার এই কথা বলছিলেন।

    লুসিয়া তখনও হাঁ–আজ কফিটা বড্ড তেতো লাগছে? বলছিলেন নাকি? স্বামীর দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল সে। হঠাৎ তার বুঝি ঘুম ভাঙল, অজানা আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল, পরক্ষণে নিজেকে সামলে নিল।

    -এতক্ষণে তাহলে মগজে ঢুকেছে, কি তাই তো? আবার রিচার্ডের গলা থেকে চাপা ধমকানি শোনা গেল–শোনো, বাবা এই পরিবারের কোন একজন বিষ খাইয়েছে, বুঝতে পারছ, ওই টাক মাথার লোকটাকে এখানে রেখে দিলে সব খুঁচিয়ে বের করবে, অ্যামরি পরিবারের কেলেঙ্কারির কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। তুমি কি জেনে-বুঝে তা হতে দিতে চাও?

    -হা কপাল, লুসিয়া সামনের দিকে তাকাল। বিড়বিড় করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানাল–দয়াময়, আমাদের রক্ষা করুন।

    রিচার্ড এবার পোয়ারোকে ডাকল। পোয়ারো শান্তগলায় সাড়া দিলেন।

    -মশিয়ে পোয়ারো, রিচার্ড থামল, নিজের কথাগুলো গুছিয়ে নিয়ে উগরে দিল আমার স্ত্রী লুসিয়া আপনাকে কেন এখানে রাখতে চাইছে, তা এখনও আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

    তাই বুঝি? পোয়ারো একটু হেসে রসিয়ে রসিয়ে বললেন, মনে করুন, একটা দলিল চুরির তদন্তের কারণেই। তাছাড়া বারবারাকে ঈঙ্গিত করে আরও বললেন, উনি, ওই মহিলাও আমাকে একই কথা জানিয়েছেন।

    -কিন্তু যে দলিল খুঁজে বের করার দায়িত্ব আপনার ওপর ন্যস্ত করা হচ্ছে, তা তো পাওয়া গেছে, মশিয়ে পোয়ারো। রিচার্ড কথাগুলো বারবারাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল।

    -সত্যিই কি পাওয়া গেছে? পোয়ারো পাল্টা প্রশ্ন করলেন। তার কথা শুনে রিচার্ড ধন্দে পড়ল।

    আচমকাই একটা লম্বা খাম পোয়ারোর নজরে পড়ল, স্যার ক্লডের আর্মচেয়ারের পাশের ছোট টেবিলের ওপর সেটা পড়ে আছে। মৃত্যুর ঘটনায় ভীত ও উত্তেজিত নারী পুরুষের তা নজরে পড়েনি।

    তার মানে? রিচার্ডের কঠিন কণ্ঠস্বর।

    পোয়ারো আবার নিজের গোঁফে হাত বুলাতে লাগলেন, তারপর ধুলো সাফ করার অছিলাতে জ্যাকেটে দু-আঙুল টোক্কা দিলেন। স্মিত হাস্যে জবাব দিলেন, মি. অ্যামরি, এখানে কি ঘটেছে, এখনও সে ব্যাপারে আমি অজ্ঞ। তবু একটা গল্প মনে পড়ে যাচ্ছে, অনেক আগে শুনেছিলাম–খালি বোতল, যার মধ্যে কিছুই ছিল না।

    -আপনার হেঁয়ালি আমি বুঝতে পারছি না, মশিয়ে পোয়ারো।

    –আপনাকে দেখে তা মনে হচ্ছে না। আপনি সব বুঝতে পারছেন, অথচ মুখে তা স্বীকার করছেন না। কথা বলতে বলতে পোয়ারো টেবিলের ওপর থেকে খামটা তুলে নিলেন, ফাঁক করে উঁকি দিলেন কিছুই নেই। সেটা রিচার্ডের হাতে দিয়ে দিলেন।

    রিচার্ড দেখল, খামটা খালি। সে তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে সেটা আগের জায়গায় রেখে দিল। লুসিয়ার দিকে তাকিয়ে কৈফিয়তের সুরে বলল–কোথায় গেল সেই ফর্মুলা, খামটা তো খালি।

    স্বামীর কথার বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে পিছিয়ে যেতে লাগল। রিচার্ড আপন মনেই বিড়বিড়িয়ে উঠল–খানা তল্লাশি ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ রইল না।

    রিচার্ড ঘর ভর্তি নারী, পুরুষের দিকে তাকাল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে কি যেন বোঝার চেষ্টা করল। ক্যারোলিন ও বারবারার সন্দেহ ভরা দৃষ্টি তাকে ভাবিয়ে তুলল।

    এডওয়ার্ড রেনরের চোখে জমেছে যত রাজ্যের ঘৃণা, যা রিচার্ডের কাছে অপমানজনক মনে হল। কেবল ডঃ কারোলিকে ব্যতিক্রমী দেখা গেল। তিন ভদ্র ও অমায়িক। এবার নিজের স্ত্রীর দৃষ্টি দেখে তার মনের কথা পড়ার চেষ্টা করল, কিন্তু ব্যর্থ হল, কারণ লুসিয়া ঘনঘন তার দৃষ্টির পরিবর্তন ঘটাচ্ছিল।

    –মশিয়ে অ্যামরি, পোয়ারো তীক্ষ্ণ চোখে রিচার্ডের দিকে তাকালেন, বললেন আমাকে আপনি মোটেও সহ্য করতে পারছে না, বুঝতে পারছি। কিন্তু ঢিল হাত থেকে বেরিয়ে গেছে। অতএব, যতক্ষণ না ডাক্তার এসে আপনার বাবাকে পরীক্ষা করছেন, ততক্ষণ আপনাকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

    কয়েক মুহূর্তের নীরবতা। লাইব্রেরির লাগোয়া দরজাটা আঙুল তুলে দেখিয়ে পোয়ারো জানতে চাইলেন–মশিয়ে অ্যামরি, ওই দরজাটা কোন কাজে লাগে?

    –পাশেই বাবার স্টাডি। ওই দরজাই একমাত্র পথ।

    রিচার্ডের কথা শুনে ধীর পায়ে এরকুল পোয়ারো সেদিকে এগিয়ে গেলেন। দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে স্টাডির ভেতরে দৃষ্টি দিলেন। বনবন করে ঘুরে বেড়াল তার অনুসন্ধানী চোখ। কয়েক মিনিট কেটে গেল। সন্তোষজনক ভঙ্গিতে ঘাড় নাড়লেন। ঘুরে দাঁড়ালেন রিচার্ডের দিকে।

    চোখ ঘুরে গেল ঘরের অন্যান্য সদস্যদের দিকে। আটকে গেল তা ডঃ কারোলির ওপর। সামান্য হেসে বললেন–আপনাদের আর কলে পড়া ইঁদুরের মতো এখানে আটকে থাকার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। তবে হ্যাঁ, বাড়ির বাইরে কারো যাবার হুকুম নেই।

    একথা শুনে সকলে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। বারবারা বেরিয়ে যাবার জন্য পা বাড়াল। এডওয়ার্ড রেনর এগিয়ে এসে তার হাত ধরল, তারা পাশাপাশি হেঁটে বসার ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

    –কথাটা খেয়াল রাখবেন, মশিয়ে অ্যামরি, পোয়ারো রিচার্ডকে লক্ষ্য করে বললেন, এ বাড়ি ছেড়ে আপনারা কোথাও যেতে পারবেন না, আবারও বলছি।

    -ঠিক আছে, ঠিক আছে, আর বলতে, হবে না, বোঝা গেল রিচার্ড প্রচণ্ড রেগে গেছে–আপনার হুকুম সকলের কানে গেছে।

    ক্যারোলিন ধীর পায়ে ভাই স্যার ক্লডের আরাম কেদারার পাশে এসে দাঁড়ালেন হায় রে, হতভাগা ভাই আমার! তার চোখ দুটি জলে ভরে উঠল–বেচারা ক্লড।

    -মাদাম, শান্ত হোন, এভাবে ভেঙে পড়বেন না, পোয়ারোর কণ্ঠে সান্ত্বনা ঝরে পড়ল–এ অপূরণীয় ক্ষতি, জানি না কিভাবে সব ঠিক হবে। মনে সাহস রাখুন।

    -ফ্রাইসোল ছিল আমার ভাইয়ের প্রিয় খাবার। ক্যারোলিনের কান্নাভেজা কণ্ঠস্বর। অনেক দিন পর ওটা আজ বেঁধে ওকে খাইয়েছিলাম।

    -ভাইয়ের শোককে ভুলে থাকার এটাই আপনার সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা, পোয়ারোর ঠোঁটে হাসি। পৃথিবীতে এমন কটা বোন আছে, যে তার ভাইকে তার প্রিয়পদ খাইয়ে জীবনের মতো বিদায় জানায় আপনি তো সৌভাগ্যবতী, মাদাম।

    ক্যারোলিন আর দাঁড়ালেন না। রুমালে চোখ মুছতে মুছতে ঘর থেকে বেরোবার উদ্যোগ নিলেন। রিচার্ড তাকে সাহায্য করল। তাদের পেছন পেছন লুসিয়াও চৌকাঠ ডিঙিয়ে ওপারে চলে গেল।

    এই মুহূর্তে বসার ঘরে উপস্থিত আছেন মাত্র তিন জন একটি মৃত, দুটি জীবন্ত।

    সদ্যমৃত স্যার ক্লডকে কেন্দ্র করে পোয়ারো তার সহকারী ক্যাপ্টেন হেস্টিংস-এর সঙ্গে আলোচনায় মেতে উঠলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }