Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প1896 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১০. ট্রেন পাছে ফস্কে যায়

    ১০.

    ট্রেন পাছে ফস্কে যায় এই ভেবে ইন্সপেক্টর ন্যারাকট একরকম দৌড়েই বেরিয়ে এলেন মিসেস গার্ডনারের বাড়ি থেকে, যাবার আগে ভদ্রতার খাতিরে তাঁর কাছ থেকে বিদায় নেবার সময়টুকু পর্যন্ত পেলেন না তিনি। ঈশ্বর সহায় ছিলেন তাই সময়মতো স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনটা পেয়ে গেলেন তিনি।

    নির্দিষ্ট স্টেশনে নেমে প্রথমেই গোয়েন্দা পুলিশের দপ্তরে এসে হাজির হলেন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, যেখানে ওপরওয়ালা পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে দেখা করে প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল জানালেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশও নিলেন তার কাছ থেকে। কিছুক্ষণ বাদে ওপরওয়ালার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আবার স্টেশনে এসে হাজির হলেন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, দুপুর পৌনে দুটোর ট্রেন ধরে সোজা এসে পৌঁছোলন লন্ডনে।

    লন্ডন স্টেশন থেকে ক্রমওয়েল স্ট্রীট খুব বেশিদুরে নয়, যেখানে পৌঁছে একুশ নম্বর বাড়িটি খুঁজে বের করতে বেগ পেতে হল না তাকে। মিসেস গার্ডনারের বড় বোনপো জেমস পিয়ার্সনের খোঁজ নিলেন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, বাড়ির পরিচারিকা উত্তরে জানাল যে জেমস সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ অফিস থেকে ফিরবে।

    জেমসের অফিসে না গিয়ে ইন্সপেক্টর ন্যারাকট এবার চলে এলেন উইম্বলডনে তার বোন সিলভিয়ার বাড়িতে। সিলভিয়ার বাড়িটা নতুন, বেশ ছিমছাম আর সাজানো গোছানো। কলিংবেল টিপতেই অল্পবয়সী এক পরিচারিকা দরজা খুলে এসে দাঁড়াল, ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, তার হাতে ভিজিটিং কার্ড তুলে দিয়ে বললেন যে গৃহকর্ত্রী মিসেস সিলভিয়া ডেরিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে চান।

    পরিচারিকাটি ইন্সপেক্টর ন্যারাকটকে নিয়ে গিয়ে একতলার ড্রইংরুমে বসাল, আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সিলভিয়া ডেরিং ওপর পর থেকে নেমে এল, মুখোমুখি একটা সোফায় বসে নিজে থেকেই বলে উঠল।

    আপনি নিশ্চয়ই জোসেফ মামার খুনের ব্যাপারে তদন্ত করতে এসেছেন। সত্যিই এ অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। বললে বিশ্বাস করবেন না, মামা খুন হবার পর আমি নিজেও সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকি, কখন কি হয় ভেবে। দিনকাল যা পড়েছে, কখন জানালা ভেঙ্গে চোর ডাকাত বাড়িতে ঢুকবে তা কে বলতে পারে। এই তো দেখুন না গত হপ্তায় বাড়ির সবকটা জানালা আর দরজায় মজবুত কবজা আর ছিটকিনি লাগিয়েছি, অনেকগুলো টাকা তাতে খরচ হয়েছে।

    সিলভিয়া ডেরিংয়ের বয়স পঁচিশ ছাব্বিশের বেশি নয়, কিন্তু তার চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট, যে কারণে প্রথমে দেখলে যে কেউ ধরে নেবে তার বয়স ত্রিশ পেরিয়েছে বহু আগেই। সিলভিয়ার গড়ন বেঁটেখাটো, দেহের চামড়ায় রক্তাল্পতার ছাপ ফুটে উঠেছে। গলার সুরে কথা বলার ঢংয়ে সবসময় প্যানপ্যানে নাকি কান্নার ভাব। এই ধাঁচের মেয়েরা সবসময় নিজের কথা বলে, অন্যের অভাব অভিযোগ শোনার কোনো আগ্রহই এদের মধ্যে দেখা যায় না। ইন্সপেক্টর ন্যারাকটকে কথা বলার কোনও সুযোগ না দিয়ে সিলভিয়া আপনমনে বলে চলে।

    আপনাকে কোনওভাবে সাহায্য করতে পারলে আমি সত্যিই খুশি হতাম, কিন্তু মুশকিল হল জোসেফ মামার সঙ্গে আমার খুব মেলামেশা কোনদিনই ছিল না। আসলে উনি লোক খুব সুবিধার ছিলেন না, অন্যের নিন্দা আর সমালোচনা সবসময়েই ওঁর মুখে লেগেই থাকতো। এছাড়া সত্যিই, শিল্প, সঙ্গীত, চারুকলা, এইসব সূক্ষ্ম বিষয়ের ধারে কাছে উনি কখনও হাঁটেননি জীবনে। টাকা ছাড়া জীবনে মামা আর কিছুই চিনতেন না, কিন্তু টাকাই জীবনে তো সব নয়।

    খবরটা আপনি খুব তাড়াতাড়িই পেয়েছেন দেখছি, ইন্সপেক্টর ন্যারাকট বললেন।

    হ্যাঁ সিলভিয়া ঘাড় নেড়ে বলল।

    মামার সঙ্গে আপনার বহুদিন দেখা হয়নি, তাই না, মিসেস ডেরিং? ইন্সপেক্টর ন্যারাকট প্রশ্ন করলেন।

    ঠিক ধরেছেন, সিলভিয়া জবাব দিলেন। বিয়ের পরে এ পর্যন্ত মামার সঙ্গে মাত্র দুবার আমার দেখা হয়েছে। শেষ যেবার গিয়েছিলাম ওঁর কাছে সেবার মার্টিন অর্থাৎ আমার স্বামীর সঙ্গে মামা খুব খারাপ ব্যবহার করেছিলেন। আমার স্বামীর সঙ্গে মামা সেবার যে ব্যবহার করেছিলেন এককথায় অসভ্যতা ছাড়া তাকে আর কিছু বলা চলে না।

    অর্থাৎ তোমার স্বামী তোমার মামার কাছে যেবার কিছু টাকা ধার চেয়েছিলেন আর তিনি যে ধার দেননি তাই তোমার এতো রাগ, মনে মনে সিলভিয়ার উদ্দেশ্যে মন্তব্যটা করলেন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট।

    এবার নিয়মমাফিক একটা প্রশ্ন আপনাকে করছি, মিসেস ডেরিং, ইন্সপেক্টর ন্যারাকট বললেন, গতকাল বিকেলে আপনি কোথায় ছিলেন, কিভাবে সময় কাটিয়েছেন এসব জানা একান্ত দরকার।

    আমার গতিবিধির সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে চান, এই তো? হেসে সিলভিয়া জবাব দিল গতকাল প্রায় পুরো বিকেলটাই আমি ব্রীজ খেলে সময় কাটিয়েছি। পরে আমার এক বান্ধবী এসেছিল। তার সঙ্গেই গল্প করে সন্ধ্যেটুকু কাটিয়েছি, আমার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না।

    আপনার পরের ভাই ব্রায়ান তো অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন, তাই না মিসেস ডেরিং?

    হ্যাঁ,

    ওর ঠিকানাটা আমায় যদি দেন–

    দেখুন, পুরো ঠিকানাটা এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই, তবে ও যে জায়গায় থাকে তার নাম নিউ সাউথ ওয়েলস, শুধু এইটুকু মনে আছে।

    ধন্যবাদ, মিসেস ডেরিং তদন্তের কাজে সহযোগিতা করার জন্য পুলিশের তরফ থেকে আপনাকে অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানাচ্ছি, গুডনাইট।

    উইম্বলডন থেকে আবার যখন ক্রমওয়েল স্ট্রীটে এসে হাজির হলেন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট তখন সন্ধ্যে সাতটা, সিলভিয়ার বড় ভাই জেমস তার অল্প কিছুক্ষণ আগে অফিস থেকে ফিরেছে। জেমস পিয়ার্সন একাধারে সুদর্শন ও সুস্থাস্থ্যের অধিকারী, শুধু দোষের মধ্যে তার একটি চোখ ট্যারা। ইন্সপেক্টর ন্যারাকট লক্ষ্য করলেন তার দুচোখে দুশ্চিন্তার ছাপ ফুটে উঠেছে। দুচোখের নীচে কালি পড়েছে তাও তার নজর এড়াল না।

    আমি ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, আপনার খুনের তদন্তের দায়িত্ব আমাকেই দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আপনার কি কিছু বক্তব্য আছে?

    ইন্সপেক্টর ন্যরাকটের কথা শুনে সোফা থেকে লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল জেমস, ভীত কণ্ঠে প্রশ্ন করল, আপনি কি আমাকে গ্রেফতার করতে এসেছেন?

    ভুল করছেন, ইন্সপেক্টর ন্যারাকট হেসে বললেন, আমি শুধু জানতে চাই গতকাল বিকেলে আপনি কোথায় ছিলেন, কি করছিলেন। আমার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া না দেওয়া আপনার ইচ্ছে।

    উত্তর না দিলে তো সেটা আমার পক্ষে যাবে না, ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, জেমস পিয়ার্সন বলল, বুঝতে পেরেছি, আমি যে গতকাল ওখানে গিয়েছিলাম সেটা আপনি খুঁজে বের করেছেন।

    আপনি নিজেই হোটেলের রেজিস্ট্রারে আপনার নাম মোটা মোটা হরফে সই করেছেন, মিঃ পিয়ার্সন।

    নিশ্চয়ই, এটা অস্বীকার করার মতো ব্যাপার নয়, জেমস বলল, হ্যাঁ, আমি ওখানে গিয়েছিলাম, আর যাবই না কেন?

    সে তো বটেই, কিন্তু কেন গিয়েছিলেন জানতে পারি?

    আমি আমার মামাকে দেখতে গিয়েছিলাম।

    আপনি যে ওঁকে দেখতে যাচ্ছেন তা আগে থেকে ঠিক ছিল?

    তার মানে? জেমস চাপা উত্তেজিত সুরে প্রশ্ন করল, আপনি কি বলতে চাইছেন?

    আপনি যে ওখানে যাচ্ছেন তা কি আপনার মামা ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ান আগে থেকে জানতে পেরেছিলেন?

    না, জানতেন না, হঠাৎ মামাকে দেখার ইচ্ছে হল তাই চলে গেলাম।

    বাঃ চমৎকার, ইন্সপেক্টর ন্যারাকট মুচকি হেসে বললেন, তা ওখানে পৌঁছোনোর পরে কি হল, মামার সঙ্গে আপনার আদৌ দেখা হয়েছিল কি?

    হ্যাঁ, কয়েক মুহূর্ত ভেবে নিয়ে জেমস পিয়ার্সন জবাব দিল, হ্যাঁ, মামার সঙ্গে গতকাল আমার ঠিকই দেখা হয়েছিল। শুনুন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, ট্রেন থেকে স্টেশনে নেমে আমি জানতে চেয়েছিলাম। কিভাবে কোন পথে গেলে তাড়াতাড়ি সিটাফোর্ডে পৌঁছোতে পারব। স্টেশনের কর্মচারীরা বলল যে প্রচণ্ড তুষারপাত হবার দরুন পথঘাট সব বন্ধ তাই গাড়িঘোড়াও চলছে না, অতএব সিটাফোর্ডে যাবার প্রশ্নই ওঠে না। অথচ মামার সঙ্গে দেখা করাটা ছিল খুবই জরুরী।

    জরুরী? হঠাৎ প্রশ্ন করলেন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট।

    হ্যাঁ, মামার নাম শোনার পরে স্টেশনের এক পোর্টার জানাল যে সে তাকে ভালভাবেই চেনে এবং তিনি যেখানে থাকেন সে জায়গাটার আসল নাম হল এক্সহ্যাম্পটন। ওই পোর্টারই আমায় বলে দিল হাঁটাপথে কিভাবে এগোলে আমি অল্প সময়ের মধ্যে সেখানে পৌঁছোতে পারব।

    তখন কটা বেজেছিল মনে আছে?

    তা দুপুর একটা তো বটেই, জেমস পিয়ার্সন বলতে লাগল, এরপর আমি থ্রি ক্রাউনস নামে একটা সরাইয়ে উঠলাম, সেখানে লাঞ্চ খেয়ে মামার কাছে যাব বলে রওনা হলাম।

    কটা নাগাদ। মনে আছে?

    দুঃখিত, তা ঠিক মনে করতে পারছি না।

    তিনটে? চারটে? সাড়ে চারটে?

    ওই ওইরকমই হবে, আমতা আমতা করে জেমস জবাব দিল, তবে তার পরে নয়।

    সরাইয়ের মালিক মিসেস বেলিং জানিয়েছেন, আপনি সাড়ে চারটে নাগাদ রওনা হয়েছিলেন। যাক, তারপর কি হল?

    তুষার ঢাকা পথ মাড়িয়ে একসময় মামা হ্যাজেলমুর নামে যে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন সেখানে পৌঁছোলাম, ওঁর সঙ্গে কথাবার্তা সেরে আবার সরাইয়ে ফিরে এলাম।

    বেশ, এবার বলুন তো মিঃ পিয়ার্সন, মামার বাড়িতে পৌঁছোনোর পরে আপনি ভেতরে ঢুকলেন কিভাবে?

    কেন? আমি নিচে কলিংবেল বাজালাম, তার কিছুক্ষণ পরে মামা নিজেই সদর দরজা খুলে দিলেন।

    আপনাকে ওই সময়ে দেখে তিনি নিশ্চয়ই খুব অবাক হয়েছিলেন, তাই না?

    ঠিক ধরেছেন, মামা আমায় দেখে খুব অবাক হয়েছিলেন।

    তা ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের সঙ্গে অর্থাৎ আপনার মামার সঙ্গে কথাবার্তা বলতে গিয়ে কতটা সময় সেখানে কাটিয়েছিলেন মিঃ পিয়ার্সন?

    তা পনেরো কুড়ি মিনিট তো বটেই, জেমস আবার আমতা আমতা করে বলল, কিন্তু বিশ্বাস করুন, ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, আমি চলে আসার সময় মামা দিব্যি সুস্থ্য শরীরে জীবিত ছিলেন, এ আমি শপথ করে বলছি।

    আপনি যখন ওঁর কাছ থেকে বিদায় নিলেন তখন কটা বেজেছিল।

    দুঃখিত, দুচোখ নামিয়ে জেমস জবাব দিল, তা আমার ঠিক মনে নেই।

    সত্য গোপন করা যে গুরুতর অপরাধ তা নিশ্চয়ই জানেন মিঃ পিয়ার্সন? পুলিশী ধাঁচে কড়া গলায় ধমকের সুরে বলে উঠলেন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, কটা নাগাদ আপনি আপনার মামার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন তা আপনার ঠিকই মনে আছে। ভাল চান তো সময়টা বলে ফেলুন।

    তখন বিকেল সওয়া পাঁচটা বেজেছিল,ভীত গলায় জবাব দিল জেমস।

    আবার মিথ্যে বললেন, একইরকম কড়া গলায় বললেন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, আপনি বিকেল পৌনে ছটা নাগাদ থ্রি ক্রাউনস সরাইয়ে ফিরে এসেছিলেন। ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের বাড়ি থেকে হাঁটা পথে ওখানে পৌঁছোতে যে কোন সুস্থদেহী মানুষের সাত, বড়জোর আট মিনিটের বেশি সময় লাগার কথা নয়। তার মানে এটাই দাঁড়াচ্ছে যে মামার কাছ থেকে আপনি যখন বিদায় নিয়েছিলেন তখন ঘড়িতে পাঁচটা সাঁইত্রিশ কি আটত্রিশ বেজেছিল।

    সোজাপথে তো সরাইয়ে ফিরে যাই নি, জেমস বলল, আমি একটু ঘুরপথে বেড়াতে বেড়াতে ফিরে এসেছিলাম, শহরের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে।

    ওই প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর তুষারপাতের মধ্যে হেঁটে বেড়ানোর সাধ আপনার হল কি করে? যাক, মামার সঙ্গে কথাবার্তা কি হয়েছিল তাই বলুন।

    তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনও বিষয় নিয়ে ওঁর সঙ্গে আমার কথাবার্তা হয়নি। জেমস বলল, মামা কেমন আছেন, ওঁর দিন কেমন কাটছে এইসব খোঁজখবর নিলাম, উনিও জানতে চাইলেন আমরা কে কেমন আছি, এইসব।

    তোমার মতো পাকা মিথ্যেবাদী গোয়েন্দার জীবনে আমি খুব কমই দেখেছি, মনে মনে তার উদ্দেশ্যে বললেন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, মুখে বললেন, তা জেমস, এবার আমার একটা সিধে সরল প্রশ্নের জবাব দিন। মামা খুন হয়েছেন জেনেও থানায় গিয়ে খোঁজখবর না নিয়ে আপনি গতকাল এক্সহ্যাম্পটন ছেড়ে লন্ডনে ফিরে এলেন কেন? কতবড় অন্যায় আপনি করেছেন তা বুঝতে পারছেন?

    হয়তো অন্যায় করেছি। মুখ তুলে জেমস অকপটে জানাল, কিন্তু বিশ্বাস করুন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, আমি আসলে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। জানতে পেরেছিলাম আমি দেখা করে চলে আসার কিছুক্ষণ বাদেই মামা খুন হন। এবার আপনিই বলুন, আমার পক্ষে ভয় পেয়ে এইভাবে চলে আসাটা কি খুব অস্বাভাবিক ছিল? খবর পেয়েই আমি জিনিসপত্র সব গুছিয়ে নিই। তারপর স্টেশনে পৌঁছে পরের ট্রেন ধরে ফিরে আসি লন্ডনে। আমি যা করেছি তা পুরোপুরি বোকামি কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আমার পক্ষে আর কিই বা করণীয় ছিল বলতে পারেন?

    এইটুকুই আপনার বক্তব্য হিসাবে ধরে নিতে পারি তাহলে?

    হাঁ, অবশ্যই।

    তাহলে, মিঃ পিয়ার্সন, আপনাকে এখনই একবার আমার সঙ্গে স্থানীয় থানায় আসতে হবে, যেখানে আপনার এই বক্তব্য স্বীকারোক্তি আকারে আমি লিখে নেব, তারপর তাতে আপনাকে দিয়ে সই করিয়ে নেব।

    ব্যাস, শুধু ওইটুকু?

    না, আরও আছে, গম্ভীর গলায় ইন্সপেক্টর ন্যারাকট বললেন, তারপরেই আপনি ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরে আসতে পারবেন তা ভাবনে না। ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের খুনের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি আপনাকে থানার হাজতে আটকে রাখব।

    হা ঈশ্বর! জেমস পিয়ার্সন বিলাপ করে উঠল, আমায় এই বিপদ থেকে রক্ষা করার মতো কেউ কি এখানে নেই?

    ঠিক সেইমুহূর্তে ড্রইংরুমের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল এক যুবতী। শুধু অপরূপ সুন্দরী বললে সেই যুবতীর রূপ বর্ণনা করা যায় না। তার চোখেমুখে জড়িয়ে রয়েছে এমনই এক অপার করুণার উৎস যা বহু চেষ্টা করা সত্ত্বেও ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। প্রথম দর্শনে যে কেউ তাকে এক মহীয়সী পরিত্রাতা বলে মনে করতে পারে।

    কি ব্যাপার জিম? যুবতী জেমসকে প্রশ্ন করল, তোমায় এতো নার্ভাস দেখাচ্ছে কেন, কি হয়েছে?

    সব শেষ হয়ে গেছে, এমিলি, জেমস ভাঙ্গা গলায় জানাল, ইনি গোয়েন্দা ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, উনি সন্দেহ করছেন যে মামাকে আমিই খুন করেছি, তাই এখন আমায় গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যেতে চাইছেন, বলছেন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত থানার হাজতে আমায় আটকে রাখবেন।

    হাতে পায়েই শুধু বড় হয়েছে। শাসন করার সুরে এমিলি বলতে লাগল, অথচ ঘটে একছিটে বুদ্ধি যদি তোমার থাকতো জিম। উকিল সঙ্গে না থাকলে যে পুলিশ অফিসারদের প্রশ্নের জবাব দিতে নেই এই কথাটা আর কবে তুমি শিখবে, বলতে পারো? নিশ্চয়ই বোকার মতো এমন কিছু বেফাঁস কথা বলে ফেলেছে যার জন্য উনি তোমায় থানায় নিয়ে যেতে চাইছেন। তুমি একটি আস্ত গদর্ভ। ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, আপনি ওকে গ্রেপ্তার করছেন কেন জানতে পারি?

    সংক্ষেপে ইন্সপেক্টর ন্যারাকট বুঝিয়ে দিলেন যে মামার সঙ্গে দেখা করে সরাইয়ে ফিরে আসার কিছুক্ষণ পরে জেমস খবর পায় যে তিনি খুন হয়েছেন, তারপর পুলিশের সঙ্গে দেখা না করে ফিরে আসে লন্ডনে। জেমস বলছে যে ঘাবড়ে গিয়েই সে পালিয়ে এসেছে, কিন্তু আইনের চোখে তার এই আচরণ সন্দেহজনক, তাই তাকে গ্রেপ্তার করা ছাড়া আর কোনও পথ এই মুহূর্তে তার সামনে খোলা নেই।

    বিশ্বাস করো এমিলি, আর্তনাদ করে উঠল জেমস পিয়ার্সন। এই জঘন্য আর নৃশংস কাজ আমি করিনি, বিশ্বাস করো।

    নিশ্চয়ই ডার্লিং, এমিলি সায় দিয়ে বলল, আমি বিশ্বাস করছি যে এ খুন তুমি করোনি। আসলে মামাকে খুন করার হিম্মতই তোমার নেই।

    হা ঈশ্বর। দুনিয়ায় বন্ধু বলতে আর কেউ আমার রইল না, যে আমার পাশে এসে দাঁড়াতে পারে! জেমস আবার বিলাপ করতে লাগল।

    কে বলল নেই? এমিলি দুহাতে জেমসের গলা জড়িয়ে ধরে ফেলল, এই তো আমি আছি। ঘাবড়াও মাৎ, জেমস। আমার বাঁ হাতের এই অনামিকার দিকে একবার তাকাও

    এই যে হীরের আংটিটা জ্বলজ্বল করছে তা তোমারই দেওয়া উপহার জিম। আমি তোমার বিশ্বস্ত প্রণয়নী। এতটুকু না ঘাবড়ে ইন্সপেক্টর ন্যারাকটের সঙ্গে যাও, উনি যা বলেন তাই করো। বাকি সব কিছু আমার ওপর ছেড়ে দাও, দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে। আর এও জেনে রেখো, তুমি যে একাধারে আস্ত গর্ধভ ও ভীতুর ডিম তা জানতে ওঁর বাকি নেই।

    আপনার নামটা কি? ইন্সপেক্টর ন্যারাকট এমিলিকে প্রশ্ন করলেন।

    এমিলি ট্রেফুসিস, ইন্সপেক্টর ন্যারাকট।

    গুড ইভিনিং, মিস ট্রেফুসিস। বলেই ইন্সপেক্টর ন্যারাকট জেমসকে নিয়ে দরজার দিকে এগোলেন।

    অ রিবোয়ার ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, নিখুঁত ফরাসীতে পাল্টা বিদায় জানাল এমিলি। জেমসের মুখে আর কথা যোগালো না, পাশ থেকে টুপিটা তুলে মাথায় চাপিয়ে সে এমন ভয়ে ভয়ে ইন্সপেক্টর ন্যারাকটের পেছন পেছন যেতে লাগল যেন তাকে ফাঁসী দেবার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। থানায় যাবার আগে প্রেমিকার কাছ থেকে বিদায় নেবার কথাও ভয়ের চোটে ভুলে গেল জেমস পিয়ার্সন।

    .

    ১১.

    ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের খুনের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহক্রমে পুলিশ তার এক ভাগ্নেকে গ্রেপ্তার করেছে এই খবর সোমবারের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল গোটা এক্সহ্যাম্পটনে। গোড়ায় স্থানীয় খবরের কাগজগুলোয় যে ঘটনাটি পেছনের পাতায় মাত্র তিন চার লাইনে ছেপে প্রকাশ করেছিল, জেমস পিয়ার্সন গ্রেপ্তার হবার পরে তারাই নেমে পড়ল সত্য উদ্ঘাটনে, প্রথম পাতায় তারাই এই খবরকে যথোচিত গুরুত্ব দিয়ে ছাপতে শুরু করল। কে কত জোরালো সত্য কাহিনী লিখতে পারে তার প্রতিযোগিতা শুরু হল ওইসব কাগজের স্থানীয় রিপোর্টারদের মধ্যে। তবে ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের খুনের রহস্য উদঘাটনের গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো যেহেতু চার্লস এন্ডারবিই সবার আগে যোগাড় করেছিল তাই অন্য কোনও খবরের কাগজের ক্রাইম রিপোর্টার তার চাইতে ভাল কভারেজ দিতে পারছিল না।

    ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের নাড়ীনক্ষত্র সবকিছুরই হদিশ যে মেজর বারনাবি রাখেন এটা সে জানতে পেরেছে আর বারনাবির ফটো ভোলা আর সাক্ষাৎকার নেবার ছুতোয় সে জোঁকের মতো সেঁটে আছে সবসময় তার সঙ্গে সঙ্গে।

    দুপুরবেলা নিজের পয়সা খরচ করে মেজর বারনাবিকে লাঞ্চ খাওয়াল এন্ডারবি আর কিছুক্ষণ বাদেই ঘটল এক আশ্চর্য ঘটনা। মেজর বারনাবি লাঞ্চ খেয়ে বিদায় নেবার পরে থ্রি ক্রাউনস সরাইয়ে ঢোকবার সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়েছিল এন্ডারবি, আশে পাশে জমে থাকা তুষার গলতে শুরু করেছে তার ওপর ঠিকরে এসে পড়েছে সূর্যের উজ্জ্বল কিরণ, দুচোখ মেলে সেই দৃশ্য উপভোগ করছিল সে, এমন সময় এক অচেনা নারীকণ্ঠ তার কানে এল, মাপ করবেন–বলতে পারেন এই এক্সহ্যাম্পটনে দেখার মতো কি কি আছে?

    মুখ ফিরিয়ে তাকাতেই এন্ডারবির চক্ষুস্থির। আঁটো ট্রাউজার্স আর জ্যাকেট চাপানো কাঁধে ঝোলাব্যাগ এমন এক রূপসী-যুবতীর সঙ্গে তার দৃষ্টি বিনিময় হল যার রূপের বর্ণনা তার মতো ঝানু রিপোর্টারের পক্ষেও দেওয়া সম্ভব নয়। মনে মনে আক্ষেপ করল এন্ডারবি, এই সুন্দরী যদি আমার প্রেমিকা হতো। মুখে বলল, একটা পুরোনো আমলের দূর্গ আছে, এন্ডারবি বলল, যদিও তাকে তেমন কোনও দ্রষ্টব্য কোনমতেই বলা যায় না। আপনি চাইলে আমি আপনাকে পথ দেখিয়ে সেখানে নিয়ে যেতে পারি।

    আপনাকে গাইড হিসাবে পেলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করব, যুবতী বলল, আপনিই তো সাংবাদিক মিঃ এন্ডারবি, তাই না?

    হ্যাঁ, অবাক হয়ে এন্ডারবি প্রশ্ন করল, কিন্তু আমার পরিচয় আপনি জানলেন কি করে?

    এই সরাইয়ের মালিক মিসেস বেলিং বলেছেন, যুবতী বলল, আমার নাম এমিলি ট্রেফুসিস। মিঃ এন্ডারবি আপনার সাহায্য আমার খুব দরকার।

    এন্ডারবি পুলকিত হয়ে বলল, নিশ্চয়ই করব, কিন্তু ব্যাপারটা কি বলুন তো?

    ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের খুনের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহক্রমে পুলিশ যাকে গ্রেপ্তার করেছে সেই জেমস পিয়ার্সন আমার প্রণয়ী, ওর সঙ্গে আমার এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে।

    ওঃ, চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে এন্ডারবি বলল, তাহলে এই ব্যাপার

    আজ্ঞে হ্যাঁ, এমিলি বলল, কিন্তু জিম যে এই খুন করেনি সে বিষয়ে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত, আর তা প্রমাণ করব বলেই আমি এখানে ছুটে এসেছি, কিন্তু পুরুষ মানুষ পাশে না থাকলে কি এভোবড় কঠিন কাজ সফল করা সম্ভব? পুরুষ মানুষের জ্ঞান, বুদ্ধি সবই ভাল, মেয়েদের দিয়ে অতো ভালভাবে হয় না।

    হ্যাঁ আমতা আমতা করে এন্ডারবি সাহস দিয়ে বলল, এ ব্যাপারে আমি আপনার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।

    জানেন, আজ সকাল থেকে আরও কত বড় বড় রিপোর্টারদের সঙ্গে কথা বললাম, সাহয্য চাইলাম কিন্তু দেখলাম তাদের কারোর ঘটেই সেই বস্তুটি নেই যার নাম উপস্থিত বুদ্ধি, সবাই কেমন যেন বোকা বোকা মুখ করে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন আমার মুখের দিকে আর মাঝে মাঝে চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। এঁদের মধ্যে শুধু আপনাকেই বুদ্ধিমান বলে মনে হল, তাই

    ভুল করছেন ম্যাডাম, আপনি আমার সম্পর্কে খামোকা বাড়িয়ে বলছেন, আমি নিজেকে অতোটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি না।

    আমার একটা প্রস্তাব আছে, এমিলি বলল, আপনি আর আমি দুজনে মিলে একসঙ্গে যদি অংশীদারের মতো এই খুনের তদন্তটা বেসরকারী পর্যায়ে করতে পারি তাহলে আপনি আর আমি দুজনেরই লাভবান হবার সম্ভাবনা।

    কিভাবে, এন্ডারবি প্রশ্ন করল। আমি যাকে পুলিশের খপ্পর থেকে বাঁচাতে চাইছি সেই জেমস পিয়ার্সন নির্দোষ প্রতিপন্ন হয়ে বেকসুর খালাস পাবে আর এই রহস্যের তদন্ত করতে গিয়ে যে গোপন খবর আমাদের হাতে আসবে সে সবই আপনি স্কুপ হিসাবে যোগান দিতে পারবেন আপনার কাগজে। বুঝতে পারছেন না, আমি এ ব্যাপারে পুরোপুরি আপনার ওপরেই নির্ভর করতে চাইছি।

    মুখে একসঙ্গে কাজ করার লোভ দেখালেও আসলে এমিলি চাইছিল এন্ডারবি তার অধীনে থেকে এক ধরনের বেসরকারী গোয়েন্দার কাজ করুক। এন্ডারবি যে তার রূপে মজেছে এটা বুঝতে তার বেগ পেতে হয়নি তাই এমিলি প্রস্তাব দেবার সঙ্গে সঙ্গে তার তোষামোদও করছিল। এমিলির ভাগ্য ভাল। এন্ডারবি সহজেই তার টোপটা গিলে ফেলল।

    সত্যিই আপনার জবাব নেই। দেঁতো হাসি হেসে এন্ডারবি বলল, যেদিক থেকেই দেখা যাক না কেন আপনার তুলনা হয় না। বেশ, এমিলি তোমার প্রস্তাবে আমি রাজী, এখন থেকে সর্বান্তকরণে আমি তোমার সঙ্গে সহযোগিতা করব।

    এবার তাহলে বাজে কথা বাদ দিয়ে বলো তো কোন দিক থেকে এগোবো? এমিলি জানতে চাইল।

    আমি আজ বিকেলে সিটাফোর্ড যাচ্ছি, এন্ডারবি জানাল, তুমিও আমার সঙ্গে চলো না।

    সেখানে কি আছে শুনি।

    আছেন একজন,এন্ডারবি বলল, তার নাম মেজর বারনাবি, ক্যাপটেন ট্রেভিলিয়নের বহুদিনের পুরোনো বন্ধু। উনি ভীষণ সেকেলে রুচির লোক, খবরের কাগজের রিপোর্টার দেখলেই চটে যান। অথচ এই লোকই হালে আমাদের কাগজের একটা ফুটবলের খাবার সঠিক উত্তর পাঠিয়ে নগদ পাঁচ হাজার পাউন্ড পুরষ্কার পেয়েছেন।

    তাহলে আমি যাচ্ছি, এমিলি বলল, আমি কোথাও গেলে কখনও খালি হাতে ফিরে আসি না, কিছু না কিছু একটা ঠিকই জোগাড় করি।

    থ্রি ক্রাউনস সরাইখানা থেকে বেরিয়ে পথ দেখিয়ে এমিলিকে পুরোনো দুর্গের কাছে নিয়ে এল এন্ডারবি, কিন্তু এমিলি দুর্গের ভেতরে ঢোকার কোনও আগ্রহ না দেখিয়ে ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ান-এর খুনের তদন্ত সম্পর্কে আলোচনায় মেতে উঠল তার সঙ্গে।

    আসুন, খাঁটি গোয়েন্দার চোখ দিয়ে আমরা গোটা পরিস্থিতিটা বিচার করে দেখি, বলেই পকেট থেকে নোটবই আর পেনসিল বের করল এমিলি। তার পাতায় পাতায় লেখা নামগুলোয় চোখ বুলিয়ে সে বলতে লাগল :

    ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের মৃত্যু হলে যারা লাভবান হবে তাদের মধ্যে আছেন–(১) আমার ভদ্রলোক, (২) ওর বোন সিলভিয়া আর ওদের মাসী জেনিফার গার্ডনার যাঁর স্বামী যুদ্ধ থেকে পঙ্গু হয়ে ফিরেছেন। সিলভিয়াকে নির্দোষ হিসাবে ধরে নেওয়া যায়, জীবনে একটা মাছিও মারে নি সে। কিন্তু তার লেখক স্বামীটি খুব সুবিধার লোক নন, মদ আর মেয়েমানুষ সংক্রান্ত যতরকম নোংরামি আছে তার কোনটিতেই তার অরুচি নেই। টাকার পিছনে ও দিনরাত পাগলের মতো ছুটে বেড়াচ্ছে। সিলভিয়া ওর মামার টাকাটা পেলে মার্টিন ঠিক সেটা হাতিয়ে নেবে, তারপর ওকে কিছু না জানিয়ে সরে যাবে ওর জীবন থেকে।

    ভদ্রলোক তো খুবই রূপবান, এন্ডারবি বলল, মেয়েরা তো ওকে পুজো করে শুনেছি।

    ভুল শুনেছেন, এমিলি বলল, যাদের স্বামী থেকেও নেই, সেইসব সোসাইটি লেডীরা মার্টিনের পেছন পেছন কুকুরের মত ঘুরে বেড়ান, তার সঙ্গে দুরাত কাটাতে পেলে ধন্য হয়ে যান। কিন্তু যাঁরা খাঁটি মানুষ তারা ওকে অন্তর থেকে ঘৃণা করে।

    হ্যাঁ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি হিসাবে মার্টিনের নামও লেখা যায়, এন্ডারবি নোট নিতে নিতে বলল, লেখকের ছদ্মবেশে এক শয়তান হলেও হতে পারে। আচ্ছা, তুমি কি মনে করো ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ান-এর আসল খুনী এই অপরাধের যাবতীয় দায় জেমসের ঘাড়ে চাপাতে চাইছে?

    তুমি আর আমি দুজনে মিলে যদি আসল খুনীকে খুঁজে বের করতে পারি তাহলে চারিদিকে দারুণ হৈ-চৈ পড়ে যাবে,এন্ডারবি বলল, আমি তখন হয়ে যাব ডেইলি অয়্যার কাগজের অপরাধ বিশেষজ্ঞ। কিন্তু এমিলি এসব ব্যাপার তো শুধু গল্প উপন্যাসেই ঘটে বলে জানি।

    বোকার মতো কথা বোলো না। এমিলি চাপা ধমকের সুরে বলল, আমি যখন তোমার সঙ্গে হাত মিলিয়েছি তখন এসব আমার বেলাতেও ঘটবে জেনে রেখো।

    আচ্ছা, এন্ডারবি বলল, তোমার জেনিফার মাসীকে কি সন্দেহের আওতায় রাখা যায়?

    জনিফার মাসী লোক হিসাবে খুবই ভাল কিন্তু তাহলেও তদন্তের স্বার্থে ওঁকেও সন্দেহের বাইরে রাখা যায় না। ঘটনার সময় তিনি ছিলেন এক্সেটারে যা এখান থেকে খুব বেশি দূরে নয়। এমনও হতে পারে যে জেনিফার মাসী ওঁর ভাইয়ের সঙ্গেও কোনও কারণে দেখা করতে এসেছিলেন। ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ান হয়তো সেইসময় ওঁর ভগ্নীপতি অর্থাৎ জেনিফার মাসীর স্বামী ক্যাপ্টেন গার্ডনার সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেছিলেন যা শুনেই মাসী রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন, হাতের কাছে ওই মোটা নলটা দেখতে পেয়ে তাই দিয়ে প্রচণ্ড আঘাত হেনেছিলেন তার ভাইয়ের মাথায়।

    বাঃ, চমৎকার অনুমান। এন্ডারবি তারিফ করার সুরে বলে উঠল, আর কাকে সন্দেহ করছো?

    আমি কাউকেই বাদ দিচ্ছি না, এমিলি বলল, এমন কি ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের রাঁধুনি কাম চাকর ইভানসকেও নয়। ইভানসের কাজকর্মে ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ান অবশ্যই চিরদিনই খুশি ছিলেন, উইলে তাকে বিশ্বস্ত বলে উল্লেখও করেছেন এবং তাকেও একশো পাউন্ড দেবার কথা উইলে লিখেছেন তিনি। থ্রি ক্রাউনস সরাইখানার মালিক মিসেস বিলিংয়ের বোনটিকে ইভানস হালে বিয়ে করেছে। মিসেস বিলিংয়ের পেট খুব আলগা, আমি দেখব ওঁর কাছ থেকে কিছু খবর বের করা যায় কিনা। যে পুলিশ কর্মচারীটি প্রথম ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের মৃতদেহ দেখতে পেয়েছিল সেই কনস্টেবল গ্রেভসের ঘোট শ্যালিকাও ওই সরাইয়ে চাকরী করে, আমি ওকেও হাত করব দেখে নিয়ে। পুলিশ এই খুনের তদন্ত করতে গিয়ে কখন কোন পথে এগোচ্ছে সে সবই আমি ওর কাছ থেকে জানতে পারব। তবে ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ান যাঁকে বাড়িভাড়া দিয়েছিলেন সেই মিসেস উইলেট আর তার মেয়ে ভায়োলেটকে আমার খুব অদ্ভুত বলে মনে হচ্ছে।

    কেন? এন্ডারবি প্রশ্ন করল।

    শীতকালের মাঝামাঝি নাগাদ বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন, এমিলি বলল, এটা প্রথম কারণ। দ্বিতীয় কারণ হল ওঁদের প্রেতচর্চার ব্যাপারটা, আচ্ছা তোমার নিজের কি এই ব্যাপারটাকে খুব জটিল ও রহস্যময় বলে মনে হচ্ছে না?

    সে তো হচ্ছেই, এন্ডারবি সায় দিয়ে বলে, তবে এ সম্পর্কে কাগজে কিছু লেখার আগে নিয়মিত প্রেতচর্চা করেন এমন কিছু বিশিষ্ট লোকের সঙ্গে আলোচনা করব, তাদের মতামত নেব।

    আরে, তেমন লোক তো আমাদের হাতের কাছেই আছেন।

    কে বল তো?

    কেন? এন্ডারবি বলল, স্যার আর্থার কোনান ডয়েল, যিনি শার্লক হোমসের মতো এক গল্পের গোয়েন্দা চরিত্র তৈরি করে প্রচুর নাম যশ অর্জন করেছেন।

    স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের সঙ্গে প্রেত-চর্চার কি সম্পর্ক? এমিলি প্রশ্ন করল।

    উনি নিজেই এক রহস্যময় মানুষ। এন্ডারবি বলল, গোয়েন্দা গল্প আর ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখে জীবনের অর্ধেক সময় কাটিয়েছেন, এখন বুড়োবয়সে ভূতপ্রেত আছে কি নেই তাই নিয়ে পড়াশোনা করছেন। বই পত্র পড়ছেন, পোভড়া বাড়িতে অর দুর্গে রাত কাটাচ্ছেন, যাকে বলে প্রেততাত্ত্বিক, গবেষণা। তবে এ সম্পর্কে আমার কোনো অভিজ্ঞতা নেই।

    ভূতপ্রেতে আমার এতটুকু বিশ্বাস নেই, এমিলি বলল, আর অলৌকিক ব্যাপার বলে কিছু আছে একটা আমি বিশ্বাস করি না। ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ান খুন হয়েছেন এই খবর সে এসে জানিয়ে গেল কিন্তু কে তার খুনী সে কথা চেপে গেল কেন? আসলে এসবের কোনও ভিত্তি নেই।

    আমি একটা গাড়ি ভাড়া করেছি, এন্ডারবি বলল, আধঘণ্টার ভেতর আমরা দুজন তাতে চেপে পৌঁছে যাব সিটাফোর্ডে।

    নাঃ, এবার দেখছি আমাকেই বলতে হচ্ছে চার্লস, তোমার জবাব নেই, এন্ডারবির ভাব আর ভঙ্গি অনুকরণ করে মন্তব্য করল এমিলি, যা দেখে এন্ডারবি না হেসে পারল না।

    এবার তাহলে চলো, সরাইখানায় ফিরে যাই, এমিলি বলল, জামাকাপড় গুছিয়ে মিসেস বেলিংয়ের পেট থেকে দেখি কোনও খবর বের করতে পারি কিনা। পুলিশ জিমকে ধরে নিয়ে গেছে বলে আমার মন যে ভেঙ্গে গেছে তা বোঝাতে আমায় এবার নাকে কান্না কাঁদতে হবে।

    .

    ১২.

    থ্রি ক্রাউনস সরাইয়ে ফিরেই এমিলি দেখল বেলিং হলঘরের মাঝখানে এসে, দাঁড়িয়েছেন।

    মিসেস বেলিং, এমিলি বলল, আজ বিকেলেই আমি রওনা হচ্ছি

    আজ বিকেলেই? মিসেস বেলিং প্রশ্ন করলেন, তাহলে চারটে দশের ট্রেন ধরে এক্সেটারে যাচ্ছেন?

    না, এমিলি জবাব দিল, আমি সিটাফোর্ড যাব। ভালকথা ওখানে আপনার চেনাশোনা এমন কেউ আছেন কি যাঁর কাছে ওঠা যায়?

    সত্যি? মিসেস বেলিং প্রশ্ন করলেন, ইয়ে যদি কাউকে না বলেন তাহলে একটা খবর আপনাকে দেব মিস এমিলি।

    আপনি নির্ভয়ে আমার কাছে মুখ খুলতে পারেন, এমিলি বলল, আমি ভুলেও কাউকে কিছু জানাব না।

    মিঃ পিয়ার্সনকে চেনেন তো? মিসেস বেলিং গলা নামিয়ে বলে উঠলেন, পুলিশ ওঁকে গ্রেপ্তার করেছে।

    সে কি? দুঃসংবাদ শুনে এমিলির বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল, কবে গ্রেপ্তার হলেন?

    এই তো আজই, মিসেস বেলিং জবাব দিলেন, মাত্র আধঘন্টা আগে।

    আমার পক্ষে এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক, মিসেস বেলিং,বলতে গিয়ে এমিলির গলা ধরে এল, দুচোখের কোন বেয়ে জল গড়াতে লাগল, আপনি হয়তো জানেন না যে আমরা দুজনেই পরস্পরকে ভালবাসি, শীগগিরই আমরা বিয়ে করব বলেও স্থির করেছিলাম কিন্তু তার আগেই এমন একটা বিশ্রী ব্যাপার ঘটল! হা ঈশ্বর! বিশ্বাস করুন মিসেস বেলিং এই জঘন্য অপরাধ ও করেনি, পুলিশ মিছিমিছি ওকে গ্রেপ্তার করেছে। এইটুকু বলে মিসেস বেলিংয়ের বুকে মাথা গুঁজে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল।

    ঘটনা যখন ঘটেছে তখন শুধু কান্নাকাটি করে কোনও লাভ নেই বাছা,মিসেস বেলিং রুমালে এমিলির চোখের জল মোছাতে মোছাতে সহানুভূতির সুরে বললেন, তার চেয়ে এখন নিজেকে শক্ত করো। যে ভাবেই হোক, জিমকে বাঁচাতেই হবে।

    তাহলে তো তোমায় সিটাফোর্ড-এ যেতে হবে, মিসেস বেলিং বললেন, ওখানে ভদ্রভাবে থাকার মতো জায়গা একটাই আছে তাহলে সিটাফোর্ড হাউস। ওই বাড়ির পাঁচ নম্বর মহলে থাকেন মিসেস কার্টিস, গরমের সময় উনি ঘরভাড়া দেন। কিন্তু অতদূর যাবে কিভাবে? গাড়িভাড়া করেছো?

    না, এমিলি বলল, আমি মিঃ এন্ডারবির গাড়িতে চেপে যাব।

    আর মিঃ এন্ডারবি নিজে কোথায় থাকবেন?

    কেন, এমিলি জবাব দিল, মিঃ এন্ডারবি সম্পর্কে আমার খুড়তুতো ভাই, আমরা দুজনে মিসেস কার্টিসের মহলের একটা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকব।

    তাহলে তো খুবই ভাল হয়, মিসেস বেলিং বললেন, তাহলে আর দেরী না করে চোখেমুখে জল দিয়ে সেজেগুজে তৈরি হয় নাও, আর হ্যাঁ, শোন বাছা, আমি নিজেও এখানে চোখ কান সবসময় খোলা রাখব, তেমন কোনও খবর পেলেই তোমায় জানাব, পুলিশ কিছু টের পাবার আগেই।

    সত্যি ম্যাডাম, এতক্ষণ বাদে এমিলি খুশিভরা গলায় মন্তব্য করল, আপনার দয়ার তুলনা হয় না।

    চা খেয়ে থাকা খাওয়ার বিল মিটিয়ে এমিলি বেরিয়ে এল থ্রি ক্রাউনস সরাই থেকে। মিঃ এন্ডারবি তার পুরনো ফোর্ড গাড়ি নিয়ে তৈরি হয়েছিল, এমিলিকে দেখতে পেয়েই সে পেছনের দরজা খুলে দিল।

    একটা কথা, এমিলি বলল, আপনাকে কিন্তু আমি আমার খুড়তুতো ভাই বলে পরিচয় দিয়েছি তা ভুলে যাবেন না। এটা গ্রামাঞ্চল কিনা, ছেলেমেয়েদের অবাধ মেলামেশা অনেকেই এখানে ভাল চোখে দেখে না।

    বাঃ চমৎকার! এন্ডারবি মন্তব্য করল, তাহলে আমি তোমাকে এমিলি বলে ডাকব, কেমন?

    একশোবার, এমিলি ঘাড় নেড়ে মুচকি হাসল। আর তোমায় ডাকব চার্লস বলে।

    এমিলির কথা শেষ হতেই এন্ডারবি গাড়িতে স্টার্ট দিল।

    .

    ১৩.

    সিটাফোর্ড পৌঁছে সিটাফোর্ড হাউস খুঁজে বের করতে এমিলির আর চার্লসের অসুবিধে হল না, যথাসময়ে মিসেস কার্টিসের কাছে তাদের দুজনের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও হয়ে গেল। মিসেস কার্টিস এমিলি আর চার্লসের আতিথ্যের ত্রুটি করল না, গোড়াতেই নিজের হাতে চা তৈরি করে খাওয়ালেন তাদের, আর সেই ফাঁকে তাঁর মুখ থেকে সিটাফোর্ড হাউসের বাসিন্দাদের নাম, ধাম, পেশা সবকিছুই কৌশলে জেনে নিল এমিলি। চা পর্ব শেষ হলে চার্লস এমিলিকে সঙ্গে নিয়ে মেজর বারনাবির কটেজের দিকে রওনা দিল। ঘটনাচক্রে তখনই ইন্সপেক্টর ন্যারাকট এসে হাজির হলেন সিটাফোর্ড হাউসে, সোজা মিসেস উইলেটের সঙ্গে দেখা করে নিজের পরিচয় দিলেন তিনি, কথা প্রসঙ্গে জানালেন যে ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের খুনের ব্যাপারে তিনি তাদের কিছু প্রশ্ন করবেন। মিসেস উইলেটের মেয়ে ভায়োলেটও সেইসময় বসেছিলেন তার মায়ের গা ঘেঁষে।

    আপনি কি জানতে চান বলুন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, মিসেস উইলেট বললেন, আমি যতদূর সম্ভব সঠিক উত্তর দিয়ে সাহায্য করব আপনাকে। হয়তো এই বাড়িতে এমন কোনও সূত্র থাকতে পারে যা এই খুনের তদন্তে আপনাকে সাহায্য করতে পারবে। কিন্তু তেমন কিছু আদৌ আছে কিনা সে বিষয়ে আমার খুব সন্দেহ আছে। ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ান তাঁর ব্যক্তিগত যা কিছু ব্যবহার্য জিনিসপত্র ছিল সব এ বাড়ি থেকে অনেক আগেই সরিয়ে ফেলেছিলেন, এমনকি ওঁর মাছ ধরার ছিপখানা পর্যন্ত। হয়তো উনি ধরেই নিয়েছিলেন যে ভাড়াটে হিসাবে ওঁর এইসব সৌখীন জিনিসের কোনরকম যত্ন আমি করব না তাই।

    তার মানে ওঁর সঙ্গে আপনার আগে থাকতে পরিচয় হয়নি?ইন্সপেক্টর ন্যারাকট প্রশ্ন করলেন।

    না, ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, আমি এই বাড়ি ভাড়া নেবার পরে কতবার চিঠি লিখে ওঁকে আসবার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি, এমন কি ডিনারের নেমন্তন্ন পর্যন্ত করেছি, কিন্তু উনি একবারও আসেন নি। আসলে উনি যে ভীষণ লাজুক আর মুখ চোরা লোক ছিলেন তাতে আমার এতটুকু সন্দেহ নেই। অথচ দুঃখের ব্যাপার হল অনেকেই এই স্বভাবের জন্য ওঁকে নারীবিদ্বেষী বলতো।

    দেখুন ম্যাডাম, ইন্সপেক্টর ন্যারাকট বললেন, আমি যতদূর জেনেছি ক্যাপ্টেন ট্টেভিলিয়ানের মৃতদেহ সবার আগে আবিষ্কার করেন ওঁর পুরোনো বন্ধু মেজর বারনাবি আর এও জেনেছি যে তার আগে এখানে প্রেতচর্চার অনুষ্ঠানে মিলিত হয়েছিলেন।

    ইন্সপেক্টর ন্যারাকটের কথা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে ভায়োলেটের গলার ভেতর থেকে ক্ষীণ আর্তনাদের মতো একটা শব্দ বেরিয়ে এল।

    বেচারী ভায়োলেট! মেয়ের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে মিসেস উইলেট মন্তব্য করলেন এই ঘটনা ঘটবার ফলে ও মানসিক দিক থেকে ভয়ানক ভেঙ্গে পড়েছে। অবশ্য শুধু ও একা নয়, আমাদের সবারই একই অবস্থা। আমি কুসংস্কারাচ্ছন্ন নই, কিন্তু তাহলেও ব্যাপারটা অলৌকিকভাবে আমার চোখের সামনে ঘটেছিল।

    সত্যি বলছেন? ইন্সপেক্টর ন্যারাকট প্রশ্ন করলেন।

    নিশ্চয়ই। মিসেস উইলেট জবাব দিলেন, যদিও গোড়ায় আমরা ব্যপারটাকে নিছক মজা বলেই ধরে নিয়েছিলাম। রোনাল্ড গারফিল্ড নামে এক তরুণ সেদিন ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। আমরা গোড়ায় তাকেও সন্দেহ করেছিলাম, ভেবেছিলাম এটি ওঁরই কাজ।

    তাহলে গোড়ায় যা নিছক মজা বলে মনে হয়েছিল তাই এখন আপনার কাছে এক অলৌকিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই না?ইন্সপেক্টর ন্যারাকট প্রশ্ন করলেন, সাধারণ ভাবে যার ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায় না?

    ঠিক ধরেছেন, ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, মিসেস উইলেট জবাব দিলেন, আমি এখন নিশ্চিত যে যেদিন আমাদের এই প্রেতচক্রের অনুষ্ঠানে ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ান খুন হয়েছেন বলে যে খবর আমরা পেয়েছিলাম তা নিশ্চয়ই কোনও অশরীরী প্রেতাত্মা আমাদের জানিয়েছিল।

    তাই, ইন্সপেক্টর ন্যারাকট এবার ইচ্ছে করেই প্রসঙ্গ পাল্টালেন, আচ্ছা দক্ষিণ আফ্রিকার কোন অংশে আপনারা থাকতেন?

    আমরা কেপ টাউনে থাকতাম, ইন্সপেক্টর, মিসেস উইলেট জবাব দিলেন, আমার মেয়ে আগে কখনও ইংল্যান্ডে আসেনি, তাই এখানে এসে তুষারপাত দেখে ও মুগ্ধ হয়ে গেছে।

    তা অন্যান্য জায়গা থাকতে আপনি বেছে বেছে এই এলাকায় এলেন কেন? ইন্সপেক্টর ন্যারাকট প্রশ্ন করলেন।

    আমরা ডিভনশায়ার বিশেষতঃ ডার্টমুর সম্পর্কে প্রচুর বই পড়েছি, মিসেস উইলেট জবাব দিলেন, জাহাজেও এই জায়গার ওপর গাদা গাদা বই পড়েছি আর তার ফলেই আগ্রহ বেড়েছে।

    কিন্তু তাই বলে এক্সহ্যাম্পটনে? ইন্সপেক্টর ন্যারাকট আবার প্রশ্ন করলেন, এতো একেবারে অজপাড়াগাঁ, অনেকেই এর নাম শোনে নি।

    আগেই তো আপনাকে বললাম ইন্সপেক্টর যে এই এলাকা সম্পর্কে প্রচুর বইপত্র আমরা পড়েছি। তাছাড়া এখানে আসার পথে জাহাজে একজন যুবকের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল, এক্সহ্যাম্পটন সম্পর্কে তার মুখেও অনেক প্রশংসা শুনেছি।

    তরুণ যুবক? ইন্সপেক্টর ন্যারাকট জানতে চাইলেন, তা ছেলেটির নাম কি বলুন তো?

    ভুরু কুঁচকে মিসেস উইলেট জবাব দিলেন, কি যেন ওর নাম, বুলেস না স্মাইথ, তা ঠিক মনে পড়ছে না।

    তারপরেই আপনার এই জায়গাটা ভাল লেগে গেল আর আপনি বাড়ির দালালদের ধরে ধরে চিঠি লিখতে লাগলেন যাতে এখানে আপনার পছন্দমত একটা বাড়ি তারা যোগাড় করে দেন, তাই না?

    হ্যাঁ, ইন্সপেক্টর, মিসেস উইলেট ঘাড় নেড়ে সায় দিয়ে বললেন, আপনি যা বললেন ঘটনাটা ঠিক তাই ঘটেছিল।

    ভদ্রমহিলা নিজেকে খুব চালাক ভাবেন, ইন্সপেক্টর ন্যারাকট নিজের মনেই মন্তব্য করলেন, আড়চোখে তাকিয়ে দেখলেন ভায়োলেটের দুচোখ আগুনের মতো জ্বলছে। গোটা বাড়িখানা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তল্লাসী করলেন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, কিন্তু এমন কিছুই তার হাতে এল না যা তদন্তের কাজে সাহায্য করতে পারে। তল্লাসী সেরে ফিরে এসে আবার মিসেস উইলেটের মুখোমুখি কৌচে বসলেন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, আর তখনই ভায়োলেটের দুচোখে ভয়ের ছায়া স্পষ্ট দেখতে পেলেন তিনি।

    এ কিরকম ব্যাপার? নিজের মনে নিজেকে প্রশ্ন করলেন ইন্সপেক্টর ন্যারাকট, ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের খুনের সঙ্গে সত্যিই, যদি ওদের কোনও সম্পর্ক না থাকে তাহলে ভায়োলেট মিছিমিছি ভয় পাচ্ছে কেন? পেট থেকে কথা বের করার উদ্দেশ্যে একটা তীর ছুঁড়ে দিলেন তিনি ভায়োলেটের দিকে।

    আচ্ছা ভায়োলেট, তুমি তো পিয়ার্সনকে ভালভাবেই চেনো, নাই না?

    ইন্সপেক্টর ন্যারাকটের মুখের কথা শেষ হবার আগেই ভায়োলেটের দুচোখ হঠাৎ কপালে উঠল। দুহাত দুপাশে ছড়িয়ে সে জ্ঞান হারিয়ে কৌচ থেকে গড়িয়ে পড়ে গেল মেঝের কার্পেটের ওপর।

    বেচারী ভায়োলেট! দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিসেস উইলেট মন্তব্য করলেন, ওর দেহ মন দুদিক থেকেই বড্ড দুর্বল। প্রথমে এই প্রেতচক্র, তারপরে ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের রহস্যময় মৃত্যু, এসব ঘটনা ওর স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলেছে, তাই মাথা ঠিক রাখতে পারেনি, ইন্সপেক্টর।

    ধন্যবাদ ম্যাডাম, কৌচ ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে ইন্সপেক্টর ন্যারাকট জবাব দিলেন, আমার যেটুকু জানার ছিল তা জানা হয়ে গেছে। আজকের মতো আমি বিদায় নিচ্ছি।

    কথা শেষ করে তিনি আর একটি মুহূর্ত দাঁড়ালেন না, সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলেন নিচে।

    .

    ১৪.

    দেখুন না মেজর বারনাবি, এমিলির গলায় অসহায় ভাব ফুটে বেরোল, জিম পিয়ার্সনের সঙ্গে আমার বিয়ের সব ঠিকঠাক, এদিকে মাঝখান থেকে পুলিশ খামোকা ওকে খুনী সন্দেহে গ্রেপ্তার করল। এখন আমি কি করি বলুন তো?

    সত্যিই তো, মেজর বারনাবি সায় দিয়ে বললেন, এতো রীতিমতো আতঙ্কের ব্যাপার। বিশ্বাস করো এমিলি, তোমায় সমবেদনা জানাবার ভাষা এই মুহূর্তে আমি খুঁজে পাচ্ছি না। বলতে বাধা নেই, আমি একেবারের জন্যও জিম পিয়ার্সনকে সন্দেহজনক বলে মনে করছি না।

    পুলিশ না মানলেও আপনি যে জিমকে নির্দোষ হিসাবে মনে করেন তাতেই আমি কৃতজ্ঞ বোধ করছি মেজর। এমিলি মন্তব্য করল, আচ্ছা আপনার কি ধারণা জানতে পারি। ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের খুনী কে হতে পারে?

    দেখুন ম্যাডাম, মেজর বারনাবি বললেন, আমার ধারণা বাইরে থেকে কেউ বাড়িতে ঢুকে ওঁকে খুন করেছে কিন্তু পুলিশ তা মানতে রাজী নয়। তবে যে যাই বলুক না কেন এটা ঠিক যে ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের কোনও শত্রু ছিল না।

    আচ্ছা, উনি যাদের বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন সেই মিসেস উইলেট আর তার মেয়ে মানুষ হিসাবে কেমন? এমিলি প্রশ্ন করল।

    ওঁরা তো খুব ভাল লোক বলেই শুনেছি, মেজর বারনাবি জবাব দিলেন, যেমন দয়ালু তেমনি পরোপকারী।

    তবু এতো জায়গা থাকতে ওঁরা হঠাৎ সিটাফোর্ডের মতো এক অজ পাড়াগেঁয়ে এসে হাজির হলেন কেন?

    দেখুন ম্যাডাম, এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি একবারের জন্যও মাথা ঘামাইনি, মেজর বারনাবি জবাব দিলেন।

    ধন্যবাদ মেজর, এন্ডারবি দাঁড়িয়ে উঠে বলল, আজকের মতো আমরা বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু আগামীকাল সকালে আমি ক্যামেরা নিয়ে আবার এসে হাজির হব, আপনার একটা ফটো তুলব, তাছাড়া এক সাক্ষাৎকারও নেব।

    বেশ তো, নেবেন। বলে মেজর বারনাবি হাত তুলে তাদের দুজনকেই বিদায় জানালেন।

    ফিরে এসে মুখোমুখি বসল এমিলি আর এন্ডারবি, মাথার টুপিটা খুলে খাটের ওপর ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এমিলি বলল, চার্লস, মিসেস উইলেট যে প্রেতচর্চার অনুষ্ঠান করেছিলেন তার নাম টেবল টার্নিং। প্রেতচর্চা বলে উল্লেখ করা হলেও এটা আসলে এক ধরনের খেলা যেখানে মানসিক চিন্তাতরঙ্গ হাতের সূক্ষ্ম পেশীগুলোকে নিয়ন্ত্রিত করে আর তারই ফলে টেবলের পায়া ওঠানামা করে, এর মধ্যে ভূতপ্রেতের কোনও ব্যাপার নেই।

    হ্যাঁ, এন্ডারবি ঘাড় নেড়ে সায় দিয়ে বলে, ছাত্রজীবনে হোস্টেলে থাকতে এই খেলা আমিও বহুবার খেলেছি। ব্যাপারটা যে পুরোপুরি মনস্তাত্ত্বিক সেদিক থেকে আমি নিজেও তোমার সঙ্গে পুরোপুরি একমত।

    এখন দেখতে হবে সেদিনের ওই অনুষ্ঠানে কারা কারা উপস্থিত ছিলেন, এমিলি বলল, আর সবাইকে বাদ দিলেও মেজর বারনাবি আর মিঃ রাইক্রফটের নাম কেন কে জানে বারবার আমার মনে ওঠাপড়া করছে। ওঁদের দুজনের মধ্যে একজন যদি ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানকে খুন করে থাকেন তবে তা মোটেই অস্বাভাবিক হবে না। এছাড়া ছিলেন, মিঃ ডিউক যার সম্পর্কে এখনও আমরা কিছুই জানি না। এছাড়া মিসেস উইলেট আর তার মেয়ে ভায়োলেট দুজনেই আমার কাছে রহস্যময় চরিত্র।

    কিন্তু ট্রেভিলিয়ানকে খুন করার পেছনে তাদের কি স্বার্থ থাকতে পারে? এমিলি প্রশ্ন করল।

    বাইরে থেকে দেখলে কোনও স্বার্থ নেই বলেই মনে হয় বটে। এন্ডারবি উত্তর দিল, কিন্তু আমার ধারণা কোথাও নিশ্চয়ই কোনও একটা যোগসূত্র রয়েছে। সেটা কি তাই আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

    এমিলি কিছু মন্তব্য করতে যাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই কাছে কোথায় গম্ভীর এক ঘন্টাধ্বনী হল, সেই আওয়াজ অনেকক্ষণ পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হল।

    আওয়াজটা শুনলে? বলতে বলতে মিসেস কার্টিস একতলা থেকে দ্রুতপায়ে ওপরে

    ঠে এলেন।, এমিলি বলল,লরে প্রিন্সট

    শুনলাম, এমিলি বলল, কিন্তু ওটা কিসের ঘণ্টা ম্যাডাম?

    এখান থেকে বারো মাইল দূরে প্রিন্সটাউনে জেলের পাগলাঘন্টার আওয়াজ এটা। মিসেস কার্টিস বললেন, এর অর্থ হল জেলখানা থেকে একটু আগে কোনও কয়েদী পালিয়েছে। এইটুকু বলে মিসেস কার্টিস আর দাঁড়ালেন না, আগের মতোই দ্রুতপায়ে আবার নিচে নেমে গেলেন তিনি।

    ইস, এন্ডারবি বলল, সময়মতো সবকিছু ঘটে না, এটাই দুঃখের ব্যাপার। গত শুক্রবার দিন যদি এই কয়েদীটা পালাতো তাহলেই সহজেই ক্যাপ্টেন ট্রেভিলিয়ানের খুনীকে ধরতে পুলিশের নিশ্চয়ই এতটুকু অসুবিধা হতো না।

    হয়তো তাই, সায় দিয়ে বলল এমিলি।

    তা না করে ব্যাটা তিনদিন পরে পালাল, এন্ডারবি বলল, যখন সবকিছু পুরো জটিল হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    এমিলি এবারে আর কোনও মন্তব্য করল না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }