Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2514 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. সেভেন ডায়ালস-এর অধিবেশন

    সেভেন ডায়ালস-এর অধিবেশন

    ভেতরে ঢুকে বান্ডল ভাবছে, হয়তো, এখান থেকে বেরোতে ছটা বেজে যাবে। খুব কষ্ট হবে নিঃসন্দেহে। কিন্তু কিছু করার নেই। হঠাৎ দরজার তালা খুলে গেল।

    বৈদ্যুতিক আলোতে ঘর ভরে গেল। অনেক লোক যে ঘরে ঢুকেছে সেটা বান্ডল বুঝতে পারলো। দরজায় খিল দেওয়ার আওয়াজ শুনতে পেলো।

    একজন লম্বা, শক্তিশালী, কালো দাড়িওয়ালা মানুষকে বান্ডল ফুটো দিয়ে দেখলো যাকে গতরাতে জুয়ার টেবিলে দেখেছিল।

    এই তাহলে সেই মিঃ মসগোরোভস্কি, ক্লাবের মালিক। উত্তেজনায় বান্ডলের হৃৎপিণ্ডের গতি বেড়ে গেল।

    লোকটি পকেট থেকে ঘড়ি বের করে সময় দেখলেন। মাথা দুলিয়ে পকেট থেকে আবার কি বের করলেন। তারপরের ব্যাপারটা বান্ডলের দৃষ্টিতে ধরা পড়ছে না।

    পরক্ষণে লোকটি যখন দৃষ্টি বরাবর এলো তখন বান্ডল চমকে উঠলো, লোকটার মুখে একটা মুখোস। আলগা হয়ে চোখের ওপর পরদার মতো ঝুলছিল। অনেকটা ঘড়ির ডায়ালের মত মুখোসটা। ছটার দিকে ঘড়ির কাটা রয়েছে।

    –সেভেন ডায়ালস! বান্ডল এবার নিশ্চিত।

    দরজায় সাতবার টোকা মারার শব্দ।

    বান্ডল যে আলমারির মধ্যে বসে ছিল তার পাশের চেয়ারে মসগোরাভস্কি বসলেন।

    ঘরে এসে ঢুকলো দুজন, তাদরে প্রত্যেকের মুখে মুখোস, মুখোসে ঘড়ির কাঁটা চারটে আর পাঁচটায়। তাদের পোশাক ভদ্র অভিজাত সম্পন্ন।

    এদের মধ্যে একজন বিদেশী। অন্যজনকে বান্ডল ফরাসি ভেবেছিল। কিন্তু কথা শুনে বুঝলো, অস্ট্রিয়ান বা হাঙ্গেরিয় হতে পারে। রাশিয়ান হবে হয়তো।

    –এক নম্বর দারুণ সফল হওয়ায় আপনাকে ঝুঁকি নেবার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। ভদ্রলোক বললেন।

    পাঁচটা কাঁধ ঝাঁকালেন।

    ঝুঁকি না নিলে…

    কথা শেষ হলো না। দরজায় আবার সাতটা টোকা পড়লো।

    বেশ কিছুক্ষণ কোনো কথা শুনতে পেলো না বান্ডল। কারণ ওরা ওর দৃষ্টির বাইরে চলে গিয়েছিল।

    –আমরা তাহলে কাজ শুরু করতে পারি। রুশ ভদ্রলোকের কণ্ঠস্বর শোনা গেল।

    টেবিলের মাথায় যে চারটি ছিল সেখানে গিয়ে বসলেন। ফলে বান্ডলের একেবারে মুখোমুখি হলেন তিনি। তার পাশে বসে পাঁচ নম্বর। তৃতীয় চেয়ারটি বান্ডল দেখতে পাচ্ছে না। চার নম্বর আমেরিকান ভদ্রলোক।

    টেবিলের ধারে দুটি চেয়ারই বান্ডলের নজরে পড়ছিল।

    মসগোরোভস্কির উল্টোদিকের চেয়ারে বসলেন একজন, যার পেছনটা বান্ডলের দিকে। বান্ডল তার পেছনটাই ভালো করে দেখছিল। কারণ তিনি একজন মহিলা।

    –আমরা আজ রাতে পাঁচ নম্বরের দেখা পাবো না। মহিলার সুরেলা বিদেশী ছোঁয়া লাগানো কথা শোনা গেল। আপনারা সত্যি করে বলুন তো কোনো কালে আদৌ ওর দেখা পাবো আমরা?

    –চমৎকার প্রশ্ন। আমেরিকানটি বললো, বান্ডল সম্মোহিতের মতো মহিলার পিঠের দিকে দৃষ্টি আবদ্ধ রাখলো। ডানদিকের ঘাড়ের পাশে ছোট্ট একটা আঁচিল, ফর্সা চামড়ায় ওটা ঠিক মানাচ্ছে না।

    রুশ ভদ্রলোকের কর্তৃত্বব্যাঞ্জক কণ্ঠস্বর শুনে বান্ডলের চমক ভাঙলো।

    –যদি দুই নম্বর আমাদের আজ থাকতেন। কিন্তু কিছু ঘটনা ঘটে গেছে আর অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে।

    –বিপদ ঘটার সম্ভবনা আছে। পাঁচ নম্বর বললো।

    –হ্যাঁ, আমাদের এই জায়গা সম্পর্কে খুব বেশি জানাজানি হয়ে গেছে।

    –তাহলে চিমনি সম্পর্কে নতুন কিছু জানা যায়নি?

    –না, মসগোরোভস্কি উত্তর দিলেন।

    –আমাদের প্রেসিডেন্ট কোথায় সাত নম্বর? কখনো আমরা ওর দেখা পাই না কেন?

    –ওর নিজস্ব কর্মপদ্ধতি আছে। রুশ উত্তর দিলেন।

    –আপনি আগাগোড়া ঐ কথাই বলে আসছেন।

    কিছুক্ষণের জন্য থমথমে নীরবতার মধ্যে কাটলো।

    -এবার আমরা কাজ শুরু করবো। মসগোরাভস্কি বলে উঠলো। তিন নম্বর, আপনি কি ওয়াইভেন অ্যাবীর নকসা পেয়েছেন?

    তিন নম্বরকে বান্ডল না দেখলেও গলার স্বরে বুঝতে পারল, একজন শিক্ষিত ইংরেজের গলা। মিষ্টি ও নরম।

    টেবিলের ওপর কিছু রাখার আওয়াজ হলো।

    –এই যে সেই নক্সা, আর এটা অতিথিদের তালিকা।

    রুশ ভদ্রলোক পড়তে লাগলেন।

    -স্যার স্ট্যানলি ডিগবি, মিঃ টেরেন্স ও’রুরকে, স্যার অসওয়াল্ড, লেডি কুট, মিঃ বেটম্যান, কাউন্টেস অ্যানা র‍্যাজকি, মিসেস মার্কাটা, মিঃ জেমস থেসিজার। পড়া থামিয়ে বললেন, এটি আবার কে?

    -ওটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। ও আজম্মের গাধা একটা। আমেরিকান ভদ্রলোক হেসে বললেন।

    -হের এবারহোর্ড আর মিঃ বিল এভারসলে।

    –তাহলে ধরে নিতে পারি এবারহোর্ডের আবিষ্কারের ব্যাপারে কারো কোনো সন্দেহ নেই?

    –না নেই।

    –দামের দিক থেকে এর মূল্য লক্ষ লক্ষ টাকা। বিভিন্ন দেশের লোভের মাত্রা কতখানি সেটা আন্তাতিক দিক থেকে বুঝতে পারছেন।

    একটু থেমে আবার বললেন–হ্যাঁ, এটা হলো সোনার খনি। যাইহোক, আপনারা নকসাটা পেয়েছেন। আমার মনে হয় না, আমাদের আগের পরিকল্পনা আরো ভালো করা সম্ভব। একটা কথা, জেরি ওয়েডের লেখা একটি চিঠির কথা শুনলাম, যাতে এই সমিতির নাম উল্লেখ আছে। চিঠিটা কে পেয়েছে?

    -লর্ড কেটারহ্যামের মেয়ে, লেডি এইলিন ব্রেন্ট।

    –বাওয়ারের কাজে গাফিলতি দেওয়ার ফল। চিঠি কাকে লেখা?

    –সম্ভবতঃ ওর বোনকে, তিন নম্বর জবাব দিলো।

    –তবে আর কিছুই করার নেই। আগামীকাল রোনাল্ড ডেভেয়োর ইনকোয়েস্ট। সব ব্যবস্থা করা আছে নিশ্চয়ই।

    স্থানীয় ছেলেদের রাইফেল ছুঁড়ে অনুশীলন করার কাহিনী চারদিকে রটানো আছে। আমেরিকান উত্তর দিল।

    –আর কিছু বলার নেই আমার। এক নম্বর যে ভাবে একাজে অংশ নিয়েছেন, আমার মনে হয় সকলে তাকে অভিনন্দন জানানো উচিত।

    সমস্ত হাত অদ্ভুত ভঙ্গীতে চেয়ারের কাছে এগিয়ে এলো। বিদেশী কায়দায় এক নম্বর তা স্বীকার করলেন।

    এবার বান্ডল তিন নম্বরকে দেখতে পেলো, বিরাট চেহারার দীর্ঘকায় এক পুরুষ।

    সবাই এক এক করে বেরিয়ে যেতে মসগোরোভস্কি দরজায় তালা দিলেন। কয়েকমুহূর্ত অপেক্ষা করার পর আলো নিভিয়ে বেরিয়ে গেলেন।

    সভা শেষ হওয়ার প্রায় দুঘন্টা পর অ্যালফ্রেড এলো। আলমারির দরজা খুলতেই বান্ডলের শরীরটা তার দিকে ঝুঁকে পড়লো।

    –শরীর কাঠ হয়ে গেছে। বান্ডল বললো, একটু বসিয়ে দাও।

    হাত-পা মালিশ করতে করতে বান্ডল বললো, খুব মজার মানুষ ওরা। অ্যালফ্রেড, শিক্ষার বোধহয় শেষ নেই।

    .

     ইনকোয়েস্ট

    ভোর ছটায় বাড়ি পৌঁছে সাড়ে নটার মধ্যে তৈরি হয়ে নিলো বান্ডল। তারপর জেমি থেসিজারকে ফোন করলো।

    ফোনে জিমি দ্রুত কথা বলতে চাইলো। ইনিকোয়েস্টে যাবে বলে তাড়া আছে।

    –আমিও যাচ্ছি। বান্ডল বললো, অনেক কথা তোমাকে বলার আছে।

    –তাহলে তোমাকে আমি গাড়িতে নিয়ে যাবো। যেতে যেতে কথা হবে।

    –বেশ, তবে চিমনি হয়ে যেতে হবে। চিফ কনস্টেবল আমাকে নিতে আসবেন।

    –কেন?

    –তিনি একটু দয়ালু।

    গতরাতে তুমি কি করছিলে বান্ডল?

    –ভাবছিলাম, সেটার কথাই বলবো। যেতে যেতে কথা হবে। এখন রাখছি।

    বান্ডলের কর্মক্ষমতার ওপর জিমির অপরিসীম শ্রদ্ধা আছে ঠিকই, কিন্তু আবেগ ছিল না তার মধ্যে এতটুকু।

    প্রায় কুড়ি মিনিট পর জিমি তার টু-সীটার নিয়ে হাজির ব্রুকলিন স্ট্রিটে। বান্ডল দ্রুত নেমে এলো নিচে। জিমি লক্ষ্য করলো, বান্ডলের চোখে রাত জাগার ছাপ।

    গাড়ি চালাতে চালাতে মন দিয়ে বান্ডলের গত রাতের কাহিনী শুনলো। অবশ্য পথে দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকেও সে সজাগ।

    -বান্ডল, তুমি আমার সঙ্গে মজা করছে না তো?

    –কি বলছো?

    –মাপ চাইছি, জিমি বললো, আসলে সব যেন স্বপ্নের মধ্যে দিয়ে ঘটছে।

    –বিদেশিনী উত্তেজনা শিকারী, আন্তর্জাতিক দস্যুদল, রহস্যময় ৭ নম্বর, যাকে কেউ কখনো দেখেনি। এরকম তো বইয়ে পড়েছি।

    -বইয়ের পড়া কখনোও বাস্তবে রূপ পায়। বান্ডল বলে উঠলো।

    –একটা খিচুড়ি মার্কা জমায়েত বলা যেতে পারে। একজন রুশ, একজন আমেরিকান, একজন ইংরেজ, এক অস্ট্রিয়ান বা হাঙ্গেরিয়, আর সেই মহিলা যে কোনো জাতি হাতে পারে।

    –আর একজন জার্মান। বান্ডল মনে করিয়ে দিলো। আর দুনম্বর হলো বাওয়ার, যে গতরাতে সভায় ছিল না।

    -ওরা চিঠির খবরটা জানে তাই তো? আগামী সপ্তাহে ওয়াইভের্ন অ্যাবীতে আমার যাওয়ার কথা, সেটাও অজানা নয় ওদের, তাই না?

    –হ্যাঁ, রুশ না আমেরিকান বললো, ভাববার কারণ নেই। কারণ ওদের মতে তুমি একটা গর্দভ।

    -কথাটা বলে ভালোই করলে। ঘটনাটা আমার আগ্রহ বেশি করে জাগিয়ে তুলছে। আর ঐ জার্মান লোকটির নাম এবারহোর্ড।

    -হ্যাঁ, কিন্তু কেন?

    দাঁড়াও একটু ভেবেনি। হ্যাঁ মনে পড়েছে।

    ….এবারহোর্ড হলো একজন আবিষ্কারক, যিনি জিনিষ আবিষ্কার করে সেটা পেটেন্ট নিয়ে বিক্রি করতে ইচ্ছুক। তবে তার আবিষ্কার হলো একটা তার ইস্পাতের চেয়ে শক্ত আর তাপসহ হয়ে যায়। উড়োজাহাজ আবিষ্কার করার পরে সে ভাবে, ওটার ওজন দারুণভাবে কমিয়ে দেবে। দামের দিক থেকে এ হবে বৈপ্লবিক। আমার ধারণা, তিনি এই আবিষ্কারকে জার্মান সরকারের কাছে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ওরা নিতে রাজী হয়নি। ওরা কিছু ত্রুটি লক্ষ্য করে। ওদের ব্যবহারে সে আঘাত পায়। মনে মনে ঠিক করে, কোনোভাবেই ওদের এই আবিষ্কারের ফল ভোগ করতে দেবে না। প্রথমে ভেবেছিলাম, এসব বাজে কথা। এখন দেখছি উল্টো ব্যাপার।

    -তোমার কথাই ঠিক জিমি, বান্ডল বলে উঠলো। এবারহোর্ড নিশ্চয়ই আমাদের সরকারের কাছে ওটা বিক্রি করার প্রস্তাব দিয়েছে। স্যার অসওয়াল্ড কুটের বিশেষজ্ঞের অভিমত সরকার নিশ্চয়ই যাচাই করে নিতে চাইছে। তাই এই বেসরকারী সভার আয়োজন। ওখানে থাকছেন স্যার অসওয়াল্ড, জর্জ, বিমানমন্ত্রী আর এবারহোর্ড। নিশ্চয়ই ওর কাছে পরিকল্পনাটার খসড়া আছে।

    -একে ফর্মুলা বলে।

    -হ্যাঁ, ঐ বিশেষ ফর্মুলাটা সেভেন ডায়ালস হস্তগত করতে চাইছে। ঐ রুশ লোকটা যার দাম লক্ষ লক্ষ টাকা বলছিল, মনে পড়েছে।

    রনি কি জানতো; একবার যদি জানতে পারতাম, জিমি বললো। তবে আমরা আবিষ্কার করেছি, জেরি ওয়েডের মৃত্যুর জন্য ফুটম্যান বাওয়ার দায়ী। পরের শিকার কে হবে? এরকম ব্যাপারে কোনো মেয়ের জড়িয়ে পড়া ঠিক নয়।

    বান্ডল বুঝলো, জিমি তাকে লোরেনের দলে ফেলতে চায়।

    –আমার চেয়ে তোমার শিখার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, বান্ডল হাসতে হাসতে বললো।

    –তা যা বলেছো। আচ্ছা, আমরা যদি অপর পক্ষের কয়েকটা মৃত্যু ঘটাতে পারি, কেমন হয়? বান্ডল, ওদের কাউকে দেখলে তুমি চিনতে পারবে?

    –পাঁচ নম্বরটাকে চিনতে পারি। বান্ডল ইতস্ততঃ করে বললো। ওর হিস-হিস শব্দটাই চিনিয়ে দেবে।

    –দলে একজন মহিলা রয়েছে। সে নিশ্চয় তার শরীর দেখিয়ে কামুক ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের হাতের মুঠোয় নিয়ে গোপন কাগজপত্র বের করে নেয়। আচ্ছা, সাত নম্বর সম্বন্ধে তোমার কোনো ধারণা আছে কি?

    -একটুও না।

    –ওরা সময়মত চিমনিতে পৌঁছে গেল। কর্নেল মেলরোজ অপেক্ষা করছিলো। বান্ডল জিমির পরিচয় দিলো।

    সমস্ত ব্যাপারটা ভালো ভাবে মিটলো, বান্ডল সাক্ষী দিলো, ডাক্তার দিলেন। রায় দেওয়া হলো দুর্ঘটনাতেই রনি ডেভেরো মারা যায়।

    কাজ শেষ করে কর্নেল মেলরোজ বান্ডলকে নিয়ে চিমনিতে ফিরে গেলেন, আর জিমি থেসিজার লন্ডনের দিকে রওনা হলো।

    জিমি লোরেনেকে ফোন করে জানালো যে দুর্ঘটনা বলেই রায়ে বেরিয়েছে।

    –লোরেন, আমার মনে হচ্ছে, কিছু একটা ঘটে চলেছে। তুমি সাবধানে থেকো, অন্ততঃ আমার জন্যে।

    -তোমার পক্ষেও তো বিপদের সম্ভাবনা আছে। লোরেনের কণ্ঠে ভয়

    –ও নিয়ে ভেবো না। এখন রাখছি।

    জিমি স্টিভেনসকে ডাকলো।–স্টিভেনস, আমার জন্যে একটা অটোমেটিক আর নীলচে নলওয়ালা পিস্তল কিনে আনতে পারো। দোকানদার আর তোমার যদি এ সম্বন্ধে জ্ঞান থাকে কিছু, ঠিক আমেরিকান গল্পে নায়ক যেমন পেছনের পকেট থেকে পিস্তল বের করে সেইরকম।

    স্টিভেনসের মুখে হাসি খেলে গেল–বেশির ভাগ আমেরিকান কিন্তু তাদের পকেট থেকে পিস্তলের বদলে অন্য কিছু বের করে।

    জিমি না হেসে পারলো না।

    .

    অ্যাবীতে পার্টি

    শুক্রবার বিকেলে ঠিক সময়ে বান্ডল এসে হাজির হলো ওয়াইভেন অ্যাবীতে চায়ের আমন্ত্রণে। জর্জ লোম্যাক্স তাকে বেশ খাতির করে অভ্যৰ্তনা জানাতে এগিয়ে এলেন।

    প্রিয় এইলিন, তোমার যে এ ধরনের পার্টিতে আসতে ইচ্ছে করে সেটা আমার জানা ছিল না। রাজনীতিতে তোমার আগ্রহ আছে শুনলাম লেডি কেটারহ্যামের কাছ থেকে। শুনে যেমন খুশি হয়েছিলাম তেমনি অবাক হয়েছি।

    –আমার খুবই ভালো লাগে। বান্ডল বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে উত্তর দিলো।

    মিসেস মার্কাটা গত রাতে ম্যানচেস্টারে বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন। উনি পরের ট্রেনে আসছেন। তুমি জিমি থেসিজারকে চেনো? ওর ওপরটা দেখলে বোঝা যায় না। আসলে বিদেশের রাজনীতিতে একদম পাকাঁপোক্ত।

    জিমি এই দিকেই এগিয়ে আসছিল। বান্ডল, তারদিকে হাত বাড়িয়ে বললো–আমি তাকে চিনি।

    জর্জ একটু দুরে সরে যেতেই জিমি বললো-বান্ডল, আমি বিলকে সব বলেছি। একটু একটু করে ওর মাথায় সব ঢুকিয়েছি। অতএব আমৃত্যু ও আমাদের সঙ্গে থাকবে।

    জর্জ হঠাৎ হাজির হলেন। তিনি এক এক করে বান্ডলের সঙ্গে সকলের পরিচয় করিয়ে দিলেন–স্যার স্ট্যানলি ডিগবি, হাসিখুশী ভরা একজন বিমানমন্ত্রী, মি ও’রুরকে, লম্বা চেহারা, মুখে আইরিশ আদল স্পষ্ট।

    মিসেস মার্কাটার জন্য বান্ডল অপেক্ষা করছিল। তিনি কালো লেস লাগানো ফ্রক পরে গম্ভীর মুখে হল ঘর পেরিয়ে এলেন। সেখানে ফুটম্যানের পোশাকে একজন উপস্থিত ছিল। বান্ডল চিনতে পারলো ইনি সুপারিন্টেন্ডেন্ট ব্যাটল। ছদ্মবেশে নিজেকে ঢাকতে পারেনি।

    –সুপারিন্টেন্ডেন্ট ব্যাটল, বান্ডল ফিসফিস করে বললো।

    -হ্যাঁ, সবকিছুর ওপর নজর রাখতে এসেছি। মিঃ লোম্যাক্স ঐ সাবধানী চিঠি পেয়ে খুব ভয় পেয়ে গেছেন। আমার ওপর ওর ভীষণ বিশ্বাস। তাই আমাকে আসতে হলো।

    কিন্তু আপনি কি ভাবেন, বান্ডল বলতে গিয়েও বলতে পারলো না, ছদ্মবেশের। আড়ালে একজন পুলিস অফিসারের ভাব স্পষ্ট ফুটে আছে।

    –আপনি কি ভাবছেন, অপরাধীরা সতর্ক হয়ে যাবে? কিন্তু এটা করলে ক্ষতিই বা কি?

    –ক্ষতি কি? বোকার মত বান্ডল কথাটার পুনরাবৃত্তি করে এগিয়ে গেল। ড্রয়িং রুমে একটা কমলা রঙের খাম হাতে নিয়ে ভুরু কুঁচকে দাঁড়িয়ে আছেন।

    –খুবই বিরক্তিকর। জর্জ বললেন, টেলিগ্রাম এসেছে, মিসেস মার্কাটার ছেলেমেয়েরা মাম্পসে আক্রান্ত, তাই তিনি হাজির হতে পারছেন না।

    কথাটা শুনে বান্ডল স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো, ওর মুখোমুখি হতে সে চায় না।

    –এইলিন, তুমি দুঃখ করো না, আমি জানি কত আগ্রহ নিয়ে তুমি এখানে এসেছে, তার সঙ্গে দেখা করবে বলে। জর্জ বলতে থাকেন, এজন্য অনেক সময় পাওয়া যাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় কাউন্টেস বেচারি শুধু

    বান্ডল আচমকা বলে উঠলো, উনি হাঙ্গেরিয় না?

    -হ্যাঁ, কাউন্টেস ঐ তরুণ হাঙ্গেরীয় দলের নেত্রী। শিশু মৃত্যুর সমস্যা নিরসনে তিনি নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। তিনি স্বাস্থ্যবতী, অল্প বয়সে স্বামী হারান। আরে, ঐ এবারহোর্ড এসে গেছেন।

    তেত্রিশ বা চৌত্রিশ বছরে এক সপ্রতিভ হাসিখুশী মানুষ এই জার্মান ইঞ্জিনীয়ার এবারহোর্ড। ভদ্রলোকের চেহারা দেখলে মনে হয় রক্তশূন্যতায় ভুগছেন।

    ওরা যখন নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল তখন এসে হাজির হলেন মিঃ ও’রুরকে। এর একটু পরেই হাঁফাতে হাঁফাতে বিল এলো।

    হ্যালো বান্ডল, তুমি এসেছো শুনেছি আগে, বিল বলতে থাকে। কিন্তু সারা বিকেল নাকে দড়ি দিয়ে যা ঘুরিয়েছে যে আগে তোমার সঙ্গে দেখা করতে পারিনি।

    –সেই কাউন্টেসের সেবায় মনোনিবেশ করেছিলে নিশ্চয়ই। জিমি বললো।

    –মানে, ইয়ে, আমি বাধা দেবো কি করে বলো? বিলের গালদুটো লাল হয়ে উঠেছে। তবে ভদ্রমহিলা বেশ মজার, বুদ্ধিমতী। বাড়িটা যখন ঘুরে দেখছিলেন তখন বান্ডল, তুমি দেখলে পারতে, কতরকম প্রশ্ন করছিলেন।

    –কি রকম প্রশ্ন?

    বান্ডলের প্রশ্ন শুনে বিল হচকচিয়ে গেল। ঠিক সরাসরি জবাব দিলো না। বললো, বিশেষ কিছু নয়। এই বাড়ির ইতিহাস জানতে চাইছিলেন। আসবাবপত্র সম্পর্কেও আগ্রহ তার। এইরকম অদ্ভুত প্রশ্ন আর কি।

    ঠিক এই সময় কালো মখমলের আঁটোসাঁটো পোশাক পরে কাউন্টেস ঘরে ঢুকলেন। সেই সময় চশমা পরা গম্ভীর মুখে ঢুকলেন এক ভদ্রলোক যিনি পঙ্গো নামে পরিচিত।

    .

    নৈশভোজের পর

    নৈশভোজের পর মহিলারা ড্রয়িংরুমে ঢোকার পর সান্ধ্য পোশাকে বেশ অপ্রতুল বলেই ভাবতে লাগলেন। অ্যাবীতে আধুনিক তাপ বিকিরণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তাই তারা ঘরে যে কাঠের চুল্লির ব্যবস্থা ছিল, তার পাশে গিয়ে বসলেন।

    লেডি কুট বলে উঠলেন–মিসেস কার্টার ছেলেমেয়েদের মাম্পস হওয়াটা বেশ আশ্চর্য ব্যাপার।

    –মাম্পস কি? কাউন্টেস জানতে চাইলেন।

    বান্ডল ও লেডি কুট দুজনে মিলে বেশ কায়দা করে মাম্পসের বর্ণনা তাকে দিলেন।

    -হাঙ্গেরিয় শিশুদের বোধহয় এ রোগ হয়, লেডি কুট বললেন।

    –আমি জানি না, কাউন্টেস বললেন।

    -সে কি! আপনি শুনেছি শিশুদের মধ্যে কাজ করেন, লেডি কুট আশ্চর্য হয়ে তার দিকে তাকালেন।

    –এই কথা, কাউন্টেস পা ছড়িয়ে আরাম করে বসে বলতে আরম্ভ করলেন–কত ভয়ঙ্কর সব ব্যাপার দেখেছি শুনলে স্তম্ভিত হবেন।

    যুদ্ধের পর অনাহার আর অন্যান্য ভয়ানক পরিস্থিতি তিনি দেখেছেন, কাউন্টেস একটানা বর্ণনা করে গেলেন, বান্ডলের মনে হলো যেন গ্রামোফোনে রেকর্ড বেজে চলেছে।

    লেডি কুট প্রায় মুগ্ধ হয়ে শুনছিলেন তার কথা।

    একসময় কাউন্টেস বললেন–আমাদের সমস্যাটা কোথায় জানেন? আমাদের টাকা আছে, কিন্তু ভালো সংগঠন নেই।

    -আমার স্বামীও তাই বলেন, লেডি কুট সায় দিলেন। তার মনের পরদায় স্যার অসওয়াল্ডের জীবনের নানা ঘটনার ছবি ফুটে উঠতে চাইছিল।

    কি মনে করে তিনি বান্ডলকে বললেন, আচ্ছা, লেডি এইলিন, বলুন তো, আপনাদের বাগানের ঐ প্রধান মালীকে পছন্দ করেন আপনি?

    –কে? ঐ ম্যাকডোনাল্ড? মানে, একটু ইতস্ততঃ করলো বান্ডল, ওকে নিজের কাজ করতে দিলে ও ঠিক আছে।

    এমন সময় জিমি এসে ঢুকলো। বান্ডলকে লক্ষ্য করে বললো, সেই ছবিগুলো দেখবে নাকি? তোমার অপেক্ষায় আছে।

    জিমিকে অনুসরণ করে বান্ডল ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।

    –কোনো ছবির কথা বললে?

    -ধৎ ওসব বাজে কথা। জিমি উত্তর দিলো। লাইব্রেরিতে বিল আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। সেখানে আর কেউ নেই।

    বিল চঞ্চল মনে লাইব্রেরি ঘরে পায়চারি করছিল।

    বান্ডলকে লক্ষ করে বললো–তুমি যে এ ব্যাপারে ঢুকে পড়েছো, এটা আমার মোটেই ভালো লাগছে না। এ বাড়িতে একটা ঝামেলা সৃষ্টি হতে চলেছে। তারপর

    বান্ডল জিমির দিকে তাকালো-ওকে কি বলেছো?

    –সবই বলেছি।

    –তোমার ঐ সেভেন ডায়ালসে যাওয়ার ব্যাপারটা আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। বিল কাতরভাবে বান্ডলের দিকে তাকালো, কাজটা তুমি ভালো করোনি বান্ডল।

    -কোনো কাজ?

    –এই সব ব্যাপারে জড়ানো।

    -হ্যাঁ, বান্ডল বললো, আমি যখন জড়িয়েছি তখন তোমার আর চেঁচিয়ে তোক জানাতে হবে না।

    -ওসব কথা না ভেবে পরিকল্পনা তৈরি করে নাও চটপট। জিমি বললো।

    বান্ডল হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।

    বিল আর কথা না বাড়িয়ে রাজী হয়ে গেল।

    -ফর্মুলার ব্যাপারে তোমার কথাই ঠিক। বিল বললো। বোধহয় ফর্মুলাটা হয় এবারহোর্ড নতুবা স্যার অসওয়াল্ডের কাছে আছে। ওরা সবাই এখন স্টাডিতে, তার মানে আসল কাজ শুরু করতে চলেছেন।

    -স্যার স্ট্যানলি ডিগবি কতদিন থাকবেন? জিমি জানতে চাইলো।

    –তিনি আগামীকাল শহরে ফিরবেন।

    –তাহলে কোনো ঝামেলা রইলো না। জিমি বললো, আমার ধারণা যদি ঠিক হয় তাহলে স্যার স্ট্যানলি ফর্মুলাটা সঙ্গে নিয়ে যাবেন। অতএব বিশেষ মজার যা ঘটার তা আজ রাত্রিতেই অবশ্যই ঘটবে।

    -প্রথম কথা হচ্ছে ফর্মুলাটা রাত্রিতে কোথায় থাকবে? এবারহোর্ডের কাছে না অসওয়াল্ডের কাছে থাকবে?

    –আমাদের যদি ধারণা হয়ে থাকে যে আজ রাতে কেউ ওটা চুরি করার ধান্দায় আছে তাহলে আমাদের কাজ হলো সতর্ক দৃষ্টি রেখে সেটা বন্ধ করা।

    -তাহলে সে কথাই রইলো। তবে রাতে পাহারা থাকার জন্য টস করে ভাগাভাগি করে নিতে হবে।

    বান্ডল চুপ করে শুনছি, কিছু বলার ইচ্ছা থাকলেও বললো না।

    –বেশ, টস করো। হেড হলে তোমার আগে, আমার পরে। টেল হলে ওর উল্টোটা হবে। একটা কয়েন বের করে টস করা হলো। প্রথম রাতের দায়িত্ব পড়লো জিমির ওপর।

    এতক্ষণে বান্ডল মুখ খুললো–আমি কি করবো?

    –তুমি বিছানায় গিয়ে লক্ষ্মী মেয়ের মতো ঘুমোও

    –খুব উত্তেজনার ব্যাপার বলে মনে হলো না। বান্ডল বললো।

    -কে বলতে পারে, তুমি হয়তো ঘুমের মধ্যে খুন হয়ে গেলে, জিমি বললো, আর আমরা বেকসুর খালাস পেয়ে যাবো।

    –জিমি, তুমি হয়তো ঠিকই বলেছো। কাউন্টেসের ভাবভঙ্গী আমার কাছে কেমন বেখাপ্পা লাগছে। ওকে আমার সন্দেহ হয়।

    -না, উনি সমস্ত রকম সন্দেহের বাইরে। বিল খুব উৎসাহ নিয়ে কথাটা বললো। কারণ হাঙ্গেরির দূতাবাসের একজন ওর ব্যাপারে সবই আমাকে বলেছে।

    -বেশ, তোমার বিশ্বাসের কথাটা ওর কানে কানে বলে এসো। বান্ডল বিরক্ত হয়ে বললো, আমার মাথা ধরেছে, শুতে চললাম।

    বান্ডল চলে গেলে বিল জিমির দিকে তাকালোবান্ডলের বুদ্ধি আছে বলল। কখন কোনো ব্যাপার অসম্ভব, সেটা ও ভালো বোঝে। একটা কথা এই ধরনের কাজে নামতে গেলে একটা জোরালো অস্ত্র লাগে। আমাদের সঙ্গে সেই জাতীয় কিছু থাকা দরকার।

    আমার কাছে একটা নীল নলের অটোমেটিক আছে। জিমি বললো, কি মনে হলো, তাই সঙ্গে নিয়ে এসেছি। তোমার পাহারা দেওয়ার সময় তোমাকে ওটা দেবো।

    .

    জিমির অ্যাডভেঞ্চার

    তিনজন মানুষের তিন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গী দিয়ে দৃশ্যমান হবে আজকের এই রাত।

    -তাহলে জিমি, ঐ কথাই রইলো, রাত তিনটে। বিল বিদায় নেবার সময় জিমিকে বললো। কিন্তু কডার্স দেখলাম আমার চেয়েও বোকা। বান্ডলের কথা ও পুরো বিশ্বাস করে বসে আছে। যাক, শুভরাত্রি। আমার ঘুম ভাঙাতে তোমার কষ্ট হবে হয়তো, তবুও সময়মত ভাঙিও বিল ওর দিকে তাকালো। আশা করি তুমি ঠিক মতো থাকবে। যখনই বেচারি জেরি আর রনির কথা ভাবি–

    জিমি ভাবলো, বিল তার মনের কথাই বলেছে। তারপর সে পকেট থেকে অটোমেটিক রিভলবার বের করে ওকে দেখালো–এটা সত্যি ভালো জিনিস।

    বিল মুগ্ধ হয়ে দেখলো।

    -শুধু ট্রিগার টানার অপেক্ষা। তারপরের কাজটুকু এটার দায়িত্বে। জিমি গর্বের সঙ্গে কথাটা বললো।

    বিল আবার শুভরাত্রি বলে বিদায় নিলো।

    জিমি পাহারা দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে নিলো।

    পশ্চিমের একেবারে শেষ প্রান্তে স্যার স্ট্যানলি ডিগবির ঘর। এই ঘরের একদিকে বাথরুমে, অন্যদিকে আর একটা দরজা দিয়ে যাওয়া যায় ছোট্টো একটা ঘরে যেটা দখল করেছেন মিঃ টেরেন্স ও’রুরকে। এইসব ঘরের বাইরে ছোট্ট বারান্দা। যেখানে সহজেই পাহারা দেওয়া যায়। একটা ওক কাটের আসবাবের আড়ালে শরীর লুকিয়ে রেখে সহজে সম্পূর্ণ জায়গার ওপর নজর রাখা যায়। পশ্চিমে যেতে হলে এই পথ দিয়েই সকলকে যেতে হবে। একটা বৈদ্যুতিক আলোও জ্বলছে।

    হাঁটুর ওপর লিওপোন্ড নিয়ে বেশ আরাম করে বসলো জিমি।

    চারদিক নিস্তব্ধ। ঘড়িতে একটা বাজতে বিশ মিনিট বাকি।

    এইভাবে বসে থাকা একটা বিরক্তিকর ব্যাপার সন্দেহ নেই। ওর মনে পড়লো প্ল্যানচেটের কথা। এই সময় নাকি অদ্ভুত সব ব্যাপার ঘটে। রনি ডেভেরো আর জেরি ওয়েড, ওরা এখন কোথায় আছে কে জানে? ভয়ঙ্কর চিন্তা তার মনে উদয় হলো।

    ঘড়িতে একটা বেজে কুড়ি হয়েছে। সময় যেন অত্যন্ত ধীর পায়ে এগোচ্ছে।

    সত্যি, বান্ডলের সাহসের প্রশংসা করতে হয়। না হলে সেভেন ডায়ালসের মতো জায়গায় গিয়ে সে ঢোকে।

    সাত সম্বর কে হতে পারে? সে কি এখন তার বাড়িতে আছে? নাকি চাকরের ছদ্মবেশ নিয়েছে।

    ঘুমে চোখ বুজে এলো। চোখ খুলে রাখার চেষ্টা করলো। হাই তুললো, ঘড়ির দিকে তাকালো, দুটো বাজতে দশ।

    ঠিক এই সময় কানে এলো কিছু। সে নিঃশ্বাস বন্ধ করে ঝুঁকে পড়লো। কান খাড়া করলো।

    শক্ত কাঠের ওপর ঠুকলে যেমন শব্দ হয় তেমন আওয়াজ। শব্দটা আস্তে কিন্তু ভয় জাগানো। নিচে কোনো লোক নিঃশব্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে-লাইব্রেরি থেকে আওয়াজটা ভেসে আসছে।

    সে সন্তর্পণে লিওপোল্ডকে ডান হাতে ধরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলো। লাইব্রেরির দরজার সামনে এসে দরজায় কান পাতলো। কোনো শব্দ নেই। সে আচমকা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে আলো জ্বালালো।

    ঘর খালি। ঘরটি বেশ বড়ো। তিনদিকে তিনটে জানলা। বারান্দার দিকে সব জানালাই খোলা। মাঝখানের জানালাটার খিল খোলা।

    সে সেটা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে সজাগ দৃষ্টিতে চারপাশ দেখলো। না, কিছুই নেই।

    মুহূর্ত খানেক পর আবার লাইব্রেরিতে ঢুকলো। দরজার তালা বন্ধ করে চাবি নিজের কাছে রেখে আলো নিভিয়ে কান পেতে রইলো, চট করে খোলা জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।

    খুব হালকা পায়ে চলার আওয়াজ বারান্দায় শোনা যাচ্ছে?

    না, কিছুই নেই। এটা কি তার কল্পনা মাত্র।

    রাত দুটো বাজার ঘন্টা পড়লো।

    .

    বান্ডলের অ্যাডভেঞ্চার

    বান্ডল ব্রেন্ট যেমন বুদ্ধিমতী তেমনি কল্পনাশক্তি প্রবল। সে বুঝতে পেরেছিল, বিল এই রাতের বিপজ্জনক কাজে ওকে অংশ নিতে দেবে না। তাই আগে থেকে নিজের মনে পরিকল্পনা করে রেখেছিল। সে তার শোবার ঘর থেকে বাড়ির বাইরেটা এ ঝলক দেখে নিয়েছিল। ওর ঘরের জানলার পাশে চমৎকার আইভি লতার ঝোঁপ রয়েছে, সেইরকম লতার অ্যাবী সাজানো আছে।

    বিল আর জিমির কাজে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ সে খুঁজে পায়নি। ওদের দুজনকে যে এত সহজে বোকা বানাতে পারলো সেটা ভেবে ও মনে মনে অবাক হলো।

    সে নিজের ঘরে এসে চট করে সান্ধ্যপপাশাক ছেড়ে পরে নিলো একটি পোশাক যেটি সে স্যুটকেসে করে নিয়ে এসেছিলো। ঘোড়সওয়ারের ব্রিচেস, রবারের সোলের জুতো আর গাঢ় রঙের একটা পুলওভার পরে বান্ডল তৈরি হয়ে নিলো। রাত একটাতে কাজ শুরু করবে সেটা সে আগেই ভেবে রেখেছিল। কারণ ততক্ষণে সকলে ঘুমের মধ্যে ডুবে যেতে পারবে।

    নির্দিষ্ট সময়ে সে জানলার কাঁচ তুলে বাইরে বেরিয়ে এলো। বিড়ালের মতো গাছে উঠতে বান্ডল অভ্যস্ত। তাই নিঃশব্দে কিছু ফুলগাছের ঝোঁপের ওপর সে লাফিয়ে পড়লো।

    পশ্চিম দিকের ঘরে আছেন বিমানমন্ত্রী আর তার সেক্রেটারি। বাড়ির দক্ষিণে আর পশ্চিমে একটা লম্বা বারান্দা আছে।

    বাড়ির ছায়ার আড়ালে নিজেকে গোপন রেখে সে পায়ে পায়ে দক্ষিণের বারান্দার দিকে এগোলো। দ্বিতীয় কোনটা পার হতেই সে বাধা পেলো। সামনে দাঁড়িয়ে একজন মানুষ, সে তার পথ রোধ করতে চায়।

    বান্ডল চিনতে পারলো।

    –সুপারিন্টেন্ডন্ট ব্যাটল, আমাকে বেশ ভয় পাইয়ে দিয়েছেন।

    –সেইজন্যই এখানে রয়েছি।

    –আপনি এখানে কি করছেন?

    –যাদের বাইরে আসার কথা নয়, তারা যেন না আসে, সেটা দেখছি। যেমন আপনি, আশা করি এত রাতে আপনি যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াবেন না?

    –আপনি আমাকে ফিরে যেতে বলেছেন? বান্ডল বললো। ভাবছিলাম একটু পশ্চিম দিকটায় যাবো। না যেতে পারলে বড় মন খারাপ হয়ে যাবে।

    বেশ তাড়াতাড়ি বুঝতে পারে ব্যাটল, লেডি এইলিন। আপনি জানলা দিয়ে না দরজা দিয়ে বাইরে এসেছেন?

    –জানলা দিয়ে। আইভি লতা বেয়ে সহজেই নিচে নেমেছি।

    এবার আপনার পক্ষে শুতে যাওয়াই মঙ্গল, লেডি এইলিন দৃঢ়তা স্পষ্ট। বান্ডল হতাশ হয়ে পেছন ফিরে হাঁটতে শুরু করলো। আইভি লতা বেয়ে উঠতে গিয়ে হঠাৎ মনে পড়লো, আচ্ছা সুপিরন্টেন্ডেন্ট ওকে সন্দেহ করবে না তো?

    অবশ্য ব্যাটলের হাবভাব সেটা বেশ স্পষ্ট। জানলার কার্নিসে পা রেখে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে আপন মনে হেসে উঠলো। উনি ওকে সন্দেহ করেন এর চেয়ে মজার ব্যাপার আর হয় না।

    বিছানায় শুয়ে ঘুমোনোর মেয়ে বান্ডল নয়। আবার অন্যদিকে যখন কোনো দুঃসাহসিক আর উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটতে চলেছে তখন চুপচাপ বসে থাকার মত মেয়ে সে নয়।

    ঘড়িতে তখন দুটো বাজতে দশ মিনিট বাকি। কয়েক মুহূর্ত কি ভেবে চুপচাপ দরজা খুললো। নিঃশব্দে বারান্দা দিয়ে এগোলো।

    যেতে যেতে একটু থমকে দাঁড়ালো। কিসের যেন আওয়াজ আসছে। পরক্ষণে কিছু নয় ভেবে আবার পা বাড়ালো। এবার প্রধান বারান্দায় উঠে পশ্চিম দিকে চললো। ঠিক এখানেই কিছু একটা সামনে দেখে আশ্চর্য হয়ে গেল।

    জিমির তো এখানে থাকার কথা। কিন্তু ও গেল কোথায়?

    রাত দুটো বাজার ঘণ্টাধ্বনি শুনতে পেলো তখনই।

    কি করবে ভাবছে এমন সময় তার হৃদপিণ্ড ছলাৎ করে লাফিয়ে উঠলো। টেরেন্স ও’রুরকের ঘরের দরজার হাতলটা আস্তে আস্তে খুলতে শুরু করেছিল।

    সে নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ করে হাতলটার দিকে তাকিয়ে রইলো। কিন্তু দরজাটা খুললো না। হাতলটা আবার নিজের জায়গাতেই ফিরে এলো। এ সবের মানে কি?

    বান্ডল আচম্বিতে সচেতন হলো। জিমি যে কারণে হোক ওর জায়গা ছেড়ে চলে গেছে। বিলকে ডাকতে হবে।

    সে দ্রুত পায়ে বিলের ঘরে চাপা স্বরে বিলকে ডাকতে লাগলো। কয়েকবার ডাকার পর বিলের সাড়া না পেয়ে আলো জ্বালালো। একি বিছানা খালি! বিল কোথায় গেল তাহলে?

    হঠাৎ খেয়াল হলো সে ভুল করে অন্য ঘরে ঢুকে পড়েছে। কারণ পাতলা রাত্রিবাস, টুকিটাকি মেয়েলি জিনিষ পড়ে আছে। কালো ভেলভেটের কিছু পোশাক ড্রেসিং টেবিলে রয়েছে বুঝতে অসুবিধা হলো না, এটা কাউন্টেস র‍্যাডকির ঘর। কিন্তু তিনিই বা কোথায়?

    বান্ডল হতভম্ব হয়ে ভাবতে লাগলো। ঠিক সেই মুহূর্তে নিচ থেকে উঠে আসা গোলমালের আওয়াজে তার সম্বিত ফিরে এলো।

    শব্দ লক্ষ্য করে বান্ডল দ্রুত নিছে নেমে লাইব্রেরির দিকে ছুটলো, কেউ যেন প্রচণ্ড শব্দে চেয়ার টেবিল আছড়ে ফেলছে।

    লাইব্রেরির দরজা বন্ধ। দরজায় আঘাত করলো। খুললো না। ভেতরে লড়াই যে ভালো চলছে সেটা বুঝতে অসুবিধা হলো না বান্ডলের।

    তারপরেই পরপর দুটো গুলির আওয়াজে আর স্পষ্টভাবে খান খান হয়ে গেল রাতের নিস্তব্ধতা।

    .

    লোরেনের অ্যাডভেঞ্চার

    ঠিক রাত সাড়ে নটার লোরেন শুতে গিয়েছিল। একটা বাজতে দশ-এ তার ঘুম ভাঙলো। কয়েকঘন্টা ঘুমিয়ে তার শরীর ঝরঝরে হয়ে গেছে।

    ঐ ঘরে ওর সঙ্গে কুকুরদুটোও ঘুমোচ্ছিল। ওদের একজন সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে লোরেনের দিকে তাকালো।

    -চুপ করে ঘুমো, লার্চার। কুকুরটা মাথা নিচু করে তাকিয়ে রইলো।

    লোরেন ওদের কথা মতো যুক্তি মেনে চুপ করে থাকাই ঠিক ভেবেছিল। কিন্তু ওর মুখ দেখে, ওর শক্ত ছোট্ট চোয়লের দৃঢ়তার ছাপ দেখলে যে কেউ বুঝে নিতে পারবে ওর মনের জোর কতখানি।

    একটা টুইডের কো আর স্কার্ট পরে পকেটে সে চট করে পুরে নিলো একটা টর্চ। হাতির দাঁতের হাতলের ছোট্ট একটা পিস্তল নিলো।

    লোরেনকে তৈরি হতে দেখে লার্চার সামনে এসে ল্যাজ নাড়তে লাগলো।

    -না, লার্চার, এখন নয়। চুপ করে ঘরে থাকো।

    বাইরে বেরিয়ে দরজা বন্ধ করলো সে। তারপর বাইরে একটা দরজা দিয়ে বেরিয়ে টুসীটারে উঠে বসলো।

    কয়েক মিনিটের মধ্যে সে এসে পৌঁছালো ওয়াইভার্ন অ্যাবীর বাগানে।

    ধীর পায়ে বাড়িটার দিকে এগোলো। দুটো বাজলো কোথাও। বারান্দার কাছে আসতেই তার বুকের ওঠানামা বেড়ে গেল। বারান্দায় উঠে চারিদিকে সজাগ দৃষ্টি দিলো।

    আচমকা তার পায়ের সামনে একটা কি এসে পড়লো। সে নিচু হয়ে তুলে নিলো। বাদামী রঙের একটা কাগজের প্যাকেট। ওপর দিকে তাকালো।

    ওর ঠিক মাথার ওপরের দিকে খোলা জানলা দিয়ে একটা পা বেরিয়ে এলো আর একটা লোক আইভি লতা বেয়ে নামতে শুরু করলো।

    এক মুহূর্ত দেরি না করে প্যাকেট হাতে নিয়ে লোরেন ছুটতে লাগলো। পেছন থেকে ভেসে আসা হুটোপাটির শব্দ ও তখনও শুনতে পাচ্ছে। ভয়ে সিঁটিয়ে পড়িমড়ি করে তখন ছুটছে লোরেন। বারান্দা পেরোতে গিয়ে সে বাধা পেলো। একজন স্বাস্থ্যবান পুরুষ ওকে জাপটে ধরেছে।

    –ভয় নেই, সুপারিন্টেন্ডেন্টের দয়ার্দ্র কণ্ঠস্বর শোনা গেল।

    লোরেন হাঁফাতে হাঁফাতে বললো, তাড়াতাড়ি চলুন, ওরা বোধহয় পরস্পরকে মেরে ফেলেছে।

    সেই সময় দুবার গুলির আওয়াজ ভেসে এলো।

    দুজনে দ্রুত পায়ে লাইব্রেরির খোলা জানলার সামনে এসে দাঁড়ালো। ব্যাটল টর্চ জ্বালাতে গিয়ে ধাক্কা খেল।

    জানালার প্রায় নিচে রক্তের স্রোতের মধ্যে পড়ে আছে জিমি থেসিজারের অচৈতন্য দেহ, ডানহাতটা অদ্ভুতভাবে বাঁকানো।

    লোরেন নিজেকে সংযত রাখতে পারলো না। কান্না জড়ানো গলায় বললো, ও মনে গেছে। জিমি–জিমি মরে গেছে।

    –উনি মারা যাননি। ঠিক আছে। ব্যাটল ওকে আশ্বস্ত করলেন। দেখুন আলোটা জ্বালতে পারেন কিনা।

    লোরেন ঘরে ঢুকে সুইচ টিপতেই সারা ঘর আলোকিত হয়ে উঠলো।

    ততক্ষণে দরজার বাইরে শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন কণ্ঠের কোলাহল। তারা ঘরে ঢুকতে চাইছিল।

    একটা রুমাল বের করে জিমির ডান হাতে যেখানে গুলি লেগেছে, সেখানে বেঁধে দিতে দিতে ব্যাটল বললেন–বেশি রক্তপাত হওয়ার জন্য উনি জ্ঞান হারাননি। পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পেয়েছেন।

    দরাজায় তখন উধ্বশ্বাসে করাঘাত হচ্ছে। ব্যাটল ঘরের চারিদিকে একবার খুঁটিয়ে দেখে নিলেন। একটা অটোমেটিক পিস্তল জিমির পাশে পড়েছিল। সেটা তুলে টেবিলের ওপর রেখে দরজার খিল খুলে দিলেন।

    একসঙ্গে কয়েকজন লোক ঢুকে পড়লো। জর্জ লোম্যাক্স বললেন, সুপারিন্টেভেট ব্যাটল, আপনি এখানে? মানে, কি হয়েছে?

    মেঝেতে পড়ে থাকা জিমির দিকে তাকিয়ে বললো-হা ঈশ্বর!

    দামী রাত্রিবাস পরিহিতা লেডি কুট বললেন–উঃ বেচারী।

    বান্ডল বললো লোরেন!

    হের এবারহোর্ড মন্তব্য করলেন–হা ভগবান!

    স্যার স্ট্যানলি ডিগবিহা ঈশ্বর, এসব কি?

    অত রক্ত দেখে বাড়ির এক পরিচারিকা নরম উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন, উঃ কি রক্ত দেখেছেন।

    ততক্ষণে প্রধান পরিচারক অন্যান্য ঝি-চাকরদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে ভিড়টা হালকা করে নিলো।

    জর্জ লোম্যাক্স বলে উঠলেন–ব্যাটল, কি ঘটেছে?

    ব্যাটল বললেন–এখানে একটা ইয়ে মানে, আপনারা যে যার ঘরে শুতে যান দয়া করে। তারপর একটু সহজ ভাবে বললেন, এখানে একটা ছোট দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    -হা মানে এটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। সবাই শুতে গেলে খুশী হবো।

    কিন্তু কেউ ঘর ছাড়তে রাজী নয় বোঝা গেল।

    এই সময় জিমি নড়েচড়ে উঠে বসলো-হ্যাল্লো, ও গম্ভীর গলায় বসে উঠলো, কী হয়েছে?

    এবার ঘরের চারিদিকে সতর্ক দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।

    –আপনারা লোকটাকে ধরতে পেরেছেন? আইভি লতা বেয়ে লোকটা যখন উঠছিল তখন আমি জানলার তলায় ছিলাম। ধরে ছিলাম লোকটাকে প্রচণ্ড মারামারি করেও

    -এই সেই খুনী বদমাইস নিশ্চয়ই, লেডি কুট মন্তব্য করলেন।

    –মনে হছে, আমরা সব ভণ্ডুল করে দিয়েছি, যা ষাড়ের মতো শক্তি লোকটার।

    ঘরের চেহারা দেখলে তা মালুম পাওয়া যায়।

    জিমি কি যেন খুঁজছিল। হঠাৎ বললল–আমার লিওপোল্ড?

    ব্যাটল টেবিলের ওপরে রাখা পিস্তলটা ইঙ্গিত করলেন। আশা করি এটাই আপনার লিওপোল্ড?

    –হ্যাঁ, জিমি বললো, এটার ওপর ভরসা করেছিলাম খুব। ঠিক মত ট্রিগার টানতে পারলে একটা কেন, আরো কয়েকটা গুলি চালানো যেত। লোকটা জানলার কাছে দৌড়ে যেতে আমি গুলি ছুঁড়ি প্রথমে। সে ঘুরে আমাকে গুলি করে।

    স্যার স্ট্যানলি ডিগবি এতক্ষণে শিরদাঁড়া সোজা করলেন।

    –লোম্যাক্স, ওরা সেটা নিয়ে পালায়নি তো? হা ভগবান!

    তিনি ঘর থেকে ছুটে বেরোলেন, একটু পরে ফ্যাকাসে মুখে ফিরে এলেন। -ও’রুরকে নিশ্চয়ই কেউ ঘুমের ওষুধ খাইয়েছে। কিছুতেই ওর ঘুম ভাঙাতে পারলাম না। কাগজগুলোও নেই। নিশ্চয়ই ওরা হাতিয়েছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }