Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2514 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৬. করুণ চোখের দৃষ্টি

    ১৬.

    জাদা ক্রিস্টো পোষাকের পেছন দিকটা তুলে মাথার ওপর দিয়ে একটা চেয়ার এসে দখল করল। অনিশ্চয়তায় ভরা তার করুণ চোখের দৃষ্টি। সে বলে, আমি ঠিক জানি না, আমি জানি না, সত্যি আমার কাছে সবই অজানা। কিছুই যেন ঘটেনি।

    মিসেস প্যাটারসন দয়ালু মনের, তবে স্বভাব বেশ দৃঢ়চেতা। তিনি বলেন, আমি জানি, আমি সব জানি বোন। তিনি জানতেন শোকের মুহূর্তে কীভাবে সান্ত্বনা দিতে হয়। বিপদে-আপদে এলসি সহযোগীদের কথা তুলনা করে তার বাড়ির লোকজনদের এই অভিমত।

    হার্লি স্ট্রিটে জার্দার শোবার ঘরে তিনি এখন বসে আছেন। সেখানে বসেই তিনি চমৎকার সান্ত্বনা দিতে পারেন। লম্বা গড়নের এলসি প্যাটারসন বেশ হাসিখুশি স্বভাবের এবং উদ্যমশীল। জাদার এই ব্যাপারটাকে তিনি বিরক্তি এবং সহযোগিতার দৃষ্টি দিয়েই দেখছিলেন।

    বেচারা জার্দা–স্বামী এইভাবে হারানোয় তার পক্ষে কতটা ভয়ানক শোকাবহ। আসলে এখন তিনি ব্যাপারটাকে সম্পূর্ণভাবে ঠিকঠাক ভাবে বুঝে উঠতে পারেননি! মিসেস প্যাটারসন অবশ্য জানতেন যে, জাদার সবকাজই বেশ ধীরস্থির। তাই এই শোকের সময়েও তার সবক্ষেত্রেই সময় একটু বেশি লাগাটাই স্বাভাবিক।

    ব্যস্তকণ্ঠে তিনি বলে ওঠেন, আমার মনে হয় যে, কালো রঙের পোষাকটা আমি বারো গিনিতেই কিনে নিতে পারব। জাদা নীরব এবং নির্বিকার চিত্তেই দাঁড়িয়ে রইল, শুধু তার যুগল আন্দোলিত হল মাত্র। সে বলে ওঠে, আমি সত্যি এই সত্য জানি না যে, শোক এই ব্যাপারটা জনের পছন্দের তালিকায় পড়ত কিনা, আমার যতদূর মনে আছে, তিনি একবার নিজের মুখে বলেছিলেন যে, শোকের সময় কালো পোষাক ব্যবহার করা মোটেই তিনি পছন্দ করতেন না। জন বেঁচে থাকলে একমাত্র সেই আমাকে বলে দিতে পারত আমার এখন কী করণীয়।

    কিন্তু জন আর কোনোদিনের জন্যই এখানে আসতে পারবে না…কখনও না-কোনোদিন না …ভেড়ার মাংস টেবিলের ওপর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে–রোগী দেখার ঘরের দরজার শব্দ…জন ছুটে ছুটে উপরে আসছে…সর্বদাই ব্যস্ত পদক্ষেপ…এত জীবন্ত, এত স্বাভাবিক…

    জীবন্ত…চিৎ হয়ে সুইমিং পুলের পাশে শায়িত বুকের থেকে ঝরা রক্ত পুলের কিনারা থেকে জলে এসে পড়ছে…হাতে রিভলবারের স্পর্শ..

    একটা দুঃস্বপ্ন একটা খারাপ স্বপ্ন দেখে তার ঘুম ভেঙে গেছে। কিন্তু কেউ তার স্বপ্নের কথা বিশ্বাস করতে প্রস্তুত নয়। তার দিদির কর্কশ কণ্ঠস্বর কানে আসতেই জাদার চিন্তাজাল মাঝপথেই ছিন্ন হয়ে যায়…।

    তিনি বলে ওঠেন, কিন্তু বিচারের মাধ্যমে অনুসন্ধান করতে গেলে কালো পোষাকের প্রয়োজন হতে পারে, তুমি যদি উজ্জ্বল পোষাক গায়ে চড়িয়ে সেখানে হাজির হও তবে খুব দৃষ্টিকটু দেখাবে।

    জাদা সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠে, ভীতিপ্রদ গোছের এই বিচার! জার্দা চোখ বন্ধ করে। এলসি প্যাটারসন তাড়াতাড়ি বলে ওঠেন, তোমার পক্ষে এককথায় সাংঘাতিক বটে! তবে আমার মনে হয়, তুমি স্বমহিমায় আবার আমাদের কাছে ফিরে আসবে এবং আবার আমরা তোমাকে আগের মতো আতিথেয়তা করতে পারব।

    জার্দা ক্রিস্টোর নীহারিকার মতো চিন্তার রেখা ক্রমেই কঠিন হতে থাকে। সে শুধু বলতে পারে, তার স্বর সত্যি খুব ভয়ার্ত এবং শুনে মনে হয় প্রায় ভীতসন্ত্রস্তও বটে–আমি কী করার জন্য ক্ষেপে উঠেছি, জনকে ছাড়া আমার পক্ষে কী বা করা সম্ভব?

    এলসি প্যাটারসনের কাছে এ কথার জবাব তৈরিই ছিল। তিনি বলে ওঠেন, তোমার সন্তান আছে, তাদের মুখ চেয়েই তোমাকে জীবনের বাকি ক’টা দিন বেঁচে থাকতে হবে।

    বিছানায় মুখ গুঁজে জেনা চিৎকার করে চোখের জল ফেলছে, আমার বাবা মারা গেছেন, আমার বাবা আর বেঁচে নেই।

    পাণ্ডুর মুখে জিজ্ঞাসু নেত্রে বধিরের মতো বসে আছে টেরি। রিভলবার নিয়ে একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। এই কথা বলেই তাদের শুধু সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে, তারা এইটুকু সত্যই জানতে পেরেছে যে, এক দুর্ঘটনায় তার বাবা মারা গেছে।

    বেরিল কলিন্স সকালের কাগজটা লুকিয়ে ফেলেছিল, তাই ছেলেমেয়েদের দৃষ্টি পড়েনি। চাকরদের সে বারংবার সাবধান করে দিয়েছে, বেরিল যেমন দয়াবতী তেমনি চিন্তা করেই কাজ করেন।

    টরেন্স আবছা অন্ধকারে বসার ঘরে মায়ের কাছে এগিয়ে এসে পাংশু মুখেই জিজ্ঞাসা করল, বাবাকে কেন গুলি করা হল?

    এটা নিছক একটা দুর্ঘটনা বাবা, এ ব্যাপারে কিছুই আমি বলতে পারি না।

    এটা শুধুই এক দুর্ঘটনা নয় মা, যা সত্যি নয় তা বলছ কেন? বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা খুন। খবরের কাগজে বড় বড় হরফে অবশ্য তাই উল্লেখ করেছে।

    সে শুধু মাথা নাড়ে, বুড়ো মানুষের মতো অদ্ভুতভাবে মাথা নাড়তে থাকে। আমি বাইরে থেকে একটা কাগজ কিনে এনেছিলাম। আমার মনে সন্দেহ দানা বেঁধে ছিল যে, এমন কিছু আছে যা তোমরা আমাদের কাছ থেকে লুকোতে চাইছ, তাই যদি না হয় তবে মিস কলিন্স খবরের কাগজ লুকিয়ে রাখতে গেল কেন?

    টরেন্সের কাছে কোনো জিনিষ লুকিয়ে বোধহয় রেহাই নেই। সেই অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গীর ছেলেটি যতক্ষণ না সন্তুষ্ট হবে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে আসল কথা ঠিক পেট থেকে বার করে ফেলবে।

    বাবাকে কেন হত্যা করা হল মা?

    জাদা এখন বিকারগ্রস্ত রুগীর মতো কান্নায় ভেঙে পড়ে। আমাকে এ বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করো না বাবা–এ বিষয়ে কোনো কথা তুলো না–এ বিষয়ে কোনো কথা বলার ক্ষমতা আমার নেই…সত্যি এই ঘটনাটা খুব ভীতিপ্রদ।

    কিন্তু আমার মনে হয় আসলে ঘটনাটা কী ঘটেছিল সেটা কি সামনে বেরিয়ে আসবে, ঘটনাটা ঘটার পেছনে যে কারণ কাজ করেছে, সেটা জানারও প্রয়োজন আছে।

    জাদা মনের দিক থেকে এতটাই যুক্তিবাদী নিস্পৃহ স্বভাবের যে চিৎকার করে কাঁদতে এবং হাসতেও তার মনে সাধ জেগেছিল। জাদা মনে মনে ভাবে, ছেলে কাউকে গ্রাহ্য করতে পারে না–সে কিছুই গ্রাহ্য করে না–প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে সে লোককে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। সে একটি বারের জন্যেও চোখের জল ফেলেনি, চোখ দিয়ে নিজের অজান্তে এক ফোঁটা জলও গড়িয়ে পড়েনি। পিতার এইভাবে মৃত্যুটা সে মেনে নিতে পারেনি, সে ঠিক যেন এক প্রস্তর মূর্তি।

    টরেন্স তার মাসী এলসির প্রবোধবাণীকে ব্যঙ্গ করে উড়িয়ে দেয়, একটা ছোট্ট বালকের মনও যে এমন কঠোর মনোভাবের হতে পারে, কেউ বোধহয় সেটা স্বপ্নেও ভাবতে পারে না। টরেন্সের মনে সর্বদা একটা চিন্তাই ঘুরপাক খেত যে, সে বড় একা। তার মনের সঙ্গে কারো মিল ছিল না। কিন্তু সেটা ছিল তার নিছক এক কল্পনা। আজ বাবাকে হারিয়ে তার মনে সত্যিই এই ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেল যে, এই জগতে সে বড়ই একা।

    কিন্তু আজ সে একটু অন্যরকম ভাবে চিন্তা করার চেষ্টা করছে। কোনো প্রশ্নের সদুত্তর দেবার মতো তার কাছে আর কেউ রইল না, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তার প্রশ্নের জবাবও কেউ দিতে পারবে না–তাই প্রশ্নের জবাবও অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

    আগামীকাল, মঙ্গলবার সে এবং নিকোলাস নাইট্রোগ্লিসারিন তৈরির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। অত্যন্ত আগ্রহ এবং উৎসাহের সঙ্গে সে কাজে অগ্রসর হয়েছিল এবং আজ তার মধ্যে সেই পূর্বের উৎসাহ আর নেই। সে নাইট্রোগ্লিসারিন তৈরি করল কি করল না, তাতে কিছু যায় আসে না।

    টরেন্স নিজে এই বিষয়ে যথেষ্ট শোকাহত। এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সে আর ভয় পায় না, একটি ছেলের বাবাকে যখন নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়…সে ভাবে, আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে..

    কিছু একটা যেন তার মনকে নাড়া দিয়ে উঠল–শেকড় গজাল-ধীরে ধীরে ক্রোধে মাথা তুলে দাঁড়াল।

    বেরিল কলিন্স শোবার ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল, তার চোখমুখ ফ্যাকাসে রক্তশূন্য হয়ে গিয়েছিল, নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বলে উঠল, ইন্সপেক্টর গ্র্যাঞ্জ এসেছেন। জার্দা যেন হাঁফাতে হাঁফাতেই করুণ দৃষ্টিতে কলিন্সের মুখের দিকে একবার তাকাল। বেরিল সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠে, তিনি বলেছেন যে, তিনি আপনাকে খুব বেশি বিরক্ত করবেন না, এই অকারণে ভয় পাবার মতো কিছু হয়নি। তার গতানুগতিক প্রশ্নের বাণ তিনি এবার ছুঁড়তে শুরু করে দেবেন, ডক্টর ক্রিস্টোর চিকিৎসার পসার সম্বন্ধে এবং আর যদি বাকি থেকেও থাকে সবই আমি জবাব দিতে পারব। শুধুমাত্র যাবার আগে আপনার সঙ্গে হয়তো একবার দেখা করতে পারেন।

    তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আচ্ছা চলি।

    মিসেস তাড়াতাড়ি প্রস্থান করে। জার্দা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে শুধু বলে ওঠে, কলিন্স বরাবরই সাহায্য করে আসছে, সে যথেষ্ট বাস্তব!

    মিসেস প্যাটারসন সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন, নিশ্চয়, চমৎকার সেক্রেটারী সাদাসিধে গরীব ঘরের মেয়ে, নয় কী? জনের মতো আকর্ষণীয় পুরুষের কাছে এই রূপটাই আকর্ষণীয়।

    জার্দা তার দিকে তাকিয়ে মুহূর্তের মধ্যে যেন দপ করে জ্বলে ওঠে।

    তুমি কি বলে চলেছ এলসি? তুমি ভাবছ সুন্দরী সেক্রেটারি হলে জন তাকেই মন দিয়ে বসত, প্রেম করত তার সঙ্গে? না কখনও না, কখনও না–জন কোনদিন সেই চরিত্রের লোক ছিল না।

    একথা তো নিঃসন্দেহে বলা যায় বোন, জন সে ধরনের লোক কোনোদিনই ছিল না, কিন্তু এই কথাটা অত্যন্ত সাধারণের ভাষায় বলা হয়ে গেল–সাধারণ লোক তো ঐরকম স্বভাবেরই হয়ে থাকে। মিসেস প্যাটারসন বলে যান।

    রোগী দেখার ঘরে ইন্সপেক্টরের দৃষ্টি চলে গেল বেরিল কলিন্স-এর যুদ্ধং দেহী’ ভাবের দিকে। এটাই তো স্বাভাবিক। সে ভাবে, ডাক্তার এবং কলিন্স-এর মধ্যে যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি নেই–এই ব্যাপারটা স্পষ্ট। ডাক্তারের কাছে কলিন্স মিষ্টি স্বভাবের হলেও হতে পারে, কিন্তু তাতে করে খুব বেশি জল ঘোলা হবে না এটাও ঠিক।

    বেরিল কলিন্স গ্রাঞ্জের প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিয়ে দেয় এবং ডাক্তারের পেশার খুঁটিনাটি সবকিছুই তার নখদর্পণে। গ্র্যাঞ্জ বিষয়ান্তরের দিকে গমন করল। তার বাসনা এখন জন এবং জাদার সম্পর্কের মধ্যে নাক গলানো।

    বেরিল বলল, তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল এককথায় ভীষণ ভালো।

    ইন্সপেক্টর খুব গোপন একটা কথা জিজ্ঞাসা করে ওঠে, আচ্ছা, তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়েই নাকি আর দশটা বিবাহিত যুগলের মতো সর্বদা কিছু-না-কিছু নিয়ে ঝগড়া করে যেত?

    এমন ঝগড়ার কথা আমি কল্পনাতেও আনতে পারি না।–মিসেস ক্রিস্টো নিঃসন্দেহে স্বামীর প্রতি অনুরক্তা ছিলেন, অনেকটা ঠিক ক্রীতদাসীর মতোই বিশ্বস্তা এবং অনুগতা।

    গ্র্যাঞ্জ–নিজের জন্য কিছু করতেন না?

    বেরিল–না, সবকিছুতেই ডাক্তার ক্রিস্টোকে কেন্দ্র করে ঘুরে বেড়াত।

    গ্র্যাঞ্জ–অত্যাচারী, এ্যা?

    বেরিল ভাবতে থাকে।

    -না, তা বলা বোধহয় উচিত হবে না আমার, তবে তিনি নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছু ভাবতে পারতেন না। তিনি মনে মনে সবসময়ে এটাই প্রত্যাশা করতেন যে, মিসেস ক্রিস্টো–ক্রিস্টোর ইচ্ছামতোই চলবেন।

    গ্র্যাঞ্জ–রোগীদের নিয়ে কোনো অসুবিধা ছিল না? আমি বলতে চাইছি, রোগিণীদের সঙ্গে কোনোরকম…আপনি সহজ করেই বলতে পারেন, মিস কলিন্স। লোকেরা অবশ্য ভাবে, ডাক্তারের সেইদিক থেকেও অসুবিধার কারণ ঘটতে পারে…

    ঘৃণায় বেরিলের নাসিকা সঙ্কুচিত হয়ে যায়, সে বলে ওঠে, ওঃ, সেইরকম জিনিষ! ডাক্তার ক্রিস্টো এমন একজন চিকিৎসক ছিলেন যে সে লাইনের যে-কোনো অসুবিধা দূর করার ক্ষমতা তার ছিল। রোগী বা রোগিণীদের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার ছিল অত্যন্ত মধুর। আসলে তিনি যে একজন অত্যাশ্চর্য চিকিৎসক ছিলেন এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

    গ্র্যাঞ্জ–কোনো স্ত্রীলোকের সঙ্গে কোনো ব্যাপারে কি তিনি কখনো জড়িয়ে পড়েছিলেন? আনুগত্যর মধ্যে থেকে বেরিয়ে এসে জবাব দেবেন, এগুলো জানার সত্যি খুব প্রয়োজন আছে মিস কলিন্স।

    বেরিল–হ্যাঁ, আমি সেটা ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারি। না, এমন কোনো ঘটনা সত্যি আমি জানি না।

    গ্র্যাঞ্জ–হেনরিয়েটা স্যাভারনেকের ব্যাপার কি? বেরিলের মুখ বন্ধ হয়ে যায়।

    বেরিল–এই পরিবারের তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

    গ্র্যাঞ্জ–ডাক্তার ক্রিস্টো এবং মিসেস ক্রিস্টোর মধ্যে মিস হেনরিয়েটাকে নিয়ে তার মনে কী অশান্তি ছিল?

    বেরিল– কখনও না

    গ্র্যাঞ্জ–মিস ভেরোনিকা ক্রে-র কি খবর?

    বেরিল–ভেরোনিকা ক্রে! বেরিলের কণ্ঠস্বরে নির্ভেজাল বিস্ময়ের সুর।

    গ্র্যাঞ্জ–ডাক্তার ক্রিস্টোর বান্ধবীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।

    বেরিল–আমি তার সম্বন্ধে কোনোদিন কিছু শুনিনি। তবে নামটা খুব শোনা শোনা লাগছে।

    গ্র্যাঞ্জ-সিনেমার অভিনেত্রী।

    বেরিল–হ্যাঁ, হা, মনে পড়েছে। এইজন্যই নামটা শুনে মনে হচ্ছিল খুব চেনা চেনা। তবে আমি জানতাম না যে, ডাক্তার ক্রিস্টোর সঙ্গে তার কোনো পরিচয় ছিল কিনা!

    বেরিলের বলার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল তার প্রত্যুত্তরে দেওয়া জবাবও খুব স্পষ্ট, তাই এ্যাঞ্জের পক্ষে কোনো প্রশ্ন তোলা সত্যি সম্ভবপর ছিল না।

    গত শনিবারে ডাক্তার ক্রিস্টোর আচার-ব্যবহারে কোনো ব্যতিক্রম চোখে পড়েছিল কি? শুধু এই প্রসঙ্গে এসেই তার গোপনীয়তা ভেঙে গেল এবং জবাবও একটু আলাদা ধরনের শোনাল।

    বেরিল–তার হাবভাব মোটেই প্রতিদিনের মতো ছিল না।

    গ্র্যাঞ্জ–কোনো পরিবর্তন নজরে পড়েছিল কি?

    বেরিল–সাধারণ কোথাও যাবার থাকলে একটু তাড়াতাড়ি রোগী দেখার ব্যাপারটা সেরে রাখতেন। কিন্তু এবার ঘটনাটা হল একটু আলাদা, শেষ রোগীণীকে দেখার আগে বহুক্ষণ এভাবে কেটে গেল, রোগী দেখার ঘন্টা বাজানোর কথা তার মনেও এল না। আমার মনে হয় তিনি হয়তো কোনো গভীর চিন্তায় ডুবে গেলেন। এর বেশি কিছু বলা আমার পক্ষে সত্যি সম্ভব নয়।

    ইন্সপেক্টর গ্র্যাঞ্জ নিজের অনুসন্ধানে মনের দিক থেকে মোটেই খুশী হতে পারছিল না। এমন কিছু সে উদ্ধার করতে পারল না। যার ভিত্তিতে সে একটা মামলা দাঁড় করাতে পারে। সরকারী উকিলের কাছে কোনো কেসের জন্য দ্বারস্থ হলেই কেসের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আইনের যুক্তিতে সেগুলো আগে প্রমাণ করতে হবে। সে মনে মনে এই সত্যটা ভালোভাবেই বুঝে গিয়েছিল যে জনের হত্যাকারী স্বয়ং জার্দা ক্রিস্টো। তার মনে সন্দেহ জেগেছিল এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই আছে–ঈর্ষাই হয়তো এই হত্যার সেই মোটিভ, সে মনের দিক থেকে এই যুক্তি গ্রহণ করলেও এই পথে অগ্রসর হওয়ার মতো সাহায্যকারী কোনো প্রমাণ তার হাতে এসে ঠেকল না। সারজেন্ট কুম্বসের দায়িত্ব ছিল চাকরানীদের জেরা করার, কিন্তু তারাও সেই একই কাহিনীর পুনরাবৃত্তি করল। তারা সবাই একই কথা বলে গেল। মিসেস ক্রিস্টো সেই মাটিকে তার দেবতার আসনে বসে পুজো করে, যে মাটির ওপর দিয়ে তার স্বামী হেঁটে যায়।

    গ্রাঞ্জের মনে হল, যা কিছু ঘটার সব হলোতেই ঘটে গেছে। কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতিও হতাশাব্যঞ্জক। সেখান থেকেও কোনো সূত্রের সন্ধান করা যায়নি!

    ডেস্কের ওপর রাখা টেলিফোনটা শব্দ করে বেজে ওঠে, মিস কলিন্স এগিয়ে এসে রিসিভার তোলে।

    সে বলে ওঠে, টেলিফোনে আপনাকে ডাকছে, ইন্সপেক্টর।

    –হ্যালো, গ্র্যাঞ্জ বলছি। কি?–বেরিল কৌতূহলের সঙ্গে গ্রাঞ্জের মুখের দিকে একদৃষ্টে অপলক নয়নে তাকিয়ে উভয়ের কথোপকথন নীরবে শুনে যাচ্ছিল। কাঠের তৈরি মুখের মতো এ্যাঞ্জের মুখও পূর্বের মতোই আবেগ-বহির্ভূত।

    হ্যাঁ, হা..আমি তা পেয়েছি। তা তো ঠিকই! না, ভুলের কোনো অবকাশ থাকার কথা নয়। হা…হা…আমি, এক্ষুনি যাচ্ছি। আমি প্রায় সব শেষ করে এনেছি। হা..

    রিসিভারটা রেখে দিয়ে সে নির্বাক শ্রোতার মতোই নিশ্চল হয়ে বসে থাকল। বেরিলের দৃষ্টি জুড়ে উৎসুকতার ছটফটানি। নিজেকে বিন্যস্ত করে সম্পূর্ণ নতুন এক স্বরে সে জানতে চাইল, এ বিষয়ে আপনার কোনো ব্যক্তিগত মতামত আছে কি, মিস কলিন্স?

    বেরিল বলল–আপনি ঠিক কী বলতে চাইছেন?

    গ্র্যাঞ্জ–আমার বলার উদ্দেশ্য হল যে ডাঃ ক্রিস্টোর হত্যাকারীর সম্পর্কে আপনার নিজস্ব কোনো ব্যক্তিগত ধারণা আছে কি?

    বেরিল–এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই, ইনসপেক্টর।

    গ্র্যাঞ্জ–ডাঃ ক্রিস্টোর মৃতদেহের পাশে রিভলবার হাতে মিসেস ক্রিস্টো দাঁড়িয়েছিলেন..

    বেরিল–আপনি যদি ভেবে থাকেন যে, মিসেস ক্রিস্টো ডাঃ ক্রিস্টোর হত্যাকারী, তবে আমি বলব আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে। মিসেস ক্রিস্টো তেমন চরিত্রের স্ত্রীলোক নন। তিনি অত্যন্ত ধীর-স্থির-বিনীত-নম্র স্বভাবের এবং ডাঃ ক্রিস্টো যে তাকে পরিচালনা করতেন তিনি নীরবেই চালিত হতেন। কেউ যদি ভেবে থাকে যে, তার স্বামীকে তিনি নিজের হাতেই শাস্তি দিয়েছেন, আমার কাছে সত্যি এটা বিদ্রুপের মতোই শোনাবে, বর্তমান পরিস্থিতি যতই তার বিপক্ষে থাক-না-কেন?

    গ্র্যাঞ্জ–তিনি যদি খুন না করে থাকেন তবে কার পক্ষেই বা সম্ভব, বলুন?

    বেরিল–আমার এ ব্যাপারে কোন ধারণা নেই।

    গ্র্যাঞ্জ যাবার জন্য প্রস্তুত হয়েই দরজার দিকে এগিয়ে যায়।

    বেরিল–যাবার আগে আপনি কি একবার মিসেস ক্রিস্টোর সঙ্গে দেখা করবেন?

    গ্র্যাঞ্জ–হ্যাঁ, হা, মুখোমুখি কথা হওয়া বোধহয় একবার দরকার! বেরিলের এবার অবাক হওয়ার পালা, টেলিফোন বাজার আগে যে লোক তাকে প্রশ্ন করেছিল সে কখনোই এই লোক হতে পারে না! এমন কি খবর সে পেয়েছে যে এই অল্পসময়ের মধ্যেই তার এত পরিবর্তন?

    ভীতসন্ত্রস্ত পদক্ষেপে জাদা ঘরে এসে উপস্থিত হয়। তার চোখমুখ দেখে মনে হচ্ছিল মনের দিক থেকে সে কতটা অসুখী এবং হতবদ্ধিসম্পন্ন হয়ে পড়েছে। সে অত্যন্ত নিচু এবং কাঁপা কাঁপা-কণ্ঠে কোনোরকমে বলে উঠল, জনের হত্যাকারী হিসেবে আর কারো আপনারা সন্ধান করতে পেরেছেন কি?

    গ্র্যাঞ্জ–না, এখনও পারিনি, মিসেস ক্রিস্টো।

    জাদা নিঃশব্দে মাথা নাড়ে এবং নিচের দিকে তাকিয়ে একখানা ছোট রুমালকে পাকিয়ে বলের মতো বানাচ্ছে।

    গ্র্যাঞ্জ–আপনার স্বামীর কোন শত্রু ছিল কিনা, জানেন মিসেস ক্রিস্টো?

    জার্দা—জনের শত্রু? না, না, সত্যি সে অত্যাশ্চর্য ভাবের এক পুরুষ। সকলে তাকে পুজো করত।

    গ্র্যাঞ্জ–তার বিরুদ্ধে কোনো আক্রোশ ছিল এমন কারো কথা আপনার স্মরণে আসে কি? –অথবা আপনার বিরুদ্ধে কোনো আক্রোশ পুষে রাখে এমন কোনো লোক?

    জাদা–আমার বিরুদ্ধে আক্রোশ? না, না, ইনসপেক্টর।

    গ্র্যাঞ্জ–মিস ভেরোনিকা ক্রে’র কি খবর?

    জাদা–ভেরোনিকা ক্রে? ওঃ, যে দেশলাই ধার করতে সেই রাতে এখানে উপস্থিত হয়েছিল, আপনি তার কথা বলছেন তো?

    গ্র্যাঞ্জ–হ্যাঁ, হা আপনি চেনেন নাকি তাকে?

    জাদা–আমি তাকে সেইদিনের আগে কখনও দেখিনি। তবু বহু বছর আগে জনের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল–একথা শুনেছিলাম।

    গ্র্যাঞ্জ–আমার মনে হয় আপনার স্বামীর ওপর তার মনে সুপ্ত কোনো আক্রোশ ছিল–যা আপনি জানতে পারেননি।

    জাদা–আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারি না যে জনের বিরুদ্ধে কারো মনে কোনো আক্রোশ থাকতে পারে!

    তাঁর ছিল দয়ার শরীর এবং নিজের স্বার্থ সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন–মানুষ হয়েও এমন ব্যক্তি বোধ হয় কমই জন্মায়।

    গ্র্যাঞ্জ–হুম, হ্যাঁ হতে পারে। আচ্ছা, বিদায়, মিসেস ক্রিস্টো। বিচারের মাধ্যম দিয়ে অনুসন্ধানের কথা জানেন তো? বুধবার ঠিক এগারোটা নাগাদ, মার্কেট ডিগ্লিস-এ। খুব মামুলি ব্যাপার, ঘাবড়ানোর মতো কারণ আপনার দেখছি না–হয়তো আমাদের ঘাড়ে আরও অনুসন্ধানের বোঝা চাপিয়ে যথাযথ সুযোগ দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহের জন্য মুলতুবি হতে পারে।

    জাদা–ওঃ আচ্ছা, আপনাকে অজস্র ধন্যবাদ। সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গ্রাঞ্জের চলে যাওয়ার দৃশ্যটাই লক্ষ্য করছিল। সে এখনও পুরোপুরি ভাবে সব ব্যাপারটা অনুধাবন করতে পেরেছে কিনা সন্দেহ–অথচ পুরো ঘটনাটার সেই একমাত্র সাক্ষী।

    গ্র্যাঞ্জ একটা ট্যাক্সি ডেকে এনে তাতে উঠে পড়ে টেলিফোনে যে খবরটা সে পেয়েছে তার জন্য খরচটাও বোধহয় যুক্তিযুক্ত হয়ে উঠবে। সে অবশ্য জানত না যে, খবরটা তাকে কোথায় নিয়ে এগিয়ে চলেছে। বাইরে থেকে দেখে ওটা অত্যন্ত অবাস্তব, পাগলামি বলেই মনে হবে।

    এর কোনো মানেই খুঁজে পাওয়া যায় না, তা সত্ত্বেও মনে করতে হবে এর হয়তো সঠিক একটা অর্থ আছে, যতক্ষণ পর্যন্ত জিনিষটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে।

    ব্যাখ্যার শুরু বা শেষে একটা কথাই বলা যায় যে কেসটা দেখে যতটা সোজা এবং সরল সাধা-সিধে মনে হয় আসলে কিন্তু কেসটা মোটেই তা নয়।

    .

    ১৭.

    স্যার হেনরি ইনসপেক্টর গ্রাঞ্জের দিকে অপলক নয়নে তাকিয়ে রইলেন। তিনি ধীরজ কণ্ঠে শুধু বলে ওঠেন, আমি মনের দিক থেকে পুরোপুরি ভাবে এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি যে ইনসপেক্টর, আমি আপনার কথা সব বুঝে উঠতে পেরেছি কিনা সন্দেহ।

    গ্র্যাঞ্জ–এটা খুবই সহজ ব্যাপার, স্যার হেনরি। আমি আপনাকে আগ্নেয়াস্ত্রের মজুত পরীক্ষা করে দেখতে বলছি। আমার মনে হয়, সবগুলো ক্যাটলগ করা এবং ইনডেক্স করা আছে।

    হেনরি–তা বোধহয় আছে, আমি তো রিভলবারটা আমার সংগ্রহের অংশ বলেই সনাক্ত করেছি।

    গ্র্যাঞ্জ–যে রিভলবারটা আপনি আজ সকালে সনাক্ত করে এসেছেন, রিভলবারের এই গুলিতে ডাঃ ক্রিস্টোর মৃত্যু হয়নি।

    হেনরি–আশ্চর্য!

    গ্র্যাঞ্জ আশ্চর্যরকমভাবে ঘাবড়ে যায়। স্যার হেনরি বেশি কথা না বলে নিজের আগ্নেয়াস্ত্রের স্টক পরীক্ষা করতে রাজী হওয়ায় সে হেনরির কাছে আন্তরিকভাবেই কৃতজ্ঞ। ব্যাপারটা সত্যি খুব আশ্চর্যের–কারণ পরীক্ষা করার কোনো অর্থই হয় না।

    হেনরি–আপনার একথা বলার পেছনে কোনো কারণ আছে কি, যে গুলিতে জনের মৃত্যু হয়েছে সেটা আমার স্টক থেকেই প্রাপ্ত?

    গ্র্যাঞ্জ–কারণ অবশ্যই কিছু নেই, তবে আমি পুরোপুরি ভাবে স্থির সিদ্ধান্তে আসতে চাই-গুলিটা আপনার স্টকের, না অন্য কোনো স্থান থেকে সংগৃহীত করা হয়েছে।

    হেনরি-হ্যাঁ, আপনার যুক্তি অবশ্যই ঠিক, সেকথা আমি মেনেও নিচ্ছি। আচ্ছা, দেখাই যাক, তবে একটু সময়সাপেক্ষ।

    তিনি ডেস্ক খুলে চামড়ার বাঁধাই একটা খাতা বার করে আনলেন এবং খাতার মধ্যে দেখতেও লাগলেন। হেনরিকে দেখে বড় ক্লান্ত লাগছিল। গ্র্যাঞ্জ এবার ঘড়ির দিকে দৃষ্টি দিল তিরিশ মিনিট। হেনরি বললেন, মনে হয় আরও একটু সময় লাগবে।

    গ্র্যাঞ্জ–হ্যাঁ, স্যার।

    হেনরি–একটা ৩৮ স্মিথ এবং ওয়েসন পাওয়া যাচ্ছে না। ওটা একটা বাদামী রঙের আবরণের মধ্যে ছিল এবং র‍্যাকের শেষ প্রান্তে।

    গ্র্যাঞ্জ–এটাকে আপনি শেষ কখন দেখেছিলেন?

    হেনরি–এই মুহূর্তে সেটা বলা সম্ভব হচ্ছে না ইন্সপেক্টর। এক সপ্তাহ আগে আমি একবার ড্রয়ারটা খুলেছিলাম, সেই সময়ে চুরি গিয়ে থাকলে শূন্য জায়গাটা আমার নজরে পড়ার কথা ছিল। তবে আমি জোর দিয়ে বলতে পারি না যে, ওটা আমার নজরে এসেছিল।

    গ্র্যাঞ্জ–আপনাকে অনেক ধন্যবাদ স্যার, দেখি আমি কতটা কী করতে পারি।

    বহুক্ষণ নিশ্চল মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকার পর হেনরি জানলা দিয়ে বাগানের দিকে চলে গেলেন। সেখানে তার স্ত্রী দস্তানা ইত্যাদি নিয়ে বাগানের কাজে ব্যস্ত। তিনি মনে মনে এটা ভাবতে থাকেন, ইনসপেক্টর কী চান? তিনি আবার চাকরদের নিয়ে পড়বেন নাকি? হেসে শুধু বলে ওঠেন, তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি বড় ক্লান্ত হেনরি।

    হেনরি–হত্যাকাণ্ড এই বিষয়টাই খুব চিন্তার, লুসি!

    লুসি–তা তো বটে! কিন্তু সব মৃত্যুর রূপই তো এক। ক্যানসার বা অন্য কোনো রোগে মারা গেলেও মৃত্যুর চিত্রটা একইরকম হবে। যতদিন রোগে ভোগে ততদিন আত্মীয়স্বজনেরা উদ্বিগ্ন হয়ে ডাক্তার-বদ্যির জন্য ছোটাছুটি করে, টাকা বার করে এবং সবশেষে মারা গেলে আবার সেই ইত্যাদি…

    হেনরি–কিন্তু আমাদের কাছে এই ব্যাপারটা ক্রমেই ঘোলা হয়ে যাচ্ছে। যতটা সহজ ভাবে বিষয়টাকে নিয়েছিলাম, এখন সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে ততটা সহজ বোধহয় নয়।

    লুসি–এছাড়া আর উপায়ই বা কী, আমাদের সহ্য করা ছাড়া তো কিছু করার নেই! বর্তমান নিয়ে ভাবা বোধহয় উচিত হবে না, অসুবিধাটা কোনোভাবে দূর হলেই আমরা না হয় বাইরে চলে যাব। খৃস্টমাসে বা ইস্টারের ছুটিতে চলো না আমরা বেড়িয়ে আসি আইন্সউইক বা অন্য কোনো জায়গা থেকে, কি বলো, ভালো হবে না?

    হেনরি–খৃস্টমাস আসতে এখনও অনেক দেরি তার জন্য না হয় পরেও ব্যবস্থা নেওয়ার সময় পাওয়া যাবে।

    লুসি–তা অবশ্য আছে, আমি আগে থাকতে ভেবেও রেখেছি…তাছাড়া, সে বোধহয় এর মধ্যে মনস্থির করার সময়ও পেয়ে যাবে…

    হেনরি–কে?

    লুসি হেনরিয়েটার কথা বলছি। আমার মনে হয়, তারা অক্টোবরে–আগামী বছরের অক্টোবরে বিবাহটা সেরে ফেলতে পারে…তখন আমরা সেখানে গিয়ে হাজির হতে পারি…

    হেনরি–তুমি সবসময় একটু বেশি ভেবে নাও, লুসি।

    লুসি–তুমি বার্নবেস? সেখানে একটা ভালো দেখে স্টুডিও হতে পারে এবং হেনরিয়েটার একটা স্টুডিওর খুব প্রয়োজন। হাজার হোক তার প্রতিভা আছে একথা তো অস্বীকার করা যায় না। তার জন্য এডওয়ার্ডের গর্ববোধ হবে। দুটো ছেলে একটি মেয়ে–অথবা দুটো ছেলে দু’টো মেয়ে–চমৎকার হবে।

    হেনরি–তুমি কতদুর কল্পনা করে নিয়েছ লুসি? আগে বিবাহ তো হতে দাও, তবে তো ছেলেমেয়ের কথা উঠছে।

    হেনরি-বেচারা শয়তানী।

    লুসি–কেন, শুধু শুধু শয়তানী কেন বলছ? সকলেই তো একদিন-না-একদিন মারা যাবে। মৃত্যুর যখন কোনো অবধারিত কাল নেই। মৃত ব্যক্তির জন্য শোক করে চোখের জল ফেলা আমার কুষ্টিতে নেই, ভালো লাগে না…

    হেনরি লুসির দিকে কেমন অবাক চোখে তাকিয়ে থাকেন। কেবল বলে ওঠেন, আমি সর্বদাই ভাবতাম যে, তুমি বোধহয় জন ক্রিস্টোকে মনে মনে পছন্দ কর। ঠিক বলিনি কি?

    লুসি-হা, তাকে আমার সত্যি ভালো লাগত। তার আকর্ষণও এড়িয়ে যাওয়া যেত না ঠিকই, তবে ব্যক্তি বিশেষের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা আমার কোনোদিনই ধাতে সয় না।

    .

    ১৮.

    হারকিউল পৈরট জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই চোখে পড়ল হেনরিয়েটা স্যাভারনেক রাস্তা দিয়ে তার বাড়ির দোরগোড়ার দিকে এগিয়ে আসছে। জন ক্রিস্টো যেদিন নিহত হয় সেদিন তার গায়ে সবুজ টুইডের যে পোষাকটা ছিল আজও তার গায়ে উঠেছে সেই পোষাক। তার সঙ্গে রয়েছে একটা স্প্যানিয়াল কুকুর। পৈরট তাড়াতাড়ি গিয়ে সদর দরজা খুলে দাঁড়িয়ে পড়ে। হেনরিয়েটা তার দিকে তাকিয়ে মৃদুমন্দ হাসতে থাকে।

    হেনরিয়েটা–আমি ভেতরে গিয়ে আপনার বাড়িটা একবার ঘুরে দেখতে পারি কি? বাড়ি দেখতে আমার বরাবরই খুব ভালো লাগে। আমি সর্বদাই কুকুর নিয়ে বেড়াই।

    পৈরট–ইংরেজদের বোধহয় এই স্বভাব।

    হেনরিয়েটা–আমি জানি, সেকথা আমি ভেবেও ছিলাম। সেই জগৎবিখ্যাত কবিতাটা জানেন আপনি? দিনগুলো একে একে কোথা দিয়ে যেন পার হয়ে যাচ্ছে, হাঁসকে খাওয়াই, স্ত্রীকেও ভর্ৎসনা করি, বাঁশীতে হ্যাঁন্ডেলের লায়গো বাজাই এবং ইচ্ছে হলে কুকুরের সঙ্গেও এক ছুট লাগাই আমি।

    হেনরিয়েটার মুখে আবার হাসি ফুটে ওঠে, অত্যুজ্জ্বল অহেতুক হাসি। পৈরট তাকে নিয়ে বসবার ঘরে গিয়ে বসায়। হেনরিয়েটা ঘরের চারিদিকে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে নেয়–ঘরের পরিচ্ছন্নতা দেখে সে বিস্ময়ে মূক হয়ে যায়।

    চমৎকার! সব জিনিষই দুটো করে। আমার স্টুডিও ঘুরে দেখার পর আপনি আমায় ভালো চোখে দেখার পরিবর্তে ঘৃণাই করবেন।

    পৈরট-ঘৃণা করতে যাব কেন?

    হেনরিয়েটা–ওঃ সেখানকার সব জিনিষে কাদার ছাপ।ওখানে একটি করে জিনিষও মজুত আছে–সংখ্যায় যদি দুটো থাকত তবে বোধহয় নষ্ট হয়ে যেত।

    পৈরট–আমি তা ভালোভাবেই বুঝতে পারি। আপনি নিজে একজন শিল্পী।

    হেনরিয়েটা-আপনি কি একজন শিল্পী নন পৈরট?

    পৈরট–এই প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে, কিন্তু আমি বলব, না। অপরাধ কী জিনিস সেটা আমি বুঝি–সেগুলো কল্পনাশক্তির সর্বোচ্চ চর্চা। তাই সমাধান করার জন্যেও কোনো সৃজনী শক্তির কাছে দ্বারস্থ হতে হয় না। প্রয়োজন হয় শুধু সত্য উদঘাটনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।

    হেনরিয়েটা–সত্যের জন্য প্রবল ইচ্ছা–এই প্রয়াস আপনাকে হয়তো বিপজ্জনক পথে চালিত করতে পারে। এই সত্য কি আপনাকে সন্তুষ্ট করতে পারবে?

    পৈরট–আপনি কী বলতে চাইছেন, মিস স্যাভারনেক?

    হেনরিয়েটা–আমার বলার উদ্দেশ্য হল এই যে, আপনি সত্য জানার জন্য উদগ্রীব। কিন্তু জানাই কি সব? আপনি যদি সত্য জানতেই চান তবে আপনার সুপ্ত জ্ঞানকে কাজে লাগাতে হবে?

    পৈরট-আপনি বলছেন যে, ক্রিস্টোর মৃত্যুর সব রহস্য আমার কাছে মোটেই অজানা নয়–যে জ্ঞান আমার মধ্যে সঞ্চিত আছে সেটা নিজের মধ্যে রাখাই ভালো–তাই না? আচ্ছা আমি আপনাকে পাল্টা প্রশ্ন করি যে, জনের মৃত্যুর ব্যাপারে আপনি কতটুকু জানেন?

    হেনরিয়েটা–সম্ভাব্য উত্তর–জাদা, সন্দেহের প্রথম পাত্র বা পাত্রী, স্বামী বা স্ত্রী যে কোনো একজন–সত্যি কী ঘৃণ্য ব্যাপার।

    পৈরট–কিন্তু আপনি তো তা মেনে নিতে একেবারেই মনের দিক থেকে প্রস্তুত নন? কী উদ্দেশ্যে আপনার এখানে আগমন সেটা বললেন না তো?

    হেনরিয়েটা–আমি এ ব্যাপারে স্থির নিশ্চিত যে, আপনার মতো সত্য উদঘাটনের প্রবল বাসনা আমার নেই। কুকুর নিয়ে বেড়াতে আসা ইংরেজপল্লীর রেওয়াজ, ওটা নিতান্তই বাজে অজুহাত। তাছাড়া এ্যাঙ্গ্যাটেলদের কুকুরও নেই, এদিকটা আপনি হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন।

    পৈরট-হ্যাঁ, আমার দৃষ্টি গেছে সেদিকে।

    হেনরিয়েটা–মালীর কাছ থেকে তাই আমি কুকুরটা বার করে এনেছি। আমি সর্বদাই সত্যের আশ্রয় নিই না, পৈরট।

    আবার সেই উজ্জ্বল, উচ্চকণ্ঠে খান-খান হয়ে ভেঙে পড়া সেই অট্টহাসি।

    পৈরট-না, আপনার সাধুতা সম্পর্কে আমি কোনো কথা তুলতে চাই না।

    হেনরিয়েটা– কী করে বুঝলেন?

    পৈরট-কারণ এটাকে সত্য বলে আমার মন মেনে নিয়েছে।

    হেনরিয়েটা-সাধুতা, আমার এখনও ঠিক ভালোভাবে বোধগম্য হয় না যে কথাটার প্রকৃত অর্থ কী?

    কার্পেটের দিকে তাকিয়ে নিশ্চল হয়েই বসে রইল সে, ধীরে ধীরে মাথা তুলে পৈরটের দিকে তাকাল।

    হেনরিয়েটা–আপনি কি জানতে চান না যে, কোন উদ্দেশ্যে আমি এখানে হাজির হয়েছিলাম?

    পৈরট-আপনি হয়তো কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন, কিন্তু মুখ ফুটে বলা সাহসে কুলোচ্ছে না।

    হেনরিয়েটা-হা, ঠিকই বলেছেন, বিচারের মাধ্যমে অনুসন্ধান এবং পৈরট, আগামীকাল, তার জন্য মনস্থির করার ব্যাপারেও সময় লাগবে

    হেনরিয়েটা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না, একেবারে ভেঙে পড়ে। সে উঠে ঘরময় পায়চারি করতে শুরু করে দিল। ঘরের জিনিষগুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়, একটা ফুলদানির স্থান পরিবর্তন করে প্রৈটকে জিজ্ঞাসা করে ওঠে, ব্যবস্থাটা আপনার পছন্দ হয়?

    পৈরট–মোটেই না মিস।

    হেনরিয়েটা–আমি আগে থাকতেই জানতাম যে, আপনি এ ব্যাপারটা কখনও মেনে নেবেন না।(সে তাড়াতাড়ি করে জিনিষগুলোতে আবার যথাস্থানে রেখে দিলে) আচ্ছা লোকের যদি বলার মতো কিছু থেকেই থাকে এবং সে যদি নিজের মুখে কিছু বলতে চায় তবে আপনার মতো লোকের কাছে বলতেই পারে, কিন্তু পুলিসের এটা জানার কোনো প্রয়োজন আছে কি, আমি জন ক্রিস্টোর মিসট্রেস ছিলাম।

    পৈরট–তাই নাকি? আপনারা প্রেমিক-প্রেমিকা ছিলেন?

    হেনরিয়েটা–একথা বলে যদি আপনার মনে সুখ হয়, তাহলে বলতে কোনো বাধা নেই।

    পৈরট–আপনি যেভাবে কথাটা বলছেন, আসলে ব্যাপারটা কি তাই ছিল?

    হেনরিয়েটা–না।

    পৈরট–কেন নয়?

    হেনরিয়েটা নিঃশব্দে ঘাড় নাড়ে। সে উঠে গিয়ে পৈরটের পাশে এসে বসে পড়ে এবং ধীর কণ্ঠে শুধু বলে ওঠে-পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে নির্ভুল ভাবে সব জিনিষ ব্যক্ত করার সবার মধ্যেই একটা প্রয়াস থাকে।

    হেনরিয়েটার ব্যাপারে জানার আগ্রহ পৈরটের উৎসাহ যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়। সে বলে ওঠে, আপনি জন ক্রিস্টোর মিসট্রেস ছিলেন? আপনাদের এই সম্পর্ক কতদিনের?

    হেনরিয়েটা–প্রায় ছ’মাসের মতো হবে।

    পৈরট–এই ব্যাপারটা আবিষ্কার করতে পুলিসের খুব অসুবিধা হবার কথা নয়।

    হেনরিয়েটা–আমার মনে হয় তারা এদিক দিয়ে যাচ্ছে না। অর্থাৎ তারা যদি কিছুর সন্ধান করতেই চায়, তবে হয়তো একদিন আবিষ্কার করলেও করে উঠতে পারে।

    পৈরট-হ্যাঁ, তারা এদিকে খোঁজ নেবে।

    হেনরিয়েটা–আমি কিন্তু ভেবেছিলাম তারা এদিকের ব্যাপারেও খবর সংগ্রহ করবে। আচ্ছা, পৈরট লোকেরা কী করে? এ্যাঞ্জের কাছে গিয়ে কী বা বলে? এমন অদ্ভুত গোঁফের কাছে গিয়ে তাদের কী বা বলার থাকতে পারে। ওটা নেহাতই একটা পারিবারিক গোঁফ।

    পৈরট–যেমন আমার?

    হেনরিয়েটা–আপনার গোঁফ এবং পৈরট? আপনার গোঁফের সঙ্গে কারো তুলনাই চলে না, এককথায় এটা অতুলনীয়।

    পৈরট–সত্যিই।

    হেনরিয়েটা–এই জন্যই আমি আপনার সঙ্গে এমন ধারায় বলছি। আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে পুলিসের আমার এবং জনের মধ্যে সম্পর্কটা জানা দরকার। কিন্তু তোক জানাজানি হওয়ার এটার কি কোনো প্রয়োজন আছে।

    পৈরট–সেটা সম্পূর্ণ অন্য জিনিষের ওপর নির্ভরশীল। পুলিস যদি মনে করে থাকে যে, এই ঘটনার সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক নেই তবে চেপে যেতে পারে। কিন্তু এই ব্যাপারটা প্রকাশে আপনি কি খুব উদগ্রীব?

    হেনরিয়েটা–আপনি হয়তো এটাকে কপটতা ভাবছেন। আপনি মনে মনে ভাবছেন যে, জাদার মানসিক শক্তির কথা ভাবছি বলেই হয়তো জনের মিসট্রেস হবার কোনো সম্ভাবনাই আমার মধ্যে নেই। তার বিবাহিত জীবনের যা ক্ষতি হবার ছিল তা হয়ে গেছে। এর চাইতে আরও অতিরিক্ত বোঝা তাকে সারাজীবন টেনে নিয়ে যেতে হবে কেন?

    পৈরট–আপনি মিসেস জার্দার জন্যই এমনটি বোধহয় ভাবছেন?

    হেনরিয়েটা–আপনি হয়তো এটাকে কপটতা ভাবছেন। আপনি মনে মনে ভাবছেন যে জাদার মানসিক শক্তির কথা ভাবছি বলেই হয়তো জনের মিসট্রেস হবার কোনো সম্ভাবনাই আমার মধ্যে নেই। তার বিবাহিত জীবন আমি ভেঙে দিইনি, আমি ছিলাম মিছিলের অন্যতম যাত্রী।

    পৈরট-আঃ, এটাও ঠিক এইরকম?

    হেনরিয়েটা–না, না, না, আমার আপত্তি ঠিক এই জায়গাতেই–আপনি আমার মতো করে ব্যাপারটা ভাবছেন না। জন সম্পর্কে লোকে যে ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে, আমি তাতেই মনে বড় ব্যথা পাই। এইজন্যেই আমি আপনার কাছে ছুটে এসেছি। আমি হয়তো আপনাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে উঠতে পারছি না। আমার কাছে এই ব্যাপারটা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, কাগজে শিরোনাম ছাপা হবে, এক চিকিৎসকের, ভালোবাসার জীবনকাহিনী, জার্দা, আমি ভেরোনিকা ক্রে। জন কিন্তু কোনোদিনই তেমন স্বভাবের ছিল না, সে কিন্তু স্ত্রীলোকের ব্যাপারে কোনোদিনই বেশি মাথা ঘামাত না, তার কাছে স্ত্রীলোকই সবকিছু ছিল না, তার কাজের জগৎ নিয়েই সে ব্যস্ত থাকত। হ্যাঁ, কাজের মধ্যে তার উৎসাহ, উদ্দীপনা, উত্তেজনা এবং দুঃসাহস মুখ লুকিয়ে আছে। অসতর্ক কোনো মুহূর্তে জনকে যদি জিজ্ঞাসা করা হতো, তার মনে কোনো স্ত্রীলোকের ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা সবসময়ের জন্য ঘুরপাক খেত, সে কার নাম উল্লেখ করবে জানেন কি? মিসেস ক্যাবট্রি ছাড়া আর কার নামই বা সে বলত।

    পৈরট–(বিস্ময়ের সঙ্গে) এই মিসেস ক্যাবট্রির আসল পরিচয় কি? কে সে?

    হেনরিয়েটা–তিনি এক বৃদ্ধা। কুৎসিত-নোংরা স্বভাবের এই বৃদ্ধার সমস্ত শরীরে এখন বার্ধক্য নেমে এসেছে, দেহের মাংস সব কুঁচকে গেছে, ক্রিস্টোফার হাসপাতালের সেও এক রোগিণী, তার রিজওয়ের রোগ কালেভদ্রে দেখা দিত। আপনি যদি এই রোগের শিকার হন, আপনি অবশ্যই মারা পড়বেন, কারণ এই রাগের কোনো ওষুধ নেই, তাই আরোগ্য লাভেরও নেই কোনো উপায়। ক্যাবট্রির শরীরেও রোগ আছে তবু সে বাঁচতে চায়। জন সেই ওষুধ বার করবে, হরমোন ক্ষরণের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। জন বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলেছে, মিসেস ক্যাবট্রি জনের খুব ভক্ত, জন এবং সে রোগের বিরুদ্ধে যেন সংগ্রাম করে যাচ্ছে, মাসের পর মাস ধরে রিজওয়ের ব্যাধি এবং মিসেস ক্যাবট্রি, সর্বদাই জনের মধ্যে উপস্থিত এবং তাদের আবেদন জনের মনে যে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে, এমন আর কিছু নেই যা তার মনে নিজের একটা স্থান দখল করে রেখেছে। জন এমনই এক চিকিৎসক ছিল, পুরো হার্লি স্ট্রিটের মধ্যে এবং সকল ধনী মানুষের কাছের মানুষ ছিল তাদের প্রিয় ডাক্তার জন, আমি কিছুতেই বুঝে উঠতে পাচ্ছি না যে, আপনাকে এই সত্য কেমন ভাবে বোঝাব যে, নতুন ওষুধ একদিন জন ক্রিস্টোর হাত দিয়েই আবিষ্কৃত হবে, এই ছিল তার একমাত্র সাধনা।

    পৈরট–আপনি বোধহয় ঠিকমতো চিনতে পেরেছিলেন।

    হেনরিয়েটা-ওঃ, হ্যাঁ, জন আসত এবং একথাই সে বলত। আমার কাছে অবশ্য সংক্ষিপ্ত করেই বলত, কারণ সে নিজের মনেই সব কথা বলে যেতে পারত। অন্য রোগীর রোগ সম্পর্কে যে আপনমনেই আলোচনা করত, বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার কথাও বলত, প্রতিটি রোগের বিরুদ্ধে কেন সে ঝাঁপিয়ে পড়ত, কী ভীষণ একাগ্রতা, অনেক সময়ই খুশী, অনেক সময় আক্রোশ, কখনও থাকত ক্লান্তির অবসাদ…

    পৈরট-আপনার নিশ্চয়ই প্রায়োগিক জ্ঞান আছে?

    হেনরিয়েটা-হা, জন যা বলত, আমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতাম এবং শিখতাম, বই পড়েও জানা যেত।

    পৈরট–কিন্তু আপনি তো দেখছেন?

    হেনরিয়েটা– না দেখে থাকলে হয়তো ভুল বলা হবে। লোকেরা শুনলে হয়তো ভেবে বসতে পারে যে, আমার জনের ওপর একটা প্রভাব ছিল এবং জনের কাছ থেকে আমি অনেক কিছুই শিখতে পেরেছি। গ্র্যাঞ্জকে বোঝানোবোধহয় ততটা সহজ হবে না।

    পৈরট–কিন্তু আপনি তো দেখেছেন?

    হেনরিয়েটা–তা বোধহয় হবে না। সে তার ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যক্ষ করবে তারপরে বিচার করবে।

    হেনরিয়েটা–কেউ যদি জনের কোনো ক্ষতি করে থাকে সে অন্য কেউ নয় স্বয়ং আমি। জন এবং তার চিন্তার মাঝখানে আমি এসে পড়েছিলাম। আমার জন্যই সে তার সাধনায় পুরোপুরিভাবে মনঃসংযোগ করতে পারছিল না। সে ভীত মন নিয়েই ভাবতে থাকল যে, সে আমাকে তার নিজের মনে করে ভাবতে শুরু করেছে তাই সে অন্য কাউকে আর ভালোবাসার কথা মনেও আনতে পারছিল না। আমার কাছে সে প্রেম নিবেদন করল, কারণ সে আমার ব্যাপারে কোনোদিনই বেশি চিন্তা করতে একেবারেই চাইত না। ব্যাপারটাকে সে একটু হালকা করতে চাইল, সহজ করতে চাইল, তার আর ঠিক দশটা ব্যাপারের মতোই।

    পৈরট–আর আপনি? আপনি সেটা খুশী মনেই মেনে নিলেন?

    হেনরিয়েটা–না, আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনি–হাজার হোক–মানুষ তো…

    পৈরট–কেন?

    হেনরিয়েটাকেন আবার, আমার মনোগত বাসনা ছিল জনকে খুশী দেখার। আমি চেয়েছিলাম জন যা চায় তাই নিয়েই সে যেন পথ চলতে পারে। তার ধ্যানজ্ঞান বলতে সে একটা জিনিষই জানত, সেটা তার কাজ। এবং এই কাজের মধ্যেই সে নিজেকে মগ্ন রাখতে চেয়েছিল–আমি সেইদিক থেকেই তার দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।

    পৈরট–এইমাত্র আপনি ভেরোনিকা ক্রেরও নাম উল্লেখ করেছিলেন; সেও কি ডাঃ ক্রিস্টোর বন্ধু ছিল?

    হেনরিয়েটা–শনিবারের আগে তাদের মধ্যে শেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল আজ থেকে পনেরো বছর আগে।

    পৈরট–সেও তাকে পনেরো বছর আগে দেখেছিল?

    হেনরিয়েটা–তাদের বিবাহের সব প্রায় পাকা হয়ে গিয়েছিল। জন ভেরোনিকার প্রেমে অন্ধ ছিল–কিন্তু ভেরোনিকাকে এক নম্বরের কুকুরী বলে সম্বোধন করলেও বোধহয় ভুল বলা হবে না, সে নিজের স্বার্থ এবং আত্মঅহমিকা ছাড়া আর কিছুই বুঝত না। তার মনের বাসনা ছিল জনকে সে নিজের কথামতো ওঠাবে-বসাবে। এককথায় তাকে পোষা-স্বামী হয়ে স্ত্রীর আঁচলের তলায় থাকতে হবে। কিন্তু জন একেবারে বেঁকে বসল, তাই বিয়েটাও ভেঙে গেল, জনের অবশ্য এই বিবাহ না হওয়ায় মনে কোনো দুঃখ ছিল না। সে জাদাকে বিবাহ করল, জার্দা অবশ্য এই ঘটনার কিছুই জানত না। দেখতে দেখতে পনেরোটা বছর কেটে গেল–এর মধ্যে তাদের আর দেখাসাক্ষাৎহয়নি, কিন্তু জন ভেরোনিকার স্মৃতি মন থেকে পুরোপুরি ভাবে মুছে ফেলতে পারেনি।

    পৈরট–এত বছর বাদে দু’জন দু’জনের মুখোমুখি হল এবং জন তার সঙ্গেই বেরিয়ে গেল। জন হলোতে ফিরে এল রাত প্রায় তিনটে নাগাদ।

    হেনরিয়েটা–আপনি একথা কী করে জানলেন?

    পৈরট–বাড়ির এক ঝি’র দাঁতে ব্যথা হয়েছিল, তাই সে না ঘুমিয়ে জেগেই ছিল। জনের ফিরে আসা তার চোখে পড়েছিল।

    হেনরিয়েটা-হ্যাঁ।

    পৈরট-আপনি কী করে জানতে পারলেন?

    হেনরিয়েটা–(কিছুক্ষণ নীরব থেকে) আমি জানলার দিকে তাকিয়ে বসেছিলাম, তাই তার ফিরে আসাটা চোখে পড়া খুব স্বাভাবিক ছিল।

    পৈরট–আপনারও কী দাঁতে ব্যথা হয়েছিল মিস?

    হেনরিয়েটা এবার হেসে ফেলে, সে হাসিমুখে শুধু বলে, ব্যথা হয়েছিল ঠিকই তবে এই ব্যথা সেই ব্যথার মতো নয় পৈরট।

    তারা রাস্তা পার হয়ে এবার বনের মধ্যে প্রবেশ করল।

    হেনরিয়েটা–আমাদের পুলের পাশ দিয়ে যাওয়াটা বোধহয় উচিত হচ্ছে না। বাম দিকে গিয়ে, উপরের পথ বরাবর ফুলের বাগানে বরং আমরা যেতে পারি।

    একটা পথ খাড়াভাবে পাহাড়ের দিকে বনের মধ্যে চলে গেছে। কিছুক্ষণ পর তারা এসে থামল সীমান্তবর্তী একটা সমকোণের মতো রাস্তায়। হেনরিয়েটা একটা বেঞ্চে এসে বসে এবং পৈরট এসে তার পাশেই বসে পড়ে। তাদের ওপরে ও পেছনে শুধু বন আর নিচে ঘন বাদামগাছের ঝোঁপ। সামনের দিককার একটা বাঁকা পথ নিচের দিকে চলে গেছে, যেখান থেকে নজরে আসছিল নদীর জলের ঝিকিমিকি।

    পৈরট নীরবে হেনরিয়েটার দিকে তাকিয়েছিল। তার মুখের ভাবে এখন একটু পরিবর্তন এসেছে, তবে উত্তেজনা নেই বললেই চলে। তার মুখের চেহারা দেখে তার আসল বয়স বোঝা দায়।

    পৈরট–আপনি কী এত ভাবছেন মিস?

    হেনরিয়েটা–আইন্সউইকের কথা।

    পৈরট–আইন্সউইক কি?

    হেনরিয়েটা–আইন্সউইক একটা জায়গার নাম। ওটা একটা স্বপ্নের জগৎ, সাদা ছিমছাম বাড়ি, ম্যাগনোলিয়ার বড় সমারোহ, পাহাড়ী বনভূমি

    পৈরট-ওটা কি আপনার বাড়ি?

    হেনরিয়েটা–না, আমার বলে কিছু নয়। আমি আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দা। ছুটিতে আমরা সকলেই এখানে হাজির হয়েছিলাম–এডওয়ার্ড, মিডগে এবং আমি। আসলে বাড়িটা লুসির, বাড়িটার কর্তা ছিল লুসির বাবা কিন্তু তার মৃত্যুর পরে এই বাড়ির উত্তরাধিকারী এখন এডওয়ার্ড।

    পৈরট–ঐ পথ ধরেই তো আপনি কাল সুইমিং পুলে গিয়েছিলেন?

    হেনরিয়েটা–না, এ পথ মাড়াইনি, এর কাছাকাছি কোনো পথ দিয়ে। সুইমিং পুল আমার চোখে ঘৃণার বস্তু, সেই সঙ্গে হলোকেও চোখে পড়ার পর আমার চোখে ঘৃণাই ফুটে ওঠে।

    পৈরট গুন গুন করে বলে ওঠে–”ঘৃণা করি আমি পশ্চাৎপটে ভয়ের গহুর, ঊর্ধ্ব মাঠে অধর তাহার রক্তে রাঙা উষর প্রান্তর, লোহিত শৈলের স্তর নীরব ভীতির মতো নামে, বিন্দু বিন্দু করে রক্তের ক্ষরণ, নিস্তব্ধ মাঝে জাগে যত প্রশ্ন, প্রতিধ্বনির জবাবে তাহারে করিছে মরণ।”–হেনরিয়েটা অবাক হয়ে তার দিকে তাকায়, পৈরট কবিতার অংশবিশেষ আবৃত্তি করে চলে।

    পৈরট–টেনিসন, আপনাদের সবার প্রিয় লর্ড টেনিসনের কবিতা বলছি।

    হেনরিয়েটা কবিতার শেষ লাইন আওড়াতে থাকে। আপন মনে বলে ওঠে হ্যাঁ, এটা প্রতিধ্বনিই বটে!

    পৈরট–প্রতিধ্বনির মানে কী বোঝাতে চাইছেন?

    হেনরিয়েটা–এই স্থানটা হল নিজেই নিজের প্রতিধ্বনি! গত শনিবার আমি এডওয়ার্ডের সঙ্গে পাহাড়ের স্তর পর্যন্ত চলে গিয়েছিলাম। এই স্থানটা আইন্সউইকের প্রতিধ্বনিরই সমতুল্য। আসলে আমরা তো আর এ্যাঙ্গক্যাটেল নই, এ্যাঙ্গক্যাটেলের প্রতিধ্বনি।

    আমরা আসল নই, যেমন জন আসল ছিল। আপনি যদি জনকে একবারও জানতে পারতেন পৈরট। সে ছিল জীবন্ত আসল। জনের মতো আমরা কেউ জীবন্ত নই, তার তুলনায় আমরা সব ছায়া। জন সত্যিকারের জীবন্ত মূর্তি ছিল।

    পৈরট–আমি জানতাম। তার মৃত্যুর সময় আমি তার দর্শন লাভ করেছি।

    হেনরিয়েটা–আমরা সব প্রতিধ্বনিরা শুধু বেঁচে আছি, আর যে আসল; সে আজ মৃত।

    হেনরিয়েটার মুখমণ্ডল থেকে তারুণ্য যেন অপসৃত হচ্ছে, হঠাৎ বেদনায় তার ঠোঁট একেবারে তিক্ত এবং বিকৃত।

    পৈরট–আপনার কাকীমা লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল, ডাঃ ক্রিস্টোকে কি পছন্দ করতেন?

    হেনরিয়েটা–লুসি? সে ছিল আমার খুড়তুতো বোন, কাকীমা নয়। হ্যাঁ, সে তাকে ভীষণ পছন্দ করত।

    পৈরট–মিস্টার এডওয়ার্ড এ্যাঙ্গক্যাটেলও আপনার খুড়তুতো ভাই? সেও কি ডাঃ ক্রিস্টোকে পছন্দ করত?

    হেনরিয়েটা–বিশেষভাবে করত সেটা বোধহয় বলা যায় না, তখন সে তাকে ভালোভাবে জেনে উঠতে পারেনি।

    পৈরট–আপনার এক খুড়তুতো ভাই ডেভিডও কি জন ক্রিস্টোকে পছন্দ করত?

    হেনরিয়েটা–ডেভিড আমাদের সকলকেই ঘৃণার চোখে দেখে। লাইব্রেরি ঘরে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা পড়ে সে সময় কাটায়। ডেভিডের কথা চিন্তা করলে আমার বড় দুঃখ হয়। তার বাড়ির আবহাওয়া ছিল একদম সঙ্কটপূর্ণ। তার মায়ের অস্থিরচিত্তই ছিল এই সঙ্কটের মূলে–তাছাড়া এককথায় তিনি ছিলেন অথর্ব। নিজে রক্ষা করার ব্যাপারে ডেভিড সকলের থেকে নিজেকেই সব থেকে বেশি প্রাধান্য দিত, এই ভাবে যতদিন সম্ভব চালিয়ে যাচ্ছে।

    পৈরট-সে কি নিজেকে ক্রিস্টোর থেকে উৎকৃষ্টতর মনে করত?

    হেনরিয়েটা–সেই প্রচেষ্টাও সে করেছিল, কিন্তু সফলতার মুখ দেখেনি। আমার সন্দেহ হয়, ডেভিড জনের মতো একজন হয়ে উঠতে চেয়েছিল। তাই সে মনে মনে তাকে অপছন্দ করত।

    বাদামবনের মধ্যে দিয়ে পৈরটের দৃষ্টি চলে যায় একেবারে সুইমিং পুলের ধারে, সেখানে একজন তোক কী যেন খুঁজছে–নুয়ে নুয়ে গভীর মনোযোগে কিসের যেন সন্ধানে ঘুরে ফিরছে। পৈরট বলে ওঠে, এরা সকলেই ইন্সপেক্টর এ্যাঞ্জের লোক।

    হেনরিয়েটা–সূত্র। আমার মনে হয় কোনো সূত্র তারা হাতে পেতে চাইছে। সিগারেটের ছাই, পায়ের দাগ, পোড়া দেশলাই খুঁজছে, তাই না?

    পৈরট–হ্যাঁ, পুলিস এইসবের কোনো একটা বোধহয় পেতে চাইছে। এইসব জিনিষের সুত্র ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে নিজেকে আড়াল করে থাকে।

    হেনরিয়েটা–আমার মনে হয়, আমি বোধহয় আপনার কথা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।

    পৈরট–খুবই ছোট কথা। অর্থাৎ এইসব ক্ষেত্রে সিগারেটের ছাই প্রভৃতির প্রয়োজন নেই বলে, এখানে প্রয়োজন একটা জিনিষের অপ্রত্যাশিত কাজ..

    হেনরিয়েটা–আপনি কি বিশেষ কোনো বিষয়ের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করছেন?

    পৈরট–আমি শুধু একটা কথাই ভাবছি, আপনি কীভাবে এগিয়ে গিয়ে জার্দার হাত থেকে রিভলবারটা নিলেন এবং জলে ভাসিয়ে দিলেন।

    হেনরিয়েটা–পৈরট, জার্দা নিঃসন্দেহে কৌশলহীনা রমণী, শোকের মুহূর্তে রিভলবারে গুলি থেকে থাকলে সে হয়তো অন্য কাউকে মেরে বসবে, এই ভয়েই তার হাত থেকে রিভলবারটা আনতে ছুটে গিয়েছিলাম।

    পৈরট–কিন্তু আমার তো ধারণা, রিভলবারটা সবার অলক্ষ্যে জলে দিয়ে কৌশলহীনার মতো কাজ করেছেন স্বয়ং আপনি!

    হেনরিয়েটা–যা আঘাত পাবার ছিল সেটা তো বুকেই নিয়েছিলাম আমি। আচ্ছা, পৈরট, এবার আপনি কি উপদেশ দিতে শুরু করলেন?

    পৈরট-হাতে যদি থাকত তবে জানা যেত, মিসেস ক্রিস্টোর আগে কে এই বন্দুকটা ব্যবহার করেছিল। কিন্তু এখন আর সেটা জানার কোনো উপায়ই রইল না!

    হেনরিয়েটা–আপনার মনে হয় এই সন্দেহই জাগছে যে, সে ছাপ আমার আঙুলের?

    আপনারা হয়তো ভাবছেন জনকে গুলি করে রিভলবারটা আমি তার পাশে ফেলে রেখেছি এবং জাদা এসে সেটা নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। তাই না? কিন্তু আমি যদি সেই কাজ করেই থাকব, তবে আঙুলের ছাপ রিভলবারে রেখে দিতাম এমন বোকা আমি নই। এইটুকু বুদ্ধি আমার আছে একথা নিশ্চয়ই আপনারা মনে করেন?

    পৈরট-হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি, বুদ্ধি আপনার আছে।

    হেনরিয়েটা–তাই হয়তো আপনারা ভেবে বসে আছেন, জনকে আর কেউ নয়, আমি হত্যা করেছি?

    পৈরট–ডাঃ ক্রিস্টো মৃত্যুর পর শুধু ‘হেনরিয়েটা’ উচ্চারণ করতে পেরেছিলেন?

    হেনরিয়েটা–আপনারা ভেবে নিচ্ছেন, জন আমার ওপর দোষ চাপিয়ে চলে গেছে? তাই নয় কি?

    পৈরট-তা হলে কী?

    হেনরিয়েটা–কেন, আপনি কি এর মধ্যে ভুলে গেলেন? এই কিছুক্ষণ আগে আপনাকে আমি বলেছিলাম, আমার আর জনের মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল।

    পৈরট–আঃ, হ্যাঁ, তিনি আপনার প্রেমিক ছিলেন, তাই মৃত্যুর সময়ে হেনরিয়েটা’ বলা বড়ই হৃদয়বিদারক।

    হেনরিয়েটা–জন হেনরিয়েটা’ বলে আমাকে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করে যায়নি। আপনাদের বোঝা উচিত ছিল যে, আমার মতো লোকের কাউকে মেরে ফেলা মোটেই সম্ভবপর নয়। আমার নামটা জনের মুখে শুনে আমাকে আপনারা দায়ী করতে উঠে পড়ে লেগেছেন।

    পৈরট–আপনি আগে থাকতে প্রস্তুতি নিয়েই ছক কষে জন ক্রিস্টোকে এই পৃথীবী থেকে সরিয়ে ফেলেছেন একথা আমাদের মনেও আসেনি। তবে ঝোঁকের মাথায় বা আক্রোশে অন্ধ হয়ে এমনটা যদি করেও ফেলতেন, তবে নিজেকে বাঁচিয়ে করতেন।

    হেনরিয়েটা এবার উঠে পড়ে। সে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল, বিবর্ণ এবং চিন্তাক্লিষ্ট মুখে। শুষ্ক হাসি হেসে শুধু বলে ওঠে, আমি এই ভেবে এখানে এসেছিলাম আপনার মনের কোনো এক জায়গায় আমার স্থান আছে।

    হারকিউল পৈরট প্রত্যুত্তরে বলে, সেটা বোধহয় আমার দুর্ভাগ্য।

    .

    ১৯.

    হেনরিয়েটা চলে যাবার পরেও পৈরট চুপচাপ বসে থাকে। তার চোখে পড়ে নিচের রাস্তা দিয়ে ইন্সপেক্টর গ্র্যাঞ্জ দৃঢ় পদক্ষেপে পুলের পাশ দিয়ে পাশের রাস্তাটা এখন ধরেছে। ইন্সপেক্টর উদ্দেশ্য ছাড়া একটা পাও চলে না। সে হয় রেস্টহ্যাভেন-এ না হয় ডাভকোট যাবে। পৈরট শুধু ভাবছে কোথায় সে যাবে?

    সে উঠে পড়ে যে রাস্তা ধরে এসেছিল সেই পথ ধরেই চলতে শুরু করে দেয়। গ্র্যাঞ্জের সাথে মুখোমুখি হবার পরেই জানতে পারবে ব্যাপারটা কতদূর এগিয়েছে।

    রেস্টহ্যাভেন-এ পৌঁছে কোনো আগন্তুক তার নজরে এল না। যেদিকে ‘ডাভকোট’ সেই দিকেই পৈরট তাকায়। সে জানতো যে লন্ডনে এখনও ভেরোনিকা ক্রে ফিরে যায়নি। সে লক্ষ্য করে যে ভেরোনিকা ক্রে সম্পর্কে তার উৎসাহ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সেই লোমশ শেয়াল, দেশলাইয়ের বাক্সগুলো, হঠাৎ করে শনিবার রাতে অতর্কিতে আক্রমণ এবং পরিশেষে হেনরিয়েটা স্যাভারনেকের জন ও ভেরোনিকার সম্পর্কের রহস্য উদঘাটনের সাবলীল স্বীকারোক্তি তার উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দেয়। তার কাছে এটা একটা চমৎকার প্যাটার্ন বলেই মনে হয়।

    জার্দা ক্রিস্টো কি তার স্বামীকে গুলি করেছে? দেখেশুনে মনে হয় ব্যাপারটা মোটেই তেমন সহজ নয়? হয়তো খুবই জটিল? হেনরিয়েটার সঙ্গে কথা বলে তার মনে এই উপলব্ধি হচ্ছে যে, ব্যাপারটা জটিল না হলেও খুব সহজও নয়। হেনরিয়েটার প্রতি তার সন্দেহ জাগায় সে নিজের ওপরেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল। তবে হেনরিয়েটাকে সে কখনোই জনের হত্যাকারিণী বলে মেনে নেয়নি। সে শুধু এই ভেবেছিল যে, হেনরিয়েটা হয়তো কিছু জানে বা সে হয়তো কোনো কিছু গোপন করছে বা আড়াল করতে চাইছে? কিন্তু লুকোনোর মতো কী থাকতে পারে?

    সুইমিং পুলের দৃশ্যটা আবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সত্যি সাজানো গোছানো এক দৃশ্য। ঠিক যেন একটা মঞ্চ! কিন্তু মঞ্চস্থ কে করছে? কার জন্যই বা এই মঞ্চস্থ করা হচ্ছে? দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর তার কানেই যেন খট করে লাগে। সে ভাবে, এটা ধৃষ্টতা–নিছক একটা কৌতুক। এটা এখনও ধৃষ্টতা ঠিকই–তবে কৌতুক নয়। আর প্রথম প্রশ্নের উত্তর? সে নীরবে মাথা নাড়ে। সে জানে না, বিন্দুমাত্র অনুমান করার মতোও তার জ্ঞান নেই।

    আধবোজা চোখে পৈরট তার কল্পনার জগতে চলে যায়, মানসচক্ষে সকলেই তার কাছে স্পষ্ট। স্যার হেনরি–পক্ষপাতশূন্য, দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন, বিশ্বাসী, সাম্রাজ্যের শাসক। লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল–অস্পষ্ট ছায়ার মতো-প্রগভা-মোহময়ী অসম্ভব কাহিনী তৈরির ক্ষমতা বিশিষ্ট এককথায় মূল্যহীন এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনা। হেনরিয়েটা–যে নিজের থেকেও জন ক্রিস্টোকে বেশি ভালোবেসেছিল। শান্ত, ধীর এবং ঋণাত্মক এডওয়ার্ড এ্যাঙ্গক্যাটেল। ঋণাত্মক কালো মেয়েটা মিডগে হার্ডক্যাসল, অর্ধচেতন উদাস মনোভাবাপন্ন জার্দা ক্রিস্টো রিভলবার হাতে দণ্ডায়মান। তারুণ্যের ব্যক্তিত্ব বিশিষ্ট ডেভিড এ্যাঙ্গক্যাটেল। এই হত্যাকাণ্ডে সকলেই যে ভীষণভাবে বিব্রত। প্রত্যেক মানুষেরই ব্যক্তিগত দুঃখ, তার অর্থ এবং গল্প আছে। এই পরস্পর সম্পর্কশূন্য চরিত্রগুলোর মধ্যে কোথায় যেন আসল সত্য মুখ লুকিয়ে আছে। পৈরটের কাছে একটা জিনিষ ভীষণ মূল্য রাখে–সত্য, সত্যের সন্ধান। জন ক্রিস্টোর মৃত্যুর রহস্য তাকে জানাতেই হবে। সে আবিষ্কার করে জনসমক্ষে আনতে চায় হত্যাকারী কে? কার অদৃশ্য হস্ত এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কলকাঠি নেড়ে চলেছে? এই হত্যাকাণ্ডের পেছনেও কোনো উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই কাজ করেছে। এটা কোনো স্বার্থান্বেষীরই কাজের নমুনা।

    .

    ভেরোনিকা বলে ওঠে–অবশ্যই ইন্সপেক্টর, আমি আপনাকে সাহায্য করার ব্যাপারে সবসময়ে উগ্রীব।

    গ্র্যাঞ্জ বলল–ধন্যবাদ, জেনে খুশী হলাম মিস ভেরোনিকা। শনিবার সন্ধ্যার পরে আপনি হলোতে এসেছিলেন?

    ভেরোনিকা–হ্যাঁ, আমার দেশলাই ফুরিয়ে গিয়েছিল। আমি ভুলে গিয়েছিলাম গ্রামে ওটার কী মূল্য দাঁড়ায়।

    গ্র্যাঞ্জ–আপনি এতটা পথ হেঁটে হলোতে এলেন কেন? পৈরট যখন আমাদের পাশেই থাকেন, তার কাছে গেলেই তো পারতেন?

    ভেরোনিকা–আমি ঠিক জানতাম না, আমার পাশের ঘরে কে থাকেন। আমি ভেবেছিলাম তিনি হয়তো কোনো বিদেশী হবেন। তাঁর কাছে দেশলাই ধার করতে গেলে তিনি হয়ত মনে মনে একটু বিরক্তই হবেন।

    গ্র্যাঞ্জ–আপনি দেশলাইও পেয়ে গেলেন এবং পুরনো বন্ধু হিসেবে ক্রিস্টোর দেখাও পেয়ে গেলেন?

    ভেরোনিকা–হা, বেচারী জন, পনেরো বছর আমি তাকে চোখের দেখাও দেখিনি।

    গ্র্যাঞ্জ-সত্যি? তাকে দেখার পর আপনার মন খুশীতে নেচে উঠল?

    ভেরোনিকা-সত্যি, অস্বীকার করব না, তাকে দেখে ভীষণ আনন্দ পেয়েছিলাম। একজন পুরোনো বন্ধুর দেখা পেলে কোন্ লোক খুশী হয়ে থাকে ইন্সপেক্টর?

    গ্র্যাঞ্জ–কোন কোন সময় হয়?

    ভেরোনিকা–আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য জন আমার বাড়ি ছুটে এসেছিল, কিন্তু দেখা হওয়ার সঙ্গে তার নিহত হওয়ার কোনো সম্পর্ক তো দেখছি না।

    গ্র্যাঞ্জ–আপনি কী বলছেন মিস ক্রে?

    ভেরোনিকা–বহুদিন ধরেই আমাদের মধ্যে পরিচয় ছিল–আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে দক্ষিণ ফ্রান্সে। জনের বয়স হয়েছে, তাছাড়া আর কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি শুনেছি যে, তাদের বিবাহিত জীবন খুব সুখের নয়, জার্দা জনের রোগিণীদের সম্বন্ধে মনে ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করত এবং ঈর্ষায় জ্বলে গিয়ে নানারকম অশান্তিরও সৃষ্টি করত।

    গ্র্যাঞ্জ–না, না, তিনি তেমন ধরনের কোনো কাজ করেন না। আপনার কি মনে হয় মিস ক্রে, মিসেস ক্রিস্টো তার স্বামীকে হত্যা করেছেন?

    ভেরোনিকা–আমি ঠিক বলতে পারি না। বিচারের আগে কারো সম্বন্ধে এ ধরনের মন্তব্য করা কখনোই উচিত হবে না। আমি খুব দুঃখিত ইন্সপেক্টর। আমার ঝি-র মুখ থেকে শোনা কথা যে, জার্দা জনের মৃতদেহের পাশে রিভলবার হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। আপনি তো জানেন ইন্সপেক্টর, এই গ্রাম্য দেশে কত ছোট ব্যাপারও অতিরঞ্জিত হয়ে নিজের রঙ বদল করে।

    গ্র্যাঞ্জ–মিস ক্রে, চাকরেরা অনেক সময় উপকারও করে থাকে।

    ভেরোনিকা–ব্যাপারটা সত্যি ভীষণ বেদনাদায়ক যে, স্বামীর হত্যাকারী রূপে সন্দেহের তালিকায় স্ত্রীর নাম প্রথম আসছে। কিন্তু এই ঘটনায় অন্য স্ত্রীলোকও তো হাজির থাকতে পারে! আপনার কী মনে হয়, থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।

    ভেরোনিকা–একজন স্ত্রী ভাস্কর আছে, ক্রিস্টোর সঙ্গে তার বিশেষ বন্ধুত্ব ছিল। তার সম্পর্কে আপনি তো সবকিছুই জেনে ফেলেছেন।

    গ্র্যাঞ্জ–আপনি বলতে চাইছেন যে, ডাঃ ক্রিস্টো আপনার সঙ্গে বাড়িতে এসেই দেখা করে গেছেন। সাক্ষাৎ হবার সময়টা আপনার স্মরণে থাকে?

    ভেরোনিকা–কিছুক্ষণ আমরা কথাবার্তা বলেছি ঠিকই। কিন্তু সময় কত হবে সেটা বলতে পারছি না, তবে রাত তখন অনেক।

    গ্র্যাঞ্জ–তিনি কি বাড়ির ভেতরেও এসেছিলেন?

    ভেরোনিকা–আমি তাকে কিছু পান করতে দিয়েছিলাম।

    গ্র্যাঞ্জ–আপনারা তো সুইমিং পুলের ধারে তাবুতে বসেও কথা বলেছিলেন?

    ভেরোনিকা–আপনি তো মশাই গোয়েন্দা, তাই না? হ্যাঁ, আমরা সেখানেও কিছুক্ষণ বসেছিলাম এবং সিগারেটও খেয়েছিলাম। আপনি এত খবর পেলেন কোথা থেকে?

    গ্র্যাঞ্জ-আপনি তো সেখানে ভুল করে আপনার নোমশ গলাবন্ধ ফেলে এসেছিলেন?

    ভেরোনিকা–হ্যাঁ, তা ফেলে এসেছিলাম।

    গ্র্যাঞ্জ–রাত তিনটে নাগাদ ডাঃ ক্রিস্টো হলোতে ফিরে এসেছিলেন।

    ভেরোনিকা–হ্যাঁ, তা হবে হয়তো।

    গ্র্যাঞ্জ–আপনি একটা চিঠি মারফৎ ক্রিস্টোকে ডেকে এনেছিলেন এবং আপনাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়েছিল। কোন্ বিষয়কে কেন্দ্র করে আপনাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল, কষ্ট করে সেটা একবার বলবেন কী মিস ক্রে?

    ইন্সপেক্টর ব্যাটারি খুলে ভেরোনিকার ক্রোধের আগুনে জ্বলে ওঠার চিত্রটা তার ক্যামেরায় বন্দী করে ফেলেন, চোখমুখ জুড়ে ক্রোধের রেশ, ঠোঁটও কেঁপে কেঁপে উঠছে ইত্যাদি…

    ভেরোনিকা–আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়নি।

    গ্র্যাঞ্জ–নিশ্চয়ই করেছিলেন। আপনার কথার শেষ উক্তি ছিল, “আমাদের মনে হয় যে, আমি তোমাকে মনে মনে এতটাই ঘৃণা করি যে, দুনিয়ায় আর কাউকে তেমনভাবে ঘৃণার চোখে দেখি বলে বিশ্বাস হয় না।”

    ভেরোনিকা–পুরো ব্যাপারটা ঝি-চাকরদের বানানো গল্পের মতো! আপনি জানেন একটা কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কতভাবে বলা যায়। যেভাবে আপনি ব্যাপারটাকে সাজাতে চাইছেন, সেভাবে কথাটা আমি বলিনি।

    গ্র্যাঞ্জ–আপনার কথার মধ্যে তাহলে কোনো গুরুত্ব ছিল না?

    ভেরোনিকা–নিশ্চয় না। তাছাড়া, পনেরো বছর পরে জনের মুখোমুখি হলাম আমি, আপনি এই বিষয়টা অনুসন্ধান করলেই জেনে যাবেন।

    গ্র্যাঞ্জ এবার উঠে পড়ে, সে বলে ওঠে, আচ্ছা, আজ না হয় এই পর্যন্ত থাক মিস ক্রে। সে ডাভকোট ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে রেস্টহেভেন-এর দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।

    গ্র্যাঞ্জকে দেখে পৈর সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠে, জার্দা ক্রিস্টোর হাতে যে রিভলবার ছিল তার গুলিতে নাকি জনের মৃত্যু হয়নি?

    গ্র্যাঞ্জ–ঠিক তাই, পৈরট।

    পৈরট–কিন্তু তাতে করেও সুবিধা কিছু হলো না ইন্সপেক্টর?

    গ্র্যাঞ্জ–সুবিধা হয় এমন কিছু বার করলেই তো হতো! কিন্তু যতক্ষণ না আসল বন্দুকের সন্ধান মিলছে ততক্ষণ পর্যন্ত সুবিধা কিছু হবে বলে তো মনে হয় না। স্যার হেনরির স্টক থেকেই বন্দুকটা চুরি গেছে, কিন্তু এর বেশি তো আর কিছু করা যাচ্ছে না!

    পৈরট-ব্যাপারটা খুব সহজ বলে তো মনে হচ্ছে না!

    গ্র্যাঞ্জ–না, সত্যি খুব জটিল ব্যাপার, আগে অবশ্য ভেবেছিলাম, সোজা ব্যাপার। একটা ব্যাপার পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে, জার্দাকে এই ব্যাপারে জড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু তাই যদি হয় তবে আসল বন্দুকটা ডাঃ ক্রিস্টোর পাশে ফেলে রাখা হলো নাই বা কেন? জার্দা তো সেটা অবশ্যই কুড়িয়ে রাখতে পারতেন?

    পৈরট-জার্দা তো বন্দুকটা নাও কুড়োতে পারতেন?

    গ্র্যাঞ্জ–না কুড়োলেও, আগের আঙুলের ছাপ যদি নষ্ট করা অবস্থাতেই না মিলত, তবে তো সন্দেহের তালিকায় জার্দার নাম উঠত। এটাই তো হত্যাকারীর মনোগত বাসনা ছিল, তাই নয় কী?

    আচ্ছা আপনি যদি কাউকে খুন করেন তবে আপনি এটাই চাইবেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দোষটা অন্য কারো ঘাড়ে চাপাতে।নয় কি?হত্যাকারীর কাছ থেকে এরকম প্রতিক্রিয়াই স্বাভাবিক ছিল।

    পৈরট–এটা যদি অস্বাভাবিক হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তবুও কি আমরা একই পদ্ধতিতে সমাধানের প্রচেষ্টায় লেগে থাকব?

    গ্র্যাঞ্জ–সমাধান কি?

    পৈরট–অস্বাভাবিক গোছের হত্যাকাণ্ড।

    গ্র্যাঞ্জ– কিন্তু হত্যাকারীর উদ্দেশ্য তো একটা থাকবে?

    পৈরট–আমার এই ব্যাপারে কোনো ধারণাই নেই। তবে মনে হচ্ছে, জনকে মারার বাসনা তার থাকলেও সে এটা কখনোই চায়নি জার্দা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ুক।

    গ্র্যাঞ্জ–আমি দুটো কাজের জন্যই আপনার দ্বারস্থ হয়েছি। প্রথমত আপনি অনুসন্ধানের কাজে যথেষ্ট অভিজ্ঞ, আপনি একমাত্র বলতে পারেন রহস্য উদঘাটনের জন্য কোন পথে এগোতে হবে। দ্বিতীয়ত আপনি নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আপনি এ ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী।

    পৈরট–হ্যাঁ, আমার চোখের সামনেই ঘটনাটা ঘটেছে।

    ইন্সপেক্টর–এই চোখ কখনও মিথ্যে কথা বলে না। আপনি জানেন আপনার একথা বলার অর্থ কী দাঁড়ায় পৈরট। আপনার কী মনে হয়, আগে থাকতে পরিকল্পনা করেই এইসব করা হয়েছে?

    পৈরট–চোখ যা দেখে, তাকে দেখতে দেওয়া যায় পরম নিশ্চিন্তে। আমার মনে এই সন্দেহ দানা বাঁধে যে, মঞ্চের দৃশ্য যেন আমার চোখের সামনে অভিনীত হয়ে চলেছে। একজন মরে পড়ে আছে আর হত্যাকারী বন্দুক হাতে তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। ভুলের মধ্যে এইটুকুই হয়েছিল যে, যে বন্দুকটার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল সেটা এখানে ছিল না।

    গ্র্যাঞ্জ–হুম।

    পৈরট–আরও তিনজন লোক সেখানে উপস্থিত ছিলেন তারাও প্রায় একই সময়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু জার্দা সেখানে হাজির হবার আগে ঐ তিনজনের একজন সেখানে এসেছিলেন এবং ক্রিস্টোকে গুলিবিদ্ধ করে আবার সবার সঙ্গে স্বমহিমায় ফিরে এসেছিলেন।

    গ্রাঞ্জা–হ্যাঁ, তা সম্ভব।

    পৈরট–আবার এমনও হতে পারে যে, অন্য একজন এসে সবার অলক্ষ্যে ক্রিস্টোকে গুলি করে নিজের আড়াল করে চলে গেছে।

    গ্র্যাঞ্জ–আপনি বোধহয় ঠিকই বলেছেন। জার্দা ক্রিস্টো ছাড়া আরও দু’জন স্ত্রীলোকের এই ঘটনায় হাত থাকা খুবই সম্ভব। ক্রিস্টো ও ভেরোনিকার মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল, ভেরোনিকা কী বলেছিল সেকথা আমরা জানি। এমনও হতে পারে তিনি তার লোমশ শেয়ালটা নিতে এসে জনকে গুলি করে সকলের অজ্ঞাতসারে গা ঢাকা দিয়ে পালিয়েছেন। নিজের বন্দুকের সাহায্যে গুলি করে স্যার হেনরির রিভলবারটা ফেলে রেখেছেন, উদ্দেশ্য হলো হলোয় উপস্থিত অতিথিদের ঘাড়ে দোষ চাপানো। কিন্তু এই ব্যাপারটা তার মাথায় আসেনি, রিভলবারটা আমরা শেষ পর্যন্ত সনাক্ত করতে পারব।…আরও একজনের কথা এই প্রসঙ্গে এসে যাচ্ছে, ‘হেনরিয়েটা’–ক্রিস্টোর মরার সময়ে শুধু মুখ দিয়ে এই শব্দটাই নির্গত হয়েছিল। এর প্রকৃত অর্থ একটাই হয় যে, তাকে অন্য কেউ নয়, হেনরিয়েটা গুলি করে মেরেছেন?

    পৈরট–আমি সে সময় এমনটা ভেবে দেখিনি। কিন্তু আমার মনে হয়–তা হলেও হতে পারে। তিনি বিরক্তির স্বর্বেই বলে ওঠেন, এই ব্যাপারে কিছুই সন্তোষজনক বলে মনে হচ্ছে না। আগাগোড়া এটা হত্যাকাণ্ডের অভিনয় করে তাকে যেন ভোলানো হয়েছে, তাই সে নিজের প্রতি সবথেকে বেশি রুষ্ট।

    এইসব কথাবার্তার মধ্যে ছুটে আসেন সার্জেন্ট ক্লার্ক। একটা খবর দেওয়ার ছিল। সে রান্নাঘরের এক ঝির কাছ থেকে শুনেছে যে, রবিবার বিকেলে খানসামা গাজনকে একটা রিভলবার নিয়ে হলঘরের মধ্যে হেঁটে যেতে দেখেছে। ক্লার্ক পৈরটকে দেখে কথাটা বলার ব্যাপারে একটু দ্বিধাবোধ করছিল, এ্যাঞ্জের কাছ থেকে অভয়ের আশ্বাস পেয়ে ব্যাপারটা খুলে বলে।

    এই খবরে ইনসপেক্টর খুব খুশী হলেও, তবু একটা খবর তো বটে, এই ব্যাপারটা সে ভালোভাবে ভেবে দেখবে, যদি কোনো সূত্রের সন্ধান মিলে যায়। গ্র্যাঞ্জ ক্লার্ককে এইটুকুই সান্ত্বনা দিয়ে বলে যে, এই ব্যাপারে সে যথাশীঘ্র সম্ভব অনুসন্ধানে লেগে যাবে।

    .

    ২০.

    ইনসপেক্টর গ্র্যাঞ্জ এবার স্যার হেনরির পড়ার ঘরে এসে বসলেন, তার সামনে বিনয়ের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে গাজন। গাজন শুধু বলে যে, আমি সত্যি খুব দুঃখিত স্যার, কথাটা আপনাকে বলা আমার উচিত ছিল, কিন্তু একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম। ৫-৩০ নাগাদ হলঘরের মধ্যে দিয়ে যাবার সময়ে টেবিলের ওপর চোখ গেল, রিভলবারটা টেবিলেই পড়েছিল। সেটা তুলে আমি যথাস্থানে নিজের জিম্মায় রেখে দিলাম। তাকের যে খালি জায়গায় বন্দুকটা সে রেখেছিল, গাজন গ্র্যাঞ্জকে সেই জায়গাটা দেখিয়ে দেয়।

    এইটা, স্যার গাজন আঙুল দিয়ে ছোটমাপের মজার একটি পিস্তল দেখিয়ে দিল এবং সেটা রাখা ছিল স্টকের একেবারে শেষ সারিতে। ওটা ২৫ অস্ত্র হিসেবে খুবই ছোট। যে অস্ত্রের সাহায্যে জন ক্রিস্টোকে হত্যা করা হয়েছে-এটা বোধহয় সেটা নয়।

    এ্যাঞ্জের দৃষ্টি গাজনের মুখের দিকে অপলক নয়নে তাকিয়ে ছিল, এটা একটা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল, রিভলবার নয়। গাজন একটু কেশে বলে ওঠে, স্যার মুখ্য মানুষ আগ্নেয়াস্ত্র সম্বন্ধে তেমন কোনো জ্ঞান নেই, আমি হয়তো ভুল করেই রিভলবার কথাটা উচ্চারণ করে ফেলেছি।

    গ্র্যাঞ্জ–তুমি কি স্থির নিশ্চিত যে, এটা তুমি টেবিল থেকে কুড়িয়ে পেয়েছ?

    গাজন–এ বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। গাজন পিস্তলটা হাত লাগাতে গিয়েছিল, গ্র্যাঞ্জ তাকে বাধা দিয়ে বলে ওঠে, সে একবার স্পর্শ করে দেখতে চায় গুলি ভরা আছে কিনা, পিস্তলের ওপর আঙুলের ছাপও পরীক্ষা করিয়ে নেবে।

    গাজন এই সময়ে বলে ওঠে, হেনরির কোনো বন্দুক-ই গুলি ভরা নয়। তাছাড়া আমি রুমাল দিয়ে পিস্তলটা ভালো করে মুছে রেখেছি, তাই আঙুলের ছাপও ওটার মধ্যে থাকাটাই স্বাভাবিক। আমি ভেবেছিলাম অস্ত্রটার ওপর ময়লা পড়ে থাকতে পারে।

    এই সময়ে দরজা ঠেলে ঘরে প্রবেশ করে লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল, ইনসপেক্টরের দিকে তাকিয়ে সে হাসতে থাকে।

    সে বলে ওঠে, আপনাকে দেখে বেশ ভালোই লাগছে। কিন্তু রিভলবার, গাজন, এসব কী হচ্ছে?

    গাজন রান্নাঘরে বসে নিঃশব্দে চোখের জল ফেলে যাচ্ছিল, মিসেস মিডওয়ে তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল।

    গাজন বিনীত কণ্ঠে ইনসপেক্টরকে কিছুক্ষণ আগে তার বলা-কওয়া কথাগুলো পুনরায় বলে চলে।

    লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল মাথা নেড়ে বলে ওঠেন, তোমার বোধহয় এইসব কথা বলা মোটেই উচিত হয়নি, গাজন, ইনসপেক্টরের সঙ্গে আমি একবার কথা বলব।

    গ্র্যাঞ্জ শুধু এইটুকুই জানতে চায়–তাহলে আমি কি এটাই বুঝব যে, লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল আপনি গাজনের থেকেও বোধহয় একটু বেশি জেনে গেছেন।

    লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল প্রত্যুত্তরে জবাব দেয় যে, গাজন জলের মধ্যে থেকে এটা পায়নি, ডিম বার করতে গিয়ে সে এই পিস্তলটা উদ্ধার করেছে।

    গ্র্যাঞ্জ– ডিম?

    হেনরিও তাকে বুঝিয়ে বলার জন্য লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেলকে অনুরোধ জানায়।

    লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল তার বলা শুরু করেডিমের যে বাক্সটা ফার্মে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে পিস্তলটা রাখা ছিল এবং তার ওপরেই সযত্নে ডিম রেখেছিলাম, পিস্তলটা তাই ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। জনকে পুলের ধারে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আমি নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলাম। নিজের অজান্তেই হাত থেকে ঝুড়িটা পড়ে যাচ্ছিল, গাজন সেটা না ধরলে কুড়িটা জলেই পড়ে যেত। গাজন ঝুড়িটা বাড়ি নিয়ে আসে, ডিমের ওপর আমার আদেশে তারিখ লিখতে যাবার সময়েই ঝুড়ির মধ্যে তার পিস্তলটা চোখে পড়ে, কিন্তু পুলিসকে দেখতে তারা এত ঘাবড়ে যায় যে, সব কথা গুছিয়ে বলার মতো ক্ষমতা তারা হারিয়ে ফেলে। আমার কাছে পুরো ব্যাপারটাই কেমন গোলমেলে লাগছে। আমার তো মনে হয় না যে জার্দা জনকে গুলি করে মেরেছে, জার্দা বড়ই ভালো স্বভাবের মেয়ে। আপনারা যদি তাকে কারাগারে ভরেন তবে ছেলে মেয়েগুলোর কী হাল হবে একবারও ভেবে দেখেছেন।

    গ্র্যাঞ্জ শুধু বলে, এই মুহূর্তে আমরা কাউকে গ্রেপ্তার করছি না লেডি, কারণ সত্যের অনুসন্ধান করাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য, কোন্ পিস্তলটা আপনি দেখেছিলেন?

    লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল মজার ২৫ পিস্তলটা তাকে দেখিয়ে দিলেন।

    গ্র্যাঞ্জ এবার লেডির উদ্দেশ্যে এটাই জিজ্ঞাসা করেন যে, পিস্তলটা এখান থেকে নিয়ে ডিমের বাক্সে রাখার কী প্রয়োজন ছিল?

    লেডি এ্যাঙ্গক্যাটেল শুধু বলেন, আমি জানি আপনার একথা জিজ্ঞাসা করার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমার কিছুই স্মরণে আসছে না।

    এ্যাঞ্জের মনে হয় হেনরি ভুল কিছু বলেনি, তার স্ত্রী বড্ড ভুলো মন, কখন যে কী করে কিছুই মনে রাখতে পারে না। লেডি তার কাছেই জানতে চাইছে পিস্তলটা সে কোথায় রেখেছে। তার অবান্তর কথার জবাব দিতে না পারায় গ্রাঞ্জের কপালে জুটে যায় কড়া মাপের বকুনি, তার আর এখানে বসে থাকার প্রবৃত্তি হল না।

    হেনরি এই সময়ে বলে ওঠেন, লুসি, বাজে কথা বলে সময় নষ্ট না করে ইনসপেক্টরের প্রশ্নের জবাব দিয়ে তাকে ছেড়ে দাও। লুসি হাসি মুখে সবই যেন উড়িয়ে দিতে চান। তার মুখে সেই এক বুলি কেন যে ডিমের বাক্সে পিস্তলটা রেখেছিল। বিন্দুমাত্র লজ্জিত না হয়ে শুধু বলেন, আমার কিছুতেই মাথায় ঢোকে না, মালীর স্ত্রী শিশুকে কোলে নিয়ে কোন সাহসে টেলিফোনের রিসিভার তোলে?

    গ্র্যাঞ্জ সেই সময়ে বলে ওঠে, আপনি তাহলে টেলিফোন করেছিলেন?

    লেডি এই প্রশ্নের কোনো জবাব দেয় না, সব জিনিসটা গ্রাঞ্জের কাছে বানিয়ে বলার পেছনেও তার বেশ সাহস ছিল। নীরব থাকাটা এই পরিস্থিতির পক্ষে ভালো, সে এই পন্থাই কাজে লাগাল।

    গ্র্যাঞ্জ বিরক্ত হয়ে উঠে পড়ে। মনে মনে ভাবে এই গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে সে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }