Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2514 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. চিঠি পড়া শেষ

    চিঠি পড়া শেষ করলাম।

    –হেস্টিংস, পোয়ারো বললো, তোমার অনুমান ঠিক। ড্রেয়ার ভীষণ বুদ্ধিমতী মেয়ে।

    তারপর পকেট থেকে আর একটা চিঠি বের করলো। তাতে লেখা ছিল–ফ্রাঙ্কলিন ক্লার্ক। জানিয়েছে বিশেষ কাজে সে কদিন লন্ডনে আছে। আগামীকাল পোয়ারোর সঙ্গে দেখা করতে সে আসছে, জরুরী আলোচনা আছে। পোয়ারো যেন ঐ দিন বাড়িতেই থাকেন।

    পোয়ারো বললো–ধৈর্য ধরে সব দেখে যাও। দেখবে, অদ্ভুত একটা কিছু ঘটবেই।

    .

    পরদিন বিকেলে ফ্রাঙ্কলিন এসে হাজির হলো। কোনো ভণিতা না করে সরাসরি কাজের কথা শুরু করলো।

    -স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের নাম করা ইনসপেক্টর কোনো কিছু করতে পারলো না। ফ্রাঙ্কলিন বলতে থাকে। আঃ, ক্রোম যত না কাজ করে তার থেকে বড় বড় বুলি আওড়ান। কাজের বেলায় অষ্টরম্ভা। সময় থাকতে পরের খুনটা অন্তত

    -তার মানে, আপনিও নিশ্চিত করে জানেন, আর একটা খুন হবে।

    -না হয়ে তো উপায় নেই। তাই আমার পরিকল্পনা, নিহত তিনজনের বন্ধু-বান্ধব আত্মীয় স্বজন একসঙ্গে হয়ে একটা জোরদার সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। সেটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন আপনি, এর ফলে হয়তো নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যাবে। যেটা খুনীকে ধরতে সাহায্য করবে। আর চতুর্থ চিঠিটা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা লোজন নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় হাজির হবো, কড়া প্রহরার ব্যবস্থা রাখবো। ঐ স্থানের ধারে-কাছে সন্দেহজনক কাউকে দেখলে আপনাকে খবর দেবো। দেখা যাবে হয়তো খুনীকে আমরা কোথাও দেখেছি–এ্যান্ডোভারে, বেক্সহিলে বা কার্স্টনে। খুনের আগে বা পরে কারো না কারো নজরে ঐ মূর্তিমান পড়েছে। আমরা তার আসল পরিচয়ও জানতে পারবো। আপাতত এই সংগঠনে থাকবে তিনজন-মিস মেগান বার্নার্ড, মিঃ ডোনাল্ড ফ্রেসার এবং মিস ড্রেয়ার। আর আমি তো আছিই। এদের সঙ্গে আমি ইতিমধ্যে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করেছি। আর…আর…, মিস গ্রে থাকছেন।

    বাঃ, মিস গ্রেও থাকছেন।

    পোয়ারোর কথাটা শুনে ফ্রাঙ্কলিন খুব লজ্জা বোধ করলো। নিচু স্বরে বললো, মানে বুঝতেই পারছেন, উনি আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকলে আমি চিন্তামুক্ত থাকি। গত দুবছর ধরে তিনি দাদার সেক্রেটারি হিসাবে কাজ করেছেন। গ্রামের লোকেরা আমার চেয়ে তাকে বেশি চেনে। অমি তো কয়েক বছর দেশ-বিদেশে ঘুরে কাটালাম।

    -তাই নাকি? দেশ-বিদেশ গেছেন! চীনে গিয়েছিলেন আপনি?

    –হ্যাঁ, চীনে তিন বছরের কাছাকাছি কাটিয়েছি।

    আরো কিছু কর্থাবার্তার পর ফ্রাঙ্কলিন চলে গেল।

    প্রথমে বৈঠক বসলো সোমবার।

    গোল টেবিলের বিশেষ লোকটি হলো পোয়ারো। সকলে তার চার পাশে বসেছে। একটু দূরে সকালের কাগজ হাতে নিয়ে আমি বসে আছি। কিন্তু কান আমার সজাগ।

    –এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বৈঠক। পোয়ারো বললো, এর সঙ্গে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বা পুলিশের কোনো ভূমিকা নেই। ইতিমধ্যে যারা খুন হয়েছে তারা কেউই একে অন্যের আত্মীয় বা বন্ধু নয়। এমন কি তারা সমগোত্রীয় নয়। তবে দুটি ঘটনার তিনটি খুনের মধ্যে আমি একটা যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছি। তা হলো তিনটি হত্যাকাণ্ডের অপরাধী একজন লোক এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সে নিজে উপস্থিত থেকেছে। তাহলে দ্বিতীয় সূত্র লক্ষ্য করলে বলা যায়, ঐ ব্যক্তিটিকে কেউ না কেউ দেখে থাকবে। হয়তো আপনাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা তাকে দেখেছেন, বা তার চালচলনে কোনো বৈশিষ্ট্য আপনাদের মনে রেখাপাত করেছে। তবে খুনী পরিকল্পনামাফিক সুস্থ মস্তিষ্কে একের পর এক খুন করেছে। নিহত ব্যক্তিদের সম্বন্ধে খবরাখবর তাকে আগে সংগ্রহ করতে হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য সে নিশ্চিয়ই পরে পরে ঐসব ঘটনাস্থলে এসে থাকবে। তাহলে সে কি একবারের জন্যেও খুনীর আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে না? নিশ্চয় করেছে। আপনাদের স্মৃতির মণিকোঠায় তার কোনো আবছা ছাপ রয়ে গেছে। আজ আমরা অতীতের দিনগুলো স্মরণ করবে, তাকে চেনার চেষ্টা করবো এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই চেষ্টা বিফল হবে না।

    কিন্তু, ফ্রাঙ্কলিন বললো, আলোচনার একটা কেন্দ্রবিন্দু তো থাকা প্রয়োজন। এখানে সেটা কি হবে?

    -এখানে গদ বাঁধা কোনো প্রশ্ন করা হবে না। বরং এমন অনেক প্রশ্ন করা হবে যেগুলো অযৌক্তিক, অকেজো, যেমন আপনাকে দিয়েই শুরু করা যাক। আপনার দাদা যেদিন খুন হলেন সেদিন রাতে ঘুমোত যাওয়ার আগে আপনি কি কি করেছিলেন?

    –বিশেষ কিছু নয়। অন্য দিন যা করি, সেদিনও তাই করেছিলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে পড়েছিলাম নৌকো নিয়ে। দুপুরে বাড়ি ফিরি। স্নান খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘন্টাখানেক বিশ্রাম নিই। তারপর কিছু ব্যক্তিগত চিঠি নিয়ে বসি। বিকেলে শেষ ডাক না পাওয়ার দরুণ কেইন্টন পর্যন্ত দৌড়নো। সেখানকার বড় পোস্টাফিসে চিঠির বোঝা খালাস করে বাড়ি ফিরে আসি। তারপর রাতের খাবার খাওয়া, শেষে ঘুম। ঘুমিয়ে পড়তাম সেদিনও। কিন্তু থানা থেকে ফোন এসে

    –ঠিক আছে, এই পর্যন্ত। আচ্ছা, আপনি নৌকা বাইতে যাওয়ার সময় এমন কাউকে দেখেছেন, যার কথা আজও আপনার বিশেষভাবে মনে পড়ে।

    –এক মোটাসোটা মহিলাকে দেখেছিলাম।

    –আর যখন বিকেলে চিঠি পোস্ট করতে গেলেন?

    -তখন…তখন হা মনে পড়েছে একটা মেয়ে। মেয়েটা আর একটু হলে আমাকে সাইকেলের ধাক্কা লাগিয়ে দিতো। আমি আনমনা ছিলাম না, তাই রক্ষে।

    -এবার মাদমোয়াজেল গ্রে, আপনি সেদিন কি কি করেছিলেন?

    –নিত্যদিনের মতো ব্রেকফাস্ট সেরে স্যার কারমাইকেলের চিঠির বোঝা নিয়ে বসেছি। কাজ যখন শেষ করে উঠলাম তখন বেলা বারোটা। তারপর স্নান সেরে খাওয়ার পর্ব চুকিয়ে বসলাম চিঠি লিখতে। দুই বান্ধবীকে চিঠি লেখা শেষ করে কিছু সেলাই ফেঁড়াই করেছিলাম। দেখতে দেখতে কেটে গেল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম।

    -বোনের সঙ্গে শেষ কবে আপনার দেখা হয়েছিল?

    ঘটনার পনেরো দিন আগে।

    –কি কথা হয়েছিল?

    -মামুলি কয়েকটি কথা! টাকাপয়সার টানাটানি যাচ্ছে। মিলি হিগলিকে সে মোটেও পছন্দ করে না। মিস মেরিয়ান মাইনে বাড়াতে মোটেও রাজী নন, এই ধরনের আর কি।

    এবার পোয়ারো ফ্রেসারের দিকে তাকিয়ে বললো–আপনি তো কাফের আশেপাশেই ঘোরাঘুরি করছিলেন যেদিন মিস বার্নার্ড খুন হয়, তাই না?

    -হ্যাঁ।

    –বিশেষ কাউকে দেখেছিলেন?

    –না।

    –আচ্ছা মেরি, তোমার স্বামী তো তোমাকে প্রায় রোজই চিঠি লিখতেন?

    –হ্যাঁ।

    –শেষ চিঠি কবে দিয়েছিলেন?

    –ঘটনার তিনদিন আগে লিখেছিলেন?

    –কি হলো, চুপ করলে কেন? কি লিখেছিলেন?

    -উনি বলেছিলেন, আমি যেন বুধবার আমার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে ছুটি করিয়ে রাখি। কারণ ঐ দিন ছিল আমার জন্মদিন। সকাল সাতটার মধ্যে আমাকে এ্যান্ডোভারে চলে যেতে বলেছিলেন, উনিও সেদিন দোকান বন্ধ রাখবেন। আমরা সারাদিন হৈ হৈ করে বেড়াবো, সিনেমা দেখবো, হোটেলে খাবো। তিনি আমাকে একটা জামা কিনে…সে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।

    ফ্রাঙ্কলিন মিসেস এ্যাম্বারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বললো, একদিনের একটা ঘটনার কথা শুনুন। আমি ফুটপাথ ধরে আপনমনে হাঁটছি। এমন সময় শোরগোল কানে এলো। দেখি একটা মেয়ে গাড়ি চাপা পড়েছে। তার মাথার ওপর দিয়ে গাড়ির পেছনের চাকাটা সম্পূর্ণভাবে চলে গেছে। সে তার মায়ের সঙ্গে বেরিয়েছিল। সেদিন তার জন্মদিন ছিল। নতুন একজোড়া জুতো তার মা তাকে কিনে দিয়েছিলো। সেই জুতো জোড়া হাতে নিয়ে মা কান্নায় ভেঙে পড়লো। এই জুতো জোড়া পরেই তার মেয়েটির মৃত্যু হলো বলে তার মায়ের ধারণা।

    এইসময় মেগান বলে উঠলো, আমাদের বাড়িতেও এরকম একটা ঘটনা ঘটে গেছে। বেটি যেদিন মারা যায় তার আগের দিন মা তার জন্যে এক জোড়া জুতো কিনে এনেছিল। বেটির আর সেটা পরা হয়নি। ঐ জুতো জোড়া নিয়ে মা কেবল কাঁদে।

    নীরবতায় ঘর ভরে গেল। খানিক বাদে স্তব্ধতা ভঙ্গ করে থরা। বলল, এখন আমরা কি করবো?

    –আপাতত কিছু না, ফ্রাঙ্কলিন বললো এখন আমাদের পাঁচজনকে সবসময় সজাগ হয়ে থাকতে হবে। নিয়মিত মঁসিয়ে পোয়ারোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবো। আর চার নম্বর খুনের ঘন্টা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবো। মঁসিয়ে পোয়ারো, তাই তো?

    -হ্যাঁ, তাই। তবে এ ব্যাপারে আমার দু-একটা কথা আছে। প্রথমে কাফের মিলি হিগলিকে কিছু প্রশ্ন করা প্রয়োজন। কথার মারপ্যাঁচ দিয়ে তার পেট থেকে গোপন তথ্য টেনে বের করতে হবে। এই কাজের দায়িত্ব আমি মাদমোয়াজেল বার্নার্ড ও মঁসিয়ে ফ্রেসারের ওপর দিতে চাই। এক্ষেত্রে মিস মেগান, আপনার কাজ হবে, মেয়েটির সঙ্গে যে-কোনো ভাবে ঝগড়া সৃষ্টি করা। আপনি বলবেন, সে আপনার বোনকে দুচোখে দেখতে পারতো না, সেটা সে জানিয়েছে। এ প্রসেঙ্গ বেটি অনেক কথা আপনাকে জানিয়েছে, বলবেন। আর মঁসিয়ে ফ্রেসার, আপনি মেয়েটির সঙ্গে মিথ্যে প্রেম শুরু করুন।

    –আমি যদি একবার মেয়েটির খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি

    ফ্রাঙ্কলিনকে কথাটা শেষ করতে না দিয়ে থরা চড়া গলায় বলে উঠলো-ওসব নিয়ে তোমায় মাথা ঘামাতে হবে না। তোমার জন্য অন্য কাজ আছে।

    –নিশ্চয়ই, পোয়ারো মাথা নেড়ে বললো, তাছাড়া আপনার খুব কাছে যখন ও আছে। পোয়ারো থরাকে ইঙ্গিত করলো।

    ধরা দ্বিধাজড়িত কণ্ঠে বললো, না। আপনি হয়তো জানেন না, আমি ও বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়েছি। ও বাড়িতে থাকা আমার সম্ভব নয়। কয়েকদিনের মধ্যে পাকাপাকিভাবে লন্ডনে চলে যাব।

    –লেডি ক্লার্ক বর্তমানে কেমন আছেন?

    –একেবারেই ভালো নয়। থরার পরিবর্তে ফ্রাঙ্কলিন জবাব দিলো। কালকেও তিনি আমাকে বলেছিলেন, যেন আপনাকে আমি অনুরোধ করে বলি ওঁর সঙ্গে একবার দেখা করতে। যদি দয়া করে–

    –অবশ্যই। ওঁকে বলবেন, কাল অথবা পরশু নাগাদ আমি ওঁর কাছে যাবো।

    –আমি কি করবো, সেটা তো বললেন না। মেরি বলে উঠলো।

    -আছে। তোমার একটা সুন্দর কাজ আছে। তুমি এ্যান্ডোভারে যাবে। সেখানকার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোনো। তাদের মনের সঙ্গে একেবারে মিশে যাবে। তারা দিন-রাত রাস্তায় খেলা করে। অতএব তাদের চোখে কিছু পড়া অস্বাভাবিক নয়।

    ফ্রাঙ্কলিন কিছু বলার আগে সে নিজেই বলে উঠলো–খবরের কাগজে বরং একটা বিজ্ঞাপন দিই। ঠিক এইরকম গোছের–এ. বি. সি. হুঁশিয়ার। তোমার পরিচয় আমার আর অজানা নেই। নগদ একশো পাউন্ডের বিনিময়ে আমি মুখ বন্ধ রাখতে রাজি। ইতি–ডিই. এফ.। কি, ভালো হবে না?

    –ভালো হবে। একবার চেষ্টা করে দেখতে তো দোষ নেই।

    ফ্রাঙ্কলিন বললো–সকলের সুবিধার জন্য সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হলো। আমি পড়ছি, আপনারা শুনুন।(১) মিলি হিগলির সঙ্গে মিস বার্নার্ডের কথোপকথন। (২) মিঃ ফ্রেসারের সঙ্গে মিলি হিগলির প্রেম প্রেম খেলা।(৩) এ্যান্ডোভারের ছোটো ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মিস মেরি ড্রেয়ারের বন্ধুত্ব করা (৪) বিজ্ঞাপন।

    এরপর সবাই যে যার বিদায় নিলো।

    আমি পোয়ারোকে প্রশ্ন করলাম, এসব আলোচনা থেকে তুমি কি বুঝলে?

    -বুঝলাম, হাজার কষ্ট-দুঃখের মধ্যেও এক বিন্দুসুখ থাকে। হেস্টিংস তোমার সামনে কেমন সুন্দর একটা নাটক হয়ে গেল, তুমি সেটা লক্ষ্য করলে না। যখন ফ্রাঙ্কলিন মিলি হিগলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিনয় করার কথা জানালো তখন মিস গ্রে কেমন ক্ষেপে গিয়ে প্রতিবাদ করে উঠলো।

    এইসময় আবার মিস গ্রে ঘরে এসে ঢুকলোকয়েকটা দরকারি কথা ছিল, সেগুলো না বলে ফিরতে পারছিলাম না। তাই আবার চলে এলাম, আপনাকে কিছুক্ষণ আগে জানিয়েছি এখানকার চাকরি ছেড়ে দিয়ে লন্ডনে চলে যাচ্ছি। সেটা কিন্তু স্বেচ্ছায় নয়। স্যার কারমাইকেলের মৃত্যুর। পর লেডি ক্লার্ক এমন ব্যবহার শুরু করেছেন যে সেখানে আমার টিকে থাকা সম্ভব নয়। তিনি আমাকে পছন্দ করেন না, সন্দেহ করেন। কথা শেষ করে সে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।

    জানো হেস্টিংস, পোয়ারো বলতে থাকে, মিস গ্রে যেমন বুদ্ধিমতী তেমন সাহসী। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন। আচ্ছা, তুমি কি বলতে পারবে, ওর পরনে কি ধরনের পোশাক ছিল?

    এমন এলোমেলো প্রশ্ন করছো কেন? তোমার ব্যাপার কি পোয়ারো?

    ব্যাপার গুরুতর ভায়া। বৈঠকের আলোচনা চলাকালীন এক ফাঁকে একটা অদ্ভুত কথাটা শুনলাম। এই কাজটা আগে বোধহয় শুনেছি বা নোট বইতে লিখে রেখেছি। কিন্তু কি যে সেই কথাটা

    -তুমি কি কথাটা কার্স্টনে শুনেছো

    -না, কার্স্টনে নয়। বেক্সহিলে বা এ্যান্ডেভারে হতে পারে। কি জানি। যাই হোক, মিস গ্রে-র আসল গুণটা কিন্তু তার সব গুণকে ছাপিয়ে গেছে। চেহারার লাবণ্য দেখেছো…যেন স্বর্গের দেবী…অথবা….

    আমরা নিরালায় পৌঁছালাম। সেখানে গিয়ে মনটা উদাস হয়ে গেল। ডেভরিন ঘরের সামনে দাঁড়াতে এক সুস্থ মোটাসোটা চেহারার নার্স উঁকি মারলো। সে তার পরিচয় দিলো। নাম জানালো ক্যাপস্টিক। লেডি ক্লার্ককে দেখোশোনা করার ভার তার ওপর দেওয়া আছে। সে বললো–আমি জানি আপনারা আসবেন। মিঃ ফ্রাঙ্কলিন আগেই বলে রেখেছিলেন।

    -উনি এখন কেমন আছেন?

    –কিছুটা ভালো। মনে হয় ডাঃ মেগানের ওষুধ কিছুটা কাজ করেছে।

    –উনি কি খবরটা শুনে ভীষণ ভেঙে পড়েছেন?

    -না, উনি ভেঙে পড়েননি। কাতর হওয়া বা মুষড়ে পরার জন্য যে বোধ দরকার সেটা ওঁর মধ্যে নেই। অতএব তিনি মনের দিক থেকে স্বাভাবিক আছেন। এত ওষুধে যে-কোনো সুস্থ স্বাভাবিক লোকও বোধশক্তি হারিয়ে ফেলে। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ছিল নিখাদ। স্ত্রীকে সুস্থ করে তোলার জন্য তিনি সবরকম চেষ্টা করেছেন। এখানে কাজ করতে এসে প্রথম প্রথম আমি রীতিমতো ঘাবড়ে যেতাম তার ব্যবহার দেখে, তবে বছরের পর বছর থাকতে থাকতে সব চোখে সয়ে গেছে। তাছাড়া স্যার কারমাইকেল একঘেয়ে জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এক বিরাট সংগ্রহশালা তৈরি করেছিলেন। দিনের অনেকটা সময় তিনি সেখানে কাটাতেন। কেনাকাটার জন্য মাঝে মাঝে এদিক-ওদিক যেতেন। মিস গ্রে-কেজিনিসপত্র আনার জন্য ফর্দ করতে সাহায্য করতেন, এইসব।

    –মিস গ্রে এখান থেকে চলে গেল কেন, বলতে পারেন?

    -শুরুতে লেডি ক্লার্ক তাকে বেশ ভালো চোখেই দেখতেন। অবশ্য পরে…আমরা অনেকক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। চলুন, ভেতরে চলুন। উনি হয়তো ভাবছেন।

    আমরা ঘরে প্রবেশ করলাম। চেয়ারে এক রোগা, বিদীর্ণা, রোগে জর্জরিত মহিলার প্রতিমূর্তি যেন বসে আছে। ক্যাপস্টিক আমাদের সঙ্গে লেটি ক্লার্কের পরিচয় করিয়ে দিলো।

    –আসুন, মঁসিয়ে পোয়ারো। শুকনো মুখে ভদ্রমহিলা আমাদের অভ্যর্থনা জানালো। তারপর বলতে শুরু করলো, এমন ঘটনা ঘটলো যা আমার চিন্তার বাইরে। আমি বহুদিন ধরে রোগশয্যায় পড়ে আছি। সেই হিসেবে আমারই আগে মরে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু…ঈশ্বরের কি নিষ্ঠুর পরিহাস…। আপনাদের সঙ্গে কথা বলে খুব ভালো লাগছে। আমার শরীরের তো এই হাল। অথচ ঈশ্বর তাকে নিয়ে চলে গেল, রেখে গেল এত বড় বাড়ি, অমন এক অবুঝ ভাই…আমার পক্ষে কি সব কিছু সামলানো সম্ভব। জানেন, ওর স্বভাবটা একেবারে ছোট্ট ছেলের মতো। বয়েসের সাথে স্বভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ওকে যে একটু নজরে রাখবো সে ক্ষমতাটুকুও আমার নেই।

    –আপনি ওকে নিয়ে ভাবছেন ঠিকই, কিন্তু আমার নজরে তেমন কিছু পড়লো না। একটু আবেগপ্রবণ এই যা।

    -হ্যাঁ, ঐ আবেগটাই যত নষ্টের গোড়া। যাই হোক, কাজের কথায় আসি। আমার স্বামীর মত একজন ভালোমানুষকে কিনা শেষপর্যন্ত একটা বদ্ধ উন্মাদের হাতে মরতে হলো। মাইকেলের জন্য আমি যত না কাতর তার চেয়ে দুঃখ পেয়েছি ঐ পাগলার কথা ভেবে। পাগল কি সাধে হয়েছে। অনেক শোক-তাপের ফল, নিজে দুঃখ হলে একজন লোকের দুঃখ অনুভব করতে পারা যায়। যদি একবার তাকে দেখতে পেতাম…আচ্ছা, আপনাদের নাকি ধারণা, লোকটা ট্যুরিস্টদের ভিড়ে মিশে আছে। কিন্তু আমাদের বাড়ির এ পাশটায় তো খুব বেশি ট্যুরিস্ট আসে না। খুন করতে হলে খুনীকে অবশ্যই আমাদের বাড়ির ধারে-কাছে একবার আসতেই হবে।

    –কিন্তু ম্যাডাম, তিরিশে আগস্ট কাউকে আপনার বাড়ির ধারে-কাছে দেখা যায়নি।

    –কথাটা কার থেকে শুনেছেন? মিস গ্রে কি বলেছে? ওরা কথা একেবারে বিশ্বাস করবেন না। ও একনম্বরের শয়তানি, মিথ্যেবাদী। এই কারণে ওকে আমি মোটেও পছন্দ করতাম না। আমার দুচোখের বিষ। কি ন্যাকা ন্যাকা কথা, আমার কেউ নেই। ছোটোবেলা থেকে লোকের লাথি–ঝাটা খেয়ে বড় হয়েছি। তাতে কি হয়েছে বলুন? তোর ভাগ্যে নেই তাই পাসনি। আমার কপাল ভালো, তাই আমি সব পেয়েছি। অত কথা কিসের বাবা। এ বাড়ির দুই নবাব পুত্রের মধ্যে একজন নিয়ে এলো জামা, আবার অন্য জন নিয়ে হাজির হলো নকল মুক্তোর হার। বড়ভাই তো ওর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ছোটো ভাই ভাবে গদগদ হয়ে দশ পাউন্ড মাইনে বাড়িয়ে দিলো। এসব আমি বরদাস্ত করতে পারি না। তাই গত সোমবার তাকে পরিষ্কার জানিয়ে দিলাম, এখান থেকে তুমি চলে যাও। নিজের আস্তানা নিজে খুঁজে নাও। কথা না বলে সুড়সুড় করে ঘর থেকে সে চলে গেল। তারপরেই ফ্রাঙ্কলিন আমার কাছে এসে হাজির হলো। ও চলে গেলে না কি কথা বলার সঙ্গীর অভাব হবে। তারপর বললো, ওকে তিনমাসের মাইনে অগ্রিম দিয়ে দাও, তাই-ই সই। কিন্তু ওর চেহারা আমি এই বাড়ির ধারে-কাছে দেখতে চাই না। আমি অসুস্থ তাই আমাকে সকলে সহানুভূতির চোখে দেখে। আমি ঝোঁকের মাথায় যা বলি, সেটা ওরা শুনে নিতে বাধ্য হয়। ফ্রাঙ্কলিনও কোনো আপত্তি করলো না।

    লেডি ক্লার্ক একটানা বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার পর হাঁফাতে লাগলো। নার্স বললো–আপনি বরং একটু শুয়ে বিশ্রাম নিয়ে নিন।

    -থাক, আর সোহাগ দেখাতে হবে না। তোমাকেও আমি হাড়ে হাড়ে চিনেছি। ঐ শয়তানির সঙ্গে তোমারও কম দরদ ছিল না।

    –আপনি মিস গ্রে-কে মিথ্যাবাদী বললেন কেন? পোয়ারো প্রসঙ্গ পাল্টে প্রশ্ন করলো।

    –মিথ্যেবাদী নয়তো কি। আপনাকে বলেছে বাড়ির আশেপাশে কোনো উটকো লোককে সে দেখেনি। অথচ আমি জানালার সামনে চেয়ারে বসে সব কিছু লক্ষ্য করেছিলাম। একজন অচেনা লোকের সঙ্গে সে কথা বলছে। সে দাঁড়িয়ে ছিল উঠানে। আর লোকটা ফটকের বাইরে ছিল। প্রায় এগারোটা হবে। লোকটির চেহারা সাধারণ। লম্বা, রোগা, নোংরা পোশাক পরনে-ব্যস। এইটুকু মানে…মি. পোয়ারো, আমার শরীর ভীষণ খারাপ লাগছে, আপনারা এখন আসুন। নার্স…নার্স।

    ইচ্ছা না থাকলেও আমাদের বাধ্য হয়ে ঐ ঘর ত্যাগ করতে হলো।

    –এতক্ষণে মিস গ্রে আর ঐ লোকটার গল্প শোনা গেল। আমি বললাম, মিস গ্রে এমন একটা খবর কেন চেপে গেল?

    –এই কেন-র জবাব আমাকে এখন আবিষ্কার করতে হবে। সময় ও সুযোগ হলে তাকেই একদিন প্রশ্ন করবো।

    আশ্চর্য, এমন সুন্দরী শিক্ষিত মহিলার সঙ্গে একটা পাগলের যোগসাজস, এ কল্পনা করা যায় না। সে সুন্দরী বলেই সকলে অপমান করার জন্য আদাজল খেয়ে লেগেছে।

    -না হেস্টিংস, তোমার কথায় আমি সায় দিতে পারলাম না। সবাই আদাজল খেয়ে লেগেছে, কিন্তু স্যার কারমাইকেল, ফ্রাঙ্কলিন, নার্স ক্যাপস্টিক, এঁরা?

    -লেডি ক্লার্কের নাম তো বললেন না?

    -বললাম তো। তোমাকে কেবল তিনের সঙ্গে একের ফারাকটা বুঝিয়ে দিলাম।

    হোয়াইট হ্যাভেনে ঢুকতেই রিসেপশনিস্ট জানালো, অনেকক্ষণ ধরে এক ভদ্রলোক পোয়ারোর সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছে। সে তার ফ্ল্যাটের সামনে পায়চারি করছে, খানিক আগে এক বেয়ারা দেখে এসেছে।

    লিফট থেকে বেরোতেই নজরে পড়লো ডোনাল্ড ফ্রেসার অপেক্ষা করছে। এই সময় ওকে আশা করিনি, তাই আশ্চর্য হলাম। তার চেহারায় একটা বিধ্বস্ত ভাব। মনে হয় গত দুদিন তার ওপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে।

    বেশ কিছু কথা হলো।

    একসময় আমি জানতে চাইলাম, আপনি কি সরাসরি বেক্সহিল থেকে আসছেন?

    -হ্যাঁ।

    –মিস হিগলিকে কায়দা করতে পারলেন?

    –ও, ঐ কাফের মেয়েটা। না, তার ব্যাপারে মাথা ঘামাবার সুযোগ আমার হয়নি।

    –তাহলে আপনি ওখান থেকে চলে এলেন?

    –কি জানি, তা বলতে পারবো না।

    –এটা কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর হলো না। পোয়ারো আপনার মনের খবর সব জানে।

    -আমি জানি, পোয়ারো বললো গত আটচল্লিশ ঘণ্টা ধরে মনের মধ্যে যে কথাটা পুষে রেখেছেন আপনি, কাউকে বলতে পারেননি, সেটা আমাকে জানাতে এসেছেন। আপনার যা বলার আছে নির্ভয়ে বলতে পারেন সঁসিয়ে ফ্রেসার।

    –আপনি যদি আমার কথা বিশ্বাস করেন, তাহলে বলতে পারি। আচ্ছা, মঁসিয়ে পোয়ারো, আপনি কি স্বপ্ন বিশ্বাস করেন? একটা ভীষণ বাজে স্বপ্ন বীভৎস ভয়ঙ্কর। আমি হয়তো স্বাভাবিক নই। হয়তো শেষ পর্যন্ত পাগল হয়ে যাবো। রাতের পর রাত এক স্বপ্ন আমাকে অস্থির করে তুলেছে। আমি বালিয়াড়িতে বেটির জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু তাকে আমি কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। বেটির বেল্ট আমার হাতে, তাকে সেই বেল্ট ফেরত দিতে হবে। আমি সকলের মুখ পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম, নিখুঁতভাবে দেখলাম, আচমকা তার সাক্ষাৎ পেলাম আমি। সমুদ্রের দিকে মুখ করে বসে আছে। জলের ঢেউ গুনতে গুনতে সে যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে। আমি তার দিকে ধীর পায়ে এগিয়ে গেলাম। সে কিছু টের পেল না। অবশেষে আমি তার ঠিক পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে গেল ঘটনাটা। আমার হাতের বেল্ট তখন তার গলায় জড়িয়ে গেছে। আমি আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে বেল্টটা টানতে লাগলাম। ব্যাস, তার নিষ্প্রাণ দেহটা বালির ওপর লুটিয়ে পড়লো। আমার তখন আনন্দ ধরে না। আমি তাড়াতাড়ি তার দিকে ঝুঁকে পড়লাম। দেখি, ও বেটি নয়, ওর দিদি মেগান।…আমি এ স্বপ্নের মাথামুণ্ডু কিছু বুঝতে পারছি না। চোখ বুজলেই সেই দৃশ্য ভেসে উঠছে মনের পর্দায়।

    ফ্রেসারকে ক্লান্ত দেখালো। পোয়ারো তার দিকে ব্র্যান্ডির শিশি এগিয়ে দিয়ে কিছুটা গলায় ঢালতে বললো, ও আপত্তি না করে সবটা ব্র্যান্ডি গলাধঃকরণ করলো, শিশিটা পোয়রোর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো–আচ্ছা, এই স্বপ্নের অর্থ কি? আমি কি তাহলে বেটির খুনী?

    পোয়ারো জবাব দিতে গিয়ে বাধা পেল। চিঠির বোঝা হাতে নিয়ে ডাকপিওন এসে ঢুকলো।

    চিঠির ঠিকানায় চোখ বুলিয়ে আমি সভয়ে চিৎকার করে উঠলাম।

    –পোয়ারো এসেছে।

    আমরা দুজনে টাইপ করা চিঠিটা সামনে মেলে ধরলাম।

    .

    কি মশাই, এখনও কি অন্ধকারে অন্ধের মতো হাতড়ে বেড়াবেন, না কি এ পর্ব শেষ করবেন? শেষ না করলেও ক্ষতি নেই, লজ্জাও নেই। চলুন, আমরা এক নতুন জায়গায় নতুনভাবে খেলাটা শুরু করি।
    বেচারা পোয়ারো। আপনার দুঃখ দেখে আমার চেঁচিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।
    আপনি কি শাস্ত্র-টাস্ত্র মানেন? যদি মানে, তাহলে এই সুবাদে একটা উপদেশ দিই। কি যেন কথাটা…উদ্যমেন হি সিদ্ধন্তি। তার মানে উদ্যম থাকলে সব কিছু সফল হয়। অতএব যতদিন বেঁচে আছেন, হাল ছেড়ে না দিয়ে লড়াই করে যান। একদিন না একদিন সুফল পাবেন-ই।
    ধরুন না, আমাকে। আমার উদ্যম দেখছেন তো, আপনাকে কেমন একের পর এক বোকা বানাচ্ছি। তবে ভাববেন না, সহজে আমি রণে ভঙ্গ দেবো।
    যাক, আসল কথায় আসি, এবার কোথায় খেলাটা হবে বলুন। টিপারারি..? না। ওটা আমার বর্ণমালার কুড়ি নম্বর খুনের পর্যায়ে পড়ে। হিসেবমতো ক্রমিক সংখ্যা অনুযায়ী …চার..পাঁচ… সতেরো…আঠারো..কুড়ি। অতএব মাঝখানে ষোলটা সংখ্যা রেখে আমি কোন সাহসে কুড়ির দিকে এগোই বলুন।
    যাক, আপাতত ও কথা স্থগিত থাক। আপাতত আমরা চলুন যাই ডন কাস্টারে। হাতের কাছে চার নম্বর রয়েছে ওটার একটা গতি করে নিই।

    ইতি
    বশংবদ
    এ.বি.সি.

    চিঠিটা পড়ে আমি উৎকণ্ঠিত হলাম না। বরং খুশী হলাম। এতদিনের সমস্ত উৎকণ্ঠা চতুর্থ চিঠির কল্যাণে ধুয়ে মুছে গেল। তাই স্বাভাবিক ভাবেই দুশ্চিন্তার পরিবর্তে শান্তি পেলাম, স্বস্তি পেলাম।

    ক্রোমকে ফোন করে জানানো হলো। পনেরো মিনিট বাদে সে এসে হাজির হলো। দশ মিনিটের মধ্যে মেগান বার্নাড, ফ্রাঙ্কলিনও এসে গেল। মেগান সোজা বেক্সহিল থেকে আসছে।

    পোয়রো চিঠি সম্বন্ধে সব কিছু ক্রোমকে জানালো। ক্রোম চিঠিটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। চিঠি সম্পর্কে স্যার লায়নেল কি বলে সেটা পোয়ারোকে জানাতে বললো।

    ফ্রাঙ্কলিন তার দিকে তাকিয়ে বললো–চিঠিটা তো পকেটে পুরে নিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু করবেন কি? এগারোই সেপ্টেম্বর ডন কাস্টারে যে মরশুমের শেষ ঘোড়দৌড়, সেটা কি জানেন? ঐ খেলা উপলক্ষ করে ডান কাস্টারে কত লোক জমা হয় জানেন? সারা ইংল্যান্ড ওখানে গিয়ে ভিড় করে। পায় পঞ্চাশ হাজার। আর যাই হোক, খুনী পাগল হতে পারে, কিন্তু চাল সে ঠিক দেবে।

    পোয়ারো বলল–সত্যি, মিঃ ফ্রাঙ্কলিন, আপনাকে প্রশংসা করতে হয়। এমন বিপদের দিনেও আপনার বুদ্ধি লোপ পায়নি।

    -না না, এতে প্রশংসা করার কি আছে। কথাটা মনে পড়লো, তাই বললাম। তবে আমার ধারণা, এবারের খুনটা হয়তো রেসের মাঠেই হবে।

    ক্রোম বিদায় নিয়ে চলে গেল। ওর চলে যাওয়ার ভঙ্গি দেখে আমরা হেসে উঠলাম। এমন সময় থরা ঘরে এসে ঢুকলো। মাথায় কালো টুপি, পরনে পা অবধি ঢাকা বর্ষাতি। ভিজে ছাতাটা রেখে বললো, যা শুনলাম সব কি সত্যি?

    –কি শুনলেন? কে-ই বা বললো আপনাকে?

    মিঃ ক্রোম বললেন। বাড়িতে ঢোকার মুখে তার সঙ্গে দেখা হলো। চিঠিটা সত্যি এসেছে। এবার ঘটনাস্থল কোথায়?

    –ডন কাস্টার।

    –কবে?

    বুধবার, এগারোই সেপ্টেম্বর।

    –এখন কি করণীয়?

    –আপাতত ভবিষ্যতের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে।

    …পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে ঠিক করা হলো, ঘটনার দিন আমরা সবাই ডন কাস্টারে হাজির থাকবো। সন্দেহজনক কিছু নজরে পড়লে প্রথমে স্থানীয় থানায় জানাবো। আমাদের অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। যদি দল থেকে ছিটকে যাই তাহলে ঝুঁকি নেবো না। মনের জোর অক্ষুণ্ণ রেখে আমরা সত্যের ও ন্যায়ের পথে এগোবো। তাতে যে যতটুকু জানি

    পোয়ারোর কথার মাঝখানে থরা ও ফ্রাঙ্কলিন বলে উঠলোনা না, আমরা তার সম্বন্ধে কিছু জানি না। জানত আমরা তাকে কোনোদিন দেখিইনি বা কেউ কথা বলিনি। বারবার মনে করার চেষ্টা করছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

    –লাভ হত। যদি না আমরা কেউ সত্য গোপন করতাম। পোয়ারো বলতে থাকে। মিস গ্রে, কারমাইকেলের মৃত্যুর দিন বেলা এগারোটার সময় বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে এক অচেনা লোকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সে কথা উনি আমাদের জানাননি।

    –এসব কথা আপনি কোথা থেকে শুনলেন! উত্তেজনায় থরা লাফিয়ে উঠলো। পরক্ষণে সে শান্ত হয়ে বললো, আসলে লোকটি যুদ্ধ ফেরত এক ফেরিওয়ালা। চাকরি নেই, তাই রোজগারের ধান্দায় বাড়ি বাড়ি মোজা বিক্রি করে বেড়ায়। আমাকে উঠোনে দেখতে পেয়ে আমাকে ঈশারা করে ডাকে। আমি এগিয়ে যেতেই আমাকে মোজা দেখায় এবং কেনার জন্য খোশামোদ করে। লোকটা নাছোড়বান্দা। দশ মিনিট পর সে বাক্স গুছিয়ে চলে গেল। আমিও তারপর লেডি ক্লার্কের সঙ্গে দেখা করতে চলে যাই।

    পোয়ারো নিজের চিন্তার মধ্যে ডুবে গেল। কিছুক্ষণ কাটলো এইভাবে, একসময় আমাকে লক্ষ্য করে বললো, মনে আছে, মিসেস এ্যাম্বারের আলমারি ঘেঁটে অনেক কিছুর সাথে একজোড়া নতুন মোজা পাওয়া গিয়েছিলো। তারপর বেক্সহিল। মাত্র দুদিন আগে মিস মেগান এই ঘরে বলেছিলেন, সদ্য কেনা মোজা হাতে নিয়ে তার মায়ের আকুল কান্নার কথা…কি তাই না মাদমোয়াজেল বার্নার্ড?

    -হ্যাঁ, ঠিক তাই।

    –আর এক ফেরিওয়ালার কাছ থেকে মোজা জোড়া কিনেছিলেন, তাই না?

    –হ্যাঁ।

    –তাহলে দেখুন, কি বিচিত্র লোক সেই ফেরিওয়ালা। ঘটনা ঘটার আগে বা পরে তাকে ঠিক ঘটনাস্থলে দেখা যাচ্ছে। মিসেস এ্যাম্বার তাকে দেখেছে, মিসেস ফাউলার তাকে দেখেছে, মিস গ্রে-এবার বলুন মাদমোয়াজেল, তার চেহারাটা কেমন দেখতে ছিল?

    -মনে আছে কি? মানে, আট-নদিন তাকে দেখেছি তো…গায়ে একটা পুরানো ওভারকোট ছিল…হাঁটে কুঁজো হয়ে হয়ে তবে অল্প…আর কিছু মনে পড়ছে না, তেমন কোনো তার চেহারার বৈশিষ্ট্য নেই যে মনে থাকবে।

    নিশ্চয়ই, মনে রাখার মতো চেহারা হলে আমাদের মধ্যে কারো না কারো চোখে সেই চেহারা ভেসে উঠতো। মিস মাদমোয়াজেল, আপনি তার যে চেহারার বর্ণনা দিলেন, তাতে আমার কাজ হবে। ঐ অপরিচিত লোকটিকে আমি চিনতে পারছি।

    ‘এটাকে আবার ক্যাপ্টেন হেস্টিংস-এর লেখা বলে মনে করবেন না।‘

    কাস্ট বসে আছেন স্থির হয়ে, যেন একটা পাথরের মূর্তি। নড়ে না, চড়েও না। কাগজের প্রথম পৃষ্ঠায় সেই বিজ্ঞাপনটা তাকে ভীষণভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। মনের গভীরে উথালপাথাল শুরু হয়েছে।

    ঘরে এসে ঢুকলো বাড়ির মালিক মার্থারি। কাস্ট তাকে দেখে চমকে উঠলো। ব্রেকফাস্ট যেমন ঠিক তেমন পড়ে আছে। চা জুড়িয়ে জল। মাথারি জানতে চাইলো, তার শরীর ভালো আছে কিনা? কাস্ট তখন উত্তেজনায় কাঁপছে। কোনোরকমে জবাব দিলো–আজ আমি বেলতেন হ্যাঁমে যাবো।

    -ভারি সুন্দর জায়গা, নিরিবিলি। ব্রিস্টন হয়ে যেতে হয়। একেবারে জমজমাট, মিসেস মাথারির চোখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। কাস্টের হাত থেকে পড়ে যাওয়া খবরের কাগজটা তুলতে তুলতে বলে উঠলোকাগজ খুললেই কেবল একটাই খবর..এ.বি.সি…খুন…তদন্ত… এবার নাকি খুনটা ডন কাস্টারে হচ্ছে। সত্যি, ওখানকার লোকদের কি অবস্থা, একবার ভেবে দেখুন। যদি আমার নামের প্রথম অক্ষর ডি হত তাহলে আমি তিলমাত্র দেরি না করে বোঁচকা-বুচকি নিয়ে এখান থেকে সরে পড়তাম। কি মিঃ কাস্ট, কিছু বললেন?

    -না…কিছু বলিনি…

    এবার এগারো তারিখে কাজটা সম্পন্ন হবে। ঐ দিন জমজমাট থাকবে এলাকা। তবে পুলিশ বসে নেই, উঠে পড়ে লেগেছে। …একি আপনার মুখ চোখ অমন দেখতে লাগছে কেন, যেন রক্তশূন্য। শুনুন, আজ আর বেরোবেন না। আমার কথা শুনুন।

    দেখুন, আপনার কথা মানা সম্ভব নয়। আগে আমার কাজ, আমি কথা দিয়েছি। কথার খেলাপ করা চলবে না, কাজ শেষ করে তারপর অন্য চিন্তা। শরীর আমার ভালো আছে…কেবল একটু ক্লান্ত লাগছে আর কি।

    তিনি তৈরি হয়ে নিলেন পোশাক পরে। স্যুটকেস গুছিয়ে বেরোতে গিয়ে দেখেন মিস লিলি তার দিকে তাকিয়ে হাসছে।

    মিঃ কাস্ট, আজ এত তাড়াতাড়ি বেরোচ্ছেন?

    জরুরী কাজ পড়ে গেছে…না বেরোলেই নয়।…আচ্ছা, মিস লিলি, আপনার মনে কখনো বিপদের আশঙ্কা জেগেছে? আপনি কি ভাগ্য মানেন?

    -মানে…ঠিক…। এক একদিন সকালবেলা উঠে মনটা এমন ভারাক্রান্ত হয়ে থাকে যে সারাদিন কোনো কাজ করতে ভালো লাগে না।

    -ঠিক বলেছেন।

    –তা এখন কোথায় যাচ্ছেন?

    –অ-নে-ক দূর। বেলতেন হ্যাম।

    –দেখুন, সেদিন টকিতে তো আপনি এ.বি.সি গণ্ডীর মধ্যে ঢুকে পড়েছিলেন। এবার আর সে ভুল করবেন না।

    -না না, ক্ষেপেছেন। আর ভুল করি। এবার সাত মাইল…অনেক দূর..

    -সাত মাইলকে আপনি অনেক দূর বলছেন কি করে? হয়তো রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে খুনীটার সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছে। অচেনা একটা উটকো লোক…

    –আমরা তাকে কেউ দেখিনি, কেউ চিনি না। না, আর দেরি করা চলবে না। আপনার মায়ের ভালোবাসার কথা আমার সবসময় মনে থাকবে…চলি…হয়তো আর ফিরবো না, গুডবাই…

    তাঁর চলে যাওয়ার দিকে মিস লিলি একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলো।

    ‘ এটাও কিন্তু ক্যাপ্টেন হেস্টিংস-এর লেখা নয়।‘

    ক্রোম এক সার্জেন্টকে ডেকে নির্দেশ দিলো, লন্ডনের সমস্ত প্রতিষ্ঠানের কোথায় কোন মোজা তৈরি হয়, সেইসব কারখানার এজেন্টদের সমস্ত খবর সংগ্রহ করে কাল দুপুরের মধ্যে যেন পাঠিয়ে দেয়।

    পোয়রোর কথায় আহ্লাদিত হয়ে বড় কর্তা হুকুম দিলেন, পোয়ারো কই বলতে পারলেন না তো, আজকাল কোন খুনীরা চালাক হয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদেরও চালাক হতে হবে। তা না, আলোচনা? হঠাৎসার্জেন্টের দিকে চোখ ফিরতে, তাকে চলে যেতে বললো।

    ‘এটাও কিন্তু হেস্টিংসের লেখা নয়।‘

    লিলির কানে কানে ফিসফিস করে টম হার্টিগাম বললো–তোমাদের ঐ গোবেচারা বুড়ো ভাড়াটেকে দেখলাম। ইউস্টেন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। নিজের মনে হতাশ হয়ে কি সব যেন ভাবছিল। তার হাত থেকে খবরের কাগজটা পড়ে গেল। খেয়াল নেই। আমি কাগজটা তার হাতে তুলে দিলাম। আমাকে অনেক ধন্যবাদ জানালো। মনে হলো না, আমাকে চিনতে পেরেছে বলে।

    –তুমি কোন স্টেশনের কথা বললে, লিলি বললো ইউস্টেন না ব্রিস্টন?

    –ব্রিস্টন?

    –মনে হয় দুটোর সঙ্গে তুমি এক করে ফেলছে।

    –কি বলছো, আমি নিজের চোখে দেখেছি।

    –বেলতেন হ্যামে যেতে হলে ব্রিস্টন হয়ে যেতে হয়।

    –ডন কাস্টারে সে যাচ্ছিলো। তাই ইউস্টেন নেমে গাড়ি পাল্টাতে হবে।

    –এত কথা তোমাকে কে বললো?

    –বাঃ, কাগজটা তুলতে গিয়ে ভাজ থেকে টিকিকটা পড়ে গিয়েছিল। আমিই তো সেটা কুড়িয়ে তার হাতে দিলাম। তাকে যাই ভাবো, আসলে সে প্রফেসার…ডন কাস্টারে ঘোড়দৌড়ের মরশুমের পড়ে পাওয়া চোদ্দো আনার লোভ সামলাতে পারে না।

    –আসলে এমন অদ্ভুত ধরনের লোক, যার নিজের সম্বন্ধে ভালো-মন্দ জ্ঞান নেই। আমরা তো সেবার তার জন্যে ভেবেই অস্থির। কার্স্টনে যখন খুনটা হয় তখন সে ওখানেই ছিলো।

    -সে কি বসে থাকার লোক। এরা হলো কাজ পাগল। হয়তো এমন হতে পারে খুনের কদিন আগে বা পরে তাকে বেক্সহিলে আসতে হয়েছে।

    বেক্সহিল…বেক্সহিল…ঠিক কথা মনে করেছে তোতা। বেটি বার্নার্ড যেদিন খুন হলো, তার ঠিক দুদিন আগে সে বেহিলে যায়, ফিরে আসে ঘটনার তিন দিন পর।

    মনে হয়, এ সেই পাগল খুনী। টম নিজের রসিকতায় হেসে উঠলো।

    তারপর শুরু হলো নাচ। বাজনার তালে তালে নাচতে নাচতে বেশ কিছু সময় কেটে গেল।

    তারপর…?

    এগারোই সেপ্টেম্বর। আমরা সদলবলে হোটেলে আস্তানা গেড়েছি, পাশাপাশি দুখানা ঘর, একটি মহিলাদের জন্য অন্যটিতে পুরুষরা থাকবে।

    বিশাল জনসমুদ্র। আমি, পোয়ারো, মিস গ্রে-র পক্ষে কি সম্ভব সেই এ.বি.সি.-র রত্নটিকে খুঁজে বের করা?

    –যদি ক্ষণিকের জন্যও দেখে থাকে তাহলে ঠিক চিনতে পারবে। এটা স্কুল কলেজে পড়ার সময় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার একটি নমুনা। আলোর সাত রঙের চাকতিটাকে বনবন করে ঘোরালো, সাতটি রঙ আর আলাদাভাবে দেখা যায় না কেবল সাদা রঙ চোখে ভাসে। আবার যখন থামাবে তখন আর সাদা রঙ দেখতে পাবে না।…তাছাড়া রাস্তার অলিতে গলিতে পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। ক্রোম যে একজন পাকা ইনসপেক্টর সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমি জানি, খুনী তার প্রতিজ্ঞা পূরণের জন্য সচেষ্ট হবেই। তেমনি আমাদের চোখ-কান খুলে চলতে হবে।

    আমাদের এবার বেরোতে হবে। তৈরি হয়ে নিলাম।

    এমন সময় ফ্রাঙ্কলিন এলো। পোয়ারোর কানে কানে কি যেন বলছে, সেটা শোনার চেষ্টা করলাম।

    -মানে, আপনি যে সেদিন কার্স্টনে গেলেন। আমার বৌদির কথা বললেন…কোনো ইঙ্গিত বা প্রস্তাব…

    পোয়ারো হেসে বললো–আপনি ঠিক কি বলতে চাইছেন?

    –এই পরিবেশে যদিও নিজের ব্যক্তিগত কথা নিয়ে আলোচনা করা উচিত নয়। তবুও… জানতে ইচ্ছে করছে…জানেন, বৌদিকে আমি মায়ের মতো শ্রদ্ধা করি। সেও আমাকে ভালোবাসে। কিন্তু ওর অসুখটা যত অশান্তির কারণ। ঝোঁকের মাথায় কখন যে কি বলে বসেন তার ঠিক নেই। আসলে জানেন তো, মেয়েরা মেয়েদের হিংসে করে। থরা দেখতে সুন্দরী। থরার নামে প্রশংসা শুনলে সে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে। সে কি থরার নামে আপনাকে…জানেন, দাদাও থরার প্রশংসা করতো, অবশ্য তার মন ছিলো নিষ্পাপ। সে থরাকে নিজের মেয়ের মতো স্নেহ করতো।

    ফ্রাঙ্কলিন পকেট থেকে একটা চিঠি বের করে দেখালো–এই চিঠিটা দাদা আমাকে লিখে পাঠিয়েছিল। তখন আমি মালয়ে ছিলাম।

    চিঠির বয়ান ছিল–

    আমরা ভালো আছি। তোমার বৌদির শরীরের কিছুটা উন্নতি হয়েছে। নিশ্চয়ই থরা গ্রের কথা তুমি ভুলে যাওনি। সত্যি মেয়েটি আমাকে বাঁচিয়েছে, যেমন চটপটে তেমনি চালাক। কথা বলার আগেই তার কাজ শেষ। থরা না থাকলে আমার এত দিনের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যেতো। শখের জিনিস নিয়ে লোকের কাছে গর্ব করার মতো আমার হয়তো আর কিছুই থাকতো না।

    …মেয়েটার গুণের কথা বলে শেষ করা যায় না। চীনের জিনিসপত্র সংগ্রহের ব্যাপারে আমার যেমন আগ্রহ, ওরও তেমনটি ছিল। মাঝে মাঝে আমার কি মনে হয় জানো, যদি ওর মতো আমার একটা মেয়ে থাকতো। কিন্তু ভগবান আমাকে সব কিছু দিয়েছেন, কেবল এদিক থেকে বিমুখ হয়ে আছেন।

    তারপর চিঠিটা পকেটে রেখে ফ্রাঙ্কলিন বললো, দাদা তার দুঃখ ভুলতে চেয়েছিলো, দাদার ভালোবাসার মহত্ত্বটা বৌদি বুঝতে পারেনি। তাই তো থরাকে বেড়ালের মতো তাড়িয়ে দিলো। ব্যাপারটা ভালোভাবে খতিয়ে পর্যন্ত দেখলো না। যাক, আপনাকে কি তার সম্বন্ধে কিছু বলেছে?

    সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যাপার। আমি নিজের বুদ্ধিকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি। তাই কেউ কিছু বললেও আমার বিশ্বাসে আঘাত হানতে পারে না।

    আমরা ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লাম, এগোতে গিয়ে বাধা পেলাম। পোয়ারোর ইশারায় দাঁড়িয়ে পড়লাম–শুভ কাজে যাচ্ছি…একটা পেঁচার ডাক শুনতে পেলে?

    বুঝলাম পোয়ারোও আমাদের সঙ্গ নিয়েছে। ওর জুটি কে সেটা জানতে চাইলাম, আমি জানি, সুন্দরী মহিলাদের সঙ্গে সময় কাটাতে সে ভালোবাসে,তাই আমি ওর জন্য মেরি বার্নার্ডকে পছন্দ করলাম। যেহেতু বর্ণমালার চতুর্থ অক্ষর দিয়ে ওর পদবী শুরু।

    কিন্তু পোয়ারো গররাজী হলো। এ বয়সে ঝুঁকি না নেওয়া ভালো।

    ‘এটাকে আবার ক্যাপ্টেন হেস্টিং-এর লেখা বলে মনে করবেন না।‘

    -বাঃ দারুণ। দারুণ একটা ছবি বটে। শেষের পাখি। প্রত্যেক কটা দৃশ্য দেখবার মতো। আর আহাম্মকটার কাণ্ড দেখ। পয়সা দিয়ে টিকিট কেটে সম্পূর্ণ না দেখে পালাচ্ছে। আর তো দশ মিনিটের মধ্যে ছবি শেষ হয়ে যাবে। এটা দেখেই যেতে পারতো। আর এমনই বোকা, মাথা থেকে টুপিটা পড়ে যাওয়ায় খুঁজতে লাগলো! এতে যে অন্য লোকের অসুবিধা হচ্ছে, সেটা বুদ্ধিতে কুলোচ্ছে না। অন্ধকারে লোকটাকে দেখা গেল না। নতুবা লেড বেটার দুটো কথা শুনিয়ে দিতো।

    …সত্যি, অপূর্ব…নায়িকা যেখানে ক্যাথারিন র‍্যায়াল..ইউরোপের বিখ্যাত অভিনেত্রী।…তবে আজ হলে তোক কম। সবাই ছুটেছে ঘোড়দৌড়ের মাঠে।…আর একটা গর্দভ আবার ঘুমোচ্ছে। পেছন থেকে ডেকেও সাড়া না পেয়ে লেড বেটার দরজার দিকে এগোলো।

    হঠাৎ পেছন থেকে একটা সোরগোল শুনে সে দাঁড়িয়ে পড়লো। ঘুরে দাঁড়ালো, যেখানে লোকটি ঘুমোচ্ছিল সেখানে লোক ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে। কৌতূহলী হয়ে ভিড়ের দিকে এগিয়ে গেল…লোকটি খুন হয়েছে। পাশে এ.বি.সি. …সবাই আর্তনাদ করে উঠলো-খু…উ…ন।

    ‘এটাও কিন্তু ক্যাপ্টেন হেস্টিংসের লেখা নয়।‘

    রিগ্যাল সিনেমা হল থেকে কাস্ট রাস্তায় এসে পা রাখলেন। মনের গভীর থেকে উঠে এলো বহুদিন আগের এক কথা। ভাবতে ভাবতে একটা সস্তা দামের হোটেলে এসে হাজির হলেন, কাল সকাল থেকে ব্ল্যাক সোয়ানে তিনি অবস্থান করছেন। ঘরে ঢুকলেন তিনি। বাঁ-হাতটা চোখের সামনে তুলে ধরতেই তিনি শিউরে উঠলেন। মণিবন্ধের ঠিক ওপরে কোটের হাতায় জমাট বেঁধে আছে চাপ রক্ত। পরমুহূর্তে তিনি পকেট থেকে টেনে বের করলেন একটা ছুরি–লম্বায় যেটি দশ ইঞ্চি, তেমনি তীক্ষ্ণ ধার। ছুরির ফলায় রক্ত লেগে আছে। মনে হয় ছুরিটা এখুনি রক্তে ডুবিয়ে আনা হয়েছে।

    কাস্ট ছুরির দিকে অপলক নেত্রে তাকিয়ে রইলেন। তিনি বিকারগ্রস্ত লোকের মতো ছুটে গেলেন বেসিনের কাছে। দ্রুত ছুরিটা জল দিয়ে ধুয়ে ফেললেন। জল লাল হয়ে উঠলো নিমেষের মধ্যে। হঠাৎ দরজায় করাঘাত। তিনি ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলেন। সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটি সরল সাধারণ মুখের মেয়ে, হাতে মস্ত বড় একটা বালতি।

    সে বলল-স্যার, সকালে আপনি গরম জল আনতে বলেছিলেন।

    –কিন্তু আমি যে ঠাণ্ডা জলেই হাত ধুয়ে ফেললাম।

    মেয়েটি তাঁর কথা লক্ষ্য করে বেসিনের দিকে তাকালো। তিনি ভয়ে ঘাবড়ে গেলেন। তিনি বললেন–আমার বাঁ হাতটা আজ কেটে গেছে।

    মেয়েটির যেন বিশ্বাস হলো না কথাটা, এমনভাবে তার দিকে তাকিয়ে বললো–আহা রে! মেয়েটা চলে গেল।

    কাস্ট আতঙ্কিত হলেন–তবে কি…না। তিনি দেরি না করে হোটেল থেকে চুপি চুপি বেরিয়ে পড়লেন। বড় রাস্তায় এসে একটু ভাবলেন, তারপর স্টেশনের দিকে পা বাড়ালেন।

    ভিড়ের মধ্যে মিশে যেতে হবে আমায়।…আর ভাগ্য যদি এবারেও সুপ্রসন্ন হয় তাহলে আমার আর নাগাল পায় কে?

    ‘এটাও কিন্তু ক্যাপ্টেন হেস্টিংসের লেখা নয়।‘

    মিঃ লেড বেটারকে খুব উত্তেজিত দেখালো। বললো-ইনসপেক্টর, ভাবতেই অবাক লাগছে মিঃ উন্মাদ খুনীটা আমার কাছেই ছিল বসে। সে পকেট থেকে রুমাল বের করে ঘন ঘন মুখ মুছতে লাগলো।

    ক্রোমের মধ্যে কোনো ভাবান্তর লক্ষ্য করা গেল না। স্বাভাবিকভাবে বললো, ব্যাপারটা আগে ভালো করে বুঝতে দিন। আগে বলুন, লোকটার চেহারা কেমন ছিল? সে কি খুঁড়িয়ে হাঁটছিল না সোজা হয়ে?

    চেহারা…লম্বায় প্রায় ছফুট, জোয়ান দেখতে। অন্ধকারে ভালো করে দেখতে পাইনি ঠিকই, তবে মাথার মাঝখানে টাকটা চকচক করছিলো, মুখচোখের গড়নও ভারী বিশ্রী। কিছুক্ষণের জন্য থেমে বলতে থাকে-স্যার, আপনি ঠিকই বলেছেন, কিছুটা খুঁড়িয়ে হাঁটছিল।

    আরো কয়েকটি প্রশ্ন সেরে নিয়ে ক্রোম নোটবুকে লিখে নিলো। যারা ঘটনাটা নিজের চোখে দেখেছে তাদের মধ্যে একজন মিলিটারি ডাক্তার ছিল। ক্রোম তার কাছে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো ডাঃ জেমসন, কি কি দেখেছেন, বলুন তো?

    ছবি শেষ হয়েছে। বেরোবার জন্য পা বাড়ালাম। এমন সময় পেছন থেকে চাপা আওয়াজ কানে এলো। জেমসন বলতে থাকে, আমি পায়ে পায়ে সেখানে গেলাম, দেখি একটি লোক চেয়ারের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে। তার চারপাশে লোক ভিড় করে আছে। আমি সকলকে সরিয়ে এগিয়ে গিয়ে নোকটার কপালে হাত রাখলাম। একেবারে ঠান্ডা। লোকেরা ঐ লোকটিকে চেয়ারে সোজা করে ঠিক করে বসিয়ে দিলো। ওর এখন হাওয়া প্রয়োজন মনে করে কোটের বোম খুলতে গিয়ে চমকে উঠলাম। বাঁ পকেটের হাত থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরে পড়ছে। তার পাশে পড়ে আছে এ.বি.সি. একটি গাইড। ঠিক সেই সময় একজন তোক তারস্বরে চিৎকার করে উঠলো-খু-উ-ন।

    –গাইডখানা হাতে নিয়ে দেখেছিলেন?

    –না, গাইডে হাত দিইনি।

    কর্নেল এন্ডারসন ঘরে এসে ঢুকলো।

    এবারেও এ.বি.সি.-র কাছে হার স্বীকার করতে হলো। কিন্তু সবদিকেই তো সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ব্যবস্থায় এতটুকু ফাঁক ছিল না।…কিন্তু খুনটা শেষ পর্যন্ত হয়ে গেল। তবে এবারে ভারী কোনো অস্ত্র দিয়ে আগত করা হয়নি। পেছন দিক থেকে ঘাড় এবং গলার দিকে মাঝখানে ছোরার ফলা ঢুকিয়ে দিয়ে মৃত্যু ঘটানো হয়েছে। লোকটা সঙ্গে সঙ্গে মারা গেছে।

    –নিহত লোকটির নাম-ধাম জানা গেছে? পোয়ারো প্রশ্ন করলো।

    –হ্যাঁ, নাম জর্জ আর্লর্সফিল্ড। শহরের উত্তর প্রান্তে ওর একটা সেলুন আছে।

    –আ-র্ল-স-ফিল্ড…আশ্চর্য, কেমন গড়বড় ব্যাপার।

    -ঠিক তাই। এটাও আমার মনে খচখচ করছে। খুন হবার কথা ডি অক্ষরের নামের লোকের। অথচ মৃত্যু ঘটলো দিয়ে শুরু যে ব্যক্তির পদবী…।

    ওসব চিন্তা পরে করা যাবে। ক্রোম বলে উঠলো। তার আগে জবানবন্দীর কাজ শেষ করা যাক।

    ঘরে এসে ঢুকলো স্যার রজার ম্যানুয়েল ডাউন্স। শান্ত নিরীহ বেঁটেখাটো চেহারার প্রৌঢ় ভদ্রলোক। জানালো শিক্ষকতা তার পেশা, জাইফিল্ড বয়েজ স্কুলে ইংরাজির শিক্ষক। যা যা দেখেছে, তার বর্ণনা দিতে লাগলো-উঁহু, ভাবা যায় না, আমার পাশে পড়ে আছে সদ্য এক মৃতদেহ। ছবি শেষ হতেই আলো জ্বলে উঠেছিল। তখন আমি কিছু খেয়াল করিনি। লোকটি সামনের চেয়ারে বসেছিল। আমি তার পেছনের আসনে ছিলাম, দেখি চেয়ারে মাথা রেখে লেকাটি বসে আছে। আমি তাকে ডাকলাম। কিন্তু ডাকের কোনো প্রতিক্রিয়া তার মধ্যে লক্ষ্য করলাম না। ভাবলাম, নিশ্চয়ই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অতএব আশেপাশের লোকদের ডাকলাম। অনেকেই সেখানে হাজির হলো। ভিড়ের মধ্যে একজন বললো, উনি নাকি মিলিটারি ডাক্তার। আমাদের যদি আপত্তি না থাকে তাহলে লোকটাকে তিনি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। আমরা রাজী হলাম। গায়ে হাত দিয়ে দেখলো, ঠান্ডা হাওয়া-বাতাস লাগার জন্য বাঁ-হাতে তার বুকের বোম খোলার পরে ভেসে উঠলো এক বীভৎস দৃশ্য। রক্ত…আর পাশে পড়ে আছে এ.বি.সি. গাইডটি। আমি চিৎকার করে উঠলাম। খু-উ-উ-ন।

    …চিৎকার করেই নিজের ঝামেলা ডেকে এনেছি। আমি প্রেসারের রুগী। চিৎকার, লাফানো, দৌড়-ঝাঁপ সব কিছু বন্ধ। বিকেল পাঁচটা থেকে সোওয়া আটটা পর্যন্ত কেটে গেছে। আমাকে এখন বাড়ি গিয়ে ওষুধ না খেলেই হবে না।

    -মৃতলোকটি আপনার থেকে কত দূরে বসেছিলেন?

    –প্রায় পাশাপাশি আমরা বসেছিলাম। ওর আসন নম্বর ছিল তিন, আমার ছিল চার নম্বরের চেয়ারটি। কিন্তু আমার ঠিক সামনেই এক লম্বা-চওড়ার ভদ্রমহিলা বসেছিলো। আমার ছবি দেখতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই আমি পাঁচ নম্বরে গিয়ে বসি।

    এন্ডারসন বললো–মিঃ ডাউন্স আপনি ভাগ্যবান পুরুষ, নিঃসন্দেহে।

    -কেন? একথা বলার কারণ?

    –এত বড় বিপদের থেকে রক্ষা পেলেন।

    –বিপদ আমার, বিপদ-আপনি কি বলছেন? কিছুই তো মাথায় ঢুকছে না।

    –বুঝবেন কি করে? এ.বি.সি.-র লক্ষ্য যখন স্বয়ং আপনি..

    –আমি?

    -আপনার পদবীর প্রথম অক্ষর বর্ণমালার চার নম্বরে আছে। আপনিই ছিলেন খুনীর লক্ষ্য। সেইজন্য সে ওখানে গিয়েছিলো। কিন্তু আপনার ভাগ্য সুপ্রসন্ন। না হলে এতক্ষণে…

    কথাটা শুনে আতঙ্কিত হয়ে ডাউন্স কাঁপতে লাগলো। আর কোনো কথা না বলে ঘর থেকে চলে গেল।

    কনস্টেবল ঘরে এসে জানালো, হোটেল ব্ল্যাক সোয়ান-এর মালিক মিঃ বল এবং একজন মহিলা বিশেষ প্রয়োজনে দেখা করতে চায়।

    মিঃ বল এবং মেরি স্ট্রার্ড ঘরে এসে ঢুকলো। মিঃ বল নিজেদের পরিচয় দিয়ে বললো, –বিশ বছর ধরে আমি হোটেল চালাচ্ছি। আর পাঁচ বছর ধরে মেরি আমার হোটেলে আছে। এরকম অদ্ভুত ঘটনা কখনো দেখিনি বা শুনিনি। মেরি বুদ্ধি করে ভাগ্যিস ঘরে ঢুকে পড়েছিল…

    -ঘরে? কোন ঘরে?

    দোতলার ষোলো নম্বর ঘরে। আপনারা বরং মেরির মুখ থেকে শুনুন। ও যা যা দেখেছে সব বলতে পারবে।

    -স্যার, আমি তখন গরম জল নিয়ে দোতলায় ষোলো নম্বর ঘরে গেছি। মেরি বলতে থাকে। দরজা ভেজানো ছিল, আমি টোকা দিলাম। একবার নয়, দুবার। সাড়া পেলাম না। আমি দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে পড়লাম। দেখি উনি বেসিনে নিচু হয়ে হাত ধুচ্ছেন। আমাকে লক্ষ্য করলে বলে উঠলেন, কি চাই? আমি বললাম, আপনি সকালে গরম জল চেয়েছিলেন, তাই নিয়ে এসেছি। উনি বললেন, গরম জল আর লাগবে না। ঠান্ডা জলেই হাত ধুয়ে ফেলেছি। আমি তার কথামতো বেসিনের দিকে তাকালাম। অবাক হয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলাম–চাপ চাপ রক্ত বেসিনে, তার কোটের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো, ঐ পর্যন্ত জলে ভেজা। কিন্তু কাটা ছেঁড়া কিছুই দেখলাম না। ঐ সময় ওকে কেমন হিংস্র দেখাচ্ছিল। আমি দেরি না করে পড়িমরি করে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসি।

    -এটা কখন হয়েছে?

    –প্রায় সাড়ে পাঁচটা কি তার থেকে দু-পাঁচ মিনিট এদিক-ওদিক হবে।

    –তিন ঘন্টা আগে ঘটনাটা ঘটেছে। আপনারা এত দেরি করে এলেন কেন? এতক্ষণ কী করছিলেন?

    –আমরা তো খুনের ব্যাপারটা আগে শুনিনি। শুনলাম এক বোর্ডারের কাছে থেকে। সাড়ে সাতটার খাবার টেবিলে বসে সে সিনেমা হলের খুনের কথাটা বলছিলো। সেই শুনে মেরি তখন আমাদের সব কিছু বললো। আমি তখন দারোয়ান আর মেরিকে নিয়ে দোতলায় ষোলো নম্বরে গিয়ে হাজির হলাম, ততক্ষণে লোকটা হাওয়া হয়ে গেছে।

    মেরি, তুমি বলো তো, লোকটার পরনে কি ধরনের পোশাক ছিল? দেখতে কেমন ছিল?

    –লোকটার চেহারা লম্বা, ছিপছিপে, একটু খুঁড়িয়ে হাঁটে। চোখে চশমা…গায়ে ছিল পুরানো পা পর্যন্ত ঢাকা একটা ওভারকোট, মাথায় টুপি।

    –লোকটার নাম কি? এন্ডারসন প্রশ্ন করলো।

    -হা স্যার, রেজিস্টার আমি সঙ্গে করে এনেছি। আপনাদের সুবিধার কথা ভেবে। তারপর মিঃ বল রেজিস্টারটা টেবিলের ওপর খুলে ধরলো।

    আমাদের যেন তর সয় না। হুমড়ি খেয়ে সকলে রেজিস্টারের ওপর পড়লাম। দেখলাম প্রথমে বর্ণমালার বড় হাতের অক্ষর দুটি প্রথমে, পদবীর অংশটুকু

    এন্ডারসন বিড়বিড় করে বললো, এ.বি. ক্যাস বা কেস? যাই হোক, তিনটি অক্ষর মিলিয়ে নামটা ছোট করলে দাঁড়ায় এ.বি.সি.। ক্রোম মাথা তুলে বলল।

    -ঘরে মালপত্র কিছু ছিল?

    –মালপত্র বলতে বিরাট একটা সুটকেস। তার মধ্যে অনেকগুলো ছোটো ছোটো পিচবোর্ডের বাক্স। ঐ বাক্সগুলোতে সস্তা দামের একজোড়া করে মোজা ছিল।

    ক্রোম খুশির আমেজে পোয়ারোর দিকে হাত বাড়িয়ে বললো-মঁসিয়ে পোয়ারো আপনার ধারণা ঠিক। ইয়ার্ডের তরফ থেকে আপনাকে অভিনন্দ জানাচ্ছি।

    ‘এটাকে আবার ক্যাপ্টেন হেস্টিংস-এর লেখা বলে মনে করবেন না।‘

    স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের নিজস্ব কামরায় দুপুরবেলা ক্রোম বসে আছে। এমন সময় ফোন বেজে উঠলো। ক্রোম রিসিভার তুলে নিয়ে কানে রাখলো। ওপার থেকে জ্যাকবের গলা ভেসে এলো–একটি ছেলে এ.বি.সি.-র ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইছে। সে তার বক্তব্য আপনাকেই বলতে চায়।

    ক্রোম তাকে পাঠিয়ে দিতে বললো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }