Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2514 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৬. কনভেন্ট স্কুল

    ০৬.

    শহরে যে কটা কনভেন্ট স্কুল আছে, সব কটা খুঁজেও কোথাও বাচ্চার হদিশ না পেয়ে ডিনসমেড বাড়ি ফিরে চেয়ারে গা এলিয়ে বসে আকাশ-পাতাল ভাবতে লাগল।

    -হ্যালো।

    –হ্যালো মিস জুলিয়েট। আমি ডিনসমেড।

    –বলুন মিঃ ডিনসমেত, খবর কী? বাচ্চা কেমন আছে?

    বাচ্চার কোনো খবর জানি না।

    -মানে, বাচ্চা এখনও নিজের কাছে আনেননি বুঝি? আপনার কথা শুনে আমি ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।

    –আমার পরের কথা শুনে আরো ঘাবড়ে যাবেন।

    –তা কথাটা কী?

    –জোন্স অ্যাপার্টমেন্ট সহ ফার্নিচার বেচে বাচ্চা নিয়ে উধাও।

    –পালিয়েছে? জুলিয়েটের গলায় বিস্ময়ের আওয়াজ।

    –হ্যাঁ।

    –কিন্তু আমি ব্যাপারটা কিছুই বুঝতে পারছি না।

    –আমার কথা শুনলেই বুঝবেন। এইমাত্র ওর ওখান থেকে এসেই আপনাকে ফোন করছি।

    -কোথায় গেছে কেউ বলতে পারছে না? মিসেস হেনেসকেও কিছু বলে যায়নি?

    –সে বলতে পারছে না। তাকে বলেছে বাচ্চাকে শহরের একটা কনভেন্টে দেবে।

    –তাহলে দেখা মিলতে পারে।

    –সেগুড়ে বালি। আমি আশেপাশের সব কনভেন্টগুলিতে খবর নিয়েছি। ও মিথ্যে কথা বলেছে।

    –অথচ বাচ্চাকে আপনার কাছে দেবে বলল।

    –হ্যাঁ, আমি তো তাই জন্যই আনতে গিয়েছিলাম।

    তাছাড়া বাচ্চাকে মানুষ করবে কী করে? একটু ভালোভাবে মানুষ করতে গেলে চাই টাকা। সে ও পাবে কোথায়? আর তাছাড়া গাইডেন্স?

    -টাকার ব্যবস্থা করেই গেছে। অ্যাপার্টমেন্ট বেচে চল্লিশ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।

    –কাকে বেচেছে কিছু জানতে পেরেছেন?

    –হ্যাঁ ম্যাকডোনাল্ড নামে এক ভদ্রলোককে। দিন পাঁচেক হল বেচেছে।

    –ও।

    –আমি এখন কী করি? স্ত্রী শুনলে ভীষণ আপসেট হয়ে পড়বে।

    –পড়বে তো। নেহাৎ বন্ধুর মেয়ে বলেই আপনি দেখাশোনা করতে গিয়েছিলেন অথচ

    জানেন আমি এখনও ভাবতে পারছি না জোন্স বাচ্চাকে নিয়ে পালিয়েছে।

    –আমারও এক অবস্থা।

    –আমি কী থানায় যাবো?

    –থানায় গিয়ে কোনো ফল হবে বলে মনে হয় না।

    পুলিশ ওদের খুঁজে বার করবে।

    –কেমন করে?

    –তাও তো বটে, ওদের ছবি তো আমার কাছে নেই। আপনার কাছে আছে?

    –উঁহু, তবে একটা ডায়েরি করে রাখুন।

    –তাই করি। জোন্স যে এভাবে ডোবাবে

    অথচ গেলে তো কত ভালো ব্যবহার করত। কথায় কথায় চা-কফি নিয়ে আসত। আর বাচ্চার কথা বলত সবসময়। আর সেই বাচ্চার ক্ষতি করার জন্য ও উঠে পড়ে লেগেছে।

    -সত্যি, বাচ্চার কথা ভেবে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

    –ও বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাবে। আর জোন্স একসঙ্গে অত টাকা পেয়ে হয়তো বেপরোয়া জীবন শুরু করবে।

    –আমারও তো একই চিন্তা আর আপনাকে যে টিচার রাখব কথা দিয়েছিলাম তাও খেলাপ হল।

    –আপনি আর কী করবেন! আমার দুর্ভাগ্য এমন একটা সুন্দর বাচ্চা পড়াবার ভার পেয়েও হারালাম।

    –সবই ভবিতব্য। তাহলে ছাড়ি।

    –হ্যাঁ। আর কোনো খবর পেলে ফোনে জানাবেন।

    –নিশ্চয়ই।

    .

    –হ্যালো।

    –হ্যালো সুসান, আমি ডিনসমেড কথা বলছি।

    –বল, এত দেরি করছ কেন?

    –একটু পরেই ফিরছি।

    -আর দেরি করো না। আমি ছেলে-মেয়েদের বাচ্চাটার কথা বলেছি, ওরা কেবলই ওকে দেখতে চাইছে। আমি ভুলিয়ে রেখেছি।

    –সুসান খারাপ খবর আছে।

    –বলল, তা খবরটা কী?

    –জোন্সকে পাওয়া যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে বাচ্চাটাও।

    তার মানে?

    –ও বাচ্চাটাকে নিয়ে কোথায় চলে গেছে কেউ তা জানে না।

    –তুমি থানায় খবর দিয়েছ?

    –না, প্রথমেই ওরা ছবি চাইবে, তা আমার কাছে নেই। মিস জুলিয়েটও একই কথা বলেছেন।

    তাকেও জানিয়েছে?

    –হ্যাঁ।

    মেয়েটা তাহলে এভাবে হারিয়ে যাবে?

    –কী করবো বল? আমার তো কিছুই করার নেই।

    –জোন্সের মেয়েটাকে নিয়ে পালানোর পিছনে কী উদ্দেশ্য আছে?

    –তা ওই জানে?

    –অথচ তুমি জোন্সের কত প্রশংসা করতে।

    –তখন তো এমন ছিল না।

    –যাক তবু একটা ডায়েরি করে এসো।

    –আচ্ছা।

    .

    ০৭.

    –হ্যালো।

    –হ্যালো। মিঃ ডিনসমেড বলছেন? আমি পিটার বলছি।

    –বল কী খবর?

    –স্যার একটা খবর আছে। হয়তো শুনে খুশী হবেন।

    –তা খবরটা কী?

    –স্যার একটা তৈরি বাড়ির সন্ধান পেয়েছি।

    –কোথায়?

    –গ্রীন উডে।

    –তোমায় গ্রীন উড়ে বাড়ি দেখতে কে বলেছে? একেবারে গ্রাম।

    –গ্রাম কিন্তু এমন সুন্দর বাড়ি শহরেও পাবেন না। আর পেলেও তার দাম দুই-তিন লাখ টাকা চাইবে।

    -কিন্তু আমি তোমায় শহরের বাড়ির কথাই বলেছিলাম।

    –আমার চেষ্টার ত্রুটি নেই।

    –তাই দেখো।

    ডিনসমেড কথাটা বলল বটে কিন্তু শহরে সে হাঁপিয়ে উঠেছে। রবার্টের চিন্তা সারাক্ষণ মনমরা করে তুলেছে। তারপর বাচ্চাটাও হারিয়ে গেল। তারপর কী মনে হওয়ায় আবার জিজ্ঞাসা করল–তা বাড়িটার দাম কত?

    -ষাট হাজার টাকায় একটা পুরো বাংলো। তিনটে শোবার ঘর, কিচেন, ডাইনিং স্পেস, সামনে বাগান।

    –পঞ্চাশ হলে ভালো হত।

    –স্যার আপনার অফার তাকে জানাবো।

    তবে গ্রামে থাকতে ঠিক মন চাইছে না।

    –স্যার ওখানে কিছু অসুবিধা হবে না। সবকিছু আছে। আমি নিজে গিয়ে দেখে এসেছি।

    –তা দেখেছো যখন তখন সত্যি করে বলল ওখানে কী কী সুবিধা অসুবিধা আছে?

    –স্যার বাড়িয়ে বলা অধর্ম। এ শর্মা তা করে না।

    –ঠিক আছে বল।

    পিটার একটা লম্বা ফিরিস্তি দিল যার সুবিধা বেশি অসুবিধা নামে মাত্র।

    -যাক সব শুনলাম তবু শহরই।

    -তা তো ঠিক, তবে আপনি বলেছিলেন না একটু নিরিবিলি জায়গা, তাই ওখানটা খুঁজেছিলাম।

    -নিরিবিলি?

    – স্যার, ওখানকার মতো মুক্ত বাতাস, অদূরে পাহাড়ে, পাখির ডাক অন্য কোথাও পাবেন না। ওখানে ঠেলাঠেলি, নোংরা বাতাস-এর কিছুই এখানে নেই। স্যার রোববার বাড়িটা একবার দেখে আসবেন না?

    দাঁড়াও আগে মিসেস-এর সঙ্গে কথা বলি।

    –ঠিক আছে কাল আমি আবার ফোন করব।

    –আচ্ছা, তা বলে শহরের বাড়ির কথা ভুলো না যেন।

    –সেকি কখনও হয় স্যার? ছাড়ি স্যার।

    –ঠিক আছে।

    নিরিবিলি কথাটা বরাবরই তার খুব ভালো লাগে। সত্যি সে নিরিবিলিতে থাকতে চায়। একটা চাপা নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে, অথচ ডিনসমেড পিটারকে তার সঙ্গে আর বন্ধু রবার্টের বেঁচে থাকার সময় বলেছিল তার বাড়ির পাশে বন্ধুর জন্যও একটা বাড়ি খুঁজতে। যাতে তারা দুজনে আরো বেশি করে যোগাযোগ রাখতে পারে তার জন্য। এখন সেই বন্ধুর স্মৃতি মন থেকে মুছে ফেলতেই তিনি এখন থেকে পালাতে ইচ্ছুক। রবার্টকে ভুলতে সে নিজেকে সবসময় কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখে।

    কিন্তু স্মৃতির হাত থেকে কারো মুক্তি নেই। সেই স্মৃতি তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এ যেন অসহ্য হয়ে উঠেছে। আগে তার এক ঘুমে রাত কেটে যেত। এখন অতি কষ্টে রাতে ঘুম এলেও মাঝে ঘুম ভেঙে যায়, আর ঘুম আসে না। দেওয়াল ঘড়ির টিক টিক্ শব্দ তাকে যেন অনেক কিছু বলতে চায়।

    শুধু তাই নয় মাঝেমধ্যে রবার্টের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দৃশ্য ডিনসমেডের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তখন রবার্ট তাকে হাত নেড়ে ইশারা করে ডাকে এবং হাতটা বাড়িয়ে দেয়। কী বীভৎস সেই হাত! অথচ রবার্টের হাত ছিল মেয়েদের হাতের মতো সুন্দর।

    এক আধদিন এই দৃশ্য দেখে সে ভয়ে চিৎকার করে ওঠে। সুসান তখন স্বামীকে জল খাইয়ে সুস্থির করে। এই ঘটনার পর ডিনসমেড পাত্তারি গুটিয়ে অন্যত্র চলে যাবার চেষ্টায় আছে। ডিনসমেড ঠিক ভয় পায়নি। আসলে সে রবার্টকে নিয়ে এত বেশি ভাবে যে তার অবচেতন মনে এই সমস্ত দেখা দেয়। সুতরাং গ্রামের বাংলোবাড়িই শ্রেয়।

    অন্যদিনের তুলনায় আজ ডিনসমেড একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেছে বলে সুসান খুব খুশী।

    একটু পরেই সুসান কফি নিয়ে আসে। স্বামী-স্ত্রী মুখমুখি বসে কফি পান করছে। কফিতে চুমুক দিয়ে ডিনসমেড বলে–

    –তোমার সঙ্গে একটা জরুরী কথা আছে।

    জরুরী? কী ব্যাপারে?

    –বাড়ির।

    –সত্যি এ বাড়িতে আর থাকা যায় না।

    –হঠাৎ এ কথা বলছ?

    –রজার লাঞ্চের পর এসেছিল। রাতে তোমার সঙ্গে দেখা করবে বলে গেছে।

    –ওকে ঠিক দোষ দেওয়া যায় না। ওর ছেলে আসবে।

    –আমাদের অসুবিধাটা তো উপেক্ষণীয় নয়। তা তুমি কী বলছিলে যেন?

    –পিটার একটা বাড়ির খোঁজ এনেছে।

    –কোথায়?

    –একটু গ্রামের দিকে।

    –ওসব গ্রামে ফ্রামে গিয়ে থাকতে পারব না।

    –কিন্তু…তোমার কথার যৌক্তিকতা অস্বীকার করা যায় না। তবু বলছিলাম…

    –বল, তবে গ্রামের ব্যাপার বাদে। এতদিন শহরে থেকে তারপর গ্রামে থাকব কী করে?

    –তোমার কথা ভিত্তিহীন বলে আমি উড়িয়ে দিচ্ছি না। কিন্তু সুসান এখানে থাকলে আমি বাঁচব না।

    –এসব কথা আসে কোত্থেকে?

    রবার্টের ছায়া আমায় কাছে পেতে চায়। সে সমানে আমায় তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

    –ওসব অলক্ষুণে কথা মনে আনবে না।

    সুসান স্বামীর কথায় ভয় পেয়ে যায়। মনে পড়ে রাতের স্বপ্নের কথা।

    –তোমার দিকটা যে আমি বুঝতে পারছি না তা নয়, কিন্তু..

    -তোমার গ্রামে গেলে একটু অসুবিধা হবে, শহরের বিলাসিতা থেকে বঞ্চিত হবে। কিন্তু এখানে রবার্টের হাতছানি সর্বদা আমায় তাড়িয়ে নিয়ে যাবার জন্য ওঁৎ পেতে আছে।

    -না না, ওসব বলল না। বাড়িটা কোথায়?

    –গ্রীন উডে।

    –সে তো এখান থেকে অনেক মাইল দূরে। সেখানে স্কুল আছে তো?

    –তা থাকবে না কেন? ওখানকার বাচ্চারা কী পড়াশুনা করে না?

    –তা এতো বড়ো একটা বাংলোর দাম ষাট হাজার টাকা চাইছে?

    –তাও আমি ষাট হাজারে রাজী হইনি, পঞ্চাশ হাজার বলেছি।

    –দেখো, আর কী বলব?

    –না, তোমার মত না পেলে…।

    –তোমার মতই আমার মত।

    –তাহলে একদিন গিয়ে বাংলোটা দেখে আসি?

    –ঠিক আছে।

    –আচ্ছা সামনের রবিবার যাওয়া যেতে পারে?

    –হ্যাঁ তাই চলো।

    .

    ০৮.

    সুন্দর সকাল, পরিষ্কার আকাশ দেখে কে বলবে গত রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়ে গেছে।

    চার্লস গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। উইক এন্ডে সে কোথাও না কোথাও পাড়ি জমায়। এই ঘোরাই নাকি ওকে সারা সপ্তাহের রসদ জোগায়।

    চল্লিশ বছরের সুপুরুষ চার্লস লম্বায় প্রায় ছফুটের কাছাকাছি, পেশিবহুল, চওড়া কাঁধ। দুপুরের ছেঁড়া মেঘ দেখে সে ভাবছে এই মেঘ কেটে যাবে।

    চার্লস একটা রেস্তরাঁর সামনে গাড়ি পার্ক করে লাঞ্চ সারে। এবং সেখানেই কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে শহরের দিকে গাড়ি নিয়ে এগোয়।

    চার্লস আকাশ দেখে ভয় পেয়ে যায়। চারিদিকে রাশিকৃত কালো মেঘ তার সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। চার্লস দ্বিগুণ বেগে গাড়ি চালিয়ে চলেছে। তারপরই যত গণ্ডগোল। সে গাড়ি থামিয়ে দেখে পথের মাঝে গাছ ভেঙে পড়ে আছে। স্থানীয় লোকের চেষ্টায় অনেক কষ্টে ঘণ্টা দুয়েক পরে গাছ সরানো সম্ভব হল।

    চার্লস ওদের টাকা মিটিয়ে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে ভালোয় ভালোয় শহরে পৌঁছোতে পারলে হয়। একটু পরেই বৃষ্টি থামল। চার্লস ঝড়ের বেগে গাড়ি চালিয়ে যায় শহরে পৌঁছোবার আশায়, নইলে সমূহ বিপদ–যা ঠান্ডা। রাস্তার দুধারে পাহাড়ের সারি। অদূরে ঘন জঙ্গল।

    হঠাৎ বৃষ্টি থেমে গেল। বৃষ্টি না পড়লে কয়েক ঘন্টায় শহরে পৌঁছোবে।

    কিন্তু মানুষ যা ভাবে তা হয় না। এবার আরো জোরে বৃষ্টি এলো।

    লোকালয় থেকে চার্লস অনেক দূরে চলে এসেছে। একটা বাড়ি থেকে অপর বাড়ির দূরত্ব অনেক। আবার সন্ধে হয়ে এসেছে।

    হঠাৎ ওয়াইপারটা কাজ করছে না। চার্লস হাত দিয়ে মুছে গাড়ি চালায়। বৃষ্টি হয়েই চলেছে। থামবার কোনো লক্ষণ নেই বরং বেড়েই চলেছে।

    এখন পিচের রাস্তা ছেড়ে কাঁচা মাটির উপর দিয়ে গাড়ি চলেছে। গাড়ির গতি না কমালে যেকোনো মুহূর্তে পিছলে পাশের গভীর খাদে পড়বে। মিনিট পাঁচেক পর চার্লসকে গাড়ি থামিয়ে দিতে হয়। জলের তোড়ে গাড়ি চলে না।

    চার্লস কী করবে? বিপদ অনিবার্য। গাড়ি থেকে নেমেই বা কী করবে? কোথায়ই-বা যাবে? আশপাশে কোনো বাড়ি নেই। চারিদিকে শুধু জল আর জল। তার উপর যা হাড়কাঁপানো ঠান্ডা।

    চার্লস ভাবে মরতে হলে গাড়িতে মরবে কিছুতে গাড়ি থেকে নামবে না। সীটে বসে হুইস্কির বোতলটা খুলে খানিকটা হুইস্কি খায়। এতে ঠান্ডা কিছুই কমে না। তবে খানিকটা তাজা বোধ হয়।

    চার্লস গাড়িতে স্টার্ট দিলে খানিক চলার পর গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। ইঞ্জিনে জল ঢুকেছে গাড়ি আর চলবে না। এখন উপায়? চার্লস ভাবে কোথাও গাড়ি কারখানা পাওয়া যাবে? এতো বাজে আবহাওয়ায় কোনো মেকানিক কী আসতে চাইবে? মোটা টাকা দিলে আলাদা কথা।

    হঠাৎ গাড়ি চলতে শুরু করে। ইঞ্জিন বন্ধ। গাড়ি জলের তোড়ে চলছে। তারপর গাড়ি থেকে নেমে গাড়ির মডগার্ড আঁকড়ে ধরে কোনোরকমে গাড়ির গতি রোধ করে। তার পর গাড়িতে একটা মোটা নাইলনের দড়ি ছিলো, তাই দিয়ে কোনোরকমে গাড়িটাকে একটা গাছের সাথে বেঁধে ওভারকোট দিয়ে মাথা ঢেকে সে সামনের দিকে এগিয়ে চলে।

    মিনিট দশেক চলার পর সে একটা আলোর অস্পষ্ট রেখা দেখতে পায়। তার গতি দ্বিগুণ বেড়ে যায়। কারণ শীতে সে জমে যাচ্ছিল, একটা আশ্রয় না পেলে সে মরেই যাবে।

    হ্যাঁ, চার্লস ঠিকই দেখেছে। ওটা একটা বাংলো বাড়ি। চার্লস ঘড়ির রেডিয়ামের দিকে তাকিয়ে দেখে সাতটা বাজে।

    চার্লস প্রায় বাড়িটার কাছে এসে গেছে আর হাত দশেক বাকি পৌঁছোতে। ঠান্ডায় সে ঠক ঠক করে কাঁপছে।

    দরজার সামনে এসে হাত বাড়িয়ে বেলটা বাজায়, হঠাৎ বেলের শব্দে ডিনসমেড থমকে যায়। ডিনার টেবিলে বসে সে ব্যাবসাসংক্রান্ত কাগজ দেখছিল। এই ঝড়জলের রাত্রে কে বেল বাজাচ্ছে?

    জর্জ তার বাবার কাছে বসে ছিল। সেও চমকে যায়। সুসান কিচেন থেকে বেরিয়ে এসে বলে–বাইরে কে যেন বেল বাজাচ্ছে।

    –আমারও তাই মনে হল।

    –কে আবার আসতে পারে?

    –না না।

    –কেন মা?

    বেলটা তখনই বেজে উঠল বেশ জোরে।

    –মাম্মি খুলি?

    –জিনসমেড বলে–কোনো অশরীরী আত্মা নয় তো?

    –সে আবার কী কথা?

    –হয়তো রবার্ট।

    –আঙ্কেল তো মরে ভূত হয়ে গেছে। জর্জ হাসে।

    হতেও তো পারে।

    জর্জ দরজার দিকে এগিয়ে যায়–নিশ্চয় কেউ বিপদে পড়েছে।

    তারপর জর্জ দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে–ভেতরে আসতে পারি?

    –নিশ্চয়ই। আপনি যে একেবারে ভিজে গেছেন।

    পথের মাঝে গাড়িটা বিগড়ে গিয়ে এই বিপত্তি।

    এর মধ্যে বাবা-মার কাছে মেরী এবং শার্ট এসে হাজির। ওরা কিচেনে মায়ের সঙ্গে রান্নায় সাহায্য করছিল। মাকে ছুটে আসতে দেখে ওরা থাকতে পারেনি।

    –এসে ফায়ার প্লেসের কাছে বসুন। ডিনসমেড চার্লসের দিকে এগিয়ে যায়।

    চার্লসের কাঁপা থামেনি–আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

    –আরে এতে ধন্যবাদের কী আছে? আজ আপনি বিপদে পড়েছেন কাল আমিও পড়তে পারি। জর্জ ততক্ষণে একটা চেয়ার নিয়ে ফায়ার প্লেসের কাছে রেখে–আপনি এতে বসুন।

    -ধন্যবাদ ভাই।

    –ফায়ার প্লেসের কাছে বসে গনগনে আগুনের কাছে হাত বাড়িয়ে দেয় চার্লস।

    –আপনার পরিচয়টা জানা হল না।

    –আমার নাম চার্লস বো ভারা।

    –কোথায় থাকেন?

    –পাম এভিনিউতে।

    –তা এদিকে কোথায়?

    –নিছক ঘুরতে। বলতে গেলে প্রায় উইক এন্ডেই বের হই।

    –তাহলে ঘোরা আপনার নেশা কী বলুন?

    –হ্যাঁ তা বলতে পারেন।

    হঠাৎ একটা জিনিসের দিকে নজর পড়তেই সুসান বলে ওঠে-শার্লট।

    শুধু নাম উচ্চারণ করতেই শার্লট দ্রুত ভেতরে চলে যায়। চার্লস ব্যাপারটা দেখল। যুবতী নারীর দিকে বারবার তাকানো যায় না।

    ডিনসমেড বলে–আপনাকে একটু ব্র্যান্ডি দিতে বলি?

    -তাহলে তো খুব ভালো হয়। সত্যি আপনাদের আশ্রয় না পেলে…

    –কিছুই হত না। অন্য কোথাও পেতেন।

    –এখানে আপনার বাড়ি ছাড়া তো অন্য কোনো বাড়ি নজরেই এলো না।

    –হ্যাঁ কাছে পিঠে আর নেই।

    এর মধ্যে ব্র্যান্ডি ভর্তি গ্লাস আনে মেরী-এই নিন।

    পানীয় নিয়ে মেরীর দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে অস্পষ্ট করে বলে–ধন্যবাদ।

    চার্লস ব্র্যান্ডি পান করে কিছুটা চাঙ্গা বোধ করে।

    -এই দেখুন কী ভুলো মন, আপনি এখনও ভিজে জামাকাপড়ে রয়েছেন।

    –ঠিক আছে,-চার্লস সত্যিই লজ্জা পেয়ে যাচ্ছে।

    -তা বললে হয়? এই ভিজে জামাকাপড়ে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন আর আমিও লজ্জায় মারা যাবো। একরাত কষ্ট করে আমার জামা পরে চালান।

    হঠাৎ চলে গিয়ে শার্লট আবার ফিরে এসেছে দেখে চার্লস খুশী। দুবোনের মধ্যে সেই সুন্দরী। ডিনসমেড বলে–মেরী তুমি চার্লসকে বাথরুমটা দেখিয়ে দাও।

    –আসুন আমার সঙ্গে।

    অগত্যা মেরীকেই অনুসরণ করতে হয়।

    পোশাক পাল্টে চার্লস আর ডিনসমেড ডিনার টেবিলে মুখোমুখি বসেছে।

    ডিনসমেড বলল–আপনার নেশার কথা জানা গেল কিন্তু পেশার…

    –পেশায় আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার।

    জর্জ বলে ওঠে। জানেন আমারও ইঞ্জিনিয়ার হবার শখ।

    চার্লস জর্জের দিকে তাকায়,-রোগা ছিপছিপে গড়ন, কটা চোখ, ধূসর চুল, বয়স ষোল হবে।

    -ভালো কথা।

    –আমি এখানে একটা ছোট্ট ল্যাবোরেটরি তৈরি করেছি।

    –ভেরি গুড। যাবার সময় দেখে যাবো।

    আমি পেশায় কন্ট্রাক্টর।–ডিনসমেড বলে।

    –কীসের?

    বাড়ির। অথচ আমার নিজের বাড়ি হল না।

    –এটা?

    –কিনেছি।

    –আচ্ছা এখান থেকে শহর কত দূরে?

    –ত্রিশ-চল্লিশ মাইল হবে।

    –আপনার ছেলে কোথায় গিয়ে পড়াশোনা করে?

    —এই গ্রামের শেষের দিকে স্কুল-কলেজ আছে।

    -বাজার হাট?

    –টিন ফুড ভরসা।

    –বলেন কী?

    মেরী বলে–মাংসওয়ালাই সপ্তাহে মাত্র একদিন দোকান খোলে।

    -তাই নাকি?

    ডিনসমেড বলে–হ্যাঁ, কে বলুন তো টিন ফুডের সৃষ্টি করেছিল? তাকে ধন্যবাদ না জানিয়ে থাকা যায় না।

    –ঠিক বলতে পারব না। চার্লস মেরীর দিকে তাকায়। বয়স আঠারো হবে, মাথায় একরাশ ধূসর চুল, কটা চোখ, স্লিম ফিগার, পরনের ম্যাক্সি।

    ওদিকে শার্লট ও সুসান ডিনার সাজাতে ব্যস্ত। শার্লটকে একনজরে দেখে নেয়। সতেরো হবে, নীল চোখ, লম্বা ধূসর চুল, সুন্দরী।

    ওরা তারপর ডিনারে বসল। কোণার রাস্তার ধারের ঘরে চার্লসের থাকার কথা হল। ডিনসমেডের কথামতো চার্লস সেই ঘরে শুতে গেছে। তাকে সবকিছু দেখিয়ে দেবার জন্য দুবোন এসেছে। শার্লট বলল-ঘরের সঙ্গে বাথরুম রয়েছে।

    চালর্স তৃষ্ণার্ত দৃষ্টিতে শার্লটের দিকে তাকায়।

    -ধন্যবাদ। কিন্তু ম্যাডাম আপনার নামটাই জানা হল না।

    –শার্লট ডিনসমেড।

    –এই অধমের নাম…

    –শুনেছি।

    –সুন্দরী মেয়ের সাথে কথা বলা থেকে ভগবান বঞ্চিত করে রেখেছে।

    মেরী বলে–টেবিলে আপনার জন্য জল আছে। তবে টেবিলটা পরিষ্কার করতে পারিনি।

    –যা করেছেন তাই যথেষ্ট। আপনার নামও অজানা।

    –মেরী ডিনসমেড।

    –দুঅক্ষরের ছোট্ট সুন্দর নাম। আমি একটু বাথরুম থেকে আসছি।

    দুই বোন বিছানাটা একটু ঠিকঠাক করে চলে গেল। ক্লান্ত চালর্স শুতে যাবার আগে জলের গ্লাসের দিকে হাত বাড়িয়ে চমকে গেল। এভাবে এটা কে লিখল? কার লেখা হতে পারে? এ ধরনের লেখার অর্থ বা উদ্দেশ্য কী হতে পারে? এর পেছনে কী রহস্য লুকিয়ে আছে?

    চার্লস আবার লেখাটার দিকে তাকায়, টেবিলের ধুলোর উপর লেখা আছে–এস.এ.এস. অর্থাৎ সেভ আওয়ার সেলভস–এই লেখাটার কীই বা হেতু হতে পারে?

    আর কিছুই ভাবতে পারে না চার্লস, ক্লান্ত হয়ে অবশ দেহে ঘুমে অচৈতন্য হয়ে পড়ে। তবে ভোরেই জানতে হবে কথাটা কে লিখেছে এবং কেন? নইলে সে এখান থেকে যেতে পারবে না।

    পাখির ডাকে চার্লসের ঘুম ভাঙে, চোখ মেলে বাইরে তাকায়। চোখ জুড়িয়ে যায়। অদূরে পাহাড়, চারিদিকে ঘন জঙ্গলের জটলা, পরিষ্কার আকাশ, সূর্য ওঠার প্রতীক্ষা। সে এক অনিন্দ্য সুন্দর মুহূর্ত।

    চার্লস এসে বাগানে গুটি গুটি পায়ে হাঁটতে থাকে, ঠিক তখনই সে মেরীকে দেখে গাছের পরিচর্যা করেত।

    –গুড মর্নিং, মিস মেরী।

    –গুড মর্নিং, মিঃ চার্লস।

    –আচ্ছা, আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতাম।

    –আমাকে? বলুন।

    –গতরাতে আমার ঘরের টেবিলে কে এস.ও.এস. লিখেছে?

    –আমি।

    –কেন?

    –তা জানি না।

    –না জেনেই লিখেছেন? বিশ্বাস হয় না।

    –আমি যাই বলে মেরী আর দাঁড়ায় না।

    চার্লস আশ্চর্য হয়ে ভাবে মেরী ওভাবে চলে গেল কেন? এর পেছনে কী রহস্য থাকতে পারে? শার্লট বাগানের দিকে আসছিল কিন্তু চার্লসকে দেখেই চলে যেতে চায়। চার্লস বলে–মিস শার্লট, গুড মর্নিং।

    -গুড মর্নিং, মিঃ চার্লস।

    -প্লিজ, চলে যাবেন না। একটা কথা, আপনি কী কাল আমার ঘরের টেবিলে এস.ও.এস. লিখেছেন?

    -না, আমি যাই।

    দাঁড়ান আমার মনে হয় আপনি লিখেছেন।

    –কিসে বুঝলেন? আর যদি লিখেও থাকি তাতে কী হয়েছে? শার্লট হাসে।

    –না, কিছুই হয়নি। কথাটার মানে জানেন?

    –না। চলুন ব্রেকফাস্ট তৈরি।

    –হ্যাঁ, চলুন।

    চার্লস ভাবে, এই এস.ও.এস.-এর মধ্যে কী রহস্যের সৃষ্টি হতে পারে?

    .

    ০৯.

    স্বনামধন্য গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারো, বহু রহস্যের জাল ভেদ করে খুনীকে ধরেছে। যার প্রশংসায় সবাই ধন্য ধন্য করেছে।

    — পোয়ারো বার কয়েক চেষ্টার পর চার্লসের লাইনটা পেয়ে যায়। চার্লস তার কলেজের বন্ধু। একে অপরকে মনের কথা ব্যক্ত না করে থাকতে পারে না। তবে পোয়ারোর লাইনের গোপনীয়তা যৌক্তিকতা চার্লস বোঝে। কারণ সে ভালো করে জানে সব লাইনের কিছু না কিছু গোপনীয়তা আছে। যা নিজের স্ত্রীর কাছেও বলা যায় না। অবশ্য পোয়ারো চার্লসের কাছে অনেক কথাই অকপটে বলে এবং বুদ্ধি পর্যন্ত নেয়।

    -হ্যালো!

    –হ্যালো, আমি পোয়ারো বলছি।

    –বলুন স্যার।

    –তোমার সাহেব ফিরেছে?

    –না স্যার, সেই জন্য বড় চিন্তায় আছি।

    –চিন্তার কিছু নেই। কোথায় গেছে জানো?

    –না স্যার।

    সঙ্গে আর কেউ গেছে?

    –না, একাই গেছে।

    –এলে আমায় ফোন করতে বলল।

    –আচ্ছা স্যার। গুড নাইট।

    .

    -হ্যালো।

    –চার্লস ফিরেছে? পোয়ারো জানতে চায়।

    –না স্যার, রাত প্রায় এগারোটা বাজে।

    –ঠিক আছে যত রাতেই ফিরুক আমায় ফোন করো।

    নিশ্চয়ই স্যার।

    .

    পরদিন সকাল নটা নাগাদ চার্লস ফিরেছে। তবে নিজের গাড়িতে নয়, কিছুটা ট্রাকে এবং বাকিটা ট্যাক্সিতে। ডিনসমেডের জিম্মায় গাড়িটা রেখে এসেছে। উনি গ্যারেজ থেকে লোক আনিয়ে সারিয়ে চার্লসের বাড়ি পাঠিয়ে দেবেন।

    চার্লস বাড়ি আসার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বিগ্ন চাকর বার্ট নানা কথা জিজ্ঞাসা করে। সে বাড়ির চাকর হলেও তার অবিবাহিত জীবনে বিরাট ভূমিকা আছে।

    চার্লস তাকে বুঝিয়ে বলার পর বার্ট বলে–স্যার এক্ষুনি একবার মিঃ পোয়ারোকে ফোন করুন।

    -হা করছি। কয়েকবার ফোন করেছে তো?

    –হ্যাঁ স্যার।

    –এক কাপ কফি দাও তো।

    –এক্ষুনি আনছি। কাল রাতে উনি দুবার ফোন করেছেন, সকালেও দুবার ফোন করেছেন।

    –তাই নাকি? ভাবছিলাম একটু বিশ্রাম নেবো, এক্ষুনি একবার যাই। বলে উঠে দাঁড়াল।

    –স্যার কফি খাবেন না?

    –না থাক।

    একটা ট্যাক্সি ধরে মিনিট দশেকের মধ্যে পোয়ারোর বাড়ি পৌঁছালো চার্লস। পোয়ারো একটু ধমকের সুরে বলল–এই যে ধাড়ি খোকা, তোমার খবর কী?

    -খুবই গুরুতর।

    –তা কাল প্ৰেজার ট্রিপ মারতে কোথায় গিয়েছিলে? গ্রীন উড ছাড়িয়ে? সঙ্গে কে ছিল?

    –কেউ না। কফি আনতে বল।

    তারপর কফি এলো। কফি খেতে খেতে চার্লস ডিসমেডের পরিবারের প্রশংসা করে তাদের আতিথ্যের বর্ণনা করল এবং বলল রাতে তাকে থাকতে না দিলে সে জীবন পেত না!

    বন্ধু, ও অবস্থায় কেউ কাউকে ফেরাতে পারে না।

    –এবার আর কোথাও তোমায় ছাড়া বেরোচ্ছি না। তার আগে তোমায় ডিনসমেডের দুই কন্যার বিবরণ দিই। বন্ধু, বয়সে বড়ই ছোটা।

    –গল্পটার গোড়াতেই কেঁচিয়ে দিলে।

    বুঝিয়ে বলবে তো কীসে?

    –সাধে কী তোমায় লোকে অবিবাহিত বলে?

    বন্ধু, তুমিও তো একই দোষে দোষী।

    –তা বয়স কত? একেবারে মায়ের কোলে দুধ খাচ্ছে না তো?

    –না তা নয় দুজনেই সতেরো আঠারো হবে।

    –এইজন্যই বলি অবিবাহিত লোকগুলো যেমন অবিবেচক তেমনি আহাম্মক।

    বন্ধু, উপরে থুতু ছেটালে তা নিজের গায়ে এসেই পড়ে।

    -তা ঠিক। তবে তোমার মতো আহাম্মক নই। একটু উঁচু ধরনের। কেউ সাতেরো আঠেরো বয়সের মেয়েদের বলে বয়সে বড়ই ছোটো।

    বন্ধু, তোমার বয়স কত?

    –ওদের সঙ্গে কথা বললে আমাদের বয়সও তখন পঁচিশের নিচে গিয়ে দাঁড়াতো। নইলে সেদিন পার্টিতে মিস জার্ডিন আমার সান্নিধ্য না পেয়ে অভিমানে কত কী বলেছিলো।

    –আর তুমি কথা দিয়েও পরের দিন জার্ডিনের বাড়ি যাওনি।

    –আহাম্মক তো।

    –স্বীকার করছ? চার্লস হো হো করে হাসে–আজ আর অফিস গেলাম না।

    হা ডুব মারলে তো দেখতেই পাচ্ছি আর তার সঙ্গে আমারও ক্ষতি করালে।

    বরং তোমায় একটা কেস দিতে এসেছি।

    –এখন আর কোনো কেস না। দুটো কেস সমাধান করতে গিয়ে নাজেহাল, এখন শুধু বিশ্রাম।

    –তাই বুঝি কাল আমার সাথে প্রেজার ট্রিপে গেলে না? বিশ্রাম তোমার ঠিকুজি কোষ্ঠিতে নেই। ভগবান তোমার পায়ে চাকা লাগিয়ে দিয়েছে বন বন করে ঘোরার জন্য। আর মন দিয়েছে চিন্তা ভাবনার জন্য। এই কাজ করার স্পৃহা তোমার মধ্যে যথেষ্ট রয়েছে। আমার অফিস ডুব মারার প্রসঙ্গে তুমি বললে, এসে আমার কাজের ক্ষতি করেছ।

    ব্র্যাভো বন্ধু।

    –আধা গোয়েন্দা কী বলো? তবে তোমার ট্রেনিং-এ কিছুদিন থাকতে পারলে পুরো হয়ে যেতে পারি।

    তুমি অন্তত হবে না। নইলে মিস হবসের মতো পাত্রীকে তুমি প্রত্যাখ্যান করো। সে বিশাল সম্পত্তির একমাত্র অধিকারিণী।

    -করাটা বোধহয় উচিত হয়নি। আসলে সেদিন আধো অন্ধকার জায়গায় আমায় টেনে নিয়ে জড়িয়ে ধরে গদগদ গলায় কী সব বলতে লাগলো, তাতেই আমি ভ্যাবাচাকা খেয়ে পালিয়েছি।

    -তুমি একটা ইডিয়েট।

    –বল, আমরা ইডিয়েট।

    পোয়ারো হাসে–সত্যি বোধহয় তাই। তা কেসটা কী একটু শুনি।

    দ্যাটস লাইক এ গুড বয়। এর মধ্যে একটা ঘন রহস্যের জাল আছে সেটা বার করতে। হবে।

    –একটু খুলে বলো তো।

    –তাহলে কেসটা টেকআপ করলে?

    –আগে কেসটার মেরিট বুঝি।

    –মেরিট আছে। আমার দুটো জিনিসের ওপর দারুণভাবে সন্দেহ আছে।

    –সে দুটো জিনিস কী?

    -প্রথমত আমি মিঃ ডিনসমেডের বাড়িতে ঢুকে তার ছেলে জর্জ ও স্ত্রী-এর সঙ্গে পরিচয় করার পর তার দুই মেয়েরা এলো।

    –তাদের নাম।

    –মেরী ও শার্লট।

    এদের মধ্যে কে বড়ো?

    –মেরী।

    –বয়স কত?

    –আঠারো হবে। শার্লটের বয়স সতেরো হবে। দুজনেই আমার কাছে এসে পড়বার পর মিসেস ডিনসমেড চাপা গলায় শার্লটকে হিসহিস করে উঠলো। কেন জানি না।

    -তারপর কী হল?

    –শার্লট চলে গিয়ে একটু পরে ফিরে এল।

    –হঠাৎ চলে গেল কেন?

    –তা ঠিক বুঝতে পারলাম না, তবে শার্লট যখন এল তখন ওর চুলের রং ধূসর দেখলাম। কিন্তু আমার মনে হয় ওর চুলের সে রং ছিল না।

    –কী রং ছিল?

    –সম্ভবত সোনালি। কিন্তু মিসেস ডিনসমেড ওভাবে শার্লট বলে ডাকল কেন? আর কেনই বা শার্লট চলে গিয়ে একটু পরে ফিরে এল?

    -তুমি কী ওদের কিছু জিজ্ঞেস করেছ?

    -না আসলে তখন সবে আশ্রয় পেয়েছি শেষে যদি ঘাড় ধরে বের করে দেয়, আর সব ব্যাপারে কৌতূহল ভালো না।

    –আর দ্বিতীয় পয়েন্ট?

    –আমায় শুতে দেওয়া হয়েছিল একধারে কোণের ঘরে। আমায় ঘরটা দেখিয়ে দিয়ে দুই বোন লজ্জিতভাবে বলল টেবিলটা ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়নি।

    –তুমি গলে গিয়ে তখন কী বললে?

    –অবজেকশান। তবে সাময়িকভাবে গলে গিয়ে হেসে বললাম, যা করেছেন যথেষ্ট। এরপর বাথরুম থেকে ফিরে এসে টেবিলের উপর দেখলাম এস.ও.এস.লেখা।

    এস. ও. এস.?

    —হ্যাঁ।

    –কাউকে লিখতে দেখেছ?

    –না। হয়তো দুবোনের মধ্যে কেউ লিখেছে।

    –তুমি বাথরুম থেকে এসে কাউকে দেখনি।

    –না।

    –তুমি কখন কোথায় জিজ্ঞাসা করেছ?

    –সকালে বাগানে পায়চারী করার সময়।

    ডিনসমেড দম্পতি জানে?

    –না।

    এই বলে চার্লস মেরী ও শার্লটকে যা যা বলেছে বা তারা যা যা বলেছে সবই জানায় পোয়ারোকে। তাকে চিন্তিত দেখায়। চার্লস জানায় পোয়ারোকে এই ঘটনার কারণ বের করতে হবে। পোয়ারোকে বেশ গম্ভীর দেখায়।

    .

    ১০.

    বেলা বারোটায় মাঝারি আকারের একটা ঘর নিয়ে ছোট্ট কোম্পানিডিনসমেড কনস্ট্রাকশনের সামনে দাঁড়ায় পোয়ারো। ভেতরে একটা অল্পবয়সী ছেলে কাজ করছে আর টেবিলের ওপর একটা বাড়ির প্ল্যান দেখছে ডিনসমেড।

    কালো রং-এর ওপর নীল লাল স্ট্রাইপ করা স্যুট, পায়ে চকচকে স্যু, টাইয়ের রং নীল তার ওপর সাদা কাজ। ভেতরে ওয়েস্ট কোট তার ওপর দিয়ে সাদা জামা উঁকি মারছে।

    সুপ্রভাত জানিয়ে ডিনসমেডের সঙ্গে আলাপ করেন পোয়ারো। নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে সে মিথ্যে কথা বলে। বসবাস স্থান জানায় ওয়েস্ট রোড আর পেশা হিসাবে বলে কলেজের শিক্ষকতা। ডিনসমেড তার পোশাকে সম্মানিত বলে আখ্যা দিয়ে বলে

    -একটু কফি আনাই?

    –না, এক্ষুনি খেয়ে বেরিয়েছি। আর শুধু কফির ওপর দিয়ে চালালে হবে না। আপনার আতিথ্যের প্রত্যাশায় চার্লস পঞ্চমুখ। তাই একদিন সকালে ওর সঙ্গে আপনার বাড়ি যাবো আর ফিরবো সন্ধ্যা বেলায়।

    ডিনসমেড রাজী হয়। গ্রামের দিকে বাড়ি হবার জন্য পোয়ারো শহরের সঙ্গে সে জায়গার তুলনা করে জানায় খুব ভালো জায়গায় বাড়ি। তারপর বাড়ির দাম শুনে অবাক হয়ে যায় পোয়ারো, মাত্র পঞ্চাশ হাজার টাকা, এই চড়া দামের বাজারে। তারপর পোয়ারো জানতে পারে পনেরো বছর হল তারা ওখানে। প্রথমে তার স্ত্রীর আপত্তির কথাও পোয়ারোকে জানায়।

    তারপর পোয়ারো বলে–যদি আমি আপনার বাড়ি যাই তবে আপনার ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী বিব্রত বোধ করবে না তো?

    -না না, আমার স্ত্রী ভীষণ মিশুকে। আর ছেলে-মেয়েরা কলেজে পড়ে, ওরা সঙ্গী চায়।

    –গুড, ছেলে না মেয়েরা বড়ো?

    –মেয়েরা।

    –মেয়েরা কোথায় পড়ে আর ছেলে কোথায় পড়াশুনা করে?

    –মেয়েরা কুরীতে আর ছেলে হোবার্ট ইনস্টিটিউটে পড়ে।

    আবার আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেরোবার মুখে পোয়ারোর চোখে পড়ে একটা ছবি, এতে একজন মিঃ ডিনসমেড অপরজন কে?

    অপরজন রবার্ট।

    পোয়ারো রবার্টের সম্বন্ধে সবকিছুই জানতে পারে ডিনসমেডের কাছ থেকে। তারপর আবার একটা মিথ্যের জাল বোনে। বলে–আমার এক বন্ধু খুব ভালো ফুটবল খেলত। খেলতে খেলতে আঘাত পেয়ে তাতেই মারা যায়। সেই থেকে আমি আর খেলার মাঠে যাই না। কোথাও ফুটবল সম্বন্ধে আলোচনা হলেও আমি সেখান থেকে চলে যাই।

    -এখনো তার কথা ভোলেননি, বোঝা যাচ্ছে।

    –এরপর হয়তো ভুলে যাবো। আপনার তো আমার মতোই অবস্থা।

    –হ্যাঁ, আসলে বড় বেশি রবার্টকে আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিলাম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }