Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2514 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. ক্রীড়ামঞ্চে ধাঁধা

    ক্রীড়ামঞ্চে ধাঁধা

    মনে মনে অ্যাডাম বলে, মাথা দেবো তবু মাথা নোয়াবো না।

    মিস বুলস্ট্রোডকে দেখে আশ্চর্য হলেন–এর আগে কোনো নারীকে এত বিস্ময়কর মনে হয়নি। ধীর স্থির মূর্তি অথচ চোখের সামনে তার সারা জীবনের কীর্তি চুরচুর হয়ে ভেঙ্গে পড়ছে। প্রায়ই টেলিফোন বাজছে, অভিভাবকেরা জানাচ্ছেন…আরো একজন মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

    মিস বুলস্ট্রোড অবশেষে কর্তব্য নির্ধারণ করলেন। পুলিশ অফিসারদের কাছে মাপ চেয়ে নিয়ে তিনি অ্যান স্যাপল্যান্ডকে ডেকে একটা ছোট্ট ঘোষণা লেখালেন, এই পর্বের শেষপর্যন্ত স্কুল বন্ধ রইল। যাদের পক্ষে মেয়েদের এখন বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অসুবিধা আছে তারা ইচ্ছে করলে মেয়েদের এখানে রাখতে পারেন, স্কুল থেকে তাদের দেখাশোনা করা হবে।

    দরজা দিয়ে বেরুতে গিয়ে অ্যান থমকে দাঁড়িয়ে বললেন, ক্ষমা করবেন মিস বুলস্ট্রোড। একটা কথা বলবো যদি কিছু মনে না করেন…এখুনি কি এরকম একটা কিছু করা ঠিক? মানে…আতঙ্ক একটু কমে গেলে লোকে যখন বিবেচনা করে দেখবে…তখন নিশ্চয়ই মেয়েদের নিয়ে যেতে চাইবে না। জ্ঞানবুদ্ধি দিয়ে বিচার করলে তারা বুঝতে পারবে।

    কেলসির দিকে তাকিয়ে, এখন সবই আপনার উপর নির্ভর করছে ইনসপেক্টর। হত্যাকাণ্ড গুলির সমাধান করুন…যারা এসবের জন্য দায়ী, তাদের ধরুন…আবার সব ঠিক হয়ে যাবে।

    কেলসি অখুশি মনে বললো, আমরা যথাসাধ্য করছি।

    টেলিফোন বাজতেই মিস বুলস্ট্রোড রিসিভার তুলে নেন, বলুন? ইনসপেক্টরকে ইশারায় ডেকে বললেন, আপনার ফোন।

    টেলিফোন না রেখে একমুহূর্ত চিন্তা করে ওদের দিকে তাকিয়ে বলে–মহামান্য আমীর আজ সকালে একটা চিঠি পেয়েছেন, মুক্তিপণ দাবী করা হয়েছে তার কাছে। পোর্টমাউথ ডাকঘরের মোহর, তবে ওটা ধোঁকা।

    অ্যাডাম বলে, কোথায় কীভাবে টাকাটা দিতে হবে?

    অ্যাণ্ডারটন প্রীয়র্সের দুমাইল উত্তরে চৌরাস্তা, চারিদিকে শুধু ধুধু মাঠ। কাল রাত দুটোয় ঐ চৌরাস্তায় অটোমোবাইলের অ্যাসোসিয়েশনের ব্যাক্সের পাশেই টাকাটা একটা খামে পুরে রেখে দিতে হবে, পাথর চাপা দিয়ে।

    কত?

    কেলসি বলে, বিশ হাজার, মনে হচ্ছে আনাড়ি লোকের কাজ। মিস বুলস্ট্রোড বলেন, আপনি কী করবেন?

    মিস বুলস্ট্রোড বলেন, সফল হবেন আশাকরি।

    অ্যাডাম বলে ওঠে, সহজ কাজ?

    .

    অ্যাডাম ক্রীড়ামঞ্চে একা..নিপুণ হাতে দেরাজগুলো আঁতিপাঁতি করে খোঁজে। বৃথা আশা কিছুই পাওয়া যাবে না। যেখানে পুলিশে কিছু পেলো না, সেখানে সে আর কী পাবে? তবু বলা কী যায় একেকটা বিভাগের একেক রকম পদ্ধতি। এখানেই কিছু লুকানো আছে। বারবার তারই খোঁজে হত্যাকারী আসে। গুপ্তধন নিশ্চয়ই নেই, সে সম্ভাবনা কেটেই দেওয়া আছে। কোনো চোরকুঠুরী বা ভুয়ো দেরাজ কি স্প্রিং দেওয়া হাতল-টাতলও নেই। দেরাজগুলোতেও কোনো রহস্য নেই। কিন্তু সেগুলো নেহাতই স্কুল জীবনের গোপনীয়তা, সুদর্শন নায়কদের ফটো। কদাচিৎ এক-আধটা অশ্লীল চটি বই। শাইস্তার দেরাজটা আবার খুঁজে খুঁজে দেখে। এটার ওপর ঝুঁকে পড়া অবস্থাতেই তো মিস ভ্যান্সিটার্ট মারা গেছে? কি দেখতে এসেছিলো মিস ভ্যান্সিটার্ট? পেয়েছিল সেটা? তার হত্যাকারী কি তার দেরাজ থেকে সেটা নিয়ে মিস চ্যাডউইক আসার আগেই সরে পড়েছে?

    বাইরে যেন কার পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে। উঠে সিগারেট ধরিয়ে অ্যাডাম মাঝখানে এসে দাঁড়ালো। দরজার সামনে জুলিয়া আপজনকে দেখা গেলো।

    অ্যাডাম বলে, মিস কিছু চাই আপনার? ভাবছিলাম আমার টেনিস র‍্যাকেটটা যদি এখান থেকে নিয়ে যাই।

    অ্যাডাম বললো, নিয়ে যেতে পারবে না কেন?…পুলিশ কনস্টেবল আমাকে এখানে বসিয়ে গেলো থানায়, যেতে হলো কিনা কী একটা কাজ, বলে গেলেন ফিরে না আসা পর্যন্ত আমি যেন এখানে থাকি।

    জুলিয়া বলে, দেখতে যদি আবার ফিরে আসে।

    কে? পুলিশ কনস্টেবল?

    না হত্যাকারী, ওরা ফিরে আসে, তাই না? যে জায়গাটায় হত্যা করে, আসতেই হবে। ওরা যে আসতে বাধ্য হয়।

    অ্যাডাম বললো, বোধহয় ঠিকই বলেছেন। সবকটা র‍্যাকেটগুলো দেখতে দেখতে জিজ্ঞাসা করল, কোথায় আছে আপনারটা। জুলিয়া জানালো, এই সারিতে। ওই কোণায় শেষের দিকে, আমাদের নাম লেখা আছে। অ্যাডাম র‍্যাকেট যখন দিল তখন তার নাম সাঁটা ফলকটা তাকে দেখিয়ে বোঝায় জুলিয়া।

    টেনিসে জুলিয়ার সামনের হাতের মারটা জেনিয়া ফিরিয়ে দিলো না, বল ওদিকেই রয়ে গেলো, কেন না, ততক্ষণে জেনিয়ার চোখে পড়েছে, চেঁচিয়ে বললো ও মা, মা আসছে যে।

    ওদিকে দুজনেই চেয়ে দেখে মিসেস সাটক্লিফ বেশ উত্তেজিত, তা দূর থেকেও স্পষ্ট বোঝ যাচ্ছে। মিস রীচ তাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসছে।

    জেনিয়ারের হতাশ ভঙ্গী, এই রে এক্ষুনি শুরু হবে। ওই খুনের ব্যাপারটাই বোধহয়। তোমার ভাগ্য ভালো জুলিয়া তোমার মা তো নিরাপদে বাসে চড়ে ককেশাস।

    কেন ইসাবেল মাসি তো আছে?

    ধ্যাৎ মা আর মাসী এক হলো।

    মিসেস সাটক্লিফ এসে পৌঁছতেই জেনিয়া বলে উঠলো, এই যে মামনি।

    জেনিয়া শিগগিরি চলে আসো, জিনিসপত্তর গুছিয়ে নাও। আমার সঙ্গে বাড়ি চলল।

    বাড়িতে? হ্যাঁ।

    একেবারে; আর আসব না?

    বারে তা কী করে হয়।…এখানে আমার টেনিস খেলায় কত উন্নতি হয়েছে। সিঙ্গলসে আমি জিতবোই। ভীষণ সম্ভাবনা। জুলিয়া আর আমি হয়তো ডাবলসেও জিতবো, অবশ্য ততটা আশা করছি না আমি।

    তুমি আজ আমার সঙ্গে বাড়ি আসছো কেন?

    প্রশ্ন করো না।

    মিস স্প্রিঙ্গার আর ভ্যান্সিটার্ট খুন হয়েছে বলে, কিন্তু কোনো মেয়ে তো খুন হয়নি।

    আমি জানি মেয়েদের কেউ খুনটুন করবে না। তাছাড়া তিন সপ্তাহের মধ্যে খেলার প্রতিযোগিতা আসছে। লংজাম্পে আমার জেতার আশা আছে।

    তর্ক করো না জেনিয়া, তুমি আজ আমার সঙ্গে ফিরে যাবে, তোমার বাবা বলে দিয়েছেন।

    কিন্তু মা,

    মায়ের সঙ্গে প্রবল তর্ক জুড়ে দেয়, তর্ক করতে করতে তার সঙ্গে স্কুলবাড়ির দিকে চলে গেলো। হঠাৎ জেনিয়া একদৌড়ে টেনিস মাঠে ছুটে এলো।

    বিদায় জুলিয়া। মা দেখছি ভয়ে একেবারে সিটিয়ে আছে। মনে হচ্ছে বাবাও তাই।

    জুলিয়া আস্তে আস্তে ক্রীড়ামঞ্চের দিকে হাঁটতে থাকে। ক্রমশ বলতে বলতে একেবারেই থেমে যায়। দাঁড়িয়ে ভুরু কুঁচকে কী যেন ভাবে…গভীর চিন্তা।

    মধ্যাহ্নভোজের ঘণ্টা বাজলো তবু জুলিয়ার হুঁশ নেই। হাতের র‍্যাকেটটাকে একদৃষ্টিতে দেখে। রাস্তা দিয়ে দু-এক পা এগোয়। তারপরে একপাক ঘুরে স্কুলবাড়ির দিকে হাঁটা দেয়। এবারে পদক্ষেপ দৃঢ় সুনিশ্চিত, সামনের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢোকা নিষেধ তবু সে নিষেধ না মেনে সামনের দরজা দিয়ে ঢোকে। যাতে অন্য মেয়েদের এড়ানো যেতে পারে। হলঘর শূন্য সিঁড়ি দিয়ে চলে আসে নিজের ছোটো শোবার ঘরটায়। চকিতে চারিদিকে ভালো করে দেখে চট্ করে হাতের র‍্যাকেটটাকে বিছানার গদির নিচে শুইয়ে দেয় তারপর চুল ঠিক করে নিয়ে গম্ভীরভাবে সিঁড়ি বেয়ে নিচে খাবার ঘরে চলে যায়।

    .

    আলাদীনের গুহা

    সেই রাত্রে মেয়েরা শুতে চলে গেলো। হৈ-হট্টগোল অনেক কম। তিরিশ জনের মতন তো বাড়িতে চলে গেছে। যারা রয়ে গেছে তাদের উপর ঘটনার প্রভাব যথেষ্ট। যার যেমন স্বভাব, সেইরকম প্রতিক্রিয়া করে।

    কেউ উত্তেজিত, কেউ ভয়ে সিঁটিয়ে আছে, কেউ হয়তো ঘাবড়ে গিয়ে বাইরে সেটা প্রকাশ না করে কেবল খিলখিল করে হাসছে। অনেকে আবার একেবারেই চুপ হয়ে ভাবছে। সবাই নিজের নিজের ঘরে শুতে গেলো। জুলিয়াও তাদের মধ্যে ছিলো, ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো, কান পেতে শোনে দরজার বাইরে কত ফিসফিস কথা। খিলখিল হাসি, পায়ের শব্দ, রাতের শুভেচ্ছা, তারপরেই সব চুপ হয়ে গেলো, প্রায় নিস্তব্ধ। দূরেই শুধু ক্ষীণ কণ্ঠে আর কখনো কখনো স্নান ঘর থেকে আসা-যাওয়ার পায়ের আওয়াজ।

    দরজায় একটা হুড়কো নেই। একটা চেয়ার দিয়ে দরজার সঙ্গে এমনভাবে রাখলো যাতে চেয়ারের মাথাটা দরজার হাতলের ঠিক নিচে শক্ত হয়ে এঁটে থাকে, কেউ ভেতরে ঢুকতে চাইলে…যাতে টের পাওয়া যায়, কিন্তু কারো আসার সম্ভাবনা খুবই কম কারণ মেয়েদের একে অন্যের ঘরে যাওয়া কড়া নিষেধ। মাস্টারনীদের মধ্যেও শুধু মিস জনসনই আসতেন–যখন কারো অসুখ হত। শরীর খারাপ হত।

    তোশকের তলায় হাত বাড়িয়ে জুলিয়া টেনিস র‍্যাকেটটা বের করে এনে সেটা হাতে নিয়ে একমিনিট দাঁড়িয়ে রইল। মনে মনে ঠিক করলো, এখুনি ওটাকে দেখতে হবে, সব ঘরে যখন আলো নিভে যাবে তখন তার ঘরে যদি আলো দেখা যায়। তবে সন্দেহ জাগতে পারে। ঘরে সাড়ে দশটা পর্যন্ত আলো জ্বলতে পারে। কাজেই এখুনি দেখা যাক। মেয়েরা এই সময়টাতে পোশাক-টোশাক বদলায় আবার বিছানায় শুয়ে বই পড়ে।

    র‍্যাকেটটাকে খুঁটিয়ে দেখে ভালোভাবে। এর মধ্যে কী লুকোনো থাকতে পারে।

    কিন্তু থাকতেই হবে যে। থাকতে বাধ্য। জেনিয়াদের বাড়িতে চুরি হল…ওই মেয়েছেলেটা এসে একটা আজেবাজে গল্প ছুঁড়লো নতুন র‍্যাকেট নিয়ে…।

    …জেনিয়া ছাড়া আর কেউ অমন গল্প বিশ্বাস করে। নাঃ এ নিশ্চয়ই পুরানো প্রদীপের বদলে নতুন প্রদীপ। তার মানে আলাদীনের কাহিনীর মতো এই র‍্যাকেটটাতে কিছু আছে। জেনিয়া বা জুলিয়া কেউই র‍্যাকেট বদলাবদলি করে নেবার কথা কাউকে বলেনি। অন্তত, ও তাই বলে। তবে কি এই র‍্যাকেটটাকেই ক্রীড়ামঞ্চে সবাই খুঁজে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু কেন? কারণটা তাকেই খুঁজে বের করতে হবে। সুন্দর র‍্যাকেট অনেক, ব্যবহারে জীর্ণ কিন্তু নতুন করে বেঁধে নেওয়ায় এখনো বেশ ব্যবহারযোগ্য। জেনিয়া কিন্তু বলতো এটার নাকি ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে।

    টেনিস র‍্যাকেটে যদি কিছু লুকিয়ে রাখতে হয় তাহলে হাতলটাতে ছাড়া অন্য কোনো জায়গা নেই। হাতলের গোড়া অবশ্য জুড়ে দেওয়া থাকে। ওটা খুললে কেমন হয়।

    কাজের টেবিলে বসে জুলিয়া একটা পেনসিল ছুরি নিয়ে খুলতে চেষ্টা করে, চামড়াটা কেটে একটানে খোলে। ভেতরে পাতলা কাঠের গোল মতন কী একটা বেরোয়। হাতলের ভেতরে থাকে নাকি অমন? মনে তো হয় না, তার চারপাশটায় আবার জোড়া। ছুরি বিধিয়ে দেয় জুলিয়া। ফলাটা মট করে ভেঙ্গে যায়।

    নখ কাটার কাঁচি দিয়ে কিন্তু কাজ হয়। অনেক ধস্তাধস্তি করে ফল হয়। লাল-লাল নীল-নীল একটা পদার্থ দেখা গেল। জুলিয়া ওটাকে খোঁচাতেই বুঝতে পারে জিনিসটা কী, পুতুল গড়ার আঠালো মাটি। টেনিস র‍্যাকেটের হাতলে এমন মাটি। নখকাটার কাঁচি দিয়ে কাচিয়ে এই মাটি তুলে আনে। ওগুলো দিয়ে বোধহয় কোনো একটা জিনিস মোড়া আছে। মনে হল বোতামের মতো কিছু নুড়িও হতে পারে।

    আরো জোরে জোরে পুতুল-মাটি তুলে আনে। টেবিলে গড়িয়ে পড়লো একটা জিনিস…তারপর আরেকটা। দেখতে দেখতে ছোট্ট একটা সুপ হয়ে গেলো।

    জুলিয়া জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে তাকিয়ে আছে তো আছেই।

    তরল আগুন, লাল সবুজ, ঘন নীল, ঝকঝকে সাদা।

    জুলিয়া সেই মুহূর্তে অনেক বড় হয়ে গেল। ছোটো মেয়েটি আর রইলো না। নারীত্ব বিকশিত হল, রত্ন দেখছে এক নারী…মাথায় রাশি রাশি চিন্তা খেলে গেল। আলাদীনের গুহা…কালো ভেলভেটের গাউন পরে আছে সে, গলায় দুলছে চোখ ধাঁধানো হীরের হার। বসে বসে স্বপ্ন দেখে, চকচক চোখ মেলে দেখে। আঙুলে তুলে রত্নগুলো দেখে ছেড়ে দিতেই আগুনের নদী হয়ে ওগুলো পড়ে যায়..বিস্ময় ও আনন্দের উজ্জ্বল ঝর্না। তারপর সে বেসিনের কাছে যায়। তার স্পঞ্জ ব্যাগের মধ্যে সেগুলো ঠুসে তার ওপর স্পঞ্জ আর নখের ব্রাশ ভরে দেয়। বিছানার কাছে ফিরে এসে টেনিস র‍্যাকেটের ভেতরে পট্টিটাকে ভরে দিয়ে কাঠের মাথাটা আবার এঁটে দেয়। চামড়াটাকে তার ওপরে জোড়বার চেষ্টা করে কিন্তু সেটা ওপর দিকে বেঁকে ওঠে। ওটাকে ঠিক করবার জন্য কাঠের গোল চাকতির ওপর উল্টো করে সরু সরু আঠালো টেপ রেখে তার ওপর চামড়াটাকে চেপে ধরে।

    র‍্যাকেটটাকে এখন প্রায় আগের মতোই দেখতে লাগে। হাতে নিয়ে ওজনের তারতম্য বোঝা যায় না। র‍্যাকেটটাকে নেড়ে চেড়ে দেখে, একটা চেয়ারের ওপর অযত্নে ফেলে রাখে।

    সুন্দর পাতা বিছানার দিকে দেখে, যেন তার জন্য অপেক্ষা করছে। জুলিয়া কিন্তু পোশাক ছাড়লো না।

    কান পেতে শোনে…বাইরে কি? হঠাৎ ভীষণ ভয় হলো, দুজন খুন হয়ে গেছে। যদি কেউ জানতে পারে তাহলে সেও খুন হয়ে যাবে…

    ঘরের মধ্যে কাঠের বেশ ভারি একটা দেরাজ আলমারি আছে। জুলিয়া সেটাকে কোনমতে টানতে টানতে দরজার সামনে নিয়ে আসে। মেডোব্যাঙ্কের কী রীতি, মেয়েদের ঘরের ভেতর থেকে তালা দেবার ব্যবস্থাই নেই। জানালার কাছে গিয়ে ওপরের পাল্লা টেনে বন্ধ করে ছিটকিনি লাগায়, তার জানালার কাছে অবশ্য কোনো গাছ নেই, তাই তার ঘরে ঢোকা সম্ভব নয়, তবু সাবধানের মার নেই।

    টেবিলের ঘড়িতে দেখলো দশটা, দীর্ঘশ্বাস ফেলে আলো নিভিয়ে দিলো, তার ঘরে যেন অস্বাভাবিক কিছু না দেখা যায়, জানালা থেকে পর্দাটা সামান্য একটু সরিয়ে দিল। চুপ করে খাটের একপাশে জুলিয়া বসে থাকে। হাতে ধরে রেখেছে খুব শক্ত একপাটি বুট।

    ভাবতে থাকে যদি কেউ ভেতরে ঢুকতে চেষ্টা করে, আমি এই দেওয়ালে এত জোরে বুটটা ঠুকে দেব যে পাশের ঘরের মেরী কিং জেগে যাবে। ভীষণ জোরে চেঁচিয়ে উঠবো। তারপর যদি অনেক লোক এসে জড়ো হয় বলবো দুঃস্বপ্ন দেখা কিছু অসম্ভব নয়, কেউই কিছুই ভাববে না।

    অনেকক্ষণ বসার পর শুনলো…প্যাসেজে মৃদু পায়ের শব্দ, ঘরের সামনে এসে শব্দটা থামলো…ও শুনতে পেলো। তারপর দেখলো দরজা খোলার হাতলটা আস্তে আস্তে কে ঘোরাচ্ছে। চিৎকার করবে? না এখন নয়। দরজাটাকে ঠেললো–সামান্য একটু ঠেলা। কিন্তু দেরাজ আলমারিতে ঠেকে গেলো। এতে নিশ্চয়ই বাইরের লোকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছে। আবার বিরতি, তারপর একটা ছোট্ট মৃদু টোকা পড়ল দরজার ওপরে।

    জুলিয়া নিঃশ্বাস বন্ধ করে থাকে। আবার টোকা–কিন্তু এবারও খুব আস্তে নরম হাতে। জুলিয়া নিজের মনে ভাবে আমি এখন ঘুমোচ্ছি, আমি কিছু শুনিনি।

    জুলিয়া অনেকক্ষণ ধরে বসে থাকলো। আর টোকা পড়লো না বা হাতটাও ঘোরালো না। কিন্তু জুলিয়া অত্যন্ত সজাগ হয়ে বসে রইলো।

    এরকম ভাবে বসে থাকতে থাকতে জানতেও পারলো না কখন ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে শুয়ে পড়েছে। স্কুলের ঘণ্টাই তাকে জানিয়ে দেয়। কোঁচকানো বিছানায় এক কোণে কোনোরকমে কষ্টেসৃষ্টে সে শুয়েছিলো।

    প্রাতঃরাশের পর মেয়েরা ঘরে গিয়ে বিছানা গুছিয়ে রাখলো। তারপর বড়ো হলঘরে প্রার্থনার জন্য সমবেত হল। প্রার্থনার পরে যে যার ক্লাসে চলে গেলো।

    যখন সবাই নিজের নিজের ক্লাসে যেতে ব্যস্ত জুলিয়া একটা ক্লাস ঘরের মধ্যে ঢুকে ওপাশের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেলো। মেয়েদের একটা দল দালানের দিকে বেশ তাড়াতাড়ি হেঁটে আসছিল তাদের সঙ্গে সঙ্গে জুলিয়াও ওপাশটা দিয়ে এগুতে থাকে। একটা রডোডেনড্রন গাছের পেছনে হঠাৎ লুকিয়ে পড়ে। এদিক-ওদিক দিয়ে লাফ-টাফ মেরে অবশেষে বাইরের দেওয়ালের কাছে এসে পৌঁছায়। সেখানটায় একটা বাতাবিলেবু গাছের ঘন ঝোঁপ। যার ডালপালা প্রায় মাটি ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জুলিয়া গাছে চড়তে ওস্তাদ। গাছে উঠে অনেকক্ষণ ঘন পাতার আড়ালে গুটি মেরে বসে রইলো। হাতের ঘড়িটার দিকে বার বার দেখে। ঠিক জানতে কিছুক্ষণের জন্য কেউ অন্তত তার খোঁজ করবে না, আজ স্কুলের জীবনটাই এলোমেলো হয়ে গেছে। দুজন শিক্ষিকা নিহত, অর্ধেকের বেশি মেয়ে বাড়ি চলে গেছে।

    সরসর করে গাছ থেকে দেওয়ালের মাথা পর্যন্ত নেমে আসে। অনায়াসে দেওয়াল ডিঙিয়ে ওধারে লাফ দেয়, শখানেক গজ দূরেই বাসস্টপ। কয়েক মিনিটের মধ্যে বাস আসবে…এলোও তাই। জুলিয়া হাত দেখিয়ে বাসে চড়লো। সুতি ফ্রকের নিচে একটা ফ্লেট-হ্যাট নিয়ে এসেছিল, অগোছালো চুলের ওপর টুপিটা পরে নিল। স্টেশনে নেমে জুলিয়া লন্ডনের ট্রেনে চড়লো।

    আসবার আগে জুলিয়া ওর ঘরে বেসিনের ওপর বুলস্ট্রোডের নামে চিঠি লিখে রেখে এসেছিল।

    শ্রদ্ধেয় মিস বুলস্ট্রোড,
    আমি পালিয়েও যাইনি বা আমাকে কেউ চুরি করে নিয়েও যায়নি। অতএব চিন্তা করবেন না। যতশীঘ্র সম্ভব আমি ফিরে আসবো।
    আপনার পরম বিশ্বস্ত ছাত্রী
    জুলিয়া আপজন

    আটশো নম্বর হোয়াইট হাউস ম্যানসনের দরজা খুলে দিলো। এরকুল পোয়ারোর নিজের খানসামা ও চাপরাশি জর্জ খুলেই অবাক, ময়লা মুখ নিয়ে নেহাতই একটি স্কুলের মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

    মিঃ এরকুল পোয়ারোর সঙ্গে দেখা করতে পারি? জর্জের জবাব দিতে একটু দেরিই হয়। এখন একজন সাক্ষাৎপ্রার্থী–বিশ্বাসই হয় না।

    মিঃ পোয়ারো আগে থাকতে খবর না দেওয়া থাকলে কারোর সঙ্গে দেখা করেন না।

    অত সময় আমার নেই, এখুনি তার সঙ্গে দেখা করতে হবে। ভীষণ জরুরী কয়েকটা হত্যা, একটা ডাকাতি। এইরকম আরো কিছু ব্যাপার।

    জর্জ বলে, আচ্ছা জিজ্ঞাসা করে আসি, মিঃ পোয়ারো আপনার সঙ্গে দেখা করবেন কিনা। মেয়েটিকে হলঘরে রেখে ভেতরে গেলো সে মনিবকে শুধাতে।

    স্যার আপনার সঙ্গে অল্পবয়সী মহিলা এখুনি দেখা করতে চান।

    হু, তা তো চান। কিন্তু চাইলেই কি আর অত সহজে হয়।

    সে কথা তো আমি ওকে বললাম।

    কি ধরনের মহিলা?

    মানে বাচ্চা মেয়ে স্যার।

    কি বলতে চায়?

    তিনি আপনার সঙ্গে কয়েকটি হত্যা ও একটি ডাকাতির সম্বন্ধে আলোচনা করতে চান। পোয়ায়োর ভ্রূ-গুলো এবারে উর্ধ্বে উঠে যায়।

    কয়েকটা হত্যা এবং একটা ডাকাতি, বল কি হে! যাও যাও ভেতরে নিয়ে এসে বাচ্চা মেয়েটিকে।

    জুলিয়া ঘরে এসে ঢুকলো, বেশ মার্জিত-স্বাভাবিক কণ্ঠস্বর। নমস্কার মিঃ পোয়ারো, আমার নাম জুলিয়া আপজন। শুনেছি আপনি আমার মায়ের একজন বিশেষ বন্ধুকে চেনেন। তার নাম মিসেস সামারহেইস। গতবছর গরমের ছুটিতে ওর বাড়িতে আমরা গিয়েছিলাম। তখন উনি আপনার কথা বলেছিলেন।

    মিসেস সামারহেইস, পোয়ারো মানসচক্ষে দেখতে পেলেন, পাহাড়ের ওপরে একটা গ্রাম আর সেই পাহাড়ের চূড়ায় একটা বাড়ি…দাগভরা একটু মধুর মুখ…ভাঙাভাঙা স্প্রিংয়ের সোফা, বহু কুকুর…ভালোয়-মন্দয় মেশানো কত টুকরো টুকরো ছবি।

    আমি তাকে মরিন মাসি বলি, মাসি হয় না অবশ্য। উনিই তো আমাদের গল্প করেছিলেন আপনি কি চমৎকার লোক! মিছিমিছি হত্যার অপরাধে একটি লোকের জেল হয়ে গিয়েছিলো, আপনি তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন, তাইতো আমি যখন বুঝতে পারছিলাম না কি করা উচিত, কার কাছে যাওয়া উচিত, আপনার কথাই মনে এলো।

    পোয়ারো গম্ভীর সুরে বললেন, আমি সম্মানিত বোধ করছি, ধন্যবাদ। মেয়েটিকে একটা চেয়ার দিলেন বসতে–আচ্ছা শুরু করে দেখি তোমার কাহিনী। আমার চাপরাশি জর্জ বললো, তুমি নাকি আমার সঙ্গে আলোচনা করতে চাও একটা ডাকাতি আর কয়েকটা হত্যাকাণ্ড নিয়ে; তাহলে কি একটার বেশি হত্যা?

    জুলিয়া বলে, হ্যাঁ মিস স্প্রিঙ্গার ও মিস ভ্যান্সিটার্ট তার ওপরে বালিকা হরণও আছে–অবশ্য মনে করি না যে ওটা আমার ব্যাপার।

    আশ্চর্য, তুমি যে আমাদের একেবারে হতবাক করে দিলে! তা এইসব বিস্ময়কর ঘটনা ঘটলো কোথায়।

    আমার স্কুলে মেডোব্যাঙ্কে।

    মেডোব্যাঙ্কে? পোয়ারো যেন এবারে বুঝতে পারলেন। সযত্নে রাখা খবরের কাগজ থেকে একটা তুলে নিলেন। ভাঁজ খুলে সামনের পৃষ্ঠায় চোখ বুলাতে বুলাতে মাথা নাড়লেন।

    পোয়ারো বললেন, এতক্ষণ বুঝতে পেরেছি, বল দেখি প্রথম থেকে, জুলিয়া।

    -গতরাতে আমার শোবার ঘরে র‍্যাকেট পরীক্ষা করা পর্যন্ত প্রথম বলে থেমে, বুঝলেন, আমি ভেবেছিলাম যে ঠিক আলাদিনের গল্প.পুরানো প্রদীপের বদলে নতুন প্রদীপ, কাজেই টেনিস র‍্যাকেটেই নিশ্চয় কিছু আছে।

    ছিলো? হ্যাঁ!

    মিথ্যা লজ্জা করার মেয়ে নয় জুলিয়া, স্কার্ট তুলে প্রায় উরু পর্যন্ত ইজেরটাকে গুটিয়ে নিলো, দেখা গেলো আঠালো ফিতে দিয়ে হাঁটুর খানিকটা ওপরে ছাই রঙের পুলটিশ লাগানো আছে। আঠালো ফিতেগুলো টান দিয়ে খুলতে গিয়ে ব্যথায় উঃ আঃ করে ওঠে। পুলটিশটা খুলে নিতে পোয়ারো দেখলো ওটা একটা মোড়ক। ছাই রঙের প্লাস্টিকের স্পঞ্জ ব্যাগের মধ্যে ভরে রাখা মোড়কটা খুলে, কোনো কিছু না জানিয়েই, একগাদা ঝলমলে পাথর হঠাৎ টেবিলের ওপর ঢেলে দিলো।

    পোয়ারো হতচকিত গলা দিয়ে স্বর ফুটলো না–আঁ একি..একি, কি না কি নাম।

    তুলে নিয়ে আঙুল দিয়ে নেড়ে চেড়ে দেখেন। নাম বলো…নাম বলো সত্যিকারের। জুলিয়া মাথা নেড়ে-হতেই হবে, নইলে কি আর কেউ খুন করে? এগুলোর জন্য মানুষ খুন করা..বোঝা যায়? আবার হঠাৎ গতরাতের মতো শিশু চোখে ফুটে উঠলো নারীর ছবি।

    তীক্ষ দৃষ্টিতে ওকে দেখে পোয়ারো ঘাড় নেড়ে বললেন, হুঁ বুঝেছো দেখছি…যাদুর মায়া তোমাকে পেয়েছে।…শুধু রঙীন খেলনা নয়…এগুলো তোমার কাছে সেটাই তো কথা।

    আবেশে জুলিয়া বলে, ওগুলো যে রত্ন।

    বলছে যে তুমি এগুলো একটা টেনিস র‍্যাকেটের ভেতর পেয়েছো?

    জুলিয়া কাহিনীর শেষপর্যন্ত শুনিয়ে দিলো। সবকিছু বলেছো, কিছু বাদ যায়নি তো? নাঃ একটু বাড়িয়ে হয়তো কোথাও একটু-আধটু বলেছি। আমার স্বভাব ওই। আমার বন্ধু জেনিয়া কিন্তু একেবারে উল্টো। তার মুখে লোমহর্ষক কাহিনীও কেমন ভেজা ভ্যাজভেজে শোনায়। আবার ঝলমলে রত্নের স্তূপটার দিকে তাকিয়ে, মঁসিয়ে পোয়ারো এগুলো কার?

    বলা শক্ত। কিন্তু তোমারও না আমারও না। এক্ষুনি ঠিক করে ফেলতে হবে কি করা উচিত।

    জুলিয়া তার দিকে আশার চোখে তাকায়। তুমি নিজেকে আমার হাতে ছেড়ে দিচ্ছো তো, বেশ এরকুল পোয়ারো চোখ বোজেন। হঠাৎ চোখ খুলেই ভীষণ চটপট হয়ে পড়লেন।

    আর চেয়ারে বসে থাকা যাচ্ছে না। প্রতিটি বিষয়েই শৃঙ্খলা থাকা চাই। তুমি যে কাহিনী বললে তাতে না আছে শৃঙ্খলা না আছে বিনাশের কারণ। কারণ এইখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি অনেক সুতো অনেক গুচ্ছ।

    তোমার স্কুলে খবর দিচ্ছি। প্রধান শিক্ষিকাকে বলে দিই যে তুমি এখানে আমার কাছে নিরাপদে আছো আর আমরা দুজনেই মেডোব্যাঙ্কে যাচ্ছি।

    উনি জানেন যে আমি ভালোই আছি। আমি চিঠি লিখে রেখে এসেছি। আমাকে কেউ চুরি-টুরি করেনি।

    তবু খবরটা পেলে শান্তি পাবেন। টেলিফোনে মিস বুলস্ট্রোডকে পাওয়া গেল। আমার নাম এরকুল পোয়ারো, আমার কাছে আপনার ছাত্রী জুলিয়া আপজন এসেছে।…যে পুলিশ অফিসার তদন্ত করছেন তাকে জানিয়ে দেবেন যে একটা দামী মোড়ক ব্যাঙ্কে জমা করে দেওয়া হয়েছে।

    মিস বুলস্ট্রোড বললেন, আমাদের এতো তাড়াতাড়ি টেলিফোন করে আপনি যে আমাদের উদ্বেগ দূর করেছেন তার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। অত্যন্ত সুবিবেচনার কাজ করেছেন।

    …জানো জুলিয়া, আজ মধ্যাহ্নভোজে তুমি যে নেই সেটা আমরা লক্ষ্য করিনি।

    জুলিয়া বলে, নইলে আপনি হয়তো ভাবতেন আমাকেও চুরি করে নিয়ে গেছে।

    হা ভালোই করেছিলে, তবুও আমি বলবো, তোমার মতলবটা আগেই আমাকে জানানো উচিত ছিল জুলিয়া।

    একমিনিট, বলে দরজার কাছে চলে এলেন এরকুল পোয়ারো, দরজা খুলে বাইরে তাকিয়ে দেখলেন। তারপর খুব ঘটা করে দরজা বন্ধ করে চোখে মুখে ঝিলিক তুলে রহস্যঘন কণ্ঠে বললেন, এখন আমরা একা, এবার শুরু করা যাক।

    একবার তার দিকে আরেকবার দরজার দিকে মিস বুলস্ট্রোড তাকিয়ে দেখলেন, জুলিয়া কি ব্যাপার? জুলিয়া পুরো ঘটনাটা আনুপূর্বিক বলে গেল। টেনিস র‍্যাকেটের বদলাবদলি রহস্যময়ী রানী…র‍্যাকেটের ভেতরে অবশেষে খুঁজে পেলো মিস বুলস্ট্রোড। পোয়ারোর দিকে তাকাতে তিনি বললেন, মাদমোয়াদেল জুলিয়া সবকিছু ঠিকই বলল, ও যে জিনিসগুলি নিয়ে এসেছিল তার ভার এখন আমার ওপর। সেগুলি ব্যাঙ্কে নিরাপদে রাখা হয়েছে। কাজেই মনে হয় না এখানে আর কিছু ঘটবে।

    মিস বুলস্ট্রোড বললেন, ওঃ…আচ্ছা জুলিয়ার এখানে থাকা কি ভালো হবে? বলেন তো লন্ডনে ওর মাসির বাড়িতে পৌঁছে দিই।

    জুলিয়া প্রতিবাদ করে, না না, আমাকে এখানে থাকতে দিন।

    মিস বুলস্ট্রোড বলেন, তোমার এখানে ভালো লাগে?

    হ্যাঁ ভীষণ ভালো লাগে, কত অদ্ভুত কাণ্ড হচ্ছে এখানে।

    সেগুলো মেডোব্যাঙ্কের বিশেষত্ব নয়।

    এরকুল পোয়ারো বলেন, এখনি আর এখানে কোনো বিপদ নেই জুলিয়ার। বলতে বলতে দরজার দিকে তাকালেন।

    মিস বুলস্ট্রোড বলেন, বুঝেছি।

    পোয়ারো সাবধান করে দিলেন, কিন্তু তা হলেও বিচক্ষণতার প্রয়োজন আছে। জুলিয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন, বিচক্ষণতা বোঝ?

    মিস বুলস্ট্রোড বুঝিয়ে দিলেন, মঁসিয়ে পোয়ারো বলতে চাইছেন যে তুমি যা খুঁজে পেয়েছো সে সম্বন্ধে কোনো কথা কাউকে বলবে না। অন্য মেয়েদেরও না। পারবে চুপ করে থাকতে?

    হুঁ।

    পোয়ারো বলেন, বন্ধুদের কাছে গল্প করার চমৎকার বিষয়, গভীর রাতে টেনিস র‍্যাকেটের মধ্যে খুঁজে পেলে সাত রাজার ধন। তবু ও নিয়ে গল্প না করার অনেক যুক্তিপূর্ণ কারণ আছে।

    জানি।

    জুলিয়া তোমার ওপর ভরসা করতে পারি?

    হ্যাঁ নিশ্চয়ই…দিব্যি করছি। এই দেখুন বুকে ক্রশ আঁকলাম।

    মিস বুলস্ট্রোড হেসে বললেন, তোমার মা বোধহয় শিগগিরি ফিরবেন।

    মা? আশা তো করি।

    মিস বুলস্ট্রোড বললেন, ইনসপেক্টর কেলসির কাছে শুনলাম তোমার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার খুব চেষ্টা হচ্ছে।…কিন্তু মুশকিল হয়েছে কি জানো?…আনাতানি বাসগুলো ভীষণ দেরি করে, সবসময় আবার সময়-টময় মানে না।

    মাকে তো বলতে পারি?

    হা নিশ্চয়।…আচ্ছা জুলিয়া ওই কথা রইলো, যাও তুমি এখন দৌড় লাগাও।

    জুলিয়া ঘরের দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে চলে গেলো। মিস বুলস্ট্রোড তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পোয়ারোকে দেখেন, আমি বোধহয় আপনার কৌশলটা বুঝতে পেরেছি।

    একটু আগে দরজা বন্ধ করার ভান করলেন। আসলে কিন্তু দরজাটা আপনি ইচ্ছে করেই একটু ফাঁক করে রেখেছিলেন।

    পোয়ারো মাথা নাড়ে, যাতে বাইরে থেকে শোনা যায় আমরা কী বলছি? হ্যাঁ…অবশ্যই আড়িপাতার মতো যদি কেউ থাকে।…মেয়েটির নিরাপত্তার জন্যই এগুলি করতে হল।…ওর কাছে এগুলো এখন নেই, ব্যাঙ্কে রাখা আছে। সে খবরটা প্রচার করা আবশ্যক।

    মিস বুলস্ট্রোড গম্ভীরভাবে ঠোঁটে চেপে বললেন, কবে যে এসব শেষ হবে।

    পুলিশের বড়োসাহেব বললেন, এখন আমাদের কর্তব্য হল প্রথমেই সব খবরগুলো একত্রিত করে যত রকম ধারণা আছে সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা…। আপনাকে পেয়ে আমারা খুব খুশি। মিঃ পোয়ারো..ইনসপেক্টর কেলসির আপনার কথা খুব মনে আছে।

    কেলসি বলে, সে অনেকদিন আগের কথা, মামলার ভার চীফ ইনসপেক্টর ওয়ারেণ্ডারের ওপর। তখন সবে ঢুকেছি। একেবারে আনকোরা সার্জেন্ট।

    কাজের সুবিধার জন্য এই যে ভদ্রলোক এখানে বসে আছেন তার নাম আমরা দিয়েছি মিঃ অ্যাডাম গুডম্যান। একে হয়তো আপনি চেনেন না মিঃ পোয়ারো, কিন্তু এর বড়োকর্তাকে নিশ্চয়ই আপনি চেনেন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ।

    পোয়ারো বলেন, কর্নেল পাইক্যাওয়ে? ওঃ, অনেকদিন তার সঙ্গে দেখা হয়নি, এখনও তার সেই ঘুম ঘুম ভাব আছে নাকি?

    অ্যাডাম হাসে, তাকে জানেন দেখছি মিঃ পোয়ারো। আমি কখনো তাকে পুরো জাগা অবস্থায় দেখিনি…যখন দেখবো তখন বুঝবো তিনি মনোযোগ দিচ্ছেন না।

    পুলিশ সাহেব বললেন, আসুন ব্যাপারটা নিয়ে এবারে আলোচনা করি। আমি অবশ্য আমার নিজের ধারণা আপনাদের ওপর চাপিয়ে দেবো না। যারা এই কেস নিয়ে কাজ করছেন তারা কী কী জানতে পেরেছেন, কী কী ভাবছেন, সেটা জানতেই আমি এখানে এসেছি।…ব্যাপারটার নানান দিক রয়েছে, তার মধ্যে একটা দিকের কথা জানিয়ে দেওয়া উচিত। ধরে নেওয়া যাক একটি ছোটো মেয়ে মানে একটি স্কুলের ছাত্রী আপনার কাছে চমৎকার একটি গল্প নিয়ে এলো। সে নাকি কোনো একটা টেনিস র‍্যাকেটের ফাঁকা হাতলে কীসব পেয়েছে। হয়তো সে যা পেয়েছে আসলে হচ্ছে রঙীন পাথরের একটা সংগ্রহ…বেশ সুন্দর নকল পাথর বা বড়োজোর আধদামী পাথর। যাইহোক শিশুমনে উত্তেজনা জন্মাবার পক্ষে ওই যথেষ্ট। কিন্তু ওগুলোর দাম সম্বন্ধে মেয়েটার মনে ভীষণ উঁচু ধারণা। কী বলেন এমন কাণ্ড হতে পারে না? পোয়ারোর দিকে কটমট করে তাকালেন। হওয়াই তো উচিত।

    পুলিশ সাহেব বলেন, বেশ যারা এই ইয়ে মানে..রঙীন পাথরগুলো অজান্তেই এদেশে নিয়ে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা চাই না যে বেআইনিভাবে ওগুলো আমদানী করার কোনো মামলা ওঠে। তার ওপর আবার আছে বৈদেশিক নীতির কথা। আমাকে বলা হয়েছে যে, কতগুলো এমন ব্যাপার আছে যা এই মুহূর্তে বেশ গোলমাল। তেল বা খনিজপদার্থ বা ওই ধরনের কোনো বৃহত্তর স্বার্থের খাতিরে সবসময়েই প্রতিষ্ঠিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে হয়। কোনো বোস প্রশ্ন আমার চাই না। হত্যাকাণ্ডকে কখনো চেপে রাখা যায় না। পরামর্শ চলছে

    চিন্তান্বিত গলায় পোয়ারো আবার বললেন, মেডোব্যাঙ্কে দুটি হত্যা!

    কেলসি বলে, আমরা আপনাকে সব তথ্যই জানালাম এখন যদি কোনো ধারণা হয়ে থাকে আপনার।

    পোয়ারো বলেন ক্রীড়ামঞ্চে কেন? আপনার মনে সেই প্রশ্নই ছিলো তাই না? উত্তরটা আমরা পেয়ে গেছি, কারণ ক্রীড়ামঞ্চে ছিলো একটা টেনিস র‍্যাকেট, যার মধ্যে ছিল বহুমূল্য রত্ন। র‍্যাকেটের খবরটা নিশ্চয়ই কেউ জানতো। কে সে?…মিস শ্রিঙ্গারও হতে পারেন। আপনারাই তো বলেন ক্রীড়ামঞ্চ সম্বন্ধে তার অদ্ভুত একটা মনোভাব ছিলো। ওখানে কারো আসা তিনি পছন্দ করতেন না। মাদমোয়াজেল ব্লাশের ক্ষেত্রেই তা তো দেখা গেলো।

    এরকুল পোয়ারো আবার অ্যাডামকেই বললেন, আপনিই তো বলেছিলেন ক্রীড়ামঞ্চে মাদমোয়াজেল ব্লাশের আচরণটা যেন আপনার কাছে কেমন কেমন ঠেকেছিল।

    অ্যাডাম বলে, তিনি আমাকে কৈফিয়ৎ দিচ্ছিলেন। বেশ ঘটা করে কৈফিয়ৎ..অত করে যদি না বোঝাতেন তবে আমার কোনো সন্দেহই হত না।

    মাথা নেড়ে পোয়ারো বলেন, বটেই তো। চিন্তার উদ্রেক করবারই কথা। কিন্তু আমরা যতটুকু জানি তা হচ্ছে রাত একটায় ক্রীড়ামঞ্চে মিস স্প্রিঙ্গারকে খুন করা হয়েছিল অথচ সেই সময় ওর তো ওখানে থাকবার কথা নয়।

    কেলসির দিকে ফিরে, মেডোব্যাঙ্কে আসাবার আগে মিস স্প্রিঙ্গার কোথায় ছিলেন? জানা যাচ্ছে না, তার শেষ চাকরিস্থল ছিলো বেশ নামকরা একটা স্কুলের, নাম বলেছিলো। গতবছর গ্রীষ্মকালে ওখানেই ছিলেন। কিন্তু তারপর কোথায় ছিলেন জানা নেই। মরার আগে তো প্রশ্ন করার দরকার হয়নি। তার কোনো আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    পোয়ারো বলেন, তবে তো রামাতে থাকাটা অসম্ভব নয়। অ্যাডাম বলে, শুনেছি যখন বিপ্লব হচ্ছিলো তখন ওখানে নাকি একদল স্কুল শিক্ষিকা ছিলো।

    তাহলে ধরা যাক তিনি এখানে ছিলেন এবং কোনো উপায়ে র‍্যাকেটটার খবর জেনেছেন। মেডোব্যাঙ্কে কিছুদিন চুপচাপ নিত্যনৈমিত্তিক কাজের ধারা লক্ষ্য করলেন তারপর একদিন রাতে ক্রীড়ামঞ্চে গিয়ে র‍্যাকেটটা থেকে মণিরত্নগুলো বের করে নিতে যাবেন মনস্থির করলেন। ঠিক সময়ে কেউ তাকে বাধা দিল। যে কেউ তার গতিবিধির অনুসরণ করছিলো। সে যাই হোক তার কাছে পিস্তল ছিলো। …তাকে গুলি করলো…কিন্তু রত্নগুলো সরিয়ে নেবার সময় পেলো না। কারণ ততক্ষণে গুলির শব্দে ক্রীড়ামঞ্চে লোকজন ছুটে আসছে।

    পুলিস সাহেব বললেন, তাহলে আপনার ধারণা ঘটনাটা এরকমই ঘটেছিলো।…এটা শুধু একটা সম্ভাবনা। বিকল্পে এমনও হতে পারে যে পিস্তলধারীই ওখানে প্রথম গিয়েছিলো এবং মিস স্প্রিঙ্গার আসাতে সে বাধা পেলো। হয়তো এমন কোনো মানুষ যার সম্বন্ধে মিস স্প্রিঙ্গার সন্দেহ পোষণ করতেন।…আপনারাই তো বলেছেন অন্যের চরিত্রের দোষ তিনি খুঁজে বেড়াতেন।

    অ্যাডাম বলে, আর দ্বিতীয় স্ত্রীলোকটি আপনিও জানেন না আমিও জানি না…হয়তো বাইরের কোনো লোকও এসে থাকতে পারে।

    কেলসি মাথা নেড়ে বলে, না, তা মনে হয় না। গোটা অঞ্চলটা আমরা তন্নতন্ন করে খুঁজেছি, আগন্তুকদের তো আমরা খুঁটিয়ে যাচাই করেছি। কাছাকাছি থাকার মধ্যে আছেন মাদাম কোলেনস্কি অ্যাডাম চেনেন। কিন্তু তিনি দুটোর মধ্যে একটা খুনেও জড়িত থাকতে পারেন না।

    তবে তো আবার মেডোব্যাঙ্কেই ফিরে আসতে হচ্ছে!..সত্য আবিষ্কারের একমাত্র পন্থার কথা বিবেচনা করে অসম্ভবগুলোকে বাদ দিয়ে সম্ভাবনা আগামীতে পৌঁছানো। কেলসি বলে, হা…তাই তো দাঁড়াচ্ছে। দেখুন প্রথমে যে খুনটা হল সেখান প্রশস্ত ক্ষেত্র :

    কেউই মিস স্প্রিঙ্গারকে হত্যা করতে পারে। ব্যতিক্রম শুধু মিস জনসন, মিস চ্যাডউইক আর যে মেয়েটির কানে ব্যথা হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় খুনের বেলায় ক্ষেত্র অনেক সংকীর্ণ। মিস রীচ, মিস ব্লেক ও মিস স্যাপল্যান্ড এতে জড়িত নেই। কারণ সে সময়ে মিস রীচ বিশ মাইল দূরে অ্যাসিনে গ্র্যাঞ্জ হোটেলে ছিলেন।

    ইনসপেক্টর বলে, মিস বুলস্ট্রোড তখন ওয়েলশ্যমের ডাচেসের বাড়িতে ছিলেন।

    পোয়ারোও গম্ভীর, তবে মিস বুলস্ট্রোডও বাদ পড়লেন। এখন কে কে রইলো?

    বাঁধা ঝি দুজন। তারা রাতে থাকে, মিসেস গিবসন আর আরেকটা মেয়ে উরিস হগ। তাদের আমি সন্দেহ করি না, বাকি রইলো মিস রোয়ান ও মাদমোয়োজেল ব্লাশ।

    ছাত্রীরাও তো।

    চমকে ওঠে কেলসি। নিশ্চয় তাদের আপনি সন্দেহ করেন না।

    করি না কিন্তু সঠিক কে বলতে পারে।

    কিন্তু কোনো মনোযোগই ছিলো না, কেলসি বললো। মিস রোয়ান আছেন গত একবছর ধরে। ওঁর ইতিহাস ভালো। তার ব্যাপারে আমাদের কিছু বলার নেই।

    তাহলে এসে ঠেকেছি মাদমোয়াজেল ব্লাশে। ওখানেই আমাদের যাত্রা শেষ।

    এবার সবাই চুপ থাকে।

    কোনো প্রমাণ নেই, পরিচয়পত্রগুলো বেশ ভালো।

    সে তো হবেই, পোয়ারো বললেন।

    উনি আড়ি পাততেন, অ্যাডাম বলে ওঠে, কিন্তু আড়ি পাতা তো হত্যার প্রমাণ নয়। এক মিনিট, কেলসি বলে, চাবি নিয়ে কি যেন বলছিলেন…চাবি নিয়ে বেরিয়ে পড়তেই স্প্রিঙ্গার তাঁকে মারেন এক ধমক।

    রাতে র‍্যাকেট খুঁজতে যে যাবে, তার চাবি দরকার হবেই। পোয়ারো বলেন, চাবি বানাতে হলে চাবির ছাপ দরকার।

    অ্যাডাম বললো, আগ বাড়িয়ে চাবির কথা বলবেন না।

    কেলসি বললো, চাবির ঘটনা প্রিঙ্গার কাউকে বলেছিল। কাজেই ইনি ভাবলেন ঘটনাটা উল্লেখ করে রাখা ভালো।

    মনে রাখার মতো বিষয়। পোয়ারো বলেন, এতে আমরা কদ্দূর যেতে পারি, কেলসি পোয়ারোর দিকে তাকায়।

    পোয়ারো বলেন, যা বলা হয়েছে তা যদি সত্যি হয়, হয়তো একটা সম্ভাবনা আছে।

    .

    কথোপকথন

    মিসেস সাটক্লিফ বলে, দেখুন বুঝতে পারছি না কি বলবো, সত্যি ঠিক বুঝতে পারছি না। এরকুল পোয়ারোর দিকে বিরক্তভাবে তাকিয়ে বললেন, হেনরি অবশ্য বাড়ি নেই।

    পোয়ারো ঠিক বুঝতে পেরেছেন কেন তিনি এই কথা বললেন…উনি ভাবছেন হেনরি থাকলে ভালো হত ব্যাপারটা সুরাহা করে দিত। হেনরির কত বিদেশী নিয়ে কারবার। কখনো দক্ষিণ আমেরিকা কিংবা কখনো জেনেভাতে। ও প্যারিসে গেছে দু-একবার।

    মিসেস সাটক্লিফ বলেন, ব্যাপারটা এত বিশ্রী বুঝলেন, জেনিয়াকে যে নিরাপদে বাড়ি নিয়ে যাই সেটাই বাঁচোয়া। কিন্তু জেনিয়া ভীষণ বিরক্ত করছে। মেডোব্যাঙ্কে যাবার আগে তো সেখানে যাবে না বলেই নাকে কাঁদলো, ওটা নাকি বড়ো লোকদের ন্যাকা ন্যাকা স্কুল।

    পোয়ারো বললেন, ওটা যে খুব ভালো স্কুল সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

    ছিল, এখন আর নেই।

    মিসেস সাটক্লিফ সংশয় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেন, আপনার তাই মনে হয় বুঝি।

    তখন পোয়ারো ব্যাখ্যা করলেন, মেডোব্যাঙ্কে তো এখন একটা দুঃসময় চলছে।

    মিসেস সাটক্লিফও যেন ওঁত পেতেই ছিলো, সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়লো।

    শুধু দুঃসময় বলছেন তার চেয়েও অনেক বেশি। দুজন খুন হল। একটি মেয়ে চুরি হল। যেখানে শিক্ষয়িত্রীরা একের পর এক খুন হচ্ছেন সেই স্কুলে আপনি আপনার মেয়েকে পাঠাতে পারেন।

    .

    জেনিয়া থমথমে মুখে ঘরে ঢুকলো। ঘোর সন্দেহের চোখে পোয়ারোর দিকে তাকায়। এই যে কেমন আছ?

    পোয়ারো বলেন, আমি জুলিয়া আপজনের পুরানো বন্ধু, ও আমাকে খুঁজতে লন্ডনে এসেছিল।

    জেনিয়া একটু আশ্চর্য হল, জুলিয়া লন্ডনে গিয়েছিল কেন?

    পোয়ারো বললেন, আমার উপদেশ নিতে। জেনিয়ার কিন্তু বিশ্বাস হয় না। পোয়ারো বললেন, আমি তাকে উপদেশ দিয়েছি। ও এখন আবার মেডোব্যাঙ্কে ফিরে গেছে।

    জেনিয়া বলে, তাহলে ইসাবেলা মাসি ওকে নিয়ে যাননি।

    পোয়ারোও মিসেস সাটক্লিফের দিকে তাকাল, কিন্তু ততক্ষণে জেনিয়ার মা ঘর ছেড়ে চলে গেছেন। যখন পোয়ারো এবাড়িতে আসেন তখন তিনি ধোপার কাপড় মেলাতে ব্যস্ত ছিলেন।

    পোয়ারো বললেন, ও…আচ্ছা মেডোব্যাঙ্কে এমন কাউকে দেখেছো কী যাকে রামাতে দেখেছিলে?

    রামাতে, না..কই মনে হচ্ছে না। কিন্তু জেনিয়া তুমি নিঃসন্দেহ নও, তাই না? জেনিয়া কপাল চুলকোয়, মানে সবসময় তো চেনা মুখের মানুষ দেখা যায় কিন্তু কার সঙ্গে তার মুখের মিল, তা তো তার মনে থাকে না। কখনো হয়তো এমন হয় যে চেনা মানুষদের দেখলেন কিন্তু

    মনে করতে পারলেন না, তারা কে? কোথায় দেখেছেন।

    রাজকুমারী শাইস্তার কথাই ধরো, তাকে তুমি নিশ্চয়ই চিনতে পেরেছিলে। রামাতে তো তাকে দেখেছে।

    রামাতে ছিলো বুঝি। খুব সম্ভব রাজ-পরিবারের মেয়ে তো, তাকে তুমি ওখানে দেখে থাকবে, কী বল।

    না, মনে পড়ে না, তাছাড়া ওখানে ওরা মুখের কাপড় খুলে রাস্তায় বেরোয় না। বিদেশে এসে খুলে ফেলে বলে শুনেছি।

    সে যাক। তাহলে মেডোব্যাঙ্কে কাউকে তুমি আগে দেখেছে বলে মনে হয় না।

    না, দেখিনি…অবশ্য বেশির ভাগ মানুষের মুখই হয়তো যে কোনো জায়গাতেই তাদের দেশে থাকতে পারেন। যখন মিস রীচের মতো কোনো অদ্ভুত মুখ আপনার নজরে আসে, তখনই তো আপনি লক্ষ্য করেন।

    মিস রীচকে আগে কোথাও দেখেছো? ঠিক দেখিনি, ওর মতোই কেউ হবে। কিন্তু অনেক বেশি মোটা।

    অনেক বেশি মোটা, চিন্তায় ডুবে যান পোয়ারো। খিলখিলিয়ে হেসে জেনিয়া বলে-মিস রীচকে আপনি মোটা কল্পনা করতে পারবেন না। উনি এত রোগা পাতলা ছিপছিপে তাছাড়া মিস রীচ রামাতে যাবেন কী করে? গতবার তো তার অসুখ ছিল।

    পোয়ারো বললেন, আর অন্য মেয়েরা তাদের দেখোনি আগে?

    দু-একজনকে দেখেছি, তাদের আগেই জানতাম। আমি তো মোটে তিন সপ্তাহ ওখানে ছিলাম। অর্ধেক মেয়েকে তো আমি চোখেই দেখিনি।

    .

     সুতোর গুচ্ছ

    মিস বুলস্ট্রোড বললেন, আপনার সঙ্গে আমার কথা আছে আইলিন।

    আইলিন রীচ তার পেছনে বসার ঘরে এসে ঢোকে। মেডোব্যাঙ্ক এখন অদ্ভুত শান্ত। মোটে জন পঁচিশ ছাত্রী আছে যাদের বাপ-মা কোন কারণে হয়তো তাদের নিয়ে যেতে পারেনি। আতঙ্ক উদ্বেগ অনেক কেটে গেছে মিস বুলস্ট্রোডের কৌশলে। তাকে দেখে মনে হয় না যে তার মনে কোনো উদ্বেগ আছে। অনায়াসে তিনি শান্ত মুখচ্ছবি বজায় রেখে চলেছেন।

    অ্যানি স্যাপল্যাণ্ড মিস বুলস্ট্রোডকে বললো কিছু লোক আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইছে। এই স্কুল টিকবে কিনা জানিনা। জনমত কি দাঁড়াবে তা তো বলা যায় না। একেক জন মানুষ একেক রকম। শেষে দেখা যায় তার মতামত বেশি সেই নিজের মতকেই জনমতে রূপান্তরিত করে। কাজেই মনে হয় মেডোব্যাঙ্ক বন্ধ হয়ে যাবে।

    মিস বুলস্ট্রোড বলেন–আপনার দেখছি ভীষণ দৃঢ় মনোভাব।

    হা, এই বিষয়ে তাই। দুনিয়ায় কী আছে যার দাম এক কানাকড়িও নয়।

    কিন্তু মেডোব্যাঙ্ক অমূল্য, আমি এসেই তা অনুভব করছি।

    মিস বুলস্ট্রোড বলেন, আপনি যোদ্ধা। যোদ্ধাদের আমার খুব ভালো লাগে। বিশ্বাস করুন আমি সহজেই হার স্বীকার করবো না, এই যুদ্ধ আমার ভালোই লাগবে। যখন সবকিছু অত্যন্ত সহজ হয়ে ওঠে হাতের মুঠোর মধ্যে, তখন মানুষ কী বলবো-আত্মপ্রসঙ্গে চুর হয়ে থাকে?

    ফলের জমি থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে অ্যানি স্যাপল্যান্ড বললো, ওই যে এলোচুল দুলিয়ে আসছে, বুঝি না বাপু সামলাই কি করে।

    অ্যাডাম বলে ওকে, সে কথাটা বলুন।

    স্যাপল্যান্ড বলে, আমাদের মধ্যে মাখামাখি নেই। আচ্ছা আপনার কী মনে হয় স্কুল আবার চলবে? কঠিন প্রশ্ন। তাছাড়া আমি উত্তর দেবার কে?

    কেন আপনার তো একটা মতামত থাকতে পারে, চলবে বোধহয় জানে।

    ফরাসি সাহিত্য পড়ানো শেষ করে ক্লাস থেকে মাদমোয়াজেল ব্লাশ বেরিয়ে এল। হাতঘড়িতে সময় দেখে…অনেক সময় আছে। আজকাল তো সময়ের কমতি নেই। ছাত্রী নেই। নিজের ঘরে গিয়ে টুপি পরে নেয়। টুপি না পরে চলাফেরা করা তার একদম ভালো লাগে না। আয়নায় চেহারা দেখে পছন্দ হয় না। চোখে লাগার মতো ব্যক্তিত্ব নেই।..মনে মনে হাসে দিদির পরিচয় পত্রগুলো কেমন সুন্দর কাজে লাগানো গেল। হাত-পা এর ফটো দেখে কেউ সন্দেহ করেনি।…অ্যাঞ্জেল তো মারাই গেছে, ওগুলো ফেলে দিয়ে কী কোনো লাভ হত। তার চেয়ে এই বেশ। অ্যাঞ্জেল পড়াতে সত্যিই ভালোবাসতো। ব্যাগটা হাতে ঝুলিয়ে বাইরে এল। বারান্দা দিয়ে যেতে যেতে দেখে, হাঁটু মুড়ে নতুন একজন ঝি কাজ করছে। নিশ্চয় পুলিশের চর…লোকে যেন বোঝে না।

    ঠোঁটের কোণে আবছা হাসি খেলে।

    .

    আনাতোলিয়ার ঘটনা

    গভীর খাদের ওপর দিয়ে রাস্তা। সেই রাস্তার এক পাশে মিসেস আপজন বসে আছে। বিশাল চুল এক তুর্কী রমণীর সঙ্গে গল্প জুড়েছে।

    .

    অনাবরণ

    সবাই একটা ছোটো ক্লাসঘরে এসে জমা হল। মিস বুলস্ট্রোড দেখলেন সবাই এসেছে। মিস চ্যাডউইক, মিস জনসন, মিস রীচ ও অল্প বয়সী শিক্ষিকা দুজন। অ্যানি স্যাপল্যান্ড খাতা পেন্সিল নিয়ে বসেছে। যদি মিস বুলস্ট্রোডের কিছু লেখার দরকার হয়। মিস বুলস্ট্রোডের পাশে ইনসপেক্টর কেলসি বসেছে, আর তার পেছনে এরকুল পোয়ারো বসে আছেন।

    বেশ কর্তৃত্বের সুর নিয়ে তিনি বলতে শুরু করলেন।

    আমার মনে হয় এই তদন্ত কতদূর এগিয়েছে সেটা জানতে আপনারা সকলেই উৎসাহী। কারণ আপনারা সকলেই এই স্কুলের কর্মী। এবং এই স্কুলের ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে সুইজারল্যান্ড থেকে অমূল্য সাফল্য পেয়েছেন মিঃ পোয়ারো।

    …আপনারা জানেন মঁসিয়ে পোয়ারো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি। তিনি এই বিষয়ে নিজেই আপনাদের বলবেন।

    আমি দুঃখিত যে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি, কিন্তু আজ একথা বলার সময় এসেছে যেগুলো খোলসা হওয়া দরকার। কাজেই আমার কতদূর এগিয়েছি সেটা যদি আপনাদের জানানো যায় তবে নিশ্চয়ই আপনারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

    মিস বুলস্ট্রোড কেলসির দিকে তাকায়। ইনসপেক্টর উঠে দাঁড়িয়ে বলে, দেখুন সরকারীভাবে আমি যা জানি সবটাই আপনাদের বলতে পারি না, তবে আমরা যথেষ্ট এগিয়েছি এবং এই স্কুলের অপরাধগুলো কে বা কারা সংঘটিত করেছিলো সে সম্বন্ধেও একটা স্পষ্ট ধারণা এসে গেছে। এর বেশি কিছু বলতে চাই না। আমার বন্ধু মিঃ পোয়ারো সরকারী গোপনীয়তায় আবদ্ধ নন। তিনি তার বক্তব্য আপনাদের জানাতে পারেন। আমি জানি আপনারা সবাই মেডোব্যাঙ্কের একনিষ্ঠ কর্মী।

    মিস বুলস্ট্রোডের ওপরও আপনাদের শ্রদ্ধা ও ভক্তি ভালোবাসা রয়েছে। সুতরাং আমি আশা করবো যে, মিঃ পোয়ারো যে সব বিষয়ে আপনাদের জানাবেন সেগুলো আপনারা গোপন রাখবেন। কারণ বাজারে যত কম গুজব ছড়াবে ততই মঙ্গল। অতএব আপনাদের অনুরোধ করবো যেন খবরগুলো বাইরে প্রকাশ না হয়, এতে আপনারা সকলেই রাজী…।

    পোয়ারো বললেন, আপনাদের সকলেরই এই কটাদিন বেশ অশান্তিতে কাটলো। আপনাদের অস্বস্তি আর দুশ্চিন্তা আমি বুঝি, বিশ্বাস করুন। মিস বুলস্ট্রোডের কষ্ট হয়েছে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু আপনারাও কম কষ্ট পাননি। তিনজন সহকর্মীকে আপনারা হারিয়েছেন যাদের একজন বহুদিন ছিলেন। আমি মিস ভ্যান্সিটার্টের কথা বলছি। মিস স্প্রিঙ্গার ও মাদমোয়াজেল ব্লাশ অবশ্যই নবাগত। পোয়ারো বললো যে, আপনাদের সামনেই বসে আছে সেই নির্মম হত্যাকারী।

    একটা ফটো পকেট থেকে বের করেন। প্রথমে আমি এই ফটো আপনাদের দেখাতে চাই, কেলসি ফটোটা নিয়ে মিস বুলস্ট্রোডকে দেয়। মিস বুলস্ট্রোডের হাত থেকে সবাই নিয়ে দেখে।

    আপনাদের সকলকেই জিজ্ঞাসা করছি…কেউ কী আপনারা ফটোর মেয়েটাকে চিনতে পেরেছেন?

    সকলেই ঘাড় নাড়িয়ে বললো, না। পোয়ারো বললো, চেনা উচিত। আমি জেনেভা থেকে ফটোটা পেয়েছি…রাজকুমারী শাইস্তার।

    মিস চ্যাডউইক চেঁচিয়ে ওঠে, কিন্তু এতো শাইস্তা নয়।

    পোয়ারো বললেন, সেই তো কথা, আমাদের এই কাহিনীর যবনিকা উঠেছিল রামাতে সেখানে আপনারা সকলেই জানেন।

    উত্তর দিকে পাহাড়ে রাজকুমার আলির বিমান ধ্বংস হয়ে পড়ে। বহুদিন সেটার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাজকুমার আলির দেহে একটি মূল্যবান বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেল না। সেটি রাজকুমার সবসময় সঙ্গে সঙ্গে রাখতেন। গুজব সেটি নাকি এদেশে এসেছে।..রাজকুমার আলি ইউসুফের একমাত্র ঘনিষ্ঠ জীবিত আত্মীয়ার কাছে ছিলেন। মেয়েটি তার খুড়তুতো বোন–সুইজারল্যান্ডে স্কুলে পড়তো। ধরে নেওয়া যাক সে বস্তুটি যদি নিরাপদে রামাতের বাইরে নিয়ে আসা হয়ে থাকে তো সেটি আসলে রাজকুমারী শাইস্তার কাছে বা তার কোনো আত্মীয় বা অভিভাবকদের হাতে থাকবে, তাই কিছু কিছু অনুচর লেগে রইলো। তার কাকা আমীর ইব্রাহিমের পেছনে আর রাজকুমারীর পেছনে। জানা ছিল এর পরে সে মেডোব্যাঙ্কে আসবে, কাজেই খুবই স্বাভাবিক যে, এখানে কাউকে চাকরি নিতে পাঠানো হবে। যাতে রাজকুমারীর সাক্ষাৎপ্রার্থী সব লোকের ওপরে কড়া নজর রাখা যায়। তার চিঠিপত্র টেলিফোনের সব সংবাদ জানা যায়। কিন্তু এর চেয়েও আরো সহজ কিন্তু আরো কার্যকরী একটা পথ রাজকুমারী শাইস্তাকে চুরি করে তাদেরই কাউকে একজনকে রাজকুমারী সাজিয়ে এই স্কুলে পাঠানো হল। কাজটা মোটেই কঠিন নয় কারণ আমীর ইব্রাহিম মিশরে ছিলেন। গরমকালের শেষদিকের আগে ইংল্যান্ডে আসার তার কোনো ইচ্ছাই ছিল না। মেয়েটিকে মিস বুলস্ট্রোড চোখে দেখেননি। রাজকুমারীর অভ্যর্থনার সব ব্যবস্থাই তো তিনি লন্ডনের দূতাবাসের মাধ্যমে করেছিলেন।

    .

    পোয়ারোর বিশ্লেষণ

    মিসেস আপজন মেডোব্যাঙ্ক স্কুলের বারান্দা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভুলে গেলো যে এইমাত্র তার চোখের সামনে এক রোমহর্ষক নাটকের অভিনয় হলো। এই মুহূর্তে মা শুধু তার সন্তান খুঁজছে। পরিত্যক্ত ক্লাসঘরে তার দেখা পেলো। জুলিয়া ডেস্কের ওপরে ঝুঁকে, একটু দেখি জিভ বার করে রচনা লেখবার দারুণ পরিশ্রমে ব্যস্ত।

    মাকে দেখেই একছুটে মায়ের কাছে গিয়ে তার ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়লো। মাকে জড়িয়ে ধরে বলে, মাগো।

    পরমুহূর্তে সচেতন হল এখন তো বড়ো হয়েছে। জুলিয়া বললো, ওঃ, ভীষণ ভালো লাগছে তুমি ফিরলে বলে। জুলিয়া বলে, মিস রীচের রচনা লিখছি। অদ্ভুত অদ্ভুত বিষয় কিন্তু এটা কি লিখছো দেখি? মিসেস আপজন ঝুঁকে পড়ে লেখাটা দেখে।

    পৃষ্ঠার ওপরেই শিরোনাম লেখা-রচনার বিষয় তার নিচে। নয়-দশ লাইন লেখা হয়েছে, জুলিয়ার আঁকা-বাঁকা অক্ষরে। মিসেস আপজন পড়ে দেখে হত্যার প্রতি ম্যাকবেথ ও লেডি ম্যাকবেথের মনোভাবের তুলনামূলক বৈষম্য।

    .

    উত্তরাধিকার

    মিঃ রবিনসন নামে একজন ভদ্রলোক আপনার সঙ্গে দেখা করবে বলে এসেছেন স্যার।

    ওঃ, পোয়ারো সামনের টেবিলে চিঠিটা নিয়ে চোখ বুলিয়ে বেশ চিন্তান্বিত হলেন, বললেন ভেতরে নিয়ে এসো জর্জ…।

    শুধু কয়েক লাইনের চিঠি। পোয়ারো চিঠি রাখলেন..মিঃ রবিনসন ঘরে ঢুকতেই তিনি উঠে দাঁড়ান। মাথা নিচু করে অভিবাদন জানিয়ে করমর্দন করলেন তারপর চেয়ারে বসতে বললেন।

    মিঃ রবিনসন বসে রুমাল দিয়ে তার মস্ত বড়ো হলুদ মুখটা মুছে মন্তব্য করলেন যে দিনটা বেশ গরম…।

    মিঃ রবিনসন বলেন, কত কিছুই তো শোনা যায়…সেই বেচারী মেয়ের ছোটোবেলা থেকেই নাকি স্কুলে শিক্ষিকার ওপর প্রবল ভীতি, মনের সমীক্ষকেরা বেশ ভালো বিশ্লেষণ করে দেখতে পারবে। তবে অন্তত লঘু দায়িত্বের অনেকবার প্রাণপণ চেষ্টা করবে।

    পোয়ারো বলেন, হ্যাঁ যুক্তিটা মন্দ না তবে আমার ধারণা…মাপ করবেন ওসব যুক্তি ধোপে টিকবে না।

    আমিও একমত..ঠাণ্ডা মাথায় খুন একেবারে, তবু..ওর নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের কথাটা ওরা বড় গলায় ঘোষণা করবে। দেখাবে কত বিখ্যাত লোকের ও সেক্রেটারি ছিলো। ওর যুদ্ধে চাকরির কথা বলবে। সেখানে তো কোনো দাগ নেই। অন্য পক্ষের চর সেজে গুপ্তচর বৃত্তি করতো। এত অল্পবয়স…কিন্তু দারুণ চালাক। কি প্রচণ্ড লোভ…একা একা কাজ চালিয়ে বিরাট লোভের ধন হস্তগত করা। বিরাট লাভ।

    মিঃ রবিনসন সামনের দিকে ঝুঁকে বলে, ওগুলো কোথায় মিঃ পোয়ারো?

    আপনি নিশ্চয়ই তা জানেন। হ্যাঁ তা তো বটেই। ব্যাঙ্কগুলো বেশ উপকারী প্রতিষ্ঠান কী বলেন। পোয়ারো হাসলেন, আমাদের কি শিবের গীত গাওয়ার প্রয়োজন আছে?

    রবিনসন উঠে দাঁড়ালেন…

    আমার কাজের জন্য আমি পারিশ্রমিক নেবো বুঝলেন। আমার পারিশ্রমিকও কিন্তু বেশ মোটা অঙ্কের, তবে ঠকবো না।

    মেয়েটি তার চোখে চোখ রেখে তাকালো, জানি আপনি ঠকবেন না। আমার সাহায্যেরও প্রয়োজন আছে। আমি এসব কিছু বুঝি না।

    মনে হচ্ছে আপনি বেশ বুদ্ধিমতী। আচ্ছা, এগুলো তাহলে নিয়ে যাই? আপনি একটাও রাখবেন না?

    অ্যালিশ বলে, না আমি রাখতে চাই না। মুখ লাল করে বললে, আপনি ভাবছেন অদ্ভুত তাই না, কেন রেখে দিচ্ছি না একটা চুনী একটা পান্না অন্তত। আমার আপত্তি ছিল না, একদিন আমরা সেই অনুচ্ছেদটা পড়লাম–সেখানে আছে একজন নারীর কথা যার মূল্য চুনীর চেয়েও বেশি।…তাই আমার কোনো রত্ন চাই না। না থাকাই বোধ হয় ভালো।

    মনে মনে রবিনসন বললো, বিচিত্র নারী।

    বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজের রোলসের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে আবার বললেন বিচিত্র নারী।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }