Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2514 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১. ট্রুপেন্স আর টমি

    পসটার্ন অফ ফেট

    ট্রুপেন্স আর টমি স্বামী স্ত্রী। তারা পুরানো বাড়ি কিনেছিল। তাতে অনেক পুরানো জিনিষপত্র ছিল। কাজের, অকাজের অনেক জিনিষ ছিল। বিক্রি করার সময় বাড়ির মালিক ওঁদের জিনিষগুলো নিয়ে ফাঁকা করে দিতে বলল। বাড়িটাতে তারা দুজনে বই নিয়ে পড়ছিল। বাড়িটায় বহু জিনিষপত্রের সঙ্গে একরাশ বই ছিল।

    এখানে আসবার সময় ওরা সাথে করে দুতিনটে বাক্স এনেছিল। প্রয়োজনীয় বইগুলো নিয়ে তারা বাকী বইগুলো বিক্রি করে দেবে।

    দুজনে গল্প করতে করতে তাক থেকে বইগুলো নামিয়ে কাড়াকাড়ি করে বাক্সে রাখছিল। সেই সময় ছোটবেলার অনেক বই তাদের হাতে আসছিল। তাদের ছোটবেলার অনেক কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। টমি তেমন উৎসাহী ছিল না বইগুলোর ব্যাপারে। ট্রুপেন্স কিন্তু উৎসাহের সঙ্গে বইগুলো নেড়েচেড়ে দেখছিল। টমি চলে গেল নিজের উদ্দেশ্যে।

    ব্ল্যাক অ্যারো বইটা ট্রুপেন্সের হাতে এলো। বইটা খুলে তার কপালে ভাঁজ পড়ল। বইটার একটা ব্যাপার তাকে কৌতূহলী করে তুলল। বইটির একটি পাতার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল। পাতার সংখ্যা চৌষট্টি কি পঁয়ষট্টি হবে। পাতাটির বিশেষ বিশেষ শব্দের বিশেষ বিশেষ বর্ণের নিচে দাগ টানা আছে। তার মাথায় কিছুতেই এলো না কেন বর্ণগুলোর নিচে দাগ দেওয়া আছে। তার মনে হল শব্দগুলির থেকে বিশেষ বিশেষ এক একটা শব্দ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা ট্রুপেন্সের কাছে ভালো ভাবে পরিষ্কার হয়ে গেল। টমি ট্রুপেন্সকে একটি পাতায় লালকালি দিয়ে টুকে নিয়ে বুঝিয়ে দিল কয়েকটা বাক্যকে কেউ মজা করে ঐ ভাবে প্রকাশ করেছে।

    ট্রুপেন্স টমির এই ধাঁধা সমাধানে বেশী বিস্মিত হল না। বিস্মিত হল বর্ণ মিলিয়ে বাক্য কয়েকটির সারমর্ম বুঝতে পেরে। বাক্য কয়েকটি এইরকম ছিল।

    মেরি জর্ডন স্বাভাবিক ভাবে মারা যায়নি। আমাদের মধ্যে একজন ছিল, আমি জানি সে কে?

    পরের দিন বাড়ি ফিরে টমি ট্রুপেন্সকে দেখতে না পেয়ে তার মাথায় ট্রুপেন্সের কোন খারাপ কিছু হয়েছে এই ভাবনা মাথায় এল। সে ওপরে গেল।

    মন দিয়ে ট্রুপেন্স বেশ কয়েকবার লাইনগুলি পড়ছিল। কিন্তু সে কিছুতেই বিচ্ছিন্ন ভাবে দাগ দেওয়া বর্ণগুলির অর্থ বুঝতে পারছিল না।

    শেষে সে টেবিলে বসে বর্ণগুলোকে লেখার চেষ্টা করল। সে মুহূর্তে টমি এসে তাকে জিজ্ঞাসা করল বইগুলো কতদূর গোছান হয়েছে।

    টমি ওকে ব্ল্যাক অ্যারো বইটির দাগ দেওয়া বর্ণের ধাঁধাটার কথা বলল।

    ও বলল স্টিভেনসনের এই বইটা আরো কয়েকবার পড়ার ইচ্ছা ছিল। সে পড়েছিল। পড়তে গিয়ে তার হঠাৎ নজরে পড়ল একটা পাতায় কয়েকটা বর্ণকে লালকালি দিয়ে দাগ দেওয়া।

    কিন্তু ব্যাপারটিতে টমি ট্রুপেন্সের মত ধাঁধিয়ে গেল না।

    সে ভাবল হয়তো আবার কোন বই নিয়ে পড়েছে। সেখানেও দেখতে না পেয়ে নিচে নেমে এলো। কুকুর হ্যানিবলকে ডেকেও কোন সাড়া পেল না।

    ট্রুপেন্সকে আসতে দেখে টমি রেগে গিয়ে জানতে চাইল কোথায় গিয়েছিল। এবং যখন সে জানতে পারল ট্রুপেন্স কবরখানায় গিয়েছিল তখন টমি অবাক হয়ে যায়। শেষে বুঝল তার ধাঁধার মেরী জর্ডনের মৃতদেহ সেখানে কবর দেওয়া হয়েছিল কিনা দেখতে গিয়েছিল।

    টমির জর্জ আণ্ডারউড নামে একজন বন্ধু ছিল ট্রুপেন্স তাকে চেনে। টমিকে আরও জানাল সে একজন মেয়ে। কথাবার্তা চলতে চলতে তাদের খাওয়া শেষ হয়ে গেল।

    বিকেলে দুজনে চা খেতে খেতে টমি বলল, বুড়ো আইজ্যাককে জিজ্ঞাসা করলাম কিন্তু জর্ডন নামের কাউকে মনে করতে পারল না। টমি ট্রুপেন্সকে জিজ্ঞাসা করল পেতলের কাজটা কি করবে? ট্রুপেন্স জানাল যে সে হোয়াইট এলিফেন্ট মেলে নিয়ে যাবে। টমি জানাল সে ওর মতো যাবে, তাহলে ওটা বয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

    টমি দরজা খুলে কুকুরটার পেছন পেছন দৌড়াল, কুকুরটার গলার দড়িটা খুলে তার হাতে রয়ে গেল। হ্যানিবল কবরস্থানে এসে পৌঁছালে টমি তার গলায় দড়িটা পরিয়ে দিল। কুকুরটি লেজ নাড়তে লাগল ওর কাছে আসবে বলে।

    টমি চার্চের কাছে জীর্ণ পাথরের সমাধি দেখতে পেল। ওটা খুবই পুরানো। এইরকম আরো অনেক সমাধি প্রস্তর টমির নজরে পড়ল। বেশীরভাগই আঠাশ শতাব্দীর তারিখে। একটা লম্বা ছিল। তা দেখে টমি আপন মনেই বলে উঠল, অদ্ভুত, ভীষণ অদ্ভুত।

    ***

    ফেদাই এলিফেন্টমেল গিয়ে মিস লিটলের সাথে ট্রুপেন্সের আলাপ হল। কিছু দ্রব্যাদির দায়িত্ব দিল। ওর খ্রীস্টান নাম ডরোথি। মিস লিটল পেতলের বাতিটা দেখে খুশী হওয়াতে ট্রুপেন্স তার কৌতূহলী প্রশ্নের উত্তর দিল। সেই সময় পার্কার এলেন। আলাপ পরিচয় হবার পর তিনি জানালেন তিনি ট্রুপেন্সকে কবরস্থানে ঘুরতে দেখেছেন। ট্রুপেন্সের ঐ ব্যাপারটা ভালো লাগাতে আলোচনা চালিয়ে যাবার জন্য বলল, হ্যাঁ দেখে তো মনে হল যত সব পারকিনসনদেরই ওখানে কবর দেওয়া হয়েছে।

    পার্কার স্বীকার করল যে তাদের মধ্যে কাউকেই তার মনে পড়ে না।

    ট্রুপেন্স কথা বলতে বলতে তাকে বলল মেরী জর্ডন বলে কারোর নাম তার জানা আছে কিনা। এ ব্যাপারে তিনি কিছুই বলতে পারলেন না। এবং ট্রুপেন্স জিজ্ঞাসা করল, এখানে কি আর কোন পারকিনসন দল থাকে। তিনি জানালেন এখানে কেউ থাকে না এবং অনেকদিন আগেই তারা চলে গেছে।

    ***

    ট্রুপেন্স বাড়ি ফিরে অ্যালবার্টের কাছে টমির কথা জিজ্ঞাসা করায় জানতে পারল টমি ওপরতলায় রয়েছে।

    ওপরে এসে ট্রুপেন্স দেখল টমি বই নাড়াচাড়া করছে। এবং দেখছে। টমি একটা বই তুলে ট্রুপেন্সকে বলল এবার্ট লুইস ফিটা জনসনের আরো কয়েকটা বই পেয়েছে। তার সব কটাতে প্রথমটিরই মত প্রথম পাতায় আলেকজাণ্ডার পারকিনসন নামটি কাঁচা হাতে লেখা। ও জানালো। মনে হয় ঠাকুমা বা সেরকম কারো থেকেই বাচ্চাটা এই বইগুলো উপহার পেয়েছে।

    ভালো কথা, ট্রুপেন্স বলল, এ ব্যাপারে তুমি কি বলছ?

    আমি বাচ্চাটার কবর খুঁজে পেয়েছি? টমি ওকে অবাক করে দিয়ে বলল।

    টমি বলল আবিষ্কারটি সে চেষ্টা করে করেনি। হ্যানিবলকে তাড়া করতে গিয়েই সে ওটা খুঁজে পেয়েছে।

    মাত্র চৌদ্দ বৎসর বয়স, ট্রুপেন্স বলল, হতভাগা।

    হ্যাঁ, খুবই দুঃখের ব্যাপার, আর…।

    ট্রুপেন্স বলল, তোমার মাথায় কিছু ঘুরছে।

    ভালো কথা, ট্রুপেন্স তুমি মনে হয় আমাকে সংক্রামিত করছ। প্রবলভাবে উৎসাহী হলে পর সেটা তোমার একলা করা উচিত না। সেই ব্যাপারে তোমার অন্য একজনকে সঙ্গে নেওয়া উচিত উৎসাহতে অংশগ্রহণ করার জন্য।

    ওর কথাগুলি বুঝতেই পারল না সেটা ট্রুপেন্স জানাল। আলেকজাণ্ডার পারকিনসন রীতিমত বিপন্ন ছিল টমি জানাল। ছেলেটা হয়ত মজা করার জন্যই একটা সংকেত তৈরী করেছিল কোন একটা গোপন খবরকে প্রকাশ করবার জন্য। এই ব্যাপারটা হয়ত সত্যিই সত্য। মেরী জর্ডন স্বাভাবিক ভাবে মারা যায়নি বলে এর পরিণতি হিসাবে আলেকজাণ্ডারকে মরতে হয়েছিল।

    তার মানে তুমি মনে কর…। ট্রুপেন্স বিস্ময়ের ঘোরে কথাটা শেষ করতে পারল না।

    ট্রুপেন্স বলল, মাত্র চৌদ্দ বছর বয়স ছেলেটার। সে যে কিভাবে মারা গেছে সেটা পর্যন্ত সমাধি প্রস্তরে লেখা নেই। হয়তো সে এমন কিছু ব্যাপার জেনে ফেলেছিল যেটা কোন একজনের পক্ষে ক্ষতিকারক এবং যেটা তাকে মরতে বাধ্য করেছিল।

    ট্রুপেন্স উত্তেজিত হয়ে বলল, তার মানে তুমি বলতে চাইছ ওকে কেউ খুন করেছে।

    আমি কি আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারি ম্যাডাম?

    ব্রিটাইক নামে মহিলাটি সবসময় কোন না কোন সমস্যা নিয়ে আসে। আবার হয়ত কোন সমস্যায় পড়েছে তাই এসেছে। গতকালও মহিলাটি এসেছিল।

    ট্রুপেন্স ওপরতলার বইয়ের ঘরটা পরিষ্কার করে নামছিল। সেই সময় তার মাথায় হোয়াইট এলিপেন্ট সেল-এ একটি খুব ভালো চা-এর আসরে নিমন্ত্রণে যাওয়ার কথা ঘুরছিল।

    এটা ঠিক সমস্যা নয়। ব্যাপারটা হয়ত আপনি শুনতে পছন্দ করতে পারেন।

    একথা বলল বটে ব্রিটাইক, ট্রুপেন্সের মনে হল এটাও হয়ত অন্য একটা সমস্যা।

    ব্রিটাইক জানালো যে তিনি আগের দিন মেরী জর্ডনের কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন কিনা।

    তখন ট্রুপেন্সের মনে পড়ল আগের দিন তিনি যখন এসেছিলেন তখন তাকে মেরী জর্ডনের নাম শুনেছে কিনা জিজ্ঞাসা করেছিল।

    ব্রিটাইক জানালো সেও লোকের মুখে নামটি শুনেছে। তাছাড়া পোস্টঅফিসে কাজ করা ফিটা জনসন নামেও একজন ছিল। সে অনেক দিন আগের কথা।

    ট্রুপেন্স বলল, জনসন নামে একজন পুলিসও ছিল। কার মুখে যেনে শুনলাম।

    হ্যাঁ, ভালো, সে যাইহোক আমার এই বন্ধু গেপ্তা, কি যেন ওর নাম…

    ট্রুপেন্স বলল, ওর নামটা মিসেস গ্যারিসন।

    ব্রিটাইক জানাল যে তার নাম যাইহোক না কেন সে ওকে জানিয়েছে যে সে মেরী জর্ডনের নাম শুনেছে। বহুদিন আগে মেরী জর্ডন এখানে থাকত।

    মানে এই বাড়িতে? ট্রুপেন্স বলল, একটা দুঃসংবাদ যে তার একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল। নয়ত সেই সেইরকম কিছু একটা ঘটে ছিল।

    তার মানে তুমি বলতে চাও মহিলাটি যখন মারা যায় তখন এই বাড়িতেই ছিল। মহিলাটি কি তাহলে পরিবারের একজন সদস্য ছিল?

    আমার মনে হয় পরিবারটি পার্কার বা ঐরকম কোন নামের। পার্কার বা পারকিনসন এই রকম। মনে হয় মহিলাটি কেবল থাকতেন। মিসেস গ্রিফিন ব্যাপারটি জানে।

    ট্রুপেন্স জানাল যে সে মিসেস গ্রিফিনকে চেনে। তার বাড়িতে আজই তার চা-এর আসরে নিমন্ত্রণ রয়েছে।

    ট্রুপেন্স বলল, ভদ্রমহিলা খুবই বয়স্ক এবং স্মৃতিশক্তি খুবই প্রখর। পারকিনসন পরিবারে মনে হয় একটা ধর্মপুত্র ছেলে ছিল।

    ছেলেটার খ্রীস্টান নাম ছিল মনে হয় অ্যালেক অথবা অ্যালেক্স এরকম কিছু একটা ছিল।

    ছেলেটা মনে হয় একজন সৈনিক, কিংবা নাবিক কিংবা সেরকম কিছু হয়ে গেল।

    সেসব কিছুই সে হয়নি। ছেলেটা মারা গিয়েছিল এবং তাকে এখানে কোথাও কবর দেওয়া হয়েছিল।

    ট্রুপেন্স জানতে চাইল ছেলেটার কি অসুখ হয়েছিল। এবং কথা প্রসঙ্গে জানতে পারল তার লিউকোমিয়া হয়েছিল। ছেলেটা মারা যাওয়াতে ট্রুপেন্সের খুব দুঃখ হয়েছিল।

    ব্রিটাইক বলল, ছেলেটার বয়স খুবই কম ছিল মনে হয় তেরো কি চৌদ্দ। আশেপাশের কোন একটা স্কুলে হয়ত পড়ত।

    কথাবার্তা শেষ করে ট্রুপেন্স সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নেমে গেল। তার মাথায় কতগুলি কথা ঘুরছিল। পরে চা-এর আসরে গিয়েও ব্যাপারটি সম্বন্ধে ট্রুপেন্স খুব একটা বেশী জানতে পারল না। একদিন বিকেলে ট্রুপেন্স পোস্টঅফিসে হাজির হল। সেইসময় পোস্টঅফিস প্রায় ফাঁকা মাঝে মাঝে দুএকজন বাইরে রাখা বাক্সটায় চিঠি ফেলে যাচ্ছিল, আবার কেউ কেউ স্ট্যাম্প কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ট্রুপেন্স ভাবনাচিন্তা করে এইরকম একটা সময় বেছে নিয়েছিল। ট্রুপেন্সের ব্রিটাইকের কাছ থেকে শোনামাত্র গেণ্ডাকে দূর থেকে সনাক্ত করতে অসুবিধা হল না। অল্প সময়ের মধ্যে ওকে সাহায্য করার অজুহাতে ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নিয়েছিল ট্রুপেন্স।

    বাড়িটা আবার ঝকঝক হওয়াতে আমি খুব খুশী হলাম, গেণ্ডা কথা বলতে বলতে জানাল।

    আমার মনে হয় বাড়িটার নাম আগাগোড়াই লরেল ছিল।

    না না, আমার তা মনে হয় না। এখানকার অনেক বাড়ির নাম বদলে গেছে। লোকে বাড়ি কিনলে তারা সবসময় পুরানো নাম বদলে বাড়ির নতুন নাম রাখে।

    ট্রুপেন্স বলল, ব্রিটাইক বলেছিল যে তোমার জানা মেরী জর্ডন নামে কোন একজন মহিলা নাকি এখানে থাকত।

    তাকে আমি চিনতাম না। তার নাম শুনেছি। সেটা অবশ্য যুদ্ধের সময়। সেই সময়টা ভীষণ আতঙ্কের মধ্যে গেছে। অনেকে সেই সময় সৈন্যদের আক্রমণের ভয়ে জলের ভেতরে ঢুকে আত্মরক্ষা করত, এবং রাত কাটাত।

    ট্রুপেন্স বলছিল, আমি তোমাকে মেরী জর্ডন নামে এক মহিলার কথা জিজ্ঞাসা করছি। ব্রিটাইক বলেছিল তুমি নাকি তাকে জানতে।

    আমি কেবল তার নাম শুনেছি। সেটা অবশ্য অনেক বছর আগের কথা। মোটামুটি দেখতে ভালোই ছিল। তার মাথায় ছিল চমৎকার সোনালী রং-এর চুল। সোনালী রং-এর চুলে তাকে ভালোই দেখাত। বাচ্চাদের দেখাশুনা সে করত। সে ছিল নার্সের মত।

    মনে হয় সে স্কটল্যাণ্ডে কোন নাবিক পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত। তারপর সে এখানে চলে এসে পার্কার বা পারকিনসন পরিবারের মধ্যে এসে থাকতে শুরু করে। সে একদিনই সপ্তাহে ছুটি পেত। সেই দিনই সে লণ্ডনে যেত। সেখানে গিয়ে সে প্রয়োজনীয় জিনিষ নিত।

    কি ধরনের জিনিষ? ট্রুপেন্স বলল।

    তা জানি না। সেগুলি মনে হয় চুরির জিনিষ, কখনো কেউ অবশ্য এই ব্যাপারে কিছু বলেনি।

    ওকে কি কেউ কখনও চুরি করতে দেখেছে?

    আমার তো সেরকম কিছু মনে হয় না। ওরা কেবল সন্দেহ করতে শুরু করেছিল। হঠাৎই সে মারা গেল।

    কি করে মারা গেল? সে কি এই বাড়িতেই মারা গেছে? নিশ্চয় তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল?

    তখন নিয়ে যাবার মত কোন হাসপাতাল ছিল না। কার মুখে শুনেছিলাম রাঁধুনির ভুলের জন্যই নাকি দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। গেণ্ডা বলল। একটু থেকে নিয়ে বলল, পালং বা লেটুস শাক ভেবে বাগান থেকে কিছু বিষাক্ত গ্যাসের লতাপাতা হয়তো তুলে আনা হয়েছিল। কেউ কেউ আবার বলে অন্য কেউ এটা করেছিল। যে বিষাক্ত লতাপাতার কথা বলা হচ্ছে তা প্রত্যেককেই চেনে। এই বিষাক্ত গ্যাসের পাতা রান্নাঘরে নিয়ে আসা হয়েছিল। ওগুলো ছিল ফক্সগ্লোভ। এইগুলি ডিগোক্সো অথবা ডিজিটের মত কোন নাম। উদ্ভিদের মধ্যে ভয়ানক বিষাক্ত উপাদান ছিল। সেই গ্যাসের জন্য দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার ডাকা হল। কিন্তু কিছুই করা গেল না। অনেক দেরী হয়ে গেছে। মহিলাটি মারা গেলেন কিছুতেই বাঁচান গেল না।

    যখন ঘটনাটি ঘটে তখন কি বাড়িতে অনেক লোকজন ছিল।

    হ্যাঁ অনেক লোকজন ছিল। বাড়িটাতে সবসময় অনেক লোকজন থাকত। অনেক বাচ্চারাও থাকত। তাছাড়া সপ্তাহের ছুটি কাটাতে আসা লোকজন, নার্সারির ঝি, গভর্নের্স এরা তো থাকতই। সবই আমার ঠাকুমার মুখে শোনা। আর শুনেছি ঐ বুড়ো যার নাম মিঃ বডিকট। ওনার মুখে মাঝে মধ্যে সেই সব দিনগুলোর কথা শোনা যায়।

    অনেকেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে পালং কিংবা লেটুস শাক ভেবে ঐ মারাত্মক বিষাক্ত ফক্সগ্লোভ তুলে নিয়ে এসে রান্নাঘরে রেখে দেয়। আমার তো মনে হয় একটা বিরাট ভুল ছিল।

    পুরানো প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে ট্রুপেন্স বলল, মেরী জর্ডন কি প্রতি সপ্তাহে লণ্ডনে যেতেন?

    তার উত্তরে গেণ্ডা বলল এটা ঠিক। তবে মহিলাটি ছিল বিদেশিনী এবং জার্মানি গুপ্তচর।

    গেণ্ডা বলল, তার এসব কিছু মনে হয় না। ও বলল, মহিলাটি নৌবাহিনীর কয়েকজন অফিসার আর সেলটন মিলিটারী ক্যাম্পের কিছু পদস্থ ব্যক্তির সঙ্গে ওর খুব বন্ধুত্ব ছিল।

    গেণ্ডা বলল, আমার মনে হয় না ও গুপ্তচর ছিল। আমার ঠাকুমা বলত ওসব কথা লোকে বলাবলি করে। গত যুদ্ধের সময়কার এই ঘটনা নয়। আরো অনেক বছর আগের ঘটনা।

    ট্রুপেন্সের পরের লক্ষ্য ছিল মিঃ আইজ্যাক বডিকটকে নিয়ে। বাড়ির মেরামতির জন্য নতুন মালিকের ডাকে চলে এসেছিল সে।

    কাজের জন্য কিছু কথাবার্তা বলার পর ট্রুপেন্স ওর আসল প্রসঙ্গে চলে এল।

    তুমি নিশ্চয় এখানকার অনেক মানুষকে চেন। অতীতে ঘটনা ঘটলেও এই অদ্ভুত ঘটনাবলীর কথা শুনেছো নিশ্চয় তাই নয় কি?

    আমার সেই আগের মত সেই রকম বয়স নেই। পঁচাশি পেরিয়ে গেছি অনেকদিন হল। নব্বইতে পড়তে চললাম। এমন কিছু কিছু ব্যাপার থাকে। যা সহজে ভোলা যায় না। আপনাকে এমন অনেক কিছু বলতে পারি হয়তো তা আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন না।

    ট্রুপেন্স বলল, খুবই আশ্চর্যজনক ছিল তাই না। তোমার জানাশোনা লোকেরা নিশ্চয় অদ্ভুত ছিল তাই তো?

    ঠিক ব্যাপারটা সেইরকম ছিল না। আইজ্যাক জানাল। মানুষগুলির মধ্যে এমন একটা কিছু জিনিষ ছিল যা আপনি হয়তো বিশ্বাস করতে পারবেন না।

    মধ্যে মধ্যে গুপ্তচর বলে মনে হত। আবার অনেক সময় অপরাধী ধরনের কিছু বলে মনে হত। ট্রুপেন্স বলল।

    কথাটা বলে ট্রুপেন্স আইজ্যাকের দিকে আশান্বিত হয়ে তাকাল।

    বুড়ো আইজ্যাক ঝুঁকে পরে কাঁচের একটা টুকরো তুলে নিয়ে ট্রুপেন্সকে বলল এটা যদি তোমার গায়ের ত্বকের মধ্যে ঢুকে যায়। তা হলে তুমি কি রকম অনুভব করবে?

    এরপর ওরা দুজনেই নিচে নেমে এল। বুড়ো আইজ্যাক বলল, তাহলে তুমি বলছ ওরা তাই ছিল তাই তো?

    ট্রুপেন্স হ্যাঁ বলতে আইজ্যাক বলল, কেকে.? ট্রুপেন্স এই শুনে আইজ্যাকের দিকে তাকালো এই কে.কে. শব্দটা ও বুঝতে পারল না। এই ইংরেজী সট বর্ণ তার কানে অর্থহীন শোনালো। ও জিজ্ঞাসা করল, তুমি কি যেন বললে?

    আইজ্যাক বলল, আমি বললাম কে, কে। বৃদ্ধা মিসেস লটিস ফোন্সের সময় এটাই ব্যবহার করা হত।

    ওহো। তাও কেন এটাকে কে. কে. বলত?

    জবাবে আইজ্যাক জানাল যে, সে তা বলতে পারে না। আমার মনে হয় এটা কোন নামের সংক্ষিপ্ত রূপ এই জায়গার জন্য ব্যহার করত।

    আগের দুচারটে কথার পর ট্রুপেন্স জিজ্ঞাসা করল এই কে. কে. কি নিছকই দুটি বর্ণ। না কি এটি অন্য কোন ভাবে বানান করা যায়।

    আইজ্যাক স্বীকার করল, কে, কে, নিছক দুটি বর্ণ নয়। এই বর্ণে দুটি তিন রকম ভাবে বানান করা যায়, KAL KAY কিংবা Kye এইরকম ইত্যাদি। সব শেষে বলল, আমার মনে হয় এটি একটি জাপানী শব্দ।

    ও। ট্রুপেন্স বলল, তা এখানে কি কখনো কোন জাপানী লোক থেকেছে?

    জবাবে আইজ্যাক না বলল।

    বাগানের প্রসঙ্গ উঠতেই একসময় ট্রুপেন্স মন্তব্য করল আমার মনে হয় এই অঞ্চলে বেশ কিছু বাড়িতে বাগানের কাজ করেছ?

    আইজ্যাক বলল, জানোই তো, অদ্ভুত সব কাজ করতে হয়েছে আমাকে। বেশীরভাগ বাড়িতে থেকেই বাগানের কাজ করতে হয়েছে আমাকে। কিছু কিছু বাগান তো এমন ছিল তা মোটেই ভালো নয়।

    আর আমি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময়ে আসতাম। এবং সাহায্য করতাম। একবার এখানে একটি দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। তবে তা হয়েছিল আমার সময়ের অনেক আগে। আমি এই ব্যাপারে কিছুই জানি না। যতটুকু জানি সবই আমি শুনেছিলাম।

    ফক্সগ্লোভের ব্যাপারে কোন কিছু নিশ্চয় তাই তো? ট্রুপেন্স জিজ্ঞাসা করল।

    আইজ্যাক বলল আরে, আপনি দেখছি এরই মধ্যে অনেক কিছু শুনে ফেলেছেন। এটা অনেক দিন আগের ঘটনা। হা ওটা খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাদের মধ্যে একজন মারাও গিয়েছিল। আমার বন্ধুর মুখে এইসব শোনা।

    ***

    কয়েকদিন পর চা-এর আসরে চা পান করতে করতে ট্রুপেন্স বলল, এবার তোমার গবেষণার প্রকল্পটির কিছুটা আমাকে বল।

    টমি বলল, আমি লণ্ডনে গিয়েছিলাম এবং সেখানে গিয়ে নির্দিষ্ট কিছু কাজ শুরু করলাম।

    এই কথাটা শুনে ট্রুপেন্স খুব মজা পেল, এবং জানালো, দ্যাখো তুমি যা করছ সেটাই আমিও করছি। শুধুমাত্র আমাদের পদ্ধতির তফাৎ রয়েছে। আর আমার কাজটি অনেক অতীতে হয়েছিল।

    তুমি কি সত্যিই মেরী জর্ডনের ব্যাপারে নাক গলাতে শুরু করেছে? তাহলে কর্মসূচিটাকে কিভাবে রাখবে?

    টমি বলল, এটা নির্দিষ্ট একটা আকার নিয়েছে না? বলতে পারো এটা একটা সমস্যা বা মেরী জর্ডনের রহস্য।

    ট্রুপেন্স চুপ করে রইল। পরে একটু খোলসা করে বলল।

    তুমি তো জানো টমি, মাঝে মধ্যে আমাকে এমন সব লোকের সাথে মেলামেশা করতে হয়। যারা এইসব ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামায়। এবং এইসব লোকের একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেয়। তারা এর বিনিময়ে তোমার অনুসন্ধিৎসা মেটাতে সাহায্য করে। যে ব্যাপারই হোক না কেন।

    ট্রুপেন্স চুপ করতে, টমি প্রথমে কোন উত্তর দিল না। তারপরে বলল, যে, এইভাবেই আমরা এখানকার সবকিছু জানতে পারব। একটু আগেই তুমি বলেছিলে, যে বাড়িটা খুঁজে দেখলে ভালো হয় যদি লুকানো কোন বস্তু পাওয়া যায়। এই বাড়িতে বসবাসকারী লোকজনেরও ভূমিকার ব্যাপারে মূল্য না দিয়ে পারা যায় না। এটাকে অন্য ভাবে বিশ্বাস করা যায় না। এরপর আমাদের দেখতে হবে কি করতে হবে।

    টমি বলল, কি করবে।

    অবশ্যই কাল প্রাতঃরাশের আগে দুটি অসম্ভব ব্যাপার ভেবে দেখতে হবে। ট্রুপেন্স বলল, তার এখন ঘুম পেয়েছে এগারোটা বাজে, নিজের ঘরের আবর্জনা পরিষ্কার করতে গিয়ে সে ক্লান্ত হয়ে পরেছে। তাছাড়া এই কে, কে, ব্যাপারটি নিয়েও আমি চিন্তিত, কেন কে. কে. বলা হয়?

    টমি বলল, আমি জানি না। তুমি কি এটা বানান করেছে। কোনভাবে? তবে বানান হয়তো K; a, i হবে। শুধুমাত্র KK নয়।

    এটা রহস্যজনক শুনতে লাগছে।

    শুনতে জাপানী লাগছে, ট্রুপেন্স বলল।

    আমি তো বুঝতে পারছি না এটা কি ভাবে জাপানী ভাষার মত শুনতে লাগছে।

    ***

    টমি রাত্রে ডিনার টেবিল ছেড়ে উঠে এলো। কফি পান করবে বলে অন্য ঘরে ঢুকল। এটা কি মজা নয়? বুড়ো লোকগুলো কেমন ছিল?

    খুব বুড়ো, ট্রুপেন্স বলল। তোমার ঐ বুড়ি মহিলার কি খবর।

    টমি বলল, এই জায়গাটা সম্পর্কে তুমি সত্যিই কি ভাবো?

    তুমি কি এই বাড়িটার কথা বলছ?

    টমি ইতিবাচক উত্তর দিল। টমি জানাল গ্রীনহাউসের মাথায় একটা কাঁচের জানালা ছিল।

    সেটা প্রায় আমার মাথার কাছে এসে পড়েছিল। যদি পড়ত মাথাটা দুফাঁক হয়ে যেতো।

    টমি বলল, কিন্তু তা হয়নি। আমি খুব সৌভাগ্যজনক।

    টমি জানালো যে, আইজ্যাককে দিয়ে অন্যান্য জানলার কাঁচগুলি পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।

    কথা বলতে বলতে টমি একসময় বলল, যে এই বাড়িতে কিছু একটা খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই এই ব্যাপারে অভিযান চালাতে হবে।

    কি ধরনের জিনিষ তুমি খুঁজে বের করতে চাইছো?

    কিছু একটা যা এই বাড়ির কোথাও লুকোনো আছে?

    তুমি কি পাগল হয়ে গেছো টমি? নাকি যে বুড়োটা এই প্রস্তাব দিয়েছে সে পাগল হয়ে গেছে? এমন কিছু খুঁজে পাওয়া যেতে পারে বলে তোমার মনে হয়?

    এমন কিছু যা কোন এক সময় এখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

    তুমি ভূগর্ভস্থ গুপ্তধনের কথা বলছ?

    টমি বলল, না না সেই সব কিছু নয়। এমন কিছু লুকানো আছে যা বিশেষ একজনের পক্ষে বিপজ্জনক।

    ট্রুপেন্স বলল, ভালো, ওটা একটা অদ্ভুত ব্যাপার।

    কেন তুমি কি কিছু খুঁজে পেয়েছো?

    সেরকম কিছু খুঁজে পাইনি, তবে মনে হয় এই জায়গাটা সম্পর্কে একটা বদনাম বহুবছর থেকেই ছিল। সত্যি সত্যি হয়তো কেউ মনে করতে পারে। কিন্তু ঘটনাটি হয়ত গল্পের মতো–তুমি তোমার ঠাকুরমার মুখ থেকে শুনে থাকবে।

    ট্রুপেন্স বলল, আচ্ছা তোমার ঐ বুড়ো মন্টি প্রকৃতই তোমাকে কি বলেছে?

    কোন চিঠিপত্র বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। টমি বলল, এমন কিছু যা কোন রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করেছিল। কেউ একজন ক্ষমতায় ছিল। আর এমন কেউ ছিল যার ক্ষমতায় থাকা উচিত ছিল না। ঐ চিঠি বা কাগজপত্রগুলো বা ঐ ধরনের কোন জিনিষ যা প্রকাশিত হলে নিশ্চিত বিপদ। সবকিছুই অনেক বছর আগের ব্যাপার।

    ট্রুপেন্স বলল, শুনতে খুবই অদ্ভুত লাগছে? এটা মেরী জর্ডনের সময়? ট্রুপেন্স বললো ট্রেনে ফেরার পথে তুমি নিশ্চয় ঘুমিয়ে পড়ে এসব স্বপ্ন দেখছিলে?

    টমি এই ব্যাপারটা স্বীকার করে নিয়ে বলল, হয়তো সেটাই হবে।

    টমি বলল, আমরা যখন এখানে বসবাস করি। তখন আমাদের বাড়ির চারিপাশটা খুঁজে দেখতে হবে।

    ওর চোখদুটি দিয়ে সারা ঘর দেখল।

    আমার কিন্তু তেমন কিছু মনে হয় না, যে এখানে তেমন কিছু লুকানো আছে। টমি তোমার কি মনে হয়।

    এখানে বহুলোক বাস করে গেছে। এটা তেমন কোন বাড়ি না যে এখানে তেমন কোন কিছু লুকিয়ে রাখা যেতে পারে।

    একটার পর একটা পরিবার থেকেছে? হয়তো চিলাঘরে কিংবা ভূগর্ভস্থ ঘরটাতে কিছু হয়ত থাকতেও পারে। হয়তো বাড়ির মেঝের তলায় কিছু পোঁতা থাকতে পারে।

    তবে কোন অনাবিষ্কৃত বস্তু এখানে থাকতে পারে বলে মনে হয় না। টমি বলল।

    এভাবে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। যেমন কোথাও কোন বাক্সে হয়তো নোট থাকতে পারে।

    এটা প্রায় অসম্ভব জায়গা, টমি মন্তব্য করল। তবে সব ব্যাপারেই আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। পরে কোন একটি প্রসঙ্গে সে বলল, তাহলে তুমি বলতে চাইছ কেউ একজন মেরী জর্ডনকে খুন করেছিল?

    মহিলাটি কিছু জানতেন। ট্রুপেন্স বলল। আমাদের মধ্যে কেউ…কথাটা মনে আসা মাত্রই ট্রুপেন্সের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এই আমাদের শব্দটা সে জোর দিয়ে উচ্চারণ করল। আমাদের এখন এই আমাদের ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ থাকতে হবে। আমাদের অতীতে ফিরে যেতে হবে ঘটনাটির সমাধান করতে। আমরা এই ব্যাপারটি আগে চিন্তার মধ্যে আনিনি।

    ট্রুপেন্সকে দেখতে পেয়েই টমি জিজ্ঞাসা করল, বলি তুমি কোন চুলোয় ছিলে?

    উত্তরে ট্রুপেন্স বলল যে সে ভূগর্ভস্থ ঘরটায় গিয়েছিল।

    হ্যাঁ সেটা তোমায় দেখে বোঝা যাচ্ছে, টমি বলল। জানো কি তোমার গোটা মাথাটায় মাকড়সার জালে ভরে গেছে?

    ট্রুপেন্স স্বীকার করে নিল যে এই ঘরটি মাকড়সার জালে ভর্তি।

    ট্রুপেন্স জানালো দ্যাখো কোন একটা জায়গা থেকে শুরু করতে হবে। হতে পারে এই বুড়ো লোকটা যা বলেছে তা ঠিকই। সত্যিই হয়তো এই বাড়ির কোথাও কিছু লুকানো আছে। যদিও সেটা চিন্তা-ভাবনা করে বার করা মুশকিল।

    এই বাড়িতে লুকানোর জন্য একটা জায়গা হতে পারে তাহল স্যাথিলজেজের পেট, একটা কাঠের ঘোড়া। এরই মধ্যে কিছু লুকানো আছে।

    ট্রুপেন্স স্বীকার করল যে, হ্যাঁ এটি কোনকিছু লুকিয়ে রাখার পক্ষে একটা আসল জায়গা বটে।

    দ্বিতীয় জায়গাটি হল ট্রলাভ। সে ট্রলাভ পরীক্ষা করে দেখেছে সেখানেও কিছু পায়নি। আর বই-এর তাকগুলো এবং বইগুলোও কোন কিছু লুকিয়ে রাখার পক্ষে খুব ভালো জায়গা। আর উপরের বই রাখার ঘরটাও ভালো করে দেখা হয়ে ওঠেনি।

    আসবাবপত্রগুলিতে গোপন জিনিষ রাখার জন্য অসংখ্য গুপ্তস্থান থাকে।

    তেমন কোন সুযোগ নেই। কারণ যেসব আসবাবপত্র রয়েছে তারা প্রায় সঙ্গে এনেছে। শেষে ট্রুপেন্স বলল, পুরানো দিনের জিনিষ বলতে এই (KK) নামটি পুরানো জীর্ণ খেলনা আর বাগানের সীটগুলো।

    যারা এখানে ছিল হয় তারা সেসব আসবাপপত্র সমেত অনেক জিনিষ সঙ্গে নিয়ে গেছে নয় বিক্রি করে দিয়েছে। অনেক লোকই এখানে থেকে গেছে। সেই পারকিনসন পরিবারের থেকে।

    একটু পরে কি ভেবে ট্রুপেন্স বলল ঐ জন্ম দিনের বইটি থেকে উইনিফ্রেড মরিসন নামে কোন ব্যক্তির উল্লেখ রয়েছে।

    মিসেস গ্রিফিন কোন কুমারীর নাম। ঐ মহিলাটি অনেককিছু জানে বলেই আমার মনে হয়। ওনার কাছে যেতে পারি।

    টমির পরের সাক্ষাৎকারটি টিটনথমি কোর্ট রোডে।

    প্রথমে টমি অন্যান্য কয়েকটি বিষয়ে কথা বলল বুড়ো লোকটির সঙ্গে। লোকটি ওর পরিচিতই। একসময় ও ওকে বলল, আমি তোমাকে কয়েকটা ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে চাই।

    ঠিক আছে জিজ্ঞাসা কর। খুব শান্ত ভাবে জীবনযাপন করছি। তারপর বলল, সাজারি মানবিকে তোমার মনে আছে।

    অবশ্যই আমার তাকে মনে আছে।

    সত্যি কথা বলতে কি ব্যাপারটি এতদিন আগেরকার যে আমি কিছুই মনে করতে পারছি না। সেই সময় ব্যাপারটা রীতিমত আলোড়ন তুলেছিল। নৌবাহিনীর অফিসার সমস্ত সন্দেহের উর্ধে ছিল। ঘুষ দেওয়ার ব্যাপারটায় আমি ঠিক এখন স্মরণ করতে পারছি না। ঘুষটা কে দিত?

    ওদের মধ্যে একজন মহিলাও এসবের সঙ্গে ছিল। টমি জানালো।

    আমার মনে হয় এই ব্যাপারে মেরী জর্ডন নামে এক মহিলার নাম কিছুটা শুনেছিলাম। সম্ভবত মহিলাটি ঐ নৌবাহিনীর অফিসার জির স্ত্রীর ছিল। সেই সময় এইরকম কিছু একটা ঘটেছিল। সব ব্যাপারগুলি এমন হয়েছিল যে সমস্ত কিছুই একরকম মনে হয়। মনে হয় স্ত্রীটি পয়সা কামাবার জন্যই এটা করেছিল।

    টমির আর একটি সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। লোকটি অবশ্য টমিকে তথ্য দিয়ে খুব একটা সাহায্য করতে পারল না।

    লোকটি টমিকে একটা ঠিকানা দিল এবং বলল এই ঠিকানা নিয়ে ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা কর তাহলে সেই এই ব্যাপারে তোমাকে কিছু সাহায্য করতে পারে।

    টমিকে সিটি অফিসে গিয়ে মিঃ রবিনসনের সঙ্গে দেখা করতে হল।

    টমিকে দেখে রবিনসন উঠে দাঁড়াল। টমির সাথে করমর্দন করল। টমি তার সময় নষ্ট করার জন্য মাপ চেয়ে নিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা গেল ওরা পূর্ব পরিচিত।

    ভদ্রলোক বলল, তুমি কিসের জন্য এসেছ?

    টমি তখন তাদের বাড়ি কেনা থেকে সমস্ত ঘটনা বলে মেরী জর্ডনের ধাঁধার কথা বলল।

    মিঃ রবিনসন সব শুনে বলল বেশ মজার্দার ব্যাপার তো। আর কে লিখে রেখেছিল বলে তুমি অনুমান করছ, হা, পারকিনসন। হ্যাঁ এই রকমই একটা নাম ঘটনার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তার সম্বন্ধে কিছুই জানা যায় না। সে কে, কি করত, কোথায় থাকত ইত্যাদি।

    রবিনসন টমির মুখ থেকে মেরী জর্ডনের মৃত্যুর কারণটা জানতে চাইল। টমি তাকে শোনা কথাটাই শোনাল। কেউ হয়তো বাগান থেকে পালং শাক কিংবা লেটুস শাক ভেবে ফক্সগ্লোভ নামক বিষাক্ত লতা কেউ একজন তুলে এনেছিল। তারপর তারা হয়ত সেটাই রান্না করে খায়। কিন্তু সম্ভবত এই কারণে কেউ মরেনি।

    তা ঘটনাটা কখনকার ঘটনা, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ না তার আগে?

    হ্যাঁ তার আগের ঘটনা। প্রাচীন বয়স্কদের মধ্যে একটা গুজব ছড়িয়ে ছিল এই বলে যে, মহিলাটি নাকি একজন জার্মানীর গুপ্তচর ছিল।

    এই ব্যাপারটা রীতিমত সাড়া জাগিয়েছিল। ১৯১৪ সালের আগে তখন ইংল্যাণ্ডে কাজ করলেই তাকে জার্মানী গুপ্তচর বলে আখ্যা দিয়ে দেওয়া হত। অথচ কোন ইংরাজ ভদ্রলোক এই ধরনের গুপ্তচর বৃত্তিতে লিপ্ত থাকলেও তাকে সন্দেহের উর্ধে রাখা হত।

    কিছুক্ষণ কথাবার্তা চলার পর মিঃ রবিনসন এবার টমির কাছ থেকে বিদায় চাইল।

    টমি চলে যাবার জন্য উঠে দাঁড়াতেই মিঃ রবিনসন বললেন, আমি এই ব্যাপারটা সম্পর্কে এমন কিছু জানি যা অন্য কেউ তোমাকে বলতে পারবে না।

    মিঃ রবিনসন বলল, তুমি নিশ্চয় এই কেসটা পড়েছ। গুপ্তচর বৃত্তির জন্য তার শুনানি হয়েছিল। সে ছিল দেশের বিশ্বাসঘাতক। কিন্তু মেরী জর্ডন।

    হ্যাঁ, রুদ্ধশ্বাস কৌতূহলে টমি বলল।

    তুমি তো মেরী জর্ডন সম্বন্ধে জানতে চাও ভালো কথা। আমি তোমাকে একটা জিনিষ বলে সাহায্য করব যা তোমার তদন্তে তোমাকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গী দিতে সাহায্য করবে। মেরী জর্ডন শত্ৰু গুপ্তচর ছিল না। এই কথাটি বলে গলাটা অনেক খাদে নামিয়ে নিয়ে বলল ও ছিল অফিসের অনেক গুপ্তচরদের মধ্যে একজন।

    ***

    পরে টমি কথাটা ট্রুপেন্সকে বলল, ট্রুপেন্স শুনে জানালো যে তার সমস্ত ভাবনাচিন্তার মধ্যে তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। এবং বলল, এখন মনে হচ্ছে সবকিছুই ভুল জেনেছি।

    ট্রুপেন্স টমিকে বলল, আমরা এই ব্যাপারটা ব্ল্যাক অ্যারো বইটি থেকে জানতে পেরেছি। ব্যাপারটা আমাদের কাছে পরিষ্কার ছিল। আলেকজাণ্ডার নামে একটি বাচ্চা ছেলে এটি লিখে রেখেছিল। তাদের মধ্যে কেউ একজন মেরী জর্ডনকে খুন করেছিল।

    তুমি কি ভেবে নিয়েছিলে যে মহিলাটি জার্মানের গুপ্তচর ছিলেন। এখন দেখছো এটি সত্যিই না। সে জার্মানের শত্রুপক্ষের গুপ্তচর ছিল।

    ট্রুপেন্স চুপ করে রইল। মহিলাটি কি সত্যিই ইংরেজদের চর? সে মনে হয় গোয়েন্দা বিভাগের কেউ ছিল। সে মনে হয় এখানে এসেছিল কিছু খুঁজে বার করতে। মহিলাটি নৌ-অফিসার সে নাকি সাবমেরিন কিংবা ঐ রকম কোন কিছুর গুপ্ত ঘর বিক্রীত করত, তার সম্বন্ধে খোঁজখবর নিত। এখানে মন হয় কিছু জার্মান গুপ্তচর ছিল। তারা সক্রিয় ছিল এই ব্যাপারে।

    টমি বলল, এক কাজ কর। যাক, যে কামাণ্ডারটির শুনানি হয়েছিল, তার নাম কমাণ্ডার এক্স ধরে নিয়ে আমরা এগোই।

    ট্রুপেন্স তাতে রাজী হল, এবং টমি বলল, এখানেই কোথাও কোন কটেজে সে থাকত এবং সেখান থেকেই সে যাবতীয় কাজ করত।

    ট্রুপেন্স বলল, আমার মনে হয় মেরী জর্ডন কিছু খুঁজে বার করতে এসে থাকবে। তখন তো মানে কমাণ্ডার এক্স ও অন্যান্য লোকজনও আছে এর মধ্যে। যখন তারা জানতে পেরেছিল মেরী জর্ডন কিছু পেয়েছে।

    কথা শুনে টমির যেন কি রকম মনে হল। এবং বলল তাহলে সেই রকম কিছু যদি হয় তাহলে মেরী জর্ডন যখন ভুল খাদ্য খেয়ে মারা গেল তখন আলেকজাণ্ডার লিখল, আমাদের মধ্যে একজন। ব্যাপার যদি আমাদের অনুমান মতো হয় তাহলে খুনটা তার পরিবারের মধ্যে কেউ করেনি।

    এটা একটা আশ্চর্যের ব্যাপার ঐ খাবার খেয়ে সবাই মারা যেতে পারত কিন্তু মারা গেল একমাত্র মেরী জর্ডন।

    অনেকক্ষণ ধরে কথাবার্তা চলার পর ট্রুপেন্স বলল তুমি কি লক্ষ্য করেছে যে আমরা রহস্যজনকভাবে দুবার আক্রান্ত হলাম। একবার তোমার মাথায় কাঁচ পড়ে গেল। আর একবার দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বইঘরে আমিও ঐ রকম একটা দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচেছি।

    টমি বলল, তার মানে এই বাড়িতে অবশ্যই কিছু লুকানো আছে?

    ট্রুপেন্স আইজ্যাক লোকটা কেমন জিজ্ঞাসা করল। এতে টমি অবাক হল। ট্রুপেন্স জানালো যে সে শত্রু লাম্বার লোক হতে পারে। ওর মত লোককে হাত করে নিয়ে তাদের গোপনে আক্রমণ করাটা অসম্ভব কিছু নয়। টমি এইসব কথা অলীক বা অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিল। এইসব বড় চক্রে কারা আছে, আর কারা নেই তা কিছুই পরিষ্কার করে জানা নেই। শত্রুর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা যায় যে এখানে গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন ছিল। তারা ভীষণ বিশ্বাসঘাতকতা করত। কিন্তু ওপর থেকে দেখে কিছুই বোঝা যেত না। সরকারের অনুগত কর্মচারী বলেই মনে হত।

    আর সেইসব বিশ্বাসঘাতক লোকজনের সাথে মেরী জর্ডনের ভালো যোগাযোগ ছিল।

    কমাণ্ডার এক্সের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখত।

    এরপর তারা ভাবল এবং আলোচনা করল যে, কমাণ্ডার এক্সকে খুঁজে বার করতে হবে। এবং তার সাথে তার বন্ধুবান্ধবদেরও খুঁজে বার করতে হবে। এর জন্য যারা বয়স্ক সেইসব লোকেদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। বিশেষ করে যারা পেনসন ভোগী সেই সব সদস্যদের সঙ্গে কথাবার্তা চালাতে হবে।

    ***

    পরের দিন ট্রুপেন্স মিসেস গ্রিফিনের কাছে এলো।

    প্রথমে কিছুক্ষণ পুরানো বই পড়া নিয়ে ও তারপরে জন্মদিনের বই পুরানো বই প্রসঙ্গ এলো তার সাথে এলো আলেকজাণ্ডার পারকিনসনের প্রসঙ্গ।

    মিসেস গ্রিফিন বলল, ও খুব অল্পবয়সে মারা গিয়েছিল। সবাই খুব আশাবাদী ছিল যে তার ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল ভেবে।

    প্রাকৃতিক কোন কারণে নয়। মনে হয় যতদূর সম্ভব পিকনিকে কোন খাদ্য তার বিপদ ঘটিয়েছিল। মিসেস আণ্ডারসন বলেছিল।

    মিসেস আণ্ডারসনের নামটা কানে আসতেই ট্রুপেন্স চোখ তুলে তাকাল।

    মিডোসাইড নামে বৃদ্ধাবাসে যেসব লোক থাকে তাদের মধ্যে উনি একজন। জায়গাটা অনেক দূরে ছিল। এখান থেকে প্রায় বারো থেকে পনেরো মাইল দূরে। ঐখানে গিয়ে মহিলাটির সঙ্গে দেখা করতে পারো। উনিই তোমাকে এই সব ব্যাপারে অনেক কিছু বলতে পারবে।

    ট্রুপেন্স বলছিল যে, ভদ্রমহিলা যদি এইভাবে তার সঙ্গে যাওয়াটা পছন্দ না করে তাহলে কি হবে। তার আগেই মিসেস গ্রিফিন বলল যে, না, উনি এই সব মনে করবেন না। ওনার সাথে দেখা করতে কোন বাধা নেই। অনায়াসে ওর সঙ্গে গিয়ে দেখা করতে পারো।

    ওরা দুজনে চা পান করতে করতে আলোচনা করছিল। সেই সময় টমি বলল, আমার মনে হয় কতকগুলি ব্যাপার আলেকজাণ্ডারের উপর নির্ভর করছে।

    আলোকজাণ্ডার মারা গেছে তা আমরা জানি। কারণ আমরা তার কবর খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু মেরী জর্ডনের ব্যাপারে জানতে পারিনি কবে অথবা কেন মারা গেছে।

    এই ব্যাপারটা মনে হয় আমরা শেষে জানতে পারব। যেসব নাম সংগ্রহ করা গেছে তার জন্য একটা তালিকা তৈরী করতে হবে। তার মধ্যে তারিখ এবং ব্যাপারগুলো অতি অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। টমি এগুলো বলল। ট্রুপেন্সকে একটু থেমে জিজ্ঞাসা করল যে, তোমার আজ বিকালে কোন কাজ আছে? তা না হলে, তুমি কি নামের তালিকার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করবে?

    আমি ঐ কাঠের ঘোড়াটাকে আজ বিকেলে খুব ভালোভাবে নেড়েচেড়ে দেখতে চাই। ঘোড়াটার পেট কেটে দেখলে ভালো হয়।

    তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি খুব হিংস্র হয়ে আছ।

    ম্যাথিণ্ড-ও কে কে-এর মধ্যে ওর কথাটা বুঝতে পারল না টমি।

    কে কে-এর মধ্যে ও বলতে তুমি কি বলতে চাইছো? টমি জিজ্ঞাসা করল।

    ওযে ওটা হল সেই জায়গা সেখানে সবকিছু রাখা যেতে পারে। ওটা একটি রকিং হর্স। ওর পেটের কাছে গর্ত আছে।

    তুমি কি ঘোড়াটার পেটটা পরীক্ষা করতে যাচ্ছো?

    ট্রুপেন্স বলল, ঠিক বলেছ, তুমি কি আমার সঙ্গে এসে আমাকে সাহায্য করবে? টমিকে এই কথা বলাতে টমি যেতে রাজী হল।

    ***

    ঘোড়াটার পেটের কাছে হাত রেখে ট্রুপেন্স বলল, কোন কিছু লুকিয়ে রাখার পক্ষে এটা একটা ভারী চমৎকার জায়গা, ঠিক তাই না?

    আসবার সময় সঙ্গে করে আইজ্যাককে নিয়ে এসেছিল।

    ট্রুপেন্স বলল, বাচ্চারা সবসময় এরকম একটা জায়গায় কিছু রাখতে পছন্দ করে।

    আইজ্যাক বলল, তবে একটা খুব কম বয়সী ছেলে একসময় চিঠিপত্র রাখার জন্য এটাকে ব্যবহার করত। এটা একটা চিঠি ফেলার বাক্সের মত ছিল। এরকমই শোনা গেছে।

    কার জন্য সেই চিঠিগুলো ছিল?

    কোন একজন মহিলার জন্য। আমার যতদূর মনে হয়। তবে তখনও আমার জন্ম হয়নি। আইজ্যাক কোন কিছু মনে না করেই স্বাভাবিকভাবে কথাগুলি বলল।

    অনেকক্ষণ ধরে তারা দুজনে ঘোড়াটা পরীক্ষা করল এবং একসময় তাদের মধ্যে একজন মন্তব্য করল যে, ঘোড়টা যদি এইভাবে খাড়া ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে যে কোন লোকের পক্ষেই ঘোড়াটার পেটের মধ্যে কিছু জিনিষ রাখা অসম্ভব।

    বাচ্চাদের পক্ষে কষ্টকর কিছু নয়। ওদের হাঁটু ভেঙে ওটার তলায় ঢুকে যাওয়াটা কোন ব্যাপার নয়। ট্রুপেন্স অবাক হয়ে বলল, ওটা খড়খড়ে মত জিনিষ। খানিকটা পশুর চামড়ার মত।

    টমি জানতে চাইল সেটা মরা ইঁদুর।

    জবাবে ট্রুপেন্স জানালো যে আর যাই হোক চমৎকার কোন বস্তু নয় ওটা। মনে হচ্ছে বস্তুটি একটা পেরেকে দড়ি বা সুতোর মতো ঝোলান।

    কথা বলতে বলতে সাবধানে ঘোড়াটার পেট থেকে হাতটা বার করে নিল। এবং বলল, মনে হয় ভালো চামড়া।

    দেখাই যাক ভেতরে কিছু আছে কি না? যদি কিছু পাওয়া যায়।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা গর্তটা থেকে একটা চামড়ার ছোট ব্যাগ বার করল।

    মনে হচ্ছে ড্যাম্পের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য এটাকে ম্যাথিণ্ডের ভেতর রেখে দেওয়া হয়েছে। ট্রুপেন্স বলল। পরে টমির দিকে তাকিয়ে বলল, বলতো এটাকে কি বলে আমি ভাবছি?

    ওটা টাকা পয়সা রাখার জন্য নয়। টমি বলল। মনে হয় এটার মধ্যে চিঠিপত্র রয়েছে। ওগুলো অনেক পুরানো এবং লেখাগুলি ঝাপসা হয়ে গেছে। ওগুলো মনে হয় পড়া যাবে না।

    খুব পুরানো এবং হলদে হয়ে যাওয়া কাগজগুলো টমি আলাদা করে নিল। লেখাগুলো বড় বড় আকারে এবং ঘন নীল কালিতে লেখা হয়েছিল।

    দেখা করার জায়গা পরিবর্তিত টমি বলল, পিটার প্যানের কাছে কেন গার্ডেনস। ২৫শে, বৃহস্পতিবার, তিনটা তিরিশ মিঃ, জোন্না।

    ট্রুপেন্স বলল, শেষপর্যন্ত আমরা কিছু পেলাম।

    তার মানে তুমি বলতে চাইছ যে, কেউ একজন লণ্ডনে যাচ্ছিল কেনাকমটন গার্ডেনে কারোর সঙ্গে দেখা করতে। তাকে কোন গোপন কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    একটু থেমে টমি আবার বলল, তোমার কি কোন ধারণা আছে? কে এই জিনিষটি ম্যাথিণ্ডের মধ্যে থেকে নিয়ে নিত বা রাখত।

    এমন কেউ একজন করত যে এই বাড়িতে থাকত। এটা কোন বাচ্চার কাজ নয় নিশ্চয়। তার আচার-আচরণের মধ্যে একটা অদ্ভুত ভাব ছিল। যা সকলের উর্দ্ধে। নৌ-বাহিনীর গুপ্তচররা যে জিনিষগুলো আনত সেই জিনিষগুলি সে নিয়ে নিত এবং সেগুলি নিয়ে সে লণ্ডনে যেত।

    চামড়ার ব্যাগটা গলার উড়নিটা দিয়ে সুন্দরভাবে মুড়ে নিল। এবার তারা ফিরে এল। ফিরে এসে ঘরে পা দিয়েই ট্রুপেন্স বলে উঠল আরে এখানে দেখনি আরো অনেক কাগজপত্র পড়ে আছে। হলঘরের টেবিলের মধ্যেও একটা কাগজের বড় মোড়ক পরা ছিল। আবাট ঘর থেকে বেরিয়ে এল। ট্রুপেন্স বলল, ম্যাডাম এটা ফেলে দেওয়া হয়েছে। তখন ও বলল তোমার জন্যই আজ সকালে এটা রেখে যাওয়া হয়েছে।

    ট্রুপেন্স অবাক হয়ে টেবিল থেকে মোড়কটা তুলে নিল। এবং তারপর দুজনে মিলে হলঘরে ঢুকল। ট্রুপেন্স ঘরে ঢুকেই বাদামী রং-এর মোড়কটা খুলেই বলল, মনে হচ্ছে এটা একধরনের অ্যালবাম। এরমধ্যে একটা চিরকুট দেখছি। মিসেস গ্রিফিনের কাছ থেকে এসেছে।

    চিরকুটটা পড়ে দেখল যে এটা সেই চিঠি যেটা কিছুদিন আগে ওনাকে একটা বই দেওয়া হয়েছিল। এটার মধ্যে তারই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভদ্রমহিলা। ট্রুপেন্স বলল, অ্যালবামটা দেখে মজা পাওয়া যেতে পারে।

    অ্যালবামের মধ্যে ফটোগুলো দেখতে দেখতে ট্রুপেন্সের একটা মেয়ের ছবির দিকে নজর পড়ল। সে সেইটা টমিকে দেখিয়ে বলল, মনে হয় এটা মেরী জর্ডনের ছবি। এবং বলল মেরী জর্ডন দুটো নামই দেওয়া আছে ছবিটার তলায়।

    মেরী জর্ডনকে দেখতে ভারী চমৎকার। তবে ছবিটা ভালো হয়নি, ঝাপসা আর মনে হয় অনেক দিন আগের ফটো ট্রুপেন্সের কাছে ফটোটা এতই সুন্দর লাগছিল যে সে টমিকে বলল যে সত্যিই মেরী জর্ডনকে ভারী চমৎকার লাগছে। টমি বলল, কে যে ছবিটা তুলেছিল ভেবে আমার অবাক লাগছে। অনেকক্ষণ দেখার পর অ্যালবামটা সরিয়ে রাখল। তারপর দুপুরের দিকে আসা একটা চিঠি খুলল।

    ট্রুপেন্স জিজ্ঞাসা করল, উৎসাহিত হবার মত কিছু কি আছে, এই চিঠিটাতে? এর মধ্যে তিনটি চিঠি আছে। দুটো বিলও আছে। এই ব্যাপার যেন অন্যরকম মনে হচ্ছে। এটার মধ্যে উৎসাহ ব্যঞ্জক আছে কিনা তা নিয়েই সবাই ব্যস্ত।

    টমি বলল, আগামীকাল নাকি টমি কর্নেল পাইকঅ্যাজনের সঙ্গে লণ্ডনে থাকে। এই লোকটার নাম শুনে ট্রুপেন্স বলল কোথায়, তুমি তো এই নামটা আগে জানাওনি।

    টমি তখন বলল, হ্যাঁ, তোমাকে একবার বলেছিলাম। লোকটা কোন এক জায়গায় থাকে। টমি ট্রুপেন্সকে বলল, তোমার কাছে কি কোন কাফ লজেন্স আছে?

    ট্রুপেন্স অবাক গলায় বলল, মনে হয় আমার কাছে আছে। তোমার কি সর্দি হয়েছে। ট্রুপেন্সের চোখে তেমন কিছুই লাগছে। তাই সে বলছে কই আমি তো কোনভাবেই সেরকম কিছু দেখছি না।

    টমির ওটা ভীষণ দরকার কারণ যদি সে কর্নেল পাইকঅ্যাজনের সঙ্গে যায়। এই লোকটাই রবিনসনের সঙ্গে কথা বলেছিল সেই জন্য লোকটা ট্রুপেন্সের সঙ্গে দেখা করতে চায়।

    ***

    কর্নেল পাইকঅ্যাজনের সঙ্গে পরের দিন দেখা করে টমির খুব একটা বেশী লাভ হল না। টমি ও পাইকঅ্যাজনের মধ্যে নানা কথাবার্তার মধ্যে টমি পাইকঅ্যাজনকে জিজ্ঞাসা করল, আপনি কি বাড়িটার কথা শুনেছেন?

    পাইকঅ্যাজন বললেন, কোন বাড়িটার কথা বলছ? এ জোড়ালো লেফট ওরফে লরেন্স বাড়িটার কথা।

    পাইকঅ্যাজন বলল, কোনদিন আমি ঐ বাড়িটাতে যায়নি। অতীতের একটা বিশেষ ঘটনার সাথে ঐ বাড়িটা জড়িয়ে আছে। ঐ দেশের একটা বিরাট দুশ্চিন্তার সময়ে।

    টমি বলল, আমার মনে হয় মেরী জর্ডন নামে কোন এক মহিলা সম্পর্কিত মহিলা সম্বন্ধে আপনি বলছেন।

    একটু থেমে পাইকঅ্যাজন বলল, তুমি দেখতে চাও মহিলাটিকে দেখতে কেমন ছিল? অগ্নিকুণ্ডের তলায় তাকটার বাঁ-দিকে ওর ফটো রাখা আছে। তুমি গিয়ে দেখে এসো।

    টমি উঠে পড়ে অগ্নিকুণ্ডের তলার তাকটা থেকে ছবিটা তুলে নিল। ছবিটা খুবই সুন্দর। অনেক দিনের পুরানো ছবি। মাথায় টুপি পরা হাতে গোলাপ নিয়ে একটি মেয়ের ছবি।

    মেয়েটা দেখতে খুবই সুন্দর। কিন্তু ভাগ্যটা ভালো ছিল না। দুর্ভাগ্যবতী। অল্প বয়সেই মারা যায়। একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মারা যায়। সবাই বলে ও জার্মানীর গুপ্তচর ছিল। রবিনসনের মতে ব্যাপারটা তা নয়। আমাদের হয়ে ও সব সময় খুব ভালো কাজ করত।

    কিছুক্ষণ পরে রবিনসন বললেন যে, তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে। তিনি বিপদের সম্ভাবনার কথা ভেবেই বললেন তোমার স্ত্রীর ট্রুপেন্সকে বল তোমার ব্যাপারে বিশেষ ভাবে যত্নবান হতে। কারণ যে কোন সময় বিপদ হতে পারে।

    টমি বলল, যতটা পারি দুজন দুজনকে করব। তবে মনে হয় না এটা করা সম্ভব হবে।

    ***

    একটা গ্রামে মিঃ ডুরেন্সের দোকান। দোকানটার মধ্যে ক্যামেরায় তোলা ছবি আছে। বিভিন্ন ধরনের ছবি। যেমন-কয়েকজন দম্পতি, খেলতে থাকা কয়েকটা বাচ্চা ছেলের ছবি। একজন কি দুজন। ছবিগুলো যুবকের ছবি মেয়েদের সঙ্গে তোলা। ইত্যাদি।

    ট্রুপেন্স দোকানটার সামনে দাঁড়াতেই একজন যুবক এগিয়ে এল। এবং এগিয়ে এসে বলল, তাকে কি সে সাহায্য করতে পারে? ট্রুপেন্স তখন বলল, আমি অ্যালবামের খোঁজ করছি। ক্যামেরায় ভোলা ছবির অ্যালবাম। ছেলেটি জানালো সে বুঝতে পেরেছে। ট্রুপেন্স তখন বলল, আমার পুরানো ছবিসহ অ্যালবাম সংগ্রহ করার একটা নেশা আছে।

    ও তখন বলল, এইসব পুরানো ছবি কেউ এখন চায় না। কিন্তু সংগ্রহকারী হিসাবে বিশেষ করে এই সব বস্তু সংগ্রহ করার ব্যাপারে আমার দারুণ উৎসাহ।

    যুবকটি তখন বলল, তাহলে একটু দাঁড়ান। যদি পাওয়া যায়। এই কথা বলে যুবকটি তখন কাউন্টারের পেছন দিকে গিয়ে একটি ড্রয়ার খুলল।

    ট্রুপেন্স বলল, কেউ কি কোন খদ্দের কি এসে বলেছে যে, আমার ঠাকুরমার এখানে বিয়ে হয়েছে এবং তার কোন ছবি যদি আপনার দোকানে থাকে। যুবক দ্যুরেন্স জানালো যে, সেরকমটা এখনও পর্যন্ত হয়নি।

    ট্রুপেন্স ওর সাথে অনেকক্ষণ ধরে কথা বলে ভালো সম্পর্ক পাতিয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করতে পারল না। তবুও অতটা হতাশ না হয়ে মেরী জর্ডনের নামটা বলল। এবং তার সাথে সেই কেলেঙ্কারীর একটু বর্ণনাও দিল। তারপরেও জানতে চাইল, মেয়েটার ছবি তার দোকানে পাওয়া যাবে কিনা। ছেলেটি না বলল, ছেলেটি ট্রুপেন্সের কাছে জানতে চাইল, সে লেখিকা কিনা অর্থাৎ লেখে কিনা।

    ট্রুপেন্স বলল, আমি একটা ছোটদের উপর বই প্রকাশ করতে চাইছি। এটা আমার ইচ্ছা। সেইজন্য বিভিন্ন ধরনের ঘটনা সমেত বইটি প্রকাশ করতে চাইছি। যেমন–অপরাধ এবং নানা রোমাঞ্চকর ঘটনা সমেত। পুরানো ফোটোগ্রাফ বইটিতে যদি তেমন কিছু পাওয়া যায় তাহলে বইটি আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

    শেষপর্যন্ত স্যুরেন্সের দোকান থেকে আশাব্যঞ্জক কিছুই পাওয়া গেল না। নিরাশ হয়ে ট্রুপেন্স বাড়ি ফিরল। সোজা বাড়ির রাস্তায় না এসে পাশের রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরল। বাড়ি ফিরেই দরজার কাছে আসতেই তার নজরে পড়ল দরজার সামনে কি যেন পড়ে আছে। প্রায় জোড়ে দৌড়ে দরজার সামনে আসতেই দেখতে পেল আইজ্যাকের দেহটা নিঃসাড় হয়ে পড়ে আছে। ট্রুপেন্স ওর ওপর ঝুঁকে পড়ল। এবং বলতে লাগল হয়ত বুড়ো আইজ্যাক মারা গেছে।

    একসময় টমি ও ট্রুপেন্স বলল, কেউ মনে হয় ওকে খুন করেছে?

    ট্রুপেন্স বলল, কে খুন করবে ওকে?

    টমি জানালো, আমি বলতে পারছি না।

    ট্রুপেন্স বলল, তবে মনে হয় আমাদের এই ব্যাপারের সঙ্গে এটার কোন সম্পর্ক আছে। ট্রুপেন্স বলল, কি বলতে চাইছি নিশ্চয় বুঝতে পারছ। এটা হল সেই জায়গা, আমাদের বাড়ি, বাগান সবকিছু আছে। বলতে বলতে বলছে আমি এখানকার সবকিছু একটা অস্বস্তি বোধ করছি। অতীতের কোন একটা ঘটনার।

    ওরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। একটু পরেই টমি বলল, বুড়ো আইজ্যাকের সঙ্গে আমাদের তদন্তের বিষটির সঙ্গে সম্পর্ক আছে।

    ট্রুপেন্স বলল, কেউ ওকে খুন করেছে? কিন্তু কেন ওকে খুন করল? তাহলে এই ব্যাপারটা ভেবে দেখা দরকার কারণ এই ব্যাপারটার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক থাকার জন্য সে বা তারা আমাদের খুন করবে। সেটাও হয়তো চেষ্টা করবে।

    হয়তো আইজ্যাক কিছু জানতে পেরেছিল। সেটা হয়ত ও আমাদের জানাতে চেয়েছিল। এর জন্য ওকে কেউ ভয় দেখিয়েছিল। তাও আইজ্যাক আমাদের বলার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এবং একেবারে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল যে সে আমাদের বলবে। হয়তো সেই মহিলাটি মেরী জর্ডন এবং পারকিনসনের মধ্যে কাউকে জানত। সেই জন্যই হয়তো ওকে চিরদিনের মত চুপ করিয়ে দিয়েছিল।

    সেইসময় বুড়ো আইজ্যাকের ছেলের বউ এল। সে মনে হয় আইজ্যাকের ছেলে স্টিফেনের স্ত্রী। সে জানালো স্টিফেন নাকি একটা লরী দুর্ঘটনায় মারা গেছে। শ্বশুর আইজ্যাক সম্বন্ধে জানালো যে, সে অনেক কিছু জানত। অনেকদিন ধরে এই পাড়াতে থাকতেই এখানকার পাড়া প্রতিবেশীদের সে যেমন জানত সেই সঙ্গে অনেক দুর্ঘটনারও অভিজ্ঞতাও তার ছিল।

    বধূটি চলে যাওয়ার পর টমি বলল, আইজ্যাকের পদবীটা কি যেন? ট্রু

    পেন্স বলল, আইজ্যাক বডিকট। তাহলে এই মহিলাটি মিসেস বডিকট হবে।

    মহিলাটির অনেকগুলো ছেলেমেয়ে আছে। তারা সবাই একসঙ্গে থাকে। মারটন রোডের মাঝামাঝি ঐ কটেজটাতে থাকে। আমার মনে হয় বধূটি জানে তার শ্বশুরকে কে মেরেছে?

    এইভাবে হঠাৎ কিছু ঠিক মত না জেনে বলা শক্ত। ট্রুপেন্স বলল, মনে হয় মহিলাটি ফুলের জন্য ধন্যবাদ জানাতে এসেছিল। মহিলাটি প্রতিশোধ নেওয়ার মত দেখতে নয়। তাছাড়া মনে হয় ও খুনীকে চেনে না। চিনলে মনে হয় ঠিকই তা উল্লেখ করত।

    কোন কিছুই ঠিক বলা যায় না, ব্যাপার হতে পারে আবার নাও হতে পারে, ট্রুপেন্স বলল। ও বাড়ির ভেতর গেল। ওকে কেমন গভীর ভাবে খুবই চিন্তিত লাগছিল।

    পরের দিন আইজ্যাকের সম্পর্কে ভাইপো হেনরী এলো। ছেলেটাকে ট্রুপেন্সের খুব ভালো লেগে গেল। ছেলেটাও ট্রুপেন্সের কথাবার্তা শুনে মুগ্ধ ভক্ত হয়ে উঠল। ছেলেটা তার কাকা মারা যাবার ব্যাপার নিয়ে ট্রুপেন্সের সাথে দুচার কথা বলল।

    হেনরীর সঙ্গে কথাবার্তা বলে ঘরে ঢুকতেই তাকে খুব উত্তেজিত মনে হচ্ছিল দেখে টমি জিজ্ঞাসা করল, কি হয়েছে? হেনরীর সাথে যে তার কথাবার্তা হয়েছে সেটা জানালো এবং বলল, ছেলেটার বয়স মনে হয় দশ কি এগারো এবং ওর একটা বন্ধু আছে ক্লারেন্স বলে।

    ঠিক এই মুহূর্তে নয়। ও আর ক্লারেন্স আমাদের কাজে যুক্ত হতে চায়। অনুসন্ধান করবার কাজে এবং নতুন কিছু জানতে পারলে আমাদের জানাবার জন্য।

    এই বয়েসের ছেলেমেয়েরা আমাদের কি ভাবে সাহায্য করবে? হেনরি ছেলেটা সত্যিই কি বলেছে তা আমাকে বলো?

    আমাদের না জানা অনেক ব্যাপারই ওরা জানে। তাছাড়া ওরা অনেক শোনা কথা বলছিল।

    কার থেকে ওরা শুনেছে। টমি বলল সরাসরি ওরা কারুর কাছ থেকে শোনেনি। লোকের মুখ থেকে আসা কোন কথা।

    ট্রুপেন্স বলল, একটু চুপ করে থেকে বলল, ওরা এই ঘটনা নির্দিষ্ট কোন জায়গা বা গল্পে উল্লিখিত হতে শুনেছে, আমাদের এখানে এসে আমাদের এই ব্যাপারে সাহায্য করার ব্যাপারে খুবই উৎসাহিত তারা।

    কি ব্যাপারে, টমি জিজ্ঞাসা করল, গুরুত্বপূর্ণ কিছু খুঁজে বের করার ব্যাপারে। এমন কোন জিনিষ যা এখানে লুকানো আছে বলে সুনিশ্চিত।

    ওহো! লুকানো লুকানো, কিন্তু কোথায়, কেমন ভাবে এবং কখন? এই তিনটি ব্যাপারে অন্যরকম গল্প ট্রুপেন্স জানালো, কিন্তু সে খুবই উত্তেজনাকর তা তোমাকে স্বীকার করতে হবে।

    এটির সঙ্গে বুড়ো আইজ্যাকের সম্পর্ক। ট্রুপেন্স জানালো, আমার তো মনে হয় আইজ্যাক অনেক কিছু জানত যা আমাদের ও বলতে পারেনি।

    কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর টমি বলল, মেরী জর্ডন নামে মহিলাটি স্বাভাবিক ভাবে মারা যায়নি।

    ট্রুপেন্স হ্যাঁ বলে বলল, বুড়ো আইজ্যাকও খুন হল, আমাদের অতি অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে কে তাকে খুন করল এবং কেন তাকে খুন করল।

    ট্রুপেন্সকে টমি বলল তোমাকে সতর্ক থাকতে হবে। আইজ্যাক যদি কিছু জেনে থাকে সেই ব্যাপারটা যাতে কেউ না জানে বা কাউকে বলতে না পারে তার জন্য যদি কেউ খুন করে থাকে তাহলে জানবে তোমারও কপালে সেইরকম কিছু লেখা রয়েছে।

    ট্রুপেন্স বলল, তাহলে আমি কি সাথে একটা পিস্তল রাখব?

    টমি বলল, তা না, তখন ট্রুপেন্স বলল, তোমার ধারণা আমি ভুলবশতঃ কোন দুর্ঘটনা করে ফেলি সেই ভয় তোমার। যদি তাই হয় তাহলে কি সঙ্গে একটা ছুরি রাখব।

    আমাদের সঙ্গে কিছু রাখবার দরকার নেই। আমরা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াবো। এমন একটা ভাব দেখাবো যেন আমরা এখানে থাকব কি না ঠিক নেই। এমনও হতে পারে অন্য কোন বাড়ি কিনে চলে যাব।

    ***

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }