Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2514 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪-৫. সুপারিন্টেন্টে ব্যাটলের ছুটি

    ০৪.

    ৪.১

    সুপারিন্টেন্টে ব্যাটলের ছুটিটা নেহাত খারাপ কাটেনি। আর মাত্র তিনদনি তারপর ছুটি ফুরোবে। সালিটিংটনের এই মনোরম পরিবেশ থেকে তিনি আবার লণ্ডন-এ ফিরে যাবেন।

    তিনি তার ভাগ্নে জেমস্ লীচ-এর কাছে উঠেছেন। হঠাৎ ফোন এল, তার ভাগ্নেকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ছেলেটি বেরোনোর উদ্যোগ নিল। কারণ স্যার ম্যাথু ট্রেসিলিয়ানের স্ত্রীর মৃত্যু ঘটেছে।

    জিমি যাবার আগে তার মামাকে বললেন এই প্রথম তিনি খুনের তদন্ত করছেন। যদি দরকার হয় তাহলে যেন তাকে সাহায্য করে।

    তিনি বললেন তিনি তা করবেন। জিমি আর দাঁড়ালেন না।

    .

    ৪.২

    আধঘণ্টার মধ্যে জিমি আবার ফিরে এল। তার সঙ্গে মেজর রবার্ট মিচেল এল। তিনি খুনের ব্যাপারে নিয়ে ব্যাটলের সঙ্গে কথা বলতে চান। ব্যাটলকে বললেন এটা বাইরের ব্যাপার নয়। তাকে জিজ্ঞাসা করলেন তদন্তের ভার তিনি নিতে রাজী কিনা।

    ব্যাটল বললেন, তার কোন আপত্তি নেই কিন্তু ওপরওয়ালা রাজী হবেন কিনা।

    মেজর মিচেল বললেন আপনি এখন স্কটল্যাণ্ড ইয়ার্ডে আছেন না। তিনি আরও বললেন কমিশনার তার বন্ধু এখুনি তাঁকে তিনি ফোন করবেন। যদি তাকে ছেড়ে দেন তাহলে আর কোন আপত্তি নেই। তিনি সম্মতি জানালে মেজর মিচেল স্কটল্যাণ্ড ইয়ার্ডে ফোন করলেন। সুপারিন্টেন্টে ব্যাটল এটা বুঝেছিলেন যে এই খুনের ব্যাপারে পুলিসকে খুব হুশিয়ার হয়ে এগোতে হবে। প্রতিটি পদক্ষেপ সতর্ক হওয়া চাই। যতক্ষণ না পাকাঁপোক্ত প্রমাণ মিলছে ততক্ষণ গ্রেপ্তার তো দূরে থাক কাউকে সন্দেহ করা চলবে না। কারণ মানহানির আশঙ্কা এখানে পদে পদে। মেজর মিচেল পাকা লোক হিসাবে সুপারিন্টেন্টে ব্যাটলকে তদন্তে নিয়োগ করতে চান। গাল পয়েন্টে ঢুকে লেডি ট্রেসিলিয়ানের ঘরের সামনে গিয়ে তিনি দাঁড়ালেন। মেঝের উপর একটা গলফ খেলবার ছড়ি আছে–যা রক্তমাখা, একজন পুলিস অফিসার পরীক্ষা। করছিলেন ছড়ির উপর আঙ্গুলের ছাপ পাওয়া যায় কি না। ডঃ ল্যাজনবি বিছানায় ঝুঁকে লেভি ট্রেসিলিয়ানের মৃতদেহ পরীক্ষা করছিলেন।

    তার মনে হয়, সামনে থেকে জোরে কেউ তাকে আঘাত করেছিল। প্রথম আঘাতেই হাড় ভেঙে মৃত্যু ঘটে। কিন্তু তার পরেও তাকে আঘাত করা হয়েছে।

    মৃত্যু সম্পর্কে খুনী নিশ্চিত হতে চেয়েছিল। তিনি রাত ১০-১২ টার মধ্যে মারা গেছেন। ডঃ ল্যাজনবি বললেন, খুনী যদি গলফের ছড়িটা এখানে ফেলে যেত তাহলে ঠিক কি দিয়ে যে আঘাত করা হয়েছে, তা হয়ত তিনি বুঝতে পারতেন না। যাইহোক ছড়ির প্রান্তভাগ কিন্তু লেভী ট্রেসিলিয়নের মাথায় লাগেনি। লেগেছে বাঁকানো জায়গাটা। খুনী কি চেয়েছিল। আমরা তা জানি না; আমরা শুধু এটুকু বুঝতে পারছি, বাঁকানো জায়গাতেই আঘাত করেছে।

    তিনি বললেন যে আঘাত লেগেছে লেভি ট্রেসিলিয়ানের ডান কপালে অথচ যেই আঘাত করুক, সে যে এই বিছানায় ডানদিকে, খাটের শিয়রের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে ছিল, তাতেও সন্দেহ নেই। খাটের বাঁদিকে দেওয়াল।

    ডঃ ল্যাজনবি বলতে চান লোকটি ন্যাটা, প্রমাণ হতে পারে ট্রেসিলিয়ান বাঁ দিকে মুখ ঘুরিয়ে ছিলেন সেই মুহূর্তে খুনী আঘাত হেনেছে কিংবা খাটটা বাঁদিকে টেনে এনে আবার তাকে সরিয়ে রেখেছে। এ ব্যাপারটা অস্বাভাবিক।

    ডিটেকটিভ সার্জেন ছড়ি পরীক্ষা করে বললেন, এটা একটি সাধারণ ছড়ি। ন্যাটাদের জন্য ব্যবহৃত ছড়ি নয়। ন্যাটা হওয়া ছাড়াও সে অন্য কারো ছড়ি হাতিয়ে এনেছিল ল্যাজনবি এই ব্যাপারে সঠিক নয়।

    তবে লোকটি পুরুষ জিমি বললেন, কোন মেয়ের পক্ষে অত জোরে আঘাত করা সম্ভব নয়।

    ডাক্তার বললেন, তিনি গল খেলার সময় অনেক মেয়েকে জোরে ছড়ি চালাতে দেখেছেন।

    মিঃ ব্যাটল ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করলেন গলফের এই ছড়িটা দিয়ে আঘাত করা হয় এ বিষয়ে কি তিনি নিশ্চিত নন।

    তিনি বললেন, তিনি এটা অনুমান করেছেন। ছড়ির মাথায় চুল রক্ত লেগে থাকায় তিনি এটা অনুমান করেছেন। তবে সেগুলি ট্রেসিলিয়ানের কিনা তা প্রমাণ করতে হবে। ব্যাটলও এই বিষয়ে তার সঙ্গে একমত।

    জিমি ব্যাটলকে জিজ্ঞাসা করলেন লেভি ট্রেসিলিয়ানকে যখন আঘাত করা হয় তখন কি তিনি জেগে ছিলেন না ঘুমিয়েছিলেন?

    ব্যাটল মনে করেন তিনি ঘুমিয়েছিলেন। তার বিশ্বাস খুনী তার চেনা ছিল। ব্যাটলকে দেখে তার মনে হল ঘুম থেকে তাকে জাগিয়ে ভোলা হয়েছিল। তার মুখে আতঙ্কের ভাব নেই। তার চোখে একটু বিস্ময়ের ভাব ছিল।

    এমন হতে পারে উনি জেগেই ছিলেন।

    জিমি ছড়ি দেখে আঙ্গুলের ছাপ পেলেন। জিমি সার্জেন্ট জোন্স-এর থেকে জানতে পারলেন। তিনি বললেন এ বেশ ভদ্র খুনী। ছড়ি, আঙ্গুলের ছাপ সবই রেখে গেছে, নাম ঠিকানা রেখে যায়নি?

    ডঃ ল্যাজনবি লেভির চাকর ব্যাটলকে চিকিৎসা করতে গেলেন যাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল। লেভি ট্রেসিলিয়ানের ঘরের কাণ্ড শুনে যেন ব্যাটল ছুটে না আসতে পারে, তারজন্য তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল। বিপদের মুহূর্তে লেভি ঘন্টি টেনেছিলেন কিনা জানা যায়নি। টেনে থাকলেও ব্যাটল কিছু জানতে পারেনি।

    ব্যাটল বললো, জানতে পারার কথা নয়। কিন্তু একটা কথা ঠিক, যে তাকে খুন করেছে সে এই বাড়ির খবর রাখে। ডঃ ল্যাজনবি ব্যাটলকে দেখে চলে গেলেন। ব্যাটল জিমিকে বললেন, গলফের ছড়ির ওপরকার ওই আঙ্গুলের ছাপ খুনীর নয়, ছাপ হয়ত অন্য কারোর, খুনী হয়ত দস্তানা পরে ওই ছড়িটা ব্যবহার করেছিল।

    ঘাড় নেড়ে জিমি বললো, তা হতে পারে না। ছড়ির ওপর কারও আঙ্গুলের ছাপ পড়বার পর যদি কেউ দস্তানা হাতে ও ছড়ি ব্যবহার করতো তাহলেও ছাপটা অস্পষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু আমরা যে ছাপ পেয়েছি সেটা খুবই স্পষ্ট।

    ব্যাটল বললো, তাহলে আমাদের কাজ সহজ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই বাড়িতে যারা আছে তাদের আঙ্গুলের ছাপ এই ছাপটির সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে যার ছাপ মিলবে তাহলে সেই খুনী। এই ছাপটা একটা পুরুষের…মেয়ের নয়।

    লেভি ট্রেসিলিয়ানের সম্পত্তি কে পেতে পারে এটাই ব্যাটলের প্রশ্ন। নীচে সবাই বসেছিল। মেরী লেভিল, কো অড্রে বসেছিল। ব্যাটল মনে করেন যে, যতক্ষণ না নির্দোষিতা অকাট্য প্রমাণ হচ্ছে ততক্ষণ সবাই খুনী। খুনের ধর দেখে মনে হচ্ছে বাইরে থেকে কেউ খুন করেনি। এদের মধ্যে কেউ খুনী।

    জিমি সকলকে বললেন খুনীকে বের করবার ব্যাপারে আপনারা সকলেই আমাদের সহযোগিতা করবেন। তিনি গলফের ছড়িটা দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন এটা সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারেন কিনা।

    কো দেখে বললেন, কি আশ্চর্য এটা তো মনে হচ্ছে, সে কথাটা শেষ পর্যন্ত বললো না।

    লেভিল ইনসপেক্টারকে বললেন এটা তারই মনে হচ্ছে।

    লেভিলের হাতে ছড়ি তুলে জিম বললেন, আপনি এটা এখন নিশ্চয়ই দেখতে পারেন।

    লেভিল হাতে নিয়ে ছড়িটা দেখল। লেভিল ছড়িটা দেখে জিমির হাতে ফেরত দিয়ে বললো যে, সে গলফ খেলার জন্য যে ছড়িটা ব্যবহার করে এটা বোধহয় তার। তবে তিনি নিশ্চিন্ত নন, নিশ্চিত হবার জন্য ছড়ির আরেকটা মিলিয়ে দেখতে হবে। আসুন না এখুনি আমি মিলিয়ে দেখছি। লেভিল দোতলার সিঁড়ির নীচে দাঁড়াল। সেখানে একটা মস্ত আলমারি রয়েছে। সেখানে। টেনিসের প্যাকেট সাজানো রয়েছে। এটা দেখে ব্যাটলের খুব চেনা মনে হল। শান্ত গলায় তিনি বললেন যে, তাকে তিনি উইম্বলডন টেনিস খেলতে দেখেছেন।

    লেভিল আলমারির এককোণে থেকে একটা ব্যাগ বার করলেন। বললেন যে ছড়িটা পাওয়া গেছে ওটা তারই ছড়ি, অতএব এটা একটা পুরুষের ছড়ি।

    ব্যাটল তাকে লেভি ট্রেসিলিয়ানের সলিসিটারের কথা জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন যে অ্যাসকুইথ অ্যাণ্ড ট্রেননি তারা পুরানো ফার্মে। তাদের অফিস হচ্ছে সেন্ট লুতে। কিন্তু তাদের খবর কেন নেওয়া হচ্ছে এটা জানতে চাইলেন লেভিল।

    লেভি ট্রেসিলিয়ানের উইল সম্পর্কে খবর নেওয়ার জন্য। লেভি ট্রেসিলিয়ানের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি সম্পর্কে লেভিল জানালেন তার টাকাকড়ি বিশেষ কিছু ছিল না। তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন তার টাকা পয়সা তিনি পাবেন। তার অবর্তমানে লেভিলের স্ত্রী তা পাবেন। সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় লক্ষ পাউণ্ড।

    লেভিল বললেন, তার অবস্থা অসচ্ছল নয়। স্যার ম্যাথুর টাকা না পেলেও চলবে।

    জিমি বললেন তিনি তা বলতে চাননি। এবারে এর হাতের ছাপ নেওয়া হলো। প্রথমে হার্টলকে জেরা করা হল।

    রাত্রিবেলা গালস্ পয়েন্টের দরজা কিভাবে বন্ধ করা হয় তার বর্ণনা দিয়ে হার্টল বললো, বাইরে থেকে কেউ ঢুকেছিল বলে তার মনে হয় না। সদর দরজা বন্ধ ছিল কিনা সেটা জিজ্ঞাসা করতে বললো সে সেটার ল্যাজটানা টানছিল, কারণ লেভিল বাইরে তাস খেলতে গেছিলো। রাত্রিতে ফিরলে তার যদি অসুবিধে হয় তাই ভিতর থেকে সে হুড়কো দেয়নি। মিঃ লেভিল রাত আড়াইটে নাগাদ বাইরে থেকে ফেরেন। তিনি মটর থেকে নেমে কারো সঙ্গে কথা বলছিলেন। মিঃ ট্রেড দরজা খুলে উপরে উঠে গেলেন। মিঃ ট্রেডকে গাড়ি থেকে নামিয়ে সেই ভদ্রলোক গাড়ি হাঁকিয়ে চলে গেলেন।

    হার্টলের পরে অন্যান্য ঝি চাকরের পালা। তাদের কাছ থেকে বিশেষ কিছু জানা গেল না। ব্যাটল জিমিকে বললেন আচ্ছা ওই মেয়েটির নাম এসা ওয়েলস না। সে খুব ভয় পেয়েছিল। ব্যাটল তাকে ধমকে তার থেকে কথা বার করতে চাইলেন।

    সে বললো, সে রাত দশটায় কাজকর্ম চুকিয়ে শুতে যাচ্ছিল, যেতে যেতে শুনলো যে ঘরের মধ্যে কর্তামা আর মিঃ ট্রেড-এর মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল। শুধু সে শুনেছে কর্তামা বলছে এসব অনাচার আর সহ্য করবে না। বনে দেব…কালই যেন সে এখান থেকে চলে যায়। গলা শুনে মনে হল মিঃ ট্রেডও ভীষণ রেগে আছেন। তাছাড়া সে একা নয় হার্টলও ঝগড়া শুনছিল।

    উইলিয়াম সে সব ঘর তল্লাশি করছিল। সে এসে বললো যে, লেভিলের ঘর থেকে একটা গাঢ় নীল রঙের কোর্ট, ট্রাউজার্স, আর ওয়েস্টকোট মেঝের উপর পড়ে থাকতে দেখেছেন।

    জিমি বললেন যে, এগুলি তিনি কোথা থেকে পেলেন।

    ব্যাটলের দিকে এগিয়ে এসে সে বললো, হাতের উপর রক্তের দাগ দেখেছেন।

    ব্যাটল মনে করলেন লেভিল ছোকরা মারা পড়বে। ঘরে একটা ছাইরঙের স্যুট পাওয়া গেছে। চেয়ারের উপরে সেটা ঝুলছিল। কিন্তু বেসিনের ধারে মেঝের উপর, এত জল এল কোত্থেকে? মনে হচ্ছে বেসিনের কল খুলে কেউ তাড়াহুড়া করে হাত ধুয়েছিল।

    সুপারন্টেন্টে ব্যাটল বললেন বৃষ্টির জল হতে পারে। জানালা খোলাই ছিল।

    উইলিয়াম বললেন যে, বৃষ্টির ছাঁট হলে মেঝে ভেসে যেত না। মনশ্চক্ষে ব্যাটল দেখলেন আততায়ী এই ঘরের মধ্যে এসে ঢুকল, বেসিনের কল খুলে দিয়ে হাতের রক্ত ধুয়ে ফেলল, রক্তাক্ত জামাকাপড় খুলে দলা পাকিয়ে ওয়ার্ডডোবের মধ্যে ছুঁড়ে দিল।

    মিসেস ট্রেডও পাশের ঘরে থাকেন। এঘর ওঘর মাঝের দরজাটা বন্ধ। তিনি হার্টলকে ডেকে পাঠাতে বললেন। ব্যাটল হার্টলকে কথা কাটাকাটির কথা জিজ্ঞাসা করলেন। হার্টল আসলে এটা বুঝতে পারেনি।

    ব্যাটল তাকে জিজ্ঞাসা করলেন মিঃ ট্রেড রাত্রিতে কি রংয়ের স্যুট পরেছিলেন?

    হার্টল বললেন নীল রয়েংর। সার্জেন্ট জোনস গরে ছাপের সঙ্গে অন্য ছাপ মিলিয়ে দেখেছেন। মিঃ ট্রেডের সঙ্গে ছাপ মিলেছে।

    ব্যাটল বললেন তাহলে তিনি মারা পড়লেন।

    .

    ৪.৩

    চীফ কনস্টেবল মিচেলের অফিসে তারা বসেছিলেন। মেজর মিচেল সুপারিন্টেন্টে আর জিমি। মিচেল বললো, লেভিলকে গ্রেপ্তার না করে উপায় নেই। সুপারিন্টণ্ডেন্ট ব্যাটলের ব্যাপারটা মোটেই ভালো ঠেকছে না। কিন্তু যেখানে এত প্রমাণ সেখানে গ্রেপ্তার না করে উপায় কি?

    জিমি বললেন যে গ্রেপ্তার না করলেও কথা উঠবে।

    মেজর মিচেল বললেন, প্রথমে স্বার্থের কথাই ধরা যাক। লেভি ট্রেসিলিয়ানের মৃত্যুর জন্য কার লাভ হচ্ছে? বলাবাহুল্য লেভিলের।

    লেভিল লেভিকে শেষ দেখেছিল এবং সে যে স্যুট পড়েছিল, তাতেও দাগ আছে। এমনকি গলফের ছড়িতে যে আঙ্গুলের ছাপ ছিল, লেভিলের আঙ্গুলের ছাপের সঙ্গে তা মিলে গেছে।

    মেজর মিচেল একটু অস্বস্তি বোধ করছেন। কেননা খুনী কি এইভাবে নিজের প্রমাণ ছড়িয়ে রাখে? জিমিরও তাই। তার অস্বস্তির কারণ হল যে তিনি একজন খাঁটি স্পোর্টসম্যান। তিনি খেলার মাঠে বা তার বাইরে কাউকে গালমন্দ করেন না। তিনি যেমন বিনয়ী তেমনি হাসি খুশী মানুষ। তার অস্বস্তি হচ্ছে গলফের ছড়ির জন্য, কিংবা লেভি ট্রেসিলিয়ানের ঘণ্টির জন্য, তার মানে খুব সহজ দুটোর মধ্যে একটাকে বাদ দিতে হবে। ছড়ি আর ঘণ্টাকে তিনি মেলাতে পারছেন না।

    ব্যাপারটা বেশ ভালো করে একবার ভেবে দেখা দরকার। কাল রাত্রিরে লেভিল লেভি ট্রেসিলিয়ানের ঘরে গেছিল। তার সাথে ঝগড়া করেছিল। সেক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে হত্যার ব্যাপারটা মোটেই পূর্ব পরিচিত নয়। যদি পূর্বপরিকল্পিত না হয় তাহলে গলফের ছড়ি এলো কোথা থেকে? রাত দশটার সময় এমনিতে কেউ গলফের ছড়ি নিয়ে ঘুরতে বেড়ায়? আর লেভিল যে ধরনের মানুষ তাতে সে রেগে যাবার পাত্র নয়।

    মেজর মিচেল বললেন, সে যে হঠাৎ গিয়ে খুন করেছেন এসব কথাই বা ভাবছেন কেন,–এমন তো হতে পারে গোটা ব্যাপারটাই পূর্ব পরিকল্পিত।

    ব্যাটল বললেন, হতে পারে এটা একটা প্ল্যান করা ব্যাপার। যদি তাই হয় তাহলে সে ব্যারটকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়েছে, যাতে লেভি তাকে ডাকতে না পারেন। যদি তাই হয় তাহলে সে তার খুনের হাতিয়ার ওখানে ফেলে আসবে কেন? আবার যদি এটা প্ল্যাণ্ড ব্যাপার হত সে আসার সময় ছড়িটাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসত। ছড়িটাকে ধুয়ে মুছে আবার যথাস্থানে রেখে দিত। তাহলে সে লেভির সাথে ঝগড়া করত না।

    ব্যাটল মনে করছে এটা আকস্মিক খুন নয়। পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অর্থাৎ দুরকম চিন্তার অবকাশ আছে এর মধ্যে।

    কিন্তু লেভিকে হত্যা করা হয়েছে এটা ঠিক। কিন্তু সেটা ছড়ি দিয়ে নয়। এটা হত্যার হাতিয়ার হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।

    যদি ছড়িটাকে বাদ দেওয়া হয় তাহলে লেভিলকে সন্দেহ করার কি স্বার্থ থাকে? লেভিলের স্বার্থ আছে। লেভি মারা গেলে সে বিস্তর টাকাকড়ি পাবে। টাকাকড়ি তার নিজের সত্যিই আছে কিনা তা জানতে হবে।

    মেজর মিচেল বললেন, তার সন্দেহ ইতিমধ্যেই শিথিল হয়ে এসেছে। তার ধারণা কেউ লেভি ট্রেসিলিয়ানকে হত্যা করেছে। তারপর এমনভাবে সব প্রমাণ ছড়িয়ে রেখেছে আমাদের সন্দেহ যাতে লেভিলের উপর গিয়ে পড়ে।

    ব্যাটল বললেন, তিনি সবাইকে সন্দেহ করছেন। তিনি লেভিলকে গ্রেপ্তার করবেন না। আমাদের মনে যে প্রশ্ন জেগেছে, তার একটা সদুত্তর না পাওয়া পর্যন্ত লেভিলকে তারা গ্রেপ্তার করবে না।

    এ্যাটর্নী মিঃ ট্রেনানি জানালেন যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন, তার সম্পত্তির আয় তার স্ত্রী ভোগ করবেন। আর তার অবর্তমানে তার টাকা লেভিল সস্ত্রীক ভোগ করবে। তার টাকা থেকে ব্যারেট হার্টল ও মেরী পাবে।

    মিঃ ট্রেনানীকে তিনি বললেন, উইল দুটোর নকল করে তিনি যেন পাঠিয়ে দেন।

    জিমিকে সঙ্গে করে ব্যাট গালস পয়েন্ট ফিরে এলেন। সার্জেন্ট জোন একটা ছোট প্যাকেট এগিয়ে দিল। এতে মেয়েদের মাথার কয়েক গাছি চুলছিল। লালরংয়ের চুল পাওয়া গেছে মিঃ ট্রেডের কোর্টের হাতায় আর কালো রং-এর চুল ছিল তার কোর্টের কলারে।

    ঝি চাকরদের মধ্যে কেউ তাকে খুন করছে বলে মনে হয় না। মেরী অণ্ডিল চাকর-বাকরদের নিয়ন্ত্রণ করে। তাকে সবাই সমীহ করে চলে। ব্যারেটকে শোবার আগে খাবার দুধে ওষুধ মিশিয়ে তাকে ঘুম পাড়ানো হয়েছে। এটা জোন্স বললেন।

    একাজ ভিতরের কোন লোকের কারণ ব্যারেট যে ঘুমের ওষুধ খায় সেটা সবার জানার কথা নয় এবং দুধটা যে সন্ধ্যেবেলা থেকে ঢাকা দেওয়া থাকে এটা কারো পক্ষে বলা সম্ভব নয়। সন্ধ্যার পর কেউ গিয়ে ওষুধ মেশায়। তারপর মাঝরাত্রিরে সে লেভি ট্রেসিলিয়ানকে খুন করেছে।

    সারাবাড়ির লোকজনদের ঘর থেকে কিছু খোঁজার জন্য সব ঘরে ঢোকা হল। থমে অড্রের ঘরে দেখা হল। সেখানে তার জামাকাপড় ছাড়া আর বিশেষ কিছু পাওয়া গেল না।

    অড্রের ঘর থেকে বেরিয়ে সবাই টমাস বয়েডের ঘরে গিয়ে ঢুকল। এখানে জামাকাপড় পড়ে আছে, যেখানে ছাই পড়ে আছে। তারপর তারা মেরীর র খুঁজল। কিন্তু সেখানে কিছুই পেল না। এরপর লেভি ট্রেসিলিয়ানের ঘর তারপর জোড়া দুটি ঘর। সেখানে লেভিল আর কো থাকে। এই ঘরের মাঝে একটি দরজা। কোর ঘরে প্রসাধন আর জামাকাপড় দেখে মনে হয় সেগুলো সস্তা নয়।

    মিঃ ট্রেডকে আবার ডেকে পাঠান হলো। এবং তাকে বলা হল যে তাকে কিছু প্রশ্ন করা হবে অবশ্য তার যদি তাতে আপত্তি থাকে তাহলে তিনি তার প্রশ্নের উত্তর নাও দিতে পারেন। ব্যাটল তাকে বললেন, তিনি যা উত্তর দিবেন সেটা লিখে রাখা হবে। আদালতে সেগুলি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল কাল রাত্রে ডিনারের পরে তিনি কোথায় ছিলেন?

    তিনি বললেন তিনি তার বন্ধু এ্যাডওয়ার্ড ল্যাটিলের সঙ্গে দেখা করতে ইটারহেড হোটলে গিয়েছিলেন। সেই হোটেলের দরজা সারারাত খোলা থাকে। তিনি নীলরংয়ের স্যুট পরেও পরে আবার ছাইরংয়ের স্যুটটা পারেন। তারপর লেডির সঙ্গে তার কথাবার্তা হয়। তিনি মিনিট কুড়ি তার ঘরে ছিলেন। তারপর সাড়ে দশটার সময় তার বন্ধুর সঙ্গে খেলতে বেরোন। রাত দেড়টার সময় তিনি ফেরীঘাট থেকে, যখন তিনি নৌকা না পান তখন তার বন্ধুর গাড়িতে রাত আড়াইটে নাগাদ এখানে ফিরিয়ে দিয়ে যান।

    লেভি ট্রেসিলিয়ানের সঙ্গে যে তার বাদানুবাদ হয় সেটা তিনি বললেন। তিনি ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে কিছু কথা বলেছিলেন। কিন্তু তারজন্য রেগে গিয়ে তার মাথা ফাটাননি। তার ছড়িতে যে তার আঙ্গুলের ছাপ আছে এটা শুনে তিনি বললেন যে এটাই স্বাভাবিক ছড়ির উপর আঙ্গুলের ছাপ থাকায় প্রমাণিত হয় ওটা তিনি ব্যবহার করেছিলেন শেষে।

    লেভিল বললো যে, কেউ দস্তানা পরে ওটা ব্যবহার করেছে।

    ব্যাটল বললেন, তাহলে আঙ্গুলের ছাপও মুছে যেত বা অস্পষ্ট হয়ে যেত। লেভিল বললেন যে, তিনি খুন করেননি। তার স্যুট থেকে রক্ত পাওয়া গেছে এটা শুনে বললেন, এটা হতেই পারে না।

    তিনি বললেন যে, লেভি ট্রেসিলিয়ানকে তিনি খুন করেছেন এটা হতেই পারে না। কারণ তিনি তাকে মায়ের মত ভালোবাসতেন। তার টাকার দরকার নেই। ব্যাঙ্ক থেকে ফোন করে মিঃ রোনাণ্ডসন জানালেন যে তাদের ব্যাঙ্কে তার বিস্তর টাকা আছে।

    ব্যাটল বললেন, তিনি খুনী না হলেও প্রমাণ তার বিপক্ষে যায়নি। তাই তাকে গ্রেপ্তার করা যায় না, যদি কোন মোটিভ পাওয়া যায় তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

    .

    ৪.৪

    কো স্টেড সাক্ষ্য দিতে এলেন। তিনি জানালেন রাত নটা নাগাদ তার ঘুম এসে যাওয়ায় তিনি শুতে যান। ড্রইংরুমে থেকে বেরিয়ে আসার পর তার সাথে আর দেখা হয়নি, কাল বিকালে তার স্বামীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। তাই তিনি খিল তুলে দিয়ে শুয়ে পড়েন। ঝগড়ার কারণ হল ওই মেয়েটি। লেভিলকে,যে ভুলিয়ে ভালিয়ে এখানে এনেছে। সে লেভিলকে দেখিয়ে টমাসের সঙ্গে মেলামেশা করছে এটা ট্রেডকে কষ্ট পাওয়ানোর জন্য, যাতে সে ঈর্ষায় জ্বলে। এটা হবে তিনি জানতেন। কিন্তু লেভিল ভাবে তিনি অড্রেকে হিংসা করেন। অড্রেকে ত্যাগ করে তার অন্যায় হয়েছে। ভালোবেসে তাকে বিয়ে করে লেভিল কিন্তু তার মন পড়ে রয়েছে অড্রের কাছে।

    ব্যাটলকে তিনি বললেন যে, তিনি জানেন যে, লেভি ট্রেসিলিয়ানের মৃত্যুর পর টাকাটা যাবে লেভিল ও তার স্ত্রীর হাতে। তিনি জানেন যে, লেভি তাকে বিশেষ ভালোবাসতেন না। তার মানে এই নয় যে, তার মৃত্যু এইভাবে তোক তিনি তা চেয়েছিলেন। তিনি অতটা স্বার্থপর নন।

    এরপর মেরি অল্ডিন বললেন, তিনি রাত্রি ১০টা নাগাদ শুতে যান, তিনি মিঃ স্টেডকে মেরীর সঙ্গে ঝগড়া করতে শুনেছিলেন। তার মনে হয় হত্যাকারী বাইরের লোক।

    ব্যাটল বললেন, এরকম ভাবতে না পারার কারণ আছে। প্রথমতঃ কোন কিছু খোয়া যায়নি, তাছাড়া দরজা ভেঙে বাইরের লোক কেউ যে ভেতরে ঢুকেছিল, এমন কোন প্রমাণ নেই, বাইরে থেকে কাউকে যদি এ বাড়িতে ঢুকতে হয় তাহলে দরজা জানালা ভেঙ্গে ঢুকবে কি করে? এ বাড়ির পশ্চিম দিকে গভীর খাদ, সেদিক থেকে কারও আসার উপায় নেই। অবশ্য পাঁচিল টপকে কিংবা ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে সদর দরজা খুলে কারো ভিতরে ঢোকা সম্ভব নয়। এমন কথা তিনি বলছিলেন। তাকে যে খুন করেছে সে রাত্রিতে ব্যারটের দুধের মধ্যে বিষ মেশাতে চেয়েছেন, দুধের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ব্যারেটকে অজ্ঞান করা বাড়ির লোকের পক্ষেই সম্ভব।

    এই কাজ লেভিলের নয় তিনি মনে করেন। এছাড়া টাকার লোভে সে মানুষ খুন করতে পারে না। তার বউ খরচে হলেও ইদানীং সে টাকাপয়সার কথা ভাবছিল না। কো আর অড্রেকে নিয়ে সে দারুণ দুর্ভাবনায় পড়ে গেছে, তার দুই বউকে নিয়ে। এই নিয়ে বাড়িতে একটা দারুণ অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে, সবাই ভয়ে ভয়ে আছে। এমনকি মিঃ ল্যাটিমার।

    মিঃ ল্যাটিমার হলেন কোর বন্ধু। লেভিলের সঙ্গে বিয়ে হবার আগে তিনি কো-কে চিনতেন, মিঃ ট্রেড তাকে পছন্দ করতেন কিন্তু লেডি তাকে পছন্দ করতেন না। ব্যারট অত্যন্ত বিশ্বাসী। সে পিসীমাকে ভালোবাসত। সে খুন করতে পারে না। সে টাকা পাবে উইল থেকে। সে মেরীও পাবেন।

    মেরী চলে গেল। এরপর অড্রে এল, সে মানুষ নয় যেন শ্বেতপাথরের মূর্তি। তিনি গতকাল রাতে দশটা নাগাদ শুতে গেছিলেন। তিনি রাত্তিরে কোন শব্দ শুনতে পাননি। প্রতিবছরের মতো এখানে তিনি বেড়াতে আসেন। মিঃ স্টেঞ্জের এটা আইডিয়া ছিল। আপত্তি করলে খারাপ দেখাত বলে তিনি তা করেননি। তাঁর প্রতি এখন তার কোন আক্রোশ নেই। মিসেস কো তাকে বিশেষ পছন্দ করে না। তাকে সে পছন্দ করে। সে বললো যে, লেভিল খুন করেনি কেননা টাকার লোভ তার নেই।

    .

    ৪.৫

    সর্বশেষে টমাস রয়েড, ব্যাটলের প্রশ্নের উত্তরে সে জানাল, যে মালয় থেকে তা প্রায় সাত বছর বাদে সে দেশে ফিরেছে। মিসেস স্টেঞ্জ তার দূর সম্পর্কের বোন, একই বাড়িতে তারা মানুষ হয়েছেন। সে আগের রাতের ১১টার আগে ঘুমোতে গেছিল। সদর দরজা বন্ধ করার শব্দ সে বুঝতে পেরেছিল। সে সচক্ষে তাকে বেরোতে দেখেননি। তিমি মিঃ স্টেঞ্জ দুই স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে কিছু জানেন না। তার আর্থিক অবস্থা সম্পর্কেও কিছু জানেন না। তিনি অত্যন্ত চাপা স্বভাবের তা বোঝা গেল।

    ব্যাটল বলছেন যে লেডির ঘরে মিঃ স্টেঞ্জের যে আঙ্গুলের ছাপ পেয়েছি সেটা যে তার, সেটা টমাস শুনেছেন।

    টমাস বললো যে, কে খুন করেছে সেটা তার বিচার নয়। তিনি মনে করেন না মিঃ স্টেও এটা করতে পারেন। টমাস বলেন যে তাকে একজনকেই সন্দেহ হয় কিন্তু সে তার নাম বলতে চাইল না। কেননা এটা তার ব্যক্তিগত ধারণা।

    কোর্টের হাতের রক্ত যে লিডিট্রেসি তা প্রমাণিত হল। লেভিলের দিকে সমস্ত প্রমাণ যাচ্ছে। ল্যাটিমার রাত্রে হোটেলে ছিল বলে সে সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ।

    এরপর আবার লেভিলকে ডেকে আনা হল। তাকে জিজ্ঞেসা করা হল এমন কাউকে সে ঘৃণা করে কিনা। সে এমন কাউকে জানে না। যে অড্রের উপর অবিচার করেছে বটে তারজন্য সে তাকে ক্ষমা করে দিয়েছে।

    ব্যাটল বলেন যে, তার বিরুদ্ধে এমনসব প্রমাণ পাওয়া গেছে যে তাকে তিনি বাঁচাতে পারতেন না। কিন্তু তার ক্ষেত্রে এমন একটি প্রমাণ পাওয়া গেছে তা তার ভাগ্য বলে বলা যায়। আগের দিন রাত্রে ট্রেসিলিয়ানের ঘর থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি ঘন্টি বাজিয়ে ছিলেন। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, তিনি চলে আসার পরও তিনি জীবিত ছিলেন। জ্ঞান হবার পর ব্যারট তা জানিয়েছে। লেভিল এটা শুনে অভিভূত হয়ে গেল।

    এরথেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় তার যে আঙ্গুলের ছাপ আছে এবং সেটা যে ওই ছড়ি দিয়েই খুন করা হয়েছে এমন কোন প্রমাণ নেই। কোন আততায়ী পরে গিয়ে খুন করে। অন্য কোন হাতিয়ার দিয়ে খুন করে এবং সন্দেহের জন্য গলফের ছড়িতে ট্রেসিলিয়ানের রক্ত ও চুল লাগিয়ে ছড়িটা ঘরে ফেলে রাখে।

    .

    ৪.৬

    ব্যারট হাসপাতালে জানান যে দুধ খেয়ে শুয়ে পড়ার পর লেভি ট্রেসিলিয়ানের ঘন্টি বাজে। ঘড়িতে তখন দশটা বাজে। সে নিচে নেমে সদর দরজা দিয়ে মিস্টার স্টেঞ্জকে যেতে দেখে। তিনি ছাই রংয়ের স্যুট পরেছিলেন। উপরে গিয়ে সেরকম কোন কথা তিনি বলেন না। তিনি তার বালিশ ঠিক করে উপরে চলে এলেন। তার মুখ দেখে একটু ক্লান্ত মনে হচ্ছিল।

    ডাক্তার ল্যাজনবি জানান রাত এগারোটা নাগাদ তিনি মারা গেছেন। লেভিল চলে গেছিল অনেক আগে তাই তাকে সন্দেহ করা যায় না।

    লেভিল রাতে কোথায় গেছিল, কোথায় ছিল সেদিকে বেশ ভালো নজর রাখা দরকার। আরও দেখা দরকার লেভিলের উপর কারো কোন আক্রোশ আছে কিনা।

    ডাক্তারের বাড়ি থেকে ব্যাটল চলে এলেন বিল আ জর্জ নামক মাঝির কাছে। যারা খেয়াপারাপার করে সকাল থেকে রাত্রি দেড়টা পর্যন্ত। তারা জানান রাত সাড়ে দশটার সময় মিঃ স্টেঞ্জ নদী পার হয়ে ওপারে গেছিলেন কিন্তু রাত দেড়টায়ও তিনি ফেরেননি।

    মিঃ ল্যাটিমারকে তারা দুজনে চেনেন।

    হোটেলে যেতেই তার সঙ্গে দেখা হল। তিনি বললেন যে, লেভিল কাল রাতে সেখানে এসেছিল। কিন্তু তার দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে সে কিছু জানে না। তার সাথে লেভির খুব ঝগড়া চলছিল এটা সে জানাল। হোটেলে ঢুকে লেভিল তার দেখা পায়নি। তিনি তখন লাউঞ্জে বসেছিলেন। লেভিল যখন আসে তখন তিনি হোটেলের বাগানে ঘুরে বেড়ালেন, যখন অনেক রাত হল তখন তারা বিলিয়ার্ড খেলায় মত্ত ছিল। যখন ফেরেন স্টিমার পাওয়া যায়নি। তখন তিনি তাকে গালস পয়েন্টে পৌঁছে দেন।

    ল্যাটিমার, সে হোটেলে দশটা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত ছিল। তারপর সাড়ে দশটা পর্যন্ত ল্যাটিমার লাউঞ্জে বসে গল্প করছিলেন। এবং এগারোটা থেকে সাড়ে এগারোটা তাকে তিনি হোটেলের বাগানে পায়চারী করতে দেখেছেন। এরথেকে প্রমাণিত হয় যে সে দশটা থেকে ১১টা পর্যন্ত হোটেলে ছিল তা প্রমাণিত হয়। ল্যাটিমার তাহলে খুনী নয়। তাহলে বাকী রইল কো, অড্রে, মেরী, টমাস ও ঝি-চাকরেরা।

    .

    ৪.৭

    টমাস বললো যে, তাদের মধ্যে একজন কেউ খুন করেছে এটা ভাবতেই খারাপ লাগছে। টমাস বললো, ব্যারেটোর সাক্ষ্যে দেখা যায় লেভিল খুন করেনি।

    মেরি বললো, মিঃ ট্রিভস একটি শিশুর কথা বলেছিলেন যে অপর একজনকে খুন করেছিল। এমন ধারণা হলো কেননা, সেই শিশু এখন বড় হয়েছে কিন্তু তার হত্যার নেশা এখনও কাটেনি। মিঃ ট্রিভস আসলে সেই শিশুটিকে চিনতে পেরেছিলেন। যে এখন বড়ো হয়ে আমাদের মধ্যে একজন হয়েছে। তাকে ছোট বেলায় হয়ত তিনি খুনী বলে বুঝতে পেরেছিলেন। এখন বড়ো হয়ে যদি সে কাউকে খুন করে তাহলে তিনি তাকে ক্ষমা করবেন না। কারণ নাম চেহারা বদলালেও তার শারীরিক লক্ষণ দেখে তাকে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন।

    টমাস বললো যে, লেভিকে যে খুন করা হবে এটা মিঃ ট্রিভস বুঝতে পেরেছিলেন। মেরী বললো, এখন তার মনে হচ্ছে যে ট্রিভসকেও একপ্রকার খুন করা হয়েছে। কেননা খুনী তার হার্টের কষ্টটাকে খুনের ক্ষেত্রে একটি উপসর্গ বলে ধরেছিল। তাই লিফটের কাছে নোটিশ ঝুলিয়ে রেখেছিল।

    .

    ৪.৮

    লেভি ট্রেসিলিয়ানের ঘরে ব্যাটল, জিমি, জোনস উইলিয়াম ছিলেন। ব্যাটল বললো যে, দরজার ওপর একটা পাল্লায় লম্বা দুটো পেতলের হাতল। একটার মধ্যে বাঁদিকের হাতলটা ঝকঝক করছে অথচ ডানদিকেরটা ময়লা হয়ে আছে। ব্যাটল জোনসকে বলতে সে ডানদিকের ওই ময়লা হাতলে আঙ্গুলের ছাপ পেল। বাঁদিকের হাতলে পেল না। ব্যাটল বললো, বাঁদিকের ওই ঝকমকে হাতল হল হত্যার হাতিয়ার। ⇒ডাইভার দিয়ে হাতল খুলে ওর আঘাতে লেভি ট্রেসিলিয়ানকে খুন করা হয়েছে।

    ব্যাপারটি ব্যাটল বোঝালেন যে খুনী দস্তানা পরে খুন করে। সে ভিজে নেকড়া দিয়ে রক্তমাখা হাতলটাকে মুছে ফেলেছে। আর মুছেছে বলেই হাতলটা ঝকমক করছে।

    জিমি খুব অবাক হল। ব্যাটল বললো, যে খুন করে হাতলটা আবার লাগিয়ে দেয় সে বোকা না হলেও চালাক নয়। চালাক হলে সে দুটো হাতলই মুছে রাখত। বাঁদিকে ঝকমকে হাতল থেকে খুব সম্ভব রক্তের দাগ লেগেছিল। ওটাকে ল্যাবরেটরীতে পাঠাতে বলা হল।

    .

    ৪.৯

    মেরি বাগানে ছিল, সে ব্যাটলকে বললো যে সত্যিই কি তিনি বিশ্বাস করেন যে বাইরের লোক খুন করেছে। ব্যাটল এ বিষয়ে নিঃসন্দেহ। তিনি বললেন যে, পিসীমা কারো অপকার করেননি। তিনি বাড়ির সকলকে ভালোবাসতেন। যে খুন করেছে সে উন্মাদ।

    ব্যাটলকে মেরী তার সন্দেহের কথা শোনালেন। এবং মিঃ ট্রিভসের গল্প ও সে বিষয়ে কথা বলতে ব্যাটলও সেই সন্দেহ সম্পর্কে একমত হলেন। তিনি বললেন যে, একই খুনী ট্রিভসকেও খুন করেছে।

    মেরির একটা শারীরিক লক্ষণ আছে। তার মাথার সমস্ত চুল সাদা শুধু একগুচ্ছ কালো।

    ব্যাটল দেখলেন ঘরে এ্যাটনী বসে আছেন। ঘরে লেভিল এলেন। লেভিল জানালেন সম্পত্তির অংশ পাবেন তার প্রথম স্ত্রী অড্রে। এ নিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে কোন আলোচনা হয়নি।

    ব্যাটল বললেন যে, এবিষয়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী জানেন না, তার মতে তিনি টাকা পাবেন এবং সম্পত্তির অংশ পাবেন। তার কথা শুনে এইরকম মনে হল।

    লেভিল বললো, কোর এখন টাকার দরকার নেই। বরং অড্রের এখন টাকার প্রয়োজন। অড্রের বর্তমান অবস্থা প্রশ্নে এ্যাটনী জানালেন বিচ্ছেদের দরুণ তিনি কোন টাকা লেভিলের কাছ থেকে নেননি।

    ব্যাটলকে জিমি বললেন, টাকার চাহিদাটা প্রায় সকলের ক্ষেত্রেই আছে। লেভি ট্রেসিলিয়ানের মৃত্যুর পর স্যার ম্যাথুর সম্পত্তির অর্ধেক পাবেন লেভিল আর অর্ধেক পাবেন অড্রে। সুতরাং স্বার্থের বিচারে তাদের উপরে আমার সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক। এদিকে কো যদিও কিছুও পাবে না, তবু তার ধারণা অড্রে নয় বাকী অর্ধেক ও পাবে। সে যদি লেভি ট্রেসিলিয়ানকে খুন করে থাকে তাহলে অবাক হবার কিছু নেই। টমাসের টাকার স্বার্থ নেই। মেরী, ব্যারট এদেরকেও তাহলে সন্দেহ করতে হয়। তবে তার মতে হেতুটা টাকা নয়, ঘৃণা বা অন্যকিছু।

    অ্যঙ্গার্য মার্কহোয়াটার যে আত্মহত্যা করতে গেছিল তার সত্যবাদিতার জন্য লর্ড কর্নেল তাকে দক্ষিণ আমেরিকার ফার্মে চাকরী করতে পাঠান। দিন কয়েক বাদে সে সেখানে যাবে। তার আগে সে এখানে বেড়াতে এসেছে। জীবনযুদ্ধে পরাজিত হয়ে সে একদিন আত্মহত্যা করতে এসেছিল। খাবার আগে সে জায়গাটাকে আবার দেখতে চায়।

    মার্ক হোয়াটার ইটারহেড হোটেলে উঠেছে। হোটেলের বারান্দায় বসে সে ওপারে পাহাড়ের দিকে তাকিয়েছিল। আজ তার কারো প্রতি কোন অভিযোগ নেই। সে দেশ ছেড়ে চলে যাবে।

    তার ভাবনায় ছেদ পড়লো। তার পাশের ঘরে থাকে ছোট্ট একটা মেয়ে ডায়না নামে। সে তার কুকুরকে নিয়ে লনে ঘুরছে, সেই মেয়েটি তাকে ডাকছে।

    হঠাৎ মার্ক হোয়াটারের মনে পড়ল তাকে একবার সালটিংটনে যেতে হবে। সেখানকার ড্রাইক্লিনিকে একটা আর্জেন্ট স্যুট কাঁচাতে দিয়েছে। সেটা আনতে হবে। হোটেল থেকে বেরিয়ে সে বাসে উঠল।

    দোকানে বললো, তার স্যুট এখনও কাঁচা হয়নি। সে ভয়ানক রেগে গেল এবং তার স্যুট ফেরত দিতে বললো।

    হোটেলে ফিরে সে কাগজ খুলে দেখল। সে তো একটা গাঢ় নীল রঙের স্যুট কাঁচতে দিয়েছিল। স্যুটের মধ্যে লেভেলের নাম লেখা থাকলেও এটা তার স্যুট নয়। সেই স্যুট থেকে একটা পচা গন্ধ বের হচ্ছিল। ওটা কিসের দাগ সে বুঝতে পারল না। সে ওই স্যুট নিয়ে ড্রাই ক্লিনিকে দেবে ঠিক করল।

    .

    ৪.১০

    রাত্তিরের খাওয়া চুকিয়ে ইটারহেড হোটেলে বেরিয়ে এল মার্কাহোয়াটার। ব্যালমোরাট কোর্টের সামনে খানিকটা যেতেই তার চোখে পড়ল গালস্ পয়েন্ট সেখানে একজন বৃদ্ধা খুন হয়েছে।

    সে পাহাড়ের সেইখানে এসে দাঁড়াল, যেখানে সে মরতে চেয়েছিল কিন্তু মরতে পারেনি। তার জীবনে সঙ্গীর অভাব আজ তার তীব্রভাবে লাগছে। তার পত্নী মোনার কথা তার মনে হল সে যার জন্য মরতে চেয়েছিল। হঠাৎ সে দেখল একটা পরীর মত মেয়ে খাদের দিকে ছুটে আসছে। তাকে বাঁচাল সে। বললে তাকে সে মরতে দেবে না। মেয়েটি তার হাতে পাখির মত ছটফট করছিল। তাকে সে বললো, আত্মহত্যা করা মহাপাপ। তার দুঃখের কাহিনী শুনতে চাইল। সে যে অড্রে, মিঃ স্টেঞ্জর প্রথম স্ত্রী এটা সে বুঝতে পারল। তার স্বামীকে সবাই খুনী বলছে এটা সে মেনে নিতে পারছে না। তার মতে আসল খুনী তার স্বামীকে খুনী হিসেবে সাব্যস্ত করতে চায়। আসলে সে তার পূর্বতন স্বামীকে ভালোবাসে। এখনও সে তার স্বামীকে ফাঁসিকাঠে ঝুলতে দিতে চায় না। তাকে ফাঁসিকাষ্ঠে যাতে ঝুলতে না হয় তার ব্যবস্থা সে করবে বললো।

    .

    ৪.১১

    বাড়িতে মেরী একা ছিল। কিন্তু তার মন অবসন্ন। আজ জেরা কেউ করছে এই বিষয়ে সে বেশ আগ্রহী।

    তার চাকর জানাল মিঃ মার্ক হোয়াটার নামে একজন ভদ্রলোক, যে অড্রের বন্ধু সে তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। তাকে মেরী জানালেন যে অড্রে এখানে নেই। তিনি একগোছা লম্বা দড়ির খোঁজে এখানে এসেছেন। মেরী কিছু না প্রশ্ন করে বললো যে, মালীর ঘরে হয়তো দড়ি পাওয়া যাবে।

    মার্কহোয়াটার মালির ঘরে দড়ি পেলেন না। তখন মেরী বললো যে, সিঁড়ির নীচে কুঠুরী আছে। যেখানে নানারকম জিনিসের মধ্যে (নিত্য প্রয়োজনী জিনিস নয়) দড়িও হয়তো পেতে পারেন।

    মার্কহোয়াটার কুঠুরী থেকে লম্বাদড়ি বের করে নিলেন এবং মেরীকে বললো যে, কুঠুরীর ভিতরে সবকিছুর উপর ধুলো জমে আছে। কিন্তু দড়িটাতে কোন ধুলো লেগে নেই, একটু স্যাঁতসেঁতে মনে হচ্ছে।

    তিনি মেরীকে বললেন তিনি দড়ি নিতে আসেননি। তার মনে হয়েছিল বাড়িতে একটা দড়ি থাকতে পারে সত্যিই আছে কিনা সেটা দেখতে এসেছিল। যাইহোক দড়িটাকে ওই কুঠুরীর মধ্যে আবার রেখে দিল। তারপর কুঠুরীর দরজায় তালাদিয়ে চাবিটা মেরীকে দিয়ে বললো, এটা এখন আপনার কাছে রাখুন পরে সুপারিন্টেন্টে ব্যাটল বা ইনসপেক্টরকে দিয়ে দেবেন।

    মেরী কিছুই বুঝতে পারছিল না। মার্ক হোয়াটার বললো, বোঝার কিছু দরকার নেই বলে বেরিয়ে গেল।

    বাড়ির সকলে এসেছিল এক জায়গায়। ব্যাটল বললো যে, তাদের সকলকে বাধ্য হয়ে বিরক্ত করতে হল। ব্যাটল তার পকেট থেকে নরমচামড়ার হলুদ রংয়ের ছোট্ট দস্তানা বার করলো।

    অড্রেকে জিজ্ঞেস করলো এটা কার।

    অড্রে মেরী দুজনেই বললো, তাদের নয়। কোর হাতে দস্তানাটা ঢুকল না। পরে অড্রের হাতে সেটি ঢুকল। লেভিল বললো যে, অড্রে জানিয়েছে ওটা ওর দস্তানা নয়।

    ব্যাটল বললেন, এর জোড় দস্তানাটা তিনি তার ঘরের পাশে আইভিলতার ঝাড় থেকে পেয়েছেন। অড্রে বললেন যে, সে হয়ত ভুল বলেছিল। তার মানে একইরকম দস্তানা পাওয়া ভুল নয়।

    লেভিলকে ব্যাটল অন্যঘরে ডাকলেন। তাকে ব্যাটল বললেন যে, গলফের ছড়ি দিয়ে নয়, লেভি ট্রেসিলিয়ানকে তার ঘরের দরজায় লম্বা একটা হাতল দিয়ে খুন করা হয়েছে। হাতলের ওজন কম নয়। তবে হ্যাঁ হাতলটা যে খুনের হাতিয়ার তা তারা বুঝতেন না যদি না পাশাপাশি হাতলের মধ্যে একটি ময়লা আর অন্যটা পরিষ্কার না থাকতো। পরিষ্কার হাতলে লেভির রক্ত পাওয়া যায়।

    লেভিল বললো, এরজন্য কেন অড্রেকে সন্দেহ করা হচ্ছে?

    ব্যাটল বললেন, হাতলের ছাপ থাকা অসম্ভব কারণ খুনী নিশ্চয়ই দস্তানা পরে ওই হাতলটা ব্যবহার করেছিল। এইরকম কথাবার্তা চলাকালীন অড্রে এসে সেই ঘরে ঢুকলো।

    ব্যাটল এতে অসুবিধা বোধ করল না। লেভিল জানাল যে তার কোর্টের হাতায় অড্রের চুল আটকে যায়। তাই তার নীলরঙের স্যুটে কালো লম্বা মেয়েদের চুল ছিল। ব্যাটল এই কথায় মোটেও খুশী হলেন না। তিনি বললেন যে, তার কোটের হাতায় যে চুল পেয়েছি তার রং লাল। কালো চুল পেয়েছি কলারে আর কাঁধে।

    ব্যাটল বললেন, ওই কোটে প্রাইমোভেরা ন্যচুয়াল পাউডারের গন্ধ পাওয়া গেছে, যে পাউডার মিসেস অড্রের। মিসেস অড্রের বা হাতের দস্তানা যেটায় রক্ত লেগে আছে মিস্টার ব্যাটল সেটা দেখালেন। তিনি বললেন যে, অড্রে ন্যাটা সেটা তিনি দেখেছেন। কেননা সে বাঁহাতে সিগারেট ধরে। খুনী যে ন্যাটা তাতে সন্দেহ নেই। আঘাত করা হয়েছে সামনে থেকে এবং আঘাত করা হয়েছে তার ডান কপালে এবং যেদিকে মাদামের আঘাত লেগেছিল একজন ন্যাটার পক্ষেই সেখানে আঘাত করা সম্ভব।

    লেভিল এটা ব্যাটলকে বোঝাতে চান যে, অড্রে টাকার লোভে লেডিকে খুন করেনি।

    ব্যাটল বললেন যে, অড্রে তার উপর মনে মনে অখুশী। তাই তাকে শাস্তি দেবার জন্য তিনি নিজে তাকে খুন না করে সে খুনের দায়টা লেভিলের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। তিনি এমন ভাবেই নির্বাচন করে খুনটা করেন। লেভি ট্রেসিলিয়ানের সঙ্গে যে রাত্রে তার ঝগড়া হয় তিনি বেরিয়ে যাবার পর খানিকবাদে তার পরিত্যক্ত নীলকোট পরে হাতল দিয়ে খুন করে। হাতল ধুয়ে মুছে, গলফের ছড়িতে ট্রেসিলিয়ানের ঘরে তার চুল, রক্ত লাগিয়ে রাখেন তারপর ওয়ার্ডডোবে তার কোর্টটা রাখেন। এর একমাত্র উদ্দেশ্য তাকে ফাসানো। কিন্তু লেভিল বেরিয়ে যাবার পর যে লেভি ঘণ্টা বাজান এটা সে বুঝতে পারেননি। তাই তিনি ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেছেন।

    লেভিল তা মানতে চাইল না। আসলে অড্রে যে খুনী নয় এটা লেভিল বলতে চায় বার বার কিন্তু পুলিস তাকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করবে বলে ঠিক করেছে।

    টমাস বললো যে, অড্রে লেভিলকে ত্যাগ করে তার দাদা অড্রিয়ানের সঙ্গে চলে যায়। যিনি কয়েকদিন পর মারা যায়। অড্রে নিজে বিবাহবিচ্ছেদ মামলা নিয়ে আসে যাতে কলঙ্ক লেভিলের উপর পড়ে। এসব ঘটনা অড্রিয়ানের চিঠির থেকে টমাস জানতে পারে।

    লেভিলকে অড্রে ঘৃণা করে না বরং তার মনে যাতে দুঃখ না হয় এইজন্য সে কয়েকদিন তার সাথে কাটাতে চেয়েছিল। তার খুন করার কোনো উদ্দেশ্য নেই।

    ব্যাটল তথ্য প্রমাণের জন্য তাকেই খুনী মনে করছেন। তিনি যদি তাকে খুনী না মানেন তাহলে এমন কেউ খুন করেছে, সে যে এমনভাবে প্রমাণ সাজিয়েছে, যাতে তিনি খুনী বলে প্রতিপন্ন হন।

    ব্যাটল তাই প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে ধরতে চায়। ব্যাটল বললেন যে, উপস্থিত প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি তাকে গ্রেপ্তার করবেন। পরে যদি তা জাল মনে হয় তাহলে যা করবার করবেন, ব্যাটল ঘরে ঢুকতে অড্রে উঠে দাঁড়িয়ে বললো যে, তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য এসেছেন।

    অড্রে উৎকণ্ঠা থেকে বাঁচল যখন তাকে গ্রেপ্তার করা হলো না।

    মিঃ মার্ক হোয়াটারের উদয় হলো। তিনি ব্যাটলকে বললেন যে, সোমবার রাত্রে তিনি যা দেখেছেন তার গুরুত্ব কতখানি তিনি বুঝতে পারেননি, কিন্তু তিনি সোমবার রাতে যে জিনিসটা এ বাড়ির দিকে তাকিয়ে এ বাড়িটার মধ্যে যা দেখেছিলেন, খুনের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে।

    কে হঠাৎ অড্রেকে বললো যে, সে জেনেছে অড্রে খুন করেছে। লেভিল তাকে চুপ করাল। ইনসপেক্টর জেনে যাবার জন্য অড্রেকে জামাকাপড় গুছিয়ে নিতে বললেন। ব্যাটল বললেন যে, ভদ্রলোক বড় অদ্ভুত কথা বললেন।

    লেভিল অড্রের জন্য এ্যাটর্নী দাঁড় করাতে চান। ব্যাটল বললেন যে, মার্কহোয়াটার যা বললেন, তাতে মনে হয় তাকে একটা ছোট্ট এক্সপেরিমেন্ট করতে হবে।

    অড্রে চলে গেল, মিঃ মার্ক হোয়াটারের সঙ্গে ব্যাটল একটা এক্সপেরিমেন্টের জন্য ফেরীঘাটে যাওয়া হল।

    .

    ০৫.

    ৫.১

    রহস্য উপন্যাসে একেবারে গোড়াতে কেউ না কেউ খুন হয়ে যায়, ব্যাটল বললেন। তিনি মনে করেন ক্লাইম্যাক্স খুনের জন্য প্ল্যান করতে হবে। আর সেই প্ল্যান অনুযায়ী একটু একটু করে এগোতে হয়। একটু একটু করে চক্রান্তের জাল বিছিয়ে যেতে হয়। খুন হচ্ছে চক্রান্তের শেষ পরিণতি।

    ব্যাটল বললেন, এই ঘটনায় বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে। এখানে নাটকের পঞ্চম অঙ্কের শেষ দৃশ্য ঘটেছে।

    ব্যাটল মনে করেন লেভির খুন পরিণতির পথে এটা একটা সোপান মাত্র। খুনী আসলে লেভিকে খুন করে দুসেট প্রমাণ সাজিয়ে রেখেছিল। প্রথম সেটটা লেভিল স্টেঞ্জের বিরুদ্ধে এবং দ্বিতীয়টি অড্রের বিরুদ্ধে। খুনী জানত প্রথমটি ভুয়ো হলে তার নজর গিয়ে পড়বে দ্বিতীয়টির উপর। কিন্তু দ্বিতীয় সেটের প্রমাণগুলিকে আমরা সাজানো বলে সন্দেহ করতে পারি। এটা সাজানো প্রমাণ বলে সন্দেহ হয়েছে। অড্রের চিরুনী থেকে খানিকটা চুল আর খানিকটা পাউডার লেভিলের কোটে বসানো হয়েছে। খুনী দস্তানাটা আগে চুরি করে সেখানে লেভির রক্ত লাগিয়ে সেটাকে আইভিলতার ঝাড়ের মধ্যে ফেলে দেয়। অড্রের বিরুদ্ধে যেসব প্রমাণ পেয়েছি সেগুলি অকাট্য প্রমাণ।

    অড্রে যে নির্দোষ তা তার মনে হয়েছে। কিন্তু তার প্রমাণ যতক্ষণ না জাল বলে প্রমাণিত হয় ততক্ষণ তাকে তিনি দোষী ভাবছেন।

    মিঃ মার্কহোয়াটার বলেন সোমবার রাত্তিরে তিনি ইটারহেড হোটেলের বারান্দায় বসেছিলেন। তার হাতে দূরবীনও ছিল। সেই দূরবীন রাত ১১টা নাগাদ সে চাঁদের আলোয় স্পষ্ট দেখে গালস পয়েন্টের জানালা থেকে দড়ি ঝুলছে। পাঁচিলের উপর দিয়ে সেই দড়ির প্রান্ত নদীর উপর এসে পড়েছে। নদীর মধ্যে থেকে আবছায়া একটা মূর্তিকে তিনি গাল পয়েন্টের দোতলায় উঠে যেতে দেখেছেন।

    মেরী বললো, তাহলে খুনী বাইরের লোক। ব্যাটল বললেন, সে বাইরে থেকে গালস পয়েন্টে ঢুকেছিল বটে তবে সে বাইরের লোক নয়। নদীর ওপার থেকে সাঁতরে সে এপারে এসেছিল। কিন্তু ওপারে গিয়ে গালস্ পয়েন্টের ভিতরে কোন বন্ধু তার জন্য দড়ি ঝুলিয়ে রেখেছিল। ব্যাটল বললেন, রাত এগারোটার সময় কেউ এখানে এসেছিল। বিভিন্ন লোক ইটারহেড হোটেলে আসা যাওয়া করেন।

    এখন সবাই যদি বলেন তারা হোটেলেই আছেন, তাহলে সবাই সত্যি বলছেন এটা নির্ভরযোগ্য নয়। ল্যাটিমারের দিকে তাকাতে তিনি বললেন তিনি সাঁতার কাটতে জানেন না। তিনি মিঃ ল্যাটিমারকে জলে ফেলে দিলেন। মিঃ জোনস্ তাকে বাঁচিয়ে আনলেন এর থেকে প্রমাণ হল যে তিনি সত্যি সাঁতার জানেন না। কিন্তু সেই ব্যক্তি?

    মিঃ ব্যাটল তখন স্টেঞ্জকে বললেন যে, তিনিই সাঁতরে এদিকে এসেছিলেন দশটা পঁয়ত্রিশে। এগারোটার সময় তার বন্ধুর সঙ্গে তার দেখা হয় তাহলে মাঝের সময়টা তিনি কি করছিলেন? তিনি বলতে চাইলেন তিনি তার বন্ধুকে খুঁজছিলেন। কিন্তু ব্যাটল বললেন এটা ভুল কেন না অতক্ষণ ধরে কারোকে খোঁজা সম্ভব নয়। তিনি স্টীমার থেকে নেমে আবার ওপরে চলে যান। তারপর দোতলায় উঠে আমি লেভিকে খুন করি এটা বললো লেভিল।

    ব্যাটল বললেন, হ্যাঁ, তিনি দড়িবেয়ে তার ঘরে ওঠেন, যে দড়িটা আগেই তিনি উপরে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। তার ঘরে জল ঝরতে দেখেছিলেন। তিনি নিজের ঘর থেকে লেভির ঘরে গিয়ে তাকে খুন করেন। তারপর হাতলটা ধুয়েমুছে রাখেন এবং তার আগে তিনি অড্রের দস্তানা চুরি করে রক্ত লাগিয়ে আইভিলাতার ঝড়ে ফেলে আসেন এবং দড়িটা অকেজো জিনিসপত্রের ঘরে ফেলে আসেন। এইসব তিনি অড্রের স্টেঞ্জকে ঘৃণা করেন কেননা সে তাকে ত্যাগ করে অড্রিয়ানের কাছে চলে গেছিল বলে সেইজন্যই করেছেন।

    আসলে তিনি বাল্যকাল থেকে অপ্রকৃতিস্থ, ছোটবেলায় তিনি একটি শিশুকে খুন করেন। অড্রেকে তিনি ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলাবেন বলে এইটি করেন, তিনি দুসেট প্রমাণ সাজান, যাতে পুলিস বিভ্রান্ত হয়। নিষ্কৃতি অড্রে পেতেন না যদি না টমাস বলে বসতেন যে তাকেই ত্যাগ করেছেন অড্রে। আসল খুনীকে বের করার জন্য মার্কহোয়াটার এলেন। আসলে তিনি চালাক মনে করলেও তিনি মূর্খ উন্মাদ।

    হঠাৎ বলে উঠল লেভিল যে সে পাগল নয়। যদি মার্কহোয়াটার দেখতে না পেত তিনি কোনদিন ধরা পড়তেন না।

    .

    ৫.২

    অড্রে বললেন যে, তার সারাটা সময় ভয়ে কাটত। লেভিলকে তিনি ভয় করতেন। এক এক সময় মনে হত তার যে তিনি মনে হয় পাগল হয়ে যাচ্ছেন। আসলে লেভিল নিজেও পাগল হয়ে যাচ্ছিলেন।

    তিনি নিজের উপর রাগ পুষে রাখতেন এবং তারজন্য তিনি কেমন হয়ে যাচ্ছিলেন। অড্রিয়ান তার বন্ধুকে তিনি বিশ্বাস করেন। তার সাথে তিনি পালিয়ে ছিলেন। সে মোটর অ্যাক্সিডেন্টে মারা যান। অড্রের মনে হয় এটা ঘটানো হয়েছে। এমনসময় একদিন সে লেভিলের ঠিকানা জোগাড় করে তার সাথে দেখা করতে আসে তারপর তাকে সে ডিভোর্স দিতে চায়।

    অড্রে ডিভোর্স নেয় এর জন্য সে কোন টাকা নেয়নি। তারপর সে আবার বিয়ে করল। গালস। পয়েন্টে যখন সে বউকে নিয়ে এল তখন অড্রেকে ডেকে আলাপ করিয়ে দেবার জন্য তাকে ডাকা হল। অড্রে সহৃদয় ভাবেই তার ডাকে সাড়া দিল। এই ভাবেই সে তার ফাঁদে পড়ল। কিন্তু অড্রে ভাবতে পারেনি এরকম কিছু ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটবে।

    ব্যাটল বললেন, প্রত্যেকের একটা না একটা কিছু শারীরিক লক্ষণ থাকে। লেভিলেরও আছে। তার বাঁহাতের কড়ে আঙ্গুল ডান হাতের কড়ে আঙ্গুল থেকে ছোট। মিঃ ট্রিভস বলেছিলেন খুনীর একটা শারীরিক লক্ষণ আছে।

    অড্রে জানাল মিঃ ট্রিভস এবং ল্যাটিমার যখন গল্পে মেতে ছিলেন তখন লেভিল লিফটের সামনে নোটিশ লাগান।

    মিঃ মার্কহোয়াটারের সাক্ষ্য এক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করছে। তিনি দেখেছিলেন কে একজন দড়ি বেয়ে গালস পয়েন্টের দোতলায় উঠেছে। তার আগে ড্রাইক্লিনিকের ব্যাপারে তার সন্দেহ হয়। তিনি সে স্যুটটি পান তাতে পচা মাছের গন্ধ ছিল। ওটি মিঃ স্টেঞ্জের স্যুট ছিল। সোমবার রাতে গালস্ পয়েন্ট থেকে বেরোবার পর তার পরনে ছিল ছাইরঙের স্যুট। স্টিমারে পার হয়েই অন্ধকারে তিনি স্যুটটি খুলে নদীর টিলারের ফোঁকরে রাখেন যেখানে মাছ ছিল। তারপর খুন করে ওপারে যাবার পর ছাইরঙা স্যুটটা পরেন। তার কোর্টের থেকে একটা পচা মাছের গন্ধ পাওয়া যায়। যা ইটারহেড হোটেলের কর্মচারীরাও পেয়ে থাকে। মার্কহোয়াটার তিনি সালটিংটনে একটা ড্রাই ক্লিনিক থেকে তার স্যুটটা আনতে গিয়ে দেখেন তার স্যুটটা বদলে যায়। সেই স্যুট দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে এটা পড়ে কেউ নদীতে সাঁতার কেটেছিল যা রেখে ছিল পচা মাছের কাছে। দুয়ে দুয়ে চার হওয়াতে তার অসুবিধে হয়নি। তিনি তাই তা পুলিসকে জানান।

    ব্যাটল বললেন যে, লেভিল ঘর থেকে বার হয়ে যাবার পর একটা ঘণ্টা বেজেছিল। আসলে ঘন্টা লেভি বাজাননি, আসলে মিঃ লেভিল নিজের অ্যালবাই পরিষ্কার রাখার জন্য ঘন্টাটা বাজায়। ঘন্টা বাজার পর ব্যারট ওপরে যাবার পর লেভি বলতে পারেননি কি কারণে ঘণ্টা বাজানো হয়েছে।

    তিনি ব্যারটকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রাখলেন। এর কারণ যাতে পুলিস বাইরের কাউকে সন্দেহ না করে। কো যাতে তার প্রতি নজর না দেয় এরজন্য অড্রের প্রতি তিনি বেশ অন্তরঙ্গ ব্যবহার করেন, যার জন্য কো রেগে যান এবং ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। তাই তার পক্ষে কোন সাক্ষী থাকবে না। তিনি ন্যাটা নন কিন্তু এমনভাবে মেরেছেন যাতে মনে হয় ন্যাটা কেউ খুন করেছেন। তিনি টেনিস খেলেন। এইজন্য ব্যাকহ্যাণ্ড মেরে ন্যাটা লোকের কাজ বলে খুনটা প্রতিপন্ন করতে চান।

    ব্যাটল বললেন, অড্রেকে দেখে তার নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। তাই তাকে তিনি বাঁচাতে চেয়েছিলেন। তাকে ব্যাটল আবার নতুনভাবে বাঁচার পরামর্শ দিলেন।

    .

    ৫.৩

    ইটারহেড হোটেলের কামরায় মার্কহোয়াটার তার স্যুটকেসটা গোছাচ্ছিল। অড্রেকে জানাল সে দক্ষিণ আমেরিকায় যাচ্ছে।

    অড্রে তাকে জানালেন তিনি তার প্রাণ বাঁচিয়েছেন বলে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন। তাকে দেখে মার্কের মনে হয়েছিল তিনি নির্দোষ। কিন্তু তিনি নির্দোষ না হলেও তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতেন। আসলে তিনি পুলিসের কাছে মিথ্যে বলেছিলেন। সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল তিনি তাই চাঁদের আলোয় দড়ি দেখতে পারেননি। তার দেখার কথাটা মিথ্যে হলেও ঘটনাটা মিথ্যে নয়। কোর্টের কাঁধে দাগ দেখেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সেই রাতে কেউ সাঁতার দিয়ে নদী পার হয়ে দড়ি দিয়ে উপরে উঠেছিল। সে গালস পয়েন্টের কুঠুরীতে গিয়ে ভিজে দড়িটা আবিষ্কার করেন। যদি তিনি বলতেন এটা তার অনুমান তাহলে পুলিস তাকে পাত্তা দিত না। তাই সে বললো যে, সে এটা সচক্ষে দেখেছে। আসলে সে মিথ্যে না বললেও সে মনে করে নির্দোষকে বাঁচানোর জন্য মিথ্যে বলা উচিত। সে ভালোবাসে অড্রেকে তা বলে তার জীবনের সঙ্গে তাকে জড়াতে চায় না, তিনি এদেশ থেকে চলেই যাচ্ছেন। তিনি তার জীবন থেকে দয়া করে মুছে ফেললেন।

    আসলে লেভিল তা স্বীকার করেছিল। তবে ঘটনাটা সত্যি ছিল বলে ইনসপেক্টর বুঝতে পারলেও তিনি সন্দেহ চেপে রাখেন। সেইজন্য তিনি বলেন লেভি যেদিন খুন হন সেদিন রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল।

    মার্ক বললেন যে, লেভিলের স্বীকারোক্তির পর তাদের কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে। তাই তাকে আর সাক্ষ্য দিতে হবে না। তিনি জাহাজে ওঠার জন্য তৈরী হচ্ছেন।

    অড্রে বললো, সে তার সঙ্গে যেতে চায়, কেননা তার মত আর কাউকে সে পাবে না।

    টমাস অড্রেকে ভালোবাসে, অড্রে মনে করে মেরীকে সে বিয়ে করলে সে অনেক সুখী হবে।

    কিন্তু আমার সঙ্গে যে তোমাকে নিয়ে যাব তার আগে তো আমাদের বিয়ে হওয়া দরকার। স্পেশাল লাইসেন্স নিয়ে যে বিয়ে করব তারজন্য তো বেশকিছু টাকা লাগবে। আমার পকেটটা শূন্য। কাল সকালেই তাহলেই একবার ব্যাঙ্কে যেতে হয়।

    ব্যাঙ্কে যাবার দরকার নেই। ও টাকা তোমাকে আমিই দিচ্ছি।

    না। মার্কহোয়াটার বললো, বিয়ে যদি করতে পারি তাহলে লাইসেন্সের টাকাও আমি দিতে পারব। অড্রের কাঁধে হাত রাখল মার্কহোয়াটার। বললো, প্রথম যখন আমি তোমাকে দেখি, মনে হয়েছিল আমি মানুষ না পাখি। মনে হচ্ছিল ভয় পেয়ে পালাতে চাইছ। অড্রে মার্কহোয়াটারের দিকে তাকিয়ে বললো, আর পালাতে চাইব না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }