Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2514 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১. হলিউডের নাইট ক্লাব

    হাউস অব ডেথ

    হলিউডের অভিজাত একটা নাইট ক্লাবের সামনে একজন পায়চারি করছে। এখানে মদ, খাবার দাবারের দাম খুবই বেশী।

    এখানে নর্তকী কাউকে শয্যাসঙ্গিনী করতে পারলে মানুষ বর্তে যায়। দেখা করে প্রথমে স্তোতবাক্য দিয়ে শুরু, পরে ফুল উপহার এবং মন-মেজাজ ভালো থাকলে অপরপক্ষ রাজী হয়ে যায়। তবে সচেতনভাবে বিপদ এড়িয়ে চলে তারা।

    যাক এসব কথা। লোকটির পরণে নিখুঁত ইভনিং স্যুট, চকচকে জুতো, দামী ঘড়ি। বয়স চল্লিশ পেরিয়ে গেছে।

    নাইট ক্লাবের সামনে পায়চারী করতে করতে সহসা ছিটকে বাইরে বেরিয়ে এসে টাল খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল প্রায়। দেখলেই বোঝা যায় মদ খেয়ে চুর হয়ে আছে।

    লোকটি এলোমেলো পায়ে বড় রাস্তার দিকে এগোতে থাকলো। কিছু দূরে একটি লোক দাঁড়িয়েছিল। হঠাত্র সে দেখলো একটি গাড়ি প্রচণ্ড গতিতে মাতাল লোকটির দিকে এগিয়ে আসছে। সে তাড়াতাড়ি হ্যাঁচকা টানে তাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচালো। প্যাকার্ড গাড়ির চালক অশ্লীল ভাষায় কিছু বলে একই গতিতে বেরিয়ে গেল।

    মাতাল লোকটি নিশ্চিত বিপদের আকস্মিকতায় কিছুটা হুঁশ ফিরে পেয়েছে।

    মাতাল লোকটি ধন্যবাদ জানিয়ে বলল, আমার গাড়ি আছে, তাতে চেপে বাড়ি যাবো।

    কিন্তু অপর লোকটি বলল, না না, এ অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না, বিপদ ঘটতে পারে।

    মাতাল লোকটি বলল, তোমাকে আমার সঙ্গে যেতে হবে। কৃতজ্ঞতাবোধ বলে তো একটা কথা আছে, চলো তোমাকে মদ খাওয়াবো।

    লোকটি ভাবে, মাতাল লোকটি বেশ বড়লোক হবে, পোশাক-আশাক সে কথা বলে দিচ্ছে। দেখা যাক, কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

    মাতাল লোকটি তাকে জিগ্যেস করে, তা তোমার নামটা কি?

    -ন্যাশ। গ্লিন ন্যাশ।

    ন্যাশ সামনে দাঁড়ানো গাড়িটার দিকে তাকাল।রোলস-টা দামী বটে। স্টিয়ারিং হুইলে চোখ পড়ে। ওখানে লাগানো লাইসেন্সে মালিকের নাম লেখা আছে। সে থাকে হলিউডে, ঠিকানাটাও আছে।

    মিঃ আর্ল ডেস্টার।

    ২৫৬, হিল ক্রেসুট অ্যাভেনিউ।

    এদিকে ডেসটার নরম গদীতে গা এলিয়ে নাক ডাকা শুরু করেছে। ন্যাশ রাস্তার নাম, বাড়ির নম্বর মিলিয়ে নির্দিষ্ট বাড়ির সামনে হাজির হয়।

    –মিঃ ডেসটার, উঠুন বাড়ি এসে গেছে। ন্যাশ ওকে ধাক্কা মেরে বলে, সদর দরজা বন্ধ।

    –ও সরি, বলে পকেট হাতড়ে ন্যাশের দিকে চাবিটা এগিয়ে দেয়।

    ন্যাশ সদর খোলে। তারপর ডেসটারকে বৈঠকখানার দিকে নিয়ে গেল। ডেসটার আবার হুইস্কি খেতে চায় আর ন্যাশকেও এক পেগ নিতে বলে। নাছোড়বান্দা ডেসটারকে শেষপর্যন্ত হুইস্কি দিল আর নিজেও নিল। ন্যাশকে ডেসটার জিগ্যেস করল, সে কি করে?

    –বিজ্ঞাপনের দালাল বলতে পারেন। কমিশনের কাজ।

    –কত কমিশন পাও?

    সপ্তাহে কোন ঠিক নেই। সময় ভালো গেলে সপ্তাহে কুড়ি ডলার পাই।

    –এটা কিন্তু অন্যায়, ওতে কারুর চলে নাকি?

    –হ্যাঁ, বড্ড কষ্টে আছি। একটা কোথাও ভালো কাজ পেলে বেঁচে যেতাম।

    –ডেসটার তাকে ড্রাইভারের কাজ দিতে চায়। ন্যাশ আপত্তি জানায় না। সপ্তাহে পঞ্চাশ ডলার দেওয়া হবে ঠিক হল। সঙ্গে থাকা-খাওয়া ফ্রি। ঘরের টুকিটাকি আরো কিছু কাজ করতে হবে। ন্যাশ তার সঙ্গে আরো কথা বলে জানলো যে, লরেন্স বলে তার একজন ড্রাইভার ছিল। সে পালিয়েছে, কিছু চুরি-টুরি করেনি।

    হঠাৎ ন্যাশ একজন মহিলার কণ্ঠস্বর শুনতে পেল। হলিউড মাপকাঠিতে ঠিক সুন্দরী পর্যায়ে তাকে ফেলা যায় না। বয়স বছর বাইশ হবে। দুধে আলতা গায়ের রং, সবুজ চোখ। স্লিম ফিগার।

    ডেসটার জানালো সে তার স্ত্রী। স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বলল, এর নাম ন্যাশ। আজ থেকে ও আমাদের ড্রাইভার। আজ ও আমার প্রাণ বাঁচিয়েছে।

    হেলেনের মুখের ভাব দেখে মনে হল, তার আগমনে সে অপ্রসন্ন।

    ন্যাশের মনে হল, ডেসটার কোনরকম বিপদে জড়িয়ে পড়েনি তো? এবং সে বিপদ হেলেনের তরফ থেকে আসছে না তো? এখানে ড্রাইভারের চাকরি নেওয়া মানে চব্বিশ ঘন্টা ঘুরঘুর করতে হবে ঐ হেলেনের পাশে।

    ন্যাশের বয়স ছাব্বিশ সাতাশ হবে। পেটানো স্বাস্থ্য, চওড়া কাঁধ, গায়েরং রং তামাটে।

    ন্যাশ ডেসটারের দিকে ফিরে বলে, মিঃ ডেসটার, চাকরিটা পেয়ে খুশী হলাম ধন্যবাদ।

    –তুমি গ্যারেজে গাড়ি তুলে, গ্যারেজের উপরে একটা ঘর আছে, ওখানে শুয়ে পড়ো।

    –ঠিক আছে, গুডনাইট।

    –গুডনাইট!

    ন্যাশ ঘরের বাইরে পা বাড়াতেই হেলেন চেঁচিয়ে বলে ডেসটারকে, তোমার মাথা খারাপ হয়েছে? তুমি আবার ড্রাইভার রাখলে? কদিন পরে বুঝবে।

    –ডার্লিং, তুমি মিথ্যে রাগ করছে। দেখবে সব একদিন ঠিক হয়ে যাবে।

    –আর ঠিক হয়েছে! বলে সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। সে নিজে তো ডুবতে বসেছেই এবং অপরকেও ডোবাবে।

    হেলেনের মাথায় নানারকম চিন্তা ঘুরপাক খায়। সে খাটে এসে বসে। রাগে উত্তেজনায় এখন তার সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ে ন্যাশের ওপর। আসার আর জায়গা পেল না। এরপর ছুটে পালাবার পথ পাবে না।

    সে পায়চারি করতে থাকে। ঘুম তার মাথায় উঠেছে।

    ওদিকে ন্যাশ ডেসটারের দেওয়া চাবিটা দিয়ে গ্যারেজের দরজা খোলে। হেলেনের ওপর রাগে তার সারা শরীর জ্বলছে, মাথা টিপটিপ করছে।

    গ্যারেজের আকার মন্দ নয়। তিনটে গাড়ি রয়েছে। লোহার একটা আলমারীতে টুকিটাকি কিছু যন্ত্রপাতি আছে।

    ন্যাশের প্রথম নজর যায় ক্যাডিলাকটার দিকে। টু-সিটার গাড়ি। ঝকঝকে নতুন।

    এরপর ন্যাশ তাকালো বুইক টার দিকে। এটা ততটা নতুন নয়।

    ন্যাশ রোল-টাকে জায়গামতো ঢুকিয়ে দেয়। এরপর সে শোবার ঘরের দিকে পা বাড়ায়।

    শোবার ঘরটা তেমন পরিষ্কার নয়। কোণায় কোণায় নোংরা জমে আছে। যাক্, এখন তার একটু শোওয়া দরকার।

    ন্যাশের বেরিলর কথা মনে পড়ল। বেরিল ওর বন্ধু। সে ওর ওখানে থাকতো। চাকরি-বাকরি মন্দ করে না। ছোট্ট একটা অ্যাপর্টমেন্টে থাকে। ইদানিং সে এসে জুটেছিল।

    বেরি এই চাকরির কথা শুনলে খুশী হবে। একটা ফোন করতে পারলে ভালো হতো। কাল কালেই সে বেরিয়ে সুখবরটা দেবে।

    ন্যাশ শোবার বন্দোবস্ত করে। ঘরটা ছোট হলেও মন্দ নয়। একটা আলনায় কিছু জামা-কাপড় ঝুলছে। হয়তো আগের ড্রাইভারের হবে। কেমন যেন একটা সন্দেহ জাগছে।

    ন্যাশ ভাবে ঐ ড্রাইভারের খোঁজ তাকে করতেই হবে। জানতেই হবে তার আসল ঘটনা। ন্যাশ আরো ভাবে, হেলেন কি শুধু খরচের কথা ভেবেই তাকে ড্রাইভারী করতে দিতে চায় না? কিন্তু যাদের এত পয়সা..নাকি এর পেছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য কাজ করছে? বাড়িতে কি কোন ঝি-চাকর নেই? হয়তো কাল ভোরে আসবে। তাদের কাছ থেকে খবর পাওয়া যাবে। এবার সে শোবার জন্য তৈরী হচ্ছে। এমন সময় দরজায় টোকা পড়ল। সে ভেজানো দরজা খুলে দেখলো হেলেন।

    -আপনাকে একটা অপ্রিয় কথা বলবো। তা শুনতে আপনার হয়তো খারাপ লাগবে, তবু না বলে পারছি না। হেলেন বলল, আমাদের ড্রাইভারের কোন দরকার নেই।

    দরকার নেই?

    –না।

    –কিন্তু মিঃ আর্ল ডেসটার…।

    –ওর কথা বাদ দিন, ও একটা মানুষ নাকি? আমি বলছি, আমাদের ড্রাইভারের কোন প্রয়োজন নেই।

    –ম্যাডাম, আপনার হুকুম আমি মানতে পারছি না।

    –তুমি জানো না, আমাদের টাকা-পয়সা কিছু নেই। সব ধারে চলছে।

    –সে কি। কথাটা আমি মানতে পারছি না।

    –দু-সপ্তাহ বাদে আর্ল-এর চাকরী থাকবে না। পাওনাদারদের দাবী মেটাতে এ বাড়ি পর্যন্ত বিক্রী করতে হবে। তাহলেই আমাদের দেনাটা আন্দাজ করতে পারছো?

    –আপনি হয়তো ঠিক জানেন না, তাহলে মিঃ ডেসটার আমাকে অ্যাপয়েন্ট করতেন না।

    -এটা তোমার কোন পারমানেন্ট চাকরী নয়। যে কোন মুহূর্তে চলে যেতে বলা হতে পারে। আমি তাই বলছি।

    -ম্যাডাম আপনার হুকুম আমি মানতে পারছি না। বৃথা ভয় দেখাবার চেষ্টা করবেন না। ডেসটার ছাড়া আমি কারুর কথা শুনতে নারাজ।

    –আগের ড্রাইভার মাইনে না পেয়ে চলে গেছে।

    –কিন্তু মিঃ ডেসটার বলেছেন ও পালিয়েছে।

    -মাইনে না পেয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। কথা শেষ করে হেলেন কোমরে গুঁজে রাখা একশো ডলারের একটা নোট ন্যাশের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, এই টাকাটা নাও, তোমার বখশিস, তুমি আমার স্বামীর প্রাণ বাঁচিয়েছে।

    –মাপ করবেন, আমি নিতে পারবো না। আপনি আমাকে তাড়াবেন বলে এমন উঠে পড়ে লেগেছেন কেন? আমি তো আপনার কোন ক্ষতি করিনি। এসব আগে জানলে আমি মিঃ ডেসটারকে বাঁচাবার চেষ্টা করতাম না।

    তার মানে?

    –মানেটা কি আপনার কাছে স্পষ্ট নয়? যাক, ছাড়ুন ওসব, আমার যা বোঝার তা বোঝা হয়ে গেছে। আপনি দয়া করে এ ঘর থেকে চলে যান, আমার ঘরে এত রাতে আপনাকে কেউ দেখলে আপনার মান-ইজ্জত সব যাবে।

    -ঠিক আছে, আমি দেখে নেবো, বলে হেলেন চলে গেল।

    হেলেন চলে যেতে ন্যাশ ভাবে, এখন থেকে তাকে হেলেন-এর কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে। তার সঙ্গে মেপে কথা বলতে হবে আর ওর গতিবিধির উপর নজর রাখতে হবে।

    চোখে-মুখে জল দিয়ে ন্যাশ শুয়ে পড়ল। পরক্ষণেই কখন সে ঘুমিয়ে পড়ল।

    পরের দিন একটু দেরীতে ঘুম ভাঙায় ন্যাশ তাড়াতাড়ি কিচেনে চায়ের ব্যবস্থা করতে গেল।

    হঠাৎ হেলেন ঘরে ঢুকে ঝাঁপিয়ে বলল, তুমি কিচেনে কেন? কে তোমাকে এখানে ঢুকতে বলেছে?

    মিঃ ডেসটার আমাকে এ অধিকার দিয়েছেন। উনি আমার মনিব।

    –রাখো তোমার মনিবের কথা! এ বাড়িতে আমি যা বলছি তাই হবে।

    –আপনার কথা আমি শুনলাম, তবে মানতে পারবো না। বলে ন্যাশ কিচেন ছেড়ে বেরিয়ে গেল। ফেরার পথে ফোন দেখতে পেয়ে তার বেরিলকে ফোন করার কথা মনে পড়ল। চারদিকে তাকিয়ে দেখল কেউ নেই। ডায়াল করল।

    -হ্যালো, বেরিল ফোন ধরেছে।

    –আমি ন্যাশ বলছি।

    –বল, বল। কাল থেকে একেবারে বেপাত্তা কেন? এরকম তো কোনদিন করিস না।

    –একটা কাজ পেয়েছি। এখানে কতদিন থাকতে হবে জানি না। হেলেনের ব্যাপারটা খুলে বলল। তারপর বলল, কিন্তু এখানে এসে মহা ফাঁপরে পড়েছি। কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।

    –তোর কথা শুনে মনে হচ্ছে, ও একজন সংঘাতিক মেয়েছেলে। আচ্ছা, ও কি স্বামীসঙ্গ পায় না?

    -মনে হয় না।

    –কোন বয়ফ্রেণ্ড আছে কিনা খোঁজখবর নে।

    –ঠিক আছে, যখন যেমন ঘটবে তোকে জানাবো। এখন ছাড়ছি।

    ন্যাশ আস্তে আস্তে ঘরে গিয়ে ঢুকল। ওর নজরে পড়ল একটা ছোট টেবিলের ওপর জামাকাপড় উঁই করে চাপা পড়ে আছে একটা ফোন।

    একটু পরে ফোনটা বেজে উঠল।

    হেলেন ফোনে তার কাছ থেকে জানতে চাইল সে চলে যেতে রাজী আছে কিনা।

    ন্যাশ জানালো, সম্ভব হচ্ছে না।

    হেলেন ঝপাৎ করে রিসিভারটা নামিয়ে রাখে।

    ন্যাশ ভাবতে লাগল, দুর্ঘটনাটা ঘটেনি বলে কি এখন হেলেনের সমস্ত রাগ তার ওপর গিয়ে পড়েছে?

    -প্যাকার্ড-গাড়িটার নম্বর বা ড্রাইভারের মুখ সে স্পষ্ট মনে করতে পারল না।

    ন্যাশ এরপর আলনার জামাকাপড়ের পকেটগুলো পরীক্ষা করল। বাজে কিছু কাগজপত্র পেল, কোন ঠিকানা পেল না। সে নিশ্চিত হল, ওগুলো আগের ড্রাইবারের।

    ন্যাশ মনে মনে ঠিক করে নেয়, সে পাশের বাড়ির ড্রাইভারের সঙ্গে আলাপ জমাবে। তার সঙ্গে এ ড্রাইভারের নিশ্চয়ই দোস্তি থাকতে পারে, সেই সঙ্গে পেয়ে যেতে পারে ঠিকানাটাও। এরপর ডেসটার ফোন করে ন্যাশকে জানালে তাকে এগারোটা নাগাদ স্টুডিওতে পৌঁছে দিতে হবে আর চারটের সময় তুলে নিতে হবে। তারপর ঘরের কোন কাজ না থাকলে ন্যাশের ছুটি।

    ন্যাশ বাড়তি কোন কথা না বলে থ্যাঙ্ক ইউ স্যার বলে রিসিভার নামিয়ে রাখল।

    হেলেন যাতে সাবধান হয়ে যেতে না পারে তার জন্য ন্যাশ ডেসটারকে হেলেনের কথা কিছু জানাল না।

    তারপর নির্দিষ্ট সময়ে ন্যাশ ডেসটারকে প্যাসিফিক স্টুডিও-তে আনতে গেল। ডেসটার নামকরা পরিচালক ছিল একসময়ে, এখন বাতিল হয়ে গেছে।

    এরপর ন্যাশ পাঁচটা নাগাদ বাড়ি ফিরে এসে কোন কাজ আছে কিনা জানতে হেলেনের ঘরের বাইরে এসে দাঁড়ায়।

    দরজায় টোকা মেরে সে বলে, আসতে পারি?

    -কাম ইন, হেলেন বলল।

    ন্যাশ ঘরে ঢুকে দেখল হেলেন ছোট্ট প্যান্ট আর ব্রেসিয়ার পরে আয়নার সামনে বসে প্রসাধন করছে। ন্যাশ ঘরে আসতে সে কয়েক সেকেণ্ড একনাগাড়ে তাকে দেখতে লাগল। অনেক ছলাকলা জানে। তার মনের মধ্যে একটা দাবান্ডল ধিকিধিকি করে অনেকদিন ধরেই জ্বলছে।

    ন্যাশেরও শরীরের পারদ ক্রমশ চড়ছে। কিন্তু সে নিজেকে সংযত করে বলল, ম্যাডাম, এখন কি কোন কাজ আছে?

    –না, কাজ নেই, হেলেন ন্যাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।

    –তাহলে আমি যাই?

    –না থাকবে। আমি বড় নিঃসঙ্গ বোধ করছি।

    ন্যাশ ভাবে, হেলেন ভাঙবে তবু মচকাবে না। সে দাঁড়িয়ে থাকে। হেলেন তাকে বসতে বলে, সে হেলেনের বিছানায় বসে পড়ল।

    –তোমার আন্তরিকতায় আমি খুশী হয়েছি, তোমাকে তাড়াতে চেয়েছি, তাও তুমি যাওনি, তোমাকে আমার প্রয়োজন, হেলেন বলে।

    –আমাকে? বিস্ময়ের সঙ্গে ন্যাশ জিগ্যেস করে।

    –মিঃ ডেসটার সারাদিন কাজ নিয়ে ব্যস্ত। ও আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়। কি দিতে পেরেছে ও আমাকে? আমারও তো যৌবন বলে একটা জিনিষ আছে, বলে হেলেন ন্যাশের দিকে এগিয়ে আসে।

    ন্যাশ কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। হেলেন এগিয়ে এসে ন্যাশকে তপ্ত বুকের মাঝে টেনে নিয়ে বেশ কয়েকটা চুমু খেল এবং তাকে ভীষণভাবে আদর করতে থাকে।

    ন্যাশ এখন কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। কোনরকমে হেলেনের বাঁধন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে সে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। ঘরের বাইরে থেকে সে শুনতে পেলো হেলেন তার যৌবনের উপেক্ষা সহ্য করতে না পেরে কাঁদছে।

    ন্যাশ ভাবে, হেলেন কী তাহলে সত্যিই ভালো? ভালো না হলে কেউ নিজেকে এভাবে বিলিয়ে দিতে পারে? সংযত হয়ে তাহলে মুহূর্তের মধ্যে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বিছানায় পড়ে কাঁদতে পারতো না।

    ন্যাশ ইন্টারকমের জন্যে অপেক্ষা করছিল। হয়তো হেলেন কোথাও বের হলে তার ডাক পড়বে। কিন্তু না, এলো না। এখন তার আর কোন কাজ নেই।

    এই সুযোগে আগের ড্রাইভার লরেন্সের খোঁজ পেতে হবে। লরেন্স হেলেনের সবকিছু না জানলেও, এ ব্যাপারে বাড়ির কাজের লোক কাজে আসবে।

    কিন্তু বাড়ির বাইরে যেতে গেলে তাকে সবকিছু দেখে সাবধানে বেরোতে হবে। তার আগে ড্রাইভারের মুখ খোলানোর জন্য একটা ছোট মদের বোতল সরাতে হবে।

    ন্যাশ সারা বাড়ি, হেলেনর ঘর, বাথরুম সবকিছু দেখে নিল। হেলেনকে কোথাও দেখা গেল না। এবার সে বারে ঢুকে ছোট একটা মদের বোতল জামার ভেতরে ঢুকিয়ে নিল।

    যাক, এবার ন্যাশ বাড়ি থেকে বের হয়ে বাঁ পাশের বাড়িটার কাছে এসে দাঁড়ায়। পাশের বাড়িটা একজন ব্যারিস্টারের। দোতলা, সুন্দর বাড়ি। ন্যাশ লোহার গেটের ভেতরে তাকিয়ে দেখতে পেল লনে একজন মাঝ বয়েসী মালী কাজ করছে।

    ন্যাশ মালীর কাছে এগিয়ে তার নাম জিগ্যেস করল, সে জানাল তার নাম এনড্রুজ।

    –ঐ বাড়ির ড্রাইভার লরেন্সকে তুমি চেনো?

    –হ্যাঁ। ওকে তো কদিন ধরে দেখছি না।

    –আচ্ছা, ও চাকরি ছাড়বে বলে কিছু বলেছিল?

    উঁহু, হঠাৎই ওকে দেখছি না। বেশ ভালো লোক। কোন ঝামেলার মধ্যে সে থাকতো না।

    –এ বাড়ির ড্রাইভারের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দাওনা।

    –সে এখন সাহেবের চেম্বারে গেছে।–ফিরতে রাত হবে। তুমি বরং একটু রাত করে এসে, দেখা পাবে।

    -দেখি সময় পাই কিনা, বলে ন্যাশ বেরিয়ে এসে দক্ষিণের ফ্ল্যাট বাড়িটার কাছে এসে দাঁড়ায়।

    ন্যাশ একটা গাড়ির ভেতর ড্রাইভারকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে গেল। ড্রাইভারের বছর পঞ্চাশ বয়স।

    প্রাথমিক আলাপ সেরে ন্যাশ জানতে পারলো ঐ ড্রাইভার বছর চারেক কাজ করছে এখানে।

    এবার ন্যাশ তার দিকে মদের বোতলটা এগিয়ে দিল। সে ছিপি খুলে খানিকটা মদ গলায় ঢেলে দিল। ড্রাইভার খুব খুশী।

    –আমার আগের ড্রাইভার চাকরি ছেড়ে দিল কেন? ন্যাশ প্রশ্ন করল।

    –ও চলে গেছে, তা তো জানি না।

    –তুমি ওর বাড়ি চেনো? আমায় নিয়ে যাবে?

    দুজনের ঠিক হল, সন্ধ্যের পর সাড়ে সাতটা নাগাদ সামনের কফি হাউসে ড্রাইভারের সঙ্গে ন্যাশ দেখা করবে।

    বাড়ি ফেরার আগে ন্যাশ মদের বোতলটা ঝোঁপের মধ্যে ফেলে দিল।

    ন্যাশ এবার বেরিলকে ফোন করল।

    -হ্যালো, আমি ন্যাশ।

    –তোর কথা ভাবছিলাম, কেমন আছিস।

    -ভাল না, মনে হয় বিপদে জড়িয়ে পড়তে পারি। শোন, আমার এক ইনস্যুরেন্স এজেন্টের সঙ্গে আলাপ আছে। সে বছরে বহু টাকার কাজ করে আর ডেসটারকে চেনে। এ বাড়িটা ডেসটারের।

    –জানি। বাড়ির কোন উইল আছে? ভবিষ্যৎ সম্পত্তির মালিক কে হবে? আর ইনস্যুরেন্সের নমিনি কে?

    –সম্ভবত হেলেন।

    –এটা কি তোর বন্ধু বলেছে?

    –ও অনুমান করেছে।

    –ওর অনুমানটা মিথ্যে।

    –হঠাৎ তুই একথা বললি কেন?

    –পরে তোকে সব বলবো। এখন রাখছি।

    পরে ন্যাশ নির্দিষ্ট কফিবারে গিয়ে ড্রাইভারের সঙ্গে দেখা করে।

    তারপর ড্রাইভার তাকে লরেন্সের বাড়িতে সাহেবের গাড়ি করেই পৌঁছে দেয়। ড্রাইভার কিছুক্ষণের জন্যে বাইরে বেরিয়ে যায়।

    লরেন্সের বয়স বছর চল্লিশ হবে।

    এক কামরার ফ্লাট। ঘরের মেঝেতে ফাটল, দেওয়ালে ছোপ আসবাব বলতে একটা লোহার খাট আর একটা আলনা।

    লরেন্স বলে, তুমি কতদিন হল ও বাড়িতে কাজ করছো?

    -এই তো কদিন হলো।

    –খুব সাবধানে থাকবে।

    –এ কথা বলছো কেন? তুমি ওখান থেকে স্বেচ্ছায় এসেছে না পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলে?

    –আমি বাধ্য হয়েছিলাম।

    –কেন?

    –হেলেনের জন্যে।

    –কেন ও তোমায় কি করেছিল?

    করতে চেষ্টা করেছিল, পারেনি। সাহেবের মদে চুর হয়ে থাকাও ঐ হেলেনের জন্যে। ও একটা শয়তানি।

    খুলে বল।

    -কদিন চাকরি করার পর হেলেন একদিন আমার ঘরে এসে বলল, আমরা আর ড্রাইভার রাখতে পারছি না, তোমায় চলে যেতে হবে। তার জন্যে তোমায় একশো ডলারের এই নোটটা দিচ্ছি, তুমি ড্রাইভার ভালো, তোমার কাজ জুটে যাবে।

    -নোটটা তুমি নিলে?

    –না নিইনি, নিলে কপালে হাজতবাস ছিল।

    –হেলেন আমাকেও একটা নোট দিতে চেয়েছিল। আমি নিইনি।

    –ভাল করেছে। নোটটা আমায় দেবার সময় হেলেন আলপিন দিয়ে ওটা ফুটো করে দিয়েছিল।

    –আলপিন দিয়ে কেন?

    -একটা বদ উদ্দেশ্য ছিল, প্রথমটা আমি দেখতে পাইনি। পরে নোটের কোণের দিকে আমার চোখ পড়ে। বাণ্ডিল করার জায়গায় থাকলে তবু একটা কথা ছিল। নোটটা আমি পুড়িয়ে ফেলি। পুড়িয়ে ছাইটাও ফেলে দিয়েছি।

    –একশো ডলারের নোট পুড়িয় ফেললে? এসবের কারণ কি?

    -ওখানকার কাজের লোকটা আমায় বলেছে এবং আমার অনুমানই সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে।

    –কি বলেছে ও?

    –আমার ওখান থেকে হেলেন পুলিশে খবর দিয়েছে। বলেছে, ওর একশো ডলারের একটা নোট চুরি গেছে। যথারীতি পুলিশ এল। হেলেনই আমায় দেখিয়ে দিয়েছিল। সত্যি বলতে কি, আমার কাছে নোটের কোন প্রমাণ না থাকলেও আমি বেশ ভয় পেয়ে গেছিলাম। পুলিশ হেলেনকে জিজ্ঞেস করেছিল নোটটা আপনি দেখলে চিনতে পারবেন?

    নিশ্চয়ই। হেলেন বলেছিল, ওটা একেবারে চকচকে নোট ছিল। আর নোটের মাথার দিকে পিন দিয়ে ফুটো করা ছিল।

    -ওটা কি আপনি করেছিলেন?

    –না। নোটটা হাতে পাবার সময়ই আমি ওরকম দেখি।

    পুলিশ তখন তন্নতন্ন করে আমার ঘর খুঁজলো, কিন্তু কিছুই পেল না। পুলিশ অফিসার দুঃখিত বলে বিদায় নিল। আমিও আর দেরী না করে পালালাম, কারণ হেলেন তখন রাগে জ্বলতে জ্বলতে আমাকে বলেছিল ঠিক আছে, এর প্রতিশোধ আমি নেব। না পালালে বিপদে পড়তাম।

    -ন্যাশ গম্ভীরভাবে সব শুনলো৷ তারপরে বিদায় নিল। বাইরে বেরিয়ে চারদিকটা তাকিয়ে দেখে নিল। ধারে-কাছে কাউকে দেখতে না পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। বাড়ি ফিরে এসে ন্যাশের মনে একরাশ চিন্তা এসে জড়ো হলো।

    ন্যাশ মনে মনে ঠিক করল যে, এবার হেলেন শয়তানি করলে সে কিছুতেই সহ্য করবে না। হেলেনকে কোনরকম অন্যায় করতে দেখলে, সে তার মুখের গ্রাস কেড়ে নেবে।

    হঠাৎ ন্যাশের কি মনে হলো গ্যারেজে গিয়ে হাজির হল। গ্যারেজের বন্ধ দরজার ফাঁক দিয়ে দেখল হেলেনের স্ট্যাডিলক গাড়িটা ওখানে নেই।

    বাড়িতে কেউ না থাকায় ন্যাশ সলিকে ফোন করল। সলি তার অফিসের বন্ধু। পুরো নাম জ্যাক সলি।

    -হ্যালো, অপরপক্ষের গলা।

    –আমি ন্যাশ বলছি।

    –খবর কি তোমার?

    –আমি মিঃ আর্ল ডেসটারের বাড়িতে ড্রাইভারের চাকরি নিয়েছি। ওর স্ত্রীর নাম হেলেন। বয়স ছাব্বিশের মতন।

    -দেখতে কেমন?

    –সহজে চোখ ফেরানো যাবে না। তবে হেলেন মোটেই সুবিধের নয়–খল, নিষ্ঠুর। অন্য জাতের মেয়ে।

    –তাকে তোমার যৌবন দিয়ে তৃপ্ত করবে।

    আমি শুনেছি, হেলেন ওর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। ওর তুলনায় বয়স অনেক কম। ওর পাশে বড় বেমানান লাগে।

    -ঠিক আছে, তাহলে তুমিই হয়ে উঠলে নায়ক।

    –শোন, গোপনে তোমাকে হেলেন, তার আগের স্বামী এবং মিঃ ডেসটারের সম্বন্ধে খোঁজ নিতে হবে। আর কদিনের মধ্যেই খবরটা তোমাকে জানাতে হবে।

    -পারবে। তার জন্যে পারিশ্রমিক?

    পাবে। পাঁচশো ডলার দেবো।

    –রাজী। তবে একটা শর্ত আছে। এতে অফিসের সঙ্গে কোন সম্পর্ক থাকবে না, টাকাটা পুরো আমাকেই দিতে হবে।

    –আমার আপত্তি নেই। ছাড়ছি।

    রিসিভার নামিয়ে রাখল ন্যাশ।

    এরপর সে ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।

    তারপরের দিন চারটে নাগাদ ন্যাশ গাড়ি নিয়ে স্টুডিওতে গেল। এসময় ডেসটার তাকে আসতে বলেছে।

    এরপর নির্দিষ্ট ঘরে গিয়ে ন্যাশ দেখে ডেসটার টেবিলে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। ডাকাডাকি করে কোন সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না।

    হঠাৎ কি খেয়াল হতে ন্যাশ ডেসটারের ড্রয়ার ঘাঁটতে লাগল। প্ল্যাস্টিকের খাপে মোড়া একটা ফোল্ডারের ভেতর সে একটা দলিল পেল। ক্যালিফোর্ণিয়া জাতীয় বীমা কোম্পানীর সাড়ে সাত লাখ ডলারের একটা জীবনবীমা পলিসি। দারুণ ব্যাপার চমকে ওঠার মতো খবর।

    ন্যাশ বুঝতে পারে, হেলেন কেন ডেসটারকে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল।

    ন্যাশ ভাবলো হেলেন এবার ডেসটারের কোন ক্ষতি করতে চাইলে সেও ছেড়ে দেবে না। সে তক্কেতক্কে থাকবে।

    এরপর ন্যাশ ডেসটারকে ডেকে কোনরকমে টানতে টানতে গাড়িতে তুলে বাড়ির পথ ধরলো।

    এর মাঝে দুদিন কেটে গেছে। ইতিমধ্যে ন্যাশ সলির অফিসে গিয়েছিল। সলির থেকে সে জেনেছে, হেলেনের আগের স্বামী হেলেনের জ্বালায় তিতিবিরক্ত হয়ে জানালা দিয়ে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

    ন্যাশ ভাবল, হেলেন যদি তার অজান্তে ডেসটারের ক্ষতি করতে চায় আর সে যদি তা জানতে পারে তাহলে সে হেলেনকে ভয় দেখাবে। হেলেন ভয় পেলে তখন রাজকন্যার সঙ্গে রাজ্যলাভ দুটোই হবে।

    ন্যাশের চিন্তার জাল ছিঁড়ে গেল একটা গাড়ির আওয়াজে। সঙ্গে সঙ্গে গ্যারেজে এসে সে দেখল হেলেন গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল।

    ন্যাশ ভাবে এই ফাঁকে ডেসটারের কাছ থেকে কিছু টাকা হাতিয়ে নেওয়া যাবে। এই ভেবে ন্যাশ ডেসটারের ঘরে প্রবেশ করল।

    ন্যাশ দেখল ডেসটার বিছানায় শুয়ে একটা পিস্তল নিয়ে নাড়াচাড়া করছে। তাকে দেখেই সেটা বালিশের তলায় চালান করল ডেসটার।

    -স্যার, রাতে আপনি বেরোবেন?

    –না।

    –তাহলে আমি যাই।

    –শোন, মিসেস ডেসটার তোমাকে চলে যেতে বলেছেন?

    –হা স্যার, দুবার।

    –আমি বললে তবেই যাবে। তুমি এখন এসো। ও হ্যাঁ, কাল সকাল দশটায় আমি বেরুবো। ন্যাশ ফিরে আসে, পরের দিন নির্দিষ্ট সময়ে ডেসটারকে নিয়ে গাড়ি বের করে।

    গম্ভীর মুখে ডেসটার বলে, আজ স্টুডিও যাবো না।

    –স্টুডিওতে যাবেন না? তাহলে কোথায় যাবেন স্যার?

    –এয়ারপোর্টে চল।

    –বিস্ময়ের সঙ্গে ন্যাশ বলে, এয়ারপোর্ট? কোথায় যাবেন স্যার?

    –সানফ্রান্সিসকো।

    ন্যাশ জানে, বীমা কোম্পানীর হেড অফিস সানফ্রান্সিসকোতে।

    ন্যাশ এবার আমতা আমতা করে বলল, স্যার যদি কিছু মনে না করেন, একটা কথা বলতাম।

    -না না, বল কি বলবে?

    –আমার টাকাপয়সার অবস্থা এখন ভালো নয়। সাহেবের অসুবিধা না হলে…

    ডেসটার পকেট থেকে চেক বের করে তাতে পুরো দু-হাজার ডলার লিখে দিলো। ন্যাশ তো মহা খুশী।

    এরপর ডেসটার জানায়, শনিবার থেকে আমি নিজেই বেকার। চাকরি আর জুটছে না। চাকরি গেলেই পাওনাদাররা আমায় ছাড়বে না।

    ন্যাশ ভাবে, তাহলে হেলেনের কথাই ঠিক। আর বীমা কোম্পানীর টাকাটা পাবার জন্য হেলেন তার স্বামীকে খতম করে দিতে চাইছে। কিন্তু ন্যাশ তা কিছুতেই হতে দেবে না।

    এরপর ন্যাশ ডেসটারকে বিমানবন্দরে ছেড়ে দিয়ে এসে ব্যাঙ্কে চেক ভাঙিয়ে নিজের নামে অন্য ব্যাঙ্কে জমা রাখে।

    একসময় সে বাড়ি ফিরে আসে। শুয়ে পড়ে।

    ইন্টারকমটা বেজে ওঠে খানিক বাদে।

    –আমি হেলেন বলছি।

    –বলুন ম্যাডাম।

    –আল আজ রাতে আর বেরুবে না। তাই তুমি আমাকে সন্ধ্যেবেলা পামগ্রোভ ক্লাবে পৌঁছে দেবে।

    –কটা নাগাদ?

    –ঐ আটটা নাগাদ। তবে তোমার উর্দি পরে যাওয়া চলবে না। রাত একটায় ফিরিয়ে আনবে।

    তবে কি পরে যাবো?

    –ভদ্র জামাকাপড় পরে যাবে। সে ব্যবস্থা আমি করবো।

    হেলেন ঝপাং করে রিসিভার নামিয়ে রাখে। ন্যাশ ভাবে, ডেসটার তাহলে হেলেনকে সানফ্রান্সিসকোর ব্যাপারে কিছু বলেনি? নিশ্চয়ই না।

    পামগ্রোভ নাইট ক্লাবে অন্যদিন একাই যায় কখন ফেরে ন্যাশ জানতে পারে না। আবার ড্রাইভারের উর্দি পরতে বারণ করলে, কেন? ওর মাথায় কি দুষ্টু বুদ্ধি উঁকি মারছে?

    দুপুরের পর আবার হেলেনের ফোন এল, সে জানালো ন্যাশের জন্যে সে নতুন পোশাক কিনে এনেছে।

    আর পরের দিন ন্যাশ হেলেনের প্রকৃত রূপ জানতে সলির অফিসে গেল।

    সলি তাকে জানায়, হেলেনের প্রথম স্বামীর নাম ছিল হার্বাট ভ্যান টমলিন।

    –হেলেন কি ওর স্ত্রী ছিল? ন্যাশ জিগ্যেস করে।

    –না রক্ষিতা হিসেবে রেখেছিল।

    –আচ্ছা, হেলেন কাজকর্ম কিছু করত?

    –হ্যাঁ, ফি ফি-ক্লাবে সিগারেট ফেরি করতো।

    –বাঃ, চমৎকার কাজ।

    –এরমধ্যে টমলিন বিশ-হাজার ডলারের জীবনবীমা করে। আর ওয়ারিশান করে হেলেনকে।

    –উস!

    –সবে কিস্তির প্রথম টাকা জমা দিয়েছে, তারপরই জানালা দিয়ে নীচে পড়ে ওর মৃত্যু হল।

    –জানালা দিয়ে কিভাবে পড়ে গেল?

    –জানালাটা ছিল বড়। তাতে মজবুত গ্রিল ছিল না। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, হেলেনই ওকে ধাক্কা মেরে নীচে ফেলে দিয়েছে তাতেই ও মারা যায়। ছোট কোম্পানী, বেশীদূর এগোতে সাহস পায় না। তবু হেলেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে, ঝামেলা এড়াতে ও সাত হাজারেই রাজী হয়ে যায়।

    এরপর ন্যাশ সলির কাছে বিদায় নিল।

    ওদিকে স্টুডিওতে আজ ডেসটারের শেষ দিন। দরকারী কাগজপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকী শুধু হুইস্কি বোতলগুলো আনা।

    বড় স্যুটকেসে বোতলগুলো ভরে গাড়ি করে ন্যাশ ডেসটারকে বাড়ি পৌঁছে দিল।

    বাড়িতে প্রবেশ করে ডেসটার ন্যাশকে একটা চিঠি দিয়ে বলে পোস্ট করে দিতে। চিঠিটা তার পকেটেই রয়ে গেছে।

    এরপর গাড়ি গ্যারেজে তুলে, পোশাক বদলাতে গিয়ে ন্যাশ দেখে চিঠিটা সে পোস্ট করতে ভুলে গেছে।

    তাতে ঠিকানা লেখা রয়েছে–

    মিঃ এডুইন বার্নেট,
    আইন উপদেষ্টা,
    টোয়েনটিথ স্ট্রীট
    লস এঞ্জেলস।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }