Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2514 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১-২. স্বেচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগ

    উইটনেস ফর দ্য প্রসিকিউশন (এরকুল পোয়ারো)

    ০১.

    মিঃ মেহার্ন চশমাটা ঠিক করে সামনে বসা লোকটির দিকে তাকালেন। লোকটি স্বেচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত।

    মিঃ মেহার্ন ছোটোখাটো ধরনের মানুষ, বাদামী চোখ দুটো চতুর এবং অন্তর্ভেদী। তুখোড় আইনজীবী হিসাবে তাঁর সুনাম আছে।

    আমি আপনাকে বোঝাতে চাইছি যে আপনি ভীষণ বিপদের মধ্যে পড়েছেন, এই অবস্থায় সবকিছু খোলাখুলি বলা অত্যন্ত জরুরী।

    লেনার্ড ভোল এতক্ষণে মিঃ মেহানের দিকে দৃষ্টি ফেরাল। আমি তা জানি। সে আশাহীন স্বরে বলল। আপনি আমাকে তখন থেকে একথা বলে আসছেন। তবে আমি একথা জানি যে খুন করা একটা কাপুরুষের কাজ।

    মিঃ মেহার্ন মোটেই আবেগপ্রবণ নন। তিনি বাস্তববাদী, তিনি মিঃ ভোলকে বলেন আমার কথা ভালো ভাবে শুনুন, আমরা আপনাকে রক্ষা করবার চেষ্টা করব। আশাকরি আমরা সফল হবই তবে সমস্ত ঘটনাটা জানা দরকার, মামলাটা আপনার বিরুদ্ধে কতখানি খারাপ দিকে যেতে পারে সেইমত আমরা পদক্ষেপ নেব।

    অল্প বয়সী যুবক মিঃ ভোল সেই একই ভাবে বিমূড় ও নিরাশ ভাবে মিঃ মেহানের দিকে তাকিয়ে রইল। মিঃ মেহানের মতে আসামীর মুক্তি পাওয়া সুদূর পরাহত, তার মনে সন্দেহের ছায়া পড়ল।

    লেনার্ড ভোল নীচু গলায় বলল, ঈশ্বরের নামে শপথ করে বলছি আমি দোষী নই।

    আমি জালে আটকে গেছি, যেদিকে যাচ্ছি সেদিকেই আটকে পড়ছি।

    কিন্তু মিঃ মেহার্ন আমি খুন করিনি।

    এরকম অবস্থায় যেকোন মানুষ প্রতিবাদ করতে বাধ্য। হতেও পারে মেহার্ন খুন করেনি সে আদৌ অপরাধী নয়।

    আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ ভোল সত্যই ঘটনাবলী আপনার নির্দোষিতার বিপক্ষে, এইজন্য প্রকৃত ঘটনাগুলো আপনি নিজের ভাষায় বলুন, মিস এমিলি ফ্রেঞ্চের সঙ্গে আপনার পরিচয়ের কথা।

    ঘটনার সূত্রপাত অক্সফোর্ড স্ট্রীটের রাস্তায়। একদিন এক মহিলা রাস্তা পার হচ্ছিলেন তার দুহাত ভর্তি পার্সেল কিন্তু পার্সেলগুলো হঠাৎ রাস্তায় পড়ে গেল। নীচু হয়ে কুড়াতে যাবেন এই সময় একটা বাস এসে তার উপর পড়ল। তিনি কোন রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে একটা ঘোড়ার সামনে এলেন, তিনি কিছুটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন। আমি রাস্তা থেকে তার পার্সেলগুলো তুলে ধুলো ঝেড়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে, তার হাতে দিলাম।

    ও, আপনি তাহলে তার জীবন বাঁচাননি?

    না, মোটেই না। আমি যা করেছি তা সাধারণ ভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে। আমার ঐ কাজে তিনি আমাকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন আমি অন্য অল্প বয়সী যুবকদের মত নই। এরপর আমি তাকে অভিবাদন করে চলে গেলাম, আমি আশা করিনি আর কোনদিন তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হবে কিন্তু ঐদিন সন্ধ্যাবেলাতেই আমার এক বন্ধুর বাড়িতে তার সঙ্গে পার্টিতে দেখা হয়। তিনি আমাকে চিনতে পারেন এবং আমার সাথে কথা বলার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তার সঙ্গে আমি কিছুক্ষণ কথা বললাম। তিনি ক্রিকলউডে বাস করেন। নাম এমিলি ফ্রেঞ্চ। আমার মনে হল তিনি হঠাৎ হঠাৎই লোকের প্রতি ভীষণভাবে নজর দেন। সেই কারণে তিনি আমার প্রতিও নজর দিলেন। এটা স্বাভাবিক ঘটনা। যে কোন মানুষ এইরকম হতেই পারেন। তিনি যাবার সময় তার বাড়িতে যাবার অনুরোধ করলেন এবং দিন ধার্য করার কথাও বললেন। তাই ভদ্রতার খাতিরে সামনের শনিবার আমি যাব বললাম।

    মহিলা বেশ ধনী, একটু ক্ষ্যাপা ধরনের একা থাকেন, তার কম করে আটটা বিড়াল আছে।

    মিঃ মেহার্ন বললেন, আচ্ছা, ঠিক কে আপনাকে বলেছিল যে মিস এমিলি ফ্রেঞ্চ ধনী?

    আমার বন্ধু জর্জ হার্ভে। ওর বাড়িতেই পার্টি হয়েছিল।

    তিনি কি এখন সেকথা মনে করতে পারবেন?

    আমি সঠিক বলতে পারব না অনেকদিন আগেকার ঘটনা।

    আচ্ছা, দেখুন আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করা প্রথম প্রচেষ্টা হবে আমি আপনি ঐ সময় আর্থিক অনটনে ভুগছিলেন এবং অনেক কষ্টে ঐ বয়স্কা মহিলার সাথে পরিচয়টা হৃদ্যতায় রূপান্তরিত করেছিলেন। এখন আপনি যদি বলেন যে মহিলা ধনী আপনি জানতেন, তাহলে কেসটা জটিল হয়ে উঠবে। আসলে হার্ভের কথাবার্তার উপর সব কিছু নির্ভর করছে। হার্ভে যদি স্বীকার করে যে সে আপনাকে বলেছে যে মহিলা ধনী তবেই।

    লেনার্ড ভোল বিবর্ণ মুখে বেশ জোর দিয়ে বলল, ঐদিন উপস্থিত অনেকেই ঐ কথা শুনতে পেয়েছিল এবং দু-একজন তো আমাকে এই বলে ঠাট্টা করতে লাগল যে আমি একজন ধনী মহিলাকে জয় করতে পেরেছি।

    মিঃ মেহার্ন বললেন আপনার দুর্ভাগ্য তবে আপনি যে কিছু গোপন করছেন না তার জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তাহলে আপনি মিস ফ্রেঞ্চের সঙ্গে পরিচিত হলেন তাঁর বাড়িতে গেলেন, এবং আপনাদের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেল।

    কিন্তু আপনার মত একজন অল্প বয়সী যুবকের সাথে একজন বয়স্ক মহিলার এত ঘনিষ্ঠতা হবে কেন যখন তার সঙ্গে কোন মিল নেই।

    লেনার্ড ভোল বললেন ঐ মহিলা আমাকে তার বাড়ি যাবার জন্য চাপ দিতেন, বলতেন তিনি অসুখী এবং একাকী তাই তার কথা ফেলা আমার পক্ষে মুশকিল হয়ে পড়ল। আর তাছাড়া আমার মা যখন মারা যান তখন আমার বয়স খুব অল্প, পিসি তখন আমাকে মানুষ করেন। কিছুদিন যাবার পর তিনিও মারা যান। যদি বলি ঐ মহিলার সান্নিধ্যে এসে আমি মায়ের ভালোবাসা পেয়েছি তাহলে নিশ্চয়ই আপনি হেসে উঠবেন।

    মিঃ মেহার্ন গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে উঠলেন। তারপরে আস্তে আস্তে বললেন, আমি আপনার যুক্তি মেনে নিলেও কোনো জুরি এটা মানবে কিনা সন্দেহ।

    মিস ফ্রেঞ্চ প্রথম কখন আপনাকে তার ব্যবসাপত্তার দেখাশুনা করতে বলেন?

    তার বাড়িতে তিন চারবার যাবার পর তিনি কয়েকটা বিষয়ে টাকা লগ্নী করার ব্যাপারে বেশ চিন্তিত ছিলেন।

    সাবধানে কথা বলুন মিঃ ভোল, মিস ফ্রেঞ্চের চাকরাণী জেনেট ম্যাকেঞ্জি কিন্তু বলেছেন, তিনি অর্থাৎ তার মনিব ব্যবসাপত্তর খুব ভালো বুঝতেন।

    ভোল আন্তরিকতার সঙ্গে বলল, কিন্তু মিস ফ্রেঞ্চ আমাকে ঐ রকম কথাই বলেছিলেন।

    মিঃ মেহার্ন কিছুক্ষণ চিন্তা করে দেখলেন যে মিঃ ভোলের বয়স্কা মহিলাদের আচার আচরণ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান আছে। লেনার্ড ভোলের নির্দোষিতা সম্পর্কে তার বিশ্বাস আরও বেড়ে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন মহিলা সুন্দর যুবকটির মোহে পড়ে গিয়ে বাড়িতে আনার জন্য নানা অজুহাত সৃষ্টি করতেন।

    সুতরাং লেনার্ড ভোল এই চালাকির শিকার হয়েছিল। খুব সম্ভব মিস ফ্রেঞ্চ জানাতে দ্বিধা করেননি যে তিনি বেশ ধনী। সুতরাং তিনি যা চান তা করায় ও করতে পিছ পা হন না।

    মিঃ মেহর্নের এইসব কথা দ্রুতগতিতে বলে গেল। কিন্তু তিনি তা বুঝতে দিলেন না।

    আপনি কি তাঁর অনুরোধ মত তার ব্যবসার কাজে সহায়তা করেছিলেন।

    হা করেছিলাম।

    এবার আপনাকে গুরুতর প্রশ্ন করব–এর সঠিক উত্তর জানা খুব জরুরী। সেই সময় আপনি তার ব্যবসার কিছু অর্থ নিজের কাজে লাগিয়েছিলেন যা সহজে প্রকাশ হবার সম্ভাবনা খুব কম ছিল।

    আমাদের সামনে এখন দুটো রাস্তা খোলা আছে। হয় আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে আপনি সৎলোকের মতই তার কারবার দেখাশুনো করতেন, এবং তিনি ইতিমধ্যেই আপনার কাছে অর্থাগমের একটা উৎস হয়ে উঠেছিলেন। এই দুটো রাস্তার পার্থক্য আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন? এখন ভেবে চিন্তে উত্তর দিন।

    লেনার্ড ভোল বললেন মিস ফ্রেঞ্চের সঙ্গে আমার ব্যবহার সুন্দর ও আন্তরিক ছিল। আমি আমার সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে তার স্বার্থরক্ষার চেষ্টা করেছি।

    ধন্যবাদ আপনাকে, মিঃ মেহার্ন বললেন, আপনি আমার কাছে কিছু গোপন করলেন না তার জন্য আপনার প্রশংসা না করে পারছি না।

    ভোল ব্যগ্রভাবে বলল, জানেন আমার পক্ষে জোরালো যুক্তি হলো খুন করা আমার কোন উদ্দেশ্য নেই। সত্যি তার মৃত্যুতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হলাম।

    মিঃ মেহার্ন তার দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনি কি জানেন না মিঃ ভোল, মিস ফ্রেঞ্চ উইলের বয়ান অনুযায়ী আপনাকে বেশ কিছু ধন সম্পত্তির মালিক করে গেছেন?

    মিঃ ভোল লাফিয়ে উঠে বললেন, হায় ভগবান, আপনি কি সব বলছেন? তিনি আমাকে সবকিছু দিয়ে গেছেন?

    কেন আপনি জানেন না? মিস ফ্রেঞ্চের পরিচারিকা জেনেট ম্যাকেঞ্জি শপথ করে বলেছে যে আপনি উইলের কথা সব জানেন।

    মিঃ ভোল চেঁচিয়ে উঠে বলল, পরিচারিকা মিথ্যে কথা বলেছে। জেনেট মনিবের প্রতি বিশ্বস্ত ছিল কিন্তু আমার প্রতি সে ঈর্ষাপরায়ণ ও সন্দেহবাতিক ছিল।

    আপনি কি মনে করেন জেনেট আপনাকে অপছন্দ করে এবং তার জন্য ইচ্ছে করে মিথ্যে বলছে?

    মিঃ ভোল হতাশ সুরে বলল, না তা মোটেই নয়। কেন সে মিথ্যে বলবে? তবে আমি বুঝতে পারছি। সবাই একটা ভয়ঙ্কর ধারণা করেছে আমি মিস ফ্রেঞ্চকে আমার নামে উইল করিয়েছি তারপর ঐ রাতেই তাকে খুন করেছি। ওহ, কি ভয়ঙ্কর, কি সাংঘাতিক। বাড়িতে কেউ ছিল না। এই সুযোগ নিয়ে তাকে খুন করেছি এটা সবাই ভাবছে।

    আপনি ভুল করছেন, বাড়িতে ঐ সময় কেউ ছিল না এটা ঠিক নয়। জেনেট বাইরে গিয়েছিল কিন্তু ঠিক সাড়ে নটায় সে বিশেষ কাটের একটা ব্লাউজ নিতে ফিরে এসেছিল। যাবার সময় সে সিটিং রুমে দুজনের গলার স্বর স্পষ্ট শুনতে পেয়েছিল। তার মধ্যে ছিল একজন পুরুষের গলা আর অন্যজন তো মিস ফ্রেঞ্চ।

    লেনার্ড ভোল লাফ দিয়ে উঠল। সাড়ে নটার সময়, তাহলে আমি বেঁচে যাচ্ছি

    সাড়ে নটার সময় আমি আমার ঘরে ছিলাম তার প্রমাণ আমার স্ত্রী দেবে।

    নটা কুড়ির সময় আমি বাড়ি পৌঁছাই। সেখানে আমার স্ত্রী আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। লেনার্ড ভোল নিজের আনন্দে মশগুল ছিল। কিন্তু মিঃ মেহার্ন মুখ গম্ভীর করে বললেন, আপনার মতে তাহলে কে মিস ফ্রেঞ্চকে খুন করেছে?

    কেন? একজন চোর। জানালা ভেঙে ঢুকেছে–শাবল দিয়ে জোরে আঘাত করে মৃতদেহের পাশেই শাবলটা রেখে জিনিষপত্র নিয়ে সরে পড়েছে। শুধু মাত্র জেনেটের সন্দেহ হতেই পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করেছে।

    মিঃ মেহার্ন বললেন ওগুলো পুলিশকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য খোয়া গেছে। এবার আপনার কথা ভাবুন, আপনি বলেছেন সাড়ে নটার সময় আপনি ছিলেন না। অথচ সিটিং রুমে জেনেট পুরুষ মানুষের গলা শুনতে পেয়েছে। মিস ফ্রেঞ্চ নিশ্চয়ই চোরের সাথে কথা বলবে না।

    মিঃ ভোলকে কেমন যেন হতবুদ্ধি এবং নিরুৎসাহ মনে হলো। তারপরেই উদ্যম নিয়ে বলতে আরম্ভ করল, আমি এই খুনের দায়ে পড়ছি না আপনি এক্ষুনি আমার স্ত্রী রোমেনের সঙ্গে দেখা করুন।

    নিশ্চয়ই দেখা করব, মিঃ মেহার্ন সম্মতি জানালেন। আপনার গ্রেপ্তারের সময় তিনি ছিলেন না। তাঁকে স্কটল্যান্ডে টেলিগ্রাম করেছি, তিনি আজ রাতে ফিরে আসছেন, এখান থেকে গিয়েই আমি তার সঙ্গে দেখা করব।

    হ্যাঁ রোমেন আপনাকে সব বলবে সে পতিপরায়ণা, আমার প্রতি বিশেষ অনুরক্তা আমার জন্য সব কিছু করতে পারে সে।

    মিঃ মেহার্ন হঠাৎ বলে উঠলেন আচ্ছা এমন কি কেউ আছে যে আপনাকে নটা কুড়িতে বাড়ি ফিরতে দেখেছে? যেমন ধরুন কোনো চাকরানি?

    না, আমাদের কোনো চাকরানি নেই।

    ফেরার পথে রাস্তায় আপনার সাথে কারও দেখা হয়েছিল?

    কিছুটা পথ তো আমি বাসে চড়ে এসেছি, সেরকম কারও সঙ্গে দেখা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না, তবে কণ্ডাকটর হয়ত মনে করতে পারে।

    মিঃ মেহার্ন মাথা নাড়লেন, তিনি নিশ্চিত হতে পারছেন না। তাহলে আপনার স্ত্রীর কথা প্রমাণ করবার মত কেউ নেই। আচ্ছা মিস ফ্রেঞ্চ কি জানতেন, আপনি বিবাহিত?

    ও, হ্যাঁ।

    তাহলে আপনি, কোনদিন স্ত্রীকে ওনার কাছে নিয়ে যাননি কেন?

    মিঃ ভোল তোতলাতে লাগল?

    মিঃ মেহার্ন বললেন, মিস ফ্রেঞ্চ আপনাকে বিয়ে করবে বলে চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়ে ছিলেন।

    মিঃ ভোল হেসে উঠলে আমাদের মধ্যে চল্লিশ বছরের প্রায় তফাৎ। আপনাকে আমি সব খুলে বলছি। আমার আর্থিক অনটন চলছিল–আমি আশা করেছিলাম মিস ফ্রেঞ্চ আমাকে কিছুটা ধার দেবেন। তাছাড়া তিনি ধরে নিয়েছিলেন আমাদের দুজনের সম্পর্ক ভালো নয়। আমরা আলাদা থাকি।

    তার এই ভাবনাকে আমি তেমন আমল দিইনি। তিনি আমাকে তার পালিত পুত্র বলতেন।

    আপনার বক্তব্য এখানেই শেষ?

    হ্যাঁ, আমার কিছু আর বলার নেই।

    মিঃ মেহার্ন আবেগ ভরে বলে উঠলেন আমি আপনার নির্দোষিতায় বিশ্বাস করি, আমি তা প্রমাণ করে আপনাকে মুক্ত করব।

    তবে এই মামলার অনেক কিছুই জেনেট ম্যাকেঞ্জির সাক্ষ্যর উপর নির্ভর করছে। তিনি তো আবার আপনাকে ঘৃণা করে।

    মিঃ ভোল প্রতিবাদ করে বললেন, সে আমাকে মোটেই ঘৃণা করে না।

    মিঃ মেহার্ন মাথা নাড়তে নাড়তে বাইরে চলে গেলেন। তিনি ভোলদের আস্তানা প্যাডিংটন স্ট্রীটের বাড়িতে হাজির হলেন।

    পরিচারিকা দরজা খুলে দিল। মিঃ মেহার্ন তার কার্ডটি পরিচারিকার হাতে দিয়ে বললেন এটি দেখাও তোমার মনিবকে তাহলে উনি আমার সঙ্গে দেখা করবেন। কিছুক্ষণ পরে দাসী তাকে ড্রইংরুমে নিয়ে গেল। মিঃ মেহার্ন বসে আছেন এমন সময় হঠাৎ একজন লম্বা, ফ্যাকাশে মহিলার সম্মুখীন হয়ে ভীষণ চমকে গেলেন।

    মহিলা ঘরে প্রবেশ করে মিঃ মেহার্নকে বললেন, আপনিই মিঃ মেহার্ন। আপনিই আমার স্বামীর উকিল? আপনি কি অনুগ্রহ করে বলবেন আমার স্বামীর মামলাটির ফলাফল কি হতে পারে? সবকিছু জানা আমার অবশ্যই দরকার শত খারাপ ঘটনা হলেও আমি তা শুনতে প্রস্তুত।

    মিঃ মেহার্ন বলতে শুরু করলেন, আমি জানি আপনি নিশ্চয়ই মানসিক কষ্টে আছেন

    যাই হোক মিঃ মেহার্ন মিঃ ভোলের সঙ্গে তার সাক্ষাৎকারের ঘটনার বিবরণ জানালেন।

    মিসেস ভোল মনোযোগ দিয়ে শুনলেন, তার পর বললেন আমার স্বামী চায় আমি যেন বলি সে ঐ দিন রাত্রে নটা কুড়িতে বাড়ি এসেছিল। তাই না?

    মিঃ মেহার্ন তীক্ষ্ণভাবে জিজ্ঞাসা করলেন কেন তিনি ঐ সময় বাড়ি আসেননি?

    রোমেন ভোল ঠাণ্ডা লাগায় বলল, প্রশ্ন হচ্ছে আমি যদি ঐ রকম সাক্ষ্য দিই তবে আদালত তাকে মুক্ত করবে? আচ্ছা এমন কেউ কি আছে যে আমার বক্তব্য সমর্থন করতে পারে?

    তার ব্যগ্রতা দেখে মিঃ মেহার্ন একটু অস্বস্তি বোধ করলেন এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। তারপর বিষণ্ণ ভাবে রোমেন ভোলের দিকে তাকিয়ে বললেন মিসেস ভোল আপনার মনের উপর খুব চাপ পড়েছে, আপনি স্বামীর প্রতি এত অনুরক্ত যে

    মিসেস ভোল তীক্ষ্ণভাবে বলে উঠলেন, আমার স্বামী কি আপনাকে বলেছে যে আমি তার প্রতি অনুরক্ত? তবে শুনে রাখুন আমি তাকে ঘৃণা করি, আমি চাই তার ফাঁসি হোক।

    রোমেন ভোলের হঠাৎ ঐ বিষোদগারণ দেখে মিঃ মেহার্ন কিছুটা কুঁকড়ে গেলেন।

    রোমেন ভোল আর এক পা এগিয়ে এসে বলতে আরম্ভ করলেন, খুব সম্ভব আমি তার ফাঁসিতে মরণ দেখব। আমি যদি বলি সেদিন রাত্রে সে দশটা কুড়িতে এসেছিল, আর সে আপনাকে বলেছে যে সে মিস ফ্রেঞ্চের উইলের ব্যাপারে জানে না কিন্তু সে সবই জানে।

    সে ঐজন্যই তাকে খুন করেছে। যাতে সে প্রচুর অর্থের মালিক হয়। যদি বলি ঐ রাতে সে আমার কাছে সব কবুল করেছে যে, সে খুন করে এসেছে? তার জামায় রক্ত লেগেছিল কি হবে তা হলে?

    মিঃ মেহার্ন অনেক কষ্টে বুদ্ধিগ্রাহ্য ভাবে বললেন, স্বামীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবার জন্য কখনই আপনাকে ডাকা হবে না।

    সে আমার স্বামী নয়।

    মিঃ মেহার্ন ভাবল তিনি যেন ভুল শুনছেন। আমি আপনার কথা ঠিক বুঝতে পারলাম না।

    লেনার্ড ভোল আমার স্বামী নয়। আমি ভিয়েনায় একজন অভিনেত্রী ছিলাম। আমার স্বামী বেঁচে আছেন তবে পাগলাগারদে আছেন। ফলে লেনার্ড ভোলের সঙ্গে আমার বিয়ে হতে পারেনি।

    মিঃ মেহার্ন বললেন, আচ্ছা আমি জানতে চাই লেনার্ড ভোলের প্রতি আপনার মনোভাব এত তিক্ত কেন?

    রোমেন ভোল মাথা নাড়িয়ে বললেন এটা গোপন রাখতে চাই।

    মিঃ মেহার্ন শুকনো কেশে উঠে দাঁড়ালেন আচ্ছা আমাদের কথাবার্তা আর চালিয়ে যাবার প্রয়োজন নেই। তিনি বললেন গুড ইভনিং ম্যাডাম। তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। নিজের মনে বললেন সমস্ত ব্যাপারটা অদ্ভুত মামলার জট আরো পাকিয়ে উঠল।

    যুবকটি এখন অথৈ জলে, তার বিরুদ্ধে খুব বেশী প্রমাণ রয়ে গেছে, অত প্রমাণ রেখে কেউ খুন করে না মহিলা নিশ্চয়ই মিথ্যা বলছে।

    পুলিশ কোর্টের কাজকর্ম চুকে গেল এই মামলার প্রধান সাক্ষীদ্বয় হলো মৃতার পরিচারিকা জেনেট ম্যাকেঞ্জি এবং তার স্ত্রী রলে পরিচিত রোমেন হেলজার।

    অভিযুক্ত আসামী নিজের নির্দোষিতা আঁকড়ে রইল। এদিকে বিচারের জন্য কেসটা ফৌজদারী আলাদতে পাঠান হল।

    লেনার্ড ভোলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ খুবই জোরাল। মিঃ মেহার্ন এবং ভোলের নির্দোষ তা প্রমাণ করার জন্য যে দুদে ব্যারিষ্টার লাগান হয়েছে তিনিও হতাশ হয়ে পড়লেন। আমরা যদি ঐ অষ্ট্রিয়ান মহিলার সাক্ষ্যে চিড় ধরাতে পারি তাহলে হয়ত একটা উপায় বার করতে পারি।

    মিঃ মেহার্ন ভাবল, ধরে নেওয়া যাক লেনার্ড ভোল সত্যিই মিস ফ্রেঞ্চের বাড়ি থেকে চলে এসেছিল রাত নটার সময়। তাহলে সিটিংরুমে সাড়ে নটার সময় কোন ব্যক্তির গলার স্বর শোনা গিয়েছিল। এই ব্যাপারে একমাত্র আশার আলো জেনেট ম্যাকেঞ্জির ভাইপো জেনেট তার মনিবকে উইলে অর্থ সংস্থানের জন্য চাপ দিত। এছাড়া অন্য পথে গেলে নেতিবাচক উত্তর পাওয়া যাচ্ছে।

    বিচারের আগের দিন মিঃ মেহার্ন একটা চিঠি পেলেন। ঐ চিঠিই ঘটনার গতি অন্য দিকে ফেরাল। চিঠিটা একটা সাধারণ কাগজে লেখা, যে লিখেছে সে অশিক্ষিত। বানান ভুল।

    চিঠিটা লেখা এই ভাবে…

    প্রিয় মহাশয়,
    আপনি উকিল যে ঐ যুবকের হয়ে মামলা লড়ছেন। আপনি যদি তার স্ত্রীর সাক্ষ্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ করতে চান তবে আজ রাতেই ১৬নং শস রেন্টস স্টেপনিতে চলে আসুন। ঐ ঠিকানায় মিসেস মগসনের খোঁজ করলেই হবে।

    মিঃ মেহার্ন বার বার চিঠিটা পড়লেন। এই চিঠিটার উপর আসামীর বাঁচার একমাত্র আশা নির্ভর করছে। এখন চেষ্টা করতে হবে রোমেন হেলজার যা বলছেন সব মিথ্যা।

    মিঃ মেহার্ন ঠিক করে ফেললেন তার মক্কেলকে যেভাবেই হোক বাঁচাবেন। সুতরাং সে শস রেন্টস এ গেলেন। তিনতলার উপরে উঠে দরজায় টোকা মারলেন।

    একবার, দুবার তারপর আস্তে আস্তে ন্যুজ চেহারার একজন রমণী দরজা খুলে দিলেন।

    মিঃ মেহার্ন নিস্পৃহ ভাবে ছোট্ট নোংরা ঘরটায় ঢুকলেন, ভিতরে গ্যাসের আলো জ্বলছে।

    রমণী মধ্যবয়স্কা, ঝুঁকে পড়া চেহারা, মাথায় একরাশ চুল, মুখের চারধারে স্কার্ফ শক্ত করে বাঁধা।

    মহিলা বললেন অবাক হচ্ছ নিশ্চয়ই, দেখবে আমার সৌন্দৰ্য্য, বলে রমণী স্কাটা একদিকে খুলে ফেলল। মিঃ মেহার্ন ভয়ে গুটিয়ে গেলেন। মুখে বিশ্রী দগদগে লাল দাগ। রমণী মুখটা আবার ঢেকে দিল।

    জান আমি কিন্তু এক সময় দেখতে খুব সুন্দরী ছিলাম। অ্যাসিড! অ্যাসিডে আমার এই অবস্থা। কিন্তু আমি তাদের উপর প্রতিশোধ নেব।–মিঃ মেহার্ন তাকে থামাবার চেষ্টা করলেন। একসময় মহিলা থেমে গেলেন। এবার মেহান বললেন, তুমি আমাকে এমন কিছু খবর দিতে পারবে যাতে আমার মক্কেল লেনার্ড ভোল খুনের অভিযোগ থেকে মুক্তি পাবে।

    রমণী বলে উঠল আমার দুশ পাউণ্ড লাগবে। তুমি দুশ পাউণ্ড দাও, আমি তোমাকে দু-একটা খবর দেব। বুঝতে পারছ?

    কি রকম খবর?

    একটা রোমেন ভোলের লেখা চিঠি, ঐ চিঠিতেই তোমার কাজ হবে কিন্তু বদলে দুশ পাউণ্ড চাই।

    মিঃ মেহার্ন বললেন, আমি তোমাকে দশ পাউণ্ড দেব, এর বেশী এক কানাকড়িও দেব না।

    মহিলা চেঁচিয়ে উঠলেন, তারপর কুড়িপাউণ্ড রফা হল। মহিলা গালাগাল দিতে দিতে শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিল।

    তারপর এক বাণ্ডিল চিঠি নিয়ে বলল, এই নাও অপদার্থ এই বাণ্ডিলের উপরের চিঠিটা তোমার কাজে লাগবে।

    মিঃ মেহার্ন প্রত্যেকটা চিঠি ভালো করে পড়ে উপরের চিঠিটা নিলেন। একবারের উপরের চিঠিটা লেনার্ড ভোলের গ্রেপ্তারের দিন লেখা।

    রমণী নাকি সুরে বলল, ঐ চিঠিটা বারোটা বাজাবে কি বল? আদালতে ঐ বেহায়া বউটা কি বলেছে আমি তা শুনেছি, খুঁজে বার কর দশটা কুড়িতে সে কোথায় ছিল; লায়ন রোড সিনেমায় খোঁজ নাও।

    কিন্তু লোকটা কে? মিঃ মেহার্ন জিজ্ঞাসা করলেন? চিঠিতে শুধু একটা খৃষ্টান নাম পাচ্ছি।

    ঐ লোকটাই তো আমার এই হাল করেছে। সে অনেকদিন আগেকার কথা ঐঠক মেয়েটাই তাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে।

    আমি অনেকদিন ধরেই মেয়েটার উপর প্রতিশোধ নেবার সুযোগ খুঁজেছিলাম আজ তাকে বাগে পেয়েছি। বউটা এবার ফল ভোগ করবে তাই না উকিল সায়েব?

    খুব সম্ভবত মিথ্যা সাক্ষ্য দেবার জন্য তার জেল হবে, মিঃ মেহার্ন শান্ত ভাবে বললেন। তারপর সে কোন কথা না বলে টেবিলের উপর প্রতিশ্রুত কুড়ি পাউণ্ড অর্থ রাখলেন। এবং লায়ন রোডের সিনেমা হলের দিকে এগোলেন।

    খুব সহজেই সিনেমা হলটি পেয়ে গেল। রোমেন হেলজারের একটা ফটো হলের কেয়ার টেকারকে দেখাবার সঙ্গে সঙ্গেই সে রোমেন হেলজারকে চিনতে পারল।

    ঘটনার দিন রোমেন হেলজার রাত দশটার একটু পরে একজন পুরুষের সঙ্গে সিনেমা হলে আসে। তারা দুজন সিনেমা শেষ হওয়া পর্যন্ত ছিল, প্রায় এক ঘণ্টা।

    যেটুকু খবর পেলেন তাতে মিঃ মেহার্ন সন্তুষ্ট হলেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে রোমেন হেলজারের সাক্ষ্য প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মিথ্যেয় ভর্তি। সে রাগে ঐসব মিথ্যে বলেছে। কিন্তু কেন এই রাগ।

    মিঃ মেহার্ন ভাবলেন ব্যাপারটা দুজনের মধ্যে গোপন আছে। কোনদিন হয়ত ব্যাপারটা জানতে পারবে।

    তিনি এবার হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে একটি ট্যাক্সি নিলেন এবং নিজের মনে বললেন এক্ষুনি স্যার চার্লসকে খবরটা জানাতে হবে।

    মিস এমিলি ফ্রেঞ্চকে খুনের জন্য লেনার্ড ভোলের বিচার চারিদিকে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। সাক্ষ্য প্রমাণ জেরা প্রভৃতি প্রথমে খুব শান্তভাবে শুরু হল। নানারকম বৈজ্ঞানিক তথ্য সংক্রান্ত প্রমাণ দাখিল করা হল।

    এরপর ম্যাকেঞ্জিকে ডাকা হল। সে আগে যা বলেছে সেই কথাই বলল।

    জেরা করার সময় আসামী পক্ষে উকিল তার স্ব-বিরোধী সাক্ষ্যের উপর বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। সেটা হলো মিস ফ্রেঞ্চের সঙ্গে ভোলের সম্পর্ক; আসামী পক্ষের উকিল জোর দিয়ে বললেন যে যদিও জেনট ম্যাকেঞ্জি ঐ রাতে মিস ফ্রেঞ্চের সিটিংরুমে পুরুষের গলা শুনতে পেয়েছিল, কিন্তু ঐটা যে ভোলের গলা তা প্রমাণিত হয়নি। উকিল এখন প্রমাণ করবে সাক্ষী অভিযুক্তকে ঈর্ষা করে তাই ঐ রকম সাক্ষ্য দিচ্ছে।

    এরপর পরবর্তী সাক্ষী রোমেন হেলজার আপনি গত তিন বছর আসামীর সঙ্গে একত্রে স্ত্রী হিসেবে থেকেছেন?

    সাক্ষী এক মুহূর্তের জন্য আসামীর দিকে তাকাল তারপর তার অদ্ভুত দৃষ্টি এবং তার অভিব্যক্তি কিছু বোঝা গেল না।

    প্রশ্ন চলতে লাগল, ক্রমশ সেই ভয়ানক ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ল। ঘটনার দিন রাত্রে আসামী একটা শাবল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল।

    দশটা কুড়িতে বাড়ি ফিরে এল এবং স্বীকার করল যে সে বৃদ্ধা মহিলাকে খুন করেছে। তার জামার হাতায় রক্ত লেগেছিল। সে ঐ জামাটা রান্নাঘরের স্টোভের আগুনে পুড়িয়ে দিল। সে ভয় দেখিয়ে স্ত্রীকে চুপ থাকতে বাধ্য করল।

    আদালতে উপস্থিত জনসাধারণ আসামীর বিরুদ্ধে সহানুভূতিহীন হয়ে পড়ল এবং আসামী নিজে মাথা নীচু করে বসে রইল। সে ভাবতে লাগল তার ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে।

    এই বার আসামী পক্ষের উকিল উঠে দাঁড়ালেন। তিনি হেলজারকে বললেন তার সাহায্য সব বানানো সে দশটা কুড়ির সময় নিজে বাড়ি ছিল না। সে অন্য পুরুষের প্রণয়াসক্ত, সে ভোলকে ফাঁসিতে ঝোলাবে বলে এইরূপ মিথ্যা সাক্ষী দিচ্ছে।

    রোমেন দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ করল। এরপরই সেই মারাত্মক চিঠিটা দাখিল করা হল। আদালতে চিঠিটা পড়া হল। ম্যাক্স, প্রিয় আমার, ভাগ্য তাকে আমাদের হাতে এনে ফেলেছে। খুনের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি ভেবে অবাক হচ্ছি যে লেনার্ড ভোল একটা মাছি পর্যন্ত মারতে পারে না। সে কি না মিস ফ্রেঞ্চকে খুন করল। হায় বেচারা সে রক্ত মাখা অবস্থায় বাড়ি এসেছিল আমার কাছে সব স্বীকার করেছে আমি তাকে ফাঁসিতে ঝোলাবো। সে যখন ফাঁসিতে ঝুলবে তখন বুঝতে পারবে রোমেন হেলজারই তার ঐ অবস্থা করেছে। তারপর আমরা দুজন সুখে বাকি জীবন কাটাতে পারব।

    চিঠিটা প্রকাশ হয়ে পড়তেই রোমেন হেলজার একেবারে ভেঙে পড়ল সবকিছু স্বীকার করল সে। লেনার্ড নটা কুড়িতেই বাড়ি ফিরেছিল।

    মামলা এবার অন্যদিকে মোড় নিল। আসামীর উকিল স্যার চার্লস তার কয়েকজন সাক্ষীকে ডাকলেন। আসামীকেও সাক্ষ্য দিতে ডাকা হলো, সে জেরার চাপে একটু ঘাবড়ালো না।

    বিবাদী পক্ষের উকিল অনেক চেষ্টা করলেন, কিন্তু তেমন কিছু করতে পারলেন না। সাক্ষ্য জেরা শেষ হতে জুরীরা গোপন বৈঠকে গেলেন। একটু পরেই ফিরে এসে তারা বললেন, আসামী নির্দোষ।

    লেনার্ড ভোল বেকসুর খালাস পেল। মিঃ মেহার্ন তাড়াতাড়ি উঠে তার মক্কেলকে অভিনন্দন জানালেন। এই কেসটা সত্যিই অদ্ভুত, বিশেষ করে রোমেন হেলজার একটা অদ্ভুত চরিত্র। রোমেন হেলজারের আকর্ষণীয় চেহারার জন্য কেসটা তার স্মৃতিপটে জীবন্ত হয়ে থাকবে।

    রোমেন হেলজারকে দেখতে একজন বিবর্ণ, শান্ত মহিলা, কিন্তু আদালতে এসে সে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের আকার ধারণ করেছিল।

    স্যার চার্লস মিঃ মেহার্নকে বললেন, আমাদের মক্কেল খুব অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে চলুন তাকে অভিনন্দন জানিয়ে আসি। কিন্তু মিঃ আর একজনের সঙ্গে মুখোমুখি হতে চান তিনি হলেন রোমেন হেলজার। তার দেখা পেতে একটু দেরি হলো কিন্তু কোথায় দেখা হলো সেই কথা এখানে অবান্তর। মিঃ মেহার্ন রোমেন হেলজারকে সব কথা খুলে বলতে রোমেন বলল, আমি আমার মুখটা কি করে পাল্টালাম সেটা তো খুব সোজা।

    গ্যাসের আলো এত কম ছিল যে আপনি মেক-আপ ধরতেই পারেননি।

    কিন্তু আপনি ঐরকম করতে গেলেন কেন?

    শুনুন, যে করেই হোক তাকে আমার মুক্ত করার দরকার ছিল। আমি জানতাম মানসিকতা বুঝি তাই আমি চাইলাম আমাকে অপদস্থ করা হোক, অপরাধী করা হোক, তাহলেই স্বয়ংক্রিয় ভাবেই আসামীর পক্ষে সহানুভূতির উদ্রেক হবে।

    কিন্তু চিঠির বাণ্ডিলগুলো?

    ঐ চিঠিটা আমারই তৈরি করা, বাকিগুলো লেনার্ডকে লেখা আমার সত্যিকারের প্রেমের চিঠি।

    তাহলে ম্যাক্স নামের লোকটা কে?

    ঐ নামে কোনো লোকের অস্তিত্ব নেই।

    মিঃ মেহার্ন দুঃখিত হয়ে বললেন, আমরা তো তাকে সোজা রাস্তাতেই আনতে পারতাম।

    আমি ঝুঁকি নিতে চাইনি। আপনি তো নিজেই মনে করতেন যে সে নিরপরাধ।

    কিন্তু মিঃ মেহার্ন আপনি মোটেই বুঝতে পারেননি, কিন্তু আমি জানি লেনার্ড সত্যিসত্যই খুন করেছিল।

    .

    ০২.

    জোয়ান অ্যাসবি ঘণ্টার আওয়াজ শুনে দৌড়ে সিঁড়ির দিকে গেল। দৌড়ে যেতে গিয়ে একজন যুবকের সঙ্গে বেশ জোরে ধাক্কা খেল।

    আরে জোন যে। এত তাড়াহুড়ো কিসের? দুঃখিত হ্যারি। আমি তোমাকে দেখতে পাইনি। কিন্তু এত তাড়াহুড়ো কেন?

    ঘণ্টা বেজে গেছে এটা দ্বিতীয় ঘণ্টা। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময়টা দেখে নাও।

    হ্যারি ডেলহাউস পুরোনো ক্লকের দিকে তাকাল। আটটা বারো, সে বলল।

    বাটলারকে উদ্দেশ্য করে প্রথম ঘণ্টাটা বাজালে না কি দ্বিতীয় ঘণ্টাটা?

    প্রথম ঘন্টা স্যার।

    আটটা বারোতে প্রথম ঘণ্টা বাজালে? তোমার তো চাকরি চলে যাবে?

    বাটলার হেসে বলল, আজ সাতটার ট্রেন আধঘণ্টা দেরিতে পৌঁছচ্ছে তাই দশ মিনিট দেরিতে ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

    মনিবের হুকুমে।

    কোথায় একটা গুলির শব্দ হলো হ্যারি বলল। ইতিমধ্যে কালো মতন পঁয়ত্রিশ বছর বয়স  একজন লোক তাদের ড্রইংরুম থেকে বের হয়ে এলো।

    এদিকে এরা তিনজন আওয়াজ সম্বন্ধে নানা রকম আলোচনা করতে লাগল। কিসের আওয়াজ কোন দিক থেকে আওয়াজটা এলো ইত্যাদি, সুদর্শন লোকটি শুধু মাথা নাড়ল। সে বলল, শব্দটা ঘণ্টা ও সামনের দরজাটা দিয়ে এল মনে হয়। হ্যারি বলল, উত্তর দিক থেকে শব্দটা এসেছে, শব্দটার উৎপত্তি আমাদের পিছন দিক থেকে।

    জেফ্রি কিন বলল, আজকাল খুনখারাপি লেগেই আছে, মিস অ্যাসবি বলল, খুনের কথা শুনলে আমার হাত পা কাপে।

    হ্যারি বলল খুন? কিন্তু কোনো রক্তপাত নেই, কোনো গোঙানি নেই, এরকম খুন আমি কোনোদিন দেখিনি।

    আমার মনে হয় কোনো চোরাশিকারী খরগোশ মারছে, তারই গুলির শব্দ।

    যাক বাবা বাঁচা গেল, বলে হাসতে হাসতে তিনজন বড় ড্রইংরুমটায় ঢুকল।

    ইংল্যাণ্ডের প্রাচীন বাড়ির মধ্যে লাইচাম ক্লোজ অন্যতম বিখ্যাত বাড়ি।

    হিউবার্ট লাইচাম রোচ পরিবারের সর্বশেষ বংশধর। টুপি বিক্রেতার মত রাগী সে, হতভাগ্য বেচারা! হিউবার্ট লাইচাম খ্যাতনামা সঙ্গীতজ্ঞ, তিনি একটা উগ্র স্বভাবের, রাগ হলে জ্ঞান থাকে না। জোর করে নিজের গুরুত্ব অপরের উপর চাপায়।

    গান বাজনা নিয়ে তার খুঁতখুতানি সবচেয়ে বেশী। তিনি যখন অতিথিদের সামনে বাজাবেন তখন সবাইকে একেবারে চুপ করে থাকতে হবে। আর একটা ব্যাপারে খুঁতখুতানি আছে, সেটা হল রাতের খাওয়া।

    রাতের খাওয়া রীতিমত একটা উৎসব, একটা অনুষ্ঠান। রাতের খাওয়ার সময় সবাইকে ঠিক সময় হাজির হতে হবে।

    রাত আটটা পাঁচের সময় একটা ঘণ্টা পড়ে। আটটা পনেরোয় আর একটা ঘণ্টা পড়ে। তারপর ডাইনিংরুমের দরজা খুলে যায়, বলা হয় টেবিলে খাবার দেওয়া হয়েছে। অতিথিরা তখন শোভাযাত্রা করে খাবার ঘরে ঢোকে। দ্বিতীয় ঘন্টা পড়ার পরে কেউ যদি দেরি করে তবে তার জন্য সে রাতের খাবার ঘরের দরজা বন্ধ।

    তাই এই পবিত্র অনুষ্ঠানটা আজ হঠাৎ দশ মিনিট পিছিয়ে গেছে বলে সবাই খুব অবাক।

    জোন অ্যাসবি দেখতে খুব সুন্দর। চোখদুটো নীল মাথার চুল সোনালী, চোখের চাউনি কিছুটা অস্থির, দুষ্টমী ভরা। সে এই প্রথমবারই লাইচাম ক্লোজ এসেছে।

    দরজা খুলে ডায়না ক্লিভস ঘরের ভেতর ঢোকে সে রোচের পালিতা কন্যা। ডায়নার সৌন্দৰ্য্য পুরুষের বুকে জ্বালা ধরিয়ে দেয়। চেহারাটা আবেদনময় কিন্তু কাছে গেলে মনে হয় বরফের ডেলা। যুবতীকে দেখেই যুবক দুজন এগিয়ে গেল। ডায়না দুজনের দিকে তাকিয়ে হাসল। জেফ্রি কিনের মুখটা কালো হয়ে গেল।

    মিসেস রোচ ঘরে ঢুকলেই সে নিজেকে সামলে নিল। মিসেস রোচ বেশ লম্বা, রংটা ময়লা, আচরণে দ্বিধা জড়িত। পরে সবুজ রঙের গাউন। তার সঙ্গে মধ্যবয়স্কা একজন ঘরে ঢুকলেন নাম গ্রেগরী বেয়ারলিং।

    ঘণ্টা বেজে উঠলো। ডিগবি দরজা খুলে ঘোষণা করল ডিনার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটা আশ্চর্য্য ঘটনা সবাই আছে কিন্তু হিউবার্ট লাইচাম রোচ নেই। কি হতে পারে তাঁর। সবাই কিছুটা আশঙ্কিত হয়ে অপেক্ষা করতে লাগল।

    অবশেষে দরজাটা আর একবার খুলে গেল। সবাই ভাবল গৃহস্বামী কিন্তু তা নয়। যে ঘরে ঢুকল তাকে দেখে মনে হয় সে বিদেশী, ছোট্টখাট্ট লোক, মাথায় পুরো টাক বেশ বড় বড় গোঁফ; পরণে সাদাসিধা ইভনিং ড্রেস।

    আগন্তুক মিসেস রোচের কাছে দেরি হওয়ার জন্য ক্ষমতা চাইল।

    মিসেস রোচ বললেন, আপনার মোটেই দেরী হয়নি মি–তিনি থেমে গেলেন।

    পোয়ারো, ম্যাডাম, আমার নাম এরকুল পোয়ারো, তার পিছনে কে যেন বলে উঠল ও কোনো মহিলা বোধ হয়। আপনি কি জানতেন আমি আসব?

    মিসেস রোচ বললেন, হ্যাঁ। তবে আমার সবসময় সবকিছু মনে থাকে না। ডিগবি সব দিকে নজর রাখে।

    এরকুল পোয়ারো বললে রেল লাইনে একটা দুর্ঘটনার জন্য আমার ট্রেন দেরিতে পৌঁছেছে। জোন তখন বলে উঠল সেই জন্যই দেরি করে ডিনারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    মিসেস লাইচাম রোচ বললেন, আমি বুঝতে পারছি না কেন মানে, তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বলতে লাগলেন হিউবার্ট তো কোনোদিন এরকম দেরি করে না।

    পোয়ারোর চোখ দুটো খুব তাড়াতাড়ি সবাইকে জরিপ করল।

    এদিকে জেপ্রি কিন ব্যাখ্যা করল, মিঃ রোচ ডিনারে কোন দিন দেরি করে আসেননি একজন আগন্তুকের কাছে পরিস্থিতিটা খুবই অদ্ভুত, সবাই কেমন যেন অপ্রস্তুত, দ্বিধা জড়ানো।

    হঠাৎ মিসেস লাইচাম রোচ বললেন, আমি ডিগবিকে পাঠাচ্ছি কেন মিঃ লাইচাম রোচ আসেননি ডিনারে।

    ডিগবিকে ডাকা হলো এবং তাকে বলতে সে উত্তর দিল মিঃ লাইচাম রোচ আটটা বাজার পাঁচ মিনিট আগে নীচে নেমে স্টাডিরুমে গিয়েছেন।

    ডিগবি বলল, আচ্ছা আমি তাকে জানাচ্ছি যে ডিনার প্রস্তুত।

    ধন্যবাদ ডিগবি।

    ঘরের মধ্যে কিছুক্ষণের নীরবতা। একটু পরেই ডিগবি ঘরে ঢুকল। জোরে জোরে তার নিশ্বাস পড়ছে এরকম হবার কথা নয় তার। আমাকে মাফ করবেন ম্যাডাম, স্টাডিরুম ভিতর থেকে দরজা বন্ধ।

    এই সময়ই এরকুল পোয়ারো পরিস্থিতিটা নিজের হাতে নিল। সে বলল, আমাদের সবারই এখন স্টাডিরুমে যাওয়া দরকার।

    হলঘরের মধ্য দিয়ে সিঁড়ি অতিক্রম করে, গ্র্যাণ্ডফাদার ক্লকটা এবং ডিনার গং এর পাশ দিয়ে সে করিডর দিয়ে চলল। করিডর শেষ হয়েছে স্টাডিরুমের বন্ধ দরজার সামনে।

    মিঃ পোয়ারো দরজায় নক করলেন। কিন্তু কোন সাড়া শব্দ পেলেন না, তারপর দরজার ফুটোতে চোখ দিয়ে তাকাল, তারপরই বললেন এক্ষুনি আমাদের দরজা ভাঙতে হবে। পোয়ারোর নির্দেশ মত জেফ্রি কিন ও গ্রেগারি বেয়ারলিং তারা দুজনে দরজায় ধাক্কা দিতে লাগল।

    কিন্তু দরজা ভাঙা মুখের কথা নয়। অনেক চেষ্টার পর বেশ কিছুক্ষণ পরে সবার সমবেত ধাক্কায় দরজাটা শেষ পর্যন্ত ভেঙ্গে গেল। বাড়ির সবাই দরজার সামনে অপেক্ষা করতে লাগল কি দেখবে সেই ভেবে তারা যা ভয় করছিল তা-ই দেখতে পেল। জানালাটা তাদের দিকে মুখ করে বাঁ দিকে দরজা আর জানালার মাঝখানে একটা বড় লেখার টেবিল। টেবিলের দিকে মুখ না দিয়ে একটু বেঁকে একজন লম্বা চেহারার মানুষ বসে আছেন।

    শরীরটা চেয়ারের উপর ঝোকানো তার পিছন দিকটা দরজার দিকে, মুখটা জানালার দিকে তাঁর ডান হাতটা মেঝের দিকে ঝুলে পড়েছে, আর হাতের নীচে কার্পেটের উপর একটা চকচকে পিস্তল।

    পোয়ারো তীক্ষ্ণ গলায় গ্রেগরি বেয়ারলিংকে বলল, মিসেস রোচ ও অন্য দুজন মহিলাকে এখান থেকে নিয়ে যান।

    মিসেস লাইচাম কেঁপে উঠে বললেন বোচ নিজেকে গুলি করেছে, উঃ কি সাংঘাতিক! গ্রেগরি বেয়ারলিং তাকে এবং অন্য দুজন মহিলাকে নিয়ে অন্যদিকে গেলেন।

    পোয়ারো ঘরের মধ্যে ঢুকল, যুবক দুজন তার পিছনে। বুলেটটা মাথার ডান দিক ফুটো করে বের হয়ে গিয়ে নিশ্চয়ই বাঁ দিকের ঝোলানো আয়নাটায় আঘাত করেছে। আয়নাটা ভেঙ্গে গেছে। লেখার টেবিলের উপর এক টুকরো কাগজ, তাতে শুধু একটা শব্দ লেখা দুঃখিত।

    পোয়ারো দরজার দিকে ফিরে তাকাল। দরজার তালায় ভিতর থেকে তো চাবি লাগানো নেই, সে বলল আমার মনে হয়।

    পোয়ারো খুব তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়িয়ে জানালার কাছে গেল। জানলাটা বেশ বড়।

    সে নীচে বাইরের দিকে ঘাসগুলো পরীক্ষা করে জানলাটা আবার বন্ধ করে দিল।

    সে বলল, আমাদের এখুনি পুলিশে ফোন করা দরকার। তারা যতক্ষণ না এটা আত্মহত্যা বলছেন ততক্ষণ আমাদের কোনো কিছুতে হাত দেওয়া উচিত নয়।

    মনে হয় মিঃ রোচ পনেরো মিনিট আগে মারা গেছেন।

    পোয়ারো ডিগবিকে স্টাডিরুমের সামনে পাহারা দিতে রেখে গেল। হ্যারি মহিলাদের কাছে চলে গেল।

    মিঃ পোয়ারো বলতে আরম্ভ করলেন আপনি মিঃ লাইচাম রোচের ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাই আপনার সঙ্গে আমার প্রথম কথা বলা উচিত। কারণ এই সময় মিসেস লাইচামকে প্রশ্ন করা উচিত নয়। আমি সহজ ভাবে ঘটনাগুলো আপনার সামনে রাখব। তাহলে শুরু করি। আমার লণ্ডনের ঠিকানায় মিঃ রোচের কাছ থেকে একটা চিঠি পাই। তাতে লেখা আছে তার ব্যবসা থেকে কেউ প্রচুর অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তিনি পুলিশকে খবর দিতে নারাজ। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন আমি এসে ব্যাপারটার তদন্ত করি। আমি রাজী হয়েছিলাম কিন্তু আমার আসতে কয়েকদিন দেরী হয়ে গেল।

    বেয়ারলিং সামান্য হাসলেন। তিনি মাঝে মাঝে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতেন কিন্তু বিকৃত মস্তিষ্ক নয় কারণ আত্মহত্যা বিকৃত মস্তিষ্কের কাজ নয়। তদন্তকারী জুরীরা তাই বল বেয়ারলিং দৃঢ়ভাবে বলল, হিউবার্ট মোটেই স্বাভাবিক লোক ছিল না। তিনি কিছুটা উন্মাদগ্রস্ত ছিলেন পারিবারিক ব্যাপারে। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও খুব বুদ্ধিমান ছিলেন।

    মিঃ পোয়ারো বললেন, রহস্যটা খুব শীঘ্র উন্মোচন করতে হবে। তিনি চিঠিতে লিখেছিলেন পারিবারিক কারণেই অনেকে আত্মহত্যা করেন। তিনি একটা অপরাধের ছায়া দেখেছিলেন সেই জন্যই তাকে মরতে হল। যাইহোক আমি এই ব্যাপারে তদন্ত করব এবং খুব তাড়াতাড়ি কাজটা শেষ করার চেষ্টা করব।

    বেয়ারলিং বললেন, আমি কিভাবে আপনাকে সাহায্য করব বুঝতে পারছি না। হিউবার্ট কোনদিন গোপন কিছু আমাকে বলেননি।

    আপনি আমাকে বলুন মিঃ বেয়ারলিং আপনার মতে কার পক্ষে মিঃ রোচের অর্থ চুরি করার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বলা মুশকিল। তবে ক্যাপ্টেন মার্শাল বলে একজন এজেন্ট আছে তার বিষয় সম্পত্তি দেখার জন্য। তিনি খুব চমৎকার লোক। যুদ্ধে তার একটা হাত কাটা গেছে।

    হিউবার্ট এই ভদ্রলোককে বেশ পছন্দ করতেন।

    মিঃ! পোয়ারো বেয়ারলিংকে অনুরোধ করলেন আপনি আমায় সব খুলে বলুন।

    বেয়ারলিং বললেন, ঠিক আছে বলছি তাহলে আপনি ড্রইংরুমে একজন সুন্দরী মহিলা দেখেছেন?

    আমি দুজন সুন্দরী মহিলাকে দেখেছি।

    হা একজনের নাম মিস অ্যাসবি, হ্যারি ডেলহাউস তাকে এনেছেন। কিন্তু আমি আর একজন মহিলার কথা বলছি তার নাম ডায়না ক্লিভস। তিনি একজন সাংঘাতিক মহিলা। এখান থেকে কুড়ি মাইলের মধ্যে যত পুরুষ আছে সবার সঙ্গে উনি ফষ্টিনষ্টি করেছেন এই জন্য তাকে কেউ না কেউ একদিন খুন করবেই। এদিকে আর একজন মহিলা মিঃ বেয়ারলিংকে সমানে লক্ষ্য করে যাচ্ছেন তিনি হলেন লাইচাম রোচের পালিতা কন্যা। ডায়না ক্লিভস একদিক দিয়ে তাদের দূর সম্পর্কের ভাইঝি হয়। হিউবার্ট তাকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি চাইতেন না ডায়না ক্লিভসের বিয়ে হোক। তবে হিউবার্টের পছন্দ মত পাত্র যদি হয় তাহলে তার কোন আপত্তি ছিল না। বেয়ারলিংকে হিউবার্টের খুব পছন্দ ছিল। বেয়ারলিংও ডায়নার প্রেমে পড়েছিল তবে ডায়নার চরিত্র একেবারেই ভালো ছিল না সে সবাইকেই খেলাত!

    কিন্তু ক্যাপ্টেন মার্শাল তার নজরে পড়েছিল লোকে বলাবলি করত।

    আচ্ছা, মিঃ ডেলহাউস কে হন?

    ভাগ্নে। সেই তো সব সম্পত্তি পাবে, তাই না?

    মিঃ রোচের মৃত্যুর পর তাঁরই নাম নেওয়া উচিত কারণ বংশে আর কোন লাইচাম রোচ নেই। সম্পত্তির কোনো উত্তরাধিকারী ঠিক করা নেই তবে লাইচাম রোচের সম্পত্তি পেতে গেলে ডায়নার স্বামীকে লাইচাম রোচের নাম গ্রহণ করতে হবে।

    মিঃ পোয়ারো বলল, আপনি সব কথা বলে আমার খুব উপকার করেছেন, এবার লাইচাম রোচকে অনুরোধ করুন তিনি যেন একমিনিটের জন্য আমার সঙ্গে দেখা করেন।

    কিছুক্ষণ পরই মিসেস লাইচাম ঘরে ঢুকলেন, চেয়ারে বলেন তিনি, বললেন, আমার পরিবারের মধ্যে কোনোরকম কেলেংকারি চাই না।

    তবে আমি যে মুহূর্তে আয়নাটাকে দেখছি তখনই আমার একটা প্রতীকের কথা মনে পড়ছে। হিউবার্ট যেন অভিশাপগ্রস্ত, সে খুব অদ্ভুত ধরনের মানুষ ছিল।

    পোয়ারো বললেন, আচ্ছা ম্যাডাম আপনাদের কি কোনো আর্থিক অনটন চলছিল?

    আমি এসব ব্যাপারে ভাবিই না।

    আপনাকে ধন্যবাদ ম্যাডাম, আমার আর কিছু জিজ্ঞাস্য নেই।

    পোয়ারো এবার ডিগবিকে ডাকল।

    তোমাকে কয়েকটা প্রশ্ন করব, তুমি এখন আমাকে বল গুলির শব্দ সম্বন্ধে তোমার কি বলার আছে।

    আমরা চারজন ছিলাম হলঘরে। মিঃ ডেলহাউস, মিস অ্যাসবি এবং মিঃ কিন।

    বাকিরা কোথায় ছিল?

    মিসেস লাইচাম বোচ ও মিঃ বেয়ারলিং পরে এসেছিলেন, আর মিস ক্লিভস বোধহয় ড্রইংরুমে ছিলেন স্যার। পোয়ারো ডিগবিকে আরও দু-একটা প্রশ্ন করে বিদায় দিল। তাকে বলে দিল মিস ক্লিভসকে পাঠিয়ে দাও।

    মিস ক্লিভস সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঢুকল। সাদা সার্টিনের পোষাকে তাকে অপূর্ব দেখাচ্ছে।

    মিঃ পোয়ারো মিস ক্লিভসকে কয়েকটা প্রশ্ন করলেন সে মার্শাল সম্বন্ধে ভালোমতই প্রকাশ করল কিন্তু বেয়ারলিং-এর কথা উঠতেই সে উত্তেজিত হয়ে উঠল। সে বলল, লেকটা পাজি, আমি রোচকে লোকটা সম্বন্ধে জানিয়ে ছিলাম কিন্তু মিঃ রোচ কারও কথা শুনবে না।

    আচ্ছা মিস ক্লিভস আপনার বাবার মৃত্যুতে কি আপনি দুঃখিত।

    নিশ্চয়ই দুঃখিত। আমি বাবাকে খুবই ভালোবাসতাম। তবে তাঁর মৃত্যু হয়ে তিনি বেঁচে গেছেন। কারণ তার মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল।

    পোয়ারো চিন্তিতভাবে মাথা নাড়ল তারপর বলল, আমি যদি আপনার ব্যাগটা পরীক্ষা করি তাহলে নিশ্চয়ই আপত্তি থাকবে না।

    ও, হ্যাঁ, আপনি গুলির শব্দটা শুনে কি ভাবলেন? কোথায় ছিলেন তখন?

    আমি ভেবেছিলাম কোনো গাড়ির শব্দ এবং আমি তখন বাগানে ছিলাম।

    আচ্ছা ধন্যবাদ মাদমোয়াজেল। এরপর আমি মিঃ কিনের সঙ্গে কথা বলব। একটু পরে কিন ঘরে প্রবেশ করল। মিঃ পোয়ারো তাকে বলল, আমি জানতে চাই আজ সন্ধ্যাবেলায় স্টাডিরুমে আপনি নীচু হয়ে মেঝে থেকে কি তুলছিলেন? এবং সেটা আপনার জ্যাকেটের ডান পকেটে রেখেছিলেন।

    কিন তার পকেটটা উল্টিয়ে ভিতরের জিনিষগুলো বার করল। একটা সিগারেট হোল্ডার, একটা রুমাল, ছোট্ট সিল্কের গোলাপ কুঁড়ি এবং একটা সোনার দেশলাই বাক্স।

    সত্যি বলতে কি আমি এই দেশলাই বাক্সটা কুড়িয়েছিলাম।

    মিঃ পোয়ারো বললেন, না মিঃ কিন, অন্য কোন ছোট জিনিষ আপনি কুড়িয়েছেন, খুব সম্ভব এই গোলাপ কুড়িটা।

    একমুহূর্ত চুপ করে থেকে কিন হেসে উঠে স্বীকার করল।

    এমন সময় একজন লম্বা শুভ্র কেশ, লাউজ স্যুট পরা ব্যক্তি ঘরে ঢুকল।

    তিনি অবাক হয়ে কিনকে মিঃ রোচের মৃত্যুর সংবাদ দিলেন।

    মিঃ কিন! পোয়ারোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে বললেন ইনি মিঃ মার্শাল।

    মিঃ মার্শাল বললেন, মিঃ পোয়ারো আমি আপনার একজন গুণমুগ্ধ ভক্ত।

    পোয়ারো দেখল তার গলার স্বর এবং হাবে-ভাবে ছেলেমানুষী আছে।

    পুলিশ এসেছে তাদের সঙ্গেই আমি এসেছি। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি লাইচাম নোচ সদাই ভাবত যে তাকে ছাড়া এই পৃথিবী অচল তাই তার আত্মহত্যায় আমি অবাকই হয়েছি।

    পোয়ারো বললেন, আমি একটা কথা জিজ্ঞাসা করছি আপনার কি এরকম মনে হয় যে মিঃ লাইচাম রোচ তার হিসাবপত্রের ব্যাপারে আপনাকে সন্দেহ করছিলেন?

    এরকম ধারণা খুবই অবাক করার মত।

    তিনি কি সন্দেহ করতেন যে তার পালিতা কন্যার সঙ্গে আপনার একটা সম্পর্ক গড়ে উঠতে চলেছে?

    মার্শাল লাজুকভাবে হেসে মাথা নাড়ল। তবে মিঃ বোচ এসব কিছুই জানতেন না। তিনি জানলে চাকরি থেকে আমাকে বরখাস্ত করতেন, ডায়নার মাসোহারা বন্ধ করে দিতেন।

    ইতিমধ্যে জেফ্রি কিন বললেন, পুলিশ ইনসপেক্টর আপনার সঙ্গে দেখা করতে চায় মিঃ পোয়ারো।

    চলুন যাচ্ছি।

    পুলিশ ইনসপেক্টর মিঃ পোয়ারো সাথে করমর্দন করল তারপর বললেন কেসটা মোটেই জটিল নয় কারণ দরজা জানালা বন্ধ ছিল, দরজার চাবি মৃতের পকেটে পাওয়া গেছে, এটা আত্মহত্যা সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

    আপনি বুলেটটা পেয়েছেন?

    হ্যাঁ, এই তো। ডাক্তার বুলেটটা দেখাল।

    দেয়ালের কাছে আয়নার নীচে পড়েছিল। তাঁর পিস্তলটা সবসময় ডেক্সের ড্রয়ারে রাখতেন।

    মৃতদেহ শোবার ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একটু পরেই পুলিশ চলে গেল।

    আপনাদের কি একটা জোরালো ফ্লাশলাইট আছে? পোয়ারো হ্যারিকে জিজ্ঞাসা করল।

    হ্যাঁ আছে বলে জোন ও হ্যারি দুজনে মিলে লাইটটা নিয়ে এল।

    পোয়ারো বলল, আপনারা আমার সাথে আসতে পারেন। সে ঘাসের উপর আলো ফেলে নীচু হলো তারপর উঠে দাঁড়িয়ে মাথা নাড়ল। সে বলল, এখানে নয়। তারপর পোয়ারোর নজর ডান দিকের কেয়ারির উপর পড়ল, সে ফুলের সামনের জমির উপর আলো ফেলল। দেখতে পেল পায়ের পরিষ্কার ছাপ। চারটে পায়ের ছাপ, দুটো ছাপ আসা এবং দুটো যাওয়া।

    জোন বলল, মালীর পায়ের ছাপ বোধ হয়।

    পোয়ারো বলল, না না, যে ছাপ দেখা যাচ্ছে সেটা কোনো মহিলার পায়ের ছাপ। এই ছাপ হাইহিল জুতোর ছাপ।

    মিঃ পোয়ারো ডায়না ক্লিভসের সঙ্গে কথা বলবার জন্য ড্রইংরুমে বসলেন।

    মিঃ পোয়ারো বললেন, একটা ছোট্ট প্রশ্ন করব মাদমোয়াজেল। আপনি কি আজ কোন সময়ে স্টাডিরুমের জানালার পাশে ফুলের কেয়ারির কাছে গিয়েছিলেন।

    হা, সে মাথা নেড়ে সায় দিল। একবার সাতটার সময় আর একবার ডিনারের ঠিক আগে।

    মিঃ পোয়ারো ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলুন।

    ডায়না বললেন, আমি টেবিলে ফুল সাজাবার জন্য ঠিক সাতটার সময় বাগানে যাই। আর একবার পোষাকে ফুল আটকাবার জন্য ফুল তুলতে গেছি কারণ পোষাকে একটু তেল পড়ে গেছিল। ফুলটা ঠিক আটটার সময় তুলতে গেছি।

    আচ্ছা আপনি জানালা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি কেন? আর গুলির আওয়াজ যখন হয়েছিল তখন আপনি কোথায়?

    ডায়না বললেন, আমি চেষ্টা করে ছিলাম ঐ পথ দিয়ে যেতে কিন্তু জানালা বন্ধ ছিল। আর গুলির শব্দ আমি বাগান থেকে আসার দু-তিন মিনিট পরে শুনেছিলাম। পাশের দরজা দিয়ে ঢোকার ঠিক আগে।

    পোয়ারো একটা ছোট সিল্কের গোলাপ কুড়ি ডায়না ক্লিভসকে দেখাল। এটা আপনি মিঃ কিনকে দিয়েছিলেন।

    ডায়না বললেন, হ্যাঁ, এটা আমি কাল রাতে মিঃ কিনকে দিয়েছিলাম।

    যাইহোক পোয়ারো এবার সবাই এর উদ্দেশ্যে বললেন, আপনারা সবাই অনুগ্রহ করে স্টাডিরুমে ঢলুন। এবং ম্যাডামকে আসতে অনুরোধ করুন। মিঃ পোয়ারো এবার তার কথা আরম্ভ করলেন। এই কেসটা আপনারা জানেন মিঃ নোচ নিজে আত্মহত্যা করেছেন কিন্তু তা নয় তাকে খুন করা হয়েছে।

    খুন করা হয়েছে? মার্শাল হেসে উঠল।

    দরজা জানালা বন্ধ। তিনি ঘরে একা। কে তাকে খুন করবে?

    আমি একটা জিনিষ দেখাব। দেখুন জানালা বন্ধ করছি হাতল না ঘুরিয়েই কিন্তু এখন দেখুন সে আস্তে একটু ধাক্কা দিল এবং জানালার হাতলটা ঘুরে গিয়ে ছিটকিনিটা ঠিক জায়গায় আটকে গেল। সুতরাং জানলাটা বন্ধ হবার কায়দাটুকু খুব ঢিলে। এবার সে দৃঢ়তার সাথে বলল, যখন আটটা বারো মিনিটে গুলি করা হয় তখন চারজন হলঘরে ছিল। চারজেনরই খুন করার সুযোগ নেই কিন্তু বাকি তিনজন কোথায় ছিল? ম্যাডাম আপনি ঘরে ছিলেন। মঁসিয়ে বেয়ারলিং আপনিও আপনার ঘরে ছিলেন। আর মাদমোয়াজেল, আপনি ছিলেন বাগানে আপনি তাই স্বীকার করেছেন। এবার পোয়ারো মিসেস লাইচাম রোচের দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনি বলুন মিঃ রোচ কিভাবে উইল করে গেছেন। হিউবার্ট তার উইল আমাকে পড়ে শুনিয়েছিল। আমি যতদিন জীবিত থাকব ততদিন সম্পত্তি থেকে বছরে তিন হাজার পাউণ্ড পাব তাছাড়া নিজের পছন্দ মত বাড়ি পাব। কিন্তু তারপর সে কয়েক সপ্তাহ আগে উইল কিছু প্রবর্তন করে। সে সব সম্পত্তি ডায়নাকেই দিয়েছে। তবে শর্ত হলো তাকে বেয়ারলিংকে বিয়ে করতে হবে। যদি অন্য কাউকে বিয়ে করে তবে সমস্ত সম্পত্তি তার ভাগ্নে হ্যারি ডেল হাউস পাবে।

    এবার মিঃ পোয়ারো ডায়নাকে এগিয়ে গিয়ে বললেন আপনি তো ক্যাপ্টেন মার্শালকে বিয়ে করতে চান নাকি মিঃ কিনকে?

    ডায়না তখন মার্শালের হাতটা পেঁচিয়ে ধরল। মিঃ পোয়ারো ঠিক সেই সময়ে ডায়নাকে নানা রকম জেরা করে এবং এমন বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে যেন ডায়নাই খুন করেছে। তারপর অবশেষে ডায়নার দিকে তাকিয়ে হাসে এবং বলেন ঘটনাটা এইরূপ হতে পারত, কিন্তু তা না হয়ে পোয়ারো ঘরের চারিদিকে একবার চোখ বোলাল, তারপর বলতে লাগল, আপনারা মৃতদেহটা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন। তিনি ডেক্সের দিকে কোনাকুনি বসে জানালার দিকে মুখ করেছিলেন। ঐভাবে বসে কেউ আত্মহত্যা করে না। কিন্তু এখন মনে করুন তিনি খুন হয়েছেন।

    মিঃ রোচ ডেস্কের দিকে মুখ করে বসেছিলেন। খুনী তার পিছনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। কথা বলতে বলতেই গুলি করল। বুলেট তাহলে মাথা ভেদ করে খোলা দরজা দিয়ে বাইরে ঘন্টাটায় গিয়ে লাগবে। অবশ্য দরজাটা যদি ভোলা থাকে।

    তাহলে বুঝতে পারছেন? বুলেটটা যখন ঘণ্টায় লাগল ঐটাই হলো প্রথম ঘণ্টা। ঐ ঘণ্টার শব্দ শুনেছিলেন জোন, কারণ তাঁর ঘরই ঐ ঘণ্টাটার উপরে।

    এবার আসি খুনী কি করল? দরজাটা বন্ধ করে তালা লাগাল, চাবিটা রাখল মৃতের পকেটে তার পর মৃতদেহটা একটু কোনাচে করে রাখল এবং পিস্তলে মৃতের আঙুলের ছাপ নিয়ে পাশে ফেলে রাখল। সবশেষে আয়নাটা ভেঙে ফেলল, যাতে মনে হয় ঘটনাটা আত্মহত্যা ছাড়া কিছুই নয়। খুনী জানালা দিয়ে বাইরে যায় এবং জানালার ছিটকিনি আটকায় কিন্তু ঘাসের উপর পা না ফেলে ফুলের জমির উপর পা ফেলেছিল যাতে পরে সেটা মসৃণ করে দেওয়া যায়। আটটা বারোতে সে ঘরে চলে গেল। যখন সে ড্রইংরুমে একা তখন সে পিস্তল থেকে গুলি করেই হলঘরে ঢোকে।

    আপনি তো এরকমই করেছিলেন জেফ্রি কিন?

    বিস্ময় বিমূঢ় হয়ে সেক্রেটারি জেফ্রি কিন পোয়ারোর দিকে তাকাল এবং একটু পরেই মিঃ কিন সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ল।

    ডায়না বিড়বিড় করে বলতে লাগল কিন্তু জেফ্রি কিন খুন করল?

    আমার মনে হয় সেক্রেটারি হিসাবে কাজ করায় তার পক্ষে খুবই স্বাভাবিক। মিঃ রোচের হয়ত কোনো সন্দেহের উদ্রেক হয়েছিল।

    তাই তিনি আমাকে খবর দেন। মিঃ কিন বুঝতে পারেন আমি এখানে আসছি তাই তিনি আর দেরি না করে তাড়াতাড়ি কাজটা সারলেন। তার পরিকল্পনা ছিল খুনটা করা হবে আটটা বারো মিনিট কেননা অন্য জায়গায় তার অবস্থানের প্রমাণ থাকবে। কিন্তু বুলেটটা তিনি ঠিক সময়ে কুড়িয়ে নেবার সময় পাননি। তিনি যখন কুড়োন তখন আমি লক্ষ্য করে ফেলেছি।

    হ্যারি জিজ্ঞাসা করল, কিন্তু আসল গুলির শব্দটা কেউ শুনতে পায়নি কেন?

    সাইলেন্সার থেকে গুলি করা হয়েছিল। সাইলেন্সারটা খুঁজে পাওয়া যাবে, আর পিস্তলটা পাওয়া যাবে ঝোঁপের মধ্যে। পোয়ারো বুলেটটা তুলল আমি যখন মিঃ ডেল হাউসকে সঙ্গে নিয়ে জানলাটা পরীক্ষা করেছিলাম তখন মিঃ কিন আয়নার নীচে বুলেটটা ছুঁড়ে দিয়েছিলেন।

    ডায়না মার্শালের দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলল জন আমাকে বিয়ে করে এখান থেকে নিয়ে চল। ডায়না আরও বলে উঠল, আমি উইলের অর্থ চাই না। আমরা ফুটপাতে ছবি এঁকে দিন কাটাব।

    হ্যারি বলল, ঐসব কোন দরকার নেই। আমরা সম্পত্তি ভাগাভাগি করে নেব।

    মিসেস লাইচাম রোচ কেঁদে উঠলেন। মিঃ পোয়ারো আয়নাটা কিন ইচ্ছে করেই ভেঙেছে? হ্যাঁ ম্যাডাম। মিঃ জেফ্রি কিনের পক্ষে এটা খুবই দুর্ভাগ্য বলে প্রমাণিত হল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }