Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2514 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১. সাবওয়ে ট্রেন

    দি মিস্ট্রি অফ ব্ল্যাক ডেথ (অন্যান্য)

    ০১.

    সাবওয়ে ট্রেন থেকে বেশ কিছুটা দূরে কাঁপুনি ধরেছিল, সেই শব্দটা আমার মনকে নিউইয়র্কে যেন আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছিল। আমার নাড়ীভুড়ি যেন কালো বৃষ্টির মতো হয়ে গেল। ভুদু চার্চের মতো, ম্যানহাস্ট্রানের আপার ওয়েস্ট সাইডের মতো সব ঘটনা তার পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছে।

    কাল অন্ধকার ঘরে মৃদুলয়ে বাজনা বাজতে লাগল। চারদিকের হাওয়া একটু গরম। লিডা বোনাভেনচার, রাজহাঁসের মতো সুন্দর মেয়েটা আমার হতে তার ঠাণ্ডা আঙুল রাখল, আমি তখন খুব ঘামছিলাম।

    পাপাডক একটা হাত তুলে দাঁড়িয়েছিলেন, আমি একদৃষ্টিতে তাকে এবং মেঝের ওপর বসা মেয়েটাকে আর দিয়ে লোকটাকে দেখতে লাগলাম। পাপাডক দাঁড়িয়ে প্রথমে হাতটা তুললেন, তারপর চুপ করে রইলেন, আমি তার সম্পর্কে জেনে গেলাম। কিন্তু যখন ওয়াশিংটন থেকে আমন্ত্রণ এল, আমাকে তখন শিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হল।

    লিডা আমার হাতটা জড়িয়ে ধরে আমার কানে তার ঠোঁটের মৃদু পরশ দিল। বলল–তুমি কোনদিনও এইরকম জিনিস দেখনি, ওরা সারা রাত ঘরে কী যে করেছে।

    কিছুক্ষণের মধ্যে সমস্ত আলো নিভে গেল, মেয়েটা আমার হাতটা তার ঠাণ্ডা আঙুল দিয়ে চেপে ধরল। বেনেট চুপিচুপি বলল–ওরা আমাদের কী এক নোংরা পৃথিবীতে ফেলে দিয়ে গেল। নিক, এখাননা শান্ত হও। আমরা বিপদের গর্তে পা রাখতে চলেছি।

    আমি আস্তে করে ব্রেককে চুপ করতে বললাম। বললাম-একেবারে মুখের দিকে তাকিয়ে থেকো না। আনন্দ কর। জীবনটাকে উপভোগ কর।

    আলো এসে পড়াতে দেখা গেল ম্যামার্লোই যিনি সবার কাছে ম্যামাল ডেনিস নামে খ্যাত তিনি একটি বেদির ওপরে পা দুটি জড়ো করে বসে আছেন। তার মুখটা কাল হয়ে গেছে এবং মুখ দিয়ে হিস হিস শব্দ হচ্ছে। পকেট থেকে দুটো শিশি বার করলেন ম্যামার্লোই। শিশি দুটোর একটা থেকে তেল আর একটা থেকে মদ মিশিয়ে চকচকে জিনিস তৈরী করলেন। তারপর আস্তে আস্তে হাতে দুটো তুলে ধরলেন, নিঃশব্দে একটা কাঁসার আওয়াজ বেজে উঠলো। ম্যামার্লোই তার ঈশ্বর দয়ালু জ্যামাবোলাকে বার বার ভাবতে লাগলেন। আর হঠাৎ আলোর উৎস নিভে গেল। মেয়েটি আমার হাতে টোকা মারল আর শিরা মানুষটি গাঁজা গাজ করতে লাগল।

    আবার ড্রাম বাজতে শুরু করল। মোহিনী মায়ার জালে আলো পাক খাচ্ছে। একবার অন্ধকার, আবার আলো, আবার অন্ধকার আবার আলো জ্বলে উঠল, একটা আলো ক্রমশঃ সবুজ হতে থাকলো। আলোতে দেখা গেল লোকটার চকচকে মুখ, আর ভেতরের কোণে কাল জন্তুটাকে। বাজনার আওয়াজ ক্রমশঃ বাড়তে লাগল। মেয়েটা ছাগলটাকে ঘিরে নাচার ভঙ্গিতে ঘুরতে লাগল। মেয়েটা একটা সাদা পোষাক পরেছে। পা দুটো অনাবৃত, চোখ দুটো অনাবৃত, চোখ দুটো বড় বড় গোল গোল কোমল। মৃদু তপ্ত আলোয়, জন্তুটার চোখ দুটোকে অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছিল। একদৃষ্টে জন্তুটা মেয়েটাকে দেখছে।

    মেয়েটা অন্ধকারে নাচতে নাচতে আলোয় ফিরে হাঁটুগেড়ে বসে ছাগলটার দিকে এগিয়ে গেল। ছাগলটা মানুষের মতো শব্দ করে কাঁদতে শুরু করল। আমি লুগারকে এক জায়গায় আর স্টিলেটোকে অন্য জায়গায় রাখলাম। ঠিক সময় মনে হল কি যেন স্পর্শ করেছে আমাকে। আমার মেরুদণ্ডের মধ্যে দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে চলেছে। আর স্টিভ বেনেট গজগজ করেছ। মেয়েটা ছাগলটার মতো খুব খণ্ডে আস্তে ঢ্যাঁ ঢ্যাঁ লাগল। মেয়েটার ছাগলটার সামনে না যাওয়া পর্যন্ত চারজনের সামনে হামাগুড়ি দিতে লাগল। মেয়েটার চোখগুলো বেশ কাল হয়ে গেল আর ছাগলটার চোখ জ্বলজ্বল করতে লাগল। ছাগলটা মেয়েটার মুখ থেকে একসময় গাছের পাতাগুলো নিয়ে নিল।

    আমি অন্ধকারের মধ্যে ম্যামার্লোই এবং স্যাপালোই-এর শরীরে গঠন দেখতে চেষ্টা করলাম। কে যেন অন্ধকারে এক বিচিত্র শব্দ করে উঠল।

    মেয়েটার সমস্ত শরীর কালো তেলতেলে হয়ে গেছে। তার দেহের উদ্ধাঙ্গ অনাবৃত, সর্বাঙ্গে স্বেদ, বাজনার সাথে সাথে মেয়েটা ঘুরতে লাগল কিন্তু সে তখন সম্পূর্ণ উলঙ্গ। তারপরে সে আস্তে করে ছাগলটার দিকে দুলতে দুলতে এল। তার সর্বাঙ্গে তখন বাসনার আমন্ত্রণ। মেয়েটা নগ্ন ঝড় তুলেছে, ছাগলটাকে এখন সে তার পুরুষ সঙ্গী ভাবতে পারে।

    লিডা নিজের হাতটা আমার হাত থেকে তুলে নিল। আলোটা সাদা হয়ে ছড়িয়ে পড়ল। তারপর আবার শব্দ এবং সেই আর্তনাদ!

    সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে তখন যেন দামামা বাজছে।

    .

    ০২.

    মেশিনগানগুলো ওদের হাত থেকে এমনভাবে লাফিয়ে উঠছে যেন সমস্ত লোকের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটেছে। মাথা গরম করে কাজ করতে চায় ওরা। সামনে যারা আছে সবাইকে করে হত্যা এগিয়ে চল–এই যেন ওদের অঙ্গীকার।

    ম্যামালোই এবং স্যাপালোই দুজনেই প্রথম গুলিতে প্রাণ হারালেন। স্যাপালোই নীচে পড়ে গিয়ে আর্তনাদ করতে লাগলেন, আর সেই আর্তনাদের আওয়াজটাকে মনে হলো বন্দুক থেকে কি এক মরাকান্নার শব্দ হচ্ছে। কারা যেন উল্লাসে চীৎকার করে ওঠে–আমরা নিউইয়র্ক দখল করেছি!

    আমি লুগার বন্দুকটা তুলে নিলাম। কিন্তু লভভ্রষ্ট হতে হলো, কারণ লিডা আমার হাতটা আঁকড়ে ধরেছে। আর বেনেট রিভলবার উঁচিয়ে ধরতেই বগিম্যান মেশিনগান দিয়ে তাকে সজোরে আঘাত করল। অতর্কিত আক্রমণে বেনেট পিছিয়ে গেল।

    ঘাতকরা পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেল। এলোমেলো বুলেট ছুটছে। স্টিলেটোর অস্তিত্ব অনুভব করলাম সেই মুহূর্তে।

    কালো মেয়েটি ছাগলটাকে নিয়ে পালাতে চাইছে। কালো মেয়েটির ঘন চোখে জন্তুর সোনালী চোখের ছায়া কাঁপছে। মেয়েটির মুখে এঁটো পাতা, সে পাতা চিবিয়ে জন্তুটার বুকে তার ঠোঁট রাখল।

    সামনে বেদী দেখতে পেলাম। বেদীটার পেছনে খোলা দরজা। লিডা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, খুব তাড়াতাড়ি না হলেও যে কোন সময়ে পুলিশ এসে যেতে পারে। অন্ধের মতো সিঁড়ি দিয়ে নেমে লিডাকে অনুসরণ করে চলেছি। যদি হক এখানে থাকতেন তাহলে তিনি তার প্রশ্নের জবাব পেয়ে যেতেন। ব্রডওয়ে স্টেশনে এসে আমি সাবওয়ে ট্রেনের কিছুটা দুরে সেই কাঁপুনির শব্দ পেলাম। লিডা হেসে বলল–নিক, তাড়াতাড়ি এস। আমরা যখন ছুটতে আরম্ভ করলাম তখন সাবওয়েটা ভীড়ে ভর্তি। লিজার যৌবনাবতী উরু ঝলসাচ্ছে, মিনি স্কার্টে তার শরীর বিকশিত। লিডা প্রশ্ন করল, আমার দিকে তাকাতে কেমন লাগছে বলতো? কোন জবাব দিতে পারলাম না। প্রায় আধঘণ্টা ছুটতে ছুটতে টপসাইডে পৌঁছলাম। পৌঁছে বুঝলাম আমরা তখন বেশ কিছুটা নিরাপদ। আমার শেষ লক্ষ্য ছিল ওয়েস্ট এণ্ড এভিনিউ। তার আগেই আমরা ৮৪নং হ্যামস্টারডাম-এ থাকা করেছিলাম। তখন মোটর মালিক ছিলেন বুলান, এখন আমরা নিউইয়র্কে ছুটছি।

    এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি। এলিভেটারে উঠে একটু আলো দেখতে পেলাম। রাতের অস্বাভাবিকতার মধ্যে এমনভাবে শুরু বা শেষ হলো আমাদের নেশ অভিসার। রাত মাত্র এগারোটা। লিডা আর আমি হাঁটতে হাঁটতে এক কোণে এলাম। বললাম–একটা জায়গায় বসে আমরা বেশ কিছু সময় ধরে নানা জিনিস নিয়ে কথা বলব। রাস্তার নিয়নের আলো এসে আমাদের উপরে পড়ল। লিডার নাকের ডগাটা কাঁপতে লাগল, গভীর চিন্তিত দেখাল তাকে।

    ৭৯তম স্ট্রীট স্টেশন অভিমুখী পাতাল রেলের শব্দে ফুটপাত কেঁপে উঠল।

    লিডা ও আমি দুজনের অপরিচিত ছিলাম। সেইদিন সন্ধ্যেবেলা মারা যাবার কয়েক ঘণ্টা আগে স্টেভ বেনেট আমাদের আলাপ করিয়ে দিয়েছিল। লিডার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। লিডা তখন আমার মনটাকে বেশ বুঝে নিয়েছে। আমার হাত ধরল লিডা, উদ্বেগ কণ্ঠে আহ্বান জানাল নদীর কাছে গিয়ে নিজের হৃদয়ে উন্মোচন করবে বলে। আমরা ওয়েষ্ট এণ্ড পার হয়ে ড্রাইভের দিকে হাঁটতে লাগলাম। লিডা বলল, স্টেভ বেনেট যে তাদের লম্বাভাবে সাহায্য করেছে সে আর নেই। হঠাৎ থেমে গিয়ে পেছনে ঘুরে লিডা ফেলে আসা রাস্তাটা দেখতে লাগল। হাতের আঙ্গুলে ঠোঁট স্পর্শ করে লিডা আমার খুব কাছে চলে এল। তার চোখ দুটো তখন জলে ভরা। আমি ওর হাতটা নিজের হাতে নিলাম। বললাম–তুমি কি আমার ফ্ল্যাটে যাবে, না অন্য কোথাও? নিজেকে বড় অসহায় বলে মনে হল। জিজ্ঞেস করলাম সে কি কোন রাস্তা খুঁজে পেয়েছে।

    দীর্ঘশ্বাস ফেলে লিডা বলল–সে আমায় বিশ্বাস করে। তার যৌবন ও সম্পত্তি বিপদের মুখে। আমি তাকে এ অবস্থায় সাহায্য করব কিনা। আমি বললাম, তুমি কখনোই মেয়ে হয়ে তোমার বুঝে উঠতে পারবে না। কিন্তু ওরা তো তোমাকে কালো রাজহংসী বলে ডাকে। তাই না? নীরবে চোখে জল নিয়ে তাকিয়ে রইল লিডা। বললাম, আমি তাকে এখানে একলা রেখে চলে যাব। যদি সে আমাকে সাহায্য করতে না চায় তবে আমি তাকে জোর করে কিছু করাতে চাই না। ভাবলাম, তাকে আমার ফ্ল্যাটে নিয়ে গেলে অপহরণের দায়ে পড়তে পারি। কারণ ওকে ঘরে রাখার তো আমার কোন আইন ছিল না।

    ছুটে এসে লিডা বলল, আমি যেন তাকে ফেলে না যাই। প্রশ্ন করলাম–লিডা কোথায় যাবে? লিডা জানল-৭৯নং বেসিনে তার একটা বোট আছে। যদি টলটন মাকাউট বোটটার সন্ধান পায় তাহলে বিপদের শেষ থাকবে না।

    হককে ফোন করে একটা বোট জোগাড় করে নিরাপদেই যাত্রা আরম্ভ করলাম। আমার ভয় হচ্ছিল বেনেট, হক, সি আই এ কেউই বোট সম্পর্কে কিছু বলেনি। মনে হলো লিডা খুব চালাক। আবার মনে হলো এ এক অন্তবিহীন নৌকা ভ্রমণে রহস্যময়ী লিডা আমার সঙ্গিনী।

    .

    ০৩.

    সী-উইচ একটা পেমব্রোক, যার উচ্চতা প্রায় ৫৭ ফুট। একশো ফুট-দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বোটটার দিকে তাকিয়ে তার শান্ত সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করলাম, বুঝলাম এটি অভিজাত জাহাজ।

    ঠাকুরে ডিঙিতে যেখানে সী-উইচ নীল রঙের দাগ কাটা অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল সেখানে পৌঁছলাম। তীরের খুব কাছেই দুটো হাউসবোট, একটা কালো রঙের দুই মাস্তুলওলা জাহাজ দাঁড়িয়ে।

    লিডা খুব আস্তে আস্তে জাহাজের পিছনে গিয়ে বসল। বলল, এর আসল নাম টৌসিয়ান্ট, নামটা পুরোনো বলে বদলে দিয়েছে। তারপর লিডা আমাকে খুব বিশ্বাস করতে লাগল, আমি তার সঙ্গে এমন ভাবে আচরণ করতে লাগলাম যাতে তাকে মানিয়ে দিলাম সে ইংরেজী তার মাতৃভাষা নয়? লিডার অপটু উচ্চারণ, ভুল শব্দের প্রয়োগ আর অকারণ কুণ্ঠা আমার আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করল।

    এইভাবে কথায় কথায় ওর সম্পর্কে বেশ কিছুটা জানতে পারলাম, শুনলাম যে সে একজন হাইতি মেয়ে ও তার বাবা কোন ইউরোপীয়। মানলাম সে পাপাডকের মেয়ে। বয়েস তার পঁচিশের নীচে, তাকে নিরীক্ষণ করতে হবে এবং তার সঙ্গে কাজ করতে হবে–সেটাই আমার প্রতি শিয়ার আদেশ। বড় একটা জাহাজের পাশে আমরা এলাম। সে সিঁড়ি দিয়ে উঠল। সে বলল মাথাটাকে এখনি একটি নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে যেতে হবে। লিডার প্রতি আকর্ষণ বোধ করলাম। যতক্ষণ না সে একটু সহজ হয় ততক্ষণ আমি কোন জায়গায় যাব না বা তার সঙ্গে কোন কথাও বলতে পারব না।

    আমরা তখন ডেক হাউসের দিকে এগোলাম, সে আলোটার ওপর পর্দা টেনে দিল। লিডাকে বললাম, আমাকে নিজস্ব কায়দায় চলতে হবে। আমি হব ক্যাপ্টেন আর লিডা হবে খালাসী। আমার আদেশ মতো লিডাকে কাজ করতে হবে। লিডা জানাল, কোন সম্পর্কে সে কিছু জানে না বলেই আমার উপর সে নির্ভর করেছে। লিডা বোট চালাতে জানে না জেনে অবাক হলাম। পর্দা টানতে টানতে জানাল সে বোট চালাতে জানে কিন্তু এই মুহূর্তে তার ভালো লাগছে না। আমি জ্যাকেট আর টুপিটা নিয়ে চেয়ারে রেখে প্লে বয় জলখাবার টুপিটা পরে নিলাম। লিডা হঠাৎ লুগার আর স্টিলেটোর দিকে তাকিয়ে তার গোলাপী ঠোঁটে চাপ দিয়ে বলল, তুমি একরাতে দুজনকে মেরেছ? বল কে তুমি? কি তোমার আসল পরিচয়?

    আমি তাকে আমার নথিপত্রটা দেখলাম, বেনেট আমাকে পরিচয় দিয়েছিল নিক কার্টার বলে। লিডা এগিয়ে এসে বলল–ক্যাকটন একটু মদ খাবার অনুমতি দেবে? বার-এর কাছে গিয়ে আমি ঠাণ্ডা গ্লাসটা তুলে নিলাম আর লিডাকে একচুমুক নিতে বললাম। সে ভাবে গ্লাসটা আমার দিকে তুলল, তার চলনে বলনে কিরকম একটা যেন হাসি-ঠাট্টার ভাব। হাসতে হাসতে তার বাদামী চোখ দুটো চারদিকে ঘুরছিল। সে হঠাৎ আমার দিকে থেকে পড়ে আমার ঠোঁটে আলতো চুমু খেল আর সেই সুযোগে আমি তার লুকনো পিস্তলটা চামড়ার থলিটা থেকে কেড়ে নিলাম। এটা প্রায় ২৫ বোরের। তার ধারটা হাতীর দাঁতের তৈরী। লিডাকে বললাম, লিডা যখন আমাকে বিশ্বাস করতে পেরেছে তখন আর এটা রাখার নিশ্চয়ই কোন দরকার নেই। এই বলে আমি ইঞ্জিনটা দেখতে চলে গেলাম। আলোতে ইঞ্জিনের কাছে একটা ছোট বাক্স দেখতে পেলাম। এটাতে ১৬ ফুটের একটা নট। ইঞ্জিনটাতে ৬২০ গ্যালনের জ্বালানী আর ১৫০ গ্যালন জল ধরে।

    ডেক হাউসের বড় বড় লম্বা বোলের মধ্যে অদ্ভুত ধরনের কিছু বন্দুক রয়েছে। হককে খুশী করার জন্য যেমনি অনবদ্য অথবা হাইতি অভিযানে। ডিঙিটাকে টেনে বোটের মধ্যে রেখে ইঞ্জিনগুলো চালিয়ে দিয়ে আলো জ্বালিয়ে দিলাম। এবার ফ্রাইব্রিজের দিকে এগোতে হবে। প্যানেলের চার্টটা পড়ছি এমন সময়ে লিডা কাছে এসে আমার কানে চুমু খেল এবং ভুদু গীর্জার কথা আমার মনে পড়ে গেল। আমি যখন ইঞ্জিনের যন্ত্রপাতিগুলো কিভাবে কাজ করছে, তাদের গঠন, কাজ এসব পরীক্ষা করছিলাম তখন লিডা আমার চেয়ারের সামনে এলে তার ঠাণ্ডা হাত দিয়ে আমার গলা টিপলো। এইভাবে আমাদের সম্পর্কটি নিবিড় হয়ে গেল। আমি চোখটা একটা ট্যাঙ্কারের ওপরে রাখলাম, লিডাকে নদী থেকে প্রায় চল্লিশ মাইল দূরে মনট্রোসে গিয়ে টম মিটছেন-এর সাথে বন্ধুত্ব পাতিয়ে আমরা ওখানেই থাকব। এরপর আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠল ওয়াশিংটনের মনোরম সেই সেতু। লিডা আমার কাঁধে হাতে রেখে বলল, ছাগলটা থেকে আমরা বেশ টাকা তুলি। তুমি আর বেনেট বিনা পয়সায়। টিকিটের দাম কিন্তু একশো ডলার। আমি বললাম–যাই হোক, খেলাটা অত্যন্ত নোংরা। পশুকামিতার চূড়ান্ত উদাহরণ। ভুজু গীর্জার কথা বলতেই লিডা আমার শরীরের ওপর আছড়ে পড়ল। আর বেশ উত্তেজিত মনে হলো তাকে।

    লিডা ফ্ৰেন্সিং-এর উপর অংশে, অন্ধকারে আমার দিকে আড়চোখে তাকাতে আমি সম্মতি জানালাম ওর এই খেলায়। সিগারেটের প্যাকেটেটা তার হাতে দিলাম। লিডা গোল্ড এন-সি-টাকে ভালোভাবে লক্ষ্য করল। বলল সে, এখন আমাকে তার সত্যিই নিক কার্টার বলে মনে হচ্ছে, সেই নিক যে ভালোবাসার তুণে বিদ্ধ করে শরীর।

    বললেন, নদী মাঝ বরাবর পার হলাম। জারসি নদীর তীরে কটি বার্জেল দাঁড়িয়ে আছে। আমি তাদের চোখে ধরা দিতে চাই না। হঠাৎ বললাম আজ রাতে তুমি কি মাতাল হবে সুন্দরী? অস্ফুটে বলল, এল. এস. ডি.।

    স্মিড জিওনের বলল, একটা কার্বকে ক্ষতি করে না। মানুষকে খুব উত্তেজিত করে তোলে।

    এরপর লিডা ধোঁয়া ছেড়ে অদ্ভুত ভাবে হেসে উঠল। বলল, রাতে তুমি দুজনকে হত্যা করেছ। তুমি একটা নিষ্ঠুর খুনী। সবাই তোমাকে দেখেছে। আমি বললাম, আমি এক্স-এর একজন বিশ্বাসী লোক! আমি আমেরিকার হয়ে কাজ করি। ভাবলাম এর আগে হয়তো এক্স-এর নামই লিডা শোনেনি। বহুরূপীর মস্ত মেয়েটা তার ভাব বদলালো। থুতনিতে গোবলেট রেখে জ্বলজ্বলে চোখে তাকিয়েই হেসে বলল, আমি শুধুই ব্ল্যাকমেলার, আমার তো তোমার মতো উঁচু পা নেই। লিডাকে বললাম। হাইতিতে আক্রমণ হলে তা পরিচালনা করা আমার দায়িত্ব। আঙ্কেল স্যামুয়েল হাইতিতে এইসব অরাজকতা পছন্দ করে না। ডোমিনিয়ম রিপাবলিকের সমস্যা তাকে ব্যথিত করে। তিনি সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চান। এ ব্যাপারে লিডার মতামত জানতে চাইলে লিডা বলল, যা কোমল, সুন্দর আর সৎ তাই আমি ভালোবাসি। আমার মনে হয় স্টেভ বেনেট যে সমস্ত কথা বলেছিলেন তা সমস্তই ঠিক। স্টেভ আমাকে সিয়াতে নিয়ে গেছিল। কিন্তু এক্স সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। লিডা আমার পিঠে আঙুল দিয়ে আঁচড় কেটে বলল, তাকে হাইতি অভিযান সম্পর্কে বলা হয়েছে। ডাক্তার রোমেলা ভ্যালডেজকে রক্ষা করতে হবে। নানা ডক তাকে কিডন্যাপ করেছেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। বেনেট যে কাজ করত মেয়েটা আমাকে সে কথাই বলছিল। হককে কোনো কথা বলা বা না বলা পর্যন্ত আমি কোনরকম সঠিক পরামর্শ দিতে পারলাম না। কিন্তু যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ মেয়েটাকে বেশ সুখে শান্তিতে রেখে দেব। আমি বললাম, ড. ভ্যালডেজকে পাওয়া খুব সহজ নয়। কিন্তু তার জন্য তোমাকে জীবন বিপন্ন করতে হবে না। এরজন্য অনেক সময়ের দরকার না হলে ক্ষতি হতে পারে। তারপর লিডাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হাইতিতে অক্রমণ করা হয়েছে? লিডা জানাল, শুধু সে জানে বহুবার আক্রমণ হয়েছিল এবং নানা ওক এজন্যে অনেক সময় নষ্ট করেছিল। লিডাকে বললাম, তাকে যে কাজগুলো করতে হবে আমি করে দেব। লিডা জানাল হাইতির আক্রমণ কিংবা ডা. ভ্যালডেজের কোন ব্যাপারেই বেশী আগ্রহ নেই। সে আমার সাথে আনন্দের মধ্যে ডুবে যেতে চায়।

    টম মিটলেনের মেরিনার খুব কাছেই ক্ৰটন ক্লাবের আলোটা নিভে গেল। লিডা বলল, আমরা দুজনই দুজনের জন্য সব কিছু করব। ভাবলাম লিডার তো কাজের এত আগ্রহ ছিল, তাহলে সে শরীরী খেলার পুতুল হচ্ছে কেন? লিডার আমাকে প্রথম জন ছিল। আমাকে সে যত না ভয় করত টনটন ম্যাকিউটকে সে বেশী ভয় করত। ভুদু চার্চে যে মারাত্মক কাণ্ড ঘটেছিল সেটা বেশ বিশ্বাসজনক ছিল।

    আমি লাখ লাখ ডলারের বোট এবং অস্ত্রের ওপর বসে আছি। তখনকার মতোই আমি তার পছন্দসই মানুষ, সেই জন্যই আমি তাকে বিশ্বাস করি।

    পানীয় নিয়ে ফিরে এলে লিডাকে জিজ্ঞেস করলাম বোটটার মালিক কে?

    লিডা সিগারেট জ্বালালো। স্টানফোর্ডের বাসিন্দা কি এক্সচেঞ্জের কর্মী ডোনাল্ড ক্যাম্পবেলের কাছে আমাদের নৌকা বাঁধা আছে। অবশ্য তিনি এখন আর নেই। কোন কাগজ? স্টেটরুমের ড্রয়ারে যা আছে? মাথা নাড়লাম, আজ রাতে দরকার নেই। মেয়েটা একটা সিগারেট আমার মুখে দিল এবং আঙুলগুলো আমার চিবুকে দিল, বলল, আমি যা করতে চাই তাই কর। সে আমার গালে চাপ দিল। খুব তাড়াতাড়ি করতে লাগল। তখন সে আর ধৈর্য ধরতে পারল না।

    এরপর শুধু সে আর আমি এবং মুঠো মুঠো অন্ধকার।

    .

    ০৪.

    ভাসমান একটা ডকের পাশে সী-উইচটাকে রাখলাম। কালো রঙের, রোগা একটা ছোট ছেলে, মাথায় ছোট চুল, এসে অভিবাদন করে দাঁড়াল, বললাম, আমাদের অপেক্ষা করে আছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাত। লিডা ভ্রুকুটি করে বলে ইয়েস, ক্যাপ্টেন ডার্লিং। ছেলেটাকে কাঁধে নিয়ে ডক-বোর্ডিং এবং থামের দিকে গিয়ে প্রশ্ন করলাম টম মিটলেন কোথায়? ছেলেটি বলল তিনি অফিসে আছেন।

    টম মিটলেন যখন হংকং-এর কনসিউলেটর-এর জাহাজের পরিচালক ছিল তখন আমি তাকে জানতুম, সে তখন একজন বুড়ো গোলন্দাজ বিদ্যার সারজেন্ট ছিল। আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিল সে তার জীবনটা জাহাজে কাটাতে চায়। ইটের একটা ছোট বাড়িকে উদ্দেশ্য করে জানলাম ওটাই অফিস। বললাম, টমকে আমি চিনি, তোমাকে আমার এখন আর দরকার নেই বলে পাঁচ ডলার দিয়ে বিদায় করলাম।

    দরজাটা অর্ধেক ভোলা ছিল। টম দরজার দিকে পিঠ করে বসেছিল। মাথায় টাক, ঘাড়টা সামান্য উঁচু। দরজা ঠেলে দাঁড়াতে টম চেয়ার ঘুরিয়ে তাকাল আমার দিকে। প্রভু যীশুকে স্মরণ করে বললাম, নোপ তুমি আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছ। নিকোলাস হান্টিং কার্টার বেঁচে থেকে খুব সামান্যই খরচ করেছিল। সে একটু সাহায্য চেয়েছিল। চেয়ারে বসা অবস্থায় টম আমার হাতদুটোকে মুঠো করে ধরল। মুখটা আলোর মতো জ্বলজ্বল করছিল। একটা ড্রয়ার খুলে একটা ওল্ড পাইপ ড্রাইভার নিল। আর দুটো গ্লাস নিয়ে এল। গ্লাসটা হাতে নিয়ে এল। গ্লাসটা হাতে নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললাম, টম তোমাকে দেখে আমি খুব আনন্দ পেলাম। কিন্তু এখন আমাদের মদ খেয়ে মাতলামি করবার সময় নয়। আমার এখন সাহায্য প্রয়োজন যা একটু রহস্যপূর্ণ। টম জানত না যে আমি এ. এক্সই, সে শুধু জানত যে, আমি বেশ গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজ করি। আমার মনে হলো যে, সে বোধহয় আমাকে সি. আই. এ বলে ভাবছে। তার দিকে দাঁত খিঁচিয়ে বললাম–বেশ। ভালো লাগছে। তোমার ব্যাপারটা খুলে বলতো। সব কিছু কেমন রহস্যময় মনে হচ্ছে। কোয় যেন গোলমাল আছে। বললাম সব লোককেই আমি চিনি। কেউই নিজেকে বিরক্ত করবে না। টম খালের দিকে চেয়ে বলল, তোমার কোন সাহায্য দরকার আছে কি? মাথা নেড়ে না বলে আবার বললাম যে, সে যেন সৈন্য দলের সঙ্গেই থাকে যদি তার গায়ের জোরের দরকার হয়। টম জানাল বার্ধক্য তার সারা অঙ্গে এসে হাজির হয়েছে। এরপর ডেক্স থেকে ফোনটা তুলে টমকে বললাম, আমি তার কাছে থেকে শুধু আমার স্বেচ্ছাধীনতার সাহায্য চাই। বললাম আমি যেখানে ছিলাম এবং যেখানে আছি সেখান থেকে প্রায় ৫৭ ফুট দূরে প্রত্যেকটা লোককে যেন রাখে।

    টম পয়েন্ট ৪৫ অটোমেটিক নিয়ে বেরিয়ে এল, যেটা ১৯১১ সালের মডেল। বলল–টমি আমাকে ছেড়ে যেতে চাও? আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই। অপারেটরকে ডায়াল করলাম। টমকে আমি খুব বিশ্বাস করেছিলাম। এবং তার কাছে একটা এস পি তালিকা ছিল যাতে শুধু রহস্যগুলোর রহস্যই থাকবে। বললাম সে থাকতে চায় তাই যেন কয়েক মিনিটের মধ্যেই দেখে।

    অপারেটার ওয়াশিংটনে এ. এক্সকে ডাকার জন্য বলল, রাত ডিউটি অফিসারকে পেশায়। শুনলাম হক নিউইয়র্কে আমাদের দেখার জন্য ছুটে আসছেন। ভাবলাম তার প্রথম এজেন্টকে দেখার জন্য ওয়াশিংটনে এসেছিল বুড়ো লোকটা? নরকের দুঃস্বপ্নের রাত শুরু হতে চলেছে। আমায় বেয়ারা চালাঘর থেকে ফোন করতে আশ্বস্ত হলাম যে হক তাহলে পৌঁছে গেছেন। বললাম, ভদ্রলোককে থাকতে বল। আচ্ছা উনি কি এখানে আছেন? দুরাভাষে ভেসে এল হকের হুঙ্কার, নিক, আশা করি তোমার কর্তব্য থেকে তুমি এতটুকু বিচ্যুত হওনি। আমি ঠিক বলছি তো, এস, বি.-র, উপরে অনেক খুঁটিনাটি কথা আছে। এর অনেক ঘটনাই আমাদের জানা নেই কিন্তু এটাই হলো সমস্ত সমস্যার উৎস। স্টেভ বেনেটের যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল তার মধ্যে নরকের সৃষ্টি হয়ে গেছিল এবং এক্স এই কাজের মধ্যে যুক্ত ছিল না। কিন্তু মেয়েটা কোথায়? আমি বললাম, আমি একটা খেলনা রাজহাঁস পুরস্কার পেয়েছি। কিন্তু লাপার ছেলেরা লাপাকে খুব গর্বিত করেছিল। হঠাৎ উন্মাদনা ভেসে আসে, আমি দুটোকেই জীবন্ত অবস্থায় মেরে ফেলেছি। বলালম, আমি গানবোটও পেয়েছি। হক বললেন, পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে যদিও এখন নিরাপদ। জিজ্ঞেস করলেন হেডকোয়ার্টার থেকে তার নামে কোন নির্দেশ এসেছে কিনা। আমি তখন তাকে অর্ডার করলাম। ১৫ মিনিটের জন্য আমি জিনিসগুলো নিলাম। বেশ কিছু তার কমপিউটারের কাছে গুম গুম শব্দ করে উঠল, তখনই আমি হকের সঙ্গে শেষ কথা বলেছি। হককে বললাম যে, সমস্ত অভাবটাই আমার জন্যে। হক বললেন, মুখগুলোই এখন বাজে বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বললেন, আমি একা ঐগুলো নিয়ে হাইতিতে শিয়ার কাছে যাব। আমি জানতাম যে ঐ এক্স-এর কোন লোক নেই যে আমাকে একটু সাহায্য করতে পারবে, বললাম, এটা খুবই জটিল ব্যাপার। বললাম, এখন আমাকে আপনার কাছে থেকে পৃথক হতে হবে এবং শুনতে হবে, বিশেষ করে ভি.এর উপর। হক বললেন ড. রোগেরা ভ্যালডেজ-এর সমস্ত রহস্য মানতে হবে, দরকার হলে তাকে হত্যা করতে হবে। হক বললেন, যদি আমার কিছু করার থাকে তবে প্রথমে আমি সি. জি. পরে কে, ডর তারপর নতুন ব্যাপারগুলো দেখব। আমি বললাম হক যেন সমুদ্রের গার্ডের সঙ্গে থাকেন এবং জানতে চাইলাম ওয়েস্ট-এ নতুন ব্যবস্থার জন্য হাত বাড়াব কিনা। বললাম, আমার এখানে যে ভাউচার আছে তার সম্মান আমি রাখব। হককে ধন্যবাদ জানিয়ে ফোন রাখলাম। মনে মনে বললাম যে ভগবানের জোরেই এত খেলা চলেছে। হাইতিতে ভ্যালডেজকে হত্যা করতে হবে কিন্তু লিডার ওপর নজর দিতে হবে। তাকে বাঁচিয়ে রাখতেই হবে কারণ অভিযানে সফল হলে সিয়া আর নিষ্ঠার হক লিডার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবে। দরজায় টোকা দিতে টম বেরিয়ে আসতেই বললাম যে সমস্ত কাজ শেষ। বললাম একটা কাগজ দাও, আমি তোমার জন্য একটা ভাউচার করে দেব। টম বলল, ওসব কিছুরই দরকার হবে না। আমি বললাম ওটা করের টাকা! আমি তোমাকে তোমার নিজের টাকা দিয়ে দেব। টম বড়সড় করে তালিকা বলল ঐ ভাবেই সে কাজটা করবে।

    বিলিং ফর্মটা এমনভাবে হিজিবিজি করে লিখলাম যাতে করে সবাই মনে করে ওটা ঠিক আছে। লেখা আছে কাজের জন্য দুহাজার ডলার। টমকে বলালম সার রাত এখানে থেকো। জাহাজের কাছে কেউ এলে দুটো গুলির আওয়াজ করবে, কিন্তু কেউ যেন না মরে। টম বলল, সে দিকে হাঁটবে কারণ লোকটা সেখানে গান গাইছে। বললাম, তুমি বিয়ে করছ অথচ আমায় সে খবর দাওনি। টম বলল, তার ওজন এখন তিনশো পাউণ্ড। নাম মারটিন। বললাম, মানি না তার সঙ্গে দেখা হবে কিনা তবে তাকে ধন্যবাদ এবং আজকের রাত্রির জন্য আমি তার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করব। অভিবাদন জানিয়ে টম সম্মতি জানাল। সী-উইচ-এর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে মনে হলো সে যেন বুঝতে পেরেছে যে সে কি করছে আমি জানতে পেরেছি। কিন্তু বোলেরা-এর ড্যান্স ল্যাসলিভ চলছে! ডেকথাউলের দিকে এগিয়ে তার দিকে তাকিয়ে দাঁড়ালাম। সে সাদা মোজা এবং সাদা বেল্টওয়ালা জামা পরেছিল। ডিনারের উপর সোজা হয়ে নিজেকে এলিয়ে দিয়েছে। বললাম, আজ রাতে আমাদের কেউ বিরক্ত করবে না। জামা-কাপড় ছেড়ে তার কাছে লিডা আসতে বলল। বললাম সাদা গার্ডার বেল্ট এবং মোজা সাদা চামড়ার ওপর মানায় বেশ।

    প্রায় ঘণ্টা দুই-পরে খাটের পাশে মেঝে থেকে উঠে পড়লাম। একটা আলো দেখতে পেয়ে সেটা দেখতে চলে গেলাম। তারপর নৌকাটার দিকে এগোলাম। এরপর বাথরুমে গেলাম। দেখলাম সী-উইচ ৭৯ স্ট্রীটের বেসিনে দাঁড়িয়ে। লোহার জিনিসগুলো তুলে নিলাম। এবার শেষপর্ব শুরু হতে চলেছে।

    .

    ০৫.

    স্টেটরুমে গেলাম জামাকাপড় পরার জন্য। লিডা তখন ঘুমোচ্ছিল। আমার সমস্ত পোষাকই নষ্ট হয়ে গেছিল। আমার ঠাণ্ডার উপযোগী কিছু পোশাকের দরকার হল। বাথরুমের কাছে বিরাট ওয়াড্রোব দেখলাম। তার মধ্যে লিডার জামাকাপড়ই ঝুলছিল। জাহাজের সাজসজ্জার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বারো জোড়া জুতো দেখলাম। এসবের পিছনে হঠাৎ চোখ পড়ল একজোড়া কালো টুপির বাক্স আর সঙ্গে সঙ্গে আমার মাথায় যেন দুম্ দুম্ করে কি একটা বেজে উঠল। টুপিগুলো কার? আলোয় নিয়ে গিয়ে খুলে ফেলাম বাক্সগুলো। লিডার সম্পর্কে খুব খারাপ মনোভাব তৈরী হল। নৌকার দিকে একটু এগিয়ে যেতে একটা ত্রিকোণাকৃতি দাড়ি এবং সিন্দুক দেখলাম। ছটি বোড়া রয়েছে। জিনিসগুলো সিন্দুকের বাইরে রাখলাম, এবং টুপির বাক্সটা ভেতরে রাখলাম। আমার ভালো জামাকাপড়গুলো খুলে বোড়াতে রাখলাম। জামাকাপড় পড়লাম ম্যাকোটির স্লীভ বেশ কভ, জামায় পিস্তল রাখার খাপ রয়েছে কিন্তু কোন তালাচাবির ব্যবস্থা করিনি। অন্য একটা বোড়ার কাছে গিয়ে যুদ্ধের অস্ত্রগুলির ওপর চোখ রাখলাম। কমোড়া স্লিপ দেখতে পেয়ে পকেটে রাখলাম। একটা বোট নিয়ে বেরিয়ে গেলাম। স্টেটরুমে পৌঁছে দেখি লিডা তখনও ঘুমোচ্ছ। স্টোভ জ্বালিয়ে কফি তৈরি করে লিডাকে দিলাম, লিডা আস্তে আস্তে উঠে পড়ল। লিডা একটা বাঁকা চাহনিতে বলল, ক্যাপটেন তোমাকে ধন্যবাদ, তুমি খুব সুন্দর, তোমাকেই আমার দরকার। বললাম–তোমার মতো মেয়েই সব কিছু পারবে। আমার দিকে তাকিয়ে লিডা ওর বেল্ট পিস্তলটা নিল। বলল, আমাকে সে বিশ্বাস করে। আমি মাথা নাড়লাম, বললাম, লিডা তুমিই ঠিক। যদি আমি তোমাকে কাস্টমস এবং কোষ্টগার্ডের দিকে এগোতে হবে। তার জন্য তোমার প্রায় পাঁচ বছর লাগবে। পাপাডক-এর লোকেরা তোমার জন্য অপেক্ষা করবে যখন তুমি বেরিয়ে আসবে। তারা তোমাকে ভুলবে না। লিডা চিৎকার করে বলল, তুমি সব জানতে? বললাম, হ্যাঁ, তোমার এ বিষয়ে কি মতামত? লিডা বলল, আমি কোনরকম সিদ্ধান্ত নিই নি। যখন সমুদ্রে থাকব তখন জাহাজের সমস্ত অস্ত্রগুলো তুলে নিতে পারব। বলল, নিক, সমস্তই টাকা। আমরা অনেক কষ্ট করে অনেক ত্যাগ করে আমরা সব কিছু পাই। বললাম, লিডা তুমি আমাকে বাড়তে দিও না। তখন ড. রোমেরা ভ্যালডেজকে রক্ষা করার জন্য এইচ. আই. ইউ. এস. ওপরে টাকা তুলে ধরল। এক অর্থে তুমি টাকাটা ভাঙ্গিয়ে নিতে পার। আমি মনে করতে লাগলাম যে যখন সে খুব উত্তেজিত হয় উঠেছিল তখন তারা কিভাবে এসেছিল। সে বলল যে, সে ব্ল্যাক সোয়ান। আমি যেন খুব কঠিন ভাবে কিছু না করি। আমার কোন লোক আমার নামে নালিশ করবে না। যে কোন প্রকারেই হোক ডুভেলিয়র ড, ভ্যালডেজকে বাঁচাতে যাবে না। সে প্রায় দুবছর ধরে আমাদের শুধু তিরস্কার করে যাচ্ছে। আমি এইসব অনেকদিন ধরে লক্ষ্য করে যাচ্ছি। এই বোটের জন্যে টাকাগুলো খরচ করার সিদ্ধান্ত আমি নিয়েছি। তাই তুমি পাপাকে মেরে ফেলল এবং গভর্নমেন্টের হাতে দিয়ে দাও। আমি র‍্যাঙ্ক এবং এইচ আই ইউ এস-এর ফাইলটা দেখে নিলাম। তারা সবাই বেশ কিছু টাকা পয়সা দান করেছিল। বললাম, হাইতি থেকে যাবার পথে অনেক কথা আছে। সে আমার কাছে বসে চুমু দিল এবং হেসে উঠল। বলল, তুমি সত্যি কিছু করতে যাচ্ছ, বললাম, আমার ড. নেভেজের কাছে যাচ্ছি। তাকে আমরা বার করে আনতে চেষ্টা করব। লিডা স্নানঘরের দিকে চলে গেল। আমি ডেকহাউসের কাছে গেলাম। টম ডকের একবারের শেষে একটা সিগারেট মুখে নিয়ে তাকিয়ে আছে। বললাম, টম তুমি ভাউচারটা একটু খতিয়ে দেখ। টম বলল, আমি ভাউচার দেখব। বললাম, টম এটা কেউ পারবে না আর তুমি বুড়ো হয়ে গেছ, আমি তোমাকে আবার একবার দেখাব। সে বলল, যে কোন সময় বলে হাত তুলে ডাকের পিছন দিকে এগোতে লাগল। মিনিট খানেক পর একটা মোটরগাড়ির আওয়াজ শুনতে পেলাম। ষ্টেচুরসের দিকে এগোলাম লিড ততক্ষণে জল খাবারের ব্যবস্থা করে ফেলেছে। বললাম, তুমি একেবারে নায়িকা হয়ে গেছ। তোমাকে পাপাডকের ছেলেরা খুব সহজেই গুলি করবে।

    বলল, তারা আমাকে সহজেই গুলি করতে পারত। কিন্তু যখন তারা তীরের কাছে গেল তাদের কেউ রক্ষা করতে পারল না। লিডাকে বললাম সে যদি সাধারণ পথেই খেলতে আরম্ভ করে তবে তার প্রতি আমার কোন যত্ন থাকবে না। কিন্তু এখন তাদের অনেক কাজ।

    বগিম্যান সী উইচটিক তখনও লক্ষ্য করেনি। বলল, আমি জানি আমি খুব তাড়াতাড়ি মরে যাবে। তাকে খুব তাড়াতাড়ি নদীর ধারে নিয়ে যাওয়া উচিত মনে করে আমরা পোতের কাছে গেলাম। তখন তাদের খুব বিপদ মেনেও আমি কোনরকম আভাস তাকে দিলাম না। ডেকহাউসে গিয়ে রেডিওটা খুলে ট্রানসলিভারের চাবিটা খুললাম। লিডাকে জিজ্ঞেস করলাম তার কাছে কোন চাবি আছে কিনা। বললাম, শুধু আবহাওয়া খবরটা জানতে চাই আমি। একটা সবুজ আলো দেখে আমি চাবিটা টিপতেই সেই থেকে একটা জোরে শব্দ হল। চাবিটা খুলে দিয়ে ডায়াল করলাম। দুটো তার একসঙ্গে কাজ করছে শুনতে পেলাম। আমি খুব দূরে সাউথ ক্যারোলিনা সমুদ্রের ধারে এক্স স্টেশনে সি কিউ পাঠালাম। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আভাস পেলাম সঙ্কেত আসছে আরো এগিয়ে যাও, এনগ্রি এগিয়ে যাও, ওকে

    আমি চাবি ঘোরালাম-কে-টেসটিং, কে-টেসটিং এ-আর…। উত্তর এল। তারপর সব চুপচাপ আমি ইঞ্জিনটা চালাতে গেলাম। সমুদ্রের জলের ওপর সূর্যাস্তের সোনালী রূপালী রঙের আভা পড়ল। জাহাজে আহত ব্যক্তিদের থাকার স্থান থেকে লিডাকে টেনে আনলাম। অবাক হলাম যে কিভাবে টাকাগুলো হারালো লিড়া। এখন যে কোন প্রকারেই হোক আমাকে সমুদ্রে যেতে হবে। আমার খুব অবাক লাগল যে কিভাবে লিডা আমাকে মিথ্যে কথাগুলি বলছে। যদিও আমিও তাকে মিথ্যে বলেছি তবু বেশী নয়। লিডা ডেক হাউসে ছিল। আমি বোটের কাছে ছুটে গেলাম। পাঁচ মিনিট পর আমি ডেক হাউস থেকে একটা জোরে শব্দ আসতে শুনলাম। সরু হ্রদের তলা দিয়ে জাহাজটা চলতে লাগল। লিডাকে বেশ কালো লাগছিল। সে বলল, সে অসুস্থ। বলালম, ওষুধ খেয়ে না কমলে অন্য ব্যবস্থা করা হবে। মেয়েটা তার হাতটা তার মুখে রেখে বলল–বাস্টার্ড! বেজম্মা! একজন কোষ্ট গার্ড এ্যামব্রোস লাইটের তলায় আমাকে তুলে ধরল। তার নাম এক্সক্যালিবার। দেখলম যে একজন অফিসার কাঁচের মধ্যে দিয়ে লক্ষ্য করছে। তারপর এক্সক্যালিবার আমাকে ছেড়ে পূর্বদিকে ছুটতে লাগল। তারপর দক্ষিণে তখন হক ঘটনার জালে আবদ্ধ।

    .

    ০৬.

    সমুদ্রের সম্ভাবনাগুলো আর একবার মিলে গেল, আমি ভার্জিনিয়া বীচের দিকে চলেছি। আমার লক্ষ্য পশ্চিম প্রান্ত। জাহাজের সঙ্গে দেখানো সি. ডবলিউ ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সাধারণ সংকেত কথা চলছে। আমার সঙ্গী আমাকে কিউবার পশ্চিমপ্রান্তে নিয়ে যাবে। সেখানেই বিদায় নেবে সে। কিউবা থেকে গুয়ানটাগোমা পার হয়ে আমি হাইতির উত্তর উপকূলে একা পৌঁছব। গত দুদিন ধরে লিডার মধ্যে বেশ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আমি তাকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছি। এমনকি তাকে কাজে রেখে আমি নিশ্চিন্ত বারো ঘণ্টা ঘুমতে পারি। ওয়েবলি বন্দুকটা অপটু হাতে ঝাঁকানি দিলে আমার মৃত্যু হতে পারে। বললাম, কুসিয়ারটা যেন একলা চালাবার চেষ্টা করো না। উপকূলের রক্ষীদের চোখে পড়ে যাবে। রিভলবারটা নামিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে লিডা বলল, পৃথিবীতে আমার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো টাকা রোজগার করা। তার হাত থেকে ৩০০ পাউণ্ড ওজনের ওয়েবলিটা পড়ে গেল। তবু তাকে ভয় দেখানোর জন্য বললাম-তুমি কি ছোট মেয়ের মতো বন্দুক নিয়ে খেলা করতে চাও। আমাদের অভিযানে এরাই আসল বন্ধু। এরা না থাকলে আমরা অসহায়। লিডা প্রশ্ন করে, এতবড় বন্দুক দিয়ে কি সত্যিই মানুষ মারা যায়? তারপর সে হঠাৎ দুহাতে মুখ ঢেকে কাঁদতে লাগল। আমি জানি লিডা কোন সহানুভূতি চায় না। বললাম, আমাদের দুজনের স্বার্থে যত পার কেঁদে নাও। ঝুলন্ত সেতুতে দাঁড়িয়ে বা দিকে বিন্দু বিন্দু আলো দেখতে পেলাম। হক আমাকে আরও পশ্চিমে যেতে বলেছেন। ক্যারিবিয়ান পার হয়ে ফ্লোরিডাকে বিদায় জানিয়ে আমরা নির্দিষ্ট বিন্দুতে পৌঁছব। জায়গাটা এখান থেকে কত দূর ঠিক বুঝতে পারছি না। হয়তো নির্দিষ্ট বিন্দুর কাছাকছি এসে গেছি। অথবা এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। ওয়াশিংটন থেকে পাওয়া নির্দেশমতো কাজ করতে হচ্ছে। হেডকোয়ার্টার তো জানে না যে, ওই কাজের মধ্যে কত বিপদ মিশে আছে।

    গালফ যেন শান্ত এক দিঘী। পরিবেশ এপ্রিলের পক্ষে আশ্চর্য মনোরম। আমি লুগার আর স্টিলেটো পরীক্ষা করলাম। লিডা আজ স্ফূর্তিতে রয়েছে। গুন গুন করে গান গাইছে। আমরা অকারণে ডেক হাউসের কাঠের পাটতনের উপর গড়াগড়ি দিচ্ছিলাম। লিডা আমার শরীরের এখানে ওখানে দংশনের মৃদু আঘাত দিল। উত্তেজনার অবসানে লিডা আবার শান্ত ও ঠাণ্ডা হয়ে গেল। তার আবেগ আপাতত নিরুদ্দেশ, সে এখন কাজের মধ্যে ফিরে এসেছে। ডুলি স্ট্রীটের কাছাকাছি পৌঁছল সী-উইচ। এই মুহূর্তে লিডার মুখে বিচিত্র হাসির ছটা, পরিচ্ছন্ন অথচ তিক্ত। আমরা পরস্পরকে এখন বিশ্বাস করতে পারি। বললাম–তোমার ওপর আমার অগাধ আস্থা। আমি ডিঙি নৌকাটা কোথায় জানি। ভক্তি সহকারে বললাম, আড়ালে থাকতে চেষ্টা কর। কে জানে তারা শশব্দ কিনা। আমি চাই না যে, ওরা তোমায় দেখুক। হাত নেড়ে লিড়া ডেক হাউসের দিকে ছুটতে লাগল। মনের মধ্যে মৃদু আশা যে, তীরে পৌঁছেই এক্স এজেন্টের দেখা পাব।

    ভাবতে পারিনি যে হকের দেখা পাব। ঘামে ভেজা কলার আর বিরাট টাই দেখে তাকে ঠিক চেনা যাচ্ছে। তার সাদা চুলে পানামার ছাপ সহজেই চোখে পড়ে। মুখে সস্তা দামের চুরুট। তার দীর্ঘ বাহু প্রসারিত করে এগিয়ে এলেন আমার দিকে–বললেন, নিক, তোমাকে ঠিক একজন দস্যুর মতো দেখাচ্ছে। আমার পাশাপশি হাঁটতে হাঁটতে বলতে থাকেন-হাতে বেশী সময় নেই, ওয়াশিংটন থেকে অনেক নির্দেশ এসেছে। জরুরী কথা আছে। মনে হচ্ছে কিউবাতে অস্ত্রের সংকট দেখা দিয়েছে। আমি মৃদু শিস দিই খুবই উদ্বেগজনক। পাপাডকের হাতের থাবা থেকে কি ভ্যালডেজকে ছিনিয়ে আনা যাবে?

    আনতেই হবে? তাছাড়া আরও কিছু কাজ আছে। চাবির গোছাটা হাতে দিয়ে বললেন, তুমি পালাও, মনে হচ্ছে শত্রুরা তোমার হদিশ হারিয়ে ফেলেছে। কোনদিকে যাব?

    তুমি গাড়ি চালিয়ে যাও। আমি সব বলব। গাড়ির আয়নার মধ্যে দেখলাম একটি কোর্ড আমাদের অনুসরণ করছে। নিজেকে খুব নিরাপদ মনে হল। হক বললেন, অতটা আশ্বস্ত হয়ো না। কিছুক্ষণের মধ্যেই কিছু একটা ঘটবে। হকের কথা মতো কোর্ডটাকে পিছনে ফেলে আরনেষ্ট হেমিংওয়ে মিউজিয়াম পার হয়ে ট্ৰপ্যান অ্যাভিনিউ দিয়ে গ্যারিসন বাইটের দিকে চলেছি। পথটা গ্রীন স্ট্রীটে গিয়ে শেষ হয়ে গেল। লাল ফোর্ড গাড়িটা আমাদের পেছনে আর সামনে এম জি মোটরকার। হক কণ্ঠে বিরক্তি ফুটিয়ে বললেন, এতটা যে হবে তিনি ভাবতেও পারেননি। আমাকে নির্দেশ দিলেন চলে আসতে। হঠাৎ আমার মনে হল, হাইতি থেকে সাতশো মাইল দূরে আছি। কখন ভাবেই পারলো উত্তর কোরিয়ানদের সম্পর্কে চিন্তা করতেন। এরপর হক তার পকেট থেকে এক টুকরো পাতলা কাগজ বের করে আমাকে দিয়ে বললে, হাইতি যাবার পথে অবসর সময়ে পড়ে দেখতে, তারপর নষ্ট করে ফেলতে। দেখলাম, টাইপ করা কুড়ি পাতা মতো কাগজ। তিনি ভুডু চার্চের সেই বয়স্কের রাতের পর থেকে ঘটে যাওয়া সমস্ত কাহিনী সংক্ষেপে বলে গেলেন ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগার চেপে। বললেন, মেয়েটার দিকে নজর রেখো। হাইতির লোকেরা ড, ভ্যালডেজকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে চায়। তারা পাপাডককে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছে। কেননা দেশের অভিজাত শ্রেণী তাদের আখ কফির মতো ফেরত পাবার জন্য ভ্যালডেজকে সমর্থন করতে চাইছে। ব্যক্তিগত জীবনে ভ্যালডেজ একজন চিকিৎসক। জানি না, পাঁচ বছরে তিনি চিকিৎসা বিদ্যা ভুলে গেছেন কিনা। তিনি এবার সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন। সম্প্রতি বন থেকে তিনটে সাইন উইণ্ডার রকেট চুরি গেছে। ঐগুলিই মস্কোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু ওরা মস্কোতে পৌঁছতে পারেনি। ওগুলো আবার চুরি করা হয়। এখন তা হাইতিতে পৌঁছে গেছে। পাপাডকের হাতে সাইনউইণ্ডারের মডেলে তৈরী মিশাইল আছে। তিনি নাকি আণবিক বোমা তৈরি করতে চান। ক্যাসট্রো খবরটা জানেন।

    পাপাডকের হাতে মিশাইল থাকলে তিনি ক্যারিবিয়ান দেশকে পায়ের তলায় রাখতে পারবেন। ঘোট ঘোট দেশগুলো নির্বিবাদে তার প্রভুত্ব মেনে নেবে। কলম্বিয়ায় পড়বার সময় ভ্যালডেজ ছিল কমিউনিস্ট। তাই এফ. বি. আই. ও. সি. আই. এ তার ওপর গোপন ফাইল রেখেছে। আমরা তাকে আমেরিকায় ফেরাতে চাইছি না।

    প্রশ্ন করলাম, লিডা কি সব জানে?

    সম্ভবতঃ না। কারণ সিয়ার সঙ্গে তার পরিচিত এত বেশী নয় যে, সে সমস্ত খবর পাবে। সে শুধু জানে, ভ্যালডেজ হাইতিতে বন্দী আছেন। হয়তো তার নিজস্ব গোপন সংগঠন আছে। সে কালো চামড়ার লোকদের ক্ষেপিয়ে তুলতে পারে।

    কালোরা কি তাকে সাহায্য করেব?

    করতেও পারে। কারণ পাপাডকের শাসন এত জঘন্য যে জনগণ ক্ষেপে আছে। তাদের দরকার প্রচণ্ড আন্দোলন।

    লিডার পক্ষে তেমন কিছু করা কোন মতেই সম্ভব নয়। নিশ্বাস ফেলে ছাদের দিকে তাকিয়ে হক বললেন, ঠিক আছে, তোমার বক্তব্য মেনে নিলাম কিন্তু মনে রেখো ক্যারিবিয়ান নিথর বেশী সময় দেওয়া যাবে না। কেননা মধ্যপ্রাচ্য ও ভিয়েতনামের সমস্যা আরও জটিল। আরও কিছু প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে ভবিষ্যতে কিভাবে তার সঙ্গে পোর্ট অফ প্রিন্স দেখা হতে পারে তা বললেন। করমর্দন করে হক বললনে, তিনি আমার ফেরার জন্য অপেক্ষা করবেন। ডিঙি নৌকা বেয়ে সী-উইকের দিকে যেতে মনে হলো হকের প্রতীক্ষা যেন সফল হয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }