Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2514 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৯. সীজারের কাছ থেকে মুক্ত

    ০৯.

    ঘড়িতে এখন সকাল চারটে।

    ফ্রান্সিসকা নিজেকে সীজারের কাছ থেকে মুক্ত করে যখন উঠে দাঁড়াল; ঠিক সেই মুহূর্তে ডুরেল রোমের কিউ মিসিনো বিমানবন্দরে জেকুমেলার কাছে থেকে প্রচণ্ড দুঃসংবাদ পেয়ে হতভম্ব হয়ে গেল। কে সেকসনের কাজ নিয়ে জেকুমেলারকে খুবই ব্যস্ত থাকতে হতো। সে একজন রোমান বিশিষ্ট ভদ্রলোক।

    জেকুমেলার এসে জানাল, প্যাসেঞ্জারদের মধ্যে ট্যালবটকে পেলাম না।

    তবে কি হলো? প্লেনটা কি মিলানে থেমেছিল? আর ওখান থেকেই অন্য কোথাও চম্পট দিয়েছে। তা হলেও হতে পারে।

    ডুরেল বলল, যাইহোক ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে ট্যালবট ইটালী ছেড়ে কিছুতেই যেতে পারবে না। আর দেরী নয়, সী–তুমি এক্ষুনি মিলানের দিকে চলে যাও। সেখানকার হোটেল, ট্যাক্সি, বাস তন্নতন্ন করে খোঁজো। পেতেই হবে তাকে। আর আমি সেন্টসী হোটেলেই থাকব। আমার দৃঢ় বিশ্বাস কাউন্টেস এ্যাপোলিও তার খপ্পরেই আছে। আর বিশ্বাস করে তার কাছেই জমা দিয়ে রেখেছে পেইন্টিংগুলো।

    রাত ক্রমশ কেটে ফর্সা হতে লাগল আকাশ। রাস্তাঘাট নির্জন। গাড়ি থেকে নেমে ডুরেল সেন্টসী হোটেলের ভেতর সটান ঢুকে গেল।

    ডুরেলের মালপত্র নিয়ে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে লাগল লম্বা ছিপছিপে চাপরাশি।

    ডুরেল ঠিক সেই অবসরে তার কাছে থেকে সতর্কতার সঙ্গে জেনে নিতে চেষ্টা করল সেন্টসী হোটলের মালিক কি কাউন্ট এ্যাপোলিও?

    চাপরাশি বলল, না। কখনো সীজার এখানে আসে না।

    তখন ডুরেল যথেষ্ট টাকার লোভ দেখিয়ে বলল, কাউন্টের চাকর-বাকররা থাকে কি?

    সে বলল, আমায় মাপ করবেন। আমি অত খবর বলতে পারবো না।

    ডুরেল বলল, আমি ব্রুনো বেলারিওর একজন বন্ধুই বলতে পারো। এখানে আসবার কথা ছিল। সে একটা ব্যাবসার কাজে বাইরে বাইরে ঘুরছে। আচ্ছা তার নামে কোন পোস্টাল পার্সেল এসেছে কি না, দেখো তো। তার বদলে প্রচুর টাকা তোমায় দেব।

    লোকটি বলল, একটু সবুর করুন। দুএক মিনিটের মধ্যে আমি আসছি

    তারপর লোকটি ঘুরে এসে বলল, চারশো দু নম্বর রুম বুক হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কোনো পার্সেল-টার্সেল নেই।

    তুমি ঠিক দেখে বলছো তো।

    আজ্ঞে হ্যাঁ।

    বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল ডুরেল।

    ভাবল ব্রুনোর শেষ পরিণতি কোথায় কে জানে। আর হ্যানসন।

    নীচে নেমে এসে একটা চলন্ত ট্যাক্সি ধরে স্থানীয় কাগজের অফিসের কাছ বরাবর ট্যাক্সি থামিয়ে সেখানে নামল। হেডলাইন দেখল। তারপর কিছু কাহিনী পড়ল এ্যাপোলিওর। কিন্তু এমন প্রয়োজনীয় বিশেষ তেমন কিছু চোখে পড়ল না।

    সে চেষ্টা করল এক বিস্মৃতির বিবর্ণ কয়েকটা মাস পেছিয়ে যেতে।

    এখানকার সব খবর সম্পর্কে নিশ্চয়ই ওয়াকিবহাল এবং শক্তিশালী।

    সেন্টসীতে একটা ফোন করল কাগজের পাতা থেকে চোখ ফিরিয়ে।

    কাকে চান? সিগনোরিনা পাডগেট দাদ্রে? একটু ধরুন।

    দাদ্রে বলল, কে? স্যাম। আরে তুমি এখানে?

    ডুরেল বলল, তুমি ব্যাংককে থাক আমি জানতাম।

    দিন কয়েকরে জন্যে এখানে এসেছ।

    হ্যাঁ, দিন তিনেক হবে সেন্টসীতে আছি।

    হ্যাঁ, কাগজে এইমাত্র খবর দেখে ফোন করলাম

    দাদ্রে বলল, দীর্ঘকাল তোমার পথ চেয়ে আমি বসে আছি। যত তাড়াতাড়ি পার সেন্টসীতে চলে এসো। এখন আমি ব্যালকনিতে বসে আছি, প্রতিটি মুহূর্ত মনে হচ্ছে তোমার জন্য।

    ডুরেল বলল, ঠিক আছে। নিশ্চয়ই আমি এক্ষুনি যাবো।

    তোমার কাউন্টেস এ্যাপোলিওকে মনে আছে?

    সে সহসা বলল, ওহো। সে তো এখন নেপলসে, মন্টিকালোতে তার ভিলা। সোবরান্টোর খুব কাছে। তুমি কি যেতে চাও

    ডুরেল বলল, না। তোমার সাহায্য আমি শুধু চাই। দাদ্রে বলল, স্যাম সত্যি কথা বলতে কি জানো, আমরা আজ একটা নতুন ছবির শুটিংয়ে এখানে এসেছি। ডুরেল জানাল, আমার ধারণা কাউন্টের অনুমতি ছাড়া ঐ দ্বীপে কেউই ঢুকতে পারে না

    দাদ্রে বলল, ওটা ঠিক কথা নয়। এ্যাপোলিওর ক্ষমতার আধিপত্যও কম নয়। তবে এটা ঠিক এ্যাপোলিওর দাপট থেকে তা বাঁচানো খুবই কঠিন।

    কিছুক্ষণের মধ্যে ডুরেল দ্রুত সেন্টসীতে পৌঁছে সোজা পাঁচতলায় চারশো দুনম্বর কামরার সামনে এসে উপস্থিত হলো। বিছানার ওপর সাদা একটা ব্যাগ লক্ষ্য করল।

    সোজা এগোলো ডুরেল। কাউন্টেস এ্যপোলিও ছাড়া কেউ নয়। সমস্ত ঘটনার সূত্রগুলো মিলে যাচ্ছে, একটার পর একটা।

    ডুরেল বলল, কে আপনি?

    কাউন্টেস এ্যাপোলিও? আপনি কে?

    ডুরেল বলল, ভয় পাবেন না। আপনি কি ব্রুনোকে খুঁজছেন?

    হা।

    ডুরেল বলল, সে এখনও ফেরেনি?

    কাউন্টেস হেসে বলল, যতদূর মনে হচ্ছে আপনি একজন আমেরিকান। আপনি ব্রুনোকে জানেন কি ভাবে।

    ডুরেল বলল, আপনার সঙ্গে ওর ছাড়াছাড়ি হবার পরেই জেনেভাতে

    কিন্তু আমি তো জেনেভাতে কোনদিনই ছিলাম না–

    আমার চোখ নিশ্চয়ই ভুল দেখেনি ম্যাডাম।

    ডুরেল আর বিলম্ব না করে এক আঘাতেই মাটিতে ফেলে দিল। তার শরীরের পারফিউমের গন্ধ সেই রাতে বুনোর চুলেও লেগেছিল। এখন কি সব সহজেই ধরা পড়ে যাচ্ছে।

    ডুরেল বলল, তোমাকে জানতে আমার বাকী নেই মিশরীয় ফ্রান্সী স্মিথ।

    কে তুমি? ব্রুনো এখন কোথায়?

    ব্রুনো-ডুরেল বলল, দ্যাখো গে এতক্ষণে জেনেভার হ্রদের তলায় জলের পোকারা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে।

    ডুরেল বলল, ট্যালবট কোথায়? পেইন্টিং স্ক্রলগুলো কোথায় জমা রেখেছো?

    আমি জানি না।

    হঠাৎ সব নিস্তব্ধতা ভেঙে আকস্মিকভাবে ট্যালবটের আবির্ভাব ঘটল।

    ভয়ে চিৎকার করে উঠল ফ্রান্সিসকা। ট্যালবট ডুরেলকে জোরালো এক ঘুসি মারতেই ঘটনা অন্যদিকে ঘুরে গেল।

    ট্যালবট বলল, বেলারিও কোথায়? ফ্রান্সিসকা কোথায় তাকে খুঁজতে যাচ্ছে। তুমি সুইজারল্যাণ্ড থেকে আসছো? সরকারী লোক।কে সেকসনে কাজ করো। তাহলে তোমাকে খুন করতেই হবে।

    ডুরেল বলল, তাহলেই কি তুমি স্ক্রল পেইন্টিংগুলো পেয়ে যাবে। আমার মনে হয় মেজর প্যাসেক সেসব এতক্ষণে হাতিয়ে নিয়েছে।

    ট্যালবট বলল, প্যাসেক যে আমার সঙ্গে ধোঁকাবাজী খেলছে এখন স্পষ্ট বুঝতে পারছি

    ডুরেল সেই মুহূর্তে মূৰ্ছা যাবার ভান করল। আর ঐ অসহায় ভাবের মূর্ঘনায় ট্যালবট অসতর্ক হতেই ডুরেল মাথা নিচু করে তার তলপেটে একটা বড় রকমের ঘুষি মারলো।

    ট্যালবটের পিস্তলটাও সঙ্গে সঙ্গে গর্জে উঠল।

    গলা ঘেঁষে বুলেটটা বেরিয়ে গেলো। তার বেশি কিছু নয়।

    .

    ১০.

    তুমি কি কাউন্টেসকে দেখেছো?

    ভয়ে বেলবয়ের চোখদুটো ছোট হয়ে গেলো।

    পনেরো মিনিট আগে লবিতে মেলব্যাগ ঘাটাঘাটি করছিল।

    তাতে কি ধরনের পার্সেল দেখলে?

    বেশ বড়োসড়ো। তাকে আরো কিছু লিরা দিয়ে ডুরেল ডেক্স ক্লার্কের কাছে এসে জানাল, ফ্লান্সিসকা কয়েক মিনিট আগেই বেরিয়ে গেছে। আর ট্যালবটের কোন হদিসই সে জানে না। কে জানে তার গতি কোথায়?

    দাদ্রে ডুরেলের জন্য অপেক্ষা করছিল। কিন্তু একঘণ্টা পার হয়ে গেলো।

    কোথায় ডুরেল, কোথায় কে।

    কামরা থেকে দাদ্রে বেরিয়ে পড়লো। শান্তা লুসিয়ে বীচের দিকে সেই রেস্তোরাঁয় একটা দেশীয় নৌকোতে জনা কয়েক ভদ্রলোক আর মহিলাকে ছবি তুলতে দেখলো।

    তীরভূমির নীচে ডুরেল নামতে লাগলো। সেখানে যদি দাদ্রের দেখা পায়, বলা যায় না। কি তাই।

    ডুরেল এগুতে থাকলো। দাদ্রে বলল, কি ব্যাপার স্যাম। তোমার কানে চোট লাগল কিসে?

    ওসব কথা থাক। চলো কোথাও গিয়ে দুদণ্ড বসে প্রাণখুলে কথা বলি।

    তারা একসময় একটা পানশালায় ঢুকে গেলো।

    দাদ্রে বলল, এবার বলো তো আমার কাছে তুমি কি চাও।

    ডুরেল বলল, তুমি কি কাউন্টেস এ্যাপোলিওকে চেনো।

    দাদ্রে জানালো, শিগগিরি পরিচয় ঘটলেও ঘটে যেতে পারে।

    ডুরেল বলল, এ্যাপোলিওর আস্ক পোনালাস আর্টকালেক্টরকে তুমি কি জানো।

    সে তো একটা পাকা চোর আমি জানি। কোন ঘটনাই বলছে না অথচ সাহায্য চাইছ। তবে ওটা ঠিক তোমাকে একা ফিলিবেনো দ্বীপে এ্যপোলিওর ওখানে কিছুতেই আমি যেতে দেবো না। যেতেই হয় আমার সঙ্গে যাবে।

    এমন সময় ডুরেল বুঝল তার ঠিক পেছনের চেয়ারে সে এসে নিঃশব্দে বসল সে আর মেজর প্যাসেক ছাড়া আর কেউ নয়।

    .

    ১১.

    রাশিয়ায় তৈরী স্যুট পরে প্যাসেক। ডুরেলকে স্যালুট করলো।

    দাদ্রে বলল, লোকটা কি রাশিয়ান। ও কি তোমাকে চেনে?

    ডুরেল বলল, আমাকে তো নিশ্চয়ই চেনে। তোমাকেও এবার চিনলো। এমন একটা ভাব দেখাবে যেন নতুন আলাপ। এর জন্যই হয়তো ওকে মেরে ফেলতে হবে।

    ওরা দুজন চকিতে পানশালার থেকে বেরিয়ে সমুদ্রের ধারে পৌঁছে গেলো।

    তারপর ডুরেল দাদ্রেকে বিদায় দিলো।

    ডুরেল নেপলস ছেড়ে মন্টিক্যাপোলিতে ঠিক সোয়ান্টোর কাছে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া করলো। পুরো জায়গাটা মৎস্যজীবীর ডেরা। সে আপাতত সবচেয়ে উঁচুতলার বাড়িটার দিকে এগোতে থাকলো। সারা টবে ফুটে আছে অসংখ্য রঙিন ফুল। নিঃসন্দেহে এইটাই কাউন্ট এ্যাপোলিওর মনোরম বাসস্থান।

    প্রথমে ডুরেল পথের মুখে অপেক্ষমান দারোয়ানকে তার নামের স্লিপ দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।

    প্রবেশ অনুমতি মিলল।

    এ্যাপোলিও যেন বলে উঠল, মিস্টার ডুরেল,ভদ্রতাসূচক সাক্ষাৎকারের সময় খুবই সংক্ষিপ্ত। তবে এটা ঠিক, আপনার উদ্দেশ্য আমার জানা আছে। ফিলিবেনো দ্বীপের বুনো বেলারিও বলে যে লোকটির মৃতদেহ জেনেভার লেকে সনাক্ত করা হয়েছে বলে প্রমাণিত তার সম্পর্কে কোন তথ্য

    ডুরেল বলল, নিশ্চয়ই জানি। আপনার বিলক্ষণ শত্রু ছিল লোকটা।

    কাউন্ট বললেন, আপনি আমার স্ত্রীকে এর সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছেন। এই আস্পর্ধা পরিত্যাগ করে জেনেভায় ফিরে যান। জানবেন এটা ইটালী, আর ইটালী মানেই কাউন্ট এ্যাপোলিওর এক্তিয়ার

    ডুরেল বলল, একটিবার অনুরোধ, আমি কেন এসেছি সেটুকু জানবেন কি? ব্রুনোর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরো একটা হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আর সেই সঙ্গে চুরি গেছে স্ক্রল পেইন্টিংগুলো।

    আপনার কি ধারণা আমি ঐ চোরাই ছবিগুলো কিনেছি।

    ঐ ব্যাপারে যতদূর জানি আপনার স্ত্রী আর ট্যালবট দুজনেই যুক্ত

    অর্থাৎ কি বলতে চান?

    ডুরেল বলল, আপনার স্ত্রী এখন এই মুহূর্তে আপনার এখানেই আছেন, আপনি কি নিশ্চিত?

    বিশ্বাস করুন, আপনার স্ত্রীর সমূহ বিপদ।

    কাউন্ট বললেন, আপনি এখন আসতে পারেন

    ডুরেল বলল, হ্যাঁ আমি যাব। আবার নিশ্চয়ই একদিন দেখা হবেই হবে

    ডুরেল আর অপেক্ষা করল না।

    .

    ১২.

    সবে লিফট ছেড়ে করিডোরের বাঁকে পা রাখতেই সাইলাসের ফোন: নীচের লবিতে আমি আছি।

    তুমি কি একা?

    ডুরেল বলল, না। কয়েকজনের সঙ্গেই।

    দাদ্রে এসে ডুরেলের হাত চেপে ধরল।

    একটু দাঁড়াও

    একটু অপেক্ষা কর। নীচে সাইলাস রয়েছে।

    সাইলাস। কেন আমার কি কোন কদর নেই স্যাম–তুমি কি চাকরীতে ইস্তফা দিতে পারো না

    কোনদিন হয়তো দেবো।

    আমি যখন থাকবো না তখন দরজা বন্ধ করে রেখোতাকে বিদায় জানিয়ে ডুরেল নেমে এল।

    নৌকাটার কোণে দাঁড়িয়ে ছিল সাইলাস। তারপর দুজনে অদূরে হোটেলে গিয়ে দাঁড়াল।

    প্যাসেককে আমরা খুঁজে পাইনি তুমি বিশ্বাস করো। ট্যালবটও হাপিস

    এখানেই ওরা দুজনে আছে। কাউন্টেস কি তার ভিলা ছেড়ে চলে গেছে।

    সাইলাস বলল, সে ছবির লোকদের সঙ্গে চলে গেছে নৌকো করে, ফিলিবেনো তার স্বামীর কাছে যাবে। দাদ্রে এল জীবন্ত, নিঃশব্দে। ট্যালবটের দেখা পাওয়া পর্যন্ত এক ঘণ্টা কেটে গেলো।

    ট্যালবট ভাবল, দাদ্রে যা চেয়েছিল তা পেয়েছে, কিন্তু তার ক্ষমা করা উচিত ছিল কিন্তু সে অক্ষম। ডুরেলকে খুন করতে পারলে সব ল্যাটা চুকে যায়। কিন্তু তার ছবিটা ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত কোন ঘটনাই ঘটছে না। তাই অপেক্ষা করতে লাগলো।

    ফিসফিস করে সাইলাস বলল, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ স্যাম?

    হ্যাঁ—

    আমাদের স্ক্রলটা চাই–চাই

    আমরা কোথায় আছি সে জানে না–এবং সে অপেক্ষা করছেও মেয়েটার জন্য। সীজার তাই। মনে কর তাদের দেখা হলো না–তুমি কি করে জানলে তারা আসবে।

    আমার মনে হচ্ছে এখনও সুযোগ হয়নি সীজারকে দেবার মতো। সেন্টসী থেকে ওগুলো নিয়েছে। এবং এ্যাপোলিওর ভিলায় ওগুলো নিয়ে চলে যাবে।

    ডুরেল বলল, আমরা যদি না পাই, সীজার ঐ স্ক্রলগুলো লুকিয়ে ফেলে, তাহলে আর এক সপ্তাহের আগে পাবো না। যুবরাজ সুভানা ফঙ কমোডিয়ায় ততদিনে চলে আসবে।

    .

    ১৩.

    ঐ পথ ধরে ফ্রানি এগিয়ে এলো। নিটোল নির্জনতায় মগ্ন মদিরতায় ঢাকা সেই মন মন্দিরে। একটিবার তার এ্যপোলিওর কথাও মনে হলো। যা হোক, এখন সীজারের সঙ্গে আজকের ব্যাপারটা পাকাপাকি হয়ে গেলে আর সে কাউন্টের কাছে ফিরে না।

    কেন যেন অকস্মাৎ রক্তের প্রবাহ অন্য কথা মনে করিয়ে দিলো। সারা শরীর ছমছম করে উঠলো।

    সীজার দার নেই।

    নাম ধরে ডাকতে লাগলো সীজার, সীজার, সীজার। কোথাও কোনো অস্তিত্বের চিহ্ন নেই।

    এমন সময় ডুরেল পেছন থেকে এসে বলল, সহজ হবার চেষ্টা করো ফ্রান্সি। সীজার কোথায় বলল।

    ফ্রান্সিসকার মুখে কোন রা নেই।

    আবার ডুরেল বলল, তোমার জানা উচিত ছিল এখানে ট্যালবট তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। একদম চেঁচাবে না–

    ফ্রান্সিসকা বলল, জ্যাক কোথায়?

    ডুরেল বলল, নীচে বেদির আড়ালে তোমার জন্য সময় গুনছে। তুমি কি সীজারের কাছে এসেছো? ওর হেপাজতেই কি পেইন্টিংগুলো আছে? দ্যাখো ফ্রান্সি আমি তোমার বয়ফ্রেণ্ড সীজারকে চাই না। চাই শুধু পেইন্টিংগুলো

    একটা সাংকেতিক শব্দ হঠাৎ-বাজল। কোন দিক থেকে তা বুঝতে পারা গেলো না।

    ডুরেল বলে উঠল, সীজারের আবির্ভাব নিশ্চয়ই।

    ফ্রান্সি জানাল না। পেছনের দরজা দিয়ে সীজার আসে

    ডুরেল বলল, তোমার মরণ অবধারিত ট্যালবটের হাতে। নড়বার চেষ্টা করো না। সহসা নীচে পায়ের শব্দে সব নীরবতা ভেঙ্গে দিল। ডুরেলের দিকে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে এল। মাথায় ওপর বন্দুকের নল। অপরপ্রান্তে ছুটে এসে দেওয়ালে বিধল ধারালো অস্ত্র। ছিটকে গেলো লৌহখণ্ড। জ্বলন্ত সীসার বুলেট।

    ডুরেল আচম্বিতে আততায়ীকে প্রবল আঘাতে কাবু করে দিতেই ফ্রান্সিসকা চিৎকার তুলল।

    .

    ১৪.

    ডুরেল বলল, তোমার কি হয়েছে সাইলাস?

    সে জানাল, যাক, আপতত তুমি যে বেঁচে গেছ। আশ্বস্ত হলাম। তোমাকে একটা বিরাট পাথর ছুঁড়ে মেরেছিল লোকটা।

    কে বলো তো লোকটা?

    মনে হয় ট্যালবট।

    ডুয়েল বলল, অন্যদিকে থেকে আর-একজন ধারালো ছুরি ছোঁড়ে। হাতের টিপ দারুণ।

    সে বলল, মনে হচ্ছে ওটা নির্ঘাৎ সীজারের অস্ত্র। এখান থেকে আমরা এক্ষুনি চলো বেরিয়ে পড়তে চাই। অতঃপর তারা তিনজন এই অন্ধকারে বেরিয়ে পড়ল।

    হঠাৎ ফ্রান্সিসকা বলে উঠল, সত্যি, সীজার যে অবস্থায় আমাকে ফেলে রেখে পালাল ভাবতেই পারছি না–

    বীরপুরুষ। ডুরেল বলল–বুঝলে, এই হচ্ছে ইটালীয়ান প্রেমের ধরন।

    সবাই এক সঙ্গে অন্ধকার পথ ধরে হোটেলের পথে এগিয়ে চলল।

    ফ্রান্সিসকে ডুরেল তার ঘরের নম্বর আর চাবি দিয়ে পনাশালার নির্দিষ্ট কামরায় ঢুকতে যাবার আগে কে যেন তার নাম ধরে ডাকল।

    ডুরেল চারপাশে তাকাল।

    মেজর প্যাসেক অদূরে দাঁড়িয়ে। বলল, কাত রাতটা মনে হচ্ছে ভালো কাটেনি?

    ডুরেল বলল, এমন সময়ে এ জায়গায় কি মনে করে

    প্যাসেক বলল, পেইন্টিংগুলো হাতানো গেল না

    ডুরেল দেরী না করে তার দৃষ্টির আড়ালে চলে গেলো।

    ডুরেল তার নিজের ঘরে ঢুকতেই দেখলো বাথরুমে নগ্ন ফ্রান্সিসকা তোয়ালেতে মুখ মুছছে। বলল, তোমাকে সমুদ্রের পরী বলে মনে হচ্ছে–

    সে বলল, এসো না আমরা মিলেমিশে থাকি।

    দুজনে দুজনের অতি নিবিড় স্পর্শ ছুঁড়ে দিয়ে ডুরেলই আবার প্রথম কথা বলল, আচ্ছা পেইন্টিংগুলো ঠিক কোথায় বলতে পারো? আর সীজার ওগুলো নিয়ে আসলে কি করতে চায়?

    আমার মনে হয় সেগুলো এখন ওর কাছেই। কিন্তু সে কি করবে। আর বেচবেই বা কোথায়?

    ফ্রান্সি বলল, কোথায় আর, শেষমেষ কাউন্টের কাছেই আসবে

    ডুরেল বলল, নিশ্চয়ই আমি তোমার সাহায্য পেতে পারি ফ্রান্সি, সীজার কি ফিলিবেনো দ্বীপে যাচ্ছে। আজ কি কাল। তুমি কি স্বামীর কাছে তার আগেই পৌঁছে যেতে চাও

    ঠিক এই সময় দাদ্রের আবির্ভাব হল। ফ্রান্সিসকা বলে উঠল, তুমি যা ভাবছো তা নয়। এখানে কাজের কথাই হচ্ছে।

    তবুও দাদ্রে ডুরেলের দিকে কঠিন দৃষ্টিতে একপলক চেয়ে রইলো।

    দাদ্রে বলল, আশাকরি ফিলিবেনোতে আবার কোন না কোনদিন দেখা হবে

    দাদ্রে বলল, মেয়েরা এইভাবে তোমাকে ফেলে পালায়?

    ডুরেল হাসল–মনে করো তাই।

    গত কয়েক বছর ধরেই তুমি আমাকে নিয়ে ঘর বাঁধবে শুধু বলে এলে। সে কি শুধু স্তোক। নাকি আমার সাহায্য পাবার খাতিরে খালি ফিকির।

    ফিলিবেনো যেতে আমাকে সাহায্য করে। আর কিছু চাই না। আর চাই কাউন্ট এ্যাপোলিওকে।

    দাদ্রেকে জানাল পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি ডন এঞ্জেলোকে। ও আমার সব কথাই রাখে। তোমার ফিলিবেনো যাবার সব ব্যবস্থাই নিশ্চিয়ই সে করে দেবে–কারণ, এঞ্জেলো আমাকে প্রায়ই বিয়ে করতে চায়।

    ডুরেল পরদিন সকাল ঠিক দশটা নাগাদ এঞ্জেলোর সঙ্গে ফিলিবেনো দ্বীপে পৌঁছে গেছে।

    ছোট্ট দ্বীপ। কাছে, দূরে অনেক ছোটখাটো নৌকো দাঁড়িয়ে আছে। আঙুল দেখিয়ে ডুরেল জিজ্ঞেস করল ঐ যে দূরে যে বোটটা দেখা যাচ্ছে ওটা কি কাউন্টেস-এর?

    না। ওটা সীজারের। তাকে নিয়ে সমস্যা নয়। যত ঝামেলা ঐ কাউন্ট এ্যাপোলিও।

    এঞ্জেলো চুপ করে থাকল কিছুক্ষণ। জিজ্ঞেস করল, চেনেন নাকি সীজারকে।

    হা। গতরাতেই দেখা হয়েছে এ্যাপোলিওর অভিন্ন হৃদয়েষু।

    কাউন্টের বাড়ি দূর পাহাড়ের শেষ মাথায়।

    ট্যালবট অথবা প্যাসেক কারুর কোন হদিশ নেই। সমুদ্র, পাহাড় তার মধ্যে একদিক দিয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা চলে গেছে। সেই পথ ধরে ডুরেল একা এগুতে থাকলো। আরো কিছুদূরে হাঁটতেই এক সময় সীজারের অতি মনোরম বোটের প্রায় কাছাকাছি এসে পড়লো।

    কিছুটা এগিয়ে পেছন থেকে ঢুকে গেলো বোটের ভেতর। স্থলভাগের দিকে একবার তাকালো। না, কোথাও তেমন ভয়ের কিছু নেই।

    অথচ গুলির শব্দে আবার চারপাশ সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। ডুরেল পেছন দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে ছুটতে আরম্ভ করল। ছুটতে ছুটতে একটা চার্চের কাছে এসে হাঁফ ছাড়ল। দাদ্রে সেখানে কোথা থেকে এল তা মনে করার প্রয়োজন হল না। তারা দুজন দ্রুত সামনে এগুতে থাকল। হঠাৎ প্যাসেকের কণ্ঠস্বর সে শুনলো।

    সে পরিত্রাহী দাদ্রের নাম ধরে ডাকছে।

    এই যে এদিকে মিস দাদ্রে

    তার প্রায় সামনাসামনি ডুরেল থমকে পড়ল। প্যাসেক বলল, কি, আপনাকে যে আজকাল আর বড় একটা দেখাই যায় না।

    দাদ্রে তখন ডুরেলকে ফিসফিসিয়ে বলল, এই সেই লোকটা না। নেপলসের বারে যাকে দেখেছিলাম?

    বলল, হ্যাঁ, মেজর প্যাসেক। ও সবই জানে। আর তোমাকেও দারুণভাবে নজর রেখেছে। সামনে বাড়িতে চলল। ওটা আমার চেনা জানা

    এক বুড়ো ডুরেলকে বলল, দুঃখিত। এটা তো টুরিস্টদের থাকবার জায়গা নয়।

    আমি সীজারের কাছে এসেছি।

    তা হলে ভেতরে আসুন।

    বৃদ্ধ বলল, আপনারা কি পুলিশ দফতর থেকে এসেছেন? আসলে ব্যাপারটা কি, যতই হোক সীজার আমার ভাই।

    তাকে আমার বলবার কিছুই নেই। যদিও সে সব ঘটনাতেই লিপ্ত, বুঝতে পারলেন এবার ব্যাপারটা।

    বৃদ্ধ বলল, তার মাথায় সবমসয় খুন চেপেই থাকে, খুন আর খুন

    ডুরেল বলল, বুঝতে পারলাম। ওর কাছে আপনি কি কোন পেইন্টিং দেখেছেন ওহো, নিশ্চয়ই–এই তত আধঘণ্টা আগেই সীজার তো সেগুলো নিয়ে গেলো। অন্য কোন জায়গায় তোমরা এক্ষুণি লুকিয়ে পড়ো নইলে বিপদ।

    ডুরেল বলল, দাদ্রে, আমার এই বুড়োকে বিশ্বাস আছে। অন্তত এই বয়সের লোকেরা মিথ্যে বলবে না। তুমি এখানেই থাকবে আমি না ফেরা অব্দি। বুঝলে, এখন জীবনমরণের দরজা এই বুড়োই।

    .

    ১৫.

    পাহাড়ের চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ফ্রান্সি এগিয়ে চলতে লাগলো।

    কিছুক্ষণের মধ্যে সে সমুদ্র সৈকতে এসে গেলো।

    মুহূর্তে আকস্মিক আঘাতে ফ্রান্সি সাদাবালির ওপর লুটিয়ে পড়লো। সে দেখলো, সামনে মূর্তিমান জ্যাক। এখানে তুমি কী করে এলে?

    কেন? নৌকায়? জেনে রেখো আজ তোমার শেষ দিন।

    জ্যাক বলল, তোমার মতন বেইমান মেয়েমানুষকে আমি দুনিয়া থেকে একেবারে সরিয়ে দেবো। মাটিতে ধরাশায়ী ফ্রান্সির সুবর্তুল স্তনাগ্রে জুতোর কেপ সোলর মারাত্মক চাপ দিয়ে বলল, এখনও সময় আছে। ছবিগুলো কোথায়?

    ঝাঁকিয়ে ফ্রান্সি বলল, সীজারের কাছে

    সীজারের কাছে–তীব্র ভর্ৎসনা করলো জ্যাক।

    প্লীজ জ্যাক, আমাকে তুমি সত্যি মেরে ফেলল। এখন আমি মরে বাঁচতে চাই।

    জ্যাক কি মনে করে জানি অত্যন্ত বিচলিত মনে আর কোন দিকে না তাকিয়ে ফ্রান্সিকে পালিয়ে যেতে সুযোগ দিলো।

    উলঙ্গ ফ্রান্সি তীরভূমি লক্ষ্য করে ছুটল, সমস্ত শরীর থেকে সহস্রধারায় রক্তকণা ছুটতে শুরু করলো। কিন্তু সে কোথায় যাবে।

    অবশেষে এক সময় দুটো পাহাড়ের মাঝখানে সংকীর্ণ একটা জায়গায় এসে ফ্রান্সি দেখলো কোথাও কেউ নেই। এইটুকু জায়গাই আত্মগোপনের জন্য যথেষ্ট। এতক্ষণ পরে বুঝতে পারলো সে সম্পূর্ণ উলঙ্গ। বুকের ভেতর থেকে একটা চাপা কান্না উঠে এলো। অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে সে দুহাত দিয়ে নগ্নতা ঢাকতে চেষ্টা করলো।

    .

    ১৬.

    ঠিক সেই সময় ডুরেল ডন এঞ্জেলোর ভিলাতে বসে ছিল।

    প্যাসেক বা ট্যালবট কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। একজন উদো পুরুষ শিকারের সন্ধানে পানসী ভিড়িয়ে দিলো।

    এঞ্জেলো এক সময় বলল, ঐ লোকটাকে চেনো?

    হ্যাঁ চিনি। ডুরেল যেন নিজেকে কাছেই স্বগত করলো।

    এই মুহূর্তে ট্যালবট যে পথ দিয়ে চলে গেছে বলে বুঝতে পারলো, ডুরেল ঠিক পরমুহূর্তে সেই দিকে দ্রুত পা বাড়াতেই শুনল বন্য জন্তুর বিকট চিৎকার, না অন্য কোন আর্তনাদ।

    সেই দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে ডুরেল পৌঁছল যেখান থেকে আসছে সেই মর্মাহত আতাঁরব।

    একি ফ্যান্সিসকা—

    ফ্রান্সি শরীরের গোন অংশ কোটরের ফাঁক থেকে আড়াল করে অবিরাম কাঁদতে লাগলো।

    আমি আর কাউকে বিশ্বাস করি না। জ্যাক নিশ্চয়ই এতক্ষণ সীজারকে পাকড়াও করেছে।

    সীজারকে জ্যাক খুন করবেই, আমাকে তুমি সাহায্য করো।

    পেইন্টিংগুলো কোথায় সত্যি করে বলো? সীজারের কাছে কি?

    হা।

    কাউন্টের কাছে সত্যি বিক্রি করবে তো?

    হ্যাঁ, নিশ্চয়ই করবে।

    প্যাসেককে তুমি নিশ্চয়ই জানো?

    ফ্রান্সি ঘৃণা ভরা মুখ নিয়ে বলল, ঐ নামে আমি কাউকে জানি না।

    ডুরেল বলল, বুঝেছি, এবার আমার পক্ষে তোমার স্বামীর কাছে যাওয়াই উচিত।

    কেন?

    আর কেন। তোমার স্বামীর কাছে গিয়ে সব কথা খুলে বলাই ভালো।

    ফ্রান্সি বলল, একি বলছো তুমি! আমি সেখানে কি মুখে ফিরে যাবো।

    জানি না।

    .

    ১৭.

    ডুরেল আর দেরী না করে বেলারিও ভবনের দিকে ছুটে চলল। এখানে কিছুক্ষণের মধ্যে পৌঁছে পেছনের সিঁড়ি ঢুকে পড়লো। ডুরেল কয়েকবার তার নাম ধরে ডাকল, রাফেল। রাফেল

    আরো একটা করিডোর পেরোতেই রাফেলকে রক্তাক্ত এবং অচৈতন্য দেখতে পেয়ে শরীরের সমস্ত রোমকূপ খাড়া হয়ে উঠলো। একি!

    ডুরেল বলল, কে তোমায় এভাবে মারল। দাদ্রে কোথায়?

    একটা পালোয়ান তোমার দাদ্রেকে নিয়ে পালিয়ে গেছে।

    বুঝেছি। ট্যালবট। সে ছাড়া একাজ আর কেউ করতে পারেনা।

    ডুরেল বলল, প্রথম লোকটা কি চাইছিল?

    সীজার, সীরাজকে চায় বলেই তো মনে হলো। কিন্তু সে তো এ্যাপোলিওর কাছে গেছে। তারা দাদ্রেকে নিয়ে গেলো কেন?

    হ্যাঁ, এবার সব বুঝতে পারছি। ডুরেল বলল, তুমি নিশ্চয়ই ভালো হয়ে যাবে। আমি থাকতে পারলে ভালোই হতো। কিন্তু আমার কাজের বড় তাড়া।

    ঠিক আছে। শুধু দুঃখ বয়ে গেলো দাদ্রে, আমরা দাদ্রেকে হারালাম।

    .

    ১৮.

    অধৈর্যের সঙ্গে কাউন্ট এ্যাপেলিও অপেক্ষা করছেন। ভৃত্য ল্যাম্বার্ডো খবর দেবার পর তাকে নিজের ঘরে চলে যেতে বললনে কাউন্ট।

    সীজার বিলম্ব ঘটলেও ঠিক ঠিক এসে পৌঁছেছে পেইন্টিংগুলো নিয়ে।

    কাউন্ট স্বাগত জানিয়ে বললেন, পেইন্টিংগুলো ঠিক আছে। সীজার জানালো, হ্যাঁ। সব ঠিক আর নিশ্চয়ই আপনার টাকাটাও প্রস্তুত।

    কাউন্ট বলল, ভালো কথা নিশ্চয়ই জেনেভার ব্রুনোকে জানো?

    সীজার বলল, জানি বোধহয়।

    পেইন্টিং-এর প্যাকেজ খুলতেই কাউন্টের মুখের চেহারা সম্পূর্ণ পাল্টে গেলো। অপূর্ব! তুলনাহীন! স্ত্রীর প্রতি সীজারের বিশ্বাসঘাতকতার কথা আর মনে হলো না একটিবারের জন্যেও।

    সীজার বলল, কি দেখলেন? এবার টাকাটা দেখান

    এ্যাপোলিও ড্রয়ার টেনে বার করলো খামভর্তি নোটের তাড়া। তার পাশে একটা হাতীর দাঁতের বাঁট।

    সীজার অনুমান করলো সেটা কোনো ধারালো অস্ত্র।

    কাউন্ট বললেন, কি, চুপ করে রইলে যে। গুনতে চাও কি?

    নিশ্চয়ই। আমি এবং আপনি তো প্রায় একরকমই বলা চলে।

    তাই বলে নিশ্চয়ই পরস্ত্রী হরণ করে থাকি না। মুহূর্তে কাউন্ট মরিয়া হয়ে বলে উঠল, তোমার কুকীর্তির জন্যে আমার হাতে তোমার মৃত্যু আজ কেউ ঠেকাতে পারবে না। তোমার ব্রাদার ব্রুনো আমার মনুষ্যত্বকে অনেকদিন আগে খুন করেছে। তুমি আমার স্ত্রীর পবিত্র পতিব্রতাকে খতম করেছে–পার অস্বীকার করতে? আমাকে তুমি একটা উঁচড়ে পরিণত করতে চাও। এ রকমও শুনেছি, ডন স্ক্রলের জন্যে বাজারে ওয়েট করবেন। আপনি তাকে বলেছেন স্ক্রলগুলো চুরি করবার জন্যে আমার সঙ্গে আপনি ষড়যন্ত্র করছেন।

    হ্যাঁ। সত্যি সত্যি কি আমাকে খুন করতে চান।

    নিঃশ্বাস নিতে লাগলেন এ্যাপোলিও। তোমার প্ল্যানটা আমি বুঝতে পেরেছি। আমাকে স্ক্রলগুলো বিক্রি করে পুলিশকে জানিয়ে বেইজ্জৎ করতে চাও। তাই না?

    হা, ওটাই আমার প্ল্যান ছিল ঠিকই

    সীজার বলল, সে আমায় ভালোবাসে। এক সঙ্গে বিছানায় রাত কাটিয়ে তার সবটা আমার জানা আছে।

    বুঝলাম। এতদিন আলেয়ার মতো কাজ করে গেছে আমার অনুমান। তুমি ছাড়া অন্য কেউ হলে বাধা দিতাম না।

    সীজার হেসে উঠলো, আমি বুঝতে পারছি। আমাকে তুমি খুন করতে পারবে না। যেহেতু আমি এক বিছানায় ফ্রান্সির সঙ্গে শুয়েছি। আপনার তাতে বদনামই হবে। এবং পুলিশের কাছে গালগল্প বানিয়ে আমার সব দোষকে খতম করে দেবেন

    হ্যাঁ, সব ব্যবস্থাই প্রস্তুত।

    কিন্তু আমার সঙ্গে ফ্রান্সিসকার সম্পর্কের কথাটা কাগজে লেখা থাকবে না, সেটা আমার একমাত্র হত্যার কারণ হবে

    আস্তে আস্তে বল।

    আপনি কি মনে করেন চুপ করে থাকবে ফ্রান্সি।

    তুমি কি সন্দেহ করো নাকি। তুমি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলে ফ্রান্সি একটা ভালো বউ সেজেই আমার কাছেই থাকবে। সীজার অকস্মাৎ ঘামতে শুরু করলো। আর তাকে উদ্ধত দেখাল না তার পেছনে মাটিতে গড়িয়ে পড়েছেন ডন স্ক্রল। মুখ তুলে সে তাকালো। এ্যাপোলিওর পিস্তল তার দিকে তাহলে একটা ফাঁদই ছিল।

    হ্যাঁ। যেমন তুমি ভেবেছিলে আমাকে প্রতারিত করে ছবিটা পুলিশের হাতে তুলে দেবে।

    সীজার বলল, বেশ আমাকে তুমি গুলি করো। আমি মারা গেলে ফ্রান্সি আমেরিকানদের কাছে যাবে, অথবা ট্যাবটের সঙ্গে একটা ফয়সালা করবে? যে আদতে প্রথমে চুরি করেছিল।

    উঠে দাঁড়ালো এ্যাপোলিও।

    সীজার দরজার দিকে যাও। সীজার বুঝতে পারলো সে মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে গেছে।

    সে তখন পিস্তল লক্ষ্য করে ঝাঁপিয়ে পড়ল এ্যাপোলিও ওপর।

    সে লাফ দিতেই তার চোখ কালো বোরটার ওপরে স্থির। এ্যাপোলিও যেখানে টাকা গোনার সময় ছবিটা রেখেছিল। এ্যাপোলিও পালাবার জন্য ডেস্ক থেকে পিস্তলটা হাতে তুলে বেঁকে গিয়েছিল। তখন সীজারের হাতে ছুরি। সে শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। এ্যাপোলিওর কণ্ঠস্বর সে শুনতে পেলো। যখন ছুরির ফলা তার শরীরের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে।

    ফিরে দাঁড়িয়ে সীজার নিঃশব্দে ঘর থেকে পা মেপে মেপে বেরিয়ে গেলো।

    .

    ১৯.

    মিনিট পনেরো পরে ডুরেল এ্যাপোলিওর বাড়িতে এসে গেলো। কিন্ত মহলের ভেতরে একটা চাপা গুঞ্জন ঘুরপাক খাচ্ছে।

    এ্যাপোলিও বাঁ হাত পেটের ওপর আর ডান হাতের তালুতে পিস্তল অনেকখানি ভয়ার্ত করে তুলল অন্ধকারকে। ডুরেল একি দেখছে। নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও আততায়ী আত্মরক্ষা করেছে।

    মিস্টার ডুরেল, কাউন্ট জানালেন, জানতাম না আপনি ফিলিবেনো দ্বীপে অবস্থান করছেন।

    ডুরেল তার দিকে তাকিয়ে বলল, আমি সীরাজকে চাই

    ডুরেলের দিকে তাকিয়ে কাউন্ট বললেন, নিশ্চয়ই পেইন্টিংয়ের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তা হলে আমার সঙ্গে আসুন। কিন্তু একটা কথা।

    বলুন

    এখন আমার স্ত্রী কোথায়? এবং কেমন আছে?

    ফ্রান্সিসকা ভালোই আছে। কিন্তু সীজার এখন কোথায় যেতে পারে?

    নিশ্চয়ই বেলারিওদের সেই ভাঙ্গা বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছে সে, আমরা সেই আণ্ডারগ্রাউণ্ড পোড়ো জমির মধ্যে পাবই পাবো।

    প্রতিটি কথা ডুরেল মন্ত্রমুগ্ধের মতো গিলে যেতে থাকলো। আর তেমনি কাউন্ট তার আহত শরীরটা পাহাড়ের কোল বেয়ে টেনে উঠছে যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা দূরে থাক ভাবাই যায় না।

    কাউন্ট বললেন, আমার প্ল্যান ভেস্তে গেছে এ যে কি চরম ব্যর্থতা। যা নিয়ে আমি বেঁচে থাকতে চাই না। ওকে চুরির দায়ে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়ে মরে গেলেও আত্মার শান্তি হতো

    না। ডুরেল বলল, একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি কি। কেন ফ্রান্সিসকাকে কাউন্টেস করেছিলেন?

    কাউন্ট আবেগভরা গলায় বলতে লাগলেন প্রথম যুদ্ধের পর যখন আমার বংশে বাতি দেবার আর কেউ রইলো না, তেমন এক নিঃসঙ্গ জীবনের দুযযাগে বাঁচার জন্যে জীবনের ভালোবাসাকে স্রেফ বাঁচিয়ে রাখার জন্যেই ওকে আলমারীতে সাজিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম কাউন্টেস করে। হ্যাঁ, টাকা, শুধু টাকা, টাকা চেয়েছিল। তাকে তেমনি অগুণতি অর্থ দিয়েছি কিন্তু কিছুতেই এক বিছানায় বিভোর থাকতে পারতাম না। আসলে কেন জানি না মন চাইতো না। তাইতো সে সীজারের সঙ্গে গোপনে প্রেমে মশগুল হয়ে পড়লো।

    ফ্রান্সিকে আপনি কি এখনো ভালোবাসেন?

    হ্যাঁ, এখনও বাসি।

    যাক, আর রক্ত পড়ছে কি?

    না। আপাতত এখন ভালোই মনে হচ্ছে–

    এখন আপনি হাঁটবেন না–বরং আমি একাই যাই। আপনি শুধু পথের নির্দেশটা দিন। তারপর কাছ থেকে বিদায় নিল।

    .

    ২০.

    ডুরেল চলতে শুরু করল সব সংকীর্ণতার আবরণ ভেঙে দুমদাম পা ফেলে। চারদিকে বীভৎসভাবে জমে রয়েছে চুন, বালী, সুরকী। কোথাও কোন প্রাণের সাড়া নেই। জায়গা যত সাংঘাতিক তার থেকেও মৃত্যুফঁদ ততখানি গভীর বলে মনে হতে লাগলো।

    তবু দাদ্রেকে তাকে রক্ষা করতেই হবে। একথা ভাবতে ভাবতে দ্রুত এগুতেই হঠাৎ কোন এক অতল গহ্বর ভয়ার্ত রব ভেসে উঠল।

    দাদ্রে। আমি এখানে।

    ডুরেল চিৎকার তুলতে বিকট বন্দুকের গুলি দেওয়াল বিদীর্ণ করল!

    স্যাম এখানে আমি।

    -পিস্তল খাড়া করে ডুরেল বলল, জ্যাক। তারপর আবার স্বর তুলল দাদ্রে

    চারদিকে থেকে সেই মৃত্যুদূতের মতো প্রত্নতাত্ত্বিক ধোঁয়া ধুলোবালি সমেত ঘোর আচ্ছন্নতা ঘিরে ফেলতে লাগলো।

    সে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। শুনতে পাচ্ছে না। সে বুঝতে পারলো আর কোথাও পালাবার পথ নেই। সেখানে পরাক্রম ট্যালবট সামনাসামনি চিৎকার করে ডাকল, ডুরেল। দাদ্রের মাথা আমার রাইফেলের পয়েন্টের মধ্যেই আছে।

    ট্যালবট জানালো, পেইন্টিংগুলো। কোথায়? সীজারই বা কোথায়?

    ডুরেল বলল, সীজারের কথা বলতে পারি না। কিন্তু প্যাকেট আমার হেপাজতে। আমার কথা কি দাদ্রে শুনতে পাচ্ছে? ট্যালবট বলল, বিলক্ষণ শুনতে পাচ্ছে।

    ডুরেল বলল, দাদ্রেকে ছেড়ে দাও।

    ট্যালবট বলল, তাহলে আগে তোমার সাইলেন্সারের মুখ নামিয়ে দাও—

    ডুরেল কিছুটা শব্দ করে মাটিতে নামিয়ে রাখলো।

    ট্যালবট বিশ্বাসঘাতকতার ভূমিকা পালন করতে বিলম্ব করলো না। ট্যালবট তার দিকে রাইফেল উঁচিয়ে ধরতেই ডুরেল পকেটে হাত ঢুকিয়ে ৩৮ বোরের পিস্তলটা বাগিয়ে ধরলো।

    দাদ্রে বলল, স্যাম। পালিয়ে যাও আমার অনুরোধ। শ্বাসরোধকারী মুহূর্তে ট্যালবট প্রাণের আকুলি জানিয়ে উৎকট কাশতে শুরু করতেই সেই প্রাণান্তক অবস্থার সুযোগে ডুরেলের হাতের আঙুলে গর্জে উঠলো ট্রিগার। ট্যালবটের রাইফেল মুহূর্তে ততোধিক পরিমাণে শব্দ তুলতে অন্ধকার আর ধোঁয়ার মধ্যে সমস্ত ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলো।

    প্রথমে আর্তনাদ উঠল ট্যালবটের।

    ডুরেল বুঝতে পারলো তার লক্ষ্যভেদ তখন নিখুঁত।

    ডুরেল বলল, দাদ্রে তুমি কেমন আছ

    খুব ভালো আছি-স্যাম

    ট্যালবট তখন মাটিতে পড়ে গুমরে উঠলো মিস্টার ডুরেল, আমাকে এই নোংরা কাজে লাগিয়েছিল শয়তান প্যাসেক। ঠিক সেই মুহূর্তে ডুরেল পিছন ফিরতেই দেখলো মেজর প্যাসেক নিঃশব্দে এগিয়ে আসছে।

    .

    ২১.

    প্যাসেক উদ্ভট গলায় বলল, আশাকরি মেহমান এবার বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে নিজেকে সংযত করবেন।

    ডুরেল বলল, এ্যালেনকে খুন করেছিল কে?

    প্যাসেক জানালো, আমি। সে কথা থাক। এখন পেইন্টিংগুলো কোথায়?

    ডুরেল বলল, আমার ঠিকই জানা আছে। যদি কিছু টাকার দরকার থাকে তা এক্ষুনি নিতে পারেন।

    প্যাসেক বলল, চুপ করুন।

    খানিকক্ষণ নীরবতার পর প্যাসেক ট্যালবটের দিকে চেয়ে বলল, এখন নিশ্চিত এ্যাপোলিওর প্রাসাদেই পেইন্টিংগুলো আছে। শেষ কাজ তোমাকেই শেষ করতে হবে ট্যালবট যেনতেনপ্রকারেণ আমার পেইন্টিংগুলো চাই-ই।

    ট্যালবট শুধু তার দিকে তাকালো কিন্তু কোনো কথা বলল না।

    আগামীকাল আমরা এখানেই সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকব। তারপর যতদূর জানি সুভানা ফঙের সঙ্গে আমেরিকানদের চুক্তির শর্ত শেষ হয়ে যাবে। তার তারপরই আমার জেনেভা মিশন। আর টিনখনি চুক্তি

    ট্যালবট বলল, সবই ঠিক আছে কিন্তু আমি নিজের হাতে ঐ হতচ্ছাড়া লোকটাকে খুন করতে চাই।

    প্যাসেক বলল, আর এই যুবতী তন্বীটি কে–চিরকালের মতো ওকেও স্তব্ধ করতে পারলেই আমার পথ চলা সহজ হবে। সুস্থ হয়ে তুমি আবার আগের মতো কাজে নেমে পড়বে। আমি তোমার কাছে চিরঋণী ট্যালবট। আমি ঐ চিত্রকলা নিতে সব সময় রাজী আছি। জেনে রেখো তার জন্য সুইস ব্যাঙ্কে সব রকম অ্যাকাউন্ট বহাল রয়েছে, যা তোমার খুশি রেখে দিও।

    এবার ট্যালবট মুখ তুলে তাকাতে চেষ্টা করলো কিন্তু পারল না।

    সে সব যাক গে। এখন ফ্ৰীমন্ট গোয়েন্দাদের নামগুলো রাখলে দেখি। কোথায় সেগুলো? এ্যালেনের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে এসেছিল। এখান থেকে আমি এক্ষুণি বেরিয়ে যেতে চাই।

    অবাক বিস্ময়ে ডুরেল তাকিয়ে দেখলো।

    আর দেরী নয়। প্যাসেকের মনের পরিবর্তনের জন্য অনেক আগেই আগ্নেয়াস্ত্র নামিয়ে রেখেছে। কিন্তু সে কতক্ষণই বা অপেক্ষা করবে। সীজারকে অকস্মাৎ অনেক দূর থেকেই আবিষ্কার করল সে।

    একটা শক্তিশালী রাইফেল সীজারের হাতে।

    ট্যালবটকে প্যাসেক অবিরাম ফ্ৰীমন্ট গোয়েন্দা দপ্তরের ডাটা দেবার জন্য জবরদস্তি শুরু করলো। নাছোড়বান্দা। ট্যালবটও কিছুতেই রাজী নয় মুখ খুলতে।

    এমন সময় একটা জ্বলন্ত অঙ্গারের টুকরো সমস্ত পরিবেশকে এক নাটকীয় দৃশ্যে পরিণত করলো। চিৎকার করে ডুরেল ট্রিগারে আঙ্গুল টিপলো। শেষ করতেই হবে শত্রুকে। এই চরম সুযোগ।

    ট্যালবট বলল, আমাকে তুমি নিশ্চয়ই মারবে না।

    হ্যাঁ, পতঙ্গের মতো। নামগুলো আমি চাই।

    তারা মিলানে আছে।

    না, তারা মিলানে নেই।

    তোমার পকেটেই খবরগুলো আছে। ওগুলো আমাকে দাও।

    ডুরেল জানে যা সার্জেন প্যাসেক মনে করবে তা সে করবেই।

    প্যাসেক তাকে আর দাদ্রেকে সম্ভবত ট্যালবটকেও মেরে ফেলতে পারে।

    ডুরেলের সঙ্গে ছিল ভারী আগ্নেয়াস্ত্র। সেই জ্যাকের অস্ত্রটিকে সে প্যাসেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবার জন্যে দূরে ছুঁড়ে দিলো।

    কিন্তু সে এখানে ছায়ায় ছায়ায় ঢুকে পড়েছে। প্যাসেক ট্যালবটের সঙ্গে কথা বলছিল।

    সে সেই ডাটাগুলো চায়।

    কেউই সীজারকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো না। সীজার দাঁড়াল কেউই দেখলো না। পাহাড়ে হেলান দিয়ে নিজেকে স্থির করলো, বন্দুক ছুঁড়ল তারপর।

    প্রথম সাবধান বাণী।

    কিন্তু সন্দেহজনক ট্যালবট এটা শুনেছে কিনা।

    প্যাসেকের সঙ্গে তর্ক করছিল সেই বিরাট লম্বা লোকটা। ডাটাগুলো যে তার কাছে নেই সেটা প্রমাণ করবার জন্যে সে প্রচুর চেষ্টা করলো।

    প্যাসেক তার দ্রুতগামী বিরাট দেহটা কিছুটা নাড়িয়ে সীজারের দিকে গুলি ছুড়লো।

    প্যাসেকের তিনটি গুলি লক্ষ্য অনুযায়ী গেলো।

    কেবল একবার ডুরেল প্যাসেককে সতর্ক করে দিল।

    তারপর তার বন্দুকের গুলি শত্রুদের দিকে বন্দুক নিয়ে প্যাসেক প্রস্তুত, কিন্তু অন্য কোন উপায় ডুরেলের ছিল না। সে একবারই গুলি করলো। দ্বিতীয়বার আর গুলি ছুঁড়তে হলো না।

    ডুরেল তার বন্দুকটা নামাল।

    দাদ্রে

    আমি ঠিক আছি স্যাম।

    আমি ভাবতেই পারিনি যে এমন হতে পারে।

    যাক গে।

    ভুলে যাও ব্যাপারটা।

    এস্টান প্যাসেক তাকে পৌঁছে দিলো।

    সীজার বলল নিঃশব্দে, আমি মারা যাচ্ছি। প্রথমে এ্যাপোলিও তারপর এই লোকটি আমাকে মেরে ফেলার জোগাড় করেছে–আমি প্রতারিত হয়েছি ফ্রান্সিসকা।

    আর কোন বিপদ নেই ফ্রান্সিসকা।

    জ্যাক ট্যালবটের পকেট উল্টেপাল্টে দেখলো। তারই পকেটের মধ্যে সেগুলো ছিল।

    মিথ্যে কথা বলেছিল ট্যালবট।

    ঠিকই ছিল ফ্ৰীমন্ট ডাটাগুলো। এবং ইস্যুরেন্স কাগজগুলো ছিল। কোডচিহ্ন দেওয়া ছিল একটা কালো ডায়েরীর মধ্যে।

    পকেট বইটা ডুরেল রাখল। এবং যেখানে দাদ্রে দাঁড়িয়েছিল, সেখানে গেল। এমনভাবে তার দিকে তাকাল যেন সে একজন বিদেশী স্পাই। সে সম্ভবত সেই সময় তাই ছিল।

    কোন কিছু অনুরোধ ডুরেলকে করতে হলো না। আরো কিছুক্ষণ বাদে পেন্টিংগুলো ফেরৎ দিয়ে দিল তাকে অতি অনায়াসে।

    জিজ্ঞেস করল ডুরেল, কেমন আছেন এ্যাপোলিও?

    আগের চেয়ে এখন ভালোই আছেন।

    চোখর পাতা বন্ধ করে কাউন্টেস বলল, এখন আমি সেই বিশ্রী ফুলের মতো পাকরী। আর কেউই আমাকে ভাল মনে ঘরের আলমারীতে তুলে রাখবে না।

    ডুরেল বলল, কেন চেষ্টা করে দ্যাখো। তাকে তো ফিরেও পেতে পারো।

    সে উত্তরে বলল, দেখি, তোমার কথাটা হয়তো ফলেও যেতে পারে।

    ডুরেল তারপর পরিধান অতি দ্রুত পাল্টে পেন্টিংয়ের প্যাকেটটা নিয়ে একেবারে দাদ্রের পাশে বসলো।

    রওনা হবার একরকম সব প্রস্তুতি পর্ব শেষ।

    সত্যি কি তুমি যাচ্ছো স্যাম?

    না, যাবার মুখে

    তোমার কি সব কাজ শেষ

    ডুরেল বলল, হ্যাঁ। সবই প্রায় শেষ।

    প্রথম কোথায় যেতে চাও।

    কোথায় আর! ছকেবাঁধা জীবন। ওয়াশিংটন নির্দেশ দিলেই রাজী। পা বাড়ালেই রাস্তা।

    দাদ্রে বলল, আমি সেইদিন সব চেয়ে বেশী সুখী হবো যদি কখনো তোমার পাশে থেকে সাহায্য করতে পারি। আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলো স্যাম।

    চলো। নিয়ে যাই এখান থেকে।

    .

    ২২.

    হোটেল কন্টেকোপালতে বয়ে যাচ্ছে ঝোড়ো হাওয়া। ডুরেল তার ঘরে ফিরে গেল।

    ডুরেল ভোরের আলো না ফুটতেই জেনেভাতে ফোন করে প্রিন্স সুভানাকে পেন্টিং উদ্ধারের কাহিনী বর্ণনা করতে ভুললো না। আপতত টিনখানি চুক্তির স্বাক্ষর আর কোনো দ্বিধা সংশয় থাকবার কথা নয়।

    খানিক পরে ডুরেল দাদ্রেকে সঙ্গে করে এ্যাপোলের কাছে গেলো।

    ডুরেল আবেগ পুলকিত শিহরণে দাদ্রেকে উত্তেজিত করে তুললো।

    মুহূর্তের মধ্যে ডুরেল বলল, যাই এক্ষুণি আবার দেখা করতে হবে হ্যানসনের সঙ্গে।

    নেপলস্ থেকে লোকটা ট্রেনে বোম, রোম থেকে সোজা জেনেভা।

    সর্ব প্রথম সুভানার সঙ্গে দেখা করে তার চিত্রশিল্পগুলোকে ফেরত দিতে হবে।

    ডুরেল বলল, দাদ্রে, এখন আমায় ছেড়ে দাও। বিশ্বাস করো লক্ষ্মীটি, আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি

    স্যাম আমার কাছে এইটুকুই যথেষ্ট।

    আর কোন উত্তর দিল না ডুরেল।

    ডুরেল বলল, আমরা নিশ্চয়ই আবার এক সঙ্গে মিলতে পারবো।

    এখন আর কোন কথা নয়।

    সমস্তই বিস্তারিত বিবরণ লিখে পাঠাতে হবে ওয়াশিংটনে। আর কতক্ষণই বা সময় লাগবে ক্রীমন্ট গোয়েন্দা সংগঠন আর কে সেকসনের লোকদের নতুন করে ঘোর পাল্টিয়ে আনতে। তারপর, সুস্থ জীবনে চর্যাপদ উঠে আসবে দিনের মধ্যেই। তারপর শুধু ব্রুশ, দাদ্রে আর বুশ।

    তারা একসময় পাশাপাশি দুজনে রোম স্টেশনের দিকে এগুতে থাকল। আর এই এলো বলে রোমের ট্রেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }