Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2514 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১-৩. চারজনে প্রচণ্ড ব্যস্ত

    দি থার্ড ফ্লোর ফ্ল্যাট

    ০১.

    সময়ে কারো জন্য অপেক্ষা করে না। চারজনে প্রচণ্ড ব্যস্ত এবং তৎপর হয়ে তাদের দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো প্যাটের উপর। প্যাটের ভয়ঙ্কর অসহায় চাউনি দেখে সবাই উদ্বিগ্ন। প্যাট অন্য দিনের চেয়ে আজ আলাদা। উদ্বেগের ছায়ায় তার চোখের তারা কাঁপছে। ভীরু চাউনি। কণ্ঠে তার কৈফিয়তের সুর। গলা বার বার জড়িয়ে আসছিল। অনেক কিছু বলবার ছিল। দেখার ছিল কিন্তু হলো না। সব কিছুর মূলে তার পরিবেশ।

    ভ্রুকুটি করে উন্মাদের মত তন্ন তন্ন করে ছোট ছোট সিল্কের হাত ব্যাগটার মধ্যে সে হাতড়াতে লাগল। যেটাকে সবাই বলে তার ইভনিং ব্যাগ। দুটো যুবক এক যুবতী চিন্তিত হয়ে তাকে দেখত লাগল তার প্যাট্রিসেনা গারবেটার ফ্ল্যাটের সামনে দাঁড়িয়ে।

    কোন লাভ নেই। ব্যাগের মধ্যে পাওয়া গেল না। হতাশা নিয়ে বলল প্যাট। নম্রস্বরে অপেক্ষমান ব্যক্তিরা জিজ্ঞেস করল তারা তবে কি করবে।

    ল্যাব ছাড়া জীবনের কোন অর্থ নেই। আপন মনে বললো জিমি ফকনার। ছোটখাটো চওড়া কাঁধের যুবক। নীল চোখে ঠাণ্ডা মেজাজের ছোঁয়া।

    রাগত চোখে তার দিকে তাকিয়ে প্যাট বলল, ঠাট্টা করো না। জিমি এটা ইয়ারকির সময় নয়। ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    ভেনোডেন বেইলি বলল–আবার ভালো করে দেখ, হয়তো সেটা ব্যাগের মধ্যে কোথাও লুকিয়ে আছে। কণ্ঠস্বরে কোন রাগের আভাস নেই। সব কিছুতেই অত্যন্ত স্বাভাবিক। রোগা চেহারার সঙ্গে মিহি কণ্ঠস্বর বেশ খাপ খাওয়ানো।

    অপর যুবতী মিলড্রেড এবার মুখ খুলল, সে কি চাবি সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিল?

    জোরের সঙ্গে উত্তর দিল প্যাট, নিশ্চয়। তার স্পষ্ট মনে আছে বাইরে খাবার সময় এই ব্যাগেই চাবিটা রেখেছিল, তাদের দুজনের মধ্যে কাউকে সে দিয়েছিল। আরও বলল, ডেনোডেনকে তাকে বলেছিল এখন তার কাছে থাক, পরে সময় মতো প্যাট চেয়ে নেবে।

    এত সহজেই কেউ বলির পাঁঠা হতে রাজি হলো না। ভেনোডেন জিমিও তার সুরে সুর মিলাল। জিমি কোন রকম কুণ্ঠা না রেখেই বলল, সে নিজের চোখে দেখেছে প্যাটকে চাবিটা তার ব্যাগের মধ্যে রাখতে।

    তবে তার ধারণা যখন তার হাতব্যাগটা তাদের হাতে ছিল তখন কেউ সেটা হয়তো তার ব্যাগ থেকে তুলে নিয়ে নিয়েছে। একবার নয় দুবার চাবিটা ব্যাগের মধ্যে রেখেছিলো সে।

    ভেনোডেন তির্যক ভাবে বললো, একবার বা দুবার যা হোক না কেন তার বিশ্বাস প্যাট কম করেও বার বার তার ব্যাগের বাইরে ফেলে দিল। তারা মনে না করিয়ে দিলে সে চাবিটা পেতোই না। এই যে সেটা একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না তার পিছনে হয়ত কোন রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে।

    একই কারণে তার ফ্ল্যাটের চাবিটা কোথাও পড়ে গিয়ে থাকবে। যেভাবে পৃথিবীর সব কিছুই সবসময় স্থানচ্যুত হয়।

    অপর তিনজন যখন চাবি হারানো নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য প্রকাশ করে চলেছে মিস ড্রেডের আশঙ্কা হলো যদি ফ্ল্যাটের চাবি না পাওয়া যায় তবে তারা কী ভাবে ফ্ল্যাটে ঢুকবে।

    বুদ্ধিমতী তাই এ প্রশ্নটা তার মনে সহজেই এল। কিন্তু প্যাটের মতো ঝামেলা পাকানো বা আবেগপ্রবণ নয় সে। চারজন শুষ্ক চোখে বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে রইলো। হঠাৎ জিমি কড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে বলল, আচ্ছা, পোটার এ ব্যাপারে তাদের সাহায্য করতে পারে না। হয়তো পোটারের কাছে মাস্টার কি থাকতে পারে যা দিয়ে সে সমস্যার সমাধান করতে পারবে।

    জোরে জোরে মাথা নাড়িয়ে প্যাট বলল, তাতে কোন ফল হবে না। একটা চাবি কিচেনে অন্য এমন জায়গায় থাকা প্রয়োজন যা তাদের পক্ষে ক্ষতিকর এই মুহূর্তে।

    কৈফিয়তের সুরে জিমি বলল, ক্ষতিকর বলতে সে কি বোঝাতে চাইছে।

    ক্ষতিকর মানে ক্ষতিকর। এই ভাবে কথাটা বলে প্যাট বলল, সেই ব্যাগের যে অধিকারিণী সে নিশ্চয়ই তাদের বন্ধু হতে পারে না। তার কথা জিমি নিশ্চয় বুঝতে পেরেছে।

    মিস ড্রেড অসহায় ভাবে বলল, এখন কি উপায়। কোন একটা উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

    প্যাট বলল, যদি ফ্ল্যাটটা গ্রাউণ্ড ফ্লোরে হত তবে উপায় একটা নিশ্চয় বার করা সম্ভব হতো।

    সেক্ষেত্রে তারা জানালা বা অন্য কিছু ভেঙে ভেতরে ঢুকতে পারত।

    ভেনোডেনকে রসিকতা করে বলল তার বেড়াল-চোর হতে ইচ্ছে হয় কি? হবে সে?

    নষভাবে দৃঢ়তার সঙ্গে তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ভেনোডেন।

    জিমি উত্তর দিতে ভোনোডেনের পক্ষ নিয়ে, ঐ ভাবে ফোর্থ ফ্লোরে যাবার অনেক ঝুঁকি আছে।

    ভেনোডেন জিজ্ঞাসা করে, এই ফ্ল্যাটে ফায়ার এস্কেপের ব্যবস্থা নেই? না নেই-একটাও নেই।

    সে কি? বলে বিস্ময়ে চেয়ে রইল জিমি। ফাইভ স্টোরেড বিল্ডিং। তাহলে ফায়ার স্কেপের কোন ব্যবস্থা নেই। সম্পূর্ণ অসম্ভব ব্যাপার। যদি এই ফ্ল্যাটে কোন জায়গায় আগুন লাগে তার বাসিন্দারা কোথা দিয়ে বাইরে বেরোবে।

    উত্তরটা প্যাটের অজানা। যেটা নেই সেটা নিয়ে আলোচনা নিরর্থক। কথা হলো কি করে তারা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করবে।

    প্যাটের দুর্ভাবনা সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল। একে অপরের দিকেমুখ চাওয়া-চাওয়ি করে। সবাই ভাবতে থাকে প্যাটকে কিভাবে সাহায্য করা যায়।

    ভেনোডেন জিজ্ঞাসা করে কি যেন নাম, কথাটা পেটে আসছে মুখে আসছে না। ব্যবসায়ীরা যাতে করে তাদের জন্যে সামগ্রী ফ্ল্যাটে পাঠায়।

    হঠাৎ নামটা মনে পড়ে গেল প্যাটের। সে কি সার্ভিস লিফটের কথা বলছে। হ্যাঁ তার মনে পড়েছে নামটা কিন্তু সেটা তো তারের বাক্সের মতো জিনিস।

    ভেনোডেনের দুটো চোখ চকচক করে উঠল। খুশিতে বলল, এতক্ষণে একটা উপায় বের করা গেল।

    মেলড্রেডের পরামর্শে তার খুশীর রেখা হঠাৎ মিলিয়ে গেল। মেলড্রেড ভীষণ ভাবে নিরুৎসাহ করে তুলল।

    প্যাটের কিচেন হয়তো ভিতর থেকে বন্ধ থাকতে পারে।

    মেলড্রেডের পরামর্শ নাকচ করে দেয় ভেনোডেন, সেটা বিশ্বাস করা ঠিক হবে না।

    জিমি বলল, প্যাটের কিচেনের কথা সে বলছে না। তারা তো প্যাটের স্বভাব সম্পর্কে ভালো মতোই জানো। কখনও ঘরে তালা দেয় না আর ঘরে খিলও দেয় না।

    প্যাট মন্তব্য করল, তার মনে হয় না ঘরে খিল দেওয়া আছে।

    আজ সকালে সে ডাস্টবিনের ময়লা পরিষ্কার করে আর দরজায় খিল দেয়নি। তারপর সেখানে কি হলো মনে করতে পারল না। তাদের চিন্তিত দেখাল চারজনকে। মুশকিল আসান যেন দূর অস্ত। তাদের মধ্যে একটা অসহায়তার ছাপ পড়েতে শুরু করে দিয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু ভেনোডেনের। ভেঙে পরার শেষ মুহূর্তে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। আগে বহুবার নানা দৃষ্টান্ত অতীত প্রায়। আজও ব্যতিক্রম হলো না।

    ঠিক আছে, আজ রাতে তাদের কাছে এই ঘটনাটি কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে তার ধারণা। তবে তরুণী প্যাট তার এই অভ্যাস একদম বাজে। এই শিথিলতা অবহেলা অনেক বিপদ তার জীবনে ডেকে আনতে পারে।

    তবে ভাগ্যের কথা সেখানে কোন চোরের উপদ্রব নেই। বেড়ালের উপদ্রব তার রাতের ঘুম কেড়ে নেয়নি।

    তার নীতিকথায় কান না দিয়ে প্যাট বলল, তার সঙ্গ নিতে।

    সমস্বরে আওয়াজ হলো কোথায়?

    মুখে একটা আঙুল দিয়ে সর্তকতার সঙ্গে বললো, অন্য ফ্ল্যাটের লোকেরা বিরক্ত হবে। বেশী চেঁচান উচিত নয়। তার প্রসঙ্গ পাল্টে বলল, তারা লিফটের খোঁজে চলেছে।

    ভেনোডেন জিজ্ঞেস করল, এত রাতে লিফট কি চালু আছে? না, তা সম্ভবত নেই, উত্তর দিল প্যাট। কিন্তু কয়লা তোলার অন্য একটি লিফট আছে। চব্বিশ ঘণ্টা সার্ভিস।

    একরকম ছুটে প্যাট এগিয়ে গেল। অন্যেরা তাকে অনুসরণ করলো। গাঢ় অন্ধকারে প্যাট তাদের নেতৃত্ব দেয়। ডান দিকে লিফটের দিকে তারা এগিয়ে গেল। পরের ডাস্টবিনটা সরাবার সময় একটা কটু গন্ধ পেল ভেনোডেন।

    এই অভিযানে সে কি একাই যাবে, কেউ তাকে সঙ্গ দেবে না?

    জিমি তার সঙ্গ নিল।

    ভেনোডেনের পাশে পাশে হাঁটতে লাগল সে।

    তার সন্দেহ হচ্ছে লিফট তার ভার বহন করতে পারবে কিনা।

    একটন কয়লার থেকেও কি তোর ওজন বেশী? প্যাট জিজ্ঞাসা করল।

    লিফটে পা দিয়ে উৎফুল্ল হয়ে ভেনোডেন বলল, খুব শীঘ্রই তারা একটা পথ খুঁজে পাবেই।

    লিফটের যান্ত্রিক আওয়াজে শোনা গেল। তারা দৃষ্টির আড়াল হলো। কিন্তু তাদের রাশ থেকে গেল।

    ভেনোডেন মন্তব্য করল, কান ঝালাপালা করা শব্দটা ভয়ানক। অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা কি ভাবছেন কে জানে।

    চোর কিংবা ভূত, এই ধ্বংসের কিছু একটা তারা ভাববে। লিফটের দড়ি টানা কঠিন ব্যাপার। ফায়ারস ম্যানসনের কর্মীরা এই দুরূহ কাজ কি ভাবে করে ভাবতেও অবাক লাগে।

    জিমিকে জিজ্ঞাসা করল, সে কি ফ্লোরগুলি গুনেছে।

    হায় ভগবান। শুনতে একদম ভুল হয়ে গেছে। মৃদু হেসে ভেনোডেন বলল, তার ঠিক মনে আছে। তারা এখন থার্ড ফ্লোর অতিক্রম করছে। পরের ফ্লোরটাই তাদের।

    বিড় বিড় করে বিরক্তি প্রকাশ করে জিমি বলল, দেখা যাবে দরজায় তালা লাগানো।

    কিন্তু চিন্তাটা অমূলক। কাঠের দরজা ঠেলতেই খুলে গেল। কালো স্নেটের মতো অন্ধকারে কিচেনে ঢুকল ভেনোডেন আর জিমি।

    নিচ্ছিদ্র অন্ধকারে কিছুই নজরে পড়ল না। এক পা চলতে তাদের ভীষণ অসুবিধে হলো। সুইচ বোর্ড খুঁজে পাচ্ছিল না।

    ভেনোডেন মৃদু গলা করে বলল, এই জন্য অন্ধকারে তাদের একটা টর্চ সঙ্গে রাখা উচিত ছিল। ফ্ল্যাটের কোন কিছুই তার জানা নেই। অসাবধান হলে রান্নার সরঞ্জাম ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। প্যাটকে সর্তক করে দিয়ে ভেনোডেন বলল, সে যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখানেই থাক আলো না জ্বালা পর্যন্ত একটু নড়বে না সে।

    মেঝের উপর থেকে অতি সন্তর্পণে তার পথ সে করে নিল। আর মুখে একটা শব্দ ড্যাম। পথ চলতে গিয়ে অসাবধানতায় কিচেনে হুমরি খেয়ে পড়লে বুকের পাঁজরে ধাক্কা লাগল তার। কোন মতে নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে ছিল। একটা সুইচ বোর্ডের খোপ অন্য একটা সুইচ বোর্ডের কাছে গেল সে। ড্যাম শব্দটা মুখ থেকে আবার বেরিয়ে এল।

    জিমি তাকে বলল তাকে দেখে যেন হতাশ মনে হচ্ছে। সে বলল, আলো আর আসবে না। বালবগুলি সব ফিউজ হয়ে গেছে।

    প্যাসেজ পার হয়ে বসার ঘর। তার পায়ের শব্দ অনুসরণ করে জিমি। দরজা পার হবার আওয়াজ পাওয়া যায়। এবার বসার ঘর থেকে ভেনোডনের পায়ের শব্দ শোনা গেল। শব্দটা সুইচ পর্যন্ত এগিয়ে থেমে গেল। একটা ব্যর্থতার হিসহিস শব্দ শুনে মন্তব্য করলো, তবে কি তাদের শূন্য হাতে ফিরে যেতে হবে? মুখ কঠিন হয়ে গেল। অন্ধকারে বসার ঘরের দিকে এগিয়ে গিয়ে মনে হলো অন্ধকার যেন আরও জমাট।

    অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার মতো তার সঙ্গ নিল ভেনোডেন। ভেনোডেনকে দেখা যাচ্ছিল না। তবে তার উচ্চ নিশ্বাস গায়ে লাগতেই বোঝা গেল তোনোডেন তার খুব কাছে। কিন্তু তার আর সাড়া পাওয়া গেল না। তবে সে কি বলে ছেড়ে দিল। ফিরে গিয়ে প্যাটকে কি জবাব দেবে। প্যাটের দুশ্চিন্তা সে ফ্ল্যাটে ঢুকতে পারবে তো?

    জিমি হঠাৎ জিজ্ঞাসা করল, কি হলো ভেনোডেন।

    তার বিশ্বাস রাত্রি নামলেই ঘরগুলিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন ওর সব কিছুই মনে হচ্ছে অন্য জায়গায়। চেয়ার টেবিলগুলি ঠিক মতো জায়গায় নেই।

    ঠিক সেই মুহূর্তে একটা সুইচের সন্ধান পাওয়া গেল। সুইচ টিপতেই আলোয় ভরে গেল। আর ঠিক পরেই ভয়ে আতঙ্কে দুজনে দুজনের মুখের দিকে তাকালো। কি সাংঘাতিক ব্যাপার। এ কি করে সম্ভব? একটা প্রচণ্ড ব্যবস্থা তাদের তাড়িয়ে নিয়ে এলো এই জায়গায়। ঘরটা প্যাটের বসার ঘর। ভুল ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়েছে তারা।

    তারা দুইজনে ফ্ল্যাটটা জরিপ করতে গিয়ে দেখে ঘরটা প্যাটের ঝলমলে আসবাপত্রে ঠাসা। অসাবধান হলেই অন্ধকারে হোঁচট খেতে হবে।

    আলোই সম্ভাব্য বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। ভেনোডেনের অবস্থা দেখে চেয়ার টেবিলগুলোও বোধহয় বিদ্রূপ করেছে। ঠিক মাঝখানে গোল টেবিল। আবরণে ঢাকা। এই মুহূর্তে ঘরের মালিকের আচার ব্যবহার অনুমান করা দুঃসাধ্য। নীরবে বিস্মিত। টেবিলটার উপর তাকিয়ে দেখল একগুচ্ছ চিঠি পড়ে রয়েছে।

    প্রাপকের নামটা পাড়তে গিয়ে এক বুক নিঃশ্বাস ফেলে বলল, মিসেস আনোটন গ্রান্ট। তারপরেই আবছাজনক দৃষ্টিতে বলল–সর্বনাশ জিমি। ভদ্রমহিলা বোধহয় তাদের আসার খবর পেয়ে গেছেন।

    কিন্তু আশ্চর্যের কথা এই যে তাদের আসার সংবাদ পেয়েও জিমি গভীর ঘুমে অচেতন। চোর ডাকাতের কথা ভেবেই তার ছুটে আসা উচিত ছিল। ভয়ে জিমি বলল-ব্যাপারটা খুব সুবিধের নয়। ভেনোডেন তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত। এক মূহুর্তও নয়। শেষে পুলিশী ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েতে হতে পারে।

    দ্রুত ঘরের আলো নিবিয়ে বেরিয়ে আসে তারা। লিফটে পা রেখে নিশ্চিন্ত হলো। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাল নতুন কোন ঝামেলায় তাদের জড়িয়ে পড়তে হয়নি বলে।

    জিমি সন্তোষের সুরে বলল, এইরকম গাঢ় ঘুমের আনেস্টিনের হয়তো গভীর ঘুমের অভ্যাস আছে। কিন্তু এত গভীর ঘুম হলে চোর ডাকাত পড়ে তার সর্বস্ব লুট হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সকালে উঠে দেখবেন তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছেন।

    ভেনোডেন চিন্তা করল, এমন মারাত্মক ভুল তাদের কি করে হলো। ফোর্থ ফ্লোরে না গিয়ে থার্ড ফ্লোরে তারা কিভাবে পৌঁছলো। একটা সম্ভাবনার কথা মনে পড়ছে। বলল, সে বুঝতে পারছে কি ভাবে তাদের ফ্লোর গুনতে ভুল হলো।

    কৌতূহল প্রকাশ করে জিমি বলল, সেটা কি রকম?

    উত্তরে ভেনোজেন বলল, তারা লিফট চালু করে কোথা থেকে।

    কেন গ্রাউণ্ড ফ্লোর থেকে। নিশ্চিন্ত ভাবে জবাব দেয় জিমি।

    না। তবে কোথা থেকে? তার স্পষ্ট মনে আছে লিফট চালু হয়েছে বেসমেন্ট থেকে। তাই তাদের গুনতেও ভুল হয়ে যায়।

    .

    ০২.

    সুইচ টিপতেই লিফট চলতে শুরু করে দিল। এবার তারা সঠিক পথেই যাচ্ছে। জিমি আন্তরিক ভাবেই সেটা আশ্বস্ত করল। ফোর্থ ফ্লোরে এসে নেমে পড়ল। তারপর প্যাটকে বলল, আবার বিস্ময়কর ঘটনা ঘটলে সহ্য করতে পারবে না।

    জিমির আশংকা অমূলক নয়। সুইচ টিপতেই উজ্জ্বল আলোতে ঘর ভরে গেল। চোখের সামনে প্যাটের কিচেন। কিচেন পার হয়ে তারা সামনের ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। মিনিট খানেক পরে ফ্ল্যাটের প্রবেশ পথের দরজা খুলতেই দেখা গেল দুটি তুরুণী অপেক্ষা করছে।

    বিরিক্তি প্রকাশ করে প্যাট বলল–তারা অনেক সময় ব্যয় করেছে। মিলড্রেড আর সে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছে।

    আমরা দুঃখিত বলে তাদের দারুণ মজার অভিযানের কথা শোনাল। তবে অভিযানের ভয়ঙ্কর একটা ঝুঁকিও ছিল। অনধিকার প্রবেশের জন্য ধরা পড়লে তাদের জেলের ঘানি টানতে হত।

    মজাদার অভিযান। পুলিশ স্টেশন। তারা অপরাধী হতে পারত। এসব কি কথা বলছে ভেনোডেন? ঠিক সে তার ফ্ল্যাটে ঢুকতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো প্যাট। বসার ঘরে আলো জ্বাললো প্যাট। দৃষ্টিতে তার প্রতিজ্ঞার আভাস। দুটি যুবকের অভিযানের কাহিনী না শোনা পর্যন্ত তার বিস্ময় কাটলো না। সামনের দুটি চেয়ারে দুজনকে বসতে বলল। আর মিলড্রেড বসল তার পাশে।

    ভেনোডেনকে তাদের অভিযানের গল্প করতে অনুরোধ করল। সে তার ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারছে না।

    তাদের অভিযানের বর্ণনা শুনেত শুনতে মাঝে মাঝে উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল আর মন্তব্য করল, বিস্ময়ের ভাব প্রকাশ পাচ্ছিল। বলল, কি ভয়ঙ্কর ভুল। এই ভুলের মাশুল তাদের ঠিক গুনতেই হতো।

    এরকম মারাত্মক ভুলের সূত্র সে বার করতে পেরেছে। আসলে তারা বেসমেন্ট থেকে যাত্রা শুরু করে এবং থার্ড ফ্লোরকে প্যাটের ফ্লোর মনে করে মিসেস গ্রান্টের ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ে।

    প্যাট মন্তব্য করল, ভদ্রমহিলা যে তাদের হাতে নাতে ধরে ফেলেনি তার কারণ ঘুমুলে বৃদ্ধার কোন জ্ঞান থাকে না। পরশ্রীকাতর তিনি, এটা বয়সের দোষ। আজ সকালে তিনি প্যাটের সঙ্গে সাক্ষাতে ইচ্ছুক। মনে হয় কোন অভিযোগ করবেন। যতদূর মনে হচ্ছে পিয়ানো নিয়ে। যারা পিয়ানো বাদন সহ্য করতে পারে না তাদের সেখানে থাকা উচিত নয়। হঠাৎ ভেনোডেনের হাতের দিকে তাকাতে গিয়ে বলল–তার হাতে কোন চোট লাগে নি তো?

    কেন, প্রশ্ন করতেই বলল, তার হাত ভর্তি রক্ত। টয়লেটে গিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে বলল।

    এই প্রথম নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হয়ে ভাবল এত রক্ত এল কোথা থেকে। হাত কোন চোট বা আঘাত লাগেনি, তার হাত ভর্তি রক্ত কেন। ভৌতিক কাণ্ড বা শারীরিক। এই সব প্রশ্নে না গিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতেই জিমির কথায় অবাক হলো-তার হাতে যে পরিমাণে রক্ত দেখা যাচ্ছে তাতে চোট বা আঘাত পাবারই কথা। কিন্তু সে কি চোট পেয়েছে কোথাও।

    ভেনোডেনের কথা শুনে অবাক চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। টয়লেট থেকে ভেনোডেন হাত ধুয়ে এল। জিমি তার হাতে কোন কাটার দাগ জাতীয় কিছুই দেখতে পেল না। অথচ এটি আশ্চর্য ব্যাপার। এত রক্ত হাতে এল কি করে।

    বড় অদ্ভুত ব্যাপার। রক্তের পরিমাণ যথেষ্ট। হাতে এত রক্ত কোথা থেকে এল ব্যাপারটাতে গূঢ় রহস্য আছে সেটা বুঝতে খুব সময় লাগলো না। যে অনুমান তারা করছিল যে ভদ্রমহিলা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, এখন সেটা আর তাদের ঠিক অনুমান বলে মনে হচ্ছে না।

    প্রশ্নগুলির সম্ভাব্য উত্তর ঠিক করে লাফিয়ে উঠল জিমি। রক্তটা নিশ্চয়ই ফ্ল্যাট থেকে এসেছে। তাছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না। তার সম্ভাব্য উত্তরের জন্য নিশ্চিত হতে তার বন্ধুর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল–রক্তটা যে ভদ্রমহিলার সে বিষয়ে সে কি নিশ্চিত?

    ধীরে শান্ত নিশ্চিত ভাবটা ফুটিয়ে তুলে ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল ভেনোডেন। বলতে গিয়ে গলাটা একটু কেঁপে গেল।

    নীরবে একজন একজনের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তাদের একটাই চিন্তা, কোথা থেকে এত রক্ত এল। ভদ্রমহিলার ফ্ল্যাটে এত রাত্রে অন্য কারোর উপস্থিতির কথা শোভন নয়। জিমিই পরবর্তী পদক্ষেপের কথা বলল।

    দ্বিধাগ্রস্ত ভাবে সে বলল, তাদের উচিত এগুলি আনেস্টিনের ফ্ল্যাটটা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। সবকিছুই ঠিক মতো আছে কিনা, না অন্য কিছু সেটা তাদের জানা অত্যন্ত প্রায়োজন।

    তার কথায় সায় দিল ভেনোডেন। সহ টেনেন্ট হিসাবেও তাদের কর্তব্য রয়েছে। ইতস্ততঃ করে বলল, মেয়ে দুটির কি হবে। ওদের কিছুই জানানো হবে না। কিন্তু তারা আবার চলে গেলে সন্দেহ বেড়ে যাবে।

    সেটাই তো স্বাভাবিক। সম্মতির সুরে জিমি বলল। আরও বলল, সে একটা সমাধানের রাস্তাও ঠিক করে রেখেছে। তাদের কাজের মধ্যে ব্যস্ত রেখে দ্বিতীয় অভিযানটা অনায়াসে করে দিতে পারবে।

    প্যাট এসে বসল বসার ঘরে। প্যাটকে দেখেই জিমি পাকা ছেলের মতো আবদার করে বলল–ভীষণ খিদে পেয়েছে। তাদের খাবারের কোন ব্যবস্থা হবে না?

    নিশ্চয়ই বলে মৃদু হেসে প্যাট জিজ্ঞাসা করলো, সে তো ওমলেট খেতে খুব পছন্দ করে। চলবে নাকি?

    চমৎকার হয় তাহলে। লাফিয়ে উঠলো জিমি। তার কারণ মেয়ে দুটিকে কাজে ব্যস্ত রেখে তাদের কাজ হাসিল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে গেছে ভেবে। প্যাটের কথায় সম্মতি জানিয়ে বলল-তা হোক।

    ভেনোডেন তার কথায় সায় দিয়ে বলল–ওমলেট আর পাউরুটি দারুণ জুটি। জিমির মতো তারই একই চিন্তা মেয়েদুটিকে ব্যস্ত রাখা।

    প্যাট আর দাঁড়ল না। এ্যাপ্রোন পরে কিচেনের দিকে রওনা হলো। মেলড্রেডও তাকে অনুসরণ করল।

    অপসৃয়মাণ দুটি যুবতীর দিকে তাকিয়ে জিমি উঠে দাঁড়াল। বলল, চলো বন্ধু, তাদের দ্বিতীয় অভিযানে এবার নেমে পড়া। যাক, মেয়েদুটি কাজে ব্যস্ত থাকবে অনেকক্ষণ। এই সুযোগেই তারা কাজ সেরে ফিরে আসবে।

    তারপরে কোন কথা নয়। শুরু কাজ। আগের পথেই তাদের যাওয়া উচিত। বলতে বাধা নেই, গত বারের ভুল এবার হবার সম্ভাবনা নেই। অস্থির মন নিয়ে লিফটে চড়ে বসল। এক সময়ে তারা থার্ড ফ্লোরে এসে পৌঁছাল।

    আগের মতোই মিসেস গ্রান্টের কিচেনের দিকে এগিয়ে গেল তারা। খুব একটা অসুবিধায় পড়তে হয়নি তাদের। কিচেনের মধ্যে গিয়ে ঘরে প্রবেশ করলো তারা। আলোর সুইচটা টিপতেই আলোর বন্যা বয়ে গেল।

    ঘরের ভেতরটা কেমন যেন ওলোট পালোট হয়ে গেছে। বিশৃঙ্খলার ভাব রয়েছে কিচেনে। প্রতিটি ইট, কাঠ এবং চেয়ার টেবিলে। সম্ভাব্য রক্তের উৎস কোথায়, খুঁজতে লাগল তারা।

    হঠাৎ ভয়ঙ্কর উত্তেজিত হয়ে উঠল তারা। কাঁপছিল থর থর করে। মুখ দিয়ে কথা সরছিল না। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল সামনের দিকে। ভয়ার্ত চোখ। সেই ভয়ের উৎস খুজতে ফ্যাল ফ্যালজত হয়ে উঠল সম্ভাব্য রক্তের

    চকিতে তার আঙুল বরাবর তাকালো ভেনোডেন। জিমির ক্ষেত্রে অপর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া। কিচেন লাগোয়া ভারী পর্দার নীচে একটি মহিলার পা। পায়ে এক ধরনের বিশেষ চামড়ার জুতো।

    দ্রুত পর্দা সরিয়ে দেখতে পেল এক মহিলার মৃতদেহ মেঝের উপর বিশৃঙ্খলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অন্ধকারে বুঝতে অসুবিধা হলো না যে তার শরীরে প্রাণের স্পন্দন নেই। তাকে হাত বাড়িয়ে তুলবার উপক্রম করতেই ভেনোডেন চিৎকার করে বাধা দিয়ে উঠল–পুলিশ না আসা পর্যন্ত স্পর্শ করা অনুচিত।

    কথাটা জিমির একেবারেই মনে ছিল না। মৃত্যু যে এত ভয়ঙ্কর তার জানা ছিল না। তার যেন বোধ শক্তি হারিয়ে গিয়ে সব ওলোট পালোট হয়ে যাচ্ছে। উনিই বোধ হয় মিসেস আনেস্টিন গ্রান্ট মনে হয়।

    ভদ্রমহিলার মুখের দিকে তাকিয়ে আন্দাজে অনুমান করল; সেই রকমই মনে হচ্ছে। ফ্ল্যাটে অন্য লোকের কোন সাড়া শব্দ নেই। তারা নিশ্চয়ই হাসিখুশীতেই মজে রয়েছে।

    সারা ফ্ল্যাটটা নীরব চাদরে যেন ঢাকা। তারা যে অন্যায় ভাবে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেছে তার প্রতিবাদ করার মতো কেউ নেই। এটাই আশ্চর্যের ব্যপার।

    ভেনোডেনের মাথায় অন্য চিন্তা। তারা কি ভুতুড়ে। ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়েছে? ভদ্রমহিলার জ্ঞান ছিল। রক্ত মাংসের মানবী ছিলেন কিনা? এমনও তো হতে পারে তারা বলে গেল মৃতদেহটি উধাও হতে পারে। আততায়ী তারা এসে পড়ায় মৃতদেহ সরাতে পারেনি। এই ফ্ল্যাটেরই অন্য কোথাও গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে।

    এরপর তারা কি করবে। তাদের করণীয় কি? জিমি জিজ্ঞাসা করল। এখান থেকে ছুটে পালাবে, না, প্যাটের ফ্ল্যাটে গিয়ে পুলিশকে ফোন করবে নাকি রাস্তায় পেট্রোল ম্যানকে ডেকে আনবে? আবার ভালো পেট্রোল ম্যানের পিছনে অযথা ছোটাছুটি না করে প্যাটের ফ্ল্যাটে গিয়ে ফোন করাই উচিত। তাতে সংবাদদাতার নাম উদ্ধার করা যাবে। এরপর দ্রুত পুলিশী ব্যবস্থাও হবে। যাতে আততায়ী মৃতদেহ সরিয়ে ফেলতে না পারে। এবার তবে যাওয়া যাক।

    ফিরে যাবার জন্য প্রস্তুত হতেই কিচেনের পথে পা বাড়াল আর সঙ্গে সঙ্গে বাধা পেল ভেনোডেনের কাছ থেকে।

    ও পথে নয় বন্ধু। তারা এখন মিসেস গ্রান্টের সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে চায় চোরের মতো পিছন দরজা দিয়ে যায়, বুক ফুলিয়ে সামনের দরজা দিয়ে না গিয়ে। আর রাতের চোরেরা লিফট ব্যবহার করবে না।

    বেরোতে যাবার উপক্রম করতেই হঠাৎ দরজার সানে দাঁড়িয়ে পড়ে ইতস্ততঃ করল সে।– কি হলো জিমি আবার দাঁড়ালে কেন? প্রশ্ন করলো ভেনোড়েন।

    ভেনোডেনের প্রশ্নে জিমি বললো, তাদের এই ভাবে এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত হবে না। পুলিশ না আসা পর্যন্ত একজন এখানে থেকে সবকিছু না হয় করা উচিত।

    ভেনোডেন বলল–কথাটা নেহাতই মন্দ বলো নি। মনে মনে তার প্রশংসার তারিফ করলো। ভেনোডডেন বলল, সে ঠিকই বলেছে, জিমিকে সেখানে রেখে ভেনোডেন প্যাটের ফ্ল্যাটে গিয়ে পুলিশ স্টেশনে ফোন করে আসবে। সে যাবে আর আসবে। বলে যেতে গিয়ে থমকে দাঁড়াল ভেনোডেন। ভাবল ফ্ল্যাটে একজন মহিলার মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। সেটা আগলে রাখতে হয়তো জিমির ভয় হতে পারে।

    উত্তেজিত হয়ে জিমি বলল, মরা মানুষকে তার কোন ভয় করে না। জীবন্ত মানুষ যে কোন মুহূর্তে হিংস্র হয়ে উঠতে পারে। এমনকি মানুষ খুনও করতে পারে। ঘাতক কোন কিছু শিকারের বাছবিচার করে না। কখনই চিন্তা করে না, তার সঙ্গে শিকারের সব মানুষের মধ্যে একটা পশুশক্তি আছে। নিষ্ঠুর দানব লুকিয়ে থাকে। তারাই হয়ে ওঠে বশে দানব নিষ্ঠুর ঘাতক। বন্ধু, সে নিশ্চিন্তে থাকতে পারে। মৃতদেহটি তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। দেরী না করে তাড়াতড়ি কাজ সেরে আসুক।

    এক মুহূর্ত দাঁড়াল না ভেনোডেন। দুটি সিঁড়ি এক ধাপ এক সঙ্গে লাফিয়ে উঠে এল সে, ফোর্থ ফ্লোরে প্যাটের ফ্ল্যাটের সামনে। তেমনি দ্রুত হাতে টিপল বেল জোরে জোরে। এরকম ঘন বেল সে আগে কখনও টেপেনি। প্যাট বিস্মিত। তাড়াতাড়ি কিচেনে থেকে প্যাট দরজা খোলার জন্য বেরিয়ে এলো। দরজা খুলতেই ভেনোডেনকে এত উত্তেজিত অবস্থায় দেখে প্যাটের সুন্দর মুখে একটা কালো ছায়া নেমে এল। তার সমস্ত রূপ নিমেষে বুঝি উধাও হয়ে যায়। প্যাট তার নোংরা হাত মুখে নিয়ে মুখে নিয়ে গালে গাল রাখে। তার মুখটা তখন ফ্যাকাসে হয়ে উঠেছে। রক্ত। কে যেন চোপার দিয়ে বুঝি বা শুষে নিয়েছে। বিস্ময়ে তার চোখ দুটি বিস্ফারিত।

    ভেনোডেন একা একা ফিরে এলো। জিমি কোথায়? সেই মুহূর্তে তাকে রহস্যময় পুরুষ বলে মনে হয়। এমন সিরিয়াস প্যাটকে আগে দেখেনি।

    অধৈর্য হয়ে প্যাট জিজ্ঞাসা করল–চুপ করে আছে কেন সে? কোন বিপদ ঘটেছে কি? প্যাটের হাত দুটো নিজের হাতে নিয়ে ভেনোডেন বলল, না না, জিমির কোন বিপদ হয় নি। ওপরের ফ্ল্যাটে নেহাতই আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে গেছে।

    আমরা মানে! জিমিও কি তার সঙ্গে ছিল।

    হ্যাঁ, ছিল বসে, সায় দিল ভেনোডেন।

    তারা কি আবিষ্কার করল?

    উত্তরে বলল–এক মৃত মহিলা। শুনে চমকে উঠল। প্যাট হাঁপাতে হাঁপাতে বললো, কি ভয়ঙ্কর। তিনি অজ্ঞান হয়ে যাননি তো?

    না, তার প্রাণহীন দেহটা দেখে কেন জানি না তাদের মনে হয়েছে মৃত্যুটা স্বাভাবিক নয়।

    স্বাভাবিক নয়। প্যাটের চোখ আরো বিস্ফারিত হলো। তবে কি তিনি আত্মহত্যা করেছেন? না, সেটাও নয়।

    তাকে হত্যা করা হয়েছে নিষ্ঠুর ভাবে। ভেনোডেনকে বলল, এ কি বলছে সে। ভয়ার্ত চোখে তাকায় প্যাট। ভয়ে তার হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে।

    ভেনোডেন জানে ভয়ঙ্কর ঘটনার খবর সে সহ্য করতে পারবে না, এটা একটা জঘন্য নৃশংস ব্যাপার।

    প্যাটের হাতে ভেনোভোনর হাত। স্বেচ্ছায় প্যাট তার হাত দুটো তার হাতের মুঠোয় ধরে রেখেছিল। এমন কি ভয়ে হাত দুটি জড়িয়ে ধরেছিল তখন।

    পরক্ষেণই ভেনোডেনের চিন্তা ভাবনা জিমি ফকনারেকে ঘিরে ধরে। জিমির কথা তার মনে পড়ে যায়। সে এখন নীচের ফ্ল্যাটে। সে ঘরে অপেক্ষা করছে। এই বোধটা তাকে চিন্তিত করে তুলল। একজন মৃতদেহ আগলে বসে রয়েছে। আর সে এসে রোমান্স করছে বান্ধবীর সঙ্গে।

    বাস্তবে ফিরে এল ভেনোডেন। প্যাটের ধরা হাত ছাড়াবার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠল। বললো, প্রিয়তমা প্যাট, এখনি তাদের পুলিশে ফোন করা প্রয়োজন।

    তারা কথা বলছিল প্যাটের সামনে দাঁড়িয়ে। তোনোডেন তখন প্যাটের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেনি।

    প্যাটে তাকে পথ করে দিলো। প্যাটের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতে যাবে ঠিক সেই সময় অপরিচিত কণ্ঠস্বর শুনতে পেল। আগন্তক বলল–মঁসিয়ে ঠিকই বলেছেন মাদমোয়াজেল, তাকে পুলিশে খবর দিতে দিন। তারা যখন পুলিশের আগমনের জন্য অপেক্ষা করবেন সেই ফাঁকে তাদের তিনি সহযোগিতা করবেন।

    ফ্ল্যাটে প্রবেশ করার জন্য এগোতে গিয়ে সামনে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে তারা। তারা পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখল অজানা কণ্ঠস্বর কোথা থেকে আসছে, দেখার জন্য তখনি তাদের নজর পড়ল ফিফথ ফ্লোরের উপর সিঁড়ির প্রথম ধাপে একজন লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। এবার নীচে নেমে এলেন।

    প্ৰকাণ্ড পুরু গোঁফ। ডিম্বাকার মুখ। ছোটখাটো মাপের লোকটির দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো তারা। পরনে উজ্জ্বল ড্রেসিং গাউন। পায়ে এমব্রয়ডারি করা স্লিপার। অতি বিনীত ভাবে প্যট্রিসিয়ার দিকে মাথা নত করে বললেন যে মাদমোয়াজেল, তিনি উপরের ফ্ল্যাটের একজন ভাড়াটে। সিঁড়ি দিয়ে নামা উঠার সময় তাদের দেখা হয়েছে কিন্তু আলাপ করা সুযোগ ঘটেনি।

    তাকে থামিয়ে দিয়ে প্যাট বলে উঠল-আলাপ না হওয়াটা দুর্ভাগ্য হতে পারে কিন্তু সৌভাগ্যের কথাটা তাদের বোধগম্য হলো।

    ভদ্রলোক তার কলার জের টেনে বলেন। জিমি উঁচুতে উঠতে চান, অনেক উঁচুতে এবং তার লক্ষ্য সেখান থেকে লণ্ডনের বড় রাস্তা, পার্ক, হাসপাতাল, বিরাট বিরাট অ্যাপার্টমেন্টের প্রতিটি ফ্ল্যাটের মানুষের গতিবিধি লক্ষ্য করা যাবে। তার কথাটা অসমাপ্ত রেখেই নীরব হয়ে তাকিয়ে রইলেন ভেনোডেনের দিকে। অন্তর্ভেদী দৃষ্টি যেন। সেই দৃষ্টি দিয়ে জিমি যেন মনের খবর বার করে নেন।

    কে এই ভদ্রলোক নিজের মনে প্রশ্ন গিয়ে অজান্তে কখন নিজেকে গুটিয়ে ফেলেছিল। পুলিশকে ফোন করার কথাটা ভুলে গেল। তার অবচেতন মনটা খুবই সক্রিয় বুঝি বা একটু বেশী নাকি। তার পরিচয় না জানা গেলেও তার কথাবার্তা, চেহারা, ব্যক্তিত্ব যে ভাবে তাকে ভাবিয়ে তুলেছিল তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। ভদ্রলোকটি তবে পুলিশের লোক। ইনসপেকটার বা সুপারিটেনডেন্ট এই জাতীয় পদের ব্যক্তি। চিন্তায় ছেদ পড়ল আগন্তুকের কথায়।

    জানেন মাদমোয়াজেল, এই অ্যাপার্টমেন্টের তিনি একটা ফ্ল্যাট নিয়েছেন। মিঃ উ. কোনোর এর নামে। কিন্তু তিনি আইরিশ নন। তার জন্য একটা পরিচয় আছে এবং পেশা এই বলে দম্ভের সঙ্গে নিজের ড্রেসিং গাউন থেকে একটা কার্ড বের করে প্যাটের হাতে তুলে দিলেন।

    প্যাট সেটা পড়ে দেখল। এরকুল পোয়ারো। বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে উঠল, তিনিই মঁসিয়ে পোয়ারো। তার মানে বিখ্যাত গোয়েন্দা। তিনি তাদের সাহায্য করতে চান। তাদের কি সৌভাগ্য তার মতো লোক তারা পেয়েছে।

    সেটাই তার একান্ত ইচ্ছে মাদমোয়াজেল। ভাবাবেগে গদগদ হয়ে বলেন এরকুল পোয়ারো, শুনলে তারা আশ্চর্য হবেন আজ সন্ধ্যায় তিনি প্রায় যেচেই তাদের সাহায্য করতে যাচ্ছিলেন।

    আজ সন্ধ্যায় সাহায্য করার কথা শুনে প্যাট বলল–সেটা কি ধরনের?

    আপনার ফ্ল্যাটে তারা কি করে প্রবেশ করবেন তা নিয়ে আলোচনা করতে শুনেছেন? যে কোন ভাবে যে যতই শক্তিশালী হোক না কেন খুলতে তিনি ওস্তাদ। নিঃসন্দেহে তাদের জন্য তিনি তালা খুলে দিতে পারতেন। কিন্তু একটা কথা ভেবে তিনি একটু ইতস্ততঃ করেন এবং পিছিয়ে আসেন।

    কেন তিনি পিছিয়ে এলেন?

    তা করলে তার ওপর তাদের সন্দেহ মতো।

    একথা শুনে শব্দ করে হেসে প্যাট বলল–একেবারে বিখ্যাত গোয়েন্দা থেকে কুখ্যাত চোর।

    ঠিক সেই ভয়েই তার ইচ্ছের হাতটা গুটিয়ে ফেলেন।

    তবে আশঙ্কা অমূলক মঁসিয়ে পোয়ারো, গম্ভীর মুখে বলল প্যাট। বয়লার যেমন হয় বুঝতে পারিনা ঠিক তেমনি আবার প্রয়োজন চোরের কাজ করলেও গোয়েন্দাকে চিনতে ভুল হয় না। বিশেষ করে তিনি যখন গোয়েন্দা।

    তার সুন্দর কমপ্লিমেন্টের জন্য ধন্যবাদ মাদামোয়াজেল। এর পর ভেনোডেনের দিকে ফিরে বললেন, মঁসিয়ে, তিনি এখন ভেতরে যেতে পারেন। তার একান্ত অনুরোধ। ভিতরে গিয়ে পুলিশকে ফোন করুন। তিনি নিজের ফ্ল্যাটে চলে যাচ্ছেন।

    চলে যেতে থমকে দাঁড়ালেন পোয়ারো। ভেনোডেনের যাবার পথের দিকে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। বেচারা বলে নিজের মনে বিড়বিড় করলেন।

    নীচু স্বরে কথাটা বললেও প্যাট ঠিক শুনতে পেয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল, তিনি ভোনোডনকে বেচারা বললেন কেন?

    এখন ভেনোডেনের উপর দিয়ে যে ঝড় না বয়ে যাবে তা বুঝেছেন তিনি। উত্তরে পোয়ারো বললেন, এই রকম লোককে বেচারা বলবেন না, পোয়ারো কেমন যেন রহস্যময় ভাবে কথাটা বলেন।

    প্যাট তাকে বলল, শুরুতেই তিনি বলেছিলেন তাঁর সঙ্গে আলাপ হওয়াটা দুর্ভাগ্য, তারই সৌভাগ্য নয়। তার না, প্যাটদের সকলের।

    পোয়ারো বিনীত কণ্ঠে বলেন, আপনাদের মাদমোয়াজেল। বিস্মিত হয়ে প্যাট জিজ্ঞাসা করে, আমাদের? রাগভরা কণ্ঠে প্যাট বলল, কথায় আছে বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা আর পুলিশে ছুঁলে একুশ ঘা আর তাদের সঙ্গে গোয়েন্দা চুলে হাজার রকমের ঝক্কি। এই বলে শব্দ করে হাসলেন তিনি।

    প্যাটও তার সঙ্গে তালে তাল দিয়ে হাসলো। কিন্তু হঠাৎ চুপ করে গেলো সে। গোয়েন্দাকে ছুঁলে হাজার রকম ঝামেলা মনে মনে ভাবল, একথা কেন তিনি বললেন, দারুণ চিন্তায় পড়ল প্যাট। তবে কি মঁসিয়ে পোয়ারো তাদের মধ্যে সন্দেহজনক কিছু পেয়েছে। মিসেস গ্রান্টের খুনী হিসেবে তাদের মধ্যে কাউকে সন্দেহ করেন? হঠাৎ মনে হলো এসব তার বোঝার ভুল। কেন তিনি তাদের সন্দেহ করতে যাবেন। নীচের ফ্ল্যাটের মিসেস গ্রান্ট আর যে হোক না কেন তাদের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। তার পরস্পর পরস্পরের কাছে অচেনা অজানা। তার মৃতদেহ আবিষ্কারের ঘটনাটা দুর্ঘটনা মাত্র। তার জন্য জিমি বা ভেনোডেনকে খুনী সন্দেহ করা আইনের দিকে থেকে ঘোরতর অপরাধ।

    .

    ০৩.

    সিঁড়ি বেয়ে পোয়ারোর সঙ্গে নিয়ে থার্ড ফ্লোরে নেমে এলো প্যাট। জিমিকে মিসেস আর্নেস্টিন গ্রান্টের ফ্ল্যাটের সামনে অপেক্ষমান দেখল। জিমির সঙ্গে পোয়ারোকে আলাপ করিয়ে দিল প্যাট এবং তার উপস্থিতির কারণও ব্যাখ্যা করল।

    ধন্যবাদ মঁসিয়ে পোয়ারো। জিমি তার অনেক শক্তির কথা শুনেছে। তার বিশ্বাস তার সাহায্য এই খুনের ব্যাপারে অনেক সাহায্য করবে পুলিশকে।

    জিমির দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে পোয়ারো বলেন, আর আপনার জন্য।

    সেই অন্তর্ভেদী দৃষ্টি দেখে একটু ঘাবড়ে গেলে জিমি। বিখ্যাত গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারো কি তাদের কোন ভাবে ধরে নিয়েছে যে তারা মিসেস গ্রান্টের খুনের সঙ্গে জড়িত। আর সেই জন্য তারা সকলে শরণাপন্ন হয়েছে? যদি তিনি এই কথা ভেবে থাকেন তবে তিনি বিরাট ভুল করবেন। তারা তার সাহায্যপ্রার্থী নয়। উপরন্তু তার সঙ্গে আলাপ পর্বটা যে ভাবে প্যাট বলল তাতে মনে হয় তিনিই উপযাচক হয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে একথাও ভাবায় গোয়েন্দা তো করো সঙ্গে যেচে আলাপ করেন না। তাই যদি কারো কারো সঙ্গে যেচে পড়ে আলাপ করেন তাহলে ধরে নিতে হবে নিশ্চয়ই কোন সন্দেহের কারণ আছে। কিন্তু ভয়ঙ্কর ব্যাপার, কথাটা যদি সত্যি হয় তবে গোলমেলে ব্যাপার। এবং সেটা নিয়ে যথেষ্ট মাথা ঘামাতে হবে। মনে মনে জিমি ভাবলো, মঁসিয়ে পোয়ারোর মনে হয়তো তাদের সম্পর্কে সন্দেহ করার মতো কোন কারণ নেই। আবার পুলিশ রীতি অনুযায়ী এ কেসে হয়তো প্রত্যেককে সন্দেহ করাটা রুটিনমাফিক কাজ মাত্র। যদি তাই হয় তবে চিন্তার কোন কারণ নেই। হাঁফ ছেড়ে বাঁচল মনে করেও ভেতরে ভেতরে একটা জড়তা গেল না।

    ভয়ে ভয়ে জিমি জিজ্ঞাসা করল, আমাদের কেন সাহায্য করতে চান আপনি?

    উত্তরে পোয়ারো বলেন, না, তাদের সাহায্য করার কোন কারণ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না।

    পরেও প্রয়োজন থাকতে পারে?

    মৃদু হেসে পোয়ারো উত্তর দিলেন–ঠিক আছে তখন না হয় ডাকবেন। মাদমোয়াজেল তাকে তাদের অভিযানের কথা বলেছেন।

    প্যাটের দিকে দ্রুত তাকিয়ে পোয়ারো আবার বলেন, মনে হয় তার মুখ থেকে শুনলে আরো ভালো করে বুঝতে পারবেন ঘটনাটা। সংক্ষেপে তাকে বলতে বলেন।

    জিমি তার ও ভেনোডেনের অভিযানের বর্ণনা দিল সংক্ষেপে গোয়েন্দা পোরারোকে। অত্যন্ত গভীর মনোযোগের সঙ্গে তিনি সব কথা শুনলেন। এত গভীর মনঃসংযোগ ছিল যে নিঃশ্বাস নিতে তিনি ভুলে গেছিলেন। শোনার শেষে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন তিনি। সেটা তার অভ্যাস। সমস্ত ঘটনার আনুমাণিক বর্ণনা শুনে তিনি তার মানের প্রতিক্রিয়া প্রকাশের জন্য দীর্ঘশ্বাস ফেলে বোঝাতে চাইছেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন, খুনের আসল কারণ কি?

    হঠাৎ জিমির ভয় করতে লাগল। সে জানে পোয়ারোর খ্যাতি প্রশ্নাতীত। তিনি যাকে সন্দেহ করবেন প্রশ্নবাণে তাকে জর্জরিত করে তার মুখ দিয়ে অপরাধ স্বীকার করিয়ে নেবেনই। নিজের জন্য সে চিন্তা করে না। করছে পরিচিত লোকজনদের জন্য। তার বন্ধুবান্ধবদের প্রতি তার অটুট বিশ্বাস, তাদের মধ্যে কেউ মিসেস আনেস্টিন গ্রান্টকে খুন করতে পারে না, এই বিশ্বাস তার আছে। সেই মতো কোন কোন ত্রুটি না রেখে বোঝাবার চেষ্টা করলো। সে অস্থির ভাবে পায়চারী করা ছাড়া বিকল্প পথ তার সামনে নেই। আর নিজেকে প্রস্তুত করল পোয়ারোর মুখোমুখি হবার জন্য।

    মিঃ জিমি, পোয়ারোর ডাকে সম্বিৎ ফিরে পেলো জিমি। পোয়ারো জিজ্ঞেস করল, লিফটের দরজা খোলা ছিল তিনিই তো বলেছেন। আর এও বলেছেন যে, ভুলবশতঃ দুজনেই মিসেস গ্রান্টের কিচেনে ঢুকে পড়েছিলেন। কিন্তু আলো জ্বালবার চেষ্টা করলে সুইচগুলি কার্যকরী ছিল না। এবং ভদ্রমহিলার ফ্ল্যাট অন্ধকারে ডুবে যায়। একথাও কি ঠিক।

    তাই তো জিমি দেখেছিল। তিনি নিজে দেখেছিলেন নাকি অন্য কেউ তাকে দেখিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের অর্থ হলো। অন্যের মুখে ঝাল খেয়ে বা অপরের চোখ দিয়ে নিজের চোখকে দেখানো। নিজের চোখে বা অপরের চোখ দিয়ে দেখার মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ, তাই না? প্রশ্ন করেন পোয়ারো।

    তার কথায় মাথা নেড়ে সায় দেয় জিমি। আর মনে মনে ভাবে পোয়ারো সংখ্যায় অর্ধেকে দাঁড়াবে? ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে মিসেস আনেস্টিনের কিচেনের সুইচ না টিপে ভেনোডেনের কথাটাকেই শিরোধার্য করাটা খুবই ভুল হয়ে গেছে। ভেনোডেন কথাটা মিসেস আর্নেস্টিন গ্রান্টের ফ্ল্যাটের বালবগুলি ফিউজ বলে মন্তব্য করা, এই ঘটনার পরিবেশ, এই ঘটনার বিশ্লেষণ। তাকে এই ভুলের মাসুল কি ভাবে দিতে হবে কে জানে?

    জিমি যখন আত্মবিশ্লেষণে মগ্ন তখন পোয়ারো গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করার পরেই মিসেস গ্রান্টের ফ্ল্যাটে পদার্পণ করলো। কিচেনে ঢুকেই তার প্রথম কাজ হলো সুইচগুলো জ্বালানোর চেষ্টা করা। বোর্ডে আঙুল রাখতেই কিচেনে আলোর বন্যা বয়ে গেল।

    জিমিকে উদ্দেশ্য করে পোয়ারো বললেন, তিনি বলেছিলেন না, আপনি অন্যের চোখে দেখেছিলেন কিচেনের আলো জ্বলছে না।

    জিমি নিজের চোখেই দেখল যে সুইচ আর বালবগুলি কতটা কার্যকর। কিন্তু তার অনুমান কি, জিজ্ঞাসা করতেই পোয়ারো বলল, জিমি সত্যি কথা বলেনি, তার বন্ধু ভেনোডেনের সঙ্গে দুবার এসে নিজের চোখেই দেখেছিলেন ঘরটা কেমন আলোয় ভরে গেল।

    প্রতিবাদ করে জিমি বলল, তার মানে তিনি তাকে সন্দেহ করছেন?

    প্রত্যেককে সন্দেহ করা তাদের রীতি। তার যে পেশা তাতে কাউকেই সন্দেহ না করে উপায় নেই। এমন কি প্যাট্রিসিয়া তার মতো ভাড়াটিয়া হলেও তার গতিবিধি জানা থাকলেও তাকে সন্দেহ করতে হয়। এবার প্যান্টের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কোন ভুল করেছেন?

    আমাকে আপনি? বলে বিস্ময় প্রকাশ করল প্যাট।

    উত্তরে পোয়ারো বলেন, সেই রকম কোন কারণ এখনও ঘটেনি। তবে আগে তাকে বলে দিলেন, গোয়েন্দা পুলিশের চোখে সবাই অপরাধী। আবার এখন থেকে সবার রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারেন। মাদমোয়াজেল, আপনার। মিঃ জিমি আপনার। আপনাদের বন্ধু মিঃ ভেনোডেন বেইলি, এমন কি মাদমোয়াজেল লিড্রেডের।

    ঘরে নেমে আসে জমাট নীরবতা। সেই জমাট নীরবতা ভঙ্গ করে একটা নাক ডাকার আওয়াজ কানে এল।

    আর অস্ফুট স্বরে বললেন পোয়ারো, এতক্ষণে একটা পরিবেশ পাওয়া গেল।

    কিচেন পেরিয়ে একটা ছোট প্যাস্ট্রির সামনে হাজির হলেন পোয়ারো। ছোট্ট একটা দরজা। দরজা খুলে সুইচ টিপে দেখে একটা কুকুর থাকার বাসস্থান হিসেবে তৈরী করেছে ফ্ল্যাট মালিক। মেঝের মস্ত জায়গা জুড়ে রয়েছে একটা খাট। বিছানায় শুয়ে রয়েছে সুন্দর চিবুকের একটি মেয়ে। মুখটা পিছন দিকে ফেরানো। মুখটা ভোলা। শান্ত ভাবে নাক ডাকছে সে।

    ঘরের আলো নিবিয়ে দিয়ে বেরিয়ে এলেন পোয়ারো। অন্যরা তাকে অনুসরণ করল।

    বললেন, পুলিশ না আসা পর্যন্ত তাকে জাগানো হবে না।

    এরপর তিনি বসার ঘরে চলে গেলেন। তাদের সঙ্গে ভেনোডেনের দেখা হলো।

    পুলিশ এখুনি এসে পড়বে। তারা যেন কেউ কিছু স্পর্শ না করে।

    তারা কিছুই স্পর্শ করবে না। মাথা নেড়ে সায় দেন পোয়ারো। নেতিবাচক উত্তর দিলেন পোয়ারো–তারা কেউই স্পর্শ করবে না। শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ করবে। এরপর ঘরের চারদিকে দেখতে থাকেন তিনি।

    মিলড্রেড ভেনোডেনের সঙ্গে এসে উপস্থিত হলো। চারজন যুবক যুবতী গভীর আগ্রহ সহকারে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করল। মুখে তাদের কোন শব্দ নেই। আচমকা মনে হলো তারা যেন পোয়ারোর কর্মপদ্ধতিতে সম্মোহিত হয়ে গেছে। তার কাজের প্রতিবাদ বা আপত্তি জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।

    পোয়ায়োর মন্তব্যটা আমাদের কাছে সবাই অপরাধী আবার সবাই নির্দোষ হতে পারেন। এই জাতীয় উক্তিগুলো তাদের রাতের ঘুম কেড়ে নেবার পক্ষে যথেষ্ট। প্রত্যেকে দুশ্চিন্তামুক্ত হবার পথ খুঁজতে লাগল।

    একটা ব্যাপার ভেনোডেনের মগজে কিছুতেই ঢুকছে না, যেখানে মৃতদেহটা পড়ে রয়েছে সেটার ধারেকাছে পর্যন্ত যায়নি। তবুও কি করে তার হাতে রক্ত লাগল? সপ্রশ্ন গলায় বলল তোনোডেন।

    প্রিয় তরুণ বন্ধু, আয়নায় সামনে গিয়ে দাঁড়ালেও তিনি দেখতে পাবেন এর উত্তরটা রয়েছে তার মুখে। বিস্ময়াবিষ্ট চোখে তিনি যেটার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সেটার কি রং।

    তির্যক ভাবে প্রশ্ন করেন পোয়ারো, কিন্তু একটা ব্যাপারে তিনি জোর দিয়ে বলতে পারেন ভদ্রমহিলা খুন হবার আগে তার রং আর যাই থাকুক না কেন লাল ছিল না। আর নিঃসন্দেহে বলতে পারেন টেবিলটার উপর হাত রেখেছিলেন। ভালো ভাবে খেয়াল করে দেখুন তো?

    হ্যাঁ, তিনি তাই করেছিলেন। উত্তরটা যেন তার জানাই ছিল। এমন ভাবে উত্তর দিল সে।

    মাথা নেড়ে পোয়ারো বলল, আর তিনি টেবিলের ওপর ঝুঁকে পড়ে এবং তার উপর গভীর লাল দাগ টেনে দিয়েছিলেন।

    এটাই তার অপরাধের চিহ্নিত হয়। দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বলেন–পরে মৃতদেহটা সরিয়ে ফেলা হয়।

    তারপর উঠে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে ঘরের চারদিকে নজর বুলোত লাগলেন। একপাও নড়ল না তা সত্ত্বেও তাদের চারজনের ধারণা তার তীব্র দৃষ্টির সামনে অদেখা কিছুই রইল না।

    এরকুল পোয়ারোর হাবভাবে বোঝা গেল তাদের অনুমান মিথ্যে নয়। তৃপ্তির সঙ্গে মাথা নাড়ার সঙ্গে একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাসও তিনি ফেললেন। আমি দেখতে পাচ্ছি বলে হঠাৎ হেসে ফেললেন।

    কৌতূহল চাপতে না পেরে ভেনোডেন বলল, কি দেখতে পেলেন তিনি?

    পোয়ারো কথার জের টেনে বলল, আপনারা যা নিঃসন্দেহে অনুভব করেছেন ঘরটা ফার্নিচারে ঠাসা।

    দুঃখের মধ্যেও হাসলো ভেনোডেন। এ বিষয়ে তর্কের খাতিরে একটা দর কষাকষি করেছিল। প্রথমে আসতে রাজী হয়নি স্বীকার করলে সে। প্যাটের ঘরের তুলনায় এই ঘরের সব কিছুই আলদা। কিন্তু প্রথমে অসুবিধা হলেও এখন বোঝা যাচ্ছে সব কিছুই ছিল।

    না সব কিছুই নয়, বাধা দিয়ে উঠলেন।

    প্রশ্নভরা চোখে তাকালো ভেনোডেন।

    কৈফিয়ত দেবার ভঙ্গীতে পোয়ারো বলেন, কিন্তু কিছু জিনিস সবসময় নির্দিষ্ট থাকে। যেমন, দরজা, জানালা, ফায়ার প্লেস, এখানে যা রয়েছে নীচের ফ্ল্যাটেও তাই থাকবে।

    মিলড্রেড বলল, সেটা কি একেবারে চুলচেরা হিসাব হয়ে গেল না।

    হ্যাঁ, কেন স্থির পরিসংখ্যান দিতে গেলে সঠিক তথ্য দেওয়া উচিত। তারই একটা ছোট্ট উদাহরণ। এরপরেও কি বলা যায় সেটা নিছক খ্যাপামী।

    মিলড্রেড কি বলতে গিয়ে থেমে যায়। চুপ করে কান খাড়া করে রইল সবাই।

    সিঁড়িতে বেশ কয়েক জোড়া পায়ের শব্দ শোনা গেল। একটু পরেই তিনজন নোক ঘরে এসে উপস্থিত হলো। তাদের মধ্যে একজন পুলিশ ইনসপেক্টর, একজন কনস্টেবল, একজন ডিভিসনাল সার্জেন।

    পুলিশ ইনসপেক্টর পোয়ারোকে চিনতে পারলেন। এগিয়ে এসে সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানালেন। তিনি অন্য সাথীদের দিকে এক এক করে তাকালেন।

    ইনসপেক্টরের সঙ্গে সবার পরিচয় করিয়ে দিলেন পোয়ারো। পরিচয় পর্ব শেষ হবার পর সবার দিকে ফিরে তাকালেন ইনসপেক্টর। বললেন, আপনাদের সবার জবানবন্দী তিনি নিতে চান।

    তার কথায় বাধা দিয়ে পোয়ারো বলেন, তার একটা ছোট আর্জি ছিল।

    বেশ তো বলুন বলে সম্মতি জানালেন পোয়ারো।

    তাঁর এখানকার জবানবন্দী নেওয়া শেষ হলে তারা ফিরে যাবেন ফোর্থ ফ্লোরে মিসেস প্যাট্রসিয়ার ফ্ল্যাটে। প্যাটের দিকে তাকিয়ে ইনসপেক্টর বলেন, এই ভদ্রমহিলাকে দেখা যাচ্ছে যিনি একটু আগে ব্যস্ত ছিলেন তাকে তিনি অনুরোধ করেছেন প্রত্যেকের জন্য একটা করে ওমলেট তৈরী করতে। পোয়র বলেন, তিনি ওমলেটের খুব ভক্ত। তাই মঁসিয়ে ইনসপেক্টর তার এখানকার কাজ শেষ হলে তিনি বরং ওপরের তলায় গিয়ে যাকে যা প্রশ্ন করার করবেন।

    পুলিশ ইনসপেক্টর পোয়ারোর প্রস্তাবে সম্মতি জানালেন।

    মিঃ এরকুল পোয়ারো চারজন যুবক যুবতীকে নিয়ে ফিরে গেলেন প্যাটের ফ্ল্যাটে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }