Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2485 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দি প্রসিকিউশন

    দি প্রসিকিউশন (এরকুল পোয়ারো সিরিজ) – আগাথা ক্রিস্টি

    ০১.

    বিখ্যাত প্রাইভেট ডিটেকটিভ মঁসিয়ে এরকুল পোয়ারো মেহগনি ডেস্কের পিছনে যে মানুষটি উপবিষ্ট রয়েছেন তার দিকে চিন্তিতভাবে তাকালেন। নজরে পড়লো একজোড়া ভুরু, নিচতা মেশানো মুখ। ভীতুর ডেলা, চোয়াল আর তীক্ষ্ণ কল্পনাপ্রবণ চোখদুটি। লোকটিকে দেখেই একনজরে তার মনে হলো এথেরি পাওয়ার কেন এত বিরাট অর্থনৈতিক ব্যক্তিত্ব হতে পারলো।

    ডেস্কের ওপর ছড়িয়ে পড়া নিখুঁত কৃশ হাত দুটো দেখেই অনুমান করতে পারলেন নামী সংগ্রহকারী হিসেবে তার এত খ্যাতির কারণ কোথায়। অতলান্তিকের চারিদিকেই তিনি ধনী হিসেবে বিশেষ পরিচিত।

    শান্ত ধীর কণ্ঠে এথেরি পাওয়ার কথা বলছিলেন। মিঃ পোয়ারো বর্তমানে বেশি মামলার দায়িত্ব গ্রহণ করছেন না তা তার জ্ঞাত। কিন্তু সব কিছু শুনলে তিনি বোধহয় ঐ কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

    জিজ্ঞাসা ভঙ্গিতে বসে রইলেন পোয়ারো। মাথাটা একপাশে হেলানো কিছুটা। চিন্তামগ্ন হয়ে রইলেন।

    মিঃ পাওয়ার বললেন, ঘটনাটি একটি শিল্পকর্ম উদ্ধারের। বস্তুটা হলো স্বর্ণখচিত একটা পাত্র যেটা নির্মিত প্রায় রেনেসাঁর আমলে। কথিত আছে, এটি পোপ আলেকজাণ্ডার ব্যবহার করতেন। কোনো বিশেষ অতিথিকে কদাচিৎ পানপাত্র থেকে পান করতে দিতেন। মঁসিয়ে, যারা পান করতে তার মৃত্যুবরণ করতেন।

    চমকপ্রদ ঐতিহাসিক কাহিনী বটে, অস্ফুট স্বরে পোয়ারো বলেন।

    এই পানপাত্রের সঙ্গে হিংসার একটা অদৃশ্য বন্ধন আছে। বেশ কয়েকবার সেটা চুরি যায়। এবং দখলের জন্য রক্তপাতও ঘটে গেছে।

    পোয়ারো প্রশ্ন করেন, সেটা তার বৈশিষ্ট্যের জন্য নাকি অন্য কারণে।

    এর গঠনের কাজ অত্যন্ত চমৎকার। (কথিত আছে, এটি তৈরি করেন বেনেভূত মেলেনি) নক্সাটা হলো গাছের সঙ্গে জড়ানো এক রত্নখচিত সাপ। আপেলগুলি পান্নার তৈরি।

    পোয়ারোর কণ্ঠস্বরে আপাত আগ্রহের সুর বাজতে লাগলো-আপেল!

    পান্নাগুলি সত্যিই চমৎকার। সাপের দেহের আকৃতি চুনীগুলি বহু মূল্যবান। তা সত্ত্বেও এই পানপাত্রের আসল মূল্য হলো তার সাথে জড়ানো ঐতিহাসিক সম্পর্কে। ১৯২৯ সালে মার্সিভ দি ম্যান বেরাট্রিলা সেটি বিক্রির ব্যবস্থা করেন। অন্যান্য সংগ্রাহকদের সঙ্গে ডাকাডাকি করে শেষ পর্যন্ত তিনিই ত্রিশ হাজার পাউণ্ডে পাত্রটি লাভ করেন।

    পোয়ারোর ভুরু দুখানি একটু উপরে উঠলো। রাজা মহারাজাদের উপযুক্ত টাকাই বটে। মার্সিভ দি ম্যান বেরাট্রিলা ভাগ্যবান ব্যক্তি বলা যায়।

    এথেরি পাওয়ার জানালেন– কোনো জিনিস যদি তার লাভ করার ইচ্ছা থাকে তার জন্য তিনি যে কোন মূল্য দিতে প্রস্তুত।

    শান্তকণ্ঠেই পোয়ারো বললেন, সেই স্থানীয় প্রবাদ তিনি শুনে থাকবেন, যা তোমার প্রয়োজন গ্রহণ করো। এর জন্য মূল্য দাও ঈশ্বরের কাছে।

    ভ্রূকুটি করলেন এথেরি পাওয়ার। দুচোখে ক্রোধের রেখা দেখা গেল। বললেন, মনে হচ্ছে তিনি দার্শনিকদের মতো কথা বলতে চাইছেন।

    পোয়ারো মন্তব্য করলো, আমি পর্যালোচনার বয়েসেই পৌঁছে গেছি মঁসিয়ে।

    নিঃসন্দেহে, উত্তর দিলো মিঃ পাওয়ার, কিন্তু পর্যালোচনার মাধ্যমে তার পানপাত্র উদ্ধার হবে কি?

    মিঃ পাওয়ার বলেন, উদ্ধার করতে হলে চাই কিছু কর্মশক্তি।

    শান্তকণ্ঠে মাথা দোলালেন পোয়ারো–অনেকে ঠিক এই ধারণাই করে। তিনি বলেছেন এই পাত্রটি তিনি মার্সিভ দি ম্যান বেরাট্রিলার কাছ থেকে কিনেছেন।

    ঠিকই ধরেছেন তিনি। এখন তিনি যা বলতে চাইছেন সেটা হলো তার হাতে পড়ার আগে রত্নটি চুরি যায়। নিলামের দিন রাতেই মার্সিভের প্রাসাদে চুরি হয় আরও আট-দশটি বহু মূল্যবান জিনিস। তার মধ্যে ছিল পানপাত্রটি।

    তারপর? প্রশ্ন করেন পোয়ারো, উত্তরে এথেরি পাওয়ার বলেন, পুলিশরা ব্যাপারটা হাতে নেয়। এই ডাকাতিকে কুখ্যাত আন্তর্জাতিক দলের কাজ বলে মনে হয়। ঐ দলের দুইজন, জুবলে নামের এক ফরাসী আর কিক্সোভিডিক নামে একজন ইতালীয়। তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু কিছু চুরি হওয়া জিনিসও তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায়।

    কিন্তু পানপাত্রটি পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, তিনজন ডাকাত দলে ছিলো। দুজনের নাম আগেই বলা হয়েছে। তৃতীয় জন হলেন আইরিশ। নাম প্যাট্রিক ফেসী। শেষোক্ত ব্যক্তি বিড়ালের মতো একজন সাবধানী, সুদক্ষ ও চটপটে চোর। সব কিছু সেই চুরি করেছিলো বলে জানা যায়। জুবলে ছিলেন দলের মাথা। কিক্সোভিডিক গাড়ি চালায় এবং মাল নিচে নামাবার জন্য সে নিচে অপেক্ষা করে।

    আর চোরাই মালগুলি কি তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল? প্রশ্ন করেন পোয়ারো।

    সম্ভবতঃ, উত্তর দিলেন পাওয়ার।

    সেই তৃতীয় ব্যক্তিকে কি আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছিল?

    উত্তরে এথেরি পাওয়ার বলেন, তিনি যে অর্থে বোঝাতে চাইছেন সঠিক তা নয়। লোকটি বৃদ্ধ। শরীরের পেশীগুলি ছিলো শুষ্ক। সপ্তাহ দুই পরে একটি বাড়ির ছতলা থেকে পড়ে তিনি মারা যান।

    ব্যাপারটা কোথায় ঘটেছিল?

    প্যারিসে। সে সম্ভবতঃ ব্যাঙ্কার জুয়োলিয়ারোর প্রাসাদ লুঠ করার মতলব এঁটেছিল।

    তারপর থেকে পানপাত্রের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি না?

    ঠিক তাই। উত্তরে বলেন মিঃ পাওয়ার।

    তারপর সেটা বিক্রির ব্যবস্থা হয়নি? প্রশ্ন করেন পোয়ারো।

    উত্তরে মিঃ পাওয়ার বলেন, তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত হননি। শুধু পুলিশ নয়, বেসরকারী গোয়েন্দারাও পানপাত্রটির খোঁজে নেমে পড়েছিল।

    পানপাত্রের জন্য যে টাকা ব্যয় করেছিলেন তার কি ব্যবস্থা হলো?

    মিঃ পোয়ারোর প্রশ্নে উত্তর দিলেন মিঃ পাওয়ার, মার্সিভের সততা প্রশ্নাতীত। পানপাত্রটি তার বাড়ি থেকে চুরি হওয়ায় তিনি তার মূল্য ফেরৎ দিতে চাইলেন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি।

    এর সঠিক কারণ জানতে চাইলেন গোয়েন্দা মিঃ পোয়ারো।

    উত্তরে এথেরি পাওয়ার জানালেন, তিনি নিজেই ব্যাপারটাকে হাতে রাখতে চেয়েছিলেন।

    পোয়ারো বিশ্লেষণ করে বললেন, মার্সিভের প্রস্তাব যদি গ্রহণ করতেন তাহলে পানপাত্রটি হাতছাড়া হয়ে যাবার ভয় থাকতো। এক্ষেত্রে সম্পত্তি আইনতঃ তারই রইল।

    ঠিক।

    তার এই মনোভাবের প্রকৃত কারণ কি, জানতে চাইলো পোয়ারো।

    মৃদু হেসে মিঃ পাওয়ার বলেন, ঠিক জায়গাতেই তিনি লক্ষ্য রেখেছেন। ব্যাপারটা খুব সহজ সরল। তার ধারণা ছিল স্যার রুবেন রোজেনকালের দখলেই ছিল পানপাত্রটি। তিনি শুধু একজন সংগ্রাহক নন, তার একজন ব্যক্তিগত শত্রু ছিলো যিনি লেনদেনের ব্যাপারে পরস্পর পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই শেষ পর্যন্ত তিনিই জয়ী হন। তাদের পরাজয়ের শত্রুতা পানপাত্রের ব্যাপারে তুঙ্গে ওঠে। প্রত্যেকে সেটা দর্শন করতে আগ্রহী। নিলামের সময় ডয় গঞ্জেধের প্রতিনিধিরা একের পর এক ডেকে বলেন।

    শেষ পর্যন্ত তার প্রতিনিধির ডাকের ওপর জিনিসটা তার হাতে আসে? তীর্যক প্রশ্ন করেন মিঃ পোয়ারো।

    ঠিক তা নয়, বলে ইতস্ততঃ করলেন মিঃ পাওয়ার। একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে দ্বিতীয় একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করেন তিনি। প্যারীর একজন সাজানো প্রতিনিধি। কেউ কারো কাছে হার মানতে প্রস্তুত ছিলেন না। ওটা দখল করতেই হবে এটা মনস্থির করে ফেলেছিল। সেক্ষেত্রে তৃতীয় ব্যক্তিটি পাত্রটি দখল করার পর খুব সহজেই তার কাছ থেকে ধীরে সুস্থে ওটা দখল করা সহজ হলো।

    আসলে একটা টাকার বাজি, মন্তব্য করলেন পোয়ারো।

    ব্যাপারটা সফল হওয়ায় অনতিকালের মধ্যে স্যার রুবেন বুঝতে পারেন কি ভাবে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। তার বিশ্বাস ছিল পরাজয় স্বীকার না করে মতলব বের করা। স্যার রুবেন ইচ্ছাকৃত ভাবেই তাই চুরির ব্যবস্থা করেন।

    ওঃ না, না! ঘটনাটি তত অমার্জিত নয়। সেটি ছিল এই ধরনের, স্যার রুবেন কেন পাত্র কিনেছিল যার উৎস অজানা।

    পুলিশ ইতিমধ্যেই পানপাত্রের একটি বর্ণনা প্রচার করেছিল।

    পানপাত্রটি কোনোভাবেই খোলাখুলি দেখানো হতো না।

    তার ধারণা স্যার রুবেনের দখলে যে ওটি ছিল এই ধারণাটাই তার পক্ষে যথেষ্ট।

    তাছাড়া মিঃ পাওয়ার মার্সিভের প্রস্তাব গ্রহণ করলে স্যার রুবেনের পক্ষে তার সঙ্গে গোপনীয় ভাবে সেটা বের করে নেওয়াটা সহজ হতো। ফলে আইনতঃ পাত্রটি তার সম্পত্তি হয়ে উঠতো। কিন্তু আইন মোতাবেক পাত্রটির মালিকানা তারই থাকায় সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বের একটা প্রবল সম্ভাবনা ছিল।

    তার অর্থ হলো এই যে তিনি স্যার রুবেনের কাছ থেকে চুরির ব্যবস্থা করতে পারতেন।

    পোয়ারোর এই জাতীয় মন্তব্যে প্রতিবাদ করে উঠে মিঃ পাওয়ার বলেন, এটাকে চুরি বলা হচ্ছে কেন? তিনি তার নিজের জিনিসকে উদ্ধার করেছেন বলা যায়।

    তবে পোয়ারোর বিশ্বাস তিনি এই কাজে সফলতা পাননি।

    তার একটা যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। কারণ, রোজেনবাগের কাছে আদৌ সেটা পৌঁছায়নি।

    কি ভাবে জানতে পারলেন? প্রশ্ন করলেন পোয়ারো।

    ইদানিং তেল সংক্রান্ত কিছু স্বার্থের ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। রোজেনবাগের ও তার স্বার্থ এখন একীভূত। এখন তারা পরস্পরের সঙ্গে ঘটনাটা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেছেন এবং তিনি আশ্বস্ত করেছেন পানপাত্রটি এখনও তার হাতে এসে পৌঁছায়নি।

    মিঃ রোজেনবাগকে তিনি বিশ্বাস করেন?

    হ্যাঁ, করেন বটে। সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন মিঃ পাওয়ার।

    তাহলে এইকারণেই তার প্রবেশ। তাকে এখন এজন্য সাক্ষীগণের পিছনে কুকুরের মতো ছুটতে হবে। দশ বছর কম নয়। বলেন পোয়ারো।

    এথেরি পাওয়ার শুকনো কণ্ঠে জবাব দিলেন, যদি ব্যাপারটা অত সহজ হবে তাহলে তাকে আমন্ত্রণের প্রয়োজন হতো না।

    এরকুল পোয়ারো টানটান হয়ে উঠলেন। ঠান্ডা গলায় তিনি উত্তর দিলেন–অসম্ভব বটে। কোনো কিছু তার জানা নেই। এবং স্বীকার করতে অভ্যস্ত নই। মঁসিয়ে, তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেন কাজটা তার গ্রহণ করা উচিত কিনা।

    এতে যে গুরুত্ব আছে তার পারিশ্রমিক তিনি উল্লেখ করতে পারেন, এই বলে হাসলেন পোয়ারো।

    এই শিল্পকর্ম তিনি ফিরে পেতে উৎসুক? নিশ্চয়ই নয়, প্রশ্ন রাখলেন পোয়ারো।

    মিঃ এথেরি পাওয়ার জবাব দিলেন–বরং তিনি একথা বলতে পারেন তার মতো তিনিও পরাজয় স্বীকার করতে প্রস্তুত নন।

    এরকুল পোয়ারো মাথা নোয়ালেন। হ্যাঁ, এই ভাবে বলতে চাইলে বুঝতে হবে…

    .

     ০২.

    ইনসপেক্টর জ্যাপ স্টাফকে বেশ উৎসাহী বলে মনে হলো। বেরাট্রিলা পানপাত্র? হ্যাঁ, মনে পড়েছে। এই নিলামের মধ্যমণি তিনিই ছিলেন। তিনি কিন্তু কিছু কিছু ইতালীয় ভাষা জানেন। ব্যাপারটা নিয়ে যথেষ্ট মাথা গলালেও কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কিনারা করা যায়নি।

    আপনার ভাষায় কি রকম? প্রশ্ন করলো পোয়ারো। গোপন হাত বদল?

    মাথা নাড়লেন ইনসপেক্টর জ্যাপ স্টাফ। তবে সন্দেহ রয়েছে। এই সম্ভাবনা খুবই কম। জিনিষটা লুকিয়ে রাখা হয়। আর যে খবর রাখতো সে এখন মৃত।

    আপনার মতানুযায়ী মৃত ব্যক্তিটি ফেসী? জিজ্ঞাসা করেন মিঃ পোয়ারো।

    হ্যাঁ, পাত্রটি ইতালীর কোথাও লুকিয়ে রাখা হতে পারে। ভাব সে দেশের বাইরে অন্য কোনো স্থানে সেটাকে ফেলতেও পারে। লুকিয়ে যেখানেই রাখা হোক না কেন, এখনো সেখানেই আসে ফেলে পোয়ারো বটা লুকিয়ে রাখা

    একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পোয়ারো বলেন, অবাস্তব কল্পনা। এর আসল ব্যাপারটা হলো বিরাট এক সোনার পাত্র। সাধারণভাবে সেটা লুকিয়ে রাখা যায় না।

    জ্যাপ স্টাফের জবাবে অস্পষ্টতা ধরা পড়ে।

    তা বলা অসম্ভব। ওরা কথাটা সম্ভবপর বলেই ধার ধারে না। ঘরের মেঝের ভেতর বা এইরকম কোথাও।

    ফেসীর নিজস্ব বাড়ি ছিল কি?

    হা। লিভারপুলে। হাসলেন জ্যাপ স্টাফ। তবে পাত্র এ দেশে কখনই ছিল না। এ ব্যাপারে তারা নিশ্চিত।

    তার পারিবারিক অবস্থা কি রকম? জিজ্ঞাসা করেন পোয়ারো।

    স্ত্রী ভদ্র বংশীয়া। যক্ষ্মা রোগগ্রস্তা। স্বামীর জীবনধারণ পদ্ধতি নিয়ে সদা চিন্তিত থাকতেন। ধর্মপ্রাণ মহিলা। কট্টর ক্যাথেলিক ধর্মাবলম্বী। তবে স্বামীকে ত্যাগ করতে মনস্থির করতে পারেন না। কয়েক বছর আগে তিনি মারা যান। মেয়েটিও মার পথ অনুসরণ করেই চলে। সন্ন্যাস জীবন বেছে নেয়। কিন্তু একমাত্র ছেলে যেন বাপ কা বেটা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যা শুনেছি তা হলো সে আমেরিকায় জেল খাটছে।

    পোয়ারো ওর ছোট্ট ডায়েরিতে লিখে নিলেন। আমেরিকা। ফেসীর ছেলের পক্ষে উইল লুকোবার জায়গার খবর পাওয়া সম্ভব ছিল কি?

    ব্যাপারটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাহলে চোরাই জিনিষটা ইতিমধ্যে চোরাই মাল ক্রেতাদের কাছে এসে পৌঁছাত।

    পানপাত্রটি গালিয়ে ফেলা হতে পারে। সংশয় প্রকাশ করেন পোয়ারো।

    তা হয়তো সম্ভব। সংগ্রাহকদের কাছে এই সব জিনিষের আসল দাম আর সে সব বিক্রির ব্যাপার ঘটে তাতেও মনে হয় তাদের কোনো নীতির বালাই নেই। সরল ভাবে কথাগুলি বলেন জ্যাপ স্টাফ।

    তাহলে স্যার রুবেন এই জাতীয় বিচিত্র ব্যাপারটা যে করে থাকতে পারেন, এতে আশ্চর্য হবার কোনো কারণই ঘটবে না।

    হেসে উঠে জবাব দিলেন ইনসপেক্টর, মোটেই না। তিনি শিল্পকর্মের ব্যাপারে খুব-একটা পারদর্শী নন।

    দলের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যাবে? জিজ্ঞেস করেন পোয়ারো।

    ইনসপেক্টর জ্যাপ স্টাফ উত্তর দিলেন, কিক্সোভিডিক আর জুবলে, দুইজনেরই কঠিন শাস্তি হয়। তবে তার যতদূর মনে পড়ছে তাদের ছাড়া পাবার সময় পার হয়ে গেছে।

    প্রশ্ন করেন পোয়ারো, জুবলে জাতিতে কি ফরাসী?

    হা, সে ছিলো দলের মাথা।

    আর কে কে ছিল দলে?

    পোয়ারোর প্রশ্নের উত্তরে ইনসপেক্টর বলেন, দলে একটি মেয়েও ছিল। লোকে তাকে লালকিট বলে ডাকত। মেয়েটি শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেয়।

    তা ছাড়া আর কেউ? প্রশ্ন করেন পোয়ারো।

    ইউগোইখান নামের এক ছোকরা দলের সঙ্গে ছিল বলে জানা যায়। লোকটি একজন ব্যবসায়ী। তার ব্যবসার হিসেবদপ্তর ইস্তাম্বুলে, কিন্তু প্যারিতে একটা দোকান ছিল। তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি খুব ধূর্ত প্রকৃতির।

    হাই তুলে হাতের ছোট্ট খাতাখানার দিকে নজর বুলিয়ে দেখেন তাতে লেখা আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালী, ফ্রান্স, তুরস্ক, অস্ফুট স্বরে বললেন, একবার সারা দুনিয়া চক্কর দিতে হবে।

    .

    ০৩.

    নিজের যোগ্য পরিচারকের কাছে মাঝে মাঝে পোয়ারো কাজের ব্যাপারে আলোচনা করেন। এটা তার অভ্যাসের একটা দিক বলা যায়। তিনি তাকে বললেন যদি তাকে কাজের প্রয়োজনে পাঁচটি দেশে অনুসন্ধান চালাতে হয় তবে সে কোথা থেকে শুরু করবে।

    পরিচারকটি উত্তর দিল, আকাশ পথে যে কোনো জায়গায় খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।

    এখন প্রশ্ন হলো, এক্ষেত্রে পোয়ারো কি করতেন? অথবা বলা যায়, তিনি কি করেছিলেন?

    সোজাসুজি বলতে হলে এর উত্তর হলো জর্জ। তিনি বেশ সাহস নিয়েই ভ্রমণ করেছিলেন। তবে তাকেও শেষ পর্যন্ত খবরাখবর সংগ্রহ করতে হয়েছিল। কারো মতে, প্রাসথির্ডনের কাছ থেকে, কারো মতে নৌরউসের কাছ থেকে।

    মন্তব্য করলেন এথেরি পাওয়ার, শুধু জীবনে একটা জিনিষই বোঝেন, সেটা হলো কাজ। জীবনে স্বর্ণখচিত একটা বয়স আছে। তার জন্য অন্যে যা করতে সক্ষম সে কাজ তার নিজের করা উচিত নয়।

    তাকের ওপর থেকে একটা ফাইল টেনে নিয়ে একটা পাতা খুলে দেখলেন। তাতে লেখা পোয়ারোর দ্বারস্থ ও নির্ভরশীল।

    আধুনিক কয়েকটা নাম আর কিছু ঠিকানা টুকে নিতে বললেন জর্জকে।

    .

    ০৪.

    তিনমাস পর একদিন এরকুল পোয়ারো পায়জামার ওপর শার্ট পরে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তার দৃষ্টি মেলে ধরলেন। সন্ধ্যায় চিলের ঝাঁক বিপদের সুরে জলের বুকে উঠলো না। বাতাসে ভেসে আসছে ভিজে স্যাঁতসেতে গন্ধ।

    সারাজীবনে কোনোদিন ভাবতে পারেনি এইরকম জনহীন পরিত্যক্ত জায়গার কথা। স্থানটার একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে। একটা বিষাদমাখা অপার্থিব সৌন্দর্য, অবিশ্বাস্য অতীতের সৌন্দর্য।

    তার দৃষ্টি নির্জন তীরের উপর ঘুরে এসে সেই সাগরেই থামলো। ঐখানেই কোথাও অতীতের সেই ব্রেস্ট দ্বীপ যৌবনের স্মৃতিভরা…নিজের মনে কথা বলে চলেন পোয়ারো। সেই আপেল গাছ, সংগীত আর স্বর্গ।

    আত্মস্থ হলেন এরকুল পোয়ারো। ঘোর কেটে যেতেই আবার কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হলেন।

    খুব বেশি দূর যেতে হয়নি তাকে। অচিরেই শেষ হলো তার অনুসন্ধান। এতক্ষণ যে সম্ভাবনার আগুন তার মনের মধ্যে জ্বলছিল ধিকিধিকি, এখন তা নিভে গেল বুঝি।

    দ্রুতবেগে যাত্রা পথ বেয়ে এগিয়ে গিয়ে দেখলেন, টিলার ওপর একটা বাড়ি। চারপাশে বিরাট দেওয়াল দিয়ে ঘেরা। দেওয়ালের গায়ে লাগানো আছে লোহার পেরেক। বিশাল কাঠের দরজা। দরজার কাছে এগিয়ে গেলেন পোয়ারো। দরজার পাশেই প্রকাণ্ড লোহার কড়া। সাবধানে একটা শিকলে টান দিতেই দরজার ভেতর থেকে ঘণ্টাধ্বনি শোনা গেল। একটা মুখ হঠাৎ জেগে উঠলো। লুজ পাভাসী, সন্দিগ্ধ একখানি মুখ। ঠোঁটের ওপর পরিষ্কার গোঁফের রেখা। কিন্তু কণ্ঠস্বর জাঁদরেল স্ত্রীলোকের মতো।

    –এটি কি সেন্ট মেরী গির্জা? প্রশ্ন করেন পোয়ারো।

    মহিলা তির্যকভাবে জবাব দিলেন, তাছাড়া আর কি হতে পারে?

    তার কথার জবাব না দিয়ে পোয়ারো বলেন, তিনি তার একবার সাক্ষাৎ পাবার অনুমতি পাবেন?

    তার মধ্যে অনীহা দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত রাজী হলেন। অবশ্য রাজি না হয়ে তার কোনো উপায় ছিল না। এই পরিস্থিতির মধ্যে তাকে রাজি হতেই হবে। এমন ভাবেই হয়তো এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার পথ খুঁজে পাবেন তিনি।

    অনুনয়ের ভঙ্গিতে বলেন তাকে বিরক্ত করার জন্য মাফ চাইছেন। তার ধারণা তার ওখানে জনৈকা ধর্মপ্রাণা আছেন যাঁর পার্থিব নাম ফেটফেনা।

    মধ্যবয়সী মানুষটি মাথা নাড়লেন, হ্যাঁ, মিস্টার, মেরী ফেটফেনা।

    এরকুল পোয়ারো বললেন, কিছু ভুল সংশোধনের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে মাদাম। তার বিশ্বাস মিস্টার উরসৃলা তাকে অনেক সাহায্য করতে পারবেন। তার দেওয়া কিছু খবর খুবই মূল্যবান হতে পারে।

    মিস্টার উরসৃলা তাকে বেশ ভালোভাবে সাহায্য করতে পারবেন।

    কিন্তু আপনাকে কথা দিচ্ছি… এ কথাটা সম্পূর্ণ বলতে গিয়ে মাঝ পথে থেমে পড়লেন মঠাধ্যক্ষা। বলে ওঠেন, মিস্টার, মেরী উরসৃলা দু মাস আগে মারা যান।

    .

    ০৫.

    মিমি আলোভ্যানের হোটেলের একটা পানশালায় ছিলেন এরকুল পোয়ারো। অন্য হোটেলের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া দুঃসাধ্য। শোবার খাট ভাঙ্গা, জানালার দুটো কাঁচ নেই। রাতের হাওয়া তিনি ভয় পান। সেই হাওয়াই ঘরের ভেতর ঢুকতে চাইছে। গরম জল ঈষৎ উষ্ণ। খাদ্যদ্রব্য অত্যন্ত অরুচিকর।

    পানশালায় পাঁচজন মানুষ রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত। আচমকা পোয়ারো লক্ষ্য করলো ওদের মধ্যে একজন তার পাশে এসে বসল।

    লোকটা পোয়ারোকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুরু করলো।

    অনেক কথাই বলার ছিল তার তবু সব কথা সে গুছিয়ে বলতে পারল না। অনেক কথা বাকি থেকে গেল।

    সে সারা বছর ধরে প্রত্যেককে জিতিয়ে চলেছে। তার কথা শুনে পোয়ারো বললেন, পস্তাবে না।

    সম্ভ্রম ভরা দৃষ্টিতে পোয়ারো বললেন, এখন আমাদের কাজ শুরু হোক। অনেক সময় নষ্ট হয়ে গেছে।

    .

    ০৬.

    কয়েক ঘন্টা পরে মেঘের আড়ালে চাঁদ লুকোচুরি খেলতে ব্যস্ত। পোয়ারো এবং তার নতুন বন্ধু কয়েক মাইল হেঁটে চলেছে।

    তার সঙ্গী ভদ্রলোকটি হঠাৎ বলে উঠল, এই ভাবেই কি যাজকরা ওদের পিছু নেবেন? তিনি বিবেকের দংশনে জর্জরিত হচ্ছেন।

    এরকুল পোয়ারো উত্তরে বলেন, আপনি আর এমন কি বেশি করেছেন। নিজের জিনিষ ফিরিয়ে দিয়েছেন মাত্র।

    দুজনেই মঠের কাছে পৌঁছতেই অ্যাটলাসের মুখ থেকে চাপা আর্তনাদ ভেসে এলো।

    কর্তৃত্বজনক সুরেই জবাব দিলেন পোয়ারো, শান্ত হোন। সারা পৃথিবীর ভার আপনাকে নিতে হবে না, শুধু মাত্র এরকুল পোয়ারোর ভার নিলেই চলবে।

    .

    ০৭.

    অ্যাটলাস দুটো পাউণ্ডের নোট নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল।

    কোন আশা নিয়েই বলল, সকাল হলেই টাকাটা কি ভাবে রোজগার হয়েছে মনে থাকবে না। তবে টাকা আসার কথা পেলে তবে পেছনে ছুটবেন।

    বিড়বিড় করতে চাইল অ্যাটলাস, টাকাটা আমার ভীষণ প্রয়োজন। টাকার জন্যে তো আমাকে এ জীবন কাটাতে হচ্ছে। আমি জানি এখানে টাকা রোজগার করা কত শক্ত। তবু আমি টাকার পেছনে ছোটার চেষ্টা করছি।

    এর উত্তরে পোয়ারো অর্থপূর্ণ হাসি হাসলেন। তাঁর বিচিত্র স্মৃতির ভাণ্ডারে এমন অনেক মানুষের সন্ধান তিনি পেয়েছেন যারা টাকার জন্যে পরিশ্রম করে, কিন্তু বিনিময়ে কি পায় তারা সম্মান? সুখ, শান্তি?

    এ লোকটিরও হয়তো সেই পরিণতি হবে একদিন।

    .

    ০৮.

    অতি সাবধানতা নিয়েই এরকুল পোয়ারো নিখুঁতভাবে কাগজে জড়ানো মোড়কটা খুললেন। ডেস্কের ওপর রাখলেন উজ্জ্বল পানপাত্রটি। পানপাত্রের উপর খোদাই করা সবুজ পান্না খচিত আপেলসহ একটা গাছ।

    পোয়ারোকে অভিনন্দন জানিয়ে এথেরি পাওয়ার পানপাত্রটির ওপর তার স্পর্শ অনুভব করতে করতে বললেন–এটা আমার।

    এরকুল পোয়ারো স্বীকার করলেন, হ্যাঁ, এটা আপনার।

    কোথায় পেলেন জিনিষটা?

    উত্তর দিল পোয়ারো, একটা বেদীর ওপর–

    এরপর পোয়ারো বলে, ফেসীর মেয়ে সন্ন্যাসিনী ছিল, তার বাবার মৃত্যুর সময় সে শেষে ঐ পাত্রটা গ্রহণ করেছিল। সে অজ্ঞ হলেও সৎ ছিল। পানপাত্রটি লিভারপুলের বাড়িতে লুকোনো ছিল। বাবার কর্মের প্রায়শ্চিত্ত করতেই সেটা সঙ্গে নিয়ে যায় সে। সেটিকে ঈশ্বরের সেবায় দান করে। তার ধারণা মঠবাসীরা কেউ তার আসল মূল্য জানত না। তারা সেটিকে স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে মনে করতো।

    এথেরি পাওয়ার বিস্মিত হয়ে বলেন, সেখানে যাবার কথা তার মনে কেন জাগলো?

    কাঁধ ঝাঁকিয়ে পোয়ারো বললেন, অপরিহার্য পাত্রটা। কারণ পানপাত্রটি বিক্রির চেষ্টা করা হয়নি। এতে মনে হওয়া স্বাভাবিক যেটা এসব জায়গায় আছে সেখানে তার মূল্যায়ন করা অসম্ভব। তখন মনে পড়ে প্যাট্রিকে, যার কন্যা সন্নাসিনী।

    মিঃ এথেরি পাওয়ার খুশী মনে পোয়ারোর দক্ষিণার কথা জিজ্ঞেস করেন।

    এরকুল পোয়ারো জবাব দিলেন, কোনো দক্ষিণা নেই।

    এথেরি পাওয়ার তার কথা শুনে বিস্মিত হলেন।

    ছেলেবেলায় রূপকথার কাহিনীর মতো তিনি বলেন, তার প্রার্থনা এটা নয়, সামান্য একটা… এই বলে এরকুল পোয়ারো পানপাত্রটির উপর হাত রেখে বলল, এটা মঠেই ফিরিয়ে দিন।

    তার কথা শুনে খানিক স্তব্ধ হয়ে এথেরি বলেন, মিঃ পোয়ারো কি পাগল হয়ে গেছেন?

    উত্তরে পোয়ারো জানালেন, তিনি পাগল হননি।

    এই বলে পানপাত্রটি হাতে তুলে নিলেন। তারপর নখ দিয়ে গায়ে জড়িয়ে রাখা সাপটার মুখে চাপ দিতে চাইলেন। পানপাত্রের ভেতর হাতলে ফাঁপা অংশে ফোকর সৃষ্টি হলো।

    পোয়ারো জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বলেন, এটাই রজিয়া পোপের পানপাত্র। এই ছোট্ট ফাটা দিয়ে পানীয়তে বিষ মেশানো হতো, এই পানপাত্রের ইতিহাসটা অদ্ভুত। এর হৃদয়ের মধ্যে একাত্ম হয়ে আছে হিংসা আর রক্তপাত। তার মধ্যেও নেমে আসতে পারে মৃত্যুর কঠিন স্পর্শ।

    কুসংস্কার হয়তো তাই-ই বলা যায়। কিন্তু মিঃ পোয়ারো এই জিনিষটা পেতে এত লালায়িত কেন? প্রশ্ন করেন এথেরি পাওয়ার।

    এর সৌন্দর্যের জন্য নয়, এর বিভীষিকার জন্যে নয়। অহঙ্কার বজায় রাখা এর একমাত্র কারণ। তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। পরাজয় স্বীকার করবেন না। তিনি পরাজিত হননি। পানপাত্র তার দখলেই। কিন্তু এবার তিনি মহৎ দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছেন কেন? দশ বছর ধরে সেখানে সমাহিত ছিল। ধর্মস্থানেই থাকতে দিন তাকে শান্তিতে। তার সঙ্গে জড়িত আমূল শক্তিকে শোধিত হতে দিন। একদিন এই পানপাত্রটি গির্জার ছিল, গির্জাতেই তাকে ফিরে যেতে দিন। আর এই প্রার্থনাই করি আমরা, মানুষের আত্মা শোধিত আর পবিত্র হয়ে পাপমুক্ত হোক।

    এরপর পানপাত্রটি খুঁজে পাবার কাহিনী বলতে শুরু করেন।

    পশ্চিম সাগরের বুকে এক শান্তিকাননে–বিস্মৃত যৌবনের এক স্বর্গ আর চিরায়ত সৌন্দর্যের দেশে পাত্রটি পাওয়া গেছে।

    চোখের ওপর একটা হাত চাপা দিয়ে কিছুক্ষণ থাকার পরে মুখ খুলল, ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসির ছোঁয়া, ধরা কণ্ঠে বলেন–আপনার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক। আমার সামনে উপহার হিসেবে পানপাত্রটি মঠে নিয়ে যান। উপহারটি অবশ্যই অমূল্য। তার পরিবর্তে তিনি কি করতে পারেন?

    গম্ভীর কণ্ঠে পোয়ারো জবাব দিলেন–মঠবাসীরা আপনার আত্মার জন্য প্রার্থনা জানাবে।

    একটা লোভাতুর ক্ষুধার্ত হাসি ফুটল ঐ এথেরি পাওয়ারের মুখে–তাহলে ঐটিকে লগ্নী হিসেবে গণ্য করা যায়। হয়তো আমার সেরা লগ্নী।

    .

    ০৯.

    মঠের ছোট্ট কক্ষে এরকুল পোয়ারো মঠাধ্যক্ষার হাতে পানপাত্রটি তুলে দিতে দিতে তার ফিরে পাওয়ার কাহিনীটি বলতে লাগলেন।

    মধ্যবয়স্কা অস্ফুটে বললেন–ওকে আমাদের ধন্যবাদ জানাবেন। আমরা ওর আত্মার জন্যে প্রার্থনা করব।

    এ প্রার্থনার ওর প্রয়োজন আছে–শান্তকণ্ঠে বললেন পোয়ারো।

    –উনি কি খুব অসুখী?

    পোয়ারো জবাব দিলেন–এতই অসুখী যে সুখের অর্থ তার কাছে অজানা।

    মঠাধ্যক্ষা শান্তস্বরে বললেন–একজন অর্থশালী মানুষ হয়েও?

    কোনো জবাব দিলেন না পোয়ারো, কারণ জবাব দেয়ার মতো কোনো উত্তর তার জানা নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }