Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2485 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. দ্বিতীয় অঙ্ক–নিঃসন্দেহ

    দ্বিতীয় অঙ্ক–নিঃসন্দেহ

    ০১.

     একটি চিঠি

    মাঝে মাঝে অবকাশ যাপন করতে শ্রীযুক্ত স্যাটার্থওয়েট দক্ষিণ ফ্রান্সের সমুদ্রতীরের একটি শহরে আসেন। এবারেও তিনি সমুদ্রে কাছাকাছি ছোট্ট বাড়িটিতে উঠেছেন। বাগানে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন তিনি। হঠাৎ একজায়গায় তার দৃষ্টি আটকে গেল। পরলোকে স্যার বার্থালমিউ। তিনি সম্পূর্ণ খবর মন দিয়ে পড়লেন। কি নিদারুণ দুঃসংবাদ! হাত থেকে কাগজ পড়ে গেল। নানান কথা স্মৃতি হয়ে ফিরে এলো। বারে বারে খবরের কাগজের কয়েকটি কথা মনে পড়লোতর আকস্মিক জীবনাবসান, কফি পান করিতেছিলেন, চিকিৎসক আসিবার পূর্বেই তাহার মৃত্যু

    আর একটি আকস্মিক মৃত্যুর সঙ্গে আশ্চর্য ধরনের মিল রয়েছে।

    স্যার চার্লসকে আসতে দেখে শ্রীযুক্ত স্যাটার্থওয়েট আশ্চর্য হলেন। জানা গেল তিনিও কাগজ থেকে এই দুঃসংবাদটি অবগত হয়েছেন।

    সত্যি, এভাবে টলি যে চলে যাবে, ভাবতে পারি না শ্রীযুক্ত স্যাটার্থওয়েট।

    –স্বৰ্গত ব্যারিংটনের মৃত্যুর সঙ্গে এই মৃত্যুর বিস্ময়কর সাদৃশ্য আছে।

    দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

    একসময় চার্লস বললেন– হারমিয়োনের কাছ থেকে একটা চিঠি পেলাম। এর আগে অবশ্য একটা চিঠি পেয়েছিলাম। সেটার উত্তর দিইনি। সকলের পাগলামিতে তো সব সময় প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। তবে এই চিঠিটা একটু অন্যরকমের।

    -কি রকম?

    বলা যেতে পারে, এটি একটি সাহয্যের জন্য আবেদন। চার্লস পকেট থেকে চিঠিটা বের করে দিলেন। নিন, পড়ে দেখুন।

    শ্রীযুক্ত স্যাটার্থওয়েট চিঠিটা পড়লেন, তবে চিঠির সারমর্ম ছিলো–

    বার্থালমিউয়ের মৃত্যুর দিন হারমিয়োন ও তার মা ইয়র্কশায়ারের বাড়িতে এক পার্টিতে উপস্থিত ছিলো। তাদের চোখের সামনে ঘটেছে সেই নিদারুণ ঘটনা। তার ধারণা, স্যার বার্থালমিউ এবং শ্রীযুক্ত ব্যারিংটনের মৃত্যু রহস্য একই সূত্রে গাঁথা। তার ধারণা, একমাত্র স্যার চার্লস এই রহস্য উদঘাটন করতে পারেন?

    চিঠির প্রসঙ্গ নিয়ে আর কোনো আলোচনা হলো না।

    –আচ্ছা, সেদিনকার পার্টিতে কারা কারা ছিলেন?

    –কেন, কাগজেই সবার নাম ছিলো। স্যার চার্লস খবরের কাগজটা তুলে নিয়ে জায়গাটা দেখালেন।

    লর্ড ও লেডি এডেন, লেডি মেরি লিটন গোর, স্যার জোসেলিন ও লেডি ক্যাম্বেল, ক্যাপটেন ও শ্রীযুক্তা ডেকার্স, শ্ৰীমতী এঞ্জেলা সাট ক্লিফ।

    –অলিভার ম্যানডার্সের নাম নেই। স্যার চার্লস বললেন।

    এমন সময়ে পরিচারক এসে খানকয়েক চিঠি এবং একটি অর্ধ সাপ্তাহিক সংবাদপত্র শ্রীযুক্ত স্যাটার্থওয়েটকে দিয়ে গেল। সংবাদপত্রটি স্যার চার্লস হাত বাড়িয়ে নিয়ে পড়তে শুরু করলেন।

    একটু পরেই প্রায় চীৎকার করে বললেন–শুনুন শ্রীযুক্ত স্যাটার্থওয়েট, কাগজ কি বলছে। বার্থালমিউর মৃতদেহ ময়না তদন্ত করে দেখা গেছে যে নিকোটিন জাতীয় বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

    –এখন বসে থাকলে চলবে না। স্যার চার্লস বললেন। ইংলণ্ডে আপাততঃ ফিরে যাবো, তারপর কি করা যায় ভাবা যাবে।

    তাহলে আমিও তাই করবো। ঐ অঞ্চলের পুলিসের বড়কর্তা কর্ণেল জনসন আমার বন্ধুস্থানীয় ব্যক্তি। আমি গেলে হয়তো আপনাদের কাজে লাগলেও লাগতে পারি।

    শ্রীযুক্ত স্যাটার্থওয়েট সমুদ্রতীরের কাছে একটা জায়গা বেছে নিয়ে বসে পড়লেন। একটু দূরে একজন মহিলা একটি সাপ্তাহিকী পড়ছেন। একটি শিশু বালি নিয়ে খেলা করছে। আরো একটু দূরে একজন ভদ্রলোক বসে আছেন পেছন ফিরে। তবে তাকে চেনা মনে হলো তার।

    শিশুটির হাসি শুনে শ্রীযুক্ত স্যাটার্থওয়েট ফিরে তাকালেন। ঐ ভদ্রলোকও মুখ ফেরালেন। দুজনে চোখাচোখি হলো।

    –আরে এরকুল পোয়ারো, আপনি এখানে। উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলেন শ্রীযুক্ত। স্যাটার্থওয়েট। আধঘন্টা আগে স্যার চার্লসের সঙ্গে দেখা হলো। আবার এখন আপনার সঙ্গে। কি ব্যাপার বলুন তো?

    স্যার চার্লস, এখানে আছেন নাকি?

    হ্যাঁ, উনি বরাবরের জন্য লুমাউন ছেড়ে চলে এসেছেন। আপনার বোধ হয় জানা নেই।

    –না, জানতাম না। তবে লুমাউনে তার থাকার একটা কারণ ছিলো। বলা যেতে পারে, একটি সুন্দরীই সেই কারণ। কিন্তু মেয়েটি সত্যিই স্যার চার্লসকে ভালোবাসতো। তাহলে কেন পালিয়ে আসা? অবশ্য কোনো মেয়েকে পিছু ধাওয়া করানোর শ্রেষ্ঠ উপায় হলো তার কাছ থেকে পলায়ন।

    পোয়াবোর অনেক কথার মাথামুণ্ডু শ্ৰীযুক্ত স্যাটার্থওয়েট বুঝতে পারলেন না। তিনি কি ভেবে স্যার বার্থালমিউয়ের মৃত্যু সংবাদ সম্বলিত সংবাদপত্রটি পোয়রোর হাতে এগিয়ে দিলেন।

    গম্ভীরভাবে তিনি খবরটা পড়লেন। পলকের জন্য তার চোখে কাঠিন্য জ্বলে উঠলো। শান্ত ভাবে সংবাদপত্রটি ফিরিয়ে দিয়ে বললেন স্যার বার্থালমিউয়ের মৃত্যু একটু আশ্চর্যজনক, তাতে কোন সন্দেহ নেই।

    –স্যার চার্লসের অনুমানের কথা আপনার নিশ্চয়ই মনে পড়ছে শ্রীযুক্ত পোয়ারো।

    –হতে পারে, তিনি শিল্পী মানুষ। শিল্পীদের কল্পনা ও অনুমানশক্তি একটু বেশিই থাকে। অবশ্য এর ফল সবসময় মঙ্গলজনক নাও হতে পারে। বেশ, স্যার চার্লসের খবর কি?

    –তিনি আর আমি আজ রাতেই ইংলণ্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি।

    –তাহলে তিনি শৌখিন ডিটেকটিভ হতে চলেছেন। নাকি অন্য কোনো কারণ আছে?

    –হারমিয়োন তাঁকে ফিরে যাওয়ার জন্য মিনতি জানিয়ে চিঠি লিখেছে।

    –আমি ঠিক বুঝতে পারছি না, ভাবছি অন্য কথা…মানব প্রকৃতির জ্ঞান কি সাংঘাতিক।

    আর ভালো লাগছিল না স্যার স্যাটার্থওয়েটের। লণ্ডনের ঠিকানাযুক্ত একটি কার্ড পোয়ারোকে দিয়ে তিনি ওখান থেকে বিদায় নিলেন।

    পোয়ারো চুপ করে বসে থেকে একসময় উঠে দাঁড়ালেন। টিকিটঘরের দিকে এগোলেন।

    .

    ০২.

    পলাতক খানসামা

    পুলিস অফিসার কর্ণেল জনসন ও তার সহকারী ক্রস ফ্রিল্ড সুবিখ্যাত অভিনেতা স্যার চার্লস কার্টরাইটকে তাদের অফিস ঘরে ঢুকতে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন। তাঁকে স্বচোক্ষে দেখতে পারবেন তারা তা স্বপ্নেও ভাবেননি।

    শ্ৰীযুক্ত স্যাটার্থওয়েটকে সঙ্গে নিয়ে স্যার চার্লস গিয়েছিলেন স্যার বার্থালমিউয়ের মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্যাবলী সংগ্রহের উদ্দেশ্যে।

    –আমরা তার হত্যাকারী কে জানতে পেরেছি। স্যার বার্থালমিউ মৃত্যুর দিন পনেরো আগে এলিস নামে এক খানসামাকে কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। কিন্তু ঐ ঘটনা ঘটার পরদিনই সে নিরুদ্দেশ হয়। সে পালিয়ে গিয়ে আমাদের সন্দেহকে আরো ঘন করে তুলেছে।

    –সে পালালো কেন? আপনারা তো বলছেন, পুলিস তাকে সন্দেহ করেনি।

    তার ধারণা ছিল, পুলিস তাকে সন্দেহ করছে। আমরা বাড়ির প্রত্যেকটি লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। স্যার জোনেলিন ক্যাম্বেল এবং ডাঃ ডেভিস স্যার বার্থলমিউয়ের মৃতদেহ পরীক্ষা করেছিলেন।

    –খবরে প্রকাশ নিকোটিন জাতীয় বিষক্রিয়ায় স্যার বার্থালমিউয়ের মৃত্যু হয়, তাই তো?

    -হ্যাঁ, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে মৃত্যুর কয়েক মুহূর্ত আগে নিহত ব্যক্তি ঐ বিষ খেয়েছিলেন। যে সব কাপে অতিথিরা এবং স্যার বার্থলমিউ কফি পান করেছিলেন সেগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু কোনোটিতেই নিকোটিন পাওয়া যায়নি।

    স্যার চার্লস এবার শ্রীযুক্ত ব্যারিংটনের মৃত্যুর কথা বিস্তারিতভাবে জানালেন কর্ণেল জনসনকে।

    –আচ্ছা, কর্ণেল, আপনি স্যার বার্থালমিউয়ের সমস্ত কাগজপত্র খুঁটিয়ে দেখেছেন? শ্ৰীযুক্ত স্যাটার্থওয়েট জিজ্ঞাসা করলেন।

    –হ্যাঁ, আমরা তার সেক্রেটারি শ্রীমতী লিণ্ডনের সহযোগিতায় তার সমস্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি। সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি, যার সঙ্গে এই মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক আছে।

    -আচ্ছা, ঐ দিন ঐ সময়ে কারা কারা উপস্থিত ছিলেন, বলতে পারেন?

    একটা নাম লেখা কাগজ এগিয়ে দিলেন কর্ণেল জনসন। দেখা গেল, সেক্রেটারি, পাচিকা, পরিচারিকা পাঁচজন, অতিথি সাত জনের নাম রয়েছে।

    –দেখছি, ঐ দিন শ্ৰীমন অলিভার ম্যানভার্স হাজির ছিলেন। স্যার চার্লস বললেন।

    -হ্যাঁ, সেদিন তিনি ওখান দিয়ে গাড়ি চালিয়ে আসতে গিয়ে একটা পাঁচিলে ধাক্কা মারেন। ফলে গাড়ি বিগড়ে যায় বাইমিউয়ের সঙ্গে ওর চেনা জানা ছিল। তাই তিনি তাকে তাঁর বাড়িতে থাকার আমন্ত্রণ জানান। তাই তিনি তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন দুর্ঘটনা ঘটার পর।

    –আচ্ছা, আমরা চাই স্যার বাংলিমিউয়ের বাড়িটা একটু পরীক্ষা করে দেখতে। সেখানকার লেবেদের সঙ্গে কয়েকটা কথা বলবো আপনাদের আপত্তি নেই তো?

    –আপত্তি নেই তবে নতুন কিছু পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না!

    কর্ণেল জনসনের কাছ থেকে ওঁরা বিদায় নিয়ে ফিরে এলেন।

    .

    ০৩.

    কোন্ জন?

    –আপনি তাহলে বিশ্বাস করেন যে দুটি মৃত্যুর মধ্যে একটি যোগসূত্র আছে? স্যাটার্থওয়েট প্রশ্ন করলেন।

    –হ্যাঁ, সেই রকম তো আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে আবিষ্কার করতে হবে সেই যোগসূত্রটি কি?

    ব্যাপারটা ভেবে দেখুন। দুটি পার্টিতেই উপস্থিত ছিলেন এমন লোকের সংখ্যা কিন্তু বেশি। এটাকে কি বলবেন?

    –সমাগতন।

    –না, আমি বলবো পরিকল্পনা। টলির, মানে আপনাদের স্যার বার্থালমিউয়ের পরিকল্পনা। আশা করি, আমি তাকে আপনাদের থেকে বেশি জানতাম। কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করলে গভীর ভাবে ভাবতো। কোনো কাজ শুরু করার আগে রীতিমত ছক করে কাজে নামতো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ব্যারিংটনকে হত্যা করা হয়েছিল। আমার সঙ্গে টলিও একমত ছিলো, কিন্তু মুখে কিছু প্রকাশ না করে আমাকে উল্টে সাবধান করে দিয়েছিলো। আমি জানি, সে ঐ হত্যা রহস্য উদঘাটন করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে সে ব্যারিংটনের মৃত্যুদৃশ্য পুনরাভিনয়ের আয়োজন করলো। কিন্তু দুঃখের বিষয় হত্যাকারী ধরা পড়লো না। বরং তার মৃত্যু হলো।

    -কিন্তু খানসামাটা যদি দোষ না করে থাকবে তাহলে পালালো কেন?

    –হতে পারে। ওর বিরুদ্ধে এর আগে ছোটখাটো কোনো অপরাধের জন্য পুলিসের খাতায় নাম লেখা আছে। তাই পুলিসের হাঙ্গামা এড়াতে সে পালিয়েছে।

    –তাহলে আপনার ধারণা, অতিথিদের মধ্যে কেউ একজন এই জঘন্য কাজ করেছে? স্যার স্যাটার্থওয়েট জানতে চাইলেন।

    –হুঁ!

    কাকে সন্দেহ হয়?

    –এর উত্তর দেওয়া মুশকিল। একটু চিন্তা করলে দেখা যায় কাউকেই সন্দেহ করা চলে না। আবার এটাও বোঝা যাচ্ছে, এঁদের মধ্যেই হত্যাকারী লুকিয়ে আছে।

    অলিভার ম্যানডার্স সম্পর্কে আপনার কি মনে হয়?

    –একথা বলেছেন নে? স্যার চার্লস বললেন। এ ব্যাপারে তাকে আমার সন্দেহ হয় না। কারণ সে সেদিন আচমকা এসে পড়েছিল। সে মোটেও উলির নিমন্ত্রিত ছিল না। আপাততঃ পেটে কিছু না পড়লে বুদ্ধি খুলবে না।

    ওঁরা দুজনে একটা বেঁস্তোরায় গিয়ে ঢুকলেন।

    .

    ০৪.

    বার্থালমিউয়ের বাসভবন

    ইয়র্কশায়ারের এই প্রাসাদের মত পুরোনো বাড়িটি কিনে নতুন করে সংস্কার করেন স্বর্গত বাথালমিভ। কাছাকাছি একটি আরোগ্য নিকেতন গড়ে তুলেছিলেন।

    স্যার চার্লস আর শ্রীযুক্ত স্যাটার্থওয়েট বার্থালমিউয়ের বাসভবনের বৈঠকখানায় বসে বাড়ির পাচিকা শ্রীযুক্তা মাহালেকির সঙ্গে কথা বলছিলেন। পনেরো বছর ধরে তিনি এখানে রান্না ছাড়া অন্যান্য কাজও করে চলেছেন। অন্যান্য পরিচারিকাদের চালনা করার দায়িত্ব ছিলো তার ওপর।

    শ্রীযুক্তা লেকি কেঁদে চোখ ভেজালেন। বললেন–এমন মানুষটা চলে গেল। কোনোদিন কাউকে কড়া কথা বলতে শুনিনি। লোকের উপকার করেছেন অনেক।

    –আচ্ছা, এলিস অর্থাৎ যে খানসামাটা পালিয়ে গেছে, তার সম্পর্কে আপনার কি ধারণা?

    –ওর সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানি না। পনেরো দিন আগে এসেছিল, মাত্র দুমাসের জন্য ওকে বহাল করা হয়েছিল। কারণ ও বেকারের পরিবর্তে কাজ করতে এসেছিল। বেকার সাত বছর ধরে এখানে কাজ করছে। হালে সে অসুস্থ হয়ে পড়ায় কর্তা ওকে হাওয়া বদলের জন্য পাঠিয়ে দেন। তাই এলিস এখানে কাজ করছিল।

    এলিস সম্পর্কে আরো কিছু জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিস ওকে হত্যার দায়ে সন্দেহ করছে। কিন্তু আমার কোনো সন্দেহ হয় না ওর ওপর। তবে ও আমাদের সঙ্গে বেশি কথাবার্তা বা মেলামেশা করতো না। হয়তো নতুন বলে এরকম আচরণ করেছে।

    তার চেহারার বৈশিষ্ট্য ছিল?

    –একটু কুঁজো, লম্বা, চেহারা খারাপ নয়। বাইরে বেরোবার সময় কালো চশমা ব্যবহার করতো চোখের অসুখ আছে বলে।

    ঘটনার দিন তার আচরণ কেমন ছিল? স্যার স্যাটার্থওয়েট জানতে চাইলেন।

    –সেদিন আমরা সবাই ব্যস্ত ছিলাম। এলিসও তার ব্যতিক্রম ছিল না। কর্তার মৃত্যুতে আমরা ভীষণ ভেঙে পড়েছিলাম। কান্নাকাটি করেছিলাম। তবে ওকে তেমন মুষড়ে পড়তে দেখিনি। সে আমাদের সাধ্যমত সেবাযত্ন করেছিল।

    –সেদিন রাত্রি থেকে সে উধাও তাই না?

    –হ্যাঁ।

    এবার আমরা অন্যান্য পরিচারিকাদের সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই, আপনার যদি আপত্তি না থাকে।

    –আপত্তি করার কিছু নেই, শ্রীযুক্তা লেকি বললেন। তবে মনে হয় না নতুন কিছু খবর পাবেন। সেদিন খাওয়ার টেবিলের দায়িত্ব ছিল বিয়াত্রিচে আর অ্যালিগের ওপর। আপনারা বরং ওদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

    শ্ৰীযুক্তা লেকির পর এবাড়ির সবচেয়ে পুরোনো পরিচারিকা হলেন বিয়াত্রিচে চার্চ। স্যার চার্লস তার কাছে জানতে চাইলেন, সেদিনকার ঘটনা কোন অতিথির ওপর কি রকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।

    –রীতিমতো ভেঙে পড়েছিলেন এঞ্জেলা সাটক্লিফ। কিছুতেই রাতে কিছু খেলেন না। মাথা ধরার জন্য অ্যাসপিরিন খেলেন। তাঁর কিছুতেই ঘুম আসছিল না। সকালে গিয়ে দেখি, অকাতরে ঘুমুচ্ছেন।

    শ্রীযুক্তা ডেকার্সের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখতে পায়নি। উল্টে তার ফিরে যেতে দেরী হয়ে যাবে ভেবে আপসোস করছিলেন। আর তাঁর স্বামী ব্রাণ্ডি গলায় ঢেলে নিজেকে সামলাচ্ছিলেন।

    –লেডি মেরি সম্পর্কে আপনার মতামত কি?

    –ভদ্রমহিলার ব্যবহার যেমন সুন্দর, তেমনি মিষ্টি কথাবার্তা। ওঁর বাপের বাড়ির সঙ্গে আমাদের বাড়ির অনেককালের চেনা পরিচয়। তিনি সেদিন মুষড়ে পড়ে ছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটা প্রকাশ করেননি। আর তার মেয়ে তো ভীষণ ঘাবড়ে গিয়েছিলো। ছেলেমানুষ কিনা।

    শ্ৰীমতী উইলস সম্পর্কে জানা গেল। তিনি কেবল হ্যাংলাপনা করে বেরিয়েছেন। কেমন একটা আদেখলাপনা ভাব।

    –এবার বলুন, সেদিন স্যার বার্মালমিউয়ের আচার আচরণ কেমন ছিল?

    — পার্টির আয়োজন নিয়ে হৈ হৈ চলছে। কর্তা খুব খুশী। এমন কি একবার এলিসের সঙ্গে রসিকতাও করে ফেললেন। কর্তার কাছে টেলিফোনে জানানো হয়েছিল হাসপাতাল থেকে যে একটি নতুন রোগী এসেছে। ফোনটা ধরেছিল এলিস। রোগী নয় রোগীনীর নামটা ছিল ভীষণ খটোমটো। শ্রীযুক্তা ডি. রাসব্রিজার। এই নামটা নিয়েই কর্তা ওর সঙ্গে মজা করছিলেন।

    শ্ৰীমতী চার্চকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় দিলেন।

    বছর তিরিশের সাধারণ চেহারার মেয়ে অ্যালিস। কিন্তু শরীরের যৌবনের যাদু প্রকটিত।

    দেখা গেল, এলিস সম্পর্কে তার ধারণা ভালো।

    –ও কেমন করে বিষ দেবে? টেবিলের দায়িত্ব ছিলো আমার ওপর। যদি সে বিষ দিতো তাহলে নিশ্চয়ই আমার নজরে পড়তো।

    –তার মানে তুমি বলতে চাইছো, প্রত্যেকে যে পট থেকে কফি খেয়েছিলেন, তোমার কর্তাও ঐ একই পাত্রে কফি পান করেছিলেন?

    –হ্যাঁ, তাই।

    — তাহলে তোমার কর্তাকে কে খুন করেছে বলে তোমার মনে হয়?

    –উনি তো খুন হননি। হঠাৎ হার্টফেল করে মারা যান।

    – জানেন স্যাটার্থওয়েট, ব্যারিংটনের মৃত্যুর সঙ্গে টলির মৃত্যুর যোগ না থাকলেও টলির মৃত্যুর জন্য আমি অ্যালিসকেই সন্দেহ করতাম।

    – কারণ?

    –মেয়েটা যেমন উশৃঙ্খলা, ও অতি সহজেই নিজের শরীরের দিকে কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেই অবসরে কোনো কুমতলব হাসিল করা অসম্ভব নয়। তবে মেয়ে দেখে মজার মতো মন বা বয়স– কোনোটাই টলির ছিল না।

    –কিন্তু নারীর আকর্ষণ মাথা খারাপ করার বিপদ এই বয়সেই সবচেয়ে বেশি নয় কি? –কি যে বলেন, আমতা আমতা করে বলেন স্যার চার্লস।

    .

    ০৫.

    খানসামার ঘর

    –চলুন, খানসামার ঘরটা একবার ঘুরে আসি। স্যাটার্থওয়েট বললেন, তবে ভাবছি, পুলিস তো একবার ঘরটা দেখেছে। তারপর আর কিছু লাভ হবে?

    –পুলিসের কথা আর বলবেন না। পাকা ডিটেকটিভের মত হেসে উঠলেন অভিনেতা স্যার চার্লস। ওরা খুঁজেছে অপরাধের প্রমাণ, আর আমরা খুঁজবো নির্দোষিতার প্রমাণ।

    যে ঘরটিতে এলিস ছিলো সেখানে এসে ঢুকলেন দুজনে। বড় ঘর, এদিকে ফায়ার প্লেস। লোহার খাটে বিছানা পরিপাটি করে পাতা। আলনায় পোশাক সুন্দর করে সাজানো। একজোড়া জুতোও রয়েছে। কিন্তু খানসামার উদিটা আলনায় নেই। টেবিলের ওপর কালিভরা দোয়াত আছে কিন্তু কালি নেই। ঘরটা তন্ন তন্ন করে খুঁজলেন। তেমন কিছু নজরে পড়লো না। তবে ফায়ার প্লেসের কাছে দেওয়ালে একটু কালি ছিটকে পড়ার দাগ নজরে পড়লো।

    –না, এখানে কিছু পাওয়া যাবে না। হাতাশার সুর স্যার চার্লসের কথায়।

    – এরকম বেতালা কাণ্ডের মধ্যে গল্পের গোয়েন্দারা যদি পড়তেন, তাহলে দেখতাম তাদের কি হাল হতো।

    শ্রীযুক্ত স্যাটার্থওয়েটের কথা শুনে স্যার চার্লস হেসে উঠলেন।

    স্যার বার্থালমিউয়ের বাড়ির বাগানে ওঁরা দুজনে পায়চারি করতে করতে আলোচনা করছিলেন।

    –শ্ৰীমতী চার্চ বলছিলেন, স্যার চার্লস খুশীর মেজাজে ছিলো। এলিসের সঙ্গে ঠাট্টাও করেছিল। রোগীনীর নাম কি যেন বলেছিল?

    – শ্রীযুক্তা ডি. রাসব্ৰিজার।

    – টেলিফোনের খবরটা কোনো সাংকেতিক ব্যাপার বলে আমার মনে হয়। ঐ সঙ্কেতের প্রকৃত অর্থ আমাদের জানতে হবে। হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিতে হবে যে ঐ নামে কোনো রোগিনী আমাদের জানতে হানে সাংকেতিক।

    কয়েক মিনিটের মধ্যে ওঁরা দুজন আরোগ্য নিকেতনে এসে হাজির হলেন।

    হাসপাতালের মেট্রনের সঙ্গে কথা বলছিলেন স্যার চার্লস।

    –অনেক কষ্টে তিনি এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে দিয়ে গেছেন, মেট্রন বলেন, এর বিরাট সুনামের প্রায় সবটুকুই তাঁর দান।

    — আপনাদের এখানে নার্ভ কেসের চিকিৎসাই বেশি হয় তাই না?

    –হ্যাঁ।

    — আচ্ছা, শ্রীযুক্তা ডি. রাসব্রিজার নামে কোনো ভদ্রমহিলা এখানে এসেছেন? মহিলা আমার চেনাজানা। ওঁর সম্পর্কে টলির সঙ্গে আমার আগে কথা হয়েছিল।

    –হ্যাঁ, এসেছেন। স্যার বার্থালমিউ যেদিন মারা যান সেদিন বিকালেই উনি ওয়েস্টইণ্ডিজ থেকে এখানে এসে পৌঁছোন। ওঁর স্বামী একজন আত্মীয়ের সঙ্গে এখানে ওঁকে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

    –এখন তিনি কেমন আছেন?

    — খুব ভালো নয়। নার্ভাস ব্রেক ডাউন, বাইরের লোকজনের সঙ্গে দেখা করা বা চিঠি লেখা সব বন্ধ।

    আরো দু একটা সাধারণ গ্রাম প্রকাশ করে ওঁরা আরোগ্য নিকেতন থেকে বেরিয়ে এলেন।

    এরপর তারা হাজির হলেন স্থানীয় থানায়। অলিভার ম্যানডার্সের সেদিনের অ্যাকসিডেন্টে সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার জন্য।

    থানায় খোঁজ খবর দিলেন। যেখানে অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে জায়গাটিও দেখলেন। দুধারে প্রায় দশ ফুট উঁচু পাঁচিল একেবারে সোজা এবং প্রায় ফাঁকা রাস্তা চলে গেছে। থানা থেকে আশাপ্রদ কোনো ফল পাওয়া গেল না।

    স্যার চার্লসের হঠাৎ খানসামার ঘরের দেওয়ালে দেখা কালির দাগ কথা মনে পড়লো। ওটা ভালো ভাবে পরীক্ষা করে দেখা দরকার।

    .

    ০৬.

    দেওয়ালে কালির দাগ

    দেয়ালের কালির দাগ দেখে কি বোঝা যেতে পারে সেটা বোধগম্য হলো না স্যার স্যাটার্থওয়েটের কাছে।

    মনে হয় স্যার চার্লস সেটা বুঝতে পেরেই জিজ্ঞেস করলেন, দেওয়ালের ঐ জায়গায় কালির দাগটা কেমন করে পড়লো বলে আপনার মনে হয়?

    — মনে হয়, কলম পড়ার কালির দাগ। স্যাটার্থওয়েট বললেন। এ ঘরে অবশ্য কোনো কলম পাওয়া যায়নি। বুঝতে হবে এলিসের কিংবা তার আগের খানসামার কোনো ফাউন্টেন পেন ছিল।

    –কিন্তু কলম পাড়লে টেবিলে বসেই পাড়বে। ফায়ার প্লেসের দেওয়ালে যাবে কি করে?

    একটি লেখবার কাগজ আর পেনসিল মার্থা লেকির কাছ থেকে চেয়ে নিলেন স্যার চার্লস। এই ঘরে কি হচ্ছে সেটা জানা এবং দেখার জন্য অল্প বয়েসী পরিচারিকাদের কৌতূহলের শেষ নেই।

    ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে কাগজ পেনসিল টেবিলের ওপর রাখলেন সার চার্লস। তারপর ফায়ার প্লেসের কাছে গিয়ে মন দিয়ে দাগটা পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন। তাঁর নির্দেশ মত স্যার স্যাটার্থওয়েট খাটের ওপর চুপ করে বসে রইলেন।

    পাঁচ মিনিট পর স্যার চার্লস উঠে এলেন –আমি এখন এলিস। আর এই পেনসিলটি হবে আমার কলম। অভিনয় হবে বোবা। কয়েক মিনিট লাগবে।

    সেই কয়েক মিনিটে স্যার স্যাটার্থওয়েট বুঝতে পারলেন যে স্যার চার্লস সত্যিই কতবড়ো অভিনেতা।

    চোখে মুখে দারুণ উত্তেজনা নিয়ে এলিস ঘরে ঢুকলো। দরজা বন্ধ করলো। কি যেন ভাবছে। এখনই তাকে কি যেন একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। একটা শব্দ? না কিছু নয়। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। টেবিলের কাছে দ্রুত পায়ে এসে চেয়ারে বসলো, কাগজ কলম এগিয়ে নিলো! কি যেন লিখছে দ্রুত হাতে। শব্দে কান খাড়া করে। দরজার কাছ থেকে শব্দটা আসছে। তবে কি পুলিস? ভাষণ ভয় পেয়ে দ্রুত ছুটে গেল ফায়ার প্লেসের কাছে। কাগজটা দলা পাকিয়ে ফায়ার প্লেসের আগুনে ছুঁড়ে ফেলে দিলো। তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে হাতের কলমটা ছিটকে গিয়ে দেওয়ালের গায়ে লাগলো। খুব স্বাভাবিক মুখে দরজার দিকে এগিয়ে গেল এলিস। দরজা খুলে দেখলো। না, কেউ নেই।

    স্যার চার্লস, কালির দাগের রহস্যটা এবার আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে। উচ্ছ্বসিত হলেন স্যাটার্থওয়েট।

    পেনসিলটা ঘুরিয়ে নেবার জন্য স্যার চার্লস নিচু হলেন।

    –মনে হচ্ছে, যা চেয়েছিলাম তার থেকে বেশি কিছু পেয়ে গেছি। স্যাটার্থওয়েট শীগগির আসুন।

    স্যাটার্থওয়েট এগিয়ে গিয়ে ঝুঁকে পড়লেন। খুব ভালো করে লক্ষ্য করলেন, — মনে হচ্ছে। একটা কাগজ।

    – কাগজ নয়। দাঁড়ান একমিনিট।

    স্যার চার্লস দরজা খুলে বাইরে বেরোলেন। একটু পরেই একটা বোনবার কাঁটা হাতে নিয়ে আবার ঢুকলেন।

    ফায়ার প্লেসের নিচে থেকে দলা পাকানো কাগজগুলো বের করলেন স্যার চার্লস। কয়েকটা চিঠি! মন দিয়ে দুজনে পড়লেন। এগুলি একই চিঠির কয়েকটা খসড়া মাত্র। অতিশয় স্পষ্টভাবে পত্রলেখক এলিস তার বক্তব্যটি জানিয়েছে — ডাক্তার কিভাবে মারা গিয়েছেন সব জানি। পুলিসকে এখনও কিছু বলিনি। শিগগির আমার সঙ্গে দেখা করে….।

    হঠাৎ কোনো কারণে লেখাটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। হঠাৎ এলিস আচমকা ভয় পেয়ে কাগজগুলো দলা পাকিয়ে ফায়ার প্লেসের দিকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

    স্যার স্যাটার্থওয়েট অভিনন্দন জানালেন স্যার চার্লসকে।

    –স্যাটার্থওয়েট, আমরা কিন্তু এখনো টলির আসল হত্যাকারী কে জানি না। এলিস নিজে খুন করেনি তবে কে করেছে সেটা সে জানে। ও চেয়েছিল হত্যাকারীর সঙ্গে ব্ল্যাকমেল করতে। কিন্তু গেল কোথায় সে?

    — পুলিসকে তাহলে খবরটা জানাতে হয়। স্যাটার্থওয়েট জানালেন। পুলিশের ধারণা এলিসই খুন করেছে। অথচ আসল খুনী গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেটা পুলিস বুঝুক।

    – পুলিসের ওপর আমার একটুও আস্থা নেই। তাছাড়া পুলিসের কাণ্ডকারখানায় আসল হত্যাকারী হুঁশিয়ার হয়ে যাবে। অতএব সেটা করা চলবে না।

    –কিন্তু সৌজন্য বলেও তো একটা ব্যাপার আছে।

    –বেশ, জানিয়ে দিন। ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্যার চার্লস সম্মতি জানালেন।

    .

    ০৭.

    মন্ত্রণা

    চিঠিগুলোর কথা জানালেন ওঁরা লণ্ডনের পুলিস অফিসার কর্ণেল জনসনকে। তিনি তাদের ধন্যবাদ জানালেন। কিন্তু মনে মনে খুশী হতে পারলেন না এই ভেবে যে দুজন অপেশাদার লোক তাদের ওপর টেক্কা দিচ্ছে।

    কালির দাগ লক্ষ্য করে তারা কেমন ভাবে চিঠিগুলো উদ্ধার করলো সেটা বিস্তারিত জানালেন স্যার চার্লস।

    চিঠিগুলো পেয়ে পুলিসের কাছে একটা ব্যাপার স্পষ্ট হলো যে যাজক ব্যারিংটন এবং ডাক্তার বার্থলমিউয়ের মৃত্যু এক অভিন্ন সূত্রে গাঁথা। কর্ণেল জনসন জানালেন, তিনি লুমাউনের পুলিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যারিংটনের মৃত্যু সম্পর্কে নতুন করে অনুসন্ধানের কাজ শুরু করবেন।

    খবরের কাগজে যেন এখন চিঠিগুলোর কথা প্রকাশিত না হয় সে বিষয়ে পুলিসকে সাবধান করে দিয়ে স্যার চার্লস ও স্যাটার্থওয়েট থানা থেকে বেরিয়ে এলেন।

    চেলাসায় শ্রীযুক্ত স্যাটার্থওয়েটের বাড়ি সাজানো গোছানো সুন্দর। বাড়ির মালিক যে শিল্প রসিক, তার পরিচয় ছড়িয়ে আছে সর্বত্র।

    বৈঠকখানা ঘরে বসে আছেন তিনজন– স্যার স্যাটার্থওয়েট, স্যার চার্লস ও হারমিয়োন।

    হারমিয়োনকে একটু রোগা লাগছে, কিন্তু তার ঠোঁটে লেগেছে প্রতিজ্ঞার কাঠিন্য, স্যাটার্থওয়েট লক্ষ্য করলেন।

    — আপনি ফিরে আসবেন। আমি জানতাম। হারমিয়োন স্যার চার্লসকে লক্ষ্য করে বললো। এবার আর কোনো চিন্তা নেই, সব ঠিক হয়ে যাবে।

    ওর কথা বলার ভঙ্গীমা দেখে স্যাটার্থওয়েট স্পষ্ট বুঝে নিলেন যে হারমিয়োন স্যার চার্লসকে গভীরভাবে ভালোবেসেছে। আর চার্লসও হারমিয়োনকে ভালোবেসেছেন। একটি অপরাধ, না দুটি অপরাধ মাঝখানে সেতুবন্ধনের কাজ করে চলেছে।

    দক্ষিণ ফ্রান্সের সমুদ্রতীরের কথা, বার্থালমউয়ের মৃত্যু সংবাদের কথা, ইয়র্কশায়ারে তাদের অভিজ্ঞতার কথা সবিস্তারে বললেন স্যার চার্লস।

    সব শুনে হারমিয়োন মাথা নেড়ে বললো, আপনারা আসল কথাটাই বুঝতে পারেননি।

    ঘরের বাকি দুজন তার দিকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে রইলেন।

    –এলিস আর বেঁচে নেই। সে অনেক কিছু জেনে ফেলেছিল। তাই তাকে খুন করা হয়েছে। হত্যাকারী তাকে নিরাপদ মনে করেনি। তার মানে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা হলো তিন।

    একটু চুপ করে থেকে স্যার চার্লস বললেন, তোমার কথা হয়তো মেনে নিলাম, কিন্তু এলিসের মৃতদেহটা কোথায় যাবে?

    – আছে, ঐ বাড়িরই কোথাও। ঐরকম প্রাসাদের মত বাড়িতে তো চোরাকুঠুরির অভাব নেই। ভালো করে খুঁজলে নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে।

    শ্ৰীযুক্ত স্যাটার্থওয়েট ভাবলেন, হারমিয়োনের কথা যদি সত্যি হয় তাহলে হত্যাকারী যে ভীষণ সাংঘাতিক সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তার মানে তিনিও বিপদে পড়েছেন। কেবল তিনি নন, স্যার চার্লস, হারমিয়োনও তার সঙ্গে আছে। প্রয়োজন মনে করলে খুনী আর একটা খুন…..

    –আপনাকে এই তিনটি মৃত্যুর রহস্য খুঁজে বের করতেই হবে। হারমিয়োনের কণ্ঠে দৃঢ়তার ছাপ স্পষ্ট। এ কাজ অন্য কাউকে দিয়ে হবে না, আমি জানি। আপনি নিশ্চয় ভয় পেয়ে পেছিয়ে যাবেন না। রহস্যের আড়ালে যে সত্য লুকিয়ে আছে সেটা আমরা, মানে আমি আর আপনি খুঁজে বের করবোই।

    — আর স্যাটার্থওয়েট?

    — হ্যাঁ।

    শ্রীযুক্ত স্যাটার্থওয়েট মনে মনে হেসে উঠলো, হারমিয়োন না চাইলেও তিনি ওদের সঙ্গে থাকবেন। কারণ তিনি রহস্য ভালোবাসেন। ভালোবাসেন মনুষ্য প্রকৃতির সমীক্ষা। এই সুবর্ণ সুযোগ তিনি কখনোই ছাড়বেন না।

    অনেকক্ষণ ধরে চুপ করে বসে কি যেন ভাবলেন স্যার চার্লস। বোঝা যাচ্ছে, তিনি এখন পরিচালকের ভূমিকা গ্রহণ করবেন।

    –আমরা বিশ্বাস করি যে দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডটি প্রথম হত্যাকাণ্ডটির থেকেই উদ্ভূত। অর্থাৎ ব্যারিংটনের মৃত্যু রহস্য সম্পর্কে বার্থালমিউ যা জেনেছিলেন, সেটা যেন আর কেউ না জানতে পারে সেইজন্য হত্যাকারীটি চিরদিনের জন্যে তার মুখ বন্ধ করে দিয়েছিল, তাই তো?

    হারমিয়োন ও স্যাটার্থওয়েট ঘাড় কাত করে তাদের মত জানালো।

    — অতএব হত্যাকারীর উদ্দেশ্য কি ছিল সেটা জানতে হবে? প্রথমতঃ ব্যারিংটনকে হত্যা করে কেউ আর্থিক দিক দিয়ে লাভবান হবে এমন কোনো সম্ভাবনা কি আছে?

    –মনে তো হয় না। স্যাটার্থওয়েট বললেন।

    –তিনি তার অজ্ঞাতসারে কোনো ক্ষতি কারো করেছিলেন কিনা সেটা জানতে হবে। তৃতীয় কারণ ধরা যেতে পারে জিঘাংসাবৃত্তি। এটাও একধরনের পাগলামি। এক্ষেত্রে সেটাও প্রযোজ্য নয়।

    একটু থেমে স্যার চার্লস আবার বলতে থাকেন– ভয়ও আর একটি কারণ হতে পারে। মনে করুন, ব্যারিংটন কোনো একটি লোককে কোনো এক বিশেষ সময়ে কোনো একটি জায়গায় দেখেছিলেন। হয়তো লোকটি এমন একটি অ্যালিবাই সৃষ্টি করে রেখেছে যে সেই সময়ে সে সেখান থেকে শখানেক মাইল দূরে আছে। যদি ব্যারিংটন সরল, মনে লোকটির সঙ্গে তার দেখা হওয়ার কথা কারোকে বলে ফেলেন তাহলে?

    – হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি। স্যাটার্থওয়েথ বললেন।

    শেষ পর্যন্ত ঠিক হলো, দুই পার্টিতে যাঁরা নিমন্ত্রিত ছিলেন তাদের নামের একটি তালিকা তৈরি করে কাকে কি কারণে সন্দেহ করা যায় সে বিষয়ে বিবেচনা করে দেখা।

    তালিকা লিখতে বসলো হারমিয়োন, কার নাম আগে লিখবে, কার নাম লিখবে না এসব নিয়ে স্যার চার্লসের সঙ্গে প্রায় তর্ক লেগে গেল। একটা খণ্ড প্রলয় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা করে শ্রীযুক্ত স্যাটার্থওয়েট বেল বাজিয়ে কফির হুকুম দিলেন। স্যার চার্লস উঠে দাঁড়ালেন। এগিয়ে গেলেন একটা নিগ্রো-ভাস্কর্যের সামনে। গম্ভীর মুখে বসে রইলো হারমিয়োন।

    কফি পান করার পর সবার মেজাজ স্বাভাবিক হলো। এবার ঠিক হলো –স্যার চার্লস কুলায় ফিরে যাবেন আর হারমিয়োন তার মাকে নিয়ে লুমাউথের ব্যারিংটনের সঙ্গে কথাবার্তা বলবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }