Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2485 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১. মিসেস ভ্যান রাইডক

    দি মিরর মিষ্ট্রি (মিস মার্পল ধারাবাহিক) – আগাথা ক্রিস্টি

    ০১.

    মিসেস ভ্যান রাইডক আয়নার কাছ থেকে সরে এসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে জেন মারপলের কাছ থেকে তার পোষাকটা সম্বন্ধে জানতে চাইলেন। মিস মারপল ভালো করে দেখে নিয়ে গাউনটির খুব প্রশংসা করলো। আবার মিসেস রাইডক লম্বা নিঃশ্বাস ফেললেন এবং তার বয়স্কা পরিচারিকা স্টেফানিকে সেটি খুলে নেওয়ার জন্য আদেশ জানালেন।

    স্বল্পবাসে আচ্ছাদিত মিসেস রাইডক আয়নার সামনে দাঁড়ালেন। পরিমিত প্রসাধন ও পরিচর্যার জন্য তাঁর শরীরে এখনও লাবণ্যের রেশ মুছে যায়নি। সর্বাঙ্গে সযত্ন প্রয়াস সুস্পষ্ট।

    রুথ ভ্যান রাইডক জেনকে কৌতুকের সুরে জিজ্ঞাসা করলেন, তারা যে সমবয়সী একথা কি প্রকাশ পায়?

    মিস মারপলের বিস্মিত হয়ে তার মনের কথা জানালেন, তিনি কোনোমতেই তার বয়সকে এক মুহূর্তের জন্যও লুকিয়ে রাখতে পারেন না।

    মিস মারপল মাথার কেশ শুভ্র। মুখের গোলাপি চামড়ায় ভাঁজ পড়েছে। চোখ দেখলেই তার মনের নির্মল ভাবের কথা কারুর অবিদিত থাকে না। মিসেস রাইডকের সঙ্গে এখানেই তার ব্যতিক্রম।

    মিসেস রাইডক জেনের সঙ্গে একমত হলেন। সোফার ওপর সমস্ত দেহের ভার ছেড়ে বসে তিনি স্টেফানিকে বিদায় দিলেন। স্টেফানি পোষাকটা নিয়ে বেরিয়ে গেল। স্টেফানি রাইডকের তিরিশ বছরের সঙ্গী। রাইডকের অতীতের চেহারা সম্বন্ধে সে-ই একমাত্র সাক্ষী। রাইডক জেনকে জানালেন যে তার সঙ্গে রাইডকের কিছু কথা আছে। জেন রাইডকের প্রতি মনোযোগ দিলেন। রাইডক জানালেন তিনি লুইজির সম্বন্ধে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

    মিস মারপলের মন অতীতে পাড়ি দিল। ফ্লোরেন্সের বোর্ডিংবাড়ি। দুই মার্কিন প্রাণবন্ত মেয়ে। আকর্ষণীয় ব্যবহার। রুথ লম্বা আগ্রহী মেজাজী। ক্যারি লুইজি ছোট্টখাট্টো সাদাসিধে স্বপ্নালু। লুইজির সঙ্গে জেনের বহুদিন দেখা হয়নি। তাহলেও ক্রীসমাসের কার্ডের মধ্যে দিয়ে তাদের যোগাযোগ আছে।

    তিনজনের জীবন তিন পথের পথিক হলেও প্রীতি বিনিময়ের মধ্যে দিয়েই পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ অবিছিন্ন রয়েছে। এদের মধ্যে রুথ ইওরোপে বেশি আসে। তাই মিস মারপলের সঙ্গে রুথের বেশি দেখা হয়। ক্যারি লুইজ ইংলণ্ডে থাকা সত্ত্বেও বিশ বছরের বেশি তার সঙ্গে দেখা হয়নি। হয়তো একজায়গায় থাকা হয় বলেই দেখা সাক্ষাতের আয়োজন কম হয়।

    ক্যারি লুইজকে নিয়ে রুথের দুশ্চিন্তার কারণ মিস মারপল জানতে চাইল, কিন্তু কারণটা অজানা বলেই রুথ জানাল তার চিন্তা এত বেশি। তার স্বাস্থ্য বা সুখ নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। সংসারের স্বরূপ লুইজের অজানা আর সেইখানেই রুথের যত চিন্তা। এদের মধ্যে লুইজি আদর্শবাদী সারাজীবন সেবা ও ধর্মের মধ্যেই জীবন নিয়োগ করবে এই ছিল জেনের চিন্তা। আর রুথ হলো শক্ত মনের মানুষ। সমাজের কাছ থেকে কিছু আশা করে না। তবে ক্যারি লুইজ সম্বন্ধে রুথের একটাই চিন্তা–কেবলই আদর্শবাদী লোকেদের বিয়ে করে, যারা রুথের মতে মাথা খারাপ লোকেদের দলে। উচ্চ ভাবনার কথায় লুইজের মন বিগলিত হবেই। যে কোনও বয়সের মানুষকেই সে সমস্ত বিচার বিবেচনা হারিয়ে নিজের করে নিতে পারত। তাদের মধ্যে গুলব্রাজেন একজন। যার খ্যাতি পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। তিনি তার সমস্ত ধনসম্পদ সকাজে দান করেছেন। ক্যারি বত্রিশ বছর বয়সে বিধবা হয়।

    অবিবাহিত মিস মারপল একমনে রুথের কথা শুনে যায়। রুথ বলে চলে, জনি বেষ্টারিককে ক্যারি যখন বিয়ে করেছিল তখন সে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিল। জনি ছিল অতি স্বার্থপর, বিলাসী ও অলস তবে স্বামী হিসেবে নিরাপদ। বিলাসবহুল জীবন ছাড়া সে আর কিছু চাইত না। জনির থিয়েটার নিয়ে মাথা ঘামানো বা সীন আঁকা এইসবেই লুইজির মন গলেছিল। মাঝখান থেকে শিল্পের দিকে জনিকে ঠেলতে গিয়ে লুইজি তাকে হারাল। একটা যুগোশ্লাভ মেয়ে জনিকে বশ করল। মজার কথা এই, যে লুইজি তার ক্ষমাসুন্দর মন নিয়ে সমস্ত ঘটনাটা খুব সহজভাবে নিল। জনির আগের পক্ষের দুই ছেলেকে নিজের কাছে এনে রাখল। জনির সঙ্গে মেয়েটার বিয়েতে কিছুই অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালো না। জানা যায় মেয়েটা নাকি জনিকে প্রচুর যন্ত্রণা দিয়ে গাড়িসুদ্ধ খাদে ফেলে দেয়।

    মিসেস রাইডক আয়নায় একবার মুখটা দেখে নেয়। তারপর বলে চলে লুইজি আর এক পাগল লিউইসকে বিয়ে করে। সবার জীবনে উন্নতি ঘটানোই যার লক্ষ্য। তবে সে তার স্ত্রীকে ভালোবাসে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উপকার করার পদ্ধতিও পাল্টায়। এখন শিশু অপরাধীদের নিয়ে সকলে ভাবতে বসেছে। এদের ব্যাপারে লিউইসের প্রচণ্ড উৎসাহ। লুইজির কাছে এর আবেদন অবর্ণনীয়। এসব ব্যাপার রুথের ভালো লাগে না। গুলব্রাজেন সম্পত্তির অছিদের পরামর্শমত লুইজির বাড়ির জমিতে একটা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। সেখানে এই অপরাধীদের শিক্ষা দেওয়া হয়। এদের মাঝেই লিউইস আর লুইজ বাস করে।

    মিসেস রাইডক অসহায় ভঙ্গীতে মিস মারপলের দিকে তাকালো। কিন্তু মিস মারপল বুঝে উঠতে পারে না ভয়ের কারণটা ঠিক কি। রুথ জানায় তার সাথেও কারণটা স্পষ্ট নয়। ওদের বাড়িতে সেদিন গিয়ে তার পরিবেশটা ভালো লাগেনি। অ্যামালগ্যায়েটেড সিরিয়ালন কোম্পানী ডোববার আগেই জুলিয়ানকে সব শেয়ার বেচে দেওয়ার জন্য সতর্ক করে দিয়েছিল। তার দৃঢ় বিশ্বাস কোনো গণ্ডগোল ক্রমশ দানা বাঁধছে। এদিকে লিউইস নিজের খেয়ালে মগ্ন, ক্যারি লুইজিও স্বপ্নের ঘোরে থাকতে ভালোবাসে, বাস্তবের সঙ্গে ওর কোনও যোগাযোগ নেই। রুথ জেনকে তাড়াতাড়ি ওখানে গিয়ে গোলমালের সূত্রটা অনুসন্ধান করতে বলে।

    জেন বিস্মিত হয়। কিন্তু রুথ বলে, জেনই একমাত্র পারবে। সামনে মিষ্টি ব্যবহার দেখিয়ে অন্তনিহিত সমস্ত ঘটনা জানবার মত ক্ষমতা সে রাখে। গ্রাম্য শান্তিময় পরিবেশের মধ্যে থাকলেও বাস্তবের সঙ্গে সে খুব ভালো করে পরিচিত। মানুষের মুখোশের আড়ালে মুখটা তার চোখে সহজেই ধরা পড়ে। সেইজন্যই রুথ জেনকে স্টোনিগেটসে গিয়ে খোঁজ খবর নিতে বলে। এর জন্য প্রাথমিক কাজটুকুও রুথ করে রেখেছে।

    মিসেস ভ্যান রাইডক একটা সিগারেট ধরিয়ে তার বক্তব্য মারপলকে বলতে লাগলো।

    রুথ ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলো, একথা অস্বীকার করা যায় না যে যুদ্ধের পর থেকে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের পক্ষে জীবন নির্বাহ করা কঠিন হয়েছে। জেনও তাদের মধ্যে একজন। জেন তার কথায় সম্মতি জানিয়ে বললো, ভাইপো রেমণ্ড যদি তাকে সাহায্য না করতো তবে দিন চালানো সত্যি দুষ্কর হত।

    রুথ জেনকে থামিয়ে বলে যে ক্যারি লুইজি তার ভাইপোর সম্বন্ধে জানে না। লুইজিকে সে বলেছে, জেন খুবই অর্থকষ্টের মধ্যে দিন যাপন করছে। প্রখর আত্মসম্মানবোধের জন্য কারোর কাছে সাহয্যেও নেবে না। তাই যদি তাকে ডেকে কোনো বন্ধু একটু আরামে রাখার ব্যবস্থা করে– রুথ ভেবেছিল এইসব শুনলে হয়তো জেন রাগ করবে কিন্তু জেন অবাক হয়ে আনন্দের সঙ্গে বললো এইরকম বুদ্ধি করে রুথ এগিয়েছে যখন তখন নিশ্চয়ই লুইজি ফাঁদে পা দিয়েছে। রুথ বলে লুইজি জেনকে চিঠি লিখবে বলেছে।

    জেন প্রয়োজনটা বুঝে যেতে রাজি হয়ে যায়! রুথ জানায় তার কিন্তু কোনো স্পষ্ট ধারণার ভিত নেই। মিস মারপলের মনে অনেক দিনের আগেকার একটা ঘটনা মনে পড়ল। একবার রবিবার গীর্জার প্রার্থনা করতে গিয়ে গ্রেসের জন্য খুব চিন্তা হতে লাগল। ভয়ঙ্কর কোনো বিপদ যেন ওত পেতে রয়েছে এমন মনে হতে লাগল। ঘটলও তাই। পরদিনই, গ্রেসের বাবার, নৌ-বিভাগের বড় কর্তা ছিলেন…. মাথায় কিছুটা গণ্ডগোল দেখা দিয়েছিল। হঠাৎই কয়লাভাঙ্গার হাতুরি দিয়ে লুইজিকে মারতে শুরু করে দিয়েছিলেন। সে ধর্মবিরোধী মেয়ে, তার মেয়ে নয় এই যাচ্ছেতাই কথা বলতে বলতে প্রায় আধমরা করে ফেলেছিলেন। অবশেষে ধরে বেঁধে তাকে পাগলা গারদে পাঠিয়ে দেওয়া হল। কয়েকমাস হাসপাতালে থেকে গ্রেস সুস্থ হয়ে বাড়ি এল।

    রুথ তাকে বললো তাহলে সেদিন সে ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে আভাস পেয়েছিলো।

    আসলে জেনের ধারণার পিছনে যুক্তি ছিল। গ্রেস নিয়ম কানুন জানা মেয়ে হয়েও সেদিন উল্টো টুপি পরে এসেছিল। তার এই অসচেতনতাই জেনকে বুঝিয়ে দিয়েছিল সে অন্যমনস্ক। কিছু একটা ঘটতে চলেছে। গ্রেস সেইদিন তার বাবার আচরণের মধ্যে কিছু বিসদৃশ্য ব্যাপার লক্ষ্য করেও এটা তার মেজাজ বলে উপেক্ষা করেছিলো।

    রাইডক বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে তাকালো। সে ভেবেছিল সেন্ট মেরি মিড শান্ত সরল জায়গা। জেন তাকে বললো সব জায়গায় মানুষ সমান হয়। শহরে চট করে নজরে পড়ে না।

    জেন স্টোনিগেটস্ যেতে রাজি হল। পরোক্ষভাবে রেমণ্ডের ওপর অবিচার করা হল ঐ কথা বলে তবে সে এখন মেক্সিকোয় গেছে ছমাসের জন্য। তার আগে সব ঠিক হয়ে যাবে। তারমধ্যেই জেন গোলমালটা ধরে ফেলতে পারবে এই বিশ্বাসটুকু রাখে।

    .

    ০২.

    মিস মারপল খুব হিসেবী মহিলা। সেন্ট মেরি মিডে ফিরে যাবার আগে কিছু প্রয়োজনীয় কথা জেনে নিলেন।

    ক্যারি লুইজির সঙ্গে চিঠি আর কার্ডের মধ্যে দিয়ে কুশল বিনিময় ছাড়া বিশদভাবে কোনো যোগাযোগ তাদের মধ্যে নেই। সেইজন্য রুথের কাছ থেকে সংক্ষেপে কিছু খবর সে সংগ্রহ করতে চায়। যেমন স্টোনিগেটসের বাড়িতে কোন কোন লোকের সঙ্গে তার দেখা হবে।

    রুথ বলে, গুলব্রাজেনকে বিয়ে করে লুইজির কোনো সন্তান ছিল না। গুলব্ৰাণ্ডজেনের আগের পক্ষের তিনটি বড় ছেলে ছিল। পরে ওরা একটি মেয়েকে দত্তক নেয়, নাম পিপা। তখন তার দু বছর বয়স। ভারী মিষ্টি দেখতে তাকে। রুথ সঠিক জানে না কোথা থেকে তাকে আনা হয়েছিল তবে সম্ভবত কোনো শিশু প্রতিষ্ঠান থেকে হবে। এর মধ্যে লুইজি বুঝল সে সন্তানসম্ভবা। কিন্তু যতটা আনন্দ পাবার কথা ততটা সে পেল না। বারবার নিজেকে অপরাধী মনে হতে লাগল। মনে হলো পিম্পাকে সে এবার তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করবে। মিলড্রেড একেবারে সাধারণ চেহারা নিয়ে জন্মাল। নিজের সন্তান আর পালিত কন্যা দুজনকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে চাইলেও পিপাই যেন অনেকখানি অধিকার করে থাকত। এতে হয় তো মিলড্রেড মনক্ষুণ্ণ হত। কুড়ি বছর বয়সে সুন্দরী পিপ্পা একজন ইতালিয়ানকে বিয়ে করল। গুলব্রাজেনের বাহু টাকা পিপ্পা পাবে জেনেই মারচিজ তাকে বিয়ে করল। মিলড্রেড বিয়ে করল স্ট্রেট নামে এক পাদরীকে। লোকটি তার থেকে বয়সে কিছু বড় হলেও ভালো ছিল। তারা সুখেই থাকত।

    স্বামীর মৃত্যুর পর মিলড্রেড স্টোনিগেটসে তার মার কাছে ফিরে এল। পিপপার বিবাহিত জীবন সম্বন্ধেও লুইজি বেশ খুশি হয়েছিল। গিদো ছিল স্বাস্থ্য সৌন্দর্যে ভরপুর প্রাণবন্ত ছেলে। বছর কয়েক বাদে সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে পিপা মারা যায়। গিদো অত্যন্ত ভেঙে পড়ে। লুইজি অত্যন্ত আঘাত পায়। এরপর জনি রেস্টারিকের সঙ্গে লুইজির দেখা এবং বিয়ে হয়। গিদো আবার বিয়ে করে। তার বাচ্চা জিনা, ক্যারি লুইজি; জনি রেস্টারিক, জনির প্রথম স্ত্রী, দুই ছেলে অ্যালেক্সিস ও স্টিভেন সবাই এসে স্টোনিগেটেসে বাস করতে লাগল।

    এর কদিন বাদে মিলড্রেডের বিয়ে হল। তারপর জনির সঙ্গে বিচ্ছেদ। তার ছেলেরা অবশ্য ছুটিতে স্টোনিগেটসে আসত। তারপর ১৯৩৮ সাল নাগাদ ক্যারি বিয়ে করল লিউইসকে। প্রকাণ্ড বড় এক চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট কোম্পানীর বড়কর্তা সে। তবে ঐ পরোপকারের বিদঘুঁটে নেশা তার। প্রথমে শিশু অপরাধীদের ধরে এনে পুষ্টির ব্যবস্থা করা তারপর তাদের পড়ানোর জন্য উঠে পড়ে লাগা। লিউইস ভেবেছিল অপরাধীরা বুদ্ধিমান জীব। ঠিকমত কাজে লাগাতে পারলে তাদের দিয়ে অনেক ভালো কাজ করানো যায়। মিস মারপল রুথের এই কথায় সম্মতি জানায়। তবে তার মতে কথাটা একেবারে সত্যি হয় না সবসময়।

    রুথ আবার মারপলের কাছে ভালোভাবে জেনে নিল, লুইজি ডাকলে সে তাহলে অবশ্যই যাচ্ছে তো। মারপল কথা দিল।

    .

    ০৩.

    মিস মারপল ট্রেন থেকে যে স্টেশনে নামল তার নাম মার্কেট কিম্বল। যাত্রীদের সংখ্যা খুব বেশি নয়।

    বেশ হাওয়া বইছিল। পরিধানে সাধারণ পোশাক মারপলের। জিনিসপত্র সামলে নিয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে এমন সময় একজন যুবক তার দিকে এগিয়ে এল।

    নিজের পরিচয় জানিয়ে ছেলেটি বলল, যে সে স্টোনিগেটস থেকে মারপলকে নিতে এসেছে। ছেলেটি কেমন যেন মুখস্থের মত করে কথা বলল। কথাবার্তায় কৃত্রিমতার ছাপ।

    মিস মারপলের চেহারার মধ্যে অসহায় বৃদ্ধার ছাপ। কথাবার্তায় স্যুটকেশটা নিতে বলাতে সে একটা কুলিকে ডেকে স্যুটকেশটা গাড়িতে তুলে দিতে বলল। কুলিটি খুব একটা গুরুত্ব না দেওয়ায় ছেলেটি তার ওপর একটু চটে গেল।

    মিস মারপলকে নিয়ে যেতে যেতে আত্মপরিচয় দিয়ে ছেলেটি বলল, তার নাম এডগার লোমন। মিসেস সোরাকোল্ড তাকে পাঠিয়েছে। সে তার সহকারী।

    তার কথাবার্তার মধ্যে আত্মতুষ্টির ভাব স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। নিজের কথা বেশি করে বলতে ভালোবাসে। তবে তার কথা শুনে মিস মারপল বুঝতে পারল তার সুরটা খাঁটি নয়। কোথায় যেন বেসুরো বাজছে। মারপল একটু চিন্তিত হল। স্টেশনের বাইরে ফোর্ড গাড়ির দিকে এডগার এগিয়ে গিয়ে মারপলের কাছে জানতে চাইল কোন দিকে সে বসবে, সামনে না পিছনে।

    উত্তর দেবার আগেই একটা ঘটনা ঘটল। ঝকঝকে একটা রোলস্-বেল্টলে গাড়ি গর্জন করে স্টেশনের সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল। অতুলনীয় সুন্দরী একটি মেয়ে গাড়ি থেকে লাফিয়ে নামল। পরনে কর্ডবয় স্ন্যাস আর গলাখোলা পার্ট।

    হৈ হৈ করে সে এডগারের সঙ্গে কথা বলতে লাগল। মিস মারপলকে নিয়ে যেতে সে এসেছে। ঝকমকে হেসে বলল তার নাম জিনা। ক্যারি লুইজি তার দিদা। মারপলের জলের ব্যাগের খুব প্রশংসা করল। তারপর তার কোট ব্যাগ নিয়ে গাড়িতে উঠতে সাহায্য করল।

    জিনার হঠাৎ আগমনে এডগার বেশ বিরক্ত। কিন্তু, জিনা তার রাগকে গুরুত্ব না দিয়েই মারপলের বাক্সটাক্সগুলো সব নিয়ে আসতে বলল তাকে।

    মিস মারপলকে গাড়িতে বসিয়ে জিনা দ্রুত ড্রাইভ করে স্টেশন থেকে বেরিয়ে গেল।

    মিস মারপল এডগারের কথা তুলতেই জিনা হেসে তার মাতব্বরি হাবভাবের কথা সম্বন্ধে বলতে লাগল।

    মিস মারপল এডগারের সম্পর্কে জানতে চাইল কিন্তু জিনার মতে ওর কোনও দায়িত্ব নেই, সে একটা আস্ত পাগল। জিনার হাসিতে ঠাট্টার সঙ্গে নিষ্ঠুরতার ছোঁয়াও প্রকাশ পেল।

    এডগার সম্বন্ধে পাগল কথাটা শুনে মিস মারপল বিস্মিত হল। জিনা বলে চলল, স্টোনিগেটসে প্রায় সকলেই পাগল। সে তার দিদা লিউইস বা বেলভাবকে বাদ দিয়ে আর যারা আছে তারা সবাই অস্বাভাবিক। ওদের সঙ্গে থাকতে থাকতে জিনার নিজেরও কখনো কখনো পাগল পাগল লাগে নিজেকে। মিলড্রেড মাসিমা পর্যন্ত বেড়াতে বেড়াতে আপন মনে বকবক করেন।

    গাড়ি খালি রাস্তা দিয়ে ছুটে চলে। মারপলের দিকে তাকিয়ে জিনা বলে তার ভাবতেই অদ্ভুত লাগছে, যে দিদার সঙ্গে ইনি এক স্কুলে পড়েছেন। আসলে মারপল জিনার মনের অবস্থাটা অনুমান করতে পারে। অল্পবয়সীদের পক্ষে ভাবা খুব মুস্কিল হয় যে বৃদ্ধরাও একদিন জোয়ান ছিল। ইস্কুল আর পড়াশুনো নিয়ে নাজেহাল হত।

    জিনা সেই সূদুর অতীতের ছবি কল্পনা করতে চাইল। মারপল বলল, তাকে সেই বহুদিন আগেকার মানুষ বলে ভাবা গেলেও দিদার সম্পর্কে ভাবাটি কঠিন।

    জিনা তার সঙ্গে একমত হয়ে বলল, সত্যিই তার দিদার বয়স একটা সময়ের পর আর বাড়েনি।

    মারপল বলল, তার দিদার সঙ্গে বহু দিন দেখাসাক্ষাৎ হয় না। হয়ত পরিবর্তন হয়েছে অনেক।

    জিনা তার শরীরের বর্তমান অবস্থার কথা বলতে লাগল। কোমরে বাতের যন্ত্রণার জন্য তাকে এখন লাঠি ব্যবহার করতে হয়। চুলে পাক ধরেছে।

    স্টোনিগেটস সম্বন্ধে জিনার মন বিরূপ। পুরনো আমলের সব ঘরবাড়ি। হৈ চৈ করে দিন কেটে যায় অবশ্য। সবাই এখানে কাজ পাগল। ডাক্তারেরা সবসময় ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাচ্চা অপরাধীগুলো খুব ভালো। একজন জিনাকে শিখিয়েছে কিভাবে টুকরো তার দিয়ে তালা খোলা যায়। আর একজন, দেবদূতের মত চেহারা যার সে শিখিয়েছে কিভাবে মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করতে হয়।

    এইসব খবর মিস মারপল মন দিয়ে শুনে নিল।

    জিনা এইসব দস্যিগুলোকে খুব পছন্দ করে। তবে লিউইস বা ডঃ ম্যাডরিক মনে করে সকলে অস্বাভাবিক। কোনো না কোনও কারণে ছেলেগুলো বিগড়ে গেছে। একথা জিনা বিশ্বাস করে না। অনেক গণ্ডগোলওয়ালা বাড়ির ছেলেরাও তো ভবিষ্যতে নামটাম করে।

    এইসব সমস্যার কথা বলতে বলতে দুজনে চলতে লাগল।

    লিউইস অবশ্য এসব নিয়ে বিশেষ ভাবে না। কেউ কেউ আছে যারা প্রতিজ্ঞা করে বসে আছে মানুষের উন্নতি করবেই। যেমন লিউইস।

    মিঃ লোমন স্টেশনের সেই ছেলেটা সত্যিই সেরোকোল্ডের সহকারী কিনা মারপল জিনার কাছ থেকে জানতে চাইল।

    জিনা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে কথাটা উড়িয়ে দিয়ে বললো এই বোকাটা নাকি হোটেলে হোটেলে ঘুরে বেড়াতো, বড় বড় কথা বলে নিজেকে জাহির করাই তার কাজ। একেবারে বাজে লোক। এমন ভাব দেখায় যেন বাড়িরই একজন। ওই হয়ত একদিন তাদের সবাইকে খুন করে বসে থাকবে। বলে জিনা জোরে হেসে উঠল। মিস মারপল কিন্তু গম্ভীর হয়ে গেল।

    মস্ত ফটক পেরিয়ে গাড়ি ভেতরে ঢুকলো। গেটের বাইরে জোরালো পাহারা। রাস্তার আশেপাশে অযত্নের ছাপ। জিনা মারপলের মনের কথা বুঝেই বলল, যুদ্ধের সময় মালী পাওয়া যায় না বলে তারা রাখেনি। তাই সব খারাপ হয়ে গেছে।

    একটু বাঁক নিয়েই ভিক্টোরিয় গথিক ধরনের বাড়ির সামনে জিনা গাড়িটা দাঁড় করাল।

    মারপল নেমে বারান্দায় উঠল। তারপর জেন মারপল আর ক্যারি লুইজি দুজনে একেবারে মুখোমুখি। ক্যারি বিশেষ বদলায়নি। এখনো বিনা প্রসাধনে তারুণ্য ধরে রাখতে পেরেছে। হাতে লাঠি মাথায় রূপালী ছাপ থাকলেও চোখে স্বপ্ন, মুখে সরলতা কত বছর বাদে জেনের সঙ্গে তার দেখা! এতদিন লুইজি আসতে বলেনি বলে ভুল স্বীকার করলো। সত্যিই সে এর জন্য দুঃখিত। বারান্দার অন্য প্রান্ত থেকে জিনা চেঁচিয়ে তার দিদাকে ঘরে আসতে বললো, নইলে ঠান্ডা লেগে যাবে।

    ক্যারি লুইজি মিষ্টি হেসে বললো, এইভাবে তার স্বাস্থ্য নিয়ে এরা সব সময় হৈ হৈ করে। তারও যে বয়স হয়েছে একথা কিছুতেই ভুলতে দেবে না। তাও মন মানতে চায় না বয়স হয়েছে। পঞ্চাশ বছর আগে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা আলোচনা করে এই দুই পুরোনো বন্ধু খুব হাসতে লাগল।

    দুজনে পাশাপাশি দরজার দিকে এগোতে লাগল। দরজার মুখে এক বয়স্কা মুখে বিরক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে। খাড়া নাক, ছোট চুল।

    কড়া গলায় মহিলাটি লুইজিকে এতক্ষণ ঠান্ডায় থাকার জন্য খুব বকাঝকা করলো।

    লুইজি জলিকে না বকতে অনুনয় করল তারপর মিস মারপলের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিল।

    এর নাম মিস বেলভার। লুইজির পাহারাদার বন্ধু সব।

    জুলিয়েট বেলভার ভারী গলায় বললো, তার সাধ্যে যতটুকু কুলোয় ততটুকুইসে করে। এখানে কোনো নিয়মের বালাই নেই।

    বড় বড় আবলুশ কাঠের আসবাবপত্রে ঘরটি সাজানো। জানলায় ভারী পর্দা, রঙটা কিছুটা ফিকে। মস্ত বড় বিছানা। এরই পাশাপাশি অত্যন্ত আধুনিক স্নানঘর।

    মিস বেলভার তার ভার গলায় জানালো জন রেস্টারিক বাড়িতে দশটা স্নানঘর তৈরি করে ছিল কারাকে বিয়ে করার পর। বেলভার মারপলের কাছে জানতে চাইল, সে তাকে চেনে কিনা। উত্তরে মারপল জানাল মিসেস সেরাকোন্ডের সঙ্গে চিঠিতেই তাদের যোগাযোগ বেশি ছিল।

    হাতমুখ ধুয়ে বেরিয়ে মিস মারপল বেলভারকে দেখতে পেল। সিঁড়ি দিয়ে নেমে বিশাল হলঘর পেরিয়ে তারা যেখানে এসে পৌঁছল সেখানে প্রচুর বই। জানলার বাইরে একটি হ্রদও চোখে পড়ল।

    জানলার কাছে লুইজি দাঁড়িয়ে ছিল।

    জেন তাকে বিস্ময় ভরা গলায় বলল, এই এত বড় বাড়িতে তার তো রীতিমত ভয় করছে, যদি হারিয়ে যায়।

    লুইজি জানাল এক মস্ত বড় লৌহ ব্যবসায়ী বাড়িটা তৈরি করেছিল। একটা বাড়িতেই চোদ্দটা বসবার ঘর। প্রত্যেকটাই বিশাল বড়। লুইজি এই বাড়ির কোনও পরিবর্তন করেনি। এরিকের সঙ্গে এখানে আসবার পর থেকে প্রায় সব একই আছে। যেটুকু বদলানো হয়েছে তা বাড়ির বড় অংশটা-বড় হলঘর আর উপরের ঘরগুলো ভালো বলে ব্যবহারের জন্য রেখে দিয়েছে।

    গাছের ফাঁক দিয়ে লাল ইটের তৈরি মস্ত একটা দালান দিয়ে জিনাকে হেঁটে আসতে দেখে মারপল হেসে বললো, জিনাকে দেখতে বড় সুন্দর হয়েছে।

    লুইজি বললো, যুদ্ধ শুরু হবার আগে ওকে সে আমেরিকায় রুথের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিল। জিনার বিয়ের ব্যাপারে রুথ খুব মুষড়ে পড়েছিল। রুথ বলেছিল ছেলেটি জিনার উপযুক্ত পাত্র নয়। যাইহোক জিনা এই বাড়িতে চলে আসার পর লুইজির ভালোই লাগে। কারণ এত প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর একটা মেয়ে বাড়িতে থাকলে বাড়ির চেহারাই অন্যরকম হয়ে যায়।

    জানলার বাইরে সুপুরুষ যুবকটির সঙ্গে জিনাকে দেখতে পেয়ে মারপলের খুব ভালো লাগল। মারপলের ভুলটা ভাঙিয়ে দিয়ে লুইজি বললো, ও হচ্ছে স্টিভ, জন রেস্টারিকের ছোট ছেলে। ও এখানেই থাকে। নাটক, থিয়েটারের সব দেখাশোনা করে।

    জেন কিন্তু এত দূর থেকেও ওদের দুজনের হাবভাবের মধ্যে বিশেষ কিছু লক্ষ্য করল। লুইজিকে তার আভাস দিতেই সে একেবারে উড়িয়ে দিল কথাটা। কিন্তু মারপলের মনে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই, সে স্থির নিশ্চিত স্টিভেন জিনার প্রেমে পড়েছে। মারপলের দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা সবসময় প্রশংসা পেয়ে এসেছে। সে জানে যা একবার তার চোখে ধরা পড়ে তা ভুল হয় না।

    .

    ০৪.

    মিসেস সেরাকোল্ডের স্বামী হাতে কয়েকটা চিঠি নিয়ে হলঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।

    লিউইস সেরাকোল্ড ব্যক্তিত্বময় ছোটখাটো মানুষ। রুথের মতে সে একটা ডাইনামো ছাড়া আর কিছু নয়।

    লিউইস লুইজিকে কিছুটা বিমর্ষ ভাবে বললেন, ওরা যা ভেবেছিলেন কিন্তু তা হয়নি, আবার দুষ্টুমী শুরু করেছে। আবার চুরি করতে আরম্ভ করেছে।

    লুইজি মারপলের সঙ্গে তার আলাপ করিয়ে দিল। অন্যমনস্ক ভাবে পরিচয়টুকু সেরে ফেলে তিনি আবার পুরনো কথায় ফিরে এলেন। একটু পরে আবার কি মনে হতে অতিথির প্রতি মনোযোগ দিলেন।

    মারপল যে নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন একথা জানিয়ে তিনি আনন্দ প্রকাশ করলেন। তাকে অনেক থাকতে অনুরোধ করলেন, তাতে লুইজির মন ভালো হবে জানালেন।

    লিউইস হাতের অন্যান্য চিঠি নিয়ে লুইজির সঙ্গে আলোচনা করতে লাগলেন। মারপলের দিকে ফিরে বললেন, এইসব ছেলেরা টাকার গুরুত্ব কিছু জানে না। তাদের শেখাতে হবে টাকার প্রকৃত রহস্য, প্রয়োজনীয়তা।

    এরপর চায়ের ডাক পড়ল। জেনের হাত ধরে লুইজি হলঘরের দিকে নিয়ে গেল। যেখানে পরিচয় হল লুইজির মেয়ে মিলড্রেডের সঙ্গে। মোটা চেহারার এই মিলড্রেডের, সাদামাটা পয়সাওয়ালা চেহারা।

    লুইজি এরপর জিনার স্বামী ওয়ালিরসঙ্গে আলাপ করাল। অপ্রসন্ন মুখে সে কেক চিবোচ্ছে।

    একটু বাদে জিনা আর স্টিভেন রেস্টারিক এল। লিউইসের পাশে এডগার লোমন এসে বসল। জিনা কথা বলতে গেলে এমন ভাব করল যেন শুনতেই পাচ্ছে না। মারপলের কাছে সবটা কেমন বিভ্রান্তিকর লাগল।

    নৈশাহারের সময় আরও কয়েকজনের সঙ্গে মারপলের দেখা হল। অল্পবয়সী ডাক্তার ম্যাডরিক, দুজন শিক্ষক আর খুব শান্ত তিনটি ছাত্র। জিনা ফিসফিস করে বলল, এদের মধ্যে যার নীল চোখ সেই লাঠিমারায় ওস্তাদ।

    খাবারদাবার পরিবেশনে অযত্নের ছাপ। খাওয়ার শেষে যে যার কাজে চলে গেল, লুইজি আর মারপল পুরনো দিনের গল্প করতে লাগলো। এরমধ্যে এডগার একটু অস্থিরতা নিয়ে স্টেশনের কথাটা তুলল। সে যে খুব আঘাত পেয়েছে তার কথাতেই তা স্পষ্ট। কিছুটা উত্তেজিত।

    লুইজি তাকে ভালো করে বুঝিয়ে বলল, জিনা ওই রকমই মেয়ে। এডগার যে গিয়েছিল তার জন্য লুইজি কৃতজ্ঞ, জিনা অপমান করতে যায়নি। যদিও এডগারের ধারণা তাকে। অপমানের জন্যই জিনা স্টেশনে গিয়েছিল। এডগার রেগেমেগে চলে গেল। ওর এই ব্যবহারে মিলড্রেড খুব বিরক্ত হল।

    রাত্রে ঘরে বসে মারপল স্টোনিগেটসের মানুষদের জীবনযাত্রা সম্বন্ধে ভাবতে লাগলো। এখনো সম্পূর্ণ রূপটা বুঝতে পারেনি। প্রত্যেকের মধ্যে ঘটনার সংঘাত সমস্যা রয়েছে। এ ওকে পছন্দ করে না ও তাকে পছন্দ করে না। চাপা অসন্তোষ।

    পিপপার মৃত্যুর পর মিলড্রেড এই বাড়ির এক মেয়ে হল। লুইজি জিনাকে স্টোনিগেটস থেকে নিয়ে আসার পর মিলড্রেড আড়ালে পড়ে গেল। পাদরী স্ট্রেটের সঙ্গে বিয়ে হল মিলড্রেডের তাদের কোনো সন্তান হয়নি। এতদিন বাদে সে নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছে। সত্যই সে সুখী কিনা বোঝা যায় না। লিউইসের নিজের কাজ ছাড়া অন্য দিকে মন নেই। অজানা কোনো স্রোতের কেন্দ্র বিন্দুতে লুইজি অবস্থান করছে। মারপলের মনেও একটা আশঙ্কা তৈরি হতে শুরু করল।

    ঘুমিয়ে পড়ার আগে এডগারের মুখটা ভেসে উঠল চোখের সামনে। তার কোথাও যেন কোনো গণ্ডগোল রয়েছে। কিছুতেই যেন সে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছে না।

    .

    ০৫.

    পরদিন সকালে লুইজিকে না জানিয়ে মারপল বাগানের দিকে গেল। অবহেলার চিহ্ন সবজায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে। শাকসজীর বাগানটাতেই একটু যা যত্ন করার ফলে অনেক সবজী হয়েছে। টেনিস খেলবার জায়গাটি বেশ পরিচ্ছন্ন। এমন সময় এডগার এসে মারপলকে দেখে কিছুটা বিস্মিত হল। মারপল তাড়াতাড়ি তাকে ডাকল। বাগান পরিষ্কার করার যন্ত্রপাতি কোথায় আছে সে দিতে পারবে কিনা মারপল তার কাছে জানতে চাইল। এডগারের সঙ্গে কথা বলতে বলতে তাকে মন দিয়ে মারপল লক্ষ্য করতে লাগল। সে এতই সাধারণ যে তাকে দ্বিতীয়বার মনে রাখবার প্রয়োজন হয় না।

    মারপল তাকে জিজ্ঞেস করলো মিঃ সেরাকোল্ড তার ওপর নির্ভর করেন কিনা। হয়তো নিশ্চয় করেন।

    এডগার অন্যমস্ক হয়ে বললো তার সত্যই সে ব্যাপারে জানা নেই।

    এরপর মারপলের কাছে প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিয়ে এডগার তার জীবনের কিছু গোপন কথা বলল। মারপলকে কথা দিতে হল সে কাউকে বলবে না। মিঃ সেরাকোন্ডই একমাত্র জানেন। বলে একটু হেসে সে জানালো, তার বাবা উইনস্টন চার্চিল।

    মারপলের কাছে ব্যাপারটা অনেকখানি স্পষ্ট হয়ে গেল। এডগার বলে চলল তার কথা। তার মা স্বাধীন ছিলেন না, স্বামী পাগলা গারদে থাকায় বিবাহবিচ্ছেদের উপায় ছিল না। তাই ওদের দোষ দেওয়াও যায় না। এডগারের জন্য যতটা করবার তিনি করেছেন। যদিও খুব গোপন। আর এইখানেই যত গোলমাল।

    কিছু শত্রু জুটে গেছে যারা তার বাবার কাছ থেকে তাকে দূরে থাকতে বাধ্য করেছে। তারা সবসময় তাকে নজরবন্দী করে রেখেছে। সে যা কিছু করে তাতেই তারা বাদ সাধে। লণ্ডনে ডাক্তারি পড়বার সময় ওর উত্তরপত্রের উত্তরগুলো তারা সব বদলে দেয় সে ফেল করে। নানাভাবে ওরা ওর জীবনটাকে গণ্ডগোলে ভরিয়ে তুলতে শুরু করে। এখানেও সে নিরাপদ নয়। সবাই ওকে অপছন্দ করে। মিঃ সেরাকোল্ড ছাড়া।

    এসব খুব গোপনীয় কথা, বলতে বলতে এডগার উঠে পড়ে, চলে যায়।

    মিস মারপলের মাথায় নানা চিন্তা ঘোরে। ওর জন্য কষ্ট হয়। হঠাৎ কে বলে ওঠে পাগল, একেবারে মাথা খারাপ।

    ওয়াল্টার কখন এসে দাঁড়িয়েছে মারপল লক্ষ্য করেনি।

    ওয়াল্টার বলে সে বিশ্বাস করে না, লর্ড মন্টগোমারি এডগারের বাবা।

    মারপল তার সঙ্গে একমত হয়।

    ওয়াল্টার জানায় তার কথার কিছু ঠিক নেই। জিনাকে নাকি বলেছে রাশিয়ার রাজ সিং হাসনের উত্তরাধিকারী নাকি ওই। তার মতে এ বাড়ির সকলের মাথা খারাপ।

    মারপল তাকে জিজ্ঞেস করে স্টোনিগেটসে কি তার থাকতে ভালো লাগছে না।

    ওয়াল্টার এই পরিবেশটা ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। এত বড়লোক হয়েও এরা কেন। এভাবে জীবনযাপন করে তার মাথায় ঢোকে না। ভালো চাকর বাকর নেই, জিনিসপত্র ভাঙা ছেঁড়া ফাটা তাই দিয়েই দিন চলছে। চারদিকে অপরিষ্কার। কারুর যেন কোনও হুঁশ নেই। টাকা পয়সার অভাব না থাকা সত্ত্বেও তালি দেওয়া নোংরা জামাকাপড় পড়ে।

    ওয়াল্টারের হাতেও একেবারে পয়সা ছিল না। পরিশ্রম করে নিজের চেষ্টায় সে উন্নতি করেছে। জিনা আর ও দুজনকে পরস্পর পছন্দ করে বিয়ে করেছে। নিজেদের নিয়ে মেতে ছিল। মাঝখান থেকে বাদ সাধল জিনার একজন অহঙ্কারী কাকীমা। জিনা তার দিদিমার কাছে কদিনের জন্য ইংল্যাণ্ডে এল। সঙ্গে ওয়াল্টারও।

    কিন্তু এখানে আসবার পর তাদের জোর করা হল বরাবরের জন্য থেকে যাওয়ার। এখানে নাকি অনেক কাজ আছে কারবার। কাজ বলতে সেই বিরক্তিকর বাচ্চাদের লজেন্স খাওয়ানো আর খেলানো। ওয়াল্টার এই একঘেঁয়ে কাজে কোনো আনন্দ পায় না। জিনাও কেমন যেন এখানে এসে পাল্টে গেছে। দুজনের মধ্যে যে ভালোবাসা ছিল তার মৃত্যু হয়েছে।

    মিস মারপল ওর কথা বুঝলেন। মারপলের সঙ্গে ওয়াল্টার নিজের এক কাকীমার খুব মিল পেল। মনের মধ্যে অত কথা জমে ছিল, অনায়াসে বলে ফেলল। তারপর সুন্দর হেসে সে মারপলকে বললো, সে যেন কিছু মনে না করে তাকে এত কথা বলে ফেলল বলে। তাকে খুব ভলো লাগল মারপলের।

    মিলড্রেড ওয়াল্টারকে পছন্দ করে না। তাকে এদিকে আসতে দেখে ওয়াল্টার উঠে পড়ল।

    ওই লোকটা বড্ড বিরক্ত করে তাই না! বলতে বলতে হাঁপাতে হাঁপাতে স্ট্রেট এসে ঘরে ঢুকল। তারপর জিনার বিয়েটা যে কতখানি মর্মান্তিক সেকথা বলতে লাগল। আমেরিকায় পাঠানোর জন্যই জিনার এমন দুর্ঘটনা হল।

    মারপল বলল, কিন্তু শত্রুদের ভয়েতেই তো এই কাজ করতে হয়েছিল। মিসেস স্ট্রেট কথাটা উড়িয়ে দিয়ে বলল, ওসব বাজে ভয়ের মানেই হয় না। মায়ের জন্যই আজ এই অবস্থা। এইসব উদ্ভট আদর্শের মধ্যেই স্ট্রেটকে বাস করতে হয়।

    মারপল চিন্তিত মুখে তার দিকে তাকিয়ে বলল সে মনে করে, স্ট্রেটের ছোটবেলাটা বোধহয় খুব একটা সুখের হয়নি।

    মিলড্রেড কৃতজ্ঞতা নিয়ে বলল, যাক একজন তাহলে বুঝেছে। তার পাশাপাশি সুন্দরী পিপাও বড় হয়ে উঠতে থাকায় তাকে যে খুব একটা ভালো থাকতে দেয়নি কেউ, এর জন্য ছেলেমেয়েরা যে কত কষ্ট সহ্য করে তা বলবার নয়। বোনের দিকেই সবার নজর ছিল। তার দিকে কেউ ফিরেও তাকাত না। অথচ পিপপার জন্মের কোনো ঠিকানা ছিল না। জিনাকে দেখলেই বোঝা যায় খারাপ রক্ত ওর মধ্যেও বয়ে চলেছে।

    মারপল এই সময় জিনাকে যে তার পছন্দ হয়েছে সেকথা বুঝিয়ে দিল।

    কিন্তু স্ট্রেট ভোলবার পাত্রী নয়। স্টিভেন রেস্টারিককে নিয়ে যা কাণ্ড করে চলেছে জিনা তাই নিয়ে বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে। এত টাকাকড়ি থাকা সত্ত্বেও বাড়ির এই দশা কেন সে বুঝতে পারে না। সব মিলিয়ে তার মনে খুব অসন্তোষ। মিলড্রেডের বাবা এই বাড়িতে বাস করে গেছে বলে তারও অধিকার আছে এখানে থাকবার।

    বেলভারের সম্বন্ধে মারপল জানতে চাইল।

    মিলড্রেড বলল, তার মাকে ও খুব ভালোবাসে। ও অনেকদিন হল এখানে রয়েছে। মায়ের বিপদের সময় পাশে থেকে বেলভার অনেক সাহায্য করেছে। ওকে ছাড়া মার চলে না।

    এমন সময় লিউইস এসে ঘরে ঢুকলেন। মিলড্রেডকে লক্ষ্যই করলেন না।

    তিনি এসে মারপলের কাছে দুঃখপ্রকাশ করলেন, প্রতিষ্ঠানের কাজ দেখাতে না পারার জন্য। তাকে এখন লিভারপুল যেতে হবে। তবে ডঃ ম্যাডরিক একটু বাদে এসেই ঘোরাতে নিয়ে যাবে।

    ইতিমধ্যে স্ট্রেট উঠে গেল, লিউইস খেয়ালও করলেন না।

    মারপল এডগারের সম্বন্ধে লিউইসকে জিজ্ঞেস করল, তার স্বাভাবিকতা সম্বন্ধে জানতে চাইল। লিউইস বললেন, এডগার অবৈধ সন্তান। মা ভালো ঘরের মেয়ে, বাবা নাবিক, ছেলেবেলাটা তার ভালো কাটে না। নিজের সম্বন্ধে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে গল্প বানিয়ে লোককে বলে। ডঃ ম্যাডরিক ওকে দায়িত্বপূর্ণ কাজের ভার দিয়ে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে নিয়ে আসতে চেষ্টা করছে। ওকে বোঝানো হচ্ছে জন্মটা বড় নয়, মানুষ নিজেকে কিভাবে গড়ে তুলছে সেটাই বড় কথা।

    এডগার বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে কিনা মারপল জানতে চাইল। অর্থাৎ শত্রুরা ওকে নির্যাতন করে এসব কথা কি কোনও ইঙ্গিত বহন করছে!

    লিউইস এই ব্যাপারটা খুব একটা ভয়ের বলে মনে করেন না।

    মিঃ সেরাকোল্ড ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বিদায় নিলেন।

    মিস বেলভার ঘরে ঢুকে বললো, কবে হয়তো একদিন লোকটা কাজ করতে করতে মুখ থুবড়ে পড়বে। কাজ পাগল মানুষ। স্ত্রীর কথাও একটু ভাবে না।

    দুজনে বাগানের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একটা তোরণের কাছে এসে দাঁড়াল। গুলব্রাজেন এটা তৈরি করেন।

    ডঃ ম্যাডরিক এলেন। তাকেও মিস মারপলের প্রকৃতস্থ বলে মনে হল না।

    মিস মারপলকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটু অসংলগ্ন ভাবেই বলে যেতে লাগলেন তাদের ভবিষ্যৎ উদ্যোগ, সেরাকোল্ড মানুষ হিসেবে কত মহৎ বর্তমান চিকিৎসা শাস্ত্রের সমস্যা ইত্যাদি। ছেলেদেরকে শাস্তি না দিয়ে তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করাই তার উদ্দেশ্য।

    মারপল এডগার লোমনের কথা তুলল। তাকে কিছুটা অস্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছে একথাও জানাল। ডঃ ম্যাডরিক হেসে বললেন মানুষ মাত্রেই কিছুটা অস্বাভাবিক।

    .

    ০৬.

    দিনান্তে কিছুটা ক্লান্তি এল মারপলের। একটা বাড়িকে কেন্দ্র করে অনেক কিছু ঘটে চলেছে কিন্তু কোনো ধারণা স্পষ্ট হচ্ছে না। লোমনের মধ্যে অসঙ্গতি আছে ঠিকই কিন্তু লুইজির সঙ্গে তার কি সম্পর্ক বুঝতে পারছে না সে।

    হঠাৎ মারপলের মনে হল ক্যারি লুইজি নামটা রুথ আর সে ছাড়া কেউ ব্যবহার করে না। স্বামীর কাছে ক্যারলিন, বেলভারের কাছে কারা, রেস্টারিওর কাছে মা, ওয়ালির কাছে মিসেস সেরাকোল্ড আর জিনার কাছে দিদা।

    এই বিভিন্ন নাম দেওয়ার অর্থ কি? হতে পারে মারপলের মাথায় ঘুরতে লাগল।

    পরদিন সকালে লুইজি মারপলকে চিন্তিত মুখে থাকতে দেখে তার কারণ জিজ্ঞেস করল।

    মারপল সঙ্গে সঙ্গে বলল সে লুইজির কথাই ভাবছে। সে তার কাছ থেকে জানতে চাইল একটা সত্যি কথা–এখানে দুশ্চিন্তা করবার মত তার কিছু আছে কিনা।

    লুইজি তার কথা শুনে বিস্মিত হল।

    মারপল নানাভাবে কথাটা জানতে চাইল।

    লুইজি অন্যমনস্ক হয়েই কিছুটা বলল, তার চিন্তা লিউইসকে নিয়ে সে বড্ড পরিশ্রম করে। স্টিভেনটার খেতে মনে থাকে না। জিনা বড় ছটফটে।

    মারপল মিলড্রেডের কথা জানতে চাইল।

    লুইজি জানাল, মিলড্রেড কখনোই হাসিখুশি থাকে না। পিপার একেবারে উল্টো স্বভাবের।

    মারপল বলল, তার তো অসুখী হবার কারণ থাকতেও পারে।

    লুইজি জবাব দিল, মেজাজ দেখানোর জন্য বেশির ভাগ মানুষেরই কারণের প্রয়োজন হয় না।

    লুইজির সঙ্গে মারপল একমত হল। লুইজি জানাল বেলভারের জন্য কোনো বিষয়ে তার কোনো চিন্তা নেই। তার হাতে সব ভার দিয়ে সে একেবারে নিশ্চিন্ত। বেলভার তার জন্য সব কিছু করতে পারে। সে চায় লুইজি সবসময় দামী পোষাক পরিচ্ছদে নিজেকে সাজিয়ে রাখুক। লিউইসের কাজের ব্যাপারে তার কোনও উৎসাহ নেই।

    এমন সময় মিসেস বেলভার এসে একটা টেলিগ্রাম লুইজির হাতে দিল, ক্রিস্টিয়ান গুলব্রাজেন আজ বিকেলে এসে পৌঁছবেন খবর পাঠিয়েছেন।

    লুইজি শুনে একটু অবাক হল। তারপর বেলভারকে সব ব্যবস্থা করতে বলল।

    লুইজি ক্রিস্টিয়ান সম্বন্ধে বলল, সে ওদের সৎ ছেলে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান আছে ও। এইসময়ই লিউইস এখানে নেই, ক্রিস্টিয়ান খুব ব্যস্ত মানুষ বলে এক রাতের বেশি থাকতেও পারবে না।

    বিকেলে ক্রিস্টিয়ান এসে পৌঁছল। স্বাস্থ্যবান মানুষ। ধীরস্থির যুক্তিসম্পন্ন কথা বলে। লুইজি আর মিলড্রেডের সঙ্গে কুশল বিনিময় করল। ক্রিস্টিয়ান আর মিলড্রেডের মধ্যে চেহারার খুব মিল।

    জিনা এখানে এখনো রয়েছে দেখে ক্রিস্টিয়ান কৌতুক করল। ওয়ালি তার কথার ধরনে বিরক্ত হল।

    মারপল ক্রিস্টিয়ানের উচ্ছলতার চিন্তামগ্ন মনটাকে লক্ষ্য করল। তার সঙ্গেও ক্রিস্টিয়ানের আলাপ হল।

    লিউইস কবে ফিরবেন জেনে নিয়ে ক্রিস্টিয়ান লুইজিকে বলল যে, তাকে লিউইসের সঙ্গে দেখা করেই যেতে হবে।

    সবাই ধরে নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজের ব্যাপারেই ক্রিস্টিয়ান এখানে এসেছে। মিস মারপলের চোখে কিন্তু অন্য একটা ব্যাপার নজরে পড়ল। সে লক্ষ্য করল ক্রিস্টিয়ান বারবার লুইজির দিকে তাকাচ্ছে, দৃষ্টিতে তীক্ষ্ণতা।

    চা-পানের শেষে মারপল লাইব্রেরীতে এসে বসল। তাকে অবাক করে দিয়ে ক্রিস্টিয়ান এসে তার কাছে বসল। তারপর মারপলের সম্বন্ধে একটু জেনে নিয়ে তাকে প্রশ্ন করল লুইজিকে সে কেমন ভালোবাসে।

    মারপল তাকে সত্যিই ভালোবাসে জানার পর বলতে লাগল, সবাই লুইজিকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু সে জানে না পৃথিবীটা আসলে পাপে ভরা।

    মারপল এসব শুনে বিস্মিত হল। ক্রিস্টিয়ান তাকে লুইজির শরীর সংক্রান্ত খবরগুলো বেশ সন্দেহের ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল, ধারালো চোখে জেনে নিতে চাইল লুউজির সঙ্গে মিলড্রেড আর বেলভারের সম্পর্ক কেমন। জিনাকে নিয়েও সে কেমন যেন চিন্তিত। একমনে সে এমন কিছু অসংলগ্ন কথা বলে যেতে লাগল যা শুনে মারপলের মনে হল আসন্ন কোনো বিপদের গন্ধ সে যেন পেয়েছে তাই সে লুইজি সম্বন্ধে বেশ চিন্তিত।

    এমন সময় মিস স্ট্রেট ঘরে এসে ক্রিস্টিয়ানকে এখানে থাকতে দেখে অবাক হল। ডঃ ম্যাডরিকের সঙ্গে কোনো দরকার আছে কিনা তিনি জানতে চেয়েছেন।

    ক্রিস্টিয়ান জানালো যা কথা বলবার লিউইস আসবার পরই হবে। তারপর কি মনে হতে ক্রিস্টিয়ান ডঃ ম্যাডরিকের উদ্দেশে বেরিয়ে গেল।

    ক্রিস্টিয়ানের হঠাৎ চলে যাওয়াতে মিলড্রেড অবাক হল। মারপলের সঙ্গে এতক্ষণ কি কথা বলছিল জানতে চাইল। মারপল বেশ সরলভাবে সব বলল, মিলড্রেড জানালো লুইজির শরীর ভালোই আছে তাকে নিয়ে চিন্তার কোনো কারণই নেই।

    .

    ০৭.

    পরদিন দুপুর অব্দি নির্বিঘ্নে কাটল। মারপল লক্ষ্য করল বিকেল বেলা বেলভারকে নিয়ে ক্রিস্টিয়ান বাগানের দিকে গেল। নিশ্চয়ই কোনো আলোচনা হবে। অথচ সেরাকোল্ডের সঙ্গে কাজের কথা বলতেই তো তার আসা।

    বিকেল চারটে নাগাদ মারপল বাগানে বেড়াচ্ছিল। হঠাৎ চমকে দেখে একটা ঝোঁপের আড়াল থেকে এডগার বেরিয়ে এলো।

    আপন মনে সে বিড়বিড় করছে চোখে উদ্ভ্রান্ত দৃষ্টি।

    মারপল অবাক হয়ে তার কাছে এই অবস্থার কারণ জানতে চাইল।

    হাঁটতে হাঁটতে এডগার জানাল, সে একটা ব্যাপার আবিষ্কার করেছে। তার গলা ধরে এল। যাকে সে বিশ্বাস করে এসেছে আজ সেই তার শত্রু। ওর পেছনে চর লাগিয়েছে। এর কারণ কি সে তাকে জিজ্ঞেস করবে।

    মারপল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল এসব কথা সে কার সম্বন্ধে বলছে।

    এডগার বলল যে তার বাবাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করবে, বলতে বলতে পালিয়ে গেল। মারপল এসবের কোনো অর্থ বুঝতে পারল না।

    সাড়ে ছটা নাগাদ লিউইস ফিরলেন তারপর ক্রিস্টিয়ানের সঙ্গে বারান্দায় পায়চারী করতে করতে কথা বলতে লাগলেন।

    মিস মারপল দূরবীনে চোখ রাখলেন। দুটো চিন্তাচ্ছন্ন মুখচ্ছবি ভেসে উঠল।

    ওদের টুকরো কথাবার্তা যেটুকু কানে এল তাতে মারপল বুঝতে পারলেন লুইজির কাছ থেকে ওরা কোনো ব্যাপার গোপন করতে চাইছে। রুথ যে ভুল বলেনি মারপল সেটা বুঝতে পারল। স্টোনিগেটসে যে বিপদ ঘনিয়ে উঠেছে তার ধাক্কা লুইজির গায়ে এবার লাগবে।

    নৈশাহার তেমন জমল না। সবাই কেমন চুপচাপ। খাওয়া শেষ করেই ক্রিস্টিয়ান নিজের ঘরে চলে গেল।

    অন্যেরাও যে যার কাজে ব্যস্ত হল। বই পড়বার জন্য ওয়ালার একটা টেবিল ল্যাম্পের বোতাম টিপতেই হলঘরের অর্ধেক আলো নিভে গেল।

    সে বিরক্ত হয়ে উঠে গিয়ে সারানোর ব্যবস্থা করতে গেল।

    বেলভারের হঠাৎ মনে হল লুইজি ওষুধ খায়নি। সে তাড়াতাড়ি ওষুধটা নিয়ে এল।

    হঠাই লিউইস বলে উঠলেন ওষুধটা আজ আর তাকে খেতে হবে না, ওটা তার পক্ষে উপকারী নাও হতে পারে। তিনি গ্লাসটা নিয়ে পাশে রেখে দিলেন। বেলভার বেশ বিরক্ত হল।

    হঠাৎ সামনের দরজাটা খুলে এডগার এসে প্রবেশ করল। তারপর চাপা আক্রোশ নিয়ে লিউইসের দিকে এগিয়ে এল।

    লিউইস অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন তার কি হয়েছে।

    এডগার ঝাঁঝের সঙ্গে বলল, সে তাকে এতদিন ঠকিয়েছে। তার শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

    লিউইস এডগারের হাত ধরে শান্ত হতে বললেন। তারপর তাকে অফিস ঘরে নিয়ে গেলেন। সশব্দে দরজা বন্ধ হল। বেলভার আর মারপল দুজনেই বুঝতে পারল এডগার লিউইসকে তালাবন্দী করল।

    মিস বেলভার, মিলড্রেড এডগারের এই পাগলামীতে অত্যন্ত বিরক্ত হল। লুইজির প্রশ্রয়কেই মিলড্রেড এর জন্য দায়ী করল।

    লুইজি তার সম্বন্ধে বললো ও সত্যিই খুব ভালো ছেলে।

    এডগার এতক্ষণ যা ব্যবহার করেছে তারপরেও লুইজির এই মন্তব্য শুনে মারপল অবাক হল।

    জিনা বলল সে লক্ষ্য করেছে এডগারের পকেটে কিছু একটা নাড়াচাড়া করছিল।

    ওদিকে লিউইস আর এডগারের চেঁচামেচির শব্দ ভেসে আসছিল।

    এডগার বলে যাচ্ছিল, সে জানে লিউইসই তার বাবা। তাকে বঞ্চিত করাই তার লক্ষ্য। তাকে সে ঘৃণা করে।

    লিউইস ঠান্ডা গলায় কি যেন বলল। এডগারকে থামাতে গিয়ে উল্টো ফল হল, এডগার আরও বেশি চীৎকার করতে লাগল।

    হঠাৎ সবার কানে এল লিউইস এডগারকে রিভলবার নামাতে বলছে।

    জিনা ভয়ে চীৎকার করে উঠল।

    লুইজি এরপরও বললো এটা এডগারের অভিনয় ছাড়া আর কিছু নয়। সে লিউইসকে ভালোবাসে।

    এডগারের হাসির শব্দে মারপলের মনে হল সে সত্যিই পাগল হয়ে গেছে।

    হঠাৎ বন্দুকের শব্দ। লুইজি বললো ওটা বাইরে থেকে এসেছে। ভয়ের কারণ নেই।

    এডগার চীৎকার করে বললো সে লিউইসের এই নির্ভীক চোখ দুটোকে ভয় পায় না। সে তাকে আজ শেষ করবেই। বাবা হয়েও সে পরিচয় গোপন করেছে। আজ আর রেহাই নেই।

    কিছু একটা করতে হবে বলতে বলতে মিস বেলভার ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

    আবার গুলির শব্দ।

    মিলড্রেড কেঁদে উঠল। ধপাস করে একটা শব্দ ভেসে এল।

    রেস্টারিক দরজা খোলার জন্য চীৎকার করতে লাগল।

    বেলভার একগোছা চাবি নিয়ে এল কোনটা দিয়ে তালা খোলা যায় দেখতে।

    এমন সময় আলো জ্বলে উঠল। স্টিভেন তালা খুলতে চেষ্টা করল। ঘরে পাগলের কান্না।

    ওয়ালটার এসব দেখে অবাক হল। মিলড্রেড তাকে জানালো ঐ পাগলটা মিঃ সেরাকোল্ডকে গুলি করেছে।

    লুইজি তার এই কথা শুনে বিরক্ত হল। উঠে গিয়ে সে বন্ধ দরজার কাছে গিয়ে ধীরে ধীরে এডগারকে ডাকতে লাগল। এমন সময় দরজা খুলে গেল।

    লিউইস স্বয়ং দরজা খুললেন। তাকে একটুও বিচলিত দেখালো না। সবাইকে চিন্তিত দেখে তিনি কোনো গুরুত্ব না দিয়েই ডঃ ম্যাডরিকের খোঁজ করতে লাগলেন।

    বেলভার পুলিসে খবর দিতে হবে কিনা জানতে চাওয়াতে, ওসবের কোনো প্রয়োজন নেই বলে সেরাকোল্ড জানালেন।

    সেইসময় এডগারকে দেখে মনে হল না ভয়ের কিছু আছে। সে বেশ অনুতাপের সুরেই ক্ষমা প্রার্থনা করল। তার কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্য নেই বলেই জানাল। ওয়ালটার দেখে শুনে লিউইসকে বলল তিনি খুব অল্পের জন্যই বেঁচে গেছেন।

    মিস মারপল এই সুযোগে এডগারকে জিজ্ঞেস করলো তার মাথায় কে ঢুকিয়েছে যে লিউইস তার বাবা।

    এডগার একটু থতমত খেয়ে জানালো কেউ নয়।

    ওয়ালটার তার বন্দুকটা দেখতে পেয়ে খুব চটে গেল।

    সেরাকোল্ড বাধা দিয়ে ম্যাডরিককে বললেন এডগারকে পরীক্ষা করতে।

    মিলড্রেড চীৎকার করে এডগারের ওপর তার রাগ প্রকাশ করছিল।

    এডগার লিউইসের পা ধরে অনুরোধ করলে তাকে যেন পাগলা গারদে না পোরা হয়।

    ডঃ ম্যাডরিক এডগারকে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য যেতে বললেন।

    মিস বেলভার মুখচোখ কঠিন করে হলঘরে এসে ঢুকলো। তারপর জানালো সে পুলিসকে খবর দিয়েছে আসার জন্য।

    শুনে লুইজি ধমকে উঠল।

    এডগার আর্তনাদ করে উঠল। লিউইস বিরক্ত হল, তাকে বারণ করা সত্ত্বেও সে এই কাজ করেছে শুনে।

    মিস বেলভার ঠান্ডা গলায় জবাব দিল পুলিস না ডেকে তার উপায় নেই। ক্রিস্টিয়ানকে কেউ গুলি করে মেরে রেখে গেছে।

    .

    ০৮.

    কথাটা বুঝতে সবাই খানিকটা সময় নিল।

    লুইজি বিস্মিত হল। তাকে থামিয়ে লিউইস দরজার দিকে পা বাড়ালেন। ম্যাডরিক বেলভার সবাই সঙ্গে সঙ্গে গেল।

    মারপল লুইজিকে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিল। সে যেন কিছুতেই কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। মুখচোখ বিহ্বল।

    ওয়ালটার রিভলবার হাতে এডগারের দিকে সন্দেহের চোখে তাকালো।

    কিন্তু লুইজি তাকে মিথ্যে সন্দেহ করতে বারণ করল।

    জিনা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে।

    আচমকা দরজা খুলে ঘরে যে প্রবেশ করল তাকে দেখে মিস মারপল চমকে উঠল। স্টিভেনের সঙ্গে চেহারার অসম্ভব মিল। ছেলেটির মুখে বুদ্ধি আর আত্মবিশ্বাস মাখা।

    বোঝা গেল এর আসবার খবর সবার জানা। এতক্ষণ যা কাণ্ড ঘটেছে অ্যালেক্সকে মিলড্রেড এমনভাবে সেকথা বলতে শুরু করল মিস মারপলের সেটা ভালো লাগল না।

    অ্যালেক্স প্রথমে এটা আত্মহত্যা বলে সন্দেহ প্রকাশ করল। মিস মারপলকে দেখে সে একটু অবাক হল।

    এমন সময় বেলভার এসে জানালো সেরাকোল্ড সকলকে লাইব্রেরীতে বসতে অনুরোধ করছে। এতে পুলিসের পক্ষে সুবিধা হবে। সে লুইজিকে যেতে বারণ করল। লুইজি ক্রিস্টিয়ানকে একবার দেখতে চাইল। জলি বাধা দিলে সে শুনল না, মারপলকে ডেকে সঙ্গে নিয়ে দরজার দিকে এগোল।

    দুজনে বারান্দায় বেরিয়ে ওক সুইটের দিকে হাঁটতে লাগল। এখানেই ক্রিস্টিয়ানকে থাকতে দেওয়া হয়েছিল। লুইজি দরজার সামনে দাঁড়াল। ডেস্কে টাইপরাইটারের সামনে বসে। চেয়ারের ওপর হেলে পড়েছে শরীরটা। উঁচু হাতল আছে বলে পড়েনি।

    লিউইস ক্যারির কাছে এগিয়ে এলেন। লুইজি এটাকে আত্মহত্যা নয় খুন বলেই মনে করলো। ক্রিস্টিয়ানকে দেখে লুইজির মুখে বেদনার ছায়া নামল। আত্মার শান্তি কামনা করল।

    লিউইসের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে লুইজি বেরিয়ে এল। মারপল একহাতে তাকে জড়িয়ে ধরল।

    .

    ০৯.

    ইনসপেক্টর ক্যারি তার দলকে নিয়ে পৌঁছলেন, বেলভার অভ্যর্থনা জানালো। নিজের পরিচয় দিয়ে বেলভার তাদের নিয়ে গেল।

    পুলিস তার কাজ শুরু করল, ছবি তোলা হল। তারপর সব পরীক্ষা করে অ্যামবুলেন্স আনিয়ে দেহটা পাঠিয়ে দেওয়া হল। ইনসপেক্টর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন।

    ইনসপেক্টর সকলকে দেখে নিয়ে বলতে শুরু করলেন, এই অবস্থায় তারা হয়তো সকলে খুব বিচলিত। আজ তাদের বেশিক্ষণ আটকাবেন না। মিঃ সেরাকোল্ডের কাছ থেকে তিনি অনেক কিছু জেনে নিলেন।

    মিস বেলভার এডগার আর সেরাকোল্ডের ঘটনার কথা জানিয়ে বললো, সেরাকোল্ডের কথা মত ডঃ ম্যাডরিককে ডাকার পর কিছু দরকার আছে কিনা জানার জন্য ক্রিস্টিয়ানের ঘরের দরজায় ধাক্কা দিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে ঢুকে দেখে সে মরে পড়ে আছে।

    ইনসপেক্টর বাড়িতে ঢোকা বেরোনোর ব্যবস্থা কিরকম সে সম্বন্ধে বিশদ জানলেন। এখানকার প্রতিষ্ঠানের কথা দরজায় পাহারা থাকে কিনা সে সম্বন্ধে জানলেন, ক্রিস্টিয়ানের আসার কারণ কি এবং যার সঙ্গে দরকার তার সঙ্গে কথা না বলে ঘর থেকে চলে গেছেন শুনে একটু অবাক হলেন।

    ঘটনার সময়টা নটা বেজে তেইশ মিনিট নাগাদ হবে। গুলির আওয়াজটা এডগারদের ঘর থেকে হয়নি একথা মনে করলেও বাড়িরই অন্য কোনো অংশ থেকে হয়েছে একথা কেউ সেই সময় বিশ্বাস করতে পারেনি– বেলভার জানালো, বাড়িতে একটা খুন আর একটা খুনের চেষ্টা দুটো একই সঙ্গে হচ্ছে একথা কেউ ভাবতেই পারেনি।

    ইনসপেক্টর প্রশ্ন করলেন ঘরের কোনো জিনিস তারপর সরানো হয়েছে কিনা।

    বেলভার একটু ভেবে নিয়ে উত্তর দিল। পরের বার সে টাইপরাইটারের ওপর কাগজটাকে দেখতে পায়নি।

    ইনসপেক্টর জিজ্ঞাসা করলেন তারা আসবার আগে আর কে ঘরে ঢুকেছিল, উত্তরে বেলভার মিসেস সেরাকোল্ড ও মিস মারপলের নাম করলো।

    মিস মারপলের সঙ্গে পরিচিত হবার পর ইনসপেক্টর বিনীত হয়ে সেদিনের সন্ধ্যার ঘটনার কথা জানতে চাইলেন। তারপর তারা একসঙ্গে মৃতদেহ দেখতে ঘরে ঢুকেছিলো সেকথা শুনলেন। ইনসপেক্টরের প্রশ্নের জবাবে মারপল জানাল সে টাইপরাইটারের ওপর কোনো কাগজ দেখতে পায়নি। এটা তাকে বিস্মিত করেছিল।

    মারপলের সঙ্গে ক্রিস্টিয়ানের কি কথা হয়েছিল ক্যারি শুনলেন। ক্রিস্টিয়ানের সঙ্গে সেরাকোল্ডের কথাবার্তা হয়েছিল সে খবর মারপল ইনসপেক্টরকে দিলেন। জানলা দিয়ে তিনি পাখি দেখছিলেন। দু-একটা কথা কানে এসেছিল ইনসপেক্টর বরং সে সব কথা মিঃ সেরাকোল্ডকে জিজ্ঞাসা করলেই ভালো করবেন।

    এছাড়া আর কিছু অদ্ভুত ঘটনা মারপলের চোখে পড়েছে কিনা ক্যারি জানতে চাইলে মারপল জবাব দিল, সন্ধ্যেবেলার সব ঘটনাই অদ্ভুত। মারপলের হঠাৎ মনে পড়ে যেতে সে বললো মিঃ সেরাকোল্ড আজ সন্ধ্যায় তার স্ত্রীকে ওষুধ খেতে দেননি।

    বেলভার বিরক্ত হয়েছিল। মারপল চলে যাবার পর সার্জেন্ট লেক তার প্রশংসা না করে পারল না।

    .

    ১০.

    লিউইস সেরাকোল্ড ঘরে প্রবেশ করতেই সবার দৃষ্টি তার ওপর পড়ল। ক্লান্ত ও বিষণ্ণ পায়ে তিনি এগিয়ে এসে চেয়ারে বসলেন। লিউইসের নিকট আত্মীয় নয় গুলব্রাজেন। তাই তাঁর এতখানি বিষণ্ণতা ক্যারিকে একটু বিস্মিত করেছিল।

    ইনসপেক্টর তাকে প্রশ্ন করলেন ক্রিস্টিয়ানের আসা সম্বন্ধে তিনি কি একেবারেই কিছু জানতেন না। ক্রিস্টিয়ানের আসবার কারণ জানতে চাইলেন।

    একটু চুপ করে থেকে লিউইস বললেন, ক্রিস্টিয়ান বছরে দুবার মিটিং করতে আসত। মাত্র একমাস আগেই সে ঘুরে গেছে। তাই সে আসায় সবাই একটু অবাকই হয়েছিল।

    লিউইস বললেন, তার কথাগুলো যদি তার স্ত্রীকে না বলা হয় তবে তিনি কৃতজ্ঞ থাকবেন। ক্রিস্টিয়ান এসেছিল তাকে একটু জানাতে যে, কেউ তার স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে মারবার চেষ্টায় আছে।

    শুনে ক্যারি অবাক হয়ে গেলেন।

    ক্রিস্টিয়ান কথাটা বলবার পর তিনি লক্ষ্য করলেন, বাতের ব্যথা বলে স্ত্রী যা কষ্ট পাচ্ছিলেন তা আর্সেনিক বিষ খাবার ফলে হতে পারে।

    এ সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা করার সুযোগ পাননি তারা, ভেবেছিলেন নিশ্চিত হয়ে লুইজিকে জানাবেন।

    ক্যারি জিজ্ঞাসা করলেন, ক্রিস্টিয়ান কাউকে সন্দেহ করেছিল কিনা।

    লিউইস জানালেন, হয়তো করেছিলেন। নইলে খুন হবেন কেন। তবে কারোর নাম বলেনি। তবে তারা ঠিক করেছিলেন পরিবারের পুরনো বিচক্ষণ বন্ধু ক্রোমারের বিশপ ডঃ গ্যালব্রেথকে সব জানাবেন। ওনার কথামত কাজ হবে। তাই খাওয়া দাওয়ার শেষে ক্রিস্টিয়ান ডঃ গ্যালব্ৰেথকে একটা চিঠি লিখতে বসেছিলেন। সেই সময় কেউ তাকে গুলি করে মারে।

    প্রমাণ হিসেবে লিউইস বুকপকেট থেকে ভাঁজ করা চিঠিটা বের করে দেখালেন।

    ক্যারি বেশ রাগত স্বরেই জানালেন যে তার এই কাজটা করা অন্যায় হয়েছে।

    লিউইস জানালেন অকারণে তিনি একাজ করেননি। তিনি জানতেন তার স্ত্রী ঐ ঘরে যাবেন তাই তিনি সেটা সরিয়ে দিয়েছেন। তিনি যাতে আঘাত না পান তার জন্য লিউইস সব করতে রাজী।

    কোনো কথা না বলে ইনসপেক্টর চিঠিতে চোখ রাখলেন, সেখানে ডঃ গ্যালব্ৰেথকে পত্রপাঠ স্টোনিগেটসে চলে আসতে অনুরোধ করা হয়েছে। এখানে একটা বিপদ দেখা দিয়েছে। উনি লুইজির হিতাকাঙ্খী, এই ভালোমানুষ লুইজিকে অল্প অল্প করে বিষ খাওয়ানো হচ্ছে। প্রথম কখন সন্দেহ হয় সেকথা জানাতে গিয়েই চিঠিটা অসমাপ্ত হয়েছে। এর পরই তাকে গুলি করা হয়। লিউইসের মতে হত্যাকারী চিঠির তাৎপর্য জানত না বা সরাবার সময় পায়নি বলে সরায়নি।

    গুলব্রাজেন লিউইসকে সেই সন্দেহ জনক ব্যক্তিটির নাম বলেছে কিনা ইনসপেক্টর জানতে চাইলেন। লিউইস একটু থেমে অস্বীকার করলেন তারপর হঠাৎই বলে উঠলেন যে ক্রিস্টিয়ান মানুষ হিসেবে অত্যন্ত ন্যায় পরায়ণ ছিল।

    ক্যারি জিজ্ঞেস করলেন তিনি কিভাবে বুঝলেন বিষটা মেশানো হচ্ছে। উত্তর লিউইস জানালো সবাই যা খায় উনিও তাই খান শুধু ওষুধটাই আলাদা।

    ক্যারি ওষুধটা পরীক্ষা করতে চাইলেন। লিউইস বেশ চটজলদি সেটা আনবার জন্য উদ্যোগী হল। যা দেখে ক্যারি একটু অবাকই হলেন। যেন লিউইস আগে থেকেই জানেন ক্যারি তাকে কি বলবেন।

    লিউইস লুইজির কাছ থেকে ব্যাপারটা কেন গোপন রাখতে চাইছেন সেকথা জানার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন ইনসপেক্টর। তাকে তো বরং সজাগ করে দেওয়াই উচিত ছিল।

    লিউইস জানালেন, লুইজি অন্য ধাতের মানুষ। তিনি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারবেন না। কেউ তাকে মেরে ফেলতে পারে।

    লিউইস এতদূর ভেবে ফেলেছেন দেখে ইনসপেক্টর বিস্মিত হলেন।

    লিউইস সত্যকে অস্বীকার করতে চান না, তিনি বললেন এখানকার দুশো লোকের অতীত ভালো নয়, তা সত্ত্বেও তারা মতলব করে বিষ খাওয়াতে পারবে না, কোনোদিন। তাহলে বাড়ির লোকদের মধ্যেই কেউ হবে।

    ধীর স্বরে ক্যারি বললেন, বাইরের লোকও তো কেউ কেউ আছেন।

    লিউইস সে কথায় সম্মতি জানিয়ে বললেন, তাতে তাদের কি স্বার্থ থাকতে পারে?

    ক্যারি লোমনের কথা তুললেন।

    লিউইস বললেন, ও ক্যারিলিনের ভক্ত। ও কোনও ক্ষতি করতে পারে না। আর সন্ধ্যায় যা করেছে তা নিতান্তই অভিনয়।

    ক্যারি জানতে চাইলেন, এই সাংঘাতিক অভিনয়ের জন্য ওর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হবে কিনা।

    লিউইস জানালেন, তার প্রয়োজন নেই। নির্দ্বিধায় বলা যায় ও নিরপরাধী।

    ক্যারি জানতে চাইলেন ক্রিস্টিয়ান ধনী ছিলেন কিনা। তাহলে ওর মৃত্যুতে নিকট আত্মীয়েরা লাভবান হবে। তাহলে দাঁড়াচ্ছে এই যে এ বাড়ির কেউই হত্যাকারীর ভূমিকা নিয়েছে। লিউইস কাউকে সন্দেহ করেন কিনা তিনি জানতে চাইলেন।

    লিউইস জানালেন সেকথা বলা খুব কঠিন। তা যে কেউ হতে পারে। ক্রিস্টিয়ান যাওয়ার পর কেবলমাত্র ওয়ালটার হাড় বেরিয়েছিল। তবে এডগার আর তিনি বেরিয়ে পরার পর আর কে কে বেরিয়েছিল তা তার অজানা।

    ইনসপেক্টর সেদিনকার মত সবাইকে শুতে যেতে বলে বিদায় দিলেন।

    মিঃ সেরাকোল্ড বেরিয়ে যেতে ক্যারি লেককে জিজ্ঞাসা করলেন তার কাকে খুনী মনে হয়।

    লেক জবাব দেয় তার সন্দেহ সেরাকোল্ড জানেন কে খুনী। ক্যারি তার সঙ্গে একমত হন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }