Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2485 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    এ রিভেঞ্জ অফ ডেথ

    এ রিভেঞ্জ অফ ডেথ – আগাথা ক্রিস্টি

    ১৫ই এপ্রিল,
    ১৮৯০

    সবিনয় নিবেদন,
    অপরসায়নের প্রকৃত রহস্য বিষয়ের যে প্রবন্ধ আমাদের পরের সভায় আপনি পাঠ করতে চেয়েছেন তার উত্তরে জানাই, তা কাউন্সিল সভার কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত করতে পারছেন না।
    ইতি সেক্রেটারি

    ১৮ই এপ্রিল,
    ১৮৯০

    সবিনয় নিবেদন,
    দুঃখের সাথে জানাই, আপনি যে বিষয়ের ওপর বলবেন সে সম্বন্ধে আপনার সাথে আলোচনা করার সময় নেই। এছাড়াও আমাদের সংগঠনের এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে আলোচনা করাও বেআইনি হবে। এর আগে যে খসড়া পাঠিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞেরা যথার্থ গুরুত্বের সাথে পড়েই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
    ইতি সেক্রেটারি

    ২০শে এপ্রিল,
    ১৮৯০

    সবিনয় নিবেদন,
    সংগঠনের সম্পাদক শ্রদ্ধার সাথে মিঃ কার্সওয়েলকে জানাচ্ছেন যে তার খসড়া কাকে বা কাদের পাঠ করতে দেওয়া হয়েছিল তা জানানো অসম্ভব, এবং সেই সাথে জানাচ্ছেন যে উক্ত বিষয়ে আর কোনো পত্র লিখলে তার উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়।
    ইতি সেক্রেটারি

    সম্পাদকের পত্নী প্রশ্ন করলেন, মিঃ কার্সওয়েলকে, তিনি অফিসে এসে চিঠিগুলো তুলে নিয়ে গেছেন।

    মানে, কার্সওয়েল এখন খুবই রেগে আছেন। তার বিষয়ে আমি শুধু এটুকু জানি যে তিনি খুবই বিত্তশালী। তার ঠিকানা লাফোর্ড অ্যাবি, ওয়ারউইকশায়ার। তিনি একজন অপরসায়নবিদ, মানে উৎকৃষ্ট না এমন কিছু ধাতু সোনায় পরিবর্তিত করার মধ্যযুগীয় প্রক্রিয়া বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, তার কিছু জানার আছে–আসল ব্যাপার তাই। তবে আমি পরবর্তী দু-এক সপ্তাহের মাঝে তার সাথে সাক্ষাৎ করতে চাইছি না।–আচ্ছা যদি প্রস্তুত হয়ে থাকো তা চলো, বেরোনো যাক।

    কিন্তু তুমি কী করলে যার জন্য তিনি রাগান্বিত হলেন?

    আরে এ কোনো নতুনত্ব ঘটনা নয়। এডোয়ার্ড ডানিংকে দিয়ে তার খসড়া পড়িয়েছিলাম। তার মতামত লেখাটা অত্যন্ত খারাপ আর সেই কারণেই আমি রাজি হইনি। আর তখন থেকেই কার্সওয়েল পরপর চিঠি দিয়ে যাচ্ছেন। শেষ চিঠিতে তিনি জানতে চেয়েছিলেন খসড়াটা কে পড়েছেন, আর সেই উত্তর তো তুমি পড়লে। এই বিষয়ে তুমি আর কোনো কথা বলো না।

    না, তা কেন বলবো-আমার কি তাই অভ্যাস? যা হোক আশা করা যায় তিনি জানবেন না যে লোকটা বেচারা ডানিং।

    ডানিংকে বেচারা বলছো কেন? তিনি ভীষণ সুখী, প্রচুর সৌখিন জিনিষ নিয়ে আরামের বাড়িতে দিব্যি আছেন।

    না, মানে, আমি বলছিলাম, যদি ভদ্রলোক জানতে পারতেন ডানিংই নাকচ করেছেন তাহলে হয়তো-বা তাঁকে বিরক্ত করবেন।

    হ্যাঁ, তা বলতে পার অবশ্য।

    সেদিন তারা যে বন্ধুর বাড়িতে লাঞ্চে গিয়েছিলেন তাঁরাও ওয়ারউইকশায়ারের বাসিন্দা, সম্পাদকের স্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি কার্সওয়েলের বিষয়ে তাদের কাছে কিছু জানবেন। তবে বিষয়টা সুযোগমতো কায়দা করে বলতে হবে। তবে প্রসঙ্গটা তিনিই তুললেন তাকে বলতে হলো না। নানান কথায় গৃহকর্ত্তী গৃহকর্তাকে বললেন, জান, আজ প্রত্যুষেই আমি লাফোর্ডের অ্যাবটকে দেখেছিলাম।

    তাই নাকি? তা, কি কারণ তার এখানে আসার?

    বলতে পারব না, আমি গাড়িতে যেতে গিয়ে দেখলাম তিনি ব্রিটিশ মিউজিয়াম থেকে বের হয়ে আসছেন। স্বাভাবিকভাবেই সম্পাদকের স্ত্রী জানতে চাইলেন তিনিই প্রকৃত অ্যাবট কি না? এবং তার উত্তরে সম্পাদক বললেন, না না, তিনি আমাদের পাড়ার লোক, কয়েক বছর হলো অ্যাবটের সম্পত্তি ক্রয় করে অ্যাবট হয়েছেন। আদপে তার নাম কার্সওয়েল। জনান্তিকে গৃহকত্রীর দিকে তাকিয়ে সম্পাদক প্রশ্ন করলেন, আপনাদের বন্ধু কি তিনি?

    সাথে সাথে তারা প্রতিবাদ করে উঠলেন, জানালেন, তার বিষয়ে তারা কিছু জানে না, আর একেবারেই অসহ্য হলো ভদ্রলোকের ভুত্যেরা! তিনি কি এক নতুন ধর্ম আবিষ্কার করেছেন, ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় সেই ধর্মানুষ্ঠানে। এছাড়া সামান্য কিছুতেই মেজাজ খারাপ করে ফেলেন তিনি, এমনকি সারাজীবনে কখনও কাউকে ক্ষমা করেননি। তাকে দেখলে পরে ভীষণ ভীত হতে হয়। তবে এই ব্যাপারে অবশ্য গৃহকর্তা গৃহকত্রীর সাথে ঐক্যমতে আসতে পারেন না। দয়ামায়া সবকিছুই তার মধ্যে অনুপস্থিত এছাড়া তার সংস্পর্শে সব সময় খারাপ কিছু বহন করে নিয়ে আসে।

    ঠিক সেই সময় গৃহস্বামী বাধা দিয়ে বললেন, বেচারার ওপর কিন্তু সুবিচার করছে না তুমি। স্কুলের ছাত্রর তার দ্বারা কত উপকৃত হয়েছেন তা মনে নেই?

    মনে নেই আবার? কথাটা স্মরণ করিয়ে ভালোই করলে, কারণ এর থেকেও ভদ্রলোক সম্পর্কে একটা ধারণা জন্মায়। প্রথম যখন তিনি লাফোর্ডে এলেন, ধর্মর্যাজককে পত্রপাঠ জানালেন তিনি ম্যাজিক লণ্ঠনের দ্বারা ছাত্রদের কিছু দেখাতে চান–যা তাদের ভালো লাগার কথা। পত্র পেয়ে আশ্চর্য হলেন ধমর্যাজক, কারণ তাকে ছেলেদের প্রতি তিনি বিরূপ বলেই জানতেন, তার এলাকায় তাদের প্রবেশের কোনো অধিকার নেই প্রভৃতি নিয়ে প্রায় সময় ছাত্রদের সম্বন্ধে নালিশ করতেন। যাইহোক, তবুও ধর্মযাজক অরাজি হলেন না। নির্দিষ্ট দিন ঠিক হয়ে গেলো, নিজে গিয়ে তিনি দেখে এলেন সব ব্যবস্থা সঠিক হয়েছে কি না। পরে তিনি বলেছিলেন, ভগবানকে ধন্যবাদ যে, তাঁর নিজস্ব সন্তানরা সেই অনুষ্ঠান দেখতে যায়নি। ধর্মযাজক বলেন কার্সওয়েলের প্রকৃত লক্ষ্য ছিল গ্রামের ছেলেমেয়েদের অত্যন্ত ভীত করে দেওয়া এমনকি কোনোপ্রকার বাধাদানের চেষ্টা না করলে সত্যিই তারা প্রচণ্ড ভয় পেতো। প্রথমে তিনি শুরু করেন হাল্কা ধরনের ঘটনা দিয়ে যেমন লাল টুপি পরিহিত বাচ্চা এক মেয়ের কাহিনী। অবশ্য এই ঘটনায় একটি নেকড়েকে দেখানো হয়েছিল যা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ছিল ফলে বাচ্চাদের সবাইকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল গল্পটা বলার সময়। প্রথমেই কার্সওয়েল দূর থেকে ভেসে আসা ভয়াল নেকড়ের ডাক শুনিয়েছিলেন যা ধর্মযাজক মিঃ ফারারও কস্মিনকালে শোনেননি। ফাদার বলেন যে সমস্ত ছবিই ছিল বীভৎস অত্যন্ত সুন্দর এবং বাস্তব–কার্সওয়েল যে এধরনের ছবিগুলো কোথায় পেয়েছেন তা তাঁর পক্ষে আন্দাজ করা সম্ভব হয়নি। পরপর ছবি দেখানো হলো এবং ক্রমশই দেখা যাচ্ছে যে, সেগুলি ভয়ঙ্কর থেকে ভয়ঙ্করতর হচ্ছে। বাচ্চারা সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো নিশ্রুপে দেখতে লাগলো। শেষ পর্যন্ত একটা ছবি তিনি দেখালেন যার মধ্যে দেখা যাচ্ছে একটা বাচ্চা ছেলে তার লাফোর্ডের বাগানের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, সময়টা সন্ধেবেলা ছেলেদের বাগানটা অপরিচিত নয়। পরক্ষণেই দেখা গেল একটা ভয়ঙ্কর দেখতে সাদা জন্তু লাফিয়ে বাচ্চাটাকে অনুসরণ করছে সে হয়তো বাচ্চাটাকে নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলো নতুবা তাকে ছিঁড়ে খণ্ড খণ্ড করে ফেললো। এই বীভৎস দৃশ্য ধর্মযাজক মি. ফারারকেই ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছিল। এর থেকেই বোঝা যায় যে তা বাচ্চাদের ওপর কি প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে এবং এ কথা ভাবলে ভয়ে গায়ে কাঁটা দেয়। তিনি অসহ্য হয়ে শেষে পর্যন্ত বাধ্য করলেন কার্সওয়েলকে প্রোগ্রাম বন্ধ করতে। তাতে কার্সওয়েল বললেন, বেশ, তাই যখন বলছেন, কথা শেষ না হতেই তিনি সাপ, শতপদী ও ডানাযুক্ত ভয়ঙ্কর প্রাণীদের একটা ছবি দেখাতে লাগলেন এবং একই সঙ্গে যে শুকনো খস্ খস্ শব্দ শোনা গেলো তাতে বাচ্চাদের মাথার কোনো ঠিক রইলো না। সাথে সাথে তারা পালিয়ে গেলো। আমার মনে হয় তাদের কেউই সে রাত্রে ঘুমোতে পারেনি। এই ঘটনায় গ্রামে প্রচণ্ড গণ্ডগোল হয়, বাচ্চাদের মায়েরা এই ঘটনার জন্য ফাদারকে দোষী সাব্যস্ত করে। কার্সওয়েলের এটাই সত্যিকারের পরিচয়।

    গৃহস্বামীর অভিমত, যা দেখা যাচ্ছে তাতে হয়তো-বা কার্সওয়েল বড় ধরনের অপরাধীতে রূপান্তরিত হবেন কোনদিন।

    সম্পাদক মলাট বলেন, আচ্ছা তিনিই দশ বছর আগে কি ডাকিনীতন্ত্রের ইতিহাস গ্রন্থটি রচনা করেন।

    হা। সেই বইখানি কেমন সমালোচিত হয়েছিল মনে আছে।

    অবশ্যই আছে। এমনকি যে ব্যক্তি সবথেকে বেশি সমালোচনা করেছিলেন তিনি আমার পরিচিত, জন হ্যারিংটন। অবশ্যই মনে আছে তাকে।

    ভালো রকমেই মনে পড়ে। অবশ্য পুলিশ যখন তদন্ত করছিল সেই সময়ে আমি তার সম্পর্কে কিছু শুনিনি বা তাকে চাক্ষুষ দেখিনি।

    পুলিশী তদন্ত! সেকি? বিস্ময় বিমুগ্ধ ভাবে এক মহিলার জিজ্ঞাসা।

    মানে, গাছের থেকে পড়ে তার ঘাড় ভেঙে যায়। এখানেই প্রশ্ন হলো, তিনি গাছে চড়েছিলেন কেন? ঘটনাটা ভীষণই রহস্যময়। ভদ্রলোক খেলোয়াড়ও নয় আবার তার মধ্যে পাগলামির কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। সন্ধ্যের সময় একদিন তিনি গ্রাম্য পথে ধরে গৃহে ফিরছিলেন, কোথাও জনপ্রাণী নেই, অকস্মাৎ ভদ্রলোক দিশাহারা হয়ে দৌড় শুরু করলেন, হ্যাট, ছড়ি কোথায় হারিয়ে গেল। অবশেষে তিনি গাছে চড়ে বসলেন– সেই গাছে ওঠা সহজ কথা না। একটা মরা ডালে তিনি উঠে পড়েছিলেন সেইকারণেই ডালটা তাকে সহ নিচে ভেঙে পড়ে। পরের দিন সকালে যখন মানুষজন তার খোঁজ পায় তখন ভয়ে তার চোখমুখের কি অবস্থা হয়েছিল তা কল্পনা করা যায় না। বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, কোনোকিছু তাঁকে তাড়া করেছিল, বীভৎস কোনো কুকুরের দল হয়তো-বা কোনো পশুশালা থেকে পলাতক কোনো প্রাণী।

    এর খানিক বাদে ডাকিনী বিদ্যার ইতিহাস-এর কথা উঠল। গৃহস্বামী প্রশ্ন করলেন, হ্যাঁ বইখানি দেখেছি বৈকি। এমনকি পড়েছি পর্যন্ত।

    সত্যি সত্যি কি গ্রন্থটির দুর্নাম যেভাবে ছড়িয়ে আছে সেরকমই খারাপ?

    বইটার লেখার স্টাইল ভীষণ খারাপ তাই সমালোচনা যা করা হয়েছে তা ঠিকই আছে। এছাড়াও গ্রন্থটি অশুভ প্রভাব একালটা। ভদ্রলোক বইটির সমস্ত কিছুর ওপর পুরোপুরি বিশ্বাসী ছিলেন তাছাড়া তিনি তার কথাই পরীক্ষা করে দেখেছেন।

    আমি হ্যারিংটনের সমালোচনা পড়েছি এমনকি যদি আমি ঐ গ্রন্থটি লিখতাম তাহলে সারাজীবনের মতো লেখা ত্যাগ করতাম আর সারা জীবনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারতাম না।-আচ্ছা তাহলে ওঠা যাক। কাজ আছে, সাড়ে তিনটে বাজে।

    আসার সময় সেক্রেটারির স্ত্রী বললেন, আশাকরি এই ভয়ঙ্কর মানুষটি কখনও জানবেও না যে তার লেখা নাকচ করার ব্যাপারে ডানিংই দায়ী।

    আমিও এটাই আশাকরি। ডানিং অবশ্য নিজেই তা প্রকাশ করবেন না আর যেহেতু ঘটনাটা গোপন রাখার কথা তাই আমরা প্রকাশ করব না। অবশ্য ভয় শুধু; যদি কার্সওয়েল ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সন্ধান করে জেনে নেয়।

    অপরসায়ন সম্পর্কে তিনি মধ্যে মধ্যে পাণ্ডুলিপির সাহায্য নেন। কিন্তু তাদেরকে ডানিং এর নাম না জানানোর কথাটা বলা যায় না, তবে আশা করা যেতে পারে ঘটনাটা অতটা যাবে না। কিন্তু কার্সওয়েল ভদ্রলোকটি খুবই বুদ্ধিমান।

    যতটা লেখা হয়েছে এই অবধি সেটা ভূমিকা বলা যেতে পারে। ঐ সপ্তাহেই একদিন সন্ধ্যের সময় এডোয়ার্ড ডানিং ব্রিটিশ মিউজিয়াম থেকে গবেষণার কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন, বাড়িতে দুজন সুন্দরী মেয়ে আছে যারা বহুদিন ধরে ডানিং-এর সঙ্গে কাজ করছে। চলুন আমরাও তাঁর সঙ্গী হই।

    তিনি তার বাড়ির দু-এক মাইল পর্যন্ত ট্রেনেই চলে গেলেন, পরে একটা ট্রামে চড়লেন যা তাঁর বাড়ির থেকে তিনশ গজ দূরত্বে। তিনি সারাদিন ধরে প্রচুর পড়াশোনা করেছেন। ট্রামের সামনে দিকের কাছে একটা বিজ্ঞাপন দেওয়া ছিল–যা অল্প আলোয় তার পড়া অসম্ভব ছিল, কিন্তু বিজ্ঞাপনটা যে বিষয়ের ওপর তা নিয়ে তিনি সবসময় চিন্তা করতেন। কিন্তু গাড়ির দূরের কোণের একটা লেখা তার কাছে একেবারেই নতুন। হলুদের ওপর নীল অক্ষরের লেখা। লেখার একটা মাত্র নাম তিনি পড়তে পারলেন, জন হ্যারিংটন আর সম্ভবত একটা তারিখ তবে অতটা দূর থেকে তিনি আর কিছুই পড়তে পারলেন না, ট্রামের ভিড় হালকা হয়ে গেলে কৌতূহলবশতঃ এগিয়ে গিয়ে তিনি পড়লেন। দেখলেন অদ্ভুত ধরনের একটা বিজ্ঞাপন। লেখাটা হল : অ্যালব্রকের লরেল-এর জন্য হ্যারিংটন, এফ. এস.-এর স্মৃতিতে। মৃত্যু ১৮ই সেপ্টেম্বর, ১৮৮৯। তিন মাস সময় দেওয়া হলো।

    গাড়ি থামলো কিন্তু ডানিং তখনও চিন্তায় মগ্ন। কণ্ডাক্টরের কথায় বাস্তবে ফিরে এলেন। বললেন, ঐ বিজ্ঞাপনটা দেখছিলাম–একটু অদ্ভুত নয় কি? আস্তে আস্তে কণ্ডাক্টরও পড়লো। এবং বলল, আরে এটা তো আগে কখনও দেখিনি। নিশ্চয় কেউ রসিকতা করে লিখেছে। কথাটা বলেই সে বিজ্ঞাপনটা মুছে ফেলার চেষ্টা করলো। কিন্তু সফল হলো না, জানালো, লেখাটা কাঁচের উপরেই। একই কথা ডানিং-এর মনে হয়েছিল। বললেন, এইসব বিজ্ঞাপনের দায়িত্বে কে আছে? খোঁজ করে দেখো তো–কথাগুলো আমি লিখে নিচ্ছি।

    তখনই ড্রাইভার কণ্ডাক্টরকে ডেকে বলল, তাড়াতাড়ি কর জর্জ, সময় হয়ে গেছে।

    ঠিক আছে, ঠিক আছে। এখানে একটা অদ্ভুত লেখা কাঁচের মধ্যে দেখবে এসো।

    এগিয়ে আসে ড্রাইভার। প্রশ্ন করে, কাঁচে কী লেখা আছে? হ্যারিংটন? এই হ্যারিংটন কে? কী ব্যাপার?

    জিজ্ঞাসা করছি এই বিজ্ঞাপনের জন্যে কে দায়ী। খোঁজখবর নিলে হয় এ নিয়ে।

    এ সব কোম্পানি অফিসের ব্যাপার, বোধহয় এর দায়িত্বে আছেন মিঃ টিমস। ঠিক আছে আজ রাতেই সন্ধান করব। কাল দেখা হলে জানাতে পারব।

    এ সবকিছুই সেদিনের সন্ধ্যেবেলার ঘটনা। সন্ধান করে ডানিং জানতে পারলেন অ্যালব্রুক হলো ওয়ারউইকশায়ারে।

    তারপরের দিনও তিনি শহরে গেলেন–সেই ট্রামেই। প্রণ্ড ভিড় থাকায় কণ্ডাক্টরের সাথে তিনি কোনো কথা বলতে পারলেন না। তবে দেখলেন যে বিজ্ঞাপনটা যথাস্থানে নেই। পড়ন্তবেলায় আবার এক রহস্য। তার পড়াশুনার সময় এক দাসী এসে সংবাদ দিল, ট্রাম কোম্পানির দুজন লোক তার সাথে সাক্ষাৎ করতে চায়।

    আসলে লোকদুটো ট্রামের কণ্ডাক্টর ও ড্রাইভার। মিঃ টিমস-এর কথা জানতে চাইলে কণ্ডাক্টর বলল, আজ্ঞে সেই কথাই বলতে এসেছি। মিঃ টিমস উইলিয়ামকে দুচারটে কথা শোনালো এবং বললেন–এধরনের কোনো বিজ্ঞাপন কেউ দেয়নি এবং পয়সাও এর জন্যেও দেয়নি- বা–তা ছাপেওনি, আমরা শুধু শুধু সময়ের অপব্যবহার করছি। তাতে আমি বললাম, বেশ তো, আপনি চলুন না, নিজের চোখেই দেখে নেবেন। যদি না থাকে তবে যাচ্ছেতাই বলতে পারেন।

    তিনি বললেন, ঠিক আছে, তাই যাচ্ছি। তবে আমাদের সাথে তিনি যখন গেলেন তখন কোনো বিজ্ঞাপনই চোখে পড়লো না। হলুদের ওপর নীল অক্ষরে যেভাবে লেখা ঝাড়ন দিয়েও যা মোছা অসাধ্য তা অবশেষে উধাও মিঃ টিমস আমাকে তো যা নয় তাই বকাবকি করলেন।

    তা, কি চাও তোমরা যে আমি মিঃ টিমস-এর সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করি?

    আজ্ঞে হ্যাঁ, অনুগ্রহ করে যদি তাই করেন তো আপনার কেনা গোলাম হয়ে থাকবো। সকল কোম্পানি অফিসে তাকে পাবেন।

    মি. টিমস ডানিং-এর কথা বিশ্বাস করলেন আর কণ্ডাক্টর ও ড্রাইভারের বিরুদ্ধে কোনো রিপোর্ট তিনি করলেন না তবে রহস্য সেই রহস্যেই ঘেরা রইলো।

    পরের দিন বিকেলে কিন্তু অপর একটা ঘটনা ঘটে যাওয়াতে ঘটনাটার উপর যবনিকা পড়ল না। ট্রেন ধরবে বলে ক্লাব থেকে হাঁটাপথ ধরলে ডানিং দেখলেন এক ব্যক্তি তার থেকে কিছু দূরে কিছু হ্যাণ্ডবিল বিলি করছে। যে জায়গায় দাঁড়িয়ে হ্যাণ্ডবিল বিলি করছিল সে সেখানে খুব একটা ভিড় ছিল না, সেজন্যে তার হ্যাণ্ডবিল কেউ নেয়নি বলেই মিঃ ডানিং-এর মনে হলো। লোকটা কেটা হ্যাণ্ডবিল তার হাতে তুলে দিলো। লোকটার হাতের স্পর্শ ডানিং এর হাতে লাগতে তিনি চমকে উঠলেন, তার মনে হলো হাতটা যেরকম রুক্ষ সেইরকমই গরম,–ব্যাপারটা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। প্রচুর ভাবনা চিন্তা করেও তিনি এর কোনো কারণ খুঁজে পেলেন না। তিনি তাড়াতাড়ি হেঁটে চললেন এবং কাগজটার দিকে তার নজর পড়ে গেলো। কাগজটা নীল রংয়ের, তার ওপরে বড় বড় অক্ষরে ছাপা হ্যারিংটন চোখে পড়লো কথাটা তার। চমকে উঠে থেমে গেলেন। চশমা বের করবার উদ্দেশ্যে ঠিক সেই সময় আচম্বিতে তার পেছন দিক থেকে একজন এসে সেই জিনিষটা ছিনিয়ে নিয়ে চটজলদি চলে গেল। তার ফলে সেটা তিনি পেলেন না। কয়েক পা দৌড়লেন কিন্তু লোকটাকে কোথাও চোখে পড়লো না, এমনকি বিজ্ঞাপন বিলির লোকটাকেও আর দেখা গেলো না।

    ব্রিটিশ মিউজিয়ামের বাছাই পাণ্ডুলিপির ঘরে পরের দিনই ডানিং ৩৫৮৫ নং হার্লির এবং অন্যান্য কটি বইয়ের জন্য টিকিট কাটলেন। কিছুক্ষণ বাদে যখন বই এলো তিনি তখন সবচেয়ে জরুরি বইটা নিয়ে ডেস্কে বসার জন্যে উদ্যোগ করলেন। তক্ষুনি শুনতে পেলেন তিনি–কে যেন ফিসফিস করে তার নামটি ধরে ডাকলো। চকিতেই ফিরে তাকালেন। কিন্তু তার সব কাগজপত্র মাটিতে পড়ে গেলো। লাইব্রেরীর একজন কর্মচারীর ছাড়া তিনি পরিচিত কাউকেই দেখতে পেলেন না। তাঁকে দেখা মাত্র সে ইতিবাচক ভঙ্গীতে মাথা নাড়ল। তিনি কাগজগুলো তুলে নিলেন। ডানিং-এর মনে হলো সব কাগজই তোলা হয়ে গেছে এবং তিনি নিজস্ব কাজ করতে বসলেন। তৎক্ষণাৎ গাট্টাগোট্টা ধরনের ভদ্রলোক তার পেছনেই ছিলেন, তার কাঁধে হাত রেখে বললেন, এটা ধরুন, এটাও আপনারই হবে। কথাটা বলেই একটা কাগজ ডানিং-এর হাতে তুলে দিলেন। ডানিং বললেন, ধন্যবাদ, এটা সত্যিই আমার। পরক্ষণেই ব্যক্তিটি ঘর থেকে চলে গেলেন।

    বিকেলের কাজ শেষ হলে ডানিং লাইব্রেরীর একজন কর্মচারীর সঙ্গে টুকটাক কথা বললেন, এছাড়া সেই গাট্টাগোট্টা ব্যক্তিটির পরিচয় জানতে চাইলেন। তার প্রশ্নের জবাবে কর্মচারিটি জানান, ভদ্রলোকের নাম কার্সওয়েল, গত সপ্তাহে ভদ্রলোক অপরসায়ন সম্বন্ধে কারা বিশেষজ্ঞ জানতে চেয়েছিলেন এবং অবশ্যই উত্তরে দেশের অন্যতম একমাত্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে আপনার নাম করেছিলাম। দেখা যাক তাকে ধরতে পারলে হয়, তিনি অবশ্যই আপনার সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছাপ্রকাশ করবে।

    ডানিং বলেন, না না, মোটেই না–আরে আমি তো ওকেই বিশেষ ভাবে এড়িয়ে যেতে চাই যে।

    ও ঠিক আছে। রোজই যে উনি এখানে আসেন তা নয়। আপনার সঙ্গে হয়তো তার দেখাও হবে না।

    ডানিং-এর পক্ষে ঐদিনও উৎফুল্ল মনে বাড়িতে আসা সম্ভব হলো না। মানে আশঙ্কা হলো যে অন্যান্য সব মানুষদের সাথে কোনো না কোনো কারণে তার সদভাব আর নেই। তার একান্ত ইচ্ছে হলো ট্রেনে ও ট্রামে সবার সঙ্গে ঘেঁষাঘেঁষি করে বসবে কিন্তু সে দুটোতেই সেরকম লোকজনের ভিড় না থাকায় তা সম্ভব হলো না। বাড়িতে এসেই তার ডাক্তার ডঃ ওয়াটসনকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন। ডাক্তার বললেন, তোমার বাড়িতে ডানিং আমি বিপদ ডেকে এনেছি। দুজন দাসীকেই নার্সিংহোমে পাঠিয়েছি।

    কী সর্বনাশ! কী হয়েছে?

    বিষক্রিয়া ধরনের কিছু হয়েছে। যাইহোক দেখছি তুমি সুস্থই আছ, তা না হলে হেঁটে আসতে পারতে না। তবে ওরা সেরে উঠবে।

    কি বিপদ! রোগটা কি করে এসেছে?

    তারা বলেছে, একজন মাছওয়ালার কাছ থেকে তারা ডিনারের সময় ভোলা কিছু মাছ কিনেছিল। কিন্তু এই রাস্তার আর কোনো বাড়িতে হকার যায়নি বলেই শুনেছি। ওরা তো এখনই আসতে পারবে না। চল আমার বাড়িতে আমার সঙ্গে ডিনার খাবে, এ নিয়ে আর ব্যস্ত হতে হবে না।

    সন্ধ্যেবেলাটা ডানিংকে আর একা একা থাকতে হলো না, ডাক্তারের সাথে ভালোই কাটলো। জনমানবহীন বাড়িতে ফিরতে ফিরতে সাড়ে এগারোটা বাজলো। তবে রাত্রিটা তার খুব একটা ভালো কাটল না। আলো বন্ধ করে শুলেন, মনে মনে ভাবলেন ঠিকে দাসী ভোরবেলা গরম জল দেবে তো–ঠিক তখনই তার পড়ার ঘরের দরজা খোলার আওয়াজ শুনলেন–তার শোনায় কোনো ভুল হয়নি। কোনো পায়ের আওয়াজ গলিতে শোনা গেলো না, কিন্তু তবুও কেউ কোনো বাজে মতলবেই এসেছে, কারণ তিনি জানেন তিনি সন্ধ্যেবেলা ডেস্কের ভেতরে কাগজগুলো রেখে দরজা বন্ধ করেছেন। গলির পথে এগোতে ভালো করে কান পাতলেন। তবে কোনো আলো বা আওয়াজ কিছুই শুনতে পেলেন না, শুধুমাত্র তার হাঁটু আর গোড়ালির মধ্যে একঝলক গরম হওয়ার স্পর্শ পেলেন। ফিরে এলেন ঘরে সিদ্ধান্ত নিলেন ভেতর থেকেই ঘরের চাবি দেবেন। এটাই শুধু না, আরও কিছু অস্বস্তিকর ঘটনা ঘটল তার বাড়ির ইলেকট্রিক কারেন্ট কোনো কারণে বন্ধ হয়েছে, ঘড়ি দেখতে গেলে এখন তাকে দেশলাই জোগাড় করতে হবে, তবেই জানতে পারবেন আর কতক্ষণ তাকে এই অবস্থায় থাকতে হবে। তিনি তা ভেবেই বালিশের নিচের খোপে হাত দিতে গেলেন। হাতটা কিন্তু ততটা গেলো না, একটা দাঁত বার করা মুখ আর তার ওপরে চুল তার নিজের হাতে ধরলেন আর সে মুখটি মানুষের না। তখন তিনি কি বললেন আর করলেন তা অনুমান করার প্রয়োজন নেই, একটা খালি ঘরের ভেতরে দরজায় চাবি বন্ধ করেও চাবির ফুটোতে কান রেখে তিনি রইলেন, তার সংবিৎ যতক্ষণ না পূর্ণমাত্রায় ফিরে এলো। বীভৎস দুর্দশার মধ্যে তাঁর রাত কেটে গেলো। অবশ্য আর কিছু ঘটেনি সেই রাতে।

    সকালে যখন তিনি নিজের ঘরে ফিরলেন, সবকিছুই ঠিকঠাক দেখলেন, কোনো সাড়াশব্দ নেই। সন্দেহজনক কোনো কিছুই বাড়ির অন্য কোথাও চোখে পড়লো না।

    নির্বিঘ্নে দিনটা শুরু হলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত সঠিকভাবে সবকিছু এগোলো না। সাহস হলো না মিউজিয়ামে যাওয়ার, কার্সওয়েল যে সেখানে খুব একটা যায় না সেটা যদিও কর্মচারিটি জানিয়েছিল তবে বলা যায় না এসেও যেতে পারে, শত্রুভাবাপন্ন ঐ অপরিচিত লোকটির সাথে তিনি পারবেন না বলেই তার মনে হলো। বাড়িতে থাকতেও তার ভালো লাগছে না, আবার ডাক্তারকে বাড়িতে গিয়ে ব্যতিব্যস্ত করতেও মন থেকে চাইলেন না। নার্সিংহোমে পৌঁছে দাসীদের ভালো থাকার কথা শুনে মন কিছুটা ভালোই হলো। ক্লাবে পৌঁছলেন লাঞ্চের সময়। সেখানে সেক্রেটারীর সাথে সাক্ষাৎ হওয়াতে মনটা খুশিতে ভরে উঠলো তার। লাঞ্চে বসে তিনি সেক্রেটারীকে তার যেসব অভিজ্ঞতা তার মনে বিশেষ দাগ কেটেছিল সেগুলো অবশ্য চেপে গেলেন। সব শুনে সেক্রেটারী বলেন, কী কাণ্ড। শুনুন বাড়িতে আমরা দুজন ছাড়া কেউ নেই, আসুন আসুন আমাদের সঙ্গে থাকবেন। না না, কোনো অজুহাতই শুনবো না। আজই বিকেলে জিনিষপত্র সব পাঠিয়ে দিন।

    সত্যি সত্যি সবকিছু সহ্যের বাইরে চলে গেছিলো ডানিং-এর। আর ভাবতে ভাবতে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন আবার না, কি ঘটে যায় সেই রাতে। সেই কারণে এই প্রস্তাবে প্রচণ্ড খুশী হলেন, জিনিসপত্র গোছানোর জন্য বাড়ি ফিরলেন।

    বন্ধুবান্ধবরা অবসর মত যখন তার চেহারার দিকে লক্ষ্য করল, তারা প্রচণ্ড দুঃখ পেলেন এবং অস্বাভাবিকতা কাটিয়ে তোলার চেষ্টাও করলেন। এই কাজে তারা যে কৃতকার্য হলেন না তা নয়। কিন্তু পরক্ষণেই ধূমপান করার জন্য যখন দুই বন্ধু বসলেন তখন ডানিং পুনরায় চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। আচমকা বললেন, জানেন, আমার ধারণা সেই অপরসায়নবি জানেন যে আমিই তার লেখা বাতিল করেছি।

    কথাটা বলেই তিনি মিউজিয়ামের কর্মচারীর সঙ্গে তার কথোপকথনের সমস্ত কিছুই জানালেন। সব শুনে সেক্রেটারি বলেন হয়ত তার ধারণা সত্যি।

    ডানিং বললেন, অবশ্য এ নিয়ে আমি বিশেষ মাথা ঘামাই না তাহলেও তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়াটা আমি আদৌ পছন্দ করি না। মনে হচ্ছে ভদ্রলোক বদমেজাজী। তাদের কথার মাঝখানে আবার বিরতি ঘটল। হতাশগ্রস্ত ভাব পুনরায় ডানিং-এর চোখে মুখে ফুটে উঠল। অবশেষে সেক্রেটারি আচমকা প্রশ্ন করলেন–কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে কিনা। অস্বস্তিকর ভাব কাটিয়ে ডানিং বললেন, কী জানেন কথাটা বলার জন্যে আমি রীতিমত ছটফট করছিলাম, কিন্তু কিছুতেই বলতে পারছিলাম না। আচ্ছা জন হ্যারিংটন নামে এক ব্যক্তি সম্বন্ধে কি আপনি কিছু বলতে পারেন।

    সেক্রেটারি খুবই চমকে ওঠেন। তবে তখন শুধু জিজ্ঞাসা করেন যে কেন ডানিং তার কথা বলছে।

    শুনে ডানিং সব বৃত্তান্ত খুলে বলেন, ট্রামে কি হয়েছে, রাস্তা অথবা বাড়িতেও কি হয়েছে সমস্ত কিছু। পরক্ষণেই পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন। কি যে উত্তর দেবেন তা সেক্রেটারি খুঁজে পেলেন না। হ্যাঁরিংটনের সমস্ত কথা শোনানই হয়ত ঠিক হবে, কিন্তু ডানিং-এর এই নার্ভাস অবস্থা দেখে তাকে সেই কাহিনী শোনান উচিত কিনা বুঝে উঠতে পারলেন না। তাছাড়া কার্সওয়েলের সাথে ডানিং আর হ্যাঁরিংটনের কাহিনীর সম্পর্ক আছে কি না সে সম্পর্কে সন্দেহ রয়েই গেল। শেষে সিদ্ধান্ত নিলেন স্ত্রীর সাথে আলাপ আলোচনা করেই এই কথা জানাবেন। শুধু বললেন তিনি যখন কেমব্রিজে ছিলেন তখন তাকে চিনতেন আর তার মনে হয় ১৮৮৯ সালে হ্যাঁরিংটনের মৃত্যু হয়। পরে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন। তিনি যা ঠিক করেছিলেন তার স্ত্রীও সেই একই কথা বললেন স্ত্রী তাকে মৃত জন হ্যাঁরিংটনের ভাই হেনরি হ্যাঁরিংটনের সাথে যোগাযোগ করার কথা বললেন। আরও জানালেন তাদের আগের দিন যেখানে নেমন্তন্ন ছিল সেখানে বললেই হেনরি হ্যাঁরিংটনের সাথে দেখা হতে পারে। কথা হলো, মিঃ বেনেট–যিনি তাদের বন্ধু তার সঙ্গে সেক্রেটারির স্ত্রী দেখা করবেন। হেনরি হ্যারিংটন ও ডানিং-এর মধ্যে কিভাবে দেখা হলো তা বলার দরকার নেই। উভয়ের মধ্যে এই কথাই হল যে–হ্যারিংটনকে ডানিং জানালেন কি করে মৃত জন হ্যাঁরিংটনের নাম তিনি দেখেন এমনকি পরে আর দুটো ঘটনার কথা জানান। এরপর তিনি হেনরিকে প্রশ্ন করেন তার ভাইয়ের মৃত্যুর সাথে সম্পর্ক আছে এরকম কোনো কাহিনী মনে পড়ছে কি না। ডানিং-এর এই কথায় হেনরি কিরকম আশ্চর্য হয়েছিল তা চিন্তা না করেই বলা যায়, তবুও তিনি কিছু জানাতেই আপত্তি করলেন না।

    জনের শরীর মৃত্যুর কয়েক মাস আগে থেকেই প্রায়ই খারাপ হয়ে যেত, যদিও মৃত্যুর ঠিক কিছুদিন আগে শরীর ভালোই ছিল, বিশেষভাবে যে ধারণা তাকে চেপে ধরেছিল তা হলো, কোনো লোক তার পিছু নিয়েছে। কিন্তু এধরনের কোনো ধারণা এর আগে তার মনে কখনও আসেনি। সব শুনে, এর মাঝে যে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য কাজ করছে এই চিন্তা আমি কিছুতেই মন থেকে মুছে ফেলতে পারিনি এবং যা আপনার কাছে শুনলেন তার সাথে আমার ভাইয়ের কাহিনীর অনেক সাদৃশ্য আছে। দুটো ঘটনার মাঝখানে আপনি কি কোনো সম্ভাব্য যোগাযোগ আবিষ্কার করতে পারছেন?

    অস্পষ্টভাবে একটা কথাই আমার মনে পড়ে। শুনেছি আপনার ভাই মৃত্যুর কিছু আগে একটা বইয়ের প্রচণ্ড কঠিন সমালোচনা করেছিলেন। এবং খুব সম্প্রতি আমি সেই বইয়ের লেখকের সান্নিধ্যে এসে পড়েছি।

    নিশ্চয় তিনি কার্সওয়েল নন?

    নন কেন, তিনিই তো।

    চেয়ারে হেলান দিয়ে হেনরি হ্যারিংটন বসলেন। এরপর বললেন, এতক্ষণে সব ব্যাপারটাই পরিষ্কার হয়ে গেল। এবার শুনুন আমি সব বোঝাই। আমি নিশ্চিত হয়েছিলাম জনের একটা কথা থেকেই যে কার্সওয়েলই যত কিছু অস্বস্তির মূলে। একটা ঘটনার কথা জানাই যার সাথে এই ব্যাপারের একটা যোগাযোগ আছে। সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে বিখ্যাত ছিল আমার ভাই, শহরে গিয়ে কনসার্টে যোগ দিত। মৃত্যুর মাস তিনেক আগে কনসার্ট পার্টি থেকে সে ফিরে আমাকে প্রোগ্রামটা দেখতে দেয়। সে সবসময় প্রোগ্রামগুলো কাছেই রাখত। প্রোগ্রামটা যে আমি কোথায় রেখেছিলাম খুঁজে পাইনি; অনেক খুঁজেছিলাম, শেষে পাশের একটি লোক তাঁর প্রোগ্রামটা আমাকে দেন। বলেন আমি সেটা নিতে পারি, তার আর সেটার কোনো প্রয়োজন নেই। ভদ্রলোক এই বলে চলে যান। আমি ভদ্রলোককে চিনি না। চেহারাটি যেন শক্তসমর্থ, গোঁফ দাড়ি কামানো। এরপরে জন একদিন আমাকে বলল সে বড় অস্বস্তি বোধ করে, হোটেলে যাওয়ার সময় আর রাতে। এখন সব চিন্তা করে আমি একটা যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করছি। এর কিছুদিন পরের কাহিনী, গুছিয়ে রাখার জন্যে জন প্রোগ্রামগুলো একসাথে গেঁথে রাখছে, ঠিক সেই সময় সে লক্ষ্য করে, বিশেষ ঐ প্রোগ্রামটির (সেটা আমি ভালো করে দেখিনি) শুরু যেখানে ঠিক তার ওপরে একটু করে কাগজ রয়েছে। লাল আর কালো কালিতে তার মধ্যে কিছু লেখা আছে। যত্ন সহকারে তা লেখা,রনিকের মতো দেখতে মনে হয়। জন তা দেখে বলল, নিশ্চয় আমার পার্শ্ববর্তীর এটা, এটার তার কাছে হয়ত গুরুত্ব আছে। একটা কিছুর নকল হয়ত, যত্নের সাথেই কাজটা করা হয়েছে। তবে ভদ্রলোকের ঠিকানা কোথায় পাব? খানিকক্ষণ আলোচনার পর স্থির হলো ভাই যেন পরের কনসার্টে ভদ্রলোকের সন্ধান করে, দেখা হয়ত পেতেও পারে।

    আগুনের কাছেই আমরা বসেছিলাম। ঐ কাগজটা বইয়ের ওপর রাখা ছিল। সেদিন খুবই শীত ছিল। আচমকা দরজা খুলে যেতে গরম হাওয়ায় এক লহমাতে উড়ে গিয়ে কাগজটা আগুনের কাছে পড়ে আর সাথে সাথে পুড়ে ছাই। আমি বললাম, হায় হায় আর ফেরত দেওয়া গেল না এটা। নিশ্চুপ হয়ে কিছুক্ষণ থাকার পর বিরক্ত কণ্ঠে ভাই বলল, তা তো গেলই না। তা, কথাটা বার বার বলছ কেন? আমি বললাম, মাত্র একবারই তো বললাম, বার বার তো নয়। ভাই বলল, উঁহু, কম করে চারবার বলেছ। আমার এ সব কিছুই স্পষ্ট মনে আছে।

    আসল কথায় এবার আমরা আসছি। কার্সওয়েলের সেই বই আপনি পড়েছেন কিনা জানি না। তবে আমি পড়েছি,তার মৃত্যুর আগে এবং পরেও। বাঁধুনি বলে কিছুই নেই লেখার মধ্যে, এছাড়াও কোনো বিষয়কেই বইতে স্থান দেননি তা নয়–পৌরাণিক কাহিনী আছে, সোনালী কাহিনী–বর্তমানের অসভ্য মানুষদের আচার ব্যবহারের কাহিনীও আছে। সঠিক হত সবই; যদি লেখক তার সবকিছুই সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করতে পারতেন কিন্তু তিনি অক্ষম। দুর্ঘটনার পরেও বইটা আমি পড়লাম। তবে এবার প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ বিপরীত। আপনাকে বলেছি আমার ভাইয়ের ওপর কার্সওয়েল বিরূপ ছিলেন। এছাড়াও তিনি এই দুর্ঘটনার জন্যে কিছুটা দায়ীও আর এবার বইটাকে আমার অনিষ্টকর মনে হলো। বইয়ের একটা অংশই আমার খুব দৃষ্টি আর্কষণ করেছিল রুশ অক্ষরে? ভাষাকে যেখানে তিনি সাধারণের কাছে আনতে চেয়েছিলেন, লক্ষ্য ছিল তাদের ভালোবাসা পাওয়া অথবা তাদের পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া–আর মনে হয় দ্বিতীয় উদ্দেশ্যটাই তাঁর মাথায় ছিল। তাছাড়া তিনি এই বিষয়ে এমন করে লিখেছেন যেন তার এ সম্বন্ধে অনেক জ্ঞান। সূক্ষাতিসূক্ষ্ম বিষয়ে যাওয়ার সময় নেই, কিন্তু ফলাফল এই যে, সংবাদ সংগ্রহ করে জেনেছিলাম আমি– যে, কনসার্টের মাঝখানে অসামরিক লোকটি কার্সওয়েল, সন্দেহ হয় শুধু সন্দেহ না, বিশ্বাস করি যদি আমার ভাই কাগজটা দিয়ে দিতে পারত; হয়ত তার মৃত্যু হত না। সেইজন্য আপনাকে প্রশ্ন করছি, যা আমি বললাম আপনি এর অতিরিক্ত কিছু শুনেছেন কিনা?

    উত্তরে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের পাণ্ডুলিপি কক্ষের ঘটনার কথা ডানিং জানালেন।

    সত্যিই তাহলে আপনাকেও একটা কাগজ দিয়েছিলেন। সেগুলো পরীক্ষা করে দেখেছেন?–দেখেননি যদি আপনি আপত্তি না করেন তাহলে সেগুলো স্বযত্নে এক্ষুনি দেখতে হবে।

    দুজনে মিলে ডানিং-এর বাড়িতে গেলেন। ভৃত্য দুটি ছিল না বলেই বাড়িটা তখনও খালি।

    লেখার টেবিলের ওপর ধুলো জমা ডানিং-এর ব্যাগটা পড়েছিল। ছোট আকারের একটা লেখার কাগজ তার ভেতরে ছিল, একটা হাল্কা ধরনের কাগজ তার মধ্যে থেকে বেরিয়ে এসে উড়তে শুরু করলো। জানলাটা সঠিক সময়ে হ্যারিংটন বন্ধ না করলে তা চলে যেত। তিনি কাগজটা তুলে নিলেন। বলেন, যে ধরনের কাগজ আমার ভাইকে দেওয়া হয়েছিল সেটা এইরকমই। দেখুন, ডানিং বিষয়টা আপনার কাছে খুব গুরুত্ব পেতে পারে।

    দুজনে খানিকক্ষণ ধরে আলোচনা করল, খুব যত্ন সহকারে সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করল কাগজটা। উভয়ের এটাই মনে হলো হেনরি সঠিক বলেছে। রুশিক ভাষাতেই কাগজে লেখা আছে যা তাদের অজানা। ঐ কাগজে যা অমঙ্গল লুকিয়ে আছে তা হয়ত বাস্তবায়িত হয়ে যেতে পারে; এই ভয়ে তা নকল করতে ইতস্ততঃ করলেন। ঐ টুকরো কাগজে কি খবর ছিল তা জানা অসম্ভব হলো। আর হেনরি হ্যারিংটন ও ডানিং–উভয়েরই এই ধারণা হলো কাগজটা যার কাছে রইবে তারই মঙ্গল হওয়ার কথাই নয়। সেইকারণে সেটা যথাস্থানেই ফেরত দেওয়া হবে এবং নিজের হাতেই নিরাপদে কাজটা করা সম্ভব। এই জায়গায় কার্সওয়েল ডানিংকে দেখেছেন। ডানিং-এর চেহারাটা বদলে ফেলার জন্য প্রথমেই তাকে দাঁড়ি কেটে ফেলতে হবে। কিন্তু যদি তার আগে বিপদ চলে আসে? তবে বিপদটাকে এড়ান যাবে কারণ পরের কনসার্টের তারিখ তার অজানা নয়। তার ভাইয়ের ওপর প্রোগ্রামের কালো মার্কা দেওয়া হয় ১৮ই জুনের কনসার্টের। আর মৃত্যু হয় ১৮ই সেপ্টেম্বর। ডানিং স্মরণ করিয়ে দেয় ট্রামে, তিন মাস কথাটা লেখা ছিল। পরক্ষণে কঠিন হাসি হেসে বললেন, আমার বিলটাও তিনি মাসেরই হতে পারে। –তবে তা আমি ডায়েরি থেকেই দেখে নিচ্ছি।-২৩শে এপ্রিল ছিল মিউজিয়ামের তারিখ ও হিসেব করে আমরা পাই ২৩শে জুলাই। তবে ভাবুন আপনার ভাইয়ের অশান্তিটা কোন পথে চলেছিল তা বলতে পারলে অনেক সুবিধা হয়।

    তা অবশ্য ঠিক। জানেন, ভাইয়ের কাছে দুশ্চিন্তার বিষয় ছিল, যখন তার কাছে কেউ থাকত না, তার মনে হত কোনো লোক তাকে লক্ষ্য করছে। কয়েক দিন পরে তার ঘরে আমি শুলে সে স্বস্তি পেল। তবুও সে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে অনেক কথা বলত। হা কিসের ওপর সে কথা বলত? কিন্তু সমস্যাটা না মিটলে এর ওপর কি কিছু বলা উচিত? মনে হয় অনুচিত। এটাই শুধু বলতে পারি এই কয়েক সপ্তাহে দুটো জিনিস ডাকযোগের মাধ্যমে তাঁর নিকটে আসে, লণ্ডনের পোস্ট অফিসের ছাপ দুটোতেই। বেউকের উডকাট ছবি একটা, কোন বই থেকে অযত্নে ছিঁড়ে নেওয়া, ছবিটা হলো একজন লোক পূর্ণিমা চাঁদনী রাতে রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলেছে আর ভীষণ আকৃতির এক দৈত্য তাকে ফলো করছে। এনলেন্ট ম্যারিনার থেকে নেওয়া কয়েকটা লাইন তার তলায়

    পথে যেতে যেতে
    ফিরে দেখে না সে একবার,
    জানে মনে, এক বিকট দৈত্য
    পিছু নিয়ে আছে ঠিক তার

    দ্বিতীয় বস্তুটি ছিল একটা ক্যালেণ্ডার, ব্যবসায়ীরা যেরকম ক্যালেণ্ডার অনেক সময় পাঠায়। সেইকারণে এই ঘটনাকে তেমন পাত্তা দেয়নি, তবে তার মৃত্যুর পরে আমি সেটা লক্ষ্য করেছিলাম। ১৮ই সেপ্টেম্বরের পর থেকে সবকিছু ছেঁড়া দেখেছিলাম। আপনি শুনলে হয়ত অবাক হবেন যেদিন সন্ধ্যেয় তার মৃত্যু হয়েছিল ঐদিন তিনি একা বেরিয়েছিলেন। কিন্তু এটা ঠিক ভাবেই বলা যায় যে তার জীবনের শেষ দশ দিন তার মনে হয়নি কেউ তার পিছু নিচ্ছিল।

    এইভাবেই আলোচনা শেষ হয়। কার্সওয়েলের একজন প্রতিবেশীকে হেনরি হ্যারিংটন চিনতেন, তাঁর মনে হলো তিনি কার্সওয়েলের গতিবিধির ওপর দৃষ্টি রাখার একটা উপায় পেয়েছেন। অপর দিকে ডানিং-এর কাজই হবে প্রতি মুহূর্তে কার্সওয়েলের সাথে মোকাবিলা করার জন্যে তৈরি থাকা, কিন্তু কাগজটা নিরাপদ কোন জায়গায় রাখা যা কার্সওয়েলের পক্ষে পাওয়ার অসুবিধা হবে না।

    দুজনে আলাদা হয়ে গেলেন। পরবর্তী কয়েকটা সপ্তাহে ডানিং-এর মানসিক চাপের সৃষ্টি হলো। তার চারপাশে কেউ রইল না যে, তাকে কোনো পরামর্শ দিতে পারে, এছাড়াও তার নিজের পক্ষ থেকে কোনো উৎসাহই বাকি রইল না। হ্যাঁরিংটনের কাছ থেকে কোনো নির্দেশের জন্যে মে, জুন, জুলাই মাসের প্রথম কটা দিন ডানিং-এর অতীব দুশ্চিন্তায় সময় কাটল। সেই সময়ে কার্সওয়েল লাফোর্ডে নীরব রইলেন।

    অবশেষে যে তারিখকে তিনি শেষ দিন হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন তার সপ্তাহখানেক পূর্বে একটা টেলিগ্রাম এল: ৮ বৃহস্পতিবার রাতে বোট ট্রেনে যাত্রা করছে। লক্ষ্য রাখবেন আপনার কাছে আজ রাতে যাচ্ছি। হ্যারিংটন।

    ঠিক সময়ে হ্যারিংটন এলেন। উভয়ে পরামর্শ করলেন, ভিক্টোরিয়ায় কার্সওয়েলকে হ্যারিংটন লক্ষ্য করবেন, আর ক্রয়ডনে ডানিংকে। এছাড়া একটা নির্দিষ্ট নামে হ্যারিংটন ডানিংকে ডাকবেন ঠিক হলো। যতটা সম্ভব হ্যারিংটন ছদ্মবেশ ধরবেন, তার জিনিসপত্রে কোনো নাম লেখা থাকবে না। আর কাগজটা তিনি নিশ্চয়ই সঙ্গে রাখবেন।

    ক্রয়ডন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ডানিং প্রচণ্ড উৎকণ্ঠার সাথে অপেক্ষা করতে লাগলেন, যা সত্যি বর্ণনা করা যায় না। তাছাড়া কয়েকদিনের মেঘলা আকাশ একটু পরিষ্কার হওয়ায় বিপদ আরও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আশঙ্কার লক্ষণ তো স্বস্তি, আর কার্সওয়েল তাকে এ যাত্রায় এড়িয়ে গেলে আর কোনো আশা থাকবে না, এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা যে নেই তা নয়। তবে এই যাওয়ার খবরটা যে এসেছে তাও যে কোনো বদ মতলব না, তা কে জানে। তিনি এই যে মিনিট কুড়ি ধরে প্ল্যাটফর্মে হাঁটাচলা করছে এবং সব কুলিকে বোট ট্রেনের সম্বন্ধে প্রশ্ন করছেন এটা খুবই বিরক্তিকর। অবশেষে ট্রেন এল, হ্যারিংটনকে জানলার কাছে দেখা গেল। তবে উভয়ই যে উভয়কে চেনে তা প্রকাশ করা যাবে না, তাই ডানিং উঠলেন গাড়ির দূরবর্তী প্রান্তে আর অল্প অল্প করে কামরার সেইখানে যেখানে হ্যারিংটন ও কার্সওয়েল বসে আছেন। অল্প খুশীও হলেন যে গাড়িতে তেমন লোক নেই।

    কার্সওয়েল ভীষণ সতর্ক, তিনি ডানিংকে না চেনারই ভান করলেন। ডানিং অবশ্য তার সম্মুখেই বসেননি। কার্সওয়েলের কাগজপত্রের মধ্যে কোনো প্রকারে কাগজটা রেখে দেওয়ার কথা ভাবতে লাগলেন। কার্সওয়েলের অপরদিকে ও ডানিং-এর পাশেই তার কোট ও অন্যান্য জিনিস রাখা আছে, তবে তার মধ্যে কাগজটা রাখলে কোনো কাজের কাজ হবে না, আর নিরাপদও বোধ করবেন না এতে। অবশ্য একটা খোলা কাগজপত্র সহ ব্যাগ দেখলেন এটা যদি লুকিয়ে ফেলা যায় (এমনভাবে তা করতে হবে যেন কার্সওয়েল ভুল করেই তা ফেলে নেমে যাচ্ছিলেন তিনি লক্ষ্য করেছেন তাই তাকে দিয়েও দেবেন।) এই পরিকল্পনাটাই তিনি সঠিক মনে করলেন। কিন্তু ভালো হত যদি হ্যাঁরিংটনের সঙ্গে তা নিয়ে কথা বলা যায়–তবে সে সুযোগ কোথায় আসছে। সময় ক্রমশঃ এগিয়ে চলেছে।

    কার্সওয়েল বহুবার করিডর যাচ্ছিলেন আর ফিরে আসছিলেন তবে ডানিং হ্যাঁরিংটনের ইশারা মত কোনো সুযোগই নেননি। তারা দুজনকে চেনে কি না সেটা অবশ্যই কার্সওয়েল লক্ষ্য করছিলেন। তিনি ফিরে এলেন। মনে হলো তিনি ধৈর্য হারিয়েছেন। কিন্তু তৃতীয়বার যখন কার্সওয়েল উঠলেন তখন একটু আশার আলো দেখা গেল কারণ কিছু একটা জিনিস মেঝেতে শব্দ না করেই পড়ে গেল। পুনরায় কার্সওয়েল উঠলেন আর এইবার বারান্দার জানালার সীমানা ছাড়িয়ে গেলেন। বস্তুটা ডানিং তুলে নিয়ে দেখলেন, তা কুক কোম্পানির টিকিটের বাক্স, ভেতরে একটা চাবি। এ ধরনের কেস-এ পকেটে থাকে আর যে কাগজের কথা বলা হচ্ছে তা চটজলদি পকেটে চলে গেল। নিশ্চিত হবার জন্যে ঠিক ঐ সময়ে হ্যারিংটন গাড়ির দরজার কাছে দাঁড়িয়ে খড়খড়ি নিয়ে আপন মনে নাড়াচাড়া শুরু করলেন। কাজটা হয়ে গেল সময় মতো হয়ে গেল, কারণ ডোভারের কাছাকাছি এসে যাওয়াতে ট্রেন আস্তে আস্তে চলতে শুরু করেছে।

    মিনিট খানিকের মধ্যে কার্সওয়েল ফিরে এলেন। যতটা সম্ভব স্বাভাবিক ভাবেই ডানিং তাকে টিকিটের কেসটা দিয়ে বলেন,–এটা বোধহয় আপনার, তাই না? নিন দয়া করে।

    কার্সওয়েল কেসের মধ্যে টিকিটটা দেখে বলেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ। ধন্যবাদ অসংখ্য-এ জন্যে। বুক পকেটে কেসটা রেখে দিলেন।

    যে কিছুটা মুহূর্ত সময় ছিল তারই ভেতরে বুঝতে পারলেন না, সঠিক সময়ের আগে কাগজটা পেলে তার ফলাফল কী হতে পারে। তাদের মনে হলো ট্রেনের কামরাটায় আলো নেই আর ক্রমশঃ উত্তপ্ত হয়ে আসছে। তবে কার্সওয়েলকে দেখে সন্দেহ হলো; তিনি যেন কি বিষয়ে খুঁতখুঁত করছেন। কোট ও অন্যান্য জিনিসপত্র এগিয়ে নিয়ে এলেন আবার দূরে সরিয়ে দিলেন, যেন সেগুলো তার বিরক্তির উৎপত্তি করছে। এরপরে সোজা হয়ে বসে চিন্তিত হয়ে তাকালেন উভয়ের মুখের দিকে। তবে ট্রেনটা সেই ডোভারে পৌঁছল। তাদের মনে হলো কার্সওয়েল কিছু বলার চেষ্টা করছেন। করিডরের দিকে দুজনে গেলেন।

    তারা পিয়ারে নেমে গেলেন। ট্রেন খুবই ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল ফলে নৌকোয় ওঠার পথে কার্সওয়েল আর তার কুলি যতক্ষণ না এগিয়ে চললেন ততক্ষণ তারা বাধ্য হয়েই প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করতে লাগলেন। আর এতক্ষণ বাদে উভয়ে হাতে হাত মিলিয়ে চাপ দিয়ে দুজনকে সাবাস দিলেন। তখন ডানিং-এর প্রায় মূৰ্ছা যাওয়ার অবস্থা। দেওয়ালে তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে হ্যারিংটন কিছুটা এগিয়ে অন্য জায়গায় গেলেন। কার্সওয়েলকে যেখান থেকে দেখা যায়। একজন সেখানে তার টিকিট দেখলেন। দেখা হলে কার্সওয়েল কোট ও অন্যান্য জিনিস নিয়ে এগোলেন। আচমকা টিকিট পরীক্ষাকারী তাকে ডাকলেন,-মাপ করবেন ও মশাই, অন্য ভদ্রলোকটি তার টিকিটটি কি দেখিয়েছেন? কার্সওয়েল ডেক থেকে দাঁত খিঁচিয়ে বললেন, অন্য ভদ্রলোক! তার মানে।

    বেশ খানিকক্ষণ সময় লর্ড ওয়ার্ডেন-এ দুজনে বসেছিলেন, সব চেয়ে বড় চিন্তার কারণটা যা ছিল তা চলে গেলেও যে জিনিসটা এখও মনের মধ্যে খচখচ্‌ করছে তার গুরুত্বও কিছু কম নয়। এটা তাদের মনে হয় তারা এইভাবে একজন লোককে মৃত্যু পথযাত্রী করে তুললেন সেটা কি ন্যায় হলো? অন্য কিছু না হোক তাকে সাবধান করে দেওয়া উচিত ছিল! হ্যারিংটন বললেন, না, কক্ষনো না! যদি সত্যি ও-ই ভাইকে খুন করে থাকে তবে আমরা যেটা করছি তা ঠিকই। এছাড়াও কোথায় কেমন করে তাকে সাবধান করে দেওয়া সম্ভব? অ্যাবিভিল অবধি তো ওর টিকিট, আমি দেখেছি। যদিও ডোয়ানস গাইড দেখে সেখানকার হোটেলগুলোকে টেলিগ্রাম করে দিই আপনাদের টিকিটের কেসগুলো একটু সঠিকভাবে দেখুন তাহলে কিছুটা অস্বস্তি কাটে। ২১ তারিখ আজকে, আরও একটা দিন সময় পাবে ও। তবে যদি ও হোটেলে না ওঠে তবে টেলিগ্রামগুলো হোটেলে থেকে যাবে।

    টেলিগ্রামগুলো যথাস্থানে পৌঁছল কি না বোঝা গেল না অথবা যদি বা পৌঁছে থাকে তার তাৎপর্য বোধগম্য হবে না। শুধু এটাই জানা গেল ২৩ তারিখ অ্যাবিভিলের সেন্ট উলফ্রামের গীর্জার সামনের দিকে একজন ইংরেজ যাত্রী দেখছিলেন, তখন সেখানে বেসী মাত্রায় মেরামতের কাজ চলছিল। আচমকা একটা পাথর তার মাথায় পড়ে আর সাথে সাথে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু এটা প্রমাণিত তখন সেখানে কোনো কাজ হচ্ছিল না। কাগজপত্র থেকে জানা যায় যাত্রীটি কার্সওয়েল।

    একটা কথাই আর জানানোর আছে। কার্সওয়েলের সমস্ত দোষত্রুটি সত্ত্বেও হ্যারিংটন তার এক সেট বেউইক কিনেছিলেন। তার যে পাতায় উডকাটের পথিক আর তাকে পিছু করা দৈত্যের ছবি স্বাভাবিক কারণেই খুব ভালো অবস্থায় ছিল না। এই ঘটনা ঘটে যাওয়ার কয়েক দিন বাদে ডানিংকে হ্যারিংটন বলতে গেলেন ঘুম অবস্থায় তার ভাই তাকে যা বলেছিলেন। অর্ধেকটা শোনার পর কিন্তু ডানিং তাকে থামিয়ে দেয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    September 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }