Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    লেখক এক পাতা গল্প1765 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. রানি অ্যানের জমিদারী ভবন

    ০৬.

    পরদিন সকালে সকলে গেলেন রানি অ্যানের জমিদারী ভবন দেখতে। ইতিহাস জড়ানো সুন্দর বাড়িটির সঙ্গে একটি অপূর্ব বাগানও রয়েছে।

    বাড়িটির স্থাপত্যের নিদর্শন দেখে স্থপতি রিচার্ড জেনসন খুবই উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলেন। আবেগে তিনি ঘুরে ঘুরে প্রতিটি ঘরের নানা বর্ণনা সকলকে শোনাতে শুরু করলেন। অনেকেই ভিড় করে তার বক্তৃতা শুনতে লাগলেন।

    মিস মারপল সিঁড়ি বেয়ে নিচের তলায় চলে গেলেন। তার পেছন পেছন এলেন মিস কুক আর মিস ব্যারো।

    নিচে নেমে একটা খুনের ঘটনা নিয়ে কথা বলতে লাগলেন তারা। খুনটা হয়েছিল এই বাড়িতেই। সতেরোশো সালের কোন বছর।

    কথিত আছে সেই সময় লেডি মোফাটের এক প্রেমিক ছিল। সে গোপন দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করতো আবার গোপন দরজা দিয়েই বেরিয়ে যেতো।

    স্যার রিচার্ড মোফাট সাগরপাড়ে কোথাও ছিলেন। তিনি ফিরে এসে স্ত্রী আর তার প্রেমিককে ঘনিষ্ঠ ভাবে আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন। তার পরেই সেই তরুণকে ছোরাবিদ্ধ অবস্থায় কার্পেটের ওপর পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।

    কথা বলতে বলতে মিস কুককে লক্ষ্য করছিলেন মিস মারপল আর মনে করবার চেষ্টা করছিলেন কোথায় তাকে দেখেছেন।

    ঠিক মনে পড়ে গেল। কিন্তু যখন তাকে দেখেছেন তখন মিস কুকের চুলের রঙ ছিল কালো। এখন তা গাঢ় হলুদ। ব্যাপারটা চিন্তায় ফেলে দিল তাকে।

    নিচ তলা থেকে ডাইনিং হল পার হয়ে সকলে একসময় চলে এলেন সংলগ্ন বাগানে। মিস মারপল বাগানে একটি আসনে আরাম করে বসে পড়লেন।

    ইতিমধ্যে মিস এলিজাবেথ টেম্পল এবং মিসেস রাইজেল পোর্টারও বাগানে নেমে এসেছেন।

    মিস এলিজাবেথ টেম্পল মিস মারপলের পাশে এসে বসলেন।

    দুজন কিছুক্ষণ নীরবে বসে থাকার পর এলিজাবেথ এই বাগান সম্পর্কে কথা বলতে আরম্ভ করলেন।

    –এই চমৎকার বাগানের পরিকল্পনা করেছিলেন হেলম্যান সম্ভবত ১৭৯৮ কিংবা ১৮০০ খ্রিঃ। খুব প্রতিভাধর ছিলেন তিনি। খুব অল্প বয়সেই মারা যান।

    –অল্প বয়সে মৃত্যু হয়েছে শুনলে বড় দুঃখ হয়। বললেন মিস মারপল। যে কোন জীবনই অসম্পূর্ণ থেকে যায় যদি মাঝপথে তার গতি স্তব্ধ করে দেওয়া হয়।

    –আপনি এই ভ্রমণে এসেছেন কি বাড়ি দেখতে না বাগান? এলিজাবেথ টেম্পল বললেন।

    –বাড়ি দেখতেই এসেছি, বললেন মিস মারপল, এক দয়ালু বন্ধু আমার জন্য এই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সেরকম বিখ্যাত বাড়ি দেখার সুযোগ জীবনে পাইনি।

    একটু থেমে তিনি আবার বললেন, আপনি প্রায় ভ্রমণে বের হন?

    প্রায়ই না। এবারে অবশ্য শুধু ঘুরে বেড়াব বলেই আসা নয়। আপনি নিশ্চয় ভাববেন, তাহলে কি উদ্দেশ্য নিয়ে বেরিয়েছি ভেবে, তাই না?

    মিস মারপল সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দিলেন না। কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তীক্ষ্ণ নজরে তিনি যেন তার সঙ্গিনীকে জরীপ করতে লাগলেন।

    পরে তিনি বললেন, আমি জানি আপনি একজন বিখ্যাত মানুষ। আপনার স্কুলেরও খুব নামডাক আছে। আপনাকে দেখে মনে হয়, আপনি তীর্থযাত্রায় এসেছেন। তীর্থযাত্রী বলেই মনে হয় আপনাকে।

    –চমৎকার বলেছেন। হ্যাঁ, আমি তীর্থযাত্রাতেই বেরিয়েছি।

    মিস পারপল দু-এক মুহূর্ত নীরব থাকার পরে বললেন, যে বন্ধু আমার জন্য এই ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, তিনি মারা গেছেন। তার নাম আপনিও নিশ্চয় শুনে থাকবেন মিঃ র‍্যাফায়েল।

    জ্যাকসন র‍্যাফায়েল? হ্যাঁ, তার নাম আমার পরিচিত। অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে তাকে চিনি না বা দেখিনি। আমাদের এক শিক্ষা প্রকল্পে তিনি প্রচুর অর্থ দান করেছিলেন। কয়েক সপ্তাহ আগে কাগজে তার মৃত্যু-সংবাদ পড়েছি। তিনি তাহলে আপনার পুরনো বন্ধু ছিলেন।

    –না, বললেন মিস মারপল, একবছর আগে ওয়েস্ট ইণ্ডিজে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তার আগে তার সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানতাম না। আপনি তার পরিবারের কাউকে চিনতেন?

    কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন এলিজাবেথ। পরে বললেন, একটি মেয়ে একসময় আমার স্কুলে পড়ত, সে মিঃ রাফায়েলের ছেলের বাগদত্তা ছিল।

    –ছেলেটি ওকে বিয়ে করেনি? জানতে চান মিস মারপল।

    –না।

    –কিন্তু কেন?

    –আমি ঠিক জানি না। ছেলেটির আগ্রহ জাগাবার মতই চেহারা ছিল। মেয়েটি অত্যন্ত সুন্দর ছিল দেখতে। তবু কেন যে ওদের বিয়ে হয়নি…মেয়েটি মারা যায়…

    –মারা যায়…কিন্তু কেন?

    এলিজাবেথ অন্যদিকে অন্যমনস্কভাবে তাকিয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি একটিমাত্র শব্দ উচ্চারণ করলেন, ভালোবাসা।

    –ভালোবাসা? মিস মারপল যেন কথাটার প্রতিধ্বনি করলেন।

    –হ্যা…পৃথিবীর সবচেয়ে ভয় জাগানো কথা–ভালোবাসা।

    .

     ০৭.

    বিকেলে চতুর্দশ শতাব্দীর একটা প্রাচীন গীর্জা দেখতে গিয়েছিল সকলে। মিস মারপল ইচ্ছে করেই বিরতি দিয়েছিলেন। তিনি একটু বিশ্রাম করে বড় রাস্তার ধারে চা-ঘরে হাজির হলেন।

    একটা আরামপ্রদ আসনে বসে তিনি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে ভাবতে লাগলেন।

    ইতিমধ্যে অন্যরাও ফিরে এসেছে। মিস মারপলের পাশের দুটি চেয়ারে এসে বসলেন মিস কুক আর মিস ব্যারো। চতুর্থ চেয়ারটিতে বসলেন মিঃ ক্যাসপার।

    মিস মারপল মিস কুককে জিজ্ঞেস করলেন, আমার কেমন মনে হচ্ছে, আপনাকে আগে কোথাও দেখেছি।

    মিস কুক তার বান্ধবী মিস ব্যারোর দিকে তাকালেন। যেন একথার জবাবটা তিনিই দেবেন। মিস মারপলও মিস ব্যারোর দিকে তাকালেন। পরে বললেন, আমি সেন্ট মেরী মিডে থাকি। মাচ বেনহ্যাম থেকে বেশিদূরে নয়। আমার কাছাকাছি কোথাও আপনি ছিলেন কিনা মনে করতে পারছি না।

    –মাচ বেনহ্যাম, লুমাউথ আমি ভালই চিনি। সম্ভবত

    আচমকা খুশি হওয়ার মত শব্দ করে মিস মারপল বলে উঠলেন, মনে পড়েছে হা–সেন্ট মেরী মিডে আমার বাগানে একদিন আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম, আপনি ফুটপাথ দিয়ে যেতে যেতে দাঁড়িয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। আমার মনে পড়ছে, আপনি বলেছিলেন, ওখানেই কোন বান্ধবীর সঙ্গে…।

    –ঠিক! এবারে আমারও মনে পড়েছে। আমরা বাগানের বিষয়ে কথা বলেছিলাম।

    –হ্যাঁ, আপনি কোন বান্ধবীর ওখানে গিয়েছিলেন সম্ভবত।

    –হ্যাঁ,.. আমার একজন বান্ধবী…

    মিস কুক কেমন ইতস্তত করতে লাগলেন যেন বান্ধবীর নামটা মনে করতে পারছেন না।

    –হেস্টিংস। বললেন মিস ব্যারো।–

    হ্যাঁ হ্যাঁ…নতুন বাড়িগুলোর কোন একটায়…মিস মারপল বললেন।

    –আমরা সকলেই দেখছি বাগান ভালোবাসি।

    .

    রাতের খাওয়া সেরে মিস মারপল ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। মিস কুকের ব্যাপারটা তার মাথায় গেঁথেছিল। তিনি স্বীকার করেছেন সেন্ট মেরী মিডে ছিলেন…তার বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।

    মিস মারপল চিন্তা করলেন তার ওখানে আসার বিশেষ কোন উদ্দেশ্য ছিল কি? তাকে কি ওখানে পাঠানো হয়েছিল? কিন্তু তার উদ্দেশ্য কি ছিল?

    একটু পরে নিজের চিন্তার গতি উপলব্ধি করে তিনি নিজের মনেই হেসে উঠলেন। এসব কি ভাবছেন তিনি। মিস কুক আর মিস ব্যারোকে দুজন স্বাভাবিক মানুষ বলেই মনে হয়। দেখে বেশ হাসিখুশি বলেই মনে হয়।

    কিন্তু…কিন্তু মিস কুক যেন মনে হল প্রথমে সেন্ট মেরী মিডে থাকার কথা অস্বীকার করতে চাইছিলেন। তিনি তাঁর বান্ধবী মিস ব্যারোর দিকে তাকিয়েছিলেন কেন? কোন নির্দেশ চাইছিলেন কি?

    আচমকা মিস মারপলের মনে বিপদ কথাটা ছায়া ফেলল। প্রথম চিঠিতে মিঃ র‍্যাফায়েল কথাটা উল্লেখ করেছিলেন।

    এই সূত্রেই দ্বিতীয় চিঠিতে দেবদূতের সাহায্যে কথা বলেছিলেন।

    তিনি এই ব্যাপারে বিপদে পড়তে পারেন…কিন্তু কেন….কোন দিক থেকে?

    নিশ্চয় মিস কুক বা মিস ব্যারোর কাছ থেকে নয়? খুবই সাধারণদর্শন দুই বান্ধবী।

    কিন্তু এটাও তো ঠিক যে মিস কুক তার চুল রঙ করে, চুলের বিন্যাস বদলে চেহারার আদল পাল্টাতে চেয়েছেন।

    একে নিশ্চয় ছদ্মবেশই বলতে হবে। ব্যাপারটা নিশ্চয় অদ্ভুত।

    মিঃ ক্যাসপার–মানুষটিকে সহজেই বিপজ্জনক বলে মেনে নেওয়া যায়। তিনিও পাশে বসেছিলেন। দু-একবার কথায় অংশ নিতেও চেষ্টা করেছেন।

    বিদেশীদের সম্পর্কে কিছুই বলা যায় না। মিস মারপল বিদেশী যাত্রীদের বিষয়ে না ভেবে পারলেন না।

    .

    গোল্ডেন বোরো নিজের কামরা থেকে বেরিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজের জন্য নিচে নামছিলেন। এই সময় টুইডের কোট পরিহিতা একজন মহিলা ব্যস্তসমস্ত ভাবে সামনে এসে দাঁড়াল।

    –মাপ করবেন, আপনিই কি মিস জেন মারপল?

    –হ্যাঁ, ওটাই আমার নাম। একটু অবাক হলেন মিস মারপল।

    -আমার নাম মিসেস গ্লাইন-ল্যাভিনিয়া গ্লাইন। আমি আর আমার দুই বোন কাছেই থাকি। আমরা শুনেছিলাম আপনি আসছেন–

    –আপনারা শুনেছেন আমি আসছি

    অবাক হয়ে ব্যাপারটা বুঝবার চেষ্টা করলেন মিস মারপল।

    –হ্যাঁ। আমাদের এক পুরনো বন্ধু লিখেছিলেন। তিনি বিখ্যাত হাউজেন অ্যাণ্ড গার্ডেনসের ভ্ৰমণতারিখ জানিয়ে বলেছিলেন তার এক নামী বন্ধু এই ভ্রমণে থাকবেন। আমরা যেন তারিখটা মনে রাখি।

    মিস মারপল ঘটনার আকস্মিকতায় কথা হারিয়ে ফেলেছিলেন।

    -ওঃ! মিঃ র‍্যাফায়েল, মিস মারপল বলতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু আপনারা জানেন, তিনি…

    –হ্যাঁ, তিনি মারা গেছেন। খুবই দুঃখের কথা। মনে হয়, আমাদের কাছে লেখার কিছু পরেই তার মৃত্যু ঘটে। তিনি যা বলেছেন তা হল, আপনি হয়তো দু-এক রাত আমাদের সঙ্গে কাটিয়ে যেতে পছন্দ করবেন।

    ভ্রমণের পরবর্তী অংশ আপনার পক্ষে খুবই কষ্টকর হবে। বহু মাইল হেঁটে খাড়াই বেয়ে ওপরে ওঠার দরকার হবে।

    আমরা তিনবোন খুবই খুশি হব যদি আপনি কয়েকটা দিন আমাদের সঙ্গে কাটিয়ে যান। হোটেল থেকে আমাদের বাড়ি মাত্র দশ মিনিটের পথ। এই কদিন স্থানীয় ভাবে অনেক সুন্দর জিনিস আপনাকে দেখিয়ে দিতে পারব।

    মিস মারপল নীরবে মিসেস গ্লাইনকে পর্যবেক্ষণ করলেন। হৃষ্টপুষ্ট চেহারার মানুষটিকে বেশ বন্ধুভাবাপন্ন বলেই মনে হলো তার।

    দু-এক মিনিট ভাবলেন তিনি। এটা কি মিঃ র‍্যাফায়েলেরই নির্দেশ…তার পরবর্তী কর্তব্য সম্পর্কে! তিনি মিসেস গ্লাইনের দিকে তাকিয়ে বললেন, ধন্যবাদ, আপনাদের ওখানে যেতে পারলে সত্যিই খুশি হব।

    .

    ০৮.

    প্রাচীন এক জমিদার ভবন। তার একটি ঘরে বিছানায় বসে আছেন মিস মারপল। পাশেই পড়েছিল তার সুটকেস।

    জানলা দিয়ে বাগানের দিকে তাকিয়ে তার মনে হল, খুবই অযত্নে লালিত। সম্ভবত কয়েক বছর পরিচর্যা হয়নি। বাড়িটিও অবহেলিত। ঘরের আসবাবপত্রও খুবই মূল্যবান, কিন্তু তাতে বহুকাল পালিশ পড়েনি।

    এই ভবনের লোকজনেরা হয়তো অন্য কোথাও চলে যাওয়ার পরে মিসেস গ্লাইনরা এখানে বাস করতে এসেছেন। তার মুখেই তিনি শুনেছেন, বাড়িটি উত্তরাধিকার সূত্রে মিসেস গ্লাইন তার কোন কাকার কাছ থেকে পেয়েছেন। স্বামী মারা যাবার পরে বোনেদের নিয়ে এখানে বাস করতে আসেন।

    অন্য দুই বোন অবিবাহিতই রয়ে গেছেন। তারা হলেন মিস ব্র্যাডবেরি ও মিস স্কটস।

    বাড়িতে কেবল তিন বোনই থাকেন। কোথাও কোথাও এমন কিছু নেই যা থেকে কোন শিশুর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরা রুশীয়–শেখভ বা দস্তয়ভস্কি এরকম কিছু হবেন, মনে হল তার।

    গ্লাইন তাকে অন্য দুই বোনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। তাদের হাবভাব বেশ মার্জিত।

    বাগানের দিকে তাকিয়ে তার মনে হল, এই ক্ষয়িষ্ণু পরিবারটির সঙ্গে মিঃ র‍্যাফায়েলের সম্পর্ক কি রকম? বুঝতে পারছিলেন, তার এখানে আসার সকল ব্যবস্থা তিনিই করে গেছেন। মৃত্যুর কয়েকমাস আগেই সম্ভবত সবকিছু করেছেন।

    মিস মারপলের মনে হল তার ওপর যে দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে, তিনি যেন ধীরে ধীরে তা বুঝে নিতে পারছেন।

    সুন্দর এক পরিকল্পনা বেশ অনেকদিন ধরে চিন্তার পর, ছকে ছিলেন মিঃ র‍্যাফায়েল। কিন্তু কী এমন সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি যার জন্য এমন বিস্তৃত এক পরিকল্পনা নিতে হয়েছিল তাকে?

    এ সমস্যা এমনই যে মিঃ র‍্যাফায়েল নিজে সমাধান করতে পারেননি। সময়ও ছিল না, শয্যাশায়ী হয়ে তিনি মৃত্যুর দিন গুণছিলেন।

    নিশ্চয় এমন কিছু ব্যাপার ছিল বা কেউ যার কোন ব্যবস্থা তিনি করে যেতে পারেন নি। নিশ্চয় অর্থের বিনিময়ে এই সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব ছিল না। ব্যবসায়িক চাল বা আইনজ্ঞের সাহায্যেরও বাইরে ছিল না।

    তবে, মিস মারপলের মনে হল, বিষয়টা নিশ্চয়ই অপরাধমূলক কিছু বা অপরাধের সঙ্গে তার যোগসূত্র রয়েছে।

    ওয়েস্ট ইণ্ডিজে, তার এলাকায় ঘটে যাওয়া কোন অপরাধ হওয়াও বিচিত্র নয়।

    যাই হোক, ভাগ্যের কিছু আনুকূল্য, সঙ্গে কঠিন শ্রম আর চিন্তা, সেই সঙ্গে কিছু পরিমাণে বিপদ–এই দুজ্ঞেয় বিষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিশেষ সেই কাজের জন্য তাকে সেন্ট মেরী মিডের বাড়ি থেকে বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে। জোসেলিন সেন্ট মেরীর এই প্রাচীন জমিদার ভবনে বাস করছেন মিসেস গ্লাইন, মিস ক্লোটিলডা ব্র্যাডবেরি স্কট আর মিসেস অ্যানথিয়া ব্র্যাডবেরি স্কট। তার এখানে আসার ব্যবস্থা মিঃ র‍্যাফায়েলই করে গেছেন মৃত্যুর আগে। তার আইনজ্ঞদের নির্দেশ দিয়ে নিশ্চয় ভ্রমণ সংস্থার আসন সংরক্ষণ করেছিলেন। বিশেষ কোন উদ্দেশ্য ছাড়া–কেবল দুটি রাতের জন্য, এমন বন্দোবস্ত করা তার মত লোক কখনোই করেননি।

    মিস মারপলের ধারণা হল, মিসেস গ্লাইন আর তার দুটি বোন নিশ্চিত সেই ব্যাপারটির সঙ্গে জড়িত। তাকে তা বের করতে হবে।

    খুব সতর্ক হয়ে তাকে পদক্ষেপ করতে হবে। কোন ভাবেই, কোন সংবাদেই উত্তেজনা বা কৌতূহল প্রকাশ করা তার ঠিক হবে না।

    সচেতন থেকে তাকে বের করতে হবে কোন আত্মীয়তা বা ঘটনা বা জীবনের ঘটনার কথা যা এই তিন বোনের সঙ্গে জড়িত নয় অথচ এদের কাছাকাছিই ঘটে থাকবে সেই ঘটনা।

    যাই হোক, দুদিন এখানে থাকবেন স্থির করলেন তিনি। তারপরে আবার ভ্রমণে যোগ দেবেন। হয়তো তিনি যা চাইছেন, তা ওই কোচেই রয়েছে।

    একজন বা বহুজন, কোন নির্দোষ বা নির্দোষ নন, হয়তো দীর্ঘ অতীতের কোন কাহিনী।

    এই সময় দরজায় শব্দ করে মিসেস গ্লাইন ঘরে প্রবেশ করলেন।

    আশা করি আরাম বোধ করছেন এখানে। আপনার জিনিসপত্র বের করে দেব?

    –ওঃ ধন্যবাদ। টুকিটাকি সামান্য জিনিসটা আমিই বার করে নিয়েছি।

    এরপর বাড়ির নিচতলাটা দেখাবেন বলে মিসেস গ্লাইন মিস মারপলকে নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলেন।

    –বাড়িটা সত্যিই চমৎকার, বললেন মিস মারপল, ১৭০০ সালে তৈরি মনে হয়।

    –১৭৮০ সালে। বললেন মিসেস গ্লাইন।

    চমৎকার বড় একখানা ঘরে এনে বসানো হলো মিস মারপলকে। অন্য দুই বোন সেই সময় ঘরেই ছিলেন।

    তিন বোন। ল্যাভেনিয়া গ্লাইন। ক্লোটিলডা ব্র্যাডবেরি স্কট। অ্যানথিয়া ব্র্যাডবেরি স্কট।

    মিস মারপল তিন বোনকে কথার ফাঁকে ফাঁকে লক্ষ্য করতে লাগলেন।

    ক্লোটিলডা সুন্দরী। ল্যাভেনিয়া সরল। অ্যানথিয়া আকর্ষণীয়া। তার একটি চোখের পাতা মাঝে মাঝেই কেমন কেঁপে ওঠে। আচমকা পেছনে ফিরে তাকায়। এতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। যেন কেউ তাকে সব সময় লক্ষ্য করছে। অ্যানথিয়ার এই অভ্যাসটা খুবই অদ্ভুত মনে হল মিস মারপলের।

    .

    ০৯.

    মাত্র তিনদিন হয়েছে। মিস মারপল ভ্রমণে বেরিয়েছেন। ভ্রমণের বিষয়ে বিবরণ দেবার তেমন কিছু ছিল না।

    –মিঃ র‍্যাফায়েল নিশ্চয় আপনার পুরনো বন্ধু ছিলেন? জ্যেষ্ঠ বোন ব্র্যাডবেরি স্কট প্রশ্ন করলেন।

    –ঠিক তা নয়, বললেন মিস মারপল, তাঁকে প্রথম দেখি–যখন ওয়েস্ট ইণ্ডিজে যাই। সম্ভবত তিনিও সেখানে স্বাস্থ্য ফেরাতে গিয়েছিলেন।

    -হ্যাঁ। শেষ দিকে তিনি অক্ষম হয়ে গিয়েছিলেন, অ্যানথিয়া বললেন, আপনি লণ্ডনে থাকেন?

    -না, গ্রামের দিকে থাকি। লুমাউথ আর মার্কেট বেসিংয়ের মাঝামাঝি আমাদের গ্রামটা। লণ্ডন থেকে পঁচিশ মাইল। মিঃ র‍্যাফায়েল মনে হয় লণ্ডনেই থাকতেন?

    –কেন্টে তাঁর এক বাগানবাড়ি ছিল ক্লোটিলডা বললেন, কালেভদ্রে লণ্ডনে গেলে তার সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হত।

    -আপনারা আমাকে যে অনুগ্রহ করে নিমন্ত্রণ জানালেন এটা তার সদাশয়তা।

    এর আগে তাঁর অনেক বন্ধুকেই ভ্রমণের ফাঁকে আমরা নিমন্ত্রণ করে এনেছিলাম, বললেন ক্লোটিলডা, আগামীকাল সেন্ট বোনাভেঞ্চারে আপনাদের ভ্রমণ খুবই ক্লান্তিকর হবে।

    -আপনি বাগান ভালবাসেন? অ্যানথিয়া বললেন।

    –হ্যাঁ। এদের তালিকায় ঐতিহাসিক ভবন আর সংলগ্ন চমৎকার বাগান দেখতে পাব বলে উদগ্রীব হয় আছি।

    এইরকম কথোপকথন ছিল খুবই সাধারণ আর নীরস। সবই স্বাভাবিক মনে হলেও মিস মারপলের মনে হল এখানে অস্বাভাবিক কিছু আছে।

    মধ্যহ্নভোজের পরে মিস মারপলকে বাগানে নিয়ে যাওয়া হল। বাগানটি হতশ্রীই বলা যায়। কিছু গুল্ম আর কিছু লতা গাছ। একদিকে বিস্তর ঝোপ গজিয়ে উঠেছে।

    অ্যানথিয়া সঙ্গী হয়েছিল তার। ঘাসের ওপর দিয়ে চলতে চলতে দেয়ালের পাশে একটা ঢিবির কাছে এসে দাঁড়ালেন।

    –এটা আমাদের কাচ-ঘর। বললেন অ্যানথিয়া। চারদিকটা ভাঙ্গাচোরা। লতাগুল্ম জড়িয়ে আছে।

    একটা ফুল দেখিয়ে মিস মারপল জিজ্ঞেস করলেন, এ তলার নাম কি?

    -খুব সাধারণ লতাগাছ। বললেন অ্যানথিয়া, নামটা পি দিয়ে…ঠিক মনে পড়ছে না।

    –নামটা আমার জানা আছে, বললেন মিস মারপল, পলিগোনাম বল্ডস্কৃয়ানিকাম। খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে। কাচ-ঘরটি বেশ বড় ছিল বোঝা যায়।

    অ্যানথিয়া তাড়াতাড়ি সেখান থেকে সরে এসে দেওয়ালের পাশের রাস্তা ধরে এগিয়ে চলতে লাগল।

    মিস মারপলের মনে হল, ইচ্ছাকৃত ভাবেই পলিগোনামের ঢিবি থেকে তাকে সরিয়ে নিতে চাইছে অ্যানথিয়া।

    হঠাৎ একটা ভাঙ্গা শুয়োরের খোঁয়াড়ের ওপর নজর পড়ল তার। সেটার চারপাশে কয়েকটা গোলাপ চারা গজিয়ে উঠেছে।

    চলতে চলতে আচমকাই অ্যানথিয়া প্রশ্ন করল,আপনি প্রায়ই এরকম ভ্রমণে আসেন?

    -খুব খরচের ব্যাপার তো। হয়ে ওঠে না। একজনের দয়ায়—

    ওয়েস্ট ইণ্ডিজ বা এরকম জায়গায় যান—

    আমার ভাইপোর কল্যাণে যাওয়া হয়েছিল।

    –ওঃ বুঝেছি।

    –আপনার বোন মিসেস গ্লাইনের কোন ছেলেমেয়ে নেই? জিজ্ঞেস করলেন মিস মারপল।

    –না ওদের কোন সন্তান হয়নি। একদিকে সেটা ভালই হয়েছে।

    কথাটা কেমন খট করে কানে গেঁথে গেল। এরকম কেন বলল, ভাবলেন মিস মারপল

    .

     ১০.

    পরদিন সকালের চা-খাবার নিয়ে ঘরে ঢুকল একটি স্ত্রীলোক।

    হাতের ট্রে টেবিলে রাখতে রাখতে সে বলল, বোনাভেঞ্চার পাহাড়ে না গিয়ে ভালই করেছেন। পায়ে খুব ব্যথা হতো।

    –এখানে এসে আমি খুব আনন্দ পেয়েছি, বললেন মিস মারপল।

    –বাড়িতে কেউ এলে আমাদেরও খুব ভাল লাগে। এ বাড়িটা আজকাল খুবই দুঃখের হয়ে উঠেছে।

    -তুমি এ বাড়িতে অনেকদিন আছ?

    –খুব ছোট বয়সে এসেছিলাম–পরিচারিকা হয়ে। সেই বুড়ো কর্নেলের আমলে। কর্নেলের দুর্ভাগ্য নিজের চোখেই দেখেছি। অল্পবয়সে স্ত্রীকে হারালেন, যুদ্ধে ছেলেটাও মারা গেল। এক মেয়ে ছিল সেও নিউজিল্যাণ্ডের একজনকে বিয়ে করে বিদেশে চলে যায়। একাই তিনি এখানে বাস করে গেছেন। মারা যাবার সময় ভাইঝি ক্লোটিলডাকে আর তার অন্য দুই বোনকে এ বাড়ি দিয়ে যান। তিনি আর মিস অ্যানথিয়া বাস করতে থাকেন। পরে স্বামী মারা গেলে ল্যাভিনিয়াও চলে আসে। তারপর থেকে, ওদের ক্ষমতা ছিল না, দিনে দিনে বাড়িটা, বাগানটাও নষ্ট হতে থাকে।

    -খুবই দুঃখের কথা। বললেন মিস মারপল।

    –তবে ওরা সবাই খুব ভাল। কেবল অ্যানথিয়া যেন কেমন কেমন। জানেন, আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, বাড়িটায় কোন দোষ আছে।

    মিস মারপল স্থির দৃষ্টিতে তাকালেন পরিচারিকার দিকে।

    -একটার পর একটা দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। স্পেনে যুদ্ধ লাগল–সবাই মারা গেল। মিস ক্লোটিলডার দুই বন্ধু মারা গেলেন। তারা স্বামী-স্ত্রী ছিলেন। একটা মেয়ে সৌভাগ্যবশত স্কুলে ছিল বলে সে বেঁচে যায়। তবে মিস ক্লোটিলডা তাকে এখানে নিয়ে এসে সবই করেছিলেন তার জন্য। খুব হাসিখুশি, মিষ্টি স্বভাব ছিল মেয়েটির। কী ভয়ানক ব্যাপার যে ঘটল, আপনি ভাবতেও পারবেন না।

    –কি হয়েছিল? ভয়ানক কিছু ঘটেছিল এখানে?

    –তা এখানেই ঘটেছিল বলতে পারেন। সে তাকে এখানেই প্রথম দেখে। কাছাকাছিই থাকতো। তিন বোনই তার বাবাকে চিনতেন–দারুণ পয়সাওয়ালা লোক। ছেলেটি এখানে বেড়াতে এসেছিল–আর তখন থেকেই শুরু হয়–

    –ওরা প্রেমে পড়েছিল?

    –হ্যাঁ। ছেলেটির চমৎকার চেহারা ছিল। আপনি ভাবতে পারবেন না কী সাংঘাতিক –

    মেয়েটি আত্মহত্যা করেছিল?

    –বৃদ্ধা আশ্চর্য হয়ে তাকাল মিস মারপলের দিকে।

    -ওঃ ওসব নয়–খুন–একেবারে খুন। গলা টিপে মেরে তার মাথাটা একেবারে খেলে দেওয়া হয়েছিল। মিস ক্লোটিলডাকে গিয়ে সনাক্ত করতে হয়েছিল। তার পর থেকেই তিনি কেমন হয়ে গেলেন।

    একটু থামল সে। পরে আবার বলতে শুরু করল, এখান থেকে ত্রিশ মাইল দূরে একটা পরিত্যক্ত খনির পাশে ঝোপের মধ্যে তার দেহটা পাওয়া গিয়েছিল। এরা সবাই বলে, এরকম অনেক মেয়েই নাকি সে খুন করেছিল। ছমাস ধরে মেয়েটা নিরুদ্দেশ ছিল। পুলিসও খুঁজে পায়নি।

    ওরা বলে আজকাল যারা এরকম মেয়েদের মারে, তাদের নাকি মাথার ঠিক নেই। তাদের ফাঁসিও দেয় না। আমি ওসব বিশ্বাস করি না। ওই ছেলেটা…পাকা শয়তান ছিল।

    -ওরা তাকে কি করেছিল?

    –ওর বয়স কম ছিল। ঠিক মনে নেই আমার, ফাঁসি দিয়েছিল না, বোস্টল বা ব্রডম্যাণ্ড এমনি কোন একটা জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছিল।

    –ছেলেটির নাম কি ছিল বলতো।

    দশ বছর আগের ঘটনা–সব মনেও নেই। কি যেন মাইকেল–তারপর মনে হয় র‍্যাফল

    –মাইকেল র‍্যাফায়েল?

    –ঠিক বলেছেন।

    মিস মারপল নিঃশ্বাস ফেললেন। তাহলে এখন বোঝা যাচ্ছে এই খুনের কারণটাকেই এলিজাবেথ টেম্পল বলেছিলেন ভালবাসা।

    এক তরুণী কোন খুনীর প্রেমে পড়েছিল। সেই প্রেমেই তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।

    ঘটনাটা ভাবতে গিয়ে শিহরিত হলেন মিস মারপল।

    সেদিন সকালেই নিচে নেমে গৃহকর্ত্রীকে দেখতে পেলেন না কোথাও। তিনি বাগানে এসে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। একটা অদ্ভুত অনুভূতি তার সারা মন আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। তার মনে হতে লাগল, এই বাগানে এমন কিছু আছে যা তার প্রয়োজন–যা তাঁর লক্ষ্য করা দরকার। জেনেটের বলা ঘটনাটা লক্ষ্য করবেন স্থির করলেন।

    দেয়ালের গায়ে একটা ভোলা দরজা দিয়ে মিস মারপল রাস্তায় এসে পড়লেন। কিছু দোকানপাট পার হয়ে একটা গীর্জার চত্বরে ঢুকলেন। কয়েকটি সমাধির কাছে ঘুরে বেড়ালেন।

    পুরনো দিনের সব সমাধি। কয়েকটির গায়ে কয়েকজন প্রিন্সের নাম চোখে পড়ল। আর কয়েকজন ব্রড।

    ফিরে আসার পথে একজন বয়স্ক মহিলার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হল। তাকে সুপ্রভাত জানিয়ে কথা শুরু করলেন তিনি।

    কথার মাঝখানে সেই মহিলা জিজ্ঞেস করলেন, আপনি ওই পুরনো জমিদার বাড়িতে আছেন, তাই না?

    –হ্যাঁ বললেন মিস মারপল, আমার এক পুরনো বন্ধু মিঃ র‍্যাফায়েল এখানে তার কজন বন্ধুকে লিখেছিলেন, তারাই কয়েকটা রাত কাটাবার জন্য নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। মিসেস গ্লাইন আর তার দুই বোন খুব যত্ন করেছেন। তারা সম্ভবত অনেককাল এখানে আছেন?

    –তেমন বেশিদিন নয়–বছর কুড়ি হবে। বাড়িটা ছিল কর্নেল ব্র্যাডবেরি স্কটের।

    কর্নেলের কোন ছেলেমেয়ে ছিল না?

    –এক ছেলে ছিল, সে যুদ্ধে মারা গিয়েছিল। সেজন্যই তো বুড়ো ভাইঝিকে বাড়িটা দিয়ে গেছেন।

    কথা শেষ করে বৃদ্ধাটি কবরের সারির দিকে চলে গেল। মিস মারপল গির্জায় প্রবেশ করলেন।

    একটা ছোট আসনে বসে মিস মারপল নানা কথা চিন্তা করতে লাগলেন।

    দশ-বারো বছর আগের ঘটনা। নতুন করে কোন সমস্যার সমাধান করার কিছু নেই। এতে তার কিই বা করার আছে। মিঃ র‍্যাফায়েল কি আশা করেছিলেন তার কাছে?

    এলিজাবেথ টেম্পল নিশ্চয় আরো কিছু বলতে পারেন। তিনি তার এক ছাত্রীর কথা জানিয়েছিলেন, সে মাইকেল র‍্যাফায়েলের বাগদত্তা ছিল। কিন্তু সত্যিই কি তাই?

    তার গ্রামেও এমনি একটি ঘটনা ঘটেছিল। বিয়ের আগেই সে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিল। এরপর মেয়েটি ছেলেটিকে বিয়ের কথা বলে। ছেলেটির ততদিনে মেয়েটিকে নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তার অন্য সঙ্গিনী জুটেছিল। নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে সে মেয়েটিকে। তারপর যাতে আত্মীয়স্বজন সনাক্ত করতে না পারে তার জন্য মেয়েটির মুখ গুঁড়িয়ে দিতে চেষ্টা করল। সব যেন একই কাহিনীর পুনরাবৃত্তি।

    ওরা তিন বোন কি কিছু জানে? এলিজাবেথ টেম্পল? কালতো আবার সকলের সঙ্গে তিনি ভ্রমণে যোগ দেবেন। তখন তার কাছ থেকে আরও কিছু জানার চেষ্টা করবেন।

    কিছুক্ষণ পরে উঠে দাঁড়ালেন মিস মারপল। ধীরে ধীরে বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করলেন।

    গেটের কাছে আসতেই দেখলেন দুজন স্ত্রীলোক দাঁড়িয়ে আছে। একজন এগিয়ে এলো–মিসেস গ্লাইন।

    -আপনি এখানে? আমরা চিন্তা করছিলাম।

    –প্রাচীন গির্জাটা একটু ঘুরে দেখছিলাম। বললেন মিস মারপল, এটা মনে হয় ভিক্টোরিয়ার আমলের।

    -হ্যাঁ।

    আপনারা এখানে আগাগোড়াই আছেন?

    –না। মাইল ত্রিশেক দূরে আমরা থাকতাম। লিটল হার্ডসনেতে। আমার বাবা ছিলেন অশ্বারোহী বাহিনীর মেজর। কাকাকে দেখতে প্রায়ই আমরা এখানে আসতাম। তারও আগে আসতাম ঠাকুর্দাকে দেখতে। আমার বোনেরা কাকার মৃত্যুর পর এখানে চলে আসে। সেসময় আমি স্বামীর সঙ্গে বিদেশে ছিলাম। বছর পাঁচ আগে তিনি মারা গেছেন। ওরাই আমাকে আগ্রহ করে এখানে নিয়ে আসে। স্বামীর মৃত্যুর আগে আমি স্বামীর সঙ্গে কয়েকবছর ভারতবর্ষেও ছিলাম।

    -ওহ আচ্ছা

    লণ্ডনের কাছে আমি ছোট একটা কটেজও কিনেছি–হ্যাম্পটন কোর্টে। মাঝে মাঝে লণ্ডনের দু-একটা দাঁতব্য প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতে হয়, সেজন্য বোনেদের কাছে বেশি থাকা হয় না। ওদের নিয়ে আজকাল খুব চিন্তা হয়। বিশেষ করে অ্যানথিয়ার জন্য ভাবনা হয়। মাঝে মাঝে যেন কেমন হয়ে যায়। দেখেছেন তো

    -হ্যাঁ। খুব ভাবনাচিন্তা করলে মানুষের এরকম হয়।

    –কিন্তু, ওর চিন্তাভাবনার কি কারণ থাকতে পারে বুঝতে তো পারি না। বাগানটা নিয়ে খুব চিন্তা করে অবশ্য। কাচঘর, পীচ, আঙুরলতা এসবের কথা খুব বলে

    –দেওয়ালের গায়ে চেরি পাই-এর কথাও–এছাড়াও সেই ফুলের বেড়া

    –আপনি দেখছি মনে রেখেছেন। সেই ফুলের বেড়া আবার ও লাগাতে চায়। অনেক কিছুই নতুন করে লাগাতে চায়। ক্লোটিলডা অবশ্য ওকে বলে এখন আর অত খরচ সম্ভব নয়। তবু কি শোনে, কদিন আগে এক নামী কোম্পানিকে বাগানটা সাজিয়ে তোলার জন্য বায়না দিয়েছে। কাচঘর নাকি আবার আগের মত করে তুলবে।

    আজকাল সবেতেই খুব খরচ। কিছু করা কঠিন। বললেন মিস মারপল।

    একটু চুপ করে থেকে তিনি বললেন, কাল সকালেই তো আমাকে যেতে হবে। গোল্ডেনবোরে খোঁজ নিয়েছিলাম। সকাল নটায় ওখানেই যাত্রীরা ফিরে এসে আবার যাত্রা করবেন। শুনেছি এবারে আমাদের দেখানো হবে স্টারলিং সেন্ট মেরী-গির্জা আর কেল্লা

    -বেশ। আজ বিকালটা বিশ্রাম নিয়ে নিন। কথা বলতে বলতে ওরা দুজন বাড়িতে ঢুকলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচিলেকোঠার সেপাই – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }