Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    লেখক এক পাতা গল্প1765 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দ্য ইনক্রেডিবল থেফট

    দ্য ইনক্রেডিবল থেফট

    আকাশ এখন পরিষ্কার। ঝকঝক করছে তারার চোখ। লর্ড মেফিল্ড এবং স্যার জর্জ ঘর থেকে বেরিয়ে টেরেসে এলেন।

    -বেশ দামি সেন্ট ব্যবহার করেন মহিলা–এখনো গন্ধ ভেসে রয়েছে হাওয়ায়। বললেন স্যার জর্জ।

    -এ জন্য আমাকে তোমার ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। হাসলেন লর্ড মেফিল্ড।

    দুজনে ধীর পায়ে টেরেসে ঘুরে বেড়ালেন। স্যার জর্জ একটা সিগারেট পুরো নিঃশেষ করলেন।

    –চল নিচে যাওয়া যাক–ব্যাপারটা নিয়ে বসা যাক। বলে লর্ড মেফিল্ড ঘুরে দাঁড়ালেন। পরক্ষণে তীক্ষ্ণকণ্ঠে বলে উঠলেন, জর্জ, ওটা কি–তাকিয়ে দেখ–

    -কোথায়—

    দেখতে পাওনি, স্টাডিরুম থেকে বেরিয়ে কেউ মনে হল টেরেসের ওদিকে চলে গেল।

    -আমি তো কিছু দেখতে পেলাম না–সামনের ঝাপসা অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে বললেন স্যার জর্জ, তোমার চোখ ছলনা করেছে।

    দুজনে হাসতে হাসতে স্টাডিরুমে প্রবেশ করলেন। সেক্রেটারি মিঃ চার্লিল ফাইল কাগজপত্র গোছগাছ করছে।

    –সব ঠিক আছে তো চার্লিল। জিজ্ঞেস করলেন লর্ড মেফিল্ড।

    –হ্যাঁ স্যার, সবকিছু আপনার ডেস্কের ওপর রাখা আছে।

    জানালার ধারে মূল্যবান কাঠের বড় ডেস্ক।

    সেটার সামনে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাছতে লাগলেন লর্ড মেফিল্ড।

    হাতের ফাইলপত্র সরিয়ে রেখে চার্লিল বলল, আজ রাতে আমাকে আর দরকার হবে লর্ড মেফিল্ড?

    –মনে হয় না, বাকি সব আমি দেখে নেব। তুমি বরং আজ চলে যাও।

    –ধন্যবাদ স্যার।

    ওদের দুজনকে শুভরাত্রি জানিয়ে সেক্রেটারি ঘর ছেড়ে বেরলো। পরমুহূর্তে নিয়োগকর্তার ডাক শুনে ঘুরে দাঁড়াল।

    –এক মিনিট চার্লিল, বোমারু বিমানের নক্সাগুলো

    –টেবিলে একেবারে ওপরেই রয়েছে স্যার।

    –দেখছি না তো।

    সেক্রেটারি ডেস্কের সামনে এগিয়ে এলো। লর্ড মেফিল্ডের সঙ্গে হাত লাগিয়ে সে-ও খুঁজল এবং হতভম্ব হল। নক্সাগুলো নেই।

    কিন্তু এ তো অবিশ্বাস্য ব্যাপার–কয়েক মিনিট আগেই আমি ওগুলো এখানে রেখেছি ডেস্কের ওপরে।

    স্যার জর্জও এগিয়ে এসে ওদের সঙ্গে হাত মেলালেন। সমস্ত নথিপত্র খুঁজে দেখা গেল বোমারু বিমানের নক্সাগুলো কোথাও নেই।

    –আসল জিনিসগুলোই উধাও। একী অসম্ভব কাণ্ড, সেক্রেটারির দিকে তাকিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন লর্ড মেফিল্ড। এ ঘরে কেউ এসেছিল?

    –কেউ আসেনি স্যার।

    –নিশ্চয় কেউ সরিয়ে ফেলেছে। জলজ্যান্ত নক্সাগুলো তো হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে পারে না। মিসেস ভান্দারলিন এসেছিলেন?

    -না স্যার, পরিষ্কার মনে করতে পারছি।

    –তিনি এ ঘরে এসে থাকলে সেন্টের গন্ধ থাকত। বললেন স্যার জর্জ।

    -ভালো বিপদে পড়া গেল। আচ্ছা চার্লিল, ওগুলো আলমারির ভেতরে ছিল, তুমি নিশ্চিত? নাকি অন্য জায়গায় কাগজপত্রের সঙ্গে ছিল?

    -না লর্ড মেফিল্ড। এতবড় ভুল হতে পারে না। অন্য আরো কাগজপত্রের সঙ্গে ডেস্কের ওপরে রেখেছিলাম। সবার ওপরে ছিল নক্সাগুলো।

    -কেউ যদি ঘরে না এসে থাকে–তুমি ঘর ছেড়ে কোথাও যাওনি তো?

    -আমি বাইরে-হ্যাঁ স্যার, আমি এঘরে যখন কাজ করছিলাম, বাইরে একটা মেয়ের চিৎকার শুনলাম

    মেয়ের চিৎকার শুনলে? বিস্মিত হলেন লর্ড মেফিল্ড।

    হ্যাঁ, স্যার। ডেস্কের ওপর জরুরী কাগজপত্র রেখে আমি কখনো বাইরে যাওয়ার কথা ভাবি না–কিন্তু হঠাৎ–ওরকম একটা শব্দ শুনে অবাক হয়ে বেরিয়ে আসি-হলঘরের দিকে ছুটে যাই

    চিৎকার করেছিল কে?

    -মিসেস ভান্দারলিনের ফরাসি পরিচারিকাটি। চোখমুখ ফ্যাকাসে করে হলঘরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কাঁপছিল। বলল, ভূত দেখেছে সে।

    -ননসেন্স। ভূত এখানে কোথায়?

    -বলল, আপাদমস্তক সাদাকাপড়ে ঢাকা একজন মহিলা চলতে চলতে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।

    –যা-নয় তাই বললেই হল।

    –আমিও তাই বললাম স্যার। লজ্জা পেয়ে ছুটে ওপরতলায় চলে গেল। আমিও ঘরে ফিরে আসি।

    -কতক্ষণ আগে এ ঘটনা হয়েছে?

    –আপনারা এ ঘরে আসার মিনিট দুই আগে হবে।

    –তুমি তাহলে এ ঘর ছেড়ে কতক্ষণ ছিলে?

    সেক্রেটারি একটু ভাবল। পরে বলল, দু-তিন মিনিটের বেশি কিছুতেই হবে না।

    মাথা ঝাঁকালেন লর্ড মেফিল্ড। চোখ তুলে বন্ধুর দিকে তাকালেন।

    –আমি তাহলে ঠিকই দেখেছিলাম জর্জ। তোমাকে বলেছিলাম–জানালার পাশ থেকে কাকে সরে যেতে দেখলাম। বোঝা যাচ্ছে, চার্লিল ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে। নক্সাগুলো সেই রহস্যময় ছায়ামূর্তিই

    –কিছুই আমার মাথায় ঢুকছে না। বললেন স্যার জর্জ।

    .

    –একজন অচেনা বাইরের লোককে এর মধ্যে আনতে চাইছ কেন তুমি?

    বন্ধুর দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বললেন লর্ড মেফিল্ড।

    –আমি তাকে জানি, চার্লস। ওঁর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না। ঘটনাটা যাতে ফাঁস হয়ে না যায় সে ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে।

    -ভদ্রলোকের নাম যেন কি বললে

    –এরকুল পোয়ারো। তাঁর বিচক্ষণতা প্রশ্নাতীত।

    -তুমি যেভাবে বলছ, তাতে মনে হচ্ছে, তিনি এখানে এসে মন্ত্রবলে নক্সাগুলো বার করে দেবেন।

    -সেটাই রহস্য চার্লস। তার যুক্তিবুদ্ধি সত্যকে প্রকাশ করবে, আর আমরা সেটাই জানতে চাই, বললেন স্যার জর্জ, ওই ভদ্রমহিলাকে নক্সাগুলো নিয়ে পালাতে দেওয়া যায় না।

    মিসেস ভান্দারলিনের কথা বলছ?

    –হ্যাঁ। তুমি তো এঁর সম্পর্কে সবই জান।

    –একজন ভদ্রমহিলা সম্পর্কে আমি এরকম ভাবতে পারছি না। যদিও এ ব্যাপারে তিনিই একমাত্র সন্দেহভাজন ব্যক্তি। কিন্তু সন্দেহ করার মতো কোনো প্রমাণ তো আমাদের হাতে নেই।

    –ওসব চিন্তা এখন ভুলে যাও চার্লস।

    –কিন্তু জর্জ, তুমি যাকে ডাকতে চাইছ, তিনি একজন চতুর ফরাসি, তার ওপর কি তুমি বিশ্বাস রাখতে পারছ?

    -প্রিয় বন্ধু, তিনি ফরাসি নন। তিনি একজন বেলজিয়ান।

    –তাহলে সেই ভদ্রলোককেই ডেকে পাঠাও। যদিও আমি মনে করি না, তিনি আমাদের থেকে বেশি কিছু করতে পারবেন।

    স্যার জর্জ হাত বাড়িয়ে টেলিফোনের রিসিভার তুলে নিলেন।

    .

    এরকুল পোয়ারো যখন ফোনে খবরটা পেলেন, তখন রাত আড়াইটে। সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকার পথে তার রোলস চালিয়ে এসে উপস্থিত হয়েছেন লর্ড মেফিল্ডের বাড়িতে। ওদের দুজনের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ মন দিয়ে শুনলেন।

    গোড়া থেকেই লর্ড মেফিল্ড পোয়ারোকে তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে লক্ষ্য করছিলেন। সন্দেহ, কৌতূহল দুই মিলিয়ে ছিল তার চোখে।

    সামনের দিকে ঝুঁকে বসেছিলেন পোয়ারো। হঠাৎ একটা ঝাঁকুনি দিয়ে মাথা তুলে তাকালেন। স্যার জর্জের দিকে। নির্দোষ অভিব্যক্তি তার মুখে।

    –ঘটনা তাহলে এই। পরিচারিকার চিৎকার…তা শুনে সেক্রেটারির ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া…কোনো ছায়ামূর্তির ঘরে প্রবেশ করা…ডেস্কের ওপরে রাখা নক্সাগুলো হাতিয়ে নিয়ে অলক্ষ্যে সরে পড়া…উপযোগী ঘটনামালার সমাবেশ বলা যায়।

    লর্ড মেফিল্ডের এক চোখে চশমা লাগানো ছিল। সেই চশমার কাচের ভেতর দিয়ে তিনি পোয়ারোর গাঢ় সবুজ হয়ে যাওয়া চোখ দেখতে পেলেন।

    নড়ে চড়ে বসে তিনি বললেন, মাপ করবেন মিঃ পোয়ারো, আপনার কথা ঠিক বুঝতে পারলাম না। যদি

    –লর্ড মেফিল্ড, পোয়ারো বললেন, আমি বলতে চেয়েছি, এখন যতগুলো ঘটনা নজরে আসছে, চুরির পক্ষে খুবই উপযোগী। একটা কথা, আপনি জানালার পাশে যাকে মিলিয়ে যেতে দেখেছিলেন সে কি পুরুষ ছিল?

    -সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই মিঃ পোয়ারো। বললেন লর্ড মেফিল্ড।

    –স্যার জর্জ, আপনি? এয়ার মার্শালের দিকে তাকালেন পোয়ারো, ছায়াটা কোনো নারীর কি পুরুষের ছিল, বলতে পারবেন?

    –আমি তো আগেই বলেছি, গোটা টেরেস আমার চোখের ওপরেই ছিল, কিন্তু আমি কিছুই দেখতে পাইনি।

    চিন্তিতভাবে মাথা নিচু করল পোয়ারো। কি চিন্তা করল। পরক্ষণে উঠে দাঁড়িয়ে ডেস্কের দিকে এগিয়ে গেলেন।

    -ওখানে আমরা সকলে মিলেই বারকয়েক ঘেঁটে দেখেছি, বললেন লর্ড মেফিল্ড, নক্সাগুলোর চিহ্ন দেখতে পাইনি।

    -আপনারা সকলে বলতে সেক্রেটারিও ছিল?

    –হ্যাঁ, চার্লিলও ছিল।

    –লর্ড মেফিল্ড, ঘরে ঢোকার পরে আপনি যখন ডেস্কের সামনে আসেন, মনে করতে পারবেন, কোনো কাগজটা সবার ওপরে ছিল?

    লর্ড মেফিল্ডের ভ্রূ কুঞ্চিত হল। কয়েক মুহূর্ত তিনি চিন্তা করলেন।

    -হ্যাঁ, মনে পড়েছে, সবার ওপরের কাগজটা ছিল একটা স্মারকলিপির খসড়া, আমাদের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বর্তমান অবস্থার বিষয়ে।

    ডেস্কের ওপর থেকে সতর্কভাবে একটা কাগজ তুলে নিলেন পোয়ারো। এগিয়ে এসে লর্ড মেফিল্ডের দিকে এগিয়ে দিলেন।

    -দেখুন তো এটা কিনা?

    কাগজটা হাতে নিয়ে দেখলেন লর্ড মেফিল্ড। পোয়ারোর দিকে তাকিয়ে বললেন, হ্যাঁ, এটাই ছিল সবার ওপরে।

    কাগজটা এবারে স্যার জর্জের সামনে এগিয়ে ধরলেন পোয়ারো।

    –ডেস্কের ওপরে এই কাগজটা আপনার চোখে পড়েছিল?

    হাতে নিয়ে ভালো করে দেখলেন কাগজটা স্যার জর্জ, বললেন, হ্যাঁ। চার্লিল আর মেফিল্ডের পাশ থেকে আমি দেখেছিলাম, কাগজটা ওপরেই ছিল।

    পোয়ারোর মুখে চিন্তার রেখা ফুটল। ধীর পায়ে গিয়ে কাগজটা ডেস্কের ওপর রেখে এলো।

    দুই বন্ধু হতভম্বের মতো তাকিয়ে রইল তার দিকে।

    এবারে চার্লিলের ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে–হ্যাঁ চার্লিল। বললেন পোয়ারো।

    লর্ড মেফিল্ডের চোখের দৃষ্টি পাক্টাল। মুখ লাল হয়ে উঠল।

    –মিঃ পোয়ারো, চার্লিল সম্পর্কে আমার মনোভাবের কথা জানানো উচিত মনে করি। আমার সেক্রেটারি হিসেবে অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গে সে গত ন বছর ধরে কাজ করছে। আমার ব্যক্তিগত কাগজপত্র তার হেফাজতে দিয়ে আমি নিশ্চিন্ত বোধ করি। তাকে আমি সব সন্দেহের বাইরে বলেই মনে করি।

    তাছাড়া, ওর যদি খারাপ মতলবই থাকতো, তাহলে সে নক্সাগুলোর নকল সহজেই করে নিতে পারত। কেউ জানতে পেত না আর আসল নক্সাগুলোও স্থানচ্যুত হত না।

    -হ্যাঁ, খুব যুক্তিসঙ্গত। এরকম একটা চুরির নাটক না করেই সে অনায়াসে কাজ হাসিল করতে পারত।

    -চার্লিলের ব্যাপার আমি আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিতে পারি। বললেন লর্ড মেফিল্ড।

    –চার্লিলের নির্দোষিতার ব্যাপারে এর পরে আর কথা থাকে না। স্যার জর্জ বলে উঠলেন।

    –তাহলে সন্দেহভাজন মনে করছেন মিসেস ভান্দারলিন

    –হ্যাঁ, তার চালচলন সন্দেহ উদ্রেক করারই মতো। বললেন স্যার জর্জ।

    -হ্যাঁ, বলে উঠলেন লর্ড মেফিল্ড, তার আচরণে অস্বাভাবিকতা সহজেই চোখে পড়ে। প্রয়োজন হলে বিদেশ দপ্তরে তার সম্পর্কে বিস্তারিত খবর জানা যেতে পারে।

    –আর তার ওই ফরাসি পরিচারিকাটি–

    –মিসেস ভান্দারলিনের সাহায্যকারিণী বলে মনে করতে কোনো বাধা নেই। বললেন স্যার জর্জ।

    মেয়েটিকে দিয়ে আর্তচিৎকার করানোটা তার একটা ফাঁদ হতে পারে। বললেন লর্ড মেফিল্ড।

    –তাহলে এটা অনুমান করতে পারা যায়, সেই নক্সাগুলোর বিনিময়ে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থাগমের সম্ভাবনা। অর্থের মূল্যে চুরি যাওয়া কাগজগুলো মহার্ঘ্যই বলা চলে।

    –হ্যাঁ। যদি বিশেষ জায়গায় হস্তান্তর করা যায়।

    উদাহরণ হিসেবে দুটি ইউরোপীয় শক্তির নাম উল্লেখ করলেন স্যার জর্জ।

    -বলতে চাইছেন, মিসেস ভান্দারলিনের এই তথ্যটা ভালোরকমেই জানা থাকতে পারে?

    –তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

    পোয়ারো চিন্তিতভাবে দু চক্কর পায়চারি করলেন। ডেস্কের সামনে গিয়ে কয়েকটা কাগজ গুছিয়ে রাখলেন। তারপর চটপট জানালা টপকে টেরেসে পৌঁছে ফ্ল্যাস লাইটের আলোতে একেবারে শেষ প্রান্তের ঘাসগুলো ভালো করে পরীক্ষা করলেন।

    ভেতরে এসে চেয়ারে বসলেন। শান্ত কণ্ঠে বললেন, লর্ড মেফিল্ড, একটা ছায়ামূর্তি অদৃশ্য হতে দেখেও আপনি বাইরে অনুসন্ধানের চেষ্টা করেননি কেন?

    –গুপ্তচর বৃত্তির ঘটনা বুঝতে পেরেই অনুমান করতে পেরেছি, বাগানের শেষে রেখে আসা কোনো গাড়ি সে ব্যবহার করে থাকবে এবং তাকে নাগাল পাওয়া দুষ্কর।

    -কিন্তু পুলিসকে তো জানাতে পারতেন?

    স্যার জর্জ বললেন, মিঃ পোয়ারো প্রতিরক্ষা সম্পর্কীয় এবং গোপনীয়, কাজেই এক্ষেত্রে পুলিস ডেকে প্রচারের ঝুঁকি আমরা নিতে পারি না। গুরুত্বপূর্ণ নক্সাগুলি চুরি গেছে এরকম প্রচার হলে পার্টির পক্ষে তা মস্ত ক্ষতির কারণ হয়ে উঠবে।

    -বোঝা গেল। পার্টির স্বার্থরক্ষার খাতিরেই আপনারা আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। যাতে কাকপক্ষীর অজানিতেই ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলা যায়। খুব ভালো কথা।

    মিঃ পোয়ারো, বললেন লর্ড মেফিল্ড, নক্সাগুলো উদ্ধারের ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত তো?

    –হতাশ হবার মতো কিছু দেখছি না। অবশ্য কিছু কাজ এখনো আমার বাকি। মিঃ চার্লিলের সঙ্গে এবারে কথা বলতে চাই।

    -অবশ্যই। বললেন লর্ড মেফিল্ড, আমি তাকে কাছাকাছি থাকতে বলেছিলাম, দেখছি–তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

    স্যার জর্জের দিকে ঝুঁকে বসলেন পোয়ারো।

    –টেরেসের সেই ছায়ামূর্তির সম্পর্কে আপনার কি ধারণা?

    –প্রিয় পোয়ারো, আমার পক্ষে কিছুই বলা সম্ভব নয়, কেন না, আমি আদৌ তাকে দেখিনি।

    -হ্যাঁ, আপনি আগেই একথা বলেছেন। আপনার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না, তাই নয়? দেখুন, স্যার জর্জ, আপনারা দুজনেই টেরেসের শেষ প্রান্তে ছিলেন। লর্ড মেফিল্ড দেখলেন, জানালার বাইরে বেরিয়ে এসে একটা ছায়ামূর্তি ঘাসের লন পার হয়ে চলে গেছে। আপনি পাশাপাশি দাঁড়ানো, সেই ছায়ামূর্তি আপনার চোখে না পড়ে থাকে কি করে?

    স্যার জর্জের দৃষ্টি সজাগ হল। পোয়ারোর দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, তখন থেকেই এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি ভেবে চলেছি। আমার চোখের দৃষ্টি অত্যন্ত পরিষ্কার। জানালা টপকে ওই সময় কেউ বেরিয়ে থাকলে আমার চোখে অবশ্যই পড়ত। আমি শপথ নিয়ে বলতে পারি, এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।

    আমার ধারণা জানালার কাছে বাগানের গাছের ডালপালার ছায়া নড়তে দেখে লর্ড মেফিল্ডের চোখে মানুষের ছায়ামূর্তি বলে ভ্রম হয়ে থাকবে। তাকে সমাপতনই বলা চলে না কি, তিনি পরমুহূর্তেই ঘরে এসে দেখতে পেলেন নক্সাগুলি চুরি গেছে। ছায়ামূর্তি দর্শনের ভ্রমটাই তখন তার মনে বিশ্বাসে পরিণত হয়।

    তার মনে গেঁথে গেছে যে জানালা টপকে নক্সাচোরকেই তিনি পালাতে দেখেছেন। না দেখে আমিই ভুল করেছি। তবুও

    তবুও, হাসলেন পোয়ারো, আপনি বিশ্বাস করেন সেই সময় কোনো ছায়ামূর্তিই আপনার চোখে ধরা পড়েনি?

    –আমি স্থির নিশ্চিত মিঃ পোয়ারো। তা ছাড়া তেমন হলে ঘাসের ডগায় পায়ের ছাপ আপনার নজরে আসত।

    পোয়ারো গম্ভীরভাবে মাথা নাড়লেন।

    –আপনার যুক্তি যথার্থ। লর্ড মেফিল্ড বিশ্বাস করেন তিনি ছায়ামূর্তি দেখেছেন। সেই বিশ্বাস তার দৃঢ় হয়েছে, চুরির ঘটনা হাজির হওয়ায়। পায়ের ছাপের কথা যা বললেন, সেটা আমার কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়। কেন না আপনি জানেন, আজ সন্ধ্যায় প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে।

    এই অবস্থায় টেরেস পার হয়ে কোনো লোক ঘাসের ওপর দিয়ে যদি হেঁটে গিয়ে থাকে, তার পায়ের ছাপ ঘাসের ওপরে না পাওয়াই সম্ভব।

    -তাহলে এখন

    –এখন বাইরেটা বাদ রেখে আমাদের নজর ফেলতে হবে বাড়ির ভেতরে, লোজনের ওপরে।

    এই সময় দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকলেন লর্ড মেফিল্ড, তার পেছনে মিঃ চার্লিল।

    যুবকটিকে খুবই বিমর্ষ লাগছিল। ততক্ষণে মানসিক আঘাতটা হয়তো অনেকটাই সামলে উঠতে পেরেছে। স্প্রিং লাগানো চশমা চোখে লাগিয়ে সে সন্ধানী দৃষ্টিতে পোয়ারোর দিকে তাকালো।

    পোয়ারো সরাসরি তার মুখের দিকে তাকালেন। দৃষ্টি স্থির রেখেই প্রশ্ন করলেন, মঁসিয়ে, এ ঘরে ফাইলপত্র গোছগাছ করার সময়ই আপনি বাইরে আর্তচিৎকারটা শুনতে পেয়েছিলেন?

    -হ্যাঁ।

    –চিৎকারটা শোনার পর কতক্ষণ আপনি এ ঘরে ছিলেন?

    চার্লিল নীরবে চিন্তা করল। পরে বলল, সঠিক বলা মুশকিল। তবে পাঁচ থেকে দশ মিনিট মত হতে পারে।

    তার আগে পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিল?

    –হ্যাঁ।

    –আজ এই বাড়িতে সন্ধ্যায় অতিথি আপ্যায়নের একটা অনুষ্ঠান হয়েছিল শুনেছি।

    –হ্যাঁ, ড্রইংরুমে সকলেই ছিলেন।

    –সকলেই বলতে, মিঃ এবং মিসেস স্যার জর্জ ক্যারিংটন, মিসেস ম্যাকট্টা, মিসেস ভান্দারলিন, যুবক রেগি ক্যারিংটন, লর্ড মেফিল্ড এবং আপনি নিজে, তাই তো?

    –আমি ড্রইংরুমে ছিলাম না। এই ঘরে বসেই সন্ধ্যার বেশি সময়টা আমি কাজ করেছি।

    –লর্ড মেফিল্ড, ডিনারের পর কে আগে শুতে গিয়েছিলেন?

    –আগে বলতে, আসলে তিনজন মহিলাই একসঙ্গে ড্রইংরুম থেকে বেরিয়ে যান।

    –তারপর?

    লর্ড মেফিল্ড বললেন, তখন মিঃ চার্লিল ড্রইংরুমে প্রবেশ করে, আমি তাকে কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে বলি।

    -তারপরেই বলেছিলেন, আপনারা দুজন টেরেসে গিয়ে পায়চারি করেন

    –হ্যাঁ।

    আপনারা স্টাডিরুমে গিয়ে কাজ করবেন, এ কথাটা মিসেস ভান্দারলিন শুনেছিলেন বলে মনে করেন?

    -হ্যাঁ, শুনে থাকবার কথা।

    কিন্তু, আপনি তো বলেছিলেন তিনজন মহিলা ঘর ছেড়ে যাবার পর আপনি কাগজপত্র গুছিয়ে রাখার কথা মিঃ চার্লিলকে বলেন। তিনি তো সেখানে ছিলেন না।

    –হ্যাঁ, তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

    এই সময় মিঃ চার্লিল বলে ওঠে, মাফ করবেন লর্ড মেফিল্ড, আপনার কাছ থেকে কাগজপত্র গুছিয়ে রাখার নির্দেশ পাবার পর আমি স্টাডিরুমে ফিরে যাই। ঘর থেকে বেরুবার মুখেই দরজার সামনে মিসেস ভান্দারলিনের সঙ্গে আমার প্রায় ধাক্কা লাগার মতো অবস্থা হয়েছিল। তিনি একটা বই নেবার জন্য ড্রইংরুমে ফিরে এসেছিলেন।

    –তাহলে কি তুমি মনে করছ, দরজার আড়াল থেকে তিনি আমাদের কথাবার্তা শুনে থাকতে পারেন?

    –আমার অনুমান তাই।

    লর্ড মেফিল্ডের দিকে অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে পোয়ারো বললেন, বইটা কি তাকে দেওয়া হয়েছিল?

    -হ্যাঁ, রেগি বইটা তার হাতে তুলে দিয়েছিল।

    –সেই পুরনো কায়দা, নিজের মনে বলে উঠলেন পোয়ারো, মাফ করবেন, অপরাধীরা প্রায়ই তাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য এই ধরনের অজুহাতের আশ্রয় নিয়ে থাকে।

    -বই খুঁজতে আসাটা ইচ্ছাকৃত বলেই আপনি মনে করছেন?

    মৃদু হেসে মাথা ঝাঁকালেন পোয়ারো।

    –তাহলে, পোয়ারো বললেন, এর পরেই আপনারা টেরেসে চলে আসেন, মিসেস ভান্দারলিন কি করছিলেন?

    –বই নিয়ে তিনি ওপরে চলে যান।

    –তরুণ রেগিও কি ওপরে চলে গিয়েছিলেন?

    –হ্যাঁ।

    –আর এই ঘরে আসার পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যেই বাইরে নারীকণ্ঠের চিৎকার শুনতে পান? এরপর কি ঘটল বলে যান মিঃ চার্লিল

    কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে পোয়ারো ফের বলতে থাকেন, সেই চিৎকার শুনতে পেয়ে, আপনি হলের দিকে ছুটে যান–তাই তো? বিবরণটা আপনার নিজের মুখে শুনতে পারলেই ভালো হয়…তারপর কি হল বলুন।

    চার্লিল কেমন অস্বস্তির সঙ্গে উঠে দাঁড়াল। সে আড়ষ্ট বোধ করছে বোঝা গেল। তাকে সাহায্য করার জন্য পোয়ারো বললেন, ব্যাপারটাকে ঠিক চোখের সামনে তুলে আনার কথা বলছি আমি…আপনি কিভাবে কি করলেন..আপনাকে বুঝিয়ে দিচ্ছি আমি…মনে করুন চিৎকারটা আমি করছি

    অভিনয়ের ভঙ্গিতে পোয়ারো আর্তচিৎকার করল।

    পোয়ারোর কাণ্ড দেখে লর্ড মেফিল্ডকে মুখ ঘুরিয়ে হাসি চাপতে হল। স্যার জেমসও অস্বস্তিবোধ করতে লাগলেন।

    -হ্যাঁ, আপনি যেভাবে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন…আমার মতো করে দেখান…

    মিঃ চার্লিল আগের চাইতে সহজ হলেও আড়ষ্টভাব সম্পূর্ণ কাটিয়ে উঠতে পারেনি। শরীরে একটা শক্ত ভাব নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল, দরজা খুলল।

    তাকে অনুসরণ করে পোয়ারো ঘরের বাইরে এলো। অপর দুজনও তার পেছনে এগিয়ে এলো।

    ঘর থেকে বেরিয়ে আসার পর আপনি কি দরজা বন্ধ করে গিয়েছিলেন?

    -ঠিক মনে করতে পারছি না, ইতস্তত করল মিঃ চার্লিল, মনে হয় বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিলাম।

    -বেশ, তারপর কি করলেন?

    চার্লিল কাঠের পুতুলের মতো সিঁড়ির নিচে নেমে গেল। সেখান থেকে ওপর দিকে তাকাল।

    –সেই পরিচারিকাটি বলেছিলেন সিঁড়ির ওপরে দাঁড়িয়েছিল। সে ঠিক কোথায় ছিল? বললেন পোয়ারো।

    সিঁড়ির মাঝ বরাবর।

    –তাকে কি খুবই উদ্বেগাকুল দেখাচ্ছিল? এই রকম কি

    পোয়ারো সিঁড়ি বেয়ে ওপরে যেতে যেতে মাঝপথে থমকে দাঁড়িয়ে পড়লেন। ঘুরে জিজ্ঞেস করলেন, এরকম জায়গায় কি?

    –আর দু-এক ধাপ ওপরে হবে।

    –এরকম ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল? একরকম ভঙ্গিমা করে দেখালেন পোয়ারো।

    –ঠিক ওভাবে নয়-দাঁড়ান বলছি–মাথার ওপরে দুই কানের পাশে হাত রাখা ছিল।

    –তাই বলুন, এভাবে কি

    পোয়ারো হাতদুটো তুলে দুই কানের কিছু ওপরে মাথায় রাখল।

    -হ্যাঁ, ঠিক ওভাবে।

    –এতক্ষণে বোঝা গেল। এবারে বলুন মিঃ চার্লিল, তরুণীটি দেখতে সুন্দর ছিল?

    চার্লিল মনে হল হোঁচট খেল। নিচু স্বরে বলল, ঠিক লক্ষ্য করিনি–মানে–

    –কিন্তু, তা কি করে হয়, একজন সুন্দরী তরুণী সামনে দাঁড়ালো…আর আপনি একজন যুবক…স্বভাবতই

    -সত্যি বলছি মঁসিয়ে পোয়ারো, আমার মনে তখন সে-ভাব ছিল না–

    যাইহোক, মানলাম আপনি সেখানে লক্ষ্য করেননি, আপনাকে দেখতে পেয়ে মেয়েটি তখন ভূত দেখার গল্প শোনাল, তাই তো?

    -হ্যাঁ।

    –একটা সাদামূর্তি চোখের সামনে অদৃশ্য হওয়ার সেই গল্প আপনি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেছিলেন? মানে, মেয়েটি যে সত্যিই ভূত দেখেছে, তাকে দেখে সেকথা আপনার মনে হয়েছিল?

    –ভূত দেখার ভয়…তা ঠিক বলতে পারব না। তবে মনে হচ্ছিল সে খুব হাঁপাচ্ছিল, তাকে খুব উত্তেজিত দেখচ্ছিল। ভয়ে কেমন আড়ষ্ট হয়ে গিয়েছিল যেন।

    -এবারে বলুন, সেই সময় আপনি কাছাকাছি তার মনিবকে দেখেছিলেন, কিংবা কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছিলেন?

    -হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন। তার কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছিলাম, দেখতেও পেয়েছিলাম। তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে এসে চিৎকার করে লিওনি বলে ডেকে ওঠেন।

    –বেশ, বেশ, তারপর?

    –ডাক শুনেই পরিচারিকাটি ছুটে যায় আর আমিও স্টাডিরুমে ফিরে আসি।

    –এখানে সিঁড়ির ওপর যখন দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন স্টাডিরুমের খোলা দরজা দিয়ে কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেখেননি?

    -না, না

    –কেউ ঢুকে থাকলে বা বেরিয়ে এলে আপনার নজরে তো পড়া উচিত। স্টাডিরুমের দরজা তো প্যাসেজের একেবারে শেষ প্রান্তে।

    জোরে জোরে মাথা নড়ল চার্লিল। বলল, আমার ভাগ্য ভালো যে জানালা টপকে যাওয়ার সময় চোরটাকে লর্ড মেফিল্ড দেখতে পেয়েছিলেন, তা না হলে এই বিশ্রী ব্যাপারটা আমার কাঁধেই চাপত।

    –প্রিয় চার্লিল, তুমি একটা আকাট, বলে উঠলেন লর্ড মেফিল্ড, তোমাকে সন্দেহ করা হবে ভাবলে কি করে?

    –সেটা আপনার অনুগ্রহ, লর্ড মেফিল্ড। যা বাস্তব তা কি আমিই অস্বীকার করতে পারছি। যাইহোক, আমাকে এবং আমার জিনিসপত্র তল্লাশি করলে আমি স্বস্তি পেতাম।

    অধৈর্যের সঙ্গে ধমকে উঠলেন লর্ড মেফিল্ড, আবার বোকার মতো কথা বলছ তুমি।

    -আপনাকে সার্চ করে দেখা হোক, এ কি আপনার আন্তরিক ইচ্ছা? বললেন পোয়ারো।

    –হ্যাঁ মঁসিয়ে পোয়ারো, আন্তরিক ভাবেই আমি কামনা করছি, আমাকে সার্চ করে দেখা হোক। তার দিকে চিন্তিতভাবে মিনিটখানেক তাকিয়ে রইলেন পোয়ারো। বিড়বিড় করে কি বললেন। নীরব রইলেন এক মুহূর্ত। পরে বললেন, স্টাডিঘরের কাছাকাছিই নাকি মিসেস ভান্দারলিনের ঘর, ঘরটা কোথায়?

    -স্টাডির ঠিক উল্টোদিকের ঘরটাই।

    পোয়ারো নির্দেশ করে বললেন, টেরেসের ওপাশে যে জানালাটা দেখা যাচ্ছে, সেটাই কি?

    -হ্যাঁ।

    পোয়ারো মাথা ঝাঁকালেন। পরে বললেন, বেশ, এবারে চলুন ড্রইংরুমে যাওয়া যাক।

    নিজের খেয়ালে এপাশ ওপাশ ঘুরে পোয়ারো ড্রইংরুমের সব কিছু দেখলেন। জানালার কাছে গিয়ে ছিটকিনিগুলো পরীক্ষা করলেন। অন্য সকলে কৌতূহল আর বিস্ময় নিয়ে তাকে দেখছে।

    লর্ড মেফিল্ডের সামনে এসে পোয়ারো বললেন, ব্যাপারটা খুবই সরল মনে হয়েছিল প্রথমে, আসলে দেখছি, বেশ জটিল কেস। তবে একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত, নক্সাগুলো বাইরে যায়নি, এখনো পর্যন্ত বাড়ির মধ্যেই রয়েছে।

    লর্ড মেফিল্ড স্থির দৃষ্টিতে পোয়ারোর দিকে তাকিয়ে থেকে তার বক্তব্য বোঝার চেষ্টা করলেন। পরে চিন্তিতভাবে বললেন, কিন্তু প্রিয় পোয়ারো, লোকটাকে যে আমি স্পষ্ট দেখেছি,

    স্টাডি থেকে বেরিয়ে ওপাশে মিলিয়ে গেল।

    -ওখানে কোনো লোকই ছিল না।

    অপেক্ষাকৃত দৃঢ় শোনাল পোয়ারোর কণ্ঠস্বর।

    –আপনি বলছেন বটে, কিন্তু আমি তাকে দেখেছি।

    –লর্ড মেফিল্ড, আপনার প্রতি যথাযোগ্য মর্যাদা স্বীকার করেই বলছি, স্টাডির জানালার পাশে আপনি একজনকে দেখেছেন, বাস্তবিক পক্ষে এ হল আপনার অনুমান। গাছের ডালপালা যখন দুলতে থাকে তার ছায়াকে মানুষ ভ্রম হওয়া অসম্ভব বা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আপনার এই দর্শনের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।

    আর প্রায় পাশাপাশি সময়ের মধ্যেই এখানে একটা চুরির ঘটনা ঘটে গেছে। ফলতঃ আপনার অনুমানটা এখন আর নিছক অনুমান বলে মনে করতে পারছেন না। সত্য বলেই আপনি বোধ করছেন।

    –কিন্তু মঁসিয়ে পোয়ারো, আপনার কথা যদি মানতে হয় তাহলে আমার চোখ দুটোকেই অবিশ্বাস করতে হয়। আমি আবারো বলছি, আমার দেখাটা চোখের ভ্রান্তি বা কোনোরকমের ছায়াবাজি ছিল না–

    এতক্ষণ পরে মুখ খুললেন স্যার জর্জ। বন্ধুর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন, প্রিয় চার্লস, আমি আশা করছি, তোমার নয়, আমার চোখ দিয়েই তুমি একদিন সত্য উপলব্ধি করতে পারবে।

    –আর একটা কথা লর্ড মেফিল্ড, যে বিষয়টা সম্পর্কে আমাদের নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন তা হল, তখন টেরেস পার হয়ে কে কে ঘাসের গালিচার নামেনি?

    চার্লিলের মুখভাব মুহূর্তে পাল্টে গেল। ম্লান বিষণ্ণ স্বরে সে বলল, মঁসিয়ে পোয়ারো, যা অনুমান করতে চাইছেন, তাতে সব সন্দেহ আমার ওপরেই পড়বে-প্রমাণ হবে একমাত্র আমার পক্ষেই চুরি করার সুযোগ ছিল।

    –আহাম্মক, আবার ঝাঁঝিয়ে উঠলেন লর্ড মেফিল্ড, মঁসিয়ে পোয়ারো যা-ই চিন্তা করুন না কেন, তোমাকে আমি কখনোই দোষী মনে করতে পারব না। তোমার নির্দোষিতা বিষয়ে আমার মন পরিষ্কার চার্লিল। সমস্ত দায়িত্ব সহকারেই একথা আমি ঘোষণা করতে পারি।

    কিন্তু মঁসিয়ে চার্লিল, আমি কখনোই বলিনি যে আপনাকে সন্দেহ করি।

    -না তা বলেননি, বলল চার্লিল, তবে বিষয়টা আপনি এমন ভাবে তুলে ধরেছেন যে আমি ছাড়া আর কেউ চুরি করতে পারে না তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    –আমি যা বলেছি তা আপনার বক্তব্যের সূত্র ধরেই

    –আমি তো বারবারই বলছি, আমি কাউকে স্টাডিকে ঢুকতে দেখিনি।

    –আপনাকে অতিক্রম করে কেউ স্টাডিতে ঢোকেনি, তা আমি স্বীকার করছি। তবে আমার সন্দেহ নেই যে জানালা টপকে কেউ নিশ্চয় স্টাডিতে ঢুকে থাকবে।

    –কিন্তু আপনিই বলেছেন, তা ঘটেনি।

    –আমি বলতে চেয়েছি, স্টাডিতে যদি কেউ ঢুকে থাকে তাহলে বেরিয়ে যাবার সময় লনের ঘাসে তার পায়ের ছাপ থেকে পারে না। সেটা সম্ভব, যদি কেউ বাড়ির ভেতর থেকে এসে থাকে। ড্রইংরুমের যে কোনো জানালা টপকে বাইরে গিয়ে টেরেস হয়ে আবার স্টাডির জানালা টপকে ঢুকে নক্সাগুলো হাতিয়ে নিয়ে আবার এখানে ফিরে আসা–এ কাজটা এমন কিছু অসম্ভব নয়। যে কেউ তা করতে পারে।

    সম্পূর্ণ অসম্ভব, প্রতিবাদ করে উঠল চার্লিল, লর্ড মেফিল্ড এবং স্যার জর্জ সেই সময় টেরেসেই ছিলেন।

    -তা আমি ভুলে যাইনি মঁসিয়ে চার্লিল, এবং তাদের দৃষ্টিশক্তির নির্ভরযোগ্যতা বিষয়ে যদি আমি কোনো প্রশ্ন নাও তুলি, তাহলেও বিষয়টা এই থাকে যে তারা টেরেসের এ প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত পর্যন্ত পায়চারি করে বেরিয়েছেন। তা লর্ড মেফিল্ড কতবার হবে মনে করেন–

    –পাঁচ-ছয়বার হবে–

    –এটা যথেষ্ট সময়। স্টাডির জানালা টেরেসের একেবারে বাঁ দিকে–তারপরই এই ঘরের জানালাগুলো। আর টেরেসের ডান দিকেও আছে পরপর তিন চারটি ঘর–পরিষ্কারই বোঝা যাচ্ছে, উপযুক্ত সময়ের জন্য চোর অপেক্ষা করে ছিল।

    -মঁসিয়ে পোয়ারো, আপনি যা বলছেন তাতে বোঝা যাচ্ছে, আমি যখন হলে মিসেস ভান্দারলিনের পরিচারিকাটির সঙ্গে কথা বলছিলাম, চোর তখন ড্রইংরুমে অপেক্ষা করছিল?

    -হ্যাঁ, আমি তাই মনে করছি। বললেন পোয়ারো।

    –কিন্তু এরকম একটা কাজ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে না কি মিঃ পোয়ারো? বললেন লর্ড মেফিল্ড।

    ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে অসম্ভব নয়, বললেন স্যার জর্জ, ব্যাপারটা এ ভাবে আমরা কেউই ভেবে দেখিনি।

    –তাহলে বুঝতে পারছেন, বললেন পোয়ারো, আমি কেন বিশ্বাস করছি, নক্সাগুলো এখনো এ বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়নি। সেগুলোই আমাদের খুঁজে বার করতে হবে।

    -এ আর এমন কি সমস্যা, বললেন স্যার জর্জ, প্রত্যেককে তল্লাশী করলেই বেরিয়ে যাবে।

    গম্ভীর লর্ড মেফিল্ড। কাজটাকে খুব সহজ বলে তিনি মনে করছিলেন না। কিন্তু তার কোনো মন্তব্য প্রকাশ করার আগেই পোয়ারো সরব হল।

    –অপরাধীকে বোকা ভাবা ঠিক কাজ নয়, স্যার জর্জ, অত সহজে জিনিসটা উদ্ধার হবার নয়। নারী হোক কিংবা পুরুষ হোক, যে সরিয়েছে নক্সাগুলো, যথেষ্ট বুদ্ধি তাকে এজন্য খরচ করতে হয়েছে। কাজেই বোকার মতো সে সেগুলো তার জিনিসপত্রের মধ্যে কখনোই রাখবে না। সার্চ করা হলে যাতে সেগুলো না পাওয়া যায় সেজন্য নিরাপদ কোনো গোপন জায়গাতেই লুকিয়ে রেখেছে।

    -তাহলে কি গোটা বাড়িতেই গোপনে তল্লাশী চালাবেন ভাবছেন?

    –এসব কাজ ওভাবে হয় না, হাসলেন পোয়ারো, কার্যকরী বিকল্প পথ আমাদের নিতে হবে যাতে নির্বিঘ্নে সেই গোপন জায়গায় পৌঁছাতে পারি। কিছুটা নির্দোষ মিথ্যার আশ্রয় হয়তো নিতে হবে। এ বাড়ির প্রতিটি লোককে আমি জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাই। এ রাতে আর কাউকে বিরক্ত করব না, যা করার সকালেই করা যাবে।

    –হ্যাঁ, বললেন লর্ড মেফিল্ড, এখন এই রাত তিনটেয় কারোর ঘুমের বিঘ্ন ঘটানো বড় অসমীচিন কাজ হবে।

    যাইহোক, মঁসিয়ে পোয়ারো, কোনো সমালোচনার কারণ না ঘটে, সেভাবেই আপনাকে ব্যাপারটা মোকাবেলা করতে অনুরোধ করব। এবং যথাসাধ্য গোপন রেখে।

    -আপনি কিছু ভাববেন না লর্ড মেফিল্ড, আশ্বস্ত করে বললেন পোয়ারো, ব্যাপারটা এরকুল পোয়ারোর ওপরেই ছেড়ে দিন।

    তাহলে ওই কথাই থাকল, কাল সকালেই বাকি তদন্তেরই কাজটা শেষ করব। আজ রাতে আপনাদের দুজনকে দিয়েই শুরু করব।

    লর্ড মেফিল্ড বললেন, মানে আমাদের দুজনকে আলাদা ভাবে

    মাথা ঝাঁকিয়ে সমর্থন জানালেন পোয়ারো।

    –আমি যা ভালো বুঝব–

    –তাহলে স্যার জর্জকে আপনার কাছে রেখে যাচ্ছি। আমি স্টাডিতেই রয়েছি। চলো চার্লিল

    লর্ড মেফিল্ড তার সেক্রেটারিকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে দরজাটা ভেজিয়ে দিলেন।

    স্যার জর্জ আর এরকুল পোয়ারো এখন ঘরে। মুখোমুখি চেয়ারে বসে। স্যার জর্জ পকেট থেকে সিগারেট বার করতে করতে বললেন, বুঝলেন মিঃ পোয়ারো, ব্যাপারটা আমি ঠিক বুঝতে পারছি না–এ ভাবে চোখের ওপর থেকে

    -খুবই সরল ব্যাপার স্যার জর্জ, বললেন পোয়ারো, এই সমস্যার একটাই সমাধান-মিসেস ভান্দারলিন।

    –মিসেস ভান্দারলিন? আপনি নিশ্চিত?

    -এখনো পর্যন্ত আমি নিশ্চিত। আমার কাছে একটা ব্যাপার খুবই রহস্যময় মনে হচ্ছে, জেনেশুনে এমন একজন সন্দেহজনক মহিলাকে তিনি এখানে কেন থাকতে দিলেন? মিসেস ভান্দারলিনের প্রতি শরীরগতভাবে কোনো দুর্বলতা তার কাছে কিনা, আপনার পক্ষে তা জানা সম্ভব। সেই কারণেই তাকে অস্বস্তিকর অবস্থায় না ফেলে আপনার সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করার পথ বেছে নিয়েছি।

    মিসেস ভান্দারলিনের এ বাড়িতে আমন্ত্রিত হবার এই একটা কারণ হতে পারে। দ্বিতীয় কারণ হতে পারে, এ বাড়িতে তিনি অপর কারো প্রিয় বান্ধবী হতে পারেন।

    মুখ থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী মোচন করে হাসলেন স্যার জর্জ।

    –আমাকে আপনি এসব থেকে দূরে রাখতে পারেন, মিঃ পোয়ারো।

    –আজকের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে মিসেস ভান্দারলিনের মতো মহিলার উপস্থিতি বিনা কারণে হতে পারে না। আপনাকে বাদ দিলে, বুঝতে হবে কোনো বিশেষ কারণে লর্ড মেফিল্ড ভদ্রমহিলাকে উপস্থিত করেছিলেন। আপনার কি মনে হয়?

    -আপনার অনুমান যথার্থ, মাথা নেড়ে বললেন স্যার জর্জ, তবে মহিলার প্রতি বিশেষ আকর্ষর্ণবশতঃ নয় তা বলতে পারি। কেন না, নারীর ছলাকলায় ভুলবার মতো বয়স তিনি অনেক আগেই ছাড়িয়েছেন। তিনি যে কারণে মহিলাকে এখানে আনার ব্যবস্থা করেছিলেন, তা আপনাকে বলছি–একটা সুযোগ সামনে রেখে লর্ড মেফিল্ড তাকে যাচাই করতে চেয়েছিলেন।

    সব কথা শোনার পর পোয়ারো বললেন, ব্যাপারটা এতক্ষণে পরিষ্কার হল। কিন্তু বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই এই চুরির ঘটনার সঙ্গে ভদ্রমহিলা সুকৌশলে আপনাদের দুজনকেই জড়িয়ে ফেলেছেন।

    –সেটা উপলব্ধি করতে পারছি।

    -ভদ্রমহিলা নিজের হাতে চুরির কাজটা যদি নাও করে থাকেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত–আপনার কি এরকম সন্দেহ হচ্ছে না?

    সচকিত হলেন স্যার জর্জ। সরাসরি পোয়ারোর মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, আমি বুঝতে পারছি না, উনি এগুলো চুরি করবেন কেন? কার কি স্বার্থ এতে উদ্ধার হতে পারে?

    বেশ কৌতুকের সঙ্গে স্যার জর্জকে নিরীক্ষণ করতে লাগলেন পোয়ারো। তারপর দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন, কিছুক্ষণ আগেই আলোচনার সময় বলেছি, নক্সাগুলোর আর্থিক মূল্য যথেষ্ট এবং এগুলোর বিনিময়ে প্রচুর অর্থাগমের সম্ভাবনা। তাহলে অর্থনৈতিক অনটন মেটাবার জন্য কেউ

    দেখুন, মিঃ পোয়ারো, তেমন যদি মনে করেন, তাহলে বলব, আজকের দিনে, কার না অর্থের প্রয়োজন? কমবেশি অভাবগ্রস্ত সকলেই।

    পোয়ারো সঙ্গে সঙ্গে সায় দিয়ে বললেন, আপনার ক্ষেত্রেও কথাটা স্বীকার্য বলে মনে করছি স্যার জর্জ।

    –আমার ক্ষেত্রে–মানে আমি তো অভাবগ্রস্ত নই।

    -নন কেন? অভাব আপনারও আছে, মসৃণ গলায় বললেন পোয়ারো, আপনার অবস্থায় উপযুক্ত সাংসারিক খরচ-খরচা একটা বিরাট ব্যাপার। তার ওপর আছে যুবক ছেলের একটা বাড়তি খরচের টান–

    -ওঃ, আর্তনাদের মত শব্দ করলেন স্যার জর্জ, পড়াশোনার খরচই বিরাট। তার ওপরে এই বয়সে-যাবতীয় হাতখরচাও টানতে হয় আমাকে

    সাংসারিক অভাব অনটন খরচখরচার ব্যাপারে বলার সুযোগ পেয়ে স্যার জর্জ তাঁর মনের সঞ্চিত ক্ষোভ অভিযোগ, দাবি-দাওয়া সব কিছু অকপটে প্রকাশ করে গেলেন। বর্তমান সমাজ-পরিস্থিতি, যুবসমাজ, মায়েদের সন্তানের প্রতি প্রশ্রয় ও শাসনের অভাব, তার ক্ষোভ অভিযোগ সব কিছুতেই স্পর্শ করল।

    তাঁর এই স্বাভাবিক অকপট মানসিকতার প্রশংসা মনে মনে করলেন পোয়ারো। যদিও বিষয়টা তাদের আলোচ্য বিষয়ের বাইরের হয়ে পড়ল তবু ধৈর্য সহকারে শুনে গেলেন। পরে প্রসঙ্গের ইতি টানবার জন্যই বলতে বাধ্য হলেন, আমরা প্রসঙ্গান্তরে অনেকটা সময় নষ্ট করে ফেললাম, স্যার জর্জ। অনেক রাত হল–আপনি বরং শুতে চলে যান। আপনার কাছ থেকে অনেক সাহায্য পেলাম আমি, ধন্যবাদ।

    –হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন মিঃ পোয়ারো। আমার শুতে যাওয়া উচিত। একটা কথা শুধু জেনে যেতে চাই, নক্সাগুলো কি সত্যি সত্যিই উদ্ধার করা সম্ভব হবে?

    পোয়ারো এবারে নিজের মধ্যে ফিরে গেলেন। ধীরে ধীরে বললেন, উদ্ধার না করতে পারার কোনো কারণ তো দেখতে পাচ্ছি না। চেষ্টা তো করে দেখি।

    শুভরাত্রি জানিয়ে ঘর ছেড়ে চলে গেলেন স্যার জর্জ।

    নিজের মনে চেয়ারেই বসে রইলেন পোয়ারো। কিন্তু চিন্তার গভীরে হাতড়ে চলেছে তার মন। তাই স্থির দৃষ্টি দেয়ালের দিকে নিবদ্ধ হয়ে রইল কিছুক্ষণ।

    কোটের পকেট থেকে একটা নোটবুক আর কলম বার করে এরপর তার চিন্তার সূত্রগুলোকে সাজাতে বসলেন।

    একটা সাদা পৃষ্ঠায় তিনি লিখলেন :

    মিসেস ভান্দারলিন
    লেডি জুলিয়া ক্যারিংটন
    মিসেস ম্যাকাট্টা
    রেগি ক্যারিংটন
    মিঃ চার্লিল।

    এই নামগুলোর পরে তিনি আবার লিখলেন :

    মিসেস ভান্দারলিন এবং মিঃ রেগি ক্যারিংটন
    মিসেস ভান্দারলিন এবং লেডি জুলিয়া
    মিসেস ভান্দারলিন এবং মিঃ চার্লিল

    কলম নামিয়ে কয়েক মুহূর্ত নীরব রইলেন। সহসা জোরে জোরে কয়েকবার মাথা নেড়ে নিজের মনে বলে উঠলেন, ঘটনা এবং আপাত উদ্দেশ্য। এরপর লিখে চললেন–

    লর্ড মেফিল্ড কার ছায়া দেখতে পেয়েছিলেন? সত্যিই কি তিনি কোনো ছায়া দেখেছিলেন? যদি না দেখে থাকেন, তাহলে কেন এমন জোর দিয়ে বলছেন, দেখেছেন?

    স্যার জর্জ কি কোনো কিছু দেখেছিলেন? তিনি নিশ্চিত যে কিছু দেখেননি। ঘাসের লন পরীক্ষা করার পর তার কাছে একথা জানতে চেয়েছিলাম।

    দ্রষ্টব্য : লর্ড মেফিল্ড ঘরে থাকার সময়ে এক চোখে পরার চশমা ব্যবহার করেছেন। তিনি দূরের বস্তু ভালো দেখতে পান না।

    স্যার জর্জের ব্যাপারটা আবার উল্টো। তিনি দূরের বস্তু দেখতে পান তবে কাছের জিনিস ভালোভাবে দেখতে পান না।

    টেরেসের শেষ প্রান্তের কোনো দৃশ্য দেখতে পাওয়ার ব্যাপারে স্যার জর্জ অনেক নির্ভরযোগ্য। তবু লর্ড মেফিল্ড সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে তিনি একটা ছায়ামূর্তি দেখতে পেয়েছেন।

    মিঃ চার্লিল যে সন্দেহের ঊর্ধ্বে তা কি মনে করা চলতে পারে? লর্ড মেফিল্ড তার নির্দোষিতা জোর দিয়ে সমর্থন করেছেন। কারণটা কি?

    কারণ কি এই যে তিনি নিজে তাকে সন্দেহ করেন এবং তার জন্য তিনি লজ্জিত? এমনও হতে পারে তিনি অন্য কাউকে সন্দেহ করেন। সেই ব্যক্তি মিসেস ভান্দারলিন নাও হতে পারে।

    নোট নেওয়া শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন পোয়ারো। ধীর পায়ে স্টাডিঘরের দিকে এগোলেন।

    .

    পোয়ারোকে ঘরে প্রবেশ করতে দেখে লর্ড মেফিল্ড তার দিকে তাকালেন।

    –মঁসিয়ে পোয়ারো, ক্যারিংটনকে আপনার জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে?

    –হ্যাঁ, লর্ড মেফিল্ড। তার কাছ থেকে একটা অদ্ভুত প্রশ্ন শোনা গেল।

    –কি বিষয়ে?

    –আপনার অনুষ্ঠানে মিসেস ভান্দারলিনের উপস্থিতি প্রসঙ্গে। আমার ধারণা, আপনিও ব্যাপারটা উপলব্ধি করে থাকবেন।

    পোয়ারোর সন্দেহটা অনুধাবন করতে পেরে অস্বস্তি বোধ করলেন লর্ড মেফিল্ড।

    -আপনি যা ভাবছেন, তা আদৌ ঠিক না, মঁসিয়ে পোয়ারো। ভদ্রমহিলার প্রতি আমার কোনো প্রকার দুর্বলতা থাকার কথা নয়। ক্যারিংটন সেরকমই ভেবেছে নাকি?

    -হ্যাঁ। তার বিষয়ে আপনাদের আলোচনার কথা তিনি বলেছেন।

    এক মুহূর্ত চুপ করে থাকলেন লর্ড মেফিল্ড। পরে বললেন, আসলে আমার মাথায় একটা পরিকল্পনা ছিল। যদিও সেটা কার্যকরী করা সম্ভব হল না। নারী মাত্রই যে কিছু বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে, তাই প্রমাণ হল।

    –কিন্তু লর্ড মেফিল্ড, সত্যি সত্যি তিনি এখনো পর্যন্ত বাড়তি কোনো সুবিধা আদায় করতে পারেনি।

    –আপনি তাহলে বলছেন হারানো জিনিসগুলো ফিরে পাবার সম্ভাবনা রয়েছে? শুনে আশ্বস্ত হচ্ছি। আসলে এই মহিলাকে ফাঁদে ফেলার জন্য আমি যে কৌশলের আশ্রয় নেবার কথা ভেবেছিলাম তাতে আমি নিশ্চিত ছিলাম। অন্য দিকটা একবারও ভেবে দেখিনি।

    –আপনার কৌশলটা কিরকম ছিল লর্ড মেফিল্ড? জানতে চাইলেন পোয়ারো।

    লর্ড মেফিল্ড ইতস্ততঃ করে বললেন, ব্যাপারটা সম্পূর্ণভাবে আমার মাথাতেই ছিল।

    –অন্য কারোর সঙ্গেই আলোচনা করেননি?

    –না।

    –আপনার সেক্রেটারি মিঃ চার্লিলের সঙ্গেও না?

    –না।

    –আপনি একাই দায়িত্বটা নেবেন ভেবেছিলেন? হাসলেন পোয়ারো।

    –ওটাই নিরাপদ পন্থা বলে আমি মনে করি।

    –আপনি নিঃসন্দেহে বিচক্ষণ ব্যক্তি, কাউকে বিশ্বাস করতে পারেন না। তবে স্যার জর্জ ক্যারিংটনের কাছে উল্লেখ করেছিলেন।

    করেছিলাম, কারণ আমার প্রিয় বন্ধু ক্যারিংটন আমার সম্পর্কে খুবই সহানুভূতি সম্পন্ন।

    –তিনি আপনার পুরনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু, তাই না?

    –হ্যাঁ। দীর্ঘ কুড়ি বছরের সম্পর্ক আমাদের।

    –আর তার স্ত্রী?

    –তার স্ত্রীকেও সমান ভাবেই জানি বৈকি।

    –কিন্তু, মাফ করবেন লর্ড মেফিল্ড, তার স্ত্রীর সঙ্গে আপনার তেমন অন্তরঙ্গতা নেই। লর্ড মেফিল্ড একটু থমকালেন।

    মঁসিয়ে পোয়ারো, কারো সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কি থাকতে পারে, এই ব্যাপারে সেই প্রসঙ্গ আসছে কেন বুঝতে পারছি না।

    –বিশেষ কারণেই প্রসঙ্গটা আসছে লর্ড মেফিল্ড। ড্রইংরুমে কেউ থাকতে পারে, এই ব্যাপারে আপনি একমত হয়েছিলেন, তাই নয়?

    -হ্যাঁ। এরকম হওয়া অসম্ভব নয়, আমরা ভেবেছিলাম।

    –তাহলে আমি জানতে চাইছি, ড্রইংরুমে কে থাকতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

    –আমি মনে করি, মিসেস ভান্দারলিনই থাকতে পারেন। তিনি একটা বই-এর জন্য ফিরে এসেছিলেন। এর পরেও তিনি এসে থাকতে পারেন, কোনো বই কিংবা হাতব্যাগ বা রুমাল, এমনি কোনো না কোনো অজুহাত নিয়ে।

    তাছাড়া, তার পরিচারিকা সিঁড়িতে আর্তচিৎকার করে উঠেছিল। পরিচারিকার সঙ্গে বন্দোবস্ত করেই তিনি এই কাণ্ডটা ঘটিয়েছিলেন যাতে সেই চিৎকার শুনে চার্লিল স্টাডি থেকে বেরিয়ে যায়। আর ঘটেছিল সেই ঘটনাই। চার্লিল বেরিয়ে গেলে তিনি স্টাডি থেকে নক্সাগুলি গাপ করে জানালা গলে পালিয়ে যান। আপনিও সেরকমই বলেছেন, তাই না?

    –একটা কথা আপনি ভুলে গেছেন লর্ড মেফিল্ড। চার্লিল যখন মেয়েটির সঙ্গে কথা বলছিল, চার্লিল বলেছে, তখন ওপরতলা থেকে মিসেস ভান্দারলিন তার পরিচারিকার নাম ধরে ডাকেন।

    –ওঃ হো, হ্যাঁ, লজ্জিত হাসি হাসল লর্ড মেফিল্ড, কথাটা আমি একদম ভুলে গিয়েছিলাম।

    -দেখুন লর্ড মেফিল্ড, দুটো বিষয় আমাদের বিবেচনা করতে হবে। তার প্রথমটা আমরা ব্যাখ্যা করেছি এভাবে, বাইরে থেকে চোর এসে নক্সাগুলো নিয়ে গেছে। অত্যন্ত উপযোগী এই সূত্রটা।

    এরপর আমরা বিবেচনা করতে পারি, বিদেশী এজেন্টের প্রসঙ্গ। এই প্রসঙ্গেও একটা বিশেষ সূত্রে মিসেস ভান্দারলিনের নাম এসে যাচ্ছে। কাজেই অত্যন্ত সতর্কভাবে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    –তাহলে মিসেস ভান্দারলিনের বিষয়টা কিরকম দাঁড়াচ্ছে?

    –মিসেস ভান্দারলিন আদৌ ড্রইংরুমে ছিলেন না। চুরিটা করেছে তার কোনো সহযোগী, যে ড্রইংরুম থেকে এসেছে। এটা অনুমান করা হচ্ছে। যদি তাই হয়, তাহলে এই চুরির উদ্দেশ্যটা কি? এটাই এখন আমাদের অনুসন্ধানের বিষয়।

    -এটা কি অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে না?

    –আমি মনে করি না। যাইহোক, নক্সাগুলো চুরি করার পেছনে উদ্দেশ্যটা কি হতে পারে, তাই আমাদের দেখতে হবে। এক হতে পারে, এগুলোর বিনিময়ে কিছু অর্থাগমের উদ্দেশ্য ছিল। সহজ এবং স্বাভাবিক উদ্দেশ্য এটা। তবে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকাও সম্ভব বলে মনে করছি আমি।

    –কি রকম?

    –ধরুন কারো সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে, কাউকে অপদস্থ করার জন্য।

    –কে সে?

    –মিঃ চার্লিলের কথা ভাবা যেতে পারে। সন্দেহটা তার ওপরেই স্বাভাবিক ভাবে পড়ছে। আরো একটা কথা, দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকেন, তাদের জনপ্রিয়তা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    –আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেই এই চুরি ঘটানো হয়েছে।

    পোয়ারো হাসলেন, মাথা ঝাঁকালেন।

    –আমার কথাগুলো এবারে মিলিয়ে নিন লর্ড মেফিল্ড। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে এমনি একটা সঙ্কটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল আপনাকে। একটি ইউরোপীয় শক্তির সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠতা কেন্দ্র করে অনেক জল ঘোলা করা হয়েছিল। এর ফলে দেশের নির্বাচকদের সামনে আপনার ভাবমূর্তি যথেষ্ট ক্ষুণ্ণ হয়েছিল, গোটা দেশের সন্দেহভাজন হয়ে উঠেছিলেন আপনি।

    -হ্যাঁ, মিঃ পোয়ারো, খুবই দুঃখজনক অবস্থার মধ্যে কাটাতে হয়েছিল আমাকে।

    –অথচ দেশের স্বার্থে সুবিধাজনক নীতি নির্ধারণের জন্যই একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আপনাকে যোগাযোগের এই কঠিন কাজটা হাতে নিতে হয়েছিল। গুজব ছড়িয়েছিল, একটি বিতর্কিত দেশের সঙ্গে আপনি একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছিলেন। গোটা দেশ ছিল সেই চুক্তির বিরুদ্ধে। আজ আর গোপন নেই যে প্রধানমন্ত্রী ব্যাপারটা চেপে দিয়েছিলেন। আপনি তার সহানুভূতি অর্জন করেছিলেন।

    –এ সব পুরনো ইতিহাস মিঃ পোয়ারো। এখন এসব টেনে আনছেন কেন?

    –অপ্রয়োজনে নয়, লর্ড মেফিল্ড। অতীতের সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন বলেই পুরনো শত্রু আপনাকে নতুন সঙ্কটে জড়িয়ে ফেলবার ছক কষেছে। আপনি যে জনসমর্থন হারাননি, এতেই তার শিরঃপীড়া।

    এখন আপনি রাজনৈতিক জীবনে জনপ্রিয় এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব। সকলেই জানে দেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী আপনি।

    -আমাকে অপদস্থ করার জন্যই নক্সাগুলো সরানো হয়েছে, আপনি বলছেন? অসম্ভব।

    –আশ্চর্য হবার কি আছে লর্ড মেফিল্ড। একজন বিশেষ আকর্ষণীয়া লেডির উপস্থিতিতে আপনার স্টাডি থেকে ব্রিটেনের বোমারুবিমানের নক্সা চুরি হয়ে গেল, এই খবরটা ফঁস হয়ে গেলে আপনার পক্ষে ব্যাপারটা সম্মানজনক হবে না। তাছাড়া আপনি নিজেই সন্দেহভাজন হয়ে উঠবেন যখন খবরের কাগজে ভদ্রমহিলার সঙ্গে আপনার সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত প্রকাশ করা হবে।

    –এতদূর অবধি ঘটনাটা পৌঁছবে বলে মনে হয় না।

    –লর্ড মেফিল্ড, ঘটনাটা তুচ্ছ হতে পারে, কিন্তু জনসাধারণের মনে নেতাদের সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির পক্ষে যথেষ্ট।

    লর্ড মেফিল্ডকে চিন্তিত দেখাল। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আপনি ঠিক বলেছেন। ব্যাপারটা জটিল হয়ে উঠতে পারে।

    -আপনার প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ এমন কারুর কথা আপনার মনে পড়ে? জানতে চাইলেন পোয়ারো।

    -এটা খুবই অবাস্তব চিন্তা

    -যাইহোক, বুঝতে পারছেন নিশ্চয়, পার্টিতে উপস্থিত কার সঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কেমন জানতে চাওয়া অপ্রাসঙ্গিক ছিল না।

    -ওহো, নিশ্চয়ই নয়। আপনি জুলিয়া ক্যারিংটন সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। তাকে কখনো আমি তেমন গুরুত্ব দিইনি। খুবই চঞ্চল আর বেপরোয়া মহিলা। ব্রিজ খেলার ব্যাপারে একেবারে পাগল। মনে হয় না তিনি আমাকেও বিশেষ মূল্য দেন।

    পোয়ারো বলল, এখানে আসার আগে আপনার পরিচয় লিপিতে চোখ বুলিয়েছিলাম। আপনি নিজে একজন। বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ার; একসময় একটা প্রসিদ্ধ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানেরও প্রধান ছিলেন।

    -হ্যাঁ, আমি হাতেকলমে কাজ শিখে একেবারে নিচে থেকে উঠে এসেছি। বললেন লর্ড মেফিল্ড।

    -ওহো, কি বোকা আমি

    পোয়ারো আচমকা স্বগতোক্তি করলেন। লর্ড মেফিল্ড জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালেন।

    -মাফ করবেন, বললেন পোয়ারো, একটা ধাঁধার অংশ আওড়াচ্ছিলাম, এখন অবশ্য সেটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। তবে একটু যাচাই করে নিতে চাই।

    উঠে দাঁড়ালেন পোয়ারো।

    -তাহলে শুভরাত্রি লর্ড মেফিল্ড। আপনাকে শুধু জানিয়ে যাচ্ছি, নক্সাগুলো কোথায় আমি জানি।

    -আপনি জানেন, চেঁচিয়ে উঠলেন লর্ড মেফিল্ড, তাহলে চলুন, এখুনি গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে আনি।

    -নার্স এখন তা করা যাবে না, মাথা নাড়লেন পোয়ারো, লর্ড মেফিল্ড, ব্যাপারটা আপনি আমার ওপরেই ছেড়ে দিন বরং।

    লর্ড মেফিল্ড অবজ্ঞাভরে তাকিয়ে রইলেন। পোয়ারো ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন।

    .

    নিজের ঘরে বিছানায় বসেছিলেন লেডি জুলিয়া। একটা খামের ওপর কিছু লিখছিলেন তিনি। এমন সময় বাইরে থেকে শব্দ করে ঘরে ঢুকল রেগি ক্যারিংটন।

    –কি ব্যাপার রেগি?

    –এসব কি শুনছি? গতকাল রাতে নাকি এ বাড়িতে চুরি হয়েছে?

    –চুরি হয়েছে? কি চুরি হয়েছে? কার কাছে শুনলে?

    -আমি কিছুই জানি না, নিচেই শুনে এলাম। তবে পুলিসে খবর দেওয়া হয়নি। বেসরকারী তদন্তের কাজ চলছে–একতলায় সবাইকে নাকি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    –কি অদ্ভুত কাণ্ড। অবাক হলেন লেডি জুলিয়া ব্যাপারটা কি হয়েছে শুনেছ কিছু?

    –আমরা শুতে চলে যাবার পরেই নাকি চুরিটা হয়েছে, তবে কি চুরি হয়েছে বলতে পারব না।

    –তাহলে তদন্তকারী ভদ্রলোক কি জানতে চাইছেন? গতরাতে কে কোথায় ছিল এসব?

    –তাই হবে সম্ভবতঃ। আমি কিন্তু তোমাকে বলে রাখছি মা, বেশি কথা আমি বলতে পারব না। নিচে থেকে ওপরে উঠেই সোজা বিছানায় শুয়ে পড়েছি। ক্লান্ত ছিলাম খুব, সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

    লেডি জুলিয়া ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

    রেগি আবার নিজের থেকেই বলতে শুরু করল, তুমি তো আমার অবস্থা ভালোই জান, হাতে নগদ টাকা কিছু নেই। দেখেছ নিশ্চয়ই?

    –তা আর দেখিনি, বললেন লেডি জুলিয়া, আমার নিজেরই তো হাতটান চলছে। তোমার বাবা জানতে পারলে কী বলবেন!

    এই সময় দরজায় শব্দ করে ঘরে ঢুকলেন স্যার জর্জ।

    রেগি, তুমি এখানেই আছ? একবার নিচে যাও। মঁসিয়ে এরকুল পোয়ারো তোমার সঙ্গে কথা বলতে চান।

    নিচে ততক্ষণে জিজ্ঞাসাবাদের কাজ শুরু করেছেন পোয়ারো। শুরু থেকেই মিসেস ম্যাকাট্টাকে সন্দেহের আওতা থেকে সরিয়ে রেখেছিলেন। তবু ছোটাখাট কয়েকটা প্রশ্ন করলেন তিনি।

    জানা গেল, ঠিক এগারোটার সময় তিনি শুতে চলে যান। সন্দেহ জাগার মতো কোনো শব্দ তিনি শুনতে পাননি।

    পোয়ারো একসময়ে প্রসঙ্গ পাল্টে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেন। জানালেন তিনি নিজে লর্ড মেফিল্ডের একজন গুণমুগ্ধ। তিনি সত্যিকারের মহৎ ব্যক্তি।

    -হ্যাঁ, সত্যিকারের উদ্যোগী মানুষ তিনি, বললেন মিসেস ম্যাকাট্টা, পরিবারের কোনো রকম সাহায্য ছাড়াই নিজের চেষ্টায় বড় হয়েছেন।

    এরপরেই পোয়ারো মিসেস ভান্দারলিনের প্রসঙ্গ তোলেন।

    –শুনেছি লর্ড মেফিল্ড তার খুব বন্ধু।

    -মোটেই তা নয় মঁসিয়ে পোয়ারো, বললেন মিসেস ম্যাকাট্টা, সত্যিকথা বলতে কি, আমি তো তাকে এখানে গতকাল দেখতে পাব আশা করিনি।

    -আপনিও দেখছি তার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন। মিসেস ম্যাকাট্টাকে উস্কে দিতে চাইলেন পোয়ারো। ওষুধে কাজ হল। তিনি বললেন, এমন অপদার্থ মহিলা কি বলব, নিজের ক্ষমতা বলতে কিছু নেই। বরাবরই অন্যের ওপর নির্ভরশীল।

    পুরুষরা বুঝি তাকে খুব পছন্দ করে?

    তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বললেন মিসেস ম্যাকাট্টা, পুরুষদের কথা আর বলবেন না, সুন্দর মুখ। দেখলেই তারা গলে যায়। যুবক রেগির কথাই ধরুন না কেন, এখন তো সে তার একজন অন্ধভক্ত।

    মিসেস ভান্দারলিনও সবসময় ওই ছোকরার সঙ্গেই কথা বলতে ব্যস্ত। ছোকরা ব্রিজ খেলার বিশেষ কিছুই জানে না, অথচ মিসেস ভান্দারলিনের মুখে তার খেলার প্রশংসা ধরে না–কিরকম লজ্জাকর ব্যাপার বলুন।

    -কেন, সে কি ভালো খেলতে পারে না?

    –মোটেই না। গতকাল রাতেই তো খেলতে বসে অনেক ভুল করছিল।

    –শুনেছি লেডি জুলিয়া খুব ভালো খেলোয়াড়।

    -হ্যাঁ, উঁচু জাতের জুয়াড়িই বলতে পারেন। খেলাটাকে উনি পেশা হিসেবেই নিয়েছেন। সব সময়েই খেলায় ডুবে থাকেন। এত লোভ যে কেন বুঝি না?

    –ব্রিজ খেলে তিনি তাহলে ভালো টাকাই আয় করেন বলছেন?

    –হ্যাঁ, হেসে বললেন মিসেস ম্যাকাট্টা, খেলার টাকায় উনি তার দেনা শোধ করে থাকেন। তবে মনে হচ্ছে, ইদানীং বড় হাতটান চলছে।

    গতকাল রাতেই হাবভাব দেখে আমার তা মনে হল। বুঝলেন মঁসিয়ে পোয়ারো, জুয়াড়ীদের এরকম অবস্থাই হয়।

    পোয়ারো কথা শেষ করে বিদায় জানালেন মিসেস ম্যাকট্টাকে। তারপর ডেকে পাঠালেন রেগি ক্যারিংটনকে।

    চেয়ারে বসা পর্যন্ত সতর্কভাবে রেগিকে নিরীক্ষণ করলেন পোয়ারো। মুখে দুর্বলতার ছাপ, জোর করেই যেন হাসবার চেষ্টা করছে। পোয়ারোর মনে হল, যুবকটির ভেতর পর্যন্ত যেন তিনি দেখতে পাচ্ছেন।

    -বলুন, আমি কি করতে পারি।

    পোয়ারোর দিকে তাকিয়ে বলল রেগি।

    –গতকাল রাতে ঘুমোবার আগে পর্যন্ত কি করছিলেন, আমাকে তা বলতে আপত্তি আছে?

    –মোটেই না। ডিনারের পর আমরা ড্রইংরুমে ব্রিজ খেলি। তারপর আমি শুতে চলে যাই।

    –তখন সময় কত?

    –এগারোটার কিছু বাকি ছিল। নিশ্চয়ই তার পরেই হয়েছিল চুরিটা?

    –হ্যাঁ, তার পরেই। আপনি কোনো শব্দ শুনতে পাননি? কিংবা কিছু চোখে পড়েছিল?

    –আমি বিছানায় শোয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়ি। কোনো শব্দ কানে আসেনি, চোখেও পড়েনি কিছু।

    –আপনি কি রাতে বিছানায় শোবার পরে সকাল পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন?

    –হ্যাঁ, ঠিক তাই।

    –অদ্ভুত ব্যাপার।

    চোখ তুলে তাকাল রেগি। তার চোখে বিরক্তি।

    –অদ্ভুত বলছেন কেন?

    –কোনো আর্ত চিৎকার আপনার কানে যায়নি?

    –নাঃ, কিছুই না।

    –সত্যিই অদ্ভুত।

    –অদ্ভুত বলে কি বোঝাতে চাইছেন বুঝতে পারছি না।

    –আমার জানতে ইচ্ছে করছে, আপনি কি কানে খাটো?

    –মোটেই না।

    –অদ্ভুতই বটে। ঠিক আছে মিঃ ক্যারিংটন, আপাততঃ এই পর্যন্ত।

    উঠে দাঁড়িয়ে বিরক্তির সঙ্গে ঘর ছেড়ে মুখে একটা অদ্ভুত ভাব নিয়ে উঠে দাঁড়াল রেগি। একটু ইতস্ততঃ করে বলল, আপনি বলতে এখন আমার মনে পড়ল, কেমন একটা অস্পষ্ট শব্দ যেন শুনতে পেয়েছিলাম।

    –তাহলে শুনতে পেয়েছিলেন? ঠোঁটের কোণায় হাসলেন পোয়ারো।

    –সেই সময় একটা গোয়েন্দা কাহিনী পড়ছিলাম আমি। এমনভাবে জমে গিয়েছিলাম যে শব্দটা নিয়ে মাথা ঘামাতে চাইনি।

    -হ্যাঁ, ব্যাখ্যাটা মন্দ নয়।

    এক মুহূর্ত পোয়ায়োর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল রেগি। তার মনোভাব বোঝার চেষ্টা করল। তারপর পেছন ফিরে দরজার দিকে পা বাড়িয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াল। . .

    –কি চুরি গেছে, জানতে পারি?

    –খুব মূল্যবান জিনিস অবশ্যই। তবে এর বেশি কিছু জানাবার স্বাধীনতা আমার নেই।

    –তাই বুঝি।

    বেশ অস্থিরভাবে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল রেগি।

    এবারে তাহলে মিসেস ভান্দারলিনকে স্মরণ করা যাক।

    আপন মনে বিড়বিড় করলেন পোয়ারো। হাত বাড়িয়ে একটা ঘণ্টা স্পর্শ করলেন।

    .

    বেশ ব্যস্ততার ভঙ্গিতে ঘরে ঢুকলেন মিসেস ভান্দারলিন। স্পোর্টস সুটে খুবই সুন্দর দেখাচ্ছিল তাকে। চেয়ারে আসন নিয়ে সুন্দর করে হাসলেন পোয়ারোর দিকে তাকিয়ে।

    –কী সাংঘাতিক ব্যাপার। এ বাড়িতে রাতে চোর ঢুকেছিল, আমি তো ভাবতেই পারছি না। তা পুলিস কি কিছুই করতে পারল না?

    প্রায় এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলেন মিসেস ভান্দারলিন।

    পোয়ারের মনে হল, মুখে মোলায়েম হাসি থাকলেও মহিলার চোখে যেন বিদ্রূপ খেলা করছে।

    –আপনি যে পুলিসকে ভয় পান না, তা পরিষ্কারই বোঝা যাচ্ছে। ওরা যে পুলিসকে এ ব্যাপারে ডাকবেন না, তাও ভালো করেই জানেন আপনি। এটা সতর্কতার ব্যাপার।

    –কিন্তু, মঁসিয়ে পোয়ারো, পুলিসকে ডাকা হবে এটাই তো স্বাভাবিক ব্যাপার। যাইহোক, প্রিয় লর্ড মেফিল্ডকে চিন্তামুক্ত করার জন্য আমি কি করতে পারি বলুন।

    –ধন্যবাদ মাদাম। একটা কথা, গতকাল রাতে ড্রইংরুমে আপনি ব্রিজ খেলেছিলেন?

    –হ্যাঁ।

    –খেলা শেষ হলে আপনারা মহিলারা সবাই চলে যান?

    –হ্যাঁ ঠিকই বলেছেন।

    –আমি জেনেছি, একজন মহিলা আবার একটা বই সংগ্রহ করার জন্য ড্রইংরুমে ফিরে এসেছিলেন। আপনিই এসেছিলেন, তাই নয়?

    -হ্যাঁ, আমিই প্রথম ফিরে যাই।

    সঙ্গে সঙ্গে পোয়ারো জানতে চাইলেন,–প্রথম বলছেন, এর কারণ কি?

    বইটা নিয়ে আমি ওপরে চলে যাই। আমার ঘরে বেল টিপে কিছুক্ষণ দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। পরিচারিকা দরজা খুলতে দেরি করছিল। ও বেরিয়ে এলে তাকে আমার চুল আঁচড়ে দিতে বলি।

    ও যখন আমার চুল আঁচড়ে দিচ্ছিল, আমি সিঁড়ির একধাপ ওপরে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন চোখে পড়ল, লেডি জুলিয়া সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে আসছেন। জিজ্ঞেস করতে বললেন, একটা বই-এর জন্য নিচে গিয়েছিলেন। আমার কেমন অদ্ভুত মনে হল।

    হেসে কথাটা শেষ করলেও কথার ইঙ্গিতপূর্ণ সুর শুনে পোয়ারোর মনে হল, মিসেস ভান্দারলিন লেডি ক্যারিংটনকে মোটেই পছন্দ করেন না।

    বেশ বুঝতে পারলাম। আচ্ছা মাদাম, ওপরে যাবার পর আপনার পরিচারিকার আর্তনাদ আপনি শুনতে পেয়েছিলেন?

    -হ্যাঁ, হ্যাঁ, ওই রকম কিছু একটা শুনতে পেয়েছিলাম আমি।

    –আপনি নিশ্চয় তাকে কিছু জিজ্ঞেস করেছিলেন?

    –হ্যাঁ, করেছিলাম। সে জানাল, কিরকম একটা সাদা ভাসমান মূর্তি সে দেখেছিল। সেই অদ্ভুত দৃশ্য দেখেই ভয়ে চিৎকার করে উঠেছিল। অশিক্ষিত মেয়েদের কথা আর কি বলব বলুন।

    গতকাল রাতে লেডি জুলিয়ার পরণে কি পোশাক ছিল আপনার মনে আছে?

    –হ্যাঁ, হাসলেন মিসেস ভান্দারলিন, আপনি কি বোঝাতে চাইছেন বুঝতে পারছি, সাদা পোপাশাক পরা লেডি জুলিয়াকে অন্ধকারে অন্যরকম মনে হয়েছিল আমার পরিচারিকার। বিচিত্র কি, এইসব মেয়েরা খুবই কুসংস্কারাচ্ছন্ন।

    –আপনার এই পরিচারিকাটি কতদিন আপনার কাছে আছে?

    –বেশি দিন নয়, মাস পাঁচেক হবে।

    –আপনার অনুমতি নিয়েই, তার সঙ্গে একবার কথা বলতে চাই আমি।

    মিসেস ভান্দারলিনের চোখ একটু বড় হল। তিনি শান্ত গলায় বললেন, নিশ্চয়ই বলবেন।

    -আপনাকে অনেক ধন্যবাদ মিসেস ভান্দারলি, আপনার সৌন্দর্যের মতই আপনার ব্যবহারও মুগ্ধকর। আমি প্রশংসা না করে পারছি না।

    –এই প্রশংসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। উঠে দাঁড়িয়ে পোয়ারোর সঙ্গে করমর্দন করলেন মিসেস ভান্দারলিন। আবার বললেন, আপনার সাফল্য কামনা করি।

    ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন তিনি। পোয়ারা আপনমনে বিড়বিড় করলেন, সাফল্য আমি পাব না আপনি নিশ্চিত জানেন, সেই জন্যই সাড়ম্বরে সাফল্য কামনা করে গেলেন। কিন্তু আমি এরকুল পোয়ারো—

    .

    মিসেস ভান্দারলিনের ফরাসি পরিচারিকা মাদমোয়াজেল লিওনিকে দেখা গেল দরজার সামনে। কালো পোশাক আর কাঁধ-ছোঁয়া ঢেউ খেলানো চুলে তাকে বেশ আকর্ষণীয় দেখাচ্ছিল। পোয়ারো মনে মনে স্বীকার করলেন, মেয়েটির রূপ আছে।

    মুখে সলজ্জ হাসি নিয়ে ঘরে ঢুকতে ইতস্ততঃ করছিল সে। পোয়ারো তাকে ভেতরে আসার ইঙ্গিত করলেন।

    -এসো মাদমোয়াজেল, ভয় নেই।

    ধীর পায়ে হেঁটে এসে পোয়ারোর উল্টোদিকের চেয়ারে বসল সে।

    –তোমাকে দেখে র্মসিয়ে চার্লিলকে খুবই বেরসিক বলে মনে হচ্ছে আমার।

    লিওনি অবাক হয়ে তাকাল চোখ তুলে।

    -তুমি খুবই সুন্দর। মঁসিয়ে চার্লিলকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি দেখতে কেমন। সে উত্তরে বলেছিল, জানে না।

    লিওনির মুখে এবারে কথা ফুটল। অবজ্ঞার স্বরে বলল, ওই পাথরের মূর্তিটার কথা বলছেন? লোকটা জীবনে কোনো মেয়ের দিকে তাকিয়েছিল কিনা সন্দেহ।

    -বেচারাই বলতে হবে, তরল কণ্ঠে বললেন পোয়ারো, নিঃসন্দেহে সে অনেক কিছু হারিয়েছে। তবে মনে হয়, এ বাড়িতে অনেকেই তোমার সৌন্দর্যের প্রশংসা করে, কি বল?

    –মঁসিয়ে কি বোঝাতে চাইছেন, বুঝতে পারছি না।

    -তাই কি হয় মাদমোয়াজেল, তুমি ঠিকই বুঝতে পারছ। তাহলে বলছি তোমাকে শোন। গতকাল রাতে তুমি শুনলাম ভূত দেখেছ। কিন্তু যখন শুনলাম তুমি মাথায় হাত দিয়ে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলে, তখনই বুঝলাম কোনো ভূত দেখে তোমার ওই অবস্থা হয়নি। বুঝলে লিওনি, ভূত দেখে কোনো মেয়ে যখন ভয় পায়, সঙ্গে সঙ্গে বুকে হাত দিয়ে কিংবা দুহাতে মুখ ঢেকে সে আর্তনাদ করে ওঠে। মেয়েদের ভয় পাবার ওটাই স্বাভাবিক ভঙ্গিমা।

    কিন্তু তার হাত যদি মাথার ওপরে দু কানের পাশে থাকে তাহলে ধরে নিতে হয় ব্যাপারটা অন্য কিছু। আমি বলতে পারি, তোমার চুল এলোমেলো হয়ে গেছিল, আর তুমি দ্রুত হাতে চুলগুলো বিন্যস্ত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলে। আমি ঠিক বলছি কিনা এবারে তুমিই বল মাদমোয়াজেল। সত্যি করে বল তো, সিঁড়ির মাঝখানে দাঁড়িয়ে তুমি অমন চিৎকার করে উঠেছিলে কেন?

    আমি কিছু মিথ্যা বলছি না মঁসিয়ে পোয়ারা, আমি সত্যিই সাদা পোশাকে মোড়া একটা ছায়ামূর্তি দেখে আঁৎকে উঠেছিলাম। আপনি বিশ্বাস করুন।

    -মাদমোয়াজেল, আমাকে বোকা বানাবার চেষ্টা করো না। তোমার এই কাহিনী মঁসিয়ে চার্লিলের কানে হয়তো খুবই বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে, কিন্তু আমি এরকুল পোয়ারো, আমার কাছে সেরকম নয়, বুঝতেই পারছে।

    আসল কথাটা হল, একটা অপ্রত্যাশিত চুম্বন তোমাকে চমকে দিয়েছিল। আর তোমাকে চুমু খেয়েছিল মঁসিয়ে রেগি ক্যারিংটন, তাই নয় কি?

    ঝকঝকে চোখে তাকাল লিওনি। পোয়ারোর চোখ তার চোখে আটকে গেল। বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারল না সে। চোখ সরিয়ে মাথা নত করল।

    পোয়ারো মেয়েটির মনোভাব উপলব্ধি করতে পেরে স্নেহার্দ্র কণ্ঠে বললেন, একটা চুমুর ব্যাপার এমন কিছু নয়, তুমি ব্যাপারটা কি হয়েছিল আমাকে বল।

    মুখ না তুলেই লিওনি বলতে লাগল, মিঃ রেগি কখন আমার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছিল আমি বুঝতেই পারিনি। আচমকা সে দুহাতে আমাকে জাপটে ধরে আদর করে চুল ঘেঁটে দিয়েছিল।

    আমার তখন আর কিছু করার ছিল না। রেগি বলে বুঝতে পারিনি, তাই ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠেছিলাম।

    -হ্যাঁ, তারপর?

    –পরক্ষণেই স্টাডির দরজার খুলে বেরিয়ে সেক্রেটারি মিঃ চার্লিল সিঁড়ির কাছে ছুটে আসে। আমি সিঁড়ির ওপরে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম।

    কেন চিৎকার করে উঠেছি, আমাকে বলতে হল। ভূতের মিথ্যা কাহিনী বলে কোনো রকমে সামাল দিতে হল আমাকে।

    এছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না আমার।

    পোয়ারো মাথা ঝাঁকালেন। নিজের মনে বিড়বিড় করলেন। সব ব্যাখ্যাই পাওয়া গেল এতক্ষণে।

    পোয়ারো সহানুভূতির দৃষ্টি নিয়ে লিওনির দিকে তাকালেন। বললেন, দেখ মাদমোয়াজেল, তোমাকে কোনো ঝামেলার সঙ্গে আমি জড়াতে চাই না। তবে তোমাকে আমার একটা উপকার করতে হবে।

    –আপনি অত্যন্ত দয়ালু মঁসিয়ে পোয়ারো। আপনার উপকার হতে পারে এমন যে কোনো কাজই আমি করব, বলুন।

    –তোমার মনিবের ব্যাপারে কি জান?

    –বিশেষ কিছুই নয় মঁসিয়ে। তবে উনি যাদের সঙ্গে মেশেন তাদের একটা বৈশিষ্ট্য আমার চোখে পড়েছে।

    –কি রকম?

    -তার বন্ধুদের বেশির ভাগই, সৈন্যবিভাগের লোক। কেউ নাবিক, কেউ পদাতিক নয়তো এয়ারফোর্সের। এ ছাড়াও অনেকে আসেন তার কাছে যারা বিদেশী লোক। তারা আসেন চুপিচুপি। আমার মনে হয় ম্যাডাম এখনো যথেষ্ট সুন্দরী। কিন্তু তার বন্ধুরা তার সৌন্দর্যের ব্যাপারে অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত বলেই মনে হয় আমার। এসবই অবশ্য ধারণা। আমি নতুন এসেছি, কোনো গোপন কথা তিনি আমাকে বলেন না।

    -তার মানে, তিনি নিজেই সব কিছু করতে চান?

    –হ্যাঁ, তাই মঁসিয়ে।

    –আমাকে তো তুমি তাহলে সাহায্য করতে পার।

    –বলুন মঁসিয়ে, আমার সাধ্যমত চেষ্টা করব।

    –একটা কথা আমাকে বল, আজ সকালে তোমার ম্যাডামকে কি রকম মেজাজে দেখেছ?

    –তাকে খুবই খুশি মনে হচ্ছিল।

    –এই খুশি খুশি মেজাজের কারণ কিছু বুঝতে পেরেছ?

    –না, মঁসিয়ে, তেমন বিশেষ কিছু তো দেখতে পাচ্ছি না। তবে খুবই উৎফুল্ল তিনি।

    –কোনো জয়ের আনন্দ যেমন হয়? –হ্যাঁ, মঁসিয়ে, ঠিক এই কথাটাই আমি বলতে চেয়েছিলাম।

    পোয়ারো মাথা নাড়লেন। বললেন, ধন্যবাদ মাদমোয়াজেল, আপাততঃ এই পর্যন্ত।

    লিওনি ঘর ছেড়ে চলে গেল। পোয়ারোর মুখে আশা-নিরাশার চিন্তার ছায়া পড়ল। তিনি ঘরে পায়চারি করতে থাকেন।

    লেডি জুলিয়ার সঙ্গে কথা বলা বাকি। সেই কথা ভেবেই উত্তেজনা আর উদ্বেগ বাড়ছিল তার। কি বলবেন তিনি? কি শোনা যাবে তার মুখ থেকে?

    .

    ঘরে প্রবেশ করলেন লেডি জুলিয়া। গভীর দৃষ্টিতে তাকে নিরীক্ষণ করার চেষ্টা করলেন পোয়ারো। বহু প্রত্যাশিত ওই মুখে আশার প্রতিশ্রুতি দেখতে চাইলেন তিনি।

    কোনো ভূমিকা না করেই লেডি জুলিয়া বললেন, গতকাল রাতে নাকি এ বাড়িতে চুরি হয়েছে?

    –হ্যাঁ ম্যাডাম। সেই ব্যাপারেই আপনাদের সঙ্গে দু-একটা কথা বলতে চাইছি। বললেন পোয়ারো।

    –হ্যাঁ, লর্ড মেফিল্ড তাই বলছিলেন।

    গতকাল রাতে আপনাদের ব্রিজ খেলার পরে কি ঘটেছিল খুলে বলুন।

    –আমাদের আর এক হাত খেলার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আমার স্বামী বললেন তাহলে অনেক রাত হয়ে যাবে। তাই খেলা ওখানেই শেষ করে দিয়ে আমরা শুতে চলে যাই।

    তারপরে?

    –আমি যথারীতি ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ি।

    –তারপর–বলে যান।

    –ঘুমের আগে এই পর্যন্তই আমার মনে আছে। তা চুরির ঘটনাটা ঘটল কখন?

    –আপনারা ওপরে চলে যাওয়ার একটু পরেই।

    –ওহো। কি জিনিস চুরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে?

    –খুবই মূল্যবান জিনিস ম্যাডাম। কিছু গোপন কাগজপত্র।

    –খুবই দরকারি?

    –অত্যন্ত দকারি। এবং আর্থিকমূল্যও অনেক।

    –তাই বুঝি?

    পোয়ারো সরল চোখে তাকালেন লেডি জুলিয়ার দিকে। পরে বললেন, আচ্ছা ম্যাডাম, আপনার সেই বইটার ব্যাপারে কিছু বলবেন?

    –আমার বই। চোখে ভ্রূকুটি হানলেন লেডি জুলিয়া।

    মিসেস ভান্দারলিনের কাছে শুনলাম, আপনারা তিনজন মহিলাই তাসের আসর থেকে উঠে যে যার ঘরে চলে যান। আপনি খানিক পরেই একটা বই নেবার জন্য আবার নিচে নেমে আসেন।

    -হ্যাঁ, এসেছিলাম।

    –তাহলে দেখা যাচ্ছে, ঘরে গিয়ে আপনি সরাসরি বিছানায় শুয়ে পড়েননি। খানিক পরেই আবার ড্রইংরুমে ফিরে এসেছিলেন।

    –ঠিক বলেছেন। আমি বলতে ভুলে গিয়েছিলাম।

    এবার তাহলে বলুন। ড্রইংরুমে আসার পরে আপনি কোনো শব্দ শুনেছিলেন? কারো ভয় পাওয়া আর্তচিৎকার?:

    -হ্যাঁ–মানে-ওরকম কিছু শুনেছি বলে মনে হয় না।

    –আপনার শুনবার কথা ম্যাডাম। ড্রইংরুম থেকে আপনি না শুনে পারেন না।

    –না, না, মাথা দোলালেন লেডি জুলিয়া, আমি কিছুই শুনতে পাইনি।

    পোয়ারো শীতল চোখে তাকালেন। কোনো উত্তর করলেন না।

    লেডি জুলিয়া আশা করেছিলেন পোয়ারো কিছু বলবেন। কিন্তু তাকে নীরব থাকতে দেখে একটু অস্বস্তি বোধ করলেন। ইতস্ততঃ করে বললেন, তাহলে এখন কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?

    -কিসের ব্যবস্থার কথা বলছেন ম্যাডাম?

    –চুরি যাওয়া জিনিসটা উদ্ধারের। পুলিস নিশ্চয়ই কিছু করছে?

    –না ম্যাডাম, মাথা নাড়লেন পোয়ারো, এ কেসে পুলিস ডাকা হয়নি। আমার ওপরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    পোয়ারোর দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে রইলেন লেডি জুলিয়া। বিস্ময়ের ভাবটা কেটে গিয়ে ধীরে ধীরে কেমন কঠিন হয়ে উঠল মুখভাব।

    -তাহলে আপনিই তো বলতে পারেন কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    –আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করছি ম্যাডাম এবং আমি আশান্বিত।

    –চোরকে ধরার ব্যাপারে?

    –না ম্যাডাম, কাগজপত্রগুলো উদ্ধার করাই আমার আসল উদ্দেশ্য।

    লেডি জুলিয়ার মুখভাব খানিকটা সহজ হল। তিনি ধীরে ধীরে বললেন, হ্যাঁ, সেটা হওয়াই ভালো। একটু থেমে আবার বললেন তিনি, আমাকে আর কিছু জিজ্ঞাসা আছে মঁসিয়ে পোয়ারো।

    –না, ম্যাডাম, আপনাকে আর কষ্ট দেব না। ধন্যবাদ।

    চেয়ার ছেড়ে উঠে সরাসরি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন লেডি জুলিয়া।

    পোয়ারো ধীর পদক্ষেপে ফায়ারপ্লেসের দিকে এগিয়ে গেলেন। লেডি জুলিয়ার বলে যাওয়া কথাগুলো নিয়েই তিনি মনে মনে নাড়াচাড়া করছিলেন।

    এমনি সময়ে জানালা পথে ঘরে ঢুকলেন লর্ড মেফিল্ড।

    -কতদূর এগুলেন মঁসিয়ে পোয়ারো।

    –খুবই আশাব্যঞ্জক লর্ড মেফিল্ড। আমার তদন্তের কাজ ভালো ভাবেই এগুচ্ছে।

    পোয়ারোর উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না লর্ড মেফিল্ড। তিনি আরো বেশি কিছু যেন আশা করেছিলেন। পোয়াবোর মুখভাবও তার কাছে স্পষ্ট নয়। তার মনে হল পোয়ারোকে তিনি ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না।

    লর্ড মেফিল্ডকে উদ্দেশ্য করে পোয়ারো আবার বললেন, ঠিক যেমনটি আশা করেছিলাম। অবিশ্বাসের ছোঁয়া লর্ড মেফিল্ডের গলায়।

    –আপনার অতিথিদের আশু বিদায় জানাবার ব্যবস্থা করা যায়? বললেন পোয়ারো।

    –তা করার অসুবিধা বিশেষ হবে না, মনে হয়। আমার লন্ডন যাবার একটা অজুহাত দেখানো যেতে পারে, তাহলে মনে হয় অতিথিরা এখান থেকে চলে যাওয়ার কথাই ভাববেন।

    -তাহলে সেরকমই একটা ব্যবস্থা করন। এটা একটা ভালো ব্যবস্থাই মনে হয়, কেউ অসম্মানিত বোধ করবেন না।

    লর্ড মেফিল্ড বললেন, আপনার উপদেশ মতো তাহলে সেই ব্যবস্থাই করা যাক।

    একটু ইতস্ততঃ করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন তিনি।

    .

    মধ্যাহ্নভোজের পরেই অতিথিরা বিদায় নিতে শুরু করলেন। বাড়ির সামনে দুটো গাড়ি দাঁড় করানো। ক্যারিংটনরা যাবেন তাদের নিজস্ব মরিস গাড়ি করে।

    লর্ড মেফিল্ডের রোলস তৈরি রয়েছে, মিসেস ভান্দারলিন আর মিসেস ম্যাকাট্রার জন্য। তারা যাবেন ট্রেনে। গাড়ি তাদের স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসবে।

    পোয়ারো হলের মধ্যে দাঁড়িয়ে অতিথিদের বিদায় পর্ব দেখছেন।

    বিদায় নেবার সময় মিসেস ভান্দারলিন লর্ড মেফিল্ডকে বললেন, এমন একটা বিদঘুঁটে পরিস্থিতির মধ্যে আপনাকে রেখে যেতে হচ্ছে বলে খুবই খারাপ লাগছে। আশা করছি সব কিছুরই সুষ্ঠু সমাধান হয়ে যাবে।

    লর্ড মেফিল্ডের হাতে মৃদু চাপ দিয়ে তিনি রোলস গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলেন। মিসেস ম্যাকাট্টাও হল থেকে নেমে তাকে অনুসরণ করলেন।

    লিওনি ড্রাইভারের পাশের সিটে বসেছিল। হঠাৎ সে দরজা খুলে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো হল ঘরে।

    –ম্যাডামের ড্রেসিংকেসটা গাড়িতে নিতে ভুল হয়ে গেছে।

    দ্রুত খোঁজাখুঁজির পালা শুরু হল। মিনিট খানেকের মধ্যেই অবশ্য লর্ড মেফিল্ড কেসটা খুঁজে পেলেন একটা পুরনো আলমারির আড়ালে। তুলে দিলেন লিওনির হাতে। খুশি হয়ে সে ছুটল গাড়ির দিকে।

    খানিক পরেই গাড়ির জানালায় মাথা বাড়িয়ে মিসেস ভান্দারলিন চিৎকার করে ডাকলেন, লর্ড মেফিল্ড

    গাড়ির কাছে এগিয়ে গেলেন লর্ড মেফিল্ড। মিসেস ভান্দারলিন জানালা গলিয়ে একটা খাম তার দিকে বাড়িয়ে দিলেন।

    -কিছু মনে করবেন না, আমার এই চিঠিটা আপনার পোস্ট-ব্যাগে রেখে দিন। শহরে গিয়ে পোস্টবক্সে ফেলতে একদম ভুলে যাব। আমার চিঠি দিনের পর দিন ব্যাগে পড়ে থাকে।

    ওপাশে স্যার জর্জ ক্যারিংটনও তাঁর গাড়িতে ওঠার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন। রেগি গাড়ির দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছে।

    সহসা লেডি জুলিয়া পোয়ারোর দিকে এগিয়ে গেলেন। মৃদুস্বরে বললেন, মঁসিয়ে পোয়ারো, আপনার সঙ্গে কিছু কথা বলতে চাই।

    লেডি জুলিয়া তাকে হাতে ধরে টেনে নিয়ে এলেন একটা ছোট ঘরে। নিজেই ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন।

    নিরাসক্ত ভঙ্গিতে সম্মোহিতের মত দাঁড়িয়ে ছিলেন পোয়ারো। লেডি জুলিয়া তার দিকে ফিরে বললেন, আপনি যা বললেন তা কি সত্যি, লর্ড মেফিল্ডের কাগজপত্রগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ?

    -হ্যাঁ, ম্যাডাম, ওগুলো খুবই দরকারী।

    –সেগুলো যদি তাকে দেবার জন্য আপনার হাতে তুলে দেওয়া হয়, তাহলে বলুন কোনো প্রশ্ন করবেন না, রাজি?

    পোয়ারো কোনো জবাব দিলেন না। আরো কিছু শোনার জন্য অপেক্ষা করে রইলেন।

    -একটাই শর্ত, বলুন আপনি রাজি, চোরের নাম পরিচয় কিছুই প্রকাশ করা চলবে না।

    -বুঝতে পারলাম, শান্ত কণ্ঠে বললেন পোয়ারো, কিন্তু কাগজগুলো কখন ফেরত পাওয়া যেতে পারে; ম্যাডাম?

    –বেলা বারোটার মধ্যে অবশ্যই। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। কিন্তু আপনাকেও প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, এ ব্যাপারে কেউ কিছু জানতে পারবে না।

    -হ্যাঁ, ম্যাডাম, আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। সংযত কণ্ঠে উচ্চারণ করলেন পোয়ারো।

    –তাহলে সেই মতই ব্যবস্থা করা হবে।

    কথা শেষ করেই লেডি জুলিয়া দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। একটু পরেই গর্জন তুলে মরিস গাড়িটা বেরিয়ে গেল।

    পোয়ারো ধীর পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে চলতে চলতে স্টাডিতে এসে ঢুকলেন। লর্ড মেফিল্ড সে ঘরেই ছিলেন। মুখ তুলে পোয়ারোর দিকে তাকালেন।

    পোয়ারো এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে দিলেন।

    -আপনার জন্য একটা সুখবর নিয়ে এলাম লর্ড মেফিল্ড। আমার কেস শেষ হবার মুখে।

    –যথার্থ সুখবর। কিন্তু

    পোয়ারো মুখ খুললেন। একটু আগে লেডি জুলিয়ার সঙ্গে তার যে কথাবার্তা হয়েছে, সব খুলে বললেন।

    হতভম্ব হয়ে রইলেন লর্ড মেফিল্ড। কোনো রকমে বললেন, ব্যাপারটা কি হল আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।

    -না পারার কিছু নেই লর্ড। লেডি জুলিয়া পরিষ্কারই জানিয়ে গেলেন, কে বা কারা ওই নক্সাগুলো চুরি করতে পারেন।

    -আপনি বলছেন, লেডি জুলিয়া নক্সাগুলো চুরি করেননি?

    নিশ্চয়ই নয়, লর্ড মেফিল্ড। কিন্তু তিনি যখন সেগুলো ফেরত দেবার প্রস্তাব করেছেন তখন ধরে নেওয়া যায় চুরি করেছে তার নিজের নোক কেউ, হয় স্বামী নয়তো ছেলে। কিন্তু ওদিকে দেখা যাচ্ছে, স্যার জর্জ আপনার সঙ্গে টেরাসে ছিলেন। তাহলে…আসুন গতকালের ঘটনাগুলো আবার নতুন করে সাজিয়ে দেখা যাক।

    গতকাল রাতে খেলা শেষ করে উঠে লেডি জুলিয়া তার ঘরে চলে যান। খানিক আগেই ওপরে উঠে এসেছিল রেগি। কিন্তু লেডি তাকে ঘরে দেখতে পেলেন না। ছেলের খোঁজ নিতে তিনি তখনই আবার নিচে আসেন। কিন্তু সেখানেও সে ছিল না।

    রাত শেষ হলেই তিনি চুরির ঘটনার কথা জানতে পারেন। আরও শুনতে পেলেন জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার ছেলে জানিয়েছে রাতে সে ঘর ছেড়ে বেরোয়নি। স্বভাবতঃই তিনি বুঝতে পারেন, তার ছেলে মিথ্যা কথা বলেছে।

    ছেলের অনেক ব্যাপারই তিনি জানতেন। বিশেষ করে তার টাকার অনটনের বিষয়। টাকা পাবার জন্য সে অস্থির হয়ে উঠেছিল।

    এদিকে; তিনি এ-ও লক্ষ করেছেন মিসেস ভান্দারলিনের খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সে। সব মিলিয়ে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে যান লেডি জুলিয়া। মিসেস ভান্দারলিনের ফঁদে পা বাড়িয়েছে রেগি, তারই প্ররোচনায় নক্সাগুলো চুরি করে সে।

    লেডি জুলিয়া আসক্ত হলেও নীতিভ্রষ্ট নন। তিনি স্থির করেন, ছেলেকে চাপ দিয়ে নক্সাগুলো উদ্ধার করবেন এবং যথাস্থানে ফেরত দেবেন।

    –এত একটা কল্পকাহিনী হয়ে যাচ্ছে মঁসিয়ে পোয়ারো, বাস্তবে এমন ব্যাপার একেবারেই অসম্ভব। সম্পূর্ণ অসম্ভব।

    –আপনি ঠিকই বলেছেন, লর্ড মেফিল্ড, সত্যিই অসম্ভব। তবে লেডি জুলিয়া এরকমই ভেবেছেন। তিনি জানেন না, রেগি গতকাল রাত্রে তার ঘরে উপস্থিত না থাকলেও সে নক্সাগুলো চুরি করেনি। আমি এরকুল পোয়ারো জানি, সে কোথায় ছিল। তখন সে মিসেস ভান্দারলিনের ফরাসি পরিচারিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করছিল।

    –সবকিছুই রাবিশ। পোয়ারোর কথা উড়িয়ে দিতে চাইলেন লর্ড মেফিল্ড, কেসটা যেখানে ছিল সেখানেই রয়েছে।

    -কেস শেষ হয়ে গেছে লর্ড মেফিল্ড, সমাধানটা এরকুল পোয়ারোর মুঠোয়। আপনি আমাকে নেহাৎ একজন হাতুড়ে বৈদ্য ভেবে রেখেছেন। তাই গতকাল আপনাকে যখন বলি নক্সাগুলো কোথায় আমি জানি, আপনি আমার কথা বিশ্বাস করতে পারেননি। এখনো পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারছেন না যে সত্যি ঘটনাটা আমি জানি।

    -নক্সাগুলো তাহলে কোথায়, বলছেন না কেন?

    –সেগুলো হাতের নাগালেই রয়েছে লর্ড মেফিল্ড, আপনার পকেটেই পাওয়া যাবে। লর্ড মেফিল্ডের মুখ থেকে বাক্যস্ফুর্তি হল না। তিনি থ হয়ে রইলেন কিছু সময়। পরে সম্বিত ফিরে এলে বললেন, মঁসিয়ে পোয়ারো, আপনি কি সব বলছেন?

    -হ্যাঁ, বলছি, আমি যা জানি তাই। একদম গোড়ায় আপনার কথা থেকেই আমি সত্যের সন্ধান পেয়েছিলাম। আমাকে চিন্তা করতে হয়েছিল, আপনারই বলা কথাটা, দূরের জিনিস আপনি ভালো দেখতে পান না।

    তাই যদি হয় তাহলে একটা ছায়ামূর্তি জানালা টপকে চলে গেল দুর থেকে আপনি দেখলেন কি করে? এর সমর্থনযোগ্য যুক্তি আপনি বারবার দেখাবার চেষ্টা করেছেন, আমি সব যুক্তি খণ্ডন করা সত্ত্বেও। কিন্তু কেন আপনি এ কাজ করেছেন?

    স্যার জর্জ টেরেসে আপনার সঙ্গে পায়চারি করছেন, মিসেস ভান্দারলিন তখন ওপরতলায়, রেগি ক্যারিংটন সিঁড়ির ওপরে দাঁড়িয়েছিল ফরাসি পরিচারিকাটির সঙ্গে, মিসেস ম্যাকাট্টা, তার ঘরে নিদ্রামগ্ন, তাঁর নাক ডাকার শব্দ বাইরে থেকে পাওয়া যাচ্ছিল। পাশের ঘরটিই গৃহকর্তার। এই হল সমগ্র দৃশ্যপট।

    ছেলেকে ঘরে এবং নিচে কোথাও দেখতে না পেয়ে মিসেস ক্যারিংটন ভেবে নিয়েছেন, তার ছেলেই অপরাধী। এর পরও দুটি সম্ভাবনা-সূত্র পাওয়া গেল।

    একা হল, হয় চার্লিল নক্সাগুলো নিজের পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছিল, অথবা আপনি যখন ডেস্কের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, ডেস্কের ওপরে রাখা নক্সাগুলো তখন একমাত্র আপনার পকেটেই যাওয়া সম্ভব।

    চার্লিলের নির্দোষিতার ব্যাখ্যা আপনিই দিয়েছেন। কিছু করার ইচ্ছা থাকলে আগেই সে প্ল্যানগুলো নকল করে রাখতে পারত, কেউ তা টের পেত না। কাজেই নক্সা সে নেয়নি।

    তাহলে এবারে আর কিছু অপরিষ্কার রইল লর্ড মেফিল্ড?

    ছায়ামূর্তির ব্যাপারে আপনি যেভাবে বারবার জোর দিয়েছেন, চার্লিলের নির্দোষিতার ব্যাপারে নিশ্চয়তা জাহির করেছেন, এই সব কিছুই ছিল অস্বাভাবিক এবং বিষয়গুলি আমাকে খুঁটিয়ে বিচার করতে হয়েছে।

    তবে এই চুরির মোটিভ আবিষ্কার করতে আমাকে যথেষ্ট হিমসিম খেতে হয়েছে। কিছুতেই ভেবে পাচ্ছিলাম না নক্সাগুলো আপনি চুরি করলেন কেন?

    আপনি যে একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি তা আপনার কথাতেই প্রকাশ পেয়েছিল। আপনি আগাগোড়া চেষ্টা করেছেন যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি সাজা না পায়। এমন একজন সৎসজ্জন ব্যক্তি নক্সাগুলি চুরি করেছে, কোনো গূঢ় কারণ ছাড়া এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। তাছাড়া, এই চুরির ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে আপনার ভবিষ্যৎ উন্নতির পথও বিঘ্নিত হবার সম্ভাবনা। সব মিলিয়ে একটা নিদারুণ গোলকধাঁধা।

    যাইহোক, শেষ পর্যন্ত এই অবিশ্বাস্য ঘটনার উত্তরটা আমি পেয়ে গেলাম। কয়েক বছর আগের একটা ঘটনার মধ্যেই তা গুপ্ত ছিল।

    সেই সময়ে ক্ষমতার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আপনার গোপন বোঝাঁপড়ার ব্যাপার নিয়ে রাজনীতিক্ষেত্রে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটার ইতি টানবার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য হয়ে আলোচনার সত্যতা অস্বীকার করতে হয়। আপনাকেও সত্য গোপন করে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিতে হয়েছিল।

    আসলে আপনার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আপনার আলোচনা হয়েছিল এবং বিষয়টা, আমার অনুমান, কোনো চিঠিতে উল্লেখ ছিল। তবুও জনগণের স্বার্থেই আপনাকে পরবর্তীকালে তা অস্বীকার করতে হয়েছিল।

    ফলে ওই চিঠিটা হয়ে দাঁড়াল আপনার মিথ্যাচারের প্রমাণ যা ভবিষ্যতে আপনি সর্বোচ্চ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে যে কোনো মতলববাজ লোক অমোঘ অস্ত্র হিসেবে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে।

    আমার ধারণা সেই চিঠির সন্ধান আপনি জানতে পেরেছেন এবং তা আছে কোনো বিদেশী সরকারের হাতে।

    আপনার হাতে বোমারু বিমানের নক্সা আছে জানতে পেরে সেই বিদেশী সরকার এখন চিঠিটাকে অস্ত্র হিসাবে তুলে ধরেছে।

    আপনাকে প্রস্তাব দিয়েছে বোমারু বিমানের নক্সাগুলো তাদের হাতে তুলে দিলে বিনিময়ে চিঠিটা আপনি ফেরত পাবেন।

    এর পরেই আসছে ওই সন্দেহভাজন মহিলার প্রসঙ্গ। এখানকার পার্টিতে তাকে সামিল করার যে যুক্তি আপনি দেখিয়েছেন, তা হাস্যকর রকমের দুর্বল। তাকে ফাঁদে ফেলার যে কৌশলের কথা আপনি বলেছেন, সে সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো পরিকল্পনা যে আপনার ছিল না সে কথা আপনি নিজমুখেই স্বীকার করেছেন। ভদ্রমহিলাকে এখানে আহ্বান করার সত্য কারণটা ছিল গুপ্ত। এবং এই গুপ্ত উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্যই চুরির পরিকল্পনাটা আপনাকে নিতে হয়েছিল। কিন্তু চুরির ঘটনাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য টেরেসে চোরকে দেখতে পাওয়া, চার্লিলকে সন্দেহমুক্ত রাখার জন্য তার হয়ে সাফাই গাওয়া ইত্যাকার যেসব যুক্তি আপনি দাঁড় করাবার চেষ্টা করেছেন, তার প্রতিটিই অবিশ্বাস্য ভাবে দুর্বল।

    চার্লিলের ঘর ছেড়ে বাইরে আসার ঘটনাটা ঘটেছিল দৈবাৎ। সে বাইরে না এলেও নক্সাগুলি ঠিকই চুরি হতো। কেননা ঘরের ভেতরে ডেস্কটা জানালার ধার ঘেঁষে এমনভাবে রাখা হয়েছিল যে চার্লিলের অসতর্ক মুহূর্তে জানালা পথে হাত গলিয়ে নক্সাগুলো চুরি করা চোরের পক্ষে অসম্ভব হতো না।

    কিন্তু চোরের হয়ে কাজটা সুচতুর ভাবে আপনিই করেছিলেন। ডেস্কের সামনে গিয়ে সবার অলক্ষ্যে নক্সাগুলো তুলে নেন এবং পূর্ব-আয়োজিত পরিকল্পনা মত সেগুলো চালান করেছেন মিসেস ভান্দারলিনের ড্রেসিং কেসের মধ্যে।

    এর বিনিময়ে বিদায় নেবার প্রাক্কালে সেই বিপজ্জনক চিঠিটা তিনি নিপুণ অভিনয়ের আড়ালে আপনার হাতে তুলে দিয়ে যান। সকলে দেখতে পেল তার একটা চিঠি আপনার মেল-ব্যাগে পোস্ট করার জন্য দিয়ে গেলেন।

    দীর্ঘক্ষণ একটানা কথা বলার পর পোয়ারো নীরব হলেন। সম্মোহিতের মতো তার ব্যাখ্যা শুনে গেছেন লর্ড মেফিল্ড। এবারে তিনি বলে উঠলেন, মঁসিয়ে পোয়ারো, আমি স্বীকার করছি অসাধারণ আপনার বিচক্ষণতা আর জ্ঞান সম্পূর্ণ। আপনাকে আর একটা কথা বিশ্বাস করতে অনুরোধ করতে বলব।

    আমার দেশকে আমি ভালোবাসি এবং সতোর সঙ্গে বিশ্বাস করি দেশকে সঠিক পথে চালনা করার জন্য আমার প্রয়োজন আছে।

    এই কথা মাথায় রেখেই এবং আমার পতন রোধ করার উদ্দেশ্যে একটি চতুর চালাকির আশ্রয় নিয়ে বোমারু বিমানের নক্সাগুলো হাতছাড়া করতে পেরেছি। আমি জানি বিদেশী শক্তির কাছে এই নক্সা ব্যর্থ বলেই প্রমাণ হবে।

    পোয়ারো হাসলেন। বললেন, একজন যথার্থ রাজনীতিকের কাজই আপনি করেছেন। আপনি একজন প্রথম শ্রেণীর ইঞ্জিনিয়ার, একথা আমি ভুলিনি।

    প্রযুক্তিগত সূক্ষ্ম পরিবর্তন যে একটা গোটা প্ল্যানকে দুর্বোধ্যভাবে ব্যর্থ করে দিতে পারে একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার তা ভালোই জানেন। আমার বিশ্বাস আপনার এই চতুর চালাকি উভয় বিশ্বেরই মঙ্গল সাধন করবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচিলেকোঠার সেপাই – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }