Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগামী রাত্রির উপাখ্যান

    উপাখ্যান এক পাতা গল্প380 Mins Read0
    ⤷

    অমরত্বের আড়ালে – ব্লেইজ কায়ে। অনুবাদ : অরিন্দম দেবনাথ

    মূল গল্প: Diaspora Electronica

    আরও একজন আছে আজকের মেট্রোতে।

    লোকটা গেটের পাশের সিটে বসে মনোযোগ দিয়ে কী যেন একটা পড়ছে। নীলচে রেক্সিনে মোড়া বাঁধাই বই বা ডাইরি টাইপের কিছু। ঠিক ধরতে পারছি না জিনিসটা কী! তবে বেশ মোটাসোটা। কম করেও হাজারখানেক পাতা হবে। লোকটা ট্রেনে উঠেই দূর থেকে আমায় দেখে হাত নেড়েছিল। আমিও হাত নেড়েছিলাম। খানিক অস্বাভাবিক ঠেকছে। লোকটার কোনো সমস্যা আছে মনে হয়!

    সবে সকাল হয়েছে, ঠান্ডাটাও পড়েছে জব্বর। কাঁপিয়ে দিচ্ছে রীতিমত। বেশ মনে আছে, যখন ছোটো ছিলাম তখন শহরে আসার ট্রেনে ভিড়ের চোটে হাতল ধরতে পারতাম না। বাবা আমাকে নিয়ে আসতেন। আবার কোনো কারণে শরীর খারাপ থাকলে বাবাই স্কুল থেকে ফেরত নিয়ে যেতেন। মাঝে মধ্যে বাবা আমাকে খানিক টাকা আর তাঁর জন্য মা-র প্যাক করে দেয়া দুপুরের স্যান্ডউইচের প্যাকেট আমার হাতে ধরিয়ে সিনেমা হলে ছেড়ে
    দিতেন। আমি টাকা দিয়ে চকোলেট কিনতাম। আর কিনতাম সিনেমার টিকিট। কখনও দুটো, কখনও তিনটে। বিশাল চেহারার সিনেমা হলের ম্যানেজার আমাকে ভালো করে চিনে গিয়েছিল। লোকটার সবক’টা দাঁতই ছিল বাদামি। আমার কাছে যখন সিনেমার টিকিট কাটার টাকা থাকত না, তখন ভিড়ের ফাঁক দিয়ে টুক করে হলে ঢুকে পড়তাম। ম্যানেজার এমন ভাব করত যেন আমাকে দেখেইনি। কিন্তু আমি ভালো করেই জানতাম সে আমার টিকিট না কেটে ঢুকে পড়াটা ভালোভাবেই লক্ষ করেছে।
    আমার মনে হয় ওর মনে আমার প্রতি কোনো দুর্বলতা জন্মেছিল, কারণ আমি সবসময় একা একাই সিনেমা দেখতে আসতাম।  আবার নাও হতে পারে।

    বহুবছর সিনেমায় যাইনি। তার মানে এই নয় যে সিনেমা দেখতে আর আমার ভালো লাগে না। আমার কাছে পুরোনো দিনের সিনেমার সব কপি আছে। আমি প্রায় রোজ রাতে একটা না একটা সিনেমা দেখি। কিন্তু সিনেমা হলে সিনেমা দেখার মজাই অন্যরকম। আস্তে আস্তে আলো নিভে গিয়ে সামনে একটা বিশাল পর্দা জীবন্ত হয়ে ওঠার অনুভূতিই অন্যরকম। হলের ভেতরে বসে বাইরে কী হচ্ছে তা টেরই পাওয়া যায় না। স্কুলে কী পড়ানো হয়েছিল, টিচার কী বলেছিল, বন্ধুরা আমায় দেখে মুখ লুকিয়ে হেসেছিল কিনা কিচ্ছু মনে থাকত না হলের ভেতর। তারপর হল গিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে মনের ভুলে জিনিস ফেলে আসা, এই সব কি আর ঘরে বসে হয়? বাবা আমার মনের কথাটা ভালোই বুঝতেন।

    শহরে ঢোকার খানিক আগে থেকেই ট্রেনটা মাটির খোঁদল ছেড়ে ওপরে উঠে আসে। শীতের সূর্যের তাপ বড়ো কম। শহরের বাইরে এখন সবকিছুই ছন্নছাড়া। একটা বুড়ো কুকুরকে দেখতে পাচ্ছি পা দিয়ে মাটি আঁচড়াচ্ছে। খানিক দূর দিয়ে একটা ট্রেন আওয়াজ তুলে চলে যাচ্ছে কিন্তু ও মুখ তুলেও চাইছে না, মাটি খুঁড়েই চলেছে। এখানকার বাসিন্দারা সবকিছু ছেড়েছুড়ে চলে যাওয়ার পর, টিনের চাল দেয়া কাঠকুটো দিয়ে তাপ্পি মারা ফাঁকা বস্তিবাড়িগুলো সমুদ্রের ঝোড়ো হাওয়ায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। যে কয়েকটা বাড়ি এখনও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, সেগুলোকে ফোকলা দাঁতের মতো লাগছে। খানিক আছে তারপর খানিক ফাঁকা, আবার খানিক আছে আবার ফাঁকা। আমার মতো মুষ্টিমেয় যারা এখনও শহরের বাইরে পড়ে আছি আমার মনে হয় সুযোগ পেলেই তারাও অন্য শহরে চলে যাবে।

    বইপড়ুয়া লোকটা খানিক আগেই নেমে গেছে। আমি ভেবেছিলাম লোকটাও বোধহয় আমারই মতো ইনস্টিটিউটে যাবে। কিন্তু লোকটা আচমকা কয়েকটা স্টেশান আগে আমার দিকে হাত নেড়ে দরজা বন্ধ হওয়ার আগেই ও ট্রেন থেকে নেমে পড়েছিল। আমিও হাত নাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনটা ছেড়ে দিয়েছিল।
    লোকটার গলায় একটা স্কার্ফ জড়ানো ছিল। আমারও একটা স্কার্ফ জড়িয়ে আসা উচিত ছিল।

    মেট্রোর সেন্ট্রাল হাবে পৌঁছনোর কয়েকটা স্টেশান আগেই আমার গন্তব্য চলে আসাতে আমি নেমে পড়েছিলাম। বেশ গরম লাগছে। শহরের এই অংশে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণের একটা প্রচেষ্টা চলছে।

    ১৭২ নাম্বার স্ট্রিটের নির্গমন পথ দিয়ে বাইরে বেরোনার সময় নজরে এসেছিল নীল ওভারঅল পরা এক মহিলা প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার করে

    চলেছে। প্রথমে ভেবেছিলাম মহিলাটি
    বোধহয় আমাকে কিছু বলতে চাইছে। তারপরেই টের পেয়েছিলাম মহিলাটি নিজের মনেই বিড়বিড় করে চলেছে। একই কথা বলে চলছে বারবার।  আমি জানি এটাই ভবিতব্য। সে যত নিজের সঙ্গে কথা বলবে ততই অন্য ভাবনা থেকে দূরে থাকবে। সব আক্ষেপ ছুঁড়ে ফেলার এটাই উপায়। ওর মতো অনেকেই এইরকম ভুক্তভোগী। আমি যে এখনও ওর মতো হয়ে উঠিনি এটাই আশ্চর্যের। ওই মহিলার মতো হয়ে উঠিনি, কারণ আমার কোনো প্রত্যাশা নেই।

    ইনস্টিটিউটিউটা এত বড়ো যে আশপাশের বিল্ডিংগুলোকে মনে হয় যেন বামনদের থাকার জায়গা। ঝাঁ চকচকে ইনস্টিটিউটের পাশে অন্য বিল্ডিংগুলোকে খুব নোংরা আর কদর্যও লাগে। ইনস্টিটিউটের আশপাশে অনেককিছু ঘুরে বেড়াচ্ছে। না… ওরা কেউই মানুষ নয়। কতগুলো ড্রোন আর রোবট। হালকা আওয়াজ উঠছে ওদের নড়াচড়ায়। যন্ত্রগুলো আমায় দেখেও কিছু করল না। ওরা জানত আমি আসব। পুরো ইনস্টিটিউটের প্রতিটি কোণই জানত আমি আসব। আমি যদি এখানে অনুমতিহীনভাবে আসতাম বা সঙ্গে কোনো অস্ত্র থাকত তাহলে এতক্ষণে যান্ত্রিক রক্ষীগুলো আমার দফারফা করে দিত।

    ইনস্টিটিউটের দরজাটা কুচকুচে কালো। এমনকি দরজার লাগোয়া দেয়ালগুলোও কালো! আমি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চেহারার প্রতিফলন দেখতে পেলাম। চকচকে কালো দেয়াল আর দরজাটা যেন ঠিক যেন আয়না। দরজার সামনে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই দরজাটা দু’ভাগ হয়ে নিঃশব্দে দুপাশে সরে গেল। নিস্তব্ধতা জমাট বেঁধে আছে চারপাশে।

    যখন প্রথমবার সারার সঙ্গে ইনস্টিটিউটে আসি, তখন এটা একটা জলজ্যান্ত ইনস্টিটিউট ছিল। একটা লবি ছিল, লবিতে ইনফর্মেশান ডেস্ক ছিল, ওয়েটিং রুম ছিল, লম্বা লাইন ছিল। ইউনিফর্ম পরা সত্যিকারের মানুষ অফিশিয়ালরা গলায় আইডেন্টিটি কার্ড ঝুলিয়ে কাগজপত্র সামলাতে সামলাতে সবার কথা শুনত, তারপর যথাস্থানে পাঠিয়ে দিত। এখনকার মতো সবকিছু রোবোটিক ছিল না।

    আমি প্রথমবার সারার সঙ্গে নিছক কৌতূহলবশেই এসেছিলাম এখানে। এটা জানতে যে ঠিক কী এমন এই ইনস্টিটিউটে হচ্ছে যা নিয়ে সারা সহ সবাই এত উত্তেজিত!

    সেই লোক-ভরপুর, কথাবার্তার আওয়াজে গমগম করতে থাকা ইনস্টিটিউটের লবি এখন জনশূন্য। নিস্তব্ধ। লবিতে এখন সার সার লকার আর স্নানঘর। মেঝের একটা আলোর রেখা আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল আমার জন্য নির্দিষ্ট করে রাখা লকারের দিকে। আমি লকারের ভেতর ঢুকে আমার সব পোশাক ছেড়ে ফেলে পাশের কাচে তৈরি স্নানঘরে ঢুকে পড়লাম। কাচঘরের ছাদ ও দেয়াল থেকে ব্লিচিং ও অ্যান্টিসেপটিক মেশানো হালকা গরম জল আমাকে ধুয়ে দিতে লাগল। এক যান্ত্রিক মহিলা কণ্ঠ আমাকে নির্দেশ দিল স্নানঘরের দেয়ালের ডিসপেনসার থেকে জেল নিয়ে আমার সমস্ত শরীর ও চুল ধুয়ে ফেলতে।

    খানিক পর আপনাআপনি জল পড়া বন্ধ হয়ে গিয়ে গরম হাওয়া ছড়িয়ে পড়তে লাগল ছোটো স্নানঘরে। মিনিটখানেকের মধ্যেই আমার সমস্ত শরীর শুকনো ও জীবাণুমুক্ত হয়ে উঠল। ইনস্টিটিউটের ভেতর একটা ধুলোর কণারও প্রবেশাধিকার নেই।

    লকারে রাখা ড্রেসিং গাউনটা গায়ে গলিয়ে নিলাম। সাদা গাউনটার পেছনদিকটা খোলা। কাগজের অন্তর্বাসটা আর পরলাম না। এখানে বেশ কয়েকবার এসে এই একই নিয়ম মেনে চলবার পর এযাত্রা ওটা আর পরার প্রয়োজন মনে করলাম না।

    সারার সঙ্গে আমার পরিচয় গান-বাজনার মাধ্যমে। যে কোনো কারণেই হোক আমার মা ভেবেছিলেন পড়াশুনার বাইরে ক্লাসিক্যাল পিয়ানো শেখাটা আমার মনের খোরাক জোগাবে। গল্প-উপন্যাসের মতো সঙ্গীত শুধু কতগুলো ‘অক্ষর’ নয়। ‘অক্ষর’ জিনিসটা মাথায় ঢোকাতে আমার অসুবিধা হত। সঙ্গীত তার বাইরে অন্য এক জগত।  আর যাই হোক, সঙ্গীত
    শুধু কতগুলো ‘অক্ষর’ অবশ্যই নয়।

    কিন্তু পিয়ানো বাজাতে শেখাটাও কোনো সহজ কাজ ছিল না। তা বলে এটা ভাবা ঠিক হবে না যে আমি পিয়ানো বাজানো শিখিনি। আমি নিজের মতো করে বাজাতাম। ওই কাগজের ‘নোটস’ আমার ভালো লাগত না। তবে স্কুলে মুখস্ত বলার মতো কেউ শুনতে চাইলে ওই কাগজি নোটও দিব্যি বাজিয়ে দিতাম। গড়গড় করে কবিতা আবৃত্তি করে যাওয়া কিম্বা মাথা ঝুঁকিয়ে চেনা সুর বাজিয়ে যাওয়া আর তারপর একগুচ্ছ লোকের হাততালি এসব আমার ভালো লাগত না।

    সারাই আমাকে সঙ্গীত জগতে আটকে রেখেছিল। এক আবৃত্তির আসরে ওর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। আমি ওই অনুষ্ঠানে এক আবৃত্তিকার ছিলাম। অনুষ্ঠানের ফাঁকে সারা হঠাৎ ওর কানে গোঁজা ইয়ার ফোনের বাঁ দিকের স্পিকারটা খুলে আমার হাতে দিয়ে বলেছিল “এটা শোন।” ওটা ছিল আমেরিকান স্যাক্সোফনিস্ট জন কোলট্রেনের একটা পিস। ও চুপ করে আমার দিকে হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল আমার কাছ থেকে কিছু মন্তব্য শুনবে বলে। আমার কোলট্রেন
    পছন্দ কিনা সেটাও যেন বাজিয়ে নিচ্ছিল। কোনো কোনো মুহূর্ত জীবনটাকে অনেকখানি বদলে দেয়। অনেক কিছু শেখায়। সেটা ছিল ওরকমই এক মুহূর্ত। সারার সঙ্গে একসঙ্গে কোলট্রেন শোনা, একের সঙ্গে অপরের হালকা ছোঁয়া আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে আমি এতদিন কত একা ছিলাম।

    একটা ছমছমে অসুস্থতার অদ্ভুত অনুভূতি থাকলেও এই ইনস্টিটিউট কিন্তু কখনই হাসপাতাল ছিল না। তবে হ্যাঁ, এখানে সাইকোলজিস্ট এবং নিউরোফিজিওলজিস্টরা বরাবরই ছিল। ছিল আরও অনেক গবেষক। এদের অনেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিশেষজ্ঞ ছিলেন, ছিলেন মেশিন লার্নিংয়ে ডবল পিএইচডি করা লোকজন। ছিলেন জীববিদ্যায় পারদর্শী আর  আবস্ট্রাক্ট  ম্যাথামেটিক্সে এমবিএ করা মানুষ। এই ইন্সটিটিউট ছিল অসীম কম্পুউটিং শক্তি ব্যবহার করে মানবজাতির জনবিস্ফোরণ ভবিষ্যৎ-এর নিয়ন্ত্রক। বড়ো বড়ো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল এই ইন্সটিটিউট। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সমাধানটাও এরা কর্পোরেট ধাঁচেই
    খুঁজতে চেয়েছিল, ফলে উন্নততর প্রযুক্তি দিয়ে প্রোগ্রাম করা গাণিতিক মডেল আর হার্ডওয়্যার ব্যবহার করতে শুরু করেছিল।

    সারা চলে যাওয়ার আগে, অধিকাংশ স্নাতকের মতোই সে এই ইন্সটিটিউটে কিছুদিন কাজ করেছিল। সারা এখানকার ইমিগ্রেশন অফিসার হিসেবে কাজ করত। অন্তত ওরা ওদের কাজকে ওইভাবেই ব্যখ্যা করত। আমি জানি না আসলে ওদের আসল পদাধিকার তাই ছিল কিনা। লোকজনের ফর্ম ভরতে সাহায্য করত, আর বলে দিত এরপর চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেতে কার কাছে যেতে হবে বা কী করতে হবে। আবেদনকারীদের বুঝিয়ে দিত কীভাবে ইমিগ্রেশন করতে হবে।

    আমি শহরে চলে যেতাম, আর ও থাকত ইন্সটিটিউটে। আমি আর্ট ডিসট্রিক্টের ছোটো একটা কফি শপের রোজকার অনুষ্ঠানে পিয়ানো বাজাতাম। ভালোই চলছিল দিনগুলো।

    তারপর আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। যেদিন বাবা বললেন  এবার তাঁর যাবার সময় ঘনিয়ে এসেছে আমার সে-দিনটা ভালো করে মনে আছে। মা একদিন আমাকে আর সারাকে একসঙ্গে ওঁদের এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে
    ডেকে পাঠিয়েছিলেন। আমি একা শহরে চলে যাওয়ার পর মা-বাবা সেই ছোটো অ্যাপার্টমেন্টে চলে গিয়েছিলেন।

    দুপুরে খাবার জন্য মা ক্রিম, চিজ আর আলু দিয়ে পট্যাটো ক্যাসারোল বানিয়েছিলেন। রান্নায় দেয়ার জন্য মা তাজা টম্যাটোও কিনেছিলেন, যা আমরা কয়েক বছর যাবত চোখেও দেখিনি। এখন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছে, তাই আবার অল্প অল্প করে পাওয়া যেতে শুরু করেছে টম্যাটোর মতো বিলাসবহুল সব সামগ্রী।

    খাওয়ার পর মা সারাকে ডেকেছিলেন কফি বানানোর জন্য হাত লাগাতে, আর বাবা আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন ছোটো বসার ঘরে। এটা একসময় ব্যালকনি ছিল। ঘরটা থেকে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ ছাড়ছিল। মনে হয় অনেকদিন দিন ঘরটা খোলা বা পরিষ্কার করা হয়নি।

    “আমি তোমাকে একটা জিনিস দেখাতে চাই,” বাবা বলেছিলেন। জামার কলারটা খানিক নামাতে একটি এক টাকার কয়েনের মাপের একটা ছিটছিট তিল বেরিয়ে এসেছিল। তিলটা ঠিক গোল ছিল না, ছিল শুকনো চামড়ায় ঢেকে থাকা সাদা
    রঙের একটা মাংসের টুকরোর মতো।

    “স্টেজ ফোর মেলানোমা। অবস্থা ভালো নয়। ডাক্তাররা ইন্সটিটিউটে পাঠিয়ে দিয়েছেন। বুঝলে! ডাক্তাররা হাসতে হাসতে বলেছিলেন ওই ইন্সটিটিউট নাকি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদেরও কাজ কেড়ে নিচ্ছে।”

    বাবা-মা আমাকে আগে কিছু জানাননি পাছে আমি ঘাবড়ে যাই। কয়েক সপ্তাহ আগেই ওঁরা সারার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইন্সটিটিউটে গিয়েছিলেন। বাবার মতে সারা-ই ছিল এই ব্যাপারে যোগাযোগের সঠিক লোক।

    “জানো সারা ওই ডিপার্টমেন্টেই আছে?”

    আমি সব শুনে ক্ষেপে গিয়েছিলাম। সারা এতটা নির্লিপ্ত হল কী করে? এখন আমরা একই ঘরে থাকি, আর আমার বাবা মারাত্মক অসুস্থ, সব জেনেও কিনা সে ব্যাপারটা চেপে গিয়েছিল! আমাকে জানানোর বিন্দুমাত্র প্রয়োজন মনে করেনি! পরে মনে হয়েছিল, হয়তো সারাদিন এরকম অজস্র কেস দেখতে দেখতে ও এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।

    ডাক্তাররা ঠিকই বলেছিল। বাবাকে মরতে হবে না। বিশ্বের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রযুক্তির যে উদ্দেশ্য ছিল তাতে মৃত্যুকে স্বেচ্ছামৃত্যুতে পরিণত করা হয়েছে।

    “তোমার মা-ও আমার সঙ্গে অন্য পৃথিবীতে যাচ্ছেন।” বাবার কথা আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগেনি। দীর্ঘদিন ধরে ওঁরা একসঙ্গে আছেন।

    বাড়ি ফেরার পথে সারা আমাকে বলল, “চলো, তোমার বাবা-মার সঙ্গে আমরাও পৃথিবী ছেড়ে চলে যাই।”

    সারার বাবা মা আগেই সেখানে চলে গিয়েছে, বছরখানেক আগেই শেষ সীমানা পেরিয়ে গিয়েছেন তারা। আমাদের পরিচিতরাও প্রতি সপ্তাহে চলে যাচ্ছে। আমি কারণটা বুঝতে পারছিলাম। ওখানে তারা কখনই বুড়ো হবে না, হবে না অসুস্থ, মৃত্যুহীন হয়ে থাকবে চিরদিনের জন্য। উল্টে প্রতিটা আপগ্রেডে ক্লাউডে যত নতুন সার্ভার যোগ হবে, তোমার চেতনাও তত প্রসারিত হবে, তত গভীর হবে।

    “ব্যাপারটা ক্রেডিটে ওয়াশিং মেশিন কেনার থেকেও সহজ।” সারা বলেছিল। আমি বলেছিলাম আমায় একটু ভাবতে দাও। আমি হ্যাঁ না বলা পর্যন্ত ও রোজ আমাকে খুঁচিয়ে যেত।

    একটা হাতের তালুর মাপের ছোটো ড্রোন আমার দিকে উড়ে এল। পুঁচকে মেশিনটা থেকে গমগম করে উঠল একটা আওয়াজ, “দয়া করে আমার পেছন পেছন চলুন। কিছু সামাজিক বিষয় দিয়ে কাজ শুরু হবে।”

    আমি মাথা নাড়িয়ে যন্ত্রটাকে লক্ষ করে এগিয়ে চললাম। মেশিনটা আমাকে একটা খোলা প্ল্যাটফর্মের দিকে নিয়ে চলল, এটা এখানকার লিফট।

    হাঁটতে হাঁটতে আমি টের পাচ্ছিলাম জায়গাটা তিরতির করে কাঁপছে। পুরো বিল্ডিংটা একটা আইসবার্গের মতো। যতটা না ওপরে তার থেকেও ঢের বেশি আছে মাটির নীচে। হাজার হাজার ঘর। হাজার হাজার কম্পিউটারে ঠাসা। থরে থরে যন্ত্রপাতি সাজানো প্রতিটি ঘরের তাকে। বিশাল বিশাল মেশিন। একদম তলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ভূত্বকের ফাটল থেকে বেরিয়ে আসা ভূ-তাপ থেকে। নীচের অংশগুলো আগ্নেয়গিরির মতো গরম। পুরোটাই চালিত হয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। আর ‘সুখবতী-মেঘ’-এর ভিতরের সেই জায়গাটি! সেই অন্য জগত! সেখানে নাকি সবসময় টিকটক শব্দ হয়েই চলে!

    আমার আর সারার একই দিনে মূল্যায়ন হয়েছিল। আমরা ভেবেছিলাম একটা পার্টি দিয়ে বন্ধু বান্ধবদের বলব আমাদের চলে যাওয়ার কথা। আমি ওর জন্য ইন্সটিটিউটের বাইরে অপেক্ষা করছিলাম।

    “৭ জুন…” আমার নাকের সামনে একটা কাগজ নাড়াতে নাড়াতে ও বলেছিল।

    “সত্যি?” বলে আমি আমার হাতে ধরা ডাক্তারের দেয়া নীল স্লিপের টুকরোটা ওর হাতে দিয়ে বলেছিলাম, “আমি কিছু স্নায়ুসংক্রান্ত জটিলতায় ফেল করেছি।”

    “বলো কী?” আমার কাগজটা হাতে নিয়ে সারা বলেছিল, “সামান্য ডিসলেক্সিয়া– পড়ার অসুবিধা!”

    আশ্চর্য লাগছিল আমার কথাগুলো শুনে। আমাকে জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় ধরে যে জানে সে কীভাবে এমন করে কথা বলতে পারে! ‘সামান্য ডিসলেক্সিয়া!’ সবসময় এই ‘সামান্য’ কথাটা কোত্থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে? সামান্য চেষ্টা করলেই যেন আমার মগজ নিউরোকমপ্যাটিবল হয়ে যাবে? কাগজের লেখাগুলো আমি কি সামান্য চেষ্টা করলে পড়তে পারতাম না? পড়তে পারলেই তো স্নায়ু পরীক্ষায় পাশ হয়ে যেতাম। কিন্তু কে বোঝে আর কে বোঝায়? সারা বরাবরই ওরকম, মিষ্টি করে কথা বলতে শেখেনি।

    এক সপ্তাহ পরে সারা বলেছিল, “টেকনিশিয়ানরা তোমার বিষয়টা নিয়ে কাজ করছে, আশা করা যায় রোগটা ঠিক হয়ে যাবে।”

    ততদিনে এটাও জেনে গিয়েছিলাম যে, সারা ওর যাওয়া বাতিল করেনি।

    “আমি আরও মাসখানেক আছি, দেখি তোমায় নিয়ে কতটুকু কী করতে পারি।”

    “কিন্তু যদি আরও বেশি সময় নেয়, যদি ঠিক করতে না পারে?”

    “ননসেন্স!… এর মানে এই নয় যে আমি তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারব না,” সারা জানিয়েছিল, “আমরা মেইল করতে পারব, ভয়েস চ্যাট করতে পারব। এমনকি তোমায় সঙ্গও দিতে পারব… অবশ্য ছবি হয়ে! যারা এই ইন্টারফেসগুলো নিয়ে কাজ করে তারাই বলেছে, যদি ..কোনো

    কারণে তোমার সঙ্গীকে পরে যেতে হয় সেক্ষেত্রে এই সবকিছুই সম্ভব।”

    না যাওয়ার জন্য আমি ওকে অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি। উত্তর পেয়েছি, “তা হয় না, আমি ইতিমধ্যে ইনস্টিটিউটের কাগজে সইসাবুদ সেরে ফেলেছি। তোমার কোনো ধারণা আছে এটা বন্ধ করতে গেলে কত হ্যাপা সামলাতে হবে? একবার কন্ট্রাক্ট বাতিল করে দিলে আর যাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে…”

    আর কথা বাড়াইনি আমি। পুরো ব্যাপারটা সম্পত্তি হস্তান্তরের মতো হয়ে গেছে। একবার হাতছাড়া হয়ে গেলে আর ফিরে পাবার সম্ভাবনা কম।

    জুন মাসের প্রথমদিন। সারার চলে যাবার আগের শেষ পার্টিটা হয়েছিল আমাদের অ্যাপার্টমেন্টেই। বন্ধুবান্ধবদের সবাইকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু লোকজন খুব একটা হয়নি। কারণ ইনস্টিটিউটের কৃপায় অধিকাংশই তো চলে গেছে পৃথিবী থেকে। আমার পরিচিত কয়েকজন এসেছিল কফিশপ থেকে আর সারার কয়েকজন সহকর্মী এসেছিল ইনস্টিটিউট থেকে। আমি পার্টি শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই মাতাল হয়ে গিয়েছিলাম। একটা মোটা জ্যাকেট পরে কম্বলমুড়ি দিয়ে বেডরুমের ভিতর বসে জোরে জোরে গান চালিয়ে শুনছিলাম, যাতে অন্য কোনো কথা কানে না আসে।

    ঠিক এক সপ্তাহ পরে আমি সারাকে ইনস্টিটিউটে ছেড়ে এসেছিলাম। ব্যাপারটা অনেকটা এয়ারপোর্টে ছাড়ার মতো দাঁড়িয়েছিল। শুধু সঙ্গে কোনো ব্যাগপত্র ছিল না। আমি সারাকে খানিক আঁকড়ে ধরেছিলাম, তারপর ও চলে গিয়েছিল। এক মুহূর্তের জন্যও ওর চোখ ছলছল করেনি।

    আমি কারো চলে যাওয়া কখনো দেখিনি। অবশ্য দেখতে দেবেও না। যদিও সারা আমাকে যাওয়ার পদ্ধতিটা একবার বলেছিল। যে যাবে, তাদেরকে নিয়ে প্রথমে একটা বাক্সে শুইয়ে দেয়া হয়। তারপর সমস্ত শরীর জড়িয়ে দেয় হাজাররকম তার আর যন্ত্রপাতি দিয়ে। যন্ত্রপাতিগুলো নেটওয়ার্কের কোথাও থাকা একটা খালি মডেলের সঙ্গে কানেক্ট করে, তারপর শরীরের
    একটা মিরর ইমেজ তৈরি করে ক্লাউডে থাকা ওই মডেলে। বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে প্রসেস করতে। তারপর আপনি ভাবতে শুরু করবেন, আর ওই প্রতিচ্ছবিটাও আপনার চিন্তাভাবনাগুলো ওর মধ্যে চালান করে নেবে। ব্যস! আপনার প্রতিচ্ছবিটাই হয়ে উঠবে আপনি।

    আপনি অবশ্য বলতে পারবেন না, আপনার প্রতিচ্ছবি কী করছে। কারণ আপনার মন নেটওয়ার্কে চালান হয়ে যাওয়ার পর আপনার শরীর ধীরে ধীরে অবশ হয়ে আসবে। প্রথমে অসাড় হয়ে যাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো,
    তারপর আপনার চোখের নড়াচড়া বন্ধ যাবে। ব্রেন কাজ করা বন্ধ করে দেবে। কারণ প্রসেস করার পর আপনার সব শারীরিক ক্ষমতা ওই প্রতিচ্ছবিতে চলে গেছে। ইয়ে, সারা অবশ্য বলতে পারেনি, পার্থিব শরীরটাকে নিয়ে কী করা হয়! তবে সেটা জানা কী এমন  জরুরি!

    জীবনটা ওখানে নাকি অন্যরকম। ওখানে গিয়েই ওরা প্রথমে একটা মেল পাঠায়। ‘সুখবতী’ জায়গাটা কী-রকম তা ব্যাখ্যা করে। বলে কী করে প্রথমে ওরা পদ্মফুলের কুঁড়ি থেকে বেরিয়ে আসে ওখানে!
    তবে ওখানে সবকিছুই নাকি প্রতিচ্ছবি! শুধু আলোক প্রতিবিম্ব চারপাশে। ওখানে যাবার পর তারা নাকি সবাই দারুণ চটপটে হয়ে উঠেছে!  দ্রুত পড়তে পারে, ভাবতে পারে এমনকি তর্ক করতেও চৌকশ হয়ে গেছে। নতুন ধরনের সঙ্গীত আর শিল্পসৃজনে ওরা সিদ্ধহস্ত।

    বাবা আমাকে একটা সিম্ফনি কম্পোজ করে পাঠিয়েছিলেন। দেখে মনে হয়েছিল নোটেশানের বকলমে একটা অঙ্ক। ওই সিম্ফনিটা আমি বাজিয়েছিলাম। কিন্তু আমার কাছে সেটা কতগুলো কর্কশ শব্দ ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি। বাবা লিখেছিলেন, এটা আমার ভালো নাও লাগতে পারে, কিন্তু ওদের ওখানে এটাকে অনেকেই এটাকে মাস্টারপিস বলেছে। যিনি এই মাস্টারপিস কম্পোজ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন, সেই আমার বাবা রক্তমাংসের শরীর থাকতে সঙ্গীতের ধারকাছ দিয়ে যাননি। আর এখন ছায়াশরীরে নতুন জীবন পেয়ে সঙ্গীতের বোদ্ধা হয়ে উঠেছেন! অবশ্য কয়েকদিন পর থেকে মেসেজ আসাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। হয়তো ওখানকার জীবন নিয়ে বড়ো বেশি ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। আমার কথা ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক। কারণটা খানিক আমি বুঝতেও পেরেছি। আমি এখনও শরীরী মানুষ, আর তারা… তারা তার চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে অথবা স্বপ্নের ধোঁয়াশায় কিম্বা মিথ্যের আবছায়ায়…

    আমার পরীক্ষার পদ্ধতি আগেই নির্ধারিত ছিল, ড্রোন আমাকে পথ দেখিয়ে দুটো চেয়ার রাখা একখানা ঘরে নিয়ে এলো।

    “ডাক্তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আসবে।” বলে ড্রোন উড়ে চলে গেল।

    “এখান থেকে বাইরেটা দেখতে দারুণ লাগে, তাই না?” টাকমাথা বছর চল্লিশের ডাক্তারটি ঘরে ঢুকেই বলে উঠলেন।

    “ঠিক বলেছেন, দারুণ দৃশ্য!”

    “এই জায়গাটা মাটি থেকে আধ কিলোমিটার ওপরে, কেমন অবিশ্বাস্য লাগে তাই না?” জানালার পাশের চেয়ারটার দিকে দেখিয়ে আমায় তিনি বসতে ইশারা করলেন। আমি গিয়ে বসলাম। চেয়ারটা ভীষণ আরামদায়ক।

    “আজ ইনস্টিটিউটে আপনিই আমার দেখা একমাত্র মানুষ।” আমি বললাম।

    “হুমম, ঠিকই বলেছেন। আসলে গত কয়েকবছর ধরে লোক কমতে কমতে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। যারা এখানকার কর্মী ছিল তারা প্রায় সবাই মেঘের দেশে চলে গেছে।” ঠোঁট-এর কোনায় খানিক হতাশার হাসি ঝুলিয়ে বললেন ডাক্তার।

    “শুধু আমিই এখন বোধহয় মাঝেমাঝে আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্য আসি, তাই না?”

    “অ্যাঁ! কী বলছেন?”

    “না না কিছু না, হঠাৎ মনে এল বলে ফেললাম।”

    নিজের চেয়ারটায় নড়চড়ে বসে ডাক্তার বলে উঠলেন, “ঠিক আছে, ঠিক আছে।”

    আমি জানি এরপর ডাক্তার কী বলবে। “সরি! এবারও আপনি পাশ করতে পারেননি। আপনাকে এখনই পাঠানো যাবে না।”

    “এবারেও না?”

    “আপনি সব বিষয়েই পাশ করে গেছেন। শুধু এই…”

    “আমি বেড়া টপকাতে পারিনি তাইতো? আমি জানতাম তাই হবে।”

    “ঠিক তাই, তাই এক্ষুনি আমরা আপনাকে পাঠানোর ঝুঁকিটা নিতে পারব না।”

    আমি মুহূর্তের জন্য মেঝের দিকে তাকাই, ডাক্তারের জুতোটা নজরে আসে। এক জোড়া পুরনো বাদামি অক্সফোর্ড, পায়ের সামনের দিকটা ঘষা খেতে খেতে প্রায় সাদা হয়ে গেছে।

    “ঠিক আছে,” আমি বলি, “আমি নিজেই ঝুঁকি নিচ্ছি বলে কোথাও সই করলেও হবে না?”

    “আমিও একবার ওরকম ভেবেছিলাম… কিন্তু হবে না বুঝলেন, আইনি সমস্যা আছে, আই অ্যাম সরি, আচ্ছা চলি।” আমার হাতটা ধরে ঝাঁকিয়ে চলে গেলেন ডাক্তারবাবু। আমি ঘরে একাকী বসে দেখছি বাইরে আকাশ রাঙা করে সূর্যের বিদায় নেবার প্রস্তুতি। এতক্ষণে টের পেলাম প্রায় সারাটা দিন ইনস্টিটিউটে কাটিয়েছি।

    ডাক্তারের ব্যপারটা বুঝতে পারছি না! সবাই চলে গেছে আর উনি কেন এখনও একা পড়ে আছেন এখানে? চুক্তিতে কি কিছু লেখা ছিল? নাকি আরও কোনো গল্প আছে পেছনে? উনিও আমারই মতো স্নায়ুর রোগে ভুগছেন না তো? কয়েকজন বলেছেন তাঁদের আবেদনও নাকি নামঞ্জুর হয়েছে। কেউ তোতলা– আপাসিয়া, কারো বা আমার মতো অক্ষর পড়তে অসুবিধা হয়- ডিসলেক্সিয়া। ইনস্টিটিউট যে কারণেই হোক কয়েকজনকে বাতিল করেছে, কিন্তু তাদের মতো কোনো সমস্যা তো ওই ডাক্তারের নেই! তাহলে? জিজ্ঞেস করাটা কি ঠিক হত? এর পরের বার করব না হয়! আমি শুনেছি কিছু দার্শনিক লোক এর বিরোধিতা করেছে।

    নেটওয়ার্কের উল্টোদিকে যা হচ্ছে বলছে সে রকম কিছুই নাকি হয় না। পুরোটাই বুজরুকি। মানুষ মারার ফাঁদ! কিছু অপরাধীকেও এই সিস্টেমে যেতে দেয়া হয়নি। আমার মতো সামান্য কিছু লোকও এখনও রয়ে গেছে এই ঠান্ডায়, যারা এখনও ট্রেনে চড়ে, এখনও সূর্যাস্ত দেখে– হ্যাঁ! তারা অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা!

    একটা প্ল্যাটফর্মে চেপে লবিতে নেমে এলাম। এখানকার দেয়া গাউনটা ছেড়ে ড্রয়ার থেকে আমার পোশাকটা বের করে পরে নিয়ে দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম।
    বাইরেটা ভীষণ ঠান্ডা। আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেনে চেপে বাড়িতে ফিরে একা থাকতে মন চাইছে না। শহরে থেকে গেলেই তো হয়! সামনেই একটা ইনফরমেশান কিওস্ক, দেখি কাছাকাছি থাকার কোথায় জায়গা পাই। প্রায় সবাই এই ধরা ছেড়ে চলে গেছে নেটওয়ার্কের মাঝে। ইনস্টিটিউট বেশ কিছু থাকার আর খাবার জায়গা তৈরি করে রেখেছে আমার মতো বাতিল হয়ে থাকা লোকেদের জন্য। এখানে থাকতে খেতে কোন টাকা লাগে না। আছিই বা ক’জন?

    দুটো ব্লক পরে হোটেলটা। শীত থেকে বাঁচতে দ্রুত পা চালাই। আগেও থেকেছি এখানে। একটা পুরোনো হোটেল। পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করে রাখা হয়েছে হোটেলটা। কোনো মানুষ কর্মচারী নেই এখানে। জনহীন ফুটপাতে আমার পায়ের দ্রুত চলার শব্দ নিস্তব্ধতাকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। ক’জনের পায়ের শব্দই বা আর শোনা যায়? বলা ভালো কয়জনেই বা বেঁচে আছি।

    সারা চলে গেছে… আমি প্রতি মাসেই ইনস্টিটিউটে আসব যতক্ষণ না শুনতে পাই “অভিনন্দন, আপনি নির্বাচিত। সুখবতী আপনাকে স্বাগত জানায়।”

    তারপর কী হবে, আমি আর ভাবতে চাই না।

    আশ্রয়ে পৌঁছে গেছি প্রায়। হলুদ আলো কাচের দরজা দিয়ে রাস্তায় পড়েছে। ভাবতে ভালো লাগছে যদি গিয়ে কোনো মানুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পাই! কানে এসে লাগে তাদের কথা! তাদের গান…

    লেখক পরিচিতি

    ব্লেইজ কায়ে একজন দক্ষিণ আফ্রিকান দার্শনিক, প্রোগ্রামার এবং লেখক। তাঁর লেখা গল্প কেপটাউন জার্নাল, টাইপ, কাস্ট, ওমেনানা সহ নানা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখা গল্প ‘Ndakusuwa’ ‘নোমো’ অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছিল। ব্লেইজ খুব সাবলীল ভাবে কল্পবিজ্ঞানের গল্পের মাঝে সম্পর্ক ও পরিবারের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিতে দক্ষ। তাঁর লেখায় একটা অদ্ভুত কাব্যময়তা লক্ষ করা যায়। এই সহজ, হিউমানিস্ট স্টাইল নিয়ে ক্রমে ওঁর নিজস্ব ঘরানা তৈরি করে চলেছেন এই অসামান্য লেখক। ‘Diaspora Electronica’ গল্পটিও এর ব্যতিক্রম নয়। গল্পটি ‘Migration’ সঙ্কলনে স্থান পেয়েছে এবং এটি এসএসডিএ (দ্যা শর্ট স্টোরি ডে আফ্রিকা) পুরস্কারের জন্য মনোনয়নও পেয়েছিল।

    অনুবাদক পরিচিতি

    অরিন্দম দেবনাথ প্রায় তিন দশক ধরে লেখালিখি করছেন। দীর্ঘদিন কর্পোরেট সংস্থায় কর্মরত ছিলেন, বর্তমানে একটি প্রকাশন সংস্থার অন্যতম কার্যনির্বাহী। তাঁর লেখা গল্প, প্রবন্ধ, ভ্রমণ বিষয়ক লেখা নানা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি অনুবাদও করে চলেছেন সক্রিয়ভাবে। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ বিচিত্র দুনিয়া (প্রথম খন্ড), বিচিত্র দুনিয়া (দ্বিতীয় খন্ড) ও প্ল্যাটফর্ম নম্বর ৬।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনতুন বিশ রহস্য – স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    Next Article দ্য হাউস হোয়ার আই ডাইড ওয়ান্স – কেইগো হিগাশিনো
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }