Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আতঙ্ক সমগ্ৰ – কৌশিক মজুমদার

    কৌশিক মজুমদার এক পাতা গল্প466 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পেডিকিওর – কৌশিক মজুমদার

    পেডিকিওর

    সেই অদ্ভুত গোলাপি সন্ধ্যায় আমি মৃত মানুষকে ফিরে আসতে দেখেছিলাম।

    আমাকে পাগল ভাববেন না। একেবারে সত্যি! এই যেমন এখন এই গুলোকে ধরে ধরে কম্পিউটারের কিবোর্ডে টাইপ করছি, এই যেমন আপনার হাতের বইয়ের পাতায় লেগে থাকা আলগা গন্ধ, মলাটের রং, কালির আঁচড় সত্যি, তেমন সত্যি। মৃত মানুষের ফিরে আসার গল্প করতে বসিনি আমি। আমি গল্প বলতে জানি না। শিখিনি। শেখার মধ্যে একটা জিনিস শিখেছিলাম। পয়সা এচ করে। উচ্চমাধ্যমিকে জঘন্য রেজাল্ট হয়েছিল। বুঝে গেছিলাম পড়াশুনো আমার দ্বারা হবে না। তখন সদ্য সদ্য চারিদিকে গজিয়ে উঠছে স্পা, সালোন, পার্লার। শুনেছিলাম ওখানে কাজ শিখলে নাকি ভালো রোজগারের সম্ভাবনা। বাবা তখনও বেঁচে ছিল। সামান্য কিছু পুঁজি। সেখান থেকেই কোনওক্রমে কিছু ধার নিয়ে আমি নাভেদ হাবিবের বিউটিশিয়ান কোর্সে ভরতি হলাম। সেই ধার আমায় শোধ করতে হয়নি। বাবা তার আগেই মরে গেছিল।

    সেখানেই আমার আলাপ হয়েছিল রত্নার সঙ্গে। ছোটো একহারা চেহারা। মুটা ঢলঢল। কালো গায়ের রং। কিন্তু হাসলে যেন একসঙ্গে অনেকগুলো আলো জ্বলে ওঠে। সেই পাথরপ্রতিমা থেকে ক্লাস করতে আসত। আমারই বয়সি। ওর বাবা ছিল না। মামাবাড়িতে মানুষ। মামা উচ্চমাধ্যমিক অবধি টেনেছে, আর পারবে না। বাবার কিছু জমানো টাকা মায়ের কাছে ছিল। মা সেটা দিয়েই…

    সেই প্রথম আমরা জানতে পারলাম অ্যারোমাথেরাপি নামে এক শব্দ আছে। জানতে পারলাম গন্ধ মানুষের রোগ দূর করে। জানলাম এক গন্ধ থেকে অন্য গন্ধে যাবার আগে শুঁকে নিতে হয় কফি বিন। নইলে গন্ধ মিলে মিশে যায়। জানলাম লবঙ্গ গন্ধের মোমের সঙ্গে লেবু গন্ধের মোম জ্বালাতে নেই। কেন? সেটা কোনও দিন কেউ বুঝিয়ে বলেনি। আমরা ক্লাসে নির্দেশ নিয়ে যেতাম। শিখতাম কীভাবে ম্যাসাজ করলে সবচেয়ে তৃপ্ত হয় কাস্টমার। জানলাম মানুষের পায়েই রয়েছে সারা দেহকে সুস্থ করার চাবিকাঠি। গোটা দেহে দশটা আলাদা শক্তিস্থল আছে। পায়ের বুড়ো আঙুল থেকে সোজা একটা নার্ভ নাকি চলে যায় একেবারে মগজের ঘিলুতে। কে জানত মাথার খুসকি তাড়ানোর একমাত্র উপায় নাকি বুড়ো আঙুলের ঠিক তলাটায় হালকা করে ম্যাসাজ করা! শুনতে শুনতে মাঝে মাঝে নিজেকে ডাক্তার বলে মনে হত। আমরা ঠাট্টা করতাম। এইচ এস পাশ ডাক্তার। ট্রেনাররা বলতেন, যা শেখানো হচ্ছে, তার বাইরে যেন কিচ্ছুটি না করি। মন দিয়ে শুনতাম। আমার পাশে বসে রত্নাও একমনে শুনত। মানুষের মুখের দিকে তাকানোর আগে পায়ের দিকে তাকাতাম। কতরকম পা। সুন্দর, চাষাড়ে, ক্ষয়াটে, ডায়াবেটিক রোগীদের ফাটা পা, একনজরে চিনে নিতাম সব কিছু। পা দেখে মানুষ বিচার করা শিখিয়েছিল আমাদের। কীভাবে পায়ে মলম দিয়ে মালিশ করতে করতে এমনভাবে ডেড সেল থেকে শুরু করে পায়ে গ্যাংগ্রিনের গল্প করতে হবে, যাতে কাস্টমার ভয় না পায়, কিন্তু নিজের পা নিয়ে চিন্তিত হয়ে বারবার স্পা-তে ফিরে ফিরে আসে। কে প্রতি হপ্তায় আসার মতো, কে আর আসবে না- আমরা বুঝে নেবার চেষ্টা করতাম।

    এই কাজে সবচেয়ে দক্ষ ছিল রত্না। রত্নার চেয়ে সুন্দরী, লাস্যময়ী অনেক মেয়ে ছিল আমাদের গ্রুপে। আমাদের অনেক ছেলেরা টেরিয়ে তাদের দেখতাম। কিন্তু কী অদ্ভুতভাবে কাস্টমারদের প্রথম পছন্দ ছিল রত্না। একেবারে ছাপোষা এই মেয়েটার মধ্যে এমন কিছু ছিল, যাতে বহু কাস্টমার ঠিক ওর জন্যেই ঘুরে ঘুরে আসত। বসে থাকত ওর হাতের স্পর্শ পাবার জন্য। দুই কোমল হাতের আঙুলে রত্না যখন মোলায়েমভাবে চেয়ারে আধশোয়া পুরুষের ফুট ম্যাসাজ করে দিত, বিশ্বাস করুন, অনেকের মুখে আমি অর্গাজমের সুখ দেখেছি।

    রত্না নিজের কথা বলত না খুব বেশি। শুধু জানতাম ওর এক প্ৰেমিক আছে। ব্রাহ্মণ। আর রত্নারা সাহা। তাই একটা অশান্তি দানা বেঁধে উঠছে ধীরে ধীরে। কাস্টমারদের সামনে ছাড়া রত্না কথা বলা, হাসা বন্ধ করে দিল। কামাই বাড়তে লাগল। ও ছিল আমাদের স্টার পারফর্মার। প্রথম প্রথম অথরিটি কিছু বলেনি। একদিন বাধ্য হয়ে ওকে ধমকাল। ও উত্তর দেয়নি। শুধু চোখের কোণে জল চিকচিক করতে দেখেছিলাম। পরের দিনই শুনলাম ও নাকি আর আসবে না। ও মরে গেছে। গলায় দড়ি দিয়ে। প্রেমিকের সঙ্গে।

    সেসব অনেক বছর আগের কথা। প্রায় দশ বছর তো হবেই। আমি এখনও নাভেদের সেলুনে কাজ করি। দুবার ইনক্রিমেন্ট হয়েও যে মায়না পাই, তাতে বিয়ে করা যায় না। তবে একটা ইউনিটের হেড করা হয়েছে আমাকে। নিজের হাতে কাজ করি না, স্পেশাল কাস্টমার ছাড়া। ক্লাস নিই। হপ্তায় একদিন ট্রিঙ্কাসে মদ খেতে যাই। অদ্ভুত গোলাপি আলোতে ভরে থাকে মিং রুম। আমি এক কোণে বসে তিন চার পেগ মদ টেনে বাড়ির দিকে টলমল পা বাড়াই।

    সেখানেই সেদিন আবার রত্নাকে দেখলাম। ডোরম্যান দরজা খুলে দিতেই ফারের জ্যাকেট, টাইট স্কার্ট আর হাই হিলের যে মেয়েটা আধবুড়ো একটা লোককে প্রায় জড়িয়ে ধরে ঢুকল, ও রত্নাই। আর কেউ হতেই পারে না। ওই হাসি রত্নার। আমি চিনি। পায়ের দিকে তাকাতে আমি নিশ্চিত হলাম। এই পা আমার অনেকদিনের চেনা। ক্লাস চলার সময় রিক্লাইনিং চেয়ারে বসে একটু ইতস্তত করে এই পা-ই বাড়িয়ে দিত রত্না। এই পায়েই পেডিকিওরের প্র্যাকটিস করেছি আমি। এই পায়ের ছোট্ট লালচে জড়ুল, পায়ের কাফ মাসলের তিল, সব আমার চেনা। আমার চার পেগ মদ খাওয়া হয়ে গেছিল। অন্যদিন হলে আমি উঠে যেতাম। আজ উঠলাম না।

    রত্না এই লোকটার সঙ্গে বড্ড বেশি ঘনিষ্ঠ। লোকটার হাত ওর সারা শরীরে ঘুরছে। ও বাধা দিচ্ছে না। হেসে হেসে ঢলে পড়ছে তবু লোকটার গায়ে। ওরা অর্ডার দিল। খাবার। মদ। ঠিক তখনই লোকটার মোবাইলে একটা ফোন এল। বসা অবস্থা থেকে সটান দাঁড়িয়ে পড়ল লোকটা। আমি শুধু শুনতে পেলাম, “এখুনি আসছি, এখুনি আসছি ডার্লিং।” রত্নার কানে ফিসফিস করে কী যেন বলল লোকটা। রত্না মাথা নাড়ল। তারপর সোজা হাত পাতল। লোকটা পিছনের পকেট থেকে মোটা একটা পার্স বার করে রত্নার খোলা হাতে গোটা দুই গোলাপি নোট গুঁজে, ওয়েটারকে ডেকে বিল মিটিয়ে তিরের মতো বেরিয়ে গেল দরজা দিয়ে। রত্না কোনও তাড়াহুড়ো করল না। খুব ধীরে ধীরে বেছে বেছে খাবার খেতে লাগল কাঁটা চামচে দিয়ে। মাঝে মাঝে অল্প চুমুক দিতে লাগল মদের গেলাসে। আমি নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে পাশের টেবিলে ওর সামনের চেয়ারটাতে বসে বললাম, “কেমন আছিস রত্না?”

    রত্না চমকাল না। শুধু ভুরু তুলে আমাকে একবার দেখল। ওর হাতের আঙুলে হিরের আংটি চকচক করছে। গায়ে লাইল্যাকের মন কেমন করা গন্ধ। গাঢ় লাল ঠোঁট ভিজে ভিজে। মুখে অদ্ভুত একটা হাসি নিয়ে রত্না শুধু বলল, “আপনাকে কি আমি চিনি?” আমি নিজের পরিচয় দিলাম। রত্না আমায় চিনতে পারল। জিজ্ঞেস করল আমি এখনও নাভেদের ওখানেই আছি কি না। জিজ্ঞেস করল কত পাই। জিজ্ঞেস করল আমার কাঁচা টাকার দরকার আছে কি না। আমি জানালাম আছে, কিন্তু কীভাবে? ও বলল পেডিকিওর করেই। আমাকে ওর সঙ্গে যেতে হবে। ফাইভ স্টার হোটেলে। সেখানে হাইক্লাস ক্লায়েন্ট আছে। তাদের পেডিকিওরে এক-এক সিটিং-এ দশ হাজার টাকা।

    “শুধু পেডিকিওর?”

    “হ্যাঁ, আর সামান্য কিছু সার্ভিস”, বলে চোখ মারল রত্না। মুখে আবার অদ্ভুত এক হাসি। “আমার কিছু বছর চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশের মহিলা ক্লায়েন্ট আছে। তারা তোমার মতো ছেলে চায়। যাবে আমার সঙ্গে?”

    আমি না করতে পারলাম না। বাইরে বেরিয়ে রত্না কাকে একটা ফোন করল। তারপর উবের বুক করল। গাড়িতে উঠেই রত্না প্রথম আমায় যা বলল, সেটা ওর নাম এখন রত্না না। মারিয়া। মারিয়া গোমেজ। রত্না সাহা মরে গেছে দশ বছর আগে। রত্না সাহা এক বামুনের ছেলের সঙ্গে প্রেম করত। খাঁটি বামুনের ছেলে। নিষ্ঠাবান, ত্রিসন্ধ্যা আহ্নিক করা। রত্নার প্রেমে পড়ায় সংসারে খুব অশান্তি হয়। সে ছেলে বাড়ির পাশে নিমগাছে গলায় দড়ি দেয়। পুলিশ বেজায় হাঙ্গাম করেছিল। রত্নার মামাবাড়ি থেকে ওকে তাড়িয়ে দেয়। রত্না এক কাপড়ে বেরিয়ে আসে। তখন থেকে ওর নাম মারিয়া।

    “এখন কার সঙ্গে থাকিস?”

    “কেন, অমরেশের সঙ্গে।”

    বুঝলাম অমরেশ মারিয়ার নতুন প্রেমিক। কিন্তু সে এসব জানে?

    রত্না অমরেশের কথা বলে চলছিল। ওরা লিভ-ইন করছে। অমরেশ ওর খুব টেক কেয়ার করে। খেয়াল রাখে। অমরেশের জন্যেই ও কাউকে তোয়াক্কা করে না। রাতবিরেতে কোথাও যেতে ভয় পায় না। এর আগে একবার এক ক্লায়েন্ট নাকি মারিয়ার সঙ্গে বেগড়বাই করেছিল। অমরেশ ওকে শায়েস্তা করেছে।

    কথা বলতে বলতে গাড়ি ডেস্টিনেশানে পৌঁছে গেল। কলকাতার নামজাদা এক ফাইভ স্টার হোটেল। গেটের সামনেই ছেলেটা দাঁড়িয়ে ছিল। ধ্যাড়ধ্যাড়ে লম্বা, রোগা, ফ্যাকাশে ফর্সা। গায়ে টকটকে লাল জামা। মাথা পুরো ন্যাড়া। দেখে কেমন একটা অস্বস্তি হয়। মারিয়া হাতছানি দিয়ে ওকে ডাকল। ও এগিয়ে আসতেই প্রথম ওর চোখ দুটো দেখতে পেলাম। অদ্ভুত জ্বলজ্বলে। যেন ভিতর অবধি দেখে ফেলছে। বেশিক্ষণ সেই চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা যায় না। মারিয়া জানাল এ-ই অমরেশ। বুঝলাম প্রেমিক কাম দালাল। আর এও ব্ৰাহ্মণ। পিছন ফিরতেই মাথার টিকি দেখে নিশ্চিত হলাম। অমরেশের কঙ্কালসার চেহারায় এমন কিছু একটা ছিল, যা হাড় হিম করে দেয়। অমরেশ বেশি কথা বলছিল না। যতটুকু বলল তাতে দেখলাম ওর গলার স্বর স্বাভাবিক না। সর্দি বসা। ফ্যাসফ্যাসে।

    মারিয়া অমরেশকে জানাল, ওর এক ক্লায়েন্ট আছে নয়তলায়। তিনি আর তাঁর স্ত্রী। আমরা দুজন তাঁদের পেডিকিওর করতে যাব। অমরেশ মাথা নাড়ল। মারিয়া বলল, “সেবারের মতো ঝামেলা হলে তুমি তো আছই।” কী ঝামেলা আমি জানি না। জানতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু ওরা কিছু বলল না। আমি শুধু অমরেশের কথা ভাবছিলাম। ওকে বড্ড চেনা চেনা লাগছে। কেন জানি না। আগে কোনও দিন দেখেছি কি? নাহ। তবে? এইবার মনে পড়েছে। ঠিক এইরকন দেখতে একজনের কথা ছোটোবেলায় মায়ের মুখে শুনেছি। দীর্ঘকায়, মুণ্ডিতমস্তক, ধবধবে রং, পরনে রক্তাম্বর, গলার স্বর সর্দি বসা। পায়ে… অমরেশের পায়ের দিকে তাকালাম। শুকনো কাঠের মতো। শিরা উপশিরা সব একে অপরকে পেঁচিয়ে আছে। পায়ে কাঠের জুতো। চললে খটখট আওয়াভ হচ্ছে। একটা অদ্ভুত অজানা ভয় আমায় খুব ধীরে ধীরে চেপে ধরতে লাগল। এ আমি কোথায় চলেছি? কার সঙ্গে চলেছি? গত দশ বছর যার কোনও খবর নেই, বেঁচে আছে না মরে গেছে জানি না, তার সঙ্গে, তার বিচিত্র প্রেমিকের সঙ্গে আমি এ কোন পথে পা বাড়ালাম?

    ভাবার আগেই লিফটের দরজা খুলে গেল। দরজার সামনেই একটা ঘর। দরজার প্লেটে এমবস করে নম্বর লেখা “৯০৫।” অমরেশ আমাকে আর মারিয়াকে দরজা অবধি পৌঁছে দিয়ে চলে গেল। বেল বাজানোর কিছু বাদে দরজা খুলে দিলেন মাঝবয়সি এক ভদ্রলোক। পিছনেই এক বিপুলাকার মহিলা। তাঁর স্ত্রী হবেন। দুটো বিছানায় টাওয়েল পাতা। সাইড টেবিলে সার ধরে ম্যাসাজের প্রোডাক্ট। লোশান।

    খানিক বাদেই ওঁরা দুজন জন্মদিনের পোশাকে শুয়ে পড়লেন খাটে। মারিয়া ভদ্রলোকের ফুট ম্যাসাজ শুরু করল আর আমি মহিলার। দুজনেই মুখ দিয়ে অস্ফুট গোঙানির আওয়াজ করছিলেন। এই অবধি ঠিক ছিল। আচমকা ভদ্রমহিলা আমার মাথার চুল ধরে টেনে নিলেন নিজের দিকে। কিছু বোঝার আগেই প্লাস্টিকের একটা স্ট্র্যাপ দিয়ে বেঁধে দিলেন আমার দুই হাত। তারপর দুই পা। আমরা যখন ঘরে ঢুকেছিলাম, আমাদের একটা ওয়েলকাম ড্রিঙ্ক দেওয়া হয়েছিল। তাতে কিছু ছিল। আমার মাথা ভোঁ ভোঁ করছে। আড়চোখে দেখলাম মারিয়াকেও একইভাবে বেঁধে তার জামাকাপড় একের পর এক খুলে নিচ্ছে লোকটা। বর বউ দুজনেই খুব হাসছে। আমারও একই দশা হল। শরীরে একটা সুতোও নেই। এবার সাইড টেবল থেকে অদ্ভুত একটা জিনিস বের করেছে লোকটা। তলায় ধাতব হাতল। উপরে একগাদা সরু সরু তার সিংহকেশরের মতো দুলছে। প্রতিটা তারের মাথায় ছোট্ট লোহার বল। এ জিনিস আমি দেখেছি। নিজের চোখে না। বিদেশি সিনেমায়। মধ্যযুগীয় সেক্সুয়াল টর্চারের অস্ত্র। ঝন করে একটা শব্দ হতেই এক আর্ত চিৎকার। দেখলাম মারিয়ার গোটা শরীর কুঁকড়ে গেছে ব্যথায়। পিঠে সরু সরু দাগ। চিনচিনে রক্ত বেরোচ্ছে।

    আবার ঝনন আওয়াজ হতেই বুঝলাম এবার আমার পালা। প্রতিটা মাংসপেশি চিরে, স্নায়ু ধমনিকে কেটে কেটে বসে যাচ্ছে এক-একটা তার। প্রাথমিক ব্যথা কমতেই জ্বালাটা শুরু হল। যেন গোটা শরীরে শুকনো লংকা বেটে মাখিয়ে দিয়েছে কেউ। মারিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলাম সে অদ্ভূত স্থির। চোখ শান্ত। ঠোঁটে বিড়বিড় করে কী যেন বলছে। এবার ওর পালা। আবার। কিন্তু ঠিক সেই সময় দেখতে পেলাম ঘরে আরও একজন এসে উপস্থিত। এই বন্ধ ঘরে সে কেমন করে এল আমায় জিজ্ঞেস করবেন না। আজ অবধি সে উত্তর আমি পাইনি। অমরেশ। ঘরে অদ্ভুত এক গন্ধ। এটা আগে ছিল না। মরা মাছ আর চন্দনবাটা মেশালে যেমন গন্ধ হয়, তেমন উৎকট গন্ধ। অমরেশকে দেখে দুজনে স্পষ্টতই চমকে উঠল। আমার মাথা ঘোরা বাড়ছে। অমরেশ মারিয়াকে মুক্ত করে ফেলেছে। অমরেশের দুই হাত যেন লম্বায় বহু বহুগুণ বেড়ে একত্রে দুজনের গলা টিপে ধরল। তুলোর পুতুলের মতো নেতিয়ে পড়ল দুটো দেহ। অমরেশ সেই অবশ দেহগুলোকে নিয়ে হেলায় ছুড়ে ফেলল সামনের খাটে। চিত হয়ে পড়ে আছে দুটো দেহ। পা ঝুলছে মাটি স্পর্শ না করে। সেই ঘোর লাগা অবস্থাতেও মনে পড়ল, মা বলত এই অবস্থাকে নাকি ত্রিশঙ্কু বলে। না মর্তে, না স্বর্গে। এই অবস্থায় মৃত্যু হলে নাকি মানুষ পিশাচ হয়ে যায়। ঘরে সেই গন্ধটা ক্রমাগত বাড়ছে। মারিয়া আর অমরেশ খুব যত্নে দুজনের দুইজোড়া পা নিজেদের বুকের সামনে তুলে ধরেছে, ঠিক যেমনটা আমাদের পেডিকিওরের ক্লাসে শিখিয়েছিল। তারপরেই প্রায় একইসঙ্গে কামড় বসাল দুইজন। অজ্ঞান হয়ে যাবার আগে শেষবারের মতো দেখতে পেলাম, অতি তৃপ্তিতে দুজন সেই ঝুলে থাকা পাগুলো চিবাচ্ছে।

    পুলিশ এসে আধখাওয়া মৃতদেহ দুটো বাদে কেবল আমাকেই সেই ঘরে পেয়েছিল। সামান্য জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়। আমার হাত পা বাঁধা ছিল। আমার দ্বারা কিছু করা সম্ভব না, সেটা বুঝেই।

    রত্নাটা মরে পিশাচী হয়েছিল। ওর প্রেমিক ব্রহ্মদৈত্য। মাঝে মাঝে ওরা দুজন একসঙ্গে শিকারে বার হয়। আমার দুর্ভাগ্য, তেমনই এক শিকারের সঙ্গী হয়ে গেছিলাম। রত্না, মারিয়া কিংবা অমরেশের কোনও খোঁজ আজ অবধি পুলিশ পায়নি। ওরা যে জগতের বাসিন্দা, আমাদের সভ্য সমাজ তার খোঁজ পাবে কী করে?

    .

    লেখকের জবানি- আর্বান হরর মিথ নিয়ে একটা সিরিজ লিখব ভেবেছিলাম। এর আগে আঁধার আখ্যান সংকলনে প্রেতিনী বা শল্পের নাভি কিংবা অভিশাপ গল্পগুলো সেই ধারার। এবারে তাই বেছে নিয়েছিলাম বাংলার একেবারে চেনা ভূত ব্রহ্মদত্যিকে। যদিও একেবারে হাল আমলে এনে ফেলা হয়েছে তাঁকে। পেডিকিওর ব্যাপারে খুঁটিনাটি জ্ঞান আমাকে দিয়েছিল একটি মেয়ে। আমি তার নাম জানি না। একবার জাভেদ হাবিবস-এ পেডিকিওর করাতে গিয়ে মেয়েটি আমার সঙ্গে প্রচুর গল্প করেছিল। এখানে পেডিকিওর বিষয়ে যতটা লিখেছি, গোটাটার জন্যেই আমি তার কাছে ঋণী। প্রথম ছাপা হয়েছিল প্রাচী পত্রিকায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article খেলার নাম খুন – সৈকত মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    কৌশিক মজুমদার

    নোলা : খাবারের সরস গপ্পো – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    সূর্যতামসী – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    আঁধার আখ্যান – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    নীবারসপ্তক – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    অগ্নিনিরয় – কৌশিক মজুমদার

    August 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }