Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আতঙ্ক সমগ্ৰ – কৌশিক মজুমদার

    কৌশিক মজুমদার এক পাতা গল্প466 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রেতিনী – কৌশিক মজুমদার

    প্রেতিনী

    আমি শুভদীপ। শুভদীপ সরকার। বাবার নাম শুভাশিস সরকার। মা জয়ন্তী সরকার। আমি বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। আমার এক বোন ছিল। জয়িতা সরকার। তিন বছর আগে বোন মারা গেছে। আমি বাবা মায়ের সঙ্গে থাকি না। হোস্টেলে থাকি। একা। বাবা কথা দিয়েছিল আমার চোদ্দো বছরের জন্মদিনের দিন আমাকে নিতে আসবে। আমাকে হোস্টেল থেকে ছাড়িয়ে বাড়ি নিয়ে যাবে। আজ আমার জন্মদিন। বাবা আর মা দুজনেই আমাকে নিতে এসেছে। আমি ঘরে নিজের জিনিস গুছাচ্ছি। মা আমাকে হেল্প করছে। বাবা রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে ওয়ার্ডেনের সঙ্গে কথা বলছে।

    “আপনি শিওর? ওকে নিয়েই যাবেন?” ওয়ার্ডেন বললেন।

    “দেখুন, হাজার হোক একমাত্র ছেলে। ওকে ছেড়ে থাকতেও তো পারি না। আমি তো তবু অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকি। ওর মায়ের কথা ভাবুন … সারাদিন একা একা…”

    “তা বটে। কিন্তু আর কিছুদিন… যাই হোক, যা ভালো বোঝেন।” বলে ওয়ার্ডেন চলে গেলেন।

    মা আমার বইগুলো গুছাচ্ছিল। হঠাৎ দেখি আমার ডায়রি নিয়ে পড়তে শুরু করেছে। আর দু-এক পাতা উলটেই চিৎকার করে বাবাকে ডাকল মা।

    “এই যে, কি গো! দেখে যাও তোমার ছেলের কাণ্ড!”

    আমি ভাবলাম দৌড়ে গিয়ে ডায়রিটা কেড়ে নিই। তারপর দেখলাম যা দেখার মা দেখে ফেলেছে। এখন কাড়তে গেলে হিতে বিপরীত হবে।

    বাবা প্রায় দৌড়ে ঘরে ঢুকল, “কেন কী হয়েছে?”

    “এই দ্যাখো! তোমার ছেলে… দিনরাত ডায়রিতে এসব করছে।”

    লাল কাপড়ে বাঁধানো ডায়রিটা আমাকে বাবা কিনে দিয়েছিল। গতবার জন্মদিনে। এখানের প্রতিদিনের রোজনামচা লেখার জন্য। কিন্তু তা বলে কি আমি নিজের রিসার্চের কাজ এতে লিখতে পারব না! কী জানি বাবা

    বাবা খুব গম্ভীরভাবে ডায়রির পাতা ওলটাতে লাগল। একটা করে পাতা ওলটাচ্ছে, আর আমার দিকে তাকাচ্ছে। গোটা দশ পাতা উলটে খুব নরম গলায় জিজ্ঞেস করল, “এসব কী বাবুন?”

    “আমার রিসার্চের কাজ”, গম্ভীর মুখে জবাব দিলাম।

    “রিসার্চ! তুমি আজকাল এইসব নিয়ে রিসার্চ করছ? এসব কী? ব্রহ্মরাক্ষস। জটেবুড়ি। কন্ধকাটা। ঘর দেবত্তি। প্রেতিনী। কারা এরা?”

    “তুমি জানো বাবা। খুব ভালো জানো। এঁরা অপদেবতা। তোমাকে আগেও বলেছি।”

    “এসব গাঁজাখুরি বিশ্বাস করো তুমি? যত্তসব আষাঢ়ে গপ্পো!”

    “গপ্পো না বাবা। এঁরা আছেন। আমাদের মধ্যেই। যেমন তুমি-আমি…”

    “এসব কে শেখাচ্ছে তোমায় বলো তো?” বাবা এবার প্রায় চিৎকার করে বলল, “কোথা থেকে জানছ এই সব?”

    “বই পড়ে। আমাদের তো দিনে এক ঘণ্টা লাইব্রেরি অ্যালাউড।”

    “আর সেখানে বসে তুমি এইসব পড়ো!!” রাগে বাবার গলা এবার প্রায় ধরে এল। মা বাবাকে থামাল।

    “তুমি আর উত্তেজিত হোয়ো না। এবার তো বাড়িতেই থাকবে। আমি দেখছি কী করা যায়।”

    “দেখো”, ডায়রিটা মাটিতে ছুড়ে ফেলে বাবা বলল, “তোমার কথায় এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছি। তোমার দায়িত্ব।” বলে বাবা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। দরজাটা বন্ধ করল দমাস করে।

    আমি কিছু বললাম না। শুধু মাটি থেকে ডায়রিটা কুড়িয়ে পিঠের ব্যাকপ্যাকে রেখে দিলাম।

    বেরোতে বেরোতে বিকেল হয়ে গেল। বাবা আজকে নিজে ড্রাইভ করছে। পাশে মা। আমি পিছনের সিটে একা বসে আছি। মা হাতব্যাগ থেকে একটা কেক বার করে আমার হাতে দিয়ে বলল, “খেয়ে নে। বাড়ি যেতে যেতে দেরি হবে।

    “কেন?”

    “একটু লাল্টু কাকুর বাড়ি যাব। বাড়ি মানে নতুন বাড়ি। ওরা বিরাটিতে একটা নতুন বাড়ি কিনেছে। এখন আর হাবড়ায় থাকে না। অনেকদিন ধরে আমাদের বলছে যেতে। যাওয়া হচ্ছে না। তোর বাবা বলল আজ যখন পাশ দিয়েই যাব, তো ঘুরেই আসি। বেশিক্ষণ না। ঘণ্টাখানেক থাকব। ফেরার পথে বারাসাত, মধ্যমগ্রানে প্রচুর ভালো দোকান আছে। ডিনার করে নেওয়া যাবে।”

    আমি কিছু বললাম না। গাড়ি এয়ারপোর্টের পাশ দিয়ে যাচ্ছে। বাইরে তাকিয়ে দেখলাম সন্ধ্যা হয়ে আসছে। আমি অনেকদিন পরে এভাবে সন্ধ্যা নামা দেখছি। হোস্টেলে সন্ধ্যার আগেই নিজের নিজের রুমে ঢুকে যেতে হয়। আমার ঘরের জানলা দিয়ে আকাশ দেখা যেত না। আকাশ প্রথমে কমলা, তারপর গোলাপি হয়ে অদ্ভুত ছাই ছাই রং নিল। সব গাড়ি ধীরে ধীরে হেডলাইট জ্বালাচ্ছে।

    বিরাটি ব্রিজের পাশ থেকে বাবা গাড়ি ঘুরিয়ে অন্য রাস্তা নিল। এদিকে রাস্তা বেশ ভাঙা। এবড়োখেবড়ো। খানিক যাবার পর আবার ডান দিক, বাঁ দিক ঘুরে গাড়ি একটা সরু গলিতে গিয়ে ঢুকল।

    “তুমি ওদের বাড়ি চেনো?” মা জিজ্ঞাসা করল।

    “হ্যাঁ, আগে একবার এসেছিলাম লাল্টুর সঙ্গে। বাড়ি দেখতে। তখনও কেনেনি। তিন চার বছর বাড়িটা পড়ে ছিল। কেউ কিনছিল না। ও প্রায় জলের দরে পেয়ে গেছে। নইলে এই পজিশানে, এত সস্তায়, সম্ভব?”

    “কিনছিল না কেন?”

    “আরে লোকজনের কুসংস্কার বোঝো না? কে যেন এই বাড়িতে মারা গেছিল, সেই থেকে এই বাড়িতে নাকি…” বাবা আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল। আমি পিছনে আছি বুঝে একেবারে চুপ মেরে গেল। মা আর ঘাঁটাল না।

    গাড়ি এসে থামল বেশ পুরোনো একটা বাড়ির সামনে। দোতলা বাড়ি। নতুন করে রং করাবে বলে দেওয়াল ঘষা হয়েছে। বাড়ির সামনে ছোটো বারান্দা। কিছু জংলা গাছ ইতিউতি গজিয়ে আছে। গাড়ি থেকে নেমে বুঝলাম ভ্যাপসা গরম পড়েছে। এতক্ষণ ভিতরে এসির জন্য বুঝতে পারিনি। লাল্টুকাকু বাড়ির সামনেই মিস্তিরিদের সঙ্গে কথা বলছিল। আমাদের দেখেই হাসিমুখে এগিয়ে এল।

    “কী ব্যাপার মাস্টার শুভদীপ! কতদিন পরে দেখলাম তোমাকে! এখন তো আর মাস্টার না, মিস্টার বলতে হবে। এসো এসো ভিতরে এসো। তোমার কাকিমা অনেকক্ষণ ওয়েট করছে।”

    বাড়ির চৌহদ্দিতে পা দিতেই কেমন একটা অস্বস্তি ঘিরে ধরল আমায়। মনে হচ্ছিল আড়াল থেকে কে যেন আমায় দেখছে। এটা আরও বাড়ল বাড়িতে ঢোকার পর। বাইরে অমন গরম, ভিতরে কিন্তু বেশ ঠান্ডা। চিনচিনে। বাবা তো বলেই ফেলল, “তোদের বাড়ির ভিতরে তো খুব ঠান্ডা! এসি লাগে না বোধহয়।”

    “আসলে অনেক পুরোনো বাড়ি তো। মোটা মোটা দেওয়াল। ছাদে কড়ি বরগা দেখছিস না… আর এসি কী বলছিস, শেষরাতে রীতিমতো চাদর গায়ে দিতে হয়।”

    হাসিমুখে দোতলা থেকে নেমে এল লান্টুকাকুর বউ। আমাদের হাতে ধরে নিয়ে গেল উপরে। “তুমিই শুভদীপ! তোমার কথা অনেক শুনেছি। আজ দেখা হল।”

    কাকু বিয়ে করেছে বছর দু-এক হল। বিয়েতে আমি আসতে পারিনি। কাকিমার সঙ্গে আমার এই প্রথম দেখা।

    দোতলায় ঠান্ডাটা অদ্ভুতভাবে আরও বেশি। এমন হবার কথা না। নিচতলাই সাধারণত বেশি ঠান্ডা হয়। আর একটা অদ্ভুত গন্ধ। গোটা দোতলা জুড়ে। আঁশটে। দমবন্ধ করা।

    দোতলাতেই বসার ঘর। বাবা মা সোফায় বসল। আমি একটা মোড়া টেনে বসলাম। কাকিমার মুখটা হাসি হাসি। মনে হচ্ছে জোর করে হাসবার চেষ্টা করছে। আমাকে একের পর এক প্রশ্ন করল। কী ভালোবাসি, হবি কী, বন্ধু আছে কি না। আমি হুঁ হাঁ করে জবাব দিলাম। কাজের লোক জলখাবার নিয়ে এল। মাছের প্যাটিস, আর কেক। প্যাটিসটা অদ্ভুত ঠান্ডা। আর আঁশটে গন্ধ। দুই কামড় খেয়ে সরিয়ে রাখলাম। বাবারা দিব্যি খাচ্ছে। আমায় জিজ্ঞাসা করতে বললাম খিদে নেই।

    এবার বাড়ি দেখানোর পালা। কাকুদের বেডরুমের পাশের রুমটা তালাবন্ধ। মা জিজ্ঞাসা করতেই কাকিমার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। শুনলাম ওই ঘরেই নাকি আগের মালিকের বউ থাকতেন। একবার দীপাবলির রাতে তাঁর প্রসবযন্ত্রণা ওঠে। ওই সময় ডাক্তার পাওয়া মুশকিল। সব ব্যবস্থা করার আগে এই ঘরেই বউটি মারা যায়। নাম ছিল নেহা গুপ্তা। বিহারি। বেনিয়া। আমি এবার সত্যি সত্যি চমকে উঠলাম। দীপাবলির রাতে সব প্রেতেরা নরক থেকে মর্তে উঠে আসে। আমি পড়েছি। সেই রাতে কোনও সধবা মহিলা প্রথম সন্তান হবার সময় অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মারা গেলে তার কোনও গতি কেউ করতে পারে না। গয়ায় পিণ্ড দিলেও না। সে প্রেতিনী হয়ে সেই ঘরে এঁটে বসে থাকে। অবশ্য বেশিদিন না। মাঝে মাঝেই তাঁর খিদে পায়। তখন ঘরে জ্যান্ত কেউ ঢুকলে প্রেতিনী তাকে বাহন করে ঘুরে বেড়ায়। তার আত্মার অংশ চুষে চুষে খায়, যতক্ষণ না সেই লোক শুকিয়ে মরে যাবে। আমি এই সমস্ত জানি।

    বাবা আমার দিকে তাকিয়েই বুঝেছিল গোলমাল। জানি না আমার ভয় কাটানোর জন্য কি না, বাবা বলে উঠল, “আমি ওই ঘরটা দেখব।” কাকিমা ইতস্তত করে কাকুর দিকে তাকাল। কাকু বাবাকে বারবার করে বলল, “ছাড় না! এই ঘরটাই দেখতে হবে? কী দরকার?”

    বাবা জোর করতে লাগল। শেষে কাকু বলল, “ঠিক আছে। আমি দরজা খুলে দিচ্ছি। কিন্তু আমরা কেউ যাব না। তুই একা ঢোক।”

    বাবা বলল, “আমিও ঢুকব, বাবুনও ঢুকবে। ওর মাথার থেকে এসব পাগলামো দূর করতে হবে।”

    মা অনেকবার মানা করল। বাবা শুনল না। কাকু দরজা খুলে দিলে আমাকে কলার ধরে প্রায় টেনেহিঁচড়ে ঘরে ঢোকাল বাবা। আমি ঢুকতে চাইনি। ঘরের ভিতর এত ঠান্ডা, যেন এসি চালানো। আঁশটে গন্ধটা দম বন্ধ করে দিচ্ছে। বাবা এদিক ওদিক হাতড়ে বালবের সুইচ জ্বালাল। ফাঁকা ঘর। কিচ্ছু নেই। শুধু একদিকের দেওয়ালে রোগা ফ্যাকাশে মুখের এক মহিলার ছবি টাঙানো। তাতে পুরু ধুলো।

    “দিব্যি ঘর। এটা ইউজ করিস না কেন? এই ঘরে একটা খাট পেতে রাখবি। সামনের বার এলে এই ঘরে আমি শোব। বাবুনকে নিয়ে। কি রে বাবুন, তাই তো?”

    আমি উত্তর দিলাম না। আমার মনে হচ্ছিল মাথা ঘুরে পড়ে যাব। বাবা হেসে হেসে কথা বলে যাচ্ছিল। একটা কথাও আমার কানে ঢুকছিল না। আরও ঘণ্টাখানেক থেকে আমরা বাড়ির দিকে রওনা হলাম। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে শুনলাম লাল্টুকাকু বাবাকে বলছে, “এতটা বাড়াবাড়ি না করলেই পারতি। ছেলেটা একেবারে চুপ মেরে গেছে।”

    বাবা মশা তাড়ানোর ভঙ্গিতে “ছাড় তো” বলে উড়িয়ে দিল।

    রাস্তায় জ্যাম। বারাসাত পৌঁছাতেই রাত নটা বেজে গেল। বাবা বলল এখানেই কোথাও খাবে। মৌচাকের সামনে গাড়ি দাঁড় করাল। আমার খিদে পাচ্ছিল না। বাবা জোর করছিল তাই এক পিস চিকেন দিয়ে অল্প ভাত খেলাম। সবকিছুতেই সেই অসহ্য আঁশটে গন্ধ। মাকে বললাম। মা বলল সব ঠিক আছে। দশটায় যখন খেয়েদেয়ে বেরোলাম, দেখি আকাশ মেঘে ঢাকা। টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। কাজিপাড়া অবধি তাও রাস্তায় কিছু লরি, প্রাইভেট কার ছিল। রেলগেট পেরোনোর পরে আর কিচ্ছু নেই। বাবাও অবাক। এই সময় যশোর রোডে আর কিছু না হোক প্রচুর লরি থাকে। সেসব গেল কোথায়? আমি জানলায় মুখ ঠেকিয়ে বসে ছিলাম। দুইদিকে মাঠ। ধানখেত। দু-একটা বাড়িতে টিমটিমে আলো জ্বলছে। কোনও কারণে এদিকে লোডশেডিং। রাস্তার একটাও ল্যাম্পপোস্টে আলো নেই। বাইরের অন্ধকারে চোখ সয়ে যাচ্ছিল ধীরে ধীরে।

    আচমকা মনে হল অন্ধকার যেন জমাট বাঁধছে গাড়ির পাশেই। একটা স্থির জমা ধোঁয়ার মতো চাপা অন্ধকার গাড়ির পাশে পাশে চলছে। আমি কাচ থেকে চোখ সরাতে পারছিলাম না। প্রথমে মনে হচ্ছিল দুটো লম্বা বাঁশ। ভালো করে খেয়াল করতে দেখলাম তা না। একটু দূরে দুটো রোমশ পা। তার কোমর আমাদের গাড়ির ছাদ ছুঁয়েছে। উপরে কী আছে দেখতে পাচ্ছি না। আমি দেখতে চাইও না। গাড়ির ভাঙা ভাঙা হলুদ আলোতে শুধু এটুকু বুঝলাম সেই দুই দৈত্যাকার পায়ের মালিক আমাদের গাড়ির সঙ্গে সমান বেগে হেঁটে হেঁটে চলেছে— তার পায়ের গোড়ালি দুটো পুরো উলটো।

    আমি এত জোরে চেঁচিয়ে উঠেছি যে বাবা সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক কষে গাড়ি দাঁড় করাতে গিয়ে মা সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ল।

    “কী হয়েছে বাবুন? এরকম অদ্ভুত চিৎকার করে উঠলি কেন?” বাবা বলল।

    মা তখনও ধাতস্থ হতে পারেনি। ফ্যালফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এদের কিছু বলা বৃথা। বিশ্বাস করবে না। মিথ্যা বললাম, “ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। স্বপ্ন দেখে ভয় পেয়ে গেছি।”

    বাবা কী যেন একটা বলতে গিয়েও বলল না। ঠিক তখনই আমাদের গাড়ির কাচে একটা টোকা পড়ল। বাবা কাচ নামাতেই গোটা গাড়ি সেই আঁশটে গন্ধে ভরে গেল। ঠিক এই গন্ধটাই আমি লান্টুকাকুর বাড়িতে পেয়েছিলাম। এক মহিলা। বিহারি। ভাঙা বাংলায় বলল হাবড়া যাবে। কোনও বাস পাচ্ছে না। যদি একটু পৌঁছে দেওয়া হয়

    আমি বারবার মাথা নেড়ে বাবাকে মানা করলাম। কিন্তু বাবা শুনলে তো! বাবা কোনও দিন কারও কথা শোনে না। নিজের মতে চলে। বাইরে তখন বৃষ্টি বাড়ছে। বাবা হাসিমুখে পিছনের গেট খুলে দিয়ে বলল, “চলে আইয়ে।”

    আমার পাশে এসে বসেছে মহিলা। গাড়ি চলছে। হালকা একটা নীল আলো গোটা গাড়ি জুড়ে। মহিলার মাথায় ঘোমটা। পরনে শাড়ি। মুখ দেখা যাচ্ছে না। ফলে বয়স আন্দাজ করা মুশকিল। আমি আড়চোখে ওকে দেখছিলাম। বারবার চেষ্টা করেও ওর মুখ দেখা যাচ্ছিল না। একবার ঘোমটা একটু সরতেই মুখটা দেখে চমকে গেলাম। কোনও মানুষের মুখ এমন হয়! এই মুখ যেন আসলে কোনও মুখ না। একটা মাংসপিণ্ড। তাতে চোখ, নাক, কান, ঠোঁট কিচ্ছুটি নেই। নজর পড়ল শাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা হাতে। কালো সরু কাঠের মতো হাত। কোঁচকানো। যেন সব রস কেউ চুষে নিয়েছে। হাতের আঙুলগুলো বাঁকা আর তার ডগায় শক্ত বাঁকানো নখ। মায়ের মাথা একদিকে ঢলে পড়েছে। গাড়ি চললেই মায়ের ঘুম পায়। বাবা আপনমনে গাড়ি চালাচ্ছে আর গান গাইছে। সেই মহিলার আঙুলগুলো এবার নড়েচড়ে বেড়াচ্ছে। হাতের প্লাস্টিকের ব্যাগ খুলে কী যেন বার করতে চাইছে। গাড়ির আবছা আলোয় আমি দেখতে পেলাম মহিলা ব্যাগ থেকে ছোট্ট একটা বাচ্চার কাটা হাত বের করল। তারপর বাড়িয়ে দিল আমার দিকে। হাতের কাটা অংশ থেকে তখনও রক্ত ঝরছে। প্রেতিনী আমাদের পিছু ধাওয়া করেছে।

    এক ঝলকে আমি দেখে নিলাম ওদিকের গাড়ির লকটা বন্ধ করতে বাবা ভুলে গেছে। মাথা ঠান্ডা করে আমার দিকের দরজায় পিঠ রেখে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে উলটো দিকের দরজায় মারলাম এক লাথি। সেই প্রেতিনী কিছু বোঝার আগেই ছিটকে পড়ল রাস্তায়। ঠিক তখনই উলটো দিক থেকে একটা বড়ো দশ চাকার লরি এসে ওর শরীরের ওপর দিয়ে চলে গেল।

    বাবা সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামাল। বাইরে তখন মুষলধারায় বৃষ্টি পড়ছে। বাবা আর লরির ড্রাইভার দুজনেই গাড়ি থামিয়ে অনেকক্ষণ দেখল পিণ্ড হয়ে যাওয়া দেহটাকে। তারপর বাবা ফিরে এসে খুব শান্ত হয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করল আমি কেন এমন করলাম। আমি সব বললাম। লাল্টুকাকুর বাড়ি, প্রেতিনীর কাহিনি, সেই বিরাটাকার ওলটানো পা… সব। বাবা আমাকে বকল না। কিচ্ছু বলল না। শুধু গাড়ি ঘুরিয়ে আবার হোস্টেলের দিকে চলল।

    আমি এখন হোস্টেলে নিজের ঘরে বসে আছি। বাইরে মায়ের কান্নার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। বাবা আর ওয়ার্ডেন কথা বলছেন। সঙ্গে আমার ডাক্তার। ডাক্তার সেন। সেনই কথা বলছিলেন, “আমার ভুল হয়েছে। স্কিজোফ্রেনিয়ার রুগি যে আসলে কোনও দিন সুস্থ হয় না তা বুঝিনি। হ্যালুসিনেশানটা তার মানে এখনও চলছে। ভেবেছিলাম এই তিন বছরে… আর ভালো ইম্প্রুভ করছিল তো! এদিকে আপনিও তাড়া দিচ্ছিলেন অ্যাসাইলাম থেকে নিয়ে যাবার জন্য। সব ভেবে…”

    আমার ঘুম পাচ্ছিল। একটু আগে আমাকে ডাক্তার ইঞ্জেকশান দিয়েছেন। অঘোরে ঘুমিয়ে পড়ার আগে শুনতে পেলাম ওয়ার্ডেন বলছেন, “আমি স্যার আপনাকে শুরুতেই বলেছিলাম। যে ছেলে এগারো বছর বয়েসে নিজের বোনকে গলা টিপে মারতে পারে…”

    .

    লেখকের জবানি— এই কাহিনিরও অর্ধেকের বেশি আমার নিজের কানে শোনা। আমার বাল্যবন্ধু অনির্বাণ চক্রবর্তী (যার ডাকনাম লাল্টু) দুই বছর আগে এক রাতে সস্ত্রীক যশোর রোড দিয়ে আসার সময় এক অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হয়। প্রায় হুবহু সেই অভিজ্ঞতাই এখানে লিখেছি, যদিও কথককে বদলে। শেষের হরোউইৎস সম ক্লাইম্যাক্স একেবারেই আমার প্ল্যান।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article খেলার নাম খুন – সৈকত মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    কৌশিক মজুমদার

    নোলা : খাবারের সরস গপ্পো – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    সূর্যতামসী – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    আঁধার আখ্যান – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    নীবারসপ্তক – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    অগ্নিনিরয় – কৌশিক মজুমদার

    August 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }