Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আদিম সমাজ – লুইস হেনরি মর্গান

    বুলবন ওসমান এক পাতা গল্প216 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২.০১ লিঙ্গভিত্তিক সমাজ সংগঠন

    প্রথম পরিচ্ছেদ – লিঙ্গভিত্তিক সমাজ সংগঠন

    সরকার গঠনের বিষয়ে জানতে গেলে আমাদের প্রথমে দেখতে হবে গোষ্ঠী সংগঠন, যা ছিল আত্মীয় সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে। আদিম যুগে প্রায় ক্ষেত্রেই যা একমাত্র ভিত্তি হিসেবে দেখা গেছে। কিন্তু তার পূর্বে আরো এক ভিত্তি ছিল, তা হল লিঙ্গভিত্তিক সম্পর্ক। আমরা প্রথমে এ সম্বন্ধেই আলোচনা করতে চাই। ব্যাপারটাকে প্রথমে স্থান দেওয়া হচ্ছে এর নতুনত্বের জন্যে নয় বরং এর মাঝেই গোষ্ঠী সংগঠনের সূত্র সুপ্ত ছিল। এই অনুমানকে যদি বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করা যায় তা হলে দেখা যাবে দুটি জিনিস, এক, পুরুষভিত্তিক দুই স্ত্রীভিত্তিক। আদি অস্ট্রেলিয়াবাসীদের মধ্যে এই ভিত্তি এখনো বিদ্যমান। মানবজাতির আদি গোষ্ঠীসমূহের সংগঠনের মধ্যে যা ছিল প্রায় সর্বজনীন।

    আমরা আদিম সমাজের নিম্ন পর্যায়ে গেলে দেখতে পাব সমাজ-পদ্ধতির মূল সূত্র হল বিশেষ নিয়মের মধ্যে থেকে দলগত স্বামী ও স্ত্রীদের নিয়ে। স্বামী-স্ত্রীর অধিকার সুযোগ-সুবিধা (জুরা কনজুগিয়ালিয়া)[১] দলের মধ্যে স্থাপিত হয়েছিল, যা বিরাট এক কর্ম-পরিকল্পনার স্থান দখল করে এবং যা সংগঠনের একটা প্রধান সূত্র হয়ে দাঁড়ায়। যার ওপর নির্ভর করে সমাজ গড়ে উঠেছিল। এই অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা এমন দৃঢ়ভাবে তাদের মনে গেঁথে গিয়েছিল যে ধীরে ধীরে তা থেকে পরিবর্তিত হয়ে সংস্কারলাভ করেছে। যা প্রায় ঘটেছে। অগোচরে। এর ফলে দেখা গেছে পরিবার ক্রমশ নিম্ন পর্যায় থেকে উচ্চ পর্যায়ে উঠছে। শেষে দেখা গেল এই দাম্পত্য-পদ্ধতি বা সম্পর্ক ক্রমশ হ্রাসপ্রাপ্ত হচ্ছে। প্রথম পরিবার পদ্ধতি শুরু হয় ভাই-বোনদের বিবাহে। দ্বিতীয় অধ্যায় হল পুনালুয়ান পদ্ধতি যা অষ্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে দেখা যায়। যেখানে আপন ও দূরসম্পর্কের সব ভাই অন্যান্য সব বোনের স্বামী, তাদের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রী, সবাই সবার স্বামী-স্ত্রী। এই দুই পদ্ধতিতেই আমরা দেখছি বিয়ে ঘটছে একই দলের ভেতর। এখানে সংগঠন হল লিঙ্গভিত্তিক। তারপর বিভিন্ন গোষ্ঠী মিলে এরচেয়ে বড় সংগঠন গড়ে তোলে। সংগঠনের দিক থেকে রক্ত বা আত্মীয় সম্পর্ক থেকে যা বিরাট অগ্রগতি। অজান্তেই ব্যাপারটা প্রাকৃতিক নির্বাচনকে মেনে চলেছে। এই সমস্ত কারণে অস্ট্রেলীয় পদ্ধতির দিকে আমাদের গভীর মনোযোগ দিতে হচ্ছে, যদিও তা নিম্ন শ্রেণীর মানব-জীবনধারা, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে আমাদের পূর্বপুরুষদের সামাজিক ইতিহাসের একটা বিশেষ পর্যায় তুলে ধরে।

    বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় আদিবাসীদের যে অংশ কামিলারোই ভাষায় কথা বলে তাদের মাঝে লিঙ্গভিত্তিক শ্রেণী সংগঠন আছে এবং আত্মীয় সম্পর্কিত গোষ্ঠী সংগঠন মাত্র শুরু হয়েছে। তারা সিডনির উত্তরে ডার্লিং রিভার জেলায় বাস করে। এই দুই ধরনের সংগঠন। অন্যান্য অস্ট্রেলীয় গোষ্ঠীদের মধ্যেও দেখা যায় এবং তা এতই প্রচুর যে মনে হয় প্রাচীনকালে এদের সবার মাঝেই এই সংগঠন ছিল সর্বজনীন। এ থেকে দেখা যাচ্ছে পুরুষ ও নারীর শ্রেণীবিভাগ গণ সংগঠনের পূর্বের ঘটনা। গণ সংগঠন লিঙ্গভিত্তিক সংগঠনের চেয়ে উন্নত। দ্বিতীয়ত, কামিলারোইদের মধ্যে পূর্বের পদ্ধতি পরবর্তী পদ্ধতিকে হটিয়ে দেবার প্রক্রিয়ায় রত। তাদের সমাজ পদ্ধতিতে পুরুষ ও নারীই একক, যা পূর্ণ গণ সংগঠনে পরিণত হয়ে স্থান দখল করে নিচ্ছে। তাই দুটি পদ্ধতিই আমরা একই সাথে দেখতে পাচ্ছি। লিঙ্গ ও গণ ভিত্তিক সমাজ একই সাথে বিদ্যমান। প্রথমোক্তটি কেন্দ্রবিন্দু, কিন্তু দ্বিতীয়টি ক্রমশ অগ্রসর হচ্ছে এবং পূর্ণ গণ সংগঠন সংঘটিত হয়ে গেলে পূর্বের ধারার ওপর স্থান করে নেবে।

     

     

    অষ্ট্রেলিয়ার বাইরে লিঙ্গভিত্তিক সমাজ আর কোথাও দেখা যায় নি, কিন্তু এই লিঙ্গভিত্তিক সমাজের ওপর গোষ্ঠী সংগঠন ক্রমশ জায়গা করে নিচ্ছে। এ থেকে মনে হয় পূর্বোক্ত সমাজ সংগঠন গণ ভিত্তিক সংগঠনের পূর্বে মানবসমাজে ছিল সর্বজনীন। যদিও লিঙ্গভিত্তিক পদ্ধতি যখন সম্পূর্ণভাবে আবিষ্কৃত হয় তার মাঝে যথেষ্ট জটিলতা ছিল। পুরোনো সামাজিক সংগঠন হিসেবে এর গুরুত্ব এই জন্যে যে আমাদের আদি আর্য পরিবারগুলোও এইভাবেই সংগঠিত হয়েছিল তা ধারণা করে নেওয়া যায়।

    অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা পলিনেশীয় এমনকি আমেরিকান আদিবাসীদের চেয়েও নিম্ন পর্যায়ে, এমনকি তারা নিগ্রোদের চেয়েও নিচে ছিল। মানবসমাজের সবচেয়ে নিচের ধাপে। বর্তমান যে কোনো আদিবাসীদের চেয়েও তারা আদি স্তরে রয়েছে।[২]

    পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা গণ সমূহ কীভাবে সংগঠিত ছিল সে সম্বন্ধে আলোচনা করব। এখন তাদের বিশদ আলোচনা না করেই উল্লেখ করা হবে। শুধু শ্রেণীসমূহের প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যার জন্যেই আলোচিত হবে।

     

     

    কামিলারোইরা ছয়টি ‘গণে’ বিভক্ত। বিয়ের সম্পর্কে তাদের আবার দুই ভাগে ভাগ। নিম্নে তাদের নাম দেয়া গেল :

    (ক) ১–ইগুয়ানা (ডুলি) ২–ক্যাঙ্গারু (মুররিরা) ৩–ওপোসাম (মিউট)।

    (খ) ৪–এমু (ডিনাউন) ৫–ব্যাণ্ডিকট (বিলবা) ৬-–ব্ল্যাকস্নেক (নুরাই)।

    প্রথমোক্ত গণত্রয়ের মধ্যে পরস্পর বিবাহ চলত না, কারণ তারা একই গণ থেকে সৃষ্ট। কিন্তু তারা অন্য যে কোনো গণের সাথে বিবাহ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। তেমনই দ্বিতীয় দলের যে-কেউ প্রথম দলে বিয়ে করতে পারত। কামিলারোইদের এই প্রাচীন নিয়ম কিছুটা বদলে গেছে, কিন্তু গণের মধ্যে বিয়ের ব্যাপারে পুরো মত পাওয়া যায় না। মেয়ে বা পুরুষ কেউই তাদের নিজস্ব গণের মাঝে বিয়ে করতে পারবে না–এটা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। উত্তরাধিকার ঠিক করা হয় স্ত্রী-ধারায়। ছেলেমেয়েরা মায়ের গণের সদস্য। এই পদ্ধতি প্রায় সমস্ত গণেই চলত। তাই কামিলারোইদের জন্যেও এটা পুরোপুরি সত্য।

    কিন্তু এদের আরো প্রাচীন বিভাগ ছিল আট ভাগে, যার চারটে সম্পূর্ণ পুরুষদের, বাকি চারটে সম্পূর্ণ মেয়েদের। বিয়ের ব্যাপারে এরা রীতিনীতি বেশ মেনে চলত এবং উত্তরাধিকারের ব্যাপারটা গণ সংগঠনের ক্ষেত্রে অনেকটা বাধার সৃষ্টি করত, তাই দেখা গেল পরবর্তী সংগঠনে এটা ন্যায়সঙ্গত রূপ গ্রহণ করে। পুরুষ বিভাগ বিশেষ একটিমাত্র মহিলা বিভাগের সাথে বিয়ে করতে পারত। ফলত দেখা যাচ্ছে একটা পুরুষ শ্রেণীর সবাই অপর একটি স্ত্রী শ্রেণীর স্বামী, যাদের সাথে তাদের বিয়ে সম্ভব। অধিকন্তু যদি কোনো পুরুষ প্রথমোক্ত তিন গণের মধ্যে থাকে, সে অবশ্যই অন্য তিন গণের এক গণের মহিলাদের জন্যে নিদিষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এইভাবে এক গণের এক অংশের পুরুষদের জন্যে অপর গণের মেয়েদের এক অংশের মধ্যে বিয়ে সীমিত হয়ে যাচ্ছে, যা গণ-সমূহের সত্যিকার সংগঠনের তত্ত্ববিরোধী–কারণ আপন গণের মধ্যে বিয়ে বাদে প্রতিটি গণের মেয়ে-পুরুষের যে কোনো গণের মেয়ে পুরুষের সাথে বিয়ে হবার অধিকার থাকা উচিত। নিম্নে শ্রেণীগুলো দেয়া হল :

     

     

    পুরুষ শ্রেণী

    ১–ইপ্পাই
    ২—কুম্বো
    ৩-মুররি
    ৪-কুববি

    স্ত্রী শ্রেণী

    ১–ইপ্লাটা
    ২–-বুটা
    ৩–মাটা
    ৪–কাপোটা

     

     

    যে কোনো গণের হোক, ইপ্পাইরা পরস্পর ভাই। কারণ, তারা একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত। কুষোরাও তাই। তেমনই মুররি ও কুববিরাও। ঠিক একইভাবে যে কোনো গণেরই হোক ইপ্লাটারা পরস্পর বোন। তেমনই বুটা, মাটা ও কাপোটারা পরস্পর বোন। এরপরে আমরা দেখি সব ইপ্পাই ও ইপ্পাটারা ভাই-বোন, একই মায়ের ছেলেমেয়ে হোক বা না হোক। কুম্বো আর বুটারা পরস্পর ভাই-বোন, এইভাবেই মুররি আর মাটারা ও কুববি আর কাপোটারা ভাই-বোন। যদি কোনো ইপ্পাই আর ইপ্পাটার দেখা হয়, যারা হয়তো কেউ কাউকে কোনোদিন দেখেও নি, সম্বোধন করবে ভাই-বোন বলে। তাই দেখা যাচ্ছে কামিলারোইরা চারটে ভাই-বোনের প্রাথমিক দলে বিভক্ত হয়েছিল। প্রতিটি দলে একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী-শাখা, কিন্তু একই কর্মক্ষেত্রে তারা পরস্পর মিশ্রিত হয়ে কাজ করত। আত্মীয় সম্পর্ক ছাড়া। শুধু লিঙ্গভিত্তিক সংগঠন নিশ্চয় গণ সংগঠনের চেয়ে প্রাচীন সংগঠন। এই ধরনের সমাজ সম্বন্ধে আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি।

    এই শ্রেণীসমূহ ‘গণ সংগঠনে বীজ হিসেবে কাজ করছে, কিন্তু সত্যিকার গণ সংগঠনে রূপান্তরিত হতে পারে নি। আসলে ইপ্পাই ও ইপ্লাটা দুই শাখা মিলে একটা শ্ৰেণী–কিন্তু তারা পরস্পর বিয়ে করতে না পারায় তারা গণ সংগঠনের ভিত হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু তারা পুরো গণ সংগঠন করছে না, কারণ তাদের নিজেদের পৃথক নাম এবং ছেলেমেয়েরাও ভিন্ন নাম গ্রহণ করছে। তাই এই শ্রেণীবিভাগ লিঙ্গভিত্তিক আত্মীয়তাভিত্তিক নয়–আর তা প্রাথমিকভাবে একটি বিবাহ-রীতিকেন্দ্রিক।

     

     

    যেহেতু ভাই-বোনে বিয়ে নিষিদ্ধ তাই এই শ্রেণীগুলো স্থাপিত হয়ে বিয়ের রীতি তৈরি করছে। বিয়ের ক্ষেত্রে এটাই ওদের মূল নিয়ম। নিয়মটি নিম্নে দেয়া গেল :

    ইপ্পাইরা কাপোটাকে বিয়ে করতে পারে, এ ছাড়া আর কাউকে নয়।

    কুম্বোরা বিয়ে করতে পারে মাটাকে, এ ছাড়া আর কাউকে নয়।

    মুররিরা বিয়ে করতে পারে বুটাকে, এ ছাড়া আর কাউকে নয়।

    কুববিরা ইপ্পাটাকে বিয়ে করতে পারে, এ ছাড়া অন্য কাউকে নয়।

    এই নির্দিষ্ট নিয়ম পরে কিছুটা পরিবর্তিত হয়, যেমন, প্রতিটি পুরুষ শ্রেণীর জন্যে আর একটা বাড়তি মেয়ে শ্রেণী ঠিক হচ্ছে যাদের সাথেও তাদের বিয়ে হতে পারে। এই তথ্য থেকে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে ‘গণ’ সংগঠন শ্রেণী সংগঠনকে সরিয়ে দিয়ে ক্রমশ নিজের জায়গা করে নিচ্ছে।

     

     

    এইভাবে দেখা যাচ্ছে কামিলারোইদের মধ্যে একজন পুরুষের জন্যে স্ত্রী হিসেবে মাত্র এক-চতুর্থাংশ মেয়ে থাকছে। এটা অবশ্য এই পদ্ধতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নয়। ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রতিটি কাপোটা মেয়েই প্রতিটি ইপ্পাই পুরুষের স্ত্রী। প্রতিটি মাটা স্ত্রীলোক কুম্বো পুরুষের স্ত্রী। এইভাবে বুটা মেয়েরা মূররি পুরুষের এবং ইপ্লাটা মেয়ে কুবি পুরুষের স্ত্রী। এই বস্তুগত তথ্যটাই বিশিষ্ট। মিঃ ফিসনকে লেখা মিঃ ল্যান্সের চিঠিতে আছে : “যদি অপরিচিত ইপ্লাটার সাথে কোনো কুববির দেখা হয় তারা পরস্পর ‘গোলির’, অর্থাৎ পতি বা পত্নী বলে সম্বোধন করে। এইভাবে কোনো কুববি কোনো ইপ্পাটা মেয়ের সাথে স্ত্রীর মতো ব্যবহার করবে এবং সেই মেয়ের গোষ্ঠীও তা মেনে নেবে।” কাছেপিঠের অন্যান্য ইপ্লাটা মেয়েরাও তার স্ত্রীর মতো।

    এখানে আমরা পুনালুয়া ধরনের বিয়ে দেখতে পাচ্ছি, সারা দলের মধ্যেই যা ব্যাপ্ত। ছোট ছোট দলে বিভক্ত এর প্রতিটিই একটা অনুকৃতির মতো। এই জোড়-পদ্ধতি কামিলারোই গোষ্ঠীতে এক-চতুর্থাংশ পুরুষকে এক-চতুর্থাংশ মেয়ের সাথে মিলিত করছে। আদিম জীবনের এই ছবি আদিবাসীদের কাছে কোনোরকম বেমানান মনে হত না, কারণ তাদের কাছে ছিল এটাই বিবাহ সম্পর্ক। এটা পুরুষের বহু বিবাহ ও নারীর বহু পুরুষ গ্রহণেরই বিস্তৃতি–যা আদি গোষ্ঠীসমূহে আরো সীমিতভাবে ছিল সর্বজনীন। এদের সাক্ষ্য এখনো দেখা যায় নানা রীতি-প্রথার মধ্যে। প্রাথমিক পদ্ধতি থেকেই এগুলো অবরোহিত হয়েছে। এখানে একটা জিনিস গোচর হচ্ছে যে এই অন্তর্বিবাহ অজাচার থেকে এক ধাপ সরে আসা। কারণ আগে কোনো পদ্ধতি ছিল না, এখন একটা পদ্ধতির সৃষ্টি হয়েছে। অধিকন্তু এটা একটা বিয়ের নির্দিষ্ট পদ্ধতি দিচ্ছে এবং জন্ম দিচ্ছে পরিবারের। এখান থেকেই সত্যিকার বৃহৎ সমাজের অস্তিত্ব সম্বন্ধে ধারণা করা যায়, আগে যা ছিল শুধু ভাই-বোন ও জ্ঞাতিদের বিয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ।[৩]

     

     

    যদিও ছেলেমেয়েরা তার মায়ের ‘গণে’ থাকে, তারা কিন্তু সেই একই ‘গণে’র মধ্যে অন্য শ্রেণীভুক্ত হয়ে যায়, যা তাদের মা-বাবা থেকে পৃথক। নিচের তালিকায় তা স্পষ্ট হবে :

    পুরুষ      স্ত্রী      পুরুষ     স্ত্রী

    ইপ্পাই বিয়ে করে কাপোটাকে–তাদের ছেলে হয় মুররি ও মেয়ে মাটা।

    কম্বো বিয়ে করে মাটাকে–তাদের ছেলে কুববি ও মেয়ে কাপোটা।

    মুররি বিয়ে করে বুটাকে–তাদের ছেলে হয় ইপ্পাই ও মেয়ে ইপ্পাটা।

    কুবি বিয়ে করে ইপ্লাটাকে–তাদের ছেলে হয় কুম্বো ও মেয়ে বুটা।

    এইভাবে যদি উত্তরাধিকার সূত্র চলতে থাকে তা হলে আমরা দেখব যে মেয়েদের লাইনে কাপোটা মাটার মা, আর ঠিক তেমনিভাবে চলতে চলতে মাটাও কাপোটার মা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একইভাবে ইপ্পাটা বুটার মা, আর বুটাও এক সময় ইপ্পাটার মা হচ্ছে। পুরুষ শ্ৰেণীদের ব্যাপারেও তাই, কিন্তু যেহেতু কামিলারোই গোষ্ঠীরা মাতৃধারায় উত্তরাধিকার নির্ণয় করে, কামিলারোই গোষ্ঠীরা মনে করে তারা দু জন মহিলা পূর্বপুরুষের বংশধর, যার জন্যে দুটো গণের সৃষ্টি হচ্ছে। এইসব উত্তরাধিকার সূত্র ধরলে দেখা যাবে প্রতিটি শ্রেণীর রক্তই সমস্ত শ্রেণীর মাঝ দিয়ে বয়েছে।

     

     

    যদিও প্রতিটি লোক উপরোক্ত শ্রেণীর নামের একটা নামে পরিচিত হত, তবে আরো একটা ব্যাপার লক্ষ করার মতো, সবার একটা ব্যক্তিগত নামও ছিল। আদিম ও বর্বর উভয় গোষ্ঠীদের মধ্যেই এই ব্যাপার দেখা গেছে। লিঙ্গভিত্তিক এই সংগঠনের দিকে যত খুঁটিয়ে। লক্ষ করা হয় আদি মানবদের এই সংগঠনকে ততই অত্যাশ্চর্য বলে মনে হয়। একবার এটা যখন স্থাপিত হয়ে যায় এবং কয়েক পুরুষ ধরে চলতে থাকে তখন একে বদলানো খুবই শক্ত। কেননা ততদিনে তা বিরাট এক সামাজিক শক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। এই অবস্থায় পৌঁছতে বহু শতাব্দী লেগে গেছে, বিশেষ করে দাম্পত্য পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হতে।

    গণ সংগঠন শ্রেণীভিত্তিক সংগঠন থেকে উচ্চ পর্যায়ের কারণ গণ সংগঠন শ্রেণীভিত্তিক সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। সময়ের দিক থেকেও এটা শ্রেণীভিত্তিক সংগঠনের পরবর্তী। কেন্দ্রে শ্রেণীভিত্তিক গোষ্ঠী থাকলেও বিভিন্ন ‘গণ’ নিয়ে বৃহত্তর ‘গণ-সংগঠনের রূপ নিচ্ছে।

    পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী গণের সম্পর্ক বোঝা যাবে যখন তাদের সাথে শ্রেণী সম্পর্কটাও তুলে ধরা হবে। শ্ৰেণী হচ্ছে জোড়া ভাই-বোন যারা একে অপরের কাছ থেকে আসছে। আর গণেরা নিজেরাই আসছে শ্রেণীর মাঝ দিয়ে, জোড়া-জোড়াভাবে। নিম্নে এর একটা। তালিকা দেওয়া গেল।

     

     

    –– স্ত্রী – পুরুষ – স্ত্রী

    গণসমূহ পুরুষ স্ত্রী পুরুষ স্ত্রী
    ১ ইগুয়ানা : সবাই মুররি ও মাটা অথবা কুববি ও কাপোটা
    ২ এমু : সবাই কুম্বো ও বুটা অথবা ইপ্পাই ও ইপ্পাটা
    ৩ ক্যাঙ্গারু : সবাই মুররি ও মাটা অথবা কুববি ও কাপোটা
    ৪ ব্যাণ্ডিকট : সবাই কুম্বো ও বুটা অথবা ইপ্পাই ও ইপ্পাটা
    ৫ ওপোসাম : সবাই মুররি ও মাটা অথবা কুববি ও কাপোটা
    ৬ ব্ল্যাকস্নেক : সবাই কুম্বো ও বুটা অথবা ইপ্পাই ও ইপ্পাটা

    বিবাহ আইনের জোরেই সন্তান কোন গণে হবে তা নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে। তাই, ইগুয়ানা-মাটা অবশ্যই কুম্বোকে বিয়ে করবে। তার ছেলেমেয়েরা হবে যথাক্রমে কুববি ও কাপোটা, অবশ্যই তারা হবে ইগুয়ানা গণের লোক। কারণ উত্তরাধিকার ঠিক হচ্ছে মায়ের দিক থেকে। ইগুয়ানা কালোটা অবশ্য বিয়ে করবে ইপ্পাইকে। তার ছেলেমেয়ে হল যথাক্রমে মুররি ও মাটা এবং একই কারণে তারাও ইগুয়ানা গণের লোক। এইভাবে দেখা যায় এমু বুটা অবশ্যই মুররিকে বিয়ে করবে। তার ছেলেমেয়ে হল ইপ্পাই-ইপ্পাটা এবং তারা এমু গণের লোক। এইভাবে এমু-ইপ্পাটা অবশ্যই কুববিকে বিয়ে করবে। তাদের ছেলেমেয়ে কুম্বো ও বুটা এবং এমু গণের সদস্য। এইভাবে গণ তার মেয়েদের সব ছেলেমেয়েদেরই রেখেছে। বাকি গণগুলোর ব্যাপারেও এই একই নিয়ম। আমরা দেখতে পাই যে প্রতিটি গণই মনে করে তারা তাদের দুই মহিলা পূর্বপুরুষ থেকে জন্ম নিয়েছে এবং চারটে শ্রেণীকে অন্তর্ভুক্ত করে দেখা যাচ্ছে তারা জন্ম নিয়েছে আটটি মহিলা থেকে। সম্ভবত প্রথমে দু জন পুরুষ ও দু জন মহিলার শ্রেণী ছিল যাদের বিয়ে হত বিপরীত দলের সাথে। সেই চার শ্ৰেণীই। পরে আট ভাগে বিভক্ত হয়। বেশ বোঝা যাচ্ছে প্রাচীন সংগঠন হিসেবে শ্রেণীগুলো ছিল গণের আওতায়, কিন্তু ‘গণ’ বিভক্ত হয়ে তা ঘটে নি।

     

     

    অধিকন্তু, ইগুয়ানা, ক্যাঙ্গারু ও ওপোসাম গণগুলোর যেসব শ্রেণী আছে তা একে অপরের পরিপূরকের মতো। এ থেকে মনে হয় তারা কোনো এক প্রাথমিক গণ থেকে বিভক্ত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে। এমু, ব্যাণ্ডিকট ও ব্ল্যাকস্নেকের ক্ষেত্রেও এটা খাটে। তাই শেষ পর্যন্ত দুটি মাত্র অংশ থাকছে : ছ’টা গণকে মূল দুটো গণে নামাচ্ছে। এক অংশ অপর অংশের সাথে বিবাহ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে। তাদের নিজেদের মধ্যে বিয়ে হত না। এটা আরো ভালোভাবে বোঝা যায় যখন দেখা যায় প্রথম তিনটি গণের মধ্যে বিয়ে হয় না এবং বাকি তিনটি গণের মধ্যেও বিয়ে হয় না। কারণ, একই ‘গণ’ ভেঙে তিন ভাগ হয়েছে। পরে নামেই তাদের পার্থক্য ঘটে।[৪] ঠিক একই ব্যাপার দেখা যায় সেনেকা-ইরোকোয়াদের মধ্যে।

    যেহেতু বিয়ে বিশেষ এক শ্ৰেণীদের মধ্যে নিষিদ্ধ, যখন দুটো গুণ থাকে অনুমান করে নেওয়া যায় এক অংশের অর্ধেক মেয়ে অপর অংশের অর্ধেক পুরুষদের স্ত্রী। ছ’টা গণে বিভক্ত হবার ফলে গণের বাইরে বিয়ে করার সুবিধে দেখা দেয়। এই সুবিধাটা শ্রেণীর উপস্থিতির জন্যে অতটা প্রাধান্যলাভ করতে পারে নি। তাই দেখা গেছে আপন ভাই-বোনের পর যারা সবচেয়ে কাছাকাছি তাদের মধ্যে বিয়ে শুরু হয়। গণসংগঠন শ্রেণীসংগঠনকে সম্পূর্ণ বিলোপ করতে পারলে এই অসুবিধা দূর করতে পারে। শ্রেণীসংগঠনের প্রধান উদ্দেশ্য দেখা যাচ্ছে যাতে ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে না হতে পারে। কিন্তু এই উদ্দেশ্য সফল হলেও তারা তারপর যে-পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল তা-ও ভীষণ জটিল ধরনের ও আপত্তিকর।

     

     

    অবশ্য আসল শ্রেণী সংগঠনের মাঝে একটা পরিবর্তন লক্ষ করা যায় এবং যা সত্যিকার গণ সংগঠনের পক্ষে দাঁড়ায়, যদিও তখনো তা বহু দূর পথের লক্ষ্যবস্তু। এ সম্বন্ধে দুটো বিষয় বিশেষ করে দেখা যায় : প্রথমত, ত্রি-গণের পরস্পরের মধ্যে বিয়ে সংঘটনের অনুমতি সীমিতভাবে হলেও পাওয়া যাচ্ছে–দ্বিতীয়ত, সেইসব শ্রেণীতে বিয়ে করা যাচ্ছে আগে যা একেবারেই সম্ভব ছিল না। এইভাবে এখন দেখা যাচ্ছে ইগুয়ানা-মুররি ক্যাঙ্গারু গণের মাটাকে বিয়ে করতে পারে, যারা তাদের সমান্তরাল বোন। অথচ আগে বিপরীত তিনটির মধ্যে শুধু বুটার সাথে তাদের বিয়ে নির্দিষ্ট ছিল। এইভাবে ইগুয়ানা-কুববি তার সমান্তরাল বোন কাপোটাকে বিয়ে করতে পারে। এমু-কুম্বো বুটাকে বিয়ে করতে পারে এবং এমু ইপ্পাই এখন ব্ল্যাকস্নেক গণের ইপ্লাটাকে বিয়ে করতে পারে, আগে যে বাধা ছিল এখন সম্পূর্ণ তার বিপরীত। প্রতিটি ত্রি-গণের পুরুষ বাকি ত্রি-গণের অন্য দুই-এর মাঝ থেকে আরো একটা বাড়তি স্ত্রী-শ্রেণী পাচ্ছে, আগে যাদের থেকে তারা সম্পূর্ণভাবে পৃথক ছিল। মি. ফিসন অবশ্য যেসব তথ্য পাঠিয়েছিলেন তাতে সম্পূর্ণ পরিবর্তনের চিত্র পাওয়া যায় নি।[৫]

    এই পরিবর্তন অনেকটা বিপরীতমুখী হলেও তা শ্ৰেণীগুলোকে ভাঙার দিকেই নিয়ে গিয়েছিল। প্রগতির ধারা এখানে দেখা যায় শ্রেণী থেকে গণকেই গণ সংগঠনের ভিত্তি হিসেবে নেবার চেষ্টা করছে। কামিলারোইদের সামাজিক সংগঠনে এ কথা স্পষ্ট। এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে একমাত্র যে জিনিসটা দাঁড়ায় তা হল স্বামী-স্ত্রী সহবাস পদ্ধতি। এই পদ্ধতিকে বদল না করতে পারলে প্রগতি সম্ভব ছিল না। যেমন সম্পূর্ণ বাধা হয়েছিল শ্রেণীগুলো। কামিলারোইদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর দাবি বা অধিকার এই শ্রেণীগুলোর মতোই একটা অহেতুক ভার হয়ে ছিল। এর বদল না হলে তারা আরো হাজার বছর এই একই অবস্থায় থাকত।

    হাওয়াইদের পুনালুয়া পদ্ধতি অনেকটা এই ধরনের। আদিম অবস্থার প্রাথমিক ও মধ্য পর্যায়ে সব জায়গাতেই এই ধরনের বিয়ের পুরো বা কিছু অদল-বদল ঘটে এবং দলের মধ্যে বিভিন্ন রীতি-প্রথার মধ্যে তা ছিল সীমাবদ্ধ। ছোট বড় সব দল এই রীতি-প্রথা মেনে চলত। আদিম অবস্থার নীতি ও প্রথা মেনে যদি স্বামী ও স্ত্রীরা সম্প্রদায়গত হয়ে বাস করে তা হলে আমরা ধরে নিতে পারি তখন সমাজের অবস্থা ছিল আদিম অবস্থায় এবং আমাদের আদি পূর্বপুরুষরা সেই একই অভিজ্ঞতার মাঝ দিয়ে গেছে।

    এই ধরনের প্রথা আর রীতিনীতির মাঝ দিয়ে আদিম যুগের রূঢ় অবস্থার একটা পরিচয় আমরা পাই। মানুষের এই অবস্থা যদি পৃথিবীর আনাচেকানাচে বিচ্ছিন্ন হয়ে না থাকত মানুষের অতীত সম্বন্ধে একটা নিশ্চিত ধারণা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত। এখানে একটা অনুমানের কথা আপনা থেকেই উঠে পড়ে যে মানুষ সব সময় একটা প্রতিষ্ঠানগত প্রগতির মাঝ দিয়ে ক্রমশ অগ্রসর হয়েছে। ফলে, মানুষের অজ্ঞাতেই একটা সংস্কারের কাজ হয়ে যাচ্ছে। এই আলোকেই মানবসমাজের পাঠ করতে হবে। অষ্ট্রেলিয়ানরা যে অবস্থায় আবিষ্কৃত হয়েছে তখন তাদের অবস্থা দেখে মনে করা ঠিক হবে না যে তারা একেবারে নিম্ন অবস্থায় ছিল। এ কথা মনে করাও ঠিক হবে না যে তারা ওপরে ওঠার পর ক্রমশ অধঃপাতে গেছে, কারণ এ ধরনের ধারণার পেছনে মানুষের অভিজ্ঞতার সায় মেলে না। বহু গোষ্ঠী বা জাতির শারীরিক ও মানসিক অধঃপাতের বহু নজির দেখা গেছে এবং তাদের কারণও জানা যায়; কিন্তু তাদের উদাহরণ দিয়ে মানবজাতির সাধারণ প্রগতি ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। মানুষের অভিজ্ঞতা ও সমস্ত তথ্য এ কথাই প্রমাণ করে যে মানুষ ক্রমশ নিম্ন অবস্থা থেকে ধীর গতিতে প্রগতির পথে এগোচ্ছে। আদিম মানুষেরা যেসব হাতিয়ার, তৈজসপত্র দিয়ে। জীবন কাটিয়েছে যতদিন না আরো উন্নত হাতিয়ার লাভ করেছে তা একেবারে নষ্ট করে নি। এই সমস্ত হাতিয়ার ও সামাজিক সংগঠনের সাহায্যে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা লাভ করে তারা ক্রমশ উন্নতি করেছে। যদিও একেকটা উন্নতির মাঝে হাজার হাজার বছর কেটে গেছে। অবশ্য বহু গোষ্ঠী ও জাতি তাদের জাতিতাত্ত্বিক জীবন নষ্ট হওয়ায় ধরাপৃষ্ঠ থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে।

    লেখকের জানা মতে অস্ট্রেলিয়ান শ্রেণীগুলোই মানবজাতির একমাত্র অংশ যাদের। সংগঠনে পরিবর্তনের সূত্রপাত দেখতে পেয়েছেন, যেখানে গণ সংগঠনের মাত্র আভাস দেখা গেছে। প্রাচীন লিঙ্গভিত্তিক সংগঠনও মাত্র তাদের মাঝেই দেখা গেছে। অতি আদিম অবস্থার সমাজের চেয়ে ওপরে উঠেছে এই সমাজ। অন্যান্য গোষ্ঠীতে গণ সংগঠন বেশ অগ্রসর হয়ে গেছে, যেখানে স্বামী-স্ত্রী দলগত পদ্ধতিকে কিছুটা কাটছাট করেছে। এইভাবে পরিবার পদ্ধতি ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হয়ে এগোতে থাকে। সমাজ সংগঠনের অন্তর্দেশে সময়ে সংস্কার বা পরিবর্তন প্রয়োজন হতে থাকে।

    অষ্ট্রেলিয়ানরা আবিষ্কৃত হবার আগে হাজার হাজার বছর ধরে হয়তো শ্রেণী সংগঠনকে কোনোরকম প্রভাবিত করে নি। এদিকে মহাদেশীয় গোষ্ঠীরা বহু পূর্বেই গণ সংগঠনকে সম্পূর্ণ করে নিয়েছে। সভ্যতায় এসে তারা এসব ঝেড়ে ফেলে। লিঙ্গ ও জ্ঞাতিভিত্তিক সামাজিক সংগঠন জাতিতাত্ত্বিক পাঠে সবচেয়ে মূল্যবান উপাদান। অতীত সমাজের ইতিহাস যদি আমাদের পুনরুদ্ধার করতে হয় এই তথ্য আমাদের কী ইশারা করছে তা-ও জানা প্রয়োজন।

    পলিনেশীয় গোষ্ঠীসমূহে গণ পদ্ধতি অজ্ঞাত ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলীয় শ্রেণী সংগঠনের প্রায় সমান্তরাল হল হাওয়াইদের পুনালুয়া প্রথা। পূর্বের পদ্ধতির ধারণা ও অভিজ্ঞতা বাদ দিয়ে কোনো মৌলিক ধারণার জন্ম হতে পারে, কিন্তু তেমন ব্যাপার সংখ্যায় খুবই নগণ্য। যে সমস্ত ধারণা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে গড়ে উঠেছে তার দু-একটাই মাত্র আকস্মিক। উন্নয়ন হল মানব প্রগতির একটি প্রক্রিয়া।

    এই আলোকে দেখলে দেখা যাবে সভ্যতার বহু অংশ এখনো আদিমতাযুক্ত, যেমন, মরমোনবাদ (আমেরিকার উটাহ নামে ধর্মীয় শাখা, যারা খোলাখুলিভাবেই বহু বিবাহ করে), অতীত যুগের আদিম ও বর্বর মস্তিষ্ক উত্তরাধিকার সূত্রে আমাদের মধ্যে বর্তেছে। আমাদের মস্তিষ্ক সেই মৌলিক সব অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে আজ যথেষ্ট আকার বাড়িয়েছে। বর্বর যুগের এইসব গুণাবলি পূর্বপুরুষের চরিত্র হিসেবে আমাদের মধ্যে দেখা যায়।

    অল্প কয়েকটা ধ্যান-ধারণা ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে মানুষ যাত্রা শুরু করে এবং তাকে কেন্দ্র করেই মানুষ ক্রমশ ওপরে উঠেছে। তাদের যাত্রা শুরু হয় আদিম যুগে, তারপর বর্বর যুগে তা বিশিষ্টভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে, ক্রমশ তাই বাড়তে বাড়তে সভ্য যুগে আরো ডালপালা মেলে। চিন্তা বা ধ্যান-ধারণার এই বীজ বিবর্তিত হয়ে স্বাভাবিকভাবে মস্তিষ্কের একটা অবশ্যম্ভাবী অংশ হয়ে দাঁড়ায়। এই ব্যাপারটা এমনভাবে সংঘটিত হয়েছে যে, এর ফলাফল বেশ সমতা রক্ষা করে চলেছে এবং তার স্রোত খুঁজে বের করাও খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার নয়। এই সমস্ত ফলাফল মানব প্রজাতির উৎসের এক সূত্র একসময় পরিস্ফুট করে তুলবে। মানবজাতির মানসের ইতিহাস, যা তার প্রতিষ্ঠান রীতিনীতি, আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে তা দেখেই ধরে নিতে হয় যে এসব একই প্রজাতির ইতিহাস, যা ব্যক্তির মাধ্যমে চিরস্থায়ী হয়ে রয়েছে এবং ব্যক্তির অভিজ্ঞতার জোরে যার ক্রমোন্নতি ঘটেছে। যেসব মৌলিক চিন্তাধারার বীজ মানব মনে পালিত হয়ে মানুষকে ক্রমশ তার গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে তা হল সরকার, পরিবার, ভাষা, ধর্ম ও সম্পত্তি। এসব আদিম যুগেই জন্ম নিয়েছে এবং তার স্বাভাবিক উন্নয়ন সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু তা এখনো পুরোপুরি শেষ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে নি, কারণ এইসব ধারণা এখনো এগিয়ে চলছে এবং চিরকাল প্রগতির পথে এগিয়ে যাবে।

    ——
    ১। রোমানরা ‘কনিউবিয়াম’ অর্থাৎ বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানের সাথে ‘কনজুগিয়াম’-এর পার্থক্য করেছিল, শেষোক্তটির অর্থ শুধুই দৈহিক মিলন।

    ২। অস্ট্রেলীয় পদ্ধতির খুঁটিনাটি জানতে পেরেছিলাম ইংরেজ মিশনারি রেভারেণ্ড লারিমার ফিসন-এর কাছ থেকে, তিনি আবার এর বেশ কিছুটা জানতে পারেন বেভারে ডব্লিউ, রিলে ও টি. ই. লান্স-এর কাছ থেকে, যারা অনেক দিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের মধ্যে ছিলেন এবং এদের পর্যবেক্ষণ করার প্রচুর সুযোগ পেয়েছিলেন। ফিসন এই পদ্ধতি সম্বন্ধে লেখককে একটা বিশ্লেষণসহ যে লেখাটি পাঠান তা ছাপা হয় “আমেরিকান শিল্প ও বিজ্ঞান একাডেমির কার্যবিবরণী ১৮৭২”-এ সপ্তম ও দ্রষ্টব্য, পৃঃ ৪১২। ম্যাকলিন্যান তার “আদিম বিবাহ” (পৃঃ ১১৮) রচনায় কামিলারোই শ্রেণীসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়েছেন। টাইলর-এর “মানবজাতির প্রাচীন ইতিহাস” পৃঃ ২৮৮ দ্রষ্টব্য।

    ৩। “জ্ঞাতি পদ্ধতিসমূহ এবং মানব পরিবারের বিবাহজনিত কুটুম্বিতা জ্ঞানের ক্ষেত্রে স্মিথসোনিয়ান অবদান।” ১৭শ খণ্ড, পৃঃ ৪২০।

    ৪। উদাহরণস্বরূপ যদি ইপ্পাই ও কাপোটার বংশধারার চতুর্থ প্রজন পর্যন্ত তুলে ধরা হয় এবং যদি ধরে নেওয়া হয় দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে হয়েছে তা হলে ফল দাঁড়াবে নিম্নরূপ : ইপ্পাই ও কাপোটার ছেলেমেয়েরা মাররি ও মাটা। ভাই-বোন হিসেবে তারা বিয়ে করতে পারবে না। দ্বিতীয় পর্যায়ে মাররির ছেলেমেয়েরা যারা বুটার সাথে বিবাহবন্ধ হয় তারা হল ইপ্পাই ও ইন্নাটা–এদিকে মাটারা কুম্বের সাথে বিবাহিত হয় এবং তাদের ছেলেমেয়েরা কৃবি ও কাপোটা। এদের মধ্যে ইপ্পাই বিয়ে করছে তার জ্ঞাতিবোন কাপোটাকে এবং কুববি বিয়ে করছে জ্ঞাতিবোন ইপ্পাটাকে। কুম্বো ও বুটাকে বাদ দিয়েই দেখা যাবে যে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রজন্মেই দুটি থেকে আটটি শ্রেণী তৈরি হয়ে যাচ্ছে। পরবর্তী বা তৃতীয় পর্যায়ে দেখা যাবে দুটো মাররি, দুটো মাটা, দুটো কুম্বো এবং দুটো বুটা। এদের মধ্যে মাররি তাদের দ্বিতীয় জ্ঞাতিবোন বুটাকে বিয়ে করছে এবং কুববিরা তাদের দ্বিতীয় জ্ঞাতিবোন মাটাকে বিয়ে করছে। চতুর্থ প্রজন্মে ইপ্পাই কাপোটা কুববি এবং ইন্নাটা এরা তৃতীয়। জাতিসমূহ। এদের মধ্যে ইপ্পাই বিয়ে করছে কাপোটাকে এবং কুববিরা ইন্নাটাকে। এইভাবে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে চলতে থাকে। যেসব শ্রেণীর মধ্যে বিয়ে হয় তাদের বিয়ের ফল এমনি- ধারা তালিকার জন্ম দেবে। এই বিস্তৃতি বিরক্তিকর, কিন্তু এ থেকে একটা জিনিস জানা যায় যে আদিম সমাজের এই অবস্থায় তারা শুধু সব সময় আন্তর্বিবাহই করছে না বরং লিঙ্গভিত্তিক সংগঠনের দরুন এরকম করতে বাধ্য হত। সব সময় এই নিয়ম ধরেই দাম্পত্য বন্ধন ঘটত না, কারণ সমগ্র স্ত্রী ও পুরুষ শ্রেণী দলগত বিবাহে আবদ্ধ হত। এই পদ্ধতির আওতায় নিশ্চয় এরকম সব সময় ঘটত। গণের অন্যতম প্রাথমিক নিয়ম তাই ব্যর্থ হয়, কারণ একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত জনদের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ, বিয়ে করতে হয় ভিন্ন গণে।

    ৫। “আমেরিকান শিল্প ও বিজ্ঞান একাডেমির কার্যবিবরণী”, অষ্টম ৰণ্ড, পৃঃ ৪৩৬।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদুচাকায় দুনিয়া – বিমল মুখার্জি
    Next Article জবরখাকি – বর্ণালী সাহা
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }