Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আপদ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের – চলিত ভাষার

    চলিত ভাষার এক পাতা গল্প16 Mins Read0

    আপদ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের – চলিত ভাষার

     

    “জীবনের ছোট ছোট বাঁকে লুকিয়ে থাকে বড় বড় ঝড়…
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এমনই একটি ছোটগল্প —
    ‘আপদ’।

    এটা শুধু একটি গল্প নয়,
    এটি এক মায়াবী চিত্র, যেখানে মানুষের ভয়, সংকট,
    আর মনুষ্যত্বের আসল রূপ ধরা পড়ে নিপুণভাবে।

    চলুন, খুলে দেখি সেই গল্পের পাতা —
    যেখানে ‘আপদ’ আমাদের সামনে তোলে জীবনের এক কঠিন সত্য।

    \\

     

    সন্ধ্যার দিকে ঝড় ক্রমশ প্রবল হতে লাগল। বৃষ্টির ঝাপটা, বজ্রের শব্দ এবং বিদ্যুতের ঝিকিমিকিতে আকাশে যেন দেবতা ও অসুরের যুদ্ধ বেধে গেল। কালো কালো মেঘগুলো মহাপ্রলয়ের জয়পতাকার মতো দিকবিদিকে উড়তে শুরু করল, গঙ্গার এপারে ওপারে বিদ্রোহী ঢেউগুলো কলরবে নৃত্য শুরু করল, এবং বাগানের বড় বড় গাছগুলো সব শাখা ঝটপট করে হাহুতাশ সহকারে ডানে বামে লুটোপুটি করতে লাগল।

    তখন চন্দননগরের বাগানবাড়িতে একটি দীপালোকিত বদ্ধ ঘরে খাটের সামনের নিচের বিছানায় বসে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা চলছিল।

    শরৎবাবু বলছিলেন, “আর কিছুদিন থাকলেই তোমার শরীর সম্পূর্ণ সেরে উঠবে, তখন আমরা দেশে ফিরতে পারব।”

    কিরণময়ী বলছিলেন, “আমার শরীর সম্পূর্ণ সেরে উঠেছে, এখন দেশে ফিরলে কোনো ক্ষতি হবে না।”

    বিবাহিত ব্যক্তিমাত্রেই বুঝতে পারবেন, কথাটা যত সংক্ষেপে বললাম তত সংক্ষেপে শেষ হয়নি। বিষয়টি বিশেষ কঠিন নয়, তবু বাদ-প্রতিবাদ কিছুতেই মীমাংসার দিকে এগোচ্ছিল না; কানহীন নৌকার মতো ক্রমাগতই ঘুরপাক খেয়ে মরছিল; অবশেষে অশ্রু-তরঙ্গে ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিল।

    শরৎ বললেন, “ডাক্তার বলছে, আর কিছুদিন থেকে গেলে ভালো হয়।”

    কিরণ বললেন, “তোমার ডাক্তার তো সব জানে!”

    শরৎ বললেন, “জানে তো, এই সময়ে দেশে নানারকম রোগের প্রাদুর্ভাব হয়, তাই আর মাস দুয়েক কাটিয়ে গেলেই ভালো হয়।”

    কিরণ বললেন, “এখানে এখন বুঝি কোথাও কারো কোনো রোগ হয় না।”

    পূর্ব ইতিহাসটা এই। কিরণকে তার ঘরের এবং পাড়ার সবাই ভালোবাসে, এমনকি শাশুড়িও। সেই কিরণের যখন কঠিন পীড়া হল তখন সবাই চিন্তিত হয়ে উঠল, এবং ডাক্তার যখন বায়ুপরিবর্তনের প্রস্তাব করল, তখন ঘর এবং কাজকর্ম ছেড়ে প্রবাসে যেতে তার স্বামী এবং শাশুড়ি কোনো আপত্তি করলেন না। যদিও গ্রামের বিচক্ষণ জ্ঞানী ব্যক্তিরা, বায়ুপরিবর্তনে আরোগ্যের আশা করা এবং স্ত্রীর জন্য এতটা হৈচৈ করে তোলা, নব্য স্ত্রৈণতার একটা নির্লজ্জ আতিশয্য বলে স্থির করলেন এবং প্রশ্ন করলেন, এর আগে কি কারো স্ত্রীর কঠিন পীড়া হয়নি, শরৎ যেখানে যাওয়া স্থির করেছেন সেখানে কি মানুষরা অমর, এবং এমন কোনো দেশ আছে কি যেখানে ভাগ্যের লিখন সফল হয় না— তবু শরৎ এবং তার মা সে-সব কথায় কান দিলেন না; তখন গ্রামের সমস্ত সমবেত জ্ঞানের চেয়ে তাদের হৃদয়ের লক্ষ্মী কিরণের প্রাণটুকু তাদের কাছে গুরুতর বোধ হল। প্রিয়জনের বিপদে মানুষের এরকম মোহ ঘটে থাকে।

    শরৎ চন্দননগরের বাগানে এসে বাস করছেন, এবং কিরণও রোগমুক্ত হয়েছেন, শুধু শরীর এখনো সম্পূর্ণ সবল হয়নি। তার মুখে চোখে একটি করুণ শীর্ণতা অঙ্কিত হয়ে আছে, যা দেখলে হৃদকম্প সহ মনে উদয় হয়, আহা বড় রক্ষা পেয়েছি!

    কিন্তু কিরণের স্বভাবটা সঙ্গপ্রিয়, আমোদপ্রিয়। এখানে একলা আর ভালো লাগছে না; তার ঘরের কাজ নেই, পাড়ার সখী নেই; শুধু সারাদিন নিজের রুগ্ণ শরীরটাকে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে মন চায় না। ঘণ্টায় ঘণ্টায় তাপ মেপে ওষুধ খাও, পথ্য পালন করো, এতে বিরক্তি ধরে গেছে; আজ ঝড়ের সন্ধ্যাবেলায় বদ্ধ ঘরে স্বামী-স্ত্রীতে তা নিয়েই তর্ক বেধে গেল।

    কিরণ যতক্ষণ উত্তর দিচ্ছিল ততক্ষণ উভয়পক্ষে সমানভাবে দ্বন্দ্ব চলছিল, কিন্তু অবশেষে কিরণ যখন নীরব হয়ে বিনা প্রতিবাদে শরতের দিক থেকে একটু বিমুখ হয়ে ঘাড় বেঁকিয়ে বসল তখন দুর্বল অসহায় পুরুষটির আর কোনো অস্ত্র রইল না। পরাজয় স্বীকার করতে যাচ্ছে, এমন সময় বাইরে থেকে বেহারা চেঁচিয়ে কিছু জানাল।

    শরৎ উঠে দরজা খুলে শুনলেন, নৌকাডুবি হয়ে একটি ব্রাহ্মণবালক সাঁতার দিয়ে তাদের বাগানে এসে উঠেছে।

    শুনে কিরণের মান-অভিমান দূর হয়ে গেল, তৎক্ষণাৎ আলনা থেকে শুকনো কাপড় বের করে দিলেন এবং দ্রুত একবাটি দুধ গরম করে ব্রাহ্মণের ছেলেকে ভেতরে ডেকে পাঠালেন।

    ছেলেটির লম্বা চুল, বড় বড় চোখ, গোঁফের রেখা এখনো ওঠেনি। কিরণ তাকে নিজে বসিয়ে খাওয়িয়ে তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন।

    শুনলেন, সে যাত্রার দলের ছেলে, তার নাম নীলকান্ত। তারা কাছে সিংহবাবুদের বাড়ি যাত্রা করতে নিমন্ত্রিত হয়েছিল; এর মধ্যে নৌকাডুবি হয়ে তাদের দলের লোকের কী হল কে জানে; সে ভালো সাঁতার জানত, কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়েছে।

    ছেলেটি এখানেই থেকে গেল। আর একটু হলে সে মারা পড়ত, এই ভেবে তার প্রতি কিরণের অত্যন্ত দয়ার উদ্রেক হল।

    শরৎ মনে করলেন, হল ভালো, কিরণ একটা নতুন কাজ হাতে পেলেন, এখন কিছুদিন এইভাবেই কেটে যাবে। ব্রাহ্মণবালকের কল্যাণে পুণ্য সঞ্চয়ের আশায় শাশুড়িও খুশি হলেন। এবং অধিকারী মহাশয় ও যমরাজের হাত থেকে হঠাৎ এই ধনী পরিবারের হাতে বদলি হয়ে নীলকান্ত বিশেষ আরাম বোধ করল।

    কিন্তু অচিরেই শরৎ এবং তার মায়ের মত পরিবর্তন হতে লাগল। তারা ভাবলেন, আর দরকার নেই, এখন এই ছেলেটাকে বিদায় করতে পারলে ঝামেলা চলে যায়।

    নীলকান্ত গোপনে শরতের হুঁকোয় ফড়ফড় শব্দে তামাক টানতে শুরু করল। বৃষ্টির দিনে নির্ভয়ে তার শখের সিল্কের ছাতাটা মাথায় দিয়ে নতুন বন্ধু সংগ্রহের চেষ্টায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াতে লাগল। কোথাকার একটা ময়লা গ্রাম্য কুকুরকে আদর দিয়ে এমন স্পর্ধিত করে তুলল যে, সে অনাহূত শরতের সুসজ্জিত ঘরে ঢুকে পরিষ্কার জাজিমের ওপর পায়ের ধুলোর দাগ এঁকে আসতে লাগল। নীলকান্তের চারপাশে দেখতে দেখতে একটি বিশাল ভক্ত শিশুদের দল গঠিত হয়ে উঠল, এবং সে বছর গ্রামের আমবাগানে কাঁচা আম পাকার সুযোগ পেল না।

    কিরণ এই ছেলেটাকে খুব বেশি আদর দিতেন, তাতে সন্দেহ নেই। শরৎ এবং শরতের মা সে বিষয়ে তাকে অনেক নিষেধ করতেন, কিন্তু তিনি তা মানতেন না। শরতের পুরনো জামা-মোজা এবং নতুন ধুতি-চাদর-জুতা পরিয়ে তাকে বাবু সাজিয়ে তুললেন। মাঝে মাঝে যখন-তখন তাকে ডেকে নিয়ে তার স্নেহ এবং কৌতুক দুটোই মিটত। কিরণ হাসিমুখে পানের বাটা পাশে রেখে খাটের ওপর বসতেন, দাসী তার ভিজে এলোচুল আঁচড়ে আঁচড়ে শুকিয়ে দিত এবং নীলকান্ত নিচে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নল-দময়ন্তীর পালা অভিনয় করত— এভাবে দীর্ঘ দুপুর খুব তাড়াতাড়ি কেটে যেত। কিরণ শরৎকে তার সঙ্গে একাসনে দর্শকশ্রেণীতে বসাতে চেষ্টা করতেন, কিন্তু শরৎ অত্যন্ত বিরক্ত হতেন এবং শরতের সামনে নীলকান্তের প্রতিভাও সম্পূর্ণ ফুটে উঠত না। শাশুড়ি মাঝে মাঝে ঠাকুর-দেবতার নাম শোনার আশায় টেনে আসতেন কিন্তু অচিরেই তার চিরাচরিত দুপুরের ঘুম তাকে অভিভূত করে শয্যাশায়ী করে দিত।

    শরতের কাছ থেকে কানমলা, চড়-থাপ্পড় নীলকান্তের ভাগ্যে প্রায়ই জুটত; কিন্তু তার চেয়ে কঠিন শাসনে অভ্যস্ত থাকায় সেটা তার কাছে অপমান বা বেদনাদায়ক মনে হত না। নীলকান্তের দৃঢ় ধারণা ছিল যে, পৃথিবীর জল-স্থলের মতো মানবজন্মটা আহার এবং প্রহারে বিভক্ত; প্রহারের অংশটাই বেশি।

    নীলকান্তের ঠিক কত বয়স নির্ণয় করে বলা কঠিন; যদি চৌদ্দ-পনেরো হয় তবে বয়সের চেয়ে মুখ অনেক পেকে গেছে বলতে হবে, যদি সতেরো-আঠারো হয় তবে বয়সের অনুরূপ পাকেনি। হয় সে অকালপক্ব, নয়তো অকাল-অপক্ব।

    আসল কথা এই, সে অল্প বয়সেই যাত্রার দলে ঢুকে রাধিকা, দময়ন্তী, সীতা এবং বিদ্যার সখী সাজত। অধিকারীর প্রয়োজনে বিধাতার দয়ায় খানিকটা বাড়ার পর তার বৃদ্ধি থেমে গেল। সবাই তাকে ছোটোই দেখত, নিজেকেও সে ছোটোই মনে করত, বয়সের উপযুক্ত সম্মান সে কারো কাছ থেকে পেত না। এই সব স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিক কারণে সতেরো বছর বয়সে তাকে অপরিপক্ব সতেরোর চেয়ে অতিপরিপক্ক চোদ্দের মতো দেখাত। গোঁফের রেখা না ওঠায় এই ভ্রম আরো দৃঢ় হয়েছিল। তামাকের ধোঁয়ার প্রভাবে বা বয়সের অনুপযুক্ত ভাষা ব্যবহারের কারণে নীলকান্তের ঠোঁটের কাছটা কিছু বেশি পাকা মনে হত, কিন্তু তার বড়ো বড়ো চোখের মধ্যে একটা সরলতা এবং কচিত্ব ছিল। মনে হয়, নীলকান্তের ভিতরটা স্বভাবত কাঁচা, কিন্তু যাত্রার দলের সংস্পর্শে উপরিভাগে পাকার লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

    শরৎবাবুর আশ্রয়ে চন্দননগরের বাগানে বাস করতে করতে নীলকান্তের ওপর প্রকৃতির নিয়ম অবাধে কাজ করতে লাগল। সে এতদিন যে একটা বয়ঃসন্ধিকালে অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘকাল আটকে ছিল এখানে এসে সেটা কখন নিঃশব্দে পার হয়ে গেল। তার সতেরো-আঠারো বছর বয়স সম্পূর্ণভাবে পরিণত হয়ে উঠল।

    তার সে পরিবর্তন বাইরে থেকে কারো চোখে পড়ল না কিন্তু তার প্রথম লক্ষণ এই যে, যখন কিরণ নীলকান্তের প্রতি বালকোচিত ব্যবহার করতেন সে মনে মনে লজ্জিত এবং ব্যথিত হত। একদিন আমোদপ্রিয় কিরণ তাকে মেয়েবেশে সখী সাজতে বলেছিলেন, সে-কথাটা হঠাৎ তার খুবই কষ্টদায়ক লাগল অথচ তার উপযুক্ত কারণ খুঁজে পেল না। এখন তাকে যাত্রার অনুকরণ করতে ডাকলেই সে অদৃশ্য হয়ে যেত। সে যে একটা যাত্রার দলের ছেলের চেয়ে বেশি কিছু নয় এ কথা কোনোভাবেই তার মনে ঢুকত না।

    এমনকি সে বাড়ির সরকারের কাছে কিছু কিছু করে লেখাপড়া শিখতে মনস্থ করল। কিন্তু বউঠাকরুনের স্নেহভাজন বলে নীলকান্তকে সরকার দুই চোখে দেখতে পারত না, এবং মনের একাগ্রতা রেখে পড়াশোনা কোনোদিন অভ্যাস না থাকায় অক্ষরগুলো তার চোখের সামনে দিয়ে ভেসে যেত। গঙ্গার ধারে চাঁপাতলায় গাছের গুঁড়িতে ঠেস দিয়ে কোলের ওপর বই খুলে সে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকত; জল ছলছল করত, নৌকা ভেসে যেত, ডালের ওপর চঞ্চল পাখি কিচিরমিচির শব্দে নিজের মনে কথা বলত, নীলকান্ত বইয়ের পাতায় চোখ রেখে কী ভাবত সেই জানে অথবা সেও জানে না। একটা কথা থেকে কিছুতেই আরেকটা কথায় যেতে পারত না, অথচ বই পড়ছি ভেবে তার ভারি একটা আত্মগৌরব হত। সামনে দিয়ে যখন একটা নৌকা যেত তখন সে আরো বেশি আড়ম্বরের সঙ্গে বইটা তুলে বিড়বিড় করে পড়ার ভান করত; দর্শক চলে গেলে সে আর পড়ার উৎসাহ রাখতে পারত না।

    পূর্বে সে অভ্যস্ত গানগুলো যন্ত্রের মতো নিয়মিত গাইত, এখন সেই গানের সুরগুলো তার মনে এক অদ্ভুত চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। গানের কথা অতি সাধারণ, তুচ্ছ শব্দালংকারে ভরা, তার অর্থও নীলকান্তের কাছে সম্পূর্ণ বোধগম্য নয়, কিন্তু যখন সে গাইত—

    “ওরে রাজহংস, জন্মি দ্বিজবংশে
    এমন নৃশংস কেন হলি রে—
    বল্ কী জন্যে, এ অরণ্যে,
    রাজকন্যার প্রাণসংশয় করিলি রে—”

    তখন সে যেন হঠাৎ অন্য জগতে চলে যেত, তখন চারপাশের পরিচিত জগৎটা এবং তার তুচ্ছ জীবনটা গানে রূপান্তরিত হয়ে একটা নতুন রূপ ধারণ করত। রাজহংস এবং রাজকন্যার কথা থেকে তার মনে এক অপরূপ ছবির আভাস জেগে উঠত, সে নিজেকে কী মনে করত স্পষ্ট করে বলা যায় না, কিন্তু যাত্রার দলের পিতৃ-মাতৃহীন ছেলে বলে ভুলে যেত। নিতান্ত গরিবের ঘরের হতভাগ্য মলিন শিশু যখন সন্ধ্যাশয্যায় শুয়ে রাজপুত্র রাজকন্যা এবং সাত রাজার ধন মানিকের কথা শোনে, তখন সেই ক্ষীণদীপালোকিত জীর্ণ ঘরের কোণের অন্ধকারে তার মনটা সব দারিদ্র্য ও হীনতার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে এক রূপকথার রাজ্যে একটা নতুন রূপ, উজ্জ্বল বেশ এবং অপ্রতিহত ক্ষমতা ধারণ করে; সেইরকম গানের সুরের মধ্যে এই যাত্রার দলের ছেলেটি নিজেকে এবং নিজের জগৎটিকে একটি নতুন রূপে সৃষ্টি করত— জলের শব্দ, পাতার মর্মর, পাখির ডাক এবং যে লক্ষ্মী এই লক্ষ্মীছাড়াকে আশ্রয় দিয়েছেন তার হাস্যময় স্নেহময় মুখ, তার কল্যাণময় বাহু এবং দুর্লভ সুন্দর পায়ের ছাপ কী এক মায়ামন্ত্রবলে সুরের মধ্যে রূপান্তরিত হয়ে যেত। আবার একসময় এই গীতমরীচিকা কোথায় মিলিয়ে যেত, যাত্রার দলের নীলকান্ত ঝাঁকড়া চুল নিয়ে আত্মপ্রকাশ করত, আমবাগানের মালিক প্রতিবেশীর অভিযোগে শরৎ এসে তার গালে ঠাসঠাস করে চড় কষিয়ে দিতেন, এবং বালক-ভক্তদের নেতা হয়ে নীলকান্ত জলে স্থলে এবং গাছের ডালে নতুন নতুন উপদ্রব সৃষ্টি করতে বেরিয়ে পড়ত।

    এর মধ্যে শরতের ভাই সতীশ কলকাতা কলেজের ছুটিতে বাগানে এসে আশ্রয় নিল। কিরণ খুব খুশি হলেন, তার হাতে আরেকটা কাজ জুটল; বসায় খাওয়ায় পরায় সমবয়সী দেবরের প্রতি পরিহাসের জাল বিস্তার করতে লাগলেন। কখনো হাতে সিঁদুর মাখিয়ে তার চোখ টিপে ধরেন, কখনো তার জামার পিঠে বাঁদর এঁকে রাখেন, কখনো ঝনৎ করে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে মিষ্টি হাসিতে পলায়ন করেন। সতীশও ছাড়ার পাত্র নয়; সে তার চাবি চুরি করে, তার পানের মধ্যে লঙ্কা পুরে, অলক্ষ্যে খাটের পায়ার সাথে তার আঁচল বেঁধে প্রতিশোধ নিতে থাকে। এভাবে দুজনে সারাদিন তর্ক-বিতর্ক, হাসি, এমনকি মাঝে মাঝে ঝগড়া, কান্না, সাধাসাধি এবং পুনরায় শান্তিস্থাপন চলতে লাগল।

    নীলকান্তকে কী ভূতে পেয়েছে কে জানে। সে কী উপলক্ষ করে কার সাথে বিবাদ করবে ভেবে পায় না, অথচ তার মন তীব্র তিক্ততায় ভরে গেল। সে তার ভক্ত বালকদের অন্যায়ভাবে কাঁদাতে লাগল, তার সেই পোষা দেশি কুকুরটাকে অকারণে লাথি মেরে কেঁই কেঁই শব্দে আকাশ মুখরিত করে তুলল, এমনকি পথে ঘুরতে গিয়ে জোরে লাঠি মেরে আগাছাগুলোর ডাল ভেঙে চলতে লাগল।

    যারা ভালো খেতে পারে, তাদের সামনে বসিয়ে খাওয়াতে কিরণ খুব ভালোবাসেন। ভালো খাওয়ার ক্ষমতা নীলকান্তের ছিল, সুস্বাদু খাবার বারবার খাওয়ার অনুরোধ তার কাছে কখনো ব্যর্থ হত না। এইজন্য কিরণ প্রায় তাকে ডেকে নিয়ে নিজে বসিয়ে খাওয়াতেন, এবং এই ব্রাহ্মণবালকের তৃপ্তির সাথে আহার দেখে তিনি বিশেষ সুখ পেতেন। সতীশ আসার পরে ব্যস্ততাবশত নীলকান্তের খাওয়ার সময় প্রায়ই কিরণকে অনুপস্থিত থাকতে হত; আগে এমন ঘটনায় তার খাওয়ায় কোনো ব্যাঘাত হত না, সে শেষে দুধের বাটি ধুয়ে তার জল পর্যন্ত খেয়ে তবে উঠত— কিন্তু এখন কিরণ নিজে ডেকে না খাওয়ালে তার বুক ব্যথায় ভরে উঠত, তার মুখ বিস্বাদ হয়ে যেত, না খেয়ে উঠে পড়ত; গলায় আটকে আসা কণ্ঠে দাসীকে বলত, আমার ক্ষুধা নেই। মনে করত, কিরণ খবর পেয়ে এখনই অনুতপ্ত হয়ে তাকে ডেকে পাঠাবেন, এবং খাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করবেন, সে তবুও সে অনুরোধ রাখবে না, বলবে, আমার ক্ষুধা নেই। কিন্তু কিরণকে কেউ খবরও দেয় না, কিরণ তাকে ডাকেও পাঠান না; খাবার যা থাকে দাসী খেয়ে ফেলে। তখন সে নিজের শোবার ঘরের প্রদীপ নিভিয়ে দিয়ে অন্ধকার বিছানার ওপর পড়ে ফুলে ফুলে ফেঁপে ফেঁপে মুখের ওপর জোরে বালিশ চেপে ধরে কাঁদতে থাকে; কিন্তু কী তার অভিযোগ, কার বিরুদ্ধে তার দাবি, কে তাকে সান্ত্বনা দিতে আসবে! যখন কেউই আসে না, তখন স্নেহময়ী বিশ্বমাতা নিদ্রা এসে ধীরে ধীরে কোমল হাতের স্পর্শে এই মাতৃহীন ব্যথিত বালকের অভিমান শান্ত করে দেন।

    নীলকান্তের দৃঢ় ধারণা হল, সতীশ কিরণের কাছে তার নামে সর্বদাই লাগায়; যেদিন কিরণ কোনো কারণে গম্ভীর হয়ে থাকতেন সেদিন নীলকান্ত মনে করত, সতীশের চক্রান্তে কিরণ তারই ওপর রাগ করে আছেন।

    এখন থেকে নীলকান্ত একাগ্রভাবে তীব্র ইচ্ছার সাথে সর্বদাই দেবতার কাছে প্রার্থনা করে, ‘আর-জন্মে আমি যেন সতীশ হই এবং সতীশ যেন আমি হই।’ সে জানত, ব্রাহ্মণের একান্ত মনের অভিশাপ কখনো ব্যর্থ হয় না, এইজন্য সে মনে মনে সতীশকে ব্রহ্মতেজে দগ্ধ করতে গিয়ে নিজে দগ্ধ হতে থাকত, এবং ওপরের তলা থেকে সতীশ ও তার বউঠাকরুনের উচ্ছ্বসিত হাসিমিশ্রিত পরিহাসের শব্দ শুনতে পেত।

    নীলকান্ত স্পষ্টভাবে সতীশের কোনো শত্রুতা করতে সাহস পেত না, কিন্তু সুযোগ পেলে তার ছোটখাটো অসুবিধা ঘটিয়ে তৃপ্তি পেত। ঘাটের সিঁড়িতে সাবান রেখে সতীশ যখন গঙ্গায় নামতে শুরু করত তখন নীলকান্ত ফস করে এসে সাবান চুরি করে নিত; সতীশ যথাসময়ে সাবানের খোঁজে এসে দেখত, সাবান নেই। একদিন নাহতে নাহতে হঠাৎ দেখল তার বিশেষ প্রিয় চিকন-কাজ-করা জামাটি গঙ্গার জলে ভাসছে; ভাবল, হাওয়ায় উড়ে গেছে, কিন্তু হাওয়াটা কোন্ দিক থেকে বইল তা কেউ জানে না।

    একদিন সতীশকে আনন্দ দেবার জন্য কিরণ নীলকান্তকে ডেকে তাকে যাত্রার গান গাইতে বললেন; নীলকান্ত নীরব হয়ে রইল; কিরণ আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোর আবার কী হল রে।” নীলকান্ত তার জবাব দিল না। কিরণ আবার বললেন, “সেই গানটা গা-না।” “সে আমি ভুলে গেছি” বলে নীলকান্ত চলে গেল।

    অবশেষে কিরণের দেশে ফেরার সময় হল। সবাই প্রস্তুত হতে লাগল; সতীশও সঙ্গে যাবে। কিন্তু নীলকান্তকে কেউ কোনো কথাই বলে না। সে সঙ্গে যাবে কি থাকবে, সে প্রশ্ন কারো মনে উদয় হয় না।

    কিরণ নীলকান্তকে সঙ্গে নেবার প্রস্তাব করলেন। তাতে শাশুড়ি স্বামী এবং দেবর সবাই একসাথে আপত্তি করে উঠলেন, কিরণও তার সিদ্ধান্ত ত্যাগ করলেন। শেষে যাত্রার দুই দিন আগে ব্রাহ্মণবালককে ডেকে কিরণ তাকে স্নেহের সাথে নিজের দেশে যেতে উপদেশ দিলেন।

    সে টানা কয়েকদিন অবহেলার পর মিষ্টি কথা শুনে আর থাকতে পারল না, একেবারে কেঁদে উঠল। কিরণেরও চোখ ছলছল করে উঠল; যাকে চিরকাল কাছে রাখা যাবে না তাকে কিছুদিন আদর করে তার মায়া বসিয়ে দেওয়া ভালো হয়নি বলে কিরণের মনে বড় অনুতাপ জাগল।

    সতীশ কাছে উপস্থিত ছিল; সে অতবড়ো ছেলের কান্না দেখে ভারি বিরক্ত হয়ে বলে উঠল, “আরে বোকা, কথা নেই বার্তা নেই, একেবারে কাঁদেই অস্থির!”

    কিরণ এই কঠোর কথার জন্য সতীশকে ভর্ৎসনা করলেন। সতীশ বলল, “তুমি বুঝ না বউদি, তুমি সবাইকে খুব বেশি বিশ্বাস করো; কোথাকার কে তার ঠিক নেই, এখানে এসে দিব্য রাজার হালে আছে। আবার পুনর্মূষিক হওয়ার আশঙ্কায় আজ মায়াকান্না জুড়েছে— ও ভালোই জানে যে, দুফোঁটা চোখের জল ফেললেই তুমি গলে যাবে।”

    নীলকান্ত তাড়াতাড়ি চলে গেল; কিন্তু তার মন সতীশের কাল্পনিক মূর্তিকে ছুরি দিয়ে কাটতে লাগল, সূচ দিয়ে বিঁধতে লাগল, আগুন দিয়ে জ্বালাতে লাগল, কিন্তু প্রকৃত সতীশের গায়ে একটি চিহ্নও বসল না, কেবল তারই হৃদয় থেকে রক্তক্ষরণ হতে লাগল।

    কলকাতা থেকে সতীশ একটি শৌখিন দোয়াতদান কিনে এনেছিল, তাতে দুই পাশে দুই ঝিনুকের নৌকার ওপর দোয়াত বসানো এবং মাঝে একটা জার্মান রূপার হাঁস খোলা ঠোঁটে কলম নিয়ে ডানা মেলে বসে আছে, সেটির প্রতি সতীশের অত্যন্ত যত্ন ছিল; প্রায় সে মাঝে মাঝে সিল্কের রুমাল দিয়ে খুব সাবধানে সেটি ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করত। কিরণ প্রায়ই হাসি করে সেই রূপার হাঁসের ঠোঁটে আঙুল দিয়ে ঠুকতেন এবং বলতেন, “ওরে রাজহংস, জন্মি দ্বিজবংশে এমন নৃশংস কেন হলি রে” এবং এটাই উপলক্ষ করে দেবরের সাথে তার হাস্যকৌতুকে বাক্যবিতণ্ডা চলত।

    স্বদেশযাত্রার আগের দিন সকালবেলায় সেই জিনিসটা খুঁজে পাওয়া গেল না। কিরণ হেসে বললেন, “ঠাকুরপো, তোমার রাজহংস তোমার দময়ন্তীর খোঁজে উড়েছে।”

    কিন্তু সতীশ রাগে জ্বলে উঠল। নীলকান্তই যে সেটা চুরি করেছে এ-বিষয়ে তার সন্দেহ রইল না— গতকাল সন্ধ্যায় তাকে সতীশের ঘরের কাছে ঘুরঘুর করতে দেখেছে, এমন সাক্ষীও পাওয়া গেল।

    সতীশের সামনে অপরাধী আনা হল। সেখানে কিরণও উপস্থিত ছিলেন। সতীশ একেবারেই তাকে বলে উঠল, “তুই আমার দোয়াত চুরি করে কোথায় রেখেছিস, এনে দে।”

    নীলকান্ত নানা অপরাধে এবং বিনা অপরাধেও শরতের কাছে অনেক মার খেয়েছে এবং সবসময় হাসিমুখে তা সহ্য করেছে। কিন্তু কিরণের সামনে যখন তার নামে দোয়াত চুরির অপবাদ এল, তখন তার বড় বড় দুই চোখ আগুনের মতো জ্বলতে লাগল; তার বুকের কাছটা ফুলে গলার কাছে ঠেলে উঠল; সতীশ আরেকটা কথা বললেই সে তার দুই হাতের দশ নখ নিয়ে রেগে বেড়ালছানার মতো সতীশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত।

    তখন কিরণ তাকে পাশের ঘরে ডেকে নিয়ে মৃদু মিষ্টিস্বরে বললেন, “নীলু, যদি সেই দোয়াতটা নিয়ে থাকিস আমাকে চুপিচুপি দিয়ে যা, তোকে কেউ কিছু বলবে না।”

    তখন নীলকান্তের চোখ ফেটে টসটস করে জল পড়তে লাগল, শেষে সে মুখ ঢেকে কাঁদতে লাগল।

    কিরণ বাইরে এসে বললেন, “নীলকান্ত কখনোই চুরি করে নি।”

    শরৎ এবং সতীশ দুজনেই বলতে লাগলেন, “নিশ্চয়, নীলকান্ত ছাড়া আর কেউই চুরি করে নি।”

    কিরণ দৃঢ়ভাবে বললেন, “কখনোই না।”

    শরৎ নীলকান্তকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ইচ্ছা করলেন, কিরণ বললেন, “না, ওকে এই চুরি সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না।”

    সতীশ বলল, “ওর ঘর এবং বাক্স তল্লাশি করা উচিত।”

    কিরণ বললেন, “তা যদি করো, তাহলে তোমার সঙ্গে আমার জন্মশোধ শত্রুতা হবে। নির্দোষীর প্রতি কোনো সন্দেহ প্রকাশ করতে পারবে না।”

    বলতে বলতে তার চোখের পাতা দুটি জলে ভিজে উঠল। তারপর সেই দুটি করুণ চোখের অশ্রুজলের দোহাই দিয়ে নীলকান্তের প্রতি আর কোনো হস্তক্ষেপ করা হল না।

    নিরীহ আশ্রিত বালকের প্রতি এইরূপ অত্যাচারে কিরণের মনে অত্যন্ত দয়ার সঞ্চার হল। তিনি ভালো দুজোড়া ফরাশডাঙার ধুতি-চাদর, দুটি জামা, একজোড়া নতুন জুতা এবং একটি দশ টাকার নোট নিয়ে সন্ধ্যাবেলায় নীলকান্তের ঘরে ঢুকলেন। তার ইচ্ছা ছিল, নীলকান্তকে না বলে সেই স্নেহের উপহারগুলো আস্তে আস্তে তার বাক্সের মধ্যে রেখে আসবেন। টিনের বাক্সটিও তার দেওয়া।

    আঁচল থেকে চাবির গোছা নিয়ে নিঃশব্দে সেই বাক্স খুললেন। কিন্তু তার উপহারগুলো রাখতে পারলেন না। বাক্সের মধ্যে লাটাই, কঞ্চি, কাঁচা আম কাটার জন্য ঘষা ঝিনুক, ভাঙা গ্লাসের তলা প্রভৃতি নানা জিনিস স্তূপাকারে রাখা।

    কিরণ ভাবলেন, বাক্সটি ভালো করে গুছিয়ে তার মধ্যে সব জিনিস রাখতে পারবেন। সেই উদ্দেশ্যে বাক্সটি খালি করতে লাগলেন। প্রথমে লাটাই, লাঠি, ছুরি, ছড়ি প্রভৃতি বের হতে লাগল; তার পর কয়েকটা ময়লা এবং কাঁচা কাপড় বের হল, তার পর সবের নিচে হঠাৎ সতীশের সেই বহুযত্নের রাজহংসশোভিত দোয়াতদানটি বেরিয়ে এল।

    কিরণ আশ্চর্য হয়ে লাল মুখে অনেকক্ষণ সেটি হাতে করে নিয়ে ভাবতে লাগলেন।

    এর মধ্যে কখন নীলকান্ত পিছন থেকে ঘরে ঢুকল তিনি তা জানতেও পারলেন না। নীলকান্ত সবই দেখল, মনে করল, কিরণ নিজে চোরের মতো তার চুরি ধরতে এসেছেন এবং তার চুরিও ধরা পড়েছে। সে যে সাধারণ চোরের মতো লোভে পড়ে চুরি করে নি, সে যে শুধু প্রতিশোধ নেবার জন্য এ কাজ করেছে, সে যে ঐ জিনিসটা গঙ্গার জলে ফেলে দেবে বলেই ঠিক করেছিল, শুধু এক মুহূর্তের দুর্বলতাবশত ফেলে না দিয়ে নিজের বাক্সের মধ্যে রেখেছে, সে-সব কথা সে কী করে বুঝাবে। সে চোর নয়, সে চোর নয়! তবে সে কী। কী করে বলবে সে কী। সে চুরি করেছে কিন্তু সে চোর নয়। কিরণ যে তাকে চোর বলে সন্দেহ করেছেন, এ নিষ্ঠুর অন্যায় সে কোনোভাবেই বুঝাতে পারবে না, সহ্য করতেও পারবে না।

    কিরণ একটি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে সেই দোয়াতদানটা বাক্সের ভিতরে রাখলেন। চোরের মতো তার ওপর ময়লা কাপড় চাপা দিলেন, তার উপরে বালকের লাটাই, লাঠি, ঝিনুক, কাঁচের টুকরা প্রভৃতি সবই রাখলেন এবং সবচেয়ে ওপর তার উপহারগুলো ও দশ টাকার নোটটি সাজিয়ে রাখলেন।

    কিন্তু পরের দিন সেই ব্রাহ্মণবালকের কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না। গ্রামের লোকেরা বলল, তাকে দেখেনি; পুলিশ বলল, তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তখন শরৎ বললেন, “এইবার নীলকান্তের বাক্সটা পরীক্ষা করে দেখা যাক।”

    কিরণ জেদ করে বললেন, “সে কিছুতেই হবে না।”

    বলে বাক্সটি নিজের ঘরে এনে দোয়াতটি বের করে গোপনে গঙ্গার জলে ফেলে আসলেন।

    শরৎ সপরিবারে দেশে চলে গেলেন; বাগান একদিনে শূন্য হয়ে গেল। শুধু নীলকান্তের সেই পোষা গ্রাম্য কুকুরটা খাবার ত্যাগ করে নদীর ধারে ধারে ঘুরে ঘুরে খুঁজে খুঁজে কাঁদতে কাঁদতে বেড়াতে লাগিল।

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনজরুল-গীতিকা
    Next Article বোঝা (গল্প) – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় – চলিত ভাষায়

    Related Articles

    চলিত ভাষার

    নৌকাডুবি – চলিত ভাষার – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    December 17, 2025
    চলিত ভাষার

    আরণ্যক – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    October 25, 2025
    চলিত ভাষার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    যুগলাঙ্গুরীয় – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (চলিত ভাষায়)

    May 7, 2025
    চলিত ভাষার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    দর্পচূর্ণ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    May 6, 2025
    চলিত ভাষার প্রবন্ধ সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    পালামৌ – সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    April 20, 2025
    চলিত ভাষার

    বোঝা (গল্প) – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় – চলিত ভাষায়

    April 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }