Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আপিলা-চাপিলা – অশোক মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প696 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আপিলা-চাপিলা – ১৯

    ঊনিশ

    দিল্লিতে নিজেকে ব্যস্ত রাখছি, অথচ অস্বীকার করার উপায় নেই, মনটা কলকাতায় পড়ে থাকতো। বিভিন্ন সুযোগে যখন-তখন কলকাতায় চলে যেতাম, প্রথম দিকে কমিশনের কাজের ছুতোয়, ব্যাংক জাতীয়করণের পর বাড়তি ভণিতার সুযোগ ঘটলো, কলকাতায় প্রধান দফতর স্থিত এমন একটি-দু’টি ব্যাংকের সরকার-মনোনীত ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে।

    কৃষিপণ্য মূল্য কমিশনে যোগ দেওয়ার দু’মাসের মধ্যেই অবশ্য মস্ত ধাক্কা খেয়েছিলাম। মুম্বই গেছি কমিশনের কী কাজে, এখন মনে নেই। রবিবার সকালে যে-সরকারি অতিথিনিবাসে ছিলাম, অশোক রুদ্র দেখা করতে এলো, দু’জনে পালি হিলে হিতুবাবুর প্রাসাদোপম বাংলোয় শচীনদার সঙ্গে দেখা করতে গেলাম, রোগের জের আদৌ কাটিয়ে উঠতে পারেননি, কণ্ঠস্বর দুর্বল, দেখাশোনা করবার জন্য কলকাতা থেকে ওঁর ভাগিনেয়ী আনা, কুচিদির কন্যা, গেছে। শচীনদাকে প্রফুল্ল রাখবার জন্য সারাদিন ধরে আমরা গল্পে-আড্ডায় মেতে রইলাম; তিনি নিজে ঈষৎ স্তিমিত, প্রায় নিঃশব্দ। সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ দিল্লির বিমান, পাঁচটা-সওয়া পাঁচটায় শচীনদার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে চাপলাম। এখনও স্পষ্ট মনে আছে, বেতারে ক্রিকেট টেস্টের ধারাবিবরণী চলছিল, কোনও বিদেশি দলের সঙ্গে টেস্ট খেলা, অপরাহ্ণকালে ভারতীয় ইনিংস শুরু করতে নেমে ফারুখ ইঞ্জিনিয়ার ধুমধাড়াক্কা পেটাচ্ছিলেন। শচীনদা, যে-কাহিনী আগেই একবার বলেছি, আমাকে একটু পাশে ডেকে নিম্নস্বরে বললেন : ‘আমার শরীরে আর সে সামর্থ্য নেই যে অশোক রুদ্রের সঙ্গে একা তর্ক করতে পারি। তুমি মাসে অন্তত একবার করে এসো’। আটচল্লিশ ঘণ্টাও পেরোলো না, দিল্লিতে খবর পেলাম মঙ্গলবার দুপুরে; শচীনদা এক প্রবাসী ভারতীয় দম্পতিকে খেতে বলেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে-বলতে হঠাৎ ফের গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন, অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।

    টিকিট জোগাড় করে সন্ধ্যার বিমানে মুম্বই ফিরে গেলাম। চৌধুরী ভাইয়েরা সবাই এসে গেছেন, বোনেরা কেউ যেতে পারেননি, তবে খোকন, ছোট্টু ও একজন-দু’জন ভাগ্নে-ভাগ্নি মুম্বইতে ছিল, দেবুদার সঙ্গে হেনাদিও কলকাতা থেকে চলে এসেছেন। কয়েকটা দিন ঘোরের মধ্যে কাটলো, ইকনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি-র জন্য সম্পাদকীয় লিখলাম: এখন থেকে শচীন চৌধুরীহীন ভূমণ্ডল। পারিবারিক বৃত্তের বাইরে এমন নিবিড় করে আর-কাউকে এতটা কাছে পাইনি, আমার জীবনের একটি অধ্যায় সমাপ্ত।

    শচীনদার অবর্তমানে সমীক্ষা ট্রাস্ট পুনর্গঠিত হলো, আমি অন্যতম সদস্য। ফের একবার কথা উঠলো, সম্পাদক হিশেবে আমি যোগ দিতে পারি কিনা, সেই প্রস্তাব বেশিদূর এগোলো না, বোধহয় কোনও ট্রাস্ট সদস্যের আপত্তি ছিল, তা ছাড়া আমার পক্ষে জোর সওয়াল করবার জন্য শচীনদা তো আর নেই। যিনি সম্পাদক হয়ে এলেন, বছর খানেক বাদে রিজার্ভ ব্যাংকে চলে গেলেন, তারপর থেকে আমাদের অনেক কনিষ্ঠ কৃষ্ণরাজ সম্পাদনার দায় বইছে, পরমাশ্চর্য নিষ্ঠার সঙ্গে, ইকনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি আজ যে-প্রতিষ্ঠায় পৌঁছেছে, তার কৃতিত্ব প্রায় পুরোপুরি তাঁর একার, আমরা তো নিমিত্ত মাত্র। একেবারে হালে, সম্ভবত বিশ্বায়নের প্রকোপে, কৃষ্ণরাজ একটু ডাইনে হেলেছে, যা আমার মতো অনেকের অপছন্দ, কিন্তু সম্পাদকীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ তো অকল্পনীয়।

    সাতষট্টি সাল থেকেই রাজনীতির দ্রুত পট পরিবর্তন, কলকাতায়, দিল্লিতেও। পশ্চিম বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে দুই কমিউনিস্ট দল মিলতে পারলো না, মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বিভিন্ন গোষ্ঠীর একটি মিশ্র নির্বাচনী জোট, দক্ষিণীপন্থী পার্টির নেতৃত্বে আর একটি, যার সঙ্গে অজয় মুখোপাধ্যায়-হুমায়ুন কবিরদের বাংলা কংগ্রেসও যুক্ত। তা সত্ত্বেও স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্য বিধানসভায় কংগ্রস দল সংখ্যাধিক্য হারালো। যথাযোগ্য মূল্যে বাংলা কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁট বাঁধলে সংখ্যাধিক্য হয়তো ফিরে পাওয়া যেত, তবে অতুল্য ঘোষ সেই মূল্য দিতে রাজি হলেন না, আগেভাগেই ঘোষণা করে দিলেন, কংগ্রেস দল পুনর্বার সরকার গড়তে আগ্রহী নয়। দুই বাম তথা কংগ্রেস-বিরোধী জোটের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ আলোচনায় বসলেন। কিছু দরকষাকষি হলো; যদিও ভোটের ও বিধায়কের সংখ্যার বিচারে বামপন্থী কমিউনিস্টরাই প্রধান দল, বাংলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অজয় মুখোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী হলেন, জ্যোতি বসু যুগপৎ উপমুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী। অজয়বাবুর দায়িত্বে স্বরাষ্ট্র বিভাগ। অবশ্যই সবচেয়ে উপযুক্ত মন্ত্রী নির্বাচন হয়েছিল ভূমি ও ভূমিরাজস্ব বিভাগের ক্ষেত্রে, হরেকৃষ্ণ কোঙার। দুই গোষ্ঠীর মিলিত সত্তার নাম দেওয়া হলো যুক্তফ্রন্ট। জ্যোতিবাবু কলকাতা ট্রাম কোম্পানি অধিগ্রহণ, কর্মচারীদের জন্য বেতন কমিশন নিয়োগ ইত্যাদি কিছু-কিছু চমক-লাগানো কাজ করেছিলেন, তবে হরেকৃষ্ণবাবু ভূমিহীন কৃষক ও ভাগচাষীদের জমি দখলের যে-আহ্বান জানিয়েছিলেন, তার পরিণামে অচিরে, যুক্তফ্রন্টের ঊনিশ মাসের মধ্যেই, পশ্চিম বাংলার সমাজবিন্যাসে গুণগত পরিবর্তন ঘটেছিল অনেক। যদি হুমায়ুন কবির নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিভূমি পশ্চিম বাংলায় প্রতিষ্ঠার জন্য অত অস্থির হয়ে না উঠতেন, এবং প্রফুল্ল ঘোষ মহাশয় পরিণত বার্ধক্যে আর একবার মুখ্যমন্ত্রী হবার জন্য অতটা উদ্‌গ্রীব না হতেন, সম্ভবত যুক্তফ্রন্ট সরকার এলোমেলো চেহারা নিয়ে আরও কিছুদিন টিকে থাকতে পারতো। কিন্তু ভয়ের মধ্যে ভয়, সমস্যার মধ্যে সমস্যা। অজয় মুখোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিশেবে আদৌ সড়গড় নন, বয়সের পীড়নে প্রায়ই মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঘুমে ঢলে পড়েন। তাঁর অনুজ বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায় মন্ত্রিসভায় সি. পি. আইয়ের অন্যতম প্রতিনিধি, জ্যোতি বসু বা হরেকৃষ্ণ কোঙার তখন তাকে ঠেলা দিয়ে বলেন: ‘ও মশাই, আপনার ছোড়দাকে জাগিয়ে তুলন’।

    আরও অনেক সমস্যা জড়ো হয়ে এলো। মার্কসবাদী কমিউনিস্টদের রাজনৈতিক প্রভাব সমাজের সর্বস্তরে দ্রুত বাড়ছে, বাংলা কংগ্রেসের মধ্যে অনেকেই সন্ত্রস্ত। তারা দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করলেন, ইন্দিরা গান্ধি বাংলার দখলদারি ফিরে পেতে উৎসুক, আশু ঘোষ নামে এক ফড়ে, কলকাতায় অনেক বাড়িঘরের মালিক, ঠিকেদার হিশেবে কাজে নেমে পড়লেন, আটষট্টি সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে তেরো-চোদ্দো জন বিধায়ক বাংলা কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এলেন প্রফুল্ল ঘোষের নায়কত্বে। অতুল্য ঘোষকে জব্দ করবার জন্য ইন্দিরা গান্ধি সোৎসাহে এগোলেন, অতুল্যবাবুকে জিজ্ঞাসা পর্যন্ত করলেন না। রাজ্যপাল ধরমবীরকে দিয়ে অজয়বাবুকে বরখাস্ত করানো হলো, রাতের অন্ধকারে প্রফুল্ল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী পদে বৃত হলেন। পরিণাম কিন্তু আখেরে আদৌ সুবিধার হলো না। তিন-চার মাসের মধ্যেই যাঁরা প্রফুল্ল ঘোষের সঙ্গে গিয়েছিলেন, অথচ মন্ত্রী হতে পারেননি, তাঁরা বিগড়ে গেলেন, আশু ঘোষের সাজানো বাগান শুকিয়ে গেল, প্রফুল্ল ঘোষ পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। এবার রাষ্ট্রপতির শাসন, কলকাতা ও পশ্চিম বাংলাকে অনেক মিষ্টিমধুর কথা শোনানো হলো দিল্লি থেকে, এই আশায়, যদি যুক্তফ্রন্টকে আসন্ন নির্বাচনে হারিয়ে দেওয়া যায়।

    পৃথিবীতে কৌতুককাহিনীর শেষ নেই। প্রফুল্ল ঘোষের মন্ত্রিসভার শেষ লগ্নে ইন্দিরা গান্ধি অন্তিম আলোচনার জন্য প্রফুল্ল ঘোয-আশু ঘোষ-পূরবী মুখোপাধ্যায় সবাইকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছেন। ভোরের বিমানে দিল্লিগামী সবাই, সেই বিমানে ভূপেশ গুপ্তও আছেন, আমিও আছি। বিমান প্রায় লখনউর আকাশে পৌঁছেছে, হঠাৎ শুনি ভূপেশবাবু গলা উঁচু পর্দায় তুলে তাঁর অভিমত ব্যক্ত করছেন: ‘এ প্লেইনলোড অফ সিন, বিমান-বোঝাই পাপ যাচ্ছে, বিমান-বোঝাই পাপ’।

    ঘটনাসমাচ্ছন্ন বছর, আরও অনেক কিছু ঘটলো। সি. পি. আই.’ (এম)-এর মধ্যে একদল বিপ্লবউন্মার্গী, চীনদেশের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের দৃষ্টান্তে অভিভূত, পশ্চিম বাংলা যে ভারতবর্ষের একটি অঙ্গরাজ্য মাত্র, তা তাঁদের সেই মুহূর্তে খেয়ালে এলো না, তাঁরা ধরেই নিলেন চীনের মতো এখানেও মৃত্তিকা প্রস্তুত, বিপ্লবটি ঘটিয়ে ফেললেই হলো। বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজভুক্ত অনেক ছাত্র-যুবক তাঁদের ডাকে সাড়া দিলেন। দার্জিলিং জেলায় হিমালয়ের সানুদেশে নকশালবাড়ি থানা অঞ্চলে রাজ্য পুলিশের সঙ্গে উৎসাহীদের একটি অংশের সংঘর্ষ, কয়েকজন আদিবাসী কৃষক নিহত হলেন, কয়েকজন মহিলাও, উত্তেজনার পর্দা হঠাৎ উঁচুতে চড়ে গেল। শিলিগুড়ির বিদ্রোহী নেতা চারু মজুমদারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো, কিন্তু আগুন নেভবার কোনও লক্ষণ নেই, মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাব অথচ বেড়েই যাচ্ছে, দলত্যাগীদের জন্য তেমন-কিছু আপাতত কোনও অসুবিধা হলো না , বিশেষ করে হরেকৃষ্ণ কোঙার গ্রামাঞ্চলে যে জমিদখলের বীজমন্ত্র ছিটিয়ে দিয়েছিলেন, তা থেকে মস্ত উপকার হচ্ছিল পার্টির।

    আরও যা ঘটলো, সমর সেন-সুদ্ধু সবাই সদলে ‘নাউ’ পত্রিকা থেকে বিতাড়িত হলাম। একটু-একটু করে হুমায়ুন কবিরের বিরক্তি বাড়ছিল, সমরবাবুর সঙ্গে এই সম্পাদকীয়-সেই সম্পাদকীয় এই প্রবন্ধ-ওই প্রবন্ধ নিয়ে প্রায়ই খিটিমিটি। কে না জানে, কবির সাহেবের অভিযোগের যাথার্থ্য নিয়ে কোনও সন্দেহ ছিল না। হুমায়ুন কবির আশু ঘোষের প্রয়াসে সক্রিয় সাহায্য করেছিলেন, সংঘাত চরমে গিয়ে ঠেকলো প্রফুল্ল ঘোষের মুখ্যমন্ত্রিত্ব গ্রহণকে ‘নাউ’-য়ের এক সম্পাদকীয় প্রবন্ধে এক লোলচর্ম বৃদ্ধের সদ্যোদ্ভিন্নাযৌবনা ষোড়শীর প্রতি লালসা রূপে বর্ণনায়। আমি দিল্লি থেকে চারণ গুপ্ত ছদ্মনামে ‘নাউ’-তে কলকাতা ডায়েরি চালিয়ে যাচ্ছিলাম, কেন্দ্রীয় সরকারি কমিশনের সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও; তারও সাময়িক মুলতুবি। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই কোম্পানি গড়ে বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে টাকা তোলা হলো, নতুন সাপ্তাহিক পত্রিকার উদ্যোগ সম্পূর্ণ, ‘ফ্রন্টিয়ার’। কলকাতা ডায়েরিও নতুন কাগজে স্থানান্তরিত হলো, সমরবাবুর সুহৃদ্‌কুল ও অনুরাগীদের উৎসাহের শেষ নেই, গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউর অদূরে মট লেনে নতুন পত্রিকার দপ্তর। ঘোর বামপন্থী বন্ধু রবি সেনগুপ্ত, ততদিনে তিনি আপাদমস্তক নকশালপন্থী, পত্রিকার অন্যতম কর্ণধার, বিপ্লবের আর যেন একটুও বাকি নেই। রবিবাবুকে যদি কেউ রঙ্গ করে প্রশ্ন করতো: ‘আপনি খড়িবাড়ি না নকশালবাড়ি’, তাঁর হয়ে উত্তর যোগাতাম : ‘উঁহু, উনি পুরোপুরি ফাঁসিদেওয়া’।

    সমর সেনের সঙ্গে আমার মতান্তরের তখন থেকেই একটু-একটু শুরু। যে-কোনও বাঙালি মধ্যবিত্তের মতো, বিপ্লব সম্পর্কে আমারও তখন ঈষৎ রোমান্টিক ধ্যানধারণা, নকশালবাড়ি আন্দোলনের সমর্থনে প্রথম পর্যায়ে বেশ কিছু সম্পাদকীয় লিখেছি ‘নাউ’ ও ‘ফ্রন্টিয়ার’-এ। মাঝে-মাঝে স্নেহাংশু আচার্যের বাড়িতে জ্যোতি বসুর সঙ্গে দেখা হতো, কখনও-কখনও সমর সেনও থাকতেন। সমরবাবু ততদিনে উগ্র মতামত ধারণ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন, প্রায়ই জ্যোতিবাবুর সঙ্গে তাঁর তিক্ত কথাবার্তা, স্নেহাংশুবাবু ও আমি দু’জনেই একটু বিব্রত।

    এখন তো স্বীকার করতে সংকোচ নেই, এই পর্বে অদমনীয় স্বপ্নবিলাসিতায় ভুগছিলাম আমরা অনেকেই। স্বপ্ন দেখার সামাজিক সার্থকতা আছে, পৃথিবীর বিভিন্ন ঋতুতে দেশে-মহাদেশে যে-সমাজ পরিবর্তন ঘটেছে, মানুষের ইতিহাস যে এগিয়ে গেছে, তা কেউ-কেউ মাঝে-মাঝে স্বপ্ন দেখতেন বলেই, স্বপ্ন থেকে সঞ্জাত অঙ্গীকার, অঙ্গীকার থেকে আলোড়ন, আলোড়ন থেকে বিপ্লব। মুশকিল হলো নিছক বাষ্পের সংস্থানে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন থেকে বিপ্লবে উত্তরণ অসম্ভব। স্বপ্নকে পরিপার্শ্বের কাঠ-খড়-রোদের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হয়, মিলিয়ে নিতে হয় রূঢ় বাস্তবের প্রতিটি অণু-পরমাণুর সঙ্গে। যা কল্পনায় সুন্দর করে আঁকা যায়, সেই চিত্রকল্পকে নদী-প্রস্তর-পর্বতসংকুল পৃথিবীতে ততটা অবলীলায় আঁকশি দিয়ে টেনে আকাশ থেকে নামানো যায় না। বিবেচনা প্রয়োজন, পরিচিকীর্ষা প্রয়োজন, প্রতীক্ষা প্রয়োজন। কখনও-কখনও স্বপ্নকে একটু কাটছাঁট করেও নিতে হয়, সম্ভপরতার প্রেক্ষিত থেকে বিচার করে। এই প্রক্রিয়াকেই বোধহয় সাধারণ ভাষায় বলা হয় সাধ ও সাধ্যের সংশ্লেষণ। একটি বিশেষ প্রতীতিতে এখনও আমি অবিচল। নকশালপন্থীরা যদি ওসময় হুট করে দল ছেড়ে না দিয়ে মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আনুগত্য রক্ষা করে চলতেন, তাতে সমাজের সার্বিক উপকারই হতো। এই রাজ্যে ক্ষমতায় পৌঁছে মাঝে-মাঝে ওই দলে যে-ধরনের দুর্বলতা ও বিচ্যুতি চোখে পড়ে, তা হয়তো তা হলে রোধ করা সম্ভব হতো। সুশীতল রায়চৌধুরী-সরোজ দত্তদের তিতিক্ষা তা হলে হয়তো অন্য মাত্রা পেতো, সময়ের ফেরে প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে যে-লড়াই দলের অভ্যন্তরে এখনও চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এঁরা যদি পার্টিতে থাকতেন, লড়াইয়ে জেতা অনেক বেশি সহজ হতো। মার্কসীয় বীক্ষণে আস্থা রাখি। বলে ললাটলিখনে খুচরো বিশ্বাস আরোপ হয়তো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ নয়। তবে যে যা-ই বলুক, দেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে একটি বিশেষ পর্যায়ে নকশালবাড়ি আন্দোলনের মতো অকস্মাৎ-উপগ্রহ, কে জানে, বোধহয় কিছুতেই অনাবির্ভূত থাকতো না।

    একটি ব্যাপারে আমার মনে কোনও দ্বিধা ছিল না, তখনও ছিল না, এখনও নেই। ভারতবর্ষে, বিশেষ করে পশ্চিম বাংলায়, বামপন্থী জনতা মার্কসবাদী কমিউনিস্ট দলের প্রতি যে-আনুগত্য ঘোষণা করেছে, তা চট করে শিথিল হবার নয়। সুতরাং যাঁরা বামপন্থী তথা বিপ্লবী আন্দোলনের মোড় ঘোরাতে চান, গুণগত পরিবর্তনের ছক আঁকেন, তাঁদের এই বৃহত্তম বামপন্থী দলের বাইরে চলে যাওয়া অসার্থক। তাঁরা এই দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বামপন্থী জনতার কাছ থেকেও বিশ্লিষ্ট হবেন, তাঁদের শৌর্য ছুটকো-ছাটকা এখানে-ওখানে প্রিয়জনদের মোহিত করবে, কিন্তু সামগ্রিক আন্দোলনের কোনও কাজে আসবে না। নকশালপন্থী বন্ধুদের তাই তখন বহুবার অনুরোধ জানিয়েছি, তাঁরা বিদ্রোহ জারি রাখুন, কিন্তু পার্টির মধ্যে থেকে রাখুন। ঘটনাবলী অবশ্য অন্যদিকে মোড় নিল। এখনও আমার মনে হয়, নাগি রেড্ডি ও তাঁর সমর্থক-অনুরাগীরা যদি পার্টিতেই থেকে যেতেন, সাময়িক বোঝাপড়া করে, তা হলে দেশের-সমাজের-আন্দোলনের বিপুল সুবিধা হতো, পার্টির মধ্যে সংশোধনবাদী ঝোঁক নিয়ে মাঝে-মাঝে যেসব আকুলি-বিকুলি শোনা যায়, সেগুলি সম্ভবত একটু কম করে উচ্চারিত হতো।

    নাগি রেড্ডির প্রসঙ্গে ভারতীয় উচ্চ-মধ্যবিত্ত সমাজের বিচিত্রগামিতার প্রসঙ্গে আর একবার পৌঁছে যেতে হয়। সত্তরের দশকের উপান্তে সঞ্জীব রেড্ডি দেশের রাষ্ট্রপতি; তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা রাজশেখর রেড্ডি অন্ধ্রপ্রদেশে সি পি আই-এর সম্পাদক; এবং তাঁদের ভগ্নীপতি নাগি রেড্ডি মার্কসবাদী কমিউনিস্ট দল থেকে দুরে সরে ক্রমে নকশালপন্থীদের নেতৃত্বে অবস্থান করছেন। শুধু তাই-ই নয়, সঞ্জীব রেড্ডির সহধর্মিণী নাগি রেড্ডিরই সাক্ষাৎ ভগিনী।

    সাতষট্টি সালের গ্রীষ্মের শেষের দিক, ওই অশান্ত সময়ে কয়েকদিনের জন্য দিল্লি থেকে কলকাতায় এসেছি। হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিটে আমাদের চারতলার ফ্ল্যাটের ঠিক নিচে আই এ এস-ভুক্ত জনৈক মহিলা আমলা থাকতেন, তাঁর পিতামহ ঢাকা জেলার পুরনো দিনের কংগ্রেস নেতা বীরেন্দ্র মজুমদার, উনিশশো ঊনচল্লিশ সালে মাজদিয়া রেল দুর্ঘটনায় মারা যান। মহিলাটির মা জর্মান, অতি শান্ত, সৌজন্যবতী, করুণাময়ী। আমাদের প্রতিবেশিনীর ছোটো বোনের স্বামীও আই এ এস-এ, সেই মুহূর্তে দার্জিলিং জেলার ডেপুটি কমিশনার, তাঁর তত্ত্বাবধানে নকশালবাড়ি আন্দোলনের নেতাদের— কানু সান্যাল, সৌরেন বসু, খোকন মজুমদার, এঁদের— হন্যে হয়ে পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজা হচ্ছে। তাঁর দুই কন্যা ও এক জামাতা-সহ জর্মান মহিলাকে আমরা নৈশাহারে বলেছি। টেবিলে গোল হয়ে বসে খাচ্ছি, আলাপ করছি, হঠাৎ দরজায় বেল। খুলে দেখি রবি সেনগুপ্ত, সঙ্গে আমার অচেনা এক ভদ্রলোক। রবিবাবু নিচু গলায় বললেন: ‘ইনি সৌরেন বসু, আপনার সঙ্গে আলাপ করতে এসেছেন’। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়, এর চেয়ে বড়ো সংকট আর কী হতে পারে, খাবার ঘরে সৌরেনবাবুকে যিনি গ্রেফতার করবেন সেই ডেপুটি কমিশনার মশাই বসে আছেন, আর সৌরেন বসু নিজে দরজায় দাঁড়ানো। দ্রুত তাঁদের দু’জনকে রান্নাঘরের ভিতর দিয়ে শোবার ঘরে নিয়ে গেলাম, খাবার জায়গায় গিয়ে সমাগত অতিথিদের বললাম: হঠাৎ দু’জন দেখা করতে এসেছেন, ওঁদের সঙ্গে একটু কথা বলতে হচ্ছে, মাফ চাইছি কিছুক্ষণের জন্য। সৌরেন বসুর সঙ্গে নকশালবাড়ি-উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা; তিনিই বলছেন, আমি প্রধানত নির্বাক শ্রোতা। আলোচনাক্রমে আমি একবার বোধহয় বলেছিলাম,’ সমস্যা ক্রমশ ঘনীভূত হবে বুঝছেন তো; নকশালবাড়িতে, দেখে মনে হচ্ছে, শিগগিরই ফৌজ নামানো হবে, আপনারা কী করবেন তখন?’ সৌরেনবাবু দ্বিধাহীন, তাঁর উচ্ছ্বাস বেড়ে গেল, ঝটিতি জবাব দিলেন : ‘আমাদের কাছে খবর, নকশালবাড়িতে একটি মারহাট্টা রেজিমেন্ট আসবে। ওরা তো মহারাষ্ট্রের দেহাতি মানুষ, প্রায় সবাই গরিব কৃষক। যে মুহূর্তে জানতে পারবে আমরা জমির জন্য লড়াই করছি, গরিব কৃষককুলের জন্য লড়াই করছি, সঙ্গে-সঙ্গে ওরা ওদের বন্দুককামান-সহ আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে’। আমি আর কথা বাড়ালাম না; রোমান্টিকতা নমস্য, কিন্তু তা তো হঠকারিতারও জনক। এর কিছুদিন বাদে সৌরেনবাবু লুকিয়ে চীন চলে যান, চু এন লী-র সঙ্গে দেখা হয়, চীনের প্রধান মন্ত্রী তাঁকে কী বুদ্ধি-পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন জানি না, তবে সৌরেনবাবু দেখা করতে না এলে এত তাড়াতাড়ি হয়তো আমি নিজে নাস্তিক বনে যেতাম না।

    শুনেছিলাম, ‘চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান’ তাঁদের ভারতীয় অনুরাগীদের এই স্লোগানে উদ্বেল হওয়াতে চীনের নেতারা সৌরেনবাবুর কাছে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন, বলেছিলেন ওটা কাণ্ডজ্ঞানহীন। অবশ্য কলকাতার রকে তখন যুক্তি কপচানো হয়েছিল, ১৯৪২ সালে হীরেন মুখুজ্যে মশাই তো উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, হ্যাঁ, বলবো, শত বীণাবেণু রবে বলবো, সোভিয়েট দেশ আমার পিতৃভূমি; তা হলে সিকি শতাব্দী বাদে চারু মজুমদার কী এমন অন্যায় করেছেন? মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে যে-কমরেডরা বিদ্রোহের ঝাণ্ডা ওড়ালেন, তাঁদের অভিযোগ সংশোধনবাদ রুখতে বেজিং বেতারে প্রত্যহ যে-যে উপদেশাবলী বর্ষিত হচ্ছে এখানকার নেতারা সে-সব কিছুই মানছেন না। শ্লেষবিচ্ছুরণে জ্যোতিবাবু তুলনাহীন, প্রসঙ্গটি উঠতে একদিন সঙ্গে-সঙ্গে মন্তব্য করলেন: ‘সম্পূর্ণ বাজে কথা, আমাদের চেয়ে বড়ো চীনে ভক্ত কে? বিশের দশকের শেষের দিকে, তিরিশের দশকের গোড়ায় সোভিয়েট পার্টি লম্বা-লম্বা নির্দেশ-উপদেশ পাঠাত চীনে পার্টিকে। চীনে কমরেডরা তা শ্রদ্ধার সঙ্গে পড়তেন, পড়ে ড্রয়ারে ঢুকিয়ে রাখতেন। আমরাও তো ঠিক তাই করছি চীনে বেতারের উপদেশাবলী নিয়ে।’

    কয়েক মাস গত হলে ‘ফ্রন্টিয়ার’-এ আমার লেখা বন্ধ হয়ে গেল। সমরবাবুর উগ্রতর সুহৃদরা নালিশ জানাতে শুরু করলেন, অশোক মিত্রের লেখাগুলি বড়ো বেশি মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি-ঘেঁষা, পত্রিকার পবিত্রতা নষ্ট করছে। মত-কষাকষি চরমে উঠলো ঊনসত্তর সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে। দ্বিতীয় যুক্ত ফ্রন্ট সরকার গঠিত হয়েছে, অজয় মুখোপাধ্যায় পুনর্বার মুখ্যমন্ত্রী, বিধান সভায় সি পি আই (এম) সর্ববৃহৎ দল হওয়া সত্ত্বেও জ্যোতিবাবু ফের উপমুখ্যমন্ত্রী, অবশ্য এবার তিনি অর্থ দপ্তর নয়, স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বে। প্রায় গোড়া থেকেই বাংলা কংগ্রেসের সঙ্গে জ্যোতিবাবুদের বিসংবাদ শুরু, অনেক নাটক-যাত্রা হলো, ইন্দিরা গান্ধি ইতিমধ্যে প্রচুর অঙ্ক কষেছেন, সত্তর সালের শুরুতে দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকার ফের ভাঙলো। বাংলা কংগ্রেসের সুপারিশে তৎকালীন রাজ্যপাল আর-এক দফা পশ্চিম বঙ্গের মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করলেন। আট-দশ মাস বাদে, লোকসভা নির্বাচনের পাশাপাশি, রাজ্য বিধানসভার পুনরায় নির্বাচন, চার বছরের মধ্যে তৃতীয় বার। সি পি আই (এম)-এর সঙ্গে কয়েকটি বামপন্থী দল রইলো, অন্যদিকে সি পি আই ও ফরোয়ার্ড ব্লক বাংলা কংগ্রেসের সঙ্গে। বরানগর কেন্দ্রে কংগ্রেস, বাংলা কংগ্রেস, সি পি আই, ফরোয়ার্ড ব্লক এবং নকশালপন্থীদের সর্বসম্মত একক প্রার্থী অজয় মুখোপাধ্যায় জ্যোতি বসুর বিরুদ্ধে। ‘ফ্রন্টিয়ার’-এ সম্পাদকীয় বেরোলো অজয় মুখোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়ে; আমি তা পড়ে বিমূঢ়। জ্যোতি বসু অবশ্য অনেক ভোটে এবারও জিতেছিলেন। একটি ঘটনা ঘটলো, এখন হাসির উদ্রেক করে। আমার বহুদিনের বন্ধু হিতেন ও অ্যাঞ্জেলা ভায়া তখন কলকাতায়, হিতেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের অধ্যক্ষ পদে সমাসীন, আলিপুরের নিউ রোডে ওদের বাড়িতে আমাদের, সমরবাবুদের এবং আরও কয়েকজনকে খেতে বলা হয়েছিল এক সন্ধ্যায়, বরানগরের নির্বাচনী ফল যেদিন বেরোবার কথা। সমরবাবুর অনুরোধে রেডিও খোলা হলো, আমরা সংবাদ শুনলাম, অজয়বাবু ভীষণভাবে হেরে গেছেন। সমরবাবুর মেজাজ সহসা খিঁচড়ে গেল। বরাবরই দেখেছি, সামান্য জলপথে বিহার করলে ওঁর মুখ থেকে নিখাদ খাঁটি কথা বেরোয়। জ্যোতিবাবুর জয় ও অজয় মুখোপাধ্যায়ের পরাজয় নিয়ে ওই সন্ধ্যায় আমাদের দু’জনের মধ্যে প্রথমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ, পরে রীতিমতো কড়া বাক্যাবলীর বিনিময়। সমরবাবু থেমে-থেমে, গভীর তিক্ততার সঙ্গে জানালেন, আমি পর-পর তাঁর দুটো পত্রিকারই— ‘নাউ’ এবং ‘ফ্রন্টিয়ার’-এর— সর্বনাশ করেছি, সি পি আই (এম)-এর প্রতি আমার ধারাবাহিক পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন দ্বারা, তাঁর, ও পত্রিকাদ্বয়ের, বদনাম হয়েছে। এর পর সমরবাবুর কাগজে আমার পক্ষে লেখা চালিয়ে যাওয়া সত্যিই অসমীচীন হতো৷ সুধীন্দ্রনাথ দত্তের ইংরেজি প্রবন্ধসংকলনের একটি আলোচনা সমরবাবুর কাছে ইতিমধ্যে গচ্ছিত ছিল, আর ফেরত চাইনি, ওটা ছাপা হয়ে গেল। তবে আর কোনওদিন ‘ফ্রন্টিয়ার’-এ লিখিনি, যদিও সমরবাবুর সঙ্গে ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যসম্পর্কে আদৌ চিড় ধরেনি, আমাদের মেলামেশা অব্যাহত থেকেছে, সমরবাবু যতদিন বেঁচে ছিলেন, শেষ পর্যন্ত।

    কলকাতায় ঊনিশশো ঊনসত্তর-সত্তর-একাত্তর জুড়ে আরও অনেক কিছু ঘটছিল। রবি সেনগুপ্ত তখন দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য নকশাল সমর্থক, সমর সেনের সঙ্গে রাজযোটক। আমি লেখা বন্ধ করলে কী হবে, আগুন-ঝরানো রচনা-লেখকের অভাব ছিল না কলকাতা শহরে, তাঁরা ‘ফ্রন্টিয়ার’-এ আসর জমিয়ে রইলেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরোনো আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অত্যন্ত প্রতিভাবান ছাত্র নয়ন চন্দ তাঁদের অন্যতম; নয়ন এখন বিশ্বখ্যাত সাংবাদিক। অবশ্য অন্য দিকে ইতিমধ্যেই অন্তত উৎপল দত্তের অত্যুৎসাহী বিপ্লবী অধ্যায় সমাপ্ত। কিছুদিন পর্যন্ত উৎপল, ও সেই সঙ্গে লিটল থিয়েটার গ্রুপ, নকশালবাড়ি আন্দোলনের উজ্জ্বলন্ত দৃষ্টান্তে মোহিত। উৎপল ও তাপস সেন শিলিগুড়ির গোপন ডেরায় চারু মজুমদারের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন, তখনই বোধহয় উৎপলের মোহাচ্ছন্নতা একটু কমেছিল, তা হলেও মস্ত কুচকাওয়াজ করে ‘তীর’ নাটক লেখা হলো, অভিনব মঞ্চস্থাপনা, বিভিন্ন কাট-আউটে জ্যোতি বসু-প্রমোদ দাশগুপ্ত-হরেকৃষ্ণ কোঙারের মুখের প্রতিচ্ছবি, তাঁদের মুখ দিয়ে অনেক প্রগাঢ় প্রতিক্রিয়াশীল বচন শোনানো, নকশালবাড়ি লাল সেলামের জয়ধ্বনিতে মিনার্ভা মঞ্চ তিন ঘণ্টা জুড়ে কম্পমান।

    একটু বাদেই অকস্মাৎ যবনিকা পতন। জেমস আইভরি-ইসমাইল মার্চেন্ট জুটি অনেক ভারতীয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে, প্রধানত মুম্বইতে, এক চলচ্চিত্রের শুটিং করছেন, উৎপলকে, অনুমান করছি, অনেক টাকার বিনিময়ে, প্রধান ভূমিকায় বেছেছেন। সেই মাহেন্দ্রমুহূর্তে উৎপল দত্ত পুনরায় গ্রেফতার, ঠিক কী মামলায় জড়িয়ে প্রথমে ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না, তখনও প্রফুল্ল ঘোষের স্বল্পায়ু মুখ্যমন্ত্রিত্ব চলছে। মার্চেন্ট আইভরিদের মাথায় হাত, তাঁদের ছবির মুক্তি পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, তাতে প্রচুর ব্যবসায়িক ক্ষতিরও ঝুঁকি। পর্দার অন্তরালে ঠিক কী ঘটেছিল বোঝা মুশকিল, কিন্তু একদিন শুনলাম, উৎপল মুচলেকা দিয়ে জেল থেকে বেরিয়ে সঙ্গে-সঙ্গে বিমানে চেপে মুম্বইমুখো শ্যুটিঙের উদ্দেশ্যে।

    তখনও আমি ‘ফ্রন্টিয়ার’-এ লেখা ছাড়িনি, দিল্লিতে প্রতি সপ্তাহে সমরবাবু চিঠি দিতেন, কে কী লিখছেন, আমার কাছ থেকে পরবর্তী সংখ্যার জন্য কী লেখা আশা করছেন, এ-সমস্ত জানিয়ে। উৎপল-কাহিনী সমাপ্ত হবার পর এরকম এক পোস্টকার্ড, একটি-দু’টি কেজো কথাবার্তার পর সমরবাবুর স্বাক্ষর: ইতি সমর। হঠাৎ একটি পুনশ্চ সংযোজন: ‘উৎপলের কাণ্ডটা দেখলেন?’ উৎপল দত্ত অবশ্য পরে তাঁর লেখা এক ইংরেজি গ্রন্থে মুচলেকা দেওয়ার ব্যাপারটাকে লঘু করে বর্ণনা করেছেন: শ্রেণীশত্রুদের সঙ্গে শঠতায় অপরাধ নেই, তাদের উজবুক বানিয়ে যদি কারান্তরাল থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ থাকে, তা কেন গ্রহণ করা হবে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুধীন দাশগুপ্ত – সম্পাদনা: অশোক দাশগুপ্ত
    Next Article আঙ্কল টমস কেবিন – হ্যারিয়েট বিচার স্টো

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }