Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আপিলা-চাপিলা – অশোক মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প696 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আপিলা-চাপিলা – ২

    দুই

    বছর ঘোরে। এবার স্কুলে ভর্তি হবার পালা। আর্মেনিটোলা স্কুলে কিছুদিন আগে পর্যন্ত সাহেব প্রধান শিক্ষক ছিলেন। আমি যখন ভর্তি হতে গেলাম, এক বাঙালি খৃস্টানধর্মী ভদ্রলোক, একদা সম্ভবত সৈন্যবাহিনীতে ছিলেন, বীরেন্দ্রকুমার বিশ্বাস, প্রধান শিক্ষকের পদে আসীন। কড়া মানুষ; কোনও বিষয়ই তেমন পড়াতেন না, তবে স্কুলের নিয়ম-অনুশাসন রক্ষা করতেন সুদক্ষভাবে। ক্লাস চলাকালীন প্রায়ই করিডোর দিয়ে হেঁটে বেড়াতেন, লক্ষ্য করতেন, কোথাও শোরগোল হচ্ছে কি না, বা কোনও ছেলে দুষ্টুমি করছে কিনা। তাঁর হাতে ছড়ি। আমাদের দিকে মাঝে-মাঝে তাকিয়ে হয়তো কপট রাগেই বলতেন : ‘আমার বেতটা দেখেছো, তোমাদের চাইতে লম্বা’। ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতাম তাই শুনে।

    মুশকিল হলো ভর্তি হবার দিনই। একটা পরীক্ষা দিতে হবে। তৃতীয় শ্রেণীর জন্য নির্দেশিত কক্ষে তিনটি সারণিতে বেঞ্চিগুলি সাজানো। আমি বসেছি তৃতীয় সারণির একেবারে শেষের দিকে; ছেলেরা উচ্চ-অনুচ্চ স্বরে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছে। এমন মুহুর্তে যিনি ক্লাস-শিক্ষক, নামটি এখনও মনে আছে, হেরম্বচন্দ্র ঘটক, অনেকে তাঁকে রঙ্গ করে ডাকতেন, ‘মিস্টার হর্স’, ঘটক-ঘোটকের উচ্চারণ-নৈকট্য হেতু। তো তিনি প্রথম সারণির ছেলেদের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করলেন: ‘লেখো’। কোনও সরল বাংলা বই থেকে আট-দশটি পঙ্‌ক্তি ধীরে-ধীরে বললেন। আমি কিন্তু বসেই রইলাম; আমার ধারণা হলো, উনি তো প্রথম সারণির সামনে দাঁড়িয়ে বলছেন, তৃতীয় সারণিতে উপবিষ্ট আমি, আমি কেন লিখতে যাবো ? যে শাদা কাগজগুলি আমাদের মধ্যে বিলি করা হয়েছিল, মিনিট পনেরো বাদে তা নিয়ে নেওয়া হলো। আমার কাগজটি অবশ্য শাদাই থেকে গেল, আঁচড়বিহীন। ঘণ্টা দেড়েক বাদে বাবা প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করতে এলেন। তিনি সবিনয়ে বললেন, ‘আপনার ছেলের এখনও ভালো করে বোধোদয় হয়নি। কিছুই লিখতে পারেনি। বাড়িতে একটু শিখিয়ে-পড়িয়ে না হয় আগামী বছর ভর্তি করাবেন।’ বাবা জানালেন, বাড়িতে লেখাপড়ার ব্যাপারে আমি অনেকটাই এগিয়ে গেছি। প্রধান শিক্ষকমশাই কী ভাবলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সন্তান, শেষ পর্যন্ত ভর্তি করে নিলেন।

    যত দূর মনে পড়ে, আমরা বোধহয় সবসুদ্ধু তিরিশ-পঁয়তিরিশ জন ছেলে ওই তৃতীয় শ্রেণীতে ছিলাম। প্রায় অর্ধেক হিন্দু, অর্ধেক মুসলমান। সরকারি স্কুল বলেই বোধহয় মুসলমান ছাত্ররা একটু বেশি পরিমাণে এখানে পড়তে আসতো। হিন্দু ছাত্রদের শ্রেণীবিন্যাস উচ্চবিত্ত থেকে বড়োজোর নিম্ন মধ্যবিত্ত পর্যন্ত। কিন্তু মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই আশপাশের মহল্লার বস্তি থেকে এসেছে। তাদের বাড়িতে শিক্ষার আদৌ কোনও ঐতিহ্য ছিল না, পরিবার থেকে তারাই প্রথম, যারা স্কুলে ভর্তি হয়েছে। শিশুরা সম্ভবত খুব নিস্পাপ হয়। অমুকরা হিন্দু, তমুকরা মুসলমান: এই বোধ হয়তো ছিল, তবে তা থেকে কোনও বিকৃত সিদ্ধান্তে পৌঁছুবার উৎসাহ কারও মধ্যে চোখে পড়েনি। স্কুলের চৌহদ্দির মধ্যে সবাই সবাইর সমান, সবাই সবাইকে বন্ধুভাবে মেনে নিয়েছি। কখনও-কখনও ঝগড়া হয়েছে, কিন্তু সেই কলহ সাম্প্রদায়িক বিষে জর্জরিত হয়নি।

    উপরের ক্লাসে যাঁরা পড়তেন, তাঁরা আমাদের কাছে নায়কতুল্য। খেলাধুলোর উদ্যোগে হোক, নাটকে-আবৃত্তিতে হোক, কিংবা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্কুল বাড়ি সাজানোর উপলক্ষ্য হোক, তাঁদের প্রধান ভূমিকা নিয়ে আমাদের ছোটোদের মধ্যে সোচ্চার অথবা অর্ধ-উচ্চারিত কৌতূহল আর উৎকণ্ঠা। উঁচু ক্লাসে পড়তেন ঢাকার নবাববাড়ির ছেলে ইউসুফ রেজা; হকিতে তিনি তুখোড়! ইউসুফদা বড়োললাকের বাড়ির ছেলে, নিয়মিত স্কুলে আসতেন না তেমন। তবে অন্য কোনও স্কুলের সঙ্গে হকি খেলার প্রস্তাব এলেই তাঁকে খবর পাঠানো হতো; তিনি হাজির হয়ে আমাদের কৃতার্থ করে দিতেন। কিংবা ধরা যাক দোলারদা’র কথা। স্কুলের পশ্চিম-উত্তরপ্রান্ত সংলগ্ন মসজিদবাড়ির পাশের বস্তিতে থাকতেন। কিন্তু যখন বাইরে বের হতেন, পোশাকে খুব কেতাদুরস্ত। দোলারদা বেশ কয়েক বছর ধরেই প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়ে আসছিলেন, কৃতকার্য হচ্ছিলেন না। তাতে কী, আমাদের স্কুলের যে-কোনও সমস্যার আসান করতে হলে দোলারদাই ভরসা। বনভোজনে যেতে হবে, দলপতি দোলারদা। টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের স্কুল দলের ক্রিকেট অথবা ফুটবল খেলার ব্যবস্থা হয়েছে, নেতৃত্বে দোলারদা। গ্রীষ্মকালে প্রভাতী স্কুল, গ্রীষ্মবকাশের ছুটি শুরু হবার দিন মাস্টারমশাইদের ফুল দিয়ে, কবিতায় বন্দনা রচনা করে সম্ভাষণ জানাতে হবে, প্রধান উদ্যোক্তা দোলারদা। ইদলশরিফ অনুষ্ঠানে দোলারদা, এমনকি সরস্বতী পুজোর ব্যাপারেও প্রধান পরামর্শদাতা দোলারদা। মাস্টারমশাইদের মধ্যে অধিকাংশই হিন্দু, একজন-দু’জন করে মুসলমান শিক্ষক সবেমাত্র যোগ দিচ্ছিলেন। পরাধীন দেশের আর্থিক দুর্দশা তখন চরমে। সরকারি স্কুলে তা-ও মাস্টারমশাইরা পঁচাত্তর টাকা করে মাইনে পেতেন, এবং কাজের স্থিরতা ছিল। অন্য পক্ষে বেসরকারি স্কুলে মাইনের হার সরকারি স্কুলের হারের অর্ধেকেরও কম।

    একটু উঁচু ক্লাসে পৌঁছুবার পর আমাকে এক ভদ্রলোক বাড়িতে থেকে অঙ্ক পড়াতেন। তিনি পদার্থবিদ্যায় বি.এসসি-তে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম, এম. এসসি-তেও, বি.টি-তেও প্রথম শ্ৰেণী। শহরের পশ্চিমপ্রান্তের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাসিক পঁচিশ টাকা মাইনেতে কাজ করতেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ বাধবার পর একচল্লিশ-বেয়াল্লিশ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের আবহাওয়া দফতরে চাকরি নিয়ে পুনায় চলে গেলেন, শুরুতেই মাস মাইনে ছ’শো টাকা। যে কথা বলছিলাম, মন্দার ভয়াবহতা, আর্থিক দুরবস্থার সেই ঋতুতে, অন্যত্র কাজের অভাবে, বুদ্ধিমান প্রতিভাবান ব্যক্তিরা সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করবার সুযোগ পেয়ে বর্তে যেতেন। নিজেরা পড়াশুনো করতেন, প্রচুর পরিশ্রম করে ছেলেদের জ্ঞানান্বিত করবার চেষ্টা করতেন। এখন বলতে দ্বিধা নেই, বিদ্যাচর্চা সম্পর্কে আমার যতটুকু আগ্রহ, তার প্রায় পুরোটাই আর্মেনিটোলা স্কুলের সেই সব মাননীয় শিক্ষকদের প্রসাদে।

    নিচের এবং উপরের ক্লাসে যে-যে বইগুলি পড়ানো হতো, তাদের কিছু—কিছু স্মৃতি এখনও মুছে যায়নি। বঙ্কিমচন্দ্রের প্রায় সমসাময়িক ‘বান্ধব’ পত্রিকার সম্পাদক, ঢাকার বিশিষ্ট নাগরিক, কালীপ্রসন্ন ঘোষের পৌত্র শ্রীপতিপ্রসন্ন ঘোষ সম্পাদিত একটি বাংলা সংকলন নিচের ক্লাসে পাঠ্য ছিল। বইয়ের গোড়ায় শ্রীপতিবাবুর নাম জ্বল্‌জ্বল্‌ করে ছাপা। শ্রীশ্রীপতিপ্রসন্ন ঘোষ। আমি বরাবর বলতাম, শ্রীশ্রী পতিপ্ৰসন্ন ঘোষ, অর্থাৎ তাঁর উপর দেবত্ব আরোপ করতাম। যদিও ভদ্রলোক অতিপরিচিত, প্রায়ই আমাদের বাড়িতে আসতেন আড্ডা দিতে, তাঁর আটপৌরে আলাপের সঙ্গে কিছুতেই তাঁর ডবল শ্রী-ত্ব মেলাতে পারতাম না।

    আরও যা মনে পড়ছে, তৃতীয় শ্রেণীতে শ্রীপতিবাবুর যে-সংকলনগ্রন্থ পড়তে হতো, তার প্রথম পাঠ রবীন্দ্রনাথের গান ‘তোমারই গেহে পালিছ স্নেহে তুমি ধন্য ধন্য হে’। সমস্যা দেখা দিল। ড্রিল-ড্রয়িংয়ের সঙ্গে আমাদের একটি আলাদা ঘণ্টা ছিল গানের জন্য। ক্লাস-শিক্ষক ঘটকস্যার সর্বপারঙ্গম, আমাদের গানও শেখাতেন। শেখাবার জন্য ধার্য ছিল ‘তোমারই গেহে…’ সংগীতটিই। ঘটক স্যার স্কেল উঁচিয়ে আমাদের বলতেন, ‘পদ বলো।’ গানের পদ কাকে বলে, তা আমার অন্তত জানা ছিল না। সুতরাং বছর ভরেই আমার ভাগ্যে জুটতে লাগলো স্কেলের বাড়ি, কিছুতেই আর ‘তোমারই গেহে’ গানটি শেখা হলো না। যেটা বলতে খুব আনন্দ পাচ্ছি, বিয়াল্লিশ-তেতাল্লিশ বছর বাদে যখন রাজ্যের মন্ত্রী হিশেবে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে বসা শুরু করেছি, হঠাৎ একদিন বেলঘরিয়া কিংবা বনহুগলি থেকে ঘটকস্যার কাঁপা—কাঁপা অক্ষরে এক আশীর্বাদ-ভরা চিঠি পাঠালেন, যত্ন করে রেখে দিয়েছি চিঠিখানা।

    ব্যায়াম শিক্ষক ছিলেন পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায়। প্রথাগত কুচকাওয়াজ তো আমাদের দিয়ে করাতেনই, সেই সঙ্গে স্কুল-প্রাঙ্গণে সবাইকে জড়ো করে ‘ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল নিম্নে উতলা ধরণীতল’-এর সঙ্গে সুর-তাল মিলিয়ে হাত-পা ছোড়াছুড়িতেও অভ্যস্ত করাতেন। অঙ্কন শিক্ষক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, সম্ভবত রাঢ় দেশের মানুষ, আমরা খুব বেশি চেঁচামেচি করলে জুলপির উপর চুল ধরে টানতেন। কিন্তু অন্য সময় প্রশান্ত, সমাহিত। ব্ল্যাকবোর্ডে রঙিন খড়ি বুলিয়ে বলতেন, ‘এমনি করে, এমনি করে’। আমরা তাঁকে অনুসরণ করছি কি না তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ ছিল না বলেই প্রথম বছর বাৎসরিক পরীক্ষায় একটি পাখি আঁকতে বলায় আমি তিনটি এঁকে পঞ্চাশে তিন পেয়েছিলাম। তাতে অবশ্য প্রমোশন আটকায়নি। সংস্কৃতের পণ্ডিতমশাই প্রিয়নাথ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সংকলিত একটি গ্রন্থ উপরের ক্লাসে আমাদের পাঠ্য, সম্ভবত প্রবেশিকা পরীক্ষায় সেই গ্রন্থ থেকে প্রশ্ন করা হতো। পণ্ডিতমশাই-কৃত এই সংকলনের কথা বিশেষ করে মনে আছে, কারণ তাতে বুদ্ধদেব বসুর একটি কবিতা ছিল। তাতে বুদ্ধদেব অঙ্গীকার করছেন, তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ উচ্চাভিলাষ, গ্রামে গিয়ে কৃষিকাজে নিজেকে নিয়োগ করা। কবে কোন মাহেন্দ্রলগ্নে যে তিনি কবিতাটি রচনা করেছিলেন, পরে মাঝে-মাঝেই লোভ হয়েছে বুদ্ধদেব বসুকে জিজ্ঞেস করি। পাছে তিনি লজ্জা পান, প্রতিবারই নিজেকে সংবরণ করেছি।

    সরকারের স্কুল, মহামান্য ইংরেজ সরকারের। সুতরাং ইতিহাস পাঠের অর্ধেকটা জুড়ে ইংল্যান্ডের ইতিহাস, বাকিটা ভারতের। প্রবেশিকা পরীক্ষায়ও ইতিহাসের এই দু’টি ভাগ বজায় ছিল। ১৯৩৬ সাল, আমি স্কুলের নিচের শ্রেণীতে। জানুয়ারি মাসে সম্রাট পঞ্চম জর্জের রজতজয়ন্তী অভিষেক। স্বদেশী পরিবার থেকে এসেছি, তাতে তো ব্যত্যয় ঘটবার নয়: সারা স্কুল জুড়ে খানাপিনা হলো, আমরা নিমন্ত্রিত, আমাদের অভিভাবকরা পর্যন্ত।

    (পরেও আর একবার মহোৎসবের আয়োজন হয়েছিল আমাদের স্কুলে। প্রধান শিক্ষক মহোদয় একটু বেশি বয়সে, ১৯৪০ সালে, বিবাহ করলেন। আমাদের আনন্দ ধরে না। ব্যান্ড বাজলো, বিউগল বাজলো, স্কুলের চারশো ছাত্র খানাপিনা করলো। পরের দিন ছুটি ঘোষিত হলো, যেমন হয়েছিল পঞ্চম জর্জের জয়ন্তী উৎসবের পরের দিন।)

    বাড়িতে হয়তো আগেই এ-বি-সি-ডি তালিম নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু স্কুলেই রীতিমতো ইংরেজি শিক্ষার শুরু। বহু বছর ধরে টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন মাইকেল ওয়েস্ট। তিনি ছাত্রদের ভালো করে ইংরেজি শেখবার সুবিধার জন্য অভিনব পদ্ধতিতে একটি পাঠ্যপুস্তকমালা রচনা করেছিলেন, ‘নিউ মেথড রিডার’। একেবারে গোড়ায় ইংরেজি অক্ষরমালা চেনাননা, তারপর বিএটি ব্যাট, সিএটি ক্যাট পর্যায়। প্রতি খণ্ডে হয়তো পনেরো-কুড়িটি অধ্যায়: কোনওটি গল্প, কোনওটি কবিতা, কোনওটি হয়তো বা প্রবন্ধ, সরল শব্দের সমারোহ। সেই সঙ্গে ছবির বাহার, প্রতিটি অধ্যায়ের পর লেখা থাকতো ‘তুমি এখন পঁচিশটি শব্দ জানো’, বা ‘আটশো পঞ্চাশটি’ কিংবা ‘এক হাজার’। আর ছিল ভারতীয় পুরাণ থেকে অথবা আরব্য উপন্যাস থেকে সরলীকৃত কিছু উপাখ্যান, নয়তো কোনও ইংরেজি বাচ্চাদের ছড়া। ধাপে-ধাপে এগিয়ে যাওয়া, কবিতার ছন্দ শেখা, পাশাপাশি এখানকার-ওখানকার নানা ইতিবৃত্ত, আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের কথা ওয়েস্ট সাহেবের বই থেকেই আমি প্রথম জানতে পেরেছিলাম। অথবা সেই ভয়ংকর দানবের কথা, যে বলতো, ‘ফি ফাই ফো ফাম, আই স্মেল দি স্মেল অফ এ ম্যান, বি হি অ্যালাইভ অর বি হি ডেড, আই শ্যাল ইট হিম উইথ মাই ব্রেড’। আলিবাবা আর সেই চল্লিশ দস্যুর কাহিনীও ওয়েস্ট সাহেবই আমাদের প্রথম শুনিয়েছিলেন। একটু-একটু করে এগোতাম আর মনে-মনে আওড়াতাম এতগুলি ইংরেজি শব্দ আমরা এখন জানি, প্রভুদের ভাষার শব্দ।

    তবে শিক্ষার বাহন কিন্তু পুরোপুরি বাংলাই ছিল। ইতিহাস, ভূগোল, গণিত: সব-কিছুরই পাঠ্যপুস্তক বাংলাতে। ইতিহাস-ভূগোল চর্চার ক্ষেত্রে আমাদের স্কুলে খানিকটা অভিনবত্ব। আগেই উল্লেখ করেছি, ইতিহাস পাঠের দুটো ভাগ: ইংল্যান্ডের আর ভারতের। প্রধান-প্রধান ঐতিহাসিক চরিত্রদের মুখে শিক্ষকমশাইরা কাল্পনিক ভাষণ রচনা করে বসিয়ে দিতেন, ভাষণে তাঁদের উজ্জ্বল কীর্তি ধরা পড়তো। তেমনই ভূগোলের ক্ষেত্রেও: বাঘা-বাঘা পর্যটকদের মুখে তাঁদের রোমাঞ্চকর ভ্রমণের বৃত্তান্ত উল্লিখিত হতো, যেমন মার্কো পোলো, আলবেরুনি, অথবা, নামটা যত দূর মনে পড়ছে, লাতিন পরিব্রাজক রুবরুকি। বিভিন্ন শ্রেণী থেকে একটু চোখে-মুখে কথা-কওয়া ছেলেদের বেছে নিয়ে তাদের দিয়ে এ সব ভূমিকার ভাষণ বলার সঙ্গে হাত-পা নেড়ে অভিনয় করার ব্যবস্থা ছিল দেদার। পড়ন্ত বিকেলে স্কুল ছুটি হবার আগে দোতলায় ট্রেনিং কলেজের লেকচার গ্যালারিতে ছাত্রদের জড়ো করে ঐতিহাসিক কিংবা ভৌগোলিক চরিত্রে অভিনয়ের আয়োজন, যথাযথ পোশাক পরিয়ে, এমনকি গোঁফ-দাড়ি-পরচুলার ব্যবস্থা করেও। একই সঙ্গে পড়াশুনো তথা বিনোদনের সমাহার।

    আরও যে-ব্যাপারটা ছিল, বছরের গোড়ার দিকে, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিটি ক্লাসেই বি.টি কলেজের শিক্ষার্থীরা উপর থেকে এসে আমাদের পড়ানোর ভার নিতেন। এটা তাঁদের পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত সূচী, তথাকথিত কেজো অনুশীলন, তাঁরা কীরকম পড়াচ্ছেন, ছাত্রদের মধ্যে কতটা আগ্রহ-উৎসাহ সঞ্চার করতে পারছেন, পড়াতে গিয়ে তাঁদের জিভ শুকিয়ে যাচ্ছে কি না, এসব বিষয়ে তাঁদের পরীক্ষা নেওয়া হতো। পরীক্ষকমশাইরা এ সমস্ত কিছু দেখে এবং শুনে ক্লাসের এক কোণে বসে তাঁদের মন্তব্য নোটখাতায় পেশ করে চলে যেতেন। পাঠরত বি.টি ক্লাসের বাচ্চা মাস্টারমশাইরা যেমন আসতেন, তেমনই আসতেন কচি দিদিমণিরাও। দিদিমণিদের মধ্যে ভালোমানুষ কাউকে—কাউকে নিয়ে আমরা একটু মজাও করতাম। আর আমাদের খোদ মাস্টারমশাইরাও দিদিমণিদের খেপাতেন। বলতেন, ‘আমাদের ছেলেরা আপনাদের এত ভালোবাসে যে আপনারা চলে যাওয়ার পরও কিছুদিন আমাদের স্যার না বলে দিদিমণি সম্বোধন করে ওরা।’

    স্কুলের নিচের ক্লাস থেকে শুরু করেই, কিংবা তার আগে থেকেই, পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি অতিক্রম করে, যে-কোনও বইয়ের দিকে আমার ঝোঁক। অতি শৈশবে, তখন তো রবীন্দ্রনাথের ‘সহজ পাঠ’ আমাদের জন্য ছিল না, বিদ্যাসাগর মশাইর ‘বর্ণ পরিচয়’ ও যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ‘হাসিখুশী’ পেরিয়ে ‘মোহনভোগ’ (‘কে নিবি মোহনভোগ আয় ছুটে’ আয় সে যে অমৃতযোগ স্নেহমমতায়’), উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সুললিত ভাষায় কাহিনীসম্ভার। কুঁচবরণ-কন্যা-তার-মেঘবরণ-চুল, চাঁদ-সদাগর, ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমি রাক্ষস-খোক্কস, সুয়োরানি-দুয়োরানিদের গল্পের পর গল্প: ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র সঙ্গে আরও এন্তার বইয়ের মিশেল। এখন আর মনে আনতে পারি না কোথায় পড়েছিলাম: ‘পেটুক গণেশ, পেটুক গণেশ, তোমার কী কী খেতে রুচি?’ যার ঝটপট জবাব: ‘নরম-নরম রসগোল্লা আর গরম-গরম লুচি’। একটু বড়ো হলে আনন্দ-আবিষ্কারের কপাট একটির পর আর একটি খুলে যায়। দেব সাহিত্য কুটিরের বার্ষিক সংকলনগুলি, ‘বার্ষিক শিশুসাথী’, ‘মৌচাক’, ‘রামধনু হেমেন্দ্রকুমার রায়ের রুদ্ধশ্বাস-করা বিমল-কুমার কাহিনী ‘যখের ধন’, ‘আবার যখের ধন’, পাশাপাশি জয়ন্ত-মানিক-সুন্দরবাবু। সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়ের ‘চালিয়াৎ চন্দর’, দমকা হাওয়ার মতো শিবরাম চক্রবর্তী। সাধারণ জ্ঞান-বিলোনো সেই চমৎকার বই ‘কে কী কেন কবে কোথায়’, লেখকের নাম এখন আর মনে নেই। যেমন মনে নেই কে লিখেছিলেন, এক ছারপোকার সেই চমকপ্রদ আত্মজীবনী, ‘রক্তচোষার দিগ্বিজয়’। না, আমাদের বাল্যে-কৈশোরে ‘আবোল-তাবোল’ অনুপস্থিত: শুধু মায়ের মুখে একটি-দু’টি মজাদার ছড়া শুনেছি মাত্র।

    মনস্তাপ তো অন্য কারণেও। বাড়ির সবক’টি ছেলেমেয়েকে সন্ধ্যাবেলা অর্গ্যান বাজিয়ে মা গান-গাওয়ার তালিম দেওয়াতেন। কোন ফাঁকে আমি ও আমার এক তুতো ভাই পালিয়ে যেতাম, ‘ঐ যে তোমার ভোরের পাখি, নিত্য করে ডাকাডাকি’-র বৃত্তের বাইরে। সুরবোধ আছে, কিন্তু গলায় সুর নেই, এখন অনুশোচনা হয়।

    স্কুলের বৃত্তান্তে ফিরে আসি। যে-কোনও শ্রেণী থেকে হঠাৎ-হঠাৎ আমাদের দোতলার লেকচার গ্যালারিতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতো। আমরা বসতাম গ্যালারির সামনে। পিছনের সারিগুলিতে বি টি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। ট্রেনিং কলেজের অধ্যাপকরা আমাদের পড়িয়ে আদর্শ শিক্ষণের নমুনা দেখাতেন, ইংরেজি, বাংলা, ইতিহাস বা ভূগোল। একবার ট্রেনিং কলেজের পঠনে সাহায্যে কলেজের অধ্যক্ষ আমাদের দু’দিন ধরে র‍্যাল্‌ফ হজসনের ‘টাইম ই ওল্ড জিপসিম্যান’ পড়িয়েছিলেন। প্রথম দিন পঠনান্তে তিনি আমাদের বললেন, ‘কবিতাটি কাল বাংলায় অনুবাদ করে নিয়ে এসো সবাই।’ আমি যে-বাংলা বয়ানটি নিয়ে হাজির হই তা তাঁর বেশ মনঃপূত হয়, নিজেই ঘরভর্তি সবাইকে পড়িয়ে শুনিয়েছিলেন সেই পদ্য। আমার সেই আদি অনূদিত কবিতার কিছুই আর মনে নেই, শুধু এইটুকু ছাড়া: ‘আর কত সুন্দরী বালা/গলায় দেবে তোমার মালা’। এখনও মাঝে-মাঝে শখ হয়, হজসনের কাব্যগ্রন্থ পেড়ে কবিতাটির মূল ইংরেজি পাঠ কী ছিল জানতে; হয়তো বাকি জীবনে সেই শখ মিটবে না। তবে স্কুল ম্যাগাজিনে আমার নামে ছাপানো প্রথম পদ্য নির্ভেজাল অপরাজিত দেবী : ‘আমি শুধু বেঞ্চিতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে/ ত্রিভুজের যূপকাঠে গলা দিছি বাড়িয়ে’।

    সময় গড়িয়ে যায়। তৃতীয় থেকে চতুর্থ, চতুর্থ থেকে পঞ্চম, তারপর একটু-একটু করে উপরের ক্লাসে উঠে গেলাম। ইতিমধ্যে পুরনো বহু সহপাঠী এদিক-ওদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেল; নতুন সহপাঠীও এলো অনেক। আমরা গড়ে তিরিশ-পঁয়তিরিশ জন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী থেকে। তবু, কিছু আগেই উল্লেখ করেছি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ভুক্ত হয়েও সম্প্রীতির অভাব বোধ করিনি কখনও। স্কুলে প্রথাসিদ্ধ যে-সমস্ত খেলাধুলো হতো, আমাদের ক্ষেত্রেও তাদেরই চল ছিল। স্কুলের সামনের দিকে বিস্তীর্ণ মাঠ, পিছনেও। পিছনের মাঠটাকে বলতাম বি টি ফিল্ড, টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ছাত্রদের থাকবার হস্টেল-সংলগ্ন বলে। খেলা হতো ফুটবল, হকি, ক্রিকেট, হা-ডু-ডু কিংবা বাস্কেটবল। তা ছাড়া ব্যবস্থা ছিল অন্য একটি ক্রীড়ার, বোধহয় পৃথিবী থেকে যা ইতিমধ্যে বিলুপ্ত, আমরা বলতাম ‘হ্যান্ডবল’। ফুটবলের তুলনায় অনেক ছোটো মাঠে খেলা, মাঠের মধ্যবিন্দুতে, ফুটবলের মতোই, রেফারিমশাই বাঁশি বাজাবার সঙ্গে-সঙ্গে শুরু হয়ে যেত খেলা। হাতে ড্রিবল করে অন্য পক্ষের গোলে বল ঢোকাবার লড়াই। ফাউল ছিল, এমনকি পেনাল্টি কিকও ছিল। স্কুলের তত্ত্বাবধানেই প্রতিযোগিতামূলক খেলা হতো, হকি, ফুটবল, ক্রিকেট আর বাস্কেটবলে, বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্রদের মধ্যে। দল বাছাই নিয়ে উত্তেজনা ছিল: কারও হরিষ, কারও বিষাদ। প্রতিযোগিতায় জেতা-হারা নিয়েও সমান উত্তেজনা। ‘পেনাল্টি কিক’-এর মতো রাশভারি শব্দটি আমাদের জিভে-ঠোঁটে ঠিক আসতো না, বলতাম ‘প্ল্যান্‌টিক’। কলেজে উঠেও এই শব্দটি উচ্চারণ করেছি বলে মনে পড়ে। আরও একটি মজার ব্যাপার চালু তখন। প্রতিযোগিতায় কোনও ক্লাস হেরে গেলে সঙ্গে-সঙ্গে তারা প্রতিবাদপত্র লিখতে বসতো। আমাদের যিনি ব্যায়াম শেখাতেন তিনিই ছিলেন ক্রীড়াশিক্ষক, চিঠি যেত তাঁরই কাছে। যথা, ‘আমাদের অমুক সময়ে একটি প্ল্যান্‌টিক প্রাপ্য ছিল। আমাদের তা দেওয়া হয়নি।’ যথা, ‘এই প্রতিযোগিতায় নিয়ম, প্রতিযোগীরা কেউই চার ফুট নয় ইঞ্চির বেশি লম্বা হতে পারবে না। কিন্তু আমাদের প্রতিপক্ষের অমুক ছেলেটি কোমরে রশি বেঁধে নিজের দৈর্ঘ্য দেড় ইঞ্চি কমিয়ে এনেছিল। সুতরাং ওই দলকে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে, এবং পরের রাউন্ডে আমাদের উত্তীর্ণ করতে হবে।’

    যেটা বলতে ভুলে গেছি, উপরের ক্লাসের ছেলেদের জন্য টেবল টেনিসও চালু হয়েছিল সেই সময়, আমরা বলতাম ‘পিংপং’। দৌড়ঝাঁপ, মই বেয়ে ওঠা, স্লাইড বেয়ে নামা ইত্যাদি তো ছিলই। বার্ষিক পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর স্কুলের বাৎসরিক স্পোর্টস। অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে একটি আজব প্রতিযোগিতামূলক খেলাও বার্ষিক ক্রীড়া উৎসবের আবশ্যিক অঙ্গ ছিল: ধীরে সাইকেল চালানো। নিয়ম এরকম: সাইকেলের উপর বসে, ভারসাম্য বজায় রেখে, অথচ স্থাণু না থেকে, প্রতিযোগীদের সাইকেল চালাতে হবে; যে সবচেয়ে পরে প্রান্তরেখায় পৌঁছুবে, সে জয়ী; মধ্যপথে যাঁরা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাবে, তারা তো আগেই বরবাদ। জীবনের প্রান্তসীমার কাছাকাছি এসে এখন বন্ধুবান্ধবদের বলি, আমরা নিয়ত ধীরে সাইকেল চালানোর প্রতিযোগিতায় নিরত; কে আগে ঢলে পড়বো সাইকেল থেকে, কে পরে পড়বো, কেউ তা জানি না।

    বছরের পর বছর, ঋতুর পর ঋতু গত হয়, আমাদের চেতনার মানও ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী, কখনও ধীর লয়ে, কখনও দ্রুত। স্কুলের পাঠক্রম এবং পরিপার্শ্ব থেকে জ্ঞানের পরিধি বাড়ে একটু-একটু করে। বাড়ির আবহাওয়া থেকেও প্রতিদিন নিত্যনতুন জ্ঞানাহরণ করছি, পাড়াতে ঘুরে বেড়িয়েও। সরকারি স্কুল, অনেক বাধার নিগড়, প্রহরগুলি কাটাতে হয় রাজভক্তির পরাকাষ্ঠার মধ্যে। মহল্লায়-মহল্লায়, এ-পাড়া ও-পাড়ায় এবং বাড়ির মানচিত্রে অথচ অন্য ঢেউয়ের সঞ্চার। ইতিউতি মিছিলের উচ্চারণে শুনি, ‘রাজবন্দীদের মুক্তি চাই,’ ‘বিনাবিচারে আটক আইন রদ করতে হবে’ ইত্যাদি। একটু রোমাঞ্চ, একটু গা-ছমছমানি হয় সেসব শুনে। তবে যেটা এখনও গভীর বিষাদে মনকে ছেয়ে যায়, তা কয়েক ক্লাস উপরের ঘটনা। শহর জুড়ে সাম্প্রদায়িক কথাবার্তার ফিসফাস। মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব পর-পর পাঁচবার লিগ জিতেছে সেই পর্বে। বাঘা-বাঘা খেলোয়াড়—ওসমান জান, জুম্মা খাঁ, বাচ্চি খাঁ, বড়ো রশীদ, ছোটো রশীদ, নুর মহম্মদ, দলপতি আব্বাস—এঁরা তখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মাঠে-ময়দানে। প্রবীণ হিন্দুরা সহসা তাই নিয়ে মনস্তাপ করতে আরম্ভ করলেন, যার ছোঁয়া অল্পবয়সীদের মধ্যেও সেঁধোনো। মুসলমান ছাত্রদের মধ্যেও প্রতি-আলোড়ন। তাদের কেউ-কেউ বলতে শুরু করলো, ইচ্ছা করে, ছক কেটে তাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে, হিন্দু জমিদাররা তাদের শোষণ করছে। ফজলুল হক সাহেব ওই সময়েই কংগ্রেস দলের সঙ্গে প্রাদেশিক সরকার গঠন করতে চেয়েছিলেন। তাঁকে তা গড়তে দেওয়া হলো না। বাধ্য হয়ে মুসলিম লিগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বঙ্গ প্রদেশের সরকার গড়লেন তিনি। জ্ঞানোন্মষের পর আমি বহুবার ভেবেছি, শরৎ বসু মশাইকে যদি ফজলুল হক সাহেবের সঙ্গে হাত মেলাতে কংগ্রেস কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিতেন, তা হলে হয়তো গোটা ভারতবর্ষেই তথাকথিত সাম্প্রদায়িক সমস্যা অন্য চেহারা নিত। যদি বছর পাঁচেক হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা মিলে-মিশে প্রাদেশিক প্রশাসন চালনা করতেন, জনমুখী, বিশেষ করে প্রজাকুলের স্বার্থে, বিবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন, ভেল্কিবাজি ঘটতো। হক সাহেব নিজের উদ্যোগে জমিদার ও মহাজনদের ক্ষমতা খর্ব করতে যেমন সফল হয়েছিলেন, তেমনই হতে পারতো কংগ্রেস-কৃষক প্রজা দলের সম্মিলিত উদ্যোগেও। নিশ্চয়ই তার প্রভাব গোটা ভারতবর্ষের রাজনীতির উপর ছড়িয়ে পড়তে এবং সম্ভবত বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত মুসলমান সম্প্রদায়ের সামাজিক অভ্যুদয় কুড়ি-পঁচিশ বছর এগিয়ে আসতো। ফলে তাঁদের হীনম্মন্যতাবোধ দ্রুত হ্রাস পেত, অন্য দিকে উপর তলার হিন্দুদের ছড়ি-ঘোরানো মানসিকতা ক্রমশ দমিত হতো। এটা তো না মেনে উপায় নেই, আমাদের মতো দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণী এখনও পর্যন্ত সমাজচেতনার অগ্রদূত হিশেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে সুখবোধ করেন। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীভুক্তদের মধ্যে যদি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের সৌম্য সংঘটিত হতো, সাম্প্রদায়িক অসম্প্রীতির আশঙ্কা অঙ্কের নিরিখে অনেকটাই নির্বাপিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

    তবে এ সমস্তই ভাবনাবিলাস! কেউ-কেউ হয়তো যুক্তি দেবেন, তেলে-জলে মিশ খায় না, জমিদারসংকুল কংগ্রেস দলের সঙ্গে গরিব কৃষকদের সমর্থনপুষ্ট কৃষক প্রজা দলের বোঝাপড়া খুব বেশিদিন টিকতে না; জমিদারি উচ্ছেদ ও ঋণ মকুবের ব্যাপারে দুই দলে সংঘাত তো প্রায় অবধারিত ছিল; পরিণামে সম্মিলিত সরকার অচিরেই ভেঙে পড়তো। কিন্তু, অন্তত একটি সম্ভাবনা আমার কাছে এখনও তেমন অবাস্তব মনে হয় না: যে আড়াআড়ি হতো, তা হতো শ্রেণীবিন্যাসের ভিত্তিতে; হয়তো কংগ্রেস ও কৃষক প্রজা দলের উপরতলার জমিদার ও তাঁদের সমর্থক মানুষজন এক দিকে হেলে পড়তেন, অন্য দিকে গরিব হিন্দু- মুসলমানের জোট অল্পক্ষণের মধ্যেই প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে উঠতো।

    যা ঘটে গেল, বিকল্প কী ঘটতে পারতো, তা নিয়ে বিস্তারিত হওয়ার সত্যিই হয়তো তেমন আর সার্থকতা নেই। যেটুকু জোর দিয়ে বলতে পারি, স্কুলের প্রতিটি ক্লাসে শ্রেণীবিন্যাসের জটিলতা সত্ত্বেও হিন্দু-মুসলমান ছেলেরা একসঙ্গে ক্লাসে বসতাম, দুষ্টুমি করতাম, খেলতাম, বাড়ি-বাড়ি ফুল চুরি করতাম, কেউ পড়াশুনোয় একটু খাটো হলে তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতাম। আমাদের চেতনায় অন্তত সাম্প্রদায়িক সমস্যাটি কোনও বড় আকার নিয়ে হাজির হয়নি। গোলমাল বাধতে শুরু করলো ১৯৪০-৪১ সাল থেকে: খবরের কাগজে বিষ ছড়ানো, কংগ্রেসের তরফ থেকে ফজলুল হককে শত্রু বলে ঘোষণা করা, অতঃপর তাঁর মুসলিম লিগে ঢুকে পড়া, সেই সঙ্গে বিভিন্ন চক্র থেকে দাঙ্গার উস্কানি ইত্যাদি নানা গোলমেলে পরিস্থিতির সৃষ্টি। একচল্লিশ সালের একটা বড় সময় জুড়ে ঢাকায় আমরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার শিকার হই। স্কুল বন্ধ, হাটবাজার বন্ধ, লোকালয় নিঝঝুম, এ-পাড়া থেকে ও-পাড়ায় যেতে গা ছমছম। বারো-চোদ্দো বছরের বাচ্চা ছেলেদের ধরে পাড়ার দাদারা ছুরি চালানোয় হাতেখড়ি দিচ্ছেন। প্রথমে কলাগাছে ছুরি চালিয়ে নিশানা এবং আঙ্গিক রপ্ত করা; ছেলেছোকরারা এই বিদ্যায় তালেবর হয়ে উঠলে তাদের মন অস্থির, হাত নিশপিস। অন্য সম্প্রদায়ের কোনও গরিব ফেরিওয়ালা এ পাড়ায় এলে কীভাবে তাঁর পেট ফাঁসিয়ে দেওয়া হতো, এ-পাড়ার শিক্ষক বা কেরানি ও-পাড়ার মধ্য দিয়ে শর্ট কাট করতে গিয়ে কেমনভাবে আক্রান্ত হতেন, কচি মাস্তানদের দাপটের রমরমা, কীভাবে তারা তৈরি হতো দাগি অপরাধী হিশেবে, চোখের সামনে সে সব দৃষ্টান্তিত হতে দেখেছি। অন্য সম্প্রদায়ের কোনো চটজলদি শিকার না পেলে ওই কচি অপরাধীর দল তখন নিশ্চিন্তে-ঘাস- খেয়ে-বেড়ানো মাঠে-চরা ঘোড়াগুলির পেট ফাঁসিয়ে দেওয়ার আনন্দে মাতোয়ারা হতো। এই পাপের তো ক্ষমা নেই। যে-গুরুজনস্থানীয়রা তখন এদিকে-ওদিকের নেতৃপর্যায়ে স্থিত ছিলেন, তাঁদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত আমরা করেছি গত পঞ্চাশ-ষাট বছর ধরে।

    সমস্ত অন্তঃকরণ এখনও সেই ভয়ংকর স্মৃতির নির্দয়তায় শিউরে ওঠে। স্কুল-কলেজে যাওয়া, দোকানপাট, বাজার, অফিসে আদালতে হাজিরা, সব-কিছু বন্ধ। দিনভর গুজবের একচ্ছত্র আধিপত্য। ওই দুঃসহ বাতাবরণে সব গুজবের বাস্তব ভিত্তিও উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল না। জটলা এ-পাড়ায় যেমন, ও-পাড়ায়ও তেমনি। গোনাগুনতিও হতো, যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছি আমরা: আজ ওদের ঊনতিরিশজন ঘায়েল, আমাদের বাইশজন, আগামীকাল এই ঘাটতি উসুল করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হোক তক্ষুনি। ছেলেদের ডেকে তাদের উপর ফরমান চাপানো হলো, কে ক’টা ছুরি মারবে, ক’টা ঘরে আগুন দেবে, কোন-কোন বাড়িতে ঢুকে লুঠপাট চালাবে।

    ১৯৪১ সাল শেষ। ১৯৪২-এ স্ট্যাফোর্ড ক্রিপ্‌স্ এলেন আর গেলেন। জওহরলাল নেহরু ও জিন্নার পারস্পরিক দাবি-দাওয়াগত সমস্যার কোনও ফয়সালা তিনি করতে পারলেন না। গান্ধিজী বলতে শুরু করলেন, প্রভুগণ, ঢের হয়েছে, এবার তোমরা বিদায় নাও, তেমন তেমন হলে ভারতবর্ষকে নৈরাজ্যের হাতে ছেড়েই প্রস্থান করো; আমাদের ভবিষ্যৎ আমরাই তৈরি করে নেবো৷ ততদিনে অবশ্য জিন্না রক্তের স্বাদ পেয়ে গেছেন। বিলেতে প্রধানমন্ত্রী রূপে আসীন হয়েছেন পরম নাক-সিঁটকোনো উইনস্টন চার্চিল মহাশয়। একের পর আর-এক ঘটনাবলী: ভারত ছাড়ো প্রস্তাব, কংগ্রেস নেতাদের গ্রেফতার, দেশের নানা প্রান্তে অস্থিরতা, ডাক ও তার চলাচল বন্ধ, রেললাইন উপড়োনো, ধর্মঘটের পর ধর্মঘট। ততদিনে তো মনের দিক থেকে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যবধান দুস্তর বেড়েছে। অথচ এমনটা না-ও হতে পারতো। হরিপুরা এবং ত্রিপুরী কংগ্রেসের স্মৃতি তখন প্রায় ফিকে। সুভাষচন্দ্রকে প্রায় ঘাড় ধরে কংগ্রেস দল থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে। তিনি ফরোয়ার্ড ব্লক গড়লেন, হলওয়েল মনুমেন্ট অপসারণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আর একবার হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়কে পরস্পরের কাছাকাছি টানবার উদ্যোগ নেওয়া হলো। পাশাপাশি, কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনে ১৯৪০ সালে সুভাষচন্দ্র মুসলিম লিগের সঙ্গে মিতালি করলেন; উপরন্তু লিগের পক্ষ থেকে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথও মসৃণ করে নিলেন। কংগ্রেস দলে তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা: ‘জাতীয়তাবাদী’ সংবাদপত্রে ছুভাছ মিয়াঁ ও আচার্য ইস্পাহানিকে ব্যঙ্গ করে কার্টুনের পর কার্টুন। স্পষ্টতই অনেক দেরি হয়ে গেছে। কে জানে, সুভাষচন্দ্র যদি সে-মুহূর্তে ইউরোপে প্রস্থান না করতেন, হয়তো যে-সম্ভাবনার অঙ্কুর ফুটতে-ফুটতে নির্জীব হয়ে পড়েছিল তাকে বাঁচিয়ে তোলা যেত আর একবার।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুধীন দাশগুপ্ত – সম্পাদনা: অশোক দাশগুপ্ত
    Next Article আঙ্কল টমস কেবিন – হ্যারিয়েট বিচার স্টো

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }