Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আপিলা-চাপিলা – অশোক মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প696 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আপিলা-চাপিলা – ৩২

    বত্রিশ

    কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের বৈরিতা সত্ত্বেও ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের অর্থবিভাগের কাজকর্মে কিছু সজীবতা এসেছে, রাজস্ব সংগ্রহের প্রয়াসে একটু-একটু করে সফল হচ্ছি। সত্যব্রতবাবু রাজ্য যোজনা পরিষদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করে জ্যোতিবাবুর সঙ্গে কথা বলে দিল্লি থেকে অরুণ ঘোষকে পরিষদের কার্যকরী প্রধান হিশেবে কলকাতায় নিয়ে আসতে সফল হলাম। অরুণ ঘোষের অফুরন্ত উৎসাহ, অত্যাশ্চর্য পরিশ্রম করবার ক্ষমতা, এবং, কারও-কারও বিচারে আমার মধ্যে যার একান্ত অভাব, সকলকে নিয়ে মিলে-জুলে কাজ করার নিপুণ দক্ষতা। অরুণ ঘোষ অচিরে আমাদের সঙ্গে একমত; রাজ্য পরিকল্পনার মূল ঝোঁক গ্রামকেন্দ্রিক ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থানির্ভর করতে হবে; পরিকল্পনার একটি সর্বাঙ্গীণ কাঠামো অবশ্যই থাকবে, শিল্পবিস্তার ও কর্মসংস্থান নিয়ে সংহত নানা প্রকল্প জড়িয়েই সে-সব ব্যবস্থা। শিল্পে অভিজ্ঞ, বিজ্ঞানে ঋদ্ধ, এমন কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ করে পরিষদের সদস্য করা হয়েছিল, তাঁদের সঙ্গে অরুণ ঘোষের চমৎকার বোঝাবুঝি, আমি তাই অন্যান্য বিষয়ে মনোনিবেশ করবার ফুরসত পেলাম।

    বামফ্রন্ট সরকারের সাত-আট বছর প্রায় অতিক্রান্ত। মন্ত্রিসভায় পার্টি থেকে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের প্রায় প্রত্যেকেই আমাকে প্রচুর সাহায্য করেছেন, কোনও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলে পরামর্শ দান করেছেন। বিনয়দার কাছে কারণে-অকারণে সব সময়ই ছুটে যেতাম, কখনও তাঁর উপদেশ পেতে, তাঁর বিচিত্র বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা শুনতে, তত্ত্ব থেকে কী করে প্রজ্ঞায় উপনীত হওয়া যায় সেই শিক্ষা লাভ করতে। মন্ত্রীদের মধ্যে তিনি বোধহয় সবচেয়ে বেশি পড়াশুনো করতেন, তাঁর টেবিলে এমন কি ইকনমিক অ্যান্ড পলিটিকাল উইকলি-র সর্বশেষ সংখ্যাটিও সর্বদা চোখে পড়তো। তাঁর কাছ থেকে অতীত দিনের কাহিনী শোনা দুর্লভ সৌভাগ্য: বিপ্লবী যুগে পিস্তল হাতে তাঁর ঘোরাফেরার বিবরণ, দামোদর উপত্যকায় কৃষক আন্দোলনের কথা, রানীগঞ্জ-আসানসোল অঞ্চলে ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনের প্রথম পর্বের বৃত্তান্ত, এমন অনেক কিছু।

    তবে অপ্রিয় সিদ্ধান্তের সমস্যা থেকেই যায়। সমাজব্যবস্থাকে এড়ানো তো সম্ভব নয়, বামপন্থী জোট, সব ক’টি দলই সমাজতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ, অথচ পার্শ্বপরিবেশের প্রভাব তো উপেক্ষা করা সম্ভব নয়! বিভিন্ন নির্বাচনে উপর্যুপরি সাফল্য, পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গ্রামাঞ্চলে আগাপাশতলা পরিবর্তনের সূচনা, শালকিয়া প্লেনামের সিদ্ধান্ত-অনুযায়ী দলের শাখাপ্রশাখা যথাশীঘ্র বিস্তারের উন্মুখতা। পার্টির সদস্য সংখ্যা দ্রুত হারে বাড়ছে, যে ধরনের আদর্শ, নিষ্ঠা ও পরিচিকীর্ষার কষ্টিপাথরে যাচাই করে পার্টির সভ্যপদ একদা বিতরণ করা হতো, সেই নিয়ম-নিগড়ে আস্তে-আস্তে শিথিলতার অনুপ্রবেশ; তা ছাড়া, বরাবরই যেটা আমার বদ্ধমূল ধারণা, যদিও গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা নীতির ভিত্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাসংরক্ষণে জোর দেওয়া মার্কসপন্থী-লেনিনপন্থীরা পছন্দ করেন, ভারতবর্ষের, বিশেষ করে পশ্চিম বাংলার, প্রেক্ষিতে তা ছাপিয়ে, অধিকতর জায়গা জুড়ে, একটু আগে যা বলেছি, সামন্ততান্ত্রিক মনস্কতা। কথাটা কর্কশ শোনায়, কিন্তু জীবনের উপান্তে এসে একটু স্পষ্ট কথা যদি এখন না বলি, পরে হয়তো আর সুযোগ ঘটবে না। পশ্চিম বাংলায় স্বাধীনতা-উত্তর পর্বে প্রায় প্রতিটি বামপন্থী রাজনৈতিক দলের যাঁরা হাল ধরে থেকেছেন, এখনও আছেন, তাঁরা অনেকেই বড়ো, মাঝারি, ছোটো জমিদার বংশের পৌত্র বা প্রপৌত্র। আদর্শের দিক দিয়ে তাঁরা সামন্ততন্ত্র থেকে বহুদুর সরে এসেছেন, বৃত্তির দিক থেকেও তাঁদের জীবনচর্যায় জমিদারির ধ্বংসাবশেষের প্রলেপও আর লেগে নেই, অথচ অভ্যাসে-আচরণে-ব্যবহারে এখনও সামন্ততন্ত্রের অভিশাপ। দল ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হোক, বড় হোক, যায় আসে না, অনেক নেতারই স্বভাবে, তাঁদের অন্য সহস্র গুণাবলী সত্ত্বেও, বংশপরাম্পরার বিষণ্ণ ছায়া। পাটি কঠিন অনুশাসনে বাঁধা, নিয়ম-শৃঙ্খলার সামান্যতম বিচ্যুতি হবার উপায় নেই, সব স্তরে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত একবার গৃহীত হলে তা প্রয়োগ করবার দায় সর্বোচ্চ নেতৃত্বের, কোনও স্তরে কেউই তখন তার বিরুদ্ধাচারণ করতে পারবেন না: তত্ত্ব হিশেবে এই গণতান্ত্রিক আচরণবিধি চমৎকার, অথচ প্রয়োগে বিচ্যুতি ঘটে, গণতান্ত্রিকতা উপলক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, জমিদারি সেরেস্তার ধরন-ধারণই শেষ পর্যন্ত প্রধান ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, উপর থেকে নিচে প্রতিটি স্তরে নির্দেশ মানার কথা হুকুম তালিমের সমগোত্রীয় হয়ে। দাঁড়ায়। গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার অন্য যে-প্রাথমিক শর্ত, নিচের থেকে উপর পর্যন্ত আলোচনার আবশ্যকতা, তা জমিদারি সেরেস্তার ক্ষেত্রে অভাবনীয়: তাঁরা চান বা না চান, অনেক স্তরেই নেতারা, হয়তো অন্যমনস্কতাহেতুই, জমিদারপ্রতিম বনে যান।

    মন খারাপ- করা সমস্যা, কিন্তু অস্বীকার করি কী করে, জমিদারি প্রথায় যা অবধারিত, খোশামোদের ঘুণ এসে বাসা বাঁধে, বামপন্থী দলগুলিতেও এই উপদ্রবের উপস্থিতি। অনিবার্য পরিণামে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নেতাদের সঙ্গে কমরেডদের সামাজিক দূরত্ব বাড়ে, খোশামোদের মোহজালে কোনও-কোনও নেতা আটকে যান; খোশামোদবৃত্তির যা অপফল, উপরতলাকে খুশি করে কাজ হাসিল করার চেষ্টা বেড়ে চলে। সুযোগ গ্রহণ করে ইতস্তত বেনো জল, এমনকি কঠিন শৃঙ্খলে-মোড়া কমিউনিস্ট পার্টিতেও, ঢুকতে থাকে। আরও যা মারাত্মক, বিদূষণার মোহজাল উপর থেকে ক্রমশ নিচে ছড়িয়ে পড়ে, মাঝারি-ছোটো নেতাদের মধ্যেও কর্তাভজা গোষ্ঠী অচিরে গজিয়ে ওঠে। কু-আদর্শ সৃষ্টির কিছুটা কৌতুকজনক, অনেকটাই বিষাদ-উদ্রেককারী, যাকে আমি বলবো দৃষ্টান্ত, টেলিফোন সংস্কৃতি। বড় নেতারা নিজেরা টেলিফোন ধরেন না, তাঁরা ব্যস্ত মানুষ। কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলতে হলে কোনও শিষ্য বা অনুগত ফোনের বোতাম টেপেন, ওদিক থেকে সাড়া পেলে যন্ত্রটি নেতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই বিশেষ আদর্শটি এখন সর্বস্তরে পরিব্যাপ্ত: উঠতি ছাত্র বা যুব নেতা কোনও অশীতিপর প্রাক্তন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন, এক বয়স্য সেই বৃদ্ধকে ফোনে পাকড়ালেন: ‘ধরুন, অমুক কমরেড দাদা কথা বলবেন’। বৃদ্ধ ভদ্রলোক আড়াই-তিন মিনিট যন্ত্রটি ধরে রইলেন, কিন্তু জবরদস্ত ছাত্র বা যুব নেতা, ব্যস্ত মানুষ, তাঁর ফোনের কাছে আসার সময় হয় না।

    স্খলমান আদর্শহীনতা ও নীতিবিচ্যুতি সম্পর্কে বিশেষ একটি ঘটনা উল্লেখ করার তাগিদ বোধ করছি। পঁচাশি সালের মধ্যগ্রীষ্ম, বিধানসভার একটি খালি আসনের জন্য কলকাতার উত্তর প্রান্তে উপনির্বাচন। পার্টির প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আমরা মন্ত্রীরা সন্ধ্যাবেলা মহাকরণ-ফেরত প্রচারে যাচ্ছি। পার্টির কড়া নির্দেশ, রাইটার্স বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে কলকাতা জেলা কমিটির দফতরে পৌঁছে সরকারি গাড়ি ছেড়ে দেবো, সেখান থেকে পার্টির পরিবহনে প্রচারে যাবো। এক পাড়ায় সভা সেরে মঞ্চ থেকে নামছি, হঠাৎ দেখি এক রাষ্ট্রমন্ত্রী, অনতি-অতীতে ছাত্র ও যুব নেতা, সরকারি গাড়ি চেপে, আলো জ্বেলে, হুটারে শব্দ ছড়িয়ে উপস্থিত। তাকে মৃদু ভর্ৎসনা করলাম, ‘পার্টির নিয়ম কি তোমার জানা নেই? এভাবে সরকারি গাড়ি নিয়ে দলীয় প্রচারে এসেছো কেন?’ তার নিশ্চিন্ত উত্তর, ‘ওরা যে করে’। ওরা মানে কংগ্রেসিরা। বলতে উদ্যত হয়েও নিজেকে সংযত করলাম, ‘তা হলে ওদের দলেই তো যোগ দিতে পারতে, কমিউনিস্ট পার্টিতে এলে কেন?’

    পার্টির কাছে ব্যাপারটি জানিয়ে কোনও ফল হলো না, শ্রীমান রাষ্ট্রমন্ত্রী কোনও-কোনও সর্বোচ্চ স্তরের নেতার অনুগত অনুচর। এই তখনো-উঠতি নেতাটি সত্যিই বিশ্রুতকীর্তি, কিছুদিন বাদে তার অন্য একটি অপকর্ম আমাকে বিব্রত করলো। তার দপ্তরে জনৈক উপ-সচিবের অবসরের বয়স পেরিয়ে গেছে, ইতিমধ্যে দু’-তিনবার চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, কোনও নিয়মেই আর বাড়ানো সম্ভব নয়। অর্থ দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিশেবে আমাকে নিয়ম-কানুনগুলি মেনে ও মানিয়ে চলার দিকে দৃষ্টি দিতে হয়। রাষ্ট্রমন্ত্রীটির তরফে ওই উপ-সচিবের কাজের মেয়াদ পুনর্বার বাড়ানোর জন্য ফাইল চালু হলো, অর্থ বিভাগ ও মুখ্যমন্ত্রীর অসম্মতি জ্ঞাপন করে ফিরিয়ে দেওয়া হলো সেই ফাইল, দিন পনেরো বাদে আবিষ্কার করলাম রাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে সেই ভদ্রলোককে তবু বহাল রাখা হচ্ছে সম্পূর্ণ নীতিবিরুদ্ধ উপায়ে। পার্টিকে জানালাম, বিহিত করুন; আমাদের নিজেদের মন্ত্রীরাই যদি নিয়ম না মানেন, শরিক দলের বেনিয়ম ঠেকাব কী উপায়ে? আমাকে বলা হলো, যেন একটু ক্ষমাক্ষেন্নো করি, ও, মানে রাষ্ট্রমন্ত্রীটি, নাকি খুব দক্ষ কেজো ছেলে, অনেকভাবে পার্টিকে সাহায্য করে। শুনে তড়িদাহত হলাম।

    সমস্যাটির বীজ আসলে আরও অনেক গভীরে। রাষ্ট্রমন্ত্রীটির পার্টির বিভিন্ন স্তরে পৃষ্ঠপোষক আছে; সামন্তভিত্তিক প্রথায় যা অনিবার্য, কোনও বড়ো নেতার আদরের। নেতা হয় তো বুঝতেও পারেন না তাঁকে স্তাবকতা করা হয়, তাঁর ধারণা ছেলেটি অশেষ গুণের অধিকারী, যখনই যে কাজটা তাকে করতে বলেন, সঙ্গে-সঙ্গে তা পালিত হয়। যার উপর কৃপাবর্ষণ করি, তার দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করার প্রবণতা একটু-একটু করে বাড়ে। সামন্ততন্ত্রের পাশাপাশি স্তাবকতন্ত্র তৈরি হয়, দুর্নীতির বিষ-বাষ্পও সেই সঙ্গে ছড়াতে শুরু করে। তরুণ নেতাটি, চোখের সামনে অনুরাগ-বীতরাগের একটি আদর্শকে লতামঞ্জরীসহ বিস্তারিত হতে দেখে, নিজেও তা অনুকরণে প্রবৃত্ত হয়, অচিরে তারও এক ঝাঁক বিদূষক জুটে যায়। গুন গুন রবে মধুপান করার উৎসাহ উপ-স্তাবকদের মধ্যে মাথাচাড়া দেয়, একটু-আধটু নীতিস্খলনও শুরু হয় সেই সঙ্গে। শাস্ত্রেই তো বলে, নাস্তে সুখমস্তি; ছোটোখাটো দুর্নীতি থেকে বৃহত্তর দুর্নীতির দিকে ছুটতে মন ক্রমশ উচাটন হয়।

    আরও একটি তথ্য জরুরি, অন্তত জরুরি বলে মনে হয় আমার। ঊনিশশো পঞ্চাশ-ষাট-সত্তরের দশকে কমিউনিস্ট পার্টিতে অনেক ছেলে-মেয়ে জড়ো হয়, যারা পূর্ববঙ্গ থেকে আগত শরণার্থী পরিবারভুক্ত। উদ্বাস্তু আন্দোলনে কমিউনিস্ট পার্টির সুদৃঢ় নেতৃত্ব তাদের মুগ্ধ করেছে, মোহাবিষ্ট হয়ে তারা পার্টির ছত্রতলে ভিড় করেছে। পূর্ববঙ্গের গ্রামে-শহরে শৈশব-কৈশোর অতিবাহনকালে তারা পাড়াতো কলহ-দঙ্গলে জড়িয়ে পড়তো, দাদারা তাদের পাড়ার বা গোষ্ঠীর স্বার্থে লাঠিসোঁটা-হকিস্টিক চালানো শেখাতেন, কখনও ছুরি চালানোও: চিন্তা করার বালাই নেই, দাদাদের হুকুম পালন করলেই হলো। শরণার্থী হয়ে এই বাংলার জনারণ্যে মিশে পার্টির উৎসাহী সমর্থক হতে তাদের তেমন অসুবিধা দেখা দিল না। তারা রাজনৈতিক পঠন-পাঠনের মধ্য দিয়ে বিশেষ যায়নি, অনেকের স্কুলের গণ্ডি পর্যন্ত অতিক্রম করা হয়নি। কিন্তু তারা বিপদে-আপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে অকুতোভয়ে, পার্টির নেতৃবর্গের প্রতি তাদের আনুগত্য অসীম, নেতাদেরও তাই তাদের সম্পর্কে গভীর অনুরাগ পোষণ। (তবে আগুনে পুড়ে সোনা যে তৈরি হয় না তা-ও তো নয়। তরুণ নেতাদের ভিড়ে যাকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতাম, দীনেশ মজুমদার, উদ্বাস্তু আন্দোলনের মধ্য দিয়েই উঠে এসেছিল। ওরকম নম্রস্বভাব, বুদ্ধিমান, ঠান্ডা-মাথার ব্যক্তিত্ব খুব কম চোখে পড়ে। তার অকালমৃত্যুতে, বার-বার বলবো, পার্টির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।) ।

    বাংলার ঐতিহাসিক ধারাক্রমে রাজনৈতিক বশ্যতার দু’টি পাশাপাশি ধারা আসলে বহুদিন থেকে বহমান। চিত্তরঞ্জন দাশের উক্তি, অন্তত তাঁর উক্তি বলে প্রচারিত, একটি মন্তব্য ছেলেবেলায় প্রায়ই শুনেছি: ‘আমার দু’-ধরণের শিষ্য দরকার। আমার যেমন যতীন-সুভাষকে চাই, শ্রীশ-বসন্তকেও চাই’। যতীন অবশ্যই যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, সুভাষ খোদ সুভাষচন্দ্র বসু, শ্ৰীশ ঢাকার উকিল, বহুদিন জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতি, শ্রীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, আর বসন্তকুমার মজুমদার দেশসেবিকা হেমপ্রভা মজুমদারের স্বামী, চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা সুশীল মজুমদারের পিতা। জনশ্রুতি, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন আলোচনা-পরামর্শের জন্য যেমন যতীন্দ্রমোহন ও সুভাষচন্দ্রের উপর সর্বদা নির্ভর করতেন, সভাসমিতিতে শত্রুপক্ষীয়দের হাঙ্গামা সামাল দিতে শক্তপোক্ত চেহারার শ্রীশবাবু ও বসন্তবাবুর উপরও তেমনই নির্ভরশীল ছিলেন, একটু ক্ষমাসুন্দর চক্ষে দেখতেন শেষোক্ত দু’জনকে। সেই ঐতিহ্যের অবলুপ্তি এখনও ঘটেনি। ছেলেটা একটু-আধটু নিয়মকানুন মেনে চলে না, তাতে কী, ওর কাছ থেকে তো নানা ধরনের উপকার পাওয়া যায়।

    বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে অনেক পরম সম্মানীয় নেতারও হয়তো খানিকটা মানসিক দৌর্বল্য দেখা দেয়, আশে-পাশে এমন কেউ থাকুক যে একটু খুশি করবার মততা, মন ভরাবার মতো, কথাবার্তা বলবে, দুরূহ কোনও কাজ শত অসুবিধা ডিঙিয়ে সম্পন্ন করে দেবে। সত্যব্রত সেনের সঙ্গে প্রায়ই আলোচনা করতাম, কী করে এই প্রবণতার অপফলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া যায়। তা করতে গেলে মাঝে-মাঝে অপ্রিয় কথা যে বলা প্রয়োজন, তা নিয়ে আমাদের মনে কোনও সংশয় ছিল না। পার্টির প্রতি আনুগত্য অটুট থাকবে, থাকবেই, তা হলেও যে সব দুর্বলতা অনুপ্রবেশ করছে, তাদের সম্পর্কেও প্রতিবাদে মুখর হতে হবে। দলের অনুশাসন ভাঙা চলবে না, পার্টি কর্তৃক যথাযথই-ভসিত উপদলবাজি করা চলবে না, অথচ যে-যে লক্ষণগুলি অপছন্দ হচ্ছে, কোন পদ্ধতিতে তাদের নিরসন সম্ভব, তা নিয়ে আমাদের নিরন্তর আলোচনা। বেড়ালের গলায় ঘন্টা কে বাঁধবে তা নিয়ে জটিলতা। একটি-দু’টি এমনধারা ব্যাপারে বিনয় কোঙারের উপদেশ ভিক্ষা করেছি কখনও-কখনও, তিনি সহানুভূতি-সহ শুনতেন, কিন্তু তাঁর মধ্যেও ঈষৎ দ্বিধা-জড়তা, বিব্রত বোধ করে একদিন আমাকে বললেন, ‘আপনি ভুল করছেন, আমি আমার দাদা নই’।

    এমনি করেই দিন কাটছিল, হঠাৎ অন্য একটি সমস্যা দেখা দিল। আমরা সরকারে ঢুকেই বামপন্থী নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে একটি খসড়া শিল্পনীতি তৈরি করেছিলাম, কলকাতার শিল্পমহলের সঙ্গে আলোচনা করে তা পরিশোধন করা হয়েছিল, যেমন হয়েছিল রাজনৈতিক নেতৃকূল ও ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃস্থানীয় কর্মীদের সঙ্গেও আলোচনা করে। এ সব বিষয়ে আমার নাস্তিকতা বহুদিনের। ভারতীয় অর্থব্যবস্থা বিশ্লেষণ করে আমি বহু পূর্বেই প্রত্যয়ে পৌঁছেছিলাম মাশুল সমীকরণ ও লাইসেন্স বিতরণের সমস্যা শুধু নয়, কেন্দ্রীয় সরকার ও কেন্দ্র-অনুশাসিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানাদির বিনিয়োগ নিয়মনীতির উপরই শিল্পক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ মূলত নির্ভরশীল; কেন্দ্রীয় সরকারের, এবং সেই সঙ্গে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানাদির বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলেই বেসরকারি মালিকরা বিনিয়োগে মনঃসংযোগ করেন, অন্যথা নয়: রেল দফতর থেকে এঞ্জিন, ওয়াগন, কোচ, স্লিপার ইত্যাদি কেনবার বরাত দিলেই এ-ধরনের পণ্য-প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি তাদের বিনিয়োগ বাড়ায়; পূর্তমন্ত্রক থেকে রাস্তাঘাট-সেতু নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব গ্রহণ করলেই সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলি যন্ত্রপাতি-সিমেন্ট-রোড রোলার-পাথরকুচি-আলকাতরা তৈরি শুরু করে, তাদের উৎপাদনের বিস্তার ঘটে। সুতরাং অগ্রাধিকারের প্রশ্নে আমি নির্দ্ধিধ, শিল্পপ্রসারের স্বার্থেও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস করে রাজ্যের হাতে অধিক ক্ষমতা দানের দাবির উপরই, আমার বিবেচনায়, শতকরা নব্বুই ভাগ দৃষ্টি নিয়োগ প্রয়োজন। জ্যোতিবাবু বরাবরই, আমার বিশ্বাস, অন্যরকম ভাবতেন। উনি এটা মানতেন, কেন্দ্রীয় সরকার বিমুখ থাকলে শিল্পোদ্যোগের সম্ভাবনা পরাহত। কিন্তু সঙ্গে-সঙ্গে এটাও বলতেন, আমাদের শত্রুর অভাব নেই, নানা দিক থেকে আক্রমণ আসছে, আসবে। বামপন্থী হলেও তো, কিংবা বামপন্থী বলেই তো, আমরা অকপট বাস্তববাদী: আমাদের সরকারকে ঘিরে, গোটা কলকাতা ও পশ্চিম বাংলা জুড়ে, বড়ো-মাঝারি-ছোটো পুঁজিপতি, তাঁরা দুষ্টুমি শুরু করলে অশেষ দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হবে আমাদের। বিশেষ করে কেন্দ্র যেহেতু মুখ ফিরিয়ে আছে, স্থানীয় শিল্পপতিদেরই বাবা-বাছা বলে বাড়তি শিল্পোদ্যোগের ব্যবস্থা করতে হবে, কোথাও-কোথাও সরকারি ও বেসরকারি মালিকানা যুক্ত করে মিশ্র চরিত্রের শিল্প-ব্যবস্থা প্রণয়নে উদ্যোগ নিতে হবে।

    আমার মতামত ততদিনে জ্যোতিবাবু ভালোই জেনে গেছেন, আমাকে আদৌ আর ঘঁটাতেন না। আঁচ করতে পারছিলাম তিনি কলকাতাস্থ শিল্পপতিদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছিলেন, প্রায়ই এই চেম্বার অফ কমার্স, ওই চেম্বার অফ কমার্সে, আলোচনার জন্য যেতেন, ঘরোয়া কথাবার্তাও নিশ্চয়ই বলতেন নানা শিল্পপতিদের সঙ্গে। পঁচাশি সালের শেষের দিকে রাজ্যের জন্য অনেকটা উদার ধাঁচের সংশোধিত শিল্পনীতির কথা তিনি ঘোষণা করলেন। বেসরকারি মালিকদেরই হরেকরকম ভরসা-আশ্বাস দিয়ে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হলো, কোনও-কোনও ক্ষেত্রে বিদেশী পুঁজির অনুপ্রবেশও মেনে নেওয়া হলো। জ্যোতিবাবুর যুক্তি অতিশয় প্রাঞ্জল, বুঝতে কোনও অসুবিধা হয় না: আমরা বলছি আমাদের এখানে বিদেশী পুঁজি ঢুকতে দেবো না, তাই ওরা অন্যত্র যাচ্ছে, গুজরাটে, মহারাষ্ট্রে, কর্ণাটকে, তামিলনাড়ুতে, অন্ধ্র প্রদেশে, পশ্চিম বাংলার দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকাচ্ছে না। পশ্চিম বাংলা কি তা হলে মরুভূমি হয়ে যাবে, অন্য রাজ্যগুলি বিনিয়োগের প্রাচুর্যে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে আর্থিক সাফল্যের মগডালে চড়ে বসবে? তার চেয়ে এটা বলি না কেন, আমরা স্বদেশী-বিদেশী পুঁজিওলাদের সঙ্গে কথা বলবো, আমাদের প্রয়োজনের সঙ্গে সৌষাম্য বর্ধন করে, অভাব-অভিযোগের সমাধানে সাহায্য করে এমন ধরনের বিনিয়োগ ঘটাতে তাঁরা যদি সম্মত থাকেন, আমাদের তরফ থেকে সহযোগিতার অভাব ঘটবে না। শুধু দুটো শর্ত: এক, শ্রমজীবী শ্রেণীকে কোনও ছুতোতেই শিল্পপতিরা ঠকাতে পারবেন না; দুই, পণ্যবিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনও প্রক্রিয়াতেই ক্রেতাদের উপর অন্যায্য দামের বোঝা চাপানো চলবে না। কেন্দ্রে বামপন্থীরা যখন ক্ষমতা দখল করবে, তখন অবশ্যই শিল্পনীতির বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে, কিন্তু তা তো এই মুহূর্তে পরাহত, সংবিধানের বর্তমান চৌহদ্দির মধ্যে থেকে আপাতত অন্যরকম ভাবনা তাই একান্ত প্রয়োজন। পার্টির প্রচুর বিরূপ আলোচনা হলো, জ্যোতিবাবু অবিচল। দিল্লি থেকে কমরেড বি টি আর-কে তলব করে আনা হলো। সবাইকে নিয়ে পার্টিকে চলতে হয়; তা ছাড়া জ্যোতিবাবু যে-পদক্ষেপ নিতে চলেছেন, তার বিরুদ্ধাচরণ কারও-কারও কাছে অযৌক্তিক, অন্য কারও-কারও মতে আদৌ অযৌক্তিকও নয়। দলের রাজ্য সম্মেলনে রণদিভে প্রাঞ্জল ব্যাখ্যা করলেন শিল্পক্ষেত্রে পার্টিকর্মীদের কী দায়িত্ব; তাঁর জোরালো সুপারিশে অন্তঃস্থিত দ্বিধাদ্বন্দ্ব মূক হয়ে এলো, পার্টির মধ্যে অসুখী প্রতিবাদের চোরাস্রোত যদিও বইতেই লাগলো।

    এরকম সময়ে আমার শরীরে একটি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দিল। স্বাস্থ্য দুর্বল, বহু বছর কোনও অবকাশের সুযোগ নেই; হঠাৎ নরওয়ে থেকে এক পুরনো বন্ধুর চিঠি: যদি রাজনীতির আবর্ত থেকে একমাস-দু’মাস একটু সরে থাকতে চাই, তাঁদের গবেষণাসংস্থায় স্বচ্ছন্দে চলে আসতে পারি; ওঁরা ঘরবাড়ির ব্যবস্থা করে দেবেন, সস্ত্রীক সম্মানিত অতিথি হয়ে থাকতে পারবো, যদিও বেতন-ভাতার কোনও প্রশ্ন নেই, বিমানযাত্ৰাৰ্থ ভাড়ার ব্যবস্থাও আমাকেই করতে হবে।

    জ্যোতিবাবু এ সব ব্যাপারে মস্ত উদার, সোৎসাহে অনুমতি দিলেন। পরক্ষণে আর এক কৌতুককাহিনী। তখন ইন্দিরা গান্ধির জ্যেষ্ঠ তনয় প্রধান মন্ত্রী, উত্তরাধিকার সূত্রে, এবং এই উত্তরাধিকারের দাবি ছাড়া তাঁর প্রধান মন্ত্রী হওয়ার মতো অন্য কোনও গুণাবলী নেই। সরকারি নিয়ম, কেন্দ্র ও রাজ্যের মন্ত্রীরা যদি বিদেশে বিহারে যেতে চান, স্বয়ং প্রধান মন্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন। আমার ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা, এহেন প্রায়-নিরক্ষর প্রধান মন্ত্রীর স্বাক্ষর সাপেক্ষে বিদেশ ভ্রমণ করবো না। জ্যোতিবাবুকে গিয়ে বললাম আমি দু’-মাসের জন্য পদত্যাগ করে যেতে চাই, ফিরে এসে ফের মন্ত্রী হবো। প্রত্যেকের প্রশ্ন ও কৌতূহল, কেন এমনটা করছি। কারণটা জ্যোতিবাবুকেও খোলসা করে বললাম না। তবে কলকাতার কিছু-কিছু মহলে গবেষণা শুরু হলো, দুই মাসে আমি কয় কাঁড়ি ডলার উপার্জন করতে যাচ্ছি, তা নিয়ে। জ্যোতিবাবুকে নিমন্ত্রণ পত্রটি দেখালাম, বেতন-ভাতা শূন্য। আমার বন্ধু টোলন অধিকারী তখন ইন্ডিয়ান স্টাস্টিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ, জানালো ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক পদ যদি ত্যাগ করি, তা হলে সে সঙ্গে-সঙ্গে আমার সামান্য জমা-হওয়া প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাটুকু বের করে দিতে পারে, তাতে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর নরওয়ে যাওয়া-আসার খরচ প্রায় উঠে আসবে; সেরকম ব্যবস্থাই করা হলো।

    মাস দুই বাদে ফিরে পুনরায় মহাকরণের জোয়ালে, বিদেশের শিথিল অলস দিনযাপনের পর আবার গরিব দেশের রূঢ় বাস্তবতা। অর্থ দফতরের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। নতুন দিল্লির সরকারের সঙ্গে বাদানুবাদ বহাল, রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃক ওভারড্রাফট-এর ক্ষেত্রে টানাটানি, অথচ রাজ্য সরকারের এই দফতর-ওই দফতর থেকে আরও অর্থ বরাদ্দের আর্ত দাবি। মন্ত্রীদের দোষ দেওয়া যায় না, বামফ্রন্ট সরকার তো, সবাই ভেবে নিয়েছেন, কল্পতরুসদৃশ: লোকায়ত সরকার, জনগণের অভাব-অভিযোগে মেটানোর প্রয়াসই তো তার প্রধান দায়িত্ব। অথচ অর্থ দফতরকে হিশেব রাখতে হয়, বাজেটে বরাদ্দ টাকাপয়সার গণ্ডির মধ্যে প্রত্যেকটি বিভাগের খরচপাতি আবদ্ধ থাকছে কিনা দেখতে হয়। বিভাগীয় মন্ত্রীদের আয়-ব্যয় মেলানোর দায় নেই, সেই দায়িত্ব অর্থ বিভাগের, খরচের বহর নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে গেলে সংকট। যদি বাড়তি খরচপাতি প্রতি ক্ষেত্রে উন্নয়নের তাগিদে হতো, দুশ্চিন্তা খানিকটা সামলানো যেত। কিন্তু দ্বন্দ্বের যন্ত্রণা বিভিন্নভাবে প্রকট হচ্ছিল।

    সাধারণ গোছের সমস্যা, অথচ সেই সমস্যাগুলিই পুঞ্জ-পুঞ্জ জড়ো হয়ে স্ফীতকায় দুঃস্বপ্নের রূপ নেয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা যেমনটি আছে, তেমনটিই থাকবে কিনা, এ বছর বাড়ানো হবে, বিদ্যালয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তা কি পুরুলিয়ার জন্য কুচবিহারের জন্য; অথবা বিদ্যালয়ের সংখ্যা না বাড়িয়ে বিদ্যালয়ের জন্য গৃহ-নির্মাণ, চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চি-গোলক-মানচিত্র-পাঠাগারের উন্নতি ইত্যাদির দিকে অধিকতর নজরদান, নাকি শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের মাইনে-ভাতার আরও উন্নতিসাধন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বা মান যেখানে আছে সেখানেই কোনওক্রমে ধরে রাখার জন্য কেউ-কেউ হয়তো বলছেন, অন্য কেউ-কেউ বলছেন মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর কথা। যে-সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক, কোন জেলায় কী পরিমাণে বাড়ানো, কোন ধরনে বাড়ানো? হয়তো কোনও বিধায়ক বা সাংসদ এসে ধরে পড়লেন, তাঁর কেন্দ্রে একটি কলেজ খোলার অনুমতি না দিলেই নয়, স্থানীয় অধিবাসীদের কাছ থেকে চাপ আসছে, তাঁদের নিরাশ করলে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা। পাশাপাশি হয়তো অন্য এক দাবি সোচ্চার: শিক্ষাকে সার্বজনীন করার ক্ষেত্রে পশ্চিম বাংলা বেশ কয়েকটি রাজ্যের তুলনায় পিছিয়ে, তা নিয়ে ক্রমশই বিরুদ্ধপক্ষীয়রা জল ঘোলা করছেন, অর্থমন্ত্রীকে ব্যাপারটি তাই ভালো করে ভাবতে হবে। মাথাব্যথার অন্ত নেই, চার-পাঁচটি বিদ্যুৎপ্রকল্পের কাজ চলছে, কিন্তু চলতি বছর আরও একটির কাজ শুরু করলে ভালো হতো, সংক্রান্ত ফাইলটি অর্থবিভাগ যথাসত্বর বিবেচনা করে দেখবেন কি? আমরা তো লড়াই করে বাঁচতে চাই, কিন্তু সংগ্রাম করতে গেলে প্রতিটি মফস্বল শহরে একটি করে স্টেডিয়াম তৈরি না করলেই নয়, সেরকম স্টেডিয়াম, ষা তরুণ যুবকদের লড়াই করতে বাড়তি উদ্বুদ্ধ করবে। জেলায়-জেলায় বইমেলা অথবা যুব উৎসবের ব্যবস্থাও তো করা দরকার। প্রতিটি জেলায় রাস্তাঘাট বেহাল, পূর্ত দফতরের অনুরোধ-উপরোধ, অর্থ দফতর থেকে বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা না করলে বলো মা তারা পূর্তমন্ত্রী দাঁড়ান কোথায়?

    অনুরূপ সহস্র প্রশ্ন, যাদের উত্তর জোগানো অনেক সময়ই অর্থমন্ত্রীর সাধ্যের বাইরে, কারণ তাঁকে এক সঙ্গে দুশো-তিনশো গদা ঘোরাতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলি রাজ্যে তাদের ঋণের পরিমাণ বাড়াবে না, রাজ্য সরকারকে নিজস্ব ব্যাংকও খোলবার অনুমতি দেওয়া হবে না, যদিও অন্য একটি রাজ্যের ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে; এসব সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের সঙ্গে চিঠিচাপাটি। রাজ্য যোজনা পরিষদকে পরিকল্পনা বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য পরামর্শ, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরকে ফোন করে উপরোধ জ্ঞাপন: এই সপ্তাহে রাজ্য সরকারের ওভারড্রাফটের মাত্রা সামান্য বাড়বার সম্ভাবনা, তিনি যেন একটু ক্ষমাঘেন্না করেন; এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পণ্য পরিবহনের উপর রাজ্যগুলির কর আরোপের সংবিধানগত অধিকার কেন্দ্রীয় সরকার মানতে চাইছেন না, অন্য রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে মিলে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ; গোপন খবর এসেছে এক আন্তর্জাতিক সিগারেট বিক্রয় সংস্থা পণ্য প্রবেশ কর এড়ানোর জন্য অতি নিন্দনীয় উপায় গ্রহণ করেছে, পুলিশের সাহায্য নিয়ে তাদের একটু শিক্ষা দান। উদাহরণ বাড়িয়ে যাওয়া যায়, তার বোধ হয় তেমন দরকার নেই। সবচেয়ে বেশি চাপ মাইনে-ভাতা বাড়াবার ব্যাপারে। সরকারি কর্মচারীদের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের এবং সরকার থেকে বেতন বা ভাতা পেয়ে থাকেন এমন আরও নানা জনের দুরবস্থার দিক থেকে কংগ্রেস আমলে মুখ ঘুরিয়ে রাখা হতো, যারা কমিউনিস্টদের ভোট দেয় তাদের প্রতি দয়াশীল হওয়ার কোনও মানে হয় না, এমনই ছিল মনোভাব। এখন বামফ্রন্ট সরকার, জনগণের সরকার, সেই ঐতিহাসিক অন্যায়ের নিরসন ঘটাতে হবে, সর্বস্তরে জনগণের জীবনযাপনের মান, উপার্জনের মান, বাড়াতেই হবে। সরকারে ঢুকেই বেতন কমিশন নিয়োগ করা হয়েছিল, তার বিভিন্ন সুপারিশ না মানলেই নয়। কিছু-কিছু সুপারিশের ক্ষেত্রে বহুবিধ অন্তর্গত অসামঞ্জস্য আছে, সেগুলি খতিয়ে দেখাও অর্থ বিভাগের দায়। উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক করার মধ্যবর্তিতায় সামাজিক কল্যাণ সাধনের যে পুণ্য সুযোগ, বামফ্রন্ট সরকার তা না গ্রহণ করেই পারে না; অর্থ দপ্তরকেই এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে। এ সমস্তের বাইরেও, এঁর-ওঁর-তাঁর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধাবর্ধনের জন্য সতত উচ্চগ্রামের দাবি। কিংবা হয়তো অন্যান্য মন্ত্রীরা এসে টেবিলে আছড়ে পড়ছেন, মশাই, ওই বিভাগের কর্মচারীদের আপনি গত মাসে এই-এই বিশেষ সুবিধা মঞ্জুর করেছেন, আমার বিভাগের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না কেন?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুধীন দাশগুপ্ত – সম্পাদনা: অশোক দাশগুপ্ত
    Next Article আঙ্কল টমস কেবিন – হ্যারিয়েট বিচার স্টো

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }