Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আপিলা-চাপিলা – অশোক মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প696 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আপিলা-চাপিলা – ৮

    আট

    দিল্লিতে নতুন-নতুন মানুষজনের সঙ্গে আলাপ। ইংরেজিতে কথাবার্তা বলতে ক্রমে-ক্রমে সামান্য দুরস্ত হলাম। স্থানীয় ছাত্র ফেডারেশনেরও ঘনিষ্ঠ হওয়া গেল। প্রতি সন্ধ্যাতেই কোনও-না-কোনও বক্তৃতা বা বিতর্ক বা সংগীতের অনুষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাঙ্গণে-ওই প্রাঙ্গণে, অথবা দিল্লির কোনও কলেজে। অনেক মিশ্র আচ্ছা; আড্ডা দিচ্ছি, ঘুরে বেড়াচ্ছি, সর্ব অর্থে সাবালক হচ্ছি, প্রতি রবিবার সকালে কনৌট প্লেসে গিয়ে প্রচুর বিদেশী সিনেমা দেখছি।

    সময় কাটছে বিবিধ প্রসঙ্গে, কিন্তু কাজের কাজ গবেষণা কিছুই এগোচ্ছে না। অথচ রাও মহাশয় আমাকে নিযুক্তিপত্রেই লিখেছিলেন, যেহেতু আমি অমিয় দাশগুপ্তের পেয়ারের ছাত্র, আমার গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি স্বয়ং পরামর্শদাতা হবেন। কী নিয়ে গবেষণা করবো খেটে-খুটে তার একটি দশ পৃষ্ঠার চুম্বক তৈরি করে তাঁর কাছে দাখিল করে অপেক্ষায় থাকি, খোদ পরামর্শদাতাকে অথচ আর ধরতে পারি না। সপ্তাহ যায়, মাস যায়, বছরই বুঝি গড়িয়ে যায়, তিনি রাজকার্যে ব্যাপৃত, নয়তো স্কুলের জন্য হন্যে হয়ে এই তল্লাট-ওই তল্লাট থেকে অর্থ সংগ্রহ করছেন। সাত-আট মাস প্রতীক্ষার পর একদিন ওঁকে অবশেষে ধরা গেল। ঘরে ঢুকে সবিনয়ে নিবেদন করলাম, ‘আপনার দফতরে আমার গবেষণা-চুম্বকটি মাস কয়েক আগে রেখে গিয়েছিলাম, আপনি দয়া করে পড়ে উঠতে পেরেছেন কি? যদি পড়ে থাকেন, তা হলে আপনার মতামত জানতে পেলে উপকৃত হবো’। শুনে রাও সাহেব মহাকুপিত। গলা উঁচু পর্দায় চড়িয়ে বললেন, ‘অশোক, আমার বদ্ধমূল ধারণা আমার বন্ধু দাশগুপ্তর কাছে তুমি ঠিকমতো অনুশীলন পাওনি, তোমাকে দাশগুপ্ত বড্ড বেশি আদুরে করে তুলেছে। গবেষণা মানে নিজে চিন্তা করবে, চিন্তা করে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করবে, সে-সব নিয়ে বিস্তৃত সিদ্ধান্তে পৌঁছে নিজের উপর নির্ভর করে লিখবে, অথচ সে-সব কিছু না করে তুমি আমার কাছে এসে ঘ্যানর-ঘ্যানর করছো। আমি দুঃখিত’। গোস্তাকি মাফ করতে হয় বলে আমার পড়ি-কি-মরি প্রস্থান।

    পরিমলবাবুকে গিয়ে সবিস্তারে জানালাম। বরাবরের মতো ওঁর মুচকি হাসি, সেই সঙ্গে আড্ডার বিভঙ্গে উক্তি, ‘দিল্লি এসেছো, লাড্ডুটা খেয়েছো, এবার আরাম করে পস্তাও’। যে-কয় মাস দিল্লিতে ছিলাম, আমার প্রধান প্রস্থানই ছিল পরিমলবাবুর মেটকাফ হাউসের বাড়ির নিয়মিত রবিবাসরীয় আড্ডায়। নিটোল বাঙালি আড্ডা। নীরদচন্দ্র চৌধুরী অবশ্য আসতেন না, তিনি সাহেবসুবো বাদে কারও বাড়িতেই পদধূলি দিতেন না। যাঁরা আসতেন তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের কথা মনে পড়ছে। আসতেন বিনয়েন্দ্রমোহন চৌধুরী, সাহিত্যরসিক, ‘কবিতা’ পত্রিকায় একবার বাংলা ছন্দ নিয়ে একটি চিত্তাকর্ষক প্রবন্ধ লিখেছিলেন, পেশায় সরকারি চাকুরে, বেতার বিভাগে। আর আসতেন দিল্লি পলিটেকনিকে ইংরেজির অধ্যাপক দিলীপ সান্যাল: একদা বোধ হয় ‘শনিবারের চিঠি’-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পরে কলকাতা থেকে কিছুদিন ‘সমসাময়িক’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন দিলীপবাবু কথা বলতেন, অফুরন্ত কথা, বিভিন্ন বিষয়ে কথা, তবে শুনতে খারাপ লাগতো না, এলেম ছিল বলার ধরনধারণে, বিষয়বস্তুতে আকর্ষণও ছিল। আর একজন ছিলেন, তখনও তরুণ অধ্যাপক, কলকাতারই ছাত্র। তিনিও সমানে কথা বলে যেতেন, অন্য কাউকে সুযোগ না দিয়ে। মুশকিল হলো, তাঁর বচনে সমস্ত জায়গা জুড়ে আমিত্ব, খানিকবাদে একঘেয়ে ঠেকতো, অন্যদের যে বিরক্তি উৎপাদন হচ্ছে, তা বোঝবার ক্ষমতা তাঁর ছিল না। এখন তিনি অগ্রগামী বার্ধক্যে; অবসর জীবনে কথা বলার সুযোগ কমে গেছে বলেই হয়তো এখানে-ওখানে অজস্র লিখে যাচ্ছেন। একটি ব্যাপারে তাঁর চরিত্র অনড়: অন্যদের যে বিরক্তি উৎপাদন করছেন, উপলব্ধি করার ক্ষমতা এখনও তাঁর নেই।

    আর যাঁরা পরিমলবাবুর আড্ডায় নিয়মিত হাজির, তাদের মধ্যে ছিলেন খগেন্দ্রনাথ চৌধুরী, রামযশ কলেজে অর্থনীতি পড়াতেন, কিছুদিন পরিমলবাবুর বাড়িতেই ছিলেন। কোনওদিন গিয়ে যদি খগেনবাবুর খোঁজ করতাম, পরিমলবাবু ভাববিহীন মুখে বলতেন, ‘উনি সদ্য দশ ঘণ্টা ঘুমিয়ে উঠেছেন, ঘুম থেকে উঠে পদ্মাসন হয়ে আধ ঘণ্টা ধরে নিদ্রার শ্রান্তি দূর করবার জন্য একটু বিশ্রাম করছেন’। মাঝে-মাঝে আসতেন পরিমলবাবুর ছাত্র, এবং ঢাকাতে আমার কিছুদিনের মাস্টারমশাই, সমররঞ্জন সেন। তিনি তখন থেকেই বরিষ্ঠ সরকারি আমলা, পরে বরিষ্ঠতর হয়েছেন, ওরকম অতিথিবৎসল মানুষ কদাচিৎ দেখা যায়। তাঁর স্ত্রী শান্তিনিকেতনের প্রাক্তন ছাত্রী, অনীতা সেন, সেই সুবাদে ওঁদের বাড়িতে শান্তিনিকেতন থেকে দিল্লিতে বেড়াতে-আসা অনেক গুণী শিল্পীর সংগীত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সমসাময়িকা সুশীলা জুন্নরকরও তখন দিল্লিতে, ইতিমধ্যে অমলেন্দু দাশগুপ্তের সঙ্গে পরিণীতা। অমলেন্দু তখন কেন্দ্রীয় তথ্য বিভাগে, না কি বৃটিশ ইনফরমেশন সার্ভিসে।

    পরিমলবাবুর ওখানে আড্ডা দিতাম, রানিদি যত্ন করে খাওয়াতেন, কোনও এক সপ্তাহে কী কাজে বুদ্ধদেব বসু এলেন, সন্ধ্যাবেলা মেটকাফ হাউসের বাইরে যমুনাসংলগ্ন মাঠে বেতের চেয়ারে গা এলিয়ে পা ছড়িয়ে আমাদের ঢাকা-কাব্য-সাহিত্য-ঘেঁষা বিশ্রম্ভালাপ। যমুনার ওপারে এবড়োখেবড়ো ঘাস, একটি-দু’টি জীবজন্তু চরছে, হঠাৎ বুদ্ধদেব উল্লসিত উৎসাহে লাফিয়ে উঠে চিৎকার করে বললেন, ‘দ্যাখো, দ্যাখো, কী সুন্দর একটা হরিণ ঘাস চিবুচ্ছে’। পরিমল রায়, তাঁর প্রথামতো ভাববিকাররহিত, সংক্ষেপে জানালেন, ‘ওটা হরিণ নয়, বাছুর’। বুদ্ধদেব হতাশ।

    বাঙালি আড্ডায় দিল্লিতে মশগুল হচ্ছি, মার্কসবাদী বন্ধুবান্ধবের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলো, পৃথ্বীনাথ ধরের সঙ্গে আলাপ জমলো। শীলা বাহাদুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী, সে মাঝে-মাঝে গয়্যার হলে এসে ধর সাহেবের খোঁজ করতো, প্রেমের প্রথম পর্বের মায়াঞ্জন তাঁর দু’চোখে। বিবাহের পর শীলা সংগীতজ্ঞ হিশেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, কিন্তু পৃথ্বীনাথের গানে তেমন ভক্তি আছে বলে তখনও মনে হয়নি, এখনও মনে হয় না। তখন তাঁর কমিউনিস্ট অনুরাগের ঋতু, আমার কাছাকাছি আসার তা-ও বোধ হয় অন্যতম কারণ। একদিন সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন কক্ষে সভা ছাত্র ফেডারেশনের উদ্যোগে। ছাত্র ফেডারেশনের মস্ত চাঁই হরিশচন্দ্র, পরে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি হয়েছিল, বিয়ে করেছিল চীনে-পাঠানো মেডিক্যাল মিশন-খ্যাত ডক্টর অটলের কন্যাকে। ১৯৫০ সালে জওহরলাল নেহরুর উদ্যোগে তিব্বত নিয়ে চীন সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের চুক্তি সদ্য-সদ্য সই করা হয়েছে, বামপন্থী মহলে উচ্ছ্বাস। চুক্তির সমর্থনে ছাত্র ফেডারেশন দ্বারা আহুত সভা। আমি আর পৃথ্বীনাথ ধর একসঙ্গে গেছি, পিছন দিকের আসনে বসেছি। নির্বিঘ্নে চলছিল সব কিছু, হঠাৎ সম্ভবত-জর্জ-ফার্নান্ডেজের-ভক্ত কিছু যুবক, চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সভাকক্ষে সরব। হরিশ নিজেই দক্ষতার সঙ্গে ব্যাপারটা সামলে দিচ্ছিল, কিন্তু পৃথ্বীনাথের সেটা উগ্র রুশ-চীন ভালোবাসার ঋতু। হঠাৎ আমার পাশ থেকে উঠে দাপিয়ে চিৎকার করে উঠলেন, ‘মারো বুন্ধুলোগোকো’। বহু বছর ওঁর সঙ্গে আমার দেখা হয় না। সময় পাল্টে গেছে, কাহিনীটি মনে করিয়ে দিলে লজ্জায়-অনুশোচনায় নিশ্চয়ই লাল হয়ে উঠবেন।

    রাও সাহেবের ভর্ৎসনা বিবরণ নিয়ে রঙ্গপালা শেষ হওয়ার পর পরিমল রায় পরামর্শ দিলেন, সব জানিয়ে অবিলম্বে অমিয়বাবুকে যেন চিঠি দিই। চিঠি দিলাম, অমিয়বাবু সক্রিয় হলেন। লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক, বিশ্ববিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির কেউকেটা, বিনয় দাশগুপ্ত মশাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ও আমার কথা জানতেন, এম এ পরীক্ষায় আমার একটি পেপার পরীক্ষা করে অতিশয় আহ্লাদিত হয়েছিলেন; তিনিও উপাচার্য নরেন্দ্র দেবকে বললেন। বিনয়বাবুর তার পেলাম: অবিলম্বে যেন বাক্সপ্যাঁটরাসুদ্ধু লখনউয়ের ট্রেনে চাপি, সোজা তাঁর বাড়িতে গিয়ে উঠি। রাও সাহেবকে না বলেই, তাঁর কাছে অনুমতি না নিয়েই, পলায়নপর হলাম, অবশ্য তিনি তখন দেশেও ছিলেন না। লখনউ পৌঁছুলাম, চারবাগ স্টেশন থেকে টঙ্গায় চেপে নতুন হায়দরাবাদ পাড়ায় বিনয়বাবুর বাড়িতে। বাড়ির বাইরের বারান্দা-সংলগ্ন অতিথি গৃহে তোফা রাত্রিবাস। পরদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ঘরে ইন্টারভিউ। কয়েক মিনিট গড়ালেই বুঝতে পারলাম ইন্টারভিউটি নেহাতই মামুলি, অমিয় দাশগুপ্ত মহাশয় চিঠি দিয়েছেন, ডি পি সাব প্রশংসা করেছেন, বিনয়বাবুর সুপারিশ। আচার্য নরেন্দ্র দেব, দেবতুল্য মানুষ, আগে থেকেই মনস্থির করেছেন, আমাকে একটা-দুটো স্বাস্থ্যসূচক প্রশ্ন করলেন, বাকি সময় নির্বাচন কমিটির অন্যান্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় ব্যস্ত রইলেন, আমি নির্বাক শ্রোতা। পরদিন কলকাতার ট্রেন ধরলাম, সুরঞ্জন ততদিনে আতোয়ার রহমানের গণেশ অ্যাভেনিউস্থ ‘চতুরঙ্গ’র ফ্ল্যাটে নিজেকে স্থানান্তরিত করেছে। আমিও ওখানে প্রশ্নহীন নিরুদ্বিগ্নতার সঙ্গে উঠলাম, পাচক-অভিভাবক-সর্বময় কর্তা আতিকুল্লা-র তৃতীয় প্রজা হিশেবে। দু’দিন বাদে লখনউ থেকে বিনয়বাবুর চিঠি, লেকচারারের পদে নিযুক্ত হয়েছি, বড়দিনের ছুটির পর কাজে যোগ দিতে হবে।

    প্রায় দু’-বছর লখনউতে পরম আরামে মনের সুখে পড়ানোর কাজ করেছি। যেদিন কাজে যোগ দিতে পঞ্জাব মেল ধরে লখনউ রওনা হলাম, সেদিনও কফি হাউসে সন্ধ্যা অবধি আড্ডা। ট্রেনের সময় হয়ে গেছে, সম্ভবত জল খাচ্ছিলাম, জলের গ্লাস নিয়ে সিঁড়ি ভেঙে হুড়মুড় করে ট্যাক্সিতে চাপা। লখনউ পৌঁছে পরদিন হজরতগঞ্জের কফি হাউসে চিঠিতে ব্যাখ্যাসহ গেলাসটি জমা দিলাম, গেলাসটি পরে ওঁরা কলকাতায় কলেজ স্কয়্যারের কফি হাউসে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কিনা জানতে আমার বিবেক পীড়িত হয়নি কখনোও।

    লখনউ নিয়ে প্রগল্‌ভ হওয়ার আগে একটি অন্তিম দিল্লিকাহিনীর বিবৃতি সেরে নিই। আমলা শহর দিল্লি, কিন্তু তখন থেকেই সেই সঙ্গে বৈশ্য শহরও। এক রবিবার সকালে কনৌট প্লেস পাড়ায় সিনেমা দেখতে এসেছি, ছবি শেষ হলে সিন্ধিয়া হাউসের বাসস্টপে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। দিল্লিতে পরিবহনের হাল এমনিতেই করুণ, রবিবার আরও বেশি বেহাল। দাঁড়িয়ে আছি তো দাঁড়িয়েই আছি বিশ্ববিদ্যালয়মুখো বাসের জন্য। প্রায় চল্লিশ মিনিট গত, বাস আর আসে না, এমন সময় একটি ঝলমলে চালো রঙের মস্ত মার্কিন গাড়ি রাস্তার ধার ঘেঁষে দাঁড়ালো, চালকই একমাত্র আরোহী, দুরস্ত পোশাক, চোখে কালো চশমা, বিশুদ্ধ ইংরেজিতে জিজ্ঞাসা করলেন আমার গন্তব্য কোথায়, তিনি লিফ্‌ট দিতে পারেন কিনা, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাচ্ছেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে পাশে গিয়ে বসলাম, গাড়ি চললো, ধনবিজ্ঞানে গবেষণা করছি জেনে চালক জানালেন তিনি দর্শন শাস্ত্রের অনুরাগী, অস্তিত্ববাদ নিয়ে প্রচুর কিয়ের্কগার্দ-হিদেগার-সার্ত্র ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন। আলাপ জমলো, আমার মন্তব্য, তাঁর প্রতি-মন্তব্য, বুদ্ধির চর্চায় প্লাবিত হলাম। গয়্যার হলে পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে তাঁকে বিদায়ী ধন্যবাদ জানাতে উদ্যত হয়েছি, হঠাৎ দার্শনিক ভদ্রলোক দ্রুত ডান হাত বাড়িয়ে বললেন, ‘আট আনে’।

    কাশীর গেরুয়া সংস্কৃতিতে অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছিলাম এক বছর-দু’বছর আগে, প্রতিতুলনায় লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রথম দর্শনেই ভারি হৃদয়-জুড়োনো ঠেকলো। ক্যানিং কলেজের গথিক স্থাপত্যের নিদর্শন-ঠাসা পুরনো ঘরবাড়ি, চারপাশে অপেক্ষাকৃত নতুন অট্টালিকার সারি, বাদশাবাগে বৃক্ষনিবিড় অধ্যাপকদের কোয়ার্টারপুঞ্জ, কেয়ারি-করা ফুলের বাগান, টেনিস কোর্ট ইত্যাদি। তখনও পর্যন্ত লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে উগ্র প্রাদেশিকতার ছোঁয়া লাগেনি, বরং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঝাঁকে-ঝাঁকে শিক্ষককুল বিশের দশক থেকেই জড়ো হয়েছিলেন বলে বেশ খানিকটা ঔদার্যের পরিমণ্ডল। বিশিষ্ট একটি মিশ্র সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়কে আচ্ছন্ন করে: একদিকে অযোধ্যার তালুকদার সম্প্রদায়ের বনেদিয়ানা, পাশাপাশি একগাদা তরুণ মার্কসবাদী শিক্ষকের চিন্তাভাবনার প্রভাব। সহবতের শহর লখনউ, হিন্দুস্থানি সংগীতচর্চার কেন্দ্রভূমি, আদবকায়দার বিচ্ছুরণে তকল্লুফের বন্যা। তার উপর, কে অস্বীকার করবে, ইসাবেলা থোবার্ন কলেজ থেকে উত্তীর্ণ হওয়া অসংখ্য সুন্দরী মেয়ে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মানবিক সৌন্দর্যের চমৎকার সংশ্লেষণ। ক্যানিং কলেজ থেকে এক ফার্লং দূরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দফতরের সঙ্গে সংযোগকারী সুদৃশ্য রাস্তাটিকে অভিবাদন জানাতেই যেন, দীর্ঘ জম্বুপুঞ্জ; যতবার হেঁটে গেছি, বারবার রবীন্দ্রনাথের চরণখণ্ড, ‘জম্বপুঞ্জে নীল বনান্ত’, মনে ধাক্কা দিয়েছে।

    সমাজতন্ত্রে গভীর বিশ্বাসী জননায়ক নরেন্দ্র দেব মহাশয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তাঁর অদৃশ্য কিন্তু অলঙ্ঘনীয় নির্দেশ-ইঙ্গিতের প্রসাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ মিত্রতা-মদির তথাচ অভিনব। অভিজাত, কিন্তু সব কিছু তবু অতি সহজা-সচ্ছল। আরও যা বলতে হয়, একা ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংস্কৃত করতে, উন্নত করতে, শাণিত করতে যথেষ্ট। লখনউ জুড়ে ডিপি সাহেবের খ্যাতি। আমার এক বন্ধু কলকাতা থেকে একবার চিঠি পাঠিয়েছিলেন, ‘অশোক মিত্র, প্রযত্নে ডি পি, উত্তর ভারত’। সেই চিঠি বেপাত্তা হয়নি, নিশানা ভুল করেনি, কারণ ডাক বিভাগেও ধূর্জটিপ্রসাদের অনেক ছাত্র, শিষ্য ও ভক্ত। আমি যখন হাজির হলাম, রাধাকুমুদ-রাধাকমল মুখোপাধ্যায় এই দুই বিশ্রুত মনীষী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। তবে রাধাকমল তখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাংলোতে থাকছেন, প্রতি সকালে তাঁর বাসগৃহে গবেষক-ছাত্রদের ভিড়। অন্যান্য বাঙালি অধ্যাপকরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ আলো করে আছেন: ইতিহাসে কালিকারঞ্জন কানুনগো ও শৈলেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত, যিনি ক্ষিতিমোহন সেনের মধ্যম জামাতা; দর্শন শাস্ত্রে সম্মানিত অধ্যাপক প্রবাদপ্রতিম সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত এবং তাঁর স্ত্রী সুরমা দাশগুপ্ত; রসায়নে অবিনাশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, এ.সি চ্যাটার্জি নামে সমধিক পরিচিত, সেই ধ্যানচাঁদের আমল থেকে এক নাগাড়ে প্রায় তিরিশ বছর ভারতীয় হকি ফেডারেশনের কর্ণধার। অবশ্যই উল্লেখ্য ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপক নির্মলকুমার সিদ্ধান্ত, যাঁর স্ত্রী চিত্রলেখা সিদ্ধান্ত প্রথম যুগের রবীন্দ্রসংগীত গায়িকাদের মধ্যে অগ্রগণ্যা। তা ছাড়া নৃতত্ব বিভাগে ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার, কথায়-বার্তায় সামান্য হাম্‌বড়া, কিন্তু কৃতী পুরুষ। এত বছরের ব্যবধানে অন্য অনেক নাম ভুলে গেছি। ঈষৎ মনে পড়ছে আর একজনের কথা, বোধহয় অর্থনীতি বিভাগের, ভুজঙ্গভূষণ মুখোপাধ্যায়। বাণিজ্য বিভাগে বিনয়েন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত মহাশয় তো প্রায় সম্রাট হিশেবেই বিরাজ করতেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অখণ্ড প্রতিপত্তি। সবশেষে ঈষৎ সন্তর্পণে আর একজনের কথা বলি, ধনবিজ্ঞানী, বাণিজ্য বিভাগে আমার সহকর্মী ছিলেন, ভূপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, খুব কম মানুষই তাঁকে এখন চিনবেন, তিনি সিগনেট প্রেসের নীলিমা দেবীর প্রথম স্বামী। ভূপেনবাবুর দ্বিতীয় বিবাহও সুখের হয়নি। সজ্জন, চাপা মানুষ, লোকেরা তাঁকে কৃপা করে, এই প্রতীতির ফলে আরও কুঁকড়ে থাকতেন।

    সুরেন দাশগুপ্ত মশাই তখন খুবই অসুস্থ, বাড়ি থেকে বেরোতে পারতেন না, সুরমাদিকে পড়াতে যেতে হতো, আমি অনেক সময় পরমজ্ঞানী দার্শনিককে সঙ্গ দান করে আসতাম। দু’জনেই স্নেহ করতেন প্রচুর, ছেলেমানুষ আমার সঙ্গে প্রায় কৌতুকবিনিময়ের সম্পর্ক। দাশগুপ্ত মশাই মাঝে-মাঝে রঙ্গ করতে বলতেন, যদি বদ্যি মেয়ে বিয়ে করতে চাই, ওঁকে যেন বলি, ওঁর জানা অনেক ভালো-ভালো মেয়ে আছে।

    লেকচারার হিশেবে মাসে তিনশো পঁচিশ টাকা মাইনে পেতাম, খরচ করে ওঠা যেতো না। লখনউতে পৌঁছে প্রথম দু’-একমাস নিউ হস্টেলে ছিলাম। নির্মল সিদ্ধান্ত মহাশয় দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য হয়ে গেলেন; শ্রীমতী সিদ্ধান্তও সঙ্গে গেলেন। তাঁদের মেয়ে রঞ্জনা—অপু—মার্কিন দেশে পি-এইচ ডি. করছে, ছেলে কলকাতায় চাকুরিরত। সিদ্ধান্ত মহাশয়ের বাদশাবাগের বাড়ি খালি পড়ে আছে, অথচ ব্যবস্থাপনার জন্য লোকজনের অভাব নেই। ধূর্জটিবাবু আমার জন্য ওই বাড়ির একটি অংশে থাকবার ব্যবস্থা করে দিলেন। আমি, আর সদ্য কেমব্রিজ থেকে পি.এইচডি. করে ফেরা, কেন্দ্রীয় ড্রাগ রিসার্চ গবেষণাগারে ক’দিন আগে যোগ দেওয়া, সুভদ্র, অতি চমৎকার দেখতে নিত্যানন্দ, আমরা দু’জন সিদ্ধান্ত-নিলয়ে বিনিপয়সার তালুকদার হয়ে রইলাম। যে-অংশটিতে আমি থাকতাম তার একটি ঘরে আলমারি-বোঝাই শার্লক হোমস ও আগাথা ক্রিস্টি; রাত জেগে এক-একটি আগাথা ক্রিস্টি কাহিনী নিয়ম করে নিধন করতাম।

    বি.এ-বি.কম ক্লাসে হিন্দিতে পড়ানোর রেওয়াজ শুরু হয়ে গিয়েছিল, তাতে আমার সুবিধাই, রাজভাষা যেহেতু জানি না, লেকচারের দায়ভার সপ্তাহে মাত্র দশটি, পাঁচদিন করে প্রতিদিন দু’টি পিরিয়ড। সাড়ে ন’টায় শুরু হয়ে সাড়ে এগারোটায় আমার দিনের পালা সমাপ্ত হতো, কিংবা মধ্যিখানে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে সাড়ে বারোটায়। তারপর থেকে নিচ্ছিদ্র নিশ্চিন্ত অবসর। অবশ্য, কয়েক মাস গত হলে, ধূর্জটিবাবু মাঝে-মাঝে তাঁর ক্লাসে আমাকে দিয়ে বক্তৃতা দেওয়াবার ব্যবস্থা করেছিলেন। একবার একাদিক্রমে দুই সপ্তাহ ধরে কেইনস সাহেবের সাধারণ তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেছিলাম; ধূর্জটিবাবু ছোট্ট করে বলেছিলেন, ‘ছেলেরা তারিফ করেছে’।

    বাচ্চা ছেলে হলেও ভালোই পড়াতে পারছি জেনে নরেন্দ্র দেব মহাশয়ও বিশেষ স্নেহের চোখে দেখতেন। কখনো-কখনো ছুটির দিনে আমাকে বাসস্থান থেকে তুলে নিয়ে কফি  হাউসে যেতেন, আমার উগ্র বামপন্থী কথাবার্তা একটু প্রশ্রয়ের সঙ্গেই শুনতেন। সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ওঁর লেখা একটি হিন্দি প্রবন্ধ বাংলায় অনুবাদ করে ‘চতুরঙ্গ’-এ ছাপিয়েছিলাম, খুশি হয়েছিলেন খুব। মাত্র একদিনই আমাকে মৃদু ভর্ৎসনা করেছিলেন। কলকাতা সে-সময় ক্রমশ অগ্নিগর্ভ, কংগ্রেস-বিরোধী মনোভাব সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। ছ’-সাত বছরের একটি বাচ্চা মেয়ে, অভিভাবকের সঙ্গে ট্রামে যাচ্ছে, হাতে খেলনা পিস্তল ঘুরে-ঘুরে তাগ করে যাত্রীদের বলছে, ‘কংগ্রেসকে যদি ভোট দাও, তোমাকে গুলি করে মারবো’। আমি ঈষৎ শ্লাঘার সঙ্গে নরেন্দ্র দেব মশাইকে কাহিনীটি বলতেই ওঁর মুখ গম্ভীর, তারপর ছোটো মন্তব্য: ‘তোমরা হিংসার বাতাবরণ আমদানি করছো, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের যে সর্বনাশ হবে তা চিন্তা করছো না’। আমার হয়তো কিছু বলবার ছিল, কিন্তু সম্মানীয় মানুষ, নিরুত্তরই রইলাম।

    সিদ্ধান্ত মহাশয়ের বাড়িতে আমাদের কয়েকমাস থাকার পর অপু আমেরিকা থেকে ফিরে এলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে কাজ শুরু করলো, আমি অন্যত্র সরে গেলাম। বিনয়বাবুই দুই বিচিত্র ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলেন: শ্যামকিষেণ কিচলু ও গামাণ্ডিমল বান্টিয়া। শ্যামকিষেণ কাশ্মিরি, গামান্ডিমল রাজস্থানী। কিন্তু তাঁদের সেই পরিচয় উহ্য। দু’জনেই বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাসময় থেকে সদস্য, সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্ধ ভক্ত। এই দুই বাউণ্ডুলে বন্ধু কী করে যেন ম্যাল অ্যাভিনিউর অতি অভিজাত পাড়ায় করাচিতে-চলে-যাওয়া কোনও মুসলমান তালুকদারের বিরাট বাগানঘেরা প্রাসাদের দোতলাটি দখল করে ছিলেন, একতলা পাকিস্তান থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসা এক সিন্ধি পরিবার ভোগ করেছিলেন। শ্যামকিষেণরা তাঁদের দখলদারি থেকে একটি বড়ো আয়তনের আলোকোজ্জ্বল ঘর ও সংলগ্ন তকতকে বাথরুম আমাকে ভাড়া, কিংবা উপভাড়া, দিলেন, মাসিক দক্ষিণা পঞ্চাশ টাকা। আহা, সে ভারি সুখের সময় ছিল। প্রতিদিন সকালে কফি হাউসে প্রাতরাশ সেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে, সাড়ে এগারোটা নয়তো সাড়ে বারোটার মধ্যে পড়ানো শেষ, হেঁটে হজরতগঞ্জে পৌঁছনো, সেখানে ‘রঞ্জনা’ নামে এক রেস্তোরাঁয় দুপুর-রাত্রি দু’বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা, এখানেও মাসে পঞ্চাশ টাকা দেয়। মিচকে লোকে বলতো, রেস্তোরাঁটির নামকরণের প্রেরণা নাকি জুগিয়েছিল স্বয়ং অপু, অর্থাৎ সিদ্ধান্ত-তনয়া রঞ্জনা। দুপুরে আহার সেরে ম্যাল অ্যাভিনিউর ঘরে ফিরে যাওয়া। মাঝে-মাঝে একতলার সিন্ধি পরিবারের তিনটি তরুণী কন্যা, যৌবনযন্ত্রণায় দীর্ণ, একটু-আধটু উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করতো। তাদের এড়িয়ে দোতলায় নিজের ঘরে, নিদ্রা কিংবা বই পড়া। বিকেল যখন সন্ধ্যার দিকে গড়িয়ে যেত, হজরতগঞ্জের কফিহাউসের দিকে পুনঃপ্রস্থান।

    কফি হাউস সরগরম। ধূর্জটিপ্রসাদ তো এসেইছেন, অধ্যাপকবৃন্দের একটি বড়ো অংশও। সংগীত নিয়ে আলোচনা, মেটাফিজিক্স কি সাংখ্য দর্শন, অথবা অর্থনীতি-রাজনীতি, বিশেষ করে সমাজতন্ত্র ও কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ে কচকচানি, কারণ রামমনোহর লোহিয়াও পৌঁছে গেছেন, আচার্য নরেন্দ্র দেব তো একটু আগে থেকেই ছিলেন। এক কোণে তাঁর নিজের দলবল নিয়ে ফিরোজ গান্ধি, পরে লোকসভায় অত্যন্ত সরব হলেও কফি হাউসে তত মুখর হতেন না, অন্যদের আলাপচারিতা শুনতেন। নৃতত্ত্ব বিভাগের ধীরেন মজুমদার মহাশয়, ঢাকাই বাঙাল, ঠোঁটকাটা। একদিন ফিরোজ আমাদের টেবিলের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন, ধীরেনবাবু উচ্চস্বরে বললেন, ‘এই নির্বাক লোকটা আড়াই লক্ষ ভোটে শাজাহানপুর থেকে জিতেছে। যদি জিতে না-ও থাকে, শিগগিরই জিতবে, নেহরু-মাহাত্ম্য, ভারতীয় গণতন্ত্র’।

    কফি হাউসের আড্ডা ছুটির দিনেও সমান জমাট। অনেকের সঙ্গে কমিউনিস্ট নেতা জাইন আহমেদও জড়ো হতেন, কখনও-সখনও লখনউ বেড়াতে-আসা অরুণা আসফ আলি, কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিতে হবো-হবো করছেন। বিশেষ একজনের কথা উল্লেখ না করা অন্যায় হবে: অর্থনীতি বিভাগে আমার সতীর্থ, বীরবাহাদুর সিংহ। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে মহাসমারোহে ‘মার্কস ক্লাব’ পরিচালনা করতো। প্রতি বছর মাত্র একটি সভা বসতো, বিষয়, মার্কসবাদের তাৎপর্য। শুরুতেই শেষ, এলিয়ট সাহেব তো বলেই গেছেন সেটাই নিয়তি, সারা বছর ‘মার্কস ক্লাব’ আর একবারও মিলিত হতো না।

    কয়েকমাস বাদে বিনয় দাশগুপ্ত মহাশয়ের জ্যেষ্ঠ পুত্র পরিমল, ডাক নাম অংশু, প্যারিস থেকে ফিরলো, সরবোন-এর ডিগ্রি-সমেত, ইতিহাসে মস্ত পণ্ডিত। বিনয়বাবুর খুশি উপচে পড়ে, অংশুর জন্য বাড়ির প্রাঙ্গণে আলাদা সুইট তৈরি করে দিলেন, আমাদের অবারিত আড্ডার আর একটি জায়গা হলো। তবে পৃথিবীতে বোধহয় অবিমিশ্র সুখ বলে কিছু নেই। অংশুর সঙ্গে পরিচয় ও আড্ডা দেওয়ার কল্যাণে আমাদের কয়েকজনের প্রায়ই ওই বাড়িতে নৈশাহারের নিমন্ত্রণ থাকতো। মুশকিল দেখা দিল বেশি রাত হলে আহারান্তে অংশু প্রায়ই বলতো, ‘চলো, তোমাদের ছেড়ে দিয়ে আসি’। প্রমাদ গুণতাম আমরা, কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাড়া থেকে গোমতী নদী পেরিয়ে পুরনো শহরে ঢোকবার মুখে মাঙ্কি ব্রিজের উপর অংশুর ঝরঝরে ফোর্ড গাড়ি অবধারিত বন্ধ হয়ে যেতো, ভরা পেটে সেই গাড়ি অতঃপর আমাদের চড়াইতে ঠেলতে হতো। একটা সময় এলো, ওর নৈশাহারের নিমন্ত্রণ আমরা সভয়ে, কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে, প্রত্যাখ্যান করতে লাগলাম।

    বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চলের বাইরে নতুন হায়দরাবাদ পাড়া, অভিজাত বাঙালি বসতি। ওখানে তখন বাড়ি করেছিলেন অসিতকুমার হালদার। সরকারি কলাভবনে ছিলেন বীরেশ্বর সেন। পুরনো বিপ্লবী স্বদেশী নেতা কানাইলাল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও ওখানে পরিচয়, তাঁর কন্যাদ্বয় গীতা ঘটক ও রীতা গঙ্গোপাধ্যায় বর্তমানে সংগীতজগতে বিখ্যাত, অবশ্য তখন তারা নেহাত বালিকা। বিনয় দাশগুপ্ত আমিনাবাদে নিয়ে গিয়ে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন পাহাড়ী সান্যালের অগ্রজ ধীরেন সান্যালের সঙ্গে, ভাইয়ের মতোই স্নেহোচ্ছল, অতিথিবৎসল; যতবার ওঁর কাছে গেছি, গভীর তৃপ্তি নিয়ে ফিরেছি।

    তবে ধূর্জটিপ্রসাদের বাড়ির আড্ডাই লখনউতে পরমতম আকর্ষণ। ধূর্জটিবাবুর বাকচাতুর্যের তুলনা নেই। ইংরেজিতে বলছেন, বিশুদ্ধ হিন্দুস্থানিতে বলছেন, শান্তিপুরি সুসংস্কৃত বাংলায় বলছেন। খেয়ালি মানুষ, বিষয় থেকে বিষয়ান্তরে যাচ্ছেন, অর্থনীতি থেকে দর্শনে, দর্শন থেকে ইতিহাসে, ইতিহাস থেকে সমাজতত্ত্বে, সমাজতত্ত্ব থেকে ব্যাকরণতত্ত্বে, পাণিনি বিশ্লেষণে, অতঃপর উদয়শঙ্কর প্রসঙ্গ উঠতে নৃত্যচর্চা, পরমুহূর্তে শিশির ভাদুড়ীতে পৌঁছে গেছেন। আবর্তের মতো ঘুরে-ঘুরে আসতো কথার তোড়, গল্পের তোড়, চিমটি কাটার তোড়। আমাদের প্রায় সমবয়সী, রাম আদবানি নামে একটি ছেলে, হজরতগঞ্জে একটি সুশোভন বইয়ের দোকান খুলেছিল। কফি হাউসে ঢোকবার আগে বা পরে আমরা প্রত্যেকেই ওর দোকানে ঢুঁ মারতাম, বিদেশ-থেকে-আসা টাটকা বইয়ের সম্ভার, যথাসাধ্য কিনতাম। ধূর্জটিবাবুর বাড়িতে রাম টাঙ্গা বোঝাই করে বই পাঠিয়ে দিত ওঁর বাছাইয়ের জন্য। ধূর্জটিবাবু প্রতি সপ্তাহে টাইমস লিটারারি সাপ্লিমেন্ট ও এডুকেশনাল সাপ্লিমেন্ট রাখতেন; যে কোনও হালের বইয়ের কথা তাঁর ঠোঁটের ডগায়, সিগারেট যেমন।

    অনেকের সম্পর্কে অনেক গল্প শুনিয়েছেন তিনি, নিদর্শন হিশেবে মাত্র দু’টির উল্লেখ করবো। ঘোর ব্রাহ্ম হেরম্ব মৈত্র, কলেজ স্ট্রিট থেকে পড়ন্ত বিকেলে বাড়ি ফিরবেন, বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। কোনও বাসই তাঁর পছন্দ হয় না: কোনও বাসের নাম শিব, কারও দুর্গা, কারও সরস্বতী, অন্য কারও বা পার্বতী। অবশেষে রাত যখন ন’টা ছুঁই-ছুঁই, একটি বাস এলো, ‘সত্যনারায়ণ’। হেরম্ববাবু উঠে চালকের পাশে গিয়ে বসলেন, সত্য রক্ষা হলো। অপর এক গল্প। লখনউবাসী এক বাঙালি ব্যারিস্টার, ঘোর সাহেবিভাপাপন্ন, নাম এইচ. কে, ঘোষ, লোকেরা জনান্তিকে বলতো হেঁচকি ঘোষ। অতুলপ্রসাদ সেনের প্রয়াণ দিবস, শোকে-মুহ্যমান হেঁচকি ঘোষ হাঁক পাড়লেন, ‘বেয়ারা, মেরা রোনেকা কুর্তা লাও।’

    ধূর্জটিপ্রসাদের বাড়িতে যখন আড্ডা বসতো, ছায়ামাসি প্রতি আধঘণ্টা অন্তর কফি সন্দেশ-সহ পাঠাতেন, নিজের হাতে বানানো সন্দেশ। ধূর্জটিবাবুর আড্ডায় আমরা এমন কি দোহার গাইবারও ঠিক সুযোগ পেতাম না, তিনি একাই একশো। কফি হাউসে যাঁরা যেতেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে ধূর্জটিপ্রসাদের বাড়িতেও উপস্থিত। আড্ডার নেশা, কিংবা ধূর্জটিপ্রসাদের কণ্ঠবৈভবের মায়ামুগ্ধতা, কিছুতেই ছাড়বার নয়। অন্য যে-দু’জন নিয়মিত আসতেন, আগে উল্লেখ করিনি, তাঁরা নবেন্দু বসু ও গিরিন চাটুয্যে। নবেন্দুবাবু বৃত্তিতে হাওয়াবিদ, লখনউর বনেদি মানুষ, শহরের পুরনো কাহিনী তাঁর চেয়ে বেশি কেউ জানতেন না। ‘প্রবাসী’-‘ভারতবর্ষ’-‘বিচিত্রা’-য় প্রচুর লিখেছেন, পরবর্তী সময়ে আমি অন্তত একবার তাঁকে দিয়ে ‘চতুরঙ্গ’-এ একটি প্রবন্ধ লেখাতে সফল হয়েছিলাম: লিখেছিলেন লা মার্টিনিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ক্লদ মার্তাঁ-কে নিয়ে।

    গিরিন চাটুয্যে নিশ্চয়ই আর বেঁচে নেই, লখনউ সেক্রেটারিয়েটে কাজ করতেন, স্মিত চেহারা, ঠোঁটে সব সময় অর্ধস্ফুট হাসি৷ মুখে শৌখিন পাইপ, একটিও কথা বলতেন না, শুধু মাঝে-মাঝে পাইপটি মুখ থেকে নামিয়ে ঈষৎ ঘাড় নাড়তেন, তাতেই ভয়ংকর বুদ্ধিজীবী হিশেবে লখনউ জুড়ে তাঁর খ্যাতি।

    ধূর্জটিপ্রসাদ ও ছায়ামাসি স্নেহ উজাড় করে দিয়েছিলেন আমার উপর। ছায়ামাসি প্রায়ই খেতে বলতেন, অবশ্য বাদশাবাগ পাড়ার অন্য মহিলারাও বলতেন, ক্ষিতিমোহন সেনের কন্যা লাবুদি কিংবা ধীরেন মজুমদারের সহধর্মিণী মাধুরীদি। অবিবাহিত আপাতঅসহায়-দেখতে বাঙালি যুবক, প্রচুর অনুকম্পা কুড়োতাম। তা হলেও আলাদা করে ছায়ামাসির স্নেহবর্ষণের কথা বলতেই হয়। তিনি চমৎকার কবিতা লিখতেন, একসময় ‘কবিতা’ পত্রিকায় তাঁর কবিতা ছাপা হয়েছে। কিন্তু ধূর্জটিপ্রসাদের পরিচর্যায় নিজেকে সম্পূর্ণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন। অতি আস্তে কথা বলতেন, বাঙালি আভিজাত্যের বিচ্ছুরণ তাঁর বাক্যরাজিতে। লখনউর সময় থেকে শুরু করে, পুরো পঞ্চাশ বছর, তাঁর ভালোবাসা-স্নেহাশীর্বাদ কুড়িয়েছি: এই সৌভাগ্যের তুলনা নেই।

    লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি স্বভাবতই ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর, ওখানে ফিরে যাওয়ার আগ্রহও আর তেমন কোনওদিন হয়নি। কিন্তু এটা তো স্বীকার না-করে পারি না, পড়াতে শিখেছিলাম ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে-নিতে, কোনও ছাত্র অতর্কিত একটি প্রশ্ন করলো, যার সে-মুহূর্তে উত্তর জোগাতে পারিনি; ওই অক্ষমতার পীড়নে ভাবতে শিখলাম, ভাবতে-ভাবতে বিষয়টির গহনে যেতে শিখলাম; পড়ানোও ক্রমে-ক্রমে স্বচ্ছন্দ ও সুখকর হয়ে এলো। তবে অর্থশাস্ত্র যে-গতিতে গত অর্ধশতাব্দীতে এগিয়েছে, তার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো ধৈর্য বা সামর্থ্য আমার কোনওদিনই ছিল না। সুতরাং একটি বিশেষ ক্ষণে অর্থনীতিচর্চা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে এসেছি। এক ধরনের দ্বান্দ্বিকতা এখানে। পড়াতে ভালো লাগে, অথচ যা পড়াতে হবে সে বিষয়ে আমার সম্যক জ্ঞান নেই, সুতরাং নিষ্ক্রমণ বিধেয়। অর্থনীতির বৃত্ত থেকে বিদায় নেওয়ার ফলে আমার মনে কোনও শোকতাপ নেই, যা অবধারিত তাই-ই ঘটেছে। অবশ্য লখনউতে যে দু’-বছর ছিলাম, একটু-আধটু দুরাশা সম্ভবত ছিল, ধনবিজ্ঞানে রপ্ত হবো, বই লিখবো, নাম কুড়বো। গণিত চর্চার অভ্যাসে তখনও পুরো মরচে পড়ে যায়নি। বাবা পদার্থবিদ, মা-ও গণিতশাস্ত্রের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ: কিছুটা বংশগত ধারাবাহিকতায় আস্থা পোষণ তেমন অযৌক্তিক ছিল না। অর্থনীতির সঙ্গে গণিত মিশিয়ে নতুন একটি বিজ্ঞান সবেমাত্র শুরু হয়েছে। গাণিতিক পরিভাষায় অর্থনীতির তত্ত্ব প্রথমে ব্যক্ত করতে হবে, তারপর সেই তত্ত্বের সূত্র ধরে কোনও সম্পাদ্য গঠন করতে হবে; সেই সম্পাদ্য তথ্যযুক্ত কিনা তা প্রমাণ বা অপ্রমাণ করবার জন্য পরবর্তী পর্যায়ে সংখ্যাবিজ্ঞানের দ্বারস্থ হতে হবে। উল্লিখিত তিনটি ধাপ মিলিয়ে ইকনোমেট্রিক্স। এই বিদ্যায় প্রভূত কৃতিত্ব সে সময় অর্জন করেছিলেন ইয়ান টিনবার্গেন নামক এক ওলন্দাজ অর্থনীতিবিদ। সুপণ্ডিত পদার্থবিজ্ঞানী, সেখান থেকে অর্থশাস্ত্রে তাঁর প্রব্রজ্যা, বিশের-তিরিশের দশকের আর্থিক মন্দার বিশ্লেষণে ইকনোমেট্রিক্স প্রয়োগ করে তিনি ধনবিজ্ঞানকে নবতর স্তরে পৌঁছে দিয়েছিলেন, পৃথিবী জোড়া তাঁর নাম। মনের গোপনে ইচ্ছাপোষণ করতাম, অধ্যাপক টিনবার্গেনের সান্নিধ্যে থেকে যদি কিছুদিন গবেষণাচর্চা করতে পারি, বড়ো ভালো হয়।

    ভাগ্যলিখন বলাটা বাড়াবাড়ি হবে, তবে ঠিক এমনই সুযোগ আমার সামনে উপস্থিত হলো। বিদেশে গিয়ে ওই নববিজ্ঞান সাধনা করবার মতো রেস্ত নেই, আমার শুধু মনের সাধ বাতাসেতে বিসর্জন। হঠাৎ আমস্টারডাম থেকে এক সমাজবিজ্ঞানী-অধ্যাপক, হফস্ট্রা, ভারতবর্ষ ঘুরতে এলেন, একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে। হল্যান্ড ছোটো দেশ, রফতানি করেই সে দেশের মানুষদের জীবনধারণ। দু’শো-তিনশো বছরের সাম্রাজ্যবিস্তারের আদি ইতিহাস যা-ই হোক, বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ছোটো পরিসরে হল্যান্ডের অবস্থান। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধোত্তর কালে উপার্জন-উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হলে নতুন-নতুন দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে বিনিময়-পরিচয় জরুরি। ওলন্দাজ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হল্যান্ডের সব ক’টি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে সেই লক্ষ্যে কিছুদিন আগে একটি আন্তর্জাতিক সহযোগ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। ইনস্টিটিউট অফ সোস্যাল স্টাডিজ নামে একটি আন্তর্জাতিক মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে, প্রথম অধ্যক্ষ হিশেবে মনোনীত হয়েছেন অধ্যাপক হফস্ট্রা। তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এশিয়া-আফ্রিকা-লাতিন আমেরিকা ঘুরে ছাত্র সংগ্রহের। হল্যান্ডের রাণী মহোদয়া হেগ শহরে অবস্থিত তাঁর অন্যতম প্রাসাদ, নর্ডেন্ডে প্যালেস, মহাবিদ্যালয়ের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে ছাত্রছাত্রী যাঁরা আসবেন, তাঁদের সমস্ত ব্যয় ওই ওলন্দাজ আন্তর্জাতিক সহযোগসংস্থা নির্বাহ করবে।

    হফস্ট্রা সাহেব লখনউতেও এলেন, ধূর্জটিবাবুর সঙ্গে দেখা করলেন, ধূর্জটিবাবু আমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলেন। ভদ্রলোক জিজ্ঞাসা করলেন, নর্ডেন্ডে প্রাসাদবাসী হতে রাজি আছি কিনা। অধ্যাপক টিনবার্গেনের সঙ্গে গবেষণা করার আকাঙক্ষার কথা তাঁকে খুলে বললাম। হফস্ট্রা জানালেন, কোনও অসুবিধা হবে না, অধ্যাপক টিনবার্গেনও ওই মহাবিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়াবেন। সুতরাং আমার লখনউয়ের পালার আপাতত সমাপ্তি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুধীন দাশগুপ্ত – সম্পাদনা: অশোক দাশগুপ্ত
    Next Article আঙ্কল টমস কেবিন – হ্যারিয়েট বিচার স্টো

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }