Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প425 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আবার যদি ইচ্ছা কর – ৭

    গগন পালের গল্প বলি এবার। গগন চরিত্রটিকে আমি ঠিকমত বুঝে উঠতে পারিনি। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে যা শুনেছি তাই লিখে যাওয়া। দাদু বলেছিলেনঃ

    ..বুঝলে নরেন, গগন ছেলেটা চিরকালই ছিল একটু ডাকাবুকো ধরনের। আপনমনে থাকত সে, কারও সাতে-পাঁচে নেই। পড়াশুনায় মন ছিল না। টিকিয়ে ঢিকিয়ে ক্লাস প্রমোশন পেত। মাস্টার মশাইদের হাতে চড়টা-চাপড়টা ছিল তার নিত্য বরাদ্দ; কিন্তু অসুরের মত শক্তি ছিল ওর গায়ে—চড়-চাপড়ে বড়-একটা কিছু হত না। খুব চাপা। ধরনের ছেলে; আমরা আমাদের আশা আকাঙ্ক্ষার কথা আলোচনা করতাম, ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন দেখতাম এবং বন্ধু মহলে তাই নিয়ে কথাবার্তাও হত। সে সব আড্ডায় গগনটা স্রেফ চুপচাপ বসে থাকত, অথবা মাঠ থেকে চোরকাটা উপড়ে নিয়ে তার উঁটি চেবাতো। গায়ে পড়ে কেউ যদি তাকে জিজ্ঞাসা করে বসে বড় হয়ে সে কী হতে চায়, তবে জবাবে বলত, ঝাঁট দে ওসব কথা! ঐ তার এক মুদ্রাদোষ! সব কথাতেই শুধু ঝাঁট দে! ভালমন্দ সব কিছুই সে ঝেটিয়ে বিদায় করতে চায়। ম্যাট্রিক পরীক্ষায় আমাদের চার বন্ধুর মধ্যে একমাত্র সেই ফেল করে। কিন্তু সান্ত্বনা দেওয়ার সৌভাগ্য আমাদের হয়নি। কদিন তার দেখাই পাইনি। পরে শুনলাম, সে দেশে চলে গেছে। দেশ কোথায়, সেখানে কে আছে কিছুই জানতাম না। এমন চাপা ধরনের ছেলে ছিল সে। প্রথম প্রথম আমরা আশা রেখেছিলাম, দেশে গিয়ে সে নিশ্চয় আমাদের চিঠি দেবে। তা সে দেয়নি। এতদিনের স্কুল-জীবনের বন্ধুত্ব সে বুঝি ঝেটিয়েই বিদায় করে দিল।

    মাঝে মাঝে হয়তো ওর কথা উঠে পড়ত। কেউ হয়তো বলত, –পল্ গগ্যার খবর জানিস?

    আমরা বলতাম, –সে বেটা দেশে গিয়ে ম্যালেরিয়ায় উজাড় হয়েছে নিশ্চয়। না হলে একটা পোস্টকার্ড অন্তত লিখত।

    গগন পালের ডাকনাম ছিল গগ্যা। আমরা ওর উপাধিটা সামনের দিকে পাচার করে মাঝে মাঝে সাহেবি-ঢঙে ওকে ডাকতাম পল্ গগ্যা। তা সেই পল গগ্যার সাক্ষাৎ আবার পেয়েছিলাম অনেক অনেকদিন পরে। ঢাকা শহরে। সেটা বোধহয় উনিশশো তেইশ বা চব্বিশ। তার মানে তখন আমার বয়স চৌত্রিশ-পঁয়ত্রিশ; গগন চল্লিশ ছোঁয় ছোঁয়। ডাক্তারী পাস করে আমি তখন ঢাকায় প্র্যাকটিস্ করি। বুড়িগঙ্গার সমান্তরালে একটি খাল বেঁকে এসে শেষ পর্যন্ত ঐ বুড়িগঙ্গাতেই পড়েছে। রেলগুমটি থেকে খোয়া বাঁধানো যে পাকা রাস্তাটি ঐ খালকে অতিক্রম করে সদরঘাটের দিকে চলে গেছে তারই উপর রায়সাহেবের বাজার। ওখানেই ছিল আমার ডিপেনসারী। জনসন রোডের উপর, মসজিদটার কাছাকাছি। ঢাকা কোর্ট থেকে নবাবপুর রোড পর্যন্ত অনেকগুলি পরিবারেই আমি ছিলাম পারিবারিক চিকিৎসক। জনসন রোডের পশ্চিমপারে মোটামুটি হিন্দুদের বাস, পূর্বপারে মুসলমানদের। আমার ডাক্তারখানাটা ছিল মুসলমান মহল্লার কাছাকাছি। সবাই শ্রদ্ধা করত, সম্মান করত। পসারটা ক্রমে রেললাইনের ওপারেও বিস্তৃত হতে শুরু করেছিল। এই সময় একদিন পুরাননা-পল্টন এলাকা থেকে আমার একটি ডাক এল। ডাকতে এসেছিল বছর বারো-তের বয়সের একটি কিশোর ছেলে। অসুখ তার ছোট বোনের। ছেলেটিকে দেখেই মনে হয়, এ যেন আমার চেনা-চেনা! মুখের আদলটা যেন আমার পরিচিত। তখন স্বপ্নেও ভাবিনি, এ আমাদের সেই গগন পালের ছেলে। চুলগুলো রুক্ষ, চোখ দুটো উজ্জ্বল। ও এসেছিল একটা সাইকেলে চেপে। সীটে বসতে পারে না, হাফ-প্যাড করতে করতে এতটা পথ চলে এসেছে। আমাকে ডেকে নিয়ে যেতে। আমিও তখন সাইকেলে চেপে রুগী দেখতে যেতাম। ব্যাগটা কেরিয়ারে বেঁধে নিয়ে আমি রুগী দেখতে গেলাম। ঐ ছেলেটিই পথ চিনিয়ে নিয়ে গেল। এতদিন পরে অবশ্য ঠিক মনে নেই, মেয়েটির কী অসুখ করেছিল, তবে সে আমার চিকিৎসাতেই শেষ পর্যন্ত সেরে ওঠে। ঐ সূত্রে আলাপ হয়ে গেল পরিবারটির সঙ্গে। ছেঁড়া-বেড়ার দেওয়াল, উপরে করগেট-টিন-পাশাপাশি দু-খানি ঘর। পিছনে উঠান পার হয়ে রান্নাঘর। দরজার ধারে লক্ষ্য পড়েছিল নেমপ্লেটটার উপর। তাতে গৃহস্বামীর নয়, গৃহকত্রীর পরিচয়টাই ঘোযিত। মিসেস্ শান্তি পাল, বি. এ.। স্থানীয় মেয়েদের স্কুলে শিক্ষয়িত্রী ছিলেন তিনি। বছর ত্রিশেক বয়স, উজ্জ্বল শ্যামবর্ণা, বেশ সপ্রতিভ এবং সুরুচিশীলা। বাইরের ঘরেই রোগিণী শুয়েছিল। সে ঘরে খান-তিনেক ছবি-রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও শরৎচন্দ্রের। পিছনের দেওয়ালে হুক থেকে টাঙানো একটি কিংখাবে মোড়া সেতার অথবা সরোদ। জানলার পর্দাতেই সেলাই-এর কাজ। সে-আমলে সেলাই-এর কাজ বলতে আমরা বুঝতাম কার্পেটের অথবা চটের উপর পাড়ের সুতো দিয়ে বোনা পতি পরম গুরু জাতীয় গুরুতর বাণী। মনে হল, এ ভদ্রমহিলার রুচি সূক্ষ্মতর।

    গৃহকর্তা বলে যাকে প্রথমটা ভুল করেছিলাম দেখা গেল তিনি গৃহকর্তীর ফুলদা। ঝোলা গোঁফ, গলার কণ্ঠীটা কথা বলার সময় নড়তে থাকে, মাথায় পরিপাটি টেরি। তিনি অযাচিত কয়েকটি মন্তব্য করলেন। আমাকে ইনজেকশান দেওয়ার পরামর্শ দিলেন, এবং পথ্য সম্বন্ধে একটা মন্তব্য করবার চেষ্টা করতেই গৃহকত্রী তাঁকে বললেন, তুমি একটু বাইরে নজর রাখ ফুলদা, ওঁর সাইকেলটা নিয়ে কেউ না পালায়।

    ফুলদা অতঃপর আমার সাইকেলটাই পাহারা দিলেন। ঔষধ-নির্দেশ ভদ্রমহিলাকেই দিতে হল। ভিজিটও তিনি দিলেন এবং রোগী দেখার পর সেই কিশোর ছেলেটি আমার পিছন পিছন ডাক্তারখানায় এল, এবং ওষুধটা সার্ভ করিয়ে নিয়ে গেল।

    গৃহস্বামীর সাক্ষাৎ পাইনি। ভদ্রমহিলার সিঁথিতে নির্দেশ ছিল তিনি কোথাও না কোথাও আছেন। সম্ভবত ঢাকায় নেই-নাহলে সেকথা উঠত। ওঁরা সে প্রসঙ্গ যখন তুললেন না তখন আমিও তা তুলিনি। বস্তুত প্রথমদিন সেকথা আমার মনেই পড়েনি। পড়েছিল পরে। চার-পাঁচ বার ওবাড়িতে যেতে হয়েছিল আমাকে। কোনবারই গৃহস্বামীর সাক্ষাৎ পাইনি। কিন্তু নেপথ্যচারী গৃহস্বামীর উল্লেখ কেউ না করায় সৌজন্যবোধে আমিও কোনদিন ও-প্রশ্ন করিনি। করতে হল কদিন পরে। মেয়েটি ভাল হয়ে যাবার পর আবার একদিন সেই কিশোর ছেলেটি আমাকে আমন্ত্রণ করতে এল– সান্ধ্য চায়ের নিমন্ত্রণ। প্রশ্ন করলাম, হঠাৎ চায়ের নিমন্ত্রণ?

    -মিষ্টি ভাল হয়ে উঠেছে কিনা, তাই মা সত্যনারায়ণ করেছেন।

    –চা দিয়ে সত্যনারায়ণের সেবা হয় নাকি?

    –ছেলেটি হাসল। জিজ্ঞাসা করি, তোমার নামটি কি?

    –শ্রীরাধাগোবিন্দ পাল। ডাকনাম বাবলু।

    সত্যনারায়ণের সির্নীর সঙ্গে গোকুল পিঠে, চন্দ্রপুলি, কড়াই শুটির কচুরি ও চা এল।

    সেদিন প্রশ্ন করেছিলাম, মিস্টার পাল কোথায়?

    শান্তি দেবীকে জবাব দিতে হয়নি। তাঁর ফুলদা আগ বাড়িয়ে বলে ওঠেন, সে গেছে দোকানে। সেই সক্কাল বেলা যায় দোকানে, আর ফিরতে যার নাম সেই রাত দশটা। মস্ত দোকান দিয়েছে যে ভায়া! দেখেননি? শান্তি স্টোরস-ঐ রমনার দিকে!

    শান্তি দেবী বললেন, ফুলদা, একটা দেশলাই কিনে আন না!

    আঁচল খুলে একটি একানি বার করে দিলেন তিনি।

    ফুলদা বেজার হলেন; কিন্তু যেতে হল। এই ফুলদা ব্যক্তিটি সংসারে নিতান্ত উদ্বৃত্ত, এবং শান্তি দেবী তাকে আমার দৃষ্টির আড়ালে রাখতে চান। তাছাড়া হঠাৎ এখন দেশলাই কেনার এমন জরুরী প্রয়োজন কি হল তা বুঝে উঠতে পারিনি। শান্তি দেবীর কাছেই শুনলাম পালমশাই রমনার দিকে একটি মনিহারী দোকান দিয়েছেন। রমনা অঞ্চলে দ্রুতহারে হাল-ফেশানের নতুন নতুন বাড়ি উঠছে। দুদিনেই এলাকাটা জমজমাট হয়ে উঠবে। এই সুযোগে একটি দোকান খুলে বসেছেন মিস্টার পাল। আখেরে কাজ দেবে সেটা। তখনও কল্পনা করতে পারিনি, এই দোকানদারই আমার সহপাঠী সেই ঝাঁটদেনেওয়ালা গগন পাল।

    সেদিনই ওঁর টেবিলের উপর একটা মাসিক পত্রিকা দেখেছিলাম। সেটা তুলে নিয়ে বলি, –প্রগতি? এটা কি ঢাকা থেকে বের হয়?

    –বের হয় নয়; বের হল! ওটাই প্রথম সংখ্যা। খবর পাননি?

    না, সাহিত্য আলোচনা করবার আর অবকাশ কোথায় আমার? আমি তো নিতান্ত ডাক্তার মানুষ। তবে এককালে খুব ঝোঁক ছিল।

    আসুন না আমাদের প্রগতিতে। আসবেন?

    বলি, আপনার ঘরে তিনজন দিকপাল সাহিত্যিকের ছবি দেখেই বুঝতে পেরেছি। আপনি সাহিত্যরসিকা; কিন্তু আমার কি সময় হবে?

    শান্তি দেবী বিচিত্র হেসে বলেছিলেন, সময়ের অভাবটা উপলক্ষ-আসল কথা ইচ্ছেটা।

    বলি, -দেখি, সুযোগ সুবিধা হয় তো–

    আরও মাস তিনেক পরের কথা। মনে আছে সেটা চৈত্র মাস। বাবলু এসে আমাকে একটি হাতে-লেখা নিমন্ত্রণ-চিঠি দিয়ে গেল। মুক্তোর মত ঝরঝরে হাতের লেখা। বাবলুর মা আমাকে নিমন্ত্রণ করেছেন–ওঁর বাড়িতে সন্ধ্যায় একটি সাহিত্যবাসর হবে। তাতে যোগদানের জন্য।

    আমি তখন সিউডো ব্যাচিলর। তোমার দিদিমা তখন কলকাতায় কল্যাণী অথবা খোকা সেবার হবে। সন্ধ্যার পর আমার অখণ্ড অবসর। শেষ রুগীটিকে বিদায় দিয়ে তাই সাহিত্য-আসরে যোগ দিতে গিয়েছিলাম। আড্ডাটা ওঁদের বৈঠকখানায় বসেনি, বসেছিল বাড়ির পিছনের উঠানে। সমস্ত দিনমান দাবদাহের পর দিব্যি দখিনা বাতাস দিতে শুরু করেছে; রাতটাও চাঁদনি, শুক্লপক্ষের। শান্তি দেবী কয়েকজন নবীন সাহিত্যিকের সঙ্গে আমার আলাপ করিয়ে দিলেন। আট-দশজন পুরুষ আর জন-তিনেক মহিলা। গান হল, স্বরচিত কবিতা পাঠ হল, প্রবন্ধও পড়লেন কেউ কেউ। কোথা দিয়ে তিন-চার ঘন্টা সময় কেটে গেল টের পেলাম না। শান্তি দেবী নিজে কোন অংশ নিলেন না দেখে আমি বলি, -এবার আপনার একখানা গান হোক–

    –গান? আমি জীবনে কোনদিন গান গাইনি! বলেন শান্তি দেবী।

    আমি বলি, সেকথা কে বিশ্বাস করবে বলুন? আপনার বাইরের ঘরে কিংখাবে মোড়া যন্ত্রটা আপনার বিরুদ্ধে নীরব সাক্ষী।

    যন্ত্র? কী যন্ত্রণা! ওটা আমি বাজাই না, উনি বাজান।

    একজন আগন্তুক ভদ্রলোক বলেন, ভাল কথা, দাদা কোথায়? গগনদা?

    গগনদা? আমি সচকিত হয়ে উঠি।

    -হ্যাঁ। শ্রীগগনবিহারী পাল। এ বাড়ির খোদ কর্তা। আপনি যে গগন থেকে পড়লেন ডাক্তারবাবু!

    আমি বলি, বলেন কি? গগন পাল? আচ্ছা, উনি কি কলকাতার আর্যমিশন স্কুলে পড়তেন?

    প্রশ্নটা শান্তি দেবীকে। তিনি বলেন, -আর্য মিশনে পড়তেন কিনা জানি না, তবে ছাত্রাবস্থায় কলকাতাতেই ছিলেন, বাগবাজারের দিকে।

    আমি বলি, -কী আশ্চর্য! এটা গগনের বাড়ি? গগন যে আমার…তা তিনি কখন ফিরবেন?

    –ওঁর ফিরতে সেই যার নাম রাত দশটা। দোকান বন্ধ করে ফেরার পথে আজ উনি একটি টিউশানি সেরে আসবেন।

    –ও বুঝি প্রাইভেটে ছেলে পড়ায়?

    শান্তি দেবী বলেন, ছেলে নয়, মেয়ে; আর পড়ান নয়, গান শেখান।

    তবে এ গগন পালই। প্রাইভেট ট্যুইশানি শুনে একটু হতাশ হয়েছিলাম। আর্য মিশনে যে জ্ঞান সে অর্জন করেছে তাতে ছেলে পড়ানোর আশা কম। কিন্তু হতভাগার গানবাজনার দিকে বরাবরই একটা ঝোঁক ছিল। খালি গলাতেই চমৎকার গাইতে পারত, আর পারত সুন্দর আড়বাঁশী বাজাতে। কিন্তু খবরটা কি করে জানা যায়? ওর বাবার নাম জানি না। কোথায় দেশ তাও জানি না। মরিয়া হয়ে বলি, –ওর কপালে কি একটা কাটা দাগ আছে?

    শান্তি দেবী জবাব দেন না। নিঃশব্দে উঠে যান ঘরে। একটু পরে ফিরে আসেন একখানি বাঁধানো ফটো সমেত। বিয়ের পরে তোলা ছবি। যুগলে। বরবধূ বেশ। ক্যামেরাম্যানের নির্দেশটা বেশিমাত্রায় মেনেছে গ্যগা–এক গাল হেসেছে সে। লাফিয়ে উঠি আমি, -এই তো গগ্যা! এ যে আমার বিশিষ্ট বন্ধু!

    দেবেনবাবু হেসে বলেন, সে তো বোঝাই যাচ্ছে। বিশিষ্ট বন্ধু না হলে ঢাকা শহরের দুপ্রান্তে দুজনে এমন গা-ঢাকা দিয়ে ঘুরছেন?

    সবাই সমস্বরে হেসে ওঠে।

    চিড়ে ভাজার প্লেটটি নামিয়ে রেখে আমি উঠে পড়ি।

    বলি, এখনও আমার দুচারটি রুগী মরতে বাকি আছে। ফেরার পথে তাদের একটু খোঁজখবর নিয়ে যেতে হবে। আজ উঠি। আপনাদের কাব্যালোচনা চলুক। শান্তি দেবীর দিকে ফিরে বলি, -গগ্যাকে বলবেন কাল সকালেই যেন আমার ডিপেনসারীতে এসে চা খেয়ে যায়। উফ্ কতদিন দেখিনি ওকে! আপনাদের সাহিত্যের ভাষায় শতাব্দীর পঞ্চমাংশ!

    গেট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে গেলেন শান্তি দেবী। বিদায় নমস্কার করে বললেন, –আবার আসবেন।

    -এবার তো আপনাদের যাওয়ার কথা। এখন তো আপনি আমার বন্ধুপত্নী। তবে আপনাকে এখনই আমন্ত্রণ করছি না। আমার বেটার হাফ কলকাতা গেছেন। তাই আপাততঃ কর্তাটিকেই পাঠাবেন রিটার্ন ভিজিট দিতে। কাল সকালেই।

    -বলব। তবে আপনার খেয়ালী বন্ধুকে তো চেনেন!

    বাগানটা পার হয়ে সাইকেলে উঠতে যাব, পিছন থেকে আওয়াজ হল, ডাক্তারবাবু নাকি?

    দাঁড়িয়ে পড়ি। শান্তি দেবীর ফুলদা। খাপটি মেরে বসেছিলেন কালভার্টের উপর। এগিয়ে এসে বলেন, –মাচিস্ আছে ডাক্তারবাবু আপনার পকেটে?

    দেশলাইটা বার করে দিলাম। ফুলদা সেটি গ্রহণ করে নিজের ফতুয়ার পকেট তল্লাশি করে বললেন, -দূর ছাই, বিড়ির বাণ্ডিলটাও ফেলে এসেছি।

    বাধ্য হয়ে প্যাকেট থেকে একটি বার্ডস-আই বার করে দিলাম। উনি ধন্যবাদ জানিয়ে মৌজ করে সিগারেট ধরালেন। আমি রওনা দিলাম।

    পরদিন সকালে কিন্তু গগ্যা এল না। তার পরদিনও নয়। ক্রমে দিন সাতেক কেটে গেল। আমিও ওদিকে যাবার কোন সুযোগ করতে পারিনি। দিন দশেক পরে রমনার দিকে যাচ্ছি রুগী দেখতে। সকাল তখন গোটা দশেক হবে। নবাবপুর রোড ধরে চলেছি সাইকেল চেপে। লেভেল-ক্রসিং পার হয়ে পুরানো পল্টনের ফাঁকা মাঠটা ডাইনে রেখে রমনার দিকে মোড় নিতে গিয়েই মনে পড়ল গগ্যার কথা। হতভাগাটা এল না কেন? শরীর খারাপ হয়ে থাকলে সবার আগে আমারই খবর পাওয়ার কথা। ডান দিকেই মোড় নিলাম। সেটা ছুটির দিন। শান্তি দেবী বাড়ি ছিলেন। ছেলেমেয়েরাও। আমাকে দেখতে পেয়ে মিষ্টি চিৎকার করে ওঠে, –মা, ডাক্তারবাবু এসেছেন।

    আর ডাক্তারবাবু নয় রে, পাগলি! এবার থেকে ডাক্তারকাকু বলবি।

    শান্তি দেবী বোধকরি রান্নাঘরে ছিলেন। হাতটা ধুয়ে আঁচলে মুছতে মুছতে এসে বসেন, আসুন, আসুন।

    -না, আমি আসব না আজ। গগ্যা কোথায়?

    –সে তো এই একটু আগেই দোকানে চলে গেল।

    –আজ ছুটির দিনেও দোকান?

    ছুটির দিন বলে কি আপনারই রেহাই আছে?

    তা বটে। দোকানদার অথবা ডাক্তারের আবার ছুটির দিন কি? বলি, অভিযোগ আছে। এখন বলুন, আসামী কে? আপনি, না আপনার কর্তা? আপনিই বলতে ভুলেছেন, না সে-ই যেতে ভুলেছে?

    -যায়নি সে?

    –কেন, গেলে আপনি জানতে পারতেন না? ফিরে এসে গল্প করত নিশ্চয়?

    বিচিত্র হেসে শান্তি দেবী বলেন, স্কুল জীবনে ও বুঝি খুব গপ্পুড়ে ছিল?

    আমি জবাব দিইনি। দোকানের নামটা জানা ছিল। অবস্থানটা জেনে নিয়ে ফের রওনা হয়ে পড়ি। হতভাগাটাকে কষে গালাগাল দিতে হবে। ওকে খুঁজে বার করবই। শান্তি স্টোরস্ খুঁজে পেতে অবশ্য আমাকে বেগ পেতে হয়নি। যে আমলের কথা বলছি তখন ওখানে দোকান-পাট একেবারেই ছিল না। কিন্তু দোকানেও তার দেখা পেলাম না। দোকানে সে নেই। ছিল একজন কর্মচারী। বছর ষোলোসতেরর একজন কিশোর। নাম বললে, প্রফুল্ল। বললে–আজ্ঞে না, বাবু তো আসেননি।

    ছোট্ট দোকান। বিস্কুট, লজেন্স, খাতা-পেন্সিল, স্নো-পাউডারের আয়োজন। কাঠের তাকে সাজানো। সামনে একটা গ্লাস-কেস। এতটুকু দোকানে এই জনহীন প্রান্তরে ওর কতই বা বিক্রি হয়, যে একজন কর্মচারী রেখেছে? যাক, আমার কি! প্রফুল্লকে নিজ পরিচয় দিয়ে বললাম, বাবু এলে বল–আমি এসেছিলাম। রুগী দেখতে যাচ্ছি। ফেরার পথে আবার খোঁজ নিয়ে যাব।

    ফিরতে আমার রীতিমত বেলা হয়ে গেল। কিন্তু দোকানে তার দেখা পেলাম না। তখনও সে আসেনি। ফেরার পথে ওর বাড়িতে আবার খোঁজ নিলাম। শান্তি দেবী একটু অবাক হলেন যেন। বলেন, –সে কি! এখনও দোকানে আসেনি? কি জানি তাহলে কোথায় গেছে!

    মোটকথা, আমার চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। কিন্তু ওর সঙ্গে দেখা হল না।

    সেদিন হয়নি, হয়েছিল তার পরদিন।

    সকালবেলা দোকান খুলে সবে বসেছি, হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকল গগ্যা। প্রায় বিশ বছর পরে ওকে দেখলাম। বেশ বদলে গেছে। সেটাই স্বাভাবিক। প্রকাণ্ড দৈত্যের মত চেহারা হয়েছে তার। মাথায় আমার চেয়ে এক বিঘৎ লম্বা। চুলগুলো পিছনে ফেরানো-একটুও পাক ধরেনি। ইয়া চওড়া কাঁধ, ইয়া বুকের ছাতি। কে বলবে ওর বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। আমি আনন্দে লাফিয়ে ওঠার আগেই ও আমার টেবিলটা ধরে হঠাৎ সামনের দিকে ঝুঁকে কড়া স্বরে বললে, —-আমার পিছনে লেগেছিস কেন?

    অবাক হয়ে বলি, -কী বলছিস রে গগ্যা?

    -বলছি, কাল দুবার আমার বাড়িতে গিয়ে বলে এসেছিস আমি দোকানে যাইনি, আর দুবার দোকানে গিয়ে বলে এসেছিস আমি বাড়িতে নেই। কেন? আমার পিছনে গোয়েন্দাগিরি করা ছাড়া কি তোর কাজকর্ম নেই?

    হাসব না রাগ করব বুঝে উঠতে পারি না। গগ্যাটা চিরকালই পাগল। ওর কথাগুলো চিরদিনই কড়া কড়া। বলি, চটছিস কেন রে? ধরা পড়ে গেছিস বলে? কোথায় গিয়েছিলি সত্যি করে বল তো? কোন ছাত্রীকে গান শেখাতে নয় নিশ্চয়!

    গগ্যা ইতিমধ্যে বসে পড়েছিল চেয়ারটায়। চট করে উঠে দাঁড়ায়। বলে, দীপু, আমি তোদের সাতে-পাঁচে নেই–তুই কেন আমার সব ব্যাপারে নাক গলাচ্ছিস?

    আমি রীতিমত ঘাবড়ে যাই। গগ্যা যদি প্রেম করে বেড়ায় তাতে আমার কি? বললাম সেকথা, কী পাগলামি করছিস গগ্যা? এতদিন পরে দেখা, আর তুই ঝগড়া করছিস এমনভাবে? আচ্ছা, তুই কী রে–কোন্ ডাক্তার তোর মেয়েকে চিকিৎসা করল তার নামটা পর্যন্ত বউকে জিজ্ঞাসা করিসনি?

    –কেন করব না? আমি তো জানতামই তুই মিণ্টির চিকিৎসা করছিস।

    এবার আর অবাক নয়, আহত বোধ করলাম। বলি, তাহলে তুই আমার পরিচয় এই কমাস ধরে জানিস? সে ক্ষেত্রে আমার সঙ্গে দেখা করিসনি কেন?

    ঝাঁট দে ওসব ছেঁদো কথা! আমি তো তোর মত নই যে, পরের রোজগারে নাক গলাব!

    তার মানে?

    তার মানে মিষ্টি যে আমার মেয়ে একথা জানতে পারলে তুই ফি নিতে পারতিস?

    –তা হয়তো পারতাম না। সে লোকসান অন্যভাবে পুষিয়ে যেত। পঁচিশ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া বন্ধুত্বটা ফেরত পেতাম।

    গগ্যা বলে, -থাক ভাই, পুরানো বন্ধুত্বের জের আর নাই টানলি! তোদের কাব্যপাঠ, সাহিত্য-আলোচনা আর প্রগতিচর্চায় আমি ভাগ বসাতে চাই না। দয়া করে তোমরা যদি আমাকে নিজের মত থাকতে দাও তাহলেই আমি ধন্য।

    আমি বলি, সমাজে বাস করতে হলে সামাজিকতার দায় তোকে মিটিয়ে দিতে হবে। বইকি।

    গগ্যা বলে, –আমি তোদের সামাজিকতার ধার ধারি না। সোজা কথা বলে যাচ্ছি। দীপু, আমার ব্যাপারে নাক গলাতে এলে ভাল হবে না কিন্তু!

    যাবার জন্য ও পা বাড়ায়।

    আমি পিছন থেকে ডাকি, যাচ্ছিস কোথায়? না হয় তোর ছাত্রীদের ব্যাপারে আর নাক গলাব না; কিন্তু এক কাপ চা অন্তত খেয়ে যা।

    না। চায়ের পর আসবে সিগারেট; তারপর নস্যি। তারপর আবার নাক সুরসুর করবে তোমার। ওসব ছেঁদো সামাজিকতার জড় একেবারে গোড়াতেই ঝাঁট দিয়ে ফেলা ভাল।

    ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেল গগ্যা।

    বলা বাহুল্য রীতিমত মর্মাহত হয়েছিলাম আমি। ব্যাপার কি? গগ্যা এভাবে আমাকে এড়িয়ে যেতে চাইছে কেন? নিঃসন্দেহে ওদের দাম্পত্য জীবনে কোথাও গোলমাল আছে। গগ্যা সুখী নয়। বোধকরি শান্তি দেবীও নন। মনে পড়ে গেল, সেদিন আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন—ও বুঝি ছেলেবেলায় খুব গপ্পুড়ে ছিল? কিন্তু কেন ওদের মনের মিল হয়নি? বোধ হয় শান্তি দেবীর সাহিত্যকাব্য আলোচনা, তাঁর প্রগতিবাদী দৃষ্টিভঙ্গিটা গগন পছন্দ করত না। গগ্যা ম্যাট্রিক ফেল, ওর স্ত্রী বি. এ. পাস। এটাই কি অশান্তির কারণ? না কি ওর স্ত্রীর রোজগার ওর চেয়ে বেশি বলে? মেয়ে স্কুলের শিক্ষয়িত্রী হিসাবে শান্তি দেবী বোধকরি মাসান্তে যতগুলি মুদ্রা নিয়ে আসেন তার অর্ধেকও আনতে পারে না সে তার দোকান থেকে। কিন্তু তাহলে দোকানে একজন কর্মচারী রেখেছে কেন? যাই হোক, বেশ বোঝা যাচ্ছে গগ্যা আমাদের পুরানো বন্ধুত্বের। জের টেনে চলতে চায় না। ছেলেটা চিরকালই রুক্ষ প্রকৃতির-কাঠ কাঠ কথা বলতে ওস্তাদ। শান্তি দেবীর কোন দোষ নেই; কোন মেয়েই বোধহয় ওকে সুখী করতে পারত না, সুখী হত না ওকে পেয়ে। সে যা হোক, মন থেকে গগ্যাকে বিদায় দিলাম ওর ভাষায় ঝাঁট দিয়ে দিলাম।

    .

    ক্রমশঃ ওর কথা ভুলেই গেলাম। তখন অন্য একটা ব্যাপারে আমার মন এমনিতেই বিভ্রান্ত হয়ে ছিল। আমার ডাক্তারখানাটা জনসন রোডের পশ্চিম পারে। বাজারের উপর। রাস্তার পুব পারে মুসলমানদের বাস। কিছুদিন আগে ঐ অঞ্চলে একটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা মত হয়ে গেছে। সিনেমা হলের সামনে একটি হিন্দু যুবক বেমক্কা খুন । হয়ে গেল। হিন্দু পাড়াতে তার বদলাও নেওয়া হয়েছে। অনেক শুভানুধ্যায়ী বলছেন, এ দোকানটা ছেড়ে আমি যেন হিন্দু মহল্লায় উঠে যাই। আমি ডাক্তার মানুষ–একা থাকি; আর্ত মানুষের কোন ধর্ম নেই। ম্যালেরিয়ায় কাঁপুনি যখন ধরে তখন নেড়ের দাড়ি আর কাফেরের টিকি সমানভাবে দুলতে দেখি! কিন্তু দাঙ্গাটা একটু ঘোরালো হয়ে ওঠার পর বেশ দুশ্চিন্তায় আছি। এ মহল্লার কয়েকজন বর্ধিষ্ণু মুসলমান ভদ্রলোক কাজী ওদুদ সাহেব, মৌলভি জিয়াউদ্দিন সাহেব প্রভৃতি একদিন স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে আমার ডাক্তারখানায় এলেন। আমাকে নানাভাবে আশ্বাস দিয়ে গেলেন। আমি যেন অন্যত্র যাওয়ার কথা না ভাবি। ওঁরা জান দিয়ে আমাকে রক্ষা করবেন। এদিকে কলকাতা থেকে বাবা লিখছেন, আমি যেন ঢাকার বাস তুলে দিয়ে সেখানেই ফিরে যাই। বাবা প্র্যাকটিস ছেড়ে দিয়েছেন। বয়স হয়েছে তার। আমি যেন গিয়ে তার শূন্য আসনে অধিষ্ঠিত হই এবং তার পসারের সুযোগটা গ্রহণ করি। অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বের পর তাই স্থির হল। ঢাকার পাঠ তুলেই দেব। শুনে অনেকেই ক্ষুব্ধ হলেন; দুঃখ প্রকাশ করলেন।

    প্রায় মাসখানেক পরের কথা। একদিন বাজারে দেখা হয়ে গেল শান্তি দেবীর ফুলদার সঙ্গে। আমাকে দেখেই এগিয়ে এসে বলেন, ডাক্তারবাবু না? কই, আর তো আসেন না আপনি? কেমন আছেন?

    সৌজন্যবোধে বলতে হল, –ভাল আছি। ওঁরা কেমন আছেন প্রশ্ন করা মাত্র ফুলদা যেন লাফিয়ে ওঠেন, –আমাদের কথা আর বলবেন না ডাক্তারবাবু। গগনটা তো মানুষ নয়, চামার! কোথায় কোথায় ঘোরে পাত্তাই পাওয়া যায় না। ছেলেমেয়েগুলোও হয়েছে। তেমনি। শিক্ষার বালাই নেই। আমি হলাম গিয়ে তোদের মামা, তা আমাকেও ছেড়ে কথা বলে না। ফুলমামা বাজার থেকে ফেরার সময় একটা খাতা কিনে এন, ফুলমামা আমার জন্য একটা লাল ফিতে কিনে এন। কেন রে বাবা? আমি কি তোদের খানাবাড়ির চাকর? আসল কথা কি জানেন–আসলে মায়ের শাসন না থাকলে ছেলেমেয়েগুলো কখনও মানুষ হয়? নিজের বোন হলে কি হয় ওর নাম শান্তি নয়, অশান্তি হওয়া উচিত—

    বাধা দিয়ে বলি, -শান্তি দেবী আপনার নিজের বোন?

    না, নিজের বোন নয়। মামাতো বোন। তাও দূর সম্পর্কের মামা নয়, ওর বাবা হল আমার মায়ের আপন পিসতুতো ভাই। একান্নবর্তী পরিবারে মানুষ কিনা।

    পিসতুতো ভাইয়ের আপন পিসতুতো বোন? সম্পর্কটা ঠিক বোধগম্য হল না। একান্নবর্তী সংসারটা কার ছিল? কার অন্ন কে ধ্বংস করত? তা অতীতের সে কথা বোঝা না গেলেও বর্তমানটা বেশ পরিষ্কার। বর্তমানে ফুলদা ঐ শান্তি দেবীর অন্ন ধ্বংস করে থাকেন এবং তিনি যে বাজার-সরকার নন এটা প্রমাণ দিতে তিনি উদগ্রীব।

    পাশ কাটাবার জন্য বলি, আচ্ছা, চলি ফুলদা।

    যাবেন? তা যাবেন বৈকি। আপনারা হলেন কাজের মানুষ। পথের মধ্যে দাঁড়িয়ে দুদণ্ড কথা বলারই বা সময় কই আপনার। তবে একটা কথা। আমি যে শান্তির নামে আপনাকে এসব কথা বলেছি তা যেন ওকে বলবেন না। ভারি অভিমানী মেয়ে তো!

    ভয়ও করে তাহলে। করবে নাই বা কেন? বেকার মানুষটার ঐ তো একমাত্র ভরসাস্থল। পিসতুতো মামার মাসতুত বোনের কী একটা ক্ষীণ সম্পর্ক ধরে দুনিয়াদারী করতে হচ্ছে বেচারিকে। সর্বক্ষণই তাই সে কাঁটা হয়ে থাকে। হয়তো পদে পদে তাকে ধমক খেতে হয় কর্তার কাছে, গিন্নির কাছে, মায় ছেলেমেয়েদের কাছে।

    -ডাক্তারবাবু!

    আবার ফিরতে হল। একটু ইতস্ততঃ করে ফুলদা আবার বলেন, আপনার কাছে একটা টাকা হবে ডাক্তারবাবু? একখানা খাতা আর ফিতে নিয়ে যেতে বলেছিল ওরা, অথচ বাজার করতে সব ফুরিয়ে গেল।

    বুঝতে পারি ফুলদার অবস্থা। আহার এবং আশ্রয় জুটেছে। হাত-খরচটাই সমস্যা। একটা আধুলি বার করে দিলাম। ফুলদা তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দিলেন পরদিনই তিনি সকাল বেলায় এসে ধারটা শোধ করে যাবেন।

    ভেবেছিলাম ঢাকা ছেড়ে চলে যাবার আগে শান্তি দেবীর সঙ্গে একবার দেখা করে যাব। গগন নয়, তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসব। বাঁধাছাদা এবং নানান বৈষয়িক ব্যাপারে ব্যাপৃত থাকার সময় করে উঠতে পারিনি। হঠাৎ একদিন সকালে তার স্কুলে যাবার পথে গগ্যার ছেলে এসে হাজির। এবার আর হাতচিঠি নিয়ে আসেনি, মুখেই বললে, -মা আপনাকে একবার যেতে বলেছেন।

    বললাম, হ্যাঁ যাব, দু-একদিনের মধ্যেই। আমি ঢাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছি বাবলু। আর হয়তো তোমাদের সঙ্গে দেখাই হবে না কোনদিন।

    বাবলুর তাতে কোন ভাবান্তর হল না। বললে, না, দু-একদিন পরে নয়, মা এখনই একবার আপনাকে যেতে বলেছেন।

    -কেন? কারও অসুখ করেছে নাকি?

    বাবলু মুখটা নীচু করে নখ খুঁটতে খুঁটতে বললে, না, অসুখ নয়। বাবা হঠাৎ দিন চারেক আগে কলকাতা চলে গেছেন। কী একটা বিশ্রী মামলা বেধেছে। আমি ঠিক জানি, না। আপনি এখনই একবার আসুন ডাক্তারকাকু।

    –এখনই? কিন্তু এখন তো তোমার মা স্কুলে যাবেন?

    না, মা আজ কদিন স্কুলে যাচ্ছে না। ছুটি নিয়েছেন।

    –তোমার ফুলমামা কোথায়?

    বাড়িতেই আছেন। ফুলমামাও কলকাতায় যেতে চেয়েছিলেন, মা যেতে দেননি। ঐ বাবার ব্যাপারে

    হঠাৎ মাঝপথেই থেমে গেল বাবলু। অবাক হয়ে দেখি, ওর দুটি চোখ জলে ভরে উঠেছে। ব্যাপার কি? কিসের মামলায় জড়িয়ে পড়ল গগন? বাবলু আমার দিকে পিছন ফিরে চোখ দুটি মুছে নেয়। আর লজ্জা লুকাতে তখনই সাইকেলে চেপে রওনা হয়ে পড়ে। আমিও দোকান তালাবন্ধ করে পুরানো পল্টনের দিকে যাত্রা করি।

    ওদের বাড়িতে গিয়ে যা শুনলাম তা রীতিমত বিভ্রান্তিকর। ঘরে ঢুকতে প্রথমে দেখা হয়ে গেল ফুলদার সঙ্গে। আজ আর তাঁর সেই সাবেকি গোরুচোরের ভঙ্গি নয়। ক্যাম্বিসের ইজিচেয়ারে অর্ধশয়ান হয়ে কড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে কী যেন গভীরভাবে চিন্তা করছিলেন তিনি। আমাকে দেখতে পেয়ে দগ্ধাবশেষ বিড়িটায় একটা অন্তিম সুখটান দিয়ে সেটা ছুঁড়ে ফেলে দিলেন জানলা পার করে।

    আসুন, আসুন ডাক্তারবাবু, বসুন।

    আমি বেতের একটা মোড়া টেনে নিয়ে ভাল করে বসতে না বসতেই একেবারে ঝুঁকে পড়লেন আমার দিকে। যেন অত্যন্ত গোপন কোন কথা হচ্ছে এভাবে প্রায় আমার কানে কানে বলেন, -গগনের সঙ্গে আপনার শেষ কবে দেখা হয়েছে?

    দিন দশেক আগে। মিসেস পাল কোথায়?

    –ও, দশদিন আগে?-ফুলদা আবার লম্বমান হয়ে পড়েন ইজিচেয়ারে। আমার প্রশ্নটা ওঁর কানে যায়নি। আবার গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়েন উনি। চোখ দুটি বুজে যায়। বাঁ হাতের তর্জনী দিয়ে কপালে ধীরে ধীরে টোকা মারতে থাকেন।

    ওঁর এই গাম্ভীর্যে বিরক্তবোধ করি। হঠাৎ এই ভাব পরিবর্তনটাও কেমন যেন বিসদৃশ লাগে। তাই পুনরায় বলি, মিসেস্ পালকে একটু ডেকে দিন। শুনলাম গগন কী একটা বিশ্রী মামলায়

    চোখ দুটি খুলে যায় ফুলদার। বিচিত্র হেসে বলেন, -কে বলেছে? বাবলু? ও জানে না।

    কী হয়েছে বলুন তো?

    উৎসাহে আবার উঠে বসেন। চোখ দুটি মিটমিট করে। বলেন, গগন সটকেছে।

    -সটকেছে? তার মানে?

    ইলোপমেন্ট কেস্ মশাই। নারী-ঘটিত ব্যাপার!

    আমি তো স্তম্ভিত। লোকটা বলে কি! কিন্তু আমাকে কোন প্রশ্ন করতে দিলেন না উনি। পকেট থেকে দেশলাইটা বার করে হাত বাড়ালেন আমার দিকে, –দিন, একটা বার্ডস আই ছাড়ুন। বুদ্ধির গোড়ায় একটু ধোঁয়া দিয়ে দেখি–

    এ আর ভিক্ষা নয়। রীতিমত উপার্জন। প্যাকেটটা বার করে দিলাম। একটি তুলে নিয়ে আমার দিকে বাড়িয়ে ধরেন। প্যাকেটটা উনি নিজের কাছেই রাখলেন। বুদ্ধির গোড়ায় বোধকরি ভবিষ্যতে ধোঁয়া দিতে হবে ওঁকে।

    বাধ্য হয়ে আলাপ চালিয়ে যেতে হল, কী বলছেন মশাই গগনের বয়স যে প্রায় চল্লিশ?

    একমুখ ধোঁয়া ছেড়ে হাসি হাসি মুখে ফুলদা বলেন, এ কি সরকারী চাকরি ডাক্তারবাবু, যে বয়সের বাধা হবে? প্রেমে পড়ার আবার বয়স আছে নাকি? ওর তো সবে চল্লিশ। ষাট বছরের বুড়োও যে ঘাড় গুঁজড়ে পড়ে। যার যাতে মজে মন বুয়েছেন না?

    আমার আদৌ বিশ্বাস হয়নি। বারো-তের বছরের ছেলে আছে ওর–পনের-ষোলো বছর বিবাহিত জীবনের পর গগন নারীহরণের মামলায় জড়িয়ে পড়বে, এ যে অবিশ্বাস্য! একটা ঢোক গিলে বলি, –মেয়েটি কে?

    জ্বলন্ত সিগারেটের আগুনটার দিকে তাকিয়ে ফুলদা গম্ভীর হয়ে বলেন, –পুরো নামটা এখনও জানা যায়নি। তবে কতকগুলো ক্লু পেয়েছি যা থেকে অনেকগুলি সিদ্ধান্তে আসা গেছে। প্রথমতঃ, মেয়েটি বড়লোকের ঘরের; দ্বিতীয়তঃ, সে ছবি আঁকতে জানে; তৃতীয়ত, তার নামের আদ্য অক্ষর দুটি হচ্ছে জি. এস.।

    এ যে রীতিমত গোয়েন্দা কাহিনী!

    এই সময়ে এসে উপস্থিত হল গগনের দোকানের সেই কর্মচারী ছোকরা। প্রফুল্ল। রোদে রোদে ঘুরে বেচারির মুখচোখ লাল হয়ে উঠেছে। তাকে দেখতে পেয়েই ফুলদা নূতন করে উৎসাহিত হয়ে ওঠেন।

    –এই যে প্রফুল্ল, তুমি এসে গেছ। কী খবর? অমলেন্দু সেনের বাড়ি গিয়েছিলে?, না, ইতস্ততঃ করার কিছু নেই। ডাক্তারবাবু আমাদের ঘরের লোক। তুমি অসঙ্কোচে সব কথা বলতে পার।

    প্রফুল্ল কোঁচার খুঁটে মুখটা মুছতে মুছতে বললে, না, অমলেন্দুবাবুর বাড়িতে কিছুই হয়নি। তার মেয়ে গীতা বাড়িতেই আছে।

    তুমি নিজে চোখে দেখেছ? না শুনে এলে?

    না। গীতাই দরজা খুলে দিয়েছিল।

    –আই সী! গীতা সেন নয় তাহলে? বেটাচ্ছেলে খুব ভোগাবে মনে হচ্ছে!

    ফুলদা আবার চোখ দুটি বুজে খানিকক্ষণ কি যেন চিন্তা করেন। তারপর পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটি নোটবই বার করে দেখে নিয়ে বলেন, বেশ, এবার তুমি একবার জীতেনবাবুর বাড়ি যাও। জীতেন সামন্ত। ওঁর মেয়ের নাম অবশ্য কমলা। তা হোক—

    হঠাৎ আমার দিকে ফিরে বলেন, –জি দিয়ে কোন ডাকনাম থাকতে পারে। তাছাড়া প্রেমিক-প্রেমিকা অনেক সময় আপোষে নিজেদের আদরের নাম রাখে, কি বলেন?

    প্রফুল্ল খিঁচিয়ে ওঠে, আপনারা আর কাউকে পাঠান। আমার দ্বারা হবে না।

    -কেন কেন? তোমার কি অসুবিধা হচ্ছে?

    -অসুবিধা নয়? ওভাবে কি বাড়ি বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসা করা যায়–ওগো তোমাদের মেয়ে ভেগেছে কিনা একটু দেখে বলবে!

    –আহা ওভাবে জিজ্ঞাসা করবে কেন? একটু ঘুরিয়ে

    হঠাৎ ভিতরের দিক থেকে এবার দৃঢ় প্রতিবাদ শুনলাম, না! যাও প্রফুল্ল, তুমি বাড়ি যাও। আর কোথাও যেতে হবে না তোমাকে।

    ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখি অন্দরমহলের দরজার পর্দা সরিয়ে শান্তি দেবী এসে দাঁড়িয়েছেন। সঙ্কোচে তার দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারলাম না। ফুলদা রীতিমত ধমক দিয়ে ওঠেন, তুমি আবার কেন উঠে এলে শান্তি? তোমাকে বললাম না চুপচাপ শুয়ে থাকতে? যা করবার আমি করছি।

    শান্তি দেবী এ কথার জবাব দিলেন না। প্রফুল্লকেই পুনরায় বললেন, তুমি যাও প্রফুল্ল। আজও দোকান খুলতে হবে না। কাল একবার এস সকালে। ডাক্তারবাবু কতক্ষণ এসেছেন?

    এবার চোখ তুলে দেখতে হল। প্রফুল্ল চলে গেল। দশদিন আগে যে শান্তি দেবীকে চিনতাম এ মহিলার সঙ্গে তাঁর আকাশপাতাল তফাত। চুলগুলো রুক্ষ, চোখ দুটি টকটকে লাল। কিন্তু এখন অশ্রুর বাষ্পমাত্র নেই। বোধকরি এ কয়দিনে মনের সঙ্গে একটা বোঝাপড়া সেরে নিয়েছেন তিনি। ভেঙে পড়লে তার চলবে না, এটা বুঝেছেন। সংসারের অর্থনৈতিক সমস্যাটা তার তত বড় নয়, আসল সমস্যা হচ্ছে লোকলজ্জা। ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে, তবু এখনও তারা কিছু জানে না। কেমন করে খবরটা তাদের বলবেন? কেমন করে গোপনই বা করে রাখবেন? কতদিনই বা এই ফুলদার মোড়লি সহ্য করতে হবে?

    –তুমি যদি আমার কথা না শোন শান্তি, তবে তো আমাকে এ ব্যাপারে হাত ধুয়ে ফেলতে হয়!

    শান্তি দেবী ক্লান্ত বিষণ্ণ দুটি চোখে মিনতি মেলে চুপ করে বসে থাকেন। বুঝতে পারি কতদূর অসহায় হয়ে পড়েছেন উনি। ঐ পরগাছা ফুলদার ধমকও আজ তাকে মাথা পেতে মেনে নিতে হচ্ছে।

    ফুলদা পুনরায় বলেন, তুমি আমাকে কলকাতায় যেতে দিলে না, না হলে ঠিক ঘাড় ধরে স্কাউলেটাকে নিয়ে আসতাম এখানে।

    শান্তি দেবীর চোখ দুটি হঠাৎ দপ্ করে জ্বলে ওঠে। বলেন, –পথে-ঘাটে যদি তার দেখা পাও ফুলদা, তাহলে ও দুঃসাহস কর না। টুলের উপর না উঠলে ওর ঘাড়ের নাগাল তুমি পাবে না, সে কথা নয়–নিজের ঘাড়টার কথা খেয়াল রেখ!

    বোমার মত ফেটে পড়লেন ফুলদা, -ঈস! যা ভাবছ তা নয়! হোঁৎকা চেহারা হলেই শুধু চলে না। ছেলেবেলায় আমি স্যাণ্ডো করতাম, বুয়েছ! তাছাড়া এক্ষত্রে জোরটা হচ্ছে নৈতিক। ও স্কাউন্ড্রেলটা আমাকে দেখলে এখন ইঁদুরের গর্তে–

    শান্তি দেবী আমার দিকে ফিরে বলেন, আপনাকে এ নোংরামির মধ্যে টেনে আনতে সত্যিই লজ্জা হচ্ছে ডাক্তারবাবু। তবু আমার অবস্থার কথা বিবেচনা করে আশা করি ক্ষমা করবেন। আপনি ওর বন্ধু হয়তো আপনি চেষ্টা করলে

    সঙ্কোচে থেমে পড়েন মাঝপথেই। আমি বলি, আমার পক্ষে যেটুকু সম্ভব নিশ্চয়। করব; কিন্তু ব্যাপারটা কী, আমি এখনও বুঝে উঠতে পারিনি!

    শান্তি দেবী কোন সঙ্কোচ করেন না আর। মনকে শক্ত করে ধীরে ধীরে আদ্যোপান্ত ইতিহাসটা জানিয়ে দেন। যেন এ বিয়োগান্ত নাটকের নায়ক ও নায়িকা গগন আর শান্তি নয়দুটি অচেনা ছেলেমেয়ে। যেন মাসিক পত্রিকায় ছাপা একটা নিতান্ত জলো ছোটগল্পের কাহিনী উনি আমাকে শোনাচ্ছেন?

    শান্তি দেবীর বাপেরবাড়ি যশোর। বাবা আছেন, মা আছেন। বাবা সম্পন্ন গৃহস্থ। তিনি বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন গগনের সঙ্গে। সেখানে এখনও শান্তি দেবী কিছুই জানাননি। জানিয়ে লাভ নেই কিছু। ওঁর বাপ বৃদ্ধ–ছোট ছোট ভাইবোনেরা আছে। তারা কী সাহায্য করতে পারে? এদিকে গগনের পৈতৃক পরিবারেরও কেউ নেই, যাকে জানানো যেতে পারে। সুতরাং নিকট আত্মীয়ের কাছ থেকে কোন সাহায্য তিনি প্রত্যাশা করেন না। আর অর্থনৈতিক সাহায্যের জন্য তাঁর অতটা মাথাব্যথা নেই। আসল সমস্যা হচ্ছে ব্যাপারটা কী, তাই ঠিক মত বুঝে নেওয়া। হঠাৎ এভাবে গগন সংসার ত্যাগ করে গেল কেন?

    –কেন আবার? সেই মেয়েটা! জি. এস.! মাঝখানেই ফোড়ন কাটেন ফুলদা।

    সে কথায় কান দিলেন না শান্তি দেবী। আমিও উপেক্ষা করলাম মন্তব্যটা। বস্তুত মিসেস পালের সহজ-স্বাভাবিক বিশ্লেষণে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম আমি। এতবড় আঘাতটা কি অপরিসীম উদাসীনতায় গ্রহণ করেছেন তিনি। বেশ বুঝতে পারছি মর্মান্তিক অপমানে, অবর্ণনীয় অভিমানে তাঁর অন্তঃকরণ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছিল। অনেকটা দমে গেছেন তিনি, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। না হলে অন্তত এরপর আঁচল খুলে একটি আনি বার করে তিনি তাঁর ফুলদাকে একটি দেশলাই কিনে আনতে বলতেন; কিন্তু সে মনের জোর আজ আর তার নেই। তবু ভেঙে পড়েননি। শান্তি দেবী শুধু শিক্ষিতাই নন, সত্যিকারের আধুনিকা। শ্রদ্ধায় আমার অন্তঃকরণ আপ্লুত হয়ে গেল। বলি, যাবার আগে কোন চিঠিপত্র লিখে রেখে গেছে?

    না। চিঠিপত্র কিছুই সে লিখে রেখে যায়নি। গৃহত্যাগের দিনও যথারীতি সকালে দুটো নাকে-মুখে গুঁজে দোকানে গিয়েছিল। দোকানে বসেনি কিন্তু। প্রফুল্লকে সে বলেছিল, হঠাৎ বিশেষ প্রয়োজনে তাকে বাইরে যেতে হচ্ছে, কবে ফিরবে তার স্থিরতা নেই। কোথায় যাচ্ছে, তা বলেনি। দোকানের ক্যাস থেকে বত্রিশটা টাকা সে নিয়ে গেছে। বাড়িতে কাউকে কিছু বলেনি। রাত্রে সে না ফেরায় এঁরা উদ্বিগ্ন হলেন। দাঙ্গা-জনিত কারণে এখানে-ওখানে মাঝে মাঝে খুন-জখম হচ্ছে। তাই রাত্রেই শান্তি দেবী বাবলুকে পাঠিয়েছিলেন প্রফুল্লর বাড়িতে। বাবলুই খবর নিয়ে আসে, গগন হঠাৎ কোথায় চলে গেছে। পরদিন প্রফুল্ল এসে সব কথা জানালো। বাবু কোথায় গেছেন, কেন গেছেন কিছুই সে জানে না। শান্তি দেবী স্তম্ভিত হয়ে যান। খোঁজ নিতে গিয়ে দেখেন গগন একটি ক্যাম্বিসের ব্যাগ নিয়ে গেছে, তাতে নিয়েছে খানকতক ধুতি-জামা। আর দু-একটা টুকিটাকি। মায় তার দাড়ি কামানোর ক্ষুরটা পর্যন্ত নিয়ে যায়নি। আলমারি খুলে দেখেন টাকাপত্র সে কিছুই নিয়ে যায়নি। সবচেয়ে মজার কথা, গগনের একটা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল–শান্তি দেবী লক্ষ্য করে দেখেন তার চেক বইতে গগন প্রতিটি পৃষ্ঠায় তারিখহীন স্বাক্ষর রেখে গেছে।

    আমি বলি, কিন্তু এ পর্যন্ত যা বলেছেন, তা থেকে তো আমার মনে হচ্ছে না যে, এর পেছনে নারী-ঘটিত কোন ব্যাপার আছে।

    এই প্রথম লক্ষ্য করলাম শান্তি দেবী লজ্জা পেয়েছেন। দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁটটা কামড়ে উনি নীরবই রইলো এবং সেই নীরবতার সুযোগ গ্রহণ করে আসরে এতক্ষণে অবতীর্ণ হলেন তাঁর ফুলদা; বলেন, তার কারণ শান্তি সব কথা গুছিয়ে বলতে পারছে না। আমি আপনাকে কি কি বলেছি ডাক্তারবাবু? গগন যে ঘুড়ির প্রেমে পড়েছে।

    শান্তি দেবী উঠে গেলেন। যাবার সময় একটা আতো কৈফিয়ৎ ফেলে রেখে গেলেন স্থানত্যাগের। বললেন, –একটু চা করে আনি।

    চায়ের প্রয়োজন ছিল না। এই মারাত্মক অবস্থায় চা-পানের সৌজন্যও নিষ্প্রয়োজন; কিন্তু শান্তি দেবীর অন্তরালে যাওয়ার অছিলাটাকে উড়িয়ে দিতে পারলাম না। ফুলদাকে সাড়ম্বরে সায় দিলেন, হ্যাঁ, বেশ কড়া দু কাপ চা বানিয়ে নিয়ে এস বরং। আসুন ডাক্তারবাবু, ততক্ষণ বুদ্ধির গোড়ায় একটু ধোঁয়া দিন।

    সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটি বাড়িয়ে ধরেন ফের।

    -কি বলছিলাম যেন? ও হ্যাঁ, গগন যে মাগীর প্রেমে পড়েছে তার সম্বন্ধে আমি কি কি বলেছি। প্রথম কথা মেয়েটি বড়লোকর ঘরের; দ্বিতীয়তঃ, সে ছবি আঁকতে পারে; তিন নম্বর তার নামের আদ্যক্ষর হচ্ছে–জি. এস.! এই তো? শুনুন এবার।

    ফুলদা আকৈশোর গোয়েন্দা গল্প পড়েছেন। অপরাধ-বিজ্ঞান জিনিসটা তাঁর। নখদর্পণে। এতদিন এ বাড়ির সকলের সম্মিলিত ধমকে ছাইচাপা আগুনটা কারও নজরে পড়েনি। এখন তিনি স্বয়ংপ্রকাশ। বাড়ির কর্তা অন্তর্হিত হওয়ার পরেই উনি উঠে-পড়ে লেগেছেন। সমস্ত বাড়িটা সার্চ করেছেন। বাড়িতে অবশ্য কোন প্রেমপত্র-ফত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেছে দোকানে। প্রফুল্ল ছোঁড়া কিছুই জানে না। ও কী বুঝবে এসব ঘোরপ্যাঁচের? গগন সাড়ে নটার মধ্যে নাকে-মুখে খেয়ে দোকান যাচ্ছি বলে রওনা হত, আর দোকানে গিয়ে পৌঁছাত কখনও বিকেল চারটেয়, কখনও পাঁচটায়। তাহলে সারাটা দুপুর সে থাকে কোথায়? করে কি? যদি বল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে গিয়ে বই পড়ে, তাহলে প্রশ্ন হবে-বইটা দোকানে নিয়ে এসে পড়লেই চলে। যদি বল, নির্জনে গিয়ে সাধন-ভজন করে, তাহলে জিজ্ঞাসা করব বাড়ি কি দোষ করল? তোর বউ যায় মেয়ে ঠেঙাতে, ছেলে-মেয়ে ইস্কুলে বাড়ির চেয়ে তোর নির্জন জায়গা কোথায়? ফুলদা সুতরাং সিদ্ধান্তে এসেছেন–ব্যাপারটা তাহলে নিষিদ্ধ কোন কিছু আছে। কী হতে পারে? হয় প্রেম, নয় বোমাবাজি। মাত্র কমাস আগে পার্ক স্ট্রীট আর চৌরঙ্গীর মোড়ে বিপ্লবী গোপীনাথ সাহা টেগার্টভ্রমে একজন ইংরজেকে গুলি করে মেরেছে। দেশের আকাশ বাতাসে তারই গোপন অনুরণন। ফুলদার প্রথম সন্দেহ হয়েছিল বিপ্লবীদের সঙ্গে গগনের যোগাযোগ আছে। কিন্তু দোকানখানা তল্লাসী করে ব্যাপারটা জলের মত পরিষ্কার হয়ে গেল। দোকানের এক গোপন দেরাজ থেকে বার হল একগাদা ছবি। হাতে আঁকা ছবি, পেনসিলে, কলমে অথবা লাল নীল রঙিন পেনসিলে আঁকা ছবি। সব জাতের ছবিই আছে। মাঠ-ঘাট, ফুল-গাছ, মেয়ে-মদ্দ। সব ছবির নিচেই লেখা আছে–টু পল গগা, উইথ লাভ ফ্রম জি. এস.। আর আছে তারিখ। গত তিন-চার মাসের। ফলে ব্যাপারটা স্পষ্টই বোঝা গেল। প্রফুল্লকে চেপে ধরলেন ফুলদা। ছোঁড়া শেষ-মেষ স্বীকার করে ফেলল–ছবির কথা যদিও সে জানে না, তবে বাবু যাবার আগে একটা ঠিকানা দিয়ে গেছেন। বলেছেন, তাঁর অবর্তমানে অনেক পাইকার এসে হয়তো মিথ্যা বিল পাঠাবে, দোকানের নামে। সে-ক্ষেত্রে প্রফুল্ল যেন ওর সঙ্গে পত্রালাপ করে এই ঠিকানায়।

    ঠিকানা লেখা কাগজটা আমার সামনে মেলে ধরে ফুলদা নাটকীয়ভাবে বলেন, এই হল সেই ক্ল। এখন আপনিই বিচার করে দেখুন ডাক্তারবাবু। ঠিকানায় জানা যাচ্ছে, গগনবাবুর অর্থকষ্ট নেই। মাত্র বত্রিশটা টাকা সে বেটা হাতিয়েছে দোকান থেকে। তাহলে কোন সাহসে কলকাতার টাওয়ার হোটেলে ওঠে? ওখানে তো এক মাসেই তার টাকা ফুকে যাবে! ফলে অনুসিদ্ধান্ত হচ্ছে–ঐ জি. এস. নামে যে ছুঁড়ি ওর সঙ্গে ভেগেছে তার কাছেই কিছু রেস্ত আছে। হয় নগদ অথবা গহনা। না কি বলুন? এই যে চাও এসে গেছে। কিছু চিড়ে ভাজা বানালে পারতে শান্তি।

    শান্তি দেবী দুটি চায়ের কাপ নামিয়ে দিয়ে নীরবে আসন গ্রহণ করেন। বলি, আপনি চা খাবেন না?

    নাঃ। বড় অম্বল হয়! যাক, সব তো শুনলেন ডাক্তারবাবু, এখন বলুন–কি করা যায়? ফুলদা কলকাতায় যেতে চেয়েছিল। আমি বাধা দিয়েছি। ফুলদার যাওয়াটা ঠিক হবে না। প্রফুল্লকে উনি বারে বারে বারণ করে দিয়েছিলেন আমাদের কাউকে ঠিকানাটা না জানাতে। তাই বলছিলাম, আপনার জানা কেউ কলকাতায় আছেন যিনি একটু খোঁজ। নিয়ে…মানে, আমি জানতে চাইছি আসলে কী এমন ব্যাপার ঘটেছে যাতে..

    আমি বলি, ঠিক আছে। অন্য লোকের প্রয়োজন নেই, আমি নিজেই যাব।

    –আপনি যাবেন? আপনার প্র্যাকটিস ছেড়ে?

    বললাম, –এমন বিপদে সাহায্য না করলে আর কি রকম বন্ধু হলাম আমি?

    –তাহলে আপনার যাতায়াতের খরচটা কিন্তু নিতে হবে ডাক্তারবাবু।

    কিছু দরকার নেই। আমাকে এমনিতে একবার কলকাতা যেতে হত। আপনাকে বলা হয়নি–আমি এখানকার বাস উঠিয়ে পাকাপাকিভাবে কলকাতা চলে যাচ্ছি। সুতরাং তার আগে একবার সেখানে ঘুরে আসা দরকার। আপনাকে দিন সাতেকের ভিতরেই আমি খবর দিতে পারব।

    শান্তি দেবীর একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল।

    দুএক মিনিট কেউই কোন কথা বলি না। যে যার চিন্তাতে বিভোর ছিলাম। হঠাৎ নীরবতাকে খান্ খান্ করে ভেঙে দিয়ে চাপা গর্জন করে ওঠেন ফুলদা, চামার, চামার, মশাই! সতের বছরের বিয়ে করা বউকে ফেলে যে হারামজাদা নতুন মাগী নিয়ে ফুর্তি করতে ছোটে সে মানুষ, না জানোয়ার? নেহাৎ বেজন্মা! বাপের ঠিক নেই!

    শান্তি দেবীর মুখটা ছাইয়ের মত ফ্যাকাসে হয়ে গেল। হঠাৎ কেমন যেন রক্ত চড়ে গেল মাথায়। আমিও চাপা গর্জন করে উঠি, দেখুন মশাই! কিছুই যখন জানা নেই তখন এভাবে আপনি আমার বন্ধুকে গাল দেবেন না।

    –কিছুই না জেনে মানে? জানতে আর বাকি আছে কি? সে মাগীর নাম?

    সাট আপ্!আমি উঠে দাঁড়াই।

    ফুলদা একেবারে ঘাবড়ে যায়। আমি বলি, -খুনী আসামীও আত্মপক্ষ সমর্থনের একটা সুযোগ পায়। গগন আমার বাল্যবন্ধু। তার সম্মান রক্ষা করবার দায় আমার। তার স্ত্রীর সম্মুখে বারে বারে আপনি যদি অমন অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন, তবে আপনাকে আমি চুপ করিয়ে দিতে বাধ্য হব। গগন করেছেটা কি? কদিনের জন্যে গা-ঢাকা দিয়েছে। টাকা-পয়সা নিয়ে যায়নি। ঠিকানা রেখে গেছে, মায় তার চেকবুকে সই পর্যন্ত করে গেছে। আপনি তারই অন্ন ধ্বংস করে এতদিন এখানে বাস করছেন–আর আজ তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাপ-মা তুলে গাল দিচ্ছেন! আপনি কি মানুষ?

    ফুলদা একেবারে কুঁকড়ে যান। আমতা আমতা করে উঠে পড়েন চেয়ার ছেড়ে।

    শান্তি দেবীর মুখে রক্ত ফিরে এসেছে এতক্ষণে। স্বাভাবিক স্বরে তিনি কথা বলতে পারেন এর পর। আঁচল থেকে খুলে একটা দো-আনি বের করে বাড়িয়ে ধরেন ফুলদার দিকে–দু-আনার বাতাসা কিনে আনবে ফুলদা? আজ বিদ্যুত্বার, বাজারের সময় তোমাকে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম।

    মনে হল আমার ধৈর্যচ্যুতিটা মঙ্গলই ঘটিয়েছে এ সংসারে। আউট-অফ গীয়ার, যন্ত্রপাতিগুলো মুহূর্তে ফিরে আসছে যে যার জায়গায়। শুধু শান্তি দেবীই আত্মবিশ্বাস একা ফিরে পাননি, ফুলদাও ফিরে এসেছেন তার স্বস্থানে। দো-আনিটা হাত বাড়িয়ে নিয়ে নীরবে স্থান ত্যাগ করেন তিনি।

    আর তখনই ভেঙে পড়লেন শান্তি দেবী। দু হাতে মুখ ঢেকে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন ভদ্রমহিলা। আমি নীরবে উঠে যাই ভিতরের উঠানে। খানিকটা কাঁদবার সুযোগ ওঁকে দিতে হবে। অল্পক্ষণের মধ্যেই সামলে নিলেন নিজেকে। ভিতরের বারান্দায় এসে বলেন, –আসুন ডাক্তারবাবু। চলুন আমরা বাইরের ঘরে গিয়ে বসি।

    আবার সেই বাইরের ঘরে। মুখ মুছে শান্তি দেবী অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছেন এতক্ষণে। বললেন, ডাক্তারবাবু, একটা কথা এতক্ষণ বলিনি। ফুলদা ছিল বলেই বলিনি। ও কলকাতা পৌঁছে আমাকে একখানা চিঠি লিখেছে। ফুলদা জানে না।

    মিসেস পাল উঠে যান ভিতরের ঘরে। ফিরে আসেন চিঠিখানা হাতে করে। আমার দিকে বাড়িয়ে ধরেন। আমি ইতস্ততঃ করছি দেখে বলেন, –পড়ুন আপনি।

    পাঁচ-সাত লাইনের ছোট্ট চিঠি। কোন পাঠ নেই উপরে। কোন সান্ত্বনাও নেই, বা কৈফিয়ও নেই। গগন লিখেছে–শান্তি, আমার অনুপস্থিতিতে তোমার কোন অসুবিধা হবে বলে মনে হয় না। দোকানের হিসাব প্রফুল্ল জানে। আমি কোন ধার-দেনা করিনি। এ চিঠি কলকাতায় পৌঁছে ডাকে দেব। আমি তোমার সংসারে আর ফিরে আসব না। এ সিদ্ধান্ত বদলাবার নয়। দোকান থেকে বত্রিশটা টাকা নিয়ে গেলাম। মিথ্যে আমার খোঁজ খবর কর না। আমি রগচটা মানুষ তা তো জানই। অশান্তি আমার বরদাস্ত হয় না। ইতি গগন।

    আমি শুধু বললাম, আশ্চর্য!

    এত দুঃখেও শান্তি দেবী হেসে উঠলেন, –আশ্চর্য কোষ্টা? ঐ শেষ লাইনটা? না, ডাক্তারবাবু–ওর মধ্যে কোন অলঙ্কার নেই। শান্তি-অশান্তি কোনটাই ওর বরদাস্ত হয় না। সব ও ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে চায়।

    একটু ইতস্ততঃ করে বলে, কিছু মনে করবেন না শান্তি দেবী; কিন্তু আপনার কি মনে হয় এর ভিতর আর একটি মেয়ে আছে?

    -মনে করার কি আছে? বন্ধুভাবেই তো আপনার সাহায্য চাইছি। হ্যাঁ, তাও হতে পারে।

    আপনি কিছুই টের পাননি?

    –না। এ কি টের পাওয়া যায়?

    আবার কিছুটা চুপচাপ। শেষে উনি আবার বলেন, –ও যা একরোখা, ওর সিদ্ধান্ত বদলাবে বলে মনে হয় না। আমি…মানে, আমি ব্যাপারটা ঠিকমত বুঝে নিতে চাই। আসলে কী ঘটেছে? কেন এমনভাবে সে চলে গেল? যদি অন্য কোন মেয়ের মোহেই। চলে গিয়ে থাকে, তাহলে একদিন সে নাটকের শেষ হবে। ওকে তাহলে বলবেন…আমি ওর মুখের ওপর দরজা বন্ধ করব না কোনোদিন। সে যদি ফিরে আসতে চায়, আজ না হোক দু-দশ বছর পরেও, তবু তার জন্য আমার দরজা খোলা থাকবে। আর অন্য কোন মেয়ে যদি এর ভিতর না থাকে, তাহলে তার সব ছেড়ে যাবার আর কি কারণ থাকতে পারে তাও তো বুঝি না–

    –ওর সঙ্গে কোন ঝগড়াঝাটি হয়নি তো?

    –তেমন কিছু নয়। অন্তত মাসখানেকের ভিতর নয়।

    কিন্তু আপনার ফুলদার হিসাব মত সে মাসকতক গোপনে কিছু একটা করত। সেটা কী হতে পারে?

    -ফুলদার ধারণা অন্য কোন মেয়ের সঙ্গে ওর ইয়ে ছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রে আজ চার পাঁচ দিনের মধ্যে কি আমরা খবর পেতাম না? ঢাকা শহর কলকাতা নয়, একটি মেয়ে খোয়া গেলে সে খবর কি চাপা থাকত? তারও বাপ-মা কি খোঁজ নিতে আসত না?

    আবার ইতস্ততঃ করে বলি, –ওর সঙ্গে দেখা হলে কি বলব?

    কি আবার বলবেন আসল ব্যাপারটা শুধু জেনে আসবেন।

    –সে যদি ফিরে আসতে শেষ পর্যন্ত না চায় তাহলে বাবলুকে কোন চিঠি লিখতে বলব কি?

    জবাব দিতে দেরী হল শান্তি দেবীর। আবার দাঁত দিয়ে ঠোঁটটা কামড়ে ধরে অনেকক্ষণ চুপ করে থাকেন। অতি কষ্টে চোখের জলকে ঠেকিয়ে রেখেছেন উনি। তারপর বললেন, –ছেলে-মেয়ে আমার একার নয়। কিন্তু আমার হয়ে সে অনুরোধও আপনি করবেন না। সত্য কথাটা শুধু আমি জানতে চাই। বাবলু আমার বুঝমান ছেলে সত্য কথাই বলব তাকে আমি, তা সে যতই রূঢ় হোক, যতই কদর্য হোক! মিটিকেও বলতে হবে হয়তো কিছুদিন পরে। যখন তার বোঝবার বয়স হবে।

    আবার মনে পড়ল ফুলদার সেই অনবদ্য উক্তিটি–ছেলেমেয়ে বয়ে যায় মায়ের আশকারাতে।

    আর কিছু বলার নেই তো? আমি তাহলে যাই?

    একটু বসুন।

    শান্তি দেবী হুক থেকে সেতারটা পেড়ে আনেন। আমার হাতে সেটা দিয়ে বলেন, — এটাও নিয়ে যান। ওর সখের জিনিস।

    অদ্ভুত ক্ষমতা ভদ্রমহিলার। বয়সে ছোট আর সম্পর্কে বন্ধুপত্নী না হলে আমি সেদিন তাঁকে প্রণাম করতাম।

    আবার নিজে থেকেই বলেন, –ও হো, আপনি তো সাইকেলে চেপে এসেছেন। আচ্ছা থাক, আমি পাঠিবে দেব। কবে যাচ্ছেন আপনি?

    বললাম, কালই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }