Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    জেমস রোলিন্স এক পাতা গল্প700 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আমাজনিয়া – ১৫

    হেলথ কেয়ার

    আগস্ট ১৬, বেলা ১১:৪৩

    ইন্সটার ইন্সটিটিউটের হাসপাতাল বিভাগ

    ল্যাংলে ভার্জিনিয়া ।

    এমন হতাশায় আর কখনো ভোগে নি লরেন। তার নাতনিটা চাদর আর বালিশে এক রকম ঢাকাই পড়ে আছে, এটুকু একটা বাচ্চা অথচ কত রকম ক্যাবল, স্যালাইনের নল, মনিটর, যন্ত্রপাতি ঘিরে রয়েছে তাকে। আপদমস্তক প্রতিরক্ষা জ্যাকেট দিয়ে আবৃত থাকা সত্ত্বেও সে বিভিন্ন রকম যন্ত্র থেকে আসা বিপ শব্দগুলো শুনতে পাচ্ছে স্পষ্ট । দীর্ঘ আর সরু এই ঘরে জেসি একমাত্র আক্রান্ত বাচ্চা নয়। গতকাল আরো পাঁচজনকে ভর্তি করা হয়েছে এখানে।

    আগামী দিনগুলোতে আরো কতজন আক্রান্ত হয় কে জানে। মহামারী বিশেষজ্ঞের দেখানো কম্পিউটারের সেই মডেলটার কথা মনে পড়ল তার । সে দেখেছিল কিভাবে রোগটি সমস্ত আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। কানাডাতেও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর রিপোর্ট করা হয়েছে। সাথে এটাও শুনেছে, জার্মানিতেও আক্রান্ত দুটো শিশুকে ফ্লোরিডাতে এনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এখন।

    এখন সে অনুধাবন করতে পারছে ডক্টর এলভিসোর ভয়ঙ্কর মডেলটা আক্রান্তদের সংখ্যা ভবিষ্যত্বাণী করার ক্ষেত্রে বেশ দুর্বলই বলা চলে। শুধু আজ ব্রাজিলে আরো কিছু সংখ্যক আক্রান্তদের সম্পর্কে রিপোর্ট করা হয়েছে, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে শোনা যাচ্ছে স্বাস্থ্যবান পূর্ণবয়স্করাও রয়েছে। বাচ্চাগুলোর মত এই রোগীগুলো জ্বরে ভোগে নি, তার পরিবর্তে তাদের শরীরে টিউমার এবং ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ছে ঠিক জেরাল্ড ক্লার্কের বেলায় যেমনটা দেখা গিয়েছিল। এ বিষয়ে লরেন ইতিমধ্যে খানিকটা গবেষণাও করেছে। তবে ঠিক এই মুহূর্তে তার দুশ্চিন্তা অন্য কিছু নিয়ে। একটা চেয়ার নিয়ে জেসির বিছানার পাশে বসল সে। তার নাতনি এখন ছোটদের একটা অনুষ্ঠান দেখছে। মনিটরটা তার রুমে হলেও ভিডিওটা চালানো হচ্ছে বাইরে থেকে। হাসির অনুষ্ঠানটি ছোট্ট মেয়েটির ঠোঁটে জাগাচ্ছে না কোন কম্পন, না জাগাচ্ছে কোন হাসির রেখা ।যন্ত্রের মত সে শুধু তাকিয়ে আছে, ছলছল চোখ দুটো, ঘামে ভেজা চুলগুলো উসকো-খুসকো হয়ে আছে।

    তাকে দেয়ার মত কোন প্রশান্তি লরেনের কাছে নেই এখন। মমতার স্পর্শের অনুভূতিটুকুও বাধা পড়েছে কৃত্রিম জ্যাকেটের কারণে। সর্বোচ্চ সে যা করতে পারে তা হল মেয়েটির পাশে বসে থাকা, একটা পরিচিত মুখ তাকে দেখতে দেওয়া, তাকে বুঝতে দেয়া যে সে মোটেও একা নয়। কিন্তু সে তো আর জেসির মা না। প্রতিবারই ওয়ার্ডের দরজাটা যখন শব্দ করে খুলে যায় জেসি মাথা ঘুরিয়ে দেখে কে এলো, আশার ঝলকানি ক্ষণিকের জন্য দেখা যায় চোখে, কিন্তু ততক্ষণাৎ মিলিয়ে যায় হতাশায় । হয়তো কোন নার্স অথবা একজন ডাক্তার। কিন্তু তার মা আর আসে না। এমন কি লরেন নিজেরও দরজার দিকে খেয়াল করে বার বার মনে মনে প্রার্থনা করে মার্শালের জন্য যেন সে কেলি ও ফ্রাঙ্কের ভাল কোন খবর নিয়ে আসে। ওদিকে আমাজনে ব্রাজিলের উদ্ধার করা হেলিকাপ্টারটি ওয়াউই’র ফিল্ড ছেড়ে রওনা দিয়েছে কয়েক ঘণ্টা আগে । নিশ্চিন্তভাবে উদ্ধারকারীরা এতক্ষণে হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর কাছে পৌছে গেছে। কেলিও এতক্ষণে হয়তো বাড়ির পথে পাড়ি জমিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন খবর নেই। অপেক্ষার মুহূর্তগুলো তীব্র ক্লান্তিকর লাগছে।

    জেসি একটু নড়ে উঠে তার শরীরের সাথে লাগানো ক্যাথেটার পাইপটি টেনে ধরলো। “ছেড়ে দাও ওটা, সোনামনি,” লরেন বলল ।

    হাতটা সরিয়ে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল জেসি, বালিশে আবারও মাথা গুঁজে দিল সে। “মা কোথায়?” সহস্র বারের মত প্রশ্নটি করল। “আমার মাকে এনে দাও।”

    “সে আসবে, সোনামনি। কিন্তু দক্ষিণ-আমেরিকা তো অনেক দূরে। তুমি আরেকটু ঘুমিয়ে নাও।”

    বিরক্তি ফুটে উঠলো জেসির চোখে-মুখে। “আমার মুখ ব্যাথা করছে।”

    লরেন উঠে টেবিল থেকে স্ট্র দেয়া একটা কাপ তুলে নিল । কাপটিতে জুসের সাথে ব্যথানাশক ওষুধ মেশানো। “পাইপটা মুখে দাও সোনা, জুসটা একটুখানি খাও, ব্যাথা চলে যাবে এতে।”

    জ্বরের কারণে মেয়েটির মুখ থেকে এরইমধ্যে লালচে ফেনা বেরুচ্ছে, সাথে বিভিন্ন রকম পাচক রস বের হয়ে এসে ঠোঁটের উপর গভীর রেখা সৃষ্টি করেছে। সন্দেহের আর কোন অবকাশ নেই যে, জেসিও এই ভয়ঙ্কর রোগটায় আক্রান্ত। স্ট্রতে একটা টান দিতেই তার মুখমণ্ডল বেঁকে গেল অভক্তিতে। “বিশ্রী স্বাদ এটা। মা তো এমন বানায় না।”

    “আমি জানি, সোনা, কিন্তু এটা খেলে তোমার ব্যাথা ভাল হয়ে যাবে।”

    “পঁচা বিশ্রী স্বাদ…” বিড়বিড় করে বলললো জেসি, তার দৃষ্টি আবারও ফিরে গেল ভিডিও স্ক্রীনের দিকে।

    চুপচাপ বসে আছে দু-জন। পাশের বেড থেকে একটা বাচ্চা কেঁদে উঠল । অন্যদিকে টেলিভিশন থেকে ভেসে আসছে বাচ্চাদের অনুষ্ঠানের একগান। দুয়ে মিলে একটা ধাতব শব্দের মত মনে হল লরেনের কাছে, গায়ে সুটের কারণে এমনটা হচ্ছে বুঝল সে। এভাবে আর কতজন? ভাবল লরেন । কতজন অসুস্থ হবে আরও? আর কতজন মরবে এভাবে?

    সিল করা দরজাটা খুলে যেতেই হিস করে শব্দ হল পেছনে। লরেন ঘুরে দেখল দীর্ঘকায় মোটাসোটা একজন প্রতিরক্ষা জ্যাকেট গায়ে এসে দাঁড়িয়েছে দরজায়, হাতে অক্সিজেন লাইন। একটু নিচু হয়ে দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকল সে। কাছে আসতেই মুখের সচ্ছা প্লাস্টিকের আবরণটা ভেদ করে লরেন চেহারাটা দেখতে পেল। তার স্বামী। সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল সে।“মার্শাল!”

    সে হাত নেড়ে একটু সম্ভাষন জানিয়ে অক্সিজেনের পাইপটা দেয়ালের একটা হুকে আটকে রেখে জেসির বিছানার পাশে এসে দাঁড়াল ।

    “গ্র্যান্ডপা।” বলল জেসি, ক্লান্ত একটা হাসি দিয়ে ।

    এই মানুষটার জন্য অন্যরকম এক ভালবাসা অনুভব করে মেয়েটা। মার্শালই একমাত্র পুরুষ জেসির কাছে যার মাঝে সে খুঁজে পায় বাবার ছায়া । এমন অসুস্থতার মাঝেও জেসির এমন সাড়া দেয়াটা অনেক আনন্দের।

    ” লিটল পামপকিন, কেমন লাগছে দেখতে সোনা?”

    “আমি তো এখন বু দ্য বিয়ার দেখছি।”

    “তাই নাকি? মজা লাগছে তো?”

    দ্রুত মাথা নাড়ল সে।

    “আমিও দেখব তোমার সাথে । একটু সরে বস তো, সোনা।”

    খুব আনন্দিত হল জেসি। একপাশে একটুখানি সরে গিয়ে জায়গা করে দিল তার পাশে বসতে। নিজের বাহুটা জেসির কাঁধের চারপাশে রাখল মার্শাল । জেসিও হেলান দিল তার গায়ে, মজা নিয়ে তাকিয়ে আছে স্ক্রিনের দিকে।

    লরেনের সাথে চোখাচোখি হল মার্শালের। মাথাটা একটু ঝাঁকাল তার স্বামী।

    ভ্রু কুচকে গেল লরেনের। কি বোঝাতে চাইছে মার্শাল?

    বোঝার জন্য জ্যাকেটের সাথে লাগান রেডিওটা অন করল সে যাতে জেসির অগোচরেই কথা-বার্তা বলা যায় লরেনের সাথে।

    “কি অবস্থা এখন জেসির?” জিজ্ঞেস করল মার্শাল ।

    সোজা হয়ে বসল লরেন, ঝুঁকে এল তার দিকে। “ওর তাপমাত্রা নেমে গেছে একানব্বইতে, কিন্তু সার্বিক পরীক্ষার ফল ভাল না । শ্বেতরক্ত কণিকা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে লোহিত কণিকার বিলিরুবিন বাড়ছে।”

    কষ্টে চোখ বন্ধ করে ফেলল মার্শাল ।“দ্বিতীয় স্টেজে আছে?”

    কণ্ঠের জোর হারিয়ে ফেলল লরেন । সারা দেশের আক্রান্ত হওয়া অসংখ্য রোগিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এখন এই রোগটার মাত্রা ও ফলাফল নিরুপন করা যাচ্ছে ভালভাবেই। দ্বিতীয় স্টেজ স্বাভাবিক জ্বর থেকে আরও খারাপ দিকে যাণ্ডয়াকে নির্দেশ করে। জেসির এখন যেমনটা। এই অবস্থায় জ্বর থাকে না তবে রক্তে লোহিত কণিকা কমতে থাকে সাথে রক্তপাত ও বমিভাব শুরু হয়।

    “এখনি হয়ত না,” বলল লরেন। কাল নাগাদ বা হয়তো সর্বোচ্চ গেলে আরও এক দিন।” তার দু-জনেই জানে ঐ স্টেজে কি হতে পারে খুব ভাল সেবা দিলেও দ্বিতীয় স্টেজটি তিন থেকে চার দিনের মত থাকে, অরগরই আক্রান্ত ব্যক্তি চলে যায় তৃতীয় স্টেজে, যার ব্যাপ্তি মাত্র একদিন। শুরু হয় তখন তীব্র রক্তপাত। চার নম্বর কোন স্টেজ নেই এই রোগের। নানাকে জড়িয়ে ধরে রাখা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছে লরেন। এক সপ্তাহরও কম সময় আছে হাতে। মাত্র এই কটা দিন-ই সময় পাবে জেসি।

    “কেলির কি অবস্থা? তাকে কি উদ্ধার করা হয়েছে? বাড়িতে রওনা হয়েছে তো সে?”

    রেডিওটা চুপ মেরে আছে। মার্শালের দিকে তাকাল লরেন। আরও এক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকল মার্শাল তার দিকে, তারপর কথা বলল। “তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি। সর্বশেষ জিপিএস সিগন্যাল ধরে তাদের যেখানে থাকার কথা সেখানে তাদেরকে পাওয়া যায় নি, খোঁজা হয়েছে অনেক কিন্তু কোন চিহ্ন নেই ওখানে।”

    লরেনের মনে হল তার পেটে যেন পাথর চাপা পড়ল। “এটা কিভাবে সম্ভব?”

    “জানি না আমি । সারা দিন ধরে চেষ্টা করলাম তাদের সাথে স্যাটেলাইটে যোগাযোগ করতে, কিন্তু কোন কাজ হল না। গতকাল যে সমস্যা ছিল আজও সেই সমস্যা হচ্ছে মনে হয়।”

    “ওপর থেকে খোঁজা-খুঁজি চলছে না?” মাথা ঝাঁকাল মার্শাল।

    “হেলিকপ্টারগুলো ফিরে গিয়েছিল সীমিত জ্বালানির কারণে।”

    “মার্শাল…”কষ্ঠ যেন ভেঙে পড়ছে লরেনের।।

    এগিয়ে এসে সহধর্মিনীর হাতটা তুলে নিল সে। “একবার জ্বালানি ভরে আবারো রাতে পাঠানো হবে ওদের, দেখা যাক ক্যাম্পফায়ার চোখে পড়ে কিনা। ইনফ্রারেড সেন্সর দিয়ে খোঁজা হবে ভালভাবে । পরদিন সকালে পাঠান হবে আরও তিনটি হেলিকপ্টার, সাথে থাকবে আমাদের নিজস্ব কমানচি হেলিকপ্টার।” আরও একটু জোর দিয়ে হাতটা চেপে ধরল মার্শাল। “ওদেরকে খুঁজে বের করবেই।”

    নিজেকে সম্পূর্ণ অসাড় মনে হল লরেনের। দুটি সন্তান…দু-জনেই বিপদে পড়ে গেছে।

    ওদের নিরবতা ভাঙল জেসি, আইভি লাইন দেয়া একটা হাত উঁচু করে দেখাল ক্রিনের দিকে।“দেখ কি মজা করে বুবু ভালুকটা।”

    * * * *

    রাত ১:০৫

    প্রায় পঞ্চাশ ফুট দীর্ঘ মইটা বেয়ে গাছের উপরের ঘরগুলো থেকে নিচে নেমে এল নাথান। তিন তলাবিশিষ্ট সম্পূর্ণ কাঠামোটি দাঁড়িয়ে আছে একটা নাইটক্যাম্প ওক গাছের শির্ষে। নাথান চিনতে পারল এরকম গাছের জন্ম হয়েছিল ক্রেটেশাস যুগে।কিছুক্ষণ আগে কেলি ও প্রফেসর যখন ফ্রাঙ্ককে নিয়ে চলে গেল তখন একজোড়া ব্যান-আলি নারী উপস্থিত হয়ে নাথানদের দলটিকে একপ্রান্তে নিয়ে যায় । ইশারা ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেয় যে, গাছের মাথায় ঘরগুলো নাথানদের জন্য বরাদ্দ করে দেয়া হয়েছে। সার্জেন্ট কসটস বাধা দিয়েছিল প্রথমে কিন্তু নমনীয় হতে হয় প্রাইভেট ক্যারেরার ত্বরিৎ ও বুদ্ধিদীপ্ত পর্যবেক্ষণের জন্য ।

    “ওপরে উঠলে আরও বেশি নিরাপত্তা পাব আমরা। কিন্তু এখানে আমরা এখনো টার্গেট হয়ে আছি বলা যায়। যদি ঐ চিতাগুলো রাতে পিছু নিয়ে এখন পর্যন্ত এসে থাকে তবে ?”

    তাকে থামায় কসটস। এত ব্যাখার প্রয়োজন নেই তার। “ঠিক আছে, সব মালপত্র ওখানে তোলা যাক, তারপর একটা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হবে।”

    এমন সতর্কতা অপ্রয়োজনীয় ঠেকেছে নাথানের কাছে। এখানে আসার পর থেকেই ইন্ডিয়ানরা বেশ কৌতুহলি হয়ে আছে তাদের প্রতি, তবে একটা নিরাপদ দূরত্ব রেখে চলছে সবাই। ঝোপঝাড় আর ছোট জানালা থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে তাদের গতিবিধি । কোন রকম শত্রুতাপূর্ণ আচরন দেখায়নি কেউই। তবে এখনো নাথানের বেগ পেতে হচ্ছে ভেতরে ভেতরে এই শান্তশিষ্ট ইন্ডিয়ানদের সাথে খুনি ইন্ডিয়ানদের ভারসাম্য করতে গিয়ে । এরাই সেই ইন্ডিয়ান যারা ভয়ঙ্কর পঙ্গপালের ঝাঁক পাঠিয়ে মেরে ফেলেছিল তাদের দলের প্রায় অর্ধেক সদস্য। কিন্তু এটাও সত্য এমন দ্বৈত-আচরন অনেক ইন্ডিয়ানদের মাঝে নতুন কিছু নয়, তাদের জীবনটাই এমন। বাহ্যিকভাবে শত্রুতাপূর্ণ এবং নিষ্ঠুর, কিন্তু একবার কাউকে ভালভাবে গ্রহণ করলে ইন্ডিয়ানরা তখন হয়ে যায় শান্তিপ্রিয় ও খোলা মনের । তারপও কথা কিছু থেকে যায় । এই ইন্ডিয়ানরা পরোক্ষভাবেও দায়ি তাদের দলের আরও কিছু মানুষ মারার পেছনে। ক্রোধের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ যেন দাবানল হয়ে ছাড়িয়ে পড়ল নাথানের বুকে। এই ইন্ডিয়ানদের হাতেই এতগুলো বছর বন্দী জীবন কাটিয়েছে জেরাল্ড ক্লার্ক, সাথে হয়তো তার বাবার দলের আরও সদস্যও ছিল। ঠিক এই মুহূর্তে নিজেকে অনুসন্ধানকারী দলের একজন সদস্য ভাবতে কষ্ট হচ্ছে নাখানের । একজন অ্যানথ্রোপলজিস্ট হিসেবে সে এই অদ্ভুত মানুষগুলোকে বুঝতে পারছে ঠিকই কিন্ত একজন সন্তান হিসেবে যখন এই মানুষগুলোকেই দেখছে ক্রোধ আর বিদ্বেষের তীব্র অনুভূতি বদলে দিচ্ছে যেন তার সবকিছু। অবশ্য এই মানুষগুলোই আবার ফ্রাঙ্ককে সাহায্য করছে। কিছুক্ষণ আগে প্রফেসর ফিরে এসেছে সাদা গুঁড়ির গাছটার ভেতর থেকে, এসেই ঘোষনা দিল ইন্ডিয়ান ওঝা ও কেলি দুজনে মিলে ফ্রাঙ্কের অবস্থা সামলাতে পারবে। শত দুঃসংবাদের মাঝে এক টুকরো দুর্লভ সুসংবাদ। ইন্ডিয়ানদের এই সহযোগীতা সত্ত্বেও চিন্তিত দেখাল কাউয়িকে। নাথান তার অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে তাকাল প্রফেসরের দিকে কিন্তু কিছু বলার আগেই সে তাকে থামিয়ে দিল।

    “পরে বলছি,” এটাই শুধু বলল।

    লতানো আঙ্গুর গাছের বানানো মইটার শেষ ধাপে পৌছে লাফিয়ে মাটিতে নামল নাথান। গাছটিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে দু-জন রেঞ্জার এবং ম্যানুয়েল টর-টর দাঁড়িয়ে আছে তার পাশেই । দলের বাকি সদস্য জেন, অলিন এবং আনা সবাই থেকে গেছে গাছের উপরের ঘরে, ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যোগাযোগ করার যন্ত্রপাতিগুলো নিয়ে। পাশ দিয়ে যাবার সময় নাথানকে দেখে মাথা নেড়ে সায় দিল ম্যানুয়েল ।

    “এদিকটা আমি দেখছি,” কসটস বলল ক্যারেরাকে। “তুমি ম্যানুয়েলকে নিয়ে চারপাশটা একটু দেখে আস আশেপাশের অঞ্চল সম্পর্কে কতটুকু তথ্য আনতে পার।”

    মাথা নাড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াল নারী রেঞ্জার। ম্যানুয়েল পিছু নিল তার। “আসো, টরটর।”

    নাথানের আগমন চোখে পড়ল কসটসের । নিচে কি করছ তুমি, রান্ড?”

    “নিজেকে একটু কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।” মাথা নেড়ে ইশারা করল প্রায় তিনশ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কেবিনটার দিকে। “সূর্যটা এখন বেশ আলো দিচ্ছে সোলার সেলগুলোকে, আশা করি যথেষ্ট চার্জ পাচ্ছে কম্পিউটারটা, তাই দেখতে যাচ্ছি বাবার রেকর্ড করা কোন তথ্য বের করতে পারি কিনা কম্পিউটার থেকে।”

    বিরক্তির অভিব্যক্তি ফুটে উঠলেও শেষ পর্যন্ত সায় দিল কসটস। নাথান ঠিকই তার চোখ-মুখের ভাষা পড়তে পারল। “সাবধানে থেকো, সার্জেন্ট বলল “।

    কাঁধের শটগানটা উঁচু করে ধরল নাথান। “সব সময় তা-ই থাকি।”

    পা বাড়াল সে খোলা প্রান্তের দিকে। একটু দূরেই, খোলা জায়গাটার একেবারে প্রান্তে, শিশুদের একটা ঝাঁক জড়ো হয়েছে। তাদের কয়েকজন আবার নাথানকে দেখিয়ে একে অপরের সাথে নিচুস্বরে কথা বলছে। আরেকটা ছোটদল ম্যানুয়েল ও ক্যারেরার পিছু পিছু হাটছে টর-টরের থেকে নিরাপদ দূরত্ব রেখে। সহজাত কৌতুহল পিছু ছাড়ছে না ওদের । ওদিকে কিছুটা ভীত গ্রামের বাকি মানুষগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নিত্যকার কাজে। কয়েকজন নারী পানি নিয়ে আসছে মূল ভূ-খণ্ডের মাঝ দিয়ে ও বিরাট দৈত্যাকার গাছটিকে ঘিরে বয়ে চলা জলের ধারা থেকে। গাছের উপর ঘরগুলো থেকে মানুষজন ওঠানামা করতে শুরু করেছে লতানো মই বেয়ে, কয়েকটা ঘরের সামনের খোলা জায়গার চুলার মত কিছু জ্বালান হয়েছে । দুপুরের খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে। একটা ঘরে দেখা গেল এক প্রবীন নারী পদ্মাসনে বসে বাঁশি বাজাচ্ছে। দূর থেকেই বোঝা গেল বাশিটা হরিণের হাঁড় দিয়ে বানান। স্বরটা বেশ উঁচু অবে সুরটা চমৎকার । কাছেই দু-জন পুরুষকে দেখা গেল শিকার করার তীর-ধনুক সাথে নিয়ে হেটে আসছে । নাখানকে অতিক্রম করে যাবার সময় তারা সাদরে গ্রহণ করার একটা অভিব্যক্তি দিল । এমন খোলামেলা আচরণ নাথানকে স্মরণ করিয়ে দিল, যদিও এই গোত্রটি একরকম বিচ্ছিন্ন সবার থেকে তবু শ্বেতাঙ্গ নারী-পুরুষের সাথে বসবাস করেছে তারা এর আগেও । তার বাবার দলের বেঁচে যাওয়া সদস্যরাই ছিল সেই শ্বেতাঙ্গ।

    কেবিনের কাছে পৌছাল নাথান। তার বাবার ছড়িটা চোখে পড়ল আবারো । দরজার পাশে রাখা লাঠিটার দিকে তাকাতেই বাকি জগতের সব রহস্য, কোলাহল দৃশ্য হয়ে গেল যেন মুহূর্তেই । একটা প্রশ্নই মনে জেগে উঠল তার : আসলেই কি হয়েছিল তার বাবার?

    শেষ বারের মত দলের সদস্যদের অবস্থান করা উঁচু ঘরগুলো দেখে নিয়ে কেবিনটার দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল নাথান। ভ্যাপসা গন্ধ আবারো ঘিরে ধরল তাকে, যেন পুরনো কোন সমাধিতে ঢুকেছে। ভেতরে ল্যাপটপটা আগের জায়গাতেই আছে এখনও। যন্ত্রটা চালু আছে, যেন মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ আগেও তার বাবা এখানে ছিল। আঁধারের মাঝে উজ্জ্বল স্ক্রিনের আলো মনে হচ্ছে যেন ভয়ের কোনো সংকেত। কম্পিউটারে আরও কাছে যেতেই নাথান দেখল মনিটরজুড়ে স্ক্রিন সেভার খেলা করছে। ছোটছোট কিছু ছবির একটা ঝাক ভেসে ভেসে স্ক্রিনের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পৌছাচ্ছে । অশ্রু জমা হল তার চোখে। ছবিগুলো তার মায়ের। বয়ে চলা অতীতের আরেকটি অধ্যায়। হাসিমাখা মুখের ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে নাথান । একটায় তার মা হাটুর ওপর ভর দিয়ে বসে আছে ছোট এক ইন্ডিয়ান বালকের পাশে। অন্য একটায়, এক কাপুচিন বানর পা ঝুলিয়ে বসে আছে তার কাঁধে । আরেকটায় দেখা গেল, সে একটা ছোট ছেলেকে জড়িয়ে ধরে আছে, শ্বেতাঙ্গ বালকটির গায়ে ব্যান-আলিদের মত পোশাক। ছেলেটি নাথান । বয়স তখন তার ছয় বছর। পুরনো স্মৃতি ভেবে মুখে হাসির একটা রেখা ফুটে উঠল তার, বুক ভেঙে কান্নাও আসছে। তার বাবা যদিও কোন ছবিতে নেই, তার উপস্থিতি ঠিকই অনুভব করতে পারছে সে। যেন তার আত্মা নাথানের ঠিক পেছনেই দাঁড়ান, দেখছে সবকিছু। ঠিক এই মুহূর্তে তার মনে হচ্ছে তার পরিবারের এত কাছে সে কখনো আসে নি।

    বেশ খানিকক্ষণ পর সে মাউস প্যাডটা খুঁজে পেল । মাউসে নাড়া দিতেই মুছে গেল ক্রিন সেভারটা, সেখানে জায়গা করে নিল গতানুগতিক একটি ক্রিন। ছোটছোট শিরোনামের কিছু আইকন দেখা গেল পদায়, সবগুলো ফাইলের ওপর চোখ বুলাতে থাকল নাথান। প্লান্ট ক্লাসিফিকেশন, ট্রাইবাল কাস্টম, সেলুলার স্ট্যাটিসটিক্স…অনেক অনেক তথ্য। সবগুলো পরীক্ষা করতে গেলে অনেক সময় লেগে যাবে। কিন্তু একটা ফাইল তার দৃষ্টি আটকে দিল । আইকন হিসেবে একটা বইয়ের ছবি দেয়া । নিচে লেখা একটা শব্দ ; জার্নাল ।

    নাথান আইকনের ওপর ক্লিক করলে একটা ফাইল ওপেন হল।

    আমাজনিয়ান জার্নাল, ড: কার্ল রান্ড ।

    তার বাবার ডায়রি এটা, লিখতে শুরু করেছিল ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ঠিক যেদিন তাদের দলটা জঙ্গলের ভেতর যাত্রা শুরু করল। প্রত্যেকটা তারিখেই কিছু না কিছু লেখা আছে । কখনো একটা বা দুটো বাক্য মাত্র, কিন্তু বাদ পড়ে নি একটা দিনও তার বাবা ছিল খুবই প্রতিটি বিষয় সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সতর্ক এবং মনোযোগী । একবার সে নাথানকে একটা নোট লিখেছিল তাতে লেখা ছিল: পরীক্ষাহীন কোন জীবন বাঁচার যোগ্যতা রাখে না।

    লেখাগুলোতে চোখ বুলিয়ে গেল নাথান, একটা বিশেষ তারিখ খুঁজছে সে । অবশেষে পাওয়া গেল : ১৬ ডিসেম্বর । যেদিন তার বাবার দলটা হারিয়ে যায় ।

    ডিসেম্বর ১৬

    আজ সারাদিন ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে, থামার নাম গন্ধ নেই। সবাই আটকে আছি ক্যাম্পে। তবে পুরো দিনটাই যে মাটি হল তা নয়, এক ইন্ডিয়ানকে পেলাম আওয়ারাবা গোত্রের, নদী ধরে যচ্ছিল কেথাও, পরে আমাদের সাথে দেখা হয়ে যায়, আমরা ওকে আমাদের জলে ডুবতে বসা ক্যাম্পে নিয়ে আসি। ওর সাথে অনেক গল্প-গুজব হয় যা খুবই ভয় পাইয়ে দেওয়ার মত । একটা গোত্রের গল্প শুনেছি আমি, কিন্তু খুব অল্পসংখ্যক ইন্ডিয়ানই আছে যারা এই বিষয়ে মুখ খুলতে চায় মানুষের সামনে। তবে আমাদের এই ইন্ডিয়ান এত চাপা স্বভাবের নয়, বরং যথেষ্ট বাচালই বলা চলে। অবশ্য তার কাছ থেকে কথা বের করার কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছিল তাকে একটা বড় ছুড়ি ও কিছু বড়শি উপঢৌকন দেবার কারণে। সদ্য পাওয়া সম্পদের ওপর চোখ বুলিয়ে সে বলল অনেক কথাই, এটাও বলল যে, সে জানে কোথায় ব্যান-আলি লোকজন শিকার করে। উত্তেজনা প্রশমন করে নিয়ে শুনে গেলাম তার কথা, এই আশায় যদি এই হারিয়ে যাওয়া গোত্রটার অস্তিত্ব একটু হলেও থেকে থাকে তবে অনুসন্ধান না করেই বা থাকি কি করে? আর আমাদের এই গোটা অভিযানের জন্যই বিষয়টা অনেক কাজে আসবে। আমরা অনেক প্রশ্ন করলাম তাকে, এক প্রশ্নের উত্তরে সে একটা ম্যাপ এঁকে দেখাল। ব্যান-আলিদের অবস্থান প্রদর্শন করা ঐ ম্যাপটা দেখে বুঝলাম, তারা আমাদের ক্যাম্প থেকে এখনো তিন দিনের বেশি পথ দূরে আছে। তাই আগামীকাল যদি আবহাওয়া ভাল থাকে আমরা ব্যান-আলির খোজেই যাত্রা শুরু করতে চাই। দেখা যাক আমাদের নতুন এই ইন্ডিয়ান বন্ধু কতটা সঠিক বলেছে। অবশ্য বুঝতে পারছি, এটা একটা ব্যর্থ চেষ্টা তবুও কে জানে, এই শক্তিশালী জঙ্গল কত কি লুকিয়ে রেখেছে তার একেবারে গভীর হৃৎপিণ্ডে? সব মিলিয়ে বলা যায়, বেশ একটা মজার দিনই পার করলাম।….

    যতই পড়তে থাকল শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এল নাথানের, ল্যাপটপের দিকে আরও ঝুঁকে গেল সে। কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে তার। পরের কয়েক ঘণ্টাজুড়ে ফাইলগুলো দেখে গেল। পড়ে গেল প্রতিদিনের লেখাগুলো। এভাবে বছরের পর বছর পার হল তার চোখের সামনেই। অন্যান্য ফাইলগুলোও চষে বেড়াল সে, বিস্ময়ে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল বিভিন্ন নক্সা আর ডিজিটাল ছবির দিকে। ধীরে ধীরে সবকিছু এক সুতোয় বাঁধতে শুরু করল নাথান । সবার ভাগ্যের পরিণতির যে জটলা বয়ে বেড়াচ্ছে তা খুলতে শুরু করেছে মাথার ভেতরে। পড়া যতই এগোচ্ছে ততই অসাড় হয়ে যাচ্ছে তার কিছু । অতীতের ভয়াবহতা ঘিরে ধরেছে বর্তমানকে। সবকিছু বুঝতে শুরু করল নাথান। তার দলের সত্যিকার বিপদ বলতে যা বোঝায় এখন তার শুরু মাত্র।

    * * * “

    বিকাল ৫: ৫৫

    ম্যানুয়েল কিছু দেখানোর জন্য ক্যারেরাকে ডাকল। “ঐ লোকটা কি করছে ওখানে?”

    “কোথায়?”

    একটা হাত দিয়ে একটু দূরে এক ব্যান-আলি ইন্ডিয়ানকে দেখাল ম্যানুয়েল। বয়ে চলা জলস্রোতের মাঝে হাটছে লোকটি, লম্বা একটা বল্লম তার কাঁধে। বল্লমের ধাতব ফলায় কিছু কাঁচা মাংস বিধে আছে।

    “ডিনার চলছে নাকি?” একটু কাঁধ উঁচু করে অনুমানে বলল নারী রেঞ্জার।

    “কিন্তু কার জন্য?”

    সারা বিকেল ধরে সে এবং ক্যারেরা পুরো গ্রামটা ঘুরে দেখেছে টর-টরকে সাথে নিয়ে। জাগুয়ারটার মনোযোগ বিভিন্ন দিকে আকর্ষিত হলেও কৌতুহলি ইন্ডিয়ানদের থেকে ওটা সবসময় একটা দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে। ঘুরতে ঘুরতেই ক্যারেরা কিছু নোট টুকে নিয়েছে সেই সাথে গ্রামটির ও আশেপাশের অঞ্চলের একটা মানচিত্র এঁকে নিয়েছে। শত্রুপক্ষের শক্তির মাত্রা ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য গুপ্তচরেরা যেমন কাজ করে থাকে রেঞ্জার ক্যারেরাও ম্যানুয়েলকে নিয়ে প্রায় সেই কাজটিই করছে। বলা যায় না এই ইন্ডিয়ানদের ছাইচাপা হিংস্রতা কখন আবার জেগে ওঠে।

    এই মুহুর্তে, দৈত্যাকার বিশাল গাছটার সাদা গুঁড়ির চারপাশে চক্রাকার ঘুরছে তারা। গাছটির একপ্রান্ত থেকে জলের প্রবাহটা বয়ে গেছে শেকড়গুলোর ভেতর দিয়ে অপর প্রান্তে, মনে হয় যেন জলের স্রোতে শেকড়-মূলের সব মাটি ধুয়ে গিয়েছে। পেঁচানো শেকড়গুলো পানির ভেতর বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে আছে, এমনকি অনেকখানি জায়গা শুধু শেকড়েই পরিপূর্ণ, যা দেখা যাচ্ছে পানি স্বচ্ছ হবার কারণে। যে ইন্ডিয়ানটি ম্যানুয়েলের মনোযোগ কেড়েছিল সে এখন পেঁচানো শেকড়েরর ভেতর দিয়ে আঁকাবাঁকা শেকড় ঠেলে বহু কষ্টে একটা দিকে এগোচ্ছে,স্পষ্ট বোঝা গেল স্রোতের একটা অংশের দিকে লক্ষ্য নিবিষ্ট হয়ে আছে তার ।

    “আরও কাছ থেকে ব্যাপারটা দেখা যাক, চল,” ম্যানুয়েল বলল ।

    ক্যারেরা তার ছোট ফিল্ড-নোটবুকটা পকেটে ভরে ভোতা মুখ অস্ত্র বেইলেটা তুলে নিল হাতে। বিরক্তভরা দৃষ্টি দিয়ে বিশাল গাছটি দেখল, ওটার কাছে যাবার প্রস্তাবে খুশি নয় মোটেও। তবুও এগিয়ে চলল সে ম্যানুয়েলকে পেছনে নিয়ে শেকড় আর জলের স্রোতের ভেতর দিয়ে। ম্যানুয়েল দেখল ইন্ডিয়ানটা বেশ বড় একটা ঘূর্ণিজলের স্রোত পার হয়ে গিয়েছে। চারপাশে ঘন শেকড়-বাকড়ের আস্তরণ। পানিটা একেবারেই স্বচ্ছ শুধু কিছু একটার ঝাঁক একটা অংশকে ঘোলাটে করে তুলেছে।

    ইন্ডিয়ানটা বুঝতে পারল তাকে কেউ দেখছে, মাথাটা একটু ওপরে তুলে মাথা নেড়ে সায় দিয়ে দেহের ভষায় সম্ভাষন জানাল ম্যানুয়েল এবং ক্যারেরাকে, তারপর কাজে ডুবে গেল সে। কয়েক মিটার দূরে দাঁড়িয়ে দেখছে তারা সবকিছু। টরটর বসে আছে পেছনের দু-পায়ে ভর দিয়ে । সামনে ঝুঁকে ইন্ডিয়ানটি হাতের বর্শা প্রসারিত করে ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে বর্শায় গেঁথে থাকা রক্তমাখা তাজা মাংসের টুকরোগুলো পানির শান্ত অংশের ওপর ধরল।

    চোখজোড়া সংকুচিত করল ম্যানুয়েল ভাল করে দেয়ার জন্য। “লোকটা কি করছে?”

    ছোট দেহের কিছু প্রাণী লাফিয়ে শূন্যে উঠে গেল পানি ছেড়ে, ওদের লক্ষ্য তাজা মাংসের টুকরোগুলো দেখতে রুপালি বাইন মাছের মত লাগল । সবগুলোই এখন ব্যস্ত। লাফালাফি করছে পানির ওপর প্রাণীগুলো লাফিয়ে উঠে ছোট চোয়াল দিয়ে মাংস ছিড়ে নিয়ে আবার পানিতে গিয়ে পড়ছে।

    পিরানহা,” ক্যরেরা বলল ম্যানুয়েলের পাশে থেকে।

    মাথা নেড়ে সায় দিল ম্যানুয়েল। “এখনো কৈশোরে আছে ওগুলো। পেছনের পাগুলো ভালভাবে পোক্ত হয় নি। এখনো লার্ভা স্টেজে রয়েছে, লেজ আর দাঁত হয়েছে।”

    দৃঢ়ভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াল ইন্ডিয়ানটি, হাতের বর্শাটা ঝাঁকুনি দিয়ে মাংসের টুকরোগুলো পানিতে ফেলে দিল সে। মুহুতেই সেখানে একটা ছোটখটি ঘুর্ণিঝড় শুরু হয়ে গেল। ক্ষুধায় মাছগুলো ক্ষিপ্রবেগে ছুটে এসে ঘিরে ধরল মাংসের টুকরোগুলো। স্বচ্ছ পানিতে রক্তের স্রোত উঠল যেন। নিজের কাজটা ভালভাবে দেখে ইন্ডিয়ানটি তাকে দেখতে থাকা মানুষ দুটোর দিকে ফিরে এল । অবাক হল সে-ও। আবারো মাথা নেড়ে সায় দিল সে তাদের পাশ দিয়ে যাবার সময়। আড়চোখে ম্যানুয়েলের পাশে থাকা জাগুয়ারটাকেও দেখল ভয় আর শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে ।

    “আরও কাছ থেকে দেখতে চাই আমি, ম্যানুয়েল বলল।

    “পাগল হলে নাকি তুমি?” পেছনে ফিরে যাবার ইশারা করল ক্যারেরা । “চল, এখান থেকে চলে যাই।”

    “না, আমি একটু দেখতে চাই,” এরই মাঝে হাটা শুরু করে দিয়েছে সে শেকড়ের বাকি অংশের দিকে।

    বিরক্তিতে গজগজ করলেও তার পিছু নিল ক্যারেরা। পথটা বেশ সরু তাই পাশাপাশি হাটা যাচ্ছে না, আগে-পিছে করে সাবধানে পা ফেলতে লাগল তারা। তাদের পেছনে টর টর, লেজটা এদিক-ওদিক নাড়াচ্ছে উদ্বিগ্ন ভঙ্গিতে। শেকড়ে ঘেরা জলাধারের কাছে পৌছাল ম্যানুয়েল।

    “খুব কাছে যাবার দরকার নেই,” সতর্ক করে দিল ক্যারেরা।

    “ওরা কিন্তু ইন্ডিয়ানটাকে কিছু করে নি,” বলল সে। “মনে হয় না ভয়ের কিছু আছে।”

    তবুও ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে সামনের জলাধারের কাছে দাঁড়াল সে। তার একটা হাত চাবুকের হাতলে। শেকড়ের আড়াল থেকে উঁকি দিল নিচের দিকে জলাধারটা বেশ প্রশস্ত আর পানিও একেবারে স্বচ্ছ, গভীরতা কমপক্ষে দশ ফিটের মত । জলের আরও একটু গভীরে তাকাল সে, দেখতে পেল এক ঝাঁক মাংসাশী মাছের ঝাক কিলবিল করছে। মাংসের কোন চিহ্নই নেই, যা দেখা গেল তা তলানিতে পড়ে থাকা হাড়গোড়। পরিস্কারভাবে মাংস ছিঁড়ে নেয়া হয়েছে ওগুলো থেকে

    “এত দেখছি একটা মাছের হ্যাচারি,” বল ম্যানুয়েল।

    গাছের উঁচু শাখার পেঁচানো লতা থেকে আঠা এসে পড়ল পানিতে, ম্যানুয়েল লক্ষ্য করল মাঝে-মাঝে এমনটা হচ্ছে, অবশ্য এতে তার উপকারই হল। শান্ত পানিতে কিছু পড়তেই মাছগুলো খাবার মনে করে উপরে উঠে আসছে, আর তখন আরও কাছ থেকে ভালভাবে দেখার সুযোগ পাচ্ছে সে। মাছগুলোর আকার বিভিন্ন আকৃতির একেবারে ছোট থেকে শুরু করে মাঝারি পর্যন্ত, শুধুমাত্র অল্প কিছু মাছের সদ্য পা গজাতে শুরু করেছে।

    “এরা সবগুলোই এখনো ছোট,” গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে বলল ম্যানুয়েল। “আমাদের আক্রমণ করা পূর্ণবয়স্ক একটাও দেখছি না এখানে।”

    “আমরা হয়তো সবগুলো বিষ দিয়ে মেরে ফেলেছি,” ক্যারেরা বলল।

    দ্বিতীয় দফায় যে আক্রমণ হয় নি আমাদের উপর তাতে অবাক হবার কিছু নেই। আক্রমণ করার মত সৈন্য তৈরি হতে সময় তো দিতে হবে ওদের।”

    “কথাটা হয়ত পিরানহার ক্ষেত্রে ঠিক..”

    কয়েক মিটার দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ক্যারোর কণ্ঠ ফিসফিসে ও দূর্বল হয়ে গেল। “ঠিক কি সব কিছুর বেলায় নয়।”

    চট করে পেছনে তাকাল ম্যানুয়েল । নারী রেঞ্জারটা অস্ত্র দিয়ে গাছের গুড়ির নিচের দিকে দেখাল যেখান থেকে শেকড় আবার মূল গাছে উঠে গেছে । গুড়ি থেকে খানিকটা ওপরে বেশ কিছু বেরিয়ে আছে বাইরের দিকে, প্রত্যেকটাই বেশ পুরু এবং সংখ্যায় কয়েকশ হবে। বাকলের গায়ের ছিদ্র দিয়ে কালো পতঙ্গ বেরিয়ে আসতে শুরু করছে বাইরে। সবগুলোই বাকল বেয়ে হামাগুড়ি দিয়ে, একে অন্যের সাথে যুদ্ধ করে ওপরে উঠছে, অল্প কিছু পতঙ্গ পাখা মেলে উড়ছে বাকলের চারপাশে ভন ভন শব্দ করে ।

    “পঙ্গপাল!” ম্যানুয়েল বলল কিছুটা পেছনে সরে গিয়ে।

    তবে পতঙ্গগুলো কোন খেয়ালই করল না মানুষের উপস্থিতি, সবাই যেন দলগত কাজে ব্যস্ত। জলাধারের দিকে একবার তাকিয়ে পলক না ফেলেই ম্যানুয়েল দৃষ্টি সরিয়ে নিল পতঙ্গের ঝাঁক থেকে।

    “এই গাছটা…” বিড়বিড় করে বলল সে।

    “কি বলছ?”

    আরও এক ফোট আঠা পানির উপর পড়তেই ম্যানুয়েল ক্ষুধার্ত পিরানহার ঝাকের দিকে তাকাল। স্বচ্ছ পানিতে তীক্ষ দাঁতের রুপালী দৈত্যগুলো কিলবিল করছে। মাখা ঝাঁকাল সে। “আমি ঠিক নিশ্চিত না, কি মনে হচ্ছে এই গাছটিই এসব প্রাণীদেরকে লালন করছে।”

    মনটা যেন তার ছুটতে শুরু করেছে পাগলা ঘোড়ার মত । চোখ দুটো প্রসারিত করে এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর মাঝে যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া শুরু করল সে। তার ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া মুখটা খুব সহজেই দৃষ্টি আকর্ষন করল ক্যারেরার।

    “কি হয়েছে?”

    “হায় ঈশ্বর! এখান থেকে বেরোতে হবে আমাদের।”

    * * * *

    সন্ধা ৬:৩০

    কেবিনের ভেতর ল্যাপটপের ওপর ঝুঁকে আছে নাথান। ক্লান্ত আর বিধ্বস্ত সে। তার বাবার লিখে যাওয়া জার্নালগুলো বেশ কিছু কয়েক বার করে পড়েছে, এমন কি কিছু গবেষণাপত্রের ক্রসরেফরেন্স দেখেছে, এর ফলে যে চিত্রটা তার মনের পর্দায় চিত্রিত হল সেটা একই সাথে দুশ্চিন্তা ও অলৌকিকতায় ভরা। ভাল করে সর্বশেষ লেখাটি পড়ল সে।

    …..”আজ রাতেই চেষ্টা করব আমরা। ঈশ্বর আমাদের সাথে থাকুন।”…..

    ডুবন্ত নাথানের পেছনে ছাপড়া দেওয়া দরজাটা জানান দিল কারো আগমনের কথা। “নাথান?” প্রফেসর কাউয়ির কণ্ঠ শোনা গেল।

    রিস্টওয়াচ সময় দেখে নাথান বুঝতে পারল ফাইলগুলোর মাঝে কতটা সময় ডুবেছিল সে। হারিয়ে গেছিল বাকি পৃথিবী থেকে। তার মনে হল তার মুখে যেন শুকনো কাপড় গোঁজা, কোন শব্দ করতে পারল না। বাইরের আকাশে সূর্য ধীরে ধীরে হেলে পড়ছে পশ্চিমে, বিকেল এগিয়ে যাচ্ছে গোধূলির দিকে।

    “ফ্রাঙ্কের কি অবস্থা?” মনোযোগ ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞেস করল সে।

    “কি হয়েছে তোমার?” নাথানের ফ্যাকাশে হয়ে থাকা মুখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল কাউয়ি।

    মাথা ঝাঁকালো সে। কথা বলার জন্য এখনো প্রস্তুত নয়।“কেলি কোথায়?”

    “বাইরে, সার্জেন্ট কসটসের সাথে কথা বলছে। আমরা এখন একজায়গায় জড়ো হতে চাইছি সব ঠিকঠাকমত চলছে কিনা তা দেখার জন্য। তারপর আবার ফিরে যাব । এখন বল এদিকে খবর কি?”

    “ইন্ডিয়ানরা দূরত্ব রেখে চলছে,” নাথান উঠে দাড়িয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল ।

    ডুবন্ত সূর্যের দিকে তাকাল সে। “বেইস-ক্যাম্প হিসেবে গাছের ওপর কয়েকটা ঘর ব্যবহার করছি আমরা। ম্যানুয়েল এবং ক্যারেরা জায়গাটা ঘুরে দেখছে।”

    মাথা নেড়ে সায় দিল কাউয়ি। “ওদেরকে এইমাত্র দেখলাম এদিক দিয়ে যেতে। স্টেটসের সাথে যোগাযোগের কি হল?”

    কাঁধ উচু করল নাথান। “অলিন বলল সম্পূর্ণ সিস্টেমটাই নষ্ট হয়ে গেছে। তবে তার বিশ্বাস সে অন্তত একটা জিপিএস চ্যানেলের মাধ্যমে সিগন্যাল পাঠাতে পারবে। হতে পারে সেটা আজ রাতের মধ্যেই।”

    “তাহলে তো ভাল খবর, আবেগহীন কণ্ঠে বলল কাউয়ি। , তার কণ্ঠে চিন্তার ছায়াটা ধরতে পারল নাথান।

    “কোন সমস্যা হয়েছে নাকি?” ভ্রু কুঁচকাল প্রফেসর । “কিছু একটা আছে কিন্তু ঠিক ধরতে পারছি না।”

    “আমায় বল, কিছু একটা করতে পারি কিনা দেখি,” ল্যাপটপের দিকে তাকাল নাথান, তারপর প্লাগটা খুলে ফেলল সোলার প্যানেলের লাইন থেকে রাত নামছে তাই সৌরশক্তি পাওয়া যাবে না আর। ল্যাপটপের ব্যাটারিটা পরীক্ষা করে দেখে ওটা হাতে তুলে নিল । “আমার মনে হয় সবাই একত্র হয়ে কথাবার্তা বলে নেয়ার সময় এখনই।”

    মাথা নেড়ে সায় দিল কাউয়ি । “এ-কারণেই আমি এবং কেলি এখানে এলাম। আমাদের কাছেও কিছু তথ্য আছে।”

    আরও একবার নাথান খেয়াল করল প্রফেসরের চোখেমুখে গভীর চিন্তার ছাপ। “ওকে, এখন সবাই মিলে এক জায়গায় বসা যাক তাহলে। তারা দুজন কেবিন থেকে বের হয়ে পড়ন্ত বিকেলের আলো গায়ে লাগাল । উষ্ণ কেবিন থেকে বের হতেই ঠাণ্ডা বাতাস যেন জমিয়ে দিল তাদেরকে । নাথান আর কাউয়ি এগিয়ে গেল কেলি এবং সার্জেন্ট কস্টস যেখানে কথা বলছে সে-দিকে। ম্যানুয়েল আর ক্যারেরা এরইমধ্যে সেখানে চলে এসেছে, একটু দূরেই দাঁড়িয়ে আছে ব্যান-আলিদের একজন। তাকে চিনতে এক মুহূর্ত লাগল নাথানের। এই মানুষটিই তাদেরকে এখানে পথ দেখিয়ে নিয়ে এসেছে । চোখে ফাঁকি দেয়া কালো রঙ ধুয়ে ফেলায় বাদামি চামড়া বেরিয়ে পড়েছে, আর সাথে গাঢ় লাল রঙের ট্যাটুও দেখা যাচ্ছে খোলা বুকে।

    মাথা নেড়ে সায় দিল নাথান কেলিকে দেখে । তার পাশে গিয়ে দাঁড়াল সে। “শুনলাম ফ্রাঙ্কের অবস্থা আগের থেকে ভাল।”

    ফ্যাকাশে হয়ে গেল তার মুখটা, চাপা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল যেন। “সেটা কতক্ষণ থকবে জানি না। সে খেয়াল করল নাথানের হাতে একটা ল্যাপটপ। “তোমার বাবার রেখে যাওয়া কোন তথ্য আবিষ্কার করতে পারলে কি?”

    লম্বা করে দম নিল নাথান। “আমার মনে হয় সবারই সেটা শোনা উচিত।”

    “সবাই মিলে একটি পরিকল্পনা করার সময় এসে গেছে,” সার্জেন্ট কসটস বলল। “রাত কি নেমে আসছে।”

    কাউয়ি বিশাল উঁচু লাইটক্যাপ ওক গাছে বানানো তিন-তলা ঘরগুলো দেখাল। “আমার মনে হয় ঘরে উঠেই সব কথা বলা ভাল।

    কেউ কোন প্রতিক্রিয়া দেখাল না । কিছুক্ষণের মধ্যে সবাই এক এক করে লতানো মই বেয়ে গাছে উঠে গেল । টর-টর নিচেই থাকল পাহারা দেবার জন্য । মই বেয়ে ওঠার সময় একবার নিচে তাকাল নাথান । জাগুয়ারটা নিচে একা নয়। ব্যান-আলি গোত্রের সেই মানুষটাও মইটার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, বোঝাই যাচ্ছে তাদের দলের দেখাশোনা করার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে ওকে।

    মইয়ের একেবারে শীর্ষে পৌছে ইন্ডিয়ানদের বানানো ঘরের পাটাতনে পা রাখল নাথান, দলের অন্যরা কেউ পাটাতনের ওপর, কেউবা ভেতরে ঢোকার দরজার কাছে অবস্থান করছে। সবার গন্তব্য তুলনামূলক একটা নিচু ঘরের দিকে যেখানে মিলিত হবে । ওপরের দুটো লেভেলে তুলনামূলক ছোট ও দেখতে একরকম কিছু কামরাআছে যেগুলো ব্যবহৃত হবে ব্যক্তিগত ঘর হিসেবে, প্রত্যেকটারই আলাদা ছোট পাটাতন অথবা খোলা বারান্দার মত জায়গা রয়েছে । এই বৃক্ষ-ঘরগুলোতে নিশ্চিতভাবেই কিছু পরিবার বসবাস করত, একরকম জোর করেই সরিয়ে দেয়া হয়েছে ওদেরকে আগত অতিথিদের জায়গা দেবার জন্য। চারপাশে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যে মানুষের ছোঁয়া স্পষ্ট। ঘরে বিভিন্ন তৈজসপত্র, কাঠের পাত্র ফুল ও পালক দিয়ে সজ্জিত করে রাখা। শূন্য হ্যামোকগুলো ঝুলছে, এখনো যেন তাতে মানুষের ছোট অবয়বগুলো খোদাই হয়ে আছে। এমনকি কোথাও কোন পুরনো বা স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধও নেই, বরং জীবনের ছোঁয়া প্রতিটি কোণায় । রান্নার মসলার ঘ্রাণের সাথে মানুষের ঘামের গন্ধও অনুভব করা যাচ্ছে ভালভাবেই।

    আনা ফঙ সামনে এগিয়ে গেল। তার হাতে এক প্লেট টুকরো করে কাটা ডুমুর। এক ইন্ডিয়ান নারী কিছু ফল, সেদ্ধ আলু আর শুকনো মাংসের সাথে ওগুলো দিয়ে গেছে। খাবার দেখে ক্ষুধা-তৃষ্ণার কথা মনে পড়ে গেল নাথানের। হাত বাড়িয়ে রসেভরা এক টুকরো ফল তুলে নিয়ে কামড় কসাল সে। রস গড়িয়ে পড়ল থুতনি বেয়ে। হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে রস মুছতে মুছতে সে জিজ্ঞেস করল, “জিপিএস সিগন্যাল ধরতে পেরেছে অলিন?”

    “এখনো কাজ করে যাচ্ছে সে,” শীতল ও ভয় পাওয়া কণ্ঠে বলল কাউয়ি । “কিন্তু যেভাবে গালি-গালাজ করছে যন্ত্রটাকে, পরিস্থিতি ভাল ঠেকছে না।”

    দরজার কাছে দাঁড়িয়ে হাঁক দিল কস্টস। সবাই ভেতরে যাও।”

    নাথান একপাশে সরে যেতেই বাকি সবাই ঘরে ঢুকল। ভেতরে ঢুকে নাথান দেখল আরও কয়েক প্লেট খাবার রয়েছে সেখানে, সাথে কিছু পাত্রও দেখা গেল যেগুলোতে এক রকম তরল জাতীয় কিছু আছে, গন্ধ বলছে ওটা গাঁজিয়ে তৈরি করা। প্রফেসর কাউয়ি তরল ভরা একটা পাত্র পরীক্ষা করে দেখে বিস্ময়ে নাথানের দিকে তাকাল।

    “আরে, এটা তো ক্যাসিরি।”

    “সেটা আবার কি?” কসটস জিজ্ঞেস করল ঘরের দরজাটা টেনে দিয়ে।

    “কাসাভা বিয়ার,” ব্যাখ্যা করল নাথান । “একরকম অ্যালকোহলিক পানীয়, স্থানীয় অনেক গোত্রেই এটা খাওয়া হয়।”

    “বিয়ার?” চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠল সার্জেন্টের। “সত্যি?”

    কাউয়ি এগিয়ে গিয়ে একটা মগে আঠাল তরলের কিছুটা ঢাললো। নাথান দেখল কিছু পাতলা কাসাবা শেকড় তরলের সাথে মগের ভেতর গিয়ে পড়ছে । প্রফেসর মগটা সার্জেন্টের দিকে বাড়িয়ে দিল।

    জিনিসটা শুঁকতেই তার নাক কুঁচকে গেল তবু একটা চুমুক দিতেই হল তাকে। “আআহ..?” মাথা ঝাঁকাল সে।

    “প্রথম প্রথম এটার স্বাদটা খারাপ লাগলেও পরে খেতে খুব ভাল লাগে, নাথান বলল । নিজের জন্য এক মগ ঢেলে চুমুক দিল সে। তাকে অনুসরণ করল ম্যানুয়েল ।

    মহিলারাই এটা তৈরি করে, কাসাভা শেকড়গুলো প্রথমে মুখে নিয়ে চিবোয় তারপর সেগুলো থুথু মেশানো অবস্থায় ফেলে দেয় মুখ থেকে একটা পাত্রের মধ্যে ভাদের মুখের লালায় যে এনজাইম আছে সেটা গাঁজন প্রক্রিয়ার সহায়তা করে।”, হাতের মগটা উপুড় করে সবটুকু পাত্রের মধ্যে ঢেলে দিল কেটস। “দরকার নেই বাবা, কপালে থাকলে কোন একদিন হুইস্কি কিনে খাব।”

    কাঁধ তুলল নাথান।

    সারা ঘরজুড়ে সবাই সবকিছু কম বেশি চেখে দেখে মেঝেতে রাখা হাতে বোনা মাদুরের ওপর বসল । সবাইকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে ওদের আসলে ভাল ঘুমের দরকার । নাথান তার ল্যাপটপটা উপুর করে রাখা একটা পাত্রের উপর রাখল। সে এটা চালু করতেই ক্ষুধার্ত দৃষ্টি নিয়ে অলিন তাকাল যন্ত্রটার দিকে। তার চোখ দুটো লাল ।

    “আমি এখান থেকে কিছু সার্কিট খুলে নিয়ে কমিউনিকেশন যত্নে লাগাতে পারি, কাছে এগিয়ে এসে বলল টেকনিশিয়ান ।।

    কিন্তু তাকে বাধা দিল নাথান। “এই কম্পিউটার পাঁচ বছরের পুরনো। এখান থেকে কাজে লাগানোর মত কিছু খুঁজে পাবে বলে মনে হয় না, আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, এই মুহূর্তে এটার মধ্যে যে তথ্য জমা আছে তা আমাদের জীবনের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” সবার মনোযোগ এখন তার দিকে ফিরে এল। একবার সবার উপর থেকে চোখ বুলাল সে। “আমি এখন জেনে গেছি প্রথম অভিযানে অংশ নেওয়া দলটার কি হয়েছিল । ওদের ভাগ্যে যা ঘটেছিল আমরা যদি এড়াতে চাই তাহলে এখান থেকেই শিক্ষা নিতে হবে।”

    মুখ খুলল কাউয়ি। “কি হয়েছিল ওদের?”

    লম্বা করে নিঃশ্বাস নিল নাথান, তারপর শুরু করল ল্যাপটপের পর্দায় একটা জার্নালের দিকে নজর দিল। এখানে সব বিস্তারিত আছে। আমার বাবার দলটি অভিযান শুরুর পর শুনেছিল যে ব্যান-আলি নামে একটি গোত্র আছে। এক ইন্ডিয়ানের দেখাও পেয়েছিল তারা, সে বলেছিল সে তাদের গবেষণা দলটাকে ব্যান-আলিদের এলাকায় নিয়ে যেতে পারবে। এটা শুনে বাবা লোভ সামলাতে পারেনি। তাই সে দেরি না করে বাকিদের নিয়ে যাত্রা শুরু করে । ঠিক দু-দিনের মাথায় ওই দলটিও একইরকম অজ্ঞাত প্রাণীদের আক্রমনের শিকার হয়।

    গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল ঘরে । ছোট-ক্লাসের বাচ্চাদের মত একটা হাত উঁচু করল মানুয়েল । “আমি জানি, আমি জানি, কোথায় ঐ হারামিগুলো বংশ বিস্তার করে। অন্তত ঐ পঙ্গপাল আর পিরানহাদের কথা বলতে পারি আমি।” সে বলে গেল ক্যারেরা এবং সে কি আবিষ্কার করছে।

    “এই খুনে প্রাণীদের নিয়ে একটা নিজস্ব তত্ত্ব দাঁড় করিয়ে ফেলেছি আমি।”

    বাধা দিল কাউয়ি । “তত্ত্ব আর ধারণার কথা শোনার আগে প্রথমে যা একেবারে নিশ্চিত জানি সেটা শোনা যাক।” নাথানের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে সায় দিল প্রফেসর । “বলে যাও, নাথান । সেই আক্রমনের পর কি হল?”

    আরও একবার দম নিল সে। গল্পটা বলা খুব সহজ নয়। “পুরো দলটার সবাই মারা গেল, বেঁচে ছিল শুধু জেরাল্ড ক্লার্ক, আমার বাবা এবং বাকি দু-জন গবেষক । সবাই ব্যানআলির হাতে ধরা পড়ে। আমার বাবা ইন্ডিয়ানগুলোর সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছিল, বাকিদের বিপদমুক্ত করার চেষ্টাও করেছিল। বাবার নোট থেকে এটা মোটামুটি অনুমান করতে পারছি, ব্যান-আলির ভাষাটা ইয়ানোমামোদের ভাষার প্রায় কাছাকাছি।” মাথা নেড়ে সায় দিল কাউয়ি। “অবশ্যই সাদৃশ্য আছে। এই ব্যান-আলি যেমন বিচ্ছিন্ন তেমন তাদের নিকটে বিচ্ছিন্ন শ্বেতাঙ্গ কোন মানুষুের মুখে ব্যান-আলিদের ভাষা শুনলে সেটা অবশ্যই তাদেরকে একটু হলেও ভাবাবে । মাথা গরম করে হিংস্র কিছু করে ফেলবে না তারা। আমি এতে অবাক হই নি যে, তোমার বাবা এবং বেঁচে যাওয়া বাকিরা একটু সুবিধা পেয়েছিল।”

    এতে অবশ্য ভাল কিছুই হয় নি, দুঃখের সাথে ভাবল নাথান, তারপর আবার শুরু করল। “দলের বাকি সদস্যদের সবাই মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল কিন্তু একবার এখানে আসার পর তাদের সব ক্ষত সেরে যায় অলৌকিকভাবে। বাবার লেখা নোট অনুসারে, গভীর কেটে যাওয়া স্থানগুলো বন্ধ হয়ে গেল কোন রকম দাগ রেখে যাওয়া ছাড়াই, ভাঙা হাড়গুলো জোড়া লেগে গেল এক সপ্তাহেরও কম সময়ে, এমন কি দলের একজনের হার্টের সমস্যা ছিল অনেকদিন আগে থেকে, সেটাও দূর হয়ে গেল । কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটেছিল জেরাল্ড ক্লার্কের বেলায়।”

    “তার হাতটা,” সোজা হয়ে বসে বলল কেলি।

    “ঠিক তাই। এখানে আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কাটা হাতের অবশিষ্ট অংশটি বেশ ফুলে ওঠে, রক্তপাত শুরু হয়, টিউমারের মত একটা মাংসপিণ্ডের সৃষ্টি হয় ওখানে । বেঁচে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে এমন কথাও হচ্ছিল যে, তারা স্ফীত অংশটা কেটে বাদ দেবে কিন্তু তাদের কাছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছিল না। পরের কয়েক সপ্তাহে অল্প কিছু পরিবর্তন চোখে পড়ে। মাংসপিণ্ডটা আরও বড় হতে থাকল, বাইরেও চামড়ার একটা আবরণ তৈরি হল।”

    চোখ দুটো প্রসারিত হল কেলির।

    “পুণরায় জন্ম হতে শুরু করল হাতটা।” মাথা নাড়িয়ে ঘুরে দাঁড়াল নাথান। কম্পিউটার রাখা জার্নালটা স্ক্রল করে তিন বছর আগের লেখায় ফিরে গেল সে। তার বাবার লিখে যাওয়া শব্দগুলো বেশ জোরে পড়তে শুরু করল।

    আজকে আমি এবং ডা. চ্যান্ডলার এই বিষয়ে নিশ্চিত হলাম যে, জেরাল্ড ক্লার্কের টিউমারটি আসলে তার অস্থিপূণর্জন্মের প্রাথমিক রুপ । এমনটা আগে কোনদিন দেখিনি। এখান থেকে পালানোর যে কথাবার্তা ছিল তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে শুধু এটা দেখতে ক্লার্কের অবস্থা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। এটা এমন একটা অলৌকিক ব্যাপার যার জন্য এরকম ঝুঁকি নেওয়াই যায়। এদিকে ব্যান-আলিরা আমাদের বন্দী করলেও আমাদের প্রতি তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরন করে গেছে, যে কারণে উপত্যকা পর্যন্ত যেতে আমাদের কোন বাধা নেই তবে তাদের ভূ-খণ্ড ছেড়ে চলে যাওয়াটা একেবারেই নিষেধ। এর সাথে যোগ করা যায় নিচু বনাঞ্চলের ওৎ পেতে থাকা দৈত্যাকার জাগুয়ারগুলোর কথা, সব মিলিয়ে এখান থেকে এই মুহূর্তে পালানোর ব্যাপারটা অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে।”

    একটু সোজা হয়ে আরেকটা ফাইল খুলল সে। হাতে আঁকা কিছু ছবি ভেসে উঠল পর্দায় । সবগুলোই নতুন গজিয়ে উঠতে শুরু করা বাহুটার ছবি । আমার বাবা এই রূপান্তরের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটির প্রমান সংগ্রহ করতে চেয়েছিল। কিত্তাবে সাদৃশ্যপূর্ণ স্টেম সেলগুলো ধীরে ধীরে হাড়, পেশী, স্নায়ু, রক্তনালী, লোম ও চামড়ায় রূপান্তরিত হয়। পুরো আট মাস লেগে গিয়েছিল হাতটা সম্পূর্ণ জন্মাতে।”

    “কিসের কারণে এটা হয়েছিল?” প্রশ্ন কেলির ।

    “বাবার নোট বলছে, এর কারণ ইয়াগা গাছের আঁঠা ।” ঢোক গিলল কেলি।

    “ইয়াগা…” কাউয়ি মাথা নেড়ে বলল, “এ-কারণেই ব্যান-আলিরা এই গাছটাকে উপাসনা করে।”

    “এই ইয়াগাটা কি জিনিস?” প্রশ্ন করল জেন ঘরের এককোণ থেকে। চলমান আলোচনায় এই প্রথম আগ্রহ দেখাল সে।

    “এটা অনেক প্রাচীন একটি বৃক্ষ,” কাউয়ি ব্যাখ্যা করল। সে এবং কেলি

    চিকিৎসাকেন্দ্রে অতিপ্রাচীন এই গাছের আঠার কার্যকারিতা সম্পর্কে যা যা দেখেছে বলতে শুরু করল। “ফ্রাঙ্কের ক্ষতস্থান বলতে গেলে সাথে সাথেই ভাল হয়ে গেল এর আঠা লাগানোর ফলে।”

    “শুধু তা-ই নয়,” বলল কেলি। কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে আরও কিছুটা এগিয়ে এল সে । সারা দুপুর ধরে আমি হেমাটোক্রিট টিউব দিয়ে ফ্রাঙ্কের রক্তের লোহিত কণিকার মাত্রা পরীক্ষা করেছি। অবিশ্বাস্য গতিতে বাড়ছে ওগুলো। মনে হচ্ছে যেন কিছু একটা তার অস্থিমজ্জাকে প্রভাবিত করছে আরও বেশি পরিমাণে লোহিত কনিকা উৎপাদনের জন্য যাতে তার ঝরে পড়া রক্ত আবার পূরণ হয়ে যায় । ব্লাডসেলও বাড়ছে অবিশ্বাস্য গতিতে। এর আগে এমন দ্রুত কোন প্রক্রিয়া আমি দেখিনি।”

    আরেকটা ফাইল ওপেন করল নাথান। “আসলে ঐ আঠাতে এই জিনিসটা আছে । আমার বাবার দল ক্রোমাটোগ্রাফ পেপার দিয়ে আঠাটা তরলীভূত করতে পেরেছিল। ওটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যেভাবে কোপাল গাছের আঠায় প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোকার্বন থাকে ঠিক তেমনি ইয়াগার আঠায় থাকে প্রোটিন।” স্ক্রীনের দিকে ইঙ্গিত করল আবার । “স্টেটসে ছড়িয়ে পড়া রোগটার বাহকও এক রকমের প্রোটিন, তাই না?”

    মাথা নেড়ে সায় দিল কেলি। “হ্যা, একটা প্রিয়ন। এটা এমন এক প্রোটিন যেটা নিজ থেকে পরিবর্তিত হতে পারে।” মাথা ঘুরিয়ে ম্যানুয়েলের দিকে তাকাল সে। “তুমি ঐ পিরানহা এবং পঙ্গপাল নিয়ে কি যেন একটা বলতে চাচ্ছিলে? একটা তত্ত্ব..”

    মাথা নাড়ল ম্যানুয়েল, “ঐ প্রাণীগুলোও গাছের সাথে যুক্ত। পঙ্গপালরা থাকে গাছের বাকলের ভেতর । অনেকটা বোলতারা যেমন বাসা বানিয়ে থাকে। আর পিরানহাগুলোর হ্যাচারিটা শেকড় দিয়ে ঘেরা একটা পুকুরের মত জায়গায়। এমন কি ঐ গাছের আঠাও পড়তে দেখলাম হ্যাচারির পানিতে। আমার মনে হয় এই আঠাই ওগুলোকে ছোট থেকে বড় করে তোলে।”

    ‘আমার বাবাও এ বিষয়ে এরকমই একটা নোট লিখেছে,” শান্তভাবে বলল নাথান ।

    আসলে এই বিষয়ের ওপরই একাধিক ফাইল আছে, যার সবগুলো সে এখনো পড়তে পারে নি।

    “তাহলে ঐ জাগুয়ার আর কেইমানগুলোর ব্যাপারে কি বলবে” আনা জিজ্ঞেস করল।

    “বিবর্তন । আমি বাজি ধরে বলতে পারি,” বলল ম্যানুয়েল দুটো প্রজাতি কয়েক প্রজন্ম আগেই বিবর্তিত হয়ে অমন দৈত্যাকার হয়ে গেছে আমার মনে হয়, এতদিনে তারা নিজেরা জেনেটিকভাবে এতটা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে যে, কোন রকম আঠার সাহায্য ছাড়াই নিজেদের বংশ বিস্তার করতে সক্ষম এখন ।

    “তাহলে ওরা এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাচ্ছে না কেন?” জিজ্ঞেস করল আনা।

    “হয়ত এটা কোন জৈবিক সীমাবদ্ধতা, কিংবা জেনেটিকভাবেই ওরা এই পরিবেশের সাথে ভালভাবে মানিয়ে গিয়েছে।”

    “তার মানে তুমি বলতে চাইছ, ঐ গাছই এসব প্রাণীগুলো সৃষ্টি করেছে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে? একেবারে সচেতনভাবে?” তাচ্ছিল্যভরে হাসি দিল জেন।

    কাঁধ তুলল ম্যানুয়েল । “কে জানে? হতেও পারে। বিবর্তনের মাত্রা কিংবা ক্ষমতা বোঝার জন্য আমাদের জ্ঞান হয়তো খুবই অপ্রতুল।”

    “অসম্ভব,” মাখা ঝাঁকাল জেন ।

    “খুব বেশি অসম্ভব নয়। আমরা এরইমধ্যে তার প্রমাণও পেয়েছি,” ম্যানুয়েল ঘুরে দাঁড়াল নাথানের দিকে। ভ্রু কুঁচকাল নাথান। সার্জেন্ট কষ্টসএর আক্রমণ করা বিষাক্ত পিঁপড়াগুলো ভেসে উঠল তার চোখে । মনে পড়ল গাছটার শাখা-প্রশাখার মাঝে কেমন ফাপা ছিল, যেখানে পিপড়াগুলো তাদের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছে, গাছের খাদ্যরসের একটা অংশও তারা ভোগ করে। বিনিময়ে পিঁপড়াগুলো কত নিষ্ঠুরভাবে প্রতিহত করে তাদের এলাকায় অনুপ্রবেশকারী যেকোন প্রাণী অথবা গাছপালাকে । সে এবার বুঝতে শুরু করল ম্যানুয়েল আসলেই কি বোঝাতে চাইছে। অবশ্যই এই ঘটনাগুলোর মাঝে সাদৃশ্য রয়েছে।

    বলে গেল ম্যানুয়েল। “তাহলে আমরা এখানে যা দেখছি তা হল উদ্ভিদ জগৎ আর প্রাণী জগতের মধ্যে চমৎকার একটি সম্পর্ক, যেখানে উভয়েই বিকশিত হচ্ছে বেশ জটিল অন্ত-সম্পর্ক, ভাগাভাগি করার মাধ্যমে। একে অন্যের পরিপূরক তারা।

    জানালার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ক্যারেরা কথা বলল। শেষ বিকালের অস্তগামী সূর্যটা দেখা যাচ্ছে তার কাঁধের পাশ দিয়ে । “এই বজ্জাতগুলো কিভাবে এল তাতে কি যায় আসে । এই উপত্যকা থেকে আমরা বেরুবার চেষ্টা করলে এগুলোকে এড়ানোর কোন পথ কি আমরা জানি?”

    তার প্রশ্নটা শুনল নাথান। এই প্রাণীগুলোকে নিয়ন্ত্রন করা যায়।” “কিভাবে?”

    সে আবার দেখাল কম্পিউটারের দিকে। এক বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল আমার বাবার ব্যান-আলির গোপন বিদ্যাগুলো শিখতে। বাবার নোট পড়ে মনে হচ্ছে, এই গোত্রের মানুষেরা এক বিশেষ ধরনের পাউডার তৈরি করে যা দিয়ে একইসাথে এই ভয়ঙ্কর প্রাণীগুলোকে আকৃষ্ট এবং প্রতিহত দুই-ই করা যায়। যেমনটা পঙ্গপালের ক্ষেত্রে হাতেকলমে দেখেছি আমরা, তবে পিরানহাদের নিয়েও এমন কিছু করার ক্ষমতা রাখে ইন্ডিয়ানগুলো। পানিতে বিশেষ রাসায়নিক দ্রব্য মেশানোর মাধ্যমে ওগুলোকে নিয়ন্ত্রন করে উত্তেজিত করে দিয়ে দূর্বল প্রতিপক্ষদের ওপর লেলিয়ে দিতে পারে ওরা। বাবার বিশ্বাস এগুলো একধরনের হরমোন প্রভাবিত করার ক্ষমতাসম্পন্ন বস্তু যা পিরানহাগুলোকে মারাত্মকভাবে জাগিয়ে তোলে, হিংস্রভাবে আক্রমণ করতে বাধ্য করে।”

    মাথা নেড়ে সায় দিল ম্যানুয়েল । এক্ষেত্রে এটা সৌভাগ্যের বিষয় যে, আমরা ওগুলোর মধ্যে পূর্ণবয়স্কর ঝাঁকটাকে খুব দ্রুতই ধ্বংস করে দিয়েছি। আমার মনে হয় নতুন যোদ্ধা বাহিনী তৈরি করতে হাচারিটার আরও সময় লাগবে । জৈবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি দূর্বলতা পাওয়া গেল অন্তত।”

    “এ-কারণেই হয়তো ব্যান-আলিরা একের অধিক রকম প্রাণী লালন করে।”

    বিষয়টা খেয়াল করল ক্যারেরা । “রিজার্ভ সৈন্য।” ভ্রু কুঁচকাল ম্যানুয়েল। “ঠিক বলেছ । বিষয়টা আমারও ভাবা উচিত ছিল।”

    ক্যারেরা ঘুরে দাঁড়াল নাথানের দিকে। তাহলে এবার ঐ দৈত্যাকার জাগুয়ার এবং কেইমানগুলোর কথা বিবেচনা করা যাক।

    মাথা নাড়ল নাথান। “ওগুলো প্রহরী, ঠিক যেমনটা আমরা ভেবেছিলাম..সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে ওরা। শুধু সীমান্ত বললে ভুল হবে, সীমান্ত থেকে শুরু করে মূল ভূ-খণ্ডের কেন্দ্র পর্যন্ত ওদের আনাগোনা। তবে ওদেরও বশ করা সম্ভব শরীরে বিশেষ কালো পাউডার মেখে, এভাবেই ব্যান-আলিরা নির্ভয়ে চলাফেরা করে ওসব অঞ্চল দিয়ে । আমার মনে হয় এই বস্তুটা কাজ করে কেইমানের মলের মত, যার গন্ধে বাঘও পালায়।

    শিষ দিল ম্যানুয়েল । তাহলে আমাদের গাইডের শরীরে যা মাখা ছিল তা শুধু মানুষের চোখ ফাঁকি দেবার জন্য নয়।”

    “এমন শক্তিশালী বস্তুটা কোথায় পাব আমরা?” কসটস জিজ্ঞেস করল। “কোথা থেকে আসে এটা?”

    উত্তর দিল কাউয়ি । “ইয়াগা থেকে।” স্থির দৃষ্টিতে বলল সে, শুধু একটু ফ্যাকাশে হয়ে গেল মুখটা।

    নাথান বেশ অবাক হল প্রফেসরের এমন দ্রুত উত্তর শুনে। “ওটা তৈরি হয় ইয়াগার বাকল এবং পাতার তেল থেকে। কিন্তু তুমি বুঝলে কিভাবে?”

    “প্রত্যেকটা বস্তুই এই প্রাগৈতিহাসিক গাছের সাথে যুক্ত। আমার মনে হয় ম্যানুয়েলের কথাই ঠিক, এটাও ঠিক পিপড়া-গাছের মতই কাজ করে। তবে এখানে পিপড়ার ভূমিকায় কারা সেটা নিরুপণে ভঙ্গ হয়েছে ম্যানুয়েলের।”

    “কি বলতে চাও তুমি?” ম্যানুয়েল বলল ।

    “এই বিবর্তিত প্রাণীগুলো আসলে জৈবিক যন্ত্রপাতির মত কাজ করে। কাদের জন্য করে জানো? কাজ করে ইয়াগার সত্যিকারের শ্রমিকদের জন্য।” চারপাশে চোখ বুলাল কাউয়ি। “ব্যান-আলি!” পিনপতন ব্রিবতা নেমে এল ঘরে ।

    বলে চলল কাউয়ি, “এখানের এই ইন্ডিয়ানগুলো মূলত কাজ করছে সৈনিক-পিপড়ার মত । ব্যান-আলিরা গাছটার নাম দিয়েছে ইয়াগা, তাদের ভাষায় যার অর্থ মা। তার মানে এমন একজন যে জন্ম দেয়…একজন রক্ষণাবেক্ষণকারী । অনেক অনেক প্রজন্ম আগে, খুব সম্ভবত দক্ষিণ-আমেরিকার প্রথম অভিবাসীরা এই গাছের অবিশ্বাস্য আরোগ্য করার ক্ষমতার কথা কোন একভাবে জেনে যায়, কালক্রমে এটারই আরাধনা শুরু করে তারা। ধীরে ধীরে মানুষগুলো হয়ে পড়ে ব্যান-ইন, মানে দাস। প্রত্যেকেই যেখানে একে অপরকে সাহায্য করছে, রক্ষণ এবং আক্রমণের জটিল এক জালের মধ্যে বসবাস করে।”

    এমন তুলনা শুনে নিজেকে খুব দুর্বল মনে হল নাথানের । মানুষ এখানে পিপড়ার মত ব্যবহার হচ্ছে?

    “এই গাছগুলো প্রাগৈতিহাসিক, কথা শেষ করতে যাচ্ছে প্রফেসর। “হয়তো এটার আদি উৎপত্তি প্যানজি আমলে, যখন দক্ষিণ-আমেরিকা এবং আফ্রিকা একত্রে ছিল । এটার প্রজাতিগুলো মোটামুটি ছড়িয়ে পড়েছিল যখন মানুষ প্রথম সোজা হয়ে হাটতে শেখে সেই যুগে । যুগ যুগ ধরে এসব গাছপালা নিয়ে শত শত কল্পকাহিনি চালু আছে সারা দুনিয়ায়। যেন মাতৃত্বে ভরা এক অভিভাবক। হয় তে এখানকার এই ঘটনাটাই প্রথম নয়।”

    এই চিন্তাটা সবাইকে পেয়ে বসল। নাথান ভাবে নি, এমন কি তার বাবাও ইয়াগার ইতিহাস নিয়ে যথেষ্ট ঘাটাঘাটি করেছে, অনেক শ্রম দিয়েছে। বিষয়টা আসলেই ভাবনার ।।

    সার্জেন্ট কস্টস তার এম-১৬ রাইফেলটা অন্য কাঁধে ঝোলাল। “ইতিহসের ক্লাস যথেষ্ট হয়েছে। আমি ভেবেছিলাম যদি রেডিওতে যোগাযোগ নাও করা যায় তারপরও সবাই মিলে এখান থেকে বেরোবার একটা পরিকল্পনা করব।”

    “সার্জেন্ট ঠিকই বলেছে,” ঘুরে দাঁড়াল কাউয়ি। “তুমি কিন্তু এখনো বলনি নাথান, তোমার বাবা এবং অন্যদের কি হয়েছিল । জেরাল্ড ক্লার্ক ছাড়া পেয়েছিল কিভাবে?”

    গভীর করে দম নিয়ে কম্পিউটারের দিকে ফিরল নাথান। সর্বশেষ লেখাটা বের করে জোরে জোরে পড়া শুরু করল সে :

    ১৮ই এপ্রিল আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ পাউডার সংগ্রহ করেছি আজ রাতে পালানোর জন্য। সবরকম হিসাব ও পরিকল্পনা করে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি, উদ্দেশ্য কোন একটা সভ্যতা খুঁজে বের করা। কাজটা কঠিন, সাথে বিপদ তো আছেই, কিন্তু আর একমুহূর্তেও দেরি করার উপায় নেই আমাদের। কালো পাউডার সারা গায়ে মেখে চঁাদ ডোবার সাথে সাথেই পালাতে হবে । ইলিয়া শর্টকাট রাস্তাটা জানে, এটা আমাদেরকে সবার চোখ ফাকি দিয়ে এই এলাকার বাইরে নিয়ে যাবে। আর কোন পথ নেই আমাদের…বিশেষ করে ওটার জন্মের পর । আজ রাতেই যা করার করতে হবে । ঈশ্বর আমাদের সবাইকে রক্ষা কোরো।

    নাথান সোজা হয়ে বসল। “শুধু জেরাল্ড ক্লার্ক একা নয়, অব সবাই পালাবার চেষ্টা করেছিল।”

    সবার দিকে তাকিয়ে একই রকম অভিব্যক্তি খুঁজে পেল নাথান। “শুধু জেরাল্ড ক্লার্কই সভ্য জগতে ফিরতে পেরেছিল।”

    “তাহলে সবাই পালিয়েছিল একসাথে, বিড়বিড় করে বলল কেলি।

    মাথা নেড়ে সায় দিল নাথান । এমনকি একজন ব্যান-আলি নারীও ছিল তার সঙ্গে, একজন দক্ষ ট্র্যাকার, নাম ইলিয়া। সে জেরাল্ড ক্লার্কের প্রেমে পড়ে যায়, তাকে বিয়ে করে । ক্লার্ক তাকে সঙ্গে নিয়ে নিয়েছিল।”

    “সবার ভাগ্যে কি হল শেষ পর্যন্ত?” প্রশ্ন করল আনা।

    মাথা ঝাঁকালো নাথান।“এটাই লেখার শেষ অংশ। আর কিছু নেই।”

    দুঃখ ফুটে উঠল কেলির চোখে-মুখে। “তাহলে তারা কেউ পারে নি…শুধু জেরাল্ড ক্লার্ক বাদে।”

    “আচ্ছা দাখিকে জিজ্ঞেস করে দেখি বাকি খবরটুকু পাওয়া যায় কিনা,” কাউয়ি বলল।

    নিচের দিকে দেখাল কাউয়ি। “সেই ইন্ডিয়ানটা যে আমাদের পথ দেখিয়ে এই পর্যন্ত এনেছে। ব্যান-আলি ভাষা আমি যতটুকু জানি আর সে যতটা ভাঙা ভাঙা ইংরেজি জানে এই দুইয়ে মিলে কাজ চলে যাবে আশা করছি। এটা অন্তত জানতে পারব, বাকিদের কি হয়েছিল, কিভাবে তারা মারা গেল।”

    মাথা নেড়ে সায় দিল নাথান, যদিও সে নিশ্চিত নয়, এই তিক্ত অংশটুকু তার জানার দরকার আছে কি না।

    মুখ খুলল ম্যানুয়েল। “কিন্তু ঠিক কিসের কারণে ঐ রাতে ওভাবে পালাতে বাধ্য হয়েছিল ওরা? তাদের এমন তাড়াহুড়োর কারণ কি ছিল?”। গভীর করে নিঃশ্বাস নিল নাখান, “আমি চাচ্ছি সবাই এই কারণটাই শুনুক। আমার বাবা এরকম ভয়ঙ্কর ইতি টেনেছে ব্যান-আলিদের নিয়ে । এমন ভীতিকর কিছু যেটা বাবা চেয়েছিল বাইরের পৃথিবীর মানুষ জানুক।”

    “কি সেটা?” জিজ্ঞেস করল কাউয়ি।

    ঠিক কোথা থেকে শুরু করবে বুঝতে পারছে না নাথান।“ব্যান-আলিদের নিয়ে নানা রকম তথ্য-উপাত্তগুলো এক করে বুঝে উঠতে কয়েক বছর সময় লেগে গিয়েছিল। আমাজনের অন্যসব গোত্র থেকে এই গোত্রটি কিছু বিষয়ে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এরা কপিকল এবং চাকা আবিষ্কার করেছে, এমনকি কিছু বাড়িতে হাতে বানানো সরল এলিভেটর বানানো হয়েছে, ভারি পাথর আর গাছের গুড়ি বেঁধে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে ওগুলোর । এমন বিচ্ছিন্ন একটি গোত্রের মধ্যে আরও কিছু অগ্রগতি দেখে অদ্ভুত মনে হয়েছিল বাবার কাছে। সে বেশিরভাগ সময়ই ব্যয় করত ব্যান-আলিরা কিভাবে চিন্তা করে, কিভাবে তাদের সন্তানদের শিক্ষা দেয় এগুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাতে । প্রতিটি জিনিসই আকৃষ্ট করেছিল তাকে।”

    “আচ্ছা, কি শেষ পর্যন্ত কি হল?” জিজ্ঞেস করল কেলি

    “জেরাল্ড ক্লার্ক ইলিয়ার প্রেমে পড়ে গেল। এখানে বন্দী থাকার দুই বছরের মাথায় তারা বিয়ে করল । তৃতীয় বছরে আবিষ্কার করল তারা বাবা-মা হতে চলেছে। চার বছরে এসে এক সন্তানের জন্ম দেয় ইলিয়া।” সামনের মুখগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে সে অপলক।“বাচ্চাটা মৃত, দেহর গঠন সম্পূর্ন ভিন্ন রকম, তার বাবার লেখা শব্দগুলো মনে পড়ল নাথানের। “একটা জেনেটিক দৈত্য।”

    ভয়ে আৎকে উঠল কেলি।

    ল্যাপটপের দিকে তাকাল নাথান। “এখানে কিছু ফাইলে আরও বিস্তারিত আছে। আমার বাবা ও তার দলের একমাত্র মেডিকেল ডাক্তার মিলে এই অদ্ভুত ঘটনার একটা ভয়ঙ্কর সমাপ্তি টানতে চাইল । এই গাছটা শুধু তার থেকে নিচু প্রজাতিগুলোকে পরিবর্তিত করছে না। এটা গোটা ব্যান-আলি গোত্রকেই ধীরে ধীরে বিবর্তন করছে যুগ যুগ ধরে, খুব সূক্ষ্মভাবে এই মানুষগুলোর চিন্তা-ভাবনার ক্ষমতাকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের উদ্দীপনা শক্তিও বদ্ধি পাচ্ছে, এমনকি দৃষ্টি শক্তিও। যদিও বাইরে থেকে দেখতে তাদেরকে একই রকম মনে হয়, কিন্তু আভ্যন্তরীন পরিবর্তন করে যাচ্ছে এই গাছ। আমার বাবার ধারণা ছিল এই ব্যান-আলিরা ধীরে ধীরে জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত হয়ে সভ্য মানুষ থেকে সম্পূর্ন আলাদা হয়ে যাচ্ছে। আর এমনটা হবার একটি লক্ষণ হল ভিন্ন দুই প্রজাতি একত্র সুস্থ বাচ্চার জন্ম না দিতে পারা।”

    ‘মৃত বাচ্চা…” ফ্যাকাশে হয়ে গেল ম্যানুয়েলের মুখ।

    মাথা নেড়ে সায় দিল নাথান। “আমার বাবা এই বিশ্বাসে পৌছে গিয়েছিল যে, বানআলিরা হোমোসেপিয়েন্সদের প্রায় পেছনে ফেলার অবস্থায় পৌছে গিয়েছে, নিজেরাই রুপান্তরিত হচ্ছে নিজস্ব এক প্রজাতিতে।”

    “হায় ঈশ্বর!” ঢোক গিলল কেলি ।

    “এ-কারণেই তাদের পালানোটা অত জরুরি হয়ে পড়েছিল। এই উপত্যকায় শুরু হওয়া মানুষ জাতির এমন অনৈতিক পরিবর্তনকে অবশ্যই থামাতে হবে।”

    প্রায় মিনিটখানেক কেউ কোন কথা বলল না । ফিসফিস করে নিরবতা ভাঙল আনা, তার কণ্ঠে ভয় । “তাহলে আমরা এখন কি করব?”

    “শালার জিপিএসটাকে ঠিক করতে হবে প্রথমে,” রুক্ষভাবে বলল কসটস। “তারপর এখান থেকে সটকে পড়তে হবে।”

    “আর এই মাঝখানের সময়টুকুতে,” যোগ করল ক্যারেরা, “আমরা যতটা পারি ইয়াগা পাউডার সংগ্রহ করব, বলা যায় না ওগুলো কাজে লাগতেও পারে।”

    গলাটা একটু পরিষ্কার করে উঠে দাঁড়াল কেলি। “আমরা সবাই একটা জিনিস ভুলে যাচ্ছি, আমেরিকায় যে রোগটা ছড়িয়ে পড়ছে তার কি ব্যবস্থা করব? কিভাবে ঠেকাব ওটাকে? এই উপত্যকা থেকে বেরুবার সময়ে তার সাথে কি এমন ছিল যা থেকে এই রোগ হতে পারে?” নাথানের দিকে ফিরল কেলি । “তোমার বাবার নোটে এখানকার কোন সংক্রামক রোগের কথা উল্লেখ আছে?”

    “না, এই ইয়াগার যে সহজাত বৈশিষ্ট্য তাতেই এখান কার সবাই অবিশ্বাস্য রকমের সুস্থ থাকে। তবে একটা নিষিদ্ধ কাজ আছে যেটা কেউ করে না, সেটা এই গোত্র ত্যাগ করে চলে যাওয়া। যে ত্যাগ করবে ছায়ার মত লেগে থাকা এক অভিশাপ তার পিছু নেবে, এমনকি তার সাথে যাদেরই সাক্ষাত হবে তারাও অভিশপ্ত হবে। আমার বাবা এটাকে একটা গালগল্প বলে উড়িয়ে দিয়েছিল যাতে পালাতে ভয় না পায় কেউ।”

    বিড়বিড় করল ম্যানুয়েল, যে ত্যাগ করে এবং যাদেরকে দেখে সবাই অভিশপ্ত…এটা তো আমাদের সংক্রামক রোগটার মতই শোনাচ্ছে।”

    নাথানের দিকে ঘুরল কেলি। “যদি এটা সত্যও হয়ে থাকে, রোগটা আসছে কোথা থেকে? কিসের কারণে জেরাল্ড ক্লার্কের শরীর হঠাৎ করেই এত টিউমারে ভরে গেল? সে এত সংক্রমিত হল কিভাবে?”

    “আমি নিশ্চিত, এটার সাথে ইয়াগার প্রাণ-রক্ষাকারী আঠার সম্পর্ক আছে,” জেন বলল। “হয়ত এই রোগটা এখানকার সবারই আছে তবে সেটা নিয়ন্ত্রণে থাকে এই গাছের কল্যাণে। আমরা যখন এখান থেকে বের হব, আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, আমাদের সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যাম্পল আছে। এটা যে খুবই জরুরি বিষয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।”

    কেলি এড়িয়ে গেল জেনের কথা, তার দৃষ্টিতে ভর করেছে অনিশ্চয়তা। “একটা জিনিস আমাদের দৃষ্টিতে এড়িয়ে যাচ্ছে…গুরুত্বপূর্ণ কিছু” সে বলল নিচু আর শান্ত কণ্ঠে । তার কথা কেউ শুনতে পেরেছে কিনা তা নিয়ে নাথান সন্দিহান।

    “দাখি’র কাছ থেকে কোন সাহায্য পাওয়া যায় কি না দেখছি আমি,” কাউয়ি বলল । “দেখি সে এর কোন জবাব দিতে পারে কিনা পালিয়ে যাওয়াদের শেষ পরিণতি কি হয়েছিল আর এই রহস্যময় রোগের কোন চিকিৎসা আছে কিনা সে বিষয়ে।”

    “বেশ। তাহলে সবার কাজের একটা পরিকল্পনা করে ফেলা যাক,” সার্জেন্ট কসটস বলল। সে একে একে সবার দিকে ইশারা করে যার যার কাজ বুঝিয়ে দিল। “অলিন কাজ করবে জিপিএস নিয়ে। ভোরে কাউয়ি এবং আনা আমাদের দলের ইন্ডিয়ান এক্সপার্টকে নিয়ে বেরিয়ে পড়বে। তোমাদের কাজ হবে যতটা সম্ভব বেশি পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করা। ম্যানুয়েল, ক্যারেরা এবং আমি দেখব বিশেষ সেই বস্তুটা, মানে পাউডারটা কোথায় জমা আছে । জেন, নাথান এবং কেলি যাবে ফ্রাঙ্কের কাছে, তাকে প্রস্তুত রাখতে হবে যদি জরুরি ভিত্তিতে এখান থেকে চলে যেতে হয় তার জন্য । তোমরা যখন ফ্রাঙ্কের কাছে থাকবে তখন তোমাদের তিনজনের দায়িত্ব হবে ইয়াগার সেই বিশেষ আঠা সংগ্রহ করা।”

    খুব ধীরে মাথা নাড়ল সবাই। তারা যদি কিছু নাও পারে অন্তত ব্যস্ত থাকতে পারবে এই সময়টুকু, সুন্দর এই উপত্যকার ভয়ঙ্কর প্রাণীদের নিয়ে সবার দুশ্চিন্তাটা দূরে রাখতে পারবে কমবেশী ।

    উঠে দাঁড়াল কাউয়ি। “আমি তাহলে কাজ শুরু করে দেই। দাখি এখন নিচে আছে। ওর সাথে কথা বলি।”

    “আমি যাব তোমার সাথে,” বলল নাথান।

    তাদের দিকে এগিয়ে এল কেলি। “আমিও যাব, লম্বা রাত নামার আগে শেষ বারের মত দেখে আসি ওকে।” তিনজনের দলটা ঘর ছেড়ে বাইরের পাটাতন অতিক্রম করে মইয়ের কাছে এসে দাঁড়াল। সূর্য ডুবে গেছে। পশ্চিম আকাশে লাল আভা দেখা যাচ্ছে শুধু। সন্ধ্যা যেন কালো চাদরের মত ঢেকে দিচ্ছে সবুজ অরণ্যকে। নিরবতা সাথি করে তিনজনেই একে একে নামতে শুরু করল বনের মধ্যে। প্রত্যেকেই নিজস্ব চিন্তায় মগ্ন নাথান সর্বপ্রথম মই থেকে নামল, তারপর বাকিদেরকে সাহায্য করল নামার কাজে। নাথানকে দেখে এগিয়ে এল টরটর, মাথা দিয়ে একটু ঘষা দিল তার পায়ে । সে-ও প্রাণীটার কানের পাশে হাত বুলিয়ে দিল অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে। কয়েক মিটার দূরে দাখি নামের ইন্ডিয়ানটা দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ।

    কাউয়ি তার দিকে এগিয়ে গেল। কেলি তাকাল ইয়াগার দিকে, বিশাল গাছটার উপরের অংশের ডাল-পালাগুলো এখনো সূর্যের আলোয় ধুয়ে যাচ্ছে। তার সরু হয়ে যাওয়া চোখে অবিশ্বাসের আভা দেখতে পেল নাথান।

    “একটু যদি অপেক্ষা কর আমিও তোমার সাথে যাব,” বলল সে।

    মাথা ঝাকাল কেলি। “আমি ঠিক আছি। আমার কাছে রেঞ্জারদের একটি রেডিও আছে। তোমার একটু বিশ্রাম নেওয়া উচিত এখন ।”

    “কিন্তু…”

    চোখে চোখ রেখে তাকাল মেয়েটি, ক্লান্তি এবং বেদনা তার চোখে-মুখে। “বেশিক্ষণ থাকব না । মাত্র পাঁচ মিনিট একা থাকতে চাই আমার ভায়ের সাথে।”

    মাথা নেড়ে সায় দিল নাথান। কোন সন্দেহ নেই তার, ব্যান-আলি মেয়েটিকে ভেঙেচুরে দিয়েছে, কিন্তু তাকে এমন তীব্র দুঃখের মধ্যে একা থাকতে দিতে চায় না সে। প্রথমে তার একমাত্র মেয়ে, এখন তার একমাত্র ভাই.অনেক যন্ত্রণায় নিপতিত মেয়েটি। নাথানের আরও কাছে এগিয়ে এল কেলি, হাতে শক্ত করে চাপ দিল ।

    “তুমি যেতে চেয়েছ তাতেই আমি খুশি, নাথান, ধন্যবাদ তোমাকে,” ফিসফিস করে বলল সে, তারপর পা বাড়াল খোলা জায়গার দিকে।

    নাথানের পেছনে কাউয়ি এরইমধ্যে তার পাইপে আগুন জ্বালিয়েছে, কথা শুরু করে দিয়েছে দাখির সঙ্গে। টর-টরের মাথায় একটা আলতো চাপড় দিয়ে নাথান যোগ দিল তাদের সাথে।

    কাউয়ি ঘুরে তাকাল। “তোমার বাবার কোন ছবি আছে তোমার কাছে?” “ওয়ালেটের মধ্যে আছে একটা।”

    “দাখিকে একটু দেখাতে পার? তোমার বাবার সাথে ওরা চারবছর একসাথে থেকেছে, আমার মনে হয় ক্যামেরায় তোলা ছবির সাথে এই মানুষগুলো কমবেশি পরিচিত।”

    কঁধ উঁচু করে নাথান তার চামড়ার মানিব্যাগটা বের করল, সেখান থেকে তার বাবার একটা ছবি বের করুল সে। ছবিতে তার বাবা দাঁড়িয়ে আছে ইয়ানোমামের এক গ্রামে, চারপাশে সেই গ্রামের শিশুরা। কাউয়ি সেটা দাখির কাছে দিল। ইন্ডিয়ানটা মাথা নেড়ে সায় দিল ছবিটা দেখে । তার চোখ দুটে জ্বল জ্বল করে উঠল।

    “কার্ল,” ছবির উপর আঙুল বুলিয়ে বলল সে।

    “কার্ল…ঠিক বলেছ,” কাউয়ি আগ্রহী হয়ে উঠল এবার। “কি হয়েছিল ওদের?” প্রশ্নটা আবারো করল প্রফেসর ইয়ানোমামো ভাষায় দাখি সেটা বুঝল না। অবশেষে বেশ কিছু অঙ্গ ভঙ্গির মাধ্যমে তাকে বোঝানো হলে সে বুঝতে পেরে মাথা নাড়ল, সেই সাথে বেশ জটিল একটি ভাবের আদান প্রদান হলো তাদের মধ্যে।

    দাখি এবং প্রফেসর ভাষা-উপভাষার মিশেলে এত দ্রুত কথা বলতে শুরু করল যে নাথানের পক্ষে সেটা ধরতে পারা সম্ভব হল না।

    একটু বিরতির পর কাউয়ি ফিরল নাথানের দিকে। “বাকি সবাই মারা গিয়েছে, মানে মেরে ফেলা হয়েছে। শুধু জেরাল্ড অন্যদের চোখ ফাঁকি দিতে পেরেছিল। স্পেশাল ফোর্সে থাকার সময়ে তার শেখা কৌশলগুলো তাকে সাহায্য করেছিল পালাতে।”

    “আর আমার বাবা?”

    দাখি হয়তো এই শব্দটা বুঝতে পেরেছে। ধরে রাখা ছবির দিকে ঝুঁকে ভাল করে সেটা দেখল একবার তারপর চোখ তুলে তাকাল নাথানের দিকে।

    “ছেলে?” জিজ্ঞেস করল সে। “তুমি ওই মানুষের ছেলে?”

    মাথা নেড়ে সায় দিল নাথান।

    দাখি নাথানের কাধ চাপড়াল, বড় একটা হাসি ফুটে উঠল তার মুখে। “ভাল । উইশাওয়ার ছেলে।”

    নাথান ভ্রু তুলে কাউয়ির দিকে তাকাল।

    “শামান বা ওঝাকে ওরা উইশাওয়া বলে। তোমার বাবার মধ্যে আধুনিক অনেক কলাকৌশল দেখেছে ওরা, তাই হয়তো তাকে শামান হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে।”

    “কি হয়েছিল তার?”

    কাউয়ি আবারো কথা শুরু করল তার ব্যাকরনবর্জিত সহজ ইংরেজি আর ইয়ানোমামো ভাষা মিশেলে। তার দুর্বোধ্য ভাষা বুঝতে শুরু করেছে নাথান।

    “কার্ল…?” মাথা দোলাল দাখি, হাসছে গর্বের সাথে। “আমার ভাই তেশারি-রিন কার্লকে ইয়াগার কাছে ফিরিয়ে আনে, এটা ভাল।”

    “ফিরিয়ে এনেছিল?” জিজ্ঞেস করল নাথান ।

    গল্পটা শুনে গেল কাউয়ি তার কাছ থেকে। দ্রুত কথা বলছে দাখি। কিছুই বুঝল না নাথান । কথা শেষ করে ওর দিকে ফিরল কাউয়ি। তার চোখে-মুখে হতাশা।

    “কি বলল সে?”

    “যা বলল তার কাছাকাছি অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, তোমার বাবাকে নিশ্চিত ফিরিয়ে আনা হয়েছিল এখানে, জীবিত না মৃত ঠিক করে বলতে পারছি না। যেহেতু সে পালিয়ে গিয়ে অপরাধ করেছে, আবার অন্যদিকে উইশাওয়ার মর্যাদাও ছিল তার, সেজন্যে তাকে একটা বিরল সম্মান দেয়া হয় যেটা এই গোত্রের মানুষের কাছে অসম্ভব দামি।”

    “কি সেটা?”

    “তাকে ইয়াগার কাছে নেওয়া হয়, তারপর তার শরীর শেকড়ের কাছে খেতে দেওয়া হয়।”

    “শেকড়কে খেতে দেওয়া হয় মানে?”

    “আমার মনে হয় সে সার জাতীয় পদার্থের মত কিছু বুঝিয়েছে।”

    এক পা পেছনে সরে গেল নাথান। যদিও সে জানত তার বাবা মৃত তারপরও এই রূঢ় বাস্তবতা এতটাই ভয়ঙ্কর যে সহ্য করা অসম্ভ। তার বাবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাছসৃষ্ট এই ভয়ঙ্কর জৈবিক পরিবর্তনটা থামাতে চাইল কিন্তু ঘটনা শেষ হল নির্মমভাবে, তাকে নিজেই পরিণত হতে হল গাছের খাবারে পুষ্টির যোগানদাতা হিসেবে।

    কাউয়ির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা দাখি মাথা নাড়ছে আর হাসছে বোকার মত। “এটা ভাল। কার্ল ইয়াগার জন্য ভালই হয়েছে। নাশি-নার।”

    অসাড় হয়ে পড়া নাথানের জানতে চাওয়ার শক্তি নেই শেষ শব্দটার অর্থ কি, কিন্তু কাউয়ি সেটার অনুবাদ করে দিল নিজে থেকেই।

    “নাশি-নার। চিরতরের জন্যে।”

    * * * *

    রাত ৮:০৮

    জঙ্গলের অন্ধকারে অপেক্ষা করছে লুই, ইনফ্রারেড গগলসটা মাথার উপরে তোলা। এইমাত্র সূর্য অস্ত গেল, সত্যিকারের রাতে নেমে আসছে, আঁধার গ্রাস করছে এই উপত্যকাকে। সে এবং তার লোকজন কয়েক ঘণ্টা ধরে যার যার জায়গায় ঘাপটি মেরে আছে। খুব বেশি সময় হয় নি। কিন্তু সে জানে ধৈর্যশীল হতে হবে তাকে, তাড়াহুড়ো করতে গেলে আরো দেরি হয়ে যায়—এটা শেখানো হয়েছে তাকে। আর একটামাত্র অস্ত্র দরকার আক্রমণের আগে। তারই অপেক্ষায় উপুর হয়ে শুয়ে আছে সে, ঝোপঝাড়ের আড়ালে, মুখ ঢেকে আছে কালো রঙে।

    লম্বা দিনটা কেটেছে অনেক ব্যস্ততার মাঝে । আজ সকালে সূর্য ওঠার ঘণ্টাখানেক পর তার গুপ্তচরের সাথে যোগাযোগ হয়েছে। সে তখনো বেঁচে আছে ভাবতেই অবাক হয়েছিল লুই। কী কপাল! তার গোয়েন্দা তাকে জানিয়েছে, ব্যান-আলি গ্রামটা অবশ্যই আছে আর সেটা অবস্থিত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন এক উপত্যকায়, যেখানে শুধুমাত্র পৌছানো সম্ভব সামনের পাহাড়গুলোর গিরিখাদের ভেতর দিয়ে, এর চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে? তার সবগুলো টার্গেটই এক জায়গায় আছে।

    উপত্যকায় একমাত্র বাধা ছিল জাগুয়ারের দলটি। তবে তার প্রিয়তমা সুই এই বিচ্ছিরি ঝামেলাটা সামাল দিয়েছে। ভোরের অন্ধকার গায়ে চেপে সে উপত্যকার একেবারে কেন্দ্রে চলে যায়, সাথে একটা দল নিয়ে যার প্রতিটি সদস্যই বেছে বেছে নেওয়া । তাদের মধ্যে জার্মান কমান্ডো ব্রেইলও আছে। তারা সেখানে বিষ মাখানো মাংস রেখে আসে, সব মাংসই রক্ত মাখানো আর টাটকা । প্রতিটি টুকরোর সাথে ভালভাবে এক রকম ভয়ঙ্কর বিষ মাখিয়ে দিয়েছে সুই । এই বিষের না আছে কোন গন্ধ না আছে স্বাদ, তবে এতটাই তীব্র যে জিহ্বায় একটু লাগলেও মৃত্যু অবধারিত। দলটা ওখানে গিয়ে রেঞ্জারব্দের আক্রান্ত হবার চিহ্ন দেখে বুঝতে পারে, রক্তের ক্ষুধা কতটা তীব্র এই জাগুয়ারগুলোর। হিংস্র মানুষগুলোরও কষ্ট হয়েছে এটা সহ্য করতে। ভোরের প্রথম অংটুকুজুড়ে এই দৈত্যাকার প্রাণীগুলো এখানে সেখান ঢলে পড়েছে, ওগুলো আর জেগে উঠবে না। অল্প কয়েকটা জাগুয়ার সন্দেহবশত খাওয়া থেকে দূরে ছিল, কিন্তু ইনফ্রারেড গগল্স চোখে দিয়ে সুই এবং তার লোকজন সেগুলোও শেষ করে দিয়েছে, অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে এয়ার-গান, যার প্রতিটা গুলিতে বিষ মাখানো । সব কিছু শান্তভাবেই শেষ হয়েছে। বাধাহীন পথে লুই তার দলবল নিয়ে পৌছে গেছে ব্যানআলিদের সীমানার একেবারে কাছাকাছি। সবাই প্রস্তুত যার যার অবস্থানে থেকে। তবে শেষ একটা জিনিসের প্রয়োজন তার-তাকে ধৈর্যশীল হতে হবে। কোন তাড়াহুড়ো করা যাবেনা ।

    অবশেষে জঙ্গলের ভেতর নড়াচড়া চোখে পড়ল তার। ইনফ্রারেড গগসের ভেতর দিয়ে অবয়ব দুটোকে লাগছে ঝুলে থাকা টর্চের মত । তারা চুপচাপ সামনে দিয়ে চলে গেল । আজ সকালে লুই তার কয়েকজন লোককে জঙ্গলের একেবারে প্রান্তে প্রস্তুত রেখেছে। যদি কোন ইন্ডিয়ান তাদের পিছু ধাওয়া করে তবে তাদের ঠাণ্ডা করার দায়িত্ব সভ্য জগতের অসভ্য মানুষগুলোর । কিন্তু ব্যান-আলিদের কেউই কোন রকম আগ্রহ দেখাল না অন্য কোন বিষয়ে। খুব সম্ভবত তাদের সবার মনোযোগ এখন নিজেদের গ্রামে আগত নতুন মানুষগুলোকে ঘিরে, আর সাথে তো এই আত্মবিশ্বাস আছেই, জাগুয়ারের দলটা সবরকম বহিরাগতদেরই আটকে দেবে। আজ আর তেমনটা হচ্ছে না, বাবারা। তোমাদের ঐ পুঁচকে জাগুয়ারের দল থেকেও পরভুক কিছুর আগমন ঘটেছে আজ তোমাদের রাজ্যে। একটু নিচু দিয়ে ঘুরঘুর করতে থাকল মানুষ দু-জন। গগলস নামিয়ে ফেলল লুই এক মুহূর্তের জন্য। যদিও সে জানে, মানুষ দু-জন খুব কাছেই ঘুর ঘুর করছে কিন্তু তাদের কালো রঙের কেমোফ্লেজটা এতই নিখুঁত হয়েছে যে, খালি চোখে তাদেরকে সনাক্ত করতে পারছে না লুই। গগলসটা আবারো পরে নিয়ে হাসল সে। অবয়ব দুটো চলে যাচ্ছে দূরে।

    আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময় কিছুই জানে না ব্যান-আলিরা।

    এক মুহূর্ত পরেই মানুষ দু-জন জঙ্গলের একেবারে প্রান্তে চলে গেল। তাদেরকে একটু হতবুদ্ধিকর দেখাচ্ছে। ওরা বিপদের কোন গন্ধ আঁচ করতে পেরেছ নাকি? জাগুয়ারগুলোর ওপর পুরো আস্থা রাখতে পারছে না? দম বন্ধ করে রাখল লুই। ধীরে ধীরে মানুষ দু-জন হারিয়ে গেল জঙ্গলের ভেতরে, রাতের টহল দেবার জন্য প্রস্তুত তারা।

    অবশেষে রাত নামছে তাহলে।

    নতুন একটা জ্বলজ্বলে অবয়বের উদ্ভব হল, ওটা এগিয়ে গেল ইন্ডিয়ান দুটোর পথ ধরে। লম্বা অবয়বটিকে বেশি উজ্জ্বল দেখাচ্ছে বাকি দু-জন থেকে। গগল্‌স নামাল লুই। নতুন অবয়বটি তার মিসট্রেস সুইয়ের। বিবসনা দেহ। কালো চুলগুলো রুপালী ঝরনার মত ঢেউ খেলে নেমে গেছে নিতম্ব অবধি । সে একেবারে নিঃশব্দে ইন্ডিয়ান দুটোর সব ইন্দ্রিয় ফাকি দিয়ে এগিয়ে গেল তাদের দিকে, বন-দেবী জেগে উঠেছে যেন তার ঘুম থেকে।

    বিস্ময়ে জমে গেল মানুষ দু-জন। কাছের ঝোপ থেকে একটা কাশির শব্দ এল । একটা ইন্ডিয়ান গলায় হাত চাপড়াল দ্রুত তারপরই লুটিয়ে পড় মাটিতে। তাকে ছোঁড়া কাঁটাগুলো এমন বিষাক্ত যে আধ-টন ওজনের জাগুয়ারও ঘায়েল হয়ে যায় নিমিষে। মানুষটার মাথা পাথুরে মাটি স্পর্শ করার আগেই মরল । অন্য ইন্ডিয়নটি হাঁ করে তাকিয়ে থাকল এক মুহূর্ত, তারপর দিল দৌড় দ্রুতগতিতে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে সর্পিল পথে । কিন্তু লুইর সঙ্গিনী আরও গতিশীল, রক্তে আরও বেশি উত্তেজনা আর হিংস্রতা অনেক ভয়াবহ। একেবারে চেষ্টা ছাড়াই সে ইন্ডিয়নটার পথ আগলে দাঁড়াল। মানুষটা ভয়ে হোক আর সতর্ক করার জন্য হোক চিৎকার দিতে চাইল মুখ দিয়ে, কিন্তু মেয়েটির ক্ষিপ্রতা বাধ সাধল আবারো । একটা হাত ছুড়ে দিল সুই লোকটার মুখের দিকে। মুহুর্তেই হাতের ভেতর থাকা পাউডার ছিটকে গিয়ে পড়ল তার চোখে আর খোলা মুখে। ঝাঁকুনি দিয়ে কেশে উঠল সে। চিৎকার পরিণত হল গড়গড় শব্দে। পাউডারটা শরীরে প্রবেশ করতেই লোকটি হাটু ভেঙে মাটিতে পড়ে গেল। ভাবলেশহীন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সুই। মাটিতে ভাল করে শুয়ে পড়ার পর সুই তার শিকারের পাশে বসে পড়ল, তারপর তাকাল লুইর লুকিয়ে থাকা জায়গার দিকে, ঠোঁটের কোণায় ফুটে উঠল ভৌতিক এক হাসি।

    উঠে দাঁড়াল লুই। ধাঁধার চূড়ান্ত অংশ এখন পেয়ে গেছে তারা, ইন্ডিয়ানদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী তা সুইয়ের দলের কাছ থেকে জানতে পারবে এবার। সব কিছু প্রস্তুত এখন, অপেক্ষা শুধু আগামীকালের আক্রমণের জন্য।

    * * * *

    রাত ৯:২৩

    কেলি তার ভায়ের হ্যামোকের পাশে আসন গেড়ে বসে আছে। মোটা একটা কম্বলে পেঁচানো ফ্রাঙ্ক খড়ের নল মুখে দিয়ে তরমুজ আকৃতির একটা অর্ধগোলাকার বাদামের খোলস থেকে সাদা এক রকম তরল টেনে নিচ্ছে মুখে। কেলি ফলটা চিনতে পারল । ইয়াগার কয়েকটা শাখায় এমন ফল ঝুলতে দেখেছে। খোলসের ভেতরে তরলটা দেখতে নারকেলের দুধের মত । সে একবার এটা চেখেও দেখেছে যখন তার ভাইকে প্রথম এখানে আনা হয়েছিল, এক ইন্ডিয়ান তার ভাইকে খাবার জন্য দিয়েছিল ওটা। খেতে মিষ্টি স্বাদের আর প্রচুর চর্বিও আছে তাতে, শক্তি ফিরে পেতে তার ভায়ের ঠিক যেমনটা দরকার।

    সে তার ভায়ের এই প্রাকৃতিক পানীয়টা খাওয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল, পাত্রটা ফিরিয়ে দেবার সময় কেলি ওটা নিতে গিয়ে লক্ষ্য করল তার ভায়ের হাতটা মৃদু কাঁপছে। যদিও জেগে আছে তবু চোখ দুটোতে মরফিনের প্রভাবে নেশাগ্রস্ত ভাব দেখা গেল।

    “এখন কেমন লাগছে তোমার?” জিজ্ঞেস করল কেলি।

    “যেন একজন কোটিপতি হয়ে গেছি,” বলল সে জড়ানো কণ্ঠে।

    চোখের ইশারায় কম্বলে ঢেকে রাখা আহত পা দুটোর দিকে দেখাল। “এখন কেমন ব্যাথা করছে?”

    ভ্রু নাচাল সে। “কোন ব্যাথা নেই,” একটু হেসে বলল, তার হাসি বেশ সজীব। “সত্যি বলতে, মনে হচ্ছে যেন আমার পায়ের গোড়ালি চুলকাচ্ছে।”

    “একে বলে ফ্যান্টম সেনসেশন, বুঝতে পেরেছ?” বলল কেলি। “মনে হবে চুলকাচ্ছে কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। মনে হয় কয়েক মাস এমন চলবে তোমার।”

    “বাহ, চুলকানি থাকবে কিন্তু কোনদিন তা চুলকাতে পারব না…ভালই।”

    ভায়ের দিকে তাকিয়ে একটু হাসল কেলি। পরিত্রাণের অভিব্যক্তির সাথে মিশে আছে ক্লান্তি আর তার ভেতরে জমে থাকা ভয়ের অনুভূতি। এসবই যেন প্রতিফলিত হল তার ভায়ের অভিব্যক্তিতেও। তবে চোখমুখের ফ্যাকাশে ভাবটা কেটে গেছে অনেকটাই। যে অবস্থা ছিল প্রথমে সেটা বিবেচনা করলে ইয়াগার আঠাকে সমীহ করতেই হবে কেলিকে।

    এর কল্যাণেই তার ভায়ের জীবনটা বেঁচেছে। আর সুস্থ হওয়ার হারটাও বেশ দ্রুতই হচ্ছে।

    হঠাৎ একটা হাই তুলল ফ্রাঙ্ক, একেবারে সুস্থ মানুষের মত, খুব মিষ্টি লাগল শুনতে ।

    “তোমার ঘুমানো দরকার, উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল সে। “অলৌকিকভাবে আরোগ্য হোক না হোক, দেহের ব্যাটারিগুলোর চার্জ দরকার। চারপাশে চোখ বুলাতে বুলাতে শার্টটা গায়ে জড়াল। গুহার মত ঘরটাতে দু-জন মাত্র ইন্ডিয়ান অবশিষ্ট আছে। তাদের একজন প্রধান শামান, যে তার দিকে তাকিয়ে আছে অধৈর্যের দৃষ্টিতে । রাতটা ভায়ের পাশেই কাটাতে চেয়েছিল কেলি, কিন্তু শামান রাজি হয় নি। সে এবং তার সহকারীরা ভাঙা ভাঙা ইংরেজি দিয়ে কেলিকে বুঝিয়েছে, তারা তাদের নতুন এই ভাইটাকে ঠিকঠাক দেখে-শুনে রাখবে।

    “ইয়াগা ওকে বাঁচিয়ে রাখবে,” শামান বলেছিল তাকে।

    একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল কেলি। “আমাকে এখান থেকে ঘাড় ধরে বের করে দেবার আগেই বরং যাই আমি।”

    আবারো হাই তুলে মাথা নাড়ল ফ্রাঙ্ক। কেলি এরইমধ্যে তাকে আগামীকালের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়েছে, বলেছে কাল সকালেই তার সাথে আবার দেখা হচ্ছে। হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে হাত ধরল ফ্রাঙ্ক।“বোন আমার…অনেক ভালবাসি তোমাকে।”

    সে ঝুঁকে গিয়ে তার কপোলে একটা চুমু দিল। “তোমাকে অনেক ভালবাসি, ফ্রাঙ্ক।”

    “ঠিক হয়ে যাব আমি…জেসিও ঠিক হয়ে যাবে।”

    সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঠোট কামড়ে ধরল কেলি, হঠাৎ করে ঠেলে আসা কান্না থামাতে । কোনভাবেই তার ভেতরের অনুভূতিগুলো বাইরে আনতে চায় না ফ্রাঙ্কের সামনে। তার সাহস হল না এমন করতে, তার কান্না হয়তো থামাতেই পারবো না পরে । গত কয়েক দিন ধরে জমা দুঃখগুলো এক জায়গায় শক্ত করে বেঁধে রেখেছে সে। এটা ওব্রেইনদের সহজাত বৈশিষ্ট্য। কঠিন বিপদের মুখেও ইস্পাতের মত অটল থাকে আইরিশরা । কান্নায় ভেঙে পড়ার সময় এখন নয়। নিজেকে সে ব্যস্ত রাখল ফ্রাঙ্কের শরীরে লাগানো পাইপগুলো পরীক্ষার কাজে। এখন শরীরে খাবার ঢোকানো নলটাও যুক্ত করা হয়েছে। যদিও বাইরে থেকে কোন বল-বৃদ্ধিকারী তরল দেবার প্রয়োজন নেই তার। তবু ক্যাথেটার নলগুলো প্রস্তুত রাখল জরুরি প্রয়োজনের কথা ভেবে। শামানটি এখনো কেলির দিকে ভ্রু কুচকে অকিয়ে আছে, তার কাজ-কর্ম দেখছে বিরক্তির সাথে দুই শালার বটু, মর! মনে মনে রাগ ঝাড়ল কেলি। আমার যখন ইচ্ছে আমি যাব তাতে তোর কি?

    ফ্রাঙ্কের পায়ের ওপর থেকে কম্বল সরালো সে শেষবারের মত ক্ষতস্থানগুলো পরীক্ষা করতে। আঠাটা আগের মতই মজবুতভাবে আটকে আছে কাটা অংশে। শুধু তাই নয়, অর্ধ-স্বচ্ছ আঠার ভেতর দিয়ে স্পষ্ট দেখা গেল ক্ষতস্থানজুড়ে নতুন কোষের একটা আস্তরণ এরই মাঝে তৈরি হয়েছে, ঠিক পুরনো খোলসের অন্তরালে নতুন কোষ তৈরি হবার মতন ।

    আর যে দ্রুত হারে এটা বাড়ছে তা আসলেই বিস্ময়কর। কম্বলটা দিয়ে আবারো ঢেকে দিয়ে সে দেখল তার ভায়ের চোখ জোড়া এরই মাঝে বুজে গিয়েছে। খোলা মুখ থেকে একটু নাক ডাকার শব্দও আসছে। সে খুব সাবধানে ঝুঁকে তার অন্যগালে চুমু খেল। আবারো তার কান্না বেরিয়ে আসতে চাইল কিন্তু খুব কষ্টে চেপে রাখল তা। তবে চোখের অশ্রু ধরে রাখতে পারল না। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে চোখ মুছে ঘরের চারপাশটা ভাল করে দেখে নিল আরেক বার । শামান নিশ্চয় কেলির অশ্রুভেজা মুখটা দেখেছে। অধৈর্যে কুঁচকে থাকা ভ্রু এখন স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে সহানুভূতিতে। মাথা নাড়ল সে কেলির দিকে তাকিয়ে। চোখ দুটোতে আশ্বস্ত করার আভাস। যেন আবারো মনে করে দিচ্ছে একটা নিরব নিশ্চয়তার কথা, সে তার ভাইকে ভাল করে দেখে রাখবে। অনিচ্ছার সাথেই গভীর করে দম নিয়ে বের হল সে। তার মনে হল, গাছ থেকে বাইরে বেরুবার পথটুকু যেন আর ফুরায় না । আঁধারে ঘেরা পথটায় সম্পূর্ন একা, সঙ্গী বলতে তার ভাবনাগুলো । দুশ্চিন্তার পরিধি আরও বিন্যস্ত, আরও বহুগুনে বেশি এখন। স্বভাবতই তার সকল ভয় ঘুরপাক খাচ্ছে ভাই, কন্যা আর বাকি জগতের মধ্যে।

    অবশেষে গাছের সুড়ঙ্গ থেকে বাইরের খোলা জমিতে বেরিয়ে এল সে। শেষ বিকেলের মিষ্টি হওয়া বইছে চারপাশে, তবে যথেষ্ট উষ্ণ সেটা । চাঁদটা মাথার ওপর রুপালী আলো ছড়াতে শুরু করেছে কিন্তু ঘন মেঘ তা বাধা দিতে দিতে ঢেকে দিচ্ছে দূর আকাশের তারাগুলোকেও। দূর হতে মেঘের গর্জন ভেসে এল । সকালের আগেই বৃষ্টি নামতে পারে । নির্মল বাতাস ঠেলে দ্রুত হেটে গেল তাদের জন্য নির্ধারিত গাছটির দিকে। গাছের নিচে ফ্লাশ-লাইট হাতে পাহারায় দিচ্ছে ক্যারেরা, রেঞ্জারটা আলো ফেলল কেলির দিকে । তারপর চিনতে পেরে হাত উঁচু করে সংকেত দিল। তার পাশে গুটিসুটি মেরে বসে আছে টর-টর। কেলি আরও একটু কাছে আসতেই মাথা উঁচু করে বাতাসে ঘ্রাণ নিল জাগুয়ারটা, তারপর আবারো নামিয়ে নিল মাথাটা।

    “ফ্রাঙ্কের কি অবস্থা?” জিজ্ঞেস কক্সল ক্যারেরা।

    কথা বলার কোন ইচ্ছে তার নেই তবু এই রেঞ্জারের দুশ্চিন্তাটা এড়িয়ে যেতে পারে না সে। “আগের থেকে অনেক ভাল, অনেক ভাল।”

    – “যাক, ভাল খবর,” সে বুড়ো-আঙুল দিয়ে মইয়ের দিকে দেখাল। “যতটা পারো ঘুমিয়ে নেয়া উচিত তোমার, সামনে লম্বা একটা দিন, অনেক ঝক্কি পোহাতে হবে।” মাথা নাড়ল কেলি, যদিও তার সন্দেহ হচ্ছে, ঘুমাতে পারবে কিনা, তারপরও মইয়ের ধাপে পা রাখল সে।

    “তৃতীয় লেভেলে একটা আলাদা রুম রাখা হয়েছে তোমার জন্য । ওটা ডানদিকে ।”

    খুব সামান্যই শুনল কেলি। “গুড নাইট,” বিড়বিড় করে বলে মই বেয়ে উঠে গেল সে । কোন কিছুই তার মনোযোগ কাড়তে পারছে না এখন, ডুবে আছে নিজের দুশ্চিন্তার মাঝে । মই থেকে তৃতীয় তলায় পা রেখেই কেলি বুঝল এই লেভেলটা একেবারেই খালি, কেউ নেই। ঠিক কমন রুমের মত । সবাই হয়তো নিজ নিজ ঘরে চলে গেছে এতক্ষণে।

    ক্লান্তিকর দিন পার হয়েছে সবার, চোখের পাতা এক করতে পারে নি কেউই। একটু ঝুঁকে আরও ওপরের ঘরগুলোর দিকে তাকাল, তারপর নিজের ঘরে যাবার জন্য দ্বিতীয় মই দুটোতে পা রাখতেই ক্যারেরার কথাটা মনে পড়ল তার ।

    দারুণ…একেবারে শেষে এসে থাকার জায়গা দাবি করলে যা হয় আর কি, তবে তৃতীয় লেভেলটা বেশ ভালই হয়েছে বাকি লেভেল দুটোর তুলনায়। খুব উঁচু ডালের ওপর কাঠামোটা দাঁড়িয়ে আছে, মূল কাঠামো থেকে আলাদা। দেখতে দুই রুমের গেস্ট হাউসের মত । পা ব্যাথা শুরু হয়েছে কেলির, পরের মইগুলোর ধাপ বেয়ে উঠছে সে। বাতাসের একটা ঝাপটা তাকে নাড়িয়ে দিয়ে গেল, আরও একটু ওপরে উঠতেই ডালগুলো মড়মড় করে উঠল, সামান্য দুলে উঠল মইটাও। দমকা বাতাসে বৃষ্টির গন্ধ। চাঁদটাও এতক্ষণে চলে গেছে ঘন মেঘের আড়ালে । দ্রুত হাত পা চালিয়ে ওপরে উঠে গেল ঝড়-বর্ষা আসার আগেই। অনেক ওপর থেকে, কেলি বহুদূর অবধি দেখতে পেল বিজলির আলোয় । মেঘের গর্জনগুলো ধ্বনিতে হচ্ছে, যেন ড্রাম বাজছে বিভিন্ন দিকে। হঠাই তার মনে হল এমন ঝড়-বাদলের সময় এরকম উঁচু কোন গাছ মোটেই নিরাপদ নয় থাকার জন্য । আর সবচেয়ে ওপরের তলা তো আরও বেশি বিপজ্জনক ।

    বৃষ্টির প্রথম ফোটাগুলো পাতার ওপর পড়া শুরু করতেই আরও দ্রুত করল কেলি । ছোট পাটাতনের কাছে পৌছেই হামাগুড়ি দিয়ে ঠেলে উঠল সেখানে। বাতাসের ঝাপটা দেখতে দেখতে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আমাজনের ঝড়গুলো সাধারণত স্বল্পকালীন হয়, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো অনেকটা হুট করে এসে পড়ে, আর মারাত্মক তো হয়-ই। এটাও যে ব্যতিক্রম হবে না তা বোঝাই যাচ্ছে। সোজা হয়ে দাঁড়াবার আগেই দরজাটা চোখে পড়ল তার, যেটা এই লেভেলের কক্ষগুলোতে যাবার পথকে সংযুক্ত করেছে।

    ক্যারেরা কোন্ রুমের কথা বলেছিল তাকে?

    মাথার উপর বিদ্যুৎ চমকে উঠল, সাথে গর্জন করল মেঘ । হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হল ঝুপ করে, বাতাসেও বৃষ্টির ঝাপটা তীব্র মাত্রায়। পায়ের নিচের কাঠের পাটাতন চলমান জাহাজের পাটাতনের মত দুলে উঠল । ওর নড়াচড়ার শব্দে কার ঘুম ভাঙে না ভাঙে সেটা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা না ঘামিয়ে কোনমতে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল সে। আগে জান বঁচনো দরকার।

    ঘরের ভেতরটা অন্ধকার। বিদ্যুৎ চমকাল বাইরে, আর সে আলোতেই দেখা গেল ঘরের পেছনের দরজা পর্যন্ত, একটা হ্যামোক ঝুলছে সৌভাগ্যবশত ওটা খালি । তাহলে ঠিক সময়েই এসেছে। খুশি মনেই পা বাড়াল ওটার দিকে। হ্যামোকের দিকে এগিয়ে যেতেই অন্ধকার কিছু একটা বাধল তার পায়ে, প্রায় ভারসাম্য হারানোর মত অবস্থা হল । সামলে নিতে গিয়ে হাটু ভেঙে পড়ে গেল। আঙুলে ভর দিয়ে উঠতে গিয়ে ব্যাগের মত কিছু একটা ঠেকল তার হাতে, মেঝেতে পড়ে আছে ওটা।

    “কে ওখানে?” একটা কণ্ঠ ভেসে এল পেছনের দরজার ওপাশ দিয়ে। অন্ধকার একটা অবয়ব আবির্ভূত হল দরজার কাছে। এখনো সোজা হতে পারেনি কেলি, একটা গভীর আতঙ্ক বয়ে গেল ভেতর দিয়ে। মেঘের গর্জন ধ্বনিত হল, আবারো বিদ্যৎ-চমক আলো ছড়িয়ে দিল ঘরের ভেতর। এক মুহুর্তে মিলিয়ে যাওয়া সে আলো চিনিয়ে দিল গাঢ় অন্ধকার অবয়বটাকে। নাথান?” জিজ্ঞেস করল সে ভীতসন্ত্রস্ত আর কিছুটা বিব্রত। “আমি কেলি।”

    মানুষটি এগিয়ে এসে তাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করল । “তুমি এখানে কি করছ?”

    মুখের সাথে লেগে থাকা ভেঁজা চুলগুলো সরাল কেলি, ভয়ের শীতলতা উবে গিয়ে উষ্ণতায় পুড়ছে তার শরীর। আমায় কত নির্বোধ মনে করল ছেলেটা, ভাবল সে।

    “আমি..আমি ভুল রুমে এসে পড়েছি, দুঃখিত।”

    “তুমি ঠিক আছ?” তার হাত দুটো এখনো ধরে আছে নাথান, হাতের তালু দিয়ে উষ্ণতা যেন ছড়িয়ে পড়ছে ভেঁজা শার্ট জড়ানো গায়ে।

    “আমি ঠিক আছি। আসলে…খুব লজ্জা লাগছে নিজের কাছে।”

    “এটার কোন কারণই দেখছি না। এখানে তো প্রায় অন্ধকার ।” আবারো বিদ্যুৎ চমকালে কেলি আবিষ্কার করল নাথানের চোখ দুটো তার উপরে নিবদ্ধ। পূর্ণ নীরবতায় একে অপরের দিকে চেয়ে আছে তারা।

    অবশেষে নিরবতা ভাঙল নাথান। “ফ্রাঙ্ক কেমন আছে?”

    “ভাল,” ফিসফিসিয়ে বলল সে। বজ্রধ্বনি ভেসে এল দূর থেকে, এগিয়ে আসছে যেন আরও তীব্রভাবে তাদের দিকে। চারপাশের জগৎটাকে কেমন যেন মনে হচ্ছে। তার কণ্ঠ এখন ফিসফিসানিতে পরিণত হল। “আমি.. আমি তোমায় কখনো বলতে পারি নি…আমি আসলে অনেক কষ্ট পেয়েছি তোমার বাবার কথা শুনে…আমি সরি, নাথান ।”

    “না, ঠিক আছে, ধন্যবাদ । ছোট্ট কথাগুলো কোমলভাবে ধ্বনিত হল। এক পা এগিয়ে গেল সে নাথানের দিকে নিজের অজান্তেই । সে যেন এক প্রজাপতি, ছুটে যাচ্ছে আগুনের দিকে, ঝলসে যাবে জানে কিন্তু ফেরার পথ নেই। তার ভেতরের অনুভূতিকে জাগিয়ে দিয়েছে নাখানের কষ্টগুলো । হৃৎপিণ্ড ঘিরে থাকা বুকের পাঁজরগুলো যেন ভেঙে আসতে চাইছে দূর্বল হয়ে। অশ্রু এসে আবারো জমতে শুরু করেছে চোখে। ফুপিয়ে কান্না চলে এল এবার।

    “শান্ত হও, কেলিকে বলল নাথান । তাকে টেনে নিজের দিকে নিল সে। বাহু দিয়ে জড়িয়ে ধরল ওকে।

    কম্পনগুলো এবার রুপ নিল পূর্ণ মাত্রার কান্নায় পুরো শরীরে ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল। বুকে জমিয়ে রাখা এত দিনের কষ্ট-আতঙ্ক সব যেন গর্জন দিয়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। শক্তি হারিয়ে পড়ে যাচ্ছিল সে কিন্তু নাথান তাকে শক্ত করে ধরে ফেলল। তারপর আলতো করে বসিয়ে দিল মেঝের ওপর। শক্ত করে ধরে আছে মেয়েটাকে, দুজনের হৃৎপিণ্ড খুব কাছাকাছি। স্পন্দিত হচ্ছে দুই দেয়ালের দু-পাশে।

    ঘরের মাঝখানে এখানেই কয়েক মুহূর্ত অতিবাহিত হল তাদের, আর বাইরে বয়ে চলেছে ঝড়, গাছগুলো দুলছে, যেন যুদ্ধ করছে একে অপরের সাথে সমান শক্তি নিয়ে। আরও কিছুক্ষণ পর সে মাথা তুলে তাকাল নাথানের দিকে।

    নিজেকে একটু ওপরে তুলে ধরে তার ঠোটে ঠোট রাখল সে । নোনতা স্বাদ টের পেল। এত কাছাকাছি তারা যে, উভয়ের চোখের জল এক হয়ে গেছে এখন। দুঃখ ঢাকতে কাঁদতে শুরু করলেও সেখানে এখন জায়গা করে নিচ্ছে অন্য এক ক্ষুধা। হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল দ্রুত।

    “কেলি,..”

    “কথা বল না, প্লিজ!” ফিসফিস করে বলল সে, তারপর আরও জোরে টেনে নিল তাকে নিজের দিকে। ওদিকে বাইরেও ঝড়ের গতি বেড়েই চলেছে, একেকটা গাছ যেন আছড়ে পড়তে চাইছে আরেকটার ওপর। বড় বড় ডালগুলো মটমট শব্দ করছে চারদিকে। বিদ্যুতের ঝলকানি ভাসিয়ে দিয়ে যাচ্ছে সব কিছু তীব্র আলোয়। সব মিলিয়ে এক পরিপূর্ণ ঝড়ের রাত। আর সেই ঝড় শুধু বাইরেই হচ্ছে না, বয়ে চলছে নাথান আর কেলির ছোট্ট ঘরের মধ্যেও। একে অপরকে ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে দু-জন, পেছনের সব কষ্ট, ক্লান্তি, ভয় ভুলে । কোন বাধাই আর বাধা মনে হচ্ছে না তাদের কাছে। পরিণতির কথা ভুলে প্রণয়ের অশান্ত ঝড়ে ডুবে গেল তারা। সময় যেন থমকে গেছে, আর তার মাঝে ছুটে চলেছে দু-জন । হারিয়ে গেল পৃথিবীর সব ভাবনা থেকে, হারিয়ে গেল ঝড়ের হুংকার থেকেও, তবে হারাল না শুধু একে অপরের কাছ থেকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    Related Articles

    জেমস রোলিন্স

    ব্ল্যাক অর্ডার (সিগমা ফোর্স – ৩) – জেমস রোলিন্স

    August 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }