Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    জেমস রোলিন্স এক পাতা গল্প700 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আমাজনিয়া – ৫

    স্টেম সেল রিসার্চ আগস্ট ৭,

    বিকেল ৫:৩২ ইন্সটার ইন্সটিটিউট,

    ল্যাঙ্গলে, ভার্জিনিয়া

    লরেন ওব্রেইন তার মাইক্রোস্কোপে চোখ লাগিয়ে ঝুঁকে আছে। এমন সময় কলটা এল মর্গ থেকে । “ধ্যাত্!” কাজে বাধা পড়ায় বিরক্ত হল সে । কপালে লাগানো রিডিং গ্লাসটা নাকের ডগায় নামিয়ে আনতে আনতে সোজা হয়ে দাঁড়াল, তারপর অন করল স্পিকার।

    “হিস্টলজি থেকে বলছি,” বলল সে।

    “ডা, ওব্রেইন, আমার মনে হয় এখানে একবার আসা দরকার আপনার,” কণ্ঠটা স্ট্যানলি হিবার্টের । জন হপকিনস হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্যাথলজিস্ট এবং এমইডিইএ-র সহকর্মী । জেরাল্ড ক্লার্কের ময়নাতদন্তের কাজে পরামর্শ দেয়ার জন্য আনা হয়েছে তাকে। “আমি কিছুটা ব্যস্ত রয়েছি টিস্যুর স্যাম্পল নিয়ে। এইমাত্র ওগুলোর রিভিউ করা শুরু করেছি।”

    “মুখের ক্ষতস্থান নিয়ে কাজ করছ, ঠিক?” শ্বাস ফেলল লরেন ।

    “তোমার অনুমান ঠিক আছে। স্কুয়েইমাস টিস্যু ক্যান্সার। উচ্চমাত্রায় কোষ বিভাজন হওয়ার ছড়িয়েছে চরম মাত্রায় । আমি এটাকে টাইপ-ওয়ান শ্রেণীতেই ফেলবো। আমার দেখা সবচেয়ে খারাপ ম্যালিগন্যানসিগুলোর একটি।”

    “তাহলে লোকটার জিহ্বা কাটা হয় নি, ক্যান্সারে খেয়ে নিয়েছে।”

    ভয়ের একটি কম্পন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়লেও দৃঢ়তার সাথে তা চেপে রাখল লরেন। তার পেশার সাথে এমন আচরণ যায় না। মৃত লোকটির সারা মুখে টিউমারে ভরা। জিহ্বাটা ছোট্ট একটা নরম রক্তের পিণ্ডের চেয়ে বেশি বড় হবে না। কারসিনোমা ক্যান্সারে খেয়ে নিয়েছে পুরোটা । রোগের উপস্থিতি শুধু তার মুখের ভেতরেই নয়, পোস্টমর্টেমের সময় তার সারা শরীরে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সার সনাক্ত সুয়েছে, ফুসফুস, কিডনি, লিভার, প্লিহা, প্যানক্রিয়াস সবকিছুই ক্যান্সারে ছেয়ে আছে।হিস্টলজি ল্যাবের জন্য প্রস্তুত করে রাখা সারি সারি স্লাইডগুলোর দিকে তাকাল লরেন। প্রত্যেকটা স্লাইডে রয়েছে বিভিন্ন রকম টিউমারের অংশবিশেষ অথবা অস্থিমজ্জা।

    “মুখের ঐ বিদঘুটে ক্যান্সারের বয়স কত তা বোঝা গেল?” জিজ্ঞেস করল প্যাথলজিস্ট।

    “নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন তবে আমার মনেহয় ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে এটা শুরু হয়েছে।”

    একটা শিষ দেয়ার মত শব্দ ভেসে এল ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে। “ভয়ঙ্কর দ্রুতগতি!”

    “হুম । এখন পর্যন্ত যতগুলো স্লাইড আমি রিভিউ করেছি তার বেশিরভাগই ঐ একই পর্যায়ের। মানে উচ্চপর্যায়ের ক্যান্সার দেখাচ্ছে। এমন একটা ক্যান্সারও এখন পর্যন্ত পাইনি যেটার বয়স তিন মাসের বেশি।” সামনে রাখা কিছু স্লাইডে হাত বুলালো সে। “অবশ্য এখনও কিছু স্লাইড দেখা বাকি আছে।”

    “টেরাটোমা টিউমারগুলোর কি অবস্থা?”

    “ঐ একই। সবগুলোই এক থেকে তিন মাসের মধ্যে, কিন্তু

    বাধা দিল ডা, হিবার্ট, “মাই গড়, এর আগাগোড়া তো কিছুই বুঝতে পারছি না। একই দেহে এত রকম ক্যান্সার আমি জীবনে দেখি নি, বিশেষ করে এই টেরাটোমাস।”

    ফোনের অপর প্রান্তের মানুষটার উৎকণ্ঠার কারণ বুঝতে পারল লরেন। টেরাটোমা হল পুঁজভরা টিউমার যেগুলো শরীরের ভ্রূণ কোষের অংশ, আর এই বিরল প্রজাতির আক্রান্ত কোষগুলো শরীরের যেকোন ধরণের টিসু, পেশী, চুল এবং হাঁড়ের ভেতর পরিপক্ক হতে পারে। এসব কোষের টিউমারগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গ যেমন থাইমাস অথবা টেসটিসের ভেতরে দেখা যায়, কিন্তু জোরাল্ড ক্লার্কের সারা শরীর জুড়েই এগুলো ছেয়ে আছে যা নিশ্চিতভাবেই অন্য কিছুকে নির্দেশ করে।

    “স্ট্যানলি, এগুলো শুধুমাত্র টেরাটোমাস নয়, এরা টেরাটোকারসিনোমাস।”

    “কি বললে? সবগুলোই?”

    মাথা নেড়ে সায় দিল সে, সাথে সাথে বুঝতে পারল ফোনের অপরপ্রান্তে যে আছে সে এটা দেখছে না । “ওগুলোর প্রত্যেকটাই।” টেরাটোমা ক্যান্সারে রূপ নিয়ে চরম অবস্থায় পৌছালে সেটা হয় টেরাটোকারসিনোমাস। বুনো জাতের এই ক্যান্সার মাংসপেশী, চুল, দাঁত হাঁড় এবং স্নায়ুতে শাখা-প্রশাখা ছড়ায়। “এ-ধরনের স্যাম্পল আগে দেখি নি কখনো। লোকটার লিভার, অণ্ডকোষ এমনকি স্নায়ুগ্রন্থিও আক্রান্ত হয়েছে এই ক্যান্সারে।”

    “তাহলে তো এটা আমার এখানের ঘটনাকে ভালই ব্যাখ্যা করতে পারবে,” বলল স্ট্যানলি ।

    “কি বলছ, বুঝলাম না?” “তোমাকে ফোন দিয়ে তাই তো বললাম, এখানে আসার কথা। এক্ষুনি চলে এস।”

    “ঠিক আছে,”বিরক্তিভরা একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল সে। “আসছি

    ফোনটা রেখে মাইক্রোস্কোপ টেবিল ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল্ লরেন। দু-ঘণ্টা ধরে টানা কাজ করে ঘাড়ের উপর দ্বিধা-দ্বন্দের যে পাহাড় জমেছে তা থেকে মুক্তি পেল যেন। সে একবার ভাবল তার স্বামীকে ডাকবে কিনা কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ল সে এখন নিশ্চয় সিআইএ’র হেডকোয়ার্টারে ব্যস্ত। তারচেয়ে বরং ফ্রাঙ্ক ও কেলির সাথে স্টেটসের কনফারেন্সের পরই তার সাথে যোগাযোগ করা যায়। ল্যাব পোশাকটা হাতে ঝুলিয়ে লরেন দরজা ঠেলে বাইরে এসে সিঁড়ি ধরে নামতে শুরু করল। তার গন্তব্য ইন্সটিটিউটের মর্গ। অনাকাঙ্খিত বা অপ্রত্যাশিত কিছু একটা ঘটতে পারে এমন চিন্তা আচ্ছন্ন করুল তাকে। ইমার্জেন্সি রুম ক্লিনিশিয়ান হিসেবে সে দশ বছর ধরে কাজ কছে কিন্তু এখনও পোস্টমর্টেম করার সময় তার ভেতরে অদ্ভুত রকমের ভয়, উদ্বেগ কাজ করে। মর্গের মৃতদেহ, শরীরের কাটা অংশ, হাড় কাটার যন্ত্র, স্টেইনলেন্স স্টিলের টেবিলে এসব কিছুর চেয়ে হিস্টলজির চেম্বার তার কাছে অনেক প্রিয়। তবে আজ নিজের পছন্দের কোন মূল্যই নেই।

    নিচের লম্বা হলরুম অতিক্রম করে দুই পাল্লার দরজা দেয়া একটা ঘরের দিকে এগোতেই হঠাৎ করে জেরাল্ড ক্লার্কের ঘটনার রহস্যময়তা তার চিন্তা-ভাবনাকে অন্য দিকে নিয়ে গেল। লোকটা চারবছর ধরে নিখোঁজ, তারপর একদিন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এল, সাথে নতুন গজান হাত! অলৌকিক কোন চিকিৎসা পেয়েছিল সে? কিন্তু অন্যদিকে তার সারা শরীরে কিলবিল করছে টিউমার। ক্যান্সার ছিন্ন-ভিন্ন করেছে পুরো শরীর, যে ক্যান্সারের জন্য তিন মাসের মধ্যে। তাহলে এই এত অল্পসময়ে ক্যান্সার অতিরিক্ত মাত্রায় ছড়াল কিভাবে? কিভাবে ওগুলো রুপ নিল ভয়ঙ্কর টেরাটোকারনিনোমাস-এ? আর সাথে এটাও প্রশ্ন, এই চার বছর কোন জাহান্নামে আটকে ছিল জেরাল্ড ক্লার্ক?

    মাথাটা ঝাঁকালো সে। এতসব প্রশ্নের উত্তর এত তাড়াতাড়ি আশা করা ঠিক না। তবে আধুনিক বিজ্ঞানে বিশ্বাস আছে তার। একদিকে নিজের গবেষণা অন্যদিকে আমাজনে তার সন্তানদের অনুসন্ধান—এই দুয়ে মিলে এই রহস্যের সমাধান করা সম্ভব হবে হয়ত।

    দরজা ঠেলে লকার রুমের ভেতরে ঢুকল লরেন । বিশেষ এক ধরনের কাগজের তৈরি নীল রঙের একজোড়া জুতোর ভেতর জুতাসহ পা ঢুকালো সে, তারপর একটুখানি ভিক্স ভ্যাপোরাব জেলি নাকের ছিদ্রের নিচে মেখে নিল। লাশের উৎকট গন্ধ ঠেকাতে সাহায্য করে এটা। সবশেষে পরল সার্জিক্যাল মাস্ক। প্রস্তুতি শেষে ল্যাবে চুল সে। ভেতরে ঢুকে যা দেখল তার সাথে তুলনা করা যেতে পারে অতিমাত্রায় ভৌতিক কোন ছবির দৃশ্যের । জেরাল্ড ক্লার্কের দেহটা চিড়ে মেলে রাখা হয়েছে বায়োলজি ক্লাসের ব্যাঙের মত করে । বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কিছু রাখা হয়েছে লাল কমলা রঙের বিপজ্জনক চিহ্ন দেয়া কিছু ব্যাগে। আর কিছু রাখা হয়েছে স্টিলের নিক্তির উপর । সারা ঘরজুড়ে বিভিন্ন রকমের স্যাম্পল ফরমাল ডিহাইড ও তরল নাইট্রোজেনের ভেতর চুবিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই কাজের পরিণতি নিশ্চিতভাবেই কল্পনা করতে পারছে লরেন। সে জানে এই স্যাম্পলগুলো প্রস্তুত করে সেগুলো স্লাইডে করে সবগুলো স্লাইড একসাথে হিস্টলজিতে লরেনেরর কাছে পাঠানো হবে। ঠিক এভাবেই যেভাবে লরেন তার রিভিউয়ের উপকরণগুলো পেতে চায়।

    ঘরে ঢুকতেই তীব্র গন্ধ নাকে লাগল মেনথোলেট জলি ভেদ করে । ব্লিচিং পাউডার, রক্ত, নাড়ী-ভুড়ি, সাথে মৃতদেহের পঁচা গ্যাস ধ্রুব গন্ধ তৈরি করছে। সে চেষ্টা করল যতটা সম্ভব মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার। তার চারপাশে পুরুষ ও মহিলারা ছোটাছুটি করছে পুরো ল্যব জুড়ে। পরনের অ্যাপ্রনগুলো রক্তে মাখামাখি হয়ে একটা ভয়ঙ্কর দৃশ্যের সূচনা করেছে যেদিকে কারোরই বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। এই অপারেশন তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন, তাই ভয়ঙ্কর এক নৃত্যে একাগ্রচিত্তে মেতে উঠেছে মেডিকেল প্রফেশনালরা। লম্বা গড়নের বেশ পাতলা একজন পুরুষ তাকে হাত নেড়ে স্বাগত জানাল। লরেন মাখা নেড়ে সায় দিয়ে তাকে পাশ কাটিয়ে এক মহিলার দিকে এগুলো। মহিলা একটা ট্রে কাত করে ধরে জেরাল্ড ক্লার্কে যকৃতটা ওয়েস্ট ব্যাগে ঢুকাচ্ছে।

    “কি পেলে, স্ট্যানলি?” তার ওয়ার্কটেবিলের কাছে পৌছে জিজ্ঞেস করল লরেন ।

    একটা জিনিস দেখিয়ে কথা বলে উঠল ডা. হিবার্ট স্ট্যানলি । মুখে মাস্ক লাগানো থাকায় তার কথা আস্তে শোনা গেল। “আমি চাই এটা কেটে বের করার আগে তুমি একবার দেখ।”

    সবাই একটা ঢালু ঠেবিলের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। টেবিলে জেরান্ড ক্লার্কের ছিন্নভিন্ন শরীরটা রাখা।

    পিত্তরস, রক্ত আর বিভিন্ন রকমের তরল শরীর থেকে বেয়ে আসছে, ওগুলো টেবিলের ঢালু প্রান্তে রাখা বালতিতে গিয়ে পড়ছে । দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর হাতের খুব কাছেই জেরাল্ড ক্লার্কের মাথা, যেটার উপরের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে।

    “তার মস্তিষ্কটা দেখ,” রক্তিম মস্তিষ্কের দিকে ঝুঁকে পড়ে বলল স্ট্যানলি।

    একটা চিমটা দিয়ে প্যাথলজিস্ট খুব সতর্কতার সাথে বাইরের পাতলা মিনিনজিল ঝিল্লিটা উপরের দিকে সরিয়ে নিল। দেখে মনে হল যেন একটা পর্দা সরে যাচ্ছে । ঝিল্লির ঠিক নিচেই সেরিব্রেল করটেক্সের উঁচুভাঁজের জাইরাসগুলো পরিস্কার দেখা যাচ্ছে। পুরো করটেক্সজুড়ে শাখা-প্রশাখার মত ছড়িয়ে আছে গাঢ় রঙের অসংখ্য ধমনী আর শিরা।

    “খুলি থেকে ব্রেইনটা আলাদা করতে গিয়ে এটা পেলাম,” মস্তিষ্কের ডান ও বাম অর্ধাংশ আলাদা করল ডা, হিবার্ট । আর এই দুই অংশের মাঝে কিছুটা ভেতরের দিকে একটা মাংসপিণ্ড দেখা গেল। আকৃতিতে একটা আখরোটের মত। দেখে মনে হল ওটা করপাস ক্যালোসাম স্নায়ুগুচ্ছের ঠিক ওপরে বাসা বেধেছে। একটু খেয়াল করলেই ওটা থেকে বের হয়ে আসা সাদা স্নায়ুতন্ত্রগুলো দেখা যায় যেগুলো ওটাকে মস্তিষ্কের দুই অংশের সাথে যুক্ত করেছে। স্ট্যানলি এক নজর লরেনের দিকে তাকাল। “এটাও আরেকটা টেরাটোমা…কিংবা টেরাটোকারসিনোমা, যদি না এটাও অন্য টিউমারগুলোর মত হয় । কিন্তু এদিকে দেখো, এরকমটা এর আগে দেখি নি।” আঙুলের সাথে লাগানো চিমটার অগ্রভাগ দিয়ে মাংসপিণ্ডটা স্পর্শ করল সে।

    ‘ডিয়ার গড!” লরেন লাফিয়ে উঠল যখন দেখল টিউমারটা চিমটার অগ্রভাগ থেকে খানিকটা দূরে সরে গেল।“এটা…এটা দেখি নড়ছে!”

    “অবাক করার মতই, তাই না? এ-কারণেই আমি চাইছিলাম তুমি একবার এটা দেখ।”

    “কিছু টেরাটোমিক টিউমারের এ-রকম বৈশিষ্টের কথা পড়েছি আমি। বাইরে থেকে আন্দোলিত করলে তার সাড়া দিতে পারে। এই ধরনের টিউমারের ভেতর একরকম টিউমার আবার বেশি সুসংবদ্ধ যেগুলোর মধ্যে হৃৎপিতে কার্ডিয়াক মাংসপেশী থাকে যার কারণে স্পন্দনও সৃষ্টি করতে পারে একেবারে হৃৎপিণ্ডের মতই।” নিজের কণ্ঠটা আবশেষে খুঁজে পেল লরেন । “কিন্তু জেরাল্ড ক্লার্ক তো দুই সপ্তাহ ধরে মৃত।” শ্রাগ করল স্ট্যানলি। “টিউমারটার অবস্থান বিবেচনা করে আমার মনে হচ্ছে ওটা স্নায়ুকোষে পরিপূর্ণ। এই কোষগুলোর বেশ বড় একটা অংশ এখনও কর্মক্ষম অর্থাৎ উদ্দীপনায় সাড়া দিতে সক্ষম, সেটা দূর্বলভাবে হলেও। আমি আশা করি এসব সক্ষমতা খুব তাড়াতাড়িই শেষ হয়ে আসবে, ওদিকে যেহেতু স্নায়ুগুলো তার রস হারাচ্ছে, সাথে বের হচ্ছে এই মাংসপেশীর ভেতর জমে থাকা ক্যালসিয়ামও।”

    লরেন বার কয়েক লম্বা করে শ্বাস নিল তার বিচ্ছিন্ন চিন্তাগুলোকে গুছিয়ে নিতে। “তা সত্তেও টিউমারটা খুব দ্রুত সাড়া দেওয়ার মত সুসংবদ্ধ এখনও।”

    “নিঃসন্দেহে…বেশ ভালই কর্মক্ষম ওটা। যতদ্রুত সম্ভব ওটা কেটে কয়েকটা স্লাইড তৈরি করব আমি।” সোজা হয়ে দাঁড়াল স্ট্যানলি। কিন্তু ভাবলাম, কেটে ফেলার আগে ওটা কিভাবে কাজ করছে তা নিজে এসে একবার দেখলে ভাল হয়, তাই তোমাকে আসতে বলা।”

    ধীরে মাথা নেড়ে সায় দিল লরেন। ব্রেনের খোঁজে গেঁড়ে বসা টিউমারটির উপর থেকে তার দৃষ্টি সরে গেল মৃতদেহটার হাতের দিকে। হঠাৎ একটা চিন্তা মাথায় এল তার।

    “আমার মনে হয়…” বিড়বিড় করে বলল সে।

    “কি?”

    “সারা দেহের এই টেরাটোমাসগুলো এবং ব্রেইনের এই বিশেষ টিউমারটি ক্লার্কের গজিয়ে ওঠা হাতের রহস্যের সূত্র হতে পারে।”

    সরু হয়ে গেল প্যাথলজিস্টের চোখ দুটো । “তোমার মত করে ভাবছি না আমি।”

    সরাসরি মুখের দিকে তাকাল লরেন। ছিন্নভিন্ন মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে থাকার চেয়ে ভাল কিছুর দিকে দৃষ্টি দিতে পেরে কিছুটা স্বস্তি পেল সে। “আমি যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা একটা অনুমানমাত্র। আচ্ছা, এমন কি হতে পারে না লোকটার হাতটাও একটিা টেরাটোমা টিউমার? যেটা পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় অস্থির মতই বড় হয়েছে?”

    স্ট্যানলির ভ্রু দুটো উঁচু হয়ে গেল । “মানে নিয়ন্ত্রিত ক্যান্সার বৃদ্ধির মত? অথবা জীবন্ত ও কর্মক্ষম টিউমারের মত?”

    “কেন নয়? আমরা নিজেরাও তো একইভাবেই বেড়ে উঠেছি, প্রথমে নিষিক্তি হওয়া একটি কোষ, তারপর সেটা থেকে দ্রুত অসংখ্য কোষের জন্ম, একসময় গঠন হয়ে যায় আমাদের শরীর, ঠিক ক্যান্সারের মতই তবে পার্থক্য হল শরীরের কোষগুলো বেড়ে ওঠে নিয়ন্ত্রিত ও সঠিক মাত্রায়। আর আমাদের এই স্টেম সেল রিসার্চ সেন্টারের লক্ষ্যও তো ঐ একটাই-কোষগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে ওঠার ক্রিয়াকৌশল খুঁজে বের করা, তাই না? কি কারণে একটি স্বাভাবিক কোষ রুপান্তরিত হয় হাড়ের কোষেপেশী কোষে?” তারপর ছড়িয়ে রাখা জেরাল্ড ক্লার্কের দেহটার দিকে তাকাল সে।এবার তার চোখে-মুখে কোন ভয় নেই, সেখানে এখন বিস্ময়। “এই অপার রহস্যটা সম্ভবত আমরা সমাধান করতে চলেছি।”

    “আর যদি এই মেকানিজমটা আবিষ্কার করতে পারি আমরা…” “এটার আবিষ্কার মানে ক্যান্সারের চিরসমাপ্তি, সেই সঙ্গে পুরো চিকিৎসাক্ষেত্ৰই আমূল পাল্টে যাবে।”

    মাথা ঝাঁকাল স্ট্যানলি, তারপর ঘুরে আবারও ব্যস্ত হয়ে পড়ল তার রক্তাক্ত জগতে। “এখন ভালয় ভালয় তোমার ছেলে-মেয়েরা অনুসন্ধান কাজে সফল হলেই হয়। সেই প্রার্থনাই কর।”

    লরেন মাথা নেড়ে সায় দিয়ে ঘুরে দাঁড়াল, বেরোবার আগে হাতঘড়িতে সময়টা দেখে নিল একবার । ফ্রাঙ্ক ও কেলির সাথে নির্ধারিত কনফারেন্স কলের সময়টা এগিয়ে আসছে দ্রুত। নোটগুলোও মিলিয়ে নিতে হবে । শেষবারের মত একবার পেছন ফিরে তাকাল জেরাল্ড ক্লার্কের দেহাবশেষের দিকে। কিছু একটা আছে জঙ্গলে,” ফিসফিসিয়ে বলল সে। কিন্তু সেটা কি?”

    আগস্ট ৭, রাত ৮:৩২

    আমাজন জঙ্গল

    সবার থেকে কিছুটা দূরে একা এক জায়গায় বসে আছে কেলি, তার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া রিপোর্টটা হজম করার চেষ্টা করছে সে প্রাণপনে। তার চারপাশ শব্দে মুখরিত হয়ে আছে পঙ্গপাল ও ব্যাঙের ডাকে। যেন রাতের সঙ্গীতে উন্মত্ত ওরা। আগুন থেকে ঠিকরে আসা আলো এই ঘন আধারঘেরা জঙ্গল ভেদ করতে পারে নি বেশিদূর পর্যন্ত। বড়জোর কয়েক মিটার হবে, তার পরেই রহস্যের আঁধারে ঢেকে থাকা জঙ্গল।

    একটু দূরেই কয়েকজন রেঞ্জার্স হাটু গেড়ে বসে মোশন-সেন্সর সিস্টেম স্থাপন করছে। এটাই তাদের নিরাপদ সীমারেখা। লেজার-গ্রিড স্থাপন করা হয়েছে মাটি থেকে কয়েক ফিট উপরে, জঙ্গল আর ক্যাম্পের ঠিক মাঝখানটায় । এই গ্রিড বড় কোন পরভোজী বা হিংস্র প্রাণীকে ধারেকাছে ঘোরাঘুরি করা থেকে দূরে রাখবে, এমন কি ওগুলো দৃষ্টিসীমার ভেতর আসার আগে থেকেই।

    রেঞ্জার্সদের পরিশ্রমী কাজ ছাপিয়ে কেলির দৃষ্টি দূরের ঘন জঙ্গলের দিকে। কি হয়েছিল জেরাল্ড ক্লার্কের এই জঙ্গলে?

    এমন সময় তার পেছন থেকে একটা কণ্ঠ তাকে প্রায় চমকে দিয়ে বলে উঠল, “খবরটা আসলেই ভয়ঙ্কর।”

    কেলি পেছন ফিরতেই দেখল প্রফেসর কাউয়ি দাঁড়িয়ে আছে। কতক্ষণ ধরে সে এখানে? বনের মাঝে নিচুপভাবে চলাফেরা করার সহজাত ক্ষমতাটা এই শামান যে এখনো হারায় নি তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। “উমম…হ্যা,” একটু তোতলাটে,সে। “খুবই বিরক্তিকর খবর।”

    মুখ থেকে পাইপটা হাতে নিয়ে তাতে কিছু তামাক ভরল কাউয়ি, তারপর খুব আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে আগুন জ্বালালো তাতে । “তোমার মায়ের বিশ্বাস ঐ ক্যান্সারগুলো এবং নতুন জন্মান হাতটার মধ্যে সম্পর্ক আছে?”

    “এটা খুবই কৌতুহলোদ্দীপক…আর সম্ভবত এটা বেশ ভাল রকম ভিত্তিও আছে।”

    “যেমন?”

    নাকের ডগাটা একটু চুলকে চিন্তা ভাবনাগুলোকে গুছিয়ে নিল কেলি। “স্টেট থেকে এখানে আসার আগে এই রিজেনারেশন নিয়ে কিছু পড়াশোনা করেছিলাম আমি । খুঁজে খুঁজে এই বিষয়ের উপর কিছু লেখালেখি সংগ্রহ করেছিলাম। ভেবে ছিলাম আমাজনে এটা খুব কাজে আসবে।”

    “হুমম…বেশ ভাল, কি ব্যাপারটা যখন জঙ্গল নিয়ে তখন জ্ঞান এবং প্রস্ততির মানে জীবন আর মৃত্যুর মাঝের পার্থক্য ছাড়া আর কিছুই নয়।” মাথা নেড়ে সায় দিল কেলি। তার চিন্তাগুলোকে এখনো একই সুতোয় বাঁধতে চেষ্টা করছে সে, সাথে কিছুটা সন্তুষ্টও যে নিজের ভাবনাগুলোকে জোরেশোরে, সাহসিকতার সাথে কারো সামনে প্রকাশ করতে পারছে।

    “এই গবেষণা চলাকালীন সময়ে আমি বেশ মজার একটি প্রবন্ধ হতে পাই, এটা প্রকাশিত হয়েছিল ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের মুখপত্র প্রসিডিংস-এ। ওখান থেকে জানতে পারি ১৯৯৯ সালে ফিলাডেলফিয়ার একদল গবেষক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া কিছু ইঁদুর নিয়ে গবেষণা করেছিল। গবেষণাটি ছিল বিভিন্ন ধরণের ধমনীর টিসুর শক্তিবৃদ্ধি এবং এইডসের উপরে। কিন্তু ঐসব রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া ইঁদুরগুলো নিয়ে কাজ শুরু করতেই অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনা ঘটে।”

    কাউয়ির একটি ভ্রু উঁচু হয়ে গেল । “কি সেটা?”

    “গবেষকেরা ইদুরগুলোর কানে ছোট ছোট ছিদ্র করেছিল পরীক্ষার প্রাণীগুলোকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার জন্য, পরে তারা আবিষ্কার করে ছিদ্রগুলো খুব দ্রুতই সেরে গেছে, কোন রকম ক্ষতস্থানের দাগও নেই সেখানে। শুধু যে দাগগুলোই মুছে গেছে তা নয়, সেখানে পূণরায় জন্ম নিয়েছে কার্টিলেজ, রক্তনালী, ত্বক, এমন কি স্নায়ু কোষ।” এই বিস্ময়কর তথ্যটি হজম করার জন্য একটু সময় দিল কেলি, তারপর আবার শুরু করল সে।

    “এই আবিষ্কারের পর দলের প্রধান গবেষক ডু, এলেন হেবার-কটজ আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালালেন ওগুলোর উপর । তিনি কয়েকটার লেজ কেটে দিলেন, সেখানে আবারো লেজ গাজালো। এরপর তিনি অপটিক-নার্ভ কেটে নিলেন, সেটাও সেরে উঠল। এমনকি স্পাইনাল কর্ডের একটা অংশ কেটে নেয়ার পরও দেখা গেল মাত্র একমাসের মধ্যেই সেটা পূরণ হয়ে গেছে। এর আগে এরকম অপ্রত্যাশিত রিজেনারেশন আর কোন স্তন্যপায়ীর মধ্যে দেখা যায় নি।”

    মুখ থেকে পাইপটা সরিয়ে ফেলল কাউয়ি। “কি কারণে এমন হল?”

    মাথা ঝাঁকাল কেলি । “সেরে ওঠা ঐ উঁদুরগুলোর সাথে সাধারণ ইদুরের পার্থক্য একটাই-তাদের নষ্ট হয়ে যাওয়া রোগ-প্রতিরোধের ব্যবস্থা।”

    “এর তাৎপর্যটা কি?”

    আনন্দের হাসি চেপে রাখল কেলি । সে চাইছে ব্যাপারটায় আরও উষ্ণতা ছড়াক, বিশেষ করে শ্রোতা যেখানে শোনার জন্য এমন উন্মুখ হয়ে উঠেছে। “প্রাণীদের উপর গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে, বেশ কিছু প্রাণী, যেমন স্টারফিশ, বিভিন্ন রকম উভচর এবং সরীসৃপেরা এক বিশেষ ধরণের ক্ষমতা ধারণ করে যার ফলে তারা তাদের হারানো অস্থি আবারো জন্ম দিতে পারে । আমরা ভাল করেই জানি, ঐসব প্রাণীর রোগ-প্রতিরোধক ব্যবস্থা প্রাথমিকভাবে খুব ভাল পর্যায়ে থাকে। তাই ডা. হেবার-কটজ ব্যাপারটাকে নিয়ে আরও একটু গবেষণা করে একটা তত্ত্ব খাড়া করলেন। তিনি অনুধাবন করলেন, অনেক আগে, মানে সৃষ্টির শুরুর দিকে দীর্ঘ বিবর্তনের পথে একটা বিশেষ ক্ষমতা অর্জনের জন্য স্তন্যপায়ীদের একটা বাঁক নিতে হয়েছিল। বিনিময়ে বিসর্জন দিতে হয়েছিল আরেকটা মূল্যবান সক্ষমতাকে। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতা অর্জন করতে গিয়ে আমাদের ত্যাগ করতে হল শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের পূণর্জনের ক্ষমতা। আপনি দেখুন আমাদের জটিল রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাটি এমনভাবে ডিজাইন করা যে শরীরের অপ্রয়োজনীয় বা অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধিকে এই প্রতিরোধ-ব্যবস্থা দূর করে। যেমন ক্যান্সার, ব্যাপারটা আমাদের জন্য ভাল নিঃসন্দেহে, কিন্তু এমন গুনসম্পন্ন প্রতিরোধ ব্যবস্থাই কিন্তু অন্যদিকে বাধা হয়ে দাঁড়ায় নতুন করে কোন অঙ্গ জন্ম নেওয়ার ক্ষেত্রে। যেমনটা বাধা হয়ে দাঁড়ায় ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও। কারো শরীরে নতুন করে কোন অস্থি বা অঙ্গ জন্ম নেওয়ার অতি প্রাথমিক ও দূর্বল পর্যায়েই ওটা বাধার সম্মুখীন হয় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে । এই কোষ জননকে অস্বাভাবিক ও অনাকাঙ্খিত মনে করে এই সিস্টেম তা দূর করে দেয়।”

    “তাহলে এই জটিল প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থা একই সাথে আমাদের বাঁচায় আবার ভোগায়ও?” ভ্রু কুচকে ফেলল কেলি। তার চিন্তা-ভাবনা আরও কেন্দ্রীভূত হল এখন। “যদি না কেউ এই প্রতিরোধ-ব্যবস্থাকে নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেয়, ঠিক ইদুরগুলোর বেলায় যেমন হয়েছিল।”

    ‘অথবা যেমনটা হয়েছিল জেরাল্ড ক্লার্কের বেলায়?”

    কেলির দিকে আড়চোখে তাকাল কাউয়ি। “তাহলে তুমি বলছ যে কোন কারণে জেরাল্ডের ইমিউন-সিস্টেম বন্ধ বা নষ্ট করে দেয়া হয়েছিল যে কারণে তার নতুন করে হাত গজিয়েছে । কিন্তু এই ব্যাপারটাই আবার তার সারা শরীরে রাজত্ব ক্যান্সারের জন্য দায়ি।”

    “হতে পারে, তবে মূল ব্যাপারটা এর থেকেও আরো জটিল । কিভাবে এটা হল? কি তার ক্রিয়া-কৌশল? কেন সব ক্যান্সারগুলো হঠাৎ করেই এভাবে আক্রমণ করবে?” মাথা ঝাঁকালো সে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যাপারটা তা হলো, কি এমন সেই জিনিস যার কারণেই এতকিছু হল?”

    গভীর জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল কাউয়ি। “যদি এমন কিছুর অস্তিত্ব থেকে থাকে তবে তার খোঁজ পাওয়া যাবে এখানে। বর্তমানে সব রকমের ক্যান্সার ওষুধের তিন-চতুর্থাংশই আসে রেইনফরেস্টের গাছ-গাছড়া থেকে। তাহলে এমনকিছু পাওয়া কি খুবই অসম্ভব যেটা সারিয়ে না তুলে বরং ক্যান্সারের জন্ম দেয়?”

    ‘কারসিনোজেন?”

    “হ্যা। তবে সাথে সুবিধাজনক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াও থাকতে হবে, যেমন অঙ্গের পূণর্জন্ম হওয়া।”

    “এটা অবাস্তব মনে হচ্ছে, কিন্তু জেরাল্ড ক্লার্কের অবস্থা বিবেচনা করলে যেকোন কিছুই সম্ভব। আমার অনুরোধে পরবর্তী কয়েকদিন ধরে এমইডিইএ-এর গবেষকেরা জেরাল্ড ক্লার্কে ইমিউন সিস্টেম নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করবে, তার ক্যাশারগুলোও পরীক্ষা করে আরও নিবিড়ভাবে। হয়তো তারা কিছু খুঁজে পাবে।”

    মুখ দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ল কাউয়ি। “চুড়ান্ত ফলাফল যা-ই আসুক না কেন সেটা ল্যাব থেকে আসবে না। এব্যাপারে আমি নিশ্চিত।

    “তাহলে কোথা থেকে আসবে?”

    কোন উত্তর দেবার পরিবর্তে জ্বলন্ত তামাক পাইপটা দিয়ে অন্ধকার জঙ্গলের দিকে ইঙ্গিত করল কাউয়ি।

    কয়েক ঘণ্টা পর, জঙ্গলের আরও গভীরে, ক্যাম্পফায়ারের আলো সীমানার বাইরে একটি নগ্ন অবয়ব নিঃশব্দে সামনের দিকে কুঁজো হয়ে হাঁটতে লাগল গাঢ় অন্ধকারের দেয়াল ভেদ করে। তার হালকা-পাতলা শরীরটা রঙ করা । মেহনু ফল এবং ছাই মেশানো সেই রঙ তাকে দিয়েছে নীল-কালো রঙের জটিল এক বর্ণ, রুপান্তরিত করেছে জীবন্ত এক ছায়ায়।

    অন্ধকার নামতেই ঐ আগন্তুকদের উপর চোখ রেখে আসছে সে। জঙ্গল তাকে শিখিয়েছে কিভাবে ধৈর্য ধরতে হয়। অনুসন্ধানী স্বভাবের টেলারি-রিন গোত্রের সবাই জানে সফলতা দুই পদক্ষেপের মাঝের নিরবতার উপর যতটা নির্ভর করে তার থেকে অনেক কম নির্ভর করে ছুটে চলার মধ্যে।

    সারা রাতজুড়ে তার উপর আরোপিত দায়িত্ব সে পালন করেছে । আধারে ডুবন্ত এক প্রহরী হয়ে চোখ রেখেছে ক্যাম্পের উপর । ঘুরে ঘুরে দীর্ঘকায় মানুষগুলোকে দেখেছে সে, তাদের কাছ থেকে আসা বিদেশী গন্ধের সাথে পরিচিত হয়েছে। তাদের ভাষা অদ্ভুত লেগেছে তার কাছে, যেমনটা লেগেছে তাদের পোশাক-আশাক দেখে । এখনও সে দেখে চলেছে, খুঁজে ফিরছে স্মৃতিতে রাখার মত কিছু শেখার চেষ্টা করছে তার নতুন শত্রুদের ব্যাপারে।

    মানুষটা চার পেয়ে জন্তুর মত বসে আছে কাদার ভেতর হাত উপুড় করে দিয়ে। একটা ঝিঝিপোকা তার ভর দিয়ে রাখা হাতের পাঞ্জার উপরে বসে পড়ল। ডেকে চলছে স্বভাবসুলভ সুরে । লোকটার দৃষ্টি ক্যাম্পের দিকে নিবদ্ধ থাকলেও পোকাটাকেও চোখেচোখে রাখছে।

    সকাল হবে হবে করছে।

    আর অপেক্ষা করতে চাইল না সে। যা বোঝার বুঝে ফেলেছে। নিঃশব্দে উঠে দাঁড়াল। তারপর ছোটা শুরু করল দ্রুত গতিতে। তার দ্রুততা এবং নিঃশব্দতা এমন পর্যায়ের যে ঝিঝিপোকা তখনও তার দৃঢ় হাতের উল্টোপিঠে লেগে আছে রাতের শেষ গান গেয়ে চলেছে এখনও। সে তার হাতটা ঠোট পর্যন্ত উচু করে ফুঁ দিয়ে ঝিঝিপোকাটাকে উড়িয়ে দিল । শেষ বারের মত ক্যাম্পটাকে দেখে নিল সে, তারপর হারিয়ে গেল জঙ্গলে । সে দৌড়াবে কিন্তু একটা পাতাও নড়বে না, এমনভাবেই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে তাকে। কেউ জানতেও পারবে না তার আগমনের কথা, তবে এই অন্ধকারের মানুষটা ঠিকই জানে কি তার চুড়ান্ত দায়িত্ব।

    মৃত্যু সবার কাছেই আসবে, শুধু বেছে নেয়া ব্যক্তিটি ছাড়া।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    Related Articles

    জেমস রোলিন্স

    ব্ল্যাক অর্ডার (সিগমা ফোর্স – ৩) – জেমস রোলিন্স

    August 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }