Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমার এখন সময় নেই – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প184 Mins Read0
    ⤶

    আমার এখন সময় নেই

    খবরটা পেলাম রাত ন-টায়৷ দরজা খুলেই সুজাতা বলল, শুনেছ কী হয়েছে?

    —কী?

    —তুমি জানো না! অনুতোষদা মারা গেছে!

    কফিহাউস থেকে ফুরফুরে মেজাজে বাড়ি ফিরেছি, কথাটা প্রথমে আমার মাথাতেই ঢুকল না, কে মারা গেছে?

    —অনুতোষদা? আমাদের অনুতোষদা?

    অনুতোষ মারা গেছে! যাহ, তা কী করে হয়! দিব্যি পঁয়তাল্লিশের টগবগে মানুষ, জোয়ানই বলা যায়, অসুখবিসুখেরও কোনো খবর শুনিনি, সে হঠাৎ মারা যাবে কেন? মৃত্যু কি এতই সুলভ?

    সুজাতা বলল, একটু আগে দীপিকাদির ফোন এসেছিল৷ নামখানাতে নদীতে ডুবে গিয়ে…

    সুজাতার গলা বুজে এল৷ আমিও ধপ করে সোফায় বসে পড়েছি৷ এতক্ষণ কফিহাউসে ছিলাম, কেউ তো কিছু বলল না ওখানে! নাকি ওখানেও কেউ খবর পায়নি! আমারই মতো!

    ঘনিষ্ঠ কারুর মৃত্যুসংবাদ শুনলে আমার বুক ধড়ফড় করে, পা কাঁপতে থাকে, হাতের জোর কমে যায়, তালু শুকিয়ে আসে অজানা ভয়ে৷ এখন সেরকমটাই হচ্ছে! তার মানে অনুতোষ আমার ঘনিষ্ঠজন ছিল!

    দু-এক মিনিট রুদ্ধবাক আমি কোনোক্রমে প্রশ্ন করলাম, কবে? কখন?

    সুজাতা পাশে বসে আমার কাঁধে হাত রাখল৷ তারও স্বর কাঁপছে, আজই সকালে৷ বকখালি যাবে বলে হাতানিয়া দোয়ানিয়া পার হচ্ছিল, হঠাৎ নৌকো থেকে পড়ে…

    —কীভাবে পড়ল! ওখানে তো নৌকো-ফৌকো উল্টোয় না! এতটুকু সরু নদী!

    —আমি তো সে কথাই ভাবছি, একটা জলজ্যান্ত মানুষ হঠাৎ কেন জলে পড়ে যাবে?

    —আত্মহত্যা করল, না অ্যাক্সিডেন্ট৷ সঙ্গে কে ছিল?

    —আমি অত ডিটেলে জিজ্ঞেস করতে পারিনি৷ তুমি দীপিকাদিকে একটা ফোন করো না৷

    —দীপিকা ফোনে আমার কথা কিছু বলল?

    —না তো! কী বলবে?

    —আমার কালকের প্রাইজ পাওয়া নিয়ে কিছু…? বলেই কোঁত করে গিলে ফেলেছি কথাটা৷ এ কথা কেন মুখ থেকে বেরিয়ে এল? এমন অসময়ে?

    বিভাবতী স্মৃতি পুরস্কার কমিটি এ বছরের শ্রেষ্ঠ গল্পকার হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করেছে৷ গত সোমবার৷ তারপর থেকে অজস্র অভিনন্দন পেয়ে চলেছি৷ ঘরে বাইরে৷ রাস্তায়৷ অফিসে৷ বাড়িতেও মাঝে মাঝেই ফোন বেজে উঠছে৷ এই তো আজই কফিহাউসে ছোটোখাটো একটা সম্বর্ধনা পেলাম তরুণতর প্রজন্মের লেখকদের কাছ থেকে৷ সমসাময়িক লেখকরা ঈর্ষা গোপন করে আমার প্রশংসা করছে৷ কষ্ট লুকিয়ে বন্ধু-বান্ধবরাও৷ সুবীর৷ বিমান৷ নির্মল৷ দীপাঞ্জন৷

    ব্যতিক্রম শুধু দুজন৷ অনুতোষ আর দীপিকা৷

    মৃত মানুষের ওপর অভিমান সাজে না৷ কিন্তু দীপিকা?

    দীপিকা একটু দেরিতে লেখা শুরু করেছে৷ এখন মাঝেমাঝেই নানান পত্র-পত্রিকায় তার গল্প-উপন্যাস বেরোয়৷ আমার মতো না হলেও লেখার জগতে নামও হয়েছে অল্পস্বল্প৷ যদিও লেখা খুব একটা আহামরি নয়৷ মেয়েদের মধ্যে মোটামুটি৷ কানাদের মধ্যে ঝাপসা৷ তা ছাড়া মেয়ে হওয়ার আলাদা সুবিধেটাও তো আছে৷ ভ্রূকুটির ধনুর্বাণ আছে! চপল হাসির পাশুপৎ অস্ত্র আছে! একটু আহ্লাদী-আহ্লাদী স্বরে কথা বললে গল্প না ছেপে উপায় আছে সম্পাদকের! আরে বাবা, এটা তো অবধারিত সত্য, মেয়েদের মধ্য কোনো গভীর ভাববোধ নেই! দৃষ্টিভঙ্গিও সংসারের পানাডোবার বাইরে বেরোয় না৷ মহৎ সাহিত্য সৃষ্টি কি মেয়েদের দিয়ে হয়? তবু ওই এলেবেলেরও কী ডাঁট! অহংকারে মাটিতে পা পড়ে না!

    এই সব আকাশপাতাল দ্বিধায় ইতস্তত আমি, সুজাতা আবার বলল, কী হল? ফোন করো?

    —কী হবে ফোন করে? দীপিকা কি অনুতোষের সঙ্গে ছিল? অনুতোষকে স্বচক্ষে জলে পড়ে যেতে দেখেছে?

    আমার কথার ভঙ্গিতে সামান্য রুক্ষতা ছিল৷ সুজাতা ম্লানমুখে বলল, দীপিকাদি খবরটা দিয়ে তোমাকেই খুঁজছিল৷ দ্যাখো না যদি আরও ডিটেলস-এ জানা যায়?

    ডিটেলস আবার কী? মৃত্যুর আর ডিটেলস হয় নাকি?

    সুজাতা হাঁ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে৷

    আমার গলায় এতক্ষণে একটা কষ্ট চাক বাঁধছিল৷ পুটপুট করে পিন ফুটছিল শরীরে৷ বেশ খানিকক্ষণ পর ঢোক গিলে বললাম, আমার ভাল্লাগছে না সুজাতা৷ একটা লোক সকালেও বেঁচে ছিল… আরও কত কাল বেঁচে থাকার কথা… অথচ এখন বেঁচে নেই! আমি কিছু ভাবতে পারছি না৷

    পাশের ঘর থেকে টুকাইয়ের গলা ভেসে আসছে৷ চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে ইতিহাস মুখস্থ করছে টুকাই৷ ইউরোপের ইতিহাস৷ ক্রুসেড! শার্লামেন! সিংহহূদয় রিচার্ড৷ জোরে না পড়লে কোনো কিছুই টুকাইয়ের মাথায় ঢোকে না৷ আজ টুকাইয়ের ভাঙা স্বর বড়ো কানে বাজছে৷ সুজাতাকে বললাম, টুকাইকে একটু আস্তে পড়তে বলতে পার না? আজকাল ওইভাবে গাঁকগাঁক করে পড়ে কেউ?

    সুজাতা এখনও দেখছে আমাকে, তুমি তাহলে ফোন করবে না? তোমার একটুও জানতে ইচ্ছে করছে না অনুতোষদার কথা?

    করছে৷ ভীষণভাবেই করছে৷ কিন্তু দীপিকাকে আমি ফোন করব না৷ গত সাত দিনে সে আমাকে একটিবারও অভিনন্দন জানানোর সৌজন্য দেখায়নি, আমি কেন তাকে ফোন করতে যাব!

    জানলার পাশে গিয়ে সিগারেট ধরালাম৷ ওপারে পুষ্পহীন কৃষ্ণচূড়া গাছ ধোঁয়াশা মেখে দাঁড়িয়ে৷ একা৷ আমাকে দেখছে৷

    সুজাতা নীচু স্বরে বলল, শুনেছি সাত পা একসঙ্গে হাঁটলে নাকি বন্ধুত্ব হয়, তুমি অনুতোষদার সঙ্গে কুড়ি বছর ধরে একসঙ্গে হাঁটছিলে!

    সারা জীবন একসঙ্গে হেঁটেও কি সত্যিকারের বন্ধু পাওয়া যায়! মানুষ তো আজীবন একাই৷ তা ছাড়া সৃষ্টিশীল শিল্পীদের বন্ধু থাকেও না৷ থাকে বড়জোর জোট অথবা শুভার্থী৷ সময়ের সঙ্গে তাল রাখতে গিয়ে তাদেরও নাম গন্ধ বর্ণ বদলে যায় বারবার৷ প্রয়োজন অনুসারে৷ স্বার্থের তাগিদে৷ সেই সুবাদে অনুতোষও কবেই দূরের মানুষ৷ তবু আজ একটা খবর নেওয়া উচিত৷ বিমানকে ফোন করলে কেমন হয়! আমাদের মধ্যে বিমানের সঙ্গেই যা শেষ পর্যন্ত যোগাযোগ ছিল অনুতোষের৷

    বিমান নয়, বিমানের বউ ফোন ধরেছে৷ উত্তেজিত গলায় বলল, ইশস, কী হয়ে গেল বলুন তো! ও ভীষণ ভেঙে পড়েছে৷ একটু আগে অনুতোষদার বাড়ি থেকে ফিরল৷ ফিরেই ঘর অন্ধকার করে শুয়ে আছে৷ ডাকব?

    —ডাকো৷

    বিমানের গলা ধরা-ধরা, তুই কার কাছে খবর পেলি?

    —দীপিকা ফোন করেছিল এখানে৷ ব্যাপারটা ঠিক কী হয়েছিল বল তো?

    —কী আর হবে! নিয়তি!

    —নৌকো থেকে পড়লটা কী করে? নেশা-টেশা করেছিল নাকি?

    —নাহ, সেরকম তো কিছু শুনলাম না৷ কেউ বলছে নৌকোর ধারে বসেছিল, হঠাৎ উঠে দাঁড়াতে গিয়ে পা স্লিপ করে…৷ কেউ বলছে ইচ্ছে করে…৷ কিছুদিন ধরে খুব ডিপ্রেশানেও ভুগছিল তো৷

    —সঙ্গে কেউ ছিল না? ইদানিং শুভেন্দু বলে কে এক নতুন বন্ধু হয়েছে শুনেছিলাম?

    —না না, সে-ও ওর সঙ্গে বেরোত না৷ ও একাই ছিল৷ একা-একাই হুটহাট বেরিয়ে যেত৷ কে ওর বোহেমিয়ানিজমের সঙ্গে পাল্লা দেবে?

    —হুঁ৷ একটু সময় নিয়ে বললাম, বাড়ির অবস্থা কী দেখলি?

    —রিমা একেবারে পাথর হয়ে গেছে৷ ছেলেটা প্রাণপণে স্টেডি থাকার চেষ্টা করছে, কিন্তু কী করে পারবে বল? মাত্র তো সতেরো বছর বয়স৷ আমাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চোখের জল আর সামলাতে পারে না…

    —অনুতোষকে নিয়ে এসেছে?

    —না৷ বড়ো শালা আনতে গেছে৷ ওখানকার হসপিটালে ফোন করা হয়েছিল৷ পোস্টমর্টেম করে বডি আনতে আনতে কাল সকাল দশটা-এগারোটা হয়ে যাবে৷ বিমান দীর্ঘশ্বাস ফেলল, কী যে কাণ্ডটা করে বসল অনুতোষ! তুই কাল সকালে আসছিস তো? ওর বাড়িতে? সুবীর, দীপাঞ্জনরা অবশ্য স্ট্রেট শ্মশানে চলে যাবে বলেছে৷ অফিস ঘুরে৷

    কে যেন আমার স্নায়ুতন্ত্রী ঝেঁকে দিয়ে গেল৷ দম চেপে বললাম, কী করি বল তো? কাল সকালেই আমার আবার বর্ধমান যাওয়ার কথা…

    বিমান একটু চুপ মেরে গেল৷ তারপর বলল, ও৷ তোর সেই প্রাইজের ব্যাপারটা আছে না?

    —হুঁ৷ সক্কালবেলায়ই বেড়িয়ে পড়ব ভেবেছিলাম…

    —তুই তাহলে আসছিস না?

    —ইচ্ছে তো করছে৷ ওদিকে প্রাইজ না নিতে যাওয়াটাও খুব বিচ্ছিরি ব্যাপার হবে না? আমারই জন্য অনুষ্ঠান? দেখি যদি সময় পাই সকালে একবার ঘুরে যাব৷

    ফোন ছেড়ে দিয়ে মনে মনে বললাম, কী করে যাব আমি? আমার এখন সময় নেই৷ আমার এখন সময় নেই৷

    দুই

    খাওয়াদাওয়া সেরে খাতা-কলম নিয়ে বসেছি আমি৷ কালকের সভার জন্য একটা সুন্দর ভাষণ তৈরি করতে হবে৷ একরাশ লোকের সামনে দাঁড়িয়ে কী লিখি, কেন লিখি, কীভাবে লিখি, এ সব বিশ্লেষণ করা কি মুখের কথা? আগে থেকে খসড়া করে নিলে অনেক সুবিধে হয়, ঘাবড়ে গিয়ে গুলিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না৷ তার ওপর কাল ওখানে দুজন মন্ত্রী আসবেন৷ ভারতীয় সাহিত্য পরিষদের দু-একজন প্রতিনিধিও থাকবেন৷ তাঁদের সামনে বক্তৃতা দিতে উঠব আমি৷ প্রস্তুত হয়ে যাওয়াটাই তো ভালো৷

    বহুক্ষণ ঘষেও খুব বেশি এগোনো গেল না৷ শুরুটা কিছুতেই মনঃপূত হচ্ছে না৷ একটা-দুটো লাইন কলমের ডগায় এসেও পিছলে পিছলে বেরিয়ে যাচ্ছে কাগজ থেকে৷ প্রথম ছাপানো কবিতাটি দিয়ে শুরু করব? পাথরে কোঁদা বুক/ দাও হে কুঠারে শান/ …সে নয় শুরুটা হল, তারপর?

    সুজাতা মশারি টাঙিয়ে শুয়ে পড়েছে৷ পাশবালিশ সরিয়ে রেখে হঠাৎই উঠে বসল বিছানায়৷ ফ্যাসফেসে গলায় বলল, অনুতোষদা তোমায় খুব ভালোবাসত৷

    যে দু-চার লাইন মাথায় আসছিল, তাও হুশ করে বেরিয়ে গেল জানলা দিয়ে৷ অনুতোষ যে আমাকে ভালোবাসত, তা কি আমি জানি না? আমার চেয়ে সে কথা আর কে বেশি জানে৷

    ‘জল’ পত্রিকায় প্রথম আমার একটা গল্প পড়েছিল অনুতোষ৷ কয়লাখনির গল্প৷ তখন আমি সদ্য আসানসোল থেকে কলকাতায় বদলি হয়ে এসেছি৷ ওখানকার কুলিকামিনরা তখনও আমার রক্তে মিশে আছে৷ গল্পটা মূলত ছিল তাদের নিয়েই৷ গল্পটা পড়ে মুগ্ধ অনুতোষ পত্রিকা অফিস থেকে আমার ঠিকানা জোগাড় করে ফেলল৷ খুঁজে খুঁ¤জে সাতসকালে আমার বাড়ি এসে উপস্থিত৷ বেহালা থেকে চেতলায়৷ আলাপের আধ ঘণ্টার মধ্যে আপনি থেকে তুমি৷ দু-ঘণ্টার ভেতরে তুই৷ অনুতোষ তখন নিজেও একটা কাগজ বার করছে৷ শুভম৷ খুবই ছোটো পত্রিকা৷ বহুদিন ধরে পত্রিকাটি চালিয়েছিল অনুতোষ৷ শুধুই গল্পের পত্রিকা৷ আমাকে সেখানে একটা বড়ো গল্প লিখতে বলল৷ পুজোসংখ্যার জন্য৷ আমার তখন কলমের হাল সদ্য দাঁত-ওঠা শিশুর মতো৷ অবিরাম শুলোচ্ছে৷ বুকের ভেতর যত কথা জমা আছে, সবই তখন অক্ষরের স্রোত হয়ে ধেয়ে আসতে চায়৷ স্মৃতি থেকে স্বপ্ন, বেদনা থেকে আসক্তি, জন্মমুহূর্ত থেকে পঁচিশ বছর বয়স, সব৷

    মনপ্রাণ ঢেলে অনুতোষের কাগজে গল্প লিখেছিলাম৷ একটি নৈঃশব্দের অপমৃত্যু৷ গল্পটা লিখে নাম হয়েছিল কিনা জানি না, তবে তুফান যে একটা উঠেছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷ তুফানটা তুলেছিল অনুতোষ স্বয়ং৷ কফিহাউসের আড্ডায়৷ বইমেলায় গল্পপাঠের আসরে৷ বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনের দপ্তর থেকে শুরু করে নামি দামি লেখকদের বাড়ি গিয়ে আমার গল্পের বিজ্ঞাপন করত অনুতোষ৷ কলেজ স্ট্রিট পাড়ায় একটা ছেলে আমার লেখার সমালোচনা করেছিল বলে তার নাকে ঘুষি মেরে হইহই ফেলে দিয়েছিল চারদিকে৷

    অথচ অনুতোষ তখন নিজেও লিখছে৷ একটা গল্পের কালেকশান বার হয়েছে৷ দুটো উপন্যাস৷ উদীয়মান তরুণ সাহিত্যিকদের মধ্যে সে-ও তখন প্রথম সারিতে৷ নিজের খ্যাতির জন্য না ভেবে অন্যের স্তুতির জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়তে একমাত্র অনুতোষই পারত৷ কেউ একটু ভালো লিখলেই তার জন্য পাগল হয়ে ওঠা ছিল অনুতোষের স্বভাব৷

    সেই অনুতোষ আজ ডুবে গেছে হাতানিয়া দোয়ানিয়ায়!

    যে নেই, সে নেই৷ এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কোত্থাও নেই৷

    আমি আছি৷ আমি থাকব৷ আমাকে কাল যেতেই হবে বর্ধমান৷

    সুজাতার দিকে ফিরে তাকালাম, শোনো, আমি কিন্তু কাল সাতটার মধ্যে বেরিয়ে যাব৷

    —অনুতোষদার বাড়ি? আমিও যাব! এ সময়ে আমাদেরই তো রিমার পাশে গিয়ে দাঁড়ানো উচিত৷

    বিবস মুখে বললাম, আমি যাচ্ছি না৷ আমার বর্ধমান যাওয়া আছে৷ পারলে তুমি ঘুরে এসো৷

    —তুমি অত সকালে বর্ধমানে গিয়ে কী করবে?

    —দশটার সময় ওদের লোক আমার জন্য স্টেশনে ওয়েট করবে৷

    —অনুষ্ঠান তো তোমার দুটোয়৷ সকালে একবার ঘুরে যেতে অসুবিধে কী?

    —বলছি না সকলে অপেক্ষা করবে৷ আমাকে নিয়ে ব্যাপার, আমি যদি টাইমলি না পৌঁছই…

    —তুমি তাহলে কাল অনুতোষদার ওখানে যাবেই না?

    —পরে যাব৷

    —পরে কেন? একবার শেষ দেখাও করবে না?

    এ তো মহা গেরো হল! কী করে সুজাতাকে বোঝাই, আমাকে কাল একটু আগে যেতেই হবে৷ মন্ত্রী, ভাষা পরিষদের লোকজনদের সঙ্গে হোটেলে লাঞ্চ আছে৷ যেকোনো পরিচয়ই খাবার টেবিলে সব থেকে বেশি গাঢ় হয়৷ মূল্যবান সম্পর্ক গড়ে তোলার এমন স্বর্ণসুযোগ হাতছাড়া করে কেউ?

    আবেগ আমারও আছে৷ অনুতোষের জন্য আমারও কম মনখারাপ হচ্ছে না৷ তবে সুজাতার মতো বেহিসেবি আবেগ আমার সাজে কি? অন্তত যৌবনের এই প্রান্তসীমায় এসে? তার চেয়ে বরং নিক্তিতে মেপে গল্প-উপন্যাসে আবেগ ছড়িয়ে দেব, পড়তে পড়তে থম মেরে যাবে পাঠকের বুক৷ ছেলেমানুষি জোলো সেন্টিমেন্ট কি আমাকে মানায়? অনুতোষের মতো?

    অনুতোষের সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়েছিল মহাবোধি সোসাইটি হলে৷ মাস পাঁচেক আগে৷ এক তরুণ কবির মৃত্যুতে শোকসভা হচ্ছিল, একদম শেষ বেঞ্চে বসেছিল অনুতোষ৷ আমাকে দেখে উঠে এল, হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল বাইরে, চল, একটু কলেজ স্কোয়ারের বেঞ্চিতে গিয়ে বসি৷ এখানে আমার কেমন দমবন্ধ হয়ে আসছে৷

    গ্রীষ্মের সন্ধ্যা৷ গোলদিঘি থেকে জোলো বাতাস উঠছিল৷ পাশাপাশি বসে রইলাম দুজনে৷ বহুক্ষণ৷

    অনুতোষই প্রথম বরফ ভাঙল, ছেলেটার কী প্রতিভা ছিল, অথচ দ্যাখ কেমন দুম করে মরে গেল৷ এত তাড়াতাড়ি কী করে যে মরে মানুষ!

    আমি কপালে আঙুল ঠেকালাম, ভাগ্য৷ আমাদের কার যে কখন কোথায় মৃত্যু হবে!

    অনুতোষ অবাক হয়ে আমার দিকে তাকাল, তুই ভাগ্য মানিস?

    —এমনিতে মানি না৷ আমি হেসে ফেললাম, চাকরির প্রোমোশনের সময় মানি৷ বই বিক্রির সময় মানি৷ ছোটোবেলাতেও মানতাম৷ পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোনোর আগে৷

    —যাক, এখনও তাহলে সত্যিটা স্বীকার করার সৎসাহস তোর আছে৷

    —তুই কী বলতে চাইছিস?

    অনুতোষ বিষণ্ণ চোখে তাকাল, দীপেন, তুই অনেক বদলে গেছিস রে৷ আগে তোর নিজের ওপর কনফিডেন্স এত কম ছিল না৷ তোর লেখা শেষ হয়ে আসছে দিন দিন৷ কথায় কাজে কন্ট্রাডিকশান থাকলে ভালো লেখা বেরোয় না রে৷

    আমার রাগ হয়ে গেল৷ সিগারেট ধরিয়ে তাচ্ছিল্যের স্বরে বললাম, ফুরোচ্ছিস তুই— আমি না৷ এ বছরও আমি তিনটে উপন্যাস লিখছি৷ গোটা কুড়ি ছোটো গল্প৷

    অনুতোষ তড়াং করে উঠে দাঁড়াল, নাম্বার রিপ্রেজেন্টস নাথিং৷ তুই যা বিশ্বাস করিস না, তাই লিখিস৷ ইউ আর এ বিগ জিরো৷

    অনুতোষ এখন শুয়ে আছে লাশকাটা ঘরে৷

    আমি পাচ্ছি এ বছরের শ্রেষ্ঠ তরুণ গল্পকারের পুরস্কার৷

    ওই মূর্খের জন্য সময় নষ্ট করব আমি?

    জানলার পর্দা ছিঁড়ে ভাষণের লাইন ক-টা আবার ঢুকে পড়ছে ঘরে৷ টেবিল ল্যাম্পের চারদিক ঘুরপাক খেল কিছুক্ষণ৷ তারপর ডানা মেলে কাগজে বসল৷ সঙ্গে কিছু দৃশ্যকল্পও নিয়ে এসেছে তারা৷ আমার প্রথম জীবনের সাহিত্যের অনুপ্রেরণা৷

    কয়লাখনির খাদানে বেলচা মারছে মজুর৷ ঘামে কালিতে তাদেরই শরীর কখন কালো মানিক৷ হঠাৎ কোনো অজ্ঞাত ফাটল দিয়ে জল ঢুকতে শুরু করল খনিতে৷ একে একে ডুবে গেল সার সার শ্রমিকের দেহ৷ ফ্রক পরা বালিকা শবদেহের ঢাকা সরিয়ে নিজের বাবার শরীর খুঁজছে৷ জলের নীচে বাবা তখন পরিপূর্ণ অঙ্গার৷

    আমি কাতর গলায় সুজাতাকে বললাম, তুমি তো জানো সুজাতা, আমি একদম ডেডবডি স্ট্যান্ড করতে পারি না! কেন আমাকে বার বার জোর করছ?

    সুজাতা তবু অবুঝ, ভালো করে ভেবে দ্যাখো কেন জোর করছি!

    কী করে ভাবব? শব্দরা এসে গেছে! শব্দরা এসে গেছে!

    আমি ফিসফিস করে বললাম, চুপ থাকো৷ এখন আমার সময় নেই৷

    তিন

    —বন্যার ওপর লেখা আপনার উপন্যাসটা এখনও আমার হাড় কাঁপিয়ে দেয়৷

    মন্ত্রীবাক্যে আমার রোমে রোমে হর্ষ জাগছিল৷ এত কাজের মাঝেও আমার মতো একজন লেখকের লেখা ইনি পড়েছেন!

    —খরা বা অনাহারের ওপর আপনার তো তেমন লেখা দেখি না! এ সব নিয়েও তো আপনাদের লেখা উচিত৷ এই যে কালাহাণ্ডিতে এত বড়ো একটা অনাবৃষ্টি চলছে…

    —না, মানে… আমি ঘাড় চুলকোলাম, ওদিকে তো বড়ো একটা যাইনি৷ স্বচক্ষে না দেখলে আমি আবার ঠিক লিখতে পারি না৷

    —দেখে আসুন৷ ঘুরে আসুন৷ কে বলেছে আপনাকে না দেখে লিখতে৷ অন্ধ্র ওড়িশার দিকে কিছু কালচারাল ডেলিগেট পাঠাচ্ছি, যাবেন আপনি? সঙ্গে ট্যুরিং স্পটগুলোও দেখে আসতে পারেন৷

    আমি নীরব থাকি৷ নীরব থাকাটাই এ মুহূর্তের দস্তুর৷ শব্দহীনতাই শ্রেষ্ঠ সম্মতি৷

    স্থানীয় এক অডিটোরিয়ামে বেশ বড়োসড়ো সভার আয়োজন করেছেন উদ্যোক্তারা৷ আমার পুরস্কারটিও ভারি মনোরম৷ সপ্তাশ্ববাহিত রথে ছুটছেন সূর্যদেব৷ ব্রোঞ্জের মূর্তি৷ বেশ পাকা হাতের কাজ৷ সঙ্গে একটা শাল৷ ফুল৷ আর দশ হাজার টাকার চেক৷

    সভা ভাঙার পর স্থানীয় পত্রিকার কয়েকটা ছেলে আমার সাক্ষাৎকার নিতে এল৷ তারা শুধুই আমার স্টেজের ভাষণে তৃপ্ত নয়, নতুন করে তাদের আবার আমার লেখার উদ্দেশ্য বোঝাতে হবে৷

    ছেলেগুলোর প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে আমি যখন প্রায় বিধ্বস্ত, এক ছোকরা ঝপ করে জিজ্ঞাসা করে বসল, আপনি তো লেখক অনুতোষ দত্তকে খুব কাছ থেকে চিনতেন, তাই না?

    এ প্রশ্ন যে কখনো না কখনো উঠবেই আমি জানতাম৷ আজই সমস্ত বাংলা দৈনিকে অনুতোষের মৃত্যুসংবাদ বার হয়েছে৷ গহীন জলে ডুবে গেলেন উদীয়মান সাহিত্যিক৷ অনুতোষ দত্তর অপমৃত্যু৷ নদীতে তলিয়ে গেলেন সত্তর দশকের গল্পকার৷

    মুখ থেকে হাসি মুছে নিলাম, কে না তাকে চিনত ভাই৷ সে তো শুধুই গল্পকার ছিল না, সে ছিল আমার পরম সুহূদ৷ আমরা একসঙ্গে গল্পের কাগজ করেছি৷ গল্প নিয়ে কত হইচই করেছি৷ জীবনমুখী গল্পের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলেছি৷

    —কিন্তু আমরা তো গত পাঁচ-সাত বছর ধরে অনুতোষবাবুর সেরকম লেখা পাইনি? উনি কি লেখা ছেড়ে দিয়েছিলেন?

    সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিতে পারলাম না৷ প্রশ্নটা আমাকেও ধাক্কা মেরেছে অনেক বার৷ অনুতোষটা বড়ো এলোমেলো ছিল৷ সেটাই কি কারণ? আজ ক্যানিং ছুটছে, কাল বসিরহাট, পরশু মালদা, পরদিন কেঁদুলি৷ প্রবাদ ছিল অনুতোষকে নাকি একসঙ্গে একই সময়ে দক্ষিণেশ্বর, বেহালা আর সন্দেশখালিতে দেখা যায়৷ যে মানুষ এক মুহূর্ত নিজেকে স্থিত করতে পারে না, যার চিন্তায় কোনো গৃহস্থালি নেই, সে কি করে সাজিয়ে-গুছিয়ে গল্প লিখবে? শুধুই একবুক ভাব নিয়ে কি লিখে ওঠা যায়?

    আশ্চর্য! এই নিয়ে অনুতোষের কোনো দুঃখবোধ ছিল না৷ কিংবা হয়তো ছিল৷ কোনো কিছু ঠিক মনোমতো লিখতে পারছিল না বলেই ছটফট করত দিনরাত! উন্মত্তের মতো দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াত৷ লেখার উপকরণ খুঁজতে গিয়ে লেখাটাকেই হারিয়ে ফেলেছিল অনুতোষ৷

    আমি যুবকের দিকে তাকালাম, হয়তো অনুতোষ পারছিল না৷ লেখকরা অনেক সময়ই ভেতর থেকে ফুরিয়ে যায়৷

    এক তরুণ কপালে ভাঁজ ফেলে প্রশ্ন ছুঁড়ল, এই যে স্যাড দুর্ঘটনাটা, অনুতোষবাবুর হঠাৎ নৌকো থেকে পড়ে মারা যাওয়া, এর সঙ্গে কি ওঁর হতাশার কোনো যোগ আছে বলে আপনার মনে হয়?

    এত কচকচি আমার ভালো লাগছে না৷ অনুতোষ যখন জলে পড়ে যায়, তখন তার মনের অবস্থা কী ছিল আমি কী করে বলব? তাকে নিয়ে এত প্রশ্নের জবাবই বা কেন আমি দেব?

    হঠাৎ আমার নাকে ঘুষি মারল কেউ৷ আমি অনুতোষকে নিয়ে ভাবব না ঠিকই, কিন্তু অনুতোষ আমাদের জন্য ভাবত একসময়৷ আমাদের অনেকের জন্যই ভাবত৷ এই যে দীপিকা আজ দীপিকা হয়েছে, তার মূলেও তো অনুতোষ৷ কারণ ছাড়াই কী নাচানাচিটাই না করত দীপিকার লেখা নিয়ে! সেই দীপিকা গত মাসে কফিহাউসে বসে অবলীলায় নিন্দা করে গেল অনুতোষের৷ অনুতোষ আর আগের মতো বন্ধুবৎসল নেই৷ অনুতোষ অন্য সকলের লেখা নিয়ে এখন ভীষণ জেলাস৷ অনুতোষ এখন যাচ্ছেতাই!

    আরেকটা ঘুষি পড়ল নাকে৷ শুধু দীপিকা কেন, যার লেখা যখন ভালো লেগেছে, তার জন্য জীবনপাত করেনি অনুতোষ? নামি পত্রিকা থেকে নিজের গল্প তুলে নিয়ে অন্যের গল্প সম্পাদকের হাতে তুলে দেওয়াকে কী বলে?

    শুধু লিখতে না পারার হতাশা? না সঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা? কোনটা বেশি পীড়িত করেছিল অনুতোষকে?

    দূর, সঙ্গীরা কী করবে? আমি কী করব? অনুতোষের টালমাটাল চলার সঙ্গে যদি পা মেলাতে না পারি, সে দোষ কি আমার? তা ছাড়া অনুতোষ এখন ফুরিয়ে যাওয়া শক্তি৷ তার পত্রিকাটিও উঠে গেছে৷ কেউ আর তাকে পাত্তা দেয় না৷ কীসের জন্য বন্ধুরা তাকে আঁকড়ে থাকবে? হূদয় ছাড়া আর কী ছিল তার? সে নিজেই এক মূর্তিমান ব্যর্থতা!

    আমি কথা ঘুরিয়ে বললাম, হতাশা সব লেখকের মনেই থাকে৷ কোনো না কোনো ভাবে৷ হেমিংওয়ে তো লিখতে না পারার দুঃখে রিভলবার দিয়ে সুইসাইড করেছিলেন৷

    পাঁচটা বেজে গেছে৷ হেমন্তের দুপুর নির্জীব হয়ে আসছে ক্রমশ৷ উপহার কিটসব্যাগে গুছিয়ে উঠে দাঁড়ালাম, চলি ভাই৷

    যুবকদের মুখে অতৃপ্তির ছাপ ফুটে উঠেছে, আরও কয়েকটা প্রশ্ন ছিল যে৷ আচ্ছা, আপনি যখন লেখেন, তখন কি গল্পের পূর্ণ চেহারাটা আপনার চোখের সামনে ভেসে থাকে?

    এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে লাভ নেই৷ উত্তর দিলেই নতুন প্রশ্ন আসবে৷ আসবেই৷ এই বয়সে শুধুই প্রশ্ন জমা হতে থাকে বুকে৷ সার সার৷ বর্ষাঋতুর আগে পিঁপড়েদের মতো৷

    সামনের ছেলেটির কাঁধ চাপড়ে দিলাম, আবার আসব আমি৷ তখন যত খুশি প্রশ্ন করো৷ এখন আমার একদম সময় নেই৷

    চার

    রাতের শরীর মাড়িয়ে ফাঁকা বাস সাঁইসাঁই ছুটছিল৷ বর্ধমান থেকে লোকাল ধরে হাওড়া স্টেশন, স্টেশন থেকে বাস, এবার আমার ফেরার পালা৷ পুজোয় বেরোনো উপন্যাসটা নিয়ে আজ রাত থেকেই বসব ভাবছি৷ পুজোসংখ্যার জন্য তাড়াহুড়ো করে লেখাতে অনেক ফাঁকফোকর থেকে গেছে, বইমেলায় বই হয়ে বেরোবার আগে ভালোমতো ঘষামাজা দরকার৷ মাঝের দিকের চ্যাপ্টারগুলো বাড়াতে হবে, প্রকাশকরা বলে উপন্যাসটা একটু মোটার দিকে থাকলে কাটতিটা ভালো হয়৷

    হাজরার মোড় পার হয়ে বাসটা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেল৷ ড্রাইভার-কনডাক্টররা মিলে চেষ্টা করল খানিকক্ষণ, কয়েকবার গরগর করল বাস, হেঁচকি তুলল, তারপর পুরোপুরি নিথর৷

    গোটা পনেরো যাত্রী রয়েছে বাসে, সকলের মুখেই গৃহে ফেরার উদবেগ৷ হেমন্তের শিরশিরে বাতাসে কম্ফর্টার জড়ানো এক প্রৌঢ় কনডাক্টরদের উদ্দেশে হাঁক মারল, কী হে, পুরোপুরি দেহ রাখল নাকি?

    কনডাক্টর হেল্পারের কাছ থেকে বিড়ি নিয়ে ধরাল, বোধ হয় সেলফ ফেঁসে গেছে, কী বলো পার্টনার?

    ড্রাইভার গম্ভীর মুখে বলল, হ্যাঁ, ঠেলতে হবে৷

    চার মহিলা ছাড়া বাকিরা বাস থেকে নেমে পড়েছে৷ সকলের দেখাদেখি আমিও হাত লাগিয়েছি৷ হেঁইও মারি জোয়ানদারি! হেঁইও মারি জোয়ানদারি! একটু গড়িয়ে এবার একটা জোর হিক্কা তুলল বাস, তারপরেই পুরোপুরি মৃত৷

    অন্য যাত্রীরা ভাড়া ফেরত নিয়ে কনডাক্টরের সঙ্গে বচসা জুড়েছে, ছোট্ট ভিড় জমেছে রাস্তায়৷ মেহনতি জনগণের কাছ থেকে পয়সা উদ্ধার করা তাদের নিয়ে গল্প লেখার থেকে অনেক বেশি কঠিন৷ আমি আর দাঁড়ালাম না৷ বাড়ি পৌঁছতে মাইলখানেকও বাকি নেই, রাত হয়েছে হোক, এটুকু রাস্তা হেঁটেই মেরে দেব আজ৷

    চেতলা ব্রিজের কাছে এসে একটা সিগারেট ধরালাম৷ দুপুরের খাওয়া বেশ হেভি হয়ে গেছে এখনও মাংসের ঢেকুর উঠছে৷ সপ্তাশ্ববাহিত সূর্য আমার কাঁধে৷ মূর্তিটা তেমন ভারী নয়, তবু ঘাম হচ্ছে অল্প অল্প৷ ক্লান্তিতে৷ শারীরিক অস্বস্তিতে৷

    একটা ধোঁয়ার কুণ্ডলী ধেয়ে এল হঠাৎ৷ শ্মশানের দিক থেকে৷ মাংস হাড় আর চর্বি পোড়ার ধোঁয়া৷

    আমি নিথর৷ অনুতোষ তো এই শ্মশানেই এসেছিল আজ! কখন এসেছিল? কীসে পোড়ানো হল অনুতোষকে? ইলেকট্রিক চুল্লিতে? কাঠে? নাকি অনুতোষ লাশকাটা ঘর থেকে এখনও এসে পৌঁছতে পারেনি? কিংবা হয়তো এই এসে পৌঁছল সবে!

    আচমকাই ধোঁয়ামাখা বাতাস ফিসফিস করে উঠছে, আয় দীপেন, তোর জন্যই অপেক্ষা করছি রে! তোরা না এলে আমি যাই কেমন করে?

    আমার গা-ছমছম করে উঠল৷ আমার কান্না পেয়ে গেল৷ মাংসপোড়া গন্ধ আষ্টেপৃষ্টে জাপটে ধরছে আমাকে৷ দুপুরের মাংসের ঢেকুর জ্বালিয়ে দিল বুক৷

    কটু বাতাস আবার টানছে, আয় দীপেন! আয় দীপেন!

    হেমন্তের কুয়াশায় আমার স্বর ডুবে গেল, আমাকে ছেড়ে দে অনুতোষ৷ আমার হাতে এখন অনেক কাজ৷ আমার এখন সময় নেই রে৷

    ___

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুকুমার রায় রচনাবলী ২য় খণ্ড
    Next Article আয়নামহল – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }