Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমার এখন সময় নেই – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প184 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গ্রেটা গার্বো

    বয়স চবিবশ কি পঁচিশ৷ একটু বেশি হলেও হতে পারে৷ শরীরের গড়নপেটন চমৎকার, যৌবন যেন উপচে পড়ছে৷ একবার চোখ পড়ে গেলে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া কঠিন৷ হাইট প্রায় পাঁচ চার, মুখেও একটা আলগা লাবণ্য আছে৷ গায়ের রঙে গাছের পাতার আভাস৷ শুকনো শুকনো, তবে সবুজই৷ নাক ঈষৎ চাপা, কিন্তু চোখ দুটো বড়ো বড়ো, ড্যাবা ড্যাবা৷ মুখের মধ্যে সব থেকে আগে নজর কাড়ে চিবুকখানা৷ অসম্ভব ধারালো চিবুক, যেন অহংকারের ইস্পাত দিয়ে বাঁধানো৷

    আর্ট কলেজে ঢোকার পর থেকে রোজই প্রায়ই চোখে পড়ত তাকে৷ সদর স্ট্রিটে মিউজিয়ামের পাঁচিলের গায়ে দিব্যি একটা স্থায়ী সংসার পেতে বসেছে৷ উনুন হাঁড়ি কড়া থালা গেলাস, ভাঙা টিনের বাক্স, বস্তা পুঁটলি— কী নেই সেখানে! রোদ বৃষ্টিকে কলা দেখাতে মাথার ওপর পলিথিনের ছাউনিও বেঁধেছে একটা৷ যাদুঘরের রেলিং তার আলনা, সেখানেই ঝোলে কাপড়চোপড়৷ যাদুঘর যে গরিবদুঃখীদেরও কাজে লাগে, বুঝতে কোনো অসুবিধে হয় না৷

    ঘরকন্না অবশ্য তার একলার নয়৷ খানতিনেক কালোকুলো আধন্যাংটো বাচচা দামাল পায়ে চরে বেড়াত ফুটপাথে৷ বাচচাগুলোও মোটামুটি নধরকান্তি, দেখে মনে হত ভালোই খাবার-দাবার জোটে৷ মা বসে বসে কুটনো কুটছে, রান্না করছে, বাসন মাজছে, রাস্তার কলে ঘষা সাবান দিয়ে কাপড় কাচছে, বাচচারা এসে দুমদাম হামলে পড়ছে মা-র পিঠে, ওমনি তাদের হাতের ঝাপটায় বেড়ালছানার মতো সরিয়ে দিচ্ছে মা— এ ছিল নিত্য দৃশ্য৷

    আরও একটা দৃশ্য চোখে পড়ত আমাদের৷ পলিথিনের ছায়ায় সারাক্ষণই একটা লোক পড়ে পড়ে ঘুমোয়৷ সকাল দশটাতেও ভোঁস ভোঁস নাক ডাকাচ্ছে, দুপুরেও তাই, বিকেলেও৷ ক্কচিৎ কখনো তাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখা যায়৷ মিউজিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে রাজাবাদশার মেজাজে চায়ের ভাঁড়ে চুমুক মারে লোকটা৷ তার স্বাস্থ্যটিও দেখার মতো৷ ইয়া লম্বা চওড়া, রীতিমতো তাগড়াই জোয়ান, পেশিতে রোদ পিছলোয়৷ মুখভরতি জঙ্গল জঙ্গল দাড়ি, দু-চোখ পাকা করমচার মতো লাল, যেন এইমাত্র গাঁজার আড্ডা থেকে উঠে এল৷

    তা লোকটাকে নিয়ে আমার গল্প নয়, আমার কাহিনি তার সঙ্গিনীকে নিয়ে৷ আমরা ওর নাম দিয়েছিলাম গ্রেটা গার্বো৷ সম্ভবত ওই ধারালো চিবুকটার জন্যই৷ অথবা ওর ফিগার৷ তিন বাচচার মা হয়েও শরীরের কী বাঁধুনি!

    প্রথম প্রথম বন্ধুমহলে গ্রেটাকে নিয়ে গবেষণা চলত জোর৷

    —দেখেছিস, গোটা ফ্যামিলি কেমন তেলচুকচুকে? কী করে চলে রে গ্রেটাদের?

    —ভিক্ষে৷ ভিক্ষেই তো সবচেয়ে লাভজনক প্রফেশান৷ নো পরিশ্রম, মোটামুটি সেফ ইনকাম৷

    —উঁহু, গ্রেটা ভিক্ষে করে না৷

    —যাহ, ফুটপাথে সিকি আধুলিগুলো তবে পড়ে কেন?

    —লক্ষ্য করে দেখিস, গ্রেটা একটা পয়সাও তোলে না৷ বাচচাদেরও তুলতে দেয় না৷ সেদিন একটা সিকিতে হাত দিয়েছিল বলে বড়ো বাচচাটাকে কী পেটান পেটাচ্ছিল!

    —তাহলে পয়সাগুলো এমনি এমনিই পড়ে বলছিস?

    —অনেকেই তো হাঁ করে গ্রেটাকে গেলে৷ তারাই হয়তো কেউ কেউ দর্শনী দিয়ে যায়৷

    —কিন্তু গার্বো ফ্যামিলির তাহলে সোর্স অফ ইনকামটা কী?

    —বর কামায়৷

    —হতে পারে৷ ব্যাটা শিওর চোর৷ দিনে ঘুমিয়ে নেয়, রাতে তেল টেল মেখে…

    —ও ব্যাটা অতো ছোটোখাটো কাজ করার লোক নয়৷ ব্যাটা নির্ঘাত ডাকাত৷ কিংবা ভাড়াকরা খুনি লুঠেরা৷

    —তাহলে মোটা মালকড়ি থাকত৷ থোড়াই ডেরা বাঁধত ফুটপাতে৷

    —হয়তো এটাই ক্যামোফ্লেজ৷ কোনদিন দেখবি কাগজে বড়ো করে ছবি বেরিয়েছে৷ ডাকাতের বউ বলেই না গ্রেটার ভিক্ষে নিতে মানে লাগে৷

    —দিব্যি আছে মাইরি৷ কলকাতার একদম সেন্ট্রাল প্লেসে, মিনিমাম এসট্যাব্লিশমেন্ট খরচায়…

    হঠাৎই একদিন অভিজিৎ কলেজে একটা উড়ো খবর ভাসিয়ে দিল৷ গ্রেটা নাকি মোটেই ওর বরের পয়সায় খায় না, সে রীতিমতো গতর খাটিয়ে খায়৷ কিংবা বলা যায় গতর বেচে৷ অর্থাৎ সে একজন দেহোপজীবিনী৷ অভিজিৎ ডায়মন্ডহারবার লাইনের শিরাকোলে থাকে, গঙ্গার ধার থেকে বাস ধরে রোজ, সে নাকি ইডেন গার্ডেনের গেটে রঙচঙ মেখে গ্রেটাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে৷

    সঙ্গে সঙ্গে অভিজিতের পিছনে লেগে গেলাম আমরা৷

    নন্দিনী চোখ পাকাল— অ্যাই, আমাদের গ্রেটা গার্বোর ক্যারেক্টারে তুই কালি ছেটাচ্ছিস কেন?

    বিপাশা ভুরু নাচাল— তুই বুঝি ওইসব মেয়েদের দেখে বেড়াস?

    গুরুপদ চাঁটি কসাল— ঝেড়ে কাশ তো৷ তুই ট্রাই নিয়েছিলি নাকি?

    ঠাট্টা ইয়ার্কি হল ঠিকই, তবে অভিজিতের সংবাদটাকে আমরা পুরোপুরি উড়িয়েও দিলাম না৷ অমন যৌবন আছে, ভিক্ষাবৃত্তির বদলে গ্রেটা আদিম পেশা অবলম্বন করতেই পারে৷ তবে আমাদের মধ্যে একচোট তর্কও হয়ে গেল৷ অভিজিৎ-রমেন-নন্দিনী-বিপাশাদের মতে ওরকম নোংরা জীবন যাপন করার চেয়ে ভিক্ষে করা ঢের ভালো! বেশ তো গতর আছে, দেহ না বেচে লোকের বাড়ি খেটেও তো খেতে পারে৷ সমর গুরুপদ লোকেন্দ্র আর আমি অবশ্য বিপরীত মতের, ভিক্ষে করার চরম বিরোধী৷ আমরা গলা ফাটিয়ে বললাম, যেকোনো মানুষের যেকোনো স্বাধীন পেশা বেছে নেওয়ার অধিকার আছে৷ লোকের বাড়ি কাপড় কাচা বাসন মাজা যেমন এক ধরনের সার্ভিস, তেমন শরীর বিক্রিটাকেও আর এক ধরনের সার্ভিস বলে মেনে নিলেই হয়৷ এই যে মেয়েগুলো আমাদের কলেজে মডেল হতে আসে, পেটের তাড়নায় চোখ বুজে নিজেদের উন্মোচিত করে দেয়, আমরা শিল্পীরা কি তাদের হীন চোখে দেখতে পারি? না দেখাটা উচিত?

    তবে গ্রেটার বরটিকে নিয়ে কৌতূহল আমাদের রয়েই গেল৷ বউয়ের দেহ নিংড়ানো রোজগারে আয়েস করে খাচ্ছে দাচ্ছে ঘুমোচ্ছে… এ কেমন ধারার পুরুষ মানুষ?

    আমরা যখন সেকেন্ড ইয়ারের মাঝামাঝি, গ্রেটা তার চতুর্থ সন্তানটি প্রসব করল৷ যেতে আসতে দেখেছি গ্রীষ্মের প্রখর উত্তাপেও ইয়া বড়ো একখানা ভুঁড়ি নিয়ে অনায়াসে সংসারের কাজকর্ম করে চলেছে গ্রেটা৷ তারপর কবে হল, কোথায় হল, ভগবান জানে, একদিন দেখি ইঁদুরছানার মতো লাল লাল একটা বাচচাকে দুধ খাওয়াচ্ছে৷ লজ্জা শরমের বালাই নেই, ভারী ভারী স্তন দু-খানা পুরোপুরি উন্মুক্ত, অনেক পথচারীই তার দেহশোভা উপভোগ করছে, কিন্তু তা নিয়ে এতটুকু ভ্রূক্ষেপ নেই গ্রেটার৷ বরং সে যেন ওই দৃষ্টিতে গর্বই অনুভব করে৷ সত্যি কথা বলতে কি, আমরাও চোরা চোখে তাকিয়েছি৷

    লোকেন্দ্র তো একদিন বলেই ফেলল— ইশ, গ্রেটাকে দেখলেই আমার হাতটা কেমন নিশপিশ করে৷

    —তোরও? ইউ টুউ ব্রুটাস?

    —বডির কার্ভগুলো দেখেছিস? ওকে যদি মডেল করা যেত…

    গুরুপদ হা হা হেসে বলল— লাভ নেই বস, ও মডেল হবে না৷

    —কী করে বুঝলি?

    —একবার ট্রাই নিয়েছিলাম৷ প্রোপোজাল শুনে বলে, আমায় কী করতে হবে?

    আমি বললাম, কিছুই না, জাস্ট বসে থাকবে, তোমায় আমি আঁকব… পয়সাও পাবে…৷ শুনে গা মোচড়ালো, আর কী করতে হবে…? আমি বললাম, ব্যস ওইটুকুই৷… কিছুতেই রাজি হল না মাইরি৷ বলে, শুধু বসে বসে আমি রোজগার করি না৷ টাকা বেশি থাকলে অন্য লোককে বিলিও! প্রেগন্যান্ট গ্রেটার একটা স্কেচ করতে পারলে কী দারুণ হত বল?

    নন্দিনী মুখ বেঁকিয়ে বলল— পারিসও বটে তোরা৷ ফুটপাতের একটা নোংরা মেয়েমানুষ, মাথাভরতি উকুন, গায়ে গন্ধ… অ্যাপ্রোচ করলি কী করে৷

    তা ফুটপাতের মেয়েমানুষ ফুটপাতেই রয়ে গেল৷ নিজের মতো করেই৷ বছর দেড়েক পর আর একটা বাচচা বিয়োল, গিনিপিগের মতো বাচচাগুলো ঘুরে বেড়ায় ফুটপাতময়, আর মা বসে বসে রাঁধাবাড়া করে, বাচচা খাওয়ায়, উকুন বাছে, চুল আঁচড়ায়, তারপর অন্ধকার গাঢ় হলে খোঁপা বেঁধে কোমর দুলিয়ে বেরিয়ে পড়ে নিজের ধান্দায়৷ শরীর খানিক টসকেছে বটে, কিন্তু পেশা ছাড়েনি গ্রেটা৷

    বরটারও কোনো পরিবর্তন নেই৷ ঘুমোয়, ঘুমোয় এবং ঘুমোয়৷ আর মর্জি হলে চোখ লাল করে চৌরঙ্গি টহল দেয়৷ ছানাপোনাগুলোর ওপরেও লোকটার কোনো মায়ামমতা দেখি না৷ হয়তো ওগুলোকে নিজের বাচচা বলে মনেই করে না৷

    তা ছবিটা আচমকাই বদলে গেল একদিন৷

    আমরা তখন ফোর্থ ইয়ারে৷ সামনেই অ্যানুয়াল এগজিবিশান, আমাদের তখন নাওয়া খাওয়ার সময় নেই৷ ছবি আঁকছি, ছবি সাজাচ্ছি, এই স্যারের কাছে ছুটছি, ওই ম্যাডামের কাছে যাচ্ছি… ডিসেম্বরের শীতেও আমাদের গলদঘর্ম দশা৷ তার মধ্যেই বিপাশা হঠাৎ এসে বলল— অ্যাই বরুণ, আমাদের গ্রেটা গার্বো তো যায় যায়৷

    জুনিয়ার ক্লাসের একটা ছেলের সঙ্গে কথা বলছিলাম৷ ঘুরে তাকিয়ে বললাম,

    —কী হয়েছে?

    —খুব অসুখ৷

    —যাহ, এই তো কবে একটা দেখলাম বসে রোদ পোয়াচ্ছে…

    —না রে, পরশু থেকে বেচারা কাঁথা মুড়ি দিয়ে পড়ে৷ আজ ওই ফুটপাত ধরে আসছিলাম… একবার উঁকি মেরেছিলাম ওর ডেরায়…৷ যাচ্ছেতাই অবস্থা৷ বাচচাগুলো বাইরে হাত পা ছড়িয়ে কাঁদছে, আর গ্রেটা গুটিসুটি মেরে ঘঙঘঙ কাশছে…

    —তাই? …তা সেই ঘুমন্ত ডাকাতটি কোথায়?

    —দেখলাম না৷ …মনে হল ডাক্তার-ফাক্তারও দেখায়নি, ওষুধ-বিষুধও খায়নি…

    গ্রেটার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্কই নেই, আলাপই বা কতটুকু আছে? তবু আমাদের কলেজের ক-পা দূরে বসবাস করার সূত্রে ও আমাদের এক ধরনের প্রতিবেশী তো বটে৷ তা ছাড়া সেই ফার্স্ট ইয়ার থেকে দেখছি… খারাপই লাগল শুনে৷

    কলেজ থেকে বেরোতে সেদিন রাত হল৷ প্রায় সাড়ে আটটা বাজে৷ শীতের সন্ধে এর মধ্যেই বেশ জবুথবু মেরে গেছে৷ ময়দানে কুয়াশার পর্দা, গাছগাছালিগুলোকে কেমন ভূতুড়ে ভূতুড়ে লাগে৷ বাস ট্রাম চলছে, তবু একটা আলগা নির্জনতা যেন গ্রাস করে নিয়েছে চৌরঙ্গিকে৷ হ্যালোজেন পথবাতিও কেমন ম্রিয়মাণ এখন৷

    বাসস্টপে এসে দাঁড়িয়েছি, নন্দিনী ঠেলল— ওই দ্যাখ, গ্রেটার বরটা৷

    দেখলাম৷ মিউজিয়ামের বন্ধ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কার সঙ্গে যেন গুজগুজ করছে৷

    রমেন বলল— বউয়ের জন্য খদ্দের ফিট করছে নাকি?

    —হতে পারে৷ বউ জ্বরে কাবু, বেরোতে পারছে না…

    বিপাশা শিউরে উঠল— কী সাংঘাতিক! …অ্যাই, তোরা গিয়ে একটু কথা বল না, জিজ্ঞেস কর না বউয়ের কী হয়েছে৷

    —দুর, বাদ দে৷

    গুরুপদ বলল— আমি যাব? জেনে আসব?

    রমেন বলল— চল তবে?

    আমিই ডাকলাম— এই যে, শোনো৷

    লোকটা এগিয়ে এল— বলছিলেন কিছু?

    —কী হয়েছে তোমার বউয়ের?

    বুঝি একটু অবাকই হল লোকটা৷ চোখ কুঁচকে একবার কলেজটাকে দেখল, একবার আমাদের৷ ভারিক্কি গলায় বলল— ব্যামো হয়েছে৷

    —ওষুধপত্র খাইয়েছ কিছু?

    খাঞ্জা খাঁর কায়দায় বলল— ও এমনি জ্বরজারি৷ এমনিই সেরে যাবে৷

    —ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে একটা ডাক্তারখানা তো আছে, বিনা পয়সায় ওষুধ দেয়৷ ওখানে তো দেখিয়ে আনতে পার৷

    —বললাম তো, এমনি সারবে৷

    ধুত্তেরি ছাই, যার বউ তার গা নেই…! আমরাও আর বেশি মাথা ঘামালাম না৷ খেয়ে দেয়ে প্রচুর কাজ আছে আমাদের৷

    গ্রেটা আর আমাদের মগজেই ছিল না৷ বাৎসরিক প্রদর্শনীর রাজসূয় যজ্ঞ শেষ হওয়ার পর ছুটি পড়ল ক-দিন৷ জানুয়ারিতে আবার কলেজে এসেছি, নন্দিনী ঢুকেই বলল— গ্রেটার হাল খুব খারাপ রে৷ বোধ হয় আর বাঁচবে না৷ চল, একটু দেখে আসি৷ যাবি? চল না৷

    গ্রেটার আস্তানায় গিয়ে ঘাবড়ে গেলাম রীতিমতো৷ এ যে খুবই ঘোরালো পরিস্থিতি৷ বেচারা গ্রেটা বিছানায় প্রায় মিশে গেছে৷ চোখের নীচে গাঢ় কালি, চোয়ালভাঙা, চেহারায় সেই জৌলুসই নেই আর৷ বাচচাগুলোও কেমন ন্যাতা ন্যাতা হয়ে গেছে, ঝাঁক বেঁধে বসে মুড়ি খাচ্ছে খুঁটে খুঁটে৷ আপাদমস্তক কাঁথা মুড়ি দেওয়া গ্রেটা কাশির দমকে উঠে বসছে বারবার, আর হাপরের মতো হাঁপাচ্ছে৷

    গুরুপদ জিজ্ঞেস করল— কী ওষুধ খেয়েছ?

    আমাদের দেখে থতমত খেয়েছে গ্রেটা৷ দম নিয়ে বলল— জ্বরের বড়ি৷

    —তো জ্বর ছাড়ছে না কেন?

    —ছাড়ে৷ আবার আসে৷ বলতে বলতে ফের কাশি৷ গ্রেটা কাঁথা চেপেছে মুখে৷ স্তম্ভিত হয়ে দেখি কাঁথায় রক্ত!

    আমরা চারজন মুখ চাওয়াচাওয়ি করলাম৷ টিবি! এ তো মহা ফাঁদে পড়া গেল৷ শুকনো আহা উহু করে তো আর কেটে পড়া যায় না৷ জিজ্ঞেস করলাম— কবে থেকে রক্ত উঠছে? গ্রেটা নিজেও বোধ হয় জানে নিজের রোগের গুরুত্ব৷ অপরাধী মুখ করে বলল— বেশি নয়, এক আধদিন বেরোয়৷

    —এরকম জ্বর কদ্দিন ধরে হচ্ছে?

    উত্তর নেই৷

    নন্দিনী উবু হয়ে বসেছে৷ প্রশ্ন করল— তোমার বরকে দেখছি না?

    ধুঁকতে ধুঁকতেও গ্রেটা ঝেঁঝে উঠেছে— আ মরণ! ও আমার বর কেন হবে? ও আমার নাঙ৷ ওকে আমি রেখেছিলাম৷

    বৈপ্লবিক ঘোষণা! নন্দিনী বিষম খেল যেন৷ ঢোক গিলে বলল— ওই হল৷ তা তোমার ওই ইয়ে কোথায়?

    —কী জানি! খেতে দিতে পারছিলাম না৷ ভেগে গেছে৷

    —এই সময়ে কেটে পড়ল?

    —আমার গতর সারলে পরেই ফিরবে৷

    গুরুপদ বলল— একে তো এক্ষুনি হাসপাতালে দিতে হয় রে৷

    হাসপাতালের নাম শুনেই দাপুটে গ্রেটার সে কী হাউমাউ কান্না— আমি যাবনি, আমি যাবনি৷ আমি মরে গেলে আমার কচিগুলোর কী হবে?

    মার দেখাদেখি বাচচাগুলোও তারস্বরে কান্না জুড়েছে৷ প্যাঁ পোঁ মিলে সে এক ক্যাডাভ্যারাস কনসার্ট৷

    বিপাশা পেশাদার পশুপ্রেমিক৷ রাস্তার বহু নাছোড়বান্দা তে-এঁটে কুকুর বেড়ালকে সে বশ করে ফেলে৷ তার শরীরে ঘেন্নাপিত্তিও কম৷ গ্রেটার নোংরা বিছানায় বসে পড়েছে সে৷ গ্রেটার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলল— হাসপাতালে গেলে কেউ মরে নাকি? ওষুধ দেবে, পথ্য দেবে, একদম ঠিক হয়ে যাবে৷

    —না গো দিদিমণি, কচিদের ফেলে আমি কোত্থাও যাবনি৷

    —ওদের নিয়ে ভেবো না৷ আমরা তো আছি৷

    কী বুঝল কে জানে, গ্রেটা নিমরাজি মত হল শেষে৷ আর দেরি নয়, আমরা চাঁদা তুলে কলেজে একটা ‘সেভ গ্রেটা’ ফান্ড তৈরি করে ফেললাম৷ শিক্ষক শিক্ষিকারাও যথেষ্ট সহযোগিতা করলেন৷ প্রিন্সিপাল প্রভাব খাটিয়ে কাছেই এক মিশনারি হাসপাতালে ভরতির বন্দোবস্ত করলেন গ্রেটার৷ বাচচাগুলোকে জিম্মা করে দেওয়া হল গ্রেটার প্রতিবেশিনী এক কেঁদো ভিখারিণীর হাতে৷ অবশ্য মাগনা নয়, খরচা দিতে হত নিয়মিত৷ পার ডে তিরিশ টাকা, তখনকার দিনে নেহাত কম নয়৷

    বিপাশা নন্দিনী মাঝে মাঝেই যেত হাসপাতালে৷ ওদের মুখেই শুনলাম গ্রেটার অসুখের মূল কারণ চরম অপুষ্টি৷ অত রান্নাবাড়া তবে কার জন্য করত গ্রেটা? নিজে খেত না? আশ্চর্য, সেই হারামজাদাটা খেয়ে দেয় কেঁদো মোষ হয়ে পালিয়ে গেল? যাই হোক, স্বস্তির খবরও পেলাম৷ দুধটা ঘি-টা ডিমটা মাখনটা পাচ্ছে গ্রেটা, তার শরীর আবার ফিরছে, কড়া কড়া ওষুধ ইঞ্জেকশানে রোগও চাপা পড়ছে দ্রুত৷

    মাস খানেক পরেই হঠাৎ একদিন দেখি গ্রেটা আবার স্বস্থানে৷ বাচচাগুলো ফের গ্রেটার ঘাড়ে মাথায় নেচে বেড়াচ্ছে৷ শরীরের চেকনাই যদিও পুরো ফেরেনি, তবে অসুখ অসুখ ভাবটা নেই আর৷ হাসি হাসি মুখে দাঁড়ালাম ফুটপাথে— কী গো, ছাড়া পেয়ে গেলে?

    —উঁহু৷ গ্রেটা একগাল হাসল— পেইলে এসছি৷

    —সে কী? কেন?

    —ও আমার পোষাচ্ছিল না গো দাদা৷ নিত্যি নিত্যি মাছ মাংস ডিম… এই বড়ো গেলাসে দুধ… এদিকে আমার ছাওয়ালগুলো কী খাচ্ছে ঠিক নেই…

    —এ তো ভারি অন্যায় কথা৷ আমরা এত কাঠখড় পুড়িয়ে তোমায় একটা ভালো জায়গায় ভরতি করলাম…

    —আমি সেরে গেছি দাদা৷ আর জ্বর আসে না৷

    —কিন্তু এখনও নিশ্চয়ই ওষুধপত্র দরকার…!

    —ওষুধ আর লাগবে না৷ পেট ভরে ভাত খাব, সেরে যাবে৷

    মনে মনে বললাম, হ্যাঁ আবার ওই ময়দানের অন্ধকারে ছোটো!

    গ্রেটা কাঁদো কাঁদো মুখে বলল— আর আমি হাসপাতালে যাবনি গো দাদা৷ আমার ছাওয়ালগুলোন তবে এক্কেরে নষ্ট হয়ে যাবে৷ জানো, ওই মিনতি হারামজাদি আমার হাবু পটলিকে এর মধ্যেই ভিক্ষে করা শিখিয়ে দিয়েছে!

    গম্ভীর সমস্যা! কেড়েকুড়ে খাক, চোরবদমাশ বনুক, বেশ্যা হয়ে যাক… তা বলে গ্রেটা গার্বোর বাচচারা ভিখিরি? নৈব নৈব চ!

    নাহ, এত গভীর জীবনদর্শন আমার মাথায় সিঁধোবে না৷ ক্লাসে এসেই বন্ধুদের গ্রেটার প্রত্যাবর্তন সমাচার শোনালাম৷ শুনে সকলের মাথায় হাত৷

    নন্দিনী ভার মুখে বলল— এখন প্রিন্সিপালের কাছে মুখ দেখাব কী করে?

    অভিজিৎ ঠোঁট ওল্টাল— এই জন্যই তো ওই ছোটোলোক ক্লাসের জন্য কিছু করতে নেই৷

    গুরুপদ বলল— দেখতে হবে না, ক-দিন বাদেই আবার মুখ দিয়ে রক্ত তুলবে৷

    রমেন কাঁধ ঝাঁকাল— যা খুশি হোক, আমরা আর ওর ব্যাপারে নেই৷

    মুখে বললাম বটে, কিন্তু গ্রেটাকে পুরোপুরি ঝেড়েও ফেলা গেল না৷ গ্রেটাই ডেকে ডেকে কথা বলে৷ তার চোখে আমরা তখন পুরুষও নই, নারীও নই, শিল্পীও নই, একেবারে পুরোদস্তুর ভগবান৷ গ্রেটার জীবনকাহিনিও অনেকটাই জানা হয়ে গেল আমাদের৷ তার বাড়ি নাকি সুন্দরবনের অতি প্রত্যন্ত অঞ্চলে৷ গ্রামের নাম নটেখালি, বিস্তর নদীনালা টপকে সেখানে পৌঁছতে হয়৷ ট্রেনে ক্যানিং, মাতলা টপকে ডকের খেয়া, ভ্যানরিক্সায় সোনাখালি, সেখান থেকে পুরন্দর পার হয়ে বাসন্তী, আবার ভ্যানরিক্সা, ফের গাঙ পেরিয়ে গোসাবা, ফের ভ্যানরিক্সা, ফের গাঙ পেরোনো… সে যাকে বলে রেকারিং ডেসিমেল৷

    আমরা জিজ্ঞেস করি— তা তুমি সেখান থেকে এখানে পৌঁছলে কী করে?

    —ওই ভবই আমায় ফুঁসলে নে এল৷

    —ভব মানে তোমার সেই রাখেলটা?

    —নাউকে তোমরা বুঝি রাখেল বলো?… ওর সঙ্গে আমার পিরিত হয়েছিল গো৷ শ্যামটি সেজে বংশী বাজাল, আমিও আমার আয়ান ঘোষ ছেড়ে…

    —আয়ান ঘোষ? আই মিন তোমার স্বামী?

    —স্বামী নয়, বলো ঢ্যামনা৷ সুখ দেওয়ার মুরোদ নেই, বউ পোষার শখ!

    —বাচচা কাচচা হয়েছিল তখন?

    —বললাম না ক্ষ্যামতা ছিল না? সেই জন্যই তো ত্যাগ দিলাম৷

    কে বলে এ দেশে নারী স্বাধীনতা নেই৷ এ যে দেখি নিজেই কোর্ট, নিজেই জজ!

    —তা তোমার ভবকে বিয়ে করোনি কেন?

    —ঢ্যামনাটাকে ছাড়ার সময়েই পণ করেছিলাম, পুরুষমানুষকে আর বিয়ে করবনি৷ রাখব৷

    —বাহ, অসাধারণ! কিন্তু তোমার ভবর রোজগারপাতিতে এত অনীহা কেন?

    —আহা, সে কেন খাটতে যাবে? আমি আছি কী করতে? মাগ যদি মরদেরটা খেতে পারে, মরদ কেন মাগেরটা খেতে পারবে না? তার অমন রাজার মতো রূপ, খাটলে পরে সোনার অঙ্গ কালি হয়ে যেত নি?

    —কিন্তু সেই রাজা যে এখন ভাগলবা হল?

    —ফিরবে ফিরবে৷ আমি ছাড়া তার গতি কী!

    হ্যাঁ, গ্রেটার এরকমই বিশ্বাস ছিল৷ তবে গ্রেটার রাজার সঙ্গে গ্রেটার পুনর্মিলন দেখার সৌভাগ্য হয়নি আমাদের৷ গ্রেটাও নতুন উদ্যমে নেমে পড়ল তার নিজস্ব ধান্দায়৷ আমরাও পাস-টাস করে ছড়িয়ে পড়লাম যে যার মতো৷ বছরখানেকের মাথায় একটা ফ্রেঞ্চ স্কলারশিপ জুটে গেল আমার৷ এক বছরের স্কলারশিপ নিয়ে নিজেই চেষ্টাচরিত্র করে আরও বছর তিনেক কাটিয়ে দিলাম প্যারিসে৷ কলকাতা ফিরেই ঢুঁ মারতে গিয়েছিলাম কলেজে৷ কিন্তু সদর স্ট্রিটের মুখে গ্রেটার আর দেখা পাইনি, তার সাধের সংসারটিও উধাও৷ শুনলাম ঝুপড়ি-টুপড়ি সব ভেঙে দিয়েছে পুলিশ৷

    গ্রেটাকে আস্তে আস্তে প্রায় ভুলেই গেলাম৷

    আঁকাআঁকি নিয়েই থাকি৷ বিয়ে একটা করে ফেললাম বটে, কিন্তু সে বিয়ে টিকল না৷ বছর কয়েক ব্রহ্মচারী থেকে ফের মাথা মোড়ালাম৷ ক্রমশ একটা থিতু সংসার গড়ে উঠল আমার৷ পাশাপাশি নিজেকে ভাঙতে ভাঙতে আঁকার জগতেও পনেরো বছরে পৌঁছেছি একটা জায়গায়৷ চিত্রশিল্পী হিসেবে আমাকে মোটামুটি নামিই বলা চলে৷

    এই সেদিন দুপুরে পার্ক স্ট্রিটের পরিত্যক্ত কবরখানাটার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম৷ হঠাৎই মনে পড়ে গেল ক-দিন ধরেই কিছু পাতাবাহার গাছের কথা বলছে মৈত্রেয়ী৷ আমাদের সদ্য কেনা ফ্ল্যাটটা সাজাবে৷ মৈত্রেয়ীর খুব গাছের শখ, ঘরবাড়িকে সবুজ দেখতে ভালোবাসে৷ দাঁড়িয়ে গেলাম৷ আজই নিয়ে নেব? এক্ষুনি? বাড়ি কি ফিরব এখন?

    দোনামোনা করতে করতে ঢুকেই পড়লাম ভেতরে৷ এই কবরখানার হাড়হদ্দ আমার চেনা, কলেজজীবনের অনেক সোনালি মুহূর্ত ছড়িয়ে আছে এখানে৷ এই মধ্যবয়সে হঠাৎ হঠাৎ এসে পড়লে ভালোই লাগে৷

    এখানকার নার্সারিটাও পুরোনো৷ এখনও আমায় চিনতে পারল বুড়ো মালিটা৷ ওই আমায় বেছে বেছে গাছ দিল গোটা পাঁচেক৷ সাইকাস, আডেনিয়াম, জেড আর তরতাজা দুটো এরিকা পাম৷ টবগুলো আলাদা করে রেখে একটু ঘুরছিলাম চারদিক৷ কত যুগ আগের মৃত মানুষ এখানে শুয়ে আছে সার সার৷ কোথাও ছোট্ট করে এপিটাফ লেখা সমাধি, কোথাও গথিক স্থাপত্যের মনোরম স্মৃতিসৌধ৷ ভেঙে ভেঙে পড়ছে সব, ইঁট বেরিয়ে পড়েছে, তবু ইতিহাস এখনও যেন মুখর এখানে৷ ওই তো ওখানে চার্লস ডিকেন্সের ছেলে শুয়ে, ওই তো ওখানে শায়িত রয়েছেন উইলিয়াম জোনস…৷ আগে জায়গাটা গাছ আগাছায় আরও কত সবুজ ছিল, এখন দেখলাম একদিকের কোণ কেমন ন্যাড়া ন্যাড়া৷ ওদিকে তো বেশ কিছু বড়ো বড়ো শিরীষ শিমুল ছিল৷ কোথায় যে গেল!

    হাঁটতে হাঁটতে পিছন ভাগটায় চলে এসেছি৷ সহসা দৃষ্টি স্থির৷ একটা প্রায় ভাঙা স্মৃতিফলক, তার পাশে এক জীবন্ত কঙ্কাল!

    হাড্ডিসার দেহ ঝুঁকে পড়ে কী যেন খাচ্ছে হাপুস হুপুস করে৷ পরনে একটা কালো চিট কাপড়ের টুকরো, খালি গা, রুক্ষ চুলে থোকা থোকা জটা৷ শুকনো চিমসে স্তন ঝুলে আছে কাপড়ের পাশ দিয়ে৷

    কী খাচ্ছে ওটা? বুভুক্ষুর মতো? ভাত?

    পায়ের শব্দ পেয়ে জ্যান্ত শব চোখ তুলেছে৷ ড্যাবাড্যাবা চোখে দু-এক পল দেখল আমায়৷ আবার ডুব দিয়েছে আহারে৷ চটপট হাত চালাচ্ছে, কষ বেয়ে গড়াচ্ছে খাদ্যরস৷

    মুখটা খুব চেনা চেনা যেন? বড়ো বড়ো চোখ, নিখুঁত ভি শেপ চিবুক…!

    গ্রেটা গার্বো না?

    হ্যাঁ, গ্রেটাই তো৷ কিন্তু এ কী চেহারা হয়েছে?

    পায়ে পায়ে কাছে গেলাম— কি গো, চিনতে পারছ?

    গ্রেটা তাকালই না৷ হাত চাটছে এক মনে৷

    —মনে পড়ছে না? সেই যে তোমার অসুখ করল, হাসপাতালে নিয়ে এলাম…৷

    শুনছে কি আদৌ?

    বুড়ো মালি ডাকছে পিছন থেকে— কার সঙ্গে কথা বলছেন বাবু? ও তো পাগলি৷

    সরে এসে মালিকে জিজ্ঞেস করলাম— এ কবে থেকে এখানে আছে?

    —তা হবে এক দু-বছর৷

    —কেউ নেই ওর?

    —কী জানি বাবু, বলতে পারব না৷ কখনো ফুটপাথে পড়ে থাকে, কখনো কবরখানায়…৷ মালি দাঁত বার করে হাসল— পাগলির কিন্তু খুব তেজ৷ কেউ খেতে দিলে খায় না, পয়সা দিলে নেয় না… দিতে গেলে উল্টোপাল্টা কথা বলে৷

    —তো খাবার জোটে কোত্থেকে?

    —ঘুরে ঘুরে ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে বাড়িয়ে আনে৷

    —ও৷

    —আপনার ট্যাক্সি ডাকব বাবু?

    —ডাকো৷

    মালি চলে যেতেই আবার গ্রেটার কাছে গেলাম— তোমার ছেলেপুলেগুলো সব কোথায়?

    গ্রেটা যেন এবার ভুরু কুঁচকে শুনল কথাটা৷ দু-দিকে মাথা দোলাচ্ছে৷

    —আর তোমার সেই ভব?

    চমকে চোখ তুলেছে গ্রেটা৷ তাকিয়ে রয়েছে নিষ্পলক৷

    আহা রে, সবাই গ্রেটাকে ছেড়ে চলে গেছে৷ মায়ায় ভরে গেল বুকটা৷ উবু হয়ে বসলাম সামনে৷ পকেট থেকে একখানা একশো টাকার নোট বার করে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম— শোনো, এটাকে ভিক্ষে বলে মনে কোরো না৷ রাখো৷ রেখে দাও…

    কথা শেষ হল না, অদ্ভুত এক কাণ্ড করে বসল গ্রেটা৷ টাকাটার দিকে ঝলকে তাকিয়েই গায়ের আঁচলখানা ফেলে দিয়েছে৷ হলদেটে চোখে বিদঘুটে এক কটাক্ষ হানল৷ বিস্মৃত স্বরে বলে উঠল— শুবি আমার সঙ্গে? শুবি? আয়৷ আয়৷

    চৈত্রের হাওয়া ঘূর্ণি তুলছে কবরখানায়৷ ধুলো উড়ছে, শুকনো পাতাও৷ রোদ্দুর শুষে নিচ্ছে ছায়াকে৷ জীর্ণ বুকের খাঁচায় ঝুলছে দু-টুকরো চামড়া৷

    আমার গা শিরশির করছিল৷

    গ্রেটার সঙ্গে সেই আমার শেষ দেখা৷ মাস আটেক পরে আর একবার গিয়েছিলাম কবরখানায়৷ গ্রেটা তখন মরে গেছে৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুকুমার রায় রচনাবলী ২য় খণ্ড
    Next Article আয়নামহল – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }