Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমার এখন সময় নেই – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প184 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বনলতা

    কলেজে গরমের ছুটি৷ দুপুরবেলা খেয়ে উঠে পরীক্ষার খাতার স্তূপ নিয়ে বসেছি, হঠাৎ কলিংবেলের ঘ্যাঁ ঘ্যাঁ৷ উফ এখন আবার কে এল? নির্ঘাত সেলসগার্ল৷ আজকাল এই এক হয়েছে, সারাটা দুপুর উৎপাত চালায় মেয়েগুলো৷ শ্যাম্পু, সাবান, ক্রিম, বড়ি, আচার, ধূপ, ফিনাইল, ব্রা, প্যান্টি কিছু না কিছু গছানোর জন্য হানা দেয় অবিরাম৷ বাড়িটা বড়ো রাস্তায় হয়ে আরও যেন জ্বালা হয়েছে, এদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া মুশকিল৷

    আবার বেল বাজল৷ আবার৷ আমার সবিতারানি গেলেন কোথায়? না বলে পাড়া বেড়াতে বেরোলেন নাকি? না ভোঁস ভোঁস নাক ডাকাচ্ছেন?

    অগত্যা উঠতেই হল৷ বিরক্ত মুখে চোখ রাখলাম দরজায় ম্যাজিক হোলে৷ ওপারে এক বয়স্কা মহিলা৷ বৃদ্ধাই বলা যায়৷ পরনে সাদা শাড়ি, চোখে কালো ফ্রেমের চশমা, কাঁধে ঝোলা ব্যাগ৷ দেখে ঠিক সেলসগার্ল মনে হয় না৷ ডাকাত টাকাতও না৷

    খুললাম দরজা— বলুন?

    হাত জোড় করে নমস্কার করলেন মহিলা৷ মুখে একটা কৃপাপ্রার্থী, কৃপাপ্রার্থী হাসি— আমি একটা চ্যারিটেবল সংস্থা থেকে আসছি৷ সামান্য কিছু সাহায্যের জন্য৷

    মহিলার মুখটা যেন ভারি চেনা চেনা! কোথায় দেখেছি? কোথায় দেখেছি? বেশিক্ষণ স্মৃতি হাতড়াতে হল না৷ অস্ফুটে বলে উঠলাম— বনোদি না?

    মহিলা থতমত খেয়ে গেছেন— হ্যাঁ মানে… আপনি…

    —আমাকে চিনতে পারছেন না দিদি? আমি আপনার ছাত্রী৷ সর্বাণী৷ আপনি আমাদের সেন্ট মারিয়া গার্লস স্কুলে…৷ বলতে বলতে ডেকেছি— আসুন, আসুন, ভেতরে আসুন৷

    অপ্রস্তুত বনোদি লজ্জিত মুখে বললেন— আমি তোমাকে ঠিক…?

    —আপনার কী করে মনে থাকবে? সেই কবেকার কথা৷ আমি আটষট্টির হায়ার সেকেন্ডারি৷ আপনি আমাদের ক্লাসটিচার ছিলেন এক বছর৷ সেই ক্লাস ফোরে৷

    ঈষৎ গুটিয়ে থাকা বনোদিকে প্রায় হাত ধরে এনে বসালাম সোফায়৷ পাখা চালিয়ে দিয়েছি৷ ওঘরে পার্ট ওয়ান পাসের ইতিহাসের খাতা ডাঁই হয়ে পড়ে, সামনের রোববারের মধ্যেই জমা দিতে হবে, এখন এক মুহূর্ত সময় নষ্ট মানে সমূহ বিপদ, তবু মন খুশিতে ভরে উঠল৷ ছোট্টবেলাকার স্কুলের দিদিমণিকে হঠাৎ দরজায় দেখলে কোন ছাত্রীর না ভালো লাগে৷ বিশেষ করে এই মধ্যবয়সে পৌঁছে!

    বনলতা বিশ্বাস ছিলেন আমাদের প্রাইমারি সেকশনের টিচার৷ ভারি যত্ন করে ইংরেজি পড়াতেন বনোদি, বলতে গেলে ওই বিদেশি ভাষা শিক্ষার ভিত আমাদের তৈরি হয়েছিল বনোদির হাতেই৷ শুদ্ধ উচচারণ, সিলেবল ভাগ করে করে সঠিক বানান লেখা, ইংরেজি ব্যাকরণের প্রাথমিক পাঠ সুন্দরভাবে গুছিয়ে মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দিতে পারতেন বনোদি৷ প্রতি পদেই আমরা ভুল করতাম, কিন্তু বনোদিকে কখনো রাগতে দেখিনি৷ হাসিমুখে বলতেন, মন দে মন দে, ওরে মেয়ে যা বলছি মাথায় রাখ৷

    বাইরে প্রখর গ্রীষ্ম৷ গনগনে তাত৷ পাখার হাওয়াও যেন গায়ে লাগছে না৷ বনোদি রুমালে ঘাড় গলা মুছছেন, হাঁপাচ্ছেনও যেন অল্প অল্প৷ চোখে এখনও বিস্ময়৷

    বনোদি কী দরকারে এসেছেন প্রায় ভুলেই গেছি৷ বললাম— আপনাকে একটু সরবত করে দিই দিদি?

    —না না, অযথা কষ্ট করবে কেন? বরং এক গ্লাস জল দাও৷

    —কিছু কষ্ট হবে না৷ একটু ঠাণ্ডা জলে লেবু নুন চিনি দিয়ে… রোদ্দুরে এসেছেন, ভালো লাগবে৷

    —দাও তবে৷ বেশি ঠাণ্ডা দিও না৷ আমার সহ্য হয় না৷

    সবিতা রান্নাঘরেই শুয়ে৷ থসথসে গরমেও কেমন ঘামছে দ্যাখো৷ ঠেলে তুলতে গিয়েও তুললাম না নিজের হাতেই যত্ন করে বানিয়েছি সরবত ট্রেতে বসিয়ে এনে রাখলাম সেন্টার টেবিলে— নিন দিদি৷

    গ্লাসে চুমুক দিচ্ছেন বনোদি, আমি দেখছি বনোদিকে৷ মুখখানা ভারি মিষ্টি ছিল বনোদির৷ সুন্দরী নয়, তবে একটা লাবণ্য ছিল চেহারায়৷ ছোটোখাট্টো রোগাসোগা গড়ন, শ্যামলা শ্যামলা রং, একমাথা কোঁকড়া চুল বনোদি কেমন যেন প্রজাপতির মতো উড়ে উড়ে বেড়াতেন৷ এখন বয়স অনেক কিছুই কেড়ে নিয়েছে৷ রঙটা কেমন খসখসে হয়ে গেছে বনোদির, চুলও কমে গেছে অনেক৷ কপালে, গালে, গলায় চোখের নীচে বলিরেখার দাগ অতি স্পষ্ট৷ কত বয়স হল বনোদির? পঁয়ষট্টি? সত্তর?

    সরবতটুকু খেয়ে বনোদি যেন বেশ আরাম পেলেন৷ গ্লাস নামিয়ে রেখে তৃপ্ত মুখে বললেন— হ্যাঁ, যা বলছিলাম৷ আমাদের একটা ছোটো হোম মতন আছে৷ দুঃস্থ মেয়েদের জন্য৷ এই ধরো, যাদের স্বামী পরিত্যাগ করেছে, যাদের কোথাও যাওয়ার নেই, সমাজ যাদের নানান কারণে নেয় না… তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মতো একটু ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করি আমরা…

    —বাহ৷ খুব ভালো৷.. কিন্তু আপনি এখনও এসব করেন? এই বয়সেও?

    —অথর্ব যখন হয়ে পড়িনি, চুপচাপ বসে থাকব কেন? যতটুকু পারি করি, আমার সাধ্য মতন৷ বলেই আবার কাজের কথায় ফিরলেন বনোদি— হোমটা খুবই ছোটো, এখন আঠারোটা মেয়ে আছে৷ তাদের খরচখরচা চালানো…

    —গভর্নমেন্ট থেকে গ্রান্ট পান না কিছু?

    —পাওয়ার চেষ্টা করছি৷ তবে সে অনেক ঝঞ্ঝাট৷ চিঠিচাপাটি চলছে, ধরাধরিও করছি, কিন্তু…৷ নিজেরাই তাই ঘুরে ঘুরে যতটা পারি টাকাপয়সা তোলার চেষ্টা করি আর কী৷ অনেক ধরনের খরচা আছে তো৷ মেয়েগুলোর খাওয়া, পরা, নানান রকম হাতের কাজ শেখানো হচ্ছে তাদের৷ তারও একটা খরচ আছে…

    —এভাবে বাড়ি বাড়ি ঘুরে চাঁদা ওঠে?

    —দেয় অনেকে৷ বনোদি আলগা হাসলেন— বেশির ভাগই অবশ্য হাঁকিয়ে দেন৷ তাও পাঁচ টাকা দশ টাকা করে যা ওঠে, তাই বা কম কী!

    —চলে তাতে?

    —আমরা যারা চালাচ্ছি, তারাও দিই যতটা পারি৷ তা সাধ থাকলেও আমাদের ক্ষমতা কতটুকু? কত মেয়ে এসে কান্নাকাটি করে, আমরা তাদের জায়গাই দিতে পারছি না…

    —যেটুকু করেন, তাই বা কে করে৷ আমি অকপট ভাবেই মুগ্ধতাটা জানালাম৷ বললাম— আমি তো ভাবতেই পারছি না এই বয়সেও আপনি এত বড়ো একটা কাজ করছেন!

    —বড়ো-টড়ো কিছু নয়৷ মানুষ হয়ে জন্মেছি, যতটুকু পারি মানুষের জন্য করা…

    —আপনি রিটায়ার কবে করেছেন দিদি?

    —সাত বছর৷

    বনোদির সঙ্গে ক্লাস ফোরের পর আমাদের আর তেমন যোগাযোগ ছিল না, উঁচু ক্লাসে পড়াতেন না বনোদি৷ হয়তো তত কোয়ালিফিকেশান ছিল না বলেই৷ অবশ্য স্কুলে থাকতে দিদিমণিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনোদিনই আমাদের কোনো প্রশ্ন জাগেনি৷ জাগেও না৷ তেমন বিশেষ কারণ না থাকলে তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নয়৷ হয়তো কারুর স্বামী মারা গেছেন, কিংবা কারুর নতুন বিয়ে হয়েছে… তাই নিয়ে দু-চারদিন চাপা কানাকানি হয়, ব্যাস ওইটুকুই৷ বনোদির ক্ষেত্রে সেরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি কখনো৷ আজ বনোদিকে দেখে কৌতূহল হচ্ছিল অল্প অল্প৷ এখন শিক্ষিকা ছাত্রীর ব্যবধানটা নেই, এখন তো জিজ্ঞেস করে ফেলাই যায়৷

    —বাড়িতে আপনার কে কে আছেন দিদি?

    —আমি৷ আর আমার ছেলে৷

    —ছেলে কী করেন?

    —ওর একটু সমস্যা আছে৷ ছোটোবেলায় বিশ্রী টাইফয়েড হয়ে মাথাটা কমজোরি হয়ে গেছে৷ লেখাপড়াও সেভাবে করতে পারেনি, কাজকর্মও গুছিয়ে করে উঠতে পারে না, ঘরেই বসে থাকে সবসময়৷

    —ও৷ প্রশ্নটা করেই অস্বস্তিতে পড়ে গেছি, কথা বলতে পারছিলাম না৷ মনে মনে অনুমান করে নিলাম স্বামীও মারা গেছেন নিশ্চয়৷ অথবা অন্য কোনো দুঃখজনক ঘটনাও থাকতে পারে৷ তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আর প্রশ্ন করাটা শোভন নয়৷

    ছেলের কথা বলতে গিয়ে পলকের মধ্যে মেঘ জমেছিল বনোদির মুখে, পলকেই মিলিয়ে গেছে৷ হেসে বললেন— তুমি তো খুব গিন্নিবান্নি হয়ে গেছ দেখছি৷ পাক্কা হাউসওয়াইফ৷

    —না না, আমি হাউসওয়াইফ নই৷ চাকরি করি৷

    —তাই নাকি? কোথায়?

    —একটা কলেজে পড়াচ্ছি৷ ইতিহাস৷

    —বাহ বাহ, খুব ভালো লাগল শুনে৷ আমার কোনো ছাত্রী পড়ানোর পেশায় আছে শুনলে আমার এত আনন্দ হয়৷… স্বামী কী করেন? তিনিও পড়ান?

    —না, ও ব্যাঙ্কের অফিসার৷

    —ছেলেপুলে?

    —একটিই ছেলে৷ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে৷ কানপুর আই আই টিতে৷

    —ছেলে তাহলে খুব ব্রাইট বলো৷

    —ওই আর কী৷ নরেন্দ্রপুরে পড়ত, ওখান থেকেই পাশ করে… বাক্যটা মাঝপথেই থামিয়ে দিলাম৷ বনোদির বিফল সন্তানের তুলনায় আমার ছেলে অনেক বেশি সফল, এ সত্যটা আমায় যেন হঠাৎ অসহজ করে তুলল৷

    বনোদির হাসি কিন্তু টাল খায়নি একটুও৷ দারুণ উচ্ছ´সিত গলায় বললেন— আমার ছাত্রীরা সার্থক মা হয়েছে শুনলেও আমার এত গর্ব হয়৷ ভালো থাকো তুমি, আরও সুখে থাকো৷

    মৃদু হেসে প্রসঙ্গটা ঘুরিয়ে দিলাম এবার৷ অন্য প্রশ্ন করছি বনোদিকে৷ স্কুলের কী খবর, অন্যান্য শিক্ষিকারা কে কেমন আছেন, অনিমাদি এখনও হেড মিস্ট্রেস আছেন কিনা…৷ বনোদি অবশ্য সব বলতে পারলেন না, স্কুলের সঙ্গে সম্পর্ক তো তাঁরও অনেক দিন চুকে গেছে৷ তবে বনোদির সঙ্গে কথা বলতে বলতে হারানো একটা গন্ধ যেন খুঁজে পাচ্ছিলাম৷

    হঠাৎ এক সময়ে বনোদি বললেন— এবার তো আমায় উঠতে হবে সর্বাণী৷

    ইঙ্গিতটা বুঝে বললাম— কত দেব দিদি?

    —যা তোমার খুশি৷

    শোওয়ার ঘরে গিয়ে আলমারি খুলে ভ্যানিটিব্যাগ বার করলাম৷ কত দিই? পঞ্চাশ দেব? না একশো? একশোই দি৷

    বনোদি টাকাটা পেয়ে ভীষণ খুশি৷ ঝোলাব্যাগ থেকে একটা বই বার করে রসিদ লিখে দিলেন ঝটপট৷ বললেন— এই যে তুমি দুঃখী মেয়েদের জন্য ভাবলে, এইটাই আমার সব চেয়ে বড়ো পাওয়া সর্বাণী৷

    ভারি প্রসন্ন মুখে চলে গেলেন বনোদি৷

    এরপর থেকে মাঝে মাঝেই আসা শুরু হল বনোদির৷

    মাস খানেকের মাথায় এসে বেশ কয়েকটা পুরোনো শাড়ি জামা নিয়ে গেলেন৷ হোমের মেয়েরা পরবে৷ হপ্তা তিনেক পর ফের এলেন, এবার প্রার্থনা টাকা৷ মেয়েদের জন্য উল বোনার মেশিন কিনবেন, চাঁদা তুলে তুলে৷ আমি থাকি না বলে এখন আর দুপুরের দিকে আসেন না, হয় সন্ধেবেলা, নয় বেছে বেছে ছুটির দিন৷ পুজোর মুখে মুখে এসে আরও শ-খানেক টাকা নিয়ে গেলেন৷ পুজোর সময়ে মেয়েগুলো পুরোনো কাপড়ে ঘুরবে এ নাকি তার বুকে বাজছে! শীতের মুখে মুখে এলেন একবার৷ মেয়েদের হাতের কাজের একটা প্রদর্শনী করতে চান, কোনো ছোটো হল ভাড়া নিয়ে, সেখানেও আমার সাহায্য দরকার৷

    লেবু চটকালে তেতো হয়৷ আমি ক্রমশ উত্যক্ত বোধ করছিলাম৷ ছাত্রী পরিচয় দিয়ে এ তো মহা গেরো হল৷ কলেজে পড়াই জেনে আরও যেন জোর পেয়ে গেছেন৷ ভাবছেন টাকার গাছের দর্শন মিলেছে৷ একে ঝাঁকালেই কিছু না কিছু মিলবে৷ আশ্চর্য, এ মানুষগুলো বোঝে না কোনো ব্যাপারেই বেশি বাড়াবাড়ি করতে নেই৷ উনি সমাজসেবা করে নাম কিনছেন, আমি কেন বার বার তার জন্য কিছু করে খসিয়ে যাব? মাস মাস পাঁচ দশ টাকা করে নিয়ে যাক সেও তবু মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু এ যে একেবারে ঘাড়ের ওপর উঠে পড়া৷ সময় অসময় জ্ঞানও নেই, এলে আজকাল আর উঠতেই চান না৷ নিজের মনে হোমের সমস্যার কথা বলে চলেছেন তো বলেই চলেছেন৷ বয়স হলে যা হয়, আগে কী বলেছেন তাও মনে থাকে না, একই কথা পুনরাবৃত্তি করে যান৷ দেঁতো হাসি হেসে শুনতে যে কী বিরক্তি লাগে৷

    এই তো সেদিন থিয়েটার দেখতে যাব, দুম করে বনোদির আবির্ভাব৷ হোমে কোনো একটি মেয়ে নাকি আগের হপ্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তাকে নিয়ে বনোদিকে নাকি ছুটতে হয়েছিল হাসপাতালে৷ অপারেশন হয়েছে মেয়েটির, রক্ত জোগাড় করতে কীভাবে নাজেহাল হতে হয়েছে বনোদিকে, সেই কাহিনিও বিস্তারিতভাবে শুনতে হল মুখ বুজে৷ সবিতা চা মিষ্টি দিল৷ বনোদির খাওয়া শেষ, আমি সমানে উসখুস করছি, অশোক ইশারা করছে ঘন ঘন, কিন্তু বনোদি নট নড়নচড়ন৷ গেলেন প্রায় পৌঁনে ছ-টা বাজিয়ে৷ হুড়মুড় করে তৈরি হলাম বটে, ট্যাক্সিও নিলাম, তবু শো শুরু হওয়ার আগে কিছুতেই হলে পৌঁছতে পারলাম না৷ নাটকের মাঝখানে ঢোকা মানেই দর্শকদের টিপ্পনী গেলা৷ অশোক তো সেদিন চটে লাল৷ বলে, এত কীসের আহ্লাদিপনা? মুখের ওপর বলতে পার না আমার কাজ আছে?

    সত্যি, এবার বনোদিকে সোজাসুজি কিছু বলে ফেলা দরকার৷ কাঁহাতক আর এই অত্যাচার সহ্য করা যায়৷

    এ বছর শীত ভালো করে পড়লই না৷ মাঘ মাসেই ঠাণ্ডা উধাও, ফাল্গুনে তো রীতিমতো গরম৷ ভোরের দিকে তাও একটু শিরশিরে ভাব থাকে৷ কিন্তু ন-টা দশটার মধ্যেই বেজায় চড়ে যায় রোদ্দুর৷ ফাল্গুনে এমন গরম কালেভদ্রে পড়ে৷

    রবিবার সকাল৷ একটু রান্নাবান্না করছিলাম৷ অশোকের দুই পুরোনো বন্ধু খাবে আজ, সস্ত্রীক৷ বড়ো বড়ো চিংড়ি এনেছে অশোক, মালাইকারি হবে৷ সঙ্গে কই মাছের গঙ্গা-যমুনা, সোনামুগের ডাল, ভেটকির ফ্রাই৷ প্রচুর হ্যাপা৷ নারকেল কোরো রে, দুধ বার করো রে, ফ্রাই গড়ো রে…

    সবিতা সাহায্য করছে হাতে হাতে৷ রান্নাঘরে নিয়মিত থাকার অভ্যেসটা ছেড়ে গেছে বলে তবু যেন দিশা পাচ্ছি না৷ ভিনিগার ঠিকমত ঢাললাম তো?

    তখনই কলিংবেল ঘ্যাঁ ঘ্যাঁ৷

    অশোক এসে বলল— যাও, হয়ে গেল৷

    —কে?

    —আর কে! তোমার দিদিমণি৷

    এবার বনোদি বেশ কিছুদিন পরে এলেন৷ প্রায় মাস দুয়েক৷ তবু শুনেই মেজাজ তেতো হয়ে গেল৷ আবার? এই অসময়ে?

    ভুরু কুঁচকে বললাম— কাটিয়ে দাও না৷ বলো আমি ভীষণ ব্যস্ত৷

    —বললে কি নড়বেন? অশোক ঠোঁট ওল্টাল৷

    —খাল কেটে কুমির এনেছ, নিজের কুমির নিজেই সামলাও৷

    —আহা, দরকারটা কী একবার জিজ্ঞেস করে দ্যাখো না৷

    —গিয়ে জেনে নাও৷ তবে দয়া করে মনে রেখ, বারোটা বাজে, প্রভাস পল্লবরা এক্ষুনি এসে পড়ল বলে৷

    ন্যাপকিনে হাত মুছতে মুছতে ড্রয়িংস্পেসে এলাম৷ বেজার মুখে একটা ইলাস্টিক হাসি টেনে বললাম— কী খবর দিদি?

    বনোদি খবরের কাগজখানা উল্টোচ্ছিলেন৷ মুড়ে রেখে বললেন— তুমি কেমন আছ?

    —ভালো৷ ঝটপট বলে ফেললাম— রান্না করছি৷ কিছু গেস্ট আসছেন খেতে…

    —ও৷ তাহলে তো এখন আসাটা উচিত ছিল না৷

    মনে মনে বললাম, উচিত অনুচিতের বোধ আছে আপনার?

    মুখে বললাম— না না, বলুন৷ কিছু বলবেন?

    বনোদির মুখে যেন হাসি ফুটল— তোমার কাছে একটা বিশেষ প্রার্থনা নিয়ে এসেছিলাম সর্বাণী৷ তুমি কিন্তু কিছুতেই না বলতে পারবে না৷

    দপ করে মাথা গরম হয়ে গেল৷ ব্যঙ্গের সুরে বলে ফেললাম— আপনি তো প্রার্থনা ছাড়া আসেন না দিদি৷

    বনোদি থমকে গেলেন৷ দ্বিধান্বিত স্বরে বললেন— না না, ঠিক তেমন নয়৷

    অর্থাৎ টাকা-পয়সা জামা-কাপড় ছাড়াও অন্য কিছু ধসবে এবার!

    অসহিষ্ণু গলায় বললাম— যা বলার তাড়াতাড়ি বলুন, প্লিজ৷

    এক দৃষ্টে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন বনোদি৷ তারপর মৃদু স্বরে বললেন— হোমের মেয়েরা তোমায় একদিন দেখতে চায় সর্বাণী৷ ওরা তোমার কথা আমার মুখে অনেক শুনেছে তো৷… কত কী করেছ তুমি ওদের জন্যে…

    তপ্ত মেজাজ হোঁচট খেয়ে গেল৷ গলা নেমে গেছে— ওমা, আমি গিয়ে কী করব?

    —তেমন কিছু নয়৷ এই একটু ওদের সঙ্গে আলাপ করবে, কথা-টথা বলবে…

    —তুমি তো লেখাপড়া শিখেছ, তোমার সঙ্গে কথা বললে ওরা অনুপ্রাণিত হবে৷ বলতে বলতে হাসিটা যেন একটু ম্লান হল বনোদির৷ —আমার জ্ঞান আর কতটুকু৷ তুমি উচচশিক্ষিত, আমার চেয়ে অনেক বেশি জানো৷ তোমার সঙ্গে আলাপ হলে ওরা অনেক কিছুই শিখবে৷

    বনোদির চোখে চোখ রাখতে পারলাম না৷ মাথা নামিয়ে নিলাম৷

    বনোদি উৎসুখ মুখে বললেন— যেতে হবে কিন্তু সর্বাণী৷ সামনের শনিবার৷ ওদিন আমাদের হোমের জন্মদিন৷ আমার খুব ইচ্ছে তুমি সেদিন… আমি এসে তোমায় নিয়ে যাব৷

    এরপর কি বনোদিকে ফেরানো সম্ভব? আলগোছে বললাম— আচ্ছা, আচ্ছা, সে হবেখন৷

    —তাহলে আমি শনিবার আসছি৷ বিকেলবেলা তুমি তৈরি থেকো৷ চারটে নাগাদ৷

    বনোদি উঠে পড়ল৷ এতক্ষণ পর বনোদিকে লক্ষ করলাম ভালো করে৷ এই কদিনেই যেন আরও একটু বুড়িয়ে গেছে বনোদি, কেমন কালসেটে মেরে গেছে মুখচোখ৷ অসুখ-বিসুখ করেছিল নাকি? এমন মানুষকে বসতে না বলা কি অন্যায় হল?

    ভদ্রতা করে বললাম— একটু চা খেয়ে যান না বনোদি৷

    —না না, আজ থাক৷ তুমি আজ ব্যস্ত আছ…৷

    —এমনি খবর-টবর সব ভালো তো আপনার?

    —চলছে৷ দু-এক সেকেন্ড চুপ করে রইলেন বনোদি৷ ছোট্ট একটা শ্বাস ফেলে বললেন— ছেলেটাকে নিয়ে বড়ো ধকল গেল…

    —কী হয়েছে ছেলের?

    —হয়েছে নয়, হয়েছিল৷ এখন আর সে নেই৷ বনোদির গলা সহসা ধরা ধরা৷

    —ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া৷ খুব চেষ্টা করেছিলাম৷ রইল না৷

    আমি পলকের জন্য স্তম্ভিত৷ মুখ দিয়ে প্রশ্ন ঠিকরে আসছিল, তবু আপনি হোমের কাজে বেরিয়েছেন বনোদি! হঠাৎ টের পেলাম কোনো শব্দই বেরোচ্ছে না গলা দিয়ে৷

    চশমা খুলে আঁচলের খুঁটে চোখের কোণ দুটো মুছছেন বনোদি৷ ফের চশমা পরে নিয়ে মিনিট খানেক চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন৷ তারপর বেরিয়ে গেলেন, মন্থর পায়ে৷

    আমি নিশ্চল৷ বনোদিকে ডাকতেও পারলাম না৷ সম্বিত ফিরতে দৌড়ে ব্যালকনিতে গেছি৷ তিনতলা থেকে দেখতে পাচ্ছি নীচের রোদ্দুর ভেঙে ভেঙে চলে যাচ্ছেন বনোদি৷ ছোট্টো জীর্ণ শরীরখানাকে টেনে টেনে৷ খানিকটা গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন৷ ডান পায়ের চটিটা খুলে হাতে নিয়ে দেখছেন কী যেন৷ ছিঁড়ে গেছে কি? আবার গলিয়ে নিলেন পায়ে৷ ডান পা ঘষে ঘষে হাঁটছেন৷

    আমার চোখ ভিজে এল৷ দেখতে দেখতে কখন যেন ঝাপসা হয়ে গেলেন বনোদি৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসুকুমার রায় রচনাবলী ২য় খণ্ড
    Next Article আয়নামহল – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }