Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমার জীবন ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি – মুজাফফর আহমদ

    মুজাফফর আহমদ এক পাতা গল্প869 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম মুদ্রিত ইতিহাস

    ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ৩৬তম অধিবেশনে প্রতিনিধিগণের প্রতি ইশতিহার

    সহযাত্রী দেশবাসীগণ,

    আমাদের দেশের ইতিহাসে এক অত্যন্ত সংকটের মুহূর্তে আমাদের জাতীয় জীবন ও প্রগতির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন প্রশ্ন সমাধানের জন্য আজ আপনারা মিলিত হয়েছেন। ভারতবর্ষ আজ এক বিরাট বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে— শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও এই বিপ্লব ঘটবে। এই বিরাট ভূখণ্ডের অধিবাসী বিশাল জনস্রোত ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেছে। বহু শতাব্দীব্যাপী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নির্যাতন থেকে উদ্ভূত সামাজিক জড়তা থেকে এই জনসংঘ মুক্তি পাচ্ছে। জাতীয় কংগ্রেস এই গণজাগরণের নেতৃত্বের আসন গ্রহণ করেছে। অত্যন্ত কঠিন আপনাদের দায়িত্ব। আপনাদের সামনে যে পথ সেখানে নানা দূরতিক্রম্য বাধা এবং কষ্টের ও প্রতারণার ফাঁদ পাতা আছে। ভারতবর্ষের মানুষকে জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে পরিচালিত করার দায়িত্ব অতি পবিত্র ও মহান। আপনারা স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব বরণ করেছেন। জাতীয় কংগ্রেস আর অলস বিতর্ক বা অনাবশ্যক প্রস্তাব পাসের ছুটির দিনের মিলন বাসর নয়। কংগ্রেস আজ রাজনৈতিক সংস্থায় পরিণত হয়েছে-সে আজ জাতীয় আন্দোলনের নেতৃত্বের আসনে।

    সম্প্রতি অর্জিত রাজনৈতিক গুরুত্বের ফলে কংগ্রেসের তত্ত্বগত ভিত্তির পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আত্মকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের আর চলা সঙ্গত নয়। এর কার্যসূচী ও সিদ্ধান্তসমূহ কোনো নেতার খেয়ালখুশি সংস্কার বা ধারণার দ্বারা নির্ধারিত না হয়ে পারিপার্শ্বিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্ণীত হওয়া আবশ্যক। কংগ্রেস যখন নামেই ‘জাতীয় প্রতিষ্ঠান ছিল কার্যত মুষ্টিমেয় কয়েকজন খেয়ালখুশি’র আসর ছিল, তখন এইভাবেই কাজ চলত। মেহতা গোছলে বোস ব্যানার্জি গোষ্ঠী অধ্যুষিত পুরনো কংগ্রেস আজ মৃত। সক্রিয় রাজনীতির আসর থেকে সে গোষ্ঠী বিতাড়িত হয়ে গেছে-কারণ তাঁদের মতলব ছিল তাঁদের গোষ্ঠীর স্বার্থে সমগ্র জাতিকে ব্যবহার করা। যে মানুষ নিয়ে তাঁদের কাজ করার কথা, তাদের কথা তাঁরা ভাবেনওনি, ভাববার সাধ্যও তাঁদের ছিল না। সাধারণ মানুষের মনোভাব বুঝতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁরা নিজেরা কী ভাবতেন বা চাইতেন তা তাঁরা বেশ ভালোভাবেই জানতেন, কিন্তু সাধারণ তাঁর মঙ্গল ও প্রগতির জন্য কী চায় সেকথা তাঁরা জানতেনও না, জানতে চাইতেনও না। অথচ এই জনগণ নিয়েই জাতি এবং কংগ্রেস দাবি করত যে তারাই জাতির প্রতিনিধি! পুরনো কংগ্রেস রাজনীতির ক্ষেত্রে দেউলিয়া হয়ে গেছে, কারণ সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে তারা নিজেদের বলে মনে করতে পারেনি। তারা ধরে নিয়েছিল যে প্রশাসনিক এবং কর সম্বন্ধীয় সংস্কারের দাবি বুঝি সাধারণ মানুষের স্বার্থেরই অনুকূল এবং সে দাবি তাদের আশা আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। নরমপন্থী প্রবীণ নেতারা মনে করতেন যে তাঁদের বিদ্যাবুদ্ধি বুঝি স্বতঃই তাঁদের জাতির নিরঙ্কুশ নেতৃত্বে স্থাপন করেছে। এই শোচনীয় আত্মম্ভরিতার ফলেই ভারতীয় জাতীয়তাবাদের শ্রদ্ধেয় জনকগণ তাঁদের আপন সন্তানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এই আত্মম্ভরিতার জন্ম হয় সমাজশক্তির সম্বন্ধে ভ্রান্ত বা বিকৃত উপলব্ধি থেকে। বস্তুতপক্ষে এই সমাজ- শক্তিই সকল আন্দোলনের মূলে থেকে যথার্থ বল সঞ্চার করছে। নেতৃবৃন্দের ভ্রান্ত বা বিকৃত চিন্তাই তাঁদের নিজেদের অবমাননা, রাজনৈতিক মৃত্যু ও সর্বনাশ ডেকে এনেছে। আপনার কংগ্রেসের নবীন নেতৃবৃন্দ, একই ভুল আবার করবেন না। মনে রাখবেন একই ভুল একই বিপর্যয় ডেকে আনবে।

    নতুন নেতৃত্বে কংগ্রেসের কার্যসূচী হল ন্যূনতম সময়ের মধ্যে স্বরাজলাভ করা। সাংবিধানিক বাদানুবাদের পথে সামান্য মামুলী সংস্কারের দুর্বল কৌশল পরিহার করা হয়েছে। কংগ্রেস এবার গর্বের সঙ্গে তার · যে-কোনো উপায়ে স্বরাজ’-এর দৃপ্ত পতাকা উঁচুতে তুলে ধরেছে। এই পতাকার নীচে ভারতের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে আহ্বান জানানো হয়েছে। আপনাদের অনুপ্রেরণায় সাধারণ মানুষ লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত এ পতাকা উঁচুতে তুলে ধরে থাকবে। এই লক্ষ্য বাস্তবিকই মহান। ভারতীয় জনগণ আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে এ তো খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু জাতির নেতা হিসাবে শুধু লক্ষ্যের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশেই কংগ্রেসের কর্তব্য শেষ হবে না, প্রত্যেকটি স্তর অতিক্রম করে অন্তিম লক্ষ্যে এই সংগ্রামকে পরিচালিত করাই তার দায়িত্ব। গত এক বছরে কাজ দেখে মনে হয় কংগ্রেস তার দায়িত্ব সম্বন্ধে ওয়াকিফহাল এবং সেই দায়িত্ব পালনের সর্বোত্তম উপায় উদ্ভাবনে তারা সচেষ্ট! জনগণকে স্বরাজের জন্য সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ সংগ্রামে তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, কারণ একতা ভিন্ন কিছুতেই লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না।

    পুরনো কংগ্রেসের এই বিপর্যয়ের কারণ কী? সে জনগণের সামনে জাতীয় প্রশ্নকে জীবন-সমস্যা হিসাবে তুলে ধরতে পারেনি। পুরনো নেতৃত্বের অধীনে কংগ্রেস রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর আর মামুলী সংস্কারবাদের বদ্ধ জলায় আটকে পড়েছিল। কিন্তু এই রাজনৈতিক কচকচি আর সংস্কারবাদের পরিবর্তে কতকগুলি ভাববাদী আদর্শ আর রাজনৈতিক বিভ্রান্তির মধ্যে গিয়ে পড়লেও বিশেষ কোনো সুবিধা হবে না। তার নামের যোগ্য হতে গেলে এবং সামনের কঠিন দায়িত্ব পালনের জন্য জাতীয় কংগ্রেসকে কিছুতেই মুষ্টিমেয় ব্যক্তির ভাববাদী আদর্শের পথে ভেসে গেলে চলবে না।—সেই কতিপয় ব্যক্তি যতই না মহৎ দেশপ্রেমিক হোন। রূঢ় বাস্তব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কাজ করতে হবে, নিষ্ঠার সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের অভাব ও অত্যাচারের খবর পর্যালোচনা করতে হবে। আমাদের সামনে তো কেবল রাজনীতির কূট খেলা নয়, সামনে এক কঠিন সামাজিক সংগ্রাম।

    ৩৬তম কংগ্রেসের সামনে আজ সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা জাতীয় সংগ্রামে জনগনের পূর্ণ সহযোগিতা জাগিয়ে তোলা। সমস্যা হলো অশিক্ষিত জনসাধারণকে কীভাবে স্বরাজের পতাকাতলে নিয়ে আসা যায়। এর জন্য সবচেয়ে প্রথমে জানতে হবে জনগণের প্রকৃত দুঃখ-কষ্ট কোথায়? তারা কী চায়? পার্থিব জীবনধারণের জন্যে কী তাদের প্রয়োজন? জনগণের আজকের দুঃখদুর্দশা মোচনের কার্যক্রমকে কংগ্রেসের কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করেই জনগণের যথার্থ সক্রিয় নেতৃত্ব গ্রহণ করা যাবে।

    কয়েক হাজার উচ্ছৃঙ্খল, দায়িত্বহীন ছাত্র, কিছু মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী আর তাদের পিছনে হঠাৎ-ক্ষেপে-ওঠা উচ্ছৃঙ্খল উন্মত্ত জনতা- এরা কখনোই একটি জাতির রাজনৈতিক সংগঠনের সামাজিক ভিত্তি হতে পারে না। শহরের মেহনতী মানুষ আর গ্রামের অগণিত নিরক্ষর জনসাধারণকে আন্দোলনে টেনে আনতে পারলেই সংগ্রাম সাফল্যমণ্ডিত হবে। কেমন করে একে সম্ভব করে তোলা যাবে সেটাই আজ কংগ্রেসের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারখানার মেহনতী মজুর আর মাঠের খেটে খাওয়া কৃষককে একথা ঠিকমতো বুঝিয়ে দিতে হবে যে জাতীয় স্বাধীনতাই তার দুর্দশার অবসান ঘটাবে। এটা কি সত্য নয় যে ধনী ভারতীয়দের কলে কারখানায় যে লক্ষ লক্ষ মজুর প্রাণান্তকর পরিশ্রম করছে তারা অসহনীয় অবস্থায় দিনযাপন করছে? সেখানে তারা যে-ব্যবহার পায় তাতে যে কোনো মুহূর্তে বিক্ষোভে ফেটে পড়া উচিত। এই ধনী ভারতীয়দের মধ্যেই অনেকে রয়েছেন যাঁরা আবার আমাদের জাতীয় আন্দোলনের নেতৃস্থানীয়। অনেক অতি বিবেচক ব্যক্তি এজাতীয় অস্বস্তিকর প্রশ্নকে যদিও জাতীয় স্বার্থের দোহাই পেড়ে ধামাচাপা দিতে চাইবেন। এঁদের যুক্তি হল, ‘আগে আমরা বিদেশী শাসন থেকে মুক্তি পাই’। এ জাতের হিসেবী রাজনৈতিক বিচক্ষণ উক্তি উচ্চশ্রেণীর মানুষের কাছে প্রশংসা পেতে পারে, কিন্তু দরিদ্র কৃষক মজুর আজ ক্ষুধায় জর্জরিত। তাদের যদি লড়াইয়ের ময়দানে টেনে আনতে হয়— সে- লড়াইকে তাদের নিত্য জীবন-ধারণের লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ‘চাষীর হাতে জমি আর মজুরের মুখে রুটি’—এই স্লোগানেই বৃহত্তর জনসাধারণ সচেতনভাবে তাদের আপন স্বার্থ-রক্ষার তাগিদে লড়াইয়ে নেমে আসতে উদ্বুদ্ধ হবে। জাতীয় স্বায়ত্তশাসনের ধোঁয়াটে আদর্শ তাদের জড়ত্বকে ভাঙতে পারবে না। ব্যক্তিগতভাবে কোনো নেতার প্রতি মোহ সৃষ্টি হতে পারে, কিন্তু সে হবে অত্যন্ত শিথিল ও ক্ষণস্থায়ী।

    কংগ্রেস কী করে ভাবে যে খিলাফতের নামে বা সেভের্সের চুক্তির সংশোধনের দাবীতে তারা স্থায়ী চেতনা ও প্রেরণা সঞ্চার করতে পারবে? শিক্ষিত বুদ্ধিজীবীদের পক্ষে এসব দাবীর পিছনকার উন্মার্গী রাজনীতি বোঝা হয়তো সম্ভব, কিন্তু যে-ভারতীয় জনসাধারণ কেবল বিদেশী শাসনের চাপেই নয়, আপন দেশের ধর্ম ও সমাজের হাজার কুসংস্কারের নাগপাশে অজ্ঞতার গভীর অন্ধকারে ডুবে রয়েছে তাদের পক্ষে এ রাজনীতি বুঝে ওঠা একেবারেই অসাধ্য। জনসাধারণের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে কংগ্রেস যদি তাদের নিজেদের মতলব হাসিলের অপচেষ্টা করে, তবে তা থেকে কখনোই অভিপ্রেত ফল প্রত্যাশা করা যাবে না। যদি ভারতর বৃহত্তর জনসাধারণকে জাতীয় সংগ্রামে টেনে আনতে হয়, তাদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তা করা যাবে না। তাদের চেতনাকে সর্বপ্রথম জাগ্রত করতে হবে। কিসের জন্য তারা লড়ছে সেটা তাদের বুঝতে দিতে হবে। এবং তাদের এই লড়াইয়ের ভিতর দিয়ে নিত্য জীবনের অভাব দুঃখ-দুর্দশা নিরসর সম্ভব হবে—এ উপলব্ধি তাদের মধ্যে আনতে হবে। সাধারণ মানুষ কী চায়? তাদের জীবনের একমাত্র স্বপ্ন দুবেলা পেটভরে খেতে পাওয়া- সে তো তারা প্রায় কখনোই পায় না। এ রকম মানুষের সংখ্যাই শতকরা নব্বই। সুতরাং এটা অত্যন্ত পরিষ্কার যে এই সাধারণ মানুষের স্বার্থানুকূল নয় এমন কোনো আন্দোলনই স্থায়ী গুরুত্ব বা প্রচণ্ড শক্তির সৃষ্টি করতে পারবে না। কংগ্রেসের কার্যসূচী থেকে ভাবালুতাকে সম্পূর্ণভাবে ছেঁটে ফেলতে হবে। ধোঁয়াটে ভাববাদের স্বপ্নচূড়া থেকে তাকে নামিয়ে আনতে হবে। কংগ্রেসকে সাধারণ মানুষের জীবনধারণের অপরিহার্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই হবে। মেহনতি মানুষের ন্যূনতম আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখা দিক কংগ্রেসের মধ্যে। ভারতবর্ষের জনগণ মেসোপটেমিয়া বা আরব বা কনস্টান্টিনোপলের মতো অজানা অচেনা দেশের জন্য লড়বে কেন, তাদের সংগ্রামের লক্ষ্য হবে তাদেরই জীবন ও পরিবেশ-তাদেরই ঘরবাড়ী জমি কলকারখানায়। ক্ষুধার্ত মানুষ একটা ভাববাদী অবাস্তব আদর্শ সামনে রেখে লড়াই করে যাবে এটা আশা করা যায় না। কংগ্রেসের কি চিরকালই জনগণকে আরও নির্যাতন সহ্য করতে, আরও ত্যাগ করতে উপদেশ দিয়ে যাবে? ভারতীয় জনগণ তো সহনশীলতা এবং ত্যাগের মূর্ত প্রতীক। তাদের যুগসঞ্চিত এই দুঃখ-কষ্টের অবসানের স্পষ্ট সম্ভাবনাকে তাদের দৃষ্টির সামনে আনতে হবে। তাদের অর্থনৈতিক সংগ্রামে সাহায্য করতে হবে। কংগ্রেসের পক্ষে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্গঠনের সুস্পষ্ট কার্যসূচী প্রণয়নের কাজ আর ফেলে রাখা উচিত হবে না। ৩৬তম কংগ্রেসের সামনে প্রধান কাজ-অত্যাচারক্লিষ্ট জনসাধারণের দুঃখ-দুর্দশা মোচনের উদ্দেশ্যে এবং তাদের বর্তমানের শোচনীয় অবস্থার উন্নতির দাবিতে একটি গঠনমূলক কার্যসূচী গ্রহণ করা।

    মিঃ গান্ধী ঠিকই বলেছেন যে, ‘কংগ্রেসকে কতকগুলি সূক্ষ্মবুদ্ধি ব্যবহারজীবীর বিতর্ক সভা করে আর রাখা চলে না’। কিন্তু ওই একই বিবৃতিতে তিনি চেয়েছেন যে কংগ্রেস ‘ব্যবসায়ী আর শিল্পপতিদের সংস্থা হয়ে উঠুক। তা যদি হয় তবে বৃহত্তর জনসাধারণের কাছে এর কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটবে না। এই কংগ্রেসও তার পূর্বগামীর চেয়ে বেশী জাতীয় চরিত্রসম্পন্ন হয়ে উঠবে না। এর পরিণতিও খুব সম্মানজনক হবে না। কংগ্রেস যদি ‘ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি’ শ্রেণীর স্বার্থই দেখে, তাঁদেরই প্রতিনিধিত্ব করে তবে সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষায় কংগ্রেস ব্যর্থ হবে। তার অবশ্যম্ভাবী ফল হবে কংগ্রেস বৃহত্তর জনসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি গোষ্ঠীর পক্ষে বিচ্ছিন্নভাবে এই জাতীয় সংগ্রামকে সাফল্যমণ্ডিত করা সম্ভব নয়। এমনকি বুদ্ধিজীবী এবং দোকানদার শ্রেণীও এ লড়াইয়ে তেমন কিছু শক্তি সঞ্চার করতে পারবে না। জনসাধারণের শক্তি অপরিহার্য। সাধারণ মানুষের সচেতন সংগ্রামেই দেশ স্বাধীন হবে, স্বরাজ সম্ভব হবে। কংগ্রেসের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবার জন্য কী করে জনসাধারণর শক্তিকে প্রয়োগ করা যায় সেটাই বিচার্য। কঠিন লড়াইয়ের ময়দানে জনগণকে টেনে আনতে হবে। কিন্তু কংগ্রেসের কার্যসূচীতে দেখা যায় জনগণের স্বার্থের প্রতি অপরিসীম ঔদাসীন্য এবং সেই স্বার্থ উপলব্ধির বোধশক্তির শোচনীয় অভাব। উপরন্তু দেখা যায় যে কংগ্রেস জনসাধারণের অজ্ঞতার সুযোগ পুরামাত্রায় নিতে চায় এবং তারপরেও আশা করে যে জনসাধারণ অন্ধভাবে কংগ্রেসকে মেনে চলবে। তা কখনোই হতে পারে না। নেতা যদি তাঁর অনুগামীর স্বার্থের প্রতি উদাসীন হন, তবে দুই পক্ষের বিরোধ ও ব্যবধান অচিরেই দেখা দেবে। জনগণ জাগছে। তাদের প্রচণ্ড শক্তির পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য লড়াইয়ের প্রস্তুতি গড়ে উঠছে, তাদের অবস্থার কোনো উন্নতি না ঘটিয়ে, তাদের নিচে ফেলে রেখে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার কৌশল শীঘ্রই ব্যর্থ হবে। কংগ্রেস যদি ভুল ক’রে বিত্তশালী শ্রেণীর রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়, সে অবস্থায় তাকে জাতির নেতৃত্বের দাবি ছাড়তে হবে। অভ্রান্ত সমাজশক্তি কাজ করে যাচ্ছে। তার ফলে শ্রমিক-কৃষক তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকা সম্বন্ধে অচিরেই সজাগ হবে। অচিরেই তারা নিজেদের রাজনৈতিক সংস্থা গড়ে তুলে উচ্চশ্রেণীর রাজনরীতিবিদদের দ্বারা বিপথে চালিত হতে অস্বীকার করবে।

    অসহযোগ আন্দোলন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম। বাস্তব ঘটনাকে স্বীকার করার যদি আমাদের সাহস থাকে, তবে স্বীকার করতেই হবে যে অসহযোগ ব্যর্থ হয়েছে। এ আন্দোলন ব্যর্থ হতে বাধ্য কারণ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এর কোনো বক্তব্য ছিল না। যাদের হাতে অসহযোগ সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হতে পারত, সেই শ্রমিক শ্রেণীকে আন্দোলনের কর্মসূচী থেকে শুধু বাদই দেওয়া হয়নি-অসহযোগের উদগাতা ঘোষণা করেছেন, ‘কারখানার মজুরকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা বিপজ্জনক’। সুতরাং যে-শ্রমিকশ্রেণী তার অর্থনৈতিক সামাজিক অবস্থার সুযোগে অসহযোগকে সফল করতে পারত তাকেই বাদ দেওয়া হল। তার কারণ খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন নয়। ব্যবসায়ী ও শিল্পীতগোষ্ঠীর স্বার্থের প্রহরীর কাজ যারা নিয়েছে তারা মনে মনে ভয় পাচ্ছে, পাচ্ছে দিনমজুর শ্রমিকশ্রেণী আবার বিত্তশালী সম্প্রদায়ের শোষণের অধিকার-যা তারা সকল সভ্য সমাজে পেয়েছে, সেই অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বসে। অন্যান্য শ্ৰেণী যাদের কাছে অসহযোগের আহ্বান রাখা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই অর্থনৈতিক কারণে এই সমাজব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত, তাদের পক্ষে এই সমাজব্যবস্থাকেই অস্বীকার করা অসম্ভব। নেতারা ‘শয়তানের সমাজ’ বলে যতই না নিন্দা করুন।

    অসহযোগ হয়তো লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসেবে চলতে পারে- তার চেয়ে বলা সঙ্গত যে বিদেশী আমলাতন্ত্রকে ব্যতিব্যস্ত করবার উপযোগী। কিন্তু আসলে এ তো ধ্বংসাত্মক। কারণ বিদেশী শাসকের অবসানের কথাতেই সাধারণ মানুষের মনে যথেষ্ট উৎসাহ সৃষ্টি হবে না। তাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে হবে যে স্বরাজ প্রতিষ্ঠার ফলে তাদের কী কী সুবিধা হবে। তাদের মনে এই উপলব্ধি জাগাতে হবে যে জাতীয় স্বাতন্ত্র্য তাদের জীবনধারণের নানা সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে। কতকগুলি ফাঁকা বুলি আর স্পষ্ট প্রতিশ্রুতিতে কোনো উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে না। কংগ্রেসকে কাজ দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে তারা মানুষের দুঃখ-দুর্দশা মোচনে আগ্রহী এবং প্রমাণ করতে হবে যে তারা দরিদ্রের প্রতিদিনের অভাব অভিযোগকে অবহেলা করে সুদূর ভবিষ্যতে একটা অলীক আজাদীর সন্ধানে ছুটছে না।

    দেশীয় শিল্পপতিদের স্বার্থরক্ষা এবং তাদের শিল্প প্রসারের স্বার্থেই স্বদেশী ও বয়কটের কার্যসূচীগৃহীত। হয়তো এ ইংরেজ ধনিকগোষ্ঠীকে আঘাত করতে সক্ষম হবে এবং তার ফলে হয়তো ইংরেজ ধনিকগোষ্ঠীকে আঘাত করতে সক্ষম হবে এবং তার ফলে হয়তো ইংরেজ সরকারের উপর পরোক্ষ চাপও সৃষ্টি করবে। কিন্তু ভ্রান্ত অর্থনীতির ভিত্তিতে রচিত এই কার্যসূচীর চূড়ান্ত সাফল্য সম্বন্ধে স্বাভাবিক ভাবেই সংশয় জাগে। কংগ্রেসের পতাকাতলে জনগণকে সমবেত করার স্লোগান হিসেবে বয়কট ব্যর্থ হবে। কেননা, বৃহত্তর জনসাধারণের অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে এর কিছুমাত্র যোগ নেই বরং বয়কট কার্যত তাদের প্রতিকূল। কংগ্রেস যদি স্বপ্ন দেখে থাকে যে বিদেশী কাপড় পুড়িয়ে উন্মত্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করে তার ভিত্তিকে দৃঢ় করবে, তবে সে চোরাবালির ওপর সৌধ নির্মাণের চেষ্টা করছে। এই উত্তেজনা বেশীকাল টিকবে না। কিছুদিনের মধ্যেই জনগণের বস্ত্রের অভাব ঘটবে এবং যতদিন বাজারে বিদেশী বস্ত্র সস্তা থাকবে ততদিন গরীব মানুষকে কিছুতেই এ প্রতিজ্ঞা করানো যাবে না যে তারা সেই বিলিতি কাপড় কেনার চেয়ে বস্ত্রহীন হয়ে থাকবে। চরখা যথাযথভাবেই যাদুঘরে নির্বাসিত হয়েছে। এই যন্ত্রযুগে চরখা আবার ফিরে আসবে এবং ৩২ কোটি লোকের প্রয়োজন মেটাবে এ চিন্তা পাগলামি ছাড়া আর কিছু নয়। বয়কট শিল্পপতিদের সমর্থন পাবে, কিন্তু ক্রেতাদের পূর্ণ সমর্থন কখনোই পাবে না। সুতরাং আত্মার বিশুদ্ধিকরণ জাতীয় উদ্ভট মতবাদ বিত্তশালী বুদ্ধিজীবীদের কাছে ভালো লাগতে পারে, কিন্তু ক্ষুধিত মানুষের কাছে এর মোহ চিরস্থায়ী হতে পারে না। বাঁচার তাগিদে কোনো বাধাই মানে না। এবং রাজনৈতিক আন্দোলনকে বাস্তব যুক্তি আর প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে তুলে নিয়ে যাওয়া যায় না। অনেকে আবার মনে করেন যে ভারতীয় সভ্যতা হল আধ্যাত্মিক আর ভারতীয় জনগণ বাইরের জগতের মানুষের মতো বাস্তব যুক্তি ও অনুশাসনের অধীন নয়-এ ধারণা সর্বৈব ভ্ৰান্ত।

    যখন প্রমাণ হয়ে গেছে যে অসহযোগ তেমন কিছু আশানুরূপ সাফল্য অর্জন করতে পারেনি, ৩৬তম কংগ্রেস তা সত্ত্বেও অসযোগের পথেই আরো এক পা এগোতে চায়। কংগ্রেস নেতারা বেশ বুঝতে পারছেন যে জনসাধারণের মধ্যে খিলাফত ও অসহযোগের উৎসাহে দিনে দিনে ভাঁটা পড়ছে। কয়েক লক্ষ সদস্য বৃদ্ধি বা তিলক স্বরাজ ভাণ্ডারের চাঁদা ওঠাকে কংগ্রেসের পিছনে জনসমর্থনের লক্ষণ বলে ধরা চলে না। সদস্য খাতায় নাম লেখালে বা স্বরাজ ভাণ্ডারে এক টাকা চাঁদা দিলেই মনে করার কারণ নেই যে সেই সদস্য সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করতে প্রস্তুত। সাম্প্রতিককালে দায়িত্বশীল কংগ্রেস নেতারা বার বার সভায় সংবাদপত্রে দলগত ঐক্য বা আন্দোলনের সাফল্য সম্বন্ধে নৈরাশ্য প্রকাশ করেছেন। কৃত্রিম উপায়ে ফাঁপানো উদ্দীপনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য তাঁরা নূতন কোনো উত্তেজনার ফিকিরে আছেন। কিন্তু সচেতনভাবেই হোক আর অজ্ঞতাবশেই হোক তাঁরা কিছুতেই গণ অসন্তোষের মূল কারণে হাত দেবেন না বা জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই অসন্তোষকে বৃহত্তর সংগ্রামে পরিচালিত করবেন না। অন্যদিকে আরেকটি দায়িত্বজ্ঞানহীন পথ নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের অপেক্ষায় না থেকে সর্বভারতীয় কমিটি আইন অমান্যের সুপারিশ করে বসে আছেন। কিন্তু সে প্রস্তাবের ভাষা থেকেই দেখা যায় যে এই নূতন আন্দোলন অধিকতর সার্থকভাবে বাস্তবে রূপায়িত করা যাবে কিনা প্রস্তাবকদের নিজেদের মনেই তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। প্রস্তাবের ভাষায় আছে-’যাঁরা সরকারী চাকরি ছাড়তে সক্ষম’-সরকারী কর্মচারীদের মধ্যে প্রায় শতকরা ৯০ জন এই অকিঞ্চিৎকর বেতনে যেখানে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের সংস্থান করতে পারেন না সেখানে এই হুকুমনামার সাড়া যে মোটেই চমকপ্রদ হবে না সে তো সহজেই বোঝা যাচ্ছে।

    কার্যত আইন অমান্য হবে জাতীয় ধর্মঘটের শামিল। যদি প্রত্যেকে কাজ বন্ধ করে তবে সরকার অচল হয়ে পড়তে বাধ্য। কিন্তু কংগ্রেস কি নিশ্চিত যে সকলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ডাকে সাড়া দেবে? তাই যদি হয় তবে বলতে হবে যে তারা জনসাধারণের বাস্তব পরিস্থিতি সম্বন্ধে শোচনীয়ভাবে অজ্ঞ এবং যে অর্থনীতির চাপ সমস্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনাকে নিয়ন্ত্রিত করে সে সম্বন্ধেও তাদের কোনো ধারণা নেই। সামরিক ও বেসামরিক চাকরি ছেড়ে দিয়ে লক্ষ লক্ষ লোক বেকার হবে-কংগ্রেস কি তাদের কাজের সংস্থান করে দিতে পারবে? একটা কথা মনে রাখা দরকার যে সরকারী দফতরের নিম্নমধ্যবিত্ত চাকুরিয়ারা কিছুতেই কায়িক শ্রমে রাজী হবে না। কংগ্রেসী নেতারা যে এই জটিলতা বোঝেন না তা নয়। মিঃ গান্ধির ভাষায়, ‘যেসব সৈনিক সেনাবাহিনীর কাজ ছেড়ে আসবে তাদের কাজ দিতে তারা প্রস্তুত নয়’। আসামের চা-বাগান থেকে চলে আসা মজুরদের শোচনীয় অবস্থার কথা এখনও ভোলেননি। কী করে ভরসা রাখা যায় যে আবার একই কৌশল অনুসরণ করা হবে না? জাতির রাজনৈতিক সংস্থা কেবল সভা করেই তার দায়িত্ব পালন শেষ করতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য তো শুধু সরকারকে উত্যক্ত করা নয়, আমরা স্বাধীনতার জন্য লড়ছি। যতদিন পর্যন্ত কংগ্রেস একটা গঠনমূলক কার্যসূচীর ভিত্তিতে তাদের আন্দোলন না চালাচ্ছে, যতদিন না তারা আরও দায়িত্বশীল এবং আরও কম আত্মকেন্দ্রিক হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত স্বাধীনতার লড়াই কিছুতেই সফল হবে না।

    লঘুচিত্তে আইন অমান্যের প্রস্তাব গ্রহণ করলে কংগ্রেসকে হাস্যস্পদ হতে হবে। কারণ যত আশাবাদ যত উত্তেজনাই থাক না কেন কংগ্রেস জাতির সকল শ্রেণী স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে না। আর যে অগণিত শ্রমিক-কৃষক জাতির সবচেয়ে বড় শরীক তাদের বাস্তব উন্নতি ও কল্যাণের কথা কংগ্রেস সামান্যই বলে। যখন লম্বা লম্বা বক্তৃতার পিছনে কোনো স্থায়ী কার্যসূচী নেই, সেখানে জ্বালাময়ী ভাষায় বক্তৃতা দিয়ে কী লাভ। জনগণের জীবনীশক্তিকে ওইসব ফাঁকা কথায় উজ্জীবিত করা যাবে না, সরকারকেও সন্ত্রস্ত করা যাবে না। অবশেষে তা শুধু বক্তাকেই বেইজ্জত করবে। খিলাফৎ উদ্ধার না হলে জেহাদ ঘোষণা করা হবে এ হুমকি তো বস্তাপচা হয়ে গেছে। মাসের পর মাস স্বরাজ লাভের তারিখ পিছিয়ে দিলে বুদ্ধিমান মানুষের মনের আর বিশ্বাস জাগানো যাবে না। কংগ্রেসের লম্বা লম্বা প্রস্তাবগুলি কিছুতেই ভাষার ফুলঝুরির বাইরে আসতে পারে না কেন? কারণ কংগ্রেস সমাজশক্তির পরিপ্রেক্ষিতে কখনোই তাদের কার্যসূচী নির্ধারণ করে না।

    সমস্ত দেশজুড়ে শহরের ধর্মঘট আর গ্রামের জমির লড়াইয়ের ভিতর দিয়ে জনশক্তির যে বিপুল আলোড়ন দেখা দিয়েছে তা কংগ্রেসেরই আন্দোলন-বিশেষ করে অসহযোগ আন্দোলনেরই ফল এরকম ধারণা একেবারেই মিথ্যাচার। ‘শয়তানী বিলিতি সভ্যতার বিরুদ্ধে’ তীব্র ঘৃণা বা পাঞ্জাবের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লম্বা লম্বা গরম বক্তৃতা বা খিলাফতের প্রস্তাব কোনোটিই নির্যাতিত মানুষের অসন্তোষের জন্য দায়ী নয়। মার-খাওয়া মানুষ আজ নিষ্ক্রিয়তার হাতে আত্মসমর্পণের পথ সম্পূর্ণভাবে পরিহার করেছে। এই গণ-জাগরণই জাতীয় সংগ্রামের যথার্থ শক্তি ও মর্যাদা সঞ্চার করেছে। এই গণ-জাগরণের কারণ অনুসন্ধান করতে হবে বহু যুগসঞ্চিত অর্থনৈতিক শোষণ এবং সামাজিক দাসত্বের ইতিহাসের মধ্যে। গণ-বিদ্রোহ আজ বিত্তশালী শ্রেণীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, সে-শ্রেণী ইংরেজ কি ভারতীয় সে বিচার আজ নিরর্থক। এই শোষণ দীর্ঘকাল ধরেই বেড়ে চলেছিল, তবে যুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক সংকট একে তীব্রতর করে তুলেছে। জনগণের তীব্র অসন্তোষ যুদ্ধের অব্যবহিত পরে প্রকাশ্য বিদ্রোহে ফেটে পড়েছে। কংগ্রেস বলছে এ বিক্ষোভের কারণ সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ। তা ঠিক নয়। আসলে যুদ্ধের অব্যবহিত পরে যে অস্বাভাবিক বাণিজ্য স্ফীতি ঘটেছে তার ফলে অর্থনৈতিক শোষণ এমন এক স্তরে এসে পৌঁছেছে যে মানুষ আজ ক্ষেপে উঠেছে-ধৈর্যের সমস্ত বাঁধ আজ ভেঙে গিয়েছে।

    নূতন নূতন শিল্প প্রসারের ফলে হাজার হাজার শ্রমিক জনাকীর্ণ শহরে চলে আসতে বাধ্য হয়েছে এবং সেখানে তাদের বীভৎস অবস্থার মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি শ্রেণীর আকস্মিক ঐশ্বর্যস্ফীতি স্বাভাবিকভাবেই শ্রমিক শ্রেণীর দারিদ্র ও লাঞ্ছনা বাড়িয়ে দিয়েছে। শহরের জীবন শ্রমিকের কাছে নূতন চিন্তা খুলে দিয়েছে। এতকাল তারা তাদের শোচনীয় অবস্থাকে ঈশ্বরের বিধান বলে মেনে নিয়ে মুখ বুজে বসেছিল। ধর্ম-বৈষম্য ও সুযোগ-সুবিধার তারতম্য আরও প্রকট হয়েছে। শ্রমিকশ্রেণী আজ গতানুগতিক ভারতীয় কৃষক জীবনের জড়তা থেকে মুক্তি লাভ করে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। এ বিদ্রোহে কোনো বিশেষ সরকারের বিরুদ্ধে নয়, এ বিদ্রোহ সেই নৃশংস সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে সমাজব্যবস্থা প্রতিদিন তাকে ধুলোয় গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে। গণ- বিদ্রোহ দ্রুত প্রসারমুখী। এই ভাবনা অতিদ্রুত নানা সূত্রে গ্রামাঞ্চলে পরিব্যাপ্ত হয়ে পড়েছে। সেখানে জমির লড়াই শুরু হয়ে গেছে। এ লড়াই আগুনের মতো দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এই হল বাস্তব ঘটনার অপ্রতিরোধ্য চাপে সমাজশক্তির স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ। তথাকথিত রাজনৈতিক আন্দোলন এই জাগরণ ঘটিয়েছে এ ধাপ্পা প্রচার করা অর্থহীন। তার চেয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনওয়ালাদের উচিত এই মহান জাগ্রত শক্তির কাছে মাথা নীচু করে তারই প্রেরণায় নিজেদের আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রিত করা। এই সমাজশক্তিই রাজনৈতিক আন্দোলনকে যথার্থ শক্তি ও সম্ভাবনা সঞ্চার করতে পারে। বস্তুতপক্ষে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক আন্দোলনই কতকগুলি সমাজশক্তির অপরিহার্য বহিঃপ্রকাশ।

    শ্রমিক-কৃষক শ্রেণীর অর্থনৈতিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে কংগ্রেস এ যাবৎ কী করেছে? কংগ্রেস গণ-আন্দোলনকে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ব্যবহার করেছে মাত্র। প্রত্যেক ধর্মঘট বা কৃষক বিক্ষোভে অসহযোগীরা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ধর্মঘটীদের অর্থনৈতিক স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছে। বুদ্ধিজীবী কংগ্রেস তার আদর্শবাদের চূড়ায় বসে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে স্বরাজ দাবী করে আশা করে যে জনগণ তাকে অন্ধের মতো মেনে চলবে। কংগ্রেস দারিদ্রক্লিষ্ট শ্রমিক-কৃষকশ্রেণীকে সর্বপ্রকার ত্যাগের আহ্বান জানাতে দ্বিধাবোধ করে না। এই ত্যাগ করতে বলা হয় আবার জাতীয় কল্যাণের দোহাই পেড়ে, যদিও এই ত্যাগের ফলে বিদেশী শাসকের ক্ষতির চেয়ে দেশীয় ধনিকদেরই লাভ হয় বেশী। কংগ্রেস সমগ্র জাতির রাজনৈতিক নেতৃত্ব দাবী করে। কিন্তু এর প্রত্যেকটি কাজ প্রমাণ করে যে কংগ্রেস বৃহত্তর জনসাধারণের স্বার্থ সম্বন্ধে নিদারুণভাবে অজ্ঞ ও উদাসীন। এযাবৎ কংগ্রেস জনগণের প্রতিদিনের লড়াইকে তার নিজের লড়াই হিসেবে দেখতে পারেওনি, দেখতে চায়ওনি। তার ফলে জনগণের সচেতন ও বলিষ্ঠ সমর্থনও তারা আশা করতে পারে না। যদিও এটা মনে রাখা দরকার শ্রমিক কৃষকশ্রেণী যে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক লড়াই চালিয়ে যাবেই এবং তারা যা চায় তা শেষ পর্যন্ত তারা অর্জনও করবে— সে লড়াইয়ে তারা কংগ্রেসের নেতৃত্ব পাক আর না পাক। কংগ্রেসের নেতৃত্ব তাদের যে খুব বেশী প্রয়োজন তা নয়, কিন্তু অপরপক্ষে কংগ্রেসের রাজনৈতিক সাফল্য সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে জনগণের সচেতন সমর্থনের উপর। কংগ্রেস যেন মনে না করে যে জনগণের স্বার্থরক্ষার জন্য কিছু না করেও জনগণের নিরঙ্কুশ নেতৃত্ব তারা অর্জন করেছে। মহাত্মাজীর ব্যক্তিগত চরিত্রের জন্য তিনি মানুষের পূজা পেতে পারেন। ধর্মঘটী মানুষেরা তাদের কয়েক পয়সার মজুরী বৃদ্ধির আন্দোলনে ‘মহাত্মাজী কি জয়’ স্লোগানও তুলতে পারে। বিক্ষোভের প্রথম উত্তেজনায় তারা এমন সব পথে পরিচালিত হতে পারে, যে পথে তাদের প্রকৃত সংগ্রামের যোগ নেই। তাদের নবার্জিত উদ্দীপতা যা বহুযুগের ক্ষুধার যন্ত্রণায় ভাষা পায়নি, তা হয়তো তাদের শেষ কৌপীনটুকু পুড়িয়ে ফেলতে উত্তেজিত করতে পারে। কিন্তু তাদের ধীর চিন্তার মুহূর্তে তারা কী চায়? নিশ্চয়ই রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য বা খিলাফত উদ্ধার নয়। তারা চায় জীবনধারণের আপাত সামান্য কিছু অপরিহার্য উপকরণসমূহ-এরই জন্য তারা লড়াইয়ে নেমেছে। শহরের শ্রমিকেরা মজুরী বৃদ্ধি দাবী করে, খাটুনির ঘণ্টা কমাতে চায়, জীবনধারণোপযোগী উন্নততর পরিবেশ দাবী করে। গরীব কৃষক জমির মালিকানা দাবী করে, অতিরিক্ত কর ও খাজনা থেকে রেহাই চায় এবং জমিদারদের দুঃসহ শোষণ থেকে মুক্তি চায়। তারা সামাজিক ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। শোষকের জাতি নির্ণয়ে তাদের দুঃখের কোনো তারতম্য ঘটে না। এই হলো যথার্থ বৈপ্লবাত্মক শক্তির স্বরূপ। এই শক্তিই রাষ্ট্রনৈতিক শাসনের পরিবর্তন আনতে পারে এ সত্য কংগ্রেস যত শীঘ্ৰ উপলব্ধি করতে পারে ততই মঙ্গল।

    কংগ্রেস যদি এই গণ-জাগরণের সঙ্গে কোনো যোগ না রেখেই জাতীয় নেতৃত্বের আশা করে তবে এই কংগ্রেসকেও তার পূর্বসূরীর মতো মৃত অতীতের অন্ধকারে অখ্যাতির মাঝে নির্বাসন ভোগ করতে হবে। তারপর সেই বেঁচে থাকার লড়াইকে ধাপে ধাপে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। খিলাফতের দাবি, বয়কট প্রস্তাব, “চরখা হাতে বেদের যুগে ফিরে যাবার” উদ্ভট আদর্শ অথবা বুদ্ধিজীবী মধ্যবিত্ত এবং দোকানদারদের সাধারণ ধর্মঘটের আহ্বানের পথে কংগ্রেসের পতাকাতলে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে না। বক্তৃতায় মানুষকে লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করা যাবে না। বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে তাদের লড়াইয়ে উদ্দীপ্ত করতে হবে। দারিদ্রপীড়িত নির্যাতিত নিঃস্ব শ্রমিক আর কৃষক লড়াইয়ের ময়দানে নেমে পড়তে বাধ্য। কারণ অন্য কোথায়ও তাদের কোনো উপায় নেই, আশা নেই। এই শ্রমিক-কৃষককে ঐক্যবদ্ধ করার দায়িত্ব কংগ্রেসের। কংগ্রেস তখনই জনগণের আস্থাভাজন হতে পারবে যখন আর সে তাদের কাছে লোক দেখানো জাতীয় স্বার্থ নামক একটি তথাকথিত উচ্চ আদর্শের নামে ( যা আসলে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের ঐশ্বর্য বৃদ্ধির অবলম্বন) তাদের স্বার্থ বিসর্জন দেবে না। আজ ভারতবর্ষ বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে উপনীত। কংগ্রেস যদি সেই বিপ্লবের নেতৃত্ব দিতে চায়, তবে সে যেন কেবল কতকগুলি বাইরের লোক দেখানো সভা বা ক্ষণস্থায়ী উন্মত্ত উত্তেজনার উপর ভরসা না রাখে। কানপুরের শ্রমিকেরা যে দাবী রেখেছে সেই ট্রেড ইউনিয়ন দাবীগুলিকে কংগ্রেস নিজের দাবী বলে ঘোষণা করুক। কিসান সভার কার্যসূচীকে কংগ্রেস তার নিজের কার্যসূচী বলে স্বীকার করুক- তবেই দেখা যাবে যে কোনো বাধাই কংগ্রেসকে থামাতে পারছে না। তখন আর কংগ্রেসকে একথা বলে অনুশোচনা করতে হবে না যে দেশের মানুষ যথেষ্ট পরিমাণে ত্যাগ স্বীকার করেনি বলে কোনো নির্দিষ্ট তারিখে স্বরাজ অর্জন করা গেল না, কংগ্রেসের পিছনে তখন সমগ্র দেশের অপ্রতিরোধ্য জনশক্তি এসে দাঁড়াবে। এ পথে না গেলে অসহযোগের সমস্ত নিষ্ঠা, সেভেরস চুক্তি সংশোধনের সমস্ত দৃঢ়তা, আত্মশক্তির সমস্ত আদর্শ সত্ত্বেও কংগ্রেসকে সরে দাঁড়াতে হবে এবং সেখানে সাধারণ মানুষের স্বার্থ নিয়ে লড়বে এমন নূতন সংগঠন সাধারণ মানুষের ভিতর থেকেই গর্জে উঠবে। কংগ্রেস যদি সমগ্র জাতিকে তার সঙ্গে চায়, তবে মুষ্টিমেয় গোষ্ঠী বা শ্রেণীর স্বার্থে সে যেন নিজেকে আবদ্ধ না রাখে। কংগ্রেসে আজ ‘তীক্ষ্মধী ব্যবহারজীবী’র স্থান নিয়েছে ‘ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি’র গোষ্ঠী। কংগ্রেস যেন তাদের অদৃশ্য অঙ্গুলি নির্দেশে না চলে। তাদের আসল মতলব হল ইংরেজের জায়গায় তাদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

    কংগ্রেস যখন অসহযোগের পতাকাতলে বিপ্লবী শক্তির অপব্যয় ঘটাচ্ছে, তখন প্রতিবিপ্লবী শক্তি মানুষকে বিপথে পরিচালিত করবার জন্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে শ্রমিকশ্রেণীর বিপ্লবী চেতনা ঝিমিয়ে পড়েছে-ধর্মঘটের ক্ষেত্রে শৈথিল্যই তার প্রমাণ। ট্রেড ইউনিয়নগুলি সংস্কারবাদী বা হঠকারী বা সরকারী দালালের হাতে চলে যাচ্ছে। ‘আমন সভা’গুলি কৃষকদের গ্রাস করছে। সরকার জানে কোথায় আন্দোলনের প্রকৃত উৎস। সরকার জনগণকে কংগ্রেস থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়। এই সব চতুর আমলাদের ধূর্ত ষড়যন্ত্রকে পরাস্ত করতে গেলে কেবল ফাঁপা বুলি আর আবেগপূর্ণ আবেদনে কাজ হবে না। সমান চতুর নীতি অনুসরণ করতে হবে। জনতার চেতনাকে জাগ্ৰত করতে হবে-এই হল লড়াইয়ে তাদের টেনে আনার একমাত্র পথ।

    সহযাত্রী দেশবাসীগণ,

    কংগ্রেসের কার্যসূচীতে হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের সমস্যাটির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, সে সম্বন্ধে কিছু বলা প্রয়োজন। ভারতের মানুষ অগণিত জাতি, ধর্ম মত ও সম্প্রদায়ে বিভক্ত। এই ব্যবধানকে দূর করতে কতগুলি কৃত্রিম ও আবেগভরা প্রচারে কোনো কাজ হবে না। সৌভাগ্যক্রমে এই অসংখ্য দল ও সম্প্রদায় একটি প্রবল শক্তির চাপে দুটি সুস্পষ্ট শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সেই শক্তি হল অর্থনীতি। এই অর্থনীতির অমোঘ বিধানে বিত্তশালী শ্রেণী সম্পদহীন নিঃস্ব মানুষকে শোষণ করে চলেছে। এই শ্রেণীবিভাগে কিছু কিছু ‘উগ্র দেশপ্রেমিক’ বড় অস্বস্তি বোধ করেন। কারণ তাঁরা প্রচার করে বেড়ান যে এই ভারতবর্ষ ঈশ্বরের এক বিশেষ সৃষ্টি। কিন্তু একথা অস্বীকার করা চলে না যে অর্থনীতির অমোঘ বিধানে ভারতবর্ষেও সক্রিয়- তারই প্রভাবে সহস্র সামাজিক ব্যবধানকে দূর করে ভারতবর্ষ দুটি বিরাট শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই অমোঘ বিধানেই হিন্দু শ্রমিক তার মুসলমান সহকর্মীর ঘনিষ্ঠ হয়ে আসছে। হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের এই একমাত্র পথ। যারা স্পষ্টভাবে এই সমাজ অর্থনীতির অভ্রান্ত নীতি অনুধাবন করবে, তারা আর উদভ্রান্তের মতো সন্ধান করতে যাবে না যে কীভাবে মুসলমানের মনে গোজাতি সম্বন্ধে শ্ৰদ্ধা জাগানো যায় বা হিন্দু কৃষককে বোঝাতে হবে না যে তাঁর আত্মার মুক্তি ও ইহকালের সকল যন্ত্রণা মোচনের একমাত্র উপায় হলো খিলাফৎ উদ্ধার বা তুর্কীদের হাতে আর্মেনিয়াদের বশ্যতা স্বীকার। ফাঁকা ভাবালুতার পথে হিন্দু- মুসলমান ঐক্য আসবে না। অর্থনৈতিক শক্তির বাস্তব পথেই তা সম্ভব হবে। আমাদের কর্তব্য সে বাস্তব যুক্তির উপর জোর দেওয়া এবং সেই পথে আস্থা রাখা।

    সহযাত্রী দেশবাসীগণ,

    আপনার একটি ক্ষুদ্র শ্রেণীর উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে সমগ্র জাতির অভাব-অভিযোগের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। রাজনৈতিক জুয়াখেলা ছেড়ে সমাজশক্তির সমর্থনে কংগ্রেস উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠুক। আপনারা কাজের দ্বারা প্রমাণ করুন যে কংগ্রেস দেশীয় ধনিকশ্রেণীর একচেটিয়া অধিকার অর্জনের জন্য নয়, সমগ্র ভারতীয় জনগণকে-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক-সর্বপ্রকার শোষণ থেকে মুক্তি দেবার জন্য বিদেশী শোষণের অবসান চায়। আপনারা প্রমাণ করুন যে কংগ্রেস সত্যই জনগণের যথার্থ প্রতিনিধি এবং জনগণের সংগ্রামে প্রতিস্তরে নেতৃত্ব দেবার যোগ্যতা কংগ্রেসের আছে। তবেই কংগ্রেস যথার্থ জাতীয় নেতৃত্ব অর্জন করবে। এবং কোনো ব্যক্তি বিশেষের খামখেয়ালে নির্ধারিত কোনো নির্দিষ্ট তারিখে স্বরাজ আসবে না, স্বরাজ অর্জিত হবে সর্বস্তরের মানুষের সচেতন ও সম্মিলিত চেষ্টায়। [২৪]

    মানবেন্দ্রনাথ রায়
    অবনী মুখার্জি
    ১লা ডিসেম্বর
    ১৯৯১

    [24. এই ইশতেহারখানি শ্রীশুভেন্দুশেখর মুখোপাধ্যায় মুলত ইংরাজি হতে বাঙলায় তরজমা করে দিয়ে আমায় কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছেন।]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅশরীরী আতঙ্ক – মানবেন্দ্র পাল
    Next Article দুর্ব্বৃত্ত জাতি – সম্পাদক : মোস্তাক আহমাদ দীন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }