Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমার ডেঞ্জারাস মামী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প163 Mins Read0
    ⤶

    ১২. অক্টোপাস

    ১২. অক্টোপাস

    ভোররাতে জাহাজটা রওনা দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু ঘুম থেকে উঠে আবিষ্কার করলাম জাহাজটা থেমে আছে। আমি মামীকে জিজ্ঞেস করলাম, “মামী, জাহাজটা ছাড়বে না?”

    “উঁহু।” মামী মাথা নাড়লেন, “প্ল্যান পালটানো হয়েছে। এখানে আরও দুদিন থাকব।”

    “কেন?”

    মামী হাসি হাসি মুখে বললেন, “তোরা যে কোরাল রিফটা আবিষ্কার করেছিস সেটাকে ভালো করে স্টাডি করতে হবে।” মামী কথাটা বলার সময় ‘তোরা’ শব্দটা অনেক জোর দিয়ে বললেন, শুনে আমার খুবই আনন্দ হলো।

    সবাই যখন কোরাল রিফটা দেখতে যাবে তখন আমি আর মিতি সাথে যেতে পারব কিনা খুবই জানার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু এর আগের বার আমরা যে কাণ্ড করেছি এবং সেটা নিয়ে যা যা হয়েছে সেটা চিন্তা করে আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। যদি তারা নিতে চায় নিজেরাই নিবে, আমার জিজ্ঞেস করতে লজ্জা লাগল।

    মামী আমাকে কিছু বললেন না, ব্যস্ত হয়ে বের হয়ে গেলেন। সকালে নাস্তা করার সময় জহিরকে দেখলাম না। তার মাথা ন্যাড়া হওয়ার পর মনে হয় সে আর তার কেবিন থেকে বের হচ্ছে না। নাস্তা শেষ করে আমি আর মিতি ডেকে এসে বসেছি। মিতি কয়েকটা বই নিয়ে এসেছে, মনে হয় বসে বসে পড়বে। বইগুলো সবই ইংরেজি, বাংলা বই পড়তেই আমার দাঁত ভেঙে যায়, ইংরেজি বই পড়ব কেমন করে? তবু একটা বই নিয়ে ডেক চেয়ারে হেলান দিয়ে বসেছি। বইয়ের ভেতরে অনেক সুন্দর সুন্দর ছবি, পড়তে না পারলেও ছবি দেখে সময় কেটে যাবে। বইটা নানারকম সামদিক প্রাণীর ওপর, সমুদ্রের নিচে এত আজব প্রাণী আছে কে জানত!

    আমি যখন বইয়ের ছবি দেখা শুরু করেছি ঠিক তখন জহির অনেকটা পা টিপে টিপে এসে হাজির হলো। মাথা ন্যাড়া করায় তার যে মাথায় চুল নাই এই ব্যাপারটা সে এক সেকেন্ডও ভুলতে পারছে না, মাথায় হাত দিয়ে নিজের অজান্তে তার প্রিয় চুলগুলো খুঁজে বেড়াচ্ছে।

    জহির কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়, চুল না থাকার কারণে তাকে এখন সম্পূর্ণ অন্য একজন মানুষের মতো দেখাচ্ছে। আমি তার দিকে তাকালাম, জহির তখন জিজ্ঞেস করল, “তোকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি?”

    “কী কথা?”

    “তোর টুপির মাঝে তুই ইচ্ছা করে আঠা লাগিয়ে রেখেছিলি তাই না? যেন আমার চুলে আঠা লাগে?”

    জহির ঠিক ঠিক সন্দেহ করেছে কিন্তু আমি তো এখন সত্যবাদী জর্জ ওয়াশিংটন হতে পারি না, তাই মাথা নাড়লাম, বললাম, “কেন? আমি কেন সেটা করতে যাব?”

    “আমার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।”

    যদিও আমি খুব ভালো করে জানি সে কীসের জন্য প্রতিশোধের কথা বলছে তার পরও আমি খুবই সরল মুখে জিজ্ঞেস করলাম, “কীসের প্রতিশোেধ?”

    “এই যে তোরা সমুদ্রে হারিয়ে গেলি–”

    “কেন হারিয়েছিলাম, বলো দেখি?”

    জহির মুখ শক্ত করে বলল, “আমি যেটা জিজ্ঞেস করেছি সেটার উত্তর দে। আমার চুলে আঠা লাগানোর পুরোটা তোর প্ল্যান ছিল। ঠিক?”

    আমি আমার মুখ আরও শক্ত করে বললাম, “তুমি যে কাজটা করেছিলে সেটা কত ডেঞ্জারাস ছিল তুমি জানো? যদি আমাদের বোটটা উলটে যেত তাহলে আমরা যে মরে যেতাম সেটা টের পাচ্ছ?”

    জহির হাত নেড়ে পুরো ব্যাপারটা উড়িয়ে দিয়ে বলল, “হয়েছে হয়েছে বুঝেছি। এখন আমি যেটা জিজ্ঞেস করেছি সেই কথার উত্তর দে। পুরোটা তোর প্ল্যান, ঠিক?”

    “যখন দড়িটা হাত থেকে ছুটে গেল তখন সাথে সাথে তোমার ভেতরে গিয়ে বড়ো কাউকে বলা দরকার ছিল।”

    জহির বিরক্ত হয়ে বলল, “বড়ো বড়ো কথা বাদ দে। যেটা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর দে।”

    আমি আমার মুখের একপাশ দিয়ে একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বললাম, “তুমি যে কাজটা করেছ আমি যদি সেজন্য শাস্তি দিতাম তাহলে সেটা নিয়ে তোমার কোনো সন্দেহ থাকবে না! সেটা এই ছোটোখাটো চুলে আঠা লাগানো হবে না! সেটা হবে সত্যিকারের শাস্তি

    জহির তার চোখ ছোটো ছোটো করে বলল, “তুই কী করতি?”

    “আমি বলব না।”

    “বল, শুনি।”

    “সত্যি শুনতে চাও?”

    জহির মাথা নাড়ল। আমি বললাম, “যেরকম তোমার টয়লেট সিটে কয়েক ফোঁটা সুপার গ্লু দিয়ে রাখলাম। তুমি যখন বসবে তখন আর উঠতে পারবে না।”

    জহির কেমন যেন ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। জিজ্ঞেস করল, “তোর কাছে সুপার গ্লু আছে?”

    “সবসময় থাকে। খুব কাজের জিনিস।”

    জহির বলল, “কিন্তু কিন্তু—” শেষ পর্যন্ত বাক্যটা শেষ না করে চলে গেল।

    পুরো সময়টা মিতি আমার আর জহিরের মুখের দিকে তাকিয়েছিল, আমরা কী কথা বলছি সেটা বোঝার চেষ্টা করছিল। জহির চলে যাওয়ার পর মিতি কিছুক্ষণ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর বুক থেকে তার নোট বইটা বের করে সেখানে কুট কুট করে লিখল, তোমার কাছে সত্যি সত্যি সুপার গ্লু থাকে?

    আমি লেখাটা পড়ে হি হি করে হাসলাম। বললাম, “মাথা খারাপ? আমার কাছে কোনো সুপার গ্লু নাই! কেন থাকবে?”

    মিতি তখন কুট কুট করে লিখল, ‘তুমি অনেক দুষ্টু।’

    আমি তার হাত থেকে নোট বইটা নিয়ে ‘দুষ্টু’ শব্দটা কেটে লিখলাম ‘পাজী’।

    মিতি সেটা পড়ে মাথা নেড়ে রাজী হয়ে হি হি করে হাসল।

    আমি আবার সামুদ্রিক প্রাণীর ওপর বইটার ছবি দেখতে শুরু করলাম। কত বিচিত্র রকম প্রাণী সেগুলো বলে শেষ করা যাবে না। ছবিগুলো দেখলে মনে হয় শুকনা জায়গার জগৎটা হচ্ছে ভুয়া, পানির নিচেই বুঝি আসল জগৎ। ছবিগুলো দেখতে দেখতে অক্টোপাসের ছবিতে আমার চোখ আটকে গেল। কী ভয়ানক ছবি, কিলবিলে পা, সেই পায়ে আবার চুষণী! চোখ দুটো কী আশ্চর্য, দেখে মনে হয় সবকিছু বুঝতে পারছে।

    আমি কষ্ট করে অক্টোপাসের ওপরে লেখাটা পড়তে লাগলাম। প্রথম প্রথম ইংরেজি পড়তে গিয়ে সত্যি সত্যি দাঁত ভেঙে যাওয়ার অবস্থা, খানিকটা পড়ার পর একটু সহজ মনে হতে লাগল। আমি ধাক্কাধাক্কি করে পুরোটা পড়ে ফেললাম। পড়া শেষ করে টের পেলাম অক্টোপাস দেখতে যত আজব সে নিজে তার থেকে একশ গুণ বেশী আজব। পৃথিবীর সবার ব্রেন একটা, অক্টোপাসের ব্রেন নাকি নয়টা। আসল ব্রেন ছাড়াও আটটা কিলবিলে পায়ের জন্য আটটা আলাদা আলাদা ব্রেন। তার অর্থ অক্টোপাসের পাগুলো নিজে নিজে চলতে পারে।

    আমি চিন্তা করলাম আমার হাত পায়ের যদি আলাদা ব্রেন থাকত তাহলে কী হতো? কথা নাই বার্তা নাই কাউকে আমার হাত নিজে নিজে ঘুষি মেরে দিত?

    অক্টোপাসের শুধু যে নয়টা বেন তাই না, তার হৃৎপিণ্ড নাকি তিনটা। কী আজব! একটা হৃৎপিণ্ড নিয়েই মানুষের ঝামেলার শেষ নাই, দুইদিন পরে পরে হার্ট অ্যাটাক হয়। তিনটা হৃৎপিণ্ড থাকলে সেগুলো সামলায় কেমন করে?

    অক্টোপাসের চোখ নিয়েও আরও অনেক কিছু লেখা আছে। সেগুলো ঠিক বুঝতে পারলাম না। তবে যেটা সবচেয়ে আজব সেটা হচ্ছে অক্টোপাস নাকি খুব বুদ্ধিমান! নয়টা ব্রেইন হলে বুদ্ধিমান তো হতেই হবে, এক ব্রেইন নিয়েই মানুষের বুদ্ধির শেষ নাই, নয়টা হলে বুদ্ধিমান হবে তাতে অবাক হওয়ার কী আছে? কে জানে পানির নিচে অক্টোপাস ঘর বাড়ি বানায় কিনা, কবিতা লিখে কিনা, ছেলেপিলেদের স্কুলে পাঠায় কিনা। হয়ত অক্টোপাসেরা গোপনে বোমা বানাচ্ছে হঠাৎ একদিন তারা সেই বোমা নিয়ে মানুষের ওপর হামলা করবে!

    তবে বইটাতে লেখা আছে অক্টোপাস খুবই নিরীহ, মানুষ থেকে দূরে থাকে। বেশীর ভাগ অক্টোপাসের সাইজ ছোটো। শুধু প্রশান্ত মহাসাগরে বিশাল সাইজের অক্টোপাস আছে। আমাদের এখানে নাই, থাকলে মজাই হতো।

    দুপুরবেলা আমরা যখন লাঞ্চ করছি তখন একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “দুপুরে কাজকর্ম নেই তো?”

    আমি একটু অবাক হলাম, দুপুরে আমাদের আবার কী কাজ থাকবে? আমি বললাম, “না। কেন?”

    “ফটোশুট।”

    ফটোশুট কথাটা আগে শুনি নাই, মনে হলো ফটো তোলার মতো কিছু একটা। সত্যিই তাই, শুনলাম মানুষটা বলল, “তোমার আর মিতির ফটো তোলা হবে।”

    “আমাদের? ফটো?”

    “হ্যাঁ।”

    “কোনখানে তুলবেন?”

    “তোমাদের আবিষ্কার করা কোরাল রিফে।”

    “কোরাল রিফে? পানির নিচে?” উত্তেজনায় আমার প্রায় দম বন্ধ হয়ে আসে।

    মানুষটা মাথা নাড়ল, “কোরাল রিফ তো পানির নিচেই হবে।”

    “তাহলে তাহলে–” আমি বেকুবের মতো জিজ্ঞেস করলাম, “ক্যামেরা ভিজে যাবে না?”

    মানুষটা বলল, “আমাদের খুব হাই-ফাই আন্ডারওয়াটার ক্যামেরা আছে। আমাদের কাজই হচ্ছে সমুদ্রের তলায় ছবি তোলা।”

    মিতি আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করছিল, মোটামুটি বুঝে গেছে কী নিয়ে কথা হচ্ছে তবুও নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমাকে হাত দিয়ে ক্যামেরার ছবি ভোলার ভঙ্গী করে জিজ্ঞেস করল আমি মাথা নাড়লাম। তখন হাত দিয়ে আমাদের দুজনকে দেখাল–জানতে চাইল আমাদের দুজনের ছবি তোলা হবে কিনা। আমি মাথা নাড়লাম, হাত ওপরে তুলে ঝাঁকুনি দিলাম আর মুখে বললাম, “ইয়েস!”

    মিতি দাঁত বের করে হাসল, ডান হাত দিয়ে খাচ্ছিলাম বলে বাম হাত দিয়ে আমরা হাই ফাইভ দিলাম।

    আমাদেরকে স্নর্কেল করতে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে ইমতিয়াজ চাচা রওনা দিয়েছিলেন, টেবিলের এক পাশে বসে খেতে খেতে আমাদের দিকে চোখ

    মটকালেন, বললেন, “কী খবর? আজকে কোনো অ্যাডভেঞ্চার হয়েছে?”

    আমি মাথা নাড়লাম, “না।”

    মামী বললেন, “এক অ্যাডভেঞ্চারেই আমাদের সবার আয়ু কমে আছে। আরও অ্যাডভেঞ্চার দরকার?”

    ইমতিয়াজ চাচা বললেন, “কিন্তু সেজন্য আমরা কোরাল রিফটা পেয়েছি।”

    যে মানুষটা আমাদের ছবি তোলার কথা বলছিল সে বলল, “কোরাল রিফটার নাম এই দুজনের নামে দিলে কেমন হয়? টুলুমিতি কোরাল রিফ।”

    আরেকজন বলল, “বিদেশীরা ঠিক করে উচ্চারণ করবে পারবে না। বলবে টিউলোমিটি খোঁড়াল ড়িফ।”

    ইমতিয়াজ চাচা বললেন, “খারাপ কী? ইয়েসোমিটির সাথে একটা মিল থাকবে ক্যালিফোর্নিয়ায় ইয়েসোমিটি, বঙ্গোপসাগরে টিউলোমিটি।”

    সবাই হা হা করে হাসল। ইয়েসোমিটি কী আমি জানি না, এখন আর সেটা জিজ্ঞেস করলাম না। বুঝতেই পারছি তারা ঠাট্টা করে বলছে, তবু শুনে আমার ভালোই লাগল। সত্যি সত্যি যদি এই কোরাল রিফটার নাম দিত টুলুমিতি কী মজাই না হতো। স্কুলের পাঠ্যবইয়ে হয়ত এর ওপর একটা চ্যাপ্টার থাকত। পরীক্ষায় প্রশ্ন আসত, ‘টুলুমিতি কী? ইহা কোথায় অবস্থিত এবং ইহা কীসের জন্য বিখ্যাত?’ ছেলেমেয়েরা লিখত, ‘টুলুমিতি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো কোরাল রিফ। টুলু এবং মিতু ইহা আবিষ্কার করিয়াছিলেন বলিয়া তাহাদের নামানুসারে ইহার নাম দেওয়া হয় টুলুমিতি কোরাল রিফ। ইহা বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।’ ব্যাপারটা কাল্পনিক তারপরেও এটা চিন্তা করে আমার মুখে আনন্দের হাসি আমি থামাতে পারি না।

    .

    দুপুরে দুটি স্পীডবোট করে বিশাল একটা টিম কোরাল রিফে রওনা দিয়েছে, সেখানে আমি আর মিতিও আছি। জহিরকেও জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কিন্তু সে যেতে রাজী হয় নাই। দুটি স্পীডবোটে বেশ কয়েকজন ডাইভার, তাদের মাঝে মামীও আছে, ইমতিয়াজ চাচাও আছেন। অন্য আরও দুজন আছে। এছাড়া আরও নানারকম যন্ত্রপাতি, অনেকগুলো ক্যামেরা।

    স্পীডবোট দুটি পাশাপাশি পানি ছিটিয়ে যাচ্ছে। আমি চাচ্ছিলাম দুটি রেস করুক, দেখা যাক কে আগে যেতে পারে কিন্তু মনে হচ্ছে তাদের সেরকম ইচ্ছা নাই। মানুষ বড়ো হলেই কেমন জানি লেবদু হয়ে যায়, তাদের ভেতরে কোনো রকম তেজ থাকে না। আমি যদি স্পীডবোটটা চালাতে পারতাম তাহলে এতক্ষণ এটাকে রীতিমতো উড়িয়ে নিয়ে যেতাম।

    কোরাল রিফটাতে পৌঁছাতে আমাদের অনেকক্ষণ লাগল, আমি অবাক হয়ে গেলাম যে আমরা এতদূরে ভেসে এসেছিলাম। আমাদের যে খুঁজে পেয়েছিল সেটাই এখন মনে হচ্ছে আমাদের কপাল। পৌঁছানোর পর স্পীডবোট দুটিকে পাশাপাশি থামানো হলো তারপর সবাই কাজ শুরু করে দিল। যারা ছবি তুলবে তারা ক্যামেরা নিয়ে পানির নিচে নেমে গেছে। মনে হয় ঘুরে ঘুরে ছবি তুলছে। আমি আর মিতি অপেক্ষা করছি কখন আমাদের ডাকে। মামী মনে হয় আমাদের সাথে যাবেন। তাই ডাইভার স্যুট পরে অপেক্ষা করছেন। আমি মামীর সিলিন্ডারটা দেখলাম। পিছনে ব্যাকপেকের মতো আছে সেখান থেকে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য একটা টিউব আছে, সেখানে অনেক রকম যন্ত্রপাতি। সুর্কেল করার সময় যেরকম মুখে লাগিয়ে মুখ দিয়ে শ্বাস নেয় এখানেও সেরকম তবে মর্কেলের মতো এত ঠুনকি মার্কা না, অনেক কায়দার। আমি একটু অবাক হয়ে দেখলাম নিঃশ্বাস নেওয়ার এরকম টিউব দুইটা, একটা কালো অন্যটা বেশ লম্বা আর রংটা ক্যাটক্যাটে হলুদ। আমি মামীকে জিজ্ঞেস করলাম, “দুইটা কেন মামী?”

    মামী বললেন, “কালোটা প্রাইমারী। এটা ব্যবহার করি। অন্যটা ইমার্জেন্সির জন্য, যদি অন্য কাউকে সাহায্য করতে হয়।”

    “অন্য কাউকে?”

    “হ্যাঁ। ডাইভারদের সবসময় দুজন করে নামার নিয়ম, একজনের বাতাস যদি শেষ হয়ে যায় তখন এভাবে অন্যজনকে সিগন্যাল দেয়।” মামী গলায় পোচ নেওয়ার মতো করে দেখালেন, “তখন ডাইভার অন্যটা তার পার্টনারকে দেয়।”

    “কী আজব!”

    “আজব হবে কেন? এগুলো হচ্ছে সেফটি। জীবনে হয়ত কখনোই দরকার হবে না, তবু সবার থাকতে হয়।” মামী হলুদ টিউবটা দেখিয়ে বললেন, “এই ইমার্জেন্সি টিউবটার নাম কী জানিস?”

    “কী?”

    “অক্টোপাস। শর্টকাটে অক্টো।”

    আমি আবার বললাম, “কী আজব!” তারপর মামীকে জিজ্ঞেস করলাম, “মামী, তুমি একটা জিনিস জানো?”

    “কী?”

    “অক্টোপাসের প্রত্যেকটা পায়ে একটা করে ব্রেন। সেজন্য সব মিলিয়ে তাদের নয়টা ব্রেন?”

    মামী মাথা নাড়লেন, বললেন, “হা জানি। এই জন্য অক্টোপাসের পা কেটে ফেললেও সেই পা যেটা করাছল সেটা করতেই থাকে।”

    “সত্যি?”

    “হ্যাঁ, পা কেটে ফেললেও অবশ্য অক্টোপাসের কোনো সমস্যা নাই। সেখানে নতুন পা গজায়।”

    “টিকটিকির লেজের মতো?” মামী হাসলেন, বললেন, “হ্যাঁ, টিকটিকির লেজের মতো।”

    অক্টোপাস নিয়ে মামী আরও কী একটা বলতে চাচ্ছিলেন ঠিক তখন আমাদের স্পীডবোটের পাশে একজন ডাইভার ভুশ করে ভেসে উঠল। আমি চিনতে পারলাম, যার আমাদের ফটো তোলার কথা সেই মানুষটা। মুখ থেকে টিউবটা খুলে বলল, “টুলু, মিতি ফটো তোলার জন্য রেডি?”

    “হ্যাঁ, রেডি।”

    “তাহলে পানিতে নেমে আমাকে ফলো করো।”

    ডাইভারস গগলসটা চোখের ওপর টেনে নামিয়ে দিয়ে আমি পানিতে নামলাম। আমার পেছনে পেছনে মিতি, সবশেষে মামী। পানিতে নামতেই প্রথমে একটু ঠান্ডায় শরীরটা কেঁপে উঠল কিন্তু সাথে সাথেই শরীরটা অভ্যস্ত হয়ে গেল। ক্যামেরাম্যান আধা ডুবে আধা ভেসে সাঁতার কেটে এগিয়ে যায়, আমরা তার পিছু পিছু যেতে থাকি।

    বেশ খানিকদূর যাওয়ার পর ক্যামেরাম্যান থামল। সেখানে চিহ্ন হিসেবে একটা লাইফবয় ভাসছে। ক্যামেরাম্যান বলল, “এটা খুবই সুন্দর স্পট। এখানে পোজ দিতে পারবে না?”

    আমি বললাম, “পারব।”

    “গুড। তাহলে স্নৰ্কেল লাগিয়ে ডুব দাও, যতটুকু পারো।”

    আমরা যেহেতু লাইফ জ্যাকেট পরে আছি তাই ডুব দেওয়া সহজ না তবু আমরা চেষ্টা করলাম, নিচে তাকিয়ে দেখি সত্যি জায়গাটা অসাধারণ। পুরো জায়গাটাতে কোরাল, তাদের শুড়গুলো নড়ছে। মনে হলো অন্য অনেক রকম সামুদ্রিক গাছও আছে, তাদের ভেতরে মাছগুলো ঘুরছে। মাছগুলো নানারকম, কোনোটা ছোটো, কোনোটা বড়ো, বিচিত্র তাদের রং! আমাদের দেখে তাদের কোনো ভয় ডর নেই, একেবারে কাছে এসে ঘুরে যাচ্ছে।

    সেখানে আমাদের ক্যামেরাম্যান আমাদের অনেকগুলো ছবি তুলল। সবশেষে অনেকগুলো ছবি তুলল যেখানে আমাদের দুই আঙুল দিয়ে ভি সাইন দেখাতে হলো। ছবি তোলা শেষ হলে আমরা সবাই ভেসে উঠলাম, ক্যামেরাম্যান তখন ডাইভারস গগলস সরিয়ে কয়েকটা ছবি তুলল যেন আমাদের চেহারা দেখা যায়।

    ছবি তোলা শেষ হওয়ার পর ক্যামেরাম্যান বলল, “ভেরি গুড। সুন্দর অনেকগুলো শট হয়েছে।”

    আমি জিজ্ঞেস করলাম, “শেষ?”

    “হ্যাঁ।”

    মামী বললেন, “এদের ফিরিয়ে নিয়ে যাব?”

    “হ্যাঁ। নিয়ে যেতে পারেন।”

    মামী আমাদের বললেন, “ঠিক আছে টুলু আর মিতি। চল। এখন ফিরে যাই।”

    আমি আসলে মোটেও ফিরে যেতে চাচ্ছিলাম না। আরও কিছুক্ষণ জায়গাটা ঘুরে দেখতে চাচ্ছিলাম। আমি খুবই মুখ কাচুমাচু করে বললাম, “মামী, আরও কিছুক্ষণ থাকি? প্লিজ।”

    মামী বললেন, “উঁহু। আমার অনেক কাজ, শুধু তোদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তোদের সাথে আছি। চল।”

    “প্লিজ মামী। অল্প একটু সময় থাকি?”

    “কতক্ষণ?”

    “মনে করো এক ঘণ্টা।”

    মামী বললেন, “পাঁচ মিনিট।”

    আমি বললাম, “আধঘণ্টা।”

    মামী বললেন, “দশ মিনিট।”

    আমি বললাম, “পনেরো মিনিট।”

    মামী বললেন, “ঠিক আছে। কিন্তু তার এক সেকেন্ড বেশী না। এই যে আমার ঘড়িতে অ্যালার্ম সেট করলাম।”

    মামী তার হাতে লাগানো বিশাল একটা ঘড়িতে কীভাবে জানি অ্যালার্ম দিয়ে দিলেন। আমি তখনো জানতাম না এই পনেরো মিনিটের ভেতরে আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতাটি হবে।

    .

    আমি আর মিতি ভেসে ভেসে যাচ্ছি। মিতি একটু সামনে আমি ঠিক তার পেছনে। মামী আমাদের দুজনের পেছনে, তার পুরো শরীর পানির নিচে, আমাদের মতো অর্ধেক ভেসে অর্ধেক ডুবে নয়। জায়গাটা যত না সুন্দর তার থেকে বেশী বিচিত্র, আমি জন্মেও ভাবি নাই এরকম জায়গা থাকা সম্ভব। সবচেয়ে আজব হচ্ছে মাছগুলো, সাতরে একেবারে আমাদের কাছে চলে আসে, হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা করলে তখন সরে যায়, মনে হয় একটু বিরক্ত হয়।

    আমি আশেপাশে সবকিছু দেখতে দেখতে যাচ্ছি, কোথাও কোথাও কোরাল রিফ দেওয়ালের মতো উঠে গেছে, তার মাঝে অনেক ফাঁকফোকর। সেগুলোর ভেতরেও নানা কিছু নড়ছে, পানির সাথে দুলছে। আমি সেরকম একটা ফাটলের ভেতর তাকালাম, আমার স্পষ্ট মনে হলো ভেতর থেকে একজন আমার দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে আছে। কী আশ্চর্য সেই দৃষ্টি দেখে বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে। আমার ভয়ে শরীর কাঁটা দিয়ে উঠল, কিন্তু আমার সামনে মিতি পেছনে মামী তাই আমার ভয় পাওয়ার কিছু নাই, তাই যেটুকু ভয় হলো কৌতূহল হলো আরও বেশী। আমি তাই আরেকটু ভালো করে দেখার জন্য কাছে গেলাম, চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম। এটা কার চোখ।

    ঠিক তখন একটা ভয়ংকর ব্যাপার ঘটল, ফাটলটার ভেতর থেকে কী যেন একটা বের হয়ে আমাকে প্যাচিয়ে ফেলল। আমাকে টেনে পানির নিচে নামিয়ে আনে এবং আমি অবাক হয়ে দেখলাম একটা অক্টোপাসের কিলবিলে পা আমার হাত আর পা’কে প্যাচিয়ে ধরে টেনে নিচ্ছে।

    পানির নিচে চিৎকার করা যায় না। কিন্তু মুখ থেকে স্নর্কেল খুলে গলায় পানি ঢুকে গেছে। আমি প্রাণপণে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করতে লাগলাম কিন্তু কিছুতেই নিজেকে ছাড়াতে পারি না। সবাই বলেছে অক্টোপাস খুব নিরীহ, এরা মানুষ থেকে দূরে থাকে কিন্তু এটা মোটেই নিরীহ না, এটা আমাকে ছাড়বে না, টেনে কোথাও নিয়ে যেতে চাইছে।

    আমার হুটোপুটির জন্য প্রথমে মিতি তারপর মামী আমাকে দেখতে পেলেন। মিতি আমার কাছে আসতে চাচ্ছিল, মামী তাকে ধাক্কা দিয়ে পানির ওপরে ঠেলে আমার কাছে এসে আমাকে ধরলেন। আমি তখন পানির নিচে এবং নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। শ্বাস নেওয়ার জন্য আমি সমস্ত শক্তি দিয়ে উপরে উঠতে চেষ্টা করছি কিন্তু অক্টোপাসটা আমাকে উঠতে দিচ্ছে না। মামী সাথে সাথে আমার অবস্থাটা বুঝে গেলেন এবং আমাকে অক্টোপাসের কবল থেকে মুক্ত করে উপরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেন। কোনো লাভ হলো না, কারণ অক্টোপাসের অনেকগুলো পা, কয়েকটা পা দিয়ে সে কোনো একটা জায়গা ধরে রেখেছে এবং কয়েকটা পা দিয়ে আমাকে ধরেছে। এখনো এক দুটি পা মুক্ত সেগুলো দিয়ে মামীর হাত কিংবা পা ধরার চেষ্টা করছে। মনে হচ্ছে অক্টোপাসটা পুরো অবস্থাটা খুব ভালো করে জানে এবং কী করতে হবে সেটা খুব চিন্তাভাবনা করেই করছে।

    মামী আরও একবার আমাকে ছোটানোর চেষ্টা করলেন, কিন্তু পারলেন না। আমি স্পষ্ট টের পেলাম অক্টোপাসটা আমাকে আরও শক্ত করে প্যাচিয়ে ধরেছে, এটাকে যেরকম নরম কিলবিলে মনে হয়, এটা মোটেও সেরকম নয়। এটা দড়ির মতো শক্ত। আমি হঠাৎ করে একটা অবিশ্বাস্য আতঙ্ক অনুভব করলাম। একটুখানি বাতাসের জন্য আমার বুকটা আকুলি বিকুলি করতে লাগল, মনে হলো বুকটা বুঝি বাতাসের অভাবে ফেটে যাবে। আমি অসহায়ভাবে মামীর দিকে তাকালাম।

    মামীর চোখে বিন্দুমাত্র আতঙ্ক নাই, মামী একেবারে পাথর মতো শান্ত, এতটুকু তাড়াহুড়া করলেন না। পেছন থেকে তার ক্যাটক্যাটে হলুদ রঙের টিউবটা বের করলেন, একটু আগে মামী আমাদের যেটা দেখিয়ে বলেছিলেন, তার নাম অক্টোপাস। মামী খুবই শান্তভাবে আমাকে সেটা দেখিয়ে মাথা নাড়লেন। আমি সাথে সাথে বুঝে গেলাম মামী এখন আমাকে এটা দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়াবেন। আমি মাথা নাড়লাম।

    মামী নিজের মুখ থেকে তার টিউবটা খুলে হলুদ টিউবটা মুখে দিয়ে কিছু একটা করলেন মনে হলো ভেতরের পানিটুকু বের করলেন–তারপর সেটা আমার মুখে ঠেসে ধরলেন। আমি দাঁত দিয়ে কামড়ে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করলাম। আমার বুকভরে বাতাস এলো। একবার। দুইবার। তারপর আরেকবার একটা বিশাল শ্বাস! আহা কী শান্তি! আমি তাহলে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে পানির নিচে মরে যাব না? বেঁচে যাব?

    মামী আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। আমি শ্বাস নিতে পেরেছি সেটা দেখে নিশ্চিন্ত হলেন, নিজের বুড়ো আঙুলটা তুলে আমাকে অভয় দিলেন আমার হাত দুটি অক্টোপাস পা দিয়ে প্যাচিয়ে রেখেছে, আমি তার ভেতরেই আমার বুড়ো আঙুল তুলে প্রত্যুত্তর দিলাম, বুঝিয়ে দিলাম আমি এখন ঠিক আছি। এখন ঠান্ডা মাথায় এখান থেকে মুক্ত হতে হবে।

    মামী এখন অক্টোপাসটার দিকে নজর দিলেন হাত দিয়ে তার পাগুলো সরাতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু লাভ হলো না একটা সরাতেই অন্য পা দিয়ে প্যাচিয়ে ফেলে। মাঝে মাঝে পা বাড়িয়ে মামীকে ধরে ফেলার চেষ্টা করে।

    আমার ডেঞ্জারাস মামী তখন তার কোমর থেকে তার মারাত্মক ছোরাটা খুলে নিলেন তারপর কিছু বোঝার আগে সেটা অক্টোপাসটার চোখে ঢুকিয়ে দিলেন।

    অক্টোপাসটার থলথলে শরীরটা কেঁপে উঠল, কুচকুচে কালো একধরনের রঙে জায়গাটা ভরে গেল। মামী এতটুকু বিচলিত হলেন না, ছোরাটা টেনে বের করে যে পাটা আমাকে ধরে রেখেছে তার গোড়ায় ঢুকিয়ে দিলেন। পাটা নড়ে উঠল–আমি আবার খুলে ফেলার চেষ্টা করতে লাগলাম।

    অক্টোপাসটা এবারে মামীকে ধরে ফেলার চেষ্টা করতে লাগল, তার পাগুলো মামীকে প্যাচিয়ে ফেলার জন্য কিলবিল করে এগিয়ে আসে। মামী সুযোগ দিলেন না–তার ধারালো ছোরা দিয়ে আঘাত করতে লাগলেন। এভাবে কতক্ষণ চলেছে জানি না, আমি সারাক্ষণ নিজেকে ছুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি, একসময় ডান হাতটা ছুটিয়ে নিতে পারলাম–তখন ডান হাত দিয়ে অনেক কষ্টে বাম হাতটাও ছুটিয়ে নিলাম।

    হঠাৎ অক্টোপাসটার কী হলো জানি না, সেটা আমাকে ছেড়ে দিল। তারপর বিচিত্রভাবে পেছন দিকে পানি ছিটিয়ে পিছনে সরে যেতে শুরু করল। আমরা অবাক হয়ে দেখলাম এটা চলে যাচ্ছে। কালো একধরনের তরল পদার্থে জায়গাটা কেমন যেন অন্ধকার হয়ে যায়, তার ভেতরে এটা কোথায় গেল আমি জানি না।

    মামী আমাকে ধরে টেনে পানির ওপরে নিয়ে এলেন। আমি ওপরের বাতাসে ভেসে উঠে মুখের টিউবটা খুলে সত্যিকার বাতাসে নিঃশ্বাস নিলাম। মিতি আমার কাছে ছুটে এসে আমাকে ধরল। তার চোখে মুখে অবর্ণনীয় আতঙ্ক।

    মামী জিজ্ঞেস করলেন, “বোটে যেতে পারবি?”

    বললাম, “পারব মামী।”

    “আয় তাহলে।”

    আমরা বোটের দিকে রওনা দিলাম। মামী আমার আর মিতির খুব কাছাকাছি থাকলেন। বোর্টের ওপর একজন দাঁড়িয়ে ছিল, মামী হাত দিয়ে তাকে কোনো একধরনের সংকেত দিলেন সাথে সাথে মানুষটা পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসে। কাছে আসার পর আমি চিনতে পারলাম, ইমতিয়াজ চাচা।

    জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে?”

    “বলছি। আগে এদের বোটে তুলল।”

    আমাদেরকে বোটে তোলা হলো। আমি বোটে হেলান দিয়ে নিঃশ্বাস নিতে থাকি। এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না কী হয়েছে। আমার হাতে পায়ে গোল গোল দাগ, অক্টোপাসের চুষণী থেকে এসেছে।

    ইমতিয়াজ চাচা অবাক হয়ে বললেন, “কী হয়েছে?”

    মামী বললেন, “তুমি বিশ্বাস করবে না। একটা রাক্ষুসে অক্টোপাস টুলুকে আক্রমণ করেছিল। অনেক কষ্টে ছুটিয়ে এনেছি। এই এলাকায় এত বড়ো অক্টোপাস কোথা থেকে এসেছে? অবিশ্বাস্য!”

    ইমতিয়াজ চাচা ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে রইলেন। মামী বললেন, “শুধু যে সাইজে বড়ো তা না, ভয়ংকর হিংস্র। মনে হলো আমাদের ওপর অসম্ভব রাগ। এই প্রথম আমি একটা অক্টোপাস দেখলাম যেটা মানুষ দেখে সরে যায় না।”

    ইমতিয়াজ চাচা খুব আস্তে আস্তে বললেন, “ভেরি স্ট্রেঞ্জ। আমিও লক্ষ করেছি এখানকার সব প্রাণীগুলো অন্যরকম, সবকিছুই রাক্ষুসে। একটা মান্টা রে, মনে হয় একটা জাহাজের মতো বড়ো।”

    মামী বললেন, “ডক্টর সারোয়ার গবেষণা করার জন্য নতুন কিছু খুঁজছিলেন। মনে হয় এর থেকে বড়ো গবেষণা সহজে পাবেন না।”

    ইমতিয়াজ চাচা মাথা নাড়লেন, বললেন, “হ্যাঁ। আমিও কারণটা জানতে চাই।”

    মামী বললেন, “গবেষণার অনেক সময় পাবে। এখন পুরো টিমকে খবর পাঠাও, সবাই যেন ফিরে আসে।

    ইমতিয়াজ চাচা আমার দিকে তাকালেন, “তোমার কেমন লাগছে?”

    আমি বললাম, “ভালো।” যদিও কেমন জানি ক্লান্তি লাগছিল। মনে হচ্ছিল শুয়ে পড়ি।

    ইমতিয়াজ চাচা বললেন, “টুলুকে জাহাজে নিয়ে যাই। একটু চেক আপ করে নেওয়া ভালো।”

    “হ্যাঁ। আমি নিয়ে যাচ্ছি। তুমি টিমকে সাবধান করো।”

    মামী আমার দিকে তাকালেন। এই প্রথমবার আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন, বললেন, “তুই দেখেছিস, তোকে যেখানে নিই সেখানেই সমস্যা?”

    আমিও হাসলাম, বললাম, “ঠিকই বলেছ মামী। আমি হচ্ছি কুফা।”

    মামী আমার মাথার ভেজা চুলে হাত বুলিয়ে বললেন, “তোর মতো এক দুইজন কুফা মানুষ না থাকলে জীবনটা পানসে হয়ে যায়!”

    মামী স্পীডবোট চালিয়ে আমাদের জাহাজে ফিরিয়ে আনলেন। ডাক্তার সবকিছু পরীক্ষা করে বললেন, কোনো সমস্যা নাই। আমি অবশ্যি পুরো রাত মড়ার মতো ঘুমালাম।

    .

    দুদিন পর আমরা সমুদ্র ভ্রমণ শেষ করে শুকনো মাটিতে ফিরে এসেছি।

    .

    শেষ কথা

    আমরা স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি। মিতিদের ট্রেনটা চলে এসেছে আমাদেরটা এখনো আসে নাই।

    মিতির মা মিতিকে নিয়ে ট্রেনে উঠেছেন। মিতি জানালার কাছে বসেছে। আমি প্লাটফর্মে মিতির কাছে দাঁড়িয়ে আছি। কেমন যেন মন খারাপ লাগছে। মিতি মুখটা হাসি হাসি করে রাখার চেষ্টা করছে কিন্তু বোঝা যাচ্ছে তারও একটু মন খারাপ।

    সে তার বুক থেকে নোট বইটা বের করে সেখানে কুট কুট করে লিখল, ‘তুমি যখন তোমার কথা বলা বন্ধুদের কাছে যাবে তখন আমার কথা ভুলে যাবে। তাই না?

    আমি মাথা নাড়লাম, আশেপাশে অনেক মানুষ তাই কথা বলতে অস্বস্তি হলো। তার নোট বইয়ে লিখলাম, “কক্ষনো না। তুমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।

    লিখতে গিয়ে নিশ্চয়ই দুই চারটা বানান ভুল হলো কিন্তু আমি মাথা ঘামালাম না।

    মিতি লিখল, ‘আমি তো ফোনে কথা বলতে পারি না। তুমি আমাকে চিঠি লিখবে?’ নোট বইটা আমার হাতে দিতে গিয়ে থেমে গেল, শেষে লিখল, লম্বা চিঠি?

    আমি লিখলাম, ‘কিন্তু আমার যে খালি বানান ভুল হয়। তুমি হাসবে।’

    মিতি লিখল, ‘আমি হাসতে চাই।’ তারপর লম্বা করে লিখল, ‘প্লি ই ই ই জ।’

    আমি লিখলাম, ‘ঠিক আছে।’

    মিতি তখন আমার দিকে তাকিয়ে হাসল, আর আমার বুকের ভেতর কেমন জানি নড়েচড়ে গেল।

    তখন গার্ড বাঁশী বাজিয়ে হাতের সবুজ ফ্ল্যাগটা নাড়াতে থাকে। ট্রেনটা হুইসেল দিয়ে নড়তে শুরু করে। আমি ট্রেনের সাথে সাথে হাঁটছি। খুব ইচ্ছা করছিল মিতিকে একটু ছুঁই, কিন্তু লজ্জা লাগল। মিতি তখন জানালা দিয়ে তার হাতটা বাড়িয়ে দেয়, আমি তার হাতটা ধরলাম। সেও ধরল, যারা মুখে কথা বলতে পারে না তারা নিশ্চয়ই চোখ দিয়ে অনেক কথা বলতে পারে। আমি মুখেও গুছিয়ে কথা বলতে পারি না, চোখ দিয়েও পারি না। তাই শুধু তাকিয়ে রইলাম। বেশীক্ষণ তাকিয়েও থাকতে পারলাম না, চোখটা ঝাপসা হয়ে গেল।

    একসময় আমি হাতটা ছেড়ে দিয়ে প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে গেলাম। ট্রেনটা ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে। মিতি এখনো জানালা দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তাকিয়ে আছে। তাকিয়ে আছে। আস্তে আস্তে ট্রেনটা দূরে চলে গেল–মিতিকে আর দেখা যাচ্ছে না। ট্রেনটা ঝাপসা হয়ে গেছে নাকি আমার চোখ?

    আমি প্লাটফর্মের দিকে তাকালাম। মামী তার বিশাল ব্যাকপেকের ওপর বসে আছেন। তাকে ঘিরে বেশকিছু মানুষ। মামী একজন ঝালমুড়িওয়ালার সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো গল্প করছেন। আমি জানি চোখের কোনা দিয়ে আমাকে লক্ষ করছেন।

    আমি সাবধানে চোখের কোনা মুছে ফেললাম। খোদা মনে হয় মানুষকে ঠিক করে তৈরি করে নাই।

    .

    একজনের ভেতর এত মায়া দিলে সে বেঁচে থাকবে কেমন করে?

    ——-

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleটি-রেক্সের সন্ধানে – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article আহা টুনটুনি উহু ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }