Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমার ডেঞ্জারাস মামী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প163 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. সি সিকনেস

    ৭. সি সিকনেস

    ছেলেটা আমার দিকে তাকিয়ে তার ইঁদুরের মতো দাঁতগুলো বের করে ফ্যাক ফ্যাক করে হাসতে লাগল। আমি কখনো ইঁদুরের মুখ খুলে তার দাঁত দেখি নাই কিন্তু মনে হলো নিশ্চয় এরকমই হবে।

    আমি প্রথমে খুবই ঠান্ডা চোখে তার দিকে তাকালাম, এভাবে তাকানোটা আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রীতিমতো প্র্যাকটিস করে শিখেছি। এভাবে তাকালে ছোটো বাচ্চারা অনেক সময় ভ্যা করে কেঁদে দেয়। এই ছেলেটা কাদল না তবে একটু থতমত খেয়ে গেল। বলল, “কী অবস্থা?”

    আমি বললাম, “তুমি আমাকে ছ্যামড়া ডেকেছ?”

    ছেলেটার মুখ শক্ত হয়ে গেল, বলল, “ডেকেছি তো কী হয়েছে? তুই ছ্যামড়া না? তুই কি ছ্যামড়ি?”

    আমি বললাম, “তোমাকে আমি কী ডাকব? দামড়া?”

    মনে হলো ছেলেটা আমাকে মেরে বসবে। মারল না, শুধু দাঁতে দাঁত ঘষল, তারপর একটা নিঃশ্বাস ফেলল, বলল, “ভাবছিলাম এই জাহাজে আমার সাইজের ছেলেমেয়ে আসবে, ফুর্তি ফার্তা হবে। যা আসছে সব আন্ডা বাচ্চা, একটা আবার বোবা। কানেও শুনে না।”

    আমার মেজাজটা গরম হলো। এটা কথা বলার ঢং হলো?

    ছেলেটা বলতেই লাগল, “আরেকজন হয়ত আসবে কানা! আরেকজন লুলা না হয় ল্যাংড়া।” ছেলেটা আমার দিকে তাকাল, বলল, “তোর কী সমস্যা? বল।”

    আমি বুঝতে পারলাম এই ছেলেটাকে সময়মতো সাইজ না করলে এই জাহাজে আমার জীবনটাই নষ্ট করে দিবে। কিন্তু একেবারে প্রথম দিন প্রথম দেখাতেই তো সাইজ করা যাবে না, একটু সময় দরকার। কিন্তু এখানে দাঁড়িয়ে তার ফালতু কথা তো শোনার দরকার নাই, আমি আমার চিপসের প্যাকেট থেকে একটা চিপস মুখে দিয়ে চিবাতে চিবাতে হাঁটতে লাগলাম। ছেলেটা পেছনে পেছনে হাঁটতে লাগল। জিজ্ঞেস করল, “কী হলো? রাগ করলি?”

    আমি প্রশ্নের উত্তর দিলাম না, চিপস খেতে থাকলাম।

    ছেলেটা আবার ফ্যাক ফ্যাক করে হাসল, বলল, “একটু মজা করলাম। কথা বলার কেউ নাই ভাবলাম তোর সাথে কথা বলি।”

    আমি বললাম, “তোমার কথা বলার স্টাইল ভালো না। তোমার সাথে কেউ কথা বলবে না।”

    “তোর নাম কী?”

    আমি বলব কিনা একটু চিন্তা করে শেষ পর্যন্ত বলে দিলাম, “টুলু। তোমার?”

    “জেহ্‌হির।” নাম শুনে আমি একটু অবাক হয়ে ছেলেটার দিকে তাকালাম, তখন বুঝতে পারলাম আসলে তার নাম জহির, নামটা নিশ্চয়ই পছন্দ না তাই স্টাইল করে অন্যরকম করে বলছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “জহির? জহিরুদ্দি?”

    ছেলেটা আবার চোখ কটমট করে বলল, “বললাম তো, জেহির!”

    আমি সামনে সামনে হাঁটছি সে পেছনে পেছনে। হঠাৎ করে টের পেলাম সে আমার ঘাড়ের কাছে টি-শার্টটা ধরে কিছু একটা দেখছে। আমি তার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম, “কী করো?”

    “দেখছি তোর শার্টটা কোন ব্র্যান্ডের। ফুটপাতের মাল।”

    আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকালাম, সে নিজের শার্টের কলারে টোকা। দিয়ে বলল, “আমার শার্ট অরিজিনাল ব্র্যান্ড। আমি ফুটপাতের মাল পরি না।”

    কেউ এরকম করে কথা বললে তার উত্তরে কী বলতে হয় আমি সেটাও জানি না, তাই কিছু বলারও চেষ্টা করলাম না। সামনে একটা সিঁড়ি পেয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠে গেলাম। জেহির কিংবা জহির উপরে উঠল না। নিচে রয়ে গেল। হাত দিয়ে তার চুল ঠিক করল, তারপর স্মার্টফোন দিয়ে নিজের একটা সেলফি তুলে ফেলল। কী আজব!

    এই চিড়িয়া এই জাহাজে কোথা থেকে এসেছে? ছেলেটা কী বোকা নাকি পাজী? নাকি দুইটাই?

    আমি রুমে এলাম, মামী বললেন, “দেখা হয়ে গেল জাহাজ? এত তাড়াতাড়ি?”

    “না। পুরোটা দেখি নাই–” কিন্তু জহির নামে এক আজব চিজের যন্ত্রণায় যে ফিরে এসেছি সেটা আর বললাম না।

    “ভালোই হয়েছে। যা হাত মুখ ধুয়ে আয়, নাস্তা করে আসি। চিপস দিয়ে ব্রেকফাস্ট করলে হবে না।”

    আমি হাত মুখ ধুয়ে মামীর সাথে নিচে নাস্তা করতে গেলাম। জহির নাই কিন্তু অন্য অনেকে আছে, সবাই মামীর সাথে কথা বলল, আমার পরিচয় নিল। আমি একটু বোকার মতো হাসি হাসি মুখ করে বসে রইলাম। নাস্তা শেষ করে মামী বলল, “আয় তোকে আমাদের জাহাজ ঘুরে দেখাই।”

    আমি বললাম, “সেটাই ভালো। আমি একলা একলা হাঁটলে হারিয়ে যাই। একটু পরে পরে খালি সিঁড়ি। হয় উপরে না হয় নিচে।”

    “এক দুদিনেই চিনে যাবি।”

    মামী আমাকে পুরো জাহাজটা ঘুরে ঘুরে দেখালেন। ইঞ্জিন ঘরটা অসাধারণ বড়ো বড়ো ইঞ্জিনে গুমগুম শব্দ করছে। যখন চলতে শুরু করবে তখন নিশ্চয়ই ফাটাফাটি একটা ব্যাপার হবে। কয়েকজন মানুষ যন্ত্রের ওপর হাঁটাহাঁটি করছে, কাপড়ে তেল কালি লেগে আছে, মাথায় একটা রুমাল বাঁধা–কী অসাধারণ লাগছে দেখতে। বড়ো হয়ে মনে হয় আমার এখানেই চাকরি নিতে হবে।

    মামী তারপর আমাকে রান্নাঘরে নিয়ে গেলেন, বুড়ো মতন একজন মানুষ চিৎকার করছিল, মামীকে দেখে চিৎকার থামিয়ে বলল, “কেমন আছেন আপা?”

    “ভালো। আপনি কার ওপর এত চিৎকার করছেন?”

    “ইন্দুর।”

    মামী হাসলেন, বললেন, “ইন্দুর আপনার চিৎকার শুনছে?”

    “আপা, আপনি হাসছেন? আমরা থাকি পানির ওপরে–এই পানি সাঁতরাইয়া ইন্দুর জাহাজে আসে কেমন করে আপনি বোঝান আমাকে।”

    “এরা সাঁতরিয়ে আসে না বাবুর্চি সাহেব। এরা এখানেই থাকে, ঘর সংসার করে। এখানে এদের বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সুখের সংসার। আপনি এদের খাওয়া-দাওয়ার এত ভালো ব্যবস্থা করে রেখেছেন এরা যাবে কেন?”

    বাবুর্চি মানুষটি দাঁত বের করে হাসল, তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনার ভাগনা?”

    “হ্যাঁ।”

    “ম্যাডামের ভাগনা, বলো তুমি কী খাবা? ম্যাডাম আমাদের ইসপিশাল মানুষ, তার ভাগনাও ইসপিশাল।”

    আমি একটু অবাক হয়ে বললাম, “আমার জন্য স্পেশাল রান্না করবেন?”

    “একশবার!”

    আমি বললাম, “মামীর সামনে বলা যাবে না। আমি একলা একলা এসে আপনাকে বলে যাব।”

    মামী আমার মাথায় চাটি মারলেন আর বাবুর্চি মানুষটা হা হা করে হাসল। বলল, “ঠিক আছে, তোমার সাথে আমার গোপন চুক্তি।”

    মামী বললেন, “দাঁড়া তোর গোপন খাওয়া আমি বের করছি!”

    মামী তারপর আমাকে নিয়ে গেলেন তাদের ল্যাবরেটরিতে। সেটা দেখে আমি বেকুব হয়ে গেলাম। দেওয়ালে বড়ো বড়ো স্ক্রিন। টেবিলে সারি সারি কম্পিউটার। এখন সবগুলো বন্ধ, যখন এক সাথে সবগুলো চালু হবে তখন দেখতে কী অসাধারণ লাগবে। পেছনের অংশ কাঁচ দিয়ে আলাদা করে রাখা, তার ভেতরে কত রকম যন্ত্রপাতি দেখে অবাক হয়ে গেলাম।

    মামী আমাকে ভেতরে নিয়ে একটা যন্ত্র দেখালেন, যন্ত্রটা গোল, নিচে দিয়ে কয়েকটা পা বের হয়ে আছে। পেছনে একটা প্রপেলর। সামনে বড়ো বড়ো দুটো লেন্স দেখে মনে হয় চোখ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় বড়ো একটা পোকা। মামী জিজ্ঞেস করলেন, “এটা কী বলতে পারবি?”

    আমি মাথা নাড়লাম, বললাম, “না।”

    “এটা হচ্ছে আমাদের রোবট। আমাদের নিজেদের তৈরি। পানির নিচে ঘুরে বেড়ায়, ছবি তুলে, ভিডিও করে।”

    “রোবট?” আমি বললাম, “আমি মনে করতাম রোবট দেখতে মানুষের মতো হয়। হাঁটতে পারে। কথা বলে—”

    মামী হাসলেন, “সেগুলো গল্পের রোবট। কাজের রোবটের কোনো চেহারা সুরত নাই।”

    “এই রোবটের নাম কী মামী?”

    “আমরা গলদা চিংড়ি ডাকি।”

    “গলদা চিংড়ি?” আমি চোখ কপালে তুলে বললাম, “এত ফাটাফাটি একটা রোবটের নাম গলদা চিংড়ি?”

    “কেন? সমস্যা আছে?”

    “না।” আমি মাথা নাড়লাম, বললাম, “আমি ভেবেছি আরও সায়েন্টিফিক নাম হবে। এফ এক্স সেভেনটি নাইন–এইরকম।”

    মামী ঠোঁট উলটালেন, বললেন, “আমার দেশী রোবটের নাম বিদেশী হবে কেন? দেশী রোবটের দেশী নাম। এর নাম বলতে গিয়ে বিদেশীদের দাঁত ভেঙে যায়। গলদা চিংড়ি বলতে পারে না। বলে গেল শিংড়ি!” মামী হি হি করে হাসলেন।

    মামীর সাথে সাথে আমিও হাসলাম।

    ল্যাবরেটরি থেকে বের হয়ে মামী আমাদের জাহাজের ছাদে নিয়ে গেলেন। এই জায়গাটা সবচেয়ে সুন্দর। চারিদিকে রেলিং দিয়ে ঘিরে রাখা, একটা লম্বা মই দিয়ে উঠতে হয়। মামী বললেন, “রাতের বেলা এখানে শুয়ে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবি। দেখবি আকাশ জুড়ে ছায়াপথ। তারাগুলো মিটমিট করে একেবারে অপূর্ব!”

    আমি কল্পনা করে দেখলাম, মনে হলো আসলেই অপূর্ব হতে পারে।

    .

    দুপুরবেলা আমাদের জাহাজটা ছেড়ে দিল, সেটা কী ভয়ানক একটা ব্যাপার! প্রথমে সাইরেনের মতো হুইসেল বাজল, তারপর গর্জন করে ইঞ্জিন চালু হলো, তারপর হইচই করে নোঙর তোলা হলো তারপর পুরো জাহাজটা কেঁপে উঠে নড়তে শুরু করল, চারিদিকে পানির ঢেউ তার মাঝে জাহাজটা আস্তে আস্তে এগুতে শুরু করেছে। সবাই রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ছিল, জাহাজটা চলতে শুরু করতেই সবাই আনন্দে চিৎকার করে উঠল, আমার গলার আওয়াজটা মনে হলো উঠল সবার ওপরে।

    জাহাজটা যখন চলতে শুরু করেছে, আমরা যখন ধীরে ধীরে দূরে চলে গেলাম তখন আশেপাশে নোঙর করে থাকা অন্য জাহাজগুলো আস্তে আস্তে ছোটো হতে লাগল, বহুদূরে সমুদ্রতীরও ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে গেল। তখন ডক্টর সারোয়ার নামের বুড়ো মতন মানুষটা যিনি বড়ো সায়েন্টিস্ট আর এখানকার টিম লিডার গলা উঁচিয়ে বললেন, “ওকে এভরিওয়ান! সবাই চলো, আমাদের মিটিং।”

    আমি বুঝতে পারলাম না মিটিংয়ে আমাদেরও যেতে হবে কিনা। জিজ্ঞেস করব কিনা চিন্তা করেছিলাম তখন ডক্টর সারোয়ার আমাদের দিকে বললেন, “না! বাচ্চাদের আসতে হবে না। এটা আমাদের টেকনিক্যাল মিটিং। তোমরা তোমাদের মতো মজা করো।”

    আরেকজন বলল, “তোমাদের কথা চিন্তা করে অনেক জাংক ফুড এনেছি দেখি শেষ করতে পারো কিনা।”

    মামী বললেন, “সুপার ইমার্জেন্সি না হলে আমাদের ডাকাডাকি করো না।”

    আমি জিজ্ঞেস করলাম, “সুপার ইমার্জেন্সি মানে কী?”

    “কেউ পানিতে পড়ে গেলে সেটা ইমার্জেন্সি। পানিতে পড়ে যাওয়ার পর যদি হাঙর মাছ খাওয়া শুরু করে তাহলে সেটা সুপার ইমার্জেন্সি!”

    মামীর কথা শুনে সবাই হো হো করে হেসে উঠল।

    বড়ো মানুষেরা একে একে সবাই চলে যাওয়ার পর আমরা শুধু তিনজন রয়ে গেলাম। তিনজনই তিনজনকে চিনি কিন্তু আমাদের মাঝে কোনো সম্পর্ক নাই! আমরা তিনজন ডেকের তিন জায়গায়–মিতি তার চেয়ারে মাথা গুঁজে তার মোটা বইটা পড়ছে (এতক্ষণে অনেকখানি পড়ে ফেলেছে), জহির রেলিংয়ে হেলান দিয়ে তার স্মার্টফোনের দিকে তাকিয়ে আছে, মাঝে মাঝে কিছু টেপাটেপি করছে। আমি একটা ডেক চেয়ারে আধ শোয়া হয়ে রেলিংয়ে পা তুলে দিয়ে দিগন্তের দিকে তাকিয়ে আছি। জাহাজটা তার মাঝে পানি কেটে এগিয়ে যাচ্ছে। সমুদ্রে ঢেউ নাই কিন্তু তার মাঝে জাহাজটা আস্তে আস্তে দুলছে।

    এবং দুলছে।

    এবং দুলছে।

    এভাবে কতক্ষণ বসেছিলাম জানি না, আমার মনে হয় চোখ দুটো একটু বন্ধ হয়ে আসছিল, একটা আরামের ঘুম ঘুম ভাব। হঠাৎ করে আমার ঘুম ঘুম ভাবটা ছুটে গেল, আমি দেখলাম জহির কেমন যেন সোজা হয়ে দাঁড়াল, তারপর খপ করে রেলিংটা ধরল। আরেকটু হলে তার জান থেকে প্রিয় স্মার্টফোনটা সমুদ্রে পড়ে যাচ্ছিল। মনে হলো সেও পড়ে যাবে। সে পড়ল না কিন্তু মুখটাতে নানারকম অঙ্গভঙ্গী করতে লাগল। বোঝা যাচ্ছে পেটের ভেতর থেকে তার গলা দিয়ে কিছু একটা বের হওয়ার চেষ্টা করছে, তার চোখ দুটো উলটে গেল এবং যেটা বের হওয়ার চেষ্টা করছিল সেটা বের হলো–শুধুই শব্দ। “ওয়াক” করে একটা বিকট শব্দ।

    আমি লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালাম, প্রত্যেকবারই শব্দ বের হবে তার কোনো গ্যারান্টি নাই, পরের বার আসল জিনিস বের হতে পারে। দূরে থাকা ভালো। আমি তাকে ধরার চেষ্টা করলাম, সে ঝটকা মেরে আমাকে সরিয়ে দিল, বলল, “খবরদার।”

    আমি বললাম, “মনে হয় সি সিকনেস।”

    জহির বলল, “কাছে আসলে খুন করে ফেলব।” তার মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম, চোখ লাল। দেখে মনে হয় খুন করেও ফেলতে পারে। আমি তাই সরে গেলাম।

    জহির আবার বিচিত্র মুখভঙ্গী করতে করতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। প্রায় পড়েই যাচ্ছিল সেই অবস্থায় রেলিং ধরে নিজেকে সামলে নিল এবং দ্বিতীয়বার “ওয়াক করে একটা বিকট শব্দ করল।

    আমি নিরাপদ দূরত্বে থেকে জিজ্ঞেস করলাম, “কোথায় যাও?”

    জহির বলল, “চোপ! আমার সাথে কথা বলবি না। মাথা ভেঙে ফেলব।”

    এর থেকে অনেক সহজে মাত্র এক শব্দে সে কোথায় যাচ্ছে বলতে পারত!

    সি সিকনেস হলে মাথা আউলে যায় সেই কথাটা মামী আমাকে বলেন নাই। আমি দূর থেকে দেখলাম জহির টলতে টলতে কোনো একটা কেবিনে ঢুকে গেল, বুঝতে পারলাম এটা নিশ্চয়ই তার কেবিন।

    আমি পা টিপে টিপে কাছে গেলাম, শুনলাম আবার সে বিকট শব্দ করল, এবারের শব্দটা অন্যরকম, একটা হড় হড় শব্দ শুনতে পেলাম, বুঝতে পারলাম দুপুরের লাঞ্চ এবং মনে হয় সকালের ব্রেকফাস্টও বের হয়ে এলো। রেলিংয়ে দাঁড়িয়ে সমুদ্রে বমি করে দিলে বিষয়টা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতো, কিন্তু বন্ধ কেবিনে পুরো ব্যাপারটা অন্যরকম। এটাকে কি সুপার ইমার্জেন্সি হিসেবে ধরা যায়? মনে হয় না।

    আমি আবার ডেকে ফিরে এলাম। মিতির দিকে তাকিয়ে আমি চমকে উঠলাম। সে পিঠ সোজা করে বসে আছে, মুখ ফ্যাকাশে, চোখে আতঙ্ক।

    আমার বুঝতে দেরী হলো না যে মিতিরও একই কেস!

    আমি পায়ে পায়ে তার দিকে এগিয়ে গেলাম, সে তখন উঠে দাঁড়িয়েছে, হাতে তখনো মোটা বইটা ধরে রেখেছে। চোখ মুখ লাল হয়ে আছে, কপালে ঘাম, মনে হয় দাঁড়িয়ে থাকতে সমস্যা হচ্ছে। একবার আমার দিকে তাকাল, চোখে মুখে একটা অসহায় ভাব, মনে হয় কেঁদে ফেলবে।

    আমি কাছে গিয়ে তার হাত থেকে বইটা নিয়ে পৃষ্ঠাটা ভাঁজ করে একটা চেয়ারে রাখলাম। সে কথা শুনে না, কথা বুঝে না, বলতেও পারে না কিন্তু তবু আমি তার সাথে কথা বলতে লাগলাম, মুখে একটা হাসি ফুটিয়ে বললাম, “তোমার কোনো ভয় নাই মিতি (সেটা বোঝানোর জন্য মাথা নাড়লাম)। তোমার যেটা হয়েছে সেটা হচ্ছে সি সিকনেস। আমি সি সিকনেস চিকিৎসার এক্সপার্ট! (বুকে টোকা দিয়ে বোঝালাম আমি এক্সপার্ট, মুখে এক্সপার্টের ভাব করলাম। এখন তুমি বই পড়বে না (বইটা দেখিয়ে না সূচকভাবে মাথা নাড়ালাম)। এখন তুমি দূরে তাকাবে, অনেক দূরে (আমি অনেক দূরে আঙুল দিয়ে দেখালাম), যখন সি সিকনেস হয় তখন দূরে তাকাতে হয়।”

    মিতি একবার আমার দিকে তাকাল তারপর দূরে তাকাল। আমার ভুলও হতে পারে কিন্তু মনে হলো তার চোখে মুখে ভয়ের ভাবটা কমেছে। আমি আবার কথা বলা শুরু করলাম, “আজকে সকালে আমি সি সিকনেসের চিকিৎসা শিখেছি, এর পাঁচটা চিকিৎসা (আমি পাঁচ আঙুল দেখিয়ে বুঝিয়ে দিলাম)। প্রথমটা দূরে তাকানো (একটা আঙুল ভাঁজ করে বোঝালাম এক নম্বর চিকিৎসা শুরু হয়ে গেছে)। দুই নম্বর চিকিৎসা হচ্ছে চোখে মুখে বাতাস (বাতাস দেওয়ার মতো কিছু না পেয়ে বইটা তুলে তার কভার দিয়ে খানিকক্ষণ তাকে বাতাস করলাম, মনে হলো তখন তার চোখে একটু হাসির ঝিলিক দেখা গেল)! তিন নম্বর হচ্ছে ক্র্যাকার আর কোল্ড ড্রিংকস (আমি ক্র্যাকার এবং কোল্ড ড্রিংকস খাওয়ার ভান করে দেখালাম। তারপর তাকে অপেক্ষা করতে বলে এক দৌড়ে নিচে গিয়ে স্ন্যাক কর্নার থেকে দুইটা ক্র্যাকারের প্যাকেট আর একটা কোল্ড ড্রিংকসের ক্যান নিয়ে আবার দৌড়ে উঠে এলাম)।

    আমি ক্র্যাকারের প্যাকেট খুলে সেখান থেকে একটা ক্র্যাকার বের করে মিতির হাতে দিয়ে বললাম, “খাও।”

    সে মাথা নাড়ল, খেতে চায় না। আমি মুখ গম্ভীর করে বোঝালাম যে এটা তিন নম্বর চিকিৎসা, তাকে এটা খেতে হবে। তখন সে একটা ক্র্যাকার হাতে নিয়ে কুট কুট করে খেতে লাগল। আমি কোল্ড ড্রিংকসের ক্যানটা খুলে হাতে ধরে রাখলাম। তাকে বোঝালাম এই ড্রিংকসও খেতে হবে।

    আমার মনে হলো তখন তার শরীরটা একটু ভালো লাগতে শুরু করেছে। আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসার চেষ্টা করল। তারপর চারটে আঙুল তুলে ধরে আমার দিকে প্রশ্ন করার ভঙ্গীতে তাকাল, জানতে চাইছে চার নম্বর চিকিৎসাটা কী?

    আমি একটু মনে করার চেষ্টা করলাম, তখন মনে পড়ল সেটা হচ্ছে এটা ভুলে থাকার চেষ্টা করতে হবে। আমি মিতিকে বললাম, “চার নম্বরটা হচ্ছে সবচেয়ে সোজা চিকিৎসা। তুমি এটা ভুলে থাকার চেষ্টা করবে। ভুলে যাও তোমার শরীর খারাপ। ভুলে যাও তোমার মাথা ঘোরাচ্ছে, বমি বমি লাগছে। গরমে ঘেমে যাচ্ছ। মনে করো তুমি আকাশে পাখী হয়ে উড়ছ, সমুদ্রে মাছ। হয়ে সাঁতার কাটছ” (শুধু মুখে বললাম না, হাত পা নেড়ে পাখী হয়ে উড়া এবং মাছ হয়ে সাঁতার কাটা দেখালাম) মিতি কী বুঝল কে জানে মুখে হাত দিয়ে খিকখিক করে হেসে ফেলল। তখন সে পাঁচ আঙুল দেখিয়ে জানতে চাইল পাঁচ নম্বর চিকিৎসা কী।

    আমি বললাম, “পাঁচ নম্বর চিকিৎসা হচ্ছে টোটকা চিকিৎসা। একু প্রেশার। পি সিক্সে হাত দিয়ে চেপে ধরতে হবে। এই যে এভাবে-” আমি মিতির হাত ধরে, তার তাল থেকে একটু নিচে চেপে ধরে দেখালাম। মিতি একটু অবাক হয়ে আমার দিকে তাকাল। আমি বললাম, “হ্যাঁ। তোমার কাছে। এটা অবাক মনে হতে পারে কিন্তু এটি খাঁটি টোটকা চিকিৎসা!”

    মিতি তখন তার হাতের ঠিক জায়গায় চেপে ধরার চেষ্টা করতে লাগল। আমার চিকিৎসার কারণেই হোক আর অন্য কারণেই হোক কিছুক্ষণের মাঝেই মিতি বেশ স্বাভাবিক হয়ে উঠল। তখন আমরা দুজন মিলে বাকী ক্র্যাকারগুলো খেয়ে কোল্ড ড্রিংকসের ক্যানটা শেষ করে ফেললাম।

    আমার প্রথম রোগী এত সহজে ভালো হয়ে যাবে আমি চিন্তা করি নাই।

    আমি তখন মিতিকে নিয়ে জহিরকে দেখতে গেলাম। দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি

    দিয়ে দেখি সে বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে আছে। পুরো কেবিনে তার বমি এবং দুর্গন্ধ। আমাদের দেখে চি চি করে বলল, “কাউকে ডাক। আমি মনে হয় মরে যাচ্ছি।”

    আমি বললাম, “সি সিকনেসে কেউ মরে না। তুমি বাইরে এসে বসো। ভালো লাগবে।”

    জহির কোঁকাতে কোঁকাতে বলল, “কথা কানে যায় না? বললাম মরে যাচ্ছি”

    “না। তুমি মরে যাবে না।”

    “বলছি মরে যাচ্ছি–“

    “উঁহু। তুমি মরে যাচ্ছ না।”

    “তোরে আমি খুন করে ফেলব। কাউকে ডাক–”

    আমি আর মিতি তখন নিচে গেলাম, ডাইনিং রুমে একজন স্ন্যাক কর্নারে খাবার সাজাচ্ছে, তাকে বললাম, “এখানে কি কোনো ডাক্তার আছে?”

    “কেন? আমি এখানে ডাক্তার, কম্পাউন্ডার, ইঞ্জিনিয়ার সবকিছু।”

    “একজন বমি করছে।”

    মানুষটা বলল, “প্রথম দিন সবাই বমি করে। ঠিক হয়ে যাবে।” বলে শীষ দিতে দিতে একইসাথে ডাক্তার, কম্পাউন্ডার এবং ইঞ্জিনিয়ার লোকটা খাবার সাজাতে লাগল।

    আমি আর মিতি দুটি চকলেট বার নিয়ে খেতে খেতে জহিরকে খবর দিতে উপরে রওনা দিলাম।

    খবর শুনে সে কী করবে কে জানে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleটি-রেক্সের সন্ধানে – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article আহা টুনটুনি উহু ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }