Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমার প্রতিবাদের ভাষা – তসলিমা নাসরিন

    তসলিমা নাসরিন এক পাতা গল্প401 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সুমন

    সুমন

    ০১.

    এক চাকা-লাগানো চেয়ারটা চালিয়ে ঘর থেকে বাইরে রেলিং-ঘেরা টানা বারান্দাটায় এসে অনিকেত দেখল, সুমন চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে এক কোণে। বুঝতে পারল, সুমনের মনের যে ভাবান্তর ইদানীং দেখা দিয়েছে, সেটা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনিকেত ডাকতেই সুমন পেছন ফিরল। তাকে দেখে লজ্জা পেয়ে কাছে এল। বলল, তুই আবার নিজে নিজে চেয়ার ঠেলে এলি কেন? আমাকে ডাকলেই তো পারতিস।

    অনিকেতের অভিমান হল প্রথমে। সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সামলে নিল সে। ভাবল, কার ওপর সে অভিমান করছে। একটা

    সে বলল, তুই যে সবসময় মন খারাপ করে থাকিস, সেটা আমি এই ক্ষীণ দৃষ্টিতেও বুঝতে পারি, সুমন। দুর্ঘটনায় আজ আমি পঙ্গু। চোখের দৃষ্টিও প্রায় নেই বললেই চলে। বাবা-মা-বোন সবাই মারা গেল সেই দুর্ঘটনায়। সাত্যকি জেঠুর চেষ্টায় আমি বাঁচলাম। অনাত্মীয় অসহায় আমাকে নিজের বাড়িতে এনে রাখলেন। কিছুকাল পরে হয়তো দেখতেও পাব, চলতেও পারব। কিন্তু ফিরে পাব কি বাবা-মা আর বোনটিকে! আমার মন খারাপ না হয়ে হচ্ছে তোর। আমার মন ভালো রাখার জন্য সাত্যকিজেঠু সর্বক্ষণের সঙ্গী করে তোকে আমার কাছে রেখেছেন। কিন্তু সে আমার মন ভালো করবে কী? নিজেই সে

    অনিকেত চুপ করল। সুমন তার হাত দুটো ধরে বলল, কিছু মনে করিস না ভাই। আর কখনও আমি তোকে ছেড়ে দূরে থাকব না। তবে আমার কথাটাও একবার ভাবলে তুই আমার ওপর রাগ করে থাকতে পারবি না। তোর মনে তোর বাবা-মা-বোনের স্মৃতিটুকু আছে। কিন্তু আমি মনে করতে পারছি না আমার বাবা-মা-র কথা। ভাইবোন ছিল কি না বা আছে কি না তা-ও জানি না। দু-বছর আগের কোনও কথাই আমার মনে নেই। অথচ সাত্যকিজেঠু বলেন আমার বয়স তোর সমান, অর্থাৎ আঠারো হবে।

    অনিকেত বলল, তোরও জীবনে আমার মতন কোনও দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তাতে শারীরিক ক্ষতি যত-না করেছে, মস্তিষ্কের ক্ষতি করেছে তার চাইতে বেশি। সম্পূর্ণ স্মৃতিভ্রংশ হয়েছে। সাত্যকিজেঠু অনেক চেষ্টা করেছেন তোর বাবা-মা-র খোঁজ করতে। টেলিভিশনে, কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তোর ছবি দিয়ে। কিন্তু কোনও সাড়া পাননি। হয়তো দুর্ঘটনায় তুই ছাড়া সবাই মারা গিয়েছেন। আর স্মৃতি হারিয়ে তুই ঘুরতে ঘুরতে চলে এসেছিলি অনেক দূরে। পুলিশ বিভাগের সম্মতি নিয়ে সাত্যকিজেঠু তোকে এখানে এনে রেখেছেন। তবে চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন এখনও। একদিকে তোর আত্মীয়স্বজনের খোঁজে, অন্যদিকে তোকে সুস্থ করার।

    সুমন কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর বিরস মুখে বলল, সাত্যকিজেঠু কীভাবে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন, জানি না। আমার চোখে তা একদিনও পড়েনি। নইলে একবিংশ শতকে এরকম বিজ্ঞানসম্মত দক্ষ পুলিশ বিভাগ।

    অনিকেত রাগত স্বরে তাকে বাধা দিয়ে বলে উঠল, তুই কী বলছিস, সুমন! সাত্যকিজেঠু সম্বন্ধে এ কথা বলতে পারলি? তিনি কি চান না যে, তুই তোর নিজের বাড়ি ফিরে যাস! তুই যাতে স্মৃতি ফিরে পাস, তোর পাকস্থলী যাতে সুস্থ হয়ে ওঠে, তার জন্যে কত বড় বড় ডাক্তার বাড়িতে এনে দেখাচ্ছেন, সে তো তুই জানিস।

    সুমন ভারাক্রান্ত মনে বলল, বাবার কথা আমার মনে নেই। কিন্তু সাত্যকিজেঠুর কাছ থেকে যে স্নেহ পেয়েছি, তাতে বাবার ধারণা কিছু পাই। আচ্ছা অনু, সাত্যকিজেঠু তোকে যেমন রক্-ডাক্তার দিয়ে দেখান, আমার বেলায় তা করেন না কেন? শুধু তাঁর পরিচিত মানুষ-ডাক্তারই আমাকে দেখেন।

    অনিকেত বলল, র-ডাক্তার মানে রোবট চিকিৎসকের কথা বলছিস? সাত্যকিজেঠুর ধারণা, ওরা মনের চিকিৎসা ঠিকমতো করতে পারে না। হাজার হোক, যন্ত্র তো?

    সুমন আনমনে বলতে থাকে, সাত্যকিজেঠু আর তুই বলিস, আমার স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অথচ গত দু-বছরের সব খুঁটিনাটি আমার মনে আছে। দু-বছরের যে কোনও তারিখে কী বার ছিল, আমাকে জিজ্ঞেস কর, আমি বলে দেব। গত বছর শীতে সবচেয়ে ঠান্ডা পড়েছিল চোদ্দোই জানুয়ারি–আট দশমিক নয় সেলসিয়াস। ভোর তিনটে তেরো মিনিটে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে–

    অনিকেত তাকে থামানোর চেষ্টা করে বলল, সুমন, তোকে বলেছি–

    অনিকেতের কথা কানে গেল না সুমনের। সে সামনের দিকে তাকিয়ে একমনে বলে যেতে লাগল, তা ছাড়া, যে-কোনও বিষয়ে যা জেনেছি, কিছু ভুলিনি। যেমন ধর, যন্ত্রপাতি সমেত ভারতের প্রথম উপগ্রহ আর্যভট্টর ওজন ছিল তিনশো ষাট কিলোগ্রাম। শুধু উপগ্রহটির ওজন অবশ্য তার সিকি ছিল–নব্বই কিলোগ্রাম। লেসার শব্দটার পুরো অর্থ হল লাইট অ্যামপ্লিফিকেশন বাই স্টিমুলেটেড এমিশন অব রেডিয়েশন। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির জন্ম ১৪৫২ খ্রিস্টাব্দে। মৃত্যু সাতষট্টি বছর বয়সে ১৫১৯-এ। তাঁর মোনালিসা ছবিটি লম্বায় তিন ফুট, চওড়ায় আড়াই ফুট। ক্যালশিয়ামের পারমাণবিক ওজন চল্লিশ দশমিক শূন্য আট। মস্তিষ্কের পেছনের ছোট অংশের নাম সেরিবেলাম আর ওপরের বড় অংশের নাম সেরিব্রাম। মালকোশ রাগে রে আর পা–এই দুটো স্বর বাদ। জীর্ণ পোশাক পরিত্যাগ করে নতুন পোশাক পরার মতো আত্মা এই দেহ ত্যাগ করে–ইত্যাদি ইত্যাদি বড় বড় কথা আছে গীতার সাংখ্যযোগে বাইশ নম্বর শ্লোকে। আব্রাহামের পুত্র আইজ্যাক, তার পুত্র জ্যাক, তস্য পুত্র জুডাস আর তার ভ্রাতৃগণ। আজানের মন্ত্রের অর্থ–ওহে যে যেখানে আছ–

    চেয়ারের হাতলে ঘুসি ঠুকে প্রচণ্ড স্বরে ধমক দিয়ে অনিকেত বলল, সুমন, আমি জানি তুই মহাপণ্ডিত। আমি কিছুই শিখতে পারিনি। দুর্ঘটনার পরে সব পড়াশোনাও বন্ধ। তা-ই বলে আমাকে ছোট করার জন্যে

    সুমন লজ্জায় কুঁকড়ে গিয়ে বলল, না রে অনু, আমি তোকে শুধু বলতে চাইছিলাম, সব কিছু যখন মনে রাখতে পারি, তবে কেন মন থেকে মুছে গেল জীবনের প্রথম ষোলোটা বছর?

    অনিকেত সুমনকে শান্ত করার জন্য পিঠে হাত রেখে বলল, সাত্যকিজেঠু তো বলেছেন তোকে, এটা এক ধরনের প্যারামনেশিয়া। জীবনের কিছু অংশ মুছে যায় আমার বাঁ চোখের দৃষ্টির মতন।

    অনিকেত জানে, তার নিজের দুঃখের কথার উল্লেখ সুমন সহ্য করতে পারে না।

    ঠিক তা-ই। সুমন নিজের কথা ভুলে গিয়ে অনিকেতকে তিরস্কার করে বলল, আবার তুই নিজের পঙ্গুতার কথা তুলছিস? এসব শুনতে আমার বুঝি খুব ভালো লাগে? আচ্ছা বাবা আচ্ছা, আমি আর কখনও নিজের অতীতের কথা তুলব না। অনু, সাত্যকিজেঠু বলেছেন, তুই আস্তে আস্তে সেরে উঠবি। তখন তো আর এই ঘরে আটকে থাকবি না। আমারও প্রয়োজন হবে না। তখন নিশ্চয় আমাকে ছেড়ে চলে যাবি। আমি তো চিরপঙ্গু। হাঁটতে পারলেও রাস্তায় একা যেতে দেন না সাত্যকিজেঠু।

    অনিকেত সুমনের পিঠে ছোট্ট চাপড় মেরে বলল, সাত্যকিজেঠু বলেন, তোর এই স্মৃতি নষ্টের ব্যাপারটা তো বাইরের লোকে জানে না। পাছে কেউ তোকে ঠাট্টাবিদ্রূপ করে –বিশেষ করে ছোট ছেলেমেয়েরা, সেটা সাত্যকিজেঠু সহ্য করতে পারবেন না। তবে আমি ভালো হয়ে গেলে, আমার সঙ্গে তুই সব জায়গায় যাবি.. যাক গে ওসব কথা। তুই সেই কবিতাটা আবৃত্তি করে শোনা তো–হাস্যমুখে অদৃষ্টেরে করব মোরা পরিহাস।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই কবিতায়-গানে ভেসে গেল এতক্ষণের দুঃখবেদনার ভারী মেঘটা।

    .

    ০২.

    দু-দিন পরে শোয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাত্তিরে ঘুম ভেঙে গেল সুমনের। অনিকেতের খাট থেকে সামান্য শব্দ হলেই তার ঘুম ভেঙে যায়। চেয়ে দেখল, অনিকেত গভীর ঘুমে। ঘড়িতে দেখল, রাত মাত্র সাড়ে এগারোটা। সে উঠে দাঁড়িয়ে খোলা জানলা দিয়ে বাইরে তাকাল। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে রক্-ট্রাফিক পুলিশ। সারারাত থাকবে। দেখবে, কেউ বেআইনিভাবে গাড়ি চালাচ্ছে কি না। ক্লান্তি নেই, ঘুম নেই, ক্ষুধা নেই, তৃষ্ণা নেই। সুমন ভাবল, তার নিজেরও তো ক্ষুধা-তৃষ্ণা নেই। অনিকেত রোজ খাওয়াদাওয়া করে। কিন্তু সে নিজে মাঝে মাঝে জল পান করলেও শুধু ক্যাপসুল খায়। সাত্যকিজেঠু বলেন, এতেই তার কাজ হবে। দুর্ঘটনায় তার পরিপাকযন্ত্র নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তাই অন্য কোনও খাদ্য চলবে না। ঘুমন্ত অনিকেতের দিকে তাকিয়ে সুমন হাসল, ভাবল, পঙ্গুতে পঙ্গুতে মাসতুতো ভাই। রাস্তার ওপারে চোখ পড়তে সুমন দেখল, নিয়ন লাইটে লেখার-সাইকো ক্লিনিক। অর্থাৎ রোবট ডাক্তার দিয়ে মানসিক রোগের চিকিৎসা করা হয়। কত ফি নেয় ওরা?

    এ ঘর থেকে টেলিফোন করলে পাছে অনিকেত জেগে ওঠে, তাই পাশে সাত্যকিজেঠুর ঘরে চলে এল সে। সাত্যকিজেঠু এখন গবেষণাগারে। ঠিক রাত একটা পর্যন্ত কাজ করবেন সেখানে।

    কম্পিউটার টেলিফোন ডাইরেক্টরিতে ভাস্করাচার্য অ্যাভিনিউয়ের রসাইকো ক্লিনিকের নম্বর বের করা থেকে টেলিফোন করতে কয়েক সেকেন্ড মাত্র লাগল। রোবট রিসেপশনিস্টই ধরল। সুমন জানল, ক্লিনিক রাত একটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ফি কত লাগবে, সেটাও জেনে নিল।

    তারপর ঘরে এসে অনিকেতের ড্রয়ার থেকে টাকা বের করে নিয়ে পকেটে রাখল। কাজটা অন্যায় বলে তার মনে হল না। সেরকম কোনও ধারণা তার মনে গড়ে ওঠেনি কোনও দিন। অনিকেত তো তার একাত্ম বন্ধু। টাকাগুলো তার বা অনিকেতের কোনও কাজে লাগে না। তবুও সাত্যকিজেঠু দিয়ে রেখেছেন। বলেছেন, এর একটা মানসিক দিক আছে।

    আবার মানসিক! সুমন মনে মনে হাসল। সেই মানসিক ব্যাপারেই তো টাকাটা নিচ্ছে সে।

    পায়ে শব্দ না করে সুমন নীচে নেমে এল। সদর দরজার পাশে রোবট দারোয়ান দ্বারিকানাথ দাঁড়িয়ে ঘুমোচ্ছে। সুমন হাসল–ঘোড়া কোথাকার! শুতে যাওয়ার আগে সাত্যকিজেঠু বোতাম টিপে একে জীবন্ত করে দেবে। এখন জেগে থাকলে আর দেখতে হত না। সুমনকে দেখে চ্যাঁচামেচি শুরু করত–এত রাতে বাইরে যাওয়ার কী দরকার? তুমি কি বাদুড়, না প্যাঁচা–অ্যাঁ? এইসব। সাত্যকিজেঠুর আরেক ঠোঁটকাটা রোবট নরোত্তমের কাছে সে এইসব চাঁচাছোলা বাক্যি শিখছে।

    দরজা খুলে সুমন রাস্তায় নেমে পড়ল। আজ প্রথম সে একা একা বাড়ির বাইরে এল। মনের আনন্দে তার গান করতে ইচ্ছে করল। সাত্যকিজেঠুর বিলেতে থাকা নাতনির কাছে শোনা। সেই গানটা–সাত সাগরের ফেনায় ফেনায় মিশে আমি যাই ভেসে দূর দেশে…

    ক্লিনিকে ঢুকতেই দেখল, রোবট রিসেপশনিস্ট বসে আছে চেয়ারে। টেবিলে টেলিফোন, কাগজ, পেনসিল। কাগজ-পেনসিল এগিয়ে দিতে সুমন তার নাম লিখল–সুমন গুপ্ত। পদবি জানে না বলে সাত্যকিজেঠু বলেছেন, তবে ওটা নিঃসন্দেহে গুপ্ত। জিজ্ঞেস করল, কত দেরি হবে, মিস্টার রব?।

    রোবটটা এতক্ষণ চুপচাপ বসে ছিল। তাকে দেখেই ব্যস্ততার ভান করে একটা খাতা খুলে পড়তে লাগল। অনিকেত বলে, অফিসের লোকরাও নাকি এরকম করে বাইরের লোক এলে। একটু পরে সুমনের দিকে চেয়ে রোবট রিসেপশনিস্ট বলল, এখনই দেখানো যাবে, আপনার রোগী নিয়ে আসতে পারেন।

    সুমন হেসে বলল, আমিই রোগী, মিস্টার রব। না না, ওরকম উঠে দাঁড়াবেন না। মানসিক রোগী মাত্রই পাগল নয়। আসলে আমি স্মৃতিভ্রংশ…

    তার কথা শেষ হল না। রোবটটা আস্তে আস্তে তার দিকে এগিয়ে এল। একটা ধাতুর লাঠি তুলে সুমনের বুকে-মাথায় ছোঁয়াল। তারপর হেসে বলল, আপনি ভুল করছেন। এখানে সবরকম মানসিক রোগের চিকিৎসা হয় ঠিকই, তবে মানুষের। আপনি বরং ইফতিকার রহমানের রোবোট্রনিক্স হসপিটালে নিয়ে যেতে আপনার মালিককে বলুন, মিস্টার রব্য।

    সুমনের কান গরম হয়ে উঠল। বলল, আমাকে রব্ বলছেন কেন আপনি? আমি কি আপনার মতন রোবট?

    হাতের রডটা তার দিকে এগিয়ে রোবটটা বলল, তবে কি মানুষ? এই দেখুন। আমার মালিক আমাকে মাঝে মাঝে বলেন, হায় রে কলি, কী বা বলি, গরুড় হবেন ফানুস, আর রোবট হবেন মানুষ! আপনারও দেখছি সেই অবস্থা। আরে ভাই, আমিও তো চাই মানুষের মতো আমাদের স্বাধীনতা হোক, সুখ-দুঃখ না কী সব বলে, সেগুলো হোক..

    তার কথা শেষ হওয়ার আগেই সুমন ঝড়ের বেগে বেরিয়ে এল ডাক্তারখানা থেকে। রাস্তা-বাড়ি সব যেন ভূমিকম্পের মতো দুলছে, তার মনে হল। বুকের মধ্যে ক্যাথোড রশ্মির মতন কী যেন জ্বলে উঠে তার মন থেকে এত দিনের কুয়াশা সরিয়ে দিল। সব পরিষ্কার হল এত দিনে!

    দুমদাম করে উঠে এসে সে সোজা গেল সাত্যকি সোমের গবেষণাগারে। পেছন ফিরে তাকে দেখে অবাক হলেন ডক্টর সোম। সুমন অশ্রুহীন চোখে বিকৃত গলায় কান্নার মতো অদ্ভুত আওয়াজ তুলে চেঁচিয়ে উঠল, কেন এত দিন মিথ্যে কথা বলেছেন সাত্যকিজেঠু? আমি একটা রোবট, সে কথা কেন বলেননি? কেন আমার মধ্যে দয়ামায়া, স্নেহ ভালোবাসা, দুঃখ-আনন্দ, বন্ধুত্ব-সমবেদনা এসব ভরে দিয়ে মন সৃষ্টি করেছেন? দয়া করে নষ্ট করে দিন সেটা। দয়া করুন, ডক্টর সোম!–এই বলে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে সাত্যকি সোমের পা। দুটো চেপে ধরল সে।

    যন্ত্রের দুঃখ ডক্টর সোমের নিজের মধ্যেও সঞ্চারিত হল। তিনি বুঝতে পারলেন না, কীভাবে সুমন জানতে পারল। তবে কি অনিকেত বলে ফেলেছে কোনও অসতর্ক মুহূর্তে?

    মন ঠিক করে ফেললেন তিনি। হ্যাঁ, নষ্ট করে দেবেন সুমনের মানসিক বৃত্তিগুলো। শুধু একটা ছোট্ট প্লাগ খুলে নিলেই হবে। সুমন পরিণত হবে একটা কাঠখোট্টা হুকুম তামিলের অটোম্যাটনেতে–যেমন দরজার পাশে দাঁড়ানো দ্বারিকানাথ।

    সরু সন্নার মতন একটা কিছু নিয়ে তিনি এগিয়ে এলেন সুমনের কাছে। ঠিক এই সময় অনিকেতের ঘরে একটা শব্দ হতেই ভেতরের প্রবৃত্তি জেগে উঠল সুমনের। সে ছুটে চলে এল তাদের ঘরে। ডক্টর সোমও পিছুপিছু এলেন।

    দেখলেন, অনিকেত খাট থেকে পড়ে গিয়েছে। তিনি এসে তাকে ধরার আগেই সুমন ছুটে এসে তাকে ধরে তুলল। সে ঘরে থাকলে অনিকেত নিজে থেকে উঠতে যেত না– এই চিন্তায় চোখ দুটো অনুতাপে কিছুক্ষণের জন্যে নীল হয়ে গেল। সে অনিকেতকে দু হাতে ধরে বলে উঠল, না, সাত্যকিজেই। সুমনের মনটা থাক। নইলে অনুর সঙ্গী হবে কে? কে তার সুখ-দুঃখ বুঝবে? ভালোই হল রে, অনু। তুই বলতে চাসনি, সাত্যকিজেঠু বলতে চাননি–তবু আমি জেনে গিয়েছি। দু-বছর আগেই আমার জন্ম। তার আগে কোনও অতীত নেই। আমার বাবা-মা-জেই–সবই উনি। আর ভাই বল, বন্ধু বল, সবই তুই। আর আমি কখনও মন খারাপ করব না। আমার ওই প্যারামনেশিয়া সেরে গিয়েছে। কী হল, ওরকম করে তাকিয়ে আছিস কেন অনু? ও কি জেঠু, আপনার চোখে কী হল?

    সত্যিই ধরা পড়ে গেলেন সাত্যকি সোম তাঁরই তৈরি রোবটের কাছে। সেই কবে একমাত্র পুত্র আর স্ত্রী-কে হারিয়েছিলেন ডক্টর সোম। আজ এত বছর পরে তাঁর চোখ দুটো আবার হঠাৎ এই মাঝরাতে ঝাপসা হয়ে গেল। কুয়াশাভরা দৃষ্টিতে তিনি দেখলেন, তাঁর তৈরি স-মন রোবট সুমনের মুখ থেকে বিচ্ছুরিত হচ্ছে ভেতরের লিউমেন ইউনিটের খুশির আলো।

    [শুকতারা, শারদীয়া ১৩৯৬]

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅগ্রন্থিত লেখার সংকলন – তসলিমা নাসরিন
    Next Article ছোট ছোট দুঃখ কথা – তসলিমা নাসরিন

    Related Articles

    তসলিমা নাসরিন

    সেইসব অন্ধকার – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    অগ্রন্থিত লেখার সংকলন – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    বন্দিনী – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    নির্বাসন – তসলিমা নাসরিন

    August 20, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    নেই, কিছু নেই – তসলিমা নাসরিন

    August 20, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    ফেরা – তসলিমা নাসরিন

    August 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }