Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026

    আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক পাতা গল্প280 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নাটক ও অভিনয়

    মঞ্চে অভিনয় ছিল ঠাকুর পরিবারের সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমার বাবা এ চর্চার মধ্যেই জন্মগ্রহণ করেন এবং নিজেও অল্প বয়সেই নাটক রচনা শুরু করেন। মূলত পরিবারের সদস্যরাই এসব নাটকে অভিনয় করতেন, আর প্রধান চরিত্রে তিনি নিজেই থাকতেন।

    তার প্রথম নাটক বাল্মীকি-প্রতিভা। ১৮৮১ সালে মাত্র কুড়ি বছর বয়সে তিনি এটা রচনা করেন। রচনা ও মঞ্চায়নে বড় ভাই জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর নানাভাবে সহায়তা করেন। এমনকি তারা একসঙ্গে কতগুলো গানের সুরও দেন এটি ছিল বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যনাট্য। চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলা আর ঘটনার নাটকীয়তা তুলে ধরার জন্য তারা এতে পশ্চিমা গানের সুর ব্যবহার করেন। সংগীতের বিবেচনায় এটি ছিল এক নতুন ও সাহসী উদ্যোগ। বাবার অল্প বয়সের রচনা হলেও নাটকটি কিন্তু যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে এবং অদ্যাবধি প্রায়শ এর অভিনয় হচ্ছে। অবশ্য এর প্রথম অভিনয় প্রচেষ্টা দুর্ভাগ্যের মুখে পড়ে। ১৮৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এটি মঞ্চস্থ হয়। জোড়াসাঁকোর বাড়ির ছাদে বাঁশ দিয়ে মঞ্চ তৈরি করা হয়। সবকিছু যখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত, সে সময় হঠাৎ ঝড় এসে মঞ্চটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলে। তাতে অবশ্যি উদ্যোক্তারা দমে যাননি। তাঁরা ঠিকই অভিনয় সম্পন্ন করেন। প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র সে অভিনয় দেখেছিলেন। বঙ্গদর্শন পত্রিকায় তিনি নাটকটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরে লেডি ল্যান্সডাউনের উপস্থিতিতে বাড়ির উঠোনে এটি মঞ্চস্থ হয়। এবারও পাত্র-পাত্রী ছিলেন ঠাকুরবাড়ির। তাঁরা সংগীতে যেমন ছিলেন দক্ষ, অভিনয়েও ছিলেন তেমনি পাকা। নাটকটি অত্যন্ত সফল হয়। এটি দেখার জন্য তৎকালীন রাজধানী শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল। নতুন ধরনের আঙ্গিক ও গানের ব্যবহার দেখে তারা একাধারে অবাক ও মুগ্ধ হয়েছিলেন। অবশ্য সে অভিনয়ের খুব বেশি স্মৃতিচিহ্ন নেই, কেবল একটি দৃশ্যের দুটি আলোকচিত্র ছাড়া। বাবার রচনাসংগ্রহে সে ছবি অনেকেই দেখে থাকবেন।

    বাল্মীকি-প্রতিভা ছাড়া বাবা আর মাত্র একটি অপেরাধর্মী নাটক রচনা করেছিলেন। সেটি মায়ার খেলা। ১৮৮৮ সালে এটি বই আকারে বের হয়। বাল্মীকি-প্রতিভার কাহিনি নেয়া হয়েছিল রামায়ণ থেকে, আর এতে বিদেশি সংগীত ব্যবহার করা হয়েছিল। সেদিক থেকে ভাবলে মায়ার খেলা অনেক বেশি মৌলিক রচনা। মিসেস পিকে রায়ের অনুরোধে ‘সখী সমিতি’ নামে মহিলাদের একটি সমাজসেবামূলক সংগঠন তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে নাটক মঞ্চস্থ করতে চাইলে বাবা এ নাটকটি লিখে দেন। বেথুন কলেজে এর প্রথম মঞ্চায়ন হয়। সেই যে শুরু, এখনও নাটকটি মঞ্চায়িত হয়ে থাকে।

    এর পর রচিত হল রাজা ও রাণী এবং বিসর্জন। সত্যিকার নাটক বলতে আমরা যা বুঝি, এ দুটি ছিল তাই। জ্যাঠামশাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরজিতলার বাড়িতে রাজা ও রাণীর অভিনয় হয়েছিল। এ নাটকে মা নারায়ণীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। জীবনে এই একবারই তিনি মঞ্চে অভিনয় করেছিলেন।

    সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর বিরজিতলা ছেড়ে পার্ক স্ট্রিটে বাসা নিয়েছিলেন। সম্ভবত সেখানেই বিসর্জন নাটকের প্রথম অভিনয় হয়। উল্লেখ্য, ত্রিপুরার মহারাজ বীরচন্দ্র মাণিক্য অভিনয় দেখতে উপস্থিত ছিলেন। তার নিজের রাজবংশের কোনো এক অতীত কাহিনির সঙ্গে নাটকটির সাযুজ্য ছিল। সেজন্য তিনি এ নাটকের বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। জয়সিংহের মৃত্যুতে শোকার্ত রঘুপতির ভূমিকায় বাবার যে বিখ্যাত আলোকচিত্র আছে, এটি সম্ভবত এ দিনেই তোলা। এগুলোর সবই আমার জন্মের পূর্বের ঘটনা। পরবর্তীতে কর্নওয়ালিস স্ট্রিটের সংগীত সমাজের নিজস্ব ক্লাবঘরে বিসর্জন অভিনীত হয়। আমার কেবল সে অভিনয়টির আবছা স্মৃতি মনে আছে।

    রাজা ও রাণী সবচেয়ে বেশিবার অভিনীত হয়েছিল। পরিবর্তন আর পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়েছে এতে সবচেয়ে বেশি। এটি রাজা ও রাণী, ভৈরবের বলি এবং তপতী—এ তিনটি ভিন্ন নামে মঞ্চস্থ হয়েছিল। অক্ষয় মজুমদার কৌতুকপূর্ণ অভিনয়ের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। অনেক কমেডি নাটকে তিনি পেশিবহুল বলবান ব্যক্তির চরিত্রে রূপদান করেছেন। বাল্মীকি- প্রতিভা নাটকেও তিনি দস্যুদলের সর্দারের ভূমিকা পালন করেন। তাঁর হাস্যোদ্দীপক ভাব-ভঙ্গির কারণে নাটকটির একটি করুণ দৃশ্যও প্রায় কমিকে পরিণত হতে বসেছিল! তারপরও তাঁর খেদ ছিল যে মনোমত অভিনয় করার মত কোনো করুণ চরিত্র তাঁকে কখনও দেয়া হয়নি।

    অভিনয় ও গানের প্রসঙ্গে আমার চাচাত বোন অভির কথা না বললেই নয়। কবি-কবি চেহারার এ বালিকা মায়ার খেলা নৃত্যনাট্যে কী চমৎকারই না অভিনয় করেছিল আর সুন্দর করে গেয়েছিল! অপরিসীম সম্ভাবনা বুকে নিয়ে অল্প বয়সেই সে আমাদের ছেড়ে চলে গেল।

    দুঃখের কথা যে এসকল বিবরণ লেখার জন্য আমাকে শোনা কথার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কেননা, তখন আমার বয়স খুবই কম ছিল। এ চারটি নাটক সম্পর্কে এ পর্যন্ত যা বললাম, এর চেয়ে বেশি কিছু মনে রাখা সে বয়সে সম্ভব ছিল না। আমি বড়জোর আশ্রমের শুরুর দিকের দিনগুলোর কথা মনে করতে পারি। বাবা তখন শান্তিনিকেতনের ছাত্র-শিক্ষকরা মঞ্চায়ন করতে পারবেন এমন ধরনের নাটক লিখতে শুরু করেছেন। এর আগে তিনি মূলত রোমান্টিক ধাঁচের নাটক লিখতেন, আবহও থাকত মনোজগৎকেন্দ্রিক। শান্তিনিকেতনের জন্য লেখা নাটকগুলো কিন্তু সেগুলো থেকে আলাদা। শারদোৎসব, অচলায়তন আর ফাল্গুনী—এ নাটক তিনটি এ পর্বের লেখা। এগুলোর অন্তর্নিহিত মূল্য তো ছিলই, ছিল বিশেষ কৌশলও। তদুপরি এগুলো প্রথম দিকের ক্লাসিকধর্মী নাটক যথা, রাজা ও রাণী, বিসর্জন এবং পরবর্তীকালের রূপকধর্মী নাটক যেমন ডাকঘর, রাজা, তপতী ইত্যাদির মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করেছিল। শান্তিনিকেতনের নাটকগুলোর বিষয়বস্তু সহজ, কিন্তু এগুলোর মধ্যে এক ধরনের এলেগোরিক্যাল দ্যোতনা রয়েছে। আর একটা লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য ছিল যে এগুলোর কোনোটিতেই কোনো নারী চরিত্র ছিল না। শান্তিনিকেতনে অভিনয় করার মত কোনো নারী না থাকার কারণে বোধহয় এই বর্জন।

    আমার মনে হয় শান্তিনিকেতনে অভিনয়ের সূচনা হয়েছিল শারদোৎসব লেখারও আগে। ১৯০২ সালেই আশ্রমের উদ্যোগে বিসর্জন নাটকের অভিনয় হয়েছিল। তখন ওখানে না ছিল মঞ্চ, না ছিল এর সঙ্গে সম্পর্কিত জিনিসপত্র। কিন্তু এ সকল বস্তুর অভাব পুষিয়ে দিয়েছিল আন্তরিকতা ও উদ্যম। তখন ছাত্রসংখ্যাও বেশি ছিল না। কাজেই সন্তোষ মজুমদার, নয়ন চট্টোপাধ্যায় আর আমি—এ তিনজনকেই প্রধান প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করতে হয়েছিল। রিহার্সাল চলতে লাগল নিয়মিত। এর মধ্যে এন্ট্রান্স পরীক্ষা এসে গেল। শিক্ষকগণ বাবাকে বোঝালেন যে আপাতত নাট্যচর্চা বন্ধ না করলে আমাদের পরীক্ষা পাসের কোনো আশা নেই। বাবা অবশ্য তাঁদের কথায় কান দিলেন না। আমাদের খুশি দেখে কে! শিক্ষকদের আপত্তি কিন্তু তখনও শেষ হয়নি। তাঁরা দিনের পর দিন এর বিরোধিতা চালিয়ে গেছেন। কিন্তু বাবা কখনোই তাঁদের সঙ্গে একমত হননি।

    লাইব্রেরির পিছনের লম্বা ছাউনি খাবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সেখানেই নাটকের মঞ্চায়ন করা হবে ঠিক হল। কিন্তু মঞ্চ তৈরির যোগাড়যন্ত্র বলতে ছিল কেবল কয়েকটি আধভাঙা খাট। পর্দায় বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার জন্য কোলকাতা থেকে একজন চিত্রকরকে আনা হল। একটি সাধারণ তুলি হাতে নিয়ে তিনি অসম্ভব দৃশ্যাদি ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। তিনি একজন লোক ছিলেন বটে। স্বাক্ষর দিতেন হ-চ-হ এই তিনটি অক্ষর। এই স্বাক্ষর দেখেই লোকে তাঁকে চিনে ফেলতে পারত। আমাদের জোড়াসাঁকোর পরিবারে তাঁকে নিয়ে অনেক গল্প চালু ছিল। সম্ভবত গগনেন্দ্রনাথ তাকে নিয়ে একটি ক্যারিকেচার এঁকেছিলেন। বাবার গল্প-সল্প বইয়ের একটি গল্পের চরিত্রও অনেকটা তাঁর আদলে সৃষ্টি। কিন্তু আমরা, অল্পবয়সী ছেলেপিলের দল, তাঁর কাজে আমোদ পাবার চেয়েও মুগ্ধ হতাম বেশি। তাঁর আঁকা জমকালো ছবি দিয়েই আমরা মঞ্চ সাজাতে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। ছাত্রাবাস থেকে খাট নিয়ে আসা হল, আর হ-চ-হ’র চিত্রকর্মগুলো এমন শ্রদ্ধাভরে পশ্চাৎ পর্দায় লাগানো হল যেন ধর্মীয় ছবি টানাচ্ছি। এই কাঁচা দৃশ্যসজ্জা সত্ত্বেও মঞ্চায়ন ব্যর্থ হয়নি। বাবা অন্তত কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেতা খুঁজে পেয়েছিলেন। নক্ষত্রমাণিক্যের ভূমিকায় নয়ন অসাধারণ অভিনয় করেছিল। অভিনয়ে তার ছিল জন্মগত প্রতিভা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে অল্প বয়সেই মারা যায়। নইলে পরবর্তীতে বাবার অনেক নাটকেই সে ভূমিকা পালন করতে পারত। জগদানন্দবাবু ছিলেন আরেক আবিষ্কার। তিনি করেছিলেন রঘুপতির পাঠ। যতদিন বেঁচেছিলেন, নাটক হলেই তাঁকে কোনো-না-কোনো চরিত্রে অভিনয় করতে হতো।

    শারদোৎসব রচিত হয় কয়েক বছর পরে। ততদিনে আশ্রমের চেহারা অনেকখানি বদলে গিয়েছে। নতুন ছাত্রাবাস নির্মিত হয়েছে। এর একটি বড় কক্ষ ছিল। এটি অভিনয়ের জন্য এত লাগসই ছিল যে এর নামই হয়ে গিয়েছিল নাট্যঘর। হল অর্থে যা বোঝায় একে ঠিক তা বলা মুশকিল। কেননা, এর ছাদ ছিল নিচু। তবুও আগের খাবার ঘরের নিরিখে এ ছিল এক বিরাট সংযোজন। ততদিনে ছাত্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে একশর কাছাকাছি। কর্মচারীর সংখ্যাও সেই হারে বেড়েছে। ফলে অভিনেতা বেছে নেয়ার সুযোগ যেমন বাড়ল তেমনি বাড়ল অভিনয়ের মান। এর মধ্যে ক্ষিতিমোহন সেন, অজিত চক্রবর্তী, প্রমথ বিশী এবং তপন চ্যাটার্জি অভিনয়ে যোগ দিয়েছেন। কঠিনভাবে পরীক্ষা করে বাবা নিজেই অভিনেতা ঠিক করতেন। সে সময় তিনি খোলা স্থানে রিহার্সাল করাতে পছন্দ করতেন। সেটা দেখা ও শোনার জন্য আশ্রমের সবাই চলে এলেও তিনি বিরক্ত হতেন না। ফলে নাটক ও গানের রিহার্সাল যে কেবল কুশীলবদেরই মান বাড়াত তা নয়, বরং সবাই তা থেকে কিছু না কিছু শিখতে পারত। আমি নিশ্চিত যে এ পদ্ধতি অবলম্বন করেই বাবা আশ্রমের সকলের মধ্যে শিল্প ও সংগীতের বোধ সঞ্চারিত করতে পেরেছিলেন। গান শেখানোর জন্য কোনো নিয়মিত ক্লাসের ব্যবস্থা ছিল না, তবু প্রায় সকলেই গাইতে পারত। তখন থেকেই যেন শান্তিনিকেতনের বাতাসে গান ভেসে বেড়াত, যা আজও অক্ষুণ্ণ আছে। আমি বলব না যে প্রত্যেকেই খুব ভালো অভিনয় করতে পারত। তবে এটা সত্য যে অভিনয়ের জন্য বেশ বড় একটা দল তৈরি হয়ে গিয়েছিল। বাবা যখনই কোনো নাটক করতে চাইতেন, এদের মধ্য থেকে তিনি খুব দ্রুত এবং সহজে অভিনেতা ঠিক করে ফেলতে পারতেন। দুঃখের বিষয়, খোলা জায়গায় রিহার্সাল করানোর পদ্ধতিটি বেশিদিন চালু রাখা যায়নি। আশ্রমের আকার ও কর্মকাণ্ড এবং বাইরে থেকে আসা অতিথির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তা বন্ধ করে দিতে হয়। ফলে বাবার সুচারু পরিচালনায় শিক্ষানবিশ অভিনেতারা যে কঠিন প্রশিক্ষণ নিত, তা দেখার সুযোগ থেকে ছাত্ররা বঞ্চিত হয়।

    শারদোৎসব যেন শান্তিনিকেতনের চিত্তকে ধারণ করত। চারপাশে প্রকৃতির শারদীয় রূপ এ নাটকের জন্য এক আদর্শ পটভূমি তৈরি করে দিত। এ নাটকে যারা অভিনয় করত তারা তাদের নিজ ভূমিকার সঙ্গে এতটাই আপন বোধ করত যে অভিনয় হয়ে উঠত সহজাত ও সাবলীল। নাটক দেখার জন্য কোলকাতার অনেককে দাওয়াত দেয়া হতো। স্বতঃস্ফূর্ত আর প্রাণোচ্ছল অভিনয় দেখে দর্শকরা অভিভূত হয়ে যেত।

    শারদোৎসব-এর সাফল্যে বাবা খুব উৎসাহ পেলেন। দ্রুতই তিনি প্রায়শ্চিত্ত, রাজা, অচলায়তন নামে আরও তিনটি নাটকের মঞ্চায়ন করে ফেললেন। প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষের শেষে একটা নাটক হবে—এটা একটা রেওয়াজ হয়ে গেল। কোলকাতা থেকে আরও অধিকসংখ্যক বন্ধু-বান্ধব সেগুলো দেখতে আসতে থাকলেন। বাবা এ সময় খুব উত্তেজিত থাকতেন এবং তাঁদের আরাম-আয়েশের খুঁটিনাটি পর্যন্ত তদারক করতেন।

    প্রায়শ্চিত্ত মূলত বৌ-ঠাকুরাণীর হাট উপন্যাসের নাট্যরূপ। সে অর্থে বাবার প্রথম দিককার রচনা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় তখন পর্যন্ত এর অভিনয় হয়নি। শান্তিনিকেতনে নাটক মঞ্চায়নের সাফল্যে তিনি এতটাই আনন্দিত হয়েছিলেন যে, ঠিক করলেন এ নাটকটিরও অভিনয় করাবেন। শারদোৎসব এবং অচলায়তন সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার রচনা। এ দুইয়ের মাঝখানে যে প্রায়শ্চিত্ত অভিনীত হল, বাবার সে উৎসাহই সম্ভবত তার প্রধান কারণ। প্রায়শ্চিত্ত নাটকটি “আরেক কারণেও উল্লেখের দাবি রাখে। বাবার যে কয়টি নাটক বিভিন্ন সময় পরিবর্তিত, পরিমার্জিত হয়েছে এবং ভিন্ন ভিন্ন নামে ছাপা হয়েছে, এটি ছিল সেগুলোর অন্যতম।

    ১৯১১ সালে রাজা নাটকের মঞ্চায়ন হল। আমি তখন শিলাইদহে, কাজেই অভিনয় দেখতে পারিনি। তবে শুনেছি যে অতি উঁচুমানের নাটক হয়েছিল সেটি। আগেই বলেছি, বাবা একদল অভিনেতাকে একত্রিত করতে ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে দক্ষ করে তুলতে পেরেছিলেন। তাঁরা যে কেবল বাবার কাজের সঙ্গী ছিলেন তা-ই নয়, মননেও একই চেতনা লালন করতেন। এরকম সমন্বয় খুব কম ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। আমার তো মনে হয় কেবল মস্কো আর্ট থিয়েটার আর আইরিশ থিয়েটারই এর সমকক্ষ হতে পারে। শান্তিনিকেতনের মত এ দুটি প্রতিষ্ঠানেও কলাকুশলীদের দুএকজনের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর সাফল্য নির্ভর করত না। বরং সকলের ভূমিকার সার্বিক সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে মূল সুর ধ্বনিত হতো। অভিনেতাদের ঐকান্তিকতা দেখে দর্শক আলোড়িত হতো এবং শৈল্পিক সন্তুষ্টি নিয়ে ফিরে যেত।

    রাজা নাটকটিও দর্শকদের সেরকম সন্তুষ্টি দিয়েছিল। কিন্তু এর মর্মার্থ নিয়ে তাদের মনে দ্বিধা তৈরি হল। সত্যি বলতে কি কোলকাতার সাহিত্যিক মহলে বহু বছর ধরে এ দ্বিধা বজায় ছিল। বলাবলি হতে লাগল যে সাহিত্যের তৎকালীন যে মান, তার সঙ্গে বাবার লেখা নাটক মেলানো যায় না। সেগুলোর সিম্বলিজম বিভ্রান্তি তৈরি করে। সবচেয়ে বড় কথা, সেগুলোতে নাকি নাটকের গতিও থাকে না। তখন থেকে এই নাটকগুলোর এই যে পুনঃপুন অভিনয় হয়ে চলেছে, তা থেকেই প্রমাণিত হয় যে সে সকল অভিযোগের কোনোটিরই কোনো সত্যতা নেই।

    অচলায়তন অভিনীত হয় ১৯১৪ সালে, শান্তিনিকেতনে সিএফ এন্ড্রুজকে দেয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে। শারদোৎসব ও অচলায়তন নাটকে যে কেবল বয়স্করা অভিনয় করেছেন তা নয়, ছাত্ররাও এগুলোতে সুযোগ পেয়েছে। শান্তিনিকেতনের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে মধুর ও প্রীতির সম্পর্ক বিরাজ করত। ফলে এ দুই শ্রেণির অভিনেতাই অত্যন্ত সহজাতভাবে মঞ্চের অভিনয়ে একাকার হয়ে গিয়েছিলেন। যথারীতি মহা পঞ্চকের ভূমিকায় জগদানন্দবাবুর অভিনয় দর্শক মাতাল। একইভাবে আসর মাত করলেন দিনেন্দ্রনাথও। তিনি ভালো অভিনেতা ছিলেন, তদুপরি ছিলেন নাটকের কোরাস গাইয়েদের নেতা। ঠাকুরদার ভূমিকায় ক্ষিতিমোহন সেনের অভিনয়ও দারুণ প্রশংসা কুড়াল। বাবা করেছিলেন আচার্যের চরিত্র। সমবেত দর্শকদের বিশেষ খোরাক যোগালেন ডব্লিউডব্লিউ পিয়ার্সন। এমনিতে তিনি ভালোই বাংলা বলতে পারতেন, কিন্তু সমস্যা দেখা দিল ‘অড়হর খেসারির ডাল’ বলতে গিয়ে। তিনি তোতলাতে লাগলেন। দর্শকরা হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ল। শান্তিনিকেতনে যেসব বিদেশি আসত, আশ্রমের সকল কাজেই বাবা তাঁদের অংশগ্রহণ পছন্দ করতেন। বিশেষভাবে খেয়াল রাখতেন তাঁরা যেন নাটকে অভিনয় করতে পারেন। এ কারণেই ডব্লিউডব্লিউ পিয়ার্সন, লিওনার্দ এলমহার্স্ট, ড. হ্যারি টিম্বরস ও তাঁর স্ত্রী হৈমন্তী চক্রবর্তী এবং আরও অনেকে বিভিন্ন উপলক্ষে মঞ্চে পারফর্ম করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

    কোলকাতার সাংস্কৃতিক জীবনের বহু বছরের নিয়মিত অনুষঙ্গ হয়েছিল ফাল্গুনী নাটকটি। ১৯১৫ সালের বসন্তে বাবা এটি রচনা করেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শান্তিনিকেতনে এর প্রথম অভিনয় হয়। আশ্রমের দুই খুদে বালক গাইল ‘ওগো দখিন হাওয়া’ গানটি। যারা এটি শুনেছেন, প্রতিবছর বসন্ত এলেই সে দুই খুদে গায়কের সুমধুর কণ্ঠের স্মৃতি তাঁদের মনে পড়বে। বিষয়বস্তু ও আঙ্গিকের দিক থেকে এটি ছিল অন্যসব নাটক থেকে আলাদা। সাধারণভাবে নাটকের জন্য তা যুৎসই হতো না। শারদোৎসব, অচলায়তন ও ফাল্গুনী— শান্তিনিকেতনে অভিনীত হওয়া এ তিন নাটকের কোনোটিতেই দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার জন্য চিত্রিত পর্দা ব্যবহার করা হয়নি। কোনো বিশেষ শিল্পরীতির কথা না ভেবে সহজাত প্রাকৃতিক দৃশ্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ ধরনের মঞ্চসজ্জা অন্য দুটি নাটকের চেয়ে ফাল্গুনীর ক্ষেত্রে আরও বেশি উপযোগী ছিল।

    পরের বছর (১৯১৬) শীতের শেষের দিকে শান্তিনিকেতনে যথারীতি মাঘোৎসব অনুষ্ঠিত হল। বরাবরের মত বাবা ধর্মীয় কার্যাদি সম্পন্ন করলেন। এর পরপরই ঠিক করা হল যে কোলকাতায় পুনরায় ফাল্গুনীর মঞ্চায়ন করা হবে। বাঁকুড়ায় তখন চরম দুর্ভিক্ষ চলছে, তাদের খুব সাহায্যের দরকার। বাবা তড়িঘড়ি করে রিহার্সাল করালেন, যেন নাটকটি দ্রুত মঞ্চায়ন করে টিকিট থেকে প্রাপ্ত অর্থ বাঁকুড়ায় পাঠানো যায়।

    বিচিত্রা ক্লাবের কাজে এ সময় আমি কোলকাতাতেই ছিলাম। কাজেই এর ব্যবস্থাপনার ভারও আমার ওপরই পড়ল। এ প্রথমবারের মত শান্তিনিকেতনের ছাত্র-ছাত্রীরা বাইরে অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। এত বড় একটা দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ায় আমার নার্ভাসনেস বেড়ে গেল। অভিনয়ের প্রথম দিন বলতে গেলে তেমন কোনো দর্শকই হয়নি।[১] সেদিন সন্ধ্যায় আমাদের পুরনো ছাত্রদেরকে জড়ো করলাম। এরা তখন কোলকাতার বিভিন্ন কলেজে পড়ছে। তাদেরকে বললাম বন্ধু-বান্ধবদের মাধ্যমে এ কথা প্রচার করতে যে যারা এ নাটকটি দেখতে চায় তারা যেন পরদিন সকালেই টিকিট কেটে ফেলে। পরদিন দেখা গেল সবকটি টিকিটই বিক্রি হয়ে গিয়েছে, যদিও দাম ছিল খুবই চড়া। শেষে সন্ধ্যায় দেখা গেল লোকে ১০০ টাকা করে টিকিট কিনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফাল্গুনীর অভিনয় দেখছে। সকল খরচ মেটানোর পরও আমরা ত্রাণ কমিটির কাছে ৮০০০ টাকা পাঠাতে পেরেছিলাম। আমাদের পরবর্তী প্রায় সকল প্রকাশ্য মঞ্চায়নই সফল হয়েছিল। তবু আমি বলব যে ফাল্গুনীর মত এত টাকার টিকিট আর কখনোই বিক্রয় হয়নি।

    বাবা পুনরাবৃত্তি পছন্দ করতেন না। কোন সৃজনশীল লোকই বা তা করতে পারে? কোনো নাটক অভিনয়ের পালা আসলে অবধারিতভাবে তাতে সংযোজন- বিয়োজন করতেন। রিহার্সালের শেষদিন পর্যন্ত পরিবর্তনের ধারা চলতেই থাকত। কয়েক দিন ধরে চলা মঞ্চায়নের ক্ষেত্রে এমনও দেখা গেছে এক সন্ধ্যায় অভিনয় হয়ে যাবার পর পরবর্তী সন্ধ্যার আগে আবারও কাটাছেঁড়া চলছে। এতে অভিনেতাদের খুব অসুবিধা হতো। মঞ্চায়নের সব পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ করা গেলে সেটা একটা মজার সংকলন হতো।

    আমরা ধরেই নিয়েছিলাম যে এক বছর আগে শান্তিনিকেতনে যেভাবে ফাল্গুনীর অভিনয় হয়েছে, কোলকাতায় সেভাবে হবে না। হলও ঠিক তাই। একেবারে শেষ মুহূর্তে তিনি মূল নাটকের আগে বৈরাগ্য-সাধন নামে একটি নাটিকা জুড়ে দিলেন। এর অভিনয়ের জন্য নতুন একদল পাত্র-পাত্রী দরকার হল। হয়ত বাবা ভেবেছিলেন, তিনি যে নতুন ধারার নাটক দেখাতে চাচ্ছেন, সাধারণ মানুষ তার স্বাদ নিতে পারবে না। সে আশঙ্কা থেকেই ভূমিকার মত কিছু একটা দেখিয়ে নেয়া। আবার এ-ও হতে পারে যে নিজের ভ্রাতুষ্পুত্র গগনেন্দ্র, সমরেন্দ্র আর অবনীন্দ্রনাথের প্রতিভা জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য তিনি এ নাটিকা লিখেছেন। মনে হয় যেন তাঁদের কথা ভেবেই এর বিভিন্ন অংশ লেখা। এই ছোট্ট নাটিকাটি মূল নাটকের আকর্ষণ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল।

    আমাদের বাড়ির সামনেই মঞ্চ তৈরি করা হল। গগনেন্দ্রর নির্দেশনায় নন্দলাল বসু ও সুরেন্দ্রনাথ কর বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তুললেন। শান্তিনিকেতনে এতদিন প্রাকৃতিক সাজসজ্জায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পর্দার এখানে-সেখানে অল্পকিছু তুলির আঁচড়েই কিন্তু একটা বাস্তবানুগ ভিন্ন আবহ তৈরি হয়ে গেল। ‘ধীরে বন্ধুগো ধীরে’ গাইতে গাইতে এক অন্ধ বাউল একটা অন্ধকার গহ্বরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ দৃশ্যটা দর্শকের মনকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল। বাউলের ভূমিকায় বাবা স্বয়ং অভিনয় করেছিলেন। ১৯১৬ সালের দিকে বাবা অনুনাদক কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। তিনি যখন গাইতে গাইতে পর্দার আড়ালে চলে গেলেন, গানের শেষ কথার সঙ্গে তার গলাও মিলিয়ে গেল, দর্শক সবাই আবেগমথিত হয়ে গেলেন। গানই ছিল এ নাটকের প্রাণ। বাবা, দিনেন্দ্রনাথ, অজিত চক্রবর্তী আর শান্তিনিকেতনের শিক্ষার্থীদের দল গেয়েওছিলেন সেরকম। আমার বিশ্বাস, অজিত চক্রবর্তী জীবনের সেরা গান গেয়েছিলেন সেদিন। বিশেষ করে ‘আমি যাব না গো অমনি চলে’ তিনি যেভাবে গেয়েছেন, তেমন আর কখনও পারেননি। কোলকাতার এ সফল মঞ্চায়নের পর শান্তিনিকেতনবাসীর আর কোনো সন্দেহ থাকল না। এটাও বোঝা গেল নাটক থেকে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

    শান্তিনিকেতনের অভিনেতারা ফাল্গুনীর পর বহু বছর প্রকাশ্যে কোনো মঞ্চায়ন করেননি। এর কারণ বাবার ব্যস্ততা। কোলকাতায় সদ্য গড়ে ওঠা বিচিত্রা ক্লাব তাঁর সময়ের অনেকখানি কেড়ে নিচ্ছিল। এর পরপর লম্বা সময়ের জন্য তিনি ইউরোপ সফরে গেলেন। ১৯১৭ সালেও তিনি ডাকঘর নামের নাটকটি করেছেন, তবে সেটা শান্তিনিকেতনে নয়, কোলকাতায়। কেবল অমলের চরিত্রে শান্তিনিকেতনের একজন বালককে নেয়া হল, অন্য সমস্ত অভিনেতা ছিলেন কোলকাতার। বিচিত্রা হলে রিহার্সাল আর অভিনয় হল। প্রকৃতিগত দিক থেকে ডাকঘর ছিল অনেকটা ছান্দিক, এর সহজ কিন্তু কাব্যিক ভাষার মধ্যে অতীন্দ্রিয় দর্শন লুকানো। এতে একটাও শব্দ ছিল না যা অতিরিক্ত, একটাও বাক্য ছিল না যার কোনো তাৎপর্য নেই। কেবল জাত শিল্পীদের পক্ষেই এমন একটি নাটক ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। সৌভাগ্যবশত এমন একদল অভিনেতা সহজেই পাওয়া গেল। নাটকের প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে তারা চমৎকারভাবে মানিয়ে গেলেন। বাবা নিজে অভিনয় করেছিলেন গফুর প্রহরী আর ফকিরের ভূমিকায়। অবনীন্দ্রনাথ দ্বৈত চরিত্রে পাঠ করেছিলেন। তিনি সেজেছিলেন ডাক্তার আর গ্রামপ্রধান। এর বাইরে গগনেন্দ্র মাধবের, দিনেন্দ্রনাথ ফকিরের সঙ্গীর আর অসিত হালদার দৈ বিক্রেতার ভূমিকা নিয়েছিলেন। সেরা নির্বাচন ছিল অমলের ভূমিকায় আশামুকুল। যেন এ চরিত্রটি করার জন্যই তার জন্ম হয়েছিল। নাটকটির একমাত্র নারী চরিত্র একটি ছোট মেয়ে, অমলের খেলার সঙ্গী। অবনীন্দ্রনাথের কনিষ্ঠ কন্যা এ চরিত্রে রূপদান করেছিল। নাটকের শেষ দৃশ্যে দেখা যায় ডাকপিওনের বহুকাঙ্ক্ষিত চিঠি হাতে নিয়ে অমল মৃত পড়ে আছে। সে সময় এ বালিকা অভিনেত্রীর ‘অমল’ বলে মর্মস্পর্শী ডাকে যে করুণ দৃশ্যের অবতারণা হল, এতটা হবে বলে স্বয়ং নাট্যকারও ভাবতে পেরেছিলেন কি না সন্দেহ।

    বিচিত্রা হলের এক কোণে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। ঘরের ভিতরে আর যেটুকু জায়গা ছিল তাতে মোটে শদেড়েক দর্শক বসতে পারে। নাটকটির জন্য এটিই বরং ছিল সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবস্থা। কেননা, এর থেকে বড় পরিসরের আয়োজন হলে অভিনয়ের অনেক সূক্ষ্ম বিষয় দর্শকদের চোখে পড়ত না। মঞ্চ সাজানোর পুরো দায়িত্বে ছিলেন গগনেন্দ্রনাথ। তিনি এক নতুন এবং সাহসী পরিকল্পনা করলেন। মঞ্চের উপর মাটির ছাদ আর বেড়া দিয়ে সত্যিকারের কুটির নির্মাণ করা হল। সাজসজ্জা ছিল সাধারণ কিন্তু অসাধারণ শৈল্পিক। কেবল একজন বোদ্ধার পক্ষেই এরকম পরিকল্পনা গ্রহণ আর তার বাস্তবায়ন সম্ভব।

    ডাকঘর মঞ্চায়নের উদ্দেশ্য ছিল বিচিত্রা ক্লাবের সদস্যদের সহায়তা করা। সে কারণে সীমিত পরিসরে এর আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু এটা দেখার জন্য লোকের আগ্রহ এত বৃদ্ধি পায় যে বেশ কয়েকবার এর অভিনয় করাতে হয়। প্রত্যেকবার অভিনয় শেষ হয়ে যাবার পর মঞ্চ ভেঙে ফেলতে গেলেই বাধা পড়ত। অনুরোধ আসত আবারও মঞ্চায়নের। ফলে বিচিত্রা ক্লাবের মঞ্চটি কয়েক মাস সেভাবেই রেখে দিতে হল। যতদূর মনে পড়ে সপ্তমবারের আয়োজনটিই ছিল সর্বশেষ। কোলকাতায় অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সম্মানে এটা করা হয়েছিল। কংগ্রেস শেষ হয়ে গেলে সম্মেলনের সভাপতি মহীয়সী নারী মিসেস অ্যানি বেসান্ত, পণ্ডিত মদনমোহন মালব্য, মহাত্মা গান্ধী এবং লোকমান্য তিলক এ নাটক দেখতে আমাদের বাড়ি এলেন। বলতে দ্বিধা নেই যে নাটককে ঠিকমত ফুটিয়ে তোলার দিক বিবেচনায় আর কোনো অভিনয়ই নাট্যকার, প্রযোজক, অভিনেতা আর দর্শকদের এতটা তৃপ্তি দিতে পারেনি। শিল্প-নৈপুণ্য এবং মঞ্চসজ্জা যেন এই একবারই উৎকৃষ্টতার তুঙ্গে উঠেছিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026

    আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }