Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026

    আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক পাতা গল্প280 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    একটি ভ্রমণ ডায়েরি

    ১৯২০ সালের ইউরোপ ভ্রমণের কিছু কিছু ঘটনা আমি একটি ডায়েরিতে টুকে রেখেছিলাম। যদিও সেগুলো খুব তাড়াহুড়ো করে লেখা আর অসম্পূর্ণ। পাঠকদেরকে জানানোর লোভ সামলাতে পারলাম না। খুব সামান্য হলেও কারও কারও কাছে এগুলোর কোনো মূল্য থাকতে পারে:

    ১৫ মে ১৯২০

    বেলা সাড়ে দশটার দিকে আমরা ডকের দিকে এগুলাম। ক্ষিতিমোহন সেন আমাদের সঙ্গে গাড়িতে এসেছিলেন। বেলা বারটার মধ্যেই সবাই উঠে পড়লাম। কিন্তু জাহাজ ছাড়তে ছাড়তে বিকেল ৫টা বেজে গেল। জাহাজটি ছিল জনাকীর্ণ, আকারেও বেশ বড়।

    ১৬ মে

    জাহাজের যাত্রীদের মধ্যে বেশ খ্যাতিমান কয়েকজন ছিলেন। আলওয়ারের মহারাজা, আগা খান[১], স্যার কারিমভয়, স্যার জে. জিজিভয়, নবানগরের জাম সাহেব, রণজিৎ সিং (রণজি), এবং আরও কয়েকজন। বাকি যাত্রীরা ছিল গতানুগতিক। সব মিলিয়ে এক জাহাজে অনেক বেশিসংখ্যক লোক, অস্বস্তি বোধ করার মত যথেষ্ট।

    মনে হচ্ছে আগা খান ও মহারাজার সঙ্গে কথা বলে বাবা মজা পাচ্ছেন। আগা খান প্রায়ই বাবাকে হাফিজের[২] রচনা থেকে পাঠ করে শোনান এবং তারপর দুজনে সুফিবাদ নিয়ে আলোচনা করেন। জাম সাহেবও অত্যন্ত ভদ্র সহযাত্রী।

    ৫ জুন

    মার্সেই থেকে প্লাইমাউথ বন্দর পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি। আমরা আশা করেছিলাম কেদার দাশগুপ্ত বন্দরে থাকবেন। বেশ অবাক হয়ে দেখলাম পিয়ার্সনও অপেক্ষা করছেন। রোটেনস্টাইন ও তাঁর পরিবারের লোকজন আমাদেরকে প্যাডিংটনে অভ্যর্থনা জানান এবং কেনসিংটন প্যালেস ম্যানসনে নিয়ে যান। তিনি সেখানে আমাদের জন্য একটি ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করেছিলেন। প্রাসাদটি ছিল খুবই আরামদায়ক।

    ডিনারের পর রোটেনস্টাইন আবার এলেন। বাবা অনেকক্ষণ ধরে তার সঙ্গে গল্প করলেন। পুরনো বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের খোঁজখবর নিলেন। তাঁরা ভারত ও ইংল্যান্ডের সমসাময়িক অবস্থা নিয়েও আলোচনা করলেন। মনে হল যেন পুরনো দিন—১৯১৩ সালের সেই গ্রীষ্মটাই বুঝি ফিরে এসেছে।

    ৬ জুন

    পিয়ার্সন আমাদের সঙ্গেই থাকছেন। প্রায় সারাদিনই কোনো-না-কোনো অতিথি এলেন। সকালে রোটেনস্টাইন এলেন তাঁর মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে। কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে সরকারের সঙ্গে শিল্পী-সাহিত্যিকদের সম্পর্কের বিষয়টি উঠল। বিশেষ করে যে সকল শিল্পী, লেখক ও বুদ্ধিজীবী সরকারের দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন এবং লোভ ও শোষণ নিয়ে দুঃখ বোধ করেন, সরকারের সঙ্গে তাঁদের সহযোগিতা করা উচিত কি-না সে প্রসঙ্গে আলোচনা হল। রোটেনস্টাইন সহযোগিতার পক্ষে সাফাই গাইলেন; তাঁর মতে দেশের পুনর্গঠনের জন্য সরকার যখন আবেদন জানায়, শিল্পী-সাহিত্যিকদের তখন নিজেদের সেরাটাই ঢেলে দেয়া উচিত। তাছাড়া ‘সেবা’র ধারণা আধুনিক মানুষের এতটা গভীরে প্রোথিত হয়ে আছে যে, কেবল তার মধ্য দিয়েই তাদের শান্তি অর্জিত হতে পারে। বিশেষ করে শিল্পীদের ক্ষেত্রে, তাঁদের জীবন ধারণ ও শিল্পের সংরক্ষণের জন্য কেবল গুটিকয় ধনী ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। কেননা, ধনীদের সঞ্চয়ে ভাটা পড়তে পারে এবং তারা শিল্পের পেছনে ব্যয় কমিয়ে দিতে পারে। তাঁদের বরং রাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে গণতন্ত্রের জন্য কাজ করা উচিত। বাবা বললেন যে, শিল্পীদের অবশ্যই নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা থাকা উচিত, এবং তাদের সামনে কোনো রকমের প্রতিবন্ধকতা কল্যাণকর নয়। তিনি কোলকাতার ইন্ডিয়ান সোসাইটি অব ওরিয়েন্টাল আর্ট-এর কথা তুললেন এবং বললেন যে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিতভাবেই উল্টো ফল বয়ে আনবে। শিল্পীদের মনে ও শিল্পকর্মে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। রোটেনস্টাইন বললেন, যত যা-ই হোক শিল্পীদের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকা অতটা খারাপ কিছু নয়। এতে তেমন কিছু এসে যায় না এবং কখনও কখনও তাঁদের বিষয়বস্তু অন্য কারও দ্বারা নির্দের্শিত হলেই বরং ভালো ফল দিয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইতালিয়ান চিত্রকরদের ওপর ধর্মের ভূমিকার কথা তোলেন। তাঁর মতে আধুনিক স্বাধীনতা ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে, যেমনটি দেখা গেছে ভবিষ্যৎবাদীদের ক্ষেত্রে।

    স্যার ফ্রাংক ডাইসনের সঙ্গে গ্রিনউইচ মানমন্দিরে একটি চমৎকার বিকেল কাটল। তাঁকে বোঝা কঠিন। পুরো জায়গাটায় নীরবতা বিরাজ করছে। এটা খুব আশ্চর্যের ব্যাপার যে এত অল্প আড়ম্বরে এত বিশাল কাজ হচ্ছে এখানে। স্যার ফ্রাংক ডাইসনের আগে দায়িত্ব পালনকারীরাও সবাই ছিলেন খ্যাতিমান। স্যার আইজাক নিউটন ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এক মহান কর্মের সুযোগ্য পরিবেশই তৈরি হয়েছে এখানে। স্যার ফ্রাংক আমাদেরকে সর্বশেষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণের ছবি দেখালেন। এ ছবিটি দ্বারাই প্রথমবারের মত আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।

    ১৭ জুন

    গত কয়দিন এত বেশি ব্যস্ততা ছিল যে ডায়েরি লেখার সময় পাইনি। আমরা রোটেনস্টাইনের ওখানে অনেকবার গিয়েছি। বাবা সেখানে প্রায়ই যান, তবে এত বেশিবার নয় যতটা তিনি গিয়েছিলেন আগেরবারের বিলাত সফরে হ্যাম্পস্টিডে বাস করার সময়। তাঁর বাসায় তিনি পুরনো বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের অনেকের দেখা পেয়েছিলেন।

    বাবা ইন্ডিয়া অফিসে জনাব মন্টেগু এবং লর্ড সিনহার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনি মন্টেগুকে বলেন যে, ভারতবাসী জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডে জেনারেল ডায়ারকে শাস্তি প্রদান যতটা না দাবি করে, তার চেয়ে বেশি প্রত্যাশা করে—জাতি হিসেবে বৃটিশরা এ অপরাধের নিন্দা করুক। গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অফিসটি যেন একটি মেশিন; এর হৃদয়হীনতার কারণে ভারতীয়দের ওপর জুলুম চলে। একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। উপমহাদেশে যখন হাজার হাজার শিশু দুধের অভাবে মারা যাচ্ছে, তখন এ অফিসটি ব্রাজিলে গাভি রপ্তানির অনুমতি দেয়, এমনকি কাথিয়ার অঞ্চলের প্রধানগণ সে অঞ্চল থেকে অন্যত্র গরু পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা সত্ত্বেও। পাঞ্জাবের নৃশংসতার প্রশ্নে মি. মন্টেগু বাবার সঙ্গে একমত হন, কিন্তু বলেন যে ন্যায়-অন্যায় বোধ থেকে সব সময় তিনি কাজ করতে পারেন না। তিনি সরকারের ভিতরে কিছু পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করছেন যাতে ভবিষ্যতে আর এরকম ঘটনা না ঘটে।

    রাতের খাবারের পর সুনীতি চট্টোপাধ্যায় রাশিয়ান চিত্রকর নিকোলাস রোয়েরিক আর তাঁর দুই পুত্রকে নিয়ে দেখা করতে আসেন। রোয়েরিক আমাদেরকে তাঁর চিত্রগুলোর ছবি সংবলিত একটি অ্যালবাম দেখান। তাঁর পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে বন্ধু-বান্ধবরা এ অ্যালবামটি প্রকাশ করেছিল। ছবিগুলো সত্যিই অসাধারণ। এগুলোর সঙ্গে তুলনা করার মত ছবি পশ্চিমা শিল্পকর্মে নেই। বাবা অত্যন্ত মুগ্ধ হলেন। তাঁর ছেলেদের একজন লন্ডনে সংস্কৃত পড়ছে। আরেকজন পড়ছে স্থাপত্যবিদ্যা। তাঁদের অকৃত্রিম সারল্য এবং সহজাত ভদ্রতা কতই না প্রশান্তিকর আর চিত্তগ্রাহী! ইংরেজদের কাঠিন্যের তুলনায় সেটা কতই না আলাদা!

    ২৭ জুন

    রোববার বিকেলে বাবা কর্নেল লরেন্সের[৩] সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজন করলেন। তিনি তাঁকে খুব পছন্দ করতেন। কর্নেল লরেন্স বললেন যে বৃটিশ সরকারের প্রতারণামূলক আচরণের কারণে তিনি আরবে ফিরে যেতে লজ্জা পাচ্ছেন। আরবের লোকদের নিকট তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার তা রক্ষা করেনি। যে লোকদের তিনি এত ভালোবাসেন, এখন কীভাবে তাঁদের সামনে যাবেন। তিনি ছিলেন অক্সফোর্ড থেকে সদ্য পাস করা যুবক। আরবে গিয়ে অল্পদিনের মধ্যেই তাঁদের নিকট নায়ক হিসেবে পরিগণিত হন এবং শক্তিশালী সেনাদল গঠন করে তুর্কিদেরকে তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হন। তিনি তাদের সঙ্গে গভীরভাবে মিশেছেন। তারাও তাঁকে এত সম্মানের সঙ্গে ও আপন ভাবে নিয়েছে যে পারলে রাজমুকুটও পরিয়ে দেয়। তাঁর জীবন যেন গল্পের মত, যার সমতুল্য উদাহরণ এ শতাব্দীতে খুঁজে পাওয়া ভার। বাবা বললেন যে পশ্চিমের মানুষদের ভিতরে এমন এক নিষ্ঠুরতা আছে যা ভারতীয়দের মধ্যে নেই। চরিত্রগত দিক থেকে ভারতীয়রা এতটাই আলাদা যে তারা তাদের শাসকদের কাছ থেকে এ লরেন্স অব অ্যারাবিয়া মোটর সাইকেল চালাতে ভালোবাসতেন। ১৯৩৫ সালের মে মাসে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর হেলমেট ব্যবহার জনপ্রিয় হয়

    জিনিস রপ্ত করতেও পারবে না। জবাবে লরেন্স বললেন যে, ইংরেজরা যতটা আঘাত করে তার থেকে প্রচণ্ডতরভাবে তাদেরকে আঘাত করার মধ্যেই এর একমাত্র সমাধান নিহিত। কেবল তখনই তাদের চেতনা জাগবে আর অন্যদেরকে তাদের সমতুল্য ভাই হিসেবে ব্যবহার করবে।

    জুন

    বৃহস্পতিবারে দ্য ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট সোসাইটি বাবাকে স্বাগত জানাতে ক্যাক্সটন হলে এক সভার আয়োজন করে। হলটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মন্টেগুর সাবেক আন্ডারসেক্রেটারি চার্লস রবার্টস সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি একটি লম্বা বক্তৃতা দেন, যদিও সভার লোকজন তাঁর কথা প্রায় শুনতেই পাচ্ছিল না। তারপর মিজ টাবস বাবার চারটি গান গেয়ে শোনান। একজন সুপরিচিত সুরকার এগুলোতে সুর দিয়েছিলেন। তাঁর গলা ছিল প্রবল, কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে যে মূল কবিতাগুলোতে যে চেতনা ব্যাখ্যা করা হয়েছে তা ফুটিয়ে তোলার জন্য এ সংগীত ছিল একেবারেই অনুপযুক্ত। এ ছিল বড় বেশি বাদ্যযন্ত্রনির্ভর। এর পর এল সিবিল থর্নডাইকের পালা। তিনি সম্প্রতি ‘ট্রোজান, উইমেন ও মিডিয়া’য় করুণ অভিনয়ের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি কবি লরেন্স বিনিয়ন রচিত কবিতা আবৃত্তি করে শোনালেন। আহ! কী মধুর তাঁর গলা! তাঁর কণ্ঠের কারুকার্যে আমরা মোহিত হলাম। প্রত্যুত্তরে বাবা মৃদুস্বরে সংক্ষেপে ভাষণ দিলেন। সবাই তাঁর বক্তব্যের খুব প্রশংসা করল। বের হবার পথে আর্নেস্ট রিজ আমাকে বলেন যে বাবার কথাই সেই সন্ধ্যার সেরা উপভোগ্য ছিল। অনুষ্ঠানের সভাপতিকে ধন্যবাদ দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ভূপেন্দ্রনাথ রাজনীতির প্রসঙ্গ না এনে পারলেন না। এটা ছিল বিস্ফোরণের মত। এবং যেহেতু তাঁর কথাগুলো একেবারে ভিতর থেকে বের হয়ে এসেছিল সেজন্য এগুলোকে অসমঞ্জসও মনে হয়নি। আলওয়ারের ও ঝালওয়ারের মহারাজাদ্বয়, গিলবার্ট মারে, লরেন্স বিনিয়ন, স্যার কৃষ্ণ গোবিন্দ গুপ্ত এবং আরও অনেকে সে সভায় উপস্থিত ছিলেন। মি. দুবে তখন সপরিবারে ব্রাইটনের নিকটে বাস করতেন। তাঁরা সেখানে আমাদের নিমন্ত্রণ করেছিলেন। বাবা যখন গাড়িতে উঠলেন, তাঁকে দেখার জন্য প্রবেশপথে অনেকে ভিড় করে দাঁড়াল।

    চার্লস রবার্টস আমাদেরকে মধ্যাহ্নভোজনে দাওয়াত করেছিলেন। সেখানে লর্ড রবার্ট সিসিল ও গিলবার্ট মারে উপস্থিত ছিলেন। আহারের পর বাবা লর্ড সিসিলকে একপাশে নিয়ে গিয়ে ভারতের রাজনীতি বিষয়ে কথা বললেন। সিসিল স্বীকার করলেন যে ভারতে কী ঘটছে সে বিষয়ে তিনি পুরোপুরি অজ্ঞ, কাজেই বাবার মুখ থেকে তা শুনতে চাইলেন। বাবা তাঁকে বিস্তারিতভাবে তখনকার পরিস্থিতি ও মন্টেগু সংস্কারের অকার্যকারিতার কথা বুঝিয়ে বললেন। জবাবে লর্ড সিসিল মন্তব্য করলেন, “ভারতে ইংরেজদের সংখ্যা খুবই কম। যেহেতু আমরা মনে করি ভারতের মঙ্গল সাধন করার জন্যই তারা সেখানে রয়েছে, কাজেই তাদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের সাধ্যে কুলায় এমন সব কিছুই আমরা করব।” বাবা উত্তর দিলেন, “এর একমাত্র কারণ তোমরা জান যে তোমরা জনবিচ্ছিন্ন এবং হিংস্র শক্তিপ্রয়োগ ছাড়া ভারতে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করতে অক্ষম। সেজন্যই দুপক্ষের সম্পর্ক এ বিপর্যয়কর অবস্থায় এসে পৌঁছেছে।” সিসিল আর কথা বাড়ালেন না, বরং বাবার কথা শেষ হওয়ামাত্রই চলে গেলেন। গিলবার্ট মারে এ বিষয়ে কিছু একটা করতে চেয়েছিলেন। বাবা বললেন যে তিনি যদি তাঁর মত কিছু বুদ্ধিজীবীকে দিয়ে একটি প্রতিবাদপত্রে স্বাক্ষর করাতে পারেন, নৈতিক দিক থেকে সেটার একটা বিরাট প্রভাব পড়বে। গিলবার্ট প্রতিশ্রুতি দিলেন যে তিনি চেষ্টা করবেন। আরও বললেন যে এটা করতে তেমন কষ্ট হবে না।

    সোমবার দিন আমরা সবাই ক্যামব্রিজে গেলাম। মিসেস রবার্টস আমাদেরকে চা-চক্রে দাওয়াত দিয়েছিলেন। বাবা পিয়ার্সনের সঙ্গে দেড়টার ট্রেনে রওয়ানা দিলেন। সেদিন ছিল ক্যামব্রিজে ডিগ্রি প্রদানের অনুষ্ঠান। কাজেই লোকে লোকারণ্য। এন্ডারসন আমাদেরকে নিতে স্টেশনে এলেন। তাঁর যথেষ্ট বয়স হয়েছে। ক্যামব্রিজে স্থান সংকুলান না হওয়ায় আমাদেরকে ব্লু বোর হোটেলে উঠতে হল। বাবা অধ্যাপক এন্ডারসনের সঙ্গে সারা সকাল বাংলা গীতিকবিতা আর তার সঙ্গে ফরাসি গীতিকবিতার তুলনামূলক আলোচনায় কাটালেন।

    অধ্যাপক লোয়েস ডিকিনসনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ হল। এর পর এলেন অধ্যাপক কেইনস। তাঁকে দেখে কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতির জাঁদরেল বিশেষজ্ঞ মনে হল না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ, মেধাবি, বেয়াড়া কোনো ছাত্রের মত লাগল। খ্যাতি বোধহয় তাঁকে বদলে দিতে পারেনি। কিংস কলেজে ডিকিনসনের একটি সুন্দর কক্ষ ছিল। এটি প্রাচ্যের রেশম ও চাইনিজ চিত্র দ্বারা সাজানো ছিল। তিনি নিশ্চয়ই প্রাচ্য ভ্রমণে এসে এগুলো সংগ্রহ করেছিলেন। কথাবার্তা হল রাজনীতি, প্রাচ্য ও আমেরিকায় ভ্রমণ, ভারতীয় ধর্মীয় সাহিত্য, চাইনিজ চিত্রকলা আর এরকম বিষয় নিয়ে। ডিকিনসন বললেন যে ভারতের দার্শনিক রচনাবলি পশ্চিমের পাঠকদের বোধগম্য ভাষায় আরও বেশি করে পাওয়া গেলে ভালো হতো। বাবা বললেন যে বেশির ভাগ অনুবাদকর্মই হয়েছে অত্যন্ত আনাড়িভাবে, এমন সব পণ্ডিতের দ্বারা যাদের লিখনশৈলী নিম্নমানের বা মূল রচনার ওপর যাদের ভালো দখল নেই।

    ২০ জুলাই

    রবিবার বিকেলে বাবা পিয়ার্সনের সঙ্গে পিটার্সফিল্ড চলে গেলেন। সেখানে ম্যুরহেড বোনদের সঙ্গে এক সপ্তাহ কাটাবেন। স্টার্জ মুরও কাছেই থাকেন। আমরা গেলাম না, কারণ ওখানে আমাদের সবার থাকার মত জায়গা হতো না।

    ওই বিকেলে আমরা মিস্টার ও মিসেস ইয়েটসের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। আমরা ঠিকানা জানতাম না, তবে রোটেনস্টাইনের নিকট শুনেছিলাম যে তাঁরা এজরা পাউন্ডের ফ্ল্যাটে থাকেন। কাজেই চার্চ ওয়াকে গেলাম, কিন্তু গিয়ে শুনলাম যে এজরা পাউন্ড সেখান থেকে চলে গিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল ইয়েটস দম্পতি আমরা যেখানে থাকি, অর্থাৎ চার্চ স্ট্রিটের খুব কাছেই থাকেন। রোটেনস্টাইনই তাঁদেরকে খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। সাক্ষাতের সময় তিনি কয়েক মিনিটের জন্য উপস্থিত ছিলেন। দেখলাম ইয়েটস-এর তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমেরিকায় বক্তৃতাদানের লম্বা সফর সেরে তাঁরা কেবল লন্ডন ফিরেছেন। তিনি বলেন যে বাবার সাম্প্রতিক দুটি গ্রন্থ, মাই রেমিনিসেন্স ও দ্য হোম অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড তাঁকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। পরের কবছর, বাবা যখন তাঁর সেরা লেখাগুলো লিখছেন এবং সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে সম্পৃক্ত হচ্ছেন, সে সময়কার কথা আত্মজীবনীটিতে থাকলে আরও ভালো হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি এও বললেন যে দ্য হোম অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড (ঘরে-বাইরে) যেন সমসাময়িক আয়ারল্যান্ডের প্রতিচ্ছবি। এ বইয়ে বর্ণিত প্রতিটি সমস্যাই তাঁর নিজের দেশের সঙ্গে মিলে যায়। তিনি জানতে চান বইটি নিয়ে ভারতে কেমন প্রতিক্রিয়া হয়েছে। কারণ তাঁর বিশ্বাস, আয়ারল্যান্ডের কোনো লেখক এরকম একটি বই লিখলে রীতিমত আলোড়ন পড়ে যেত।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় রোটেনস্টাইন আমাদেরকে তাঁর বাসায় নৈশভোজোত্তর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অনুরোধ করলেন। সেখানে দিলীপ রায় কয়েকটি ভারতীয় গান গাইলেন। ইয়েটস বাবাকে অনুরোধ করলেন গীতাঞ্জলি থেকে গাইতে। তিনি প্রথমে অভিজাত ভঙ্গিতে ইংরেজি থেকে পাঠ করলেন, তারপর বাবা বাংলায় গাইলেন।

    ২২ জুলাই

    স্যার হোরেস প্লাংকেটের বাসায় একটি ভিন্নধর্মী সাক্ষাৎকার ঘটল। পিয়ার্সন ও আমি বাবার সঙ্গে গিয়েছিলাম। আলাপের প্রায় পুরোটা জুড়েই ছিল আয়ারল্যান্ডে সমবায় আন্দোলন। স্যার হোরেস বাগ্মী ছিলেন না কিন্তু তাঁর প্রত্যেকটি কথাই ছিল অভিজ্ঞতা নিংড়ানো। তিনি প্রায় তিরিশ বছর আয়ারল্যান্ডের গ্রামীণ জীবন নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি আদর্শ দ্বারা পরিচালিত, আবার একই সঙ্গে বাস্তববাদীও। বড় কথা এই যে তিনি তাঁর অনেক স্বপ্নকেই সফল করতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন যে শুরুতে তাঁরা কিছু ভুল করেছিলেন। কিন্তু প্রত্যেকটি ব্যর্থতা থেকেই তাঁরা কিছু না কিছু শিখেছেন, যাতে করে সমস্যার মূল চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে যে নীতির ওপর ভিত্তি করে তাঁরা কাজ করেছেন তাতে কোনো খুঁত ছিল না। এ নিয়ে তাঁদের কোনো সন্দেহ ছিল না। এখন তিনি জানেন নতুন করে শুরু করতে হলে ঠিক কীভাবে এগুতে হবে আর কোন কোন বিষয় এড়িয়ে যেতে হবে। তিনি জানতেন যে আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম অংশের সঙ্গে ভারতের সাযুজ্য রয়েছে। তিনি খুব দুঃখ প্রকাশ করেন যে শরীর ভালো না থাকায় শিল্প সংক্রান্ত কমিশনের সঙ্গে ভারতে যেতে পারেননি। এর পর তিনি সহযোগিতার কয়েকটি মৌলিক দিকের উল্লেখ করেন, এবং বলেন যে, অন্য অনেক ক্ষেত্রের চেয়ে, এমনকি ধর্মের চেয়েও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মানবজাতির এক হওয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ বেশি।

    বাবা যখন বললেন যে আমাদের ডেনমার্ক যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, স্যার হোরেস জানালেন যে প্রথমে তাঁরাও ডেনমার্কে অনুসৃত পদ্ধতি অনুসারেই সমবায় আন্দোলন শুরু করেছিলেন। সেখানকার পরিবেশ সমবায়ের জন্য খুবই অনুকূল ছিল, ফলে খুব সহজেই তা সেখানে সাফল্য লাভ করেছিল। ঠিক এই কারণেই ভারতের উচিত হবে ডেনমার্কের বদলে আয়ারল্যান্ডের সমবায় আন্দোলন থেকে শিক্ষা নেয়া। আমরা তাহলে সমবায়ের সমস্যাগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারব। তিনি আরও বলেন যে স্থানীয় পারিপার্শ্বিকতা ভালোভাবে জানতে পারাটা খুব জরুরি। জনসাধারণের সত্যিকারের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে হবে,

    হবে, তারপর একেকবারে একেকটা বিষয় ধরে এগুতে হবে। এভাবেই কেবল সমবায় আন্দোলনে সাফল্য লাভ করা সম্ভব। শুরুর দিকে কোনো ব্যর্থতা দেখা দিলে মনোবল ভেঙে যাবে। তারপর তিনি বাবাকে আয়ারল্যান্ডে যাবার আমন্ত্রণ জানালেন, তবে সেটা তখনই নয়। অক্টোবর হতে পারে সেরা সময়। ততদিনে রাজনৈতিক অবস্থা পরিবর্তিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে বাবা লেডি কোর্টনির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেন। এখানে কনটেম্পোরারি রিভিউ-এর সম্পাদক মিস্টার গুচ এবং মিস্টার ও মিসেস সিডনি ওয়েব উপস্থিত ছিলেন। গুচকে বাবার খুব পছন্দ হল। ভারতের মিল মালিকগণ কর্তৃক শ্রমিকদের প্রতি আচরণ সম্পর্কে মিসেস ওয়েবের ধারণা ছিল খুবই সরলীকৃত। ফকির শ্রেণির প্রতিও তিনি ঘৃণার মনোভাব পোষণ করতেন। বাবা তীব্রভাবে দ্বিমত প্রকাশ করেন।

    ৪ আগস্ট

    জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ কেটে গেল ইউনিয়ন অব ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট-এর উদ্যোগে পাঁচটি নাট্যকাব্যের অভিনয় নিয়ে। এগুলো সম্প্রতি অনূদিত হয়েছে, তখনও প্রকাশিত হয়নি। একই উপলক্ষে ছিল বাবার বক্তৃতা, বিষয় ‘পল্লী বাংলার আধ্যাত্মিক গান। বাবা নাটকগুলোর রিহার্সালে সহায়তা করলেন, আমি আর প্রতিমা অংশ নিলাম অভিনেতাদের পোশাক নির্বাচনে। অভিনয়স্থল হিসেবে উইংমোর হলকে ঠিক করা হল। মঞ্চ বলতে তেমন কিছু সাজানো হয়নি, কেবল পটভূমিতে নীল পর্দা ঝুলানো, কয়েকটি লতাগুল্মের পাত্র স্থাপন আর গোটা দুই স্পট লাইটের ব্যবস্থা করা হল। কোনো ফুটলাইটের ব্যবস্থা করা হয়নি, তাতেই কিন্তু দারুণ লাগল। অভিনয়ও ভালো হয়েছিল। দুই নাটকের মাঝখানে সরোজিনী নাইডু কয়েক মিনিট বক্তৃতার মাধ্যমে নাটকগুলোর পরিচয় তুলে ধরলেন। বিরতির সময় এলিস কুমারা (মিসেস কুমারস্বামী) গান গাইলেন। কখনও কখনও একঘেয়ে লাগলেও, তার কণ্ঠ সবার প্রশংসা কুড়িয়েছিল। পর্দা পড়বার আগে বাবা ‘জনগণ-মন অধিনায়ক’ আবৃত্তি করলেন, বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায়। কচ ও দেবযানীর অভিনয় শুরুর আগে ছোট্ট একটি মূকাভিনয়ের মাধ্যমে প্রাচীনকালের আশ্রম দেখানো হল। বনের কুটিরে একদল শিষ্য তাঁদের গুরুকে ঘিরে বসে আছে আর কুটিরবাসী বালিকারা তাদের কলসি থেকে বাগানের গাছে পানি দিচ্ছে। দিনের পাট শেষ হয়ে আসার প্রাক্কালে গুরুমশাই সংস্কৃত শ্লোক আবৃত্তি করলেন। তারা যখন চলে যাচ্ছিল তখনি কচ আবির্ভূত হলেন আর দেখতে পেলেন যে দেবযানী ফুলের মালা গাঁথছে! এ দৃশ্যটুকুর মাধ্যমে বেশ চমৎকারভাবে নাটকের আবহ তৈরি হয়ে গেল : বাবাই এর প্রস্তাব করেছিলেন, আর অভিনয় করেছিলেন মুকুল দে, নিখিল চৌধুরী ও ক্লিংহফার বোনেরা। দুঃখের বিষয় যে দাশগুপ্ত মৌসুমের মূল সময়ে এর আয়োজন করতে পারেননি। এ অভিনয়ের আয়োজন হতে হতে বোকারা সব অন্যত্র চলে গিয়েছিল। কিন্তু তবু হল ভর্তি দর্শক হয়েছিল, এবং আমি বুঝতে পারছিলাম যে নাটকগুলো তাদের ভালো লাগছে। পরের দিন সন্ধ্যায় বাবা এই হলেই বক্তৃতা দিলেন। নাটকের চেয়েও বক্তৃতার টিকিট বেশি বিক্রয় হয়েছিল।

    কিছুদিন আগে রোটেনস্টাইনের ওখানে মিলে. ডি. আরানভির সঙ্গে বাবার দেখা হয়েছিল। সে সন্ধ্যায় রোটেনস্টাইন দিলীপ রায়কে হিন্দি গান গাইতে অনুরোধ করেন। বাবাও নিজের দুয়েকটি গান গাইলেন। এতে মিলে, ডি. আরানভি দারুণভাবে মোহিত হন এবং তিনি যে অনুষ্ঠানে বেহালা বাজাবেন সে অনুষ্ঠানে বাবাকে নিমন্ত্রণ করেন। তিনি বললেন যে বাবার সামনে বাজানোটা তাঁর অন্যতম স্বপ্ন। বাবা সেখানে গেলেন এবং অত্যন্ত আনন্দিত চিত্তে ফিরে এলেন। তিনি যে সম্মান দেখিয়েছিলেন তাতে বাবা অত্যন্ত খুশি হয়েছিলেন। সেদিন তিনি যতটা চমৎকার বাজিয়েছিলেন এমন আর আগে কখনও বাজাননি। বাবা বললেন যে এই প্রথমবারের মত তিনি পাশ্চাত্যের সংগীতকে সত্যি সত্যি উপভোগ করেছেন এবং পুরোপুরি বুঝতে পেরেছেন। তিনি একজন অতি বড়মাপের শিল্পী—কিন্তু সেরকম উৎসাহ পেলেই কেবল প্রতিভার পুরোটা ঢেলে বাজাতে পারেন। এবং সে সন্ধ্যায় তিনি সত্যিকারের উদ্দীপনা লাভ করেছিলেন। সহজ, মন খোলা, শিশুসুলভ এবং গভীর আধ্যাত্মিক বোধসম্পন্ন এই তরুণী শুধু শিল্পী হিসেবেই মহান ছিলেন না, মানুষ হিসেবেও দারুণ ছিলেন। রোটেনস্টাইন এবং বাবা উভয়েই তাঁর গুণগ্রাহী ছিলেন। রোটেনস্টাইন তাঁকে আরেক দিন তাঁর বাসায় বাজাতে বললেন। আমরা সবাই সেখানে গেলাম। কিন্তু সেদিন তিনি ক্লান্ত ছিলেন, কাজেই তাঁর বোনের সঙ্গে যুগলবন্দি বাজাতে চাইলেন। তাঁরা অত্যন্ত চমৎকার বাজালেন, কিন্তু বাবা বললেন যে সেদিনের মত অত ভালো হয়নি। তাঁর বোনের বিয়ে হয়েছিল মিস্টার ফাচিরি নামে এক গ্রিক ভদ্রলোকের সঙ্গে। এ দুবোনের বাড়ি হাঙ্গেরি, তাঁরা ছিলেন সুরকার জোয়াচিমের ভাগ্নি। পরের সপ্তাহে আমরা তাঁদের বাড়িতে চা খেতে গেলাম। তদ্দণ্ডেই তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠল। কোনো ভদ্রতার খোলস নেই; তাঁদের সঙ্গে মিশলে সঙ্গে সঙ্গেই মানবিক সম্পর্কের উষ্ণতা টের পাওয়া যেত। সেখানে অধ্যাপক টুবেও ছিলেন। তিনি বাখ ও হেডনের কয়েকটি সুর বাজালেন এবং আমাদেরকে ব্যাখ্যা করে বোঝালেন। তিনি বললেন যে বাবার কয়েকটি গান থেকে তাঁর মনে হয়েছে অন্য কোনো সুরকারের চেয়ে হেডনের সুর থেকে বাজানোই ভালো হবে। তারপর তারা সবাই মিলে (পিয়ানো, দুটি বেহালা আর সেল্লো দিয়ে) ব্রাহম-এর সুন্দর একটি সুর বাজালেন। এ দুই তরুণীর সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে আমরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করলাম।

    *

    ১. তৃতীয় আগা খাঁ, আগা সুলতান মুহম্মদ শাহ (১৮৭৭-১৯৫৭)

    ২. স্মরণীয়, কবির পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরও হাফিজের রচনার ভক্ত ছিলেন।

    ৩. লরেন্স অব অ্যারাবিয়া নামে খ্যাত থমাস এডওয়ার্ড লরেন্স। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের বিপক্ষে আরবদের সংগঠিত করেন। বুদ্ধিমত্তা, সাহস আর গেরিলাকৌশল দ্বারা মধ্যপ্রাচ্যে তুর্কিদের পরাজয় ত্বরান্বিত করেন। সংক্ষেপে টি. ই. লরেন্স নামে পরিচিত। তিনি এ উপমহাদেশেও বছরখানেক কাজ করেছিলেন। এ সাক্ষাৎকারের কয়েক বছর পর, ১৯২৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি করাচির কাছে একটি ঘাঁটিতে যোগ দেন। পরের বছর মে মাসে মীরানশাহে বদলি হন। নভেম্বর মাসে আফগানিস্তানের একটি উপজাতি বিদ্রোহ করলে এর সঙ্গে লরেন্সের নাম জড়িয়ে যায়। গোপন মিশন নিয়ে তিনি তীর্থযাত্রীর বেশে পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মর্মে বৃটেনের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় খবর বের হয়। সে খবর উপমহাদেশের পত্রিকায়ও প্রচারিত হয়। পরবর্তীতে সমালোচনা শুরু হলে এবং আফগান সরকার অস্বস্তি প্রকাশ করলে তাঁকে উপমহাদেশ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ১৯২৮ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি ভারতবর্ষ ত্যাগ করেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026

    আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ – রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }