প্যারিস ডায়েরি
প্যারিস, ৭ আগস্ট ১৯২০ ইয়াং ম্যান’স ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়াইএমসিএ) মিস্টার চ্যাটার্জি আমাদেরকে গ্র্যান্ড অপেরায় ‘ফাউস্ট’ দেখাতে নিয়ে গেলেন। বাবা এটা খুব উপভোগ করলেন। আমেরিকা বা লন্ডনে দেখা যেকোনো অপেরার চেয়ে এটা ভালো ছিল। খুব উঁচু মানের না হলে বাবা সাধারণত কোনো নাটক পছন্দ করেন না। আমরা নিশ্চিন্ত বোধ করলাম যে এর অভিনয় ও গান উভয়ই বাবার ভালো লেগেছে। কয়েকদিন আগে ‘দি বেগারস অপেরা’ দেখতে গিয়ে আমাদের তেতো অভিজ্ঞতা হয়েছিল। সবার কাছেই আমরা এ নাটকটির প্রশংসা শুনেছিলাম। কাজেই শচীন সেন যখন আমাদেরকে একটা নাটক দেখাতে চাইলেন আমরা নিজে থেকেই বেগার’স অপেরার নাম করলাম। বাবাও তা দেখতে চাইলেন। কিন্তু প্রথম দৃশ্যই আমাদের হতাশ করল। এর বিষয়বস্তু, পরিবেশনা, সংগীত— সবকিছুই আমাদের রুচির ওপর জুলুম মনে হচ্ছিল। এতে না ছিল কোনো রস, না ছিল কোনো সাহিত্যিক বা শৈল্পিক নিদর্শন। দ্বিতীয় দৃশ্যের পর বিরক্তিতে বাবার হাঁপ ধরে গেল। বাকি অংশ আর দেখতেই চাইলেন না। পিয়ার্সনকে নিয়ে বাইরে চলে গেলেন। শচীন কষ্ট পেতে পারে ভেবে আমরা থেকে গেলাম। বেচারির তো কোনো দোষ ছিল না। আমরাই তো এ নাটকটি দেখতে চেয়েছিলাম। শেষের দৃশ্যটি ছিল ভয়াবহ। বাবা থাকলে রাগে হয়ত চিৎকার করতেন। আমরা বুঝতে পারলাম না ইংরেজি সাহিত্যের সবচেয়ে ক্ষয়িষ্ণু যুগের এ অচল ও অশ্লীল জিনিস পুনরুজ্জীবনেরই বা কী দরকার ছিল, আর লোকজনই বা তা দেখার জন্য এমন পাগল হয়ে গেল কেন! এর কেবল একটাই ব্যাখ্যা হতে পারে। মহাযুদ্ধের পর জাতীয়তাবাদী জাগরণের ঢেউ উঠেছিল। উত্তম সংগীত, নাটক বা অপেরার ক্ষেত্রে বিদেশি জিনিসের ওপর নির্ভর করতে হয়—এটা বোধ হয় ইংরেজরা আর সহ্য করতে পারছিল না। কাজেই তারা তাদের দেশীয় অপেরা সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এটা মানোত্তীর্ণ হয়নি। এ দুর্বলতা ঢাকার জন্যই বুঝিবা তারা উঁচু গলায় এর প্রশংসা করছিল।
প্যারিস, ৮ আগস্ট ১৯২০
রোববার সকালে আমরা গেলাম অতুর দ্যু মঁদ-এর অতিথিশালায়। এটা প্যারিসের উপকণ্ঠে, বোয়া দ্য বুলোঁ পেরিয়ে, বুলো সুর সোহঁতে অবস্থিত। সুধীর রুদ্র আমাদের গাইড হিসেবে গেলেন। বাড়িটি আর তার চারপাশ ছিল মনোরম। বিশেষ করে হোটেলের বিষণ্ণ আর কোলাহলমুখর কক্ষে থাকার পর তা আরও বেশি ভালো লাগছিল। বাবা বললেন যে ভারত থেকে বের হবার পর এই প্রথম তিনি সুখ অনুভব করছেন। মনে হচ্ছে, তিনি বাড়ির পরিবেশ পেয়েছেন। তাঁর সচিব মিস্টার গার্নিয়ের আসেননি। কিন্তু কোনো অসুবিধা হয়নি। আমাদের দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত লরেন্স নিখুঁত ভদ্রলোক ছিলেন। আমাদের সুবিধা-অসুবিধার দিকে খুবই মনোযোগী ছিলেন। আমরা তাঁকে খুবই পছন্দ করতাম। বাড়িটির মালিক মঁসিয়ে কান পাশেই থাকতেন। তিনি অতুর দ্যু মঁদ এর সদস্যদের ব্যবহারের জন্য বাড়িটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। এর তিনতলায় দুটি শোবার ঘর ছিল। বিদেশ থেকে আগত সম্মানিত অতিথিগণ বা কানের নামে চালু করা ভ্রমণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা এখানে থাকতেন। দোতলায় ছিল সচিবের ঘর। আর ছিল একটি পাঠাগার যেখানে ভ্রমণসংক্রান্ত বইপত্র আর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের তথ্য পড়া যেত। নিচতলায় লাউঞ্জ, খাবার ঘর আর একটা সুন্দর পারিবারিক বৈঠকখানা, যেখান থেকে পিছনের বাগানে বের হওয়া যেত। বাগানটা ছিল অবাক করার মত। এটিরও মালিক ছিলেন মিস্টার কান, তবে রোববার দিন তা চক্রের সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হতো। আমরা সবসময়ই এটাতে ঘুরতে পারতাম।
পাহাড় আর উপত্যকার স্বাদ দিতে বাগানটির জমি কৃত্রিম উপায়ে উঁচুনিচু করে সাজানো হয়েছিল। টিলাগুলো ছিল পাইন আর ফার গাছে ঘন আচ্ছাদিত, আর মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছিল বড় বড় পাথর। আমি শুনেছি, গাছ আর পাথরগুলো পিরেনিজ পাহাড় থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। বনের একদিকে একটুখানি ফাঁক। সেটি ধরে এগিয়ে গেলে চোখে পড়ে উপত্যকা আর লিলিফুলে ভর্তি পুকুর। বাগানের অন্য অংশ থেকে এটিকে এমনভাবে আড়াল করে রাখা যে কেউ হাঁটতে হাঁটতে এখানে এসে উপস্থিত হলে বিস্মিত হয়ে যায়। বন পেরুলে ফরাসি রীতিতে লাগানো ফল আর ফুলের গাছ। ফলের গাছগুলো কেটে-ছেঁটে নানা আকার দেয়া হয়েছে। আর প্রতিটি ডাল জিভে জল আনা ফলের ভারে আনত। মধ্যখানে একটি কাচের ঘর। আরও দূরে আরেকটি ছোট পুকুর। নানান রঙের পাথর দিয়ে এর পাড় বাঁধানো।
এখানেই শেষ নয়। এর পর একটি মঙ্গোলিয়ান আদলের প্রবেশপথ যার মধ্য দিয়ে এগোলে চোখে পড়বে সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক এবং ছবির মত সাজানো- গোছানো জাপানি দৃশ্য। কয়েকটি প্রকৃত চা-ঘর, মন্দির ও বৌদ্ধমন্দির স্থাপন করা হয়েছে। গাছগুলোকে আঁকিয়ে-বাঁকিয়ে নানা রকমের অদ্ভুত আকার দেয়া হয়েছে। জাপান থেকে আনা হয়েছে পাত্রে জন্মানো ছোট ছোট গাছ, অর্থাৎ বনসাই। দেখে মনে হয় এগুলো বুঝি শত বছরের পুরনো। দুজন জাপানি চার বছর ধরে কাজ করে এটা তৈরি করে। বোঝাই যায় যে মনপ্রাণ ঢেলে তারা এটি করেছিল। কেননা, এমন একটি সুসজ্জিত বাগান খোদ জাপানেই প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হবে। তবে অতুর দ্যু মঁদ নামক সংগঠন, এই সুসজ্জিত বাড়ি, এই সুন্দর বাগান, এসবের চেয়েও বাড়ির মালিক তথা এসবের প্রতিষ্ঠাতা, মঁসিয়ে কান নিজে আরও আকর্ষণীয় ছিলেন। পেশায় ব্যাংকার অত্যন্ত ধনী এই ভদ্রলোক আন্তর্জাতিক আর্থিক জগতে সুপরিচিত। কিন্তু অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করেন। মাংস বা ওয়াইন ছুঁয়েও দেখেন না। সম্পদের বেশির ভাগই ব্যয় করেন জনসেবায়। তিনি একটি আন্তর্জাতিক বৃত্তি চালু করেছেন। প্রতি বছর কয়েক ডজন পণ্ডিত এ বৃত্তির অর্থে বিভিন্ন দেশ ঘুরে সেখানকার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ পর্যবেক্ষণ এবং সেগুলো সম্পর্কে গবেষণা করতে পারেন। এর পর তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা প্রতিবেদন আকারে জমা দেন। এছাড়া বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের জীবন, চারপাশের পরিবেশ, বিখ্যাত সৌধ ও স্থাপত্যকর্মের ভিডিওচিত্র ও রঙিন স্থিরচিত্র তোলার জন্যও তিনি কিছু লোককে নিয়োগ করেছেন। তিনি মনে করেন যে ছবি তোলা সম্পন্ন হলে তিনি যখন এগুলো একত্রে দেখবেন, তখন মানব জাতির লক্ষ্য ও পথরেখা বুঝতে সক্ষম হবেন। অবশ্য ঠিক কীভাবে তিনি এটা বুঝবেন তা আমার বোধগম্য হয়নি। তাঁর মন স্বপ্নে বিভোর। তিনি অধীর অপেক্ষায় বসে আছেন কখন কাজটি শেষ হবে এবং তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টানতে সক্ষম হবেন।[১] তিনি তাঁর দেশ নিয়েও অত্যন্ত আশাবাদী। তাঁর মতে পরপস্পরবিরোধী ভাবনাসমূহ থেকে একটি নির্যাস বের করে আনার ক্ষেত্রে ফ্রান্স অতুলনীয়।
প্যারিসের জীবন সহজ ও স্বাধীন। এর পথে পথে প্রলোভনের হাতছানি। কিন্তু যারা এসবের ওপরে উঠতে পারেন তাঁরা সত্যিকারের তেজস্বী। কেননা, প্ররোচনার ফাঁদে পা না দিয়ে তাঁরা আরও বেশি খাঁটি হয়ে উঠেছেন। মঁসিয়ে কান ইংরেজি বলতে পারেন, তবে কথা বলার সময় এত উত্তেজিত হয়ে যান যে তাঁকে শব্দ হাতড়ে ফিরতে হয়। যথাযথ শব্দ খুঁজে পেতে যত বিলম্ব হয়, তাঁর উত্তেজনা ততই বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে অঙ্গভঙ্গি করে বোঝাতে হয়। এক বিকেলে তিনি বাবাকে খুব গোপন একটা কথা বললেন। তিনি নাকি একমাত্র বার্গস ছাড়া আর কাউকে তা বলেননি। তিনি জানান যে একটা গোঁড়া ইহুদি পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর দাদা ছিলেন ইহুদি ধর্মযাজক, তাঁর নিজের নামও যাজকদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি যখন ভাগ্যের সন্ধানে প্যারিসে আসেন, স্বজাতি আর নিজ পরিবারের প্রথাও সঙ্গে বয়ে এনেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি যেমন একা একাই তাঁর ভাগ্য নির্মাণ করেছেন, তেমনি নিজে থেকেই পুনর্গঠন করেছেন তাঁর বিশ্বাসও। তাঁর প্রিয় সকলকিছুকে যুক্তির কষ্টিপাথরে বিচার করেছেন এবং একে একে সেগুলোর বেশির ভাগ পরিত্যাগ করেছেন। এর পরও এমন কিছু বিষয় রয়ে গেছে, যুক্তি যেগুলোর সরাসরি সমাধান দিতে পারেনি। কিছুটা ইতস্তত করে তিনি আরও বললেন, এক বিকেলে তিনি ফ্রান্সের মেতোঁ এলাকায় অবস্থিত তাঁর বাড়ির বাগানে হেঁটে বেড়াচ্ছিলেন। চারপাশে সুন্দরতম প্রাকৃতিক পরিবেশ। তিনি একসময় শুয়ে পড়লেন, আকাশের তারামণ্ডলী দেখতে দেখতে তাঁর মনে সেই চরম বাস্তবতার প্রশ্নটি এল। তখন হঠাৎ তিনি যেন পরম সত্যকে প্রত্যক্ষ করলেন, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এটা ছিল একটা আশ্চর্য অনুভূতি। তিনি এটা ব্যাখ্যা করে বোঝাতে পারবেন না, তবে তিনি জানেন যে তিনি এটা দেখতে পেয়েছেন।
কার্পেলে বোনদের সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই আমাদের দেখা হতো। সবচেয়ে ছোটটির নাম ছিল সুজান। সিলভাঁ লেভির এই ছাত্রীটিকে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ‘সরস্বতী’ উপাধি দিয়েছিল। চিত্রকর আঁদ্রে কার্পেলে প্রায় প্রতিদিনই আসতেন বাবার ছবি আঁকতে, আর সুজান আসত বাবার সাম্প্রতিক কবিতা অনুবাদে সহায়তা করতে। বাবা কবিতাগুলো ইংরেজিতে অনুবাদ করতেন, সুজান সেগুলো তার নোটবুকে টুকে নিত, তারপর নিজের ভাষায় রূপান্তরিত করত। তাদের ফ্ল্যাট ছিল অটিলে। অসাধারণ সব ভারতীয় শিল্পকর্মে তাদের বাসা পূর্ণ ছিল। এগুলো তারা ভারত থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছিল। তাদের ওখানেই আমরা মঁসিয়ে গলোবিউ, প্রফেসর ফিনো আর হার্ভার্ডের প্রফেসর জেমস উডস ও তাঁর স্ত্রীর সাক্ষাৎ পাই। মিস্টার গলোবিউ আর প্রফেসর ফিনো আসছে নভেম্বরে ইন্দোচীন যাবেন কম্বোডিয়ার প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কে গবেষণা করার জন্য। আমরা তাদের জানালাম যে ফেরার পথে সেখানে যেতে আমাদেরও লোভ হচ্ছে। মঁসিয়ে গলোবিউ আমাদেরকে যেকোনো এক বিকেলে গিমে জাদুঘরে যেতে বললেন। ১৪ আগস্ট শনিবার আমরা সেখানে গেলাম। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে কয়েকটি ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখালেন এবং বললেন যে এগুলোর কিছু ছবি ও স্লাইড শান্তিনিকেতনের আশ্রমের জন্য দিতে চান। আমি যেন পরবর্তী মঙ্গলবারে গিয়ে সেগুলো বাছাই করে আসি I
মঁসিয়ে সিলভাঁ লেভি এক সপ্তাহের মধ্যেই দুবার বাবার সঙ্গে দেখা করতে এলেন। তিনি অত্যন্ত সৌম্য ও সজ্জন। তাঁর ছাত্ররা তাঁর খুবই ভক্ত। তিনি বাবাকে পরবর্তী অক্টোবরে, যখন তিনি মহাদেশ সফর করে ফিরে আসবেন, সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিতে বললেন। বাবা লম্বা সময় ধরে তাঁর সঙ্গে কথা বললেন। বাবা মিস্টার লেভি, মিস্টার কান এবং অন্যদেরকে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে ভাব বিনিময়ের গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছিলেন। ভারতে আমরা কেবল ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পশ্চিমের সংস্কৃতির ছোঁয়া পাই। কিন্তু মূল মহাদেশীয় সংস্কৃতি থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রাচ্যের বর্তমান ভোগান্তির বড় কারণ এখানকার সংস্কৃতি প্রতীচ্যকে একেবারেই পরিত্যাগ করেছে। ক্রিশ্চিয়ান মূল্যবোধকে প্রত্যাখ্যান করে তার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাঁকে অবশ্যই প্রতীচ্যের আদর্শবাদ ও বিশ্বাসকেও সঙ্গে নিতে হবে, অন্যথায় ভয়ংকর ভবিষ্যতের মোকাবেলা করতে হবে। এ সমস্যার সমাধানকল্পে বাবা বিদ্বজ্জন বিনিময় অর্থাৎ একদেশের পণ্ডিতগণ অন্যদেশে যাবেন এ প্রস্তাব করেন।
আমাদের অতুর দ্যু মঁদ-এ পৌঁছুনোর দ্বিতীয় দিনে এলেন প্রফেসর লে ধ্রু। তিনি বাবার সকল রচনা পাঠ করেছেন এবং তাঁর একজন ভক্ত। তিনি দি গার্ডেনার ফরাসি ভাষায় ফরাসি ছন্দের রীতিতে অনুবাদ করেছেন। আরও অনুবাদ করতে চান। আরেকদিন তাঁর স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে এলেন। স্ত্রীটি একেবারেই তরুণী। তাঁদের মধ্যে বিবাহ-পূর্ব প্রেম ছিল। বাবার কবিতা এক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে। তাঁরা দুজনেই বাবার কবিতা ভালোবাসতেন, সেই সূত্রে পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। আমাদের শোনা এ ধরনের এটি দ্বিতীয় ঘটনা। একইভাবে নিজের ছাত্রীর সঙ্গে প্রফেসর ফুশের বিয়ে হয়েছিল। মাদাম ফুশে বাবার সাহিত্যকর্মের ওপর একটি গবেষণা প্রবন্ধ লিখছিলেন। তিনি শুনেছিলেন যে প্রফেসর ফুশে ভারত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। কাজেই তিনি নিজের লেখাটি তাঁকে দেখাতে নিয়ে গেলেন। এ সাক্ষাৎ শেষ পর্যন্ত বিয়ের বেদিতে গিয়ে ঠেকল!
বাবা তাঁর রচনার উপযুক্ত ফরাসি অনুবাদকের খোঁজ করছিলেন। যেকোনো কারণেই হোক এ পর্যন্ত তাঁর খুব বেশি লেখা ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়নি। সবাই আমাদের বলল যে এ বিষয়ে নুভে রেভ্যু ফ্রাঁস-ই হবে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান। তারাই গীতাঞ্জলি ও দি গার্ডেনার ফরাসিতে অনুবাদ করেছিল।
*
১. কানের এ প্রকল্পের নাম দ্য আরকাইভস অব দ্য প্লানেট। প্রায় ২২ বছর ধরে এর কার্যক্রম চলে। এর আওতায় মোট ৭৮,০০০ রঙিন ছবি এবং ১,৮৩,০০০ মিটার দীর্ঘ চলচ্চিত্র প্রস্তুত হয়। এগুলোর মধ্যে প্রায় ৫০টি দেশের ইতিহাস ধারণ করা আছে। রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি দুর্লভ রঙিন ছবিও তাঁর সংগ্রহে ছিল।
