ইতালি সফর
মুসোলিনির আমন্ত্রণক্রমে ১৯২৬ সালে আমরা ইতালি যাই। এ সফর ভারত ও অন্যান্য দেশে অনেক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করেছিল।[১] বাবা ঠিক করেছিলেন যে প্রফেসর মহলানবিশ ও তাঁর স্ত্রী বাবার সঙ্গী হবেন। একেবারে শেষ মুহূর্তে তিনি চাইলেন যে আমার স্ত্রী, কন্যা নন্দিতা আর আমিও যেন সঙ্গে যাই। কাজেই বেশ বড় একটা দলই তৈরি হল। শান্তিনিকেতনের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে ফরমিকি এক বছর কাজ করে গিয়েছিলেন। কাজেই তাঁকে আমরা খুব ভালো করে চিনতাম। তিনি মিশুকে ছিলেন এবং নেপলস-এ নেমে তাঁকে দেখে আমরা নিশ্চিন্ত বোধ করলাম। ভাবলাম বাঁচা গেল। সরকারিভাবে আয়োজিত সফরে যেসব হ্যাপা থাকে এবারে নিশ্চয়ই সেগুলো থাকবে না। কিন্তু একটি ঘটনা থেকেই ইঙ্গিত পেলাম যে সেটি হবার নয়। আমাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য লিওনার্দ কে. এলমহার্স্ট ইংল্যান্ড থেকে এসেছিলেন। আর্জেন্টিনা সফরের সময় তিনি বাবার সঙ্গে ছিলেন। সেখানে এই যুবকটি বাবার মন জয় করে নিয়েছিলেন। একদিন বাবা ঠাট্টা করে বললেন যে এলমহার্স্টের উচিত মুসোলিনির দলে যোগ দেয়া, কারণ একমাত্র একজন ইংরেজই তাঁকে শোধরাতে পারবে।
আমাদেরকে নেপলস থেকে রোম নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এলমহার্স্ট তাঁর জিনিসপত্র আনতে আর টিকিট কাটতে গেলেন। এই ফাঁকে ফরমিকি তড়িঘড়ি করে আমাদেরকে ট্রেনে তুলে ফেললেন। বাঁশি ফুঁ না দিয়ে বা কোনোরকম সঙ্কেত না দিয়ে ট্রেনটি চলতে শুরু করল। এলমহার্স্ট তখনও ফেরেননি। ট্রেনের গতি যখন বেশ বেড়ে গিয়েছে তিনি তখন দৌড়ে এসে লাফ দিয়ে কোনো রকমে ট্রেনে ঢুকতে পারলেন। এ ঘটনা থেকেই বোঝা গিয়েছিল যে তাঁর উপস্থিতিকে কর্তৃপক্ষ সহজভাবে নেবে না। এলমহার্স্ট নিজেও সেটা বুঝতে পেরেছিলেন। ফলে কয়েকদিন পরেই তিনি চলে যান। বলার অপেক্ষা রাখে না যে বাবা ইতালির যেখানেই গিয়েছিলেন সেখানেই অসাধারণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন। সে সময়কার পত্রিকায় চোখ বুলালেই তা জানা যাবে। তবে কিছু কিছু ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এখনও কেউ তেমনভাবে জানে না। সেগুলোর কথা বলা যেতে পারে।
বাবা তখন রোমে। কয়েকজন সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর সম্মানে প্রদত্ত বক্তৃতাসমূহের উত্তরেও কিছু কিছু কথা বলেছেন। মহলানবিশ আর আমার কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছিল যে বাবার বক্তব্য পত্রিকায় ঠিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে না। আমাদের বন্ধু আঁদ্রে কার্পেলে ইতোমধ্যে এক সুইডিশ ভদ্রলোককে বিয়ে করেছিলেন। তিনিও স্বামীসহ রোমে এসেছিলেন। কিছুটা বাবার সঙ্গে দেখা করা আর কিছুটা তাঁর বরকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য। আঁদ্রে ইতালিয়ান ভাষা জানতেন। তিনি পত্রিকা পড়ে বললেন যে আমরা ঠিকই সন্দেহ করেছি। আমরা ইতালিয়ান শেখার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তার ওপর নির্ভর না করে বাবার বক্তব্য অনুবাদ করে দেয়ার জন্য একজন অস্ট্রিয়ান মহিলাকে রাখা হল। তিনি ইংরেজি ও ইতালিয়ান উভয় ভাষা জানতেন। কিন্তু তাঁর অনুবাদ খাঁটি ছিল না। পরে জেনেছিলাম যে তিনি একজন সুপরিচিত আন্তর্জাতিক গুপ্তচর, মুসোলিনি সরকার তাঁকে মাইনে দিত।
কাকতালীয়ভাবে রোম বাবার বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের মিলনক্ষেত্র হয়ে দাঁড়াল। লিওনার্দ এলমহার্স্ট, আঁদ্রে কার্পেলে আর তাঁর স্বামী দাল হগমান তো এসেছিলেনই; আমাদের অবাক ও আনন্দিত করে আরও এলেন মিসেস ভন মুডি। পাশাপাশি এদের অনেক বন্ধু-বান্ধবও আমরা যেখানে ছিলাম, অর্থাৎ গ্র্যান্ড হোটেলে ভিড় জমালেন। পরিচিতজনদের পেয়ে বাবা অত্যন্ত খুশি হলেন। রোমে আমাদের এই গ্রীষ্মকালীন সফরে কখনোই সঙ্গীর কোনো অভাব হয়নি। মিসেস মুডি বললেন যে ইতালির দার্শনিক বেনেদেত্তো ক্রোচের সঙ্গে মোলাকাত না করে বাবার রোম ছাড়া উচিত হবে না। বাবাও তা চাইছিলেন, কিন্তু কীভাবে তা সম্ভব বুঝতে পারছিলেন না। তাঁর সঙ্গে বাবার পূর্ব পরিচয় ছিল না, আর তিনি কোথায় থাকেন সেটাও আমরা জানতাম না। প্রফেসর ফরমিকি এ ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ দেখালেন না। মিসেস মুডি ইতালিয়ান সেনাবাহিনীর এক তরুণ কর্মকর্তাকে নিয়ে এলেন। ক্রোচের সঙ্গে তাঁর ভালো জানাশোনা ছিল। তিনি তাঁকে গোপনে নিয়ে আসার প্রস্তাব করলেন। বললেন, কেউ ব্যাপারটা জানতে পারবে না।
এই সেনা কর্মকর্তাটির আনুগত্য ছিল রাজার দিকে এবং সে অন্তত একবারের জন্য হলেও মুসোলিনির চোখে ঘুষি মারার ইচ্ছা পোষণ করত। বাবা তাকে তাড়াহুড়ো করতে মানা করলেন। বললেন যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে তিনি নিজেই খোদ ‘দুচি’ অর্থাৎ নেতাকেই বলবেন। মুসোলিনির সঙ্গে দেখা হলে বাবা সে অনুরোধই করলেন। তিনি সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে ফরমিকিকে তৎক্ষণাৎ আদেশ দিলেন। অনুমতি পাওয়ার পর এবার প্রশ্ন দাঁড়াল কীভাবে মুসোলিনির চরদের এড়িয়ে বাবা ও ক্রোচে মুক্তভাবে কথাবার্তা বলবেন। সেই সেনা কর্মকর্তাটি আবারও সাহায্যের প্রস্তাব করলেন। তিনি নেপোলি চলে গেলেন এবং পরের দিন ভোর পাঁচটায় ক্রোচেকে বাবার কাছে নিয়ে এলেন। তখনও কেউ ঘুম থেকেই জাগেনি। তাঁরা দুজন বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে কথা বলতে পারলেন। ফরমিকি যখন এলেন তখন তাঁরা নাস্তা করছেন। আমি করিডোরে পাহারা দিচ্ছিলাম। তাঁকে জানালাম যে বাবা ভিতরে ক্রোচের সঙ্গে ব্যস্ত আছেন, তখন তাঁর দাঁত কিড়মিড়ানি দেখে কে! পারলে বুঝি মাথার চুলও ছিঁড়তে লেগে যান।
আমি ঠিক জানি না এ দুই মহাপুরুষ কী নিয়ে এত দীর্ঘ সময় কথা বলেছিলেন! আমি, আমরা কেউই উপস্থিত ছিলাম না। কিন্তু বাবা যে অত্যন্ত প্রীত হয়েছিলেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় এর পরপরই ডিউক স্কত্তিকে লেখা তাঁর এ চিঠিটা থেকে:
একটু সমস্যা হলেও শেষ পর্যন্ত আপনাদের মহান দার্শনিক ক্রোচের একনজর সাক্ষাৎ লাভে সক্ষম হয়েছি। মুক্তচিন্তার বীরদের সঙ্গে আলাপ করতে পারাটা সবসময়ই আমাকে আনন্দ দেয়। ইউরোপে এলেই আমরা চিন্তার স্বাধীনতা আর সৃজনশীলতা থেকে প্রেরণা পেতে চাই, আপনাদের ক্রীড়াবিদীয় দক্ষতার ঝলকানিতে হতচকিত হতে এখানে আসি না। এই বস্তুটি মনে হয় সম্প্রতি আপনারা ধার করেছেন আমেরিকা থেকে, যে মহাদেশটি বিশ্বাস করে যে মোটা হওয়া মানেই বড় হওয়া, এবং সে কারণেই আদর্শবাদ আর সত্যের অবাধ প্রকাশকে ভয় করে।
আগের বছর, ১৯২৫ সালে, আমরা যখন প্রথমবার ইতালি আসি, ডিউক স্কত্তিই আমাদেরকে মিলানে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। ইতালির একটি প্রাচীন ও মহান পরিবারের সদস্য স্কত্তি ছিলেন সত্যিকারের অভিজাত এবং সুপণ্ডিত। তাঁর উদ্যোগেই মিলানে ‘‘সার্কেলো ফিললজিকো মিলানিজ’ স্থাপিত হয়েছিল। সকলেই তাঁকে ভালোবাসত ও সম্মান করত। কিন্তু মিলানের লোকদের ওপর তাঁর এই প্রভাবকে মুসোলিনি ভালোভাবে নেননি। যদিও এ শহর থেকেই ফ্যাসিবাদী বিপ্লবের শুরু এবং এখান থেকেই মুসোলিনি দলবল নিয়ে দক্ষিণের দিকে মার্চ করেছিলেন, উত্তরের লোকেরা কখনোই তাঁর খুব অনুরক্ত হয়নি। শীঘ্রই আমরা জানতে পারলাম যে আমরা যে হোটেলে থাকি সেই হোটেল ক্যাভার-এ মুসোলিনি তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপপত্নীকে পাঠিয়েছেন। বাবা ও স্কত্তির মেলামেশার ওপর নজর রাখার জন্য মুসোলিনি এটা করেছিলেন। সে সফরে ডিউক এবং অন্য যে ইতালীয়র সঙ্গেই আমরা মিশেছি সবাই সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। কিন্তু এবার, ১৯২৬ সালে এসে কিন্তু দেখলাম অবস্থা বদলে গেছে।
ফ্যাসিস্টরা উত্তরের ওপর তাদের মুঠি পাকাপোক্ত করেছে, লোকেরা সন্ত্রস্ত এবং মনের ভাব বাইরে প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক। ডিউক নিজেও বদলে গেছেন। একবার এসে কেবল ভদ্রতাসূচক দেখা করে গেলেন। আমরা বুঝতে পারছিলাম এ রকম নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তাঁর মত একজন মানুষের জন্য কতটা বেদনাদায়ক। বাবা যেন তাঁকে ভুল না বোঝেন সেজন্য তিনি তাঁর এক নিকটাত্মীয়া, রাজার বোনকে গোপনে তুরিনে বাবার কাছে পাঠান। কেবল তাঁর আচরণের কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য কিংবা ফ্যাসিস্টদের অধীনে তাঁদের পরিবার কিরূপ নিগৃহীত হচ্ছে সেটা জানাতেই তিনি তাঁকে পাঠাননি, বরং বাবার কাছে কিছু কাগজপত্র দিতে পাঠিয়েছিলেন। যেসব বুদ্ধিজীবী ফ্যাসিস্ট মতাদর্শের কাছে তাঁদের আত্মা বিকিয়ে দেননি তাঁদের উপর কী বর্বর নির্যাতন চালানো হচ্ছে তার কিছু প্রমাণ ঐসব কাগজে লিপিবদ্ধ ছিল। বাবার সফর নিয়ে ফ্যাসিস্টরা যে মিথ্যা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিল সেটাও আমাদের ভালো লাগেনি। আমরা মুসোলিনির পাণ্ডাদের অত্যাচার সম্পর্কে কানাঘুষা শুনেছিলাম। ডিউকের পাঠানো কাগজপত্রে প্রমাণ পাওয়া গেল যে, আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হওয়া সুখ আর সমৃদ্ধির পুরোটাই সত্যি নয়। আড়ালে অন্যসব ব্যাপারও আছে। কিন্তু বাবা যে মুসোলিনির শাসনের ভক্ত নন তা প্রকাশ করতে পারছিলেন না। অন্তত যতদিন ইতালিতে ছিলেন ততদিন তো নয়ই। কাজেই তিনি সুইজারল্যান্ডে যাবার জন্য ব্যগ্র হয়ে গেলেন। সেখানে একটি মুক্ত পরিবেশ পাওয়া যাবে, যেখানে তিনি মনের কথা খুলে বলতে পারবেন। ততদিনে লেক জেনেভার তীরে ভিলেনুয়েভ নামক রিসর্টে রম্যাঁ রল্যাঁ স্থায়ীভাবে আস্তানা গেড়েছেন। আমরা সেখানে যাওয়া স্থির করলাম। কিন্তু ভেনিস ও তুরিন সফর তখনও বাকি ছিল। এ দুই শহরের লোকেরা খুব করে ধরেছিল যেন বাবা তাদের ওখানে যান। চিঠি, টেলিগ্রাম আর প্রতিনিধির মাধ্যমে নিমন্ত্রণের পর নিমন্ত্রণ পাঠানো হচ্ছিল। ভেনিসের আলাদা একটা আবেদন ছিল, আর তুরিন তো সুইজারল্যান্ড যাবার পথেই পড়বে। শেষ পর্যন্ত আমরা ওই দুই শহরে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম।
প্রথমে গেলাম ভেনিস। শহরের নগরাধিপতি এবং নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বাবাকে যেভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় অভ্যর্থনা জানালেন তাতে আমরা মুগ্ধ ও প্রীত হলাম। ভেনিস তখনও তার পুরনো কায়দা ও কেতা ধরে রেখেছে। প্রাচীন নগরী ডুজেস-এ মধ্যযুগে কোনো রাজন্য এলে যে ধরনের অভ্যর্থনা দেয়া হতো, আমাদেরকে সেভাবেই স্বাগত জানানো হলো। হোটেলে যাবার পথে একটু ধাক্কা খেলাম। রঙিন কাপড়চোপড় পরিহিত এ সকল অভিজাত ব্যক্তি মোটরচালিত নৌকার বহরে চড়ে হোটেলের পথে আমাদের সঙ্গী হয়েছিলেন। তাদের আধুনিকত্ব প্রকাশ করার জন্যই বুঝিবা নৌকাগুলো তারস্বরে সাইরেন বাজাচ্ছিল। বাবা যখন বিভিন্ন প্রতিনিধিকে সাক্ষাৎ দিতেন আর অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতেন, আমরা তুলনামূলক কম বয়স্করা চুপি চুপি বেরিয়ে পড়তাম শহর দেখতে। গন্ডোলা নামক বিশেষ ধরনের নৌকায় চড়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে জালের মত বিস্তৃত খালে ঘোরাঘুরি করতে করতে শহরজীবন দেখতাম। কখনও কখনও চোখে পড়ত প্রাচীন কোনো নিদর্শন।
আমরা গ্র্যান্ড ক্যানেলে কখনও যাইনি, কারণ পর্যটকদের ভিড়ে এর আসল চরিত্র হারিয়ে গিয়েছিল। আমার স্ত্রীর কাছে আমাদের অভিজ্ঞতা, বিশেষত সরকারি লোকদের অযাচিত সঙ্গ এড়িয়ে ঘোরাঘুরি করতে পারার কথা শুনে বাবা দুঃখ করলেন। বললেন যে অবিবেচক স্বার্থপরের মত আমরা তাঁকে এ আনন্দ থেকে বঞ্চিত করেছি। তাঁর বকা শুনে পরদিন খুব সকালে একটা গন্ডোলা ভাড়া করে ফেললাম, আর কেউ জানতে পারার আগেই বাবাকে নিয়ে চুপি চুপি খালে খালে ঘুরতে বেরিয়ে গেলাম। বিদেশ সফরে গেলে বাবার কোনো গোপনীয়তা থাকত না। সত্যি বলতে কি ভারতেও তিনি তা খুব একটা পেতেন না। আমরা যখন গ্র্যান্ড হোটেলে ফিরলাম তখন সেখানে রীতিমত তোলপাড় চলছে। সকল কর্মচারীকে জমায়েত করে ম্যানেজার কৈফিয়ত তলব করছেন যে কবি কীভাবে ও কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেলেন! আমাদের খোঁজে নানা জায়গায় ফোন করা হচ্ছিল। পুলিশকেও বলা হয়েছিল প্যাট্রল পার্টি বের করে আমাদের সন্ধান করতে। সবচেয়ে আমুদে ছিল প্রফেসর ফরমিকির ব্যবহার। তিনি যেভাবে হোটেলের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে দৌড়াদৌড়ি আর হতাশার ভঙ্গি করছিলেন তা বুঝি কেবল একজন ইতালিয়ানের পক্ষেই সম্ভব। দেখা গেল নাস্তার টেবিলে সুস্বাদু গরম ওমলেট খেতে খেতেও তাঁর গজরানি চলছে।
*
১. অভিযোগ আছে যে রবীন্দ্রনাথ ইতালির একনায়ক মুসোলিনির প্রশংসা করেছিলেন। অনেকেই এটাকে নেতিবাচকভাবে নিয়েছেন। ভুল বোঝাবুঝি বলতে রথীন্দ্রনাথ হয়ত সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
