Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমার সাইন্টিস মামা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প159 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৬. পরদিন ভোরবেলা

    ০৬.

    পরদিন ভোরবেলা ঘুম পুরোপুরি ভাঙার আগেই মামা বলল, “আজকে তোর তিনটা কাজ।”

    আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কী কাজ?”

    মামা বলল, “রেডি হয়ে নে, তারপর বলব।”

    কাজেই আমি রেডি হতে শুরু করলাম। সকাল ঘুম থেকে উঠে রেডি হওয়ার প্রথম অংশটা হচ্ছে বাথরুম করা। বাসায় আমি শান্তিতে বাথরুম করতে পারি না। বাথরুমে ঢুকলেই আপু দরজা ধাক্কা দিয়ে বলতে থাকে, কী হলো টোপন? এতোক্ষণ লাগে? ঘুমিয়ে গেছিস নাকি? আর কত? বের হ। তাড়াতাড়ি।

    এখানে আপু নাই, কিন্তু বাথরুমও নাই। (মাইক্রোবাসের ভিতরে যেটা আছে সেটা নাকি শুধুমাত্র সুপার ইমার্জেন্সির সময় ব্যবহার হবে। কাজেই আমাকে একটা “ইয়ে হাতে নিয়ে গভীর জঙ্গলের ভিতর ঢুকে যেতে হলো। শুধু তাই না পরিবেশ রক্ষা করার জন্য মামা আমার হাতে একটা ছোট খুরপি দিল, কি বেইজ্জতি ব্যাপার। কেউ যদি দেখে ফেলে কী সর্বনাশ হবে!

    যাই হোক বাথরুমের পর খুবই অল্প পানি দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে আমরা নাস্তা করতে বসলাম। মামা পাউরুটির সাইসের উপর জেলির মতো চেপা ভর্তা লাগিয়ে সেটা মহা আনন্দে খেতে লাগল। আমি শুকনো রুটি চিবিয়ে চিবিয়ে যখন অর্ধেক স্লাইস খেয়ে শেষ করেছি মামা ততক্ষণে চার সুইস খেয়ে ফেলেছে। আমাকে দেখে মামার মনে হলো একটু মায়া হলো, বলল, “দাঁড়া চা বানিয়ে দিই। চাতে ভিজিয়ে ভিজিয়ে খা, ভালো লাগবে।”

    মামা তারপর আলকাতরার মতো কুচকুচে কালো চা বানিয়ে দিল। সেই চা তিতকুটে এবং বিস্বাদ, আমার মনে হয় ইঁদুর মারার বিষ খেতে এর থেকে ভালো। পাউরুটি ভিজিয়ে ভিজিয়ে খাওয়ার পর আমার মনে হলো পাউরুটির স্লাইসটা পেটের ভিতর কোন জায়গা থেকে কোন জায়গায় যাচ্ছে। সেটাও বাইরে থেকে বলে দেওয়া যাবে।

    মামা খুব তৃপ্তি করে তার আলকাতরার মতো চা খেয়ে শেষ করে বলল, “ব্রেকফাস্টের সময় একটা ফল খাওয়া ভালো।”

    আমি আশা নিয়ে বললাম, “কোনো ফল আছে, মামা?”

    মামা বলল, “দেখি।” তারপর খুঁজে খুঁজে একটা ঝুড়ির ভেতর থেকে। কয়েকটা কলা বের করল। আমি এর আগে কখনো এরকম কুচকুচে কালো কলা দেখি নাই। মামাকে অবশ্যি সেইজন্যে খুব বেশি চিন্তিত দেখা গেল না, কলা ছিলতে ছিলতে বলল, “এর শুধু ছিলকেটা অক্সিডাইজড হওয়ার কারণে কালো হয়ে গেছে। ভিতরে ঠিক আছে।”

    আমার অবশ্য ভিতরটাকেও বেশি ঠিক মনে হলো না কেমন যেন ক্যাতক্যাতা নরম। তবে মামাকে খুশি করার জন্য সেটা খেয়ে ফেললাম।

    মামা দ্বিতীয় কাপ আলকাতরার মতো চা নিয়ে সেটা খেতে খেতে বলল, “টোপন, তোকে বলেছি আজকে তোর তিনটা কাজ।”

    আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কী কী কাজ?”

    “দুইটা রিসার্চ আর একটা ম্যানেজমেন্ট।”

    আমি বাকিটা শোনার জন্য মামার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মামা বলল, “ম্যানেজমেন্টের কাজ হচ্ছে কাছাকাছি গ্রামের একটা দোকান খুঁজে বের করে ডেইলি সাপ্লাই কিনে আনা।”

    “ডেইলি সাপ্লাই কী, মামা?”

    “আমি যদি সেটা জানতাম তাহলে তোকে এসিস্টেন্ট বানালাম কী জন্য? তুই দেখ কী কী লাগবে। পারবি না?”

    আমি একটু আঁ উঁ করে বললাম “পারব।”

    “গুড। আর রিসার্চের কাজের প্রথমটা হচ্ছে একটা গাইগার কাউন্টার নিয়ে এই পুরো এলাকাটার ম্যাপিং করা।”

    আমি মাথা চুলকে বললাম, “গাইগার কাউন্টার কী?”

    “গাইগার কাউন্টার হচ্ছে এক ধরনের রেডিয়েশন মনিটর। কোথাও রেডিও একটিভিটি কিছু থাকলে সেটা সিগনাল দেয়।”

    “কী রকম সিগনাল?”

    “আমার কাছে যেটা আছে সেটা কট কট শব্দ করে। সেটা নিয়ে পুরো এলাকাটা চষে ফেলবি। দেখবি কোথাও বেশি রেডিও একটিভিটি আছে কি নেই।”

    “কেমন করে বুঝব কোথায় বেশি কোথায় কম?”

    “খুবই সোজা, বেশি রেডিও একটিভিটি হলে বেশি কটকট করবে কম হলে কম করবে।”

    “যন্ত্রটা কতো বড় মামা?”

    “দাঁড়া তোকে দেখাই।” বলে মামা ভেতরে একটা বাক্স খুলে একটা ছোট যন্ত্র বের করে আনল। একটা টিউবের মতো অংশের পেছনে একটা হাত দিয়ে ধরার জন্য তার উপরে একটা হ্যাঁন্ডেল। চারকোণা উপরে একটা পুরানা আমলের কাটাওয়ালা মিটার লাগানো। দেখে মনে হয় কেউ ঘরে বসে এটা তৈরি করেছে। একটা সস্তা মোবাইল ফোন পর্যন্ত এর থেকে বেশি মডার্ন। এররকম মান্ধাতা আমলের একটা যন্ত্র হাতে নিয়ে ঘুরতে হবে চিন্তা করে আমার একটু মন খারাপ হলো।

    যন্ত্রটার নিচে একটা সুইচ ছিল, মামা সেটা অন করল, তখন যন্ত্রটা কট কট শব্দ করতে লাগল। আমি বললাম, “শব্দ করছে কেন? এইখানে তো কোনো রেডিওএকটিভ কিছু নাই।”

    “আছে।” মামা বলল, “সব জায়গায় থাকে। আকাশ থেকে হাই এনার্জি মিউডন আসে। কসমিক রে আসে।”

    আমি ভয়ে ভয়ে ছিলাম যে মামা হয়তো এক্ষুণি মিউডন জিনিসটা কী আর কসমিক রে কেমন করে আসে সেটা ব্যাখ্যা করা শুরু করে দেবে। কপাল ভালো সেটা শুরু করে দিল না। বলল, “তোর কাজ হচ্ছে এটা নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখা, কোথাও বেশি কট কট করে কি না।”

    আমি জিজ্ঞেস করলাম, “যদি করে তাহলে কী করব?”

    “জায়গাটা চিনে রাখবি। পরে আমি ভালো করে দেখতে যাব। বুঝেছিস?”

    “বুঝেছি।” আমি যন্ত্রটা হাতে নিয়ে বললাম, “এটার নামটা ফানি। গাইগার কাউন্টার। কী আজিব।”

    মামা বলল, “এর মাঝে তুই আজিব কী দেখলি? যে সায়েন্টিস্ট এটা বানিয়েছে তার নাম ছিল গাইগার।”

    আমি বললাম, “টাইগার শুনেছি, গাইগার কখনো শুনি নাই। বাপ মা আরেকটু ভালো একটা নাম দিলেই পারতো।”

    “গাইগারের বাবা মায়ের সাথে দেখা হলে সেটা নিয়ে তাদের সাথে তর্ক করিস। এখন বের হবার জন্য রেডি হয়ে নে।”

    “কিন্তু তিন নম্বর কাজটা কী সেইটা বললে না?”

    “সেটা হচ্ছে সেম্পল নিয়ে আসা।”

    “সেম্পল? মানে মাটি, পানি, গাছ, পাতা, মাছ।”

    “না, না। এতো কিছু না, শুধু মাটি। আমি সবার সামনে গাছ, পাতা, পানি নিয়ে কথা বলেছিলাম যেন মনে করে আসলেই পরিবেশ দূষণ নিয়ে কাজ করছি।”

    “কোথা থেকে মাটি আনব?”

    “পাঁচশ মিটার পর পর। ল্যাটিচ্যুড লঙ্গিচ্যুড জানতে হবে। জিপিএসটা নিয়ে যাবি।”

    জিপিএসটা কী ঠিক বুঝি নাই কিন্তু জিজ্ঞেস করার সাহস হলো না। তাহলে মামা পুরো জিনিসটা বোঝাতে বোঝাতে মাথা খারাপ করে দেবে। যেটুকু দরকার মামা নিজেই নিশ্চয়ই বলে দেবে।

    হলোও তাই, ঠিক যখন বের হব তখন কী কী করতে হবে মামা গুছিয়ে শুধু বলে দিল, একটা নোট বইয়ে লিখেও দিল। মামা যে আসলেই সায়েন্টিস্ট সেটা তার লেখা থেকে বোঝা যায়। মুখে যখন কথা বলে তখন একশটা কথা বলে। লেখার সময় দরকারি কথা ছাড়া একটা বাড়তি কথা লিখে না।

    একটু পরেই আমি বের হওয়ার জন্য রেডি হলাম। এক হাতে গাইগার কাউন্টার রেডিওএকটিভিটি মাপার জন্য আরেক হাতে লম্বা একটা লাঠি (কেন আমি জানি না), মাথায় বেস বল ক্যাম্প, (রোদ থেকে বাঁচার জন্য।), পিঠে ব্যাকপেক (ডেইলি সাপ্লাই আনার জন্য), পায়ে টেনিস সু (কাদা মাটি থেকে পা বাঁচানোর জন্য), পকেটে মানি ব্যাগ (ডেইলি সাপ্লাই কেনার জন্য)। যে কেউ আমাকে দেখলে মোটামুটি অবাক হয়ে যাবে। ক্যামেরা থাকলে আপুকে দেখানোর জন্য আর আমার ক্লাসের হিংসুটে ছেলেগুলোকে দেখানোর জন্য একটা ফটো তুলে রাখা যেতো। কিন্তু আফসোস সাথে ক্যামেরা নেই।

    আমি হাঁটতে হাঁটতে একটু চিন্তা করলাম। আমাকে যে কাজগুলো করতে হবে তার একটা হচ্ছে একটা দোকান খুঁজে বের করে সেখান থেকে ডেইলি সাপ্লাই কিনে আনা। এই কাজটা ভালো করে করা যাবে যদি মাহবুবকে সাথে নিয়ে যাই। আরেকটা কাজ হচ্ছে কয়েক কেজি করে মাটি তুলে আনা, সেই কাজটাও ভালো করে করা যাবে যদি সাথে মাহবুব, ডোরিন আর টনি থাকে। সবাই মিলে এক সাথে অনেক মাটি আনা যাবে। আমি একা একা যে কাজটা করতে পারব সেটা হচ্ছে গাইগার কাউন্টার দিয়ে এলাকাটা চষে ফেলা। কাজেই আপাতত আমি সেটাই করি। মাহবুব বলেছে সে দশটার দিকে আসবে, এখন বাজে আটটা। তার মানে আমার হাতে দুই ঘণ্টা সময়। দুই ঘণ্টা অনেক সময়, ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটার করে হাঁটলে আমি দশ কিলোমিটার হেঁটে ফেলতে পারব।

    তাই আমি বুকে ফুঁ দিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম। আমার হাতের গাইগার কাউন্টারটা মাঝে মাঝে কট কট শব্দ করতে লাগল। কোথাও যদি শব্দ বেশি হয় তাহলে আমাকে সেই জায়গাটা চিনে রাখতে হবে। আশা করতে লাগলাম যে কোনো সময় কট কট শব্দটা অনেক বেড়ে যাবে এবং সেই জায়গাটা মামাকে দেখিয়ে অবাক করে দেব।

    আমি টানা আধঘণ্টা হেঁটে গেলাম কিন্তু গাইগার কাউন্টার শব্দ এতটুকু বাড়ল না। আমি আস্তে আস্তে অনুমান করতে শুরু করলাম যে গাইগার কাউন্টারে কট কট শব্দ বেড়ে যাওয়ার কোনো চান্স নেই, বিষয়টা নিশ্চয়ই গুপ্তধন পাওয়ার মতন। আসলে তো আর কেউ সত্যি সত্যি গুপ্তধন খুঁজে পায় না শুধু এর গল্প শোনা যায়, আমারও সেই অবস্থা আমি খালি খুঁজে বেড়াব। কে জানে মামা হয়তো সেটা আগে থেকেই জানে, আমাকে ব্যস্ত রাখার জন্য কোনো একটা ফালতু যন্ত্র আমার হাতে দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে। এটা হয়তো আসলে গাইগার কাউন্টারই না, অন্য কিছু। কিংবা কে জানে আসলে হয়তো গাইগার কাউন্টার বলে পৃথিবীতে কিছু নাই, মামা বানিয়ে বানিয়ে কিছু একটা বলে আমাকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে। পরে যখন বাসায় যাব তখন আমাকে কীভাবে বোকা বানিয়েছে সেটা নিয়ে সবার সাথে গল্প করে হাসাহাসি করবে। মামার অসাধ্য কিছু নাই।

    যাই হোক, এখন সেটা নিয়ে কিছু করার নেই। হাঁটতে যখন বের হয়েছি তখন হেঁটেই যাই। কাজেই আমি হাঁটতে থাকলাম। হাতের গাইগার কাউন্টারটা শুরুতে হালকাই ছিল, কিন্তু যতই হাঁটছি এটা ততই ভারি হতে শুরু করেছে। যদি বেশি ভারি হয়ে যায় তাহলে আর হাতে করে টানা যাবে না। পিছনের ব্যাকপেকে রেখে দেব, সেখান থেকে যথেষ্ট স্পষ্টভাবে কটকট শব্দ শোনা যাবে। এটাকে যে হাতে রাখতেই হবে সেটা কে বলেছে? এর কটকট শব্দটা শুনতে পেলেই হলো।

    শুধু যে গাইগার কাউন্টারটা আস্তে আস্তে ভারী হতে শুরু করেছে তা নয় রোদটাও কেমন যেন গরম হতে শুরু করেছে। প্রথম প্রথম মিষ্টি একটা রোদ ছিল। সেটা এখন আর যাই হোক মিষ্টি নেই, রীতিমতো ঝাল’ অর্থাৎ গরম!

    আশেপাশে কেউ নেই তাই ইচ্ছে করলে শার্ট খুলে খালি গা হয়ে যেতে পারি। শুধু তাই না চিৎকার করে গানও গাইতে পারি কিন্তু আমি সেসব কিছু করলাম না, আমি ঘাড় গুঁজে হাঁটতে লাগলাম।

    পুরো এলাকাটা ফাঁকা। মাঝে মাঝে কিছু অদ্ভুত জন্তু জানোয়ার দেখা যায়। ইঁদুরের মতো কিন্তু ইঁদুর নয় সেরকম একটা জন্তুকে তাদের বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখলাম। মোটাসোটা একটা গুই সাপ খুবই ধীরে সুস্থে আমার সামনে দিয়ে হেঁটে গেল, আমার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল কিন্তু ভয় পেল বলে মনে হলো না। পুঁইসাপ যে একটু পরপর জিব বের করে আমি সেটা জানতাম না। জলা জায়গা অনেক ব্যাঙ, কাছাকাছি গেলে এক সাথে পানির মাঝখানে ঝাঁপ দেয়। গাছে অনেক পাখি কিচিরমিচির করছে, তবে পাখি থেকে বেশি মজার জিনিস বানর, এদের হাবভাব এতো মানুষের মতো যে দেখে অবাক হয়ে যাই। একটা বানর আমার দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচি দিল, বানর যে পাজি ছেলেদের মতো মুখ ভেংচি দিতে পারে আমি জানতাম না।

    আমি গরমে ঘামতে ঘামতে হাঁটতে থাকলাম। একটা বড় হাওড় পর্যন্ত গিয়ে আবার ঘুরে ফিরে আসতে লাগলাম। মোটামুটি অনেকটুকু জায়গা দেখে ফেলেছি, এর মাঝে কোনো রেডিও একটিভিটি নেই। আমি এখন মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছি যে কোথাও কিছু পাওয়া যাবে না। সাইন্টিস্টদের জীবনে কোনো আনন্দ নেই, উত্তেজনা নেই, আছে শুধু রোদের মাঝে হাঁটা, কী আশ্চর্য।

    আমি কতক্ষণ হেঁটেছি জানি না, রোদ থেকে বাঁচার জন্য বড় একটা গাছের নিচে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবার জন্য যাচ্ছিলাম তখন একেবারে ভূতের মতো হঠাৎ করে কোথা থেকে জানি একজন মানুষ বের হয়ে এলো। আমি তাকে দেখে যত অবাক হয়েছি মনে হলো সে আমাকে দেখে তার থেকে বেশি অবাক হয়েছে। সে চমকে উঠে প্রায় চিৎকার করে বলল, “কে? কে তুমি?”

    মানুষটাকে হঠাৎ করে দেখে আমি নিজেও চমকে উঠেছিলাম, কয়েক সেকেন্ড লাগল শান্ত হতে। মানুষটার মাথায় টুপি, থুতনির মাঝে একুশ বাইশটা দাড়ি। (যার দাড়ি এতো কম সে কেন দাড়ি রাখে সেটা একটা রহস্য)। মানুষটার কাছে একটা ছাতা, আমাকে দেখে ছাতাটা অস্ত্রের মতো ধরে রেখেছে। বোঝা যাচ্ছে দরকার হলে সে এই অস্ত্র নিয়ে আমাকে আক্রমণ করে ফেলবে। মানুষটার চোখে মুখে কেমন জানি ভয়ের চিহ্ন, আমি তার অর্ধেক সাইজ আমাকে দেখে ভয় পাওয়ার কী আছে বুঝতে পারলাম না। মানুষটা তার ছাতাকে বন্দুকের মতো করে আমার দিকে তাকিয়ে গলা উঁচিয়ে বলল, “বল, বল। কে তুমি? কোথা থেকে এসেছ? এখানে কী কর?”।

    আমি একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। মানুষটা আমাকে যে প্রশ্নগুলো করেছে তাকে খুশি করার মতো সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার জানা নেই। আমি যেটাই বলব এই মানুষটার কাছে তার কোনো অর্থ নেই। কিন্তু তবু কিছু একটা বলতে হবে, বললাম, “আমি এইখানে ঘুরতে এসেছি।”

    মানুষটা উত্তর শুনে খুশি হলো কি না বুঝতে পারলাম না। ছাতাটা বন্দুকের মতো ধরে রেখে কেমন যেন কার্টুনের মতো ছোট ছোট লাফ দিয়ে বলল, “তোমার হাতে অস্ত্র কেন? খবরদার আমার দিকে অস্ত্র ধরবে না।”

    আমি একবার খাবি খেলাম, আমার হাতে অস্ত্র? তখন বুঝতে পারলাম আমার হাতের গাইগার কাউন্টারের সামনে যেহেতু একটা টিউব আছে সেই জন্য এটাকে মানুষটা কোনো একটা অস্ত্রের নল ভাবছে। টিউবটা সামনের দিকে মুখ করে আছে তাই মানুষটা ভাবছে অস্ত্রটা তার দিকে তাক করে রেখেছি।

    আমি গাইগার কাউন্টারের টিউবটা ঘুরিয়ে বললাম, “এইটা অস্ত্র না।”

    “এইটা কী?”

    “এইটার নাম গাইগার কাউন্টার।”

    মানুষটা কী বুঝল কে জানে, আবার একটা ছোট লাফ দিয়ে বলল, “সর্বনাশ! কে তোমাকে এটা দিয়েছে? ফালাও নিচে ফালাও। এক্ষুণি নিচে ফালাও।”

    মানুষটার কথা শুনে আমার এই মূল্যবান গাইগার কাউন্টার নিচে ফেলা ঠিক হবে না। কিন্তু তাকে কীভাবে শান্ত করব বুঝতে পারলাম না। বললাম, “এইটা নিচে ফেলা যাবে না। এইটা অনেক মূল্যবান যন্ত্র।”

    “তুমি এই মূল্যবান যন্ত্র কোনখানে পেয়েছ? এইটা দিয়ে কী করে?”

    একসাথে দুইটা প্রশ্ন, কীভাবে উত্তর দেব বুঝতে পারলাম না। প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যখন কঠিন হয় তখন তার উত্তর দিতে হয় প্রশ্ন করে। কাজেই আমি সেই টেকনিক শুরু করলাম, বললাম, “আপনি সাইন্টিস কী জানেন?”

    “সাইন্টিস?”

    “হ্যাঁ।”

    “কেন? কী হয়েছে সাইন্টিসের?”

    মানুষটা এখন আমার টেকনিক শুরু করেছে। আমার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে প্রশ্ন দিয়ে। কী মুশকিল! কিন্তু কিছু একটা উত্তর দিতে হবে, তাই বললাম, “আমার মামা হচ্ছে সাইন্টিস, তাই মামা আমাকে এই যন্ত্রটা দিয়েছে গবেষণা করার জন্য।”

    মানুষটা আমার কথা বিশ্বাস করল না, বলল, “তুমি এতো ছোট মানুষ, তুমি কেমন করে গবেষণা করবা?” তারপর নাক দিয়ে বাতাস বের করে ঘোত করে একটা শব্দ করল। অবিশ্বাসের শব্দ।

    আমি বুঝতে পারলাম এই মানুষটার সাথে কথা চালিয়ে যাওয়া খুব মুশকিল, তাই খামাখা চেষ্টা করে লাভ নাই। আমার এখন এই মানুষটির কাছ থেকে চলে যাওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আমি তাই আর কিছু না বলে হাঁটা শুরু করলাম, সাথে সাথে মানুষটা চিৎকার করে বলল, “খবরদার। খামোশ। নড়বে না, তুমি নড়বে না।”

    আমি বললাম, “নড়ব না?”

    “না।”

    “কেন?”

    আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মানুষটা তার পাঞ্জাবীর পকেট থেকে একটা লাল রংয়ের মোবাইল ফোন বের করে সেটাতে দুই একটা চাপ দিয়েই কথা বলতে শুরু করল। “হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো হ্যালো আক্কাইস্যা হ্যালো হ্যালো”।

    কাউকে ফোন করলে কানেকশান হতে যে সময় লাগে এই মানুষটা সেটা জানে না, ডায়াল করেই সে আক্কাস মানুষটাকে ডাকাডাকি শুরু করেছে। যাই হোক শেষ পর্যন্ত আক্কাস নামের মানুষটা ফোন ধরল তখন একুশ দাড়ির মানুষটা কথা বলতে শুরু করল, “হ্যালো আক্কাইস্যা, ফোন ধরিস না কেন? কততক্ষণ থেকে ফোন করতেছি। শোন ভালো করে কী বলি, এক্ষুণি আয়, নদীর পাড়ে জঙ্গলের কিনারায় বড় বটগাছের নিচে। একটা ছেমড়া এক অস্ত্র নিয়ে ঘুরতেছে তারে ধরে বেন্ধে নিতে হবে”

    আমার চোয়াল স্কুলে পড়ল। বলে কী এই মানুষ? আমাকে ধরে বেন্ধে নিতে হবে? কোথায় ধরে বেন্ধে নিতে হবে? আমি বুঝতে পারলাম আমার আর এই মানুষের কথাবার্তা শোনার দরকার নেই। আমি হাঁটা শুরু করলাম। যদি আসলেই আমাকে ধরার চেষ্টা করে তখন দেখা যাবে কী করা যায়। যদি সত্যি সত্যি দরকার হয় তখন এই মানুষের হাত থেকে বাঁচার জন্য গাইগার কাউন্টারটাকে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করে ভয় দেখানো যেতে পারে।

    আমি পিছনের দিকে না তাকিয়ে লম্বা পা ফেলে হাঁটতে থাকি। ঠিক তখন শুনতে পেলাম পেছন থেকে কে যেন ডাকলো, “টোপন! তুমি এখানে? আমরা তোমাকে কখন থেকে খুঁজছি।”

    আমি পিছন ফিরে তাকালাম, দেখলাম, মাহবুব, ডোরিন আর টনি।

    আমার বুকের মাঝে পানি ফিরে এলো। একুশ দাড়ির মানুষটার সাথে আমার আর একা ঝগড়াঝাটি করতে হবে না। আমরা চারজন মিলে এখন এই খ্যাপা মানুষের সাথে তর্ক বিতর্ক করতে পারব।

    অবশ্য তার আর দরকার হলো না। আমার সাথে অন্য তিনজন একত্র হওয়ার সাথে সাথেই একুশ দাড়ির মানুষটার উত্তেজনা মিইয়ে গেল। মানুষটা কেমন যেন ম্যাদা মেরে গেল। আমাকে ধরে বেন্ধে ফেলার চেষ্টা না করে মাথা নিচু করে উল্টো দিকে হাঁটা শুরু করে দিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএক ডজন একজন – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article কাবিল কোহকাফী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }