Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমিও মানুষ – কাসেম বিন আবুবাকার

    কাসেম বিন আবুবাকার এক পাতা গল্প119 Mins Read0
    ⤷

    আমিও মানুষ – ১

    ১

    জমিদার ইকতিদার আলি কাছারিবাড়ির উঁচু বারান্দায় চেয়ারে বসে একমাত্র বংশধর নাতনি নিগারের সঙ্গে আজকের ঘটনার ব্যাপারে কথা বলছিলেন।

    এমন সময় লাঠিয়ালবাহিনী রক্তাক্ত সোহরাব আলিকে পিছমোড়া করে বেঁধে সামনের উঠোনে নিয়ে এল। তাদের সঙ্গে গ্রামের অনেক লোকজনও এসেছে।

    সেদিকে তাকিয়ে ইকতিদার আলির ঠোঁটে বিজয়ের হাসি ফুটে উঠে মিলিয়ে গেল। নাতনিকে বললেন, যে লোকটাকে পিছমোড়া করে বেঁধে এনেছে, ওর কথাই তোমাকে বলছিলাম। ও হলো পাশের গ্রামের সোহরাব আলি। বেটা আমার সঙ্গে টেক্কা দিতে চায়। এবার বুঝবে কত ধানে কত চাল।

    দাদাজীর কোনো কথাই নিগারের কানে গেল না। সে তখন সোহরাব আলির পাশে দাঁড়ানো আফজালের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে।

    আজ একবছর হতে চলল নিগার ঢাকা ছেড়ে দাদাজীর সঙ্গে কালীগঞ্জে চলে এসেছে। এর মধ্যে দু’বার ম্যানেজারের সঙ্গে ঢাকা গিয়েছিল। দ্বিতীয়বার যখন যায় তখন আফসানার কাছে শুনেছে, আফজাল ভাই তার সঙ্গে দেখা করার জন্য কালীগঞ্জে গেছেন। ফিরে এসে দাদাজীকে জিজ্ঞেস করেছিল, কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল কি না?

    ইকতিদার আলি বললেন, হ্যাঁ, একদিন একটা পাগল ছেলে এসে তোমার খোঁজ করেছিল। আমি তাকে তাড়িয়ে দিয়েছি।

    দাদাজীর কথা শুনে নিগারের বুকটা ছ্যাৎ করে উঠল। বলল, কাজটা আপনি ঠিক করেন নি। আমিই তাঁকে আসতে বলেছিলাম।

    ইকতিদার আলি অবাককণ্ঠে বললেন, ঐ পাগল ছেলেটাকে তুমি আসতে বলেছিলে?

    হ্যাঁ বলেছিলাম। ছেলেটাকে পাগল বলছেন কেন?

    হো হো হেসে উঠে ইকতিদার আলি বললেন, পাগলকে পাগল বলব না তো কী বলব?

    তিনি এমন কী পাগলামি করেছিলেন যে, তাঁকে পাগল বলছেন?

    তা হলে শোন, এবারে যখন তুমি ম্যানেজারের সঙ্গে ঢাকা গিয়েছিলে, সেই সময় একদিন কাঁচারিবাড়িতে এসে হানিফকে বলে, “ইকতিদার আলির নাতনি মেহের নিগারকে ডেকে দিন। বলবেন আফজাল এসেছে।” জানো তো, হানিফ আমার খাস চাকর। সে চাকর হলে কী হবে, যেমন বুদ্ধিমান, তেমনি চালাক চতুর। সেভেন পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। আমার সঙ্গে থেকে রুচিজ্ঞানও হয়েছে। আফজালের গায়ে ছোটলোকদের মতো পোশাক দেখে বলল, জমিদারের নাতনি তোদের মতো ছোটলোকদের সঙ্গে দেখা করেন না। যা ভাগ। তখন আমি কাঁচারিবাড়িতে আসছিলাম। কাছে এসে হানিফের কথা শুনে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আমারও তাই মনে হলো। হানিফকে জিজ্ঞেস করলাম, কী ব্যাপার?

    হানিফ বলল, এই ছেলেটা আপনার নাতনির সঙ্গে দেখা করতে এসেছে।

    আমাকে দেখে ছেলেটা সালামবিনিময় করে বলল, “আপনার নাতনি মেহের নিগার আমাকে ভালোবাসে। আমিও তাকে পছন্দ করি। কথাটা বিশ্বাস না হলে তাকে খবর দিয়ে নিয়ে আসুন।”

    তার কথা শুনে খুব রেগে গেলেও পাগল ভেবে রাগ সংযত করে বললাম, “সে নেই, ঢাকা গেছে।”

    ছেলেটা বলল, ঢাকা থেকে ফিরে এলে তাকে বলবেন, “আফজাল এসেছিল। আবার আসবে।

    বললাম, তুমি আর কখনো এখানে এসো না।

    ছেলেটা হো হো করে হেসে উঠে বলল, আসতে নিষেধ করছেন কেন? না এলে তো আপনার নাতনি পাগল হয়ে যাবেন।

    এবার রাগ সামলাতে পারলাম না। হানিফকে বললাম, ওর ঘাড় ধরে এখান থেকে বের করে দে।

    ছেলেটা বলল, থাক, ওকে আর কষ্ট করতে হবে না। আমি নিজেই চলে যাচ্ছি। তবে আমার কথাগুলো আপনার নাতনিকে বলতে ভুলবেন না যেন। তারপর চলে গেল।

    এখন তুমিই বল দাদু, পাগল ভেবে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া কি ভুল হয়েছে?

    নিগার বলল, হ্যাঁ হয়েছে। কারণ ছেলেটা পাগল নন। আর তিনি যা বলছেন তা সত্য।

    ইকতিদার আলি ভীষণ আশ্চর্য হয়ে বললেন, কী বলছ তুমি দাদুভাই? একটা ছোটলোক পাগল ছেলেকে…।

    তাকে কথাটা শেষ করতে না দিয়ে নিগার বলে উঠল, বললাম-না, ছেলেটা পাগল নন? আর তিনি যা কিছু বলেছেন, তা সত্য?

    নাতনির কথা শুনে ইকতিদার আলি খুব রেগে গেলেন; কিন্তু তা প্রকাশ না করে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে রাগ সামলে নিয়ে বললেন, ছেলেটার পরিচয় বলতো দাদু?

    ওঁর সম্পূর্ণ পরিচয় জানি না। তবে এতটুকু জানি, তিনি ছোটলোক বা পাগল তো ননই, বরং খুব ইন্টেলিজেন্ট ও ধর্মীয় জ্ঞানে গুণী। মাত্র দু’বার আলাপ হওয়ার কয়েকদিন পর আপনি আমাকে নিয়ে চলে এলেন। তাই আসবার সময় উকিলচাচার মেয়ে আফসানাকে বলেছিলাম, “উনি এলে বলবি, এখানে আমার সঙ্গে যেন দেখা করতে আসেন।” আমার মনে হয় উকিল চাচা ওঁর সম্পূর্ণ পরিচয় জানেন।

    ইকতিদার আলি অবাক হলেও তা প্রকাশ না করে বললেন, এবার তোমার সঙ্গে যখন ঢাকা যাব তখন উকিলকে জিজ্ঞেস করব।

    এখন সোহরাব আলির পাশে সেই ছেলেটাকে দেখে অবাক হলেও পাত্তা দিলেন না। শুধু নাতনির দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে গর্জে উঠলেন, সোহরাব আলি, মাফ চাইবে, না জুতোপেটা খেয়ে নাকখত দেবে?

    .

    সোহরাব আলির লম্বা চওড়া বলিষ্ঠ শরীর। তিনিও ভালো লাঠিখেলা জানেন। কিন্তু সত্তর আশিজন লাঠিয়ালের সঙ্গে একা আর কতক্ষণ লড়বেন? বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। পাশের গ্রামের অবস্থাপন্ন গৃহস্থ। ছেলে নেই। সাত মেয়ে। অল্প শিক্ষিত হলেও খুব বুদ্ধিমান। তিনি লোকজনদের প্রায় বলেন, “বাজার করবে ঘুরে, আর মেয়ের বিয়ে দেবে দূরে।” কথাটা আর কেউ না মানলেও নিজে মেনেছেন। পাঁচ মেয়ের বিয়ে দূর দূর গ্রামে দিয়েছেন। এখনো চৌদ্দ ও ষোলো বছরের দু’টো মেয়ে অবিবাহিত আছে। এ বছর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিরা পানি তুলে চাষ করছে। তাই যখন শুনলেন, ইকতিদার আলি খাল বেঁধে নিজের মাঠে পানি তুলেছেন তখন একদিন গ্রামের অনেককে নিয়ে ইকতিদার আলির কাছে এসে প্রতিবাদ করে বললেন, এটা কি উচিত হচ্ছে? দিনে-রাতে দু’বার খালে জোয়ারের পানি আসে। বাঁধ না দিয়ে টিন দিয়ে ঘিরে যে-কোনো একসময়ের জোয়ারের পানি নিতে পারতেন। তা না করে বাঁধ দিয়েছেন। আমাদের মাঠে একছটাক পানি আসছে না। আমরা চাষাবাদ করব না?

    ইকতিদার আলি রাগের সঙ্গে বললেন, আমার মাঠের চাষাবাদ শেষ হওয়ার পর বাঁধ কেটে দেওয়া হবে। তখন তোমরা পানি পাবে।

    সোহরাব আলি বললেন, তখন তো চাষাবাদ নাবি হয়ে যাবে। ফসল কম। হবে।

    ফসল কম হলে আমি কী করব? আমার মাঠের চাষাবাদ শেষ না-হওয়া পর্যন্ত বাঁধ থাকবে।

    আমরা এই কথা মানব না। বাঁধ কেটে দিয়ে দিনে-রাতের যে-কোনো একটা জোয়ারের পানি ছাড় দিতে হবে।

    যদি না দিই?

    গ্রামের চাষিরা এর বিহিত করবে।

    বেশ তো বিহিত কর দেখি, তোমাদের কত হিম্মত।

    সেদিন সোহরাব আলি ফিরে এসে গ্রামের সবাইকে নিয়ে পরামর্শ করে ঠিক করলেন, রাতে বাঁধ কেটে তাদের মাঠে জোয়ারের পানি তুলবে।

    ঐ দিন রাতে এগারোটার সময় গ্রামবাসী খালের বাঁধ কাটতে গিয়ে দেখল, পঁচিশ-ত্রিশজন লাঠিয়াল বাঁধ পাহারা দিচ্ছে। রাতে হাঙ্গামা না করে সোহরাব আলি সবাইকে নিয়ে ফিরে এসে আবার পরামর্শ করে ঠিক করলেন, কাল দিনের বেলায় সবাই লাঠিসোটা নিয়ে লাঠিয়ালদের হটিয়ে দিয়ে বাঁধ কাটবে।

    পরের দিন পরামর্শমতো গ্রামবাসী বাঁধ কাটার জন্য লাঠিয়ালদের উপর হামলা করল। অগণিত গ্রামবাসীর সঙ্গে পঁচিশ-ত্রিশজন লাঠিয়াল টিকতে পারল না। লাঠিয়ালদের সর্দার ব্যাপারটা বুঝতে পেরে একজনকে ইকতিদার আলির কাছে পাঠিয়ে আরো লাঠিয়াল পাঠাতে বলল।

    খবর পেয়ে ইকতিদার আলি আরো পঞ্চাশ-ষাটজন লাঠিয়াল পাঠিয়ে দিলেন।

    ততক্ষণ সোহরাব আলি গ্রামবাসীদের প্রথম লাঠিয়াল দলকে ভাগিয়ে দিয়ে বাঁধ কাটতে শুরু করেছেন।

    কিছুক্ষণের মধ্যে লাঠিয়ালদের দ্বিতীয় দল এসে পড়ায় প্রথম দল তাদের সঙ্গে মিশে একসঙ্গে গ্রাসবাসীর উপর হামলা করল। অনেকে তখন বাঁধ কাটা নিয়ে ব্যস্ত। অন্যরা প্রতিরোধ করল, কিন্তু অতগুলো লাঠিয়ালদের সাথে পেরে উঠল না। আহত হয়ে পালাতে লাগল। সোহরাব আলি একা আর কত লড়বেন? লাঠিয়ালরা তাকে ঘায়েল করে রক্তাক্ত অবস্থায় যখন বেঁধে নিয়ে আসছিল তখন আফজাল সেই রাস্তা দিয়ে নিগারের সঙ্গে দেখা করতে আসছিল। একজনের কাছ থেকে ব্যাপারটা জেনে ইকতিদার আলির অমানবিক কার্যকলাপে যেমন রেগে গেল, তেমনি সোহবের অবস্থা দেখে দুঃখ পেল। শেষমেস কী হয় দেখার জন্য তাদের সঙ্গে এসেছে।

    জমিদারি না থাকলেও ইকতিদার আলির মাঠকে-মাঠ ধানী জমি, আগান বাগান ও পুকুর-ডোবা যা আছে, তা আগেকার জমিদারের চেয়ে কোনো অংশে কম না। তাই এই এলাকায় তিনি জমিদার নামে পরিচিত। বয়স প্রায় পঁচাত্তরের মতো হলেও সুঠাম দেহের অধিকারী। আশপাশের কয়েকটা গ্রামের লোকজন তার ভয়ে কম্পমান। বাপ-দাদাদের আমলে ঘোড়াশালে ঘোড়া ছিল। তাঁরা ঘোড়ায় চেপে জমিদারি দেখাশুনা করতেন। ইকতিদার আলিও যুবক বয়সে ঘোড়ায় চেপে যাতায়াত করতেন। ইদানীং রাস্তাঘাটের উন্নতি হতে গাড়ি ব্যবহার করেন। বাড়িতে চাকর-চাকরানি, চাষ-বাস দেখাশোনা ও প্রজাদের কাছ থেকে বর্গা দেওয়া জমির ফসল আদায়ের জন্য চৌদ্দ-পনেরোজন লোক সবসময় কাছারিবাড়িতে থাকে। এদের সবার বেতন ও খাওয়ানো ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বাগানবাড়িতে জলসাঘর ছিল। সেখানে পূর্বপুরুষরা শহর থেকে বাইজি আনিয়ে রাতকে-রাত নাচ-গান হতো। সেই সাথে বিদেশী মদের ফোয়ারা ছুটত। ইকতিদার আলি মা-বাবার একমাত্র সন্তান। তিনিও যুবক বয়স থেকে পূর্বপুরুষদের রেওয়াজ চালু রেখেছিলেন। কিন্তু তাঁর একমাত্র সন্তান মুক্তাদীর একটু বড় হওয়ার পর এসবের প্রতিবাদ করেন। তাই ছেলে ম্যাট্রিক পাশ করার পর ফরেনে পাঠিয়ে দেন উচ্চশিক্ষা নেওয়ার জন্য। এর কিছুদিন পর মুক্তাদীরের মা মারা যান। ইকতিদার আলি তাকে সে-খবর জানান নি। আর বিয়ে না করে মদ ও মেয়েমানুষ নিয়ে ফুর্তি করতেন। লেখাপড়া শেষ করে মুক্তাদীর ফিরে এসে মায়ের মৃত্যুসংবাদ জেনে এবং বাবাকে সেই আগের মতো দেখে খুব দুঃখ পান। বাবাকে ওসব ছেড়ে দেওয়ার ও আবার বিয়ে করতে এবং দেশের জন্য জনহিতকর কাজ করার কথা বলেন। সবকিছু তওবা করে হজ করার কথাও বলেন।

    ইকতিদার আলি ছেলের কথা মেনে নিতে পারলেন না।

    মুক্তাদীর অনেক চেষ্টা করেও যখন বাবাকে ফেরাতে পারলেন না তখন একদিন আবার বিদেশে চলে যান। যাওয়ার সময় বাবাকে বলেছিলেন, আপনার মতিগতি না ভালো হলে আমি আর দেশে ফিরব না।

    ইকতিদার আলি বিষয়-সম্পত্তির লোভ দেখিয়ে ছেলেকে বাধা দিয়েছিলেন।

    কিন্তু মুক্তাদীর বাবার বাধা ঠেলে চলে গিয়েছিলেন। সেসব প্রায় পঁচিশ ছাব্বিশ বছর আগের কথা। এতদিন তিনি বাবাকে একটাও চিঠিপত্র দেন নি।

    ফরেনে লেখাপড়া করার সময় শাবানা নামে এক বাঙালি মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল। সে-সময় মুক্তাদীর খুব ধনী-ঘরের ছেলে জেনে শাবানা তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মুক্তাদীর রাজি হন নি। মুক্তাদীর ফরেনে ফিরে এলে শাবানা আবার তার পিছু নেন এবং তাকে সবরকমের সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব মেনে নিয়ে মুক্তাদীর তাকে বিয়ে করেন।

    শাবানার বাবা গাফফার সাহেব বাংলাদেশের একজন শিল্পপতি। শাবানা তাঁর তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্তের কথা জেনে তিনি স্ত্রীসহ গিয়ে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন এবং জামাইয়ের চাকরির ব্যবস্থা করে ফিরে আসেন।

    শাবানা শিল্পপতি বাবার আদুরে ও উদ্ধৃঙ্খল প্রকৃতির মেয়ে। ধনীলোকের ছেলেদের সঙ্গে ডেটিং, করে বেড়াতেন। মুক্তাদীর উচ্চধনী ঘরের ছেলে জেনে তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর যখন জানতে পারলেন, সে বাবার সবকিছু ত্যাগ করে থেকে যাওয়ার জন্য এখানে এসেছে তখন হতাশ হন এবং স্বামীর উপর ভীষণ অসন্তুষ্ট হন। প্রথম দিকে স্বামীকে দেশে ফেরার জন্য অনেক বোঝান; কিন্তু যখন মুক্তাদীর কিছুতেই রাজি হলেন না তখন থেকে স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য শুরু হয়। ইতিমধ্যে তাদের একটা মেয়ে হয়। মেয়েটিকে দেখতে চাঁদের আলোর মতো ফুটফুটে বলে মুক্তাদীর তার নাম রাখেন মেহের নিগার। তবে নিগার বলে ডাকেন। নিগার যখন ক্লাস টেনে পড়ে তখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বিরোধ হয় এবং কোর্টের মাধ্যমে শাবানা তালাক নিয়ে অন্য একজন বিদেশীকে বিয়ে করে লন্ডন থেকে আমেরিকা চলে যান। মুক্তাদীর অনেক দিন থেকে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগলেও স্ত্রী ত্যাগ করার কথা কখনো চিন্তা করেন নি। কোর্টের মাধ্যমে তালাকের কাগজপত্র পেয়েও অন্য একজন বিদেশীকে বিয়ে করে আমেরিকা চলে যাওয়ার কথা শুনে খুব মুষড়ে পড়েন। মেয়ে নিগারের ভালোমন্দ চিন্তা করে সবকিছু সামলে নেন। কিন্তু মানসিক দুশ্চিন্তার হাত থেকে রক্ষা পেলেন না।

    নিগার তখন তরুণী। মায়ের এরূপ কাজে মনে ভীষণ আঘাত পায়। বাবার মানসিক অবস্থা বুঝতে পেরে একদিন বলল, বাবা, আমাকে নানুর কাছে পাঠিয়ে দিয়ে তুমি আবার বিয়ে কর।

    মুক্তাদীর মেয়েকে জড়িয়ে ধরে ভিজে গলায় বললেন, তা হয় না মা। তোর নানা-নানু মারা গেছেন। তোকে যেমন তোর মামাদের কাছে পাঠাতে পারব না, তেমনি আমিও আবার বিয়ে করতে পারব না।

    নিগার বলল, আমার যে কিছু ভালো লাগে না। তুমি বিয়ে কর বাবা, আমি তাকে মা বলে ডাকব।

    মেয়ের কথা শুনে মুক্তাদীরের চোখে পানি এসে গেল। চোখ মুছে বললেন, ও কথা বলিস না মা। আমি আর বিয়ে করব না, তোকে নিয়েই বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেব।

    আমার যে এখানে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। শুধু মায়ের কথা মনে পড়ে।

    মুক্তাদীর কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন, ঠিক আছে, আমরা দেশে ফিরে যাব। তবে তোর মামাদের কাছে নয়।

    মেহের নিগার খুশি হয়ে বলল, হ্যাঁ বাবা, এটা তুমি ঠিক কথা বলেছ। দেশে গেলে তোমারও মন ভালো হয়ে যাবে।

    তারপর বছর খানেকের মধ্যে সেখানকার পাট চুকিয়ে মুক্তাদীর দেশে ফিরে আসেন এবং ঢাকায় একটা চারতলা বাড়ি কিনে নিজেরা বাস করতে থাকেন, আর ভাড়ার টাকায় সংসার চালাতে লাগলেন। কোনো চাকরি বা ব্যবসা করার চেষ্টা করলেন না। সবসময় বাসায় ধর্মীয় বইপুস্তক পড়তেন। মাঝে মাঝে আলেমদের বাসায় দাওয়াত করে খাওয়াতেন। তাদের সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা করতেন। মুসলমান সমাজের এত অবক্ষয়ের কারণ সম্পর্কেও নানান আলোচনা করতেন।

    প্রথম দিকে নিগার এসব ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামাত না। ভাবত, বাবা যদি এসব করে শান্তি পায়, পাক। কিন্তু যত দিন যেতে লাগল, বাবাকে তত গম্ভীর হয়ে যেতে দেখে তার মনে হলো, বাবা যেন কোনো ব্যাপার নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছে। তাই একদিন সময়-সুযোগ পেয়ে বলল, দুশ্চিন্তার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তুমি বিদেশ থেকে দেশে ফিরলে, অথচ সবসময় দুশ্চিন্তায় থাক। কী এত দুশ্চিন্তা কর আমাকে বলবে বাবা? কিছু একটা চাকরি বা ব্যবসা-ট্যাবসা করতে পার? তা না করে সবসময় কী যেন চিন্তা কর। আচ্ছা বাবা, তুমি কি মায়ের ব্যাপারটা আজও ভুলতে পার নি?

    মুক্তাদীর মেয়ের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন, সারাজীবন চাকরি করেছি। ব্যবসার কিছু বুঝি না। তা ছাড়া যা টাকা-পয়সা এনেছিলাম, বাড়িটা কিনতে সব শেষ হয়ে গেছে। আর তোর মায়ের কথা যা বললি তা ঠিক নয়। তোর মায়ের ঘটনা আমাকে তেমন ভাবায় না। তোকে নিয়েই আমার যত চিন্তা।

    কেন বাবা? আমাকে নিয়ে চিন্তা করার কী আছে?

    তুই বললে তো হবে না? এই যেমন তুই সবসময় মায়ের অভাব অনুভব করিস। মা যতটা তোর দিকে লক্ষ্য করত, আমি কি তা করতে পারছি?

    তাই যদি হয়, তা হলে বিয়ে করছ না কেন? যাকে বিয়ে করে আনবে, তাকে আমি মা বলে মেনে নেব।

    আর সে যদি তোকে মেয়ের মতো করে মেনে নিতে না পারে?

    তুমি দেখে নিও বাবা, আমি তার সঙ্গে এমন ব্যবহার করব, আমাকে মেয়ের মতো মনে করতে বাধ্য হবেন।

    তুই যে তা করবি সে-কথা আমিও জানি। কিন্তু কি জানিস মা, যদি সেই মেয়ে তোকে মেনে নিতে পারে, তা হলে আমার থেকে কেউ বেশি খুশি হবে না। আর যদি তোকে মেনে নিতে না পারে, তখন যে দুঃখ পাব, তা আমি সহ্য করতে পারব না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর বিয়ে করব না। তোকে উচ্চশিক্ষা দিয়ে মানুষ করে কোনো ভালো ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেব।

    নিগার জানে, মা বাবাকে যতটা-না ভালোবাসত, বাবা তার থেকে অনেক বেশি ভালোবাসে। এখন বাবার কথা শুনে চোখে পানি এসে গেল। চোখ মুছে গাল ভার করে আদুরে গলায় বলল, আমি বিয়ে করব না। চিরকাল তোমার কাছে থাকব। তা না হলে তোমার দেখাশুনা করবে কে?

    মুক্তাদীর মৃদু হেসে বললেন, পাগলি মেয়ে, দুনিয়াতে অনেকেরই একমাত্র মেয়ে থাকে, তারা কি বিয়ে না করে চিরকাল বাবার কাছে থাকে?

    গাল ভার করেই নিগার বলল, অনেকের কথা বাদ দাও, বললাম, তা আমি করবই।

    মুক্তাদীর হেসে উঠে বললেন, ঠিক আছে, এখন যা, ভার্সিটি যাওয়ার সময় হয়ে গেছে।

    ঢাকায় এসে ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর মুক্তাদীর মেয়ের অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। দিন দিন যেন মায়ের মতো স্বভাব তার চরিত্রে ফুটে উঠছে। বয়ফ্রেন্ডদের বাসায় নিয়ে আসে। তাদের সঙ্গে মাঝে মাঝে কয়েক দিনের জন্য বেড়াতে যায়। অবশ্য বেড়াতে যাওয়ার আগে তাকে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমাবার কথা বলে যায়। দু’জন আয়া আছে, তাদেরকেও তার দিকে লক্ষ রাখতে বলে। তবু যেন মুক্তাদীরের মনে হয় মেয়েটা ক্রমশ মায়ের মতো হয়ে উঠছে। এ কথাটাই তাকে সবসময় ভাবায়। তাই তিনি সবসময় দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।

    নিগার ভার্সিটিতে চলে যাওয়ার পর চিন্তা করতে লাগলেন, মেয়েকে নিজের পরিচয় জানাবেন কি না। শেষে সিদ্ধান্ত নিলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভালো ছেলে দেখে মেয়ের বিয়ে দেবেন। তারপর পরিচয় জানাবেন।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিয়ের খোঁপা (গল্পগ্রন্থ) – কাসেম বিন আবুবাকার
    Next Article ক্ষমা – কাসেম বিন আবুবাকার

    Related Articles

    কাসেম বিন আবুবাকার

    ক্রন্দসী প্রিয়া – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    জানি তুমি আসবে – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    কি পেলাম – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    কালোমেয়ে – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    একদিন অপরাহ্নে – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    কে ডাকে তোমায় – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }