Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমিও মানুষ – কাসেম বিন আবুবাকার

    কাসেম বিন আবুবাকার এক পাতা গল্প119 Mins Read0
    ⤶

    আমিও মানুষ – ৯

    ৯

    আসির উদ্দিন কোর্ট থেকে ফিরে আসরের নামায পড়ে ইকতিদার আলির সঙ্গে দেখা করতে এলেন।

    ইকতিদার আলি তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সালামবিনিময়ের পর বসতে বললেন। তারপর আপ্যায়ন করিয়ে বললেন, মুক্তাদীর ও নিগারের সম্পর্কে চিঠিতে যা কিছু জানিয়েছ, তার বেশি জানার দরকার নেই। আমি নিগারের বিয়ে দিতে চাই। সে-ব্যাপারে কিছু আলাপ করব।

    আসির উদ্দিন বললেন, বেশ তো করুন।

    ইকতিদার আলি বললেন, আমার সবকিছু দেখাশোনা করার জন্য একজন ম্যানেজার আছে। খুব ভালো ছেলে। দেখতে-শুনতেও ভালো। সুন্দর স্বাস্থ্য। ধর্ম-কর্ম মেনে চলে। যেমন পরিশ্রমী, তেমনি বিশ্বাসী। তার দাদাও সারাজীবন আমাদের ম্যানেজার ছিল। সে মারা যাওয়ার পর তার নাতি আজ ছয় বছর ম্যানেজারী করছে। তার সঙ্গেই নিগারের বিয়ে দিতে চাই মুক্তাদীরের বন্ধু হিসাবে তার মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে তোমার পরামর্শ চাচ্ছি।

    আসির উদ্দিন বললেন, হ্যাঁ, আমি নিগারকে মেয়ের মতোই মনে করি।

    আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে, পাত্র হিসাবে ম্যানেজার সোনার টুকরো ছেলে। এ রকম ছেলে আজকাল পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। আমার মন বলছে, নিগার সুখী হবে। ওর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ করেছেন?

    না করি নি। নিগারকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়ার কিছুদিন পর আফজাল নামে একটা ছেলে ওর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। সে এমন কিছু কথা বলে, যা পাগলের প্রলাপের মতো। তাই তাকে পাগল ভেবে তাড়িয়ে দিয়েছি। নিগার সে কথা জেনে বলে, সে নাকি তাকে ভালোবাসে। তাই তাকে যেতে বলেছিল। আরো বলে, সে তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবে না। আমি আফজালের পরিচয় জানতে চাইলে বলল, সে তার পরিচয় জানে না। উকিল চাচা হয়ত জানে না। তিনি তার কী একটা কেস চালাচ্ছেন। আফজালকে আমার একদম পছন্দ নয় বলে ওকে আমি অনেক বুঝিয়েছি এবং কিছুতেই তার সঙ্গে বিয়ে যে দেব না, সে কথাও বলেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয় নি। আফজালের কেস কি তুমি চালাচ্ছ?

    জি চালাচ্ছি।

    কী কেস চালাচ্ছ?

    আফজাল মায়ের পৈত্রিক সম্পত্তি অনেক পায়। কিন্তু ওর মামা দিতে অস্বীকার করেন। সেই সম্পত্তি পাওয়ার জন্য আফজাল লালমনিরহাট কোর্টে মামলা দায়ের করে। সেখানে টাকার জোরে তার মামা জিতে যায়। হেরে গিয়ে আফজাল আমাকে দিয়ে হাইকোর্টে আপিল রুজু করে। গত মাসে কেসের রায় হয়ে গেছে। ও জিতেছে।

    কেসের ব্যাপারে তার সঙ্গে তোমার কতদিনের যোগাযোগ।

    হ্যাঁ, তা প্রায় দেড় বছর।

    ছেলেটাকে তোমার কেমন মনে হয়?

    খারাপ কিছু দেখি নি। ভালোই তো।

    আচ্ছা, তোমার কি কখনো মনে হয়েছে, ছেলেটা জাদু অথবা ম্যাসমেরিজাম জানে?

    আসির উদ্দিন মৃদু হেসে বললেন, না-না, ওসব কিছু জানে না। তবে আমার কেন জানি মনে হয়, ওর মধ্যে অলৌকিক কিছু আছে।

    অলৌকিক আবার কী? আমার ধারণাই ঠিক, ও জাদু অথবা ম্যাসমেরিজাম জানে।

    আপনি কি কোনো প্রমাণ পেয়েছেন?

    হ্যাঁ পেয়েছি। তারপর রুস্তমের ঘটনাটা বললেন।

    আসির উদ্দিন কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললেন, কিন্তু জাদু তো কুফরি কালাম। আফজাল খুব ধার্মীক ছেলে। সে জাদু জানে একথা বিশ্বাস করতে পারছি না।

    তুমি কী দেশ-বিদেশের কোনো জাদুকর অথবা ম্যাসমেরিজিয়ানের ঠিকানা জান?

    বর্তমানে সারা পৃথিবীতে জাদুকর আছে কি না জানি না। যারা জাদুকর নামে খ্যাত, তারাও জাদু জানেন না। তবে ম্যাসমেরিজিয়ান আছেন। ম্যাসমেরিজাম হল ধাঁধা। অবশ্য এই বিদ্যাও সাধনা করে শিখতে হয়। আমাদের দেশে জুয়েল আইচ ও আজরা জাবীন জাদুকর নামে খ্যাত। আসলে তারাও ম্যাসমেরিজিয়ান। কিন্তু আমি সিওর, আফজাল এসব কিছু জানে না। আমি আরো সিওর, ওর মধ্যে কিছু অলৌকিক শক্তি আছে।

    তুমি যে বারবার ওর মধ্যে কিছু অলৌকিক শক্তি আছে বলছ, তার প্রমাণ পেয়েছ?

    জি, পেয়েছি। ও যেদিন প্রথম আমার চেম্বারে আসে, সেদিন ওর জামা কাপড় দেখে নিম্ন শ্রেণীর মক্কেল ভেবে কেস নিতে চাইলাম না। বললাম, আপনি অন্য উকিলের কাছে যান। আফজাল বলল, আপনি কেসটা নেবেন না কেন, না বললে যাব না। তখন আরো দু’জন ধনী মক্কেল বসা ছিলেন। তার কথা শুনে ওঁরা খুব রেগে গেলেন। একজন বললেন, তোমার তো সাহস কম না? উকিল সাহেবের কাছে কৈফিয়ৎ চাইছ? আমিও রেগে গিয়ে ওকে বার করে দেওয়ার জন্য বেয়ারাকে ডাকতে যাব, এমন সময় আফজাল বলল, মনে করেছেন আমি উকিল সাহেবের ফিস দিতে পারব না? এই নিন বলে হাতের ময়লা ঝোলা থেকে পাঁচশ টাকার কয়েকটা ব্যান্ডিল টেবিলের উপর রেখে বলল, অ্যাডভান্স দিলাম। লাগলে আরো দেব। কেস মিটে যাওয়ার পর হিসাব দেবেন। টাকাটা গুণে নিন, আমি একঘণ্টা পরে আসছি। এর মধ্যে ওঁদের কাজটা সেরে ফেলুন। তারপর দেওয়ালে টাঙানো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, এখন চারটে বাজে, ঠিক পাঁচটার সময় আসব। একটা কথা মনে রাখবেন, যারা জ্ঞানী-গুণী হয়েও মানুষকে ঘৃণা করেন, তারা জ্ঞানের অবমাননা করেন। আমি ও ধনী মক্কেল দু’জন টাকা দেখে ও তার কথা শুনে অবাক হয়ে তার দিকে তাকাতে দেখলাম, আফজাল রয়েল ড্রেসে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমরা এত বেশি অবাক হলাম যে, তাকে ফিরে আসার জন্য বলতে গিয়েও বলতে পারলাম না। কিছুক্ষণ তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে মক্কেল দু’জনের একজন বললেন, কী আশ্চর্য ব্যাপার? ছেলেটাকে আসতে দেখলাম নিম্ন শ্রেণীর ময়লা জামা-কাপড় পরে, আর চলে যাওয়ার সময় দেখলাম রয়েল ড্রেস? আপনারা কি তা লক্ষ করেছেন?

    আমি ও অন্য মক্কেল বললাম, আপনার কথাই ঠিক। আমরাও খুব আশ্চর্য হয়েছি।

    আসির উদ্দিনের কথা শুনে ইকতিদার সাহেব মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলেন, সে কি ঐদিন একঘণ্টা পরে এসেছিল।

    জি এসেছিল।

    রয়েল ড্রেসে না আগের ড্রেসে?

    আগের ড্রেসে।

    তা হলে আমার ধারণায় সে যে জাদুকর অথবা ম্যাসমেরিজিয়ান, তা কি ঠিক নয়?

    না, ঠিক নয়। কিছুক্ষণ আগে বললাম না, ছেলেটা খুব ধার্মীক। ধার্মীকরা কখনো জাদুকর বা ম্যাসমেরিজিয়ান হতে পারে না।

    তা হলে সে এমন ভেল্কি দেখায় কী করে?

    আগে যা বলেছি এখনো তাই বলব, ওর মধ্যে অলৌকিক শক্তি আছে। সব ধার্মীকদের মধ্যে না থাকলেও কারো না কারো মধ্যে এরকম অলৌকিক শক্তি থাকে। নিগারও হয়ত আফজালের মধ্যে সেরকম কিছু দেখেছে। তাই তাকে ভালোবেসে ফেলেছে। দেখেছে কি না ওকে জিজ্ঞেস করবেন।

    তা না-হয় করব, কিন্তু আফজালের হাত থেকে ওকে বাঁচাব কী করে? আচ্ছা, তোমার কোনো হুজুর বা খনকারের কথা জানা আছে না কি? যারা তাবিজ-টাবিজ করে, ভালোবাসার সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে?

    আমি এসব বিশ্বাস করি না। তবে আমার এক মক্কেলের কাছে শুনেছি, জিঞ্জিরায় একজন হুজুর আছেন, তিনি এইসব করেন। ঐ মক্কেলের মেয়ে নাকি একটা ছোটলোকের গরিব ছেলেকে ভালোবেসে বিয়ে করতে চেয়েছিল। তিনি মেয়ের ভালোবাসা চটাবার জন্য ঐ হুজুরের কাছ থেকে তাবিজ করে এনেছিলেন। তাতে কাজ হয়েছে। মেয়েটা ছেলেটার উপর এত চটে গিয়েছিল যে, তার নাম শুনলেই রেগে যেত। কিছুদিন পর মেয়েটার অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেন।

    ঐ হুজুরের ঠিকানা জান?

    জি না। তবে উনি নাকি খুব নামকরা হুজুর। জিঞ্জিরায় গিয়ে জিন হুজুরের কথা জিজ্ঞেস করলেই লোকজন বাড়ি দেখিয়ে দেবে।

    ভাবছি, ঐ হুজুরের কাছে লোক পাঠিয়ে তাবিজের ব্যবস্থা করব। তা করতে পারেন। তবে আমার মনে হচ্ছে তাতে কিছু কাজ হবে না।

    কেন তোমার এরকম মনে হচ্ছে?

    যার মধ্যে অলৌকিক শক্তি থাকে, তার বিরুদ্ধে তাবিজ করলেও কিছু হবে না।

    তবু আমি করব।

    বেয়াদবি নেবেন না, আফজালকে আপনার পছন্দ নয় কেন বলবেন? আমার মেয়ে আফসানাকে তো আপনি চেনেন? ও তো আফজাল ভাই বলতে অজ্ঞান। তাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করে। একদিন আমাকে বলল, আফজাল ভাইয়ের মতো ছেলে নাকি হয় না। ওর মতো ভদ্র, নম্র, সৎ, ধার্মীক ও পরোপকারী ছেলে নাকি এযুগে নেই। আপনি হয়ত তার পোশাক দেখে তাকে ছোটলোক মনে। করেন। আসলে সে তা নয়। লালমনিরহাট জেলার শিঙ্গিমারী গ্রামের সব থেকে ধনী সাইঁদুর রহমান ওঁর দাদা। পাশের গ্রাম গোদ্দীমাড়ী ওঁর নানার। বাড়ি। নানারও প্রচুর বিষয় সম্পত্তি। তার একমাত্র ছেলে আসাদ উজ্জামান ওর মামা। তিনিও খুব নামি-দামী লোক। মামলায় জিতে আফজাল প্রায় একশ বিঘে শুধু ধানী জমি পেয়েছে। তার উপর আগান-বাগান, পুকুর-ডোবাও কয়েকটা পেয়েছে। আমাকে একদিন বলল, চাচা, অর্ধেক সম্পত্তি ওয়াকফ করে দেব। জিজ্ঞেস করলাম, ওয়াকফ করবে কেন? বলল, গ্রামের দুস্থ লোকদের কর্মসংস্থানের জন্য উৎপাদনমূলক কিছু একটা করবে। আর এমন একটা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করবে, যাতে গ্রামের গরিব ছেলেরা শিক্ষার সাথে সাথে ভবিষ্যতে যেন নিজেরা কিছু করে উর্পাজন করতে পারে। তার মহৎ হৃদয়ের পরিচয় পেয়ে খুব অবাক হলাম। আপনাকে তো চিঠিতে নিগারের অধঃপতনের কথা জানিয়েছিলাম। আফজালই ওকে অধঃপতনের পথ থেকে ধর্মের পথে এনেছে। যে ছেলের মধ্যে এত গুণ, যার হৃদয় এত মহৎ, সে কী করে জাদুকর বা ম্যাসমেজিয়ান হতে পারে?

    আফজালের সবকিছু শুনেও ইকতিদার আলির মতের পরিবর্তন হলো না। জিজ্ঞেস করলেন, আফজাল কী করে, কোথায় থাকে, কতদূর লেখাপড়া করেছে, তা জান?

    কেস হাতে নেওয়ার পর আসির উদ্দিন একদিন তাকে এসব কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন। আফজাল উত্তর দেওয়ার আগে ওয়াদা করিয়েছিল সবকিছু গোপন রাখার জন্য। তাই মেয়ে আফসানাও যখন এসব কথা জিজ্ঞেস করেছিল তখন মিথ্যে করে বলেছিলেন জানেন না। একই কারণে এখন ইকতিদার আলিকেও মিথ্যে করেই বললেন, জানি না। তারপর বললেন, আফজাল আফসানার বিয়ের দিন নিশ্চয় আসবে। আপনি ইচ্ছা করলে তার কাছ থেকে জেনে নিতে পারবেন।

    আচ্ছা, তুমি ওর মা-বাবার নাম জান?

    তার কেস চালিয়েছি যখন, মা-বাবার নাম তো জানবই। বাবার নাম মরহুম খলিলুর রহমান। মায়ের নাম মরহুমা আফ্রিদা খাতুন।

    ইকতিদার আলি অল্পক্ষণ চিন্তা করে বললেন, ঠিক আছে, আমি আফজালের সঙ্গে কথা বলব।

    এবার উঠি চাচা, মাগরিবের নামাযের সময় হয়ে গেল বলে আসির উদ্দিন সালামবিনিময় করে চলে গেলেন।

    সালমা বেগম পর্দানশীল মহিলা তাই পর্দার আড়াল থেকে এতক্ষণ তাদের কথাবার্তা শুনছিলেন। এবার ভিতরে এসে বললেন, আমি উকিল সাহেবের সব কথা শুনেছি। আমার মনে হচ্ছে, আফজাল যখন জানবে সামসুদ্দিন নিগারকে বিয়ে করার জন্য তার পিছনে লেগেছে তখন আফজাল সামসুদ্দিনের ক্ষতি করবে।

    ইকতিদার আলি বললেন, হ্যাঁ, তা করতে পারে। তবে উকিলের কথামতো আফজাল যদি সত্যিই খুব ধার্মীক হয়, তা হলে করবে না।

    সালমা বেগম ভয়াতস্বরে বললেন, আর যদি উকিলের কথা সত্য না হয়? তা হলে তো ক্ষতি করবে?

    ভাইপোর ক্ষতির আশঙ্কায় স্ত্রী ভয় পেয়েছে বুঝতে পেরে ইকতিদার আলি বললেন, ভয় পাচ্ছ কেন? উকিলের কথা যদি সত্য না হয়, তা হলে আফজালের প্রতি নিগারের ভালোবাসা চটাবার ও সামসুদ্দিনের কোনো ক্ষতি যেন আফজাল করতে না পারে, সে ব্যবস্থা আমি করব।

    যে-ব্যবস্থা করতে চাও কর, সেই সাথে জিঞ্জিরার জিন হুজুরের কাছ থেকে তাবিজ করার ব্যবস্থাও কর।

    হ্যাঁ, সেই ব্যবস্থাও করব। তবে তার আগে আফজালের সঙ্গে কথা বলে বলব।

    সালমা বেগম কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, নিগারকে ঢুকতে দেখে খেমে গেলেন। ইকতিদার আলি স্ত্রীর কাছে শুনেছেন, সে আফসানার সঙ্গে বাইরে গেছে। জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় কোথায় বেড়ালে?

    মাগরিবের আজান হচ্ছে শুনে নিগার বলল, আগে নামায পড়ে নিই চলুন, তারপর বলব।

    নামাযের পর চা খাওয়ার সময় ইকতিদার আলি নাতনিকে বললেন, এবার বল।

    নিগার বলল, মীরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে গিয়েছিলাম, কিন্তু বেড়ানো হলো না।

    কেন?

    গাড়ি থেকে নেমেই দেখি, রিয়াজ ভাই ও আফজাল ভাই গেটের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন।

    আফজালের নাম শুনে ইকতিদার আলি চমকে উঠলেন। সামলে নিয়ে বললেন, রিয়াজ আবার কে?

    নিগার মৃদু হেসে বলল, আফসানার হবু বর।

    তরপর কী হলো বল।

    তারপর আর কী হবে? গার্ডেনের ভিতরে ঢুকে রিয়াজ ভাই আফসানাকে নিয়ে একদিকে চলে গেলেন। আর আফজাল ভাই আমাকে নিয়ে নিরিবিলি জায়গায় বসে অনেক কথা বললেন।

    কী এত কথা বলল, শুনি।

    এই আপনি ম্যানেজার সামসুদ্দিনের সঙ্গে আমার বিয়ে দিতে চান, তাই তাকে আফজাল ভাইয়ের খোঁজ নিতে বলেছেন।

    ইকতিদার আলি ও সালমা বেগম অবাক হয়ে কয়েক সেকেন্ড কথা বলতে পারলেন না।

    নিগার তাদের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে বলল, এতটুকু শুনেই অবাক হলেন? বাকিটা শুনবেন না?

    ইকতিদার আলির কপালে চিন্তার রেখা ফুটে উঠল। বললেন, বল।

    নিগার বলল, আফজাল ভাই বললেন, “দাদিআম্মা আগে আমার পক্ষে থাকলেও ইদানীং তিনিও ভাইপো সামসুদ্দিনের হাতে আমাকে দিতে চান।”

    ইকতিদার আলি ও সালমা বেগম আরো বেশি অবাক হয়ে আরেকবার চমকে উঠে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

    অল্পক্ষণের মধ্যে সামলে নিয়ে ইকতিদার আলি বললেন, আর কিছু বলে নি?

    হ্যাঁ, বলেছেন। তারপর আফজালের পরিচয় ও তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলল।

    নাতনির মুখে আফজালের পরিচয় ও তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা শুনে উকিলের সব কথার উপর ইকতিদার আলির বিশ্বাস জন্মাল। জিজ্ঞেস করলেন, কতদূর লেখাপড়া করেছেন? কী করে? কোথায় থাকে? বলে নি?

    নিগারকে এসব বলতে আফজাল নিষেধ করেছিল। তাই বলল, না বলেন নি?

    তুমি জানতে চেয়েছিলে?

    জি, চেয়েছিলাম। বললেন, “এখন নয়, বিয়ের পর বলব।”

    তুমি কি মনে কর, আফজালের সঙ্গে আমি তোমার বিয়ে দেব?

    অফকোর্স। আল্লাহ রাজি থাকলে আপনি নিশ্চয় দেবেন।

    আর আল্লাহ যদি রাজি না থাকেন?

    তা হলে আল্লাহ যা করবেন, তাই আমরা মেনে নেব। আফজাল ভাই বললেন, “আল্লাহর রেজামন্দির উপর সন্তুষ্ট থাকা মুমিনের কর্তব্য। যাদের ইমান একটু কমজোর, তারা সন্তুষ্ট থাকতে না পারলে যেন সবর করে।”

    ইকতিদার আলি ও সালমা বেগম অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন।

    নিগার বলল, কী এত চিন্তা করছেন? আপনারা কি আল্লাহর ইচ্ছার উপর সন্তুষ্ট নন? অথবা সবর করতে পারছেন না?

    সালমা বেগম বললেন, মুমিন হিসাবে প্রত্যেকের তাই করাই তো উচিত।

    হ্যাঁ দাদিআম্মা, আপনি ঠিক কথা বলেছেন। তারপর দাদাজীর দিকে তাকিয়ে বলল, আপনি অত চিন্তা করবেন না। আফজাল ভাই বললেন, “আফসানার বিয়ের আগে হোক আর পরে হোক, আপনার সঙ্গে দেখা করতে আসবেন।” তারপর খালি চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে চলে গেল।

    আফসানার বিয়ের দিন বিকেলে নিগার তাকে বলল, কই আফজাল ভাই কিন্তু এখনো এলেন না?

    আফসানা বলল, তার জন্য মন খুব ছটফট করছে বুঝি? আসবেন যখন বলেছেন, নিশ্চয় আসবেন। অত অস্থির হচ্ছিস কেন? হয়ত কোনো কাজে আটকা পড়েছেন।

    নিগার কিছু বলতে যাচ্ছিল, আফসানার মামাতো বোন রুকসানা এসে পড়ায় চুপ করে রইল।

    রুকসানার সঙ্গে নিগারের আগেই পরিচয় হয়েছে। ওদের বাড়ি নাটোর। কাল এসেছে। রাজশাহী ভার্সিটিতে পড়ে।

    রুকসানা আফসানাকে বলল, কারা যেন এসেছেন। তোকে ফুফুআম্মা ডাকছেন। তুই যা, আমি নিগার আপার সঙ্গে গল্প করি।

    আফসানা চলে যাওয়ার পর রুকসানা বলল, আপনি লন্ডনে বড় হয়েছেন, তারপর এখানে ছিলেন, পাড়াগাঁয়ে থাকতে অসুবিধে হচ্ছে না?

    নিগার বলল, একেবারে যে হচ্ছে না তা নয়। তবে বিদ্যুৎ না থাকলে আরো বেশি অসুবিধা হতো। সব থেকে বেশি অসুবিধা তখন অনুভব করি যখন শহরের পরিবেশ ও বন্ধুদের কথা মনে পড়ে।

    আফসানার মুখে শুনেছি, আপনি নাকি একজন রহস্যময় ছেলেকে ভালোবাসেন এবং তাকে বিয়েও করতে চান?

    কথাটা শুনে আফসানার উপর নিগারের একটু রাগ হলো। তা চেপে রেখে বলল, হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছ?

    রুকসানা মৃদু হেসে বলল, উনি আসবেনও শুনেছি। আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন কিন্তু। শোনার পর থেকে কতটা রহস্যময় জানার জন্য খুব অ্যাংজাইটি ফিল করছি।

    নিগারও মৃদু হেসে বলল, ঠিক আছে, পরিচয় করিয়ে দেব।

    কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের ব্যবস্থা হয়েছিল। বিয়ের কাজ ও খাওয়া-দাওয়া হয়ে গেল; কিন্তু আফজাল এল না।

    বরপক্ষের মেয়েরা যখন আফসানাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে গাড়ির কাছে নিয়ে এল তখন নিগার তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, আফজাল ভাই কিন্তু আসনে নি?

    আফসানাও ফিসফিস করে বলল, আফজাল ভাই তো কখনো কথার বরখেলাপ করেন নি? মনে হয়, না আসার নিশ্চয় কোনো কারণ ঘটেছে।

    নিগার আর কিছু বলার সময় পেল না। মেয়েরা তাকে গাড়িতে তুলে দিল।

    রিয়াজ গাড়িতে আগেই উঠে বসেছিল। আফসানা ওঠার পর ড্রাইভার গাড়ি ছেড়ে দিল।

    পথে রিয়াজ আফসানাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি তো বলেছিলে আফজাল ভাই আসবেন। কই, তাকে দেখলাম না তো?

    আফসানা বলল, হ্যাঁ, গাড়িতে ওঠার সময় নিগারের কাছে শুনলাম, তিনি আসেন নি।

    ইকতিদার আলিও আফজাল এসেছে কি না লক্ষ রেখেছিলেন, দেখতে পান নি। কমিউনিটি সেন্টার থেকে বাসায় ফিরে নাতনিকে বললেন, আফজালকে দেখলাম না তো? এসেছিল না কি?

    আফজাল না-আসায় নিগারের মন খারাপ হয়েছিল। নিস্তেজ গলায় বলল, আমিও দেখি নি। এলে নিশ্চয় দেখতাম। হয়ত কোনো কারণে আসতে পারেন নি। কাল-পরশু নিশ্চয় আসবেন। খুব টায়ার্ড লাগছে, ঘুমাব বলে নিগার রুমে চলে গেল।

    ইকতিদার আলির মুখে হাসি ফুটে উঠে মিলিয়ে গেল।

    .

    আফসানা দুদিন পর নায়রে এসে নিগারকে জিজ্ঞেস করল, আফজাল ভাই এসেছিলেন?

    নিগার বলল, না, আসেন নি।

    কোনো অসুখ-বিসুখ হল কি না কে জানে?

    আমারও তাই মনে হচ্ছে।

    কিন্তু তা হলে তো ফোন করে জানাতেন।

    কথাটা এই কদিন নিগারও চিন্তা করেছে, কিন্তু ফোন কেন করল না বুঝতে পারে নি। তাই চুপ করে রইল।

    তাকে চুপ করে থাকতে দেখে আফসানা বলল, তুই এত চালাক হয়েও বোকার মতো কাজ করেছিস। বোটানিক্যাল গার্ডেনে দেড় ঘণ্টা আলাপ করলি অথচ ওঁর ঢাকার ঠিকানা বা ফোন নাম্বারটা নিলি না।

    নিগার মিথ্যে করে বলল, বোকা হলেও যতটা বোকা ভাবছিস ততটা নই। দুটোই জানতে চেয়েছিলাম, বলল, ঢাকায় কোনো স্থায়ী ঠিকানাই নেই, ফোন নাম্বার দেব কী করে? এদিকে দাদাজী দু’একদিনের মধ্যে ফিরে যেতে চাচ্ছেন।

    মনে হয় এর মধ্যে আসবেন। যদি না আসেন, মন খারাপ করবি না। আল্লাহ করুক, অসুখ-বিসুখ হলে ভালো হওয়ার পর যখন আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবেন তখন তোকে চিঠি দিয়ে জানাব। আর তোর কাছে যেতে বলব।

    নিগার ছোট্ট একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলল, তুই যদি তখন শ্বশুরবাড়িতে থাকিস?

    আফসানা হেসে উঠে বলল, আফজাল ভাই আমার শ্বশুরবাড়ি চেনেন না। এখানে পেলে ওখানে যাবেন।

    এবার আসি, রিয়াজ ভাই হয়ত তোর জন্য রুমে অপেক্ষা করছেন, বলে নিগার চলে গেল।

    চার-পাঁচ দিনের মধ্যেও আফজাল যখন এল না তখন ইকতিদার আলি ভাবলেন, তার সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়ার ভয়ে আসে নি। আরো ভাবলেন, জিন হুজুরের কাছে তাবিজ করলে নিশ্চয় কাজ হবে। একদিন বাসার কাজের লোক বসিরকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি জিঞ্জিরার জিন হুজুরের নাম শুনেছ?

    বসির বলল, জি। ঢাকার প্রায় সবাই তার নাম জানে। আমি দু’তিনবার তার কাছে তদবির করাতে গেছি।

    তদবিরে কাজ হয়েছে?

    জি, হয়েছে।

    তাঁর কাছে গিয়ে তোমাকে তাবিজ করে নিয়ে আসতে হবে।

    জি, যাব। যার জন্যে তাবিজ নেবেন, তার ও তার মা-বাবার নাম-ঠিকানা এবং কী জন্যে তাবিজ নেবেন, সবকিছু একটা কাগজে লিখে দেন। কাগজটা পড়ে তিনি তাবিজ দেবেন।

    ইকতিদার আলি একটা কাগজে নিগারের সবকিছু লিখে ও অন্য একটা কাগজে আফজাল জিন, যাদুকর না ম্যাসমেরিজিয়ান জানতে চেয়ে লিখে বসিরকে গাড়িতে করে জিঞ্জিরা পাঠালেন।

    জিঞ্জিরায় গাড়ি পৌঁছাবার পর বসির ড্রাইভারকে বড় রাস্তায় গাড়ি থামাতে বলল। গাড়ি থামার পর তাকে অপেক্ষা করতে বলে বসির হুজুরের কাছে গেল। প্রায় দু’ঘণ্টা পর তাবিজ নিয়ে ফিরে আসার সময় একজনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেল। লোকটা তাকে তুলে দাঁড় করিয়ে বলল, মাফ করবেন, আমি একটু অন্যমনস্ক হয়ে হাঁটছিলাম। তারপর একটা তাবিজ তার হাতে দিয়ে বলল, বোধহয় আপনার বুক পকেট থেকে পড়ে গেছে।

    বসির লোকটার ওপর খুব রেগে গিয়েছিল। তার দিকে তাকিয়ে নুরাণি চেহারা দেখে ও মাফ চাইতে রাগ পড়ে গেল। তাবিজের কথা শুনে বুক পকেটে হাত দিয়ে নেই বুঝতে পেরে বলল, হ্যাঁ, আমার পকেট থেকে পড়ে গেছে। তারপর তাবিজ পকেটে রেখে গাড়িতে এসে উঠল।

    বাসায় পৌঁছে বসির ইকতিদার আলিকে তাবিজটা দিয়ে বলল, এটা তামা বা রুপার মাদুলিতে পুরে গলায় বা ডান হাতে পরতে হবে। তা না হলে যে বালিশে ঘুমায়, সেই বালিশের ভিতরে রেখে সেলাই করে দেবেন আর একটা কাগজে যা লিখেছিলেন? হুজুর পড়ে বললেন, উনি মানুষ, জাদুকর বা ম্যাসমেরিজিয়ান নন।

    ইকতিদার আলি বললেন, ঠিক আছে, তুমি এখন যাও। তারপর চিন্তা করলেন, তা হলে কি উকিলের কথাই ঠিক, ওর মধ্যে অলৌকিক কিছু শক্তি আছে? স্ত্রীর কাছে গিয়ে তার হাতে তাবিজটা দিয়ে বললেন, নিগার ও আফজালের ভালোবাসা চটাবার জন্য বসিরকে জিঞ্জিরায় হুজুরের কাছে পাঠিয়েছিলাম। হুজুর নিগারকে এই তাবিজ দিয়েছেন। তাবিজের কথা শুনলে নিগার পরবে না। বরং রেগে গিয়ে ফেলে দেবে। হুজুর বলেছেন গলায় বা ডান হাতে না পরাতে পারলে বালিশের ভিতরে রেখে সেলাই করে দিতে। তাবিজটা যত্ন করে রেখে দাও। বাড়িতে ফিরে নিগারের বালিশের ভিতর রেখে সেলাই করে দেব। সাবধান নিগার যেন জানতে না পারে। আফজাল জিন না যাদুকর জানার জন্যেও গ্রামের নাম মা-বাবার নাম কাগজে লিখে হুজুরের কাছে বসিরের হাতে দিয়েছিলাম। হুজুর বলেছেন, আফজাল মানুষ, অন্য কিছু নয়। ওর কথা বাদ দাও। এই তাবিজেই কাজ হবে। বাড়িতে ফিরে যা করতে বললাম খুব গোপনে করবে।

    সালমা বেগম বললেন, সে-কথা বারবার বলতে হবে না। যা করার গোপনেই করব।

    পরের দিন ইকতিদার আলি কালীগঞ্জে ফিরতে চাইলে নিগার কিছু অজুহাত দেখিয়ে দুদিন পর যাবে বলল।

    নাতনি যে আফজালের অপেক্ষায় দু’দিন থাকতে চাইছে, ইকতিদার আলি তা বুঝতে পারলেন। তিনিও চান আফজালের মধ্যে সত্যিই কিছু অলৌকিক শক্তি আছে কি না দেখতে। তাই নাতনির কথা মেনে নিলেন।

    পরের দিন নিগার আফসানার কাছে গিয়ে বলল, আমি একটু বাইরে যাব। দাদিআম্মাকে বলেছি তোর কাছে যাচ্ছি। ফিরতে দেরি হবে না। তুব যদি দেরি হয়ে যায়, আর দাদিআম্মা কাউকে ডাকতে পাঠায়, তা হলে যা হোক কিছু বলে ম্যানেজ করবি। এখন তোর বোরখাটা দে।

    রিয়াজদের পরিবারের সবাই ধর্ম-কর্ম জানে ও মানে। তাই বিয়ের দিন জামা-কাপড় গহনার সঙ্গে বোরখাও দিয়েছে এবং বাসররাতে রিয়াজ আফসানাকে বলেও দিয়েছ বোরখা পরে বাইরে যাতায়াত করতে। নিগার বোরখা চাইতে খুব

    অবাক হয়ে বলল, বোরখা পরে তুই কোথায় যাবি?

    নিগার বলল, ফিরে এসে বলব, বোরখাটা দে তো।

    আফসানা বোরখা দিয়ে বলল, কিসে যাবি? আমার গাড়িটা নিতে পারিস।

    বোরখা পরতে পরতে নিগার বলল, না থাক, স্কুটারে যাব। তারপর এবার আসি বলে সেখান থেকে বেরিয়ে এল। রাস্তায় এসে একটা খালি স্কুটার থামিয়ে জিজ্ঞেস করল, আলিয়া মাদ্রাসায় যাব, চেনেন তো?

    স্কুটারের ড্রাইভার বলল, হ্যাঁ চিনি, বকসিবাজারে। ভাড়া সত্তর টাকা।

    ঠিক আছে, চল বলে নিগার উঠে বসল।

    আলিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে নিগার প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করে আফজালের খোঁজ করল।

    প্রিন্সিপাল বললেন, এখানে আফজাল নামে দু’জন শিক্ষক আছেন। একজনের বাড়ি খুলনা আর অন্যজনের লালমনিরহাট।

    আমি লালমনিরহাটের আফজালের খোঁজ করছি।

    উনি তো কয়েকদিন আগে একমাসের ছুটি নিয়ে দেশে গেছেন। বাই দি বাই, উনি কি আপনার আত্মীয়?

    জি। ওর ঢাকার বাসার ঠিকানা জানেন?

    না। প্রয়োজন মনে করলে আপনার ঠিকানা দিয়ে যান, উনি এলে জানাব।

    নিগার একটা কাগজে শুধু নিজের নাম লিখে দেওয়ার সময় বলল, ঠিকানা লাগবে না, এটা দিলেই হবে। তারপর সালামবিনিময় করে বেরিয়ে এল।

    ফিরে এসে বোরখা খোলার সময় আফসানাকে বলল, ভাগ্যটাই খারাপ। গিয়ে কোনো কাজ হলো না।

    আফসানা বলল, কোথায় গিয়েছিলি, কী কাজে গিয়েছিল, না বললে বুঝব কী করে?

    নিগার বলল, কথাপ্রসঙ্গে আফজাল বলেছিল, তার এক বন্ধু আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। উনি আফজালের খোঁজ দিতে পারবেন ভেবে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ওঁকে পেলাম না। একমাসের ছুটি নিয়ে দেশের বাড়িতে গেছেন। দাদাজী আর থাকতে চাচ্ছেন না। পরশুদিন আমরা চলে যাব।

    আফসানা বলল, সবর কর। জানিস তো, “সবরের গাছ খুব তিতা, আর ফল খুব মিষ্টি।” সুতরাং সবর কর।

    হ্যাঁ, জানি বলে নিগার বিদায় নিয়ে চলে গেল।

    আফসানা নিগারের কাছে আগেই ইকতিদার আলির মতামত শুনেছিল। দুদিন আগে বাবার মুখে আবার তার সিদ্ধান্তের কথা শুনেছে। তাই নিগারের চলে তোকে সবর করার তওফিক দেন এবং তোর মনের আশা পূরণ করেন।

    ***

    ‘আমিও মানুষ’-এর সমাপ্তি অংশ ‘তুমিও মানুষ’

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিয়ের খোঁপা (গল্পগ্রন্থ) – কাসেম বিন আবুবাকার
    Next Article ক্ষমা – কাসেম বিন আবুবাকার

    Related Articles

    কাসেম বিন আবুবাকার

    ক্রন্দসী প্রিয়া – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    জানি তুমি আসবে – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    কি পেলাম – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    কালোমেয়ে – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    একদিন অপরাহ্নে – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    কে ডাকে তোমায় – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }