Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমি চঞ্চল হে – বুদ্ধদেব বসু

    বুদ্ধদেব বসু এক পাতা গল্প100 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আমি চঞ্চল হে – ২

    ২

    সেদিন আমার এক মফস্বলবাসিনী আত্মীয়া আমাকে বলছিলেন :

    ‘কলকাতায় কী করে থাকো! এই তো খাঁচার মতো ফ্ল্যাট, চলতে-ফিরতে গায়ে- গায়ে ঠোকাঠুকি। ধোঁয়া। ধুলো। অসুখ। খরচ। খাওয়ার জিনিশের যা দাম। তবে হ্যাঁ— কাপড়-চোপড় পাওয়া যায়।

    প্রতিটি কথাই সত্য, অনস্বীকার্য। কলকাতার বাতাসে বিষ, অন্নে বেরিবেরি, জলে টাইফয়েড, ও দুধে জল। এখানে আমাদের অধিকাংশের জন্যে যে-আকারের ও যে-রকমের বাড়ি জোটে তা দেখে মফস্বলবাসীর হাসিই পায়; এবং তার জন্যে যে-ভাড়া দিতে হয়, মফস্বলের কোনো গ্রাম্য শহরে তা দিয়ে খোদ মাজিস্টরের কুঠি দখল করা যায়। এই ঘনমেঘে একমাত্র রুপোলি রেখা যদি এই হয় যে এখানে দোকানে-দোকানে বস্ত্রের বৈচিত্র্য, আমার মনে অবিশ্যি সেটা কিছুমাত্র রেখাপাত করতে পারে না।

    তবু আমরা কলকাতায় থাকি, থাকতে ভালোবাসি, কলকাতা ছাড়া অন্য-কোথাও থাকবার কথা ভাবতে পারিনে। ‘আমরা’ মানে এখানে আর-কেউ হোক আর না- ই হোক, আমি নিশ্চয়ই। আমার মতোই কলকাতা-প্রেমিক আরো অনেকে হয়তো আছেন, তবু নিজের হয়ে কথা বলাই ভালো।

    নিজের কথাই বলি। কলকাতায় গৃহ সংকীর্ণ, রোগ, আহার্য দুর্মূল্য ও (এটা আমার আত্মীয়া উল্লেখ করতে ভুলে গেছলেন) আকাশের তারা দুর্লভদর্শন; তবু কোনো প্রলোভনে আমি কলকাতা ছেড়ে যাবো না। আছে আমার মনে কলকাতার এক মোহ, যেটা কাটিয়ে ওঠা আমার পক্ষে কিছুতে সম্ভব নয়। কী এই মোহ? কলকাতার এই অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণের গোপন রহস্য কোনখানে? কেন, এত সব স্পষ্ট ও অনুপেক্ষণীয় অসুবিধে সত্ত্বেও কলকাতাকেই আমি ভালোবাসি

    কেন? জানিনে। কেউ জানে না। কলকাতায় যারা থাকে তারা থাকে, বাইরে মন টেঁকে না। তেমনি, মফস্বলে যারা থাকে, কলকাতায় এসে থিয়েটার বায়োস্কোপ ও মনোহর বস্ত্রবিপণী সত্ত্বেও সাতদিনেই ওঠে হাঁপিয়ে। এ হচ্ছে নিছক শারীরিক কতগুলো অভ্যাসের বৈষম্যের কথা।

    কথাটা যদি একমাত্র এ-ই হতো তাহলে এ-নিয়ে কোনো আলোচনারই ক্ষেত্ৰ থাকতো না। কিন্তু সত্যি, ব্যাপারটা কী হয়? কখনো ভেবে দেখিনি, কিন্তু ভেবে দেখবার মতো এটা। ধরা যাক, এত সব পার্থিব ক্লেশ সত্ত্বেও কলকাতার উপর কেন আমার এই অনাক্রমণীয় অনুরাগ? এমন-কোনো লাভ— অন্তত লাভের সম্ভাবনা— নিশ্চয়ই আছে, যাতে ও-সমস্ত পুষিয়ে গিয়েও বেশি হয়। কী সেটা? সেটা কি এই যে এই রাজধানী কালচারের কেন্দ্র, এবং যেহেতু আমি কিনা মগজওয়ালা মানুষ, এখানকার অনুশীলন কি হাওয়ার বাইরে গেলেই ডাঙায় তোলা মাছের মতো খাবি খেতে থাকি? নাকি এই যে আমি পার্থিব উচ্চাশায় প্রণোদিত, এবং এটা তো সবাই জানে যে বুদ্ধির জোরে যে বড়লোক হতে চায় তার পক্ষে কলকাতা ছাড়া জায়গা নেই। কিংবা হয়তো তারই আকর্ষণ আমার পক্ষে সব চেয়ে বড়ো, খুব সংক্ষেপে যাকে বলা যেতে পারে ‘ফূর্তি’? মানে, বিশেষ এক রকমের ফূর্তি, যার ইংরিজি নাম গুড টাইম, ভোজ, গীতনৃত্য, আলাপের ভাষাবিলাস, হৃদয়ের প্রজাপতিবৃত্তি ও অন্যান্য স্বাদু আনুষঙ্গিক নিয়ে যার রচনা। এবং এ-সমস্ত স্বাদবৈচিত্র্য বারো মাস এত বেশি পরিমাণে কলকাতার মতো আর কোনোখানেই পাওয়া যায় না, এ তো সবাই জানে।

     

     

    তিনটেই হয়তো, কে জানে। মনের পাপ গোপন করে লাভ নেই : স্বীকার করাই ভালো যে মাঝে-মাঝে ফূর্তির একটু-আধটু ঝাপটা মন্দ লাগে না আমার— মানে, ভাবতে মন্দ লাগে না। কিন্তু সেই ভাবনা যদি কখনো বাস্তব রূপ ধরে, তাহলে দেখা যায় কল্পনার এই রসোপভোগ ঠিক যেন উৎরোচ্ছে না, যেন বিরক্তই লাগছে, যেন ঠেকছে অর্থহীন। এ একটা বস্তু যা নিয়ে ভাবতেই ভালো, ভাবনা অনুযায়ী তৈরি করতে গেলে সমস্তটা বিরস হয়ে ওঠবার আশঙ্কাই বেশি। জীবনের ফূর্তির মুহূর্তগুলো ফরমায়েশ মানে না, নিজের খেয়ালে তাদের গতি। হাত বাড়িয়ে ধরা যায় না তাদের, তারা আসে।

    কল্পনা ছেড়ে বাস্তবে এলে দেখা যাবে নাগরিক জীবনের এ-সমস্ত সংগতি আমার পক্ষে কোনো আকর্ষণই নয়। আমার পক্ষে শহরের সব চেয়ে লোভনীয় যে- জায়গা সে হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের কোনো গলির বিশেষ একটি বাড়ি— এবং সেই বাড়িরও বিশেষ একটি ঘর। সে-বাড়ি আমার এই অর্থে যে আমি তার ভাড়া দিই; সে-ঘর আমার এই অর্থে যে আমি সেখানে থাকি। সেই ঘরে কাটে আমার দিনরাত্রির অধিকাংশ; ঘর থেকে যখন বেরোই হয় অর্থাগমের নয় অর্থব্যয়ের উদ্দেশ্যে। দু-ই আবশ্যিক কর্তব্য। সিনেমার প্রতি আমার অনাসক্তি ইতিমধ্যে বহুবার বহুভাবে প্রকাশ করেছি; এবং যেহেতু চার্লি চ্যাপলিন তিন বছরে একটার বেশি ছবি তৈরি করেন না, আমার সিনেমা গমনও প্রায় সেই হারে এসে ঠেকেছে। এককালে থিয়েটার ভালোবাসতুম, কিন্তু শিশির ভাদুড়ীর (অন্যান্য থিয়েটারের কথা ধরছিইনে) কতগুলো ‘নবতম অবদান’ আশ্চর্যরকম ‘কৃত হয়ে সে-ভালোবাসা আমার মন থেকে ঠুকরে বার করে দিয়েছে। বছর পাঁচেক আগে পর্দার প্রতি যে-বিতৃষ্ণা আমার প্রথম এসেছিলো, এখন সেই বিমুখতা এসেছে মঞ্চের প্রতি। জীবনে, দেখা গেলো, কোনো মোহই ঢেঁকে না : আগে আর পরে।

     

     

    তাছাড়া, আমি খেলা দেখিনে। কলকাতার অনেক লোকের পক্ষেই মস্ত আকর্ষণ এটা। কথাটা কে কী-ভাবে নেবেন জানিনে, কিন্তু সত্যি-সত্যি আমি ফুটবলের মাঠে একা যাইনি। এটা অপরাধ, সামাজিক বেআদপি; সেই সাফাইস্বরূপ এটুকু বলে রাখি যে আমার এই ক্রীড়াবৈরাগ্য আসলে বৈরাগ্য নয়, অক্ষমের হতাশা। আমার শরীর হলেও তাতে রক্ত আছে : এবং সে-রক্ত ‘নিরীহ’ ক্রীড়া অপর ব্যক্তির রক্তপাতের সম্ভাবনায় নেচেও ওঠে। ফুটবলের উন্মাদনা ও উত্তেজনা সম্পূৰ্ণ বুঝি : যুদ্ধরূপ দুগ্ধের সাধ মেটাতে অতি উৎকৃষ্ট ঘোল এটি। রাগবির মতো খেলা— যাতে শুনতে ইচ্ছাকৃত হত্যা ছাড়া সবই অনুমোদিত— সমস্ত পৃথিবীতে ভাবে প্রচলন করতে পারলে কি যুদ্ধের অবসান করা যায় ছোকরারা রাগবি ফেলে যুদ্ধ করতে চাইবেই না— ঝকঝকে পিতলের বোতাম-আঁটা সেনা-সজ্জার লোভেও নয়। যুদ্ধের মস্ত উল্লাস ঐ খেলাতেই তারা পাবে নরহত্যার সামরিক অধিকার থেকেও সম্পূর্ণ বঞ্চিত হবে না। বিশেষ, যুদ্ধ ব্যাপারটা ক্রমশই এত বেশি বৈজ্ঞানিক ও নৈর্ব্যক্তিক হয়ে উঠবে যে পরবর্তী ‘যুদ্ধ-শেষ-করা যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে খুন করার কি খুন হওয়ার রোমাঞ্চ একেবারেই থাকবে না। খুব ঠাণ্ডা মেজাজে একজন একটা কল টিপবে; দুশো মাইল দূরের একটা শহর যাবে গুঁড়ো হয়ে। স্ত্রী-পুত্র নিয়ে চা খেতে বসে হঠাৎ একজন স্ত্রী-পুত্র নিয়ে রক্তমাংসের কতগুলো ডেলায় পরিণত হবে; কোন মহৎ উদ্দেশ্যে বীরের মতো তারা প্রাণ দিলে, তা বোঝবারও সময় হবে না যৌবনের অগ্নিময় রক্ত ও-ধরনের যুদ্ধে একফোঁটা মজাও পাবে না; প্রত্যক্ষভাবে ঢের বেশি উত্তেজক ও রক্তময় রাগবিকেই আঁকড়ে থাকবে তারা। সত্যি বলতে, রাগবি আন্তর্জাতিক শান্তির চমৎকার একটি ভিত্তি হতে পারে। উপযুক্ত কপিরাইট মূল্য পেলে প্রস্তাবটি দাখিল করতে পারি জেনিভায়।

     

     

    উপরে যা বললাম তা থেকে এটা নিশ্চয়ই বোঝা যাবে যে আমি খেলা না- দেখলেও খেলার মর্ম বুঝি ভালো করেই। এবং কখনো যে দেখি না, আমার শরীরের ভীরুতা ছাড়া তার আর কোনো কারণ নেই। অভিজ্ঞদের মুখে শুনে যতটা সংগ্রহ করতে পেরেছি, সেই সবুজ রণাঙ্গনে প্রবেশলাভ, অবস্থান ও সেখান থেকে নিষ্ক্রমণ সবই অমানুষিক ধৈর্য, সহনশক্তি এবং খানিকটা দৈহিক বল ও তৎপরতার অপেক্ষা রাখে। এক কথায় : সে-যুদ্ধ দেখতে যাওয়া মানে নিজে ছোটখাটো একটি যুদ্ধ করা। আর যে-কোনো অবস্থায়, যে-কোনো কারণে, শারীরিক যুদ্ধে প্রবৃত্ত হতে আমি পরম অনিচ্ছুক।

    তাহলে একটা ঘরের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে থাকাতেই আমার সুখ, সে-ঘর কলকাতাতেই হোক, কি মাদারিপুর হবিগঞ্জেই হোক, তাতে কি কিছু এসে যায়? রাজধানীর মনীষার সঙ্গে যোগাযোগ— আমার পক্ষে সেটাই প্রধান আকর্ষণ নিশ্চয়ই? আলাপ, আলোচনা, চিন্তার বিনিময়, সমধর্মীর বাঞ্ছিত সংযোগ। দেশের সেরা লোকদের তো বেশির ভাগ কলকাতাতেই নিবাস; অন্তত, কলকাতায় থাকলে কখনো-না-কখনো তাঁরা অধিগম্য হনই। এটা মস্ত কথা সন্দেহ নেই; কথা বলে— ও কথা শুনে— সত্যি-সত্যি সুখ পাওয়া যায় এমন কয়েকটি মানুষের সঙ্গের জন্য অনেক কিছুই ছাড়া সহজ। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক সব সময় স্থাপিত হয় না— সব ব্যক্তিগত সম্পর্কে সুখ হয় না। এবং নিছক চিন্তার বিনিময়ই যদি উদ্দেশ্য হয়, সেটা পত্রযোগেও চলে, এবং পত্রযোগেই ভালো চলে। এমন কোন অজ মফস্বল বঙ্গদেশেও নেই যেখানে কাছাকাছি একটা ডাকঘর না আছে; এবং আজকালকার দিনে ডাকঘরের কাছাকাছি থাকা মানেই পৃথিবীর কালচার-কেন্দ্রে থাকা। বই পাওয়া যায়, পাওয়া যায় সাময়িক পত্র, চিঠি লেখালেখি চলে। কলকাতায় থাকার উপরি লাভ তাহলে কী?

     

     

    কিছুই না। নবীন বিলেতযাত্রী বাঙালি ছেলে এ-কথা ভেবে উল্লসিত হতে পারে যে হাইড পার্কে পা দিয়েই সে দেখতে পাবে বুড়ো বর্নার্ড শ চলেছে ঘোড়ায় চড়ে হাওয়া খেতে, এবং বাস্-এ উঠেই পাশে বসবে এক্কেবারে চেস্টার্টন সাহেবের কিন্তু আসল ব্যাপারটা অবিশ্যি ঠিক সে-রকম নয়। ‘দেশের সেই লোকদের’ সঙ্গে দেখাশোনার সুযোগ অল্পই মেলে (যদি না ইংরেজরা যাকে বলে সিংহ-শিকারী, তা- ই হওয়া যায়); এবং সেরা লোকরা সকলেই যে সব সময় পরিচয়ের খুব যোগ্য হন তাও নয়। আমার কথা এই যে লোকজনের সঙ্গে চেনাশোনার যত সুযোগ আমি পেয়েছিলাম সব নিতান্ত নিশ্চিন্ত ও চিন্তাহীনভাবে অপব্যয় করেছি : এখন আমি কাউকেই প্রায় চিনি-শুনি না; এমনকি, এককালে যাদের চিনতাম তারাও এখন প্রায় না-চেনার মধ্যে। এ-রকম হয়েছে আমার স্বভাবেরই দোষে; আমার মনের সংকোচ ও শরীরের আলস্যই এ-জন্য দায়ী। বাড়ি থেকে বেরোতেই আমি অনিচ্ছুক; বাড়িতে বসে ভালো না-লাগলেও বাইরে গিয়ে খুশি হওয়ার চেষ্টা করা আমার উৎসাহে যেন কুলিয়ে ওঠে না। আমার বন্ধুর গণ্ডি তাই অতি, অতিশয় সংকীর্ণ : কলকাতায় এমন লোক পাঁচজনের বেশি নেই, যাদের সঙ্গে আমি সত্যি-সত্যি যেন খুলে কথা কইতে পারি। এবং তারা মহৎ লোক নয়, অন্তত, আমার চেয়ে বেশি মহৎ নয়। সে-বিষয়ে আমি একটু দৃষ্টিই রাখি, যাতে আমার চাইতে একেবারে অনেক মস্ত বড়ো কারো সঙ্গে আমার বেশি সাহচর্য না হয়। কেননা সেরকম কোনো লোকের সংসর্গে এলে কেবল কথা শুনেই যেতে হয়, এবং কেবল শোনাকে আলাপ বলে না। তাছাড়া, সে-কথা বলতেই বুদ্ধিদীপ্ত, যতই গম্ভীর চিন্তাপ্রসূত, যতই সূক্ষ্ম-সরস হোক, খানিক পরে ক্লান্ত লাগতে আরম্ভ করেই। আর তাছাড়া, কথা বলায় আমি খুব নিপুণ না হতে পারি, তবু মাঝে-মাঝে আমারও কথা কইতে ইচ্ছে করে।

     

     

    সুতরাং কালচার-কল্পতরুর আশ্রয় কি সুজন-সঙ্গের আনন্দ—, কলকাতার গোপন রহস্য এর কোনোটাই নয়। তাহলে কি বৈষয়িক আকাঙ্ক্ষাই রয়েছে আমার কলকাতা-আসক্তির মূলে? এ-সন্দেহ অগ্রাহ্য হবে এই বললেই যে সে-রকম কোনো আকাঙ্ক্ষা আমার মনে যদি বা থাকে, তা পূর্ণ হবার কোনোরকম সম্ভাবনাই নেই। আমি তা জানি। মনের ইতর ইচ্ছাগুলো স্বীকার করে ফেলাই ভালো : নিশ্চিত ও প্রচুর আয়ের আরামকেদারায় বসে মনের সুখে চটি-খোলা পায়ে পা বুলোতে আমার খুবই ইচ্ছা করে কখনো-কখনো। ইচ্ছে করে নিজের গাড়িতে চড়ি, ইচ্ছে করে এমন পাড়ায় এমন বাড়িতে থাকি যেখানে চুপচাপ একা থাকতে চাইলে বাইরের কি ভিতরের কোনোরকম বাধা হবে না, ইচ্ছে করে… অনেক কিছুই। তবে এ-সব ইচ্ছা আলানাস্করি স্তরে পৌঁছতে পারে না এই কারণে যে দিবাস্বপ্নের অন্যান্য (এবং এর চেয়ে উৎকৃষ্ট কেননা বেশি টেকসই) উপকরণ আছে আমার। এক যেহেতু আমি বাংলাদেশে লিখনেওয়ালা হয়ে জন্মেছি, এ-সব ইচ্ছা আমার মধ্যে শুধু কলিকের ব্যথার মতো মাঝে-মাঝে মুচড়িয়ে উঠবে— তার বেশি কিছুই কোনোদিন হবে না— এ আমি ভালো করেই জানি। কবিদের দারিদ্র্যের প্রবাদ সব দেশেই : এ-দেশে অতি মারাত্মকরকম সত্য। এবং সব দেশেই কবিরা উচ্চতর জীবনের দোহাই দিয়ে নিজেদের সান্ত্বনা দিয়েছেন, গোপন করেছেন ঈর্ষা।

     

     

    এসো বন্ধু, তাদের করুশা করি, আমাদের চেয়ে যারা সংগতিবান।
    বন্ধু, এ-কথা মনে রেখো
    ধনীর বাবুর্চি-খানশামা আছে, বন্ধু নেই,
    আর আমাদের আছে বন্ধু, নেই বাবুর্চি-খানশামা।
    এসো বিবাহিতকে করুণা করি
    করুণা করি অবিবাহিতকে।
    ঘরে ভোর আসে ছোট্ট পা ফেলে
    পাভলোভার প্রতিমার মতো,
    বাসনা আসন্ন আমার।
    আর এই যে স্বচ্ছ শীতল মুহূর্ত
    একসঙ্গে ঘুম ভাঙার এই যে মুহূর্ত
    জীবনে এর চেয়ে ভালো কিছু নেই।

     

     

    এজরা পাউন্ডের রচনা থেকে এ-দৃষ্টান্তটা মনে পড়লো (পাউন্ড-ভক্তরা এই শিথিল তর্জমা মার্জনা করবেন)। এই আত্ম-সান্ত্বনা যে একেবারেই অমূলক এমন নয়; এ- জীবন সত্যিই উঁচু স্তরের।

    যাই হোক, যে-কারণে এত সব স্পষ্ট অসুবিধে সত্ত্বেও কলকাতাকে আমি ভালোবাসি, সেটা ধনী হবার আশা নয়। বস্তুত সে-আশা মনে স্থান দেবারই উপায় নেই আমার। হতাম যদি দালাল কি দোকানদার কি পাঠ্যকেতাব-লিখিয়ে তাহলে কলকাতাকে একটা খনি মনে করতে পারতাম বটে, যেখান থেকে বুদ্ধির কুড়োল মেরে-মেরে সোনা তুলে আনলেই হলো। আমার ফাউন্টেন-পেনের তাড়নায় যদি নেকড়ে বাঘ দরজার বাইরে থাকে তাহলেই যথেষ্ট।

    সত্যি, কেন তবে এই কলকাতার মোহ? কোনো কারণ নেই। বরঞ্চ যা-কিছু আমি ঘোরতর অপছন্দ করি, সবই এই শহরেরই আনুষঙ্গিক। এখানে ভিড়। এখানে ধুলো। এখানে গোলমাল। স্তব্ধতা নেই, নেই অন্ধকার। এখানে গণ-মনের সংঘবদ্ধ উন্মত্ততা। এখানে পৃথিবী অতি কৃপণ : কি গৃহে কি যানে কি কর্মস্থলে, হাত-পা নাড়বার জায়গা নেই কোনোখানেই। সবই ঘোরতর অপছন্দ করি, তবু কলকাতাকে ভালোবাসি, এ-সমস্ত উপদ্রব ছাড়িয়ে কোনখানে যেন আছে কলকাতার এক বিশাল, অন্ধকার আত্মা, তার আকর্ষণ আমার রক্তে। এ একটা মোহ, তা ছাড়া আর কী বলবো? মোহ কখনো যুক্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয়। পুরুষ যখন মেয়েকে ভালোবাসে, তার কি কোনো কারণ থাকে? সেটা মোহ— খুব ভালো অর্থে। জীবনকে লালন করবার যত কৌশল আছে প্রকৃতির, তার মধ্যে মোহই তো শ্রেষ্ঠ। মনে নেশা ধরায়— আর জীবনের যতখানি আমরা নেশার অবস্থায় কাটাতে পারি, ততখানিই সার্থক। আমি অনেক মোহের মানুষ, স্বভাবতই আমি মাতাল। সম্পূর্ণ প্রকৃতিস্থ অবস্থা আমার পক্ষে মৃত্যুর মতো। কবে একদিন কলকাতার মোহ লেগেছিলো আমার মনে; এখনো ট্রামে যেতে-যেতে বাইরে তাকিয়ে হঠাৎ যেন লাগে বিস্ময়ের ধাক্কা। কলকাতার সেই অন্ধকার রহস্যের সত্তা— এই সমস্ত দৃশ্য আর শব্দ তারই প্রকাশ, তবু তা সমস্ত দৃশ্য-শব্দের অতীত— হঠাৎ-ঝলকে কখনো-কখনো তা ধরা পড়ে। সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে কিছুদিন বাইরে কাটাবার পর ভোরবেলা হাওড়া কি শেয়ালদায় এসে পৌঁছলে। এইমাত্র-জল-দেয়া কালো চিকচিকে রাস্তা থেকে যে-একটি অদ্ভুত গন্ধ উঠে আসে, তা যেন পুরোনোকালের স্মৃতির মতোই প্রিয়— সময়ের হাতও কোনোদিন তাকে ছুঁতে পারবে না। মুহূর্তে কথা কয়ে ওঠে বুকের মধ্যে শহরের অন্ধকার, চিরন্তন আত্মা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাহিত্যচর্চা – বুদ্ধদেব বসু
    Next Article আমার ছেলেবেলা – বুদ্ধদেব বসু

    Related Articles

    বুদ্ধদেব বসু

    বোদলেয়ার: তাঁর কবিতা – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    ছোটগল্প – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    ছায়া কালো কালো – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    তিথিডোর – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    পিরানদেল্লোর গল্প – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    রাত ভ’রে বৃষ্টি – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }