Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমি চঞ্চল হে – বুদ্ধদেব বসু

    বুদ্ধদেব বসু এক পাতা গল্প100 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আমি চঞ্চল হে – ৪

    ৪

    আমাদের কপালগুণে সেদিনই বৃষ্টি এলো। কনকনে হাওয়ায় উত্তরের শান, আর ঠাণ্ডা পাৎলা বৃষ্টি। সুতরাং ধরমশালার ছোটো ঘরে বসে-বসে জানলা দিয়ে বাইরে তাকানো, আর মাঝে-মাঝে ছোটো স্পিরিট স্টোভে আধঘণ্টায় জল ফুটিয়ে চা- পান— এ-ছাড়া কিছুই আর করবার রইলো না। দিঘির বুকের উপর বৃষ্টি যেন কুয়াশার পর্দা, ঝাপসা মাঠ বন গাছপালা চারদিকে। কেমন একটা ফ্যাকাশে হলদে রঙের আকাশ, আর থেকে-থেকে ঝাপটা আসে আর হঠাৎ থেমে যায়। কুণ্ডে যাওয়া হলো না, দিঘিতে স্নান সেরে নিলুম। পান্ডাজি নিয়ে এলেন মন্দিরের প্রসাদ— তার চেয়ে ভালো খাদ্য ভুবনেশ্বরে দুষ্প্রাপ্য। এ-দেশের জলের গুণে তীব্র ক্ষুধাবোধ হয়, কিন্তু খাদ্য সে-অনুযায়ী পাওয়া যায় না। আমিষভোজী বাঙালির পক্ষে, বিশেষ করে, দু-দিনেই প্রায় অনশনে এসে ঠেকে, যদি আশ্রয় হয় ধরমশালা। এই পান্থনিবাসগুলিতে অবিশ্যি আমিষ-প্রবেশ নিষিদ্ধ। কোটিপতি মাড়োয়ারিদের দান এগুলি। ভারতবর্ষের সমস্ত তীর্থস্থানে মাড়বসন্তানের পুণ্যক্রয়ের এমনি কত দলিল! সমস্ত দেশের খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে জেনে-শুনে যে পাপ এঁরা করেন, তারই ক্ষতিপূরণ হয় ধরমশালা নির্মাণে, মন্দিরে-মন্দিরে মহার্ঘ উপঢৌকনে। অন্ধ বিশ্বাসের মস্ত একটা সুবিধে এই যে বিবেক অতি সহজেই পরিষ্কার রাখা যায়। এঁরা বিনা দ্বিধাতেই বিশ্বাস করেন যে প্রেম ও যুদ্ধের মতো বাণিজ্যেও কিছুই অন্যায় নয়, কেননা মুনাফার একটা অংশ তো দেয়া হয় দেবতাকেই। ও-সমস্ত উপায় অবলম্বন না-করলে দেবতার এ-পাওনা হতো না, সুতরাং চিনিতে বালি মেশাবার উদ্যমেও দেবতাই সহায়।

    যা-ই হোক, তখনকার মতো মাড়োয়ারির পুণ্যলোভকে ধন্যবাদ না-দিয়ে পারিনি। এখানকার ধরমশালার আশ্রয় অনুদার নয়। ঘরের দরজা বন্ধ করলেই নিশ্চিন্ত। জানলার বাইরে মাঠের পর মাঠ গাছে-গাছে সবুজ হয়ে দিগন্তে মিশেছে, এই মাটির ঢেউ-খেলানো সমুদ্রে চোখ কোথাও বাধা পায় না। উড়িষ্যা ঘন পল্লবের দেশ। সাঁওতাল পরগনার পাহাড় কঠিন নীল পাথরের স্তূপ, একটি ঘাস জন্মায় না। উড়িষ্যার পাহাড় নিবিড় সবুজে মোড়া। সে-সবুজ প্রায় কালো। বাংলার হৃদয়ের ভাষা যেমন নদী, এখানকার প্রকৃতি তেমনি অজস্র জঙ্গলে কথা কয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা নামলো, আবার বৃষ্টি এলো। ঘরে লন্ঠনের আলো দেয়ালে অদ্ভুত ছায়া ফেলেছে, বাইরে থমথমে অন্ধকার। দূরে বুঝি দেখা যায় একটা আলোর ফুটকি, হঠাৎ শোনা যায় কে যেন চীৎকার করে কাকে ডাকছে অন্ধকারে। সন্ধ্যা হতে-হতেই মধ্যরাত্রি। একটা অস্পষ্ট আতঙ্কে মন ভরে যায়। অনেকরাত্রে বুঝি চাঁদ উঠলো; মেঘ চুঁইয়ে পড়লো আবছা জ্যোছনা। সেই মৃত্যু-ম্লান জ্যোছনায় নিঃসীম জনহীন প্রান্তর কঙ্কালের মতো ফুটে উঠলো; মনে হলো পৃথিবীর হাড়গোড় যেন দেখা যাচ্ছে।

    পরের দিন প্রকৃতি প্রসন্ন হলো। হেসে উঠলো আকাশ, শিরশিরে হাওয়ায় দিঘির জলে ছোটো-ছোটো ঢেউ উঠছে, ঢেউ উঠছে আমাদের মনে— এমন নীল আকাশ, আর এমন সোনার রোদ, আর পায়ের নিচে মাটির স্পর্শ এমন মধুর। কেননা কুণ্ডে স্নান করতে যাবার পথে পায়ে আমাদের জুতো ছিলো না। আঁকাবাঁকা সরু পথের দু-ধারে কত মন্দিরের ভাঙা-ভাঙা স্তূপ মাঝখানে ছোট্ট ঝরনা ছলছলিয়ে চলে গেছে— কী ঠাণ্ডা জল— আর আকাশের পরে আকাশ ছড়ানো, শেষ নেই। কুণ্ডের ধারে মন্দির, স্নানের পর সেখানেই সে-বেলার অন্ন জুটলো। গাছের ছায়ায় সবুজ শ্যাওলার উপর বসে খাওয়াটা রোমান্টিক খুবই, তবে সে-খাওয়া যদি কাঁকর- মেশানো মোটা ভাতের সঙ্গে অখাদ্য একটা ব্যঞ্জন আর ভাতের মতোই মোটা দানার নুনে পর্যবসিত হয় তাহলে রোমান্টিক রস অনেকটা ফিকে হয়ে আসে এ-কথা বলবোই। তার উপর ঐ দুধকুণ্ডের জল খেলেই খিদেটা নিতান্ত অসভ্যের মতো চাড়িয়ে ওঠে।

     

     

    ভুবনেশ্বর মন্দিরের দেশ। ওটুকু জায়গা ভবানীপুরে তুলে আনলে যতগুলো পানের দোকান পাওয়া যাবে, ঠিক ততটাই বোধহয় মন্দির ভুবনেশ্বরে ভাঙা-আস্ত ছোটো-বড়ো মিলিয়ে। এক পা বাড়ালেই কোনো-না-কোনো ধ্বংসস্তূপের উপর হুঁচট খেতে হয়। এখানে-ওখানে, যেখানে-সেখানে পাথরের এই ভাঙা-ভাঙা কবিতা ছড়ানো। কোনোটা হয়তো কখনো শেষই হয়নি, কোনোটা হয়তো আরম্ভ হয়েছিলো মাত্র। মনে হয় এই দেশের লোকের এককালে মন্দির বানানো ছাড়া আর কোনো কাজই ছিলো না। কি মনে হয় এ ছিলো তাদের অবসরের প্রধান খেয়াল; জীবিকার কাজের ফাঁকে-ফাঁকে পাথরের বোবা সুর নিয়ে এই খেলা। সে কি চমৎকার সমাজ নয়, যার শরিকরা দিনের কাজের শেষে এসে জোটে দেবতার খেলাঘর বানাবার কাজে, সেই পাথরের ছন্দ তাদেরই হৃদয়ের ছন্দ নয় কি? সকল শিল্পের মধ্যে স্থাপত্য চরম নৈর্ব্যক্তিক; তা একজনের নয়, তা হাজার লোকের; তা সমস্ত জাতির অন্তরের একটি ভঙ্গির প্রকাশ। সে-ভঙ্গি বিশেষ করে ভক্তির। পৃথিবীর ইতিহাসে এইটে দেখা গেছে যে স্থাপত্যের প্রধান প্রেরণা ধর্মই জুগিয়েছে চিরকাল। দেবতার গৃহনির্মাণে শুধু একজন শিল্পীর কলাচাতুর্য নয়, আছে সমস্ত জাতির প্রার্থনা ও উদ্দীপনা; উদারতম অর্থে সে-প্রেরণা ধর্মের। মন্দির গড়তে যে-উৎসাহ প্রাণে আসে, তা আসতেই পারে না সিনেমার ঘর কি পোলিটিকাল বক্তৃতার আস্তানা বানাতে, যা-ই বলুক না আধুনিক মন। আজকের দিনে এ-কথার প্রমাণের অভাব নেই। বিজ্ঞানের ময়দানব চমক-লাগানো আজব বাড়িই বানাতে পারে, তার বেশি পারে না। লোক-লশকর হাতিয়ার প্রচুর আছে, অভাব প্রেরণার। বাহবা নেয়াই তার উদ্দেশ্য, যেমন একশ্রেণীর লেখক মনে-মনে পাঠকের হাততালি শুনতে-শুনতে লেখে। অবাক করে দেয়াটাই নয়াদিল্লি আর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল আর আধুনিকতম প্রমোদভবনের লক্ষ্য ও সার্থকতা। অনেক খরচে অনেক চমকে যন্ত্রের অনেক কৌশলে কাণ্ড বটে একখানা। কিন্তু গির্জা বানাবার প্রেরণা আর নেই। মানুষের মনই বদলে গেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে আজব ছবিঘর বানাতেও মজুররা নেহাৎ পয়সার জন্য কাজ করবে, কাজ করে জীবন ধন্য মনে করবে না। যাদের হাতে মন্দির গড়ে উঠতো তারা জানতো সে-কাজ পুণ্যের। সেই পুণ্যেই মন্দির পবিত্র।

     

     

    ভালোবেসে যা করি, আর যা করি নেহাৎই টাকার জন্য, কাজের এই দুই প্রকৃতি শুধু আলাদা নয়, পরস্পরের বিরোধী। ভালোবাসার কাজে শরীর আর মনের বিকাশ, নিছক রোজগারের কাজে বিনাশ। তার প্রমাণ আমাদের অনেককেই বোধহয় প্রতিদিনের জীবনে পেতে হয়। নিজেকে দিয়েই বলি। আমার এই লেখার কাজে আমি তীব্র আনন্দ পাই, যে-আনন্দ পাই, সে-আনন্দ কখনো যন্ত্রণার মতো। ঈশ্বর জানেন, যে-কাজে প্রতি মুহূর্তে নিজের বুদ্ধিবৃত্তিকে তীক্ষ্ণ-সজাগ রাখতে হয় তার চেয়ে কষ্টের আর-কোনো কাজ নয়। আপিশের আট ঘন্টার ধরা-বাঁধা কাজে যে- পরিশ্রম, নিজের ঘরে বসে তিন-চার ঘণ্টা একটানা কিছু লেখাতে পরিশ্রম তার দ্বিগুণ, এ আমি শপথ করেই বলবো। এবং ঈশ্বর জানেন, এই লেখার কাজের কোনো আর্থিক অনুপ্রেরণা বাঙালি লেখকের অন্তত নেই। তবু কিছুদিন ধরে কিছু না-লিখলেই আমার মনে হয় জীবন যেন ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। লম্বা মাইনেওয়ালা দশটা-পাঁচটার চাকুরে হবার সুযোগ যদি বা পাই, লুব্ধ হবো না এমন কথা বলিনে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়তো রাজি হবো না।

    এর মূলে কি আছে আমার গর্বের ভাব? কিন্তু এই গর্বই বা কোত্থেকে আসে? পরিশ্রম অতি কঠিন, উপার্জন অতি ক্ষীণ; তবু এই গর্ব টেকে কিসের জোরে? নিশ্চয়ই কিছু আছে, যাতে পুষিয়ে যায়, যাতে ক্ষয়ের চেয়ে লাভ হয় বেশি। সেটা আর-কিছুই নয়, সেটা কাজেরই আনন্দ। ফরমায়েশি কাজের ক্লান্তি মনকে সহজেই আক্রমণ করে, স্বতঃস্ফূর্ত কাজের ক্লান্তি শুধুই শারীরিক। জীবনে আর খুব কম উপলক্ষই আছে, যাতে আমার মন এমন নিবিড় নিটোল খুশিতে ভরে ওঠে, যেমন হয় এক প্রস্থ লেখা শেষ করে উঠলে। ভারি সার্থক মনে হয় নিজেকে। লেখার আসল পুরস্কারটা তখনই হাতে-হাতে পাওয়া যায়, অন্য সব পরবর্তী ও প্রাসঙ্গিক।

     

     

    সব কাজই এইরকম হওয়া উচিত। পৃথিবীর যন্ত্রযুগের আগে সকল পেশাই ছিলো ব্যক্তিগত, লিমিটেড কোম্পানির তাঁবেদার নয়। তখন জীবিকার সঙ্গে জীবনের (লরেন্সের একটি অপরূপ কথা চুরি করে বলছি) এই কঠিন বিরোধ ছিলো না। যে- কাজে উপার্জন সে-কাজেই ছিলো আনন্দ। ধরা যাক, ঘরে বসে নিজের খেয়ালমতো নানা রঙে ও ছাঁচে পুতুল বানাতে ফূর্তি কম নয়, এবং সে-পুতুল হাটে বেচে অন্ন- বস্ত্রেরও সংস্থান হতে পারে। এদিকে পুতুলের কারখানায় আট ঘণ্টা খেটে অন্নবস্ত্রের সংস্থানটা হয়তো বেশ ভালোরকমই হয়, কিন্তু তার নীরস ধূসর একঘেয়েমি মৃত্যুর মতো। এ-যুগ নিতান্তই · বৈশ্য যুগ, নেহাৎ জীবিকার জন্য পরিশ্রম এ-যুগেরই বিশেষত্ব। মানুষের পক্ষে জীবিকার ব্যবস্থা না-করলেই নয়, ইতর প্রাণীর তুলনায় মানুষের এই একটা মস্ত অসুবিধে। কিন্তু সে-ব্যবস্থা কি হতেই হবে নিষ্প্রাণ নিরানন্দ ব্যক্তিত্ব-স্পর্শহীন? কাজকে আমরা আজকাল বন্ধন বলে ভাবতে শিখেছি, কিন্তু কাজেই তো মানুষের মুক্তি, যদি কাজের মতো কাজ হয়। আদর্শ সমাজ-সংগঠনের প্রধান শর্তই এই যে তাতে মানুষের উপার্জনের সঙ্গে আনন্দের সংগতি থাকবে। পৃথিবীতে নানারকম মানুষের জন্য নানারকম কাজ থাকতে বাধ্য, তার মধ্যে ছোটো- বড়ো ভেদও অনিবার্য, কিন্তু যদি হয় ব্যক্তিগত ও স্বতঃস্ফূর্ত, কোনো কাজ‍ই তাহলে হীন হয় না। আর আজকাল বড়ো কাজও প্রায়ই হীন। কেননা সব কাজই প্রায় অন্যের কাজ। যত ক্ষুদ্রই হোক, এ-কাজ আমার এটা ভাবতে পারলেই মুক্তি। পঁচিশ টাকার কেরানি আর হাজার টাকার আমলা— হীনতা উভয়েরই সমান। দু-জনেই পরের কাজে নিযুক্ত। কাজের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সত্তা স্বীকার্য নয় কারুরই। এর ফলে কাজও নষ্ট হওয়া উচিত; তবে বখশিশের লোভে-লোভে কাজ যদি বা আদায় হয়, মানুষগুলো যে নষ্ট হয় এটা নিশ্চিত।

     

     

    আমার লেখার কাজের মস্ত সুবিধে এই যে তাতে বেশ একটা খেলার ভাব আছে। রবীন্দ্রনাথের শিশু ভুল বলেনি; লেখা ব্যাপারটা আসলে লেখা-লেখা খেলা। এখানে অনেকটা যেন আছে শিশুর খেলার স্বাধীনতা। আমি ইচ্ছেমতো বিষয় নির্বাচন করতে পারি, এবং এটা মানতেই হবে যে বিষয়ের ভাণ্ডার অপরিসীম। তারপর এই কথাগুলোকে যদি খেলনা মনে করা যায়, সেগুলো নিয়ে যেমন খুশি নাড়াচাড়া ভাঙাগড়া করি, ভালো না-লাগলে ফেলে দিই, দরকার হলে নতুন তৈরি করে নিই— মোটের উপর সমস্ত জিনিশটাকে নিজের পছন্দমতো একটা রূপই দিই।

    সমস্ত কাজেই এই খেলার ভাব খানিকটা থাকা দরকার। আর এই খেলার ভাব আসলে সকল কাজেই কিছু-না-কিছু আছে; কিন্তু সেটা আধুনিক সভ্যতা খুব নিপুণ হাতেই ছেঁটে ফেলে, তার বদলে চালায় কর্তব্য ও দায়িত্বের স্থূল নিশ্চল ভার। মনে করুন, মস্ত একটা জাহাজ বানাবার চাইতে অদ্ভুত উত্তেজক খেলা আর কী হতে পারে? অনায়াসে সমস্ত লোককে ডাক দিয়ে বলা যায় : এসো ভারি একটা মজার খেলা খেলবে। কিন্তু এই সভ্যতা ডাক দেয় এই বলে : এসো তোমাদের বেকার জঠরে কিছু রুটি-মাংস চালান করি। দলে-দলে লোক ছুটে আসে পেট ভরাবার টানে; তারা দেখে জাহাজকে তাদের খাদ্যদানের যন্ত্র, দেখে না জাহাজ অপরূপ কোনো বিশাল পাখির মতো জল ছুঁয়ে-ছুঁয়ে দিগন্তের সমুদ্রের দিকে চলেছে। যে- জাহাজ তাদের নিয়ে যেতে পারতো মুক্তির মোহানায় তা হয়ে রইলো নিতান্তই রুটি-মাংসবাহী মালজাহাজ।

     

     

    ভুবনেশ্বরে চারদিকে তাকিয়ে মনে হয়েছিলো, মন্দির বানানো ছিলো এ-দেশের লোকের উদ্দাম আনন্দের খেলা। তাতে কোনো দায় ছিলো না, ছিলো না কোনো ভাবনা; যেমন আমরা গুনগুন করে গান করি অবসরের সোনালি সময়ে, তারপর তা-ই থেকে ফুটে ওঠে নতুন বিচিত্র সুর, তেমনি এদের রঙিন আলস্যের লীলা পাথরের অপরূপ ছন্দে। বিশেষ ও নির্দিষ্ট কোনো সংকল্পের ফলে একটি তাজমহল হয়, কিন্তু তার পিছনে যদি থাকতো এই চিন্তাহীন খেলার হাওয়া তাহলে তার আশেপাশে হাজার ছোটো ছোটো ভাঙাচোরা তাজমহল গড়ে উঠতো। তাজমহল একজনের, এই মন্দিরগুলো সকলের। শিল্পসৃষ্টি অত্যন্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার; কিন্তু সে-আনন্দের ভাগ সমস্ত জাতিকে এক স্থাপত্যই বুঝি দিতে পারে। যারা হাত দিয়ে কাজ করে না, তারাও মন দিয়ে যোগ দেয়। একদা ভারতবর্ষের দক্ষিণাপথে নিশ্চয়ই কোনো বিশাল সর্বব্যাপী অনুপ্রেরণা এসেছিলো, তারই হাওয়ায় ফুটেছে পথের ধারে ধারে বসন্তের ফুলের মতো এত অজস্র মন্দির। এই অজস্রতা দেখেই অবাক লাগে ভুবনেশ্বরে। এখানে আকাশে-বাতাসে পুঞ্জ-পুঞ্জ পাষাণের নীরব বন্দনা। কোনো রাজার দেবশক্তির সাড়ম্বর বিজ্ঞাপন নয় এখানকার মন্দির। সরল নির্মল নির্মম এই ভুবনেশ্বরের মন্দির, তাতে কোনো অলংকারের উপসর্গ নেই, সোনামণিমুক্তার প্রগলভতা থেকে এ আশ্চর্যরকম মুক্ত। দেবতার মহিমা মহামূল্য বিশাল সামগ্রীতে প্রকাশ পাবে, এ নিতান্তই গ্রাম্য মনের কথা। এই গ্রাম্যতায় হিন্দুর অনেক মন্দিরই পীড়িত। ভুবনেশ্বরে তার চিহ্নমাত্র দেখলুম না। ঠাণ্ডা কালো কষ্টিপাথরের নগ্ন মূর্তিগুলো কারুরচনায় আর মুখশ্রীর অপূর্ব ব্যঞ্জনায় এতই সুন্দর যে দেখেই মনে হয় তারা ঐশ্বর্যের ঘোষণা নয়, ভালোবাসার প্রকাশ। যে-নির্জনে দেবতার ঘুম ভাঙে সেই নির্জনতা এখানকার সুর। তাছাড়া, তীর্থ যত বড়ো, পাপের আস্তানাও তত বড়ো এইটেই সাধারণত দেখা যায়। দেবতা যেখানে জাগ্রত, সেখানে বেশ্যা, গুণ্ডা, জোচ্চোর, ভিক্ষুক, ব্যাধিগ্রস্ত— এরাও ঘুমিয়ে নেই। পুরীর মন্দিরের আশেপাশে হাটবাজার, ধুলো, নোংরামি, চ্যাঁচামেচি, ভিড়ের ঠেলাঠেলি— সবই হয়তো সহ্য করা যেতো, যদি এতৎসত্ত্বেও তার শিল্পরূপ হতো সার্থক। জগন্নাথদেবের গৃহ বিশাল বটে, কিন্তু বিশালতাই বোধহয় তার একমাত্র অভিজ্ঞান; তাছাড়া কোনোরকম আকর্ষণই নেই। আমাদের অভিরুচি সরল নির্মল ভুবনেশ্বরেই। ভুবনেশ্বরে ভিড় নেই। চারদিক পরিষ্কার, চারদিক চুপচাপ। এই ছোট্ট গ্রামে মানুষই বা কত, আর স্থায়ী বাসিন্দারা প্রায় সকলেই কোনো-না-কোনোভাবে মন্দিরের সঙ্গেই যুক্ত। জিনিশের বেচাকেনায় প্রাচীন পৃথিবীর মন্থরতা; যদিও দু-মাইল দূর দিয়ে রেল-লাইন গেছে, আধুনিক ব্যবসার তাড়াহুড়োর ধাক্কা এখনো এসে যেন পৌঁছয়নি। চারদিকের প্রশান্তির মধ্যে মন্দিরের গম্ভীর অভীপ্সা আকাশে উদ্যত; আর সেদিন সকালে পরিচ্ছন্ন মন্দিরপ্রাঙ্গণের এককোণে বসে চারদিকে তাকিয়ে যেন মনে হলো কোনো চিরন্তন সকালবেলার একটি সুর এখানে ধরা পড়েছে; এখানে আটকে রয়েছে যে- সুর, এ-যুগের পৃথিবীতে তা আর নেই, নেই আমাদের জীবনে, আমাদের আলস্যে কি স্বপ্নেও নেই। প্রগতির চাকায়-চাকায় পৃথিবী এগিয়ে চলে গেলো, তার টান এখানে যেন লাগলো না, এখানে রইলো কোনো সুগন্ধি অতীত চিরকাল হয়ে।

     

     

    বৃষ্টি কেটে গেছে,
    আকাশে ছেঁড়াখোঁড়া শাদা মেঘ,
    রোদের ঝিলিমিলি তার ফাঁকে।

    বাতাসে প্রথম শীত,
    বাতাসে ধার;
    দিঘির নীল জল উঠছে শিরশিরিয়ে
    যেন কোনো হৃদয় ভালোবাসার ভার আর সইতে পারছে না।

    বৃষ্টি কেটে গেছে।

    আমরা স্নান করে এসেছি
    আঁকাবাঁকা গ্রামের পথ দিয়ে,
    দু-দিকে মাঠ দিগন্ত ছোঁয় ছোঁয়,
    মাঝখানে ঠাণ্ডা জলের ঝরনা,
    আর পায়ের নিচে কাঁকর।

     

     

    বৃষ্টি কেটে গেছে।
    আমরা ডুব দিয়েছি ঝরনার জলে
    ঝরনার উৎস-মুখে;
    ফুলের মতো মেলে দিয়েছি আমাদের শরীর
    এই নতুন শীতের নতুন সূর্যের দিকে।

    এই নতুন-নীল আকাশের দিকে
    চারদিক থেকে উঠেছে হাজার মন্দিরের চূড়া,
    মাঝখানে নির্মম ভুবনেশ্বর।
    বৃষ্টি কেটে গেছে,
    আমরা স্নান করে এসেছি।

    সমুদ্র আর দূরে নয়,
    আজ বিকেলে আমরা সমুদ্রের কাছে গিয়ে দাঁড়াবো।
    আর আজ এই নতুন সূর্যের আলোয়
    হাজার মন্দিরের পাথরের ছন্দে
    একটি প্রার্থনা আমরা এঁকে গেলাম
    একটি প্রার্থনা আমরা রেখে গেলাম

     

     

    —তারপর সমুদ্র।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাহিত্যচর্চা – বুদ্ধদেব বসু
    Next Article আমার ছেলেবেলা – বুদ্ধদেব বসু

    Related Articles

    বুদ্ধদেব বসু

    বোদলেয়ার: তাঁর কবিতা – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    ছোটগল্প – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    ছায়া কালো কালো – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    তিথিডোর – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    পিরানদেল্লোর গল্প – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    রাত ভ’রে বৃষ্টি – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }